Home Blog Page 158

গুরু কথা – সাধক বামা খ্যাপা

ভারতের আধ্যাত্মিক জগতের গুরুদের নিয়ে ধারাবাহিক লেখা বামা খ্যাপা কে বাদ দিয়ে হতে পারেনা কারন তার মত মহান ও ব্যতিক্রমী সাধক এদেশে খুব কমই আছেন|তারাপীঠ নিয়ে আমি আগেও লিখেছি, সেখানে বামা খ্যাপা প্রসঙ্গ নিশ্চই এসেছে, তার জীবন,সাধনা, অলৌকিক ঘটনাবলী একাধিক বার আলোচিত হয়েছে|তবে তন্ত্র জগতে গুরু হিসেবে তার আলাদা তাৎপর্য রয়েছে কারন নিজের জীবন ও দর্শন দিয়ে তিনি দেখিয়ে দিয়ে গেছেন একজন আদর্শ মাতৃসাধক ও তন্ত্র সাধকের জীবন কেমন হওয়া উচিৎ|পরবর্তীতে অসংখ্য নবাগত তন্ত্র সাধক তার দেখানো পথে হেটে সাফল্য পেয়েছেন|আজও তন্ত্র ও আধ্যাত্মিক জগতের সাথে যুক্ত বহু মানুষের মনের মণিকোঠায় তিনি পরম গুরু|আজকের পর্বে তার জীবনের একটি বিশেষ সময় এবং ঘটনা কে আপনাদের সামনে তুলে ধরবো|

এমনটা নয় যে তারাপীঠ মন্দিরে আসার প্রথম দিন থেকেই বামার জয় জয়কার শুরু হয় বা সবাই তার অলৌকিক ক্ষমতা স্বীকার করে নেয়|তারাপীঠে মা তারার সঙ্গে বামা খ্যাপা কে ভোগ দেয়ার যে রীতি প্রচলিত হয়েছে তার সাথেও জড়িয়ে আছে এক অলৌকিক ঘটনা যা বদলে দিয়ে ছিলো বামা খ্যাপার জীবনে ও তার প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি|

তারাপীঠ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নাটোর রাজ পরিবার, একদিন নাটোরের রানী স্বপ্নে দেখলেন মা তারা মন্দির ছেড়ে চলে যাচ্ছেন,ঘুম ভেঙে কাঁদতে কাঁদতে তাঁর আরাধ্য দেবী মা তারাকে স্মরণ করলেন রানী। দু’হাত জোড় করে মা’কে বললেন, “মা গো, আমি কি অপরাধ করেছি যে তুমি স্বপ্নে এসে আমাকে বললে… এই রাজ্য ছেড়ে তুমি চলে যাবে! মা,” উত্তরে মায়ের আদেশ ভেসে এলো রানীর কানে, মা বললেন ‘মন্দিরের পুরোহিত আর দারোয়ান মিলে আমার পাগল ছেলে খ্যাপাকে প্রচণ্ড মারধর করেছে। ওরা জানে না যে তাদের ওই মার আসলে আমার শরীরেই পড়েছে। আমার দেহ ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। আমার খ্যাপা ছেলের অপরাধ ছিল যে, সে আমারই ডাকে আমার সঙ্গে বসে ভোগ খাচ্ছিল। ওই রকম প্রচণ্ড মার খাওয়ার পর থেকে তিনদিন হয়ে গেল, ছেলেটা আমার কিচ্ছু খায়নি… তাই আমিও তিন দিন ধরে জলস্পর্শ করিনি! তুই বল, ছেলে না খেলে মা কখনও খেতে পারে!’

মায়ের কাছে ক্ষমা চাইলেন রানী|ভোরবেলাতেই রানি ছুটলেন মন্দিরে। তাঁর মুখে গত রাতের ঘটনা শুনে সবাই স্তম্ভিত|জানা গেলো ঘটনা সত্যি,কদিন আগে, বামা মন্দিরের ভিতর ভোগ খেতে ঢুকেছিলেন।তখন পুরোহিত এবং দারোয়ান মিলে তাঁকে বেধড়ক মেরেছে|সেই থেকে বামা কিছু খাচ্ছেন না|সব শুনে সেই সময়ে রানী নির্দেশ দিলেন ‘আজ থেকে এই তারাপীঠ মন্দিরে তারা মায়ের সঙ্গে তাঁর পাগল ছেলে মহাসাধক বামাখ্যাপাকেও ভোগ দেওয়া হবে’|তারাপীঠে এই ভাবে শুরু হয়েছিলো মা তারা ও তার স্নেহের খ্যাপা সন্তান বামাকে এক সাথে ভোগ নিবেদনের রীতি|

গুরু শিষ্য পরম্পরাকে শ্রদ্ধা করতেন বাম দেব|সাধক বামাচরণ চট্টোপাধ্যায় ওরফে বামা ক্ষ্যাপা বলেছিলেন, নিগমে প্রকৃতি বা শক্তিরূপী দেবী হলেন গুরু আর শিব হলেন শিষ্য আর আগমে শিব গুরু ও দেবী শিষ্য। বামাচারীদের শাস্ত্র হল নিগম আর দক্ষিণাচারীদের আগম। এই পরম্পরা চলে আসছে আদিকাল থেকে|

বামা খ্যাপার জীবনে অলৌকিক ঘটনা এতো বেশি ও তার তাৎপর্য এতো গভীর যে একটি পর্বে শেষ করা যায়না, তবুও চেষ্টা করলাম গুরু পূর্ণিমার প্রাক্কালে এই গুরুকে স্মরণ করতে ও তাকে শ্রদ্ধা জানালাম নিজের মত করে|আজ এখান থেকে বিদায় নিলাম তবে জ্যোতিষ সংক্রান্ত প্রয়োজনে আমাকে অনলাইনে সর্বদাই পাবেন শুধু যোগাযোগ করতে হবে উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

