Home Blog Page 150

পুরান রহস্য – বৃহস্পতির অভিশাপ

সম্প্রতি বৃহস্পতির সঞ্চার হয়েছে গ্রহরাজা শনির ঘরে, এই সঞ্চার নানা দিক দিয়ে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, প্রায় প্রতিটি রাশির জাতক জাতিকার জীবনেই এই সঞ্চার প্রভাব ফেলবে, সেই প্রভাব নিয়ে ইতিমধ্যে টিভি ও ইউটিউব এর অনুষ্ঠানে আলোচনা করেছি আজ আলোচনা করবো বৃহস্পতি সংক্রান্ত কিছু পৌরাণিক বিষয় নিয়ে, জানাবো একটি বিশেষ ঘটনা|

বৃহস্পতি ছিলেন দেব গুরু, সর্বশ্রেষ্ঠ পন্ডিত দের অন্যতম, খুব স্বাভাবিকভাবেই ইন্দ্র- স্বর্গের রাজা তাঁকে তার প্রধান পুরোহিত হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন। বৃহস্পতির একজন স্ত্রী ছিলেন, তার নাম ছিল তারা। বৃহস্পতি বলতে যেমন ওই নামের গ্রহকে বোঝায় তেমনই তারা মানে নক্ষত্র|তারা একদিন পূর্ণ চন্দ্রের দিকে তাকালেন এবং চাঁদের দেবতার প্রেমে পড়ে গেলেন। চন্দ্র নিজে পৃথিবীতে নেমে এলেন এবং দুজনে গভীর ভালোবাসার সম্পর্কে আবদ্ধ হলেন|

স্বাভাবিক ভাবেই বৃহস্পতি এই ঘটনায় ভয়ঙ্কর রেগে গেলেন এবং তিনি ইন্দ্রকে বললেন, “আমি আমার স্ত্রীকে ফেরত চাই। আপনাকে তাকে ফেরত এনে দিতে হবে, অন্যথায় আমি আপনার ধর্মানুষ্ঠান পরিচালনা করবো না।” ইন্দ্র হস্তক্ষেপ করলেন এবং তারাকে ফিরতে বাধ্য করলেন কিন্তু তখন গর্ভবতী ছিলেন তারা,কিছুদিন পরেই বৃহস্পতি জানতে পারলেন এই সন্তান তার নয়, তার স্ত্রী ও চন্দ্রর সন্তান তখন তিনি সেই শিশুটিকে অভিশাপ দিলেন এই বলে যে, “তুমি যেন একজন নপুংসক হও – না নারী, না পুরুষ।” সেই সন্তান ই নবগ্রহের অন্যতম গ্রহ বুধ বা বুধের অধিষ্টিত দেবতা|

জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে বুধের কারকতা, তার বৈশিষ্ট ও চরিত্রর মধ্যে আজও সুস্পষ্ট রয়েছে বৃহস্পতির সেই অভিশাপ|যাই হোক এই ছিলো পৌরাণিক ঘটনা ও তার ব্যাখ্যা|গ্রহ গত সমস্যা ও তার জ্যোতিষ কেন্দ্রীক সমাধান পেতে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শুভ নানক জয়ন্তী

আজ 19 নভেম্বর সারা দেশ জুড়ে পালিত হবে সিখ সম্প্রদায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব নানক জয়ন্তী।কোথাও কোথাও এটি গুরু পর্ব বা প্রকাশোৎসব নামেও পরিচিত|আজ এই বিশেষ দিনে আসুন নতুন করে আরো একবার জানার চেষ্টা করি এই মহান গুরুর জীবন ও তার আধ্যাত্মিক কর্মকান্ড|

১৪৬৯ সালে তালবন্ডী নামক স্থানে শিখ ধর্মের অন্যতম ধর্মগুরু, গুরু নানক জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে এটি পাকিস্তানে অবস্থিত ও নানকানা সাহিব হিসেবে পরিচিত|গুরুনানকের জন্ম তিথিতেই প্রতি বছর পালিত হয় নানক জয়ন্তী|

শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন উদাসীন প্রকৃতির|মনে করা হয় মাত্র ৭-৮ বছর বয়সে তিনি স্কুলে যাওয়া ছেড়ে দেন|এই সময়ে থেকেই তার মধ্যে ভগবত প্রাপ্তি সম্পর্কে নানান প্রশ্ন উঁকি দিতে থাকে|পরবর্তীতে গুরু নানক অধিকাংশ সময় আধ্যাত্মিক চিন্তাভাবনা ও সৎসঙ্গে কাটাতে শুরু করেন|

একটা সময়ের পর তার মধ্যে দৈব শক্তির প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়|বোঝাযায় তিনি কোনো সাধারণ মানুষ নয়|তার জন্ম হয়েছে একটি বিশেষ লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্য নিয়ে|কালক্রমে, আধ্যাত্মিক চর্চা ও সাধনার মধ্যে দিয়ে তিনি হয়ে উঠলেন সকলের শ্রদ্ধেয় গুরুনানক|শিখ সম্প্রদায় তথা সমগ্র মানব জাতীর কাছে এক প্রণম্য ব্যাক্তিত্ব|

এই মহান গুরুকে আমার প্রণাম ও শ্রদ্ধা জানাই|সবাইকে জানাই নানক জয়ন্তীর অনেক শুভেচ্ছা|দেখতে থাকুন আমার অনুষ্ঠান, পড়তে থাকুন আমার প্রতিটি লেখা, যোগাযোগ করুন প্রয়োজন মনে করলে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

রাসপূর্ণিমার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

আজ সনাতন ধর্মের তথা সারা বিশ্বের বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব, রাস পূর্ণিমা,বাংলায় চৈতন্যদেব রাধাকৃষ্ণের রাস উৎসবের সূচনা করেছিলেন নবদ্বীপে|পুরান মতে
রাস মূলতঃ শ্রীকৃষ্ণের ব্রজলীলার অনুকরণে বৈষ্ণবীয় ভাবধারায় অনুষ্ঠিত ধর্মীয় উৎসব। ভগবান কৃষ্ণ কার্তিক মাসের এই পূর্ণিমাতেই বৃন্দাবনে রাধা-সহ সখীদের মেতেছিলেন রাসলীলায়, সেই তিথিকেই পালন করা হয়, রাস পূর্ণিমা রূপে,

আক্ষরিক অর্থে রাস শব্দের আরেক অর্থ অনেকের সঙ্গে একসঙ্গে আনন্দঘন নৃত্যবিশেষ
যদিও রাস শব্দর উৎপত্তি হয়েছেন ‘ রস’ শব্দ থেকে, এখানে রস মানে আনন্দ, দিব্য অনুভূতি, দিব্য প্রেম বা ভক্তি রস|

অনেকে মনে করেন, ঈশ্বরের সঙ্গে আত্মার মহামিলনই রাস, চীরহরণের’ পর গোপীদের সঙ্গে শ্রী কৃষ্ণর এই লীলা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো বৃন্দাবনে, গোপীরা অধীর অপেক্ষা করছিলো কবে শ্রীকৃষ্ণের কাছ থেকে, তাদের ডাক আসবে, অবশেষে এই পূর্ণিমা তিথিতে কৃষ্ণ তাদের সেই আশা পূর্ণ করেন রাস নৃত্যর মাধ্যমে, একদিক দিয়ে দেখতে গেলে এই উৎসব ভক্ত ও ভগবানের মিলন উৎসব|শ্রীমদ্ভাগবতে একটি বিশেষ অংশ হল রাসলীলা।

আমার ও আমার পরিবারের তরফ থেকে আপনাদের সবাইকে জানাই রাস পূর্ণিমার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

দেব সেনাপতি কার্তিক

আজ কার্তিক সংক্রান্তি,কার্তিক পুজোর এই পবিত্র সময়ে দেব সেনাপতি কার্তিকের জন্ম বৃত্তান্ত ও তার বাহন অর্থাৎ ময়ূর নিয়ে কিছু পৌরাণিক তথ্য ও ব্যাখ্যা আপনাদের সামনের উপস্থাপন করবো এই বিশেষ পর্বে|

