শীত জাঁকিয়ে পড়া মানেই ভ্রমণ প্ৰিয় বাঙালির সামনে বেড়ানোর হাতছানি|শীতের আমেজ গায়ে লাগিয়ে ঘুরে বেড়ানো বা সবাই মিলে দল বেঁধে পিকনিক, মজাই আলাদা|কাজের চাপে আলাদা করে বেড়ানোর সুযোগ খুব কমই আসে, তবে যখনই কলকাতার বাইরে চেম্বার করতে যাই তখনই অনেকটা রথ দেখা আর কলা বেচার ঢঙে একটু ঘুরে নিই, অজানা কে জানার চেষ্টা করি , চেষ্টা করি নতুন কিছু অভিজ্ঞতা নিজের ঝুলিতে ভরে নেয়ার|ঘেটে দেখি সেই স্থানের ইতিহাস এবং দর্শনীয় স্থান গুলির সাথে জড়িয়ে থাকা নানান গল্প|আর সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিই আপনাদের সাথে|এবার ডেস্টিনেশন মালদা|কাল থাকছি মালদা চেম্বারে|প্রথমেই বলি গৌড়ের পথেই রয়েছে একটি ছোট্ট গ্রাম, রামকেলি, বাংলার মহান ধর্ম সংস্কারক শ্রী চৈতন্যের অস্থায়ী বাড়ি হিসাবে বিখ্যাত এই স্থান|এখানে তিনি বৃন্দাবনে যাওয়ার পথে কিছু দিন অবস্থান করেছিলেন।রয়েছে তার স্মৃতি বিজড়িত তাল গাছ ও কলা গাছ|রয়েছে একটি ছোট্ট মন্দির এবং মহাপ্রভুর পদচিহ্ন|মাতৃ সাধক ও মা সর্বমঙ্গলার উপাসক হিসেবে কালী ক্ষেত্র আমায় বরাবরই একটু বেশি আকর্ষণ করে|মালদা ভ্রমণ ও ব্যাতিক্রম নয়|মালদায় এলে হান্টা কালী বাড়ি ও জহুরা কালী বাড়ি যেতে আমার কখনো ভুল হয়না|মালদায় ইংরেজবাজার থানা এলাকায় একটি প্রাচীন আমবাগানের মধ্যে রয়েছে এই প্রাচীন জহুরা কালীমন্দির|দেবীর কেনো এই বিচিত্র নাম হলো সে নিয়েও আছে এক রহস্যময় তত্ব|শোনো যায় এক কালে এই অঞ্চলে ছিলো ঘন অরণ্য|ডাকাত রাই একপ্রকার শাসন করতো এই এলাকা এবং এই দেবী এক সময়ে ছিলেন ডাকাতদের আরাধ্যা। এখানে দেবী চণ্ডীর পুজো করে ডাকাতরা যেত ডাকাতি করতে। ডাকাতি করে প্রচুর ধনরত্ন আনত তারা, তারপর সেগুলোকে এখানেই মাটির তলায় রাখত। সেই ধনরত্নের ওপরই দেবীমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয় যেহেতু ধনরত্নকে হিন্দিতে বলে ‘জওহর’। দেবীমূর্তির নিচে প্রচুর ধনরত্ন রাখা থাকত বলেই এখানে দেবী চণ্ডী ‘জহরা’ বা ‘জহুরা’ নামে বিখ্যাত|মালদায় রয়েছে আরেক প্রাচীন কালী মন্দির যা হান্তা কালী মন্দির নামে প্রসিদ্ধ|চৌত্রিশ নম্বর জাতীয় সড়ক লাগোয়া এই কালী মন্দির গোটা উত্তর বঙ্গ জুড়ে বেশ প্রসিদ্ধ|দেবী এখানে অত্যান্ত জাগ্রত তাই দূর দূর থেকে বহু মানুষ আসেন দেবীর দর্শন লাভ করতে এবং নিজের মনোস্কামনা জানাতে|বিশেষ বিশেষ তিথিতে ভিড় হয় চোখে পড়ার মতো|আজ গেছিলাম এই কালী মন্দিরে দেবীর দর্শন করে ধন্য হলাম|যদিও ভৌগোলিক ভাবে মালদায় প্রতিষ্ঠিত নয় তবু এখানে বলে রাখি মালদার অদূরেই রয়েছে বিখ্যাত বোল্লা কালী মন্দির|বহু কাল আগে স্বপ্নাদেশে পাওয়া একটি কালো পাথর খন্ডকে প্রথম মাতৃরূপে পুজো শুরু করেছিলেন স্থানীয় মানুষ পরে তৈরি হয় মন্দির|কথিত আছে একবার এই এলাকায় পরপর ডাকাতের অত্যাচার শুরু হয়, বোল্লাকালী তখন রুদ্রমূর্তি ধারণ করে বাসিন্দাদের রক্ষা করেন। এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান গুলির মধ্যে এটিও নিঃসন্দেহে একটি|শুধু মন্দির বা তীর্থ স্থান নয়|প্রাচীন বাংলার বহু ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে সমৃদ্ধ এই মালদা জেলা|রয়েছে প্রাচীন গৌরের ধ্বংসাবশেষ, আদিনা মসজিদ, দাখিল দরজা, ফিরোজ মিনার, বড়ো সোনা মসজিদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান|ইতিহাস, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, এবং মালদার মানুষের আন্তরিক ও সুন্দর ব্যাবহার প্রতিবারই মুগ্ধ করে|এই শীতের মরসুমে দুরে কোথাও যাওয়ার সময় বা সুযোগ না পেলে ঘুরে আসতেই পারেন মালদা থেকে|নিরাশ হবেন না|কাল থাকছি মালদার হোটেল প্রতাপাদিত্যতে|উত্তর বঙ্গের বন্ধুরা চাইলে আসতেই পারেন|শুধু উল্লেখিত নাম্বারে আগে একবার যোগাযোগ করে নেবেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