গুরু কথা – আনন্দময়ী মা

আগামী 24 এ জুলাই আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের পূর্ণিমা তিথিতে দেশ জুড়ে পালিত হবে গুরু পূর্ণিমা|জীবের অন্ধকারাচ্ছন্ন মনকে শ্রীগুরুই জ্ঞানালোক দ্বারা আলোকিত করতে পারেন । গীতা তে স্পষ্ট বলা হচ্ছে যিনি শিষ্য কে সকল জাগতিক বন্ধন থেকে মুক্ত করে আধ্যাত্মিক মার্গে চালনা করবেন ও জন্ম মৃত্যুর আবর্ত থেকে নিষ্কৃতির পথ দেখবেন তিনিই প্রকৃত গুরু|অর্থাৎ পরম জ্ঞান লাভ হয় যার আশ্রয়ে, যার শিক্ষায়, তিনিই প্রকৃত গুর এই গুরু শিষ্য পরম্পরা ভারতের সংস্কৃতির ভিত্তি এবং এই গুরু শিষ্য পরম্পরাকে উদযাপন করা হয় এবং উৎসব আকারে পালন করা হয় গুরু পূর্ণিমায়|

আজ থেকে গুরু পূর্ণিমা উপলক্ষে শুরু করছি একটি ধারাবাহিক লেখনী|লিখবো ভারতের আধ্যাত্মিক জগতের কয়েকজন বিখ্যাত গুরুকে নিয়ে|আজ প্রথম পর্বে পরম শ্রদ্ধেয় আনন্দময়ী মা|

১৮৯৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার খেওড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন|
আন্দময়ীর প্রকৃত নাম ছিলো নির্মলা সুন্দরী
তাঁর মধ্যে ঈশ্বরচেতনার বিকাশ হয় শৈশব থেকেই।তখন থেকেই হরিনামকীর্তন শুনে তিনি আত্মহারা হয়ে যেতেন|

১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে বিক্রমপুরের রমণীমোহন চক্রবর্তীর সঙ্গে তার বিবাহ হয়। ১৯২৬ সালে যখন সিদ্ধেশ্বরীতে কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা হয় ধর্মকর্মে আত্মনিয়োগ করেন আনন্দ নির্মলাদেবী |এই মন্দিরেই একদিন দিব্যভাবে মাতোয়ারা নির্মলা আনন্দময়ী মূর্তিতে প্রকাশিত হন এবং তখন থেকেই তার নাম হয় আনন্দময়ী মা। স্বামীও পরবর্তীকালে সন্ন্যাস গ্রহণ করে ভোলানাথ নামে পরিচিত হন|১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে আনন্দময়ী স্বামীর সঙ্গে উত্তর ভারতের দেরাদুনে চলে যান এবং সেখানে তার লীলাক্ষেত্র ক্রমশ সম্প্রসারিত হয়|পরবর্তীতে সারা দেশ ভ্রমণ করেন আনন্দময়ী মা, অসংখ্য মানুষ তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহন করেন|তৈরি হয় একাধিক আশ্রম|

আনন্দময়ী মা বলতেন, ”খণ্ড আনন্দে প্রাণ তৃপ্ত হইতেছে না, তাই মানুষ অখণ্ড আনন্দ পাইবার জন্য অখণ্ডের সন্ধান করিতেছে।’ এই আনন্দের জন্যই তাঁর জীবন কেটেছে সাধনায়। কৈশোরে এবং পরবর্তীকালে বিবাহিত জীবনেও তিনি ভাবজগতে বেশিরভাগ সময় ডুবে থাকতেন|

শোনা যায় আনন্দময়ী মা-কে তাঁর ভক্তরা কখনও ছিন্নমস্তার মূর্তিতে, কখনও ভুবনেশ্বরী মূর্তিতে আবার কখনও বা সরস্বতী রূপে দেখতেন|

ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন আনন্দময়ী মায়ের অন্যতম প্রধান শিষ্যা। সুভাষচন্দ্র বসু, কমলা নেহরু, পরমহংস যোগানন্দ ও মাধব পাগলার মতো ব্যাক্তিত্বরা মা আনন্দময়ীর শিষ্যত্ব গ্রহন করেছিলেন|

1982 সালে মহাসমাধিতে লীন হয়ে যান ভারতের এই মহান সাধিকা ও আধ্যাত্মিক গুরু|তাঁর দেহত্যাগের পর শিষ্যা ইন্দিরাগান্ধী শোক জানিয়ে বলেছিলেন ”আমার জীবনে মা আনন্দময়ীর আশীর্বাদ ছিল প্রধান শক্তি ও ভরসা। আজ আমার মর্মবেদনা জানাবার ভাষা নেই।” মহান সাধক ও গুরুরা স্থূল দেহ ত্যাগ করলেও তাদের আধ্যাত্বিক কর্মকান্ড তাদের দেয়া আধ্যাত্বিক শিক্ষা ও জ্ঞান তাঁদের অমরত্ব প্রদান করে|আনন্দময়ী মাও তাঁর অসংখ্য ভক্ত শিষ্য দের মনে সদা বিরাজমান|