কোথাও তিনি মুরগান, কোথাও শুভ্রমনিয়াম, আবার বাংলায় তিনি ঘরের ছেলে কার্তিক|
কার্তিক শিব ও পার্বতীর সন্তান এ আমরা সবাই জানি, কিন্তু তার জন্মর একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে ছিলো|তারকাসুরের অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য দেবতারা একজন শৌর্য-বীর্যসম্পন্ন দেবসেনাপতির খোঁজ করছিলেন। অবশেষে সকলে মিলে মহাদেবের শরণাপন্ন হলেন তপস্যা ভঙ্গ করে অন্তত যাতে একটা পুত্র তিনি দেবতাদের উপহার দেন। এতে শিব সম্মত হয়ে নিজের তেজ নিঃক্ষেপ করলেন, মহাদেবের তেজ গিয়ে পড়ল পৃথিবীতে। বসুন্ধরা এই তেজ সহ্য করতে না পেরে তা অগ্নিতে নিক্ষেপ করলেন। অগ্নি আবার সেই মহাতেজ শরবনে নিক্ষেপ করলেন। আর এই শরবনেই একটি সুন্দর সন্তানের জন্ম হল। ঠিক এই সময় ছয়জন কৃত্তিকা অগ্নির ছয় পত্নী সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন।তারা কার্তিকের লালন পালনের দায়িত্ব নিলেন|পরবর্তীতে তিনি হলেন দেব সেনাপতি এবং যুদ্ধে বধ করলেন তারকাসুর কে|কার্তিকের বিবাহ হয়েছিলো দেবসেনা নামক এক রমণীর সাথে|

আবার বিবাহ সংক্রান্ত অন্য একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যাও আছে যা মূলত লোককাহিনী যেখানে কার্তিক উষা নামে এক সুন্দরী রমণীকে বিবাহ করতে চেয়েছিলেন কিন্তু মাতা পার্বতীর সম্মতি না দেয়ায় তিনি আর বিবাহ করেননি এবং চীরকুমার রয়ে গেছিলেন|যাইহোক অগ্নির ছয় পত তাকে পালন কোরেছিলেন তাই তার নাম সড়ানন|

কার্তিকের বাহন ময়ূর কেনো হলো তা নিয়েও একটি ব্যাখ্যা আছে, ময়ূর খুব সামান্যই নিদ্রা যায়। সর্বদা সতর্ক। আলস্যহীন। ময়ুরের স্বজনপ্রীতি লক্ষণীয়। সৈনিক পুরুষ ময়ূরের মতো অনলস, কর্মকুশল এবং লোকপ্রিয় হবেন তা বলাই বাহুল্য। তাছাড়া, ময়ূর মেঘ দেখলে যেমন আনন্দে পেখম তুলে নৃত্য করে, তেমনই ধীর ব্যক্তি শত বিপদেও উৎফুল্ল থাকবেন। সম্ভবত এই সব কারণেই দেব সেনাপতি কার্তিকের উপযুক্ত বাহন হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ময়ূর|

আপনাদের সবাইকে কার্তিক পুজোর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরান রহস্য – দেবী জগদ্ধাত্রী ও তার উৎপত্তি

শাস্ত্র মতে মা দুর্গা মর্ত্য থেকে কৈলাসে ফিরে যাওয়ার পর আবার মর্ত্যে ফেরেন দেবী জগদ্ধাত্রী রূপে।কিন্তু এই দেবীর উৎপত্তি ও তার পুজোর কারন নিয়ে একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যাও আছে|আজকের পর্বে জানাবো সেই পুরান রহস্য|পুরান মতে মা দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করার পর দেবতারা আবার নিজেদের পুরানো গর্বে অভিভূত অবতারে ফিরে যান। নিজেদের ক্ষমতার অহংয়ে তারা আবার অন্ধ হয়ে পড়েন। যেন তাঁরাই দণ্ডমুণ্ডের কর্তা, তাঁরা ছাড়া আর কারও কোনও শক্তিই নেই আর কী!দেবতাদের এই অহংকার দেখে ভারী ক্রুদ্ধ হয়ে যান ব্রহ্মা। তিনি যক্ষরূপ ধারণ করে দেবতাদের একে একে ডেকে পাঠান। একটি সামান্য ঘাসকে রেখে তিনি পবনদেবকে বলেন তা নিজ ক্ষমতায় সরিয়ে দেখাতে। পবনদেব হাজারো চেষ্টার পরেও বিফল হন। এরপর বরুনদেবকে ডেকে পাঠানো হয় এবং বলা হয় ঘাসটিকে ভিজিয়ে দেখাতে। তিনিও অসফল হন। তারপরে ডাক পরে অগ্নিদেব, তিনিও ঘাসটিকে জ্বালাতে সক্ষম হন না।এই ভাবে দেবতাদের অহংকার চূর্ণ হয়|প্রত্যেকে অসফল হওয়ার পর নিজরূপে হাজির হন ব্রহ্মা। এবং তিনি দেবতাদের বোঝান যে সবার ওপরে ব্রহ্মাই সত্যি। তাহার ওপর কেহ না। তিনি আরও বলেন, দেবতাই হোক কিংবা মানব অথবা দৈত্য, এই জগতে সবচেয়ে বড় একটি অসুরের বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই করতে হবে আর সেটি হল তাঁদের মানসিক অহংয়ের অসুর।করিন্দ্রাসুর আসলে এই অহং বোধের প্রতিফলন|আর এই অসুরকে বধ করতেই পরম ব্রহ্ম যে দেবীর রূপ নেন, তিনিই জগদ্ধাত্রী। আপনাদের সবাইকে জগদ্ধাত্রী পুজোর বিজয়ার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|আবার অনলাইনে ও চেম্বারে নিয়মিত জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকার নির্ধারনের কাজে মনোনিবেশ করেছি|প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|নমস্কার|

দেবী জগৎধাত্রী

দুর্গাপুজো, লক্ষী পুজো, কালী পুজোর পর এবার জগদ্ধাত্রী পুজো, শাস্ত্র মতে দেবী জগদ্ধাত্রীর পুজোর গুরুত্ব অপরিসীম, তাই বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বন বা  এই ধর্মীয় উৎসব গুলির অন্যতম জগৎধাত্রী পুজো|কিভাবে বাংলায় জগৎধাত্রী পুজোর প্রচলন হলো তা নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও নদিয়ার রাজা কৃষ্ণ চন্দ্রের হাত ধরে যে এই পুজো বাংলায় জনপ্রিয়তা লাভ করে সে বিষয়ে প্রায় সবাই একমত|

দুর্গাপুজোর একমাস পর কার্তিকের শুক্লা নবমী তিথিতে তাঁর স্বপ্নাদিষ্টের রূপের প্রতিমা নির্মাণ করিয়ে পুজোর আদেশ দেন কৃষ্ণচন্দ্রকে। সেই থেকেই নদিয়ায় জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা। যা পরবর্তী কালে গোটা বাংলা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে|চন্দন নগরে প্রায় প্রধান উৎসব বলা হয় জগৎধাত্রী পুজোকে যা মহাসমারোহে পালিত হয়|ভিড় জমান দূর দূরান্তের মানুষ|

দেবী  জগদ্ধাত্রী দূর্গারই এক রূপ তার  বাহন সিংহের পদতলে একটি হস্তীমুণ্ড থাকে। প্রচলিত বিশ্বাস, জগদ্ধাত্রী করীন্দ্রাসুর অর্থাৎ মহাহস্তীরূপী অসুরকে বধ করেছিলেন। এই কারণে জগদ্ধাত্রী ‘করীন্দ্রাসুরনিসূদিনী’ নামে পরিচিত|

সেকালের বাবু সমাজ থেকে আজকের থিম পুজো, জগদ্ধাত্রী পুজোর জনপ্রিয়তা দিন দিন আরো প্রসারিত হয়েছে, যদিও চন্দন নগর বিখ্যাত বিরাট আকারে জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্যে তবে আজকাল সারা বাংলা জুড়েই হচ্ছে জগদ্ধাত্রী পুজো,গত বারের ন্যায় এবছরও  স্বাস্থ সংক্রান্ত বিধি নিষেধ বজায় রেখেই হচ্ছে জগৎধাত্রী পুজো|সেজে উঠছে মণ্ডপ|নিষ্ঠা ও ভক্তির অভাব নেই এতো টুকু|আপনারাও যোগ দিন এই পুজোয়|প্রার্থনা করুন দেবীর কাছে, নিজেদের মনোস্কামনা জানান|নিয়মিত টিভির অনুষ্ঠানে জগদ্ধাত্রী পুজোর শাস্ত্রীয় উপাচার আপনাদের সামনে তুলে ধরছি, আবার শুরু হয়েছে নিয়মিত চেম্বার ও অনলাইন জ্যোতিষ পরিষেবা, প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|সবাইকে জগৎধাত্রী পুজোর শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

