Home Blog

কালী কথা – বেতশ্রী কালী মন্দির

কালী কথা – বেতশ্রী কালী মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ভারত বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এক প্রত্যন্ত গ্রাম কুমারপুকুর।সেই গ্রামে আছে এক প্রাচীন জাগ্রত কালী মন্দির যা লোক মুখে বেতশ্রী কালী নামে খ্যাত।

আজ কালী কথায় এই মন্দির নিয়ে লিখবো।

 

ঠিক কবে এই মন্দির স্থাপিত হয়েছিল এবং কে করেছিলো সে তথ্য হারিয়ে গিয়েছে কবেই। কেউ বলেন ৩০০ বছরের পুরাতন আবার কেউ বলেন ৪০০ বছরের পুরাতন।

 

কথিত আছে স্থানীয় এক ব্যক্তি মাছ ধরতে গিয়ে জালে পেয়েছিলেন কালী মূর্তি তারপর মূর্তি স্থাপন করে পূজো শুরু হয়। গড়ে ওঠে মন্দির আবার কেউ কেউ বলেন সপ্নাদেশ পেয়ে জঙ্গলে এক ব্যাক্তি কালি মাতাকে খুঁজে পান এবং দেবীর আদেশ অনুসারে পূজো শুরু করেন।

 

সেই সময়ে কালী মন্দিরের পিছনে একটি বেত বাগানে প্রথম পূজার্চনা শুরু হয়। তাই হয়তো নাম বেতশ্রী।পরবর্তীতে এক স্থানীয় ব্রাহ্মণ পরিবার পুজোর দায়িত্ব নেন।

 

কালি পূজা উপলক্ষ্যে প্রতিবছর বিশেষ পূজো।

ভক্ত সমাগম এবং মেলার আয়োজন করা হয় এখানে।

 

ফিরে আসবো জন্মাষ্টমী উপলক্ষে কালী কথায়।বিশেষ পর্ব নিয়ে।আগামী দিনে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – জহুরা কালী 

কালী কথা – জহুরা কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলার অন্যতম প্রাচীন কালী মন্দির জহুরা কালীর মন্দির মালদায় অবস্থিত এই কালী মন্দিরে অধিষ্টান করছেন মা জহুরা।আজকের কালী কথায় এই প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কালী মন্দির নিয়ে লিখবো।

 

আজও কিছু ইতিহাস বিদ মনে করেন এই দেবীর পুজোর সূচনা হয়েছিলো সেন বংশের রাজা বল্লাল সেনের আমলে আবার মন্দিরের গায়ে যে পাথরের ফলক আছে তা থেকে অনুমান করা যায়,আজ থেকে তিনশো বছর আগে উত্তরপ্রদেশের কোনো এক মাতৃ সাধক স্বপ্নাদেশ পেয়ে এখানে দেবী জহরা চণ্ডীর বেদি স্থাপন করেছিলেন|

 

বর্তমানে মালদায় ইংরেজবাজার থানা এলাকায় একটি প্রাচীন আমবাগানের মধ্যে রয়েছে জহুরা কালী মন্দির।শোনো যায় এক কালে এই অঞ্চলে ছিলো ঘন অরণ্য|ডাকাতরাই একপ্রকার শাসন করতো এই এলাকা এবং এই দেবী এক সময়ে ছিলেন ডাকাতদের আরাধ্যা। এখানে দেবী চণ্ডীর পুজো করে ডাকাতরা যেত ডাকাতি করতে। ডাকাতি করে প্রচুর ধনরত্ন আনত তারা, তারপর সেগুলোকে এখানেই মাটির তলায় রাখত। সেই ধনরত্নের ওপরই দেবীমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়।যেহেতু ধনরত্নকে হিন্দিতে বলে জওহর বা জহরত এবং এই দেবীমূর্তির নিচে প্রচুর ধনরত্ন রাখা থাকত বলেই এখানে দেবী চণ্ডী ‘জহরা’ বা ‘জহুরা’ নামে বিখ্যাত।

 

কথিত আছে এক কালে এখানে দেবীর পূর্ণ অবয়ব মূর্তি ছিলো তবে বিদেশী শত্রুর আক্রমণের ভয়ে তা মাটির নিচে লুকিয়ে ফেলেন পুরোহিতরা|