কলকাতার কালী – তারাশঙ্করী পীঠ
বাংলা তথা কলকাতার বহু বিখ্যাত কালী মন্দিরের কথা ইতিমধ্যে লিখেছি এই ধারাবাহিক লেখায়, আজ ও কলকাতার বেলগাছিয়া অঞ্চলে অবস্থিত এক প্রসিদ্ধ কালী মন্দিরের কথা বলবো যা তারাশঙ্করী পীঠ নামে বিখ্যাত|পুরানে উল্লেখিত শক্তি পীঠ নয়,তারাপীঠের মতো এটাও সিদ্ধপীঠ। ১৯৫২ সালে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন যোগী মহারাজ পরেশচন্দ্র রায় মৌলিক এবং তন্ত্রমতে মায়ের আরাধনা শুরু করেন তিনি। লোক মুখে এক অদ্ভুত ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় এই মন্দির কে কেন্দ্র করে,শোনা যায় অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী যোগী মহারাজ পরেশচন্দ্র রায় মৌলিক ভবিষ্যত দেখতে পারতেন|একবার তৎকালীন কংগ্রেস নেতা গনি খান চৌধুরী মন্দিরে এসেছিলেন তখন মাতৃ সাধক ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছিলেন, সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হলে রেলমন্ত্রকের দায়িত্ব পাবেন তিনি।পরবর্তীতে বাস্তবে হয়েছিল ঠিক তেমনটাই। একটি অদ্ভুত রীতি পালিত হয় এই মন্দিরে|মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় বারাণসীর মণিকর্নিকা মহাশ্মশান থেকে সধবার চিতার আগুন আনা হয়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত জ্বলছে চিতার আগুন|অত্যন্ত পবিত্র অগ্নি রূপে এই আগুন কে শ্রদ্ধা করা হয় এই মন্দিরে|মা তারার পাশাপাশি এই মন্দিরের পূজিত হন যশমাধব তার মূর্তি নিমদারু কাঠের তৈরি। নিত্য পুজোয় যশমাধবকে দেওয়া হয় নিরামিষ ভোগ।একই সঙ্গে তারাশঙ্করী পীঠে পূজিত হন কালভৈরব|তারাশঙ্করী পীঠের আরও এক আকর্ষণ হন ‘নবমুণ্ডি আসন’। বাঘ, হাতি, শেয়াল, সাপ, অপঘাতে মৃত ব্যক্তি, চণ্ডাল ইত্যাদির ৯টি মাথার খুলি দিয়ে সজ্জিত এই আসন।আগামী সময়ে আবার ফিরে আসবো অন্যকোনো পর্বে নতুন কোনো কালী মন্দিরের কথা নিয়ে|পড়তে থাকুন|কাল থাকছি মালদা চেম্বারে|উত্তর বঙ্গের বন্ধুরা চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
ইতু পুজোর ব্রত
আজ ইতু পুজো বাংলার পুজো এবং ব্রত গুলির মধ্যে একটি জনপ্রিয় ব্রত ইতু পুজোর ব্রত তাই এই পবিত্র দিনে আপনাদের ইতু পুজোর ব্রত নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলবো|আজ ইতু পুজো এই ইতু শব্দের প্রকৃত অর্থ হলো মিত্র এবং এখানে সূর্য কেই মূলত মিত্র নামেই অভিহিত করা হয় অবশ্য ইতু পুজো সূর্য উপাসনা হলেও এই পুজোর রীতিও উপাচার বিশ্লেষণ করে ইতুকে মাতৃকাদেবী রূপেই গণ্য করে গ্রাম বাংলার মানুষ এবং এই পরম্পরা চলে আসছে যুগ যুগ ধরে|এবার পুজোর রীতি নীতি বা উপাচার নিয়ে বলতে গেলে প্রথমেই যা উল্লেখ করতে হয় তা হলো ঘট|ইতুর ঘটের গায়ে পুতুল আঁকা এবং ভেতরে শস্যদানা ও তৃণগুচ্ছ রাখা হয়|প্রতীকী অর্থে শষ্যক্ষেত্র কে মাতৃ রূপে পুজো করা হয় ইতু পুজোর মাধ্যমে| শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুসারে পুজো সম্পন্ন হলে ইতুকে বা ঘটকে বিসর্জন দিতে হয়|এই দিন পুজো চলাকালীন বাড়ির গৃহিনীরা ইতুর পাঁচালি বা ব্রত কথা পাঠও করেন কোথাও কোথাও|এই পুজো সংক্রান্ত নিয়ম ও উপাচারে পার্থক্য চোখে পরে স্থান ভেদে|অর্থাৎ এক এক স্থানে এক একটি গোষ্ঠীর মধ্যে নিয়মের কিঞ্চিৎ রকমফের থাকতেই পারে|তবে নিয়মের পার্থক্য যাই থাক এই পুজোর উদ্দেশ্য কিন্তু সর্বত্র একই তা হলো সূর্যদেব তথা প্রকৃতির আশীর্বাদ লাভ করে গৃহের কল্যাণ ও শ্রীবৃদ্ধি|সবাইকে আমার পক্ষ থেকে ইতু পুজোর অনেক শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