ছট পুজোর শুভেচ্ছা

ছুটি শেষে আবার কর্ম ব্যাস্ত জীবনে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে, আবার নিয়মিত টিভির অনুষ্ঠান, ইউটিউব এর অনুষ্ঠান ও ক্লাইন্ট দেখা, তবে আজ ছট পুজো, তাই ছট পুজো নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাচার আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো|ধন, বৈভব, যশের কামনা করে থাকলে ছট পুজোর দিন প্রত্যক্ষ দেবতা সূর্যের সাধনা করতে ভুলবেন না। এদিন, বিধি অনুযায়ী পুজো ও উপোস করলে সমস্ত বাধা দূর হয় ও সরকারি চাকরি ও ব্যবসায় সাফল্য হাতে আসে।আজকের দিনে স্নান করে সূর্যকে জলের অর্ঘ্য দেওয়া উচিত। রোজ এই অর্ঘ্য দেওয়া যেতে পারে। ধর্মীয় ধ্যান-ধারণা অনুযায়ী, নিয়মিত জলের অর্ঘ্য দিলে সূর্য দেব খুশি হন।ছট পুজোর দিন সূর্য উপাসনায় মন্ত্র জপ করলে মনোকামনা শীঘ্র পুরো হয়। সুখ-সমৃদ্ধি, উন্নত স্বাস্থ্য ও সরকারি চাকরির জন্য সূর্যের মন্ত্র উপযোগী।এই মন্ত্রটি হলো এহি সূর্য সহস্ত্রাংশো তেজোরাশো জগত্পতে।অনুকম্পয় মাঁ ভক্ত্যা গৃহণাধ্য্র দিবাকর।।ওম ঘৃণি সূর্যায় নমঃ।।ওম এহি সূর্য সহস্ত্রাংশো তেজোরাশো জগত্পতেয় অনুকম্পয়েমাং ভক্ত্যায় গৃহাণার্ধয় দিবাকররু।।ওম হৃীং ঘৃণিঃ সূর্য আদিত্যঃ ক্লীং ওম।।সূর্যকে প্রসন্ন করার জন্য ছট পুজোর দিন গুড় দান করা উচিত। এদিন দান করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ব্যক্তি নিজের ইচ্ছানুযায়ী দান করতে পারেন।কমলা সূর্যের রং। রবিবারের দিন তাই এই রঙের কাপড় পড়া উচিত|আপনাদের সবাইকে জানাই ছট পুজোর শুভেচ্ছা, ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরুলিয়া ভ্রমণ – ভৌতিক স্টেশন বেগুন কোদর

ভৌতিক বা অলৌকিক অভিজ্ঞতা জীবনে আমার কিছু কম হয়নি, তার অনেকগুলোই ইতিমধ্যে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি গল্পর মাধ্যমে, এবার পুরুলিয়া ভ্রমণে এসেও এক অন্য ধরণের গা ছমছম করা অভিজ্ঞতা হলো, আজ সেই কথা বলি,আজ গেছিলাম সেই কুখ্যাত বেগুনকোদর স্টেশনে, অনেক ভৌতিক গল্প ও অলৌকিক অভিজ্ঞতা শুনেছি এই স্টেশন কে নিয়ে, আজ নিজে দেখলাম, জানিয়ে রাখি,একটি ঘটনার পর থেকে থেকে ৪২ বছর ধরে বন্ধ ছিল স্টেশনটি।

২০০৯-এ তত্কালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্টেশনটি ফের চালু করেন। তবে ভূতের ভয় যাত্রীদের পিছু ছাড়েনি। বিকেল পাঁচটার পরই এই স্টেশনে আর যাতাযাত আর করেন না যাত্রীরা।পুরুলিয়ায় অযোধ্যা পাহাড় ঘেঁষা ছোট্ট স্টেশন বেগুনকোদর ‘ভূতুড়ে’ স্টেশন হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছিল সেই ১৯৬৭ থেকে।শোনা যায় ওই বছর এক রাতে রেল লাইন ধরে সাদা পোশাক পরা একজন মহিলাকে হেঁটে যেতে দেখে স্টেশন মাস্টার মারা গিয়েছিলেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই মহিলা কয়েক বছর আগে আত্মহত্যা করেছিলেন বলে দাবি। এরপর থেকেই যাত্রীরা স্টেশনটি এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। ‘ভূতুড়ে’ তকমা সেঁটে যায় বেগুনকোদর স্টেশনের সঙ্গে। রেলওয়ের রেকর্ডেও এই তকমা পায় স্টেশনটি।

আজ অবশ্যই কোনো ভূত দেখার অভিজ্ঞতা হয়নি তবে নির্জন ও প্রায় পরিত্যক্ত এই স্টেশন চত্বরে এসে দাঁড়ালে একটু যে গা ছম ছম করে তা ঠিক, রাত কাটানোর অভিজ্ঞতা হলে অবশ্য কি হতো বলা যায়না, সে উত্তর তোলা থাক ভবিষ্যত এর জন্যেপরের অভিজ্ঞতা কি হয় জানাবো যথা সময়ে, পড়তে থাকুন|ভালো লাগলে জানাবেন|ভালো থাকুন|নমস্কার|

পুরুলিয়া ভ্রমণ – ছৌনাচ

আপনাদের আমার এই পুরুলিয়া ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পড়তে ভালো লাগছে জেনে বেশ আনন্দ পাচ্ছি, উৎসাহিত বোধ করছি|প্রথম পর্বে অযোধ্যা পাহাড় নিয়ে বলেছি, এবার ডেস্টিনেশন ছৌনাচ|

পুরুলিয়া বেড়াতে যাবো আর ছৌনাচ দেখবো না বা ছৌনাচ নিয়ে দু চার কথা লিখবো না তা অসম্ভব, গতকাল রাতেই দেখলাম সেই বিখ্যাত ছৌনাচ, এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা|এখানে ছৌনাচ নিয়ে দু চারটে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনাদের দিয়ে রাখি|

ছৌ নাচের সাজসজ্জায় প্রধান উপকরণ মুখোশ৷ রংবেরঙের মুখোশ তৈরির জন্য প্রসিদ্ধ পুরুলিয়ার চড়িদা নামে এক অখ্যাত স্থান|মূলত পৌরাণিক কাহিনীর উপর নির্ভর করে তৈরি হওয়া ছৌ নাচের পালায় কখনো সেই মুখোশ হয় দুর্গা-মহিষাসুরের, কখনো বা রাম-লক্ষ্মণ-সীতার অর্থাৎ ওই পৌরাণিক দেব দেবী দের রুপদানে ব্যাবহৃত হয় মুখোশ গুলি|এই বিখ্যাত মুখোশ যে শুধু ছৌনাচ এ সীমাবদ্ধ তানয়, অনেকেই ঘরে সাজিয়ে রাখার জন্যে এই মুখোশ সংগ্রহ করেন|

খোঁজ নিয়ে জানলাম,চড়িদায় শ’-খানেক পরিবার ছৌ মুখোশ তৈরি করে৷ শিল্পীর সংখ্যা ৩০০-র মতো৷ এই ছৌনাচ অতি প্রাচীন শিল্প যা পুরুলিয়া তথা বাংলাকে এনে দিয়েছে আন্তর্জাতিক সন্মান|ছোটনাগপুর মালভূমির অন্ত্যজ শবর সাঁওতালদের একমাত্র বিনোদ ছিলো এই ছৌনাচ তবে বর্তমানে আমাদের মতো শহুরে মানুষ রাও ভাগ বসাচ্ছে এই আনন্দে|এই নির্মল প্রকৃতির বুকে, শহরের কোলাহল থেকে দুরে এই প্রাচীন শিল্প কলা আপনাকে মুহূর্তে নিয়ে যেতে পারে এক প্রাচীন ভারতবর্ষে, সে অভিজ্ঞতা ঠিক লিখে বোঝানো যায়না, অনুভব করতে হয়, এক অদ্ভুত ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হলো আজ|একফাঁকে এখানকার এক গ্রামের কিছু কচিকাঁচা দের সাথেও কিছুটা সময় কাটালাম, যৎসামান্য উপহার তুলে দিলাম তাদের হাতে, তাদের নিষ্পাপ মুখের হাসিও অনেক বড়ো প্রাপ্তি|পরবর্তী গন্তব্য ও তার অভিজ্ঞতাও আপনাদের সাথে ভাগ করে নেবো যথা সময়ে|পড়তে থাকুন|জানাবেন আপনাদের মতামত|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরুলিয়া ভ্রমণ – অযোধ্যা পাহাড়

দীপান্বিতা অমাবস্যার কর্ম ব্যাস্ততা কাটিয়ে আপাতত কিছুদিনের ছুটি, ওদিকে আবার শীতের আমেজ ও এসেছে, সবমিলিয়ে স্বপরিবারে এবার ভ্রমণের উদ্দেশ্যে পুরুলিয়া যাত্রা, এই যাত্রা পথের কিছু ভালো লাগা, কিছু অভিজ্ঞতা আর অবশ্যই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভাগ করে নেবো আপনাদের সাথে আরো যা কিছু তথ্য পাবো সেগুলিও তুলে ধরবো সময়ে সময়ে, আজ শুরু করছি পুরুলিয়ার অন্যতম আকর্ষণ অযোধ্যা পাহাড় দিয়ে|বহু প্রাচীন কাল থেকে এই পাহাড় রয়েছে এই স্থানে, রামায়ণ অনুসারে, রাম ও সীতা বনবাসের সময় অযোধ্যা পাহাড়ে এসেছিলেন। এখানে এসে সীতা তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়লে রাম নিজের তীরের সাহায্যে মাটি খুঁড়ে জল বের করে আনেন। সেই জায়গাটি সীতাকুণ্ড নামে পরিচিত।

এটিও এখানে একটি দর্শনীয় স্থান|চার পাশে শাল, শিরিষ, মহুয়া, সেগুনে ছাওয়া সবুজ অরণ্যভূমি আর ছোট-বড় পাহাড়ি ঝোরা নিয়ে মনোরম পাহাড়ি পরিবেশ। পাহাড়ের ঢালে আদিবাসী গ্রাম, চাষের ক্ষেত। ট্রেকিংয়ের জন্যই অযোধ্যা পাহাড় বেশি পরিচিত। এর একটা এন্ট্রি পয়েন্ট পূর্ব দিকে সিরকাবাদ, অন্যটি পশ্চিমে বাঘমুন্ডি। দু’টি দিক দিয়েই ট্রেকিং করে পাহাড়ে ওঠা যায়। পাহাড়ে ট্রেকিং করা ছাড়াও ঘুরে নেওয়া যায় ছৌ শিল্পের পিঠস্থান চোড়িদা গ্রাম, চাণ্ডিল ড্যাম, পাখি পাহাড়, সীতা কুণ্ড, টুরগা ফলস প্রভৃতি, এই অরণ্যে বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে স্থানীয় আদিবাসীরা বন্য পশু শিকার উৎসবে যোগ দেয়|এই প্রথা বহু প্রাচীন কাল থেকে চলে আসছে|ভৌগোলিক ভাবে,পুরুলিয়া জেলার ঝাড়খণ্ড সীমান্তে দলমা পাহাড়ের একটি অংশ ও পূর্বঘাট পর্বতমালার একটি সম্প্রসারিত অংশ অযোধ্যা পাহাড়। উচ্চতা প্রায় ২০০০ফুট।

অযোধ্যা পাহাড়ের উচ্চতম শৃঙ্গটি হল গোরগাবুরু। এই অঞ্চলটি ছোটো নাগপুর মালভূমির সবচেয়ে নিচু ধাপ অযোধ্যা পাহাড়,ময়ূর পাহাড় ও আছে, অযোধ্যা পাহাড়ের সবচেয়ে উঁচু টিলা এটি। মায়াবী আলোয় সূর্য ডোবে এখানে। গাড়ি রাস্তা ফেলে হেঁটে খানিকটা উঠলেই একটা ছোট হনুমান মন্দির। নিস্তব্ধ সেই বিকেলের ধার ঘেঁষে টুপ করে ঢলে পড়ে সূর্য। সে এক দেখার মতো দৃশ্য|আগামী দিনে এই ভ্রমণ নিয়ে আরো কিছু তথ্য ও গল্প আপনাদের সাথে ভাগ করে নেয়ার ইচ্ছে রইলো এই লেখা লেখির মাধ্যমে|পড়তে থাকুন এবং জানাবেন কেমন লাগছে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|