বর্তমানে মন্দিরের অভ্যন্তরে লাল রঙের ঢিবির ওপর রয়েছে এক মুখোশ এবং ঢিবির দু’পাশে আরও দু’টি মুখোশ দেখা যায়। এছাড়া গর্ভগৃহে আছে শিব আর গণেশের মূর্তি|

 

দেবী জহুরা চন্ডিরই রূপ তিনি অত্যন্ত জাগ্রত ও প্রসিদ্ধ তার পুজো উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ সমবেত হন এই মন্দির প্রাঙ্গনে|

 

এরকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো অন্যান্য কালীমন্দিরের মতো এখানে রাত্রিবেলা কোনো পুজো এখানে হয় না পুজো হয় দিনে|

 

আজ কালী কথা এখনেই শেষ করলাম। আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে

এই কালী কথা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – রাজা কৃষ্ণচন্দ্রর কালী 

কালী কথা – রাজা কৃষ্ণচন্দ্রর কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

নদীয়া রাজ কৃষ্ণ চন্দ্র বাংলার ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। শুধু রাজনীতি নয় ধর্ম কর্মর জন্য তিনি বিশেষ ভাবে সমাদৃত। বাংলার বহু প্রাচীন পূজো এবং মন্দিরের সাথে জড়িত আছে মহারাজা কৃষ্ণ চন্দ্রের নাম। এমনই এক কালী পূজো বসিরহাটের সংগ্রামপুরের কালী মন্দির।

 

শোনা যায় রাজা কৃষ্ণচন্দ্র দে স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই মন্দির নির্মাণের জন্য জায়গা দান করেন। এরপর কৃষ্ণচন্দ্র দে এবং গ্রামবাসীদের উদ্যোগে এই কালী মন্দির স্থাপিত হয়।শুরুতে ছিল একটা খড়ের চাল দেওয়া মন্দির। তারপর ভক্তদের দানে ও মন্দিরের উন্নয়ন কমিটির সৌজন্যে সুন্দর পাকা মন্দির নির্মাণ হয়।

 

মন্দির প্রতিষ্ঠা এবং স্বপ্নাদেশ নিয়ে একটি অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়।

একবার ইছামতীর বুকে নৌ বিহারের সময়ে রাজা কৃষ্ণ চন্দ্র রাতে স্বপ্ন দেখেন যে ইছামতীর উত্তর দিকের জঙ্গলের মধ্যে আলো ঠিকরে বেরোচ্ছে। তার মধ্যে দাঁড়িয়ে এক নারী বলছেন সেখানে কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে।সেই কথা মেনে রাজা মন্দির নির্মাণের দায়িত্ব নেন।

 

দেবী এখানে অত্যন্ত জাগ্রত এবং তিনি এই এলাকার বাসিন্দাদের ঘরের মেয়ে। জনশ্রুতি আছে মন্দিরের পিছনে যে পুকুরটি আছে, সেই পুকুরে গভীর রাতে একটা ছোট্ট মেয়ে লাল শাড়ি পড়ে পুকুরে নেমে স্নান করে। গ্রামবাসীরা মনে করেন ওই ছোট্ট মেয়েটি আর কেউ নন, তিনি স্বয়ং মা কালী। আর তাই গ্রামবাসীদের ধারণা, মা তাঁদের মধ্যেই থাকেন। এবং তাঁদের সব ইচ্ছেই পূরণ করেন।

 

কালী মা এখানে দক্ষিণা কালী রূপে বিরাজমান। মন্দিরে নিত্য পুজো হয় এবং ভোগও থাকে মায়ের জন্য প্রতিদিন। দেবীকে একেক দিন একেক রকম ভোগ নিবেদন করা হয়। যেমন লুচি, চিঁড়ে, ফল, খিচুড়ি,পায়েস ইত্যাদি। এমনকী আমিষ ভোগও দেওয়া হয় কোনও কোনও দিন।

 

পুজো হয় তন্ত্র মতে। ভাদ্র মাসে হয় ভদ্রা কালি পুজো,শ্যামা পুজোর রাতে হয় শ্যামা কালি পুজো।

শ্যামা পুজোর রাতেই ভিড় হয় সব থেকে বেশি। এই সময়ে প্রতিমার নতুন করে রঙ হয়। ছয়শো বছর ধরে চলে আসছে এই রীতি।মায়ের এই নব রুপ দেখতে বিরাট সংখ্যায় ভক্তরা জড়ো হন।