এই মহান গুরু ও সাধিকা কে প্রনাম জানিয়ে শেষ করছি আজকের পর্ব|আগামী পর্বে আবার দেখা হবে|যাওয়ার আগে জানিয়ে যাই অনলাইন পরিষেবার পাশাপাশি আপাতত আবার নিয়মিত ভাবে চেম্বারে বসে সরাসরি ভাগ্যগণনার কাজে আরম্ভ করেছি যারা জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আসতে চান উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন নির্দ্বিধায়|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – বিবিমাতা মন্দির

পরিচিত পৌরাণিক ও লৌকিক দেবদেবীদের পাশাপাশি এই গ্রাম বাংলায় পূজিত হন বহু লৌকিক দেব দেবী যাদের মন্দির ঘিরে রয়েছে বহু রহস্যময় লোকগাথা বিগত একটি পর্বে আপনাদের বন বিবির কথা বলে ছিলাম আজ বলবো দক্ষিণ বঙ্গের এক জনপ্ৰিয় ও রহস্যময় দেবী বিবি মাতা ও তার প্রাচীন মন্দিরের কথা|

বিবিমাতার উৎপত্তি সম্পর্কে নানা মতবাদ আছে|একটি জনশ্রুতি অনুসারে কোন এক হিন্দু জমিদারের ৭টি কন্যা সন্তান ছিলো কিন্ত তাদের বিয়ে হয়েছিলো মুসলমান ঘরে|তারা দেবী মর্যাদা পান এবং লোকসমাজে ‘সাতমা ’ বলে পরিচিত হন।এক হিন্দুজমিদারের ৭জন কন্যা ছিলো। তারা ধর্মপ্রাণ ছিলেন। একদিন তাদের সঙ্গে দেখা করেন এক পীরবাবা।পীরবাবার দয়ায় সাত কন্যার বিবাহ হয় এক ধর্মপ্রাণ মুসলমান জমিদারেরে পুত্রের সঙ্গে এবং পরবর্তীতে ক্রমে এই নারীদের মধ্যে দৈবী শক্তির বিকাশ ঘটে।

এই সাতবোন সপ্ত মাতা নামে কিছু স্থানে
পরিচিত যযেহেতু মুসলিম পরিবারের তাদের বিবাহ হয়েছিলো তাই বিবি শব্দটি জুড়ে যায় নামের সাথে|এদের নাম যথাক্রমে ওলাবিবি, ঝোলাবিবি, ঝড়িবিবি, চাঁদবিবি, বহেড়াবিবি, মড়িবিবি ও আসানবিবি।সাতটি বিবি সাতটি রোগের নিরাময়কারী দেবী হিসাবে পুজিত হন।যার মধ্যে কলেরা বা ওলাওটা রোগের দেবী হিসাবে ওলাবিবি বা ওলাইচন্ডী দেবী নামে পরিচিত।বিবিমাতা হলেন ওলাবিবি বা ওলাইচন্ডী|

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার আলিদা গ্রামে রয়েছে প্রাচীন ও জনপ্রিয় বিবি মাতার মন্দির|তবে এই স্থানকে মন্দির না বলে থান বলা হয় কারণ হল এখানে কোন মন্দিরের স্থাপত্যর ছোঁয়া নেই।
একটি বেদীআছে|গর্ভ গৃহ আছে| দেবীর মূর্তির বৈচিত্র্য আছে।মাথায় ঘন চুল। আর ডান হাত তুলে আশীর্বাদ করছেন।আলিদাবিবি মাতা-কে নানা ধরনের শাড়ি পরানো হয়|

এই বিবি মাতার মন্দির হিন্দু মুসলিম সম্প্রদায়ের এক অপূর্ব মিলন স্থল|দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রে এই বিবি মাতার থানের পরিচর্যা করেন|
প্রতিবছর চৈত্র মাসে ২৪,২৫,ও ২৬ তারিখে বিশেষ হাজত বা পুজো ব্যবস্থা করা হয়|এই পূজা উপলক্ষে আলিদা গ্রামে বিরাট মেলা বসে|তিন দিন ধরে চলে বিরাট উৎসব এবং জাতী ধর্ম নির্বিশেষে এই উৎসবে যোগদান করেন অসংখ্য মানুষ|

আজ বিদায় নিলাম|আবার আগামী পর্বে কলম ধরবো নতুন কোনো পর্বে|মনে রাখবেন নিয়মিত ভাগ্যগণনার পাশাপাশি প্রতিটি বিশেষ তিথিতে আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরের বিশেষ পুজো ও গ্রহ দোষ খণ্ডন অনুষ্ঠানে আমি নিজে উপস্থিত থাকি|প্রয়োজনে উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করবেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

রথযাত্রার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

আজ পবিত্র রথযাত্রা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে যে সকল ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক উৎসবগুলি সর্বাধিক জনপ্রিয় ও পবিত্র তার মধ্যে একদম প্রথম সারিতে রয়েছে রথ এই রথ যাত্রা যা আজ আর শুধু উড়িষ্যা বা বাংলা নয় গোটা বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব গুলির অন্যতম|

