পুরান রহস্য – গনেশের মুন্ডুচ্ছেদ

434

আজ পুরান রহস্যর এই পর্বে আলোচনা করবো সিদ্ধিদাতা গণেশ ও তার অদ্ভুত দর্শন রূপের সাথে জড়িয়ে থাকা কিছু রহস্য ময় ঘটনা, জানবো তার শিরোচ্ছেদ সংক্রান্ত কিছু রোমাঞ্চকর তথ্য|

ভগবান গণেশের জন্ম ও তার শিরোচ্ছেদ এবং পরবর্তীতে তার স্থানে হাতির মাথা প্রতিস্থাপন নিয়ে
পুরান ও শাস্ত্রের নানা রকম ব্যাখ্যা ও ঘটনার উল্লেখ পাওয়াযায়|গনেশ মাতা পার্বতী এবং ভোলানাথের সন্তান। কিন্তু তার জন্ম বৃত্তান্ত একটু আলাদা, আগে জেনে নেওয়া যাক গণেশের জন্মের কাহিনি। কথিত আছে, পরবর্তী খেলার ছলে নিজ গাত্র ধূলি দিয়ে একটি বালকের মূর্তি তৈরি করেন । এর পর তাতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন। জীবনদানের পর ওই বালককে নিজের পুত্র স্বীকার করেন পার্বতী|

গনেশ এর শিরোচ্ছেদ ও হাতির মাথা স্থাপন নিয়ে কয়েকটি পৌরাণিক ঘটনার উল্লেখ রয়েছে বিভিন্ন গ্রন্থে|

একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা অনুসারে একেবারে ভিন্ন এখানে বিষ্ণুর কৃপায় পার্বতীর এক পুত্র হয় এবং পুত্রের অন্ন প্রাসনে আমন্ত্রিত শনির দৃষ্টি পড়ায় মুণ্ডলোপ হল তার। তখন পুনরায় তাকে জীবিত করতে সেখানে বসল হাতির মাথা।সেই থেকে ওই রূপেই বিরাজমান গণেশ |

আরেকটা ব্যাখ্যা আছে যেখানে বলা হয় পার্বতী গাত্রমল নিয়ে এক শিশু গড়ছেন। মাথার মাটি কম পড়েছে। তখন উপায় না দেখে মাথার স্থানে এক পাগলা হাতির মাথা কেটে বসিয়ে দিয়ে মূর্তির সম্পূর্ণ করেন | সেই কারণে এই রুপ |

অন্য একটি পৌরাণিক ঘটনা অনুসারে একদিন শিব কৈলাশ ফেরার পর গুহাদ্বারে একটি বালককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। সেই গুহাতেই ছিলেন স্নান করছিলেন পার্বতী। মা-এর আদেশ মেনে শিবকে ওই গুফায় প্রবেশ করতে দেননি গণেশ। ফলে গণেশের ওপর রেগে যান মহাদেব। এর পরই দেবতাদের সঙ্গে গণেশের যুদ্ধ বাধে। একে একে সমস্ত দেবতাই গণেশের শক্তির সামনে পরাজিত হন। এর পর ত্রিশূল দিয়ে নিজের অজান্তেই পুত্র গণেশের শিরোশ্ছেদ করেন মহাদেব।পরে গণেশের মৃত্যুতে ক্রুদ্ধ পার্বতীকে শান্ত করতে গণেশের প্রাণ ফিরিয়ে দেন শিব এবং তা করতে হাতির মাথা ওই বালকের দেহে যুক্ত করা হয় শিবের নির্দেশে |

মনে করা হয় উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড়ে পাতাল ভুবনেশ্বর গুহা অবস্থিত। এইখানেই রয়েছে গনেশের কাটা যাওয়া মাথা যা দেখতে আসেন বহু মানুষ এমনকি দেবতারাও আসেন পুজো দিতে|

আজ এই পর্ব এখানেই শেষ করছি|ফিরবো আগামী পর্বে নতুন রহস্য নিয়ে|সঙ্গে থাকুন, পড়তে থাকুন আর যারা জ্যোতিষ পরামর্শ বা প্রতিকার চান যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|