তন্ত্র রহস্য – তন্ত্রের আরাধ্যা দেবী
প্রথম পর্বে তন্ত্রের সহজ ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছি, আজ জানাবো তন্ত্রে আরাধ্যা দেবী বা দেবতা কে বা কারা|বাংলায় তন্ত্রে সাধনায় প্রকৃতি কে ‘চৈতন্যময়ী’ বলে মনে করে দেবীরূপে ভজনা করা বিবর্তিত হয়েছিল। এবং এই নারীকেন্দ্রিক তান্ত্রিক ধারণাটি পল্লবিত হয়েছিল সারা দেশ জুড়ে বিশেষত পূর্ব ভারতে|চৈতন্যময়ী প্রকৃতিরূপী নারীবাদী তন্ত্রের দেবী দূর্গা-কালী- বাসুলী – তারা- শিবানী। কিন্তু তন্ত্রের কেন্দ্রে রয়েছেন শিব। তন্ত্রমতে শিব তাঁর শক্তি পেয়েছে কালীর কাছ থেকে। আবার শিব- এর রয়েছে পৃথক নিজস্ব শক্তি। তন্ত্রমতে পুরুষ শক্তিলাভ করে নারীশক্তি থেকে। শিব শক্তি লাভ করেছেন তাঁর নারীশক্তির প্রকাশ- গৌড়ীর শক্তি থেকে। তবে শিবের নিজস্ব শক্তিও স্বীকৃত। তন্ত্রসাধনার মূল উদ্দেশ্যই হল-শক্তি দেবীর সাধনা করে “শিবত্ব” লাভ তথা শক্তিমান হওয়া।আবার মহাদেব বা শিবের ডমরু থেকে তন্ত্রের উৎপত্তি । সতী বা দেবি দূর্গার দশ হাতে আছেন দশ মহাবিদ্যা । এই দশমহাবিদ্যার উপর ভিত্তি করেই অনেকটা তন্তশাস্ত্র গড়ে উঠেছে ।অর্থাৎ তন্ত্রের দেবী বা আরাধ্য দেবতা এক নয় এবং নিদ্দিষ্ট কোনো পন্থা নেই|বহু মত, বহু পদ্ধতি ও তেমনই ভিন্ন ভিন্ন শক্তিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় তন্ত্র সাধনা|আগামী পর্বে সেসব নিয়ে আলোচনা করবো|আর দৈনন্দিন জীবনে প্রতিকার রূপে তন্ত্রের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
তন্ত্র রহস্য – তন্ত্রশাস্ত্রের গোড়ার কথা
তন্ত্র বিষয়টি যুগ যুগ ধরে বহু রহস্য, বহু তত্ত্বকে নিজের মধ্যে গোপন করে রেখেছে যার মধ্যে তন্ত্রের বহু জটিল ও কঠিন বিষয় জনসমক্ষে ব্যাখ্যা করা বা আলোচনা করা সম্ভব নয়|তবে কিছু বিষয় আছে যা আজ অনেকেই জানেন বা জানতে চান|তন্ত্র শাস্ত্রের সাথে জড়িত এমনই কিছু বিষয় নিয়ে আজ থেকে ধারাবাহিক ভাবে লিখবো তার পাশাপাশি থাকবে বিখ্যাত কিছু তন্ত্র তন্ত্র সাধক ও তাদের সাধনার কথা|প্রথমেই বলি তন্ত্র ভারতের অতিপ্রাচীন এবং গুরু পরম্পরার একটি গুপ্ত বিদ্যা। এটি গুরু পরম্পরা বিদ্যা বলে প্রকৃত গুরুর খোঁজ করতে হয়। দীক্ষা ছাড়া এ শাস্ত্র সম্পর্কে সহজে কেউ কাউকে কিছু ব্যক্ত করেন না।বৌদ্ধতন্ত্র ও সনাতনধর্মীয় তন্ত্রের মধ্যে বস্তুত কোনও উল্লেখযোগ্য প্রভেদ নেই। আসলে সেভাবে দেখলে তন্ত্র কোনও ধর্মীয় মতবাদ নয়, তন্ত্র এক সাধনপদ্ধতি মাত্র। মনুষ্যদেহকে এক যন্ত্রস্বরূপ বিচার করে সেই সূত্রে এক গুহ্যসাধনপদ্ধতিকেই তন্ত্র বলে।সংক্ষেপে তন্ত্র হচ্ছে “সৃষ্টির পরিচালনার নিয়ম ” । মহাদেব বা শিবের ডমরু থেকে তন্ত্রের উৎপত্তি । সতী বা দেবি দূর্গার দশ হাতে আছেন দশ মহাবিদ্যা এই দশমহাবিদ্যার উপর ভিত্তি করেই অনেকটা তন্তশাস্ত্র গড়ে উঠেছে |তন্ত্রসাধনার মূল স্রোতটি যে আচারপদ্ধতিকে আশ্রয় করে গড়ে ওঠে, তা হলো পঞ্চ ম-কার ক্রিয়া|আগামী পর্ব গুলিতে এই ক্রিয়া পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো|আপাতত বলে রাখি বামা ক্ষেপা থেকে রামকৃষ্ণ ও পরবর্তীতে কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ সবাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে এই ক্রিয়ার অনুসারী|আক্ষেপের বিষয় প্রাচীন ভারত থেকে বহু মূল্যবান পুঁথি বিদেশী পরিব্রাজকরা তাঁদের দেশে নিয়ে চলে গেছেন।