শাস্ত্র মতে তখন দ্বাপর যুগ, শেষ হয়েছে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ|এক ব্যাধের বানের আঘাতে প্রান হারান শ্রী কৃষ্ণ তার সৎকার করেন অর্জুন কিন্তু অক্ষত থাকে কৃষ্ণের নাভী এই নাভী উদ্ধার করেন এক সবর রাজ তিনি নীল মাধব রূপে তা পূজা করতে লাগলেন|এর পর কেটে গেলো বহু যুগ পুরীর রাজা এক বিশাল দেবালয় গড়ে তুললেন এবং ইচ্ছা প্রকাশ করলেন নীল মাধব কে প্রতিষ্ঠিত করবেন তার মন্দিরে এবং নীল মাধবের সন্ধানে রাজা লোক পাঠালেন চারিদিকে, নেতৃত্বে রাজার বিশ্বস্ত লোক বিদ্যাপতি|এক জঙ্গলে পথ হারিয়ে বিদ্যাপতি আশ্রয় নিলেন এক সবর রাজের গৃহে, বিবাহ করলেন তার কন্যা কে এবং একদিন আবিষ্কার করলেন যে বংশ পরম্পরায় এই সবর রাজের কাছেই আছে নীল মাধব, অনুরোধ করে তা তিনি দর্শন করলেন|এবং ঘটনা চক্রে এই খবর রাজার কানে পৌছালো|সবর রাজ তার ইষ্ট দেব কে ছাড়তে না চাইলেও স্বয়ং নীল মাধবের ইচ্ছায় তা রাজার হাতে তুলে দিতে সম্মত হলেন কিন্তু|কিন্তু হটাৎ অদৃশ্য হয় নীল মাধব এবং দৈব বাণী হয় যে সমুদ্রে ভেসে আসবে কাঠ তা দিয়ে বানাতে হবে বিগ্রহ|তাই হলো কিন্তু যতক্ষণ না বিদ্যাপতি ও সবর রাজ হাত মিলিয়ে চেষ্টা করলেন নাড়ানো গেলোনা সেই কাঠ|বৃদ্ধের বেশে রাজ সভায় একদিন হাজির হয়ে মূর্তি তৈরির ভার নিলেন স্বয়ং বিশ্ব কর্মা|শর্ত রইলো একুশ দিনের আগে কেউ মূর্তি দর্শন করবেন না|কাজ শুরু হওয়ার চোদ্দো দিনের দিন রানী গুন্ডিচার কৌতূহলে খুলে গেলো শিল্পীর রুদ্ধ দ্বার|দেখা গেলো অদৃশ্য হয়েছেন শিল্পী এবং রয়েছে অসমাপ্ত তিনটি মূর্তি|রাজা মর্মাহত হলেন কিন্তু দৈব বাণী এলো যে জগন্নাথ অর্থাৎ জগতের নাথ স্বয়ং ভগবান ওই বিশেষ রূপেই পূজিত হতে চান|ওই বিগ্রহই প্রতিষ্ঠিত হলো মন্দিরের|

মনে করা হয় দীর্ঘ বিরতির পর শ্রী কৃষ্ণর বৃন্দাবন যাত্রাকেই উদযাপন করা হয় রথ যাত্রা পালনের মাধ্যমে|প্রথম ও প্রধান রথ যাত্রা নিঃসন্দেহে পালিত হয় জগন্নাথ ধাম পুরীতে|প্রথমে রাজ পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় ও পরবর্তীতে সরকার জনসাধারণএর উদ্যোগে প্রতি বছর পুরীতে ওই বিশেষ তিথী তে বিরাট আকারে পালিত হয় রথ যাত্রা|এই পরম্পরা চলে আসছে যুগ যুগ ধরে|
বোন সুভদ্রা ও দাদা বলরাম বা বলভদ্রকে নিয়ে রথে চড়ে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের পত্নী গুন্ডিচারবাড়ি যান। সেখান থেকে সাতদিন পরে আবার নিজের মন্দিরে ফিরে আসেন। এই যাওয়াটাকেই জগন্নাথের মাসির বাড়ি যাওয়া বলে। রথের দিন তিনটি রথ পর পর যাত্রা করে মাসির বাড়ি। প্রথমে যায় বলরামের রথ, তারপর সুভদ্রা এবং সবশেষে জগন্নাথের রথ। রথে চড়ে এই গমন ও প্রত্যাগমনকে সোজা রথ এবং উল্টোরথ বলে|তিনটি রথ থাকে যাদের প্রত্যেকের নিজস্ব বৈশিষ্ট আছে|জগন্নাথের রথের নাম নন্দী ঘোষ, বলরামের রথের নাম তালধ্বজ ও সুভদ্রার রথের নাম দর্পদলন|এই রথ নির্মানে কোনো আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ব্যবহার হয়না এবং বংশ পরম্পরার কারিগররা সকল নিয়ম নিষ্ঠা ও প্রথা মেনে রথ প্রস্তুত করেন|আজও পুরীর বর্তমান রাজা সোনার ঝাড়ু ব্যবহার করে রথের যাত্রার আগে তার পথ পরিষ্কার করে থাকেন|প্রচলিত বিশ্বাস রথে পুরীতে বৃষ্টিপাত হবেই|

পরবর্তীতে পুরীর বাইরে বাংলায় রথযাত্রা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং মনে করা হয় এই সংস্কৃতির সম্ভবত সূচনা হয়েছিল শ্রীচৈতন্যদেবের নীলাচল অর্থাৎ পুরী যাওয়ার পর থেকে| চৈতন্যভক্ত বৈষ্ণবরা বাংলায় পুরীর অনুকরণে রথযাত্রার শুরু করেন এবং দেখতে দেখতে বহু রাজপরিবার ও এই মহা সমারোহে এই উৎসব পালন করতে শুরু করে|আরো কিছু কাল পরে ইসকন ও শ্রীল প্রভুপাদের হাত ধরে রথ যাত্রা দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতে পা রাখে ও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে সারা বিশ্ব জুড়ে|