 

ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকবে কালী কথা। এখনো অনেক দেবী মন্দির নিয়ে লেখা

বাকি আছে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – বিদ্যা সুন্দর কালী

কালী কথা – বিদ্যা সুন্দর কালী

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ কালী কথায় আজ লিখবো
বর্ধমানের প্রসিদ্ধ এবং প্রাচীন বিদ্যাসুন্দর কালী মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে।

বর্ধমানের বিদ্যাসুন্দর কালীপুজোকে কেন্দ্র
করে একটি অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া
যায় প্রচলিত জনশ্রুতি রূপে।

তখন বর্ধমানের মহারাজা তেজচাঁদের আমল। রাজার এক কন্যা ছিল।তার নাম বিদ্যা ৷ আর রাজবাড়ির পুজারি ছিলেন সুন্দর নামে এক যুবক। সুন্দরের আর্থিক অবস্থা মোটেই ভাল ছিল না । রাজকুমারী বিদ্যা মালা গেঁথে পাঠাতেন পূজোর জন্য। সেই সূত্রেই বিদ্যার সঙ্গে পূজারী সুন্দরের যোগাযোগ স্থাপন হয় এবং পরবর্তীকালে বিদ্যার সঙ্গে সুন্দরের প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলেও রটে যায়। এমনকী তারা নাকি মন্দিরের পাশ থেকে রাজবাড়ি পর্যন্ত একটা সুড়ঙ্গ বানিয়ে তার ভিতর দিয়ে একে-অপরের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করতে যেত বলে অনেকে মনে করেন।

একদিন এক গুপ্ত চরের মাধ্যমে তেজচাঁদ বিদ্যা ও সুন্দরের প্রণয়ের ব্যাপারে জেনে ফেলেন । খবরটা কানে যেতেই রাজা প্রচণ্ড রেগে যান । তিনি বিদ্যা এবং সুন্দরকে দেবী কালীর সামনে বলি দেওয়ার আদেশ দেন ৷সেই সময়ে দামোদর তীরবর্তী গভীর জঙ্গলে ছিলো এক কালী মন্দির। ওই কালী মন্দিরে কেউ সচরাচর যেতেন না। জনশ্রুতি আছে যারা অন্যায় অত্যাচার করত, তাদের এই মন্দিরে দেবীর সামনে হাঁড়িকাঠে নরবলি দেওয়া হত । তাই সেই সময় এই কালী দক্ষিণ মশান কালী নামে পরিচিত ছিল ।রাজার হুকুম মতো তাদেরকে বলি দিতে নিয়ে যাওয়া হয় সেই মন্দিরে|বলি দেওয়ার আগের মুহূর্তে বিদ্যা ও সুন্দর সেই মন্দিরের কাপালিকের কাছে অনুরোধ জানায়, মৃত্যুর আগে তারা দেবীকে প্রণাম করে আসতে চায় । কাপালিক সেই অনুমতি দেন । প্রণাম করতে যাওয়ার সময় কাপালিক অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান । তারপরেই বিদ্যা ও সুন্দর নাকি কোথায় যেন মিলিয়ে যায় । এরপর থেকে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি । সেই সময় থেকেই মন্দিরের নামকরণ হয় বিদ্যাসুন্দর কালী মন্দির । তার পর থেকে বন্ধ হয়ে যায় নরবলি প্রথা।

বর্তমানে এখানে দেবীর মন্দির ছাড়াও দুটো শিব মন্দির আছে যা ভৈরব এবং পঞ্চানন্দ নামে পরিচিত। নরবলি বন্ধের পরে মন্দিরে মেষ
বলি এবং পরে ভেড়া বলি দেওয়া হত ।
এখনও কিছু ক্ষেত্রে পশু বলি দেওয়া হয়।
কালী পুজো ছাড়াও প্রতিটি বিশেষ তিথিতে তন্ত্র মতে বিশেষপুজোর আয়োজন হয়।

এমন বহু অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় বাংলার একাধিক প্রাচীন কালী মন্দিরকে নিয়ে। সেই সব ইতিহাস নিয়ে চলতে থাকবে
ধারাবাহিক কালী কথা।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – জংলী কালী মন্দির