তাই তন্ত্র শাস্ত্রের বহু মনি মানিক আমরা হারিয়েছি|আবার পরবর্তী কালে তন্ত্রসারের মত গ্রন্থও লেখা হয়েছে|তন্ত্রের উদ্দেশ্যে সাধক কে জাগতিক মোহো মায়া থেকে মুক্তি দিয়ে জন্ম মৃত্যুর আবর্ত থেকে মুক্ত করা|আবার কিছু ক্ষেত্রে তন্ত্র সাধনা থেকে অলৌকিক শক্তি উৎপন্ন করে সাধক জাগতিক সমস্যার সমাধানও খুঁজে দিতে পারেন যার একাধিক উদাহরন রয়েছে ইতিহাসে|কমলাকান্ত অমাবস্যার রাতে রাজাকে চাঁদ দেখিয়েছিলেন, বামা ক্ষ্যাপা অসুস্থ মানুষকে অলৌকিক উপায়ে সুস্থ করেছিলেন এমনকি কোনো এক অতীন্দ্রিয় শক্তির দ্বারা ত্রৈলঙ্গ স্বামী চুনকে দইয়ে পরিনত করে ছিলেন|তন্ত্র শাস্ত্রের মহিমা অপার|জ্যোতিষ শাস্ত্রেও শাস্ত্রীয় প্রতিকার রূপে যুগ যুগ ধরে ব্যাবহার হয়ে আসছে এই তন্ত্র|আমি নিজে ব্যাক্তিগত ভাবে এই শাস্ত্রের সফল প্রয়োগের সাক্ষী থেকেছি বহুবার|বলবো সব কথা|পর্বে পর্বে|পড়তে থাকুন|যেকোনো জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যানিয়ে কথা বলতে চাইলে বা সাক্ষাৎ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান রহস্য – বর্বরিকের কথা
কুরুক্ষে যুদ্ধের একটি পর্যায়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বারবারিকের কাটা মাথা জীবিত করে একটি পাহাড়ে স্থাপন করলেন। তিনি বললেন “হে মহান বর্বরিক তোমার এই মস্তক সর্বদা জীবিত থাকবে এবং তুমি সবকিছু দেখবে। কলিযুগে তোমার পূজা হবে এবং তোমার পূজা আমার পূজা বলেই আমি গ্ৰহন করবো। তুমি এই রূপে আমার নামেই পরিচিত হবে, সকলে তোমায় খাটুশ্যাম নামে ডাকবে আর তুমি তোমার শরনাপন্ন সকল দুর্বলের সহায় হবে।” এই বর্বরিক ভগবানের মুখ থেকে শ্রীমদ ভগবত গীতা শুনেছিলেন এবং ভগবানের বিশ্বরূপও দর্শন করেছিলেন।বর্তমানে রাজস্থানে তার মন্দিরও আছে|
কিন্তু কে এই বারবারিক এবং কেনো তার সাথে এমন করেছিলেন ভগবান কৃষ্ণ?আজকের পুরান রহস্য তাকেই উৎসর্গ করলাম,জানাবো তার বীরত্বর কাহিনী|মূলত ‘স্কন্দ পুরাণে’ বর্বরিকের উল্লেখ পাওয়া যায়।বর্বরিক “ভীমের পৌত্র ও ঘটোৎকচের পুত্র ছিলেন, বর্বরিকের মাতার নাম মৌরবি।”
মহাভারতে উল্লেখ আছে “বর্বরিক নবদূ্র্গার উপাসনা করে তিনটি অমোঘ বাণ লাভ করেছিলেন। এই বাণগুলী দ্বারা সে যাদের চিহ্নিত করবে, তারা যত সংখ্যকই হোক সেই বাণ তাদের বিনাশ করে আবার তার কাছে ফিরে আসবে।”
কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ চলাকালীন, বর্বরিকের পিতামহী ‘হিডিম্বাকে’ তিনি কথা দিয়েছিলেন যে দুর্বল পক্ষের হয়েই তিনি যুদ্ধ করবেন। কারন হিড়িম্বা ভেবেছিলেন পান্ডবপক্ষ দুর্বল। কিন্তু এটাই হলো তার কাল। পান্ডবগন যখন জানতে পারলেন যে বর্বরিক তার অমোঘ বাণ দ্বারা এক নিমেষে যুদ্ধ সমাপ্ত করতে পারে তখন তারা খুবই আনন্দিত হলেন।’
কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাকে দেখালেন যে তার প্রথম বাণ সন্ধানের ফলে সম্পুর্ণ কৌরব সেনার নাশ হয়ে গেলেও ‘ভীষ্ম, কৃপাচার্য ও অশ্বত্থামা’ সুরক্ষিত থাকতেন ফলে তখন কৌরব পক্ষ দুর্বল হয়ে যাবে আর বর্বরিক তখন তার প্রতিজ্ঞার কারনে দ্বিতীয় বাণ দ্বারা পান্ডব পক্ষের বিনাশ করতে বাধ্য হবে। যার পরিনাম হবে শুধুই বিনাশ।
