কলকাতার কালী – কৌটা কালী

293

বিগত কয়েকটি পর্ব থেকে কোলকাতার কালী শীর্ষক ধারাবাহিক লেখায় জেলার কিছু প্রসিদ্ধ কালী মন্দিরের কথা আপনাদের সামনে তুলে ধরছি|সেই পরম্পরা কে আরেকটু এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি এই পর্বে|আজকের পর্ব লিখবো চন্দ্র কোনার পুরশুঁড়ি গ্রামের কৌটা কালী কে নিয়ে|

প্রায় তিনশো বছর ধরে চন্দ্রকোণা এক নম্বর ব্লকের পুড়শুড়ি গ্রামে পূজিতা হয়ে আসছেন সিংহ পরিবারের কৌটো কালী মা|এই দেবীর পুজো ও মন্দিরের সাথে জড়িত আছে কিছু বিচিত্র প্রথা যা শুনতে বেশ অদ্ভুত লাগে|কয়েকশ বছর ধরে এই রীতি নীতি পালিত হয়ে আসছে এখানে|

মনে করা হয় পুড়শুড়ি গ্রামের সিংহ পরিবারের এই পুজোর প্রচলন করেছিলেন জমিদার রাম চন্দ্র সিংহ ১২৭৪ সালে |নিয়ম অনুযায়ী, দেবী প্রতিমাকে পুরোহিত ছাড়া কেউ দর্শন করতে পারেন না। মহিলারা তো রীতিমতো ব্রাত্য মাতৃদর্শনে। এমনকি ওই পরিবারের বাড়ির লোকজনও মাতৃদর্শন করেন না|পুজোর সব দায়িত্ব পালন করেন স্থানীয় ঘোষ পরিবার সিংহ পরিবার কেবলমাত্র অতিথি হিসেবে থাকে|

কৌটো কালী মাকে বিষ্ণু মন্দিরে ঠাঁই দেন জমিদার নীলকন্ঠ সিংহ। সেই থেকে সারা বছর বিষ্ণু মন্দিরেই অধিষ্ঠান করেন কৌটো কালী মা। জানা যায়, কালীপুজোর সময় মাত্র চার ঘন্টার জন্য মন্দির থেকে দেবী প্রতিমাকে বার করা আনা হয়| সেই কারণেই দেবী এখানে কৌট কালী নামে প্রসিদ্ধ|

আজও পুজো উপলক্ষে দেবীর সামনে দেওয়া হয় ছাগল বলিও। রীতি মেনে চার ঘন্টার মধ্যে পুজো ও ছাগল বলি সম্পন্ন করে, ফের দেবীপ্রতিমা বিষ্ণু মন্দিরে রেখে আসেন পুরোহিত| এই ভাবে নিয়ম ও প্রথা মেনে প্রতিটি বিশেষ তিথি তে এখানে কালীপূজা হয়|স্থানীয়দের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় দেবী কৌটা কালী|

আগামী পর্বে আবার কোন বিশেষ কালী মন্দিরের কথা নিয়ে আপনাদের সামনে আসবো| যাওয়ার আগে মনে করিয়ে দিও আগামী কালী পূজা উপলক্ষে যারা জ্যোতিষ পরামর্শ বা প্রতিকার নেওয়ার কথা ভাবছেন তারা এখনি যোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|