দোল পূর্ণিমার শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন

6

দোল পূর্ণিমার শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সনাতন ধর্মের অন্যতম পবিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ উৎসব আজকের দোল উৎসব। প্রতিটি ধর্মীয় উৎসবের ন্যায় দোল পূর্ণিমার উৎসও খুঁজে পাওয়া যায় শাস্ত্রে।

 

শাস্ত্র অনুসারে রাজা হিরণ্যকশিপুর পুত্র ছিল প্রহল্লাদ। সে ছিল একজন ধর্মপ্রাণ বালক। বিষ্ণুর শত্রু হিরণ্য কশিপু এই প্রহল্লাদকে আগুনে পুড়িয়ে মারার প্রচেষ্টা করেন। হিরণ্যকশিপুর বোন হোলিকা সেই উদ্দেশে প্রহল্লাদকে নিয়ে আগুনে ঝাঁপ দেন । হোলিকা ভেবেছিলেন, তিনি তাঁর মায়াবী ক্ষমতাবলে বেঁচে যাবেন এবং পুড়ে ছাই হয়ে যাবে প্রহল্লাদ। কিন্তু আদতে দেখা যায় তার উল্টোটাই হয়। বিষ্ণুভক্ত বালকের গায়ে আগুনের এতটুকু আঁচও লাগেনি। অন্যদিকে আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় হোলিকার কন্যার। তারপর থেকেই এই অশুভ শক্তির পরাজয় ও শুভ শক্তির জয়কে উদযাপন করতে পালিত হয় হোলি উৎসব।

 

বাংলায় দোল পূর্ণিমার পরের দিনই সারা দেশ জুড়ে পালিত হয় এই হোলি।ব্যবহারিক প্রয়োগ এক হলেও হোলি এবং দোল আদতে আলাদা আলাদা দুটি উৎসব।শ্রীকৃষ্ণের জন্মভূমি হিসেবে পরিচিত মথুরা ও রাধার জন্মস্থান হিসেবে জগদ্বিখ্যাত বৃন্দাবনে ১৬ দিন ধরে এই দোল উৎসব পালিত হয়। কথিত রয়েছে এই দিনেই রাধিকাকে ‘ফাগে’ মানে গুড়ো রঙ দিয়ে রাঙিয়ে দিয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ এবং এই তিথিতেই শ্রীকৃষ্ণ রাধিকাকে প্রেম নিবেদন করেছিলেন।তাই দোল পূর্ণিমা মূলত রাধা কৃষ্ণের প্রেম উদযাপনের উৎসব।

 

বাংলার ভক্তি আন্দোলনের প্রান পুরুষ

চৈতন্যদেবের সাথেও ও দোল পূর্ণিমার সম্পর্ক আছে কারন এই দোল পূর্ণিমা তিথি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মতিথি।পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ার নবদ্বীপ, মায়াপুর, কৃষ্ণনগরে এই তিথি উপলক্ষে বিশেষ পুজো ও উৎসবের আয়োজন করা হয়।শ্রী চৈতন্যদেবের লীলা ভূমি বাংলার বাইরে ওড়িশাতেও ধুমধাম করে পালিত হয় শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মতিথি।

 

দোল বলুন আর হোলি বলুন দুটোই নিজেকে রাঙিয়ে নেয়ার উৎসব।তারুণ্যর উৎসব|অশুভ শক্তিকে বিদায় জানিয়ে শুভ শক্তিকে স্বাগত জানানোর উৎসব।

 

সবাইকে জানাই দোল পূর্ণিমার শুভেচ্ছ এবং অভিনন্দন। আগামী পর্বে অন্য আধ্যাত্মিক এবং পৌরাণিক বিষয় নিয়ে ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।