Home Blog Page 149

পন্ডিতজির মনের কথা – ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা – Panditji Vrigur Sri Jatak

বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও আধ্যাত্মিক বিষয় নিয়ে আলোচনা,ব্যাখ্যা ও আমার মতামত|এক অন্য আঙ্গিকে অন্য দৃষ্টিভঙ্গি থেকে

কলকাতার কালী – ফিরিঙ্গি কালী মন্দির

ইতিমধ্যে কলকাতার কালী নিয়ে দুটি পর্ব লিখেছি যা আপনাদের কাছ থেকে সমাদর ও প্রশংসা আদায় করে নিয়েছে|আজ কলকাতার কালীর তৃতীয় পর্ব নিয়ে আমি আপনাদের সামনে উপস্থিত আজ লিখবো কলকাতার বেশ জনপ্রিয় এবং বহু চর্চিত এক কালী মন্দির নিয়ে|আজকের পর্বে ফিরিঙ্গি কালী মন্দির|

কলকাতার বৌবাজার অঞ্চলে, বিপিন বিহারী গাঙ্গুলী স্ট্রিটে অবস্থিত ফিরিঙ্গি কালী মন্দির কলকাতার প্রাচীন কালী মন্দির গুলির মধ্যে অন্যতম|যদিও মন্দির প্রতিষ্ঠার সঠিক সময় জানা যায়না তবে এই মন্দির ও কালী মূর্তি আনুমানিক পাঁচশো বছরের পুরোনো|
মন্দির প্রাঙ্গনে স্থাপিত একটি ফলকে উল্লেখিত রয়েছে- শ্রীশ্রীসিদ্ধেশ্বরী কালীমাতা ঠাকুরাণী/ স্থাপিত ৯০৫ সাল, ফিরিঙ্গী কালী মন্দির”। এর থেকে অনুমান করা হয়, মন্দিরটি ৯০৫ বঙ্গাব্দে স্থাপিত হয়েছিল|শুরুতে অর্থাৎ ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শ্রীমন্ত পণ্ডিত নামে এক স্থানীয় সাধক এই মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ছিলেন পরবর্তীতে ১৮৮০ সালে স্থানীয় জমিদার শশিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মন্দিরের দায় ভার গ্রহণ করেন|

বর্তমান ফিরিঙ্গি কালী মন্দির বাংলার চাঁদনি স্থাপত্য শৈলী তে নির্মিত|এই মন্দিরের কালীমূর্তিটি মাটির তৈরি যার উচ্চতা প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট লম্বা|দেবী এখানে সবসনা এবং ত্রিনয়না মূর্তিতে বিরাজিতা|কালীমূর্তি ছাড়াও মন্দিরে আছে শীতলা, মনসা, দুর্গা, শিব ও নারায়নের মূর্তি|

ব্রিটিশ আমলে এই মন্দিরে আসতেন পর্তুগিজ বংশীয় কবিয়াল অ্যান্টনি যিনি অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি নামে বিখ্যাত ছিলেন|অ্যান্টনি সাহেব হয়ে উঠেছিলেন বেজায় কালী ভক্ত|এখানে এসে তিনি মায়ের পূজা দেখতেন ও প্রান খুলে গাইতেন শ্যামা সংগীত|মনে করা হয় সাহেবের নাম অনুসারেই মন্দিরের নাম হয় ফিরিঙ্গি কালী মন্দির|আবার অনেকেই মনে করেন সে কালে এই অঞ্চল ছিল ফিরিঙ্গি পাড়া হিসেবে বিখ্যাত তাই এই কালী মন্দিরের নাম হয় ফিরিঙ্গি কালী মন্দির|বাংলা সাহিত্য, চলচ্চিত্রে বহু বার, বহু ভাবে উল্লেখিত হয়েছে এই কালী মন্দির তথা এন্টনি সাহেবের কথা|

ফিরিঙ্গি কালী মন্দিরে মন্দিরে প্রতি অমাবস্যায় বিশেষ পূজা হয়| দীপাবলিতে কালীপূজা উপলক্ষে বহু মানুষ আসেন এখানে এছাড়াও প্রতি পূর্ণিমায় সত্যনারায়ণ পূজা হয় নিষ্ঠা সহকারে|