এই পরিনাম দেখার পর স্বেচ্ছায় তার অমোঘ বাণ দ্বারা নিজের মস্তক “ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরনে অর্পন করেন।” অবশ্য অর্পন করার আগে তিনি শেষ ইচ্ছা হিসেবে বলেন যে তিনি সম্পুর্ণ যুদ্ধ দেখতে চান।তাই ভগবান কৃষ্ণ তার প্রার্থনা মেনে নিয়ে তার মাথা পাহাড়ে প্রতিষ্ঠিত করে ছিলেন|বারবারিক সমগ্র কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে দেখেছিলেন|শুধু তাই না তিনি মহাভারতের এক উপেক্ষিত বীর এবং ব্যতিক্রমী চরিত্র যার সম্পর্ক খুব কমই জানা যায়|
আজ পুরান রহস্য এইটুকুই|আগামী পর্বে আবার কলম ধরবো নতুন কোনো বিষয় নিয়ে|পড়তে থাকুন|চেম্বার হোক বা অনলাইন ভাগ্যবিচার ও জ্যোতিষ পরামর্শর জন্যে উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|নমস্কার|
বোলপুর ও শান্তিনিকেতনের অজানা ইতিহাস
কলকাতার কাছাকাছি যতগুলি বেড়ানোর স্থান আছে তারমধ্যে বোলপুর আমার খুব প্ৰিয়, খুব কাছের|কারন একটি নয় অনেকগুলি, প্রথমত প্রকৃতির আদিম সৌন্দর্য এখনো কিছুটা অকৃত্রিম ভাবে উপভোগ করা যায় এই লাল মাটির দেশে, দ্বিতীয়ত রবীন্দ্রঅনুরাগী হিসেবে গুরুদেবের সৃষ্টির কাছাকাছি আসতে হলে আসতেই বোলপুরে|আরেকটি কারন ও আছে তা হলো বোলপুর লাগোয়া কঙ্কালী তলা মন্দিরের সাথে আমার পেশাগত সম্পর্ক বহু দিনের আর তারাপীঠে ও খুব বেশি দুরে নয়|যদিও এবার ঠিক ঘুরতে আসা নয়, বোলপুর আসার আসল কারন চেম্বারে ক্লাইন্ট দের সাথে সাক্ষাৎ, তাদের সমস্যা শোনা ও যথা সাধ্য সমাধানের পথ খোঁজা|তবুও এই শীতের মরসুমে শহর ছেড়ে বের হওয়া মানে এক প্রকার বেড়ানোই বলা যায়|তাই এই কাজের বেড়ানোর কিছু উপলব্ধি বা অতীত অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিই আপনাদের সাথে|
বোলপুরের দর্শনীয় স্থান মানেই শুধু গুরুদেবের আশ্রম নয়| সেই সঙ্গে খোয়াই হাট, কোপাই পার, বিশ্ববাংলা হাটের চাতাল, সোনাঝুরির লাল ধুলো, আমার কুঠিরের কাঁকরের উঠোন খানি। সৃজনী গ্রামের বহুমুখী রূপ, রায়পুর জমিদার বাড়ির ইটের পাঁজরের ইতিহাস, লাল বাঁধের লাবণ্য, ডিয়ার পার্কের চঞ্চল হরিণের দল , ডোঙালি কালি মন্দিরের সন্ধ্যা, কঙ্কালী তলার পবিত্রতা, সবুজ বনের সজীবতা আর উড ফসিল পার্কের অতীতকে খুঁজে দেখাই হল বোলপুর ভ্রমণের সার্থকতা|
বোলপুরের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে বোলপুর থেকে কিলোমিটার তিনেক দূরে অজয় নদীর তীরে একটি ঐতিহাসিক জনপদ ছিলো সুপুর। মার্কণ্ডেয় পুরাণ বলছে, বাংলায় প্রথম বসন্তকালীন দুর্গাপুজার প্রচলন করেন এই সুপুর রাজ্যের এক রাজা সুরথ। তখন গ্রামদেবী ভগবতী শিবিক্ষা। তাঁকে তুষ্ট করতে লক্ষাধিক বলি দিয়েছিলেন সুরথ। সুপুরের শিবিক্ষা মন্দির থেকে ডাঙ্গালি কালিতলা অবধি নাকি হয়েছিল সেই বলি। এরপর থেকেই ডাঙ্গালি কালিতলা ও তার আশপাশের অঞ্চলের নাম হয়ে যায় ‘বলিপুর’। সেই বলিপুরই নাকি আজকের বোলপুর।
শাম্তি নিকেতনের ও নিজস্ব ইতিহাস আছে|নামকরনের ও আলাদা গল্প আছে|আদিতে শান্তিনিকেতনের নাম ছিল ভুবনডাঙা। জমিদার ভুবন সিংহের নামানুসারে এই নাম। এই সিংহ পরিবারের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশেষ ঘনিষ্ঠতা ছিল। একবার তিনি নিমন্ত্রণ রক্ষায় সেখানে গেলে ভুবনডাঙায় রাত হয়ে যায়। দৈবক্রমে সেদিন ছিল জ্যোৎস্নারাত। মাঠের মধ্যে ছিল কতগুলো ছাতিমগাছ। অপূর্ব সেই দৃশ্য। এই নৈসর্গিক দৃশ্যে অভিভূত হয়ে তিনি ভুবনডাঙার প্রেমে পড়ে যান। ১৮৬৩ সালের ৩১ মার্চ তিনি কুড়ি বিঘা জমি পাঁচ টাকায় পাট্টা নিলেন জমিদার ভুবন সিংহের কাছ থেকে। ছাতিমতলাতেই তিনি গড়ে তোলেন এক আশ্রম। পাশে একটি বাড়ি, যার নাম ‘শান্তিনিকেতন’! কালের প্রবাহে ভুবনডাঙা থেকে এলাকাটির নাম হয়ে যায় শান্তিনিকেতন! অনেকে অবশ্যই মনে করেন স্থানীয় দস্যু ভুবন সর্দারের নামে নাম হয়েছিল ভুবন ডাঙ্গার মাঠ|এই তথ্যর সপক্ষে অবশ্য তেমন কোনো প্রমান পাওয়া যায়না|