আজ বাংলার নানা স্থানে বিরাট আকারে রথ যাত্রা উৎসব পালন হয় যার মধ্যে মাহেশের রথ যাত্রা বিশেষ উল্লেখযোগ্য|যাত্রা শব্দের প্রকৃত অর্থ গমন তাই জগন্নাথের রথযাত্রা এবং উল্টোরথ হিন্দু-বাঙালিদের কোনও কাজ বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সূচনার পবিত্র দিন হিসেবে গণ্য করা হয়| বাঙালির অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব দূর্গাপূজোর সূচনাও হয় এই রথ কিংবা উল্টোরথের দিন|করোনা থাকার ফলে এবছর পুরী সহ সর্বত্র রথ যাত্রা অনুষ্ঠিত হবে কিছু বিধি নিষেধ বজায় রেখে তবে ধর্মীয় আবেগ ও নিষ্ঠার কোনো অভাব নেই প্রভুর অগনিত ভক্ত ও অনুরাগীদের মধ্যে|আপনাদের সবাইকে রথ যাত্রার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

দেবতাদের অস্ত্র শস্ত্র – তীর ধনুক

গতকাল অমাবস্যা উপলক্ষে আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরের বিশেষ পুজোতে যারা সরাসরি অংশগ্রহন করলেন এবং যারা সরাসরি পুজোর সম্প্রচার দেখলেন তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ|আজকের পর্বে ভারতের পৌরাণিক যুগের যে সর্বাধিক জনপ্রিয় ও বহু ব্যবহিত অস্ত্রের কথা বলবো তীর ধনুক|

পুরান, রামায়ন, মহাভারত এবং ইতিহাস সর্বত্র যুদ্ধ মানেই তীর ধনুকের ছড়াছড়ি|রামায়নে রাবনের হত্যা সম্ভব হয়েছিলো একটি বিশেষ তীরের মাধ্যমে|মহা ভারতের যুদ্ধে বীরত্বের মাপদন্ড হয়ে উঠেছিল তীর নিঃক্ষেপ করার সঠিক কৌশল ও কিছু বিশেষ তীর যেগুলির রয়েছে বিশেষ কাজ ও বিশেষ ক্ষমতা|

কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে ব্যাবহিত একটি তীর হলো নারায়ণাস্ত্র|নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে এটা নারায়ণের অস্ত্র ছিলো। এই অস্ত্রটা ছিলো তিনজনের কাছে। দ্রোণাচার্য, অশ্বত্থামা আর কৃষ্ণ। কিন্তু যেহেতু কৃষ্ণ অস্ত্রধারণ করবেননা বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিলেন, তাই যুদ্ধক্ষেত্রে এটা বাকি দুজনের কাছেই ছিলো। নিক্ষেপ করার পরে এটা একটা তীর থেকে দশ হাজার তীর সৃষ্টি করতে পারতো। আর সামনের দশহাজার জনকে একসাথে মারার ক্ষমতা ছিলো। অশ্বত্থামা এটা একবার ব্যবহার করেছিলেন পাণ্ডব সৈন্যদের একসাথে শেষ করার জন্য।

এই অস্ত্র ব্যবহার করা ও এর আঘাত থেকে বাঁচা সবাই জানতেন না কিন্তু কৃষ্ণ এর ব্যবহার জানতেন, আর অশ্বত্থামা কৌরবপক্ষ থেকে পাণ্ডবদের দিকে এই তীর নিক্ষেপ করেছিলেন, তাই কৃষ্ণ তার প্রতিরোধ ক্ষমতা দিয়ে এটাকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছিলেন।

আরেকটি অদ্ভুত তীর ছিলো বাসবী শক্তি|এই তীর ছিল ইন্দ্রর। দেবরাজ এই তীর দিয়েছিলেন কর্ণকে এটা কর্ণ বহুবছর ধরে সংরক্ষণ করে রেখেছিল অর্জুনকে বধ করার জন্য, কিন্তু যখন ভীমের পুত্র ঘটৎকচ এসে যুদ্ধে প্রচুর কৌরবসেনা মারছিল, তখন বাধ্য হয়েই কর্ণ এই শক্তি ব্যবহার করে ঘটৎকচকে বধ করে। এটা আসলে একটা মন্ত্রপূত তীর ব্যাবহারে শর্ত ছিল, কেবলমাত্র একবারই ব্যবহার করা যাবে এই অস্ত্র। আর এটা কখনওই বিফল হবেনা। যাকে উদ্দেশ্য করে এই অস্ত্র ছোঁড়া হবে, সে যেখানেই থাকুক, এই শক্তি গিয়ে তার মাথাতেই লাগবে, আর সাথে সাথে তার মৃত্যু ঘটবে।ঘটোৎকচ হত্যার পর কর্ণ চিরতরে হারায় এই অস্ত্রটা|

পৌরাণিক যুগের দেবতা ও বীর যোদ্ধা দের নিজস্ব ধনুকের আলাদা নামের ও উল্লেখ আছে|পিনাক নামক ধনুকের দ্বারা ভগবান শঙ্কর ত্রিপুরাসুর অসুরকে বধ করেছিলেন|গানডিভ নামক এই ধনুকটি ছিল অর্জুনের সাথে কুরুক্ষেত্রর যুদ্ধে|বিজয় নামক ধনুকটি কর্ণের কাছে ছিল, তাঁর গুরু পরশুরাম কর্ণকে এই ধনুক দিয়েছিলেন|আবার ধনুক ভঙ্গ করে নিজের বীরত্ব প্রমান করার প্রমান করার প্রথাও ছিলো যার উল্লেখ পাওয়া যায় একাধিক পৌরাণিক ঘটনায়|

আবার পরের পর্বে ফিরে আসবো অন্য কোনো অস্ত্র বা শস্ত্র নিয়ে|উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করুন জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে কথা বলুন সরাসরি|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শক্তিপীঠ – ইন্দ্রাক্ষি