কালী কথা – জংলী কালী মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

এক কালের বাংলা বিহার উড়িষ্যার রাজধানী মুর্শিদাবাদের নশীপুরে রয়েছে পাঁচশো বছরের পুরোনো জংলী কালীর মন্দির। এ মন্দিরে দেবী নেই, দেবীর বিগ্রহও নেই।রয়েছে দেবীর পদ চিহ্ন তারই পূজো হয়।আজ কালী কথায় এই

প্রাচীন মন্দিরের ইতিহাস।

 

জনশ্রুতি আছে যে এক সময় নশিপুরের ওই এলাকা ছিল জঙ্গসে পরিপূর্ণ। আর সেই জঙ্গলেই ছিল কুখ্যাত সব ডাকাতদের ডেরা। যাদের ভয়ে কাঁপত গোটা এলাকা। তা সেই ডাকাতদল অন্যান্য ডাকাত দলের মতোই ডাকাতিতে বেরনোর আগে শরণ নিতেন সেই জঙ্গলি কালীর।

জঙ্গলে বিরাজমানা দেবী তাই সম্ভবত দেবী

জংলী কালী নামে প্রসিদ্ধা।

 

একদিন মায়ের পুজো শেষে ডাকাতির উদ্দেশে রওনা দেয় ডাকাতদল। তবে সেদিন শুন্য হাতে ফিরতে হয় এবং ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত ডাকাতদলের কিছু না-পাওয়ার রাগ গিয়ে পড়েছিল দেবী কালীর উপরে। ক্ষোভে দেবী মূর্তি ভাঙতে যায় তারা সেই সময় দেবী জাগ্রত হয়ে উঠে পাশের একটি কুয়োতে অদৃশ্য হয় সেই কুয়োর পাড়ে পড়ে থাকে দেবীর পায়ের ছাপ। সেই পদচিহ্ন যুগলই বর্তমানে দেবী রূপে পূজো করা হয়।

 

এখানে দেবীর থানের পাশেই রয়েছে বহুপ্রাচীন একটি নিমগাছ। স্থানীয় লোকেদের বিশ্বাস, ওই গাছটিতে দেবীর সহচরীরা থাকেন। কেউ কেউ বলেন, মাঝেমধ্যেই সেই গাছ থেকে বিভিন্ন রকম আওয়াজ ভেসে ওঠে। পরবর্তীকালে মন্দিরটি সংস্কার হলেও গাছটি কাটা হয়নি বরং আরো যত্ন নেয়া হয়েছে।কালীপুজোর দিন যত্ন করে সাজিয়ে তোলা হয় ওই নিমগাছের চারপাশ।

 

পাঁচশো বছর ধরে শুন্য দেবালয়ে দেবীর চরণ

চিহ্ন দেবী রূপে পূজো পাচ্ছে অসংখ্য ভক্তদের কাছে। এখানে এখনো কালীপুজোর সময় বহু ভক্তের ভিড় হয়। মুর্শিদাবাদ ছাড়াও অন্যান্য

জেলা থেকেও ভক্তেরা আসেন।

 

ফিরে আসবো কালী কথার আরো একটি পর্ব নিয়ে আগামী দিনে। চলতে থাকবে

ধারাবাহিক কালী কথা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

পবিত্র রাখী পূর্ণিমার শাস্ত্রীয় তাৎপর্য 

পবিত্র রাখী পূর্ণিমার শাস্ত্রীয় তাৎপর্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ সারা দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র রাখী পূর্ণিমা উৎসব।ভারতীয় সনাতন সভ্যতায় বহু প্রাচীন কালথেকে চলে আসছে এই উৎসব|ভারতের পুরাণ, মহাকাব্য থেকে ইতিহাস ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখী বন্ধনের গল্প।

রাখী পূর্ণিমা শুধু সামাজিক নয় একটি শাস্ত্রীয় অনুষ্ঠানও বটে আজ রাখী বন্ধনের সেই শাস্ত্রীয়

গুরুত্ব নিয়ে লিখবো।

 

পুরান অনুসারে দেবী লক্ষী রাজা বলীর হাতে রাখী পড়িয়ে বিষ্ণু কে বৈকুন্ঠ লোকে ফিরিয়ে এনেছিলেন।

 