আপাতত এই পর্বে বোলপুর শাম্তি নিকেতন নিয়ে এতোটুকুই|থাকছি আজ বোলপুর চেম্বারে|জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা হোক বা সমস্যার সমাধানের চেষ্টা|প্রয়োজনে আসতেই পারেন|ফোন করে নেবেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ
বীরভূমের সতী পীঠ
বহুবার এসেছি বীরভূমে, ঠিক কতোবার যে এসেছি তার কোনো হিসেব নেই হয়তো,কখনো তন্ত্র সাধনার কোনো বিশেষ তিথিতে এসেছি বিশেষ হোম যজ্ঞ বা গ্রহ দোষ খণ্ডনের কাজ নিয়ে কখনো চেম্বার করতে কখনো নিছক তীর্থ যাত্রায়, তবে যতবার এসেছি এক অদ্ভুত আধ্যাত্মিক শান্তি পেয়েছি, রোমাঞ্চকর অনুভূতি হয়েছে কারন একমাত্র পশ্চিমবঙ্গর বীরভূমই এমন স্থান যেখানে এক জেলাতে পাঁচটি সতীপীঠের রয়েছে। লাল মাটির দেশ বীরভূমকে তাই বলা চলে মা কালীর চারণভূমি।আজ আবার এলাম প্রধান উদ্দেশ্য অবশ্যই চেম্বারে জ্যোতিষ চর্চা ও মানুষের সমস্যার সমাধান দেয়া|তার মাঝেই বীরভূমের পাঁচটি সতী পীঠ গুলি নিয়ে একটি প্রতিবেদন আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছি|
নলাটেশ্বরী দিয়ে শুরু করছি, বীরভূমের নলহাটি স্টেশনের নিকটবর্তী এই স্থানে দেবী পার্বতীর কন্ঠনালী পড়েছিল। সেই থেকে এই এই পিঠের নাম নলাটেশ্বরী।একটি ছোট টিলার উপরে গড়ে উঠেছে মা নলাটেশ্বরী মন্দির, যা একসময় ঢাকা ছিল ঘন জঙ্গলে। এই মন্দিরের মা আমিষাশী। বছরের ৩৬৫ দিনেই এখানে মা-কে অন্ন ভোগ দেওয়া হয়। লোক মুখে প্রচারিত, কামদেব স্বপ্নাদেশে সতীরী কন্ঠনালী উদ্ধার করেন। দেবী এখানে ত্রিনয়নী কালিকা রূপে পূজিত হন। এই সতীপীঠের নামানুসারেই জায়গাটির নাম দেওয়া হয়েছে নলহাটি।
এরপরই নন্দীকেশ্বরী মন্দির। সতীর কন্ঠ হার পড়েছিল এখানে। সতী এখানে পূজিত হন নন্দিনী রূপে এবং মন্দিরে অবস্থিত ভৈরব এখানে পূজিত হন নন্দীকেশ্বর রূপে। এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সাধক বামাক্ষ্যাপার সিদ্ধিলাভের কাহিনীও। পুরাণ মতে, সাধক বামাক্ষ্যাপা যখন তারাপীঠে সাধনা করছিলেন, একদিন তাঁকে স্বপ্নে দেখা দেন মা নন্দীকেশ্বরী। তাঁকে আদেশ দেওয়া হয়, একমাত্র এই রূপে মা-কে পুজো করলেই সিদ্ধিলাভ হবে।
সারা বিশ্বের ৫১ সতী পীঠের অন্যতম বীরভূমের বক্রেশ্বর। ঋষি অষ্টবক্র মুনির নামানুসারে এই জায়গার নাম হয় বক্রেশ্বর। সতীর দুই ভ্রু-র মধ্যস্থল অর্থাৎ মন পড়েছিল এখানে। মা এখানে মহিষমর্দিনী দুর্গা রূপে পুজিত হন
বীরভূমেই রয়েছে ৫১ সতী পীঠের অন্যতম ফুল্লোরা সতীপীঠ, লাভপুরে অবস্থিত। এখানে সতীর অধঃওষ্ঠ বা ঠোঁট পড়েছিল। এখানে দেবী, ফুল্লোরা রূপে ও ভৈরব বিশ্বশ্বর রূপে পূজিত হন। তবে দেবী ফুল্লোরার কোনো বিদ্রোহ নেই এই মন্দিরে। মন্দিরের ভিতরে রয়েছে টকটকে লাল রঙের বড় একটি পাথরের খন্ড। সেই পাথরের সামনের ভাগটা ওষ্ঠাকৃতির।বশিষ্ট মুনির পুত্র অট্টহাস ছিলেন এই সতীপীঠের প্রথম সাধক এবং তাঁর নামানুসারেই জায়গাটির তৎকালীন নাম ছিল অট্টহাস