আজ এই বিশেষ কালী মন্দিরের কথা এখানেই শেষ করছি|দেখা হবে কলকাতার কালীর আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন বাকি লেখা গুলি আর দেখুন ইউ টিউব ও টিভির অনুষ্ঠান|যুক্ত হন মা হৃদয়েশ্বরী সর্ব মঙ্গলা মায়ের মন্দিরের সাথে|কোনো জ্যোতিষ সংক্রান্ত কাজ বা প্রতিকারের বিষয়ে কথা বলতে হলে ফোন করুন নির্দ্বিধায়|ভালো

কলকাতার কালী – ঠন ঠনিয়া কালী বাড়ি

নিয়মিত জোতিষ সংক্রান্ত অনুষ্ঠান ও লাইভ অনুষ্ঠানে পাশাপাশি আমি বরাবরই চেষ্টা করি একটু ভিন্ন ধর্মের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে করা অনুষ্ঠান বা লেখা লেখি নিয়ে আপনাদের সামনে আসতে|এবার আমার মনের নামক অনুষ্ঠান তেমনই এক প্রচেষ্টা যা আশা করি আপনাদের পছন্দ হবেই|অনেক নতুন ও অভিনব বিষয় নিয়ে আসবো আপনাদের সামনে|অভিনব রূপে হবে উপস্থাপনা|যখন কলকাতার কালী নিয়ে এই ধারাবাহিক লেখার সূচনা করি ভাবিনি তা এতো দ্রুত আপনাদের মধ্যে এতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠবে এবং এতো মানুষের প্রশংসা পাবে|আপনাদের প্রতিক্রিয়ায় আমি সত্যি আপ্লুত|আজকের পর্বে লিখবো কলকাতার আরেক প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ কালী মন্দির ঠন ঠনিয়া কালী বাড়ি নিয়ে|

কলকাতার বই পাড়া নামে খ্যাত কলেজ স্ট্রিটের কাছেই বিধান সরনী তে অবস্থিত এই প্রাচীন কালী মন্দির যার প্রকৃত নাম সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির হলেও ঠন ঠনিয়া কালী মন্দির নামেই বেশি পরিচিত|কেন এই রূপ অদ্ভুত নাম তা নিয়েও আছে একে মজার এবং অভিনব গল্প|তবে সে বিষয়ে পড়ে আসছি আগে এই মন্দিরের ইতিহাস একটু জেনে নিয়ে প্রয়োজন|

প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে আনুমানিক ১৭০৩ খ্রিষ্টাব্দে উদয়নারায়ণ ব্রহ্মচারী নামে জনৈক তান্ত্রিক মাটি দিয়ে একটি সিদ্ধেশ্বরী কালীমূর্তি গড়েন এবং এই স্থানে তাকে প্রতিষ্ঠিত করে পূজা শুরু করেন|পরবর্তীতে ১৮০৬ খ্রিষ্টাব্দে শঙ্কর ঘোষ নামে জনৈক এক ধনী ব্যক্তি বর্তমান কালীমন্দিরটি নির্মাণ করেন ও দেবী সিদ্ধেশ্বরীকে সেখানে প্রতিষ্ঠা করেন|বর্তমানে এখানে সিদ্বেশ্বরী কালী মূর্তির পাশাপাশি রয়েছে পুষ্পেশ্বর শিবের আটচালা মন্দির|

লোক মুখে প্রচলিত একটি কিংবদন্তী অনুসারে এক কালে এই অঞ্চল ছিল দুর্গম|বন জঙ্গলে ঢাকা|ছিল ডাকাতের উপদ্রব|সেই সময়ে ডাকাতরা এখানে দেবী কে প্রতিষ্ঠা করে পূজা শুরু করেছিলো|পরবর্তীতে দেবী মূর্তি কে আর সেখান থেকে সরানো যায়নি|সেই স্থানেই তৈরী হয় মন্দির|বহুকাল আগে এই মন্দিরের বিশাল আকার ঘন্টা বাজিয়ে মানুষকে সতর্ক করা হতো ডাকাতের আক্রমনের আগে|সেই ঠন ঠন ঘন্টাধ্বনি শুনে সজাগ ও সতর্ক হতো আশপাশের মানুষ|সেই থেকেই ক্রমে মন্দিরের নাম হয় ঠন ঠনিয়া কালী বাড়ি|