বহুদিন শক্তি পীঠ নিয়ে আলাদা করে লেখা হয়না, তাই আজ অমাবস্যার ঠিক আগেই একটি নতুন শক্তিপীঠ পর্ব নিয়ে আমি আপনাদের সামনে উপস্তিত|আমাদের প্রতিবেশী দেশ শ্রীলংকায় রয়েছে একটি বিতর্কিত শক্ত পীঠ যার নাম ইন্দ্রাক্ষি|আজকের পর্বে জানাবো এই শক্তিপীঠ সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য|

পীঠ নির্ণয় তন্ত্র, চন্ডীমঙ্গল কাব্য সহ বেশ কিছু প্রাচীন শাস্ত্রে সিংহলে অবস্থিত ইন্দ্রাক্ষি নামক এই শক্তি পীঠের উল্লেখ পাওয়া যায়|

এই পীঠে দেবী ইন্দ্রাক্ষি রূপে পূজিত হন এই পীঠের সাথে জড়িত আছে দেবরাজ ইন্দ্র ও এক পৌরাণিক ঘটনা|পৌরাণিক মত অনুযায়ী,প্রাচীন সিংহলে পড়েছিল সতীর পায়ের মল বা নুপুর| সতী এখানে ইন্দ্রাক্ষ্মী আর শিব হলেন রক্ষশেশ্বর৷ পৌরাণিক মত অনুসারে ইন্দ্রাক্ষ্মীর মূর্তি বানিয়ে পুজো করতেন স্বয়ং দেবরাজ ইন্দ্র কারন বৃত্তাসুরের সাথে যুদ্ধের সময় দেবী ইন্দ্রকে সাহায্য করে ছিলেন ও দেবতাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন এবং যুদ্ধ শেষে তিনি এই স্থানে ইন্দ্রাক্ষি রূপে সদা বিরাজমান থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন|

যদিও এই পীঠের সঠিক অবস্থান নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে তবে বেশি ভাগ গবেষক ও শাস্ত্র বিশেষজ্ঞই মনে করেন
বৌদ্ধ প্রধান দেশ শ্রীলংকার একসময় গৃহযুদ্ধ বিধ্বস্ত জাফনাতেই আছে এই সতীপীঠ| জাফনার নাইনাতিভুতে ধুমধাম করে পুজো হয় দেবী ইন্দ্রাক্ষির|

আগামী পর্বে আবার কোনো শক্তি পীঠ নিয়ে লিখবো|আপনাদের জানিয়ে রাখি কালকের অমাবস্যা তিথিতে আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরে বিশেষ পুজো, হোম যজ্ঞ ও শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনের সকল ব্যবস্থা থাকছে| যেকোনো গ্রহগত সমস্যা দ্বারা পীড়িত থাকলে ও সমস্যা থেকে মুক্তি চাইলে নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

অমাবস্যা ও জ্যোতিষ শাস্ত্র

আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বর্তমান সময়টি বেশ তাৎপর্য পূর্ণ আগামী 12 ই জুলাই রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এবং রথের ঠিক আগেই আগামী 9 তারিখ শুক্রবার রয়েছে অমাবস্যা|
একদিকে রথ যাত্রা যেমন যেকোনো শুভ কাজের সূচনার জন্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ তিথি অন্যদিকে যুগ যুগ ধরে জ্যোতিষ ও তন্ত্রে শাস্ত্রে অমাবস্যা তিথির গুরুত্ব অপরিসীম|আজকের পর্বে ব্যাখ্যা করবো জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতে কেনো অমাবস্যা এতো গুরুত্বপূর্ণ|

প্রথমে জানা দরকার এই অমাবস্যা তিথি কি|শুক্লপক্ষ এবং কৃষ্ণপক্ষ এক মাসের দুটি অংশ রয়েছে। শুক্লপক্ষে চন্দ্রের শিল্পকলা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ চন্দ্র বৃদ্ধি পায়। কৃষ্ণপক্ষের চন্দ্র বক্ররেখা এবং অমাবস্যায় সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়। চাঁদের ষোলটি কলার মধ্যে ষোড়শ শিল্পকে অমা বলা হয়। তাই এই তিথি অমাবস্যা নামে পরিচিত।

স্কন্দ পুরাণ অনুসারে অমাবস্যা সংক্রান্ত একটি শ্লোকে বলা হচ্ছে|

‘আমা শোভাগইন দেবী প্রক্ত মহাকাল
সংস্থিতা পরমা মায়া দেহিনাম দেহধারিনী।’

এই শ্লোক অনুসারে, আমা চাঁদ দ্বারা উপাসনা করা হয়, এটি চাঁদের সমস্ত ষোলো কলার শক্তি অন্তর্ভুক্ত করে। এই শিল্প ক্ষয় এবং উত্থান হয় না। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে যখন সূর্য ও চাঁদ কোনও কোনও রাশিতে থাকে, তখন অমাবস্যা তিথি সৃষ্টি হয়|

শাস্ত্রে অমাবস্যা তিথির কর্তা পিতৃদেব বলে বিশ্বাস করা হয়। সুতরাং, অমাবস্যায় পিতৃগণের সিদ্ধির জন্য তর্পণ, শ্রদ্ধা কর্ম ও দান করা গুরুত্বপূর্ণ। অমাবস্যায় পবিত্র নদীতে স্নান করলে পুণ্যলাভের সম্ভাবনা। এছাড়া যেকোনো তন্ত্রের কাজ এবং শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন এই সময়ে করলে তা অনেক বেশি সফল এবং কার্যকর হয়|শাস্ত্র মতে যেকোনো রকম প্রতিকার ধারণের জন্যে এই সময় শ্রেষ্ট সময়|

প্রতিটি অমাবস্যায় যেমন আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরে বিশেষ পুজো হোম যজ্ঞ ও শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনের সু ব্যবস্থা থাকে এই অমাবস্যা তেও তার ব্যাতিক্রম হবেনা|আপনারা নিজেদের ভাগ্যবিচার ও গ্রহদোষ থেকে মুক্তি পেতে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়কে কাজে লাগাতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ

স্বামী বিবেকানন্দের মহা প্রয়ান দিবস

একবার স্বামীজি অমরনাথ দর্শনের পরে নিবেদিতাকে আভাস দিয়েই রেখেছিলেন, মহাদেব-কৃপায় তিনি ইচ্ছামৃত্যুর বর পেয়েছেন। যার নিহিত অর্থ হল, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত না হলে তাঁর দেহত্যাগ হবে না।

4 জুলাই স্বামীজির মহাপ্রয়াণ ঘটে এবং পরদিন ৫ জুলাই, শনিবার। তখন ভগিনী নিবেদিতার ঠিকানা ১৬ নন্বর বাগবাজার লেন। সকাল ৯টা নাগাদ বেলুড় মঠ থেকে একটা ছোট চিঠি পান স্বামী সারদানন্দজি স্বাক্ষরিত নিম্নলিখিত বয়ানে-‘-‘মাই ডিয়ার নিবেদিতা, দ্য এন্ড হ্যাজ কাম, স্বামীজি হ্যাজ স্লেপ্ট লাস্ট নাইট অ্যাট নাইন ও’ক্লক। নেভার টু রাইজ এগেন- সারদানন্দ’’।

কালবিলম্ব না করেই বেলুড় থেকে আসা পত্রবাহকের সঙ্গেই রওনা হলেন বেলুড় মঠ|
বেলুড় মঠে পৌঁছেই নিবেদিতা সোজা উঠে গেলেন দোতলায় স্বামীজির ঘরের দিকে। স্বামীজির দেহটি মেঝেতে শায়িত হলুদ রঙের ফুলমালা আচ্ছাদিত হয়ে। মানসকন্যা স্বামীজির শিয়রের কাছে বসে পড়েন।এই মুহূর্ত থেকে স্বামীজীর দেহ পঞ্চভুতে বিলীন হয়ে যাওয়ার মুহূর্ত অবধি নিবেদিত স্বামীজীকে চোখের আড়াল করেননি|

স্বামীজির শেষকৃত্য সমাপনের নির্দিষ্ট স্থানে, যে স্থান বিবেকানন্দ নিজেই চিহ্নিত করেছিলেন মহাপ্রয়াণের কিছু দিন আগে, স্থানটি ছিলো তাঁর প্রিয় বেলগাছের কাছে এর উল্টো দিকেই |সেখানেই শেষ হলো শেষ কৃত্য|পরবর্তীতে এই খানে গড়ে ওঠে স্বামীজীর একটি মন্দির|

দাহ কার্য যখন চলছে দুরে বসে আছেন নিবেদিতা হটাৎ চিতাগ্নি থেকে একখণ্ড গেরুয়া বস্ত্র হাওয়ায় উড়ে এসে নিবেদিতার কোলে গিয়ে পড়ে। পরম মমতায় ও যত্নে নিবেদিতা তা গুরুর আশীর্বাদ ভেবে মাথায় ঠেকান। সেই পবিত্র স্পর্শ যেন শোকস্তব্ধ হৃদয়ে সান্ত্বনা ও শক্তি জোগায়|

আজ এই মহান সন্ন্যাসীর প্রয়ান দিবসে তার চরনে রইলো শতকোটি প্রনাম| 

দেবতাদের অস্ত্রশস্ত্র – গদা

দেবতাদের অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে এই ধারাবাহিক লেখনীতে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বিখ্যাত ও বহুচর্চিত অস্ত্র নিয়ে লিখেছি, আজ আমাদের প্রাচীন ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় অস্ত্র গদা নিয়ে লিখবো|

রামায়ন থেকে মহাভারত, পৌরাণিক যুগের প্রায় প্রতিটি বড়ো যুদ্ধতে বাবহিত হয়েছে এই গদা|গদা একেবারেই ভারতীয় প্রযুক্তি এবং ভারতীয় সভ্যতার দান, সমসাময়িক আর কোনো সভ্যতায় অস্ত্র হিসেবে গদার উল্লেখ নেই বললেই চলে|

গদা সব থেকে বেশি যার হাতে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলো তিনি পবন পুত্র হনুমান|গদা ও বজ্রবলীর সম্পর্ক শৈশব থেকে|শৈশব থেকে কাকা বালি তাকে হত্যা করতে চাইতেন, একবার ছলনা করে বালি তাকে পাতাল পুরীতে কুবের দেবের লুকিয়ে রাখা গদা আনতে পাঠিয়েছিলেন কারন বালি জানতেন ওই গদা স্পর্শ করলে মৃত্যু অনিবার্য|কিন্তু রূদ্র অবতার হনুমান অনায়াসে সেই গদা উদ্ধার করেন|পরবর্তীতে রাবনের সাথে যুদ্ধে হনুমানের পাশাপাশি গোটা বানর সেনার প্রধান হাতিয়ার ছিলো গদা|