আমাদের দুটি প্রধান মহাকাব্য রামায়ণ এবং মহাভারতে রাখীর উল্লেখ আছে।রামায়নে মহর্ষি বাল্মীকির আশ্রমে রাম-সীতার দুই সন্তান লব-কুশের জন্মের পর তাদের হাতে সুরক্ষা কবচ হিসেবে একটি বিশেষ সুতো বেঁধে দেন বাল্মীকি।

 

আবার মহাভারতে, মা কুন্তী যখন কর্ণকে জন্মের পর জলে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন সদ্যোজাতের হাতে বেঁধে দিয়েছিলেন একটি সুতো যা রাখীর মতোই রক্ষা কবচ হিসেবে রক্ষা করেছিলো তার সন্তানকে।

 

শিশুপালের দিকে সুদর্শন চক্র ছুড়ে দেওয়ার সময় কৃষ্ণের হাতের আঙ্গুল কেটে রক্ত বের হতে শুরু করে। কৃষ্ণসখী দ্রৌপদী তাঁর শাড়ির আঁচল খানিকটা ছিঁড়ে তাঁর হাতে বেঁধে দেন। বড়ো ভাইয়ের ন্যায় শ্রীকৃষ্ণও দ্রৌপদীকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেন।

যা একপ্রকার রাখী বন্ধনই।

 

এই দিনে অনেকেই নিজের ইষ্ট দেবকে রাখী অর্পণ করেন। এতে খুব ভালো এবং দ্রুত

নিজের মনোস্কামনা পূর্ণ হয় বলে বিশ্বাস।

 

তবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরে রাখী অন্য মাত্রা পায়।রাখী বন্ধন প্রতিশ্রুতি রক্ষার উৎসব হয়ে যায়।নিজের প্রেম পর্যায়ের গানেও রবি

ঠাকুর লিখেছেন … ” মনে করে সখী,

বাঁধিয়া রাখিয়ো আমার হাতের রাখী

তোমার কনক কঙ্কনে।

 

আপনাদের সকলকে জানাই এই পবিত্র রাখী

বন্ধন উৎসবের অনেক শুভেচ্ছা এবং

অভিনন্দন।ভালো থাকুন।

পড়তে থাকুন।ধন্যবাদ।

কালী কথা – জোড়াসাঁকো কালী বাড়ি

কালী কথা – জোড়াসাঁকো কালী বাড়ি

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত জোড়াসাঁকোর রবীন্দ্র সরণি মোড়ে রয়েছে একটি প্রাচীন কালী মন্দির। আজ কালী কথায় এই প্রসিদ্ধ কালী মন্দির নিয়ে লিখবো।

 

এক কালে এই অঞ্চল ছিলো ডাকাতদের ঘাঁটি।

সে সময়ে একটি বিশাল বটগাছের নীচে ডাকাতরা মা কালীর আরাধনা করত। একবার এক মাতৃ সাধক ব্রাহ্মণ সন্তান চিৎপুর রোড ধরে কালীঘাটে মায়ের মন্দির দর্শন করতে যাচ্ছিলেন। পথে ডাকাতদের কবলে পড়লেন তিনি।কিন্তু মা কালী ভক্তের সহায় ছিলেন ডাকাত সর্দার জানালেন তিনি গতরাতে মা ভবতারিণীর স্বপ্ন দেখেছেন। দেবী তাঁকে স্বপ্নে বলেছেন, তোর তো বয়স হয়ে গেল। এবার পুজোর ভার এক ব্রাহ্মণের হাতে ছেড়ে দে। আগামীকাল এক ব্রাহ্মাণ সন্তান এই বটগাছের পাশ দিয়ে কালীঘাট মন্দির দর্শনে যাবে। তাঁকে স্বপ্নাদেশের কথা বলে পুজোর দায়িত্ব

অর্পণ কর।

 

সব শুনে সেই ব্রাহ্মণ তারপর পুজো করতে রাজি হয়ে গেলেন। জোড়াসাঁকোতে কালী মন্দির গড়ে মাকে প্রতিষ্ঠা করে পূজো শুরু করলেন। সেই মন্দিরই আজকের জোড়াসাঁকো কালী বাড়ি এবং আজও বংশ পরম্পরায় সেই ব্রাহ্মণ পরিবারের সদস্যরাই পূজো করে আসছেন।

 