এই মন্দিরে আসতেন সাধক রাম প্রসাদ|এই কালী মন্দিরের সাথে শ্রী রামকৃষ্ণদেবের মধুর স্মৃতিও জড়িত|একাধিক বার শ্রী রামকৃষ্ণ এসেছেন এখানে|কথামৃতর বহুস্থানে এই মন্দিরের উল্লেখ রয়েছে|

দীপাবলি সহ একাধিক বিশেষ তিথিতে এই মন্দিরে বিশেষ পূজার আয়োজন হয় ও সেই উপলক্ষে বহু ভক্ত আসেন এখানে|প্রথা মেনে প্রতি বছর এই মন্দিরে মূর্তির সংস্কার করা হয় নবরূপে|মন্দিরের গর্ভগৃহে সিদ্বেশ্বরী মায়ের মূর্তির পাশে রয়েছে ঠাকুর শ্রী রাম কৃষ্ণের মূর্তি|বিশেষ বিশেষ তিথিতে আজও এই মন্দিরে হয় পশু বলী|

এই পর্ব এখানেই শেষ করছি|দেখা হবে আগামী পর্বে|লিখবো অন্য কোনো কালী মন্দির নিয়ে|যারা জ্যোতিষ পরামর্শ বা প্রতিকারের জন্য যোগাযোগ করতে চান ফোন করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|সরাসরি কথা হবে আমার সাথে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কলকাতার কালী – চিত্তেশ্বরী কালী মন্দির

আমার লেখা একাধিক ধারাবাহিক লেখনী এবং বিশেষ পর্ব আপনাদের বেশ ভালো লাগে তা আপনারা নানা ভাবে জানিয়ে থাকেন|আপনাদের প্রশংসা ও উৎসাহ আমাকে উদ্বুদ্ধ করে নতুন নতুন বিষয় নিয়ে লিখতে|আজকাল জ্যোতিষ চর্চা, নিয়মিত লাইভ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি হৃদয়েশ্বরী মাসর্বমঙ্গলা মন্দিরের কাজে অনেক টা সময় ব্যয় করতে হয়|এতসব গুরু দায়িত্ব সামলানোর পর যতটা সময় হাতে পাই নিজেকে নিয়োজিত রাখি গবেষণা ও লেখালেখির কাজে|ইতিমধ্যে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ, শক্তি পীঠ এবং দশ মহাবিদ্যা পর্ব গুলি পাঠক মহলে বেশ সমাদৃত হয়েছে|এবার একটি সম্পূর্ণ নতুন ধারাবাহিক লেখনী নিয়ে আমি আপনাদের সামনে উপস্থিত|এই পর্ব গুলি তে লিখবো কলকাতা কলকাতা পার্শবর্তী এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কিছু প্রসিদ্ধ কালী মন্দির নিয়ে|জানাবো তাদের সাথে জড়িয়ে থাকা অনেক অজানা ও অলৌকিক গল্প|আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে|আজ প্রথম পর্বে চিত্তেশ্বরী কালী মন্দির|

কলকাতার প্রাচীন কালী মন্দির গুলির মধ্যে একদম প্রথম সারি তে রয়েছে চিত্তেশ্বরী কালী মন্দির|বর্তমান চিৎপুর অঞ্চলে অবস্থিত এই প্রাচীন মন্দির নিয়ে রয়েছে অজস্র কিংবদন্তী ও অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ|এই মন্দিরের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রতিষ্ঠার সঠিক সময় নিয়ে ঐতিহাসিক ও গবেষক দের মধ্যে রয়েছে মতবিরোধ|অনেকেই বিশ্বাস করেন কথিত, ষোড়শ শতকে এই মন্দির বানিয়েছিলেন তৎকালীন ধনী জমিদার মনোহর ঘোষ যিনি একসময়ে আকবরের মনসাবদার টোডর মলের রাজ কর্মচারী ছিলেন|আবার কেউ কেউ মনে করেন এই মন্দির নির্মান করেন ও দেবীকে এখানে প্রতিষ্ঠা করেন সেই সময়ের এই অঞ্চলের কুখ্যাত ডাকাত চিতে বা চিতু|তার নাম থেকেই নাকি এই অঞ্চলের নাম হয় চিৎপুর| বহু গবেষক আবার ভিন্ন মত পোষণ করে বলেছেন চিত্তেশ্বরী’ মন্দির থেকেই এলাকার নাম হয় চিৎপুর এবং এই মন্দির ও দেবী আরো অনেক বেশি প্রাচীন|