বজ্রবলীর পাশাপাশি , গদা ভগবান বিষ্ণু, ভগবান কৃষ্ণ,মা দূর্গা এবং পাণ্ডব ভীমের মতো প্রক্রমনশালীদের হাতে দেখতে পাওয়া যায়। হিন্দু ধর্মগন্থ অনুসারে এই গদা ধারণ করার জন্য ক্ৰোধ, লোভ, অহংকার, বাসনা ও মায়া এই ৫ বিষয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকা খুবই প্রয়োজন তাই গদার ব্যবহার সবার দ্বারা সম্ভব নয়|

আধুনিক বাস্তু শাস্ত্রে এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রেও গদার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে|মনে করা হয় গৃহ মন্দিরে অথবা দেবতার সিংহাসনে গদা স্থাপন করলে বাস্তু দোষ দূর হয়, লকেট আকারে গদা ধারন করলেও কিছু গ্রহগত কুপ্রভাব দূর হয় বলে অনেকে মনে করেন|

প্রাচীন ভারতে গদাকে শুধু একটা অস্ত্র হিসেবেই নয় সাথে সাথে স্বঅভিমান বোধ, শাসন করার অধিকার ও শাসন করার শক্তির প্রতীক বলে মনে করা হতো।এই বর্তমান যুগেও এই বিষয়টিকে কিছুটা মেনে চলা হয় এবং একটি প্রাচীন রীতি অনুসরণ করে আজও শাসন ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে আমাদের বিধানসভায় গদা রাখা হয়|

আবার পরের পর্বে নতুন কোনো অস্ত্রর কথা আসবো আপনাদের সামনে, সামনেই রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ অমাবস্যা তিথি এবং তারপর রথযাত্রা|তাৎপর্যপূর্ণ এই সময়ে নিজের ভাগ্যবিচার বা গ্রহগত দোষ খণ্ডনের কথা ভেবে থাকলে নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

মন্দির রহস্য – ভবানী পাঠকের কালী মন্দির

আজ মন্দির রহস্যর এই পর্বে এমন একটি মন্দিরের কথা লিখবো যা বাংলার ইতিহাস এবং সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাথে জড়িত এবং বহু রহস্য ও কিংবদন্তী প্রচলিত আছে এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে,উত্তর বঙ্গের জলপাইগুড়ি তে অবস্থিত এই প্রাচীন কালী মন্দির সাধারণ মানুষের কাছে আজও ভবানী পাঠকের মন্দির নামে পরিচিত|

এককালে অবিভক্ত বাংলার উত্তরের অন্যতম জেলা ছিলো রংপুর, এই রংপুরের অধীনে ছিলো বর্তমানের জলপাইগুড়ি এবং এই অঞ্চল দিয়ে তখনো বয়ে যেতো তিস্তা নদী|কথিত আছে এই দুর্গম অঞ্চল শাসন করতো এক দুর্ধর্ষ দস্যু রানী এবং এক মাতৃ সাধক যাদের বঙ্কিম চন্দ্রের কালজয়ী উপন্যাসে যথাক্রমে দেবী চৌধুরানী এবং ভবানী পাঠক নামে অভিহিত করা হয়েছে|উপন্যাসে উল্লেখিত ত্রিস্রোতা নদীই বর্তমানে তিস্তা নদী যে নদী দিয়ে যাতায়াত করতো দেবী চৌধুরানীর বজ্রা|

আজও সেই ইতিহাসের সাক্ষী বহন করে চলেছে ভবানী পাঠকের কালী মন্দির|জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের শিকারপুর চা বাগানের মধ্যে রয়েছে ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানীর মন্দির|উপন্যাস বলছে ভবানী পাঠক ডাকাত সর্দার হিসাবে পরিচিত থাকলেও তিনি সন্ন্যাসীর মতো জীবনযাপন করতেন। তিনি অত্যাচারী ইংরেজ ও দেশীয় জমিদারদের জিনিস লুঠপাট করে তা দীন দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন এবং বেজায় কালী ভক্ত ছিলেন ভবানী পাঠক|প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠাতার সঠিক নাম নিয়ে কিঞ্চিৎ মতবিরোধ থাকলেও জনশ্রুতি অনুসারে এই মন্দির ভবানী পাঠকই বানিয়েছিলেন|

শোনা যায় মন্দিরে প্রথমে কাঠের মূর্তিই ছিল। দুই পাশে দুটি কাঠের কালী মূর্তি। সেই কালীকে পুজো করেই নাকি ভবানী পাঠক তাঁর অভিযানে বের হতেন। পরে কোনোভাবে সেই কাঠের মূর্তি পুড়ে যাওয়ায় মাটির মূর্তি তৈরি হয়|বর্তমানে ঐতিহাসিক এই মন্দিরে মন্দিরে মা কালীর মূর্তি ছাড়াও তিস্তাবুড়ি, ভবানী পাঠক, দেবী চৌধুরানী, গঙ্গা দেবী, সিদ্ধপুরুষ মোহনলালের মূর্তি আছে, জলপাইগুড়ির দর্শনীয় স্থান গুলির মধ্যে অন্যতম এই ভবানী পাঠকের কালী মন্দির|

এখানে বড়ো আকারে কালী পুজো হয় আষাঢ় মাস ও কার্ত্তিক অমাবস্যায় এবং মন্দির প্রতিদিন ভোর পাঁচটায় খোলে, বন্ধ হয় বিকেল পাঁচটায়।

আজ এই পর্ব এখানেই শেষ করলাম|ফিরবো আগামী পর্বে জানাবেন কেমন লাগছে এই ধারাবাহিক লেখনী|যারা জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকার চান উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে সরাসরি কথা বলতে পারেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|