শিব অবতার – শরভ অবতার
পন্ডিত জি ভৃগুর শ্রীজাতক
দেবাদিদেব মহাদেবের বিচিত্র এবং উগ্র বা ধ্বংসাত্মক একটি অবতার শরভ অবতার।
একটি বিশেষ উদ্দেশ্য সম্পন্ন করতে এই অবতারের আবির্ভাব হয়।আজকের শিব অবতার পর্বে লিখবো এই শরভ অবতার নিয়ে।
নৃসিংহ দেবের হাতে হিরণ্য কশিপুর বধ হলো কিন্তু নৃসিংহদেবের ক্রোধ কম হল না। তিনি ভয়ানক ধ্বংসলীলা চালিয়ে যেতে থাকেন। স্বর্গ মর্ত এবং পাতাল কেঁপে ওঠে তার ক্রোধে।
এই সময়ে সব দেবতারা একসাথে শিবের শরণ নেন। তাঁরা বুঝতে পারেন, একমাত্র মহাদেবই পৃথিবীকে রক্ষা করতে পারেন। শিব বীরভদ্র ও ভদ্রকালীকে প্রেরণ করেন নৃসিংহকে থামানোর জন্য। কিন্তু মহাপ্রতাপ নৃসিংহ সেই দুই মহাশক্তিকেও বিপর্যস্ত করে ফেলেন। এমতাবস্থায় মহাদেব নিজেই শরভ নামের এক বিচিত্রদর্শন প্রাণীর রূপ নিয়ে আবির্ভূত হন।
শাস্ত্রে উল্লেক্ষিত বর্ণনা অনুযায়ী শরভ এক সুবিশাল পাখি। তাঁর সহস্রবাহু এবং পশুর মতো দেহ|নৃসিংহ ও শরভ অবতারের মধ্যে ভয়ানক যুদ্ধ হয়|শরভের আঘাতে নৃসিংহ আত্মসংবরণ করেন। শরভই শেষ করেন নৃসিংহের লীলা।নৃসিংহ দেবের ক্রোধ থেকে রক্ষা পায় সৃষ্টি |
শিব নিজে একজন পরম বৈষ্ণব এবং নৃসিংহ দেব স্বয়ং বিষ্ণু| ভক্তের দ্বারা ভগবানের বধ বা ভক্ত এবং ভগবানের যুদ্ধ সনাতন ধর্ম শাস্ত্রের অতি বিরল ঘটনা|এই যুদ্ধ ও দুর্লভ অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় নৃসিংহ পুরান ও শিব পুরানে।
শিব কে বলা হয় সংহারকর্তা। সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে নৃশংহ দেবের ক্রোধ থেকে সৃষ্টি রক্ষা করতে দেবাদিদেব তাকে সংহার করতেই বিকট এবং বিচিত্র শুরভ রূপ নেন।
শিবের উনিশটি অবতার আছে। তাই ধারাবাহিক ভাবে চলবে এই পর্বগুলি।
আগামী পর্বে শিবের অন্য একটি অবতারের কথা আপনাদের শোনাবো। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