বহু মানুষের বিশ্বাস, এই মন্দিরে দেবী নিরন্তর অবস্থান করেন|এই মন্দির চত্বরে মূল মন্দিরে দেবী সর্বমঙ্গলা ছাড়াও আছে তিনটি শিব মন্দির। লোকমুখে শোনা যায় এককালে এই এলাকা ছিলো
অত্যান্ত দুর্গম|ছিলো ভয়ঙ্কর বাঘ ও দুর্ধর্ষ ডাকাতের উৎপাত|সত্যি মিথ্যে প্রমান করা মুশকিল তবে লোক মুখে শোনা যায় এক কালে ডাকাতরা নাকি এখানে নরবলি দিয়ে ডাকাতি করতে বেরোতো|ডাকাত দের আতঙ্কে জমিদার পরিবার এই স্থান ত্যাগ করে চলে যান বলে মনে করা হয়|

একটি প্রচলিত কিংবদন্তি অনুসারে, একবার মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে গঙ্গার জলে ভেসে আসা নিম কাঠ সংগ্রহ করে তাই দিয়ে মা চণ্ডীর বিগ্রহ তৈরি করেন চিতু ডাকাত৷ সাধারণত কালী রূপেই শক্তির আরাধনা করে থাকেন ডাকাত সর্দাররা কিন্তু এখানে মা চিত্তেশ্বরী দশভুজা দুর্গা রূপে পূজিতা হন আর মায়ের সামনে রয়েছে জঙ্গল রাজ বাঘ|শোনা যায় চিতে ডাকাতের মৃত্যুর পরে তৎকালীন জমিদার মনোহর ঘোষ ও নৃসিংহ ব্রহ্মচারী এই মন্দিরকে পুনর্প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং নিয়মিত নিষ্ঠা সহকারে পূজা চালু রেখেছিলেন যা আজও চলে আসছে|

বর্তমানে সাবর্ণ রায়চৌধুরীর বংশধররা এই মিন্দিরের দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করে থাকেন|এখানে রীতি অনুসারে মহালয়ার দিন থেকেই শুরু হয়ে যায় পুজো এবং তার আগে নিমকাঠের বিগ্রহে প্রথা মেনে হয় দেবীর অঙ্গরাগ| তারপরে হয় মায়ের চক্ষুদান এবং প্রাণ প্রতিষ্ঠা| দেবীর মূল পুজো শুরু হয় ষষ্ঠীতেই|

আজ প্রথম পর্বে চিত্তেশ্বরী কালী মন্দির নিয়ে লেখা এখানেই শেষ করছি|কলকাতার কালী শীর্ষক এই ধারা বাহিক লেখনী চলতে থাকবে|আগামী পর্বে অন্য কোনো কালী মন্দিরের কথা নিয়ে আসবো আপনাদের জন্য|যাওয়ার আগে বলে রাখি যারা জ্যোতিষ পরামর্শ নিতে চান বা মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে শাস্ত্র মতে গ্রহদোষ খণ্ডন করাতে চান তাদের জন্য আমার নাম্বার উল্লেখ করাই আছে|ফোন করে সরাসরি আমার সাথে কথা বলতে পারেন|ভালো থাকুন ধন্যবাদ|

মলমাস এবং মলমাসের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

সনাতন ধর্মে তিথি নক্ষত্র বা সময় কে সর্বদাই বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়|এই তিথি নক্ষত্রর সাথে বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে তন্ত্র এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রের| আমি আগেও বহুবার বলেছি যে বিশেষ কিছু তিথিতে শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন অনেক বেশি কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করে|এই রীতি আমি মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরের ক্ষেত্রেও মেনে চলি|বিগত মহালয়ার অমাবস্যায় যেমন মন্দিরে বিশেষ পূজা, হোম যজ্ঞ ও শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনের ব্যবস্থা হয়েছিল আগামী অমাবস্যা তিথিতেও সেই রূপ ব্যবস্থা করা হবে|কিন্তু আপনারা জানেন এই মাস কে মল মাস বলা হয়, অনেক ভুল ভ্রান্তি ও সংশয় আমাদের মধ্যে থাকে এই মাস কে ঘিরে|তাই এই মাসের অন্তর নিহিত অর্থ ও তার ধার্মিক এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরবো|

আমরা প্রায় শুনি এটা মল মাস চলছে, এবং এই মাসে কোনো শুভ কাজ করা যায় না|আরো অনেক বিধি নিষেধের কোথাও শোনা যায়|
অনেকে মনে করেন এই মাসে জ্যোতিষ পরামর্শ নেয়া, ভাগ্য বিচার করানো বা প্রতিকার নেয়া ঠিক না|এই ধারণা সম্পূর্ণ রূপে ঠিক না|কেনো, তা জানতে গেলে আগে বুঝতে হবে কি এই মল মাস এবং এই মাস সম্পর্কে সনাতন ধর্ম শাস্ত্র কি বলছে|

পঞ্জিকা মতে আমাদের দেশে সৌর ও চন্দ্র পদ্ধতির আলাদা সন গোনার পদ্ধতি থাকলেও প্রাচীন কাল থেকেই মিশ্র রীতিতেও তার হিসেব রাখা হত| যেমন চন্দ্র পদ্ধতিতে মাসের গণনা হলেও সন গণনা হত সৌর পদ্ধতিতে| হিন্দুদের পূজা পার্বন-সহ অন্যান্য অনুষ্ঠান চাঁদের পরিবর্তনের হিসেব অনুযায়ী হয় এবং চন্দ্র পদ্ধতির হিসেবে প্রতিটি মাসই ৩০ দিনের। পূর্ণিমা থেকে পূর্ণিমা। ফলে প্রতি সৌর বছরের হিসেব থেকে কয়েকটি দিনের পার্থক্য ঘটে। তাই প্রতি তিন সৌর বছর পরে পরে দেখা যায় একটি চান্দ্রমাস বেশি হচ্ছে। তখন ওই মাসটিকে অতিরিক্ত ধরে মূল হিসেব থেকে বাদ দেওয়ার রীতি চালু হয় এবং এই অতিরিক্ত মাসকে বলা হয় অতিরিক্ত মাস বা মলমাস|এই মল মাসকে কেউ অধি মাস আবার কেউ মলিন মাস ও বলেন কারন মাসটি অতিরিক্ত এবং অপবিত্র মনে করা হতো|তবে শাস্ত্রে বিশেষ করে বৈষ্ণব শাস্ত্রে এই মাসকে বলা হয় পুরুষোত্তম মাস|

আবার এই মাসের আরো একটি ব্যাখ্যা হয়|
একই মাসে দু’টি অমবাস্যা তিথি পরলেও সেটিকে মলমাস বলা হয়|‘মল’ শব্দের প্রকৃত অর্থ অশুভ|প্রচলিত রীতি অনুসারে এই মাসকে বর্জিত হিসেবে দেখা হয় এবং হিন্দু ধর্মের কোনও পূজা বা শুভ অনুষ্ঠান যেমন বিবাহ, অন্নপ্রাশন ইত্যাদি হয় না। তবে শ্রাদ্ধ বা সপিণ্ডকরণ করা যায়|এখানে আরেকটি উল্লেখ যোগ্য বিষয় হলো অগ্রহায়ণ, পৌষ ও মাঘ মাস কখনও মলমাস হয় না|

অনেকেই ভাবেন এবছর দূর্গা পূজা কেনো এতো পিছিয়ে গেলো বা মহালয়ার এতো পরে কেনো দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে|আসলে এবছর আশ্বিন মাসে দুটি অমাবস্যা পরে যাওয়ার জন্য আশ্বিন মাস মল মাস বলে বিবেচিত হবে, তাই পূজা হবে কার্তিক মাসের প্রথম দিকে|