দেবী এখানে দক্ষিনাকালী এবং গর্ভ গৃহে শ্বেতপাথরের বেদীতে প্রতিষ্ঠিতা।শ্বেত সদাশিবের উপর দন্ডায়মান দেবী মূর্তি কষ্টিপাথর নির্মিত।

দেবী চতুর্ভুজা, তাঁর হাতে থাকে রৌপ্য খর্ড়্গ, নরমুণ্ড। মাথায় রৌপ্যমুকুট, তার উপরে রৌপ্যছত্র। দেবীর জিহ্বা সোনার।

 

দুর্গাপূজা কালী পূজা সহ প্রতিটি বিশেষ তিথিতে মহা সমারোহে দেবীর পূজোর আয়োজন হয় এবং সেই উপলক্ষে বহু ভক্তের সমাগম হয়।

 

ফিরে আসবো কালী কথার পরবর্তী

পর্ব নিয়ে।চলতে থাকবে এই

ধারাবাহিক কালী কথা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – বাসুদেবপুর ডাকাত কালী 

কালী কথা – বাসুদেবপুর ডাকাত কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আর কয়েকটিদিন পরেই কৌশিকী অমাবস্যা। তন্ত্র মতে কালী সাধনার শ্রেষ্ঠ তিথি।আজ কালী কথার এই পর্বে আপনাদের জন্যে নিয়ে এসেছি বাংলার এক প্রাচীন ডাকাত কালী মন্দিরের কথা যা অবস্থিত হুগলীর বাসুদেব পুরে।

 

বাংলার এই ডাকাত কালী মন্দিরের সাথে জড়িত আছে কুখ্যাত রঘু ডাকাতের নাম। শোনা যায় সাধক রামপ্রসাদ ও এই মন্দিরে এসেছিলেন এবং এক অলৌকিক অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছিলেন|

 

শোনা যায় আনুমানিক পাঁচশো বছর আগে বাগহাটির জয়পুরের বাসিন্দা বিধুভূষণ ঘোষ ও তার ভাই রঘু ঘোষ ঘন জঙ্গলের মধ্যে শাস্ত্র মতে তাদের কালী মূর্তি স্থাপন করে। দিনের বেলায় দুই ভাই দিনমজুরের কাজ করলেও রাতে ধনীদের বাড়িতে ডাকাতি করত যদিও ডাকাতি করে আনা জিনিসপত্র এলাকার গরিব মানুষের মধ্যে বিলি করত এই দুই ডাকাত|তাই এলাকায় বেশ জনপ্রিয় ছিলো। দুই ভাইয়ের মধ্যে রঘুই ছিলো দলের নেতা।

 

সেকালে ডাকাত দলের ভয়ে দুপুরের পর থেকে এই রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করত না। কথিত আছে সেই সময়ে রঘু ডাকাতের লোকজন রাস্তা দিয়ে যাওয়া কোনও মানুষকে ধরে বেঁধে রাখত। সন্ধ্যার পর পুরোহিতকে ডেকে এনে ঢাকঢোল বাজিয়ে নরবলি হতো| তারপর পুজো দিয়ে ও মহাপ্রসাদ খেয়ে ডাকাতি করতে বের হত।

 

সাধক কবি রামপ্রসাদ সেন কোনও এক সময়ে এই রাস্তা ধরে ফিরছিলেন। ওই সময়ে রঘু ডাকাতের লোকজন তাকে নরবলি দেওয়ার জন্য ধরে নিয়ে এসে বেঁধে রাখে। অলৌকিক ভাবে ডাকাত দল বলি দেয়ার আগের মুহূর্তে হারিকাঠে রামপ্রসাদের পরিবর্তে মা কালীকে দেখতে পায়। এরপর থেকে রঘু ডাকাত বলি বন্ধ করে রামপ্রসাদের সেবার ব্যবস্থা করে এবং পরের দিন সকালে নৌকায় করে রামপ্রসাদকে সসম্মানে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসে।

 

এখানে চতুর্ভুজা কালিকার ঊর্ধ্ব বাম হস্তে খড়্গর পরিবর্তে রয়েছে তরবারি ও অন্যান্য হাতগুলিতে রয়েছে দেবী কালিকার মতোই নানা প্রহরণ৷ দেবী জোড় পায়ে শবরূপী শিবের হৃদপদ্মে দণ্ডায়মান৷ মায়ের মুখোমুখি মন্দির অঙ্গনে স্থাপিত শিবলিঙ্গ৷ রয়েছে জটাজাল বিস্তৃত প্রাচীন বটবৃক্ষ৷