সতীপীঠের শেষ পীঠ কংকালীতলা পুরাণ মতে, দেবীর কাঁকাল বা কোমরের কংকাল এই স্থানে পড়েছিল। যার ফলে এখানকার নাম কংকালীতলা। এছাড়াও এই মন্দিরে দেবী, দেবগর্ভা হিসেবে পূজিত হন। এখানে কোনও মাতৃ বিগ্রহ বা প্রতিমা নেই। কংকালী মায়ের ছবিতেই পুজো করা হয় এখানে। কংকালীতলা মন্দিরের পাশেই রয়েছে পাড় বাঁধানো ছোট পুকুর, যার চারিদিকে সিঁড়ি নেমে গেছে জলে। এটাই আসল সতীকুণ্ড। যার মধ্যে সতীর কাঁকাল পড়েছিল।
আগামী পর্বে লিখবো তারাপীঠের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে কিছু গুরুত্ব পূর্ণ কথা তার পাশাপাশি থাকবে বোলপুরের ইতিহাস নিয়ে কিছু তথ্য|পড়তে থাকুন|জানিয়ে রাখি তিন ও চার তারিখ থাকছি যথাক্রমে তারাপীঠে ও বোলপুরে|যারা চেম্বারে আসতে চান ভাগ্য বিচার ও জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে|নির্দ্বিধায় উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করতে পারেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পন্ডিতজির আসাম যাত্রা
যেমন টা আগেই বলেছিলাম আজ থাকবো আসামে, চলে এসেছি, আজ কাল দুদিনই থাকবো, আজ শিলচর ও কাল গৌহাটি, যদিও বেড়ানোর টাইম খুব একটা হবেনা কারন বহু মানুষ আমার অপেক্ষায় আছে, তাদের সমস্যা সমাধানেই কেটে যাবে বেশিটা সময়|তবে আসাম যাত্রা আমার এই প্রথম নয়, বহুবার এসেছি এবং প্রতিবারই আসামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য,ঐতিহাসিক স্থান গুলি এবং মন্দির গুলি আমায় মুগ্ধ করেছে|আজ সেই ভ্রমনের অভিজ্ঞতা ও সুখস্মৃতি আপনাদের সাথে ভাগ করেনিই, সাথে কিছু তথ্য|
এক সময় আসামের নাম ‘কামরূপ’ ছিল। আরও প্রচীনকালে কামরূপ ছিল ‘প্রাগজ্যোতিষ’ নামে পরিচিত| আসামে বহু প্রাচীন ক অনেক মন্দির আছে। এর মধ্যে কামাখ্যা ও ঊমানন্দা মন্দির দুটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া শহরের কেন্দ্রস্থলে ১০ম শতকে নির্মিত জনার্দন মন্দির দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে।
আসামে এলে ঘুরে দেখতে ভুলবেননা আসাম স্টেট মিউজিয়াম। গুয়াহাটি শহরে এই জাদুঘর অবস্থিত। স্বাধীনতার আগে ১৯৪০ সালে জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয় ।পরবর্তীতে ১৯৫৩ সালে জাদুঘরটি আসাম রাজ্য সরকার নিয়ন্ত্রণে নেন। এটি ভারতের অন্যতম বৃহৎ সংগ্রহশালা। এখানে প্রচীন কালের পাথরের মূর্তি, কাঠ, ধাতু এবং টেরাকোটার নানা নিদর্শন, লিপি, কারুশিল্প, লোকশিল্প, নানা ধরনের অস্ত্রসহ আসামের ইতিহাস-ঐতিহ্য, ও শিল্প-সংস্কৃতির নানা নিদর্শন রয়েছে।
আসাম স্টেট মিউজিয়ামের পাশেই যুদ্ধ স্মারক উদ্যান। বিশাল একটি দিঘিকে ঘিরেই মূলত এ স্মারক সম্ভার। দিঘির সম্মুখভাগেই আছে যুদ্ধ-স্মারক বিমান ও ট্যাংক। এছাড়া আছে কিছু ভাস্কর্য।
তন্ত্র ও জ্যোতিষ জগতের মানুষ হিসেবে কামাখ্যা মন্দির আমার জীবনের সাথে গভীর ভাবে জড়িয়ে রয়েছে, বহুবার এসেছি, কখনো ঘুরতে, কখনো কাজে, জানিয়ে রাখি হিন্দু দেবী কামাখ্যার এই মন্দির আসামের রাজধানী গুয়াহাটি শহরের পশ্চিমে নীলাচল পর্বতে অবস্থিত। এটি ৫১ সতীপীঠের অন্যতম। মন্দির চত্বরে দশমহাবিদ্যার মন্দির আছে।
আসামে এতো কিছু দেখা সত্ত্বেও কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্ক না ঘুরলে আসাম ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যায়|আসামের গোলাঘাট এবং নাগাওন জেলায় অবস্থিত। এই বন একশৃঙ্গী গণ্ডারের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এছাড়া এ বন বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবেও স্বীকৃত। আসাম একশৃঙ্গের গণ্ডারের জন্য বন্যপ্রাণী বা প্রকৃতিপ্রেমীর কাছে বেশি পরিচিত। ফলে রাজ্যটি বন্যপ্রাণী পর্যটনের ক্ষেত্রে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হয়ে উঠছে। এছাড়া আসামের চা বিশেষ বিখ্যাত।তবে আমার মতে সব থেকে বিখ্যাত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আসামের মানুষের আতিথেয়তা ও তাদের সারল্য|
আপাতত সেই বিখ্যাত চায়ে চুমুক দিয়ে ব্যাস্ত হয়ে যাবো ক্লাইন্ট দেখায়, তবে কালও থাকছি, সময় সুযোগ হলে আবার আসাম নিয়ে দুচার কথা বলবো আপনাদের জন্যে|জানাবেন আপনাদের মতামত|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ
ত্রিপুরায় পন্ডিতজি
করোনা আতঙ্ক কাটিয়ে, ঘর বন্দী দশা ঘুচিয়ে আবার ডানা মেলার পালা, আবার ভিন রাজ্যে পাড়ি দেয়া, যদিও মূল উদ্দেশ্যে চেম্বার এবং ক্লাইন্ট দের সাথে সাক্ষাৎ তবু যতবার এই ত্রিপুরায় পা রাখি এক অদ্ভুত আনন্দ পাই কারন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন ও আধ্যাত্মিক প্রতিতষ্ঠান এর এক অদ্ভুত মেল বন্ধন ঘটেছে এই রাজ্যে|
এক দিকে ত্রিপুরার চিত্রবৎ পরিবেশ সবুজ উপত্যকা, পাহাড়ী স্রোত, পাহাড় এবং উপত্যকা দ্বারা পরিবেষ্ঠিত। প্রাকৃতিক ভাবে ত্রিপুরার জনপ্রিয় আকর্ষণ স্থলগুলি হল কমলাসাগর হ্রদ, ডামবুর হ্রদ, উজ্জায়ান্তা প্রাসাদ, নীড়মহল, কুঞ্জবন প্রাসাদ, ত্রিপুরা সরকারী যাদুঘর, জাম্পুই পাহাড় ইত্যাদি যা আপনাকে একবার এলে বার বার আসতে বাধ্য করবে|
বলতেই হয় ত্রিপুরার সরকারী যাদুঘর একটি দর্শনীয় স্থান, এটি হল একটি সংগ্রহস্থল যেখানে হস্তনির্মিত এবং প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে যা উত্তর-পূর্বের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করে। বস্তুত, এই যাদুঘটি রাজ্যের সাংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে গন্য হয়|
গোমতী অভয়ারন্য রোয়া অভয়ারণ্য এবং সিপাহিজলা অভয়ারণ্য রাজ্যের মধ্যে অন্যতম পর্যটন স্থল যেখানে গেলে বন্যপ্রান প্রেমীরা মুগ্ধ হবেন|
আধ্যাত্মিক জগতের মানুষ হিসেবে ত্রিপুরার প্রাচীন মন্দির গুলির সঙ্গে আমার সম্পর্ক বহু দিনের|ত্রিপুরার মন্দিরগুলি হল এই রাজ্যের পর্যটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ত্রিপুরার মন্দিরগুলি তাদের স্থাপত্য এবং ভাস্কর্য-এর জন্য সুপরিচিত|
এক্ষেত্রে তিনটি মন্দিরের কথা বিশেষ ভাবে বলতে হয়|ভুবনেশ্বরী মন্দিরটি গোমতী নদীর তীরে অবস্থিত যা ত্রিপুরার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘রাজর্ষি’ এবং ‘বিসর্জন’ এর প্রেক্ষাপট হিসেবে এই মন্দিরটি ব্যবহৃত হয়েছিল।হিন্দুদের ৫১ টি পীঠস্থানের একটি হল ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির যা আগরতলা থেকে প্রায় 55 কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত,
এবং ত্রিপুরার সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটনস্থানের একটি হল কমলাসাগর কালী মন্দির যা বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত। মন্দিরগৃহে অবস্থিত দেবীর ভাবমূর্তিকে মহিষমর্দিনীর অনুরূপ হিসাবে বর্ণনা করা হয়ে থাকে।
ত্রিপুরার মানুষের আতিথেয়তা ও সুন্দর ব্যাবহারের কথাও বেশ সুপ্রসিদ্ধ, আজ রয়েছি ত্রিপুরায়, আগামী দুদিন থাকবো যথাক্রমে শিলচর ও গুয়াহাটি, সেই স্থান গুলি নিয়েও বলবো যথা সময়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|