তবে সর্বত্র মল মাসকে অপবিত্র বলে মনে করা হয়না কিছু স্থানে ব্যতিক্রম ও আছে|নেপালের কিছু জায়গায় এই মল মাসকে পবিত্র হিসেবে দেখা হয় এবং বিশেষ কিছু উৎসব ও পালন হয় এই সময়ে|সেই উপলক্ষে সেখানে ভগবান বিষ্ণুর মৎস অবতারের পূজাও করা হয়|
শাস্ত্রমতে স্বয়ং বিষ্ণু এই মাসকে পবিত্র ও মঙ্গলময় বলেছেন এবং এই মাসকে পুরুষোত্তম মাস নামে অভিহিত করেছেন|স্বয়ং ভগবান যে মাসকে স্বীকৃতি দিয়েছেন তাকে আর যাই হোক অশুভ বা অপবিত্র বলা যায় কিনা তা ভেবে দেখার বিষয়|

যার জ্যোতিষ পরামর্শ বা প্রতিকার নিতে চান এবং শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনের মাধ্যমে গ্রহের অশুভ প্রভাব কাটিয়ে জীবনে সফল হতে চান তারা নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|আমি ছিলাম, আছি এবং থাকবো|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শক্তিপীঠ প্রয়াগ

আজ বেশ কিছুদিন পর কলম ধরলাম একটি শক্তি পীঠ পর্ব আপনাদের সামনে আনবো বলে, তবে বাংলায় অবস্থিত শক্তি পীঠ গুলির কথা সবই আগের পর্ব গুলিতে লিখে ফেলেছি, যারা এখনো পড়েননি তারা আমার ওয়েবসাইটে গিয়ে পড়তে পারেন|আজ লিখবো বাংলার বাইরে অবস্থিত দেশের একটি অন্যতম শক্তি পীঠ নিয়ে|আজকের পর্বে প্রয়াগে অবস্থিত শক্তি পীঠ অর্থাৎ মাতা ললিতা বা আলপী|

সঙ্গম এমনিতেই সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী মানুষদের কাছে ওতি পবিত্র স্থান যা উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদে অবস্থিত|পীঠ নির্নয় তন্ত্র সহ একাধিক শাস্ত্রে উল্লেখ আছে যে সঙ্গমের কাছে দেবীর হাতের আঙ্গুল পতিত হয়|এই পবিত্র স্থানেই সৃষ্টি হয়েছে এক শক্তি পীঠ| দেবী এখানে ললিতা নামে পূজিতা এবং দেবীর ভৈরবের নাম ভব। এই স্থানকে এমনিতেও তীর্থরাজ বলা হয় কারন এখানে তিনটি প্রধান নদী গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী মিলিত হয়।মন্দিরের স্থাপত্য ওতি সুন্দর তবে এই মন্দিরের এক বিশেষত্ব আছে। এখানে কোন মূর্তি নেই|একটা কাঠের দোলনা আছে। তার ওপরেই দেবীকে কল্পনা করে নেওয়া হয়। এখানে দেবীকে ‘ আলোপী মাতা ’ও বলা হয় কারন দেবী এখানে অদৃশ্য|শঙ্করাচার্য্যর অষ্টাদশ পীঠ স্তোত্র তেও এই শক্তি পীঠের উল্লেখ আছে|

পুর্ন লাভের আশায় প্রয়াগে আসা অসংখ্য দর্শনার্থী এই শক্তি পীঠ দর্শন করেন|প্রায় সারা বছরই এখানে ভক্ত দের আনাগোনা লেগে থাকে|নবরাত্রি ও শিব রাত্রি উপলক্ষে এখানে বিশেষ পূজা হয় এবং বহু ভক্তের সমাগম হয়|

এলাহাবাদ স্টেশন ও এয়ারপোর্ট থেকে অল্প দূরেই অবস্থিত এই শক্তি পীঠ যা প্রতিদিন সকাল সাড়ে সাতটা থেকে সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা অবধি দর্শনার্থী দের জন্য খোলা থাকে|চাইলে সময় সুযোগ বুঝে একবার ঘুরে আসতে পারেন|এক অদ্ভুত আধ্যাত্মিক প্রশান্তি অনুভব করবেন নিজের অন্তরে|

আজ এই শক্তি পীঠ পর্বের লেখা এখানেই শেষ করছি আগামী পর্বে অন্যকোনো শক্তি পীঠের কথা নিয়ে ফিরে আসবো|সঙ্গে থাকুন, জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকারের জন্য ফোন করুন উল্লেখিত নাম্বারে|সরাসরি কথা হবে আমার সাথে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|