 

রঘু ডাকাতের আমল থেকেই মন্দিরের পুজো চলছে। মন্দিরে নরবলির প্রথা বহু পূর্বে বন্ধ হয়েছে। তবে এখনও মানত করা| ছাগবলি হয়|

 

বিশেষ বিশেষ তিথিতে বিশেষ পুজো ও সেই উপলক্ষে বহু মানুষের সমাগম হয়।বাংলার ঐতিহাসিক ডাকাত কালী মন্দিরগুলির মধ্যে

এই রঘু ডাকাতের কালী বিশেষ ভাবে উল্লেযোগ্য।

 

বাংলার নানা স্থানে রয়েছে এমন আরো অনেক প্রাচীন ঐতিহাসিক কালী মন্দির।কালী কথা নিয়ে আগামী পর্বে আবার অন্য একটি কালী ইতিহাস জানাবো আপনাদের। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – জরাসন্ধ কালী

কালী কথা – জরাসন্ধ কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ কালী কথায় আপনাদের বাংলার এমন

এক প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কালী মন্দিরের কথা জানাবো যার সাথে জড়িয়ে আছে মগধরাজ জরাসন্ধ, রানী অহল্য বাই এবং মহারাজা নন্দ কুমারের নাম।

 

তখন বর্তমানের বিহার ছিল ইতিহাসের মগধ ক্ষেত্র

কষ্টিপাথরে তৈরি পদ্মাসনা কালীমূর্তিকে মগধ রাজপুজো করতেন।তার নামেই নাম হয় জরাসন্ধ জরাসন্ধের মৃত্যুর পর সেই মূর্তি স্থান পায়

পাতালে থেকে যায়।কেটে যায় বহু বছর। পরবর্তীতে রানি অহল্যাবাই কিছুদিন মগধে থাকাকালীন স্বপ্নাদেশে পাতালে একটি মূর্তির সন্ধান পান।তার নির্দেশে একটি নিদ্দিষ্ট স্থানে শুরু হয় খনন। সেখান থেকে উদ্ধার হয় জরাসন্ধের এই প্রাচীন কালী মূর্তি।

 

মূর্তিটি যেহেতু মগধে মিলেছে এবং সেই সময়ে ওই স্থান কাশী রাজের অধীনে তাই রানি অহল্যা সেটি তৎকালীন কাশীরাজ চৈতসিংকে দান করেন। সেই সময়ে ব্রিটিশ শাসনধীন ভারতের বড়লাট অর্থাৎ তৎকালীন ইংরেজ শাসক ওয়ারেং হেস্টিংসের নজরে পড়ে মূর্তিটির উপরে তার মনে

ইংল্যান্ডের মিউজিয়ামে সেটি নিয়ে

যাওয়ার বাসনা জাগে। সেকথা জানতে পেরে কাশীরাজ চৈত সিং তখন মূর্তিটি বাঁচাতে

সেটিকে কাশীর দশাশ্বমেধ ঘাটে গঙ্গার পবিত্র জলে লুকিয়ে দেন।এক কথায় পাতাল থেকে খুঁজে আনা মূর্তির সলীল সমাধি ঘটে।

 

আবার কিছুকাল অতিক্রান্ত হয়। তখন মহারাজ নন্দকুমার বাংলার দেওয়ান।তিনি কাশীধামে যান। তীর্থ করতে এবং গঙ্গাবক্ষ থেকে কালী মূর্তি তুলে আনার স্বপ্নাদেশ পান।আবার উদ্ধার হয় মূর্তি

সেই মূর্তি তিনি নলহাটির এই আকালীপুরে এনে প্রতিষ্ঠা করেন এবং পুজোর ব্যাবস্তা করেন।

 

দেবী মূর্তিটি কোষ্টি পাথরের তৈরী সাপের কুণ্ডলীর উপর পদ্মাসনে বসেন দেবী। মাথায় তার সহস্র নাগের ফনা। হাতে পায়ে সাপের নকশা।

 

আজও এই আকালীপুরের মন্দিরে পুজো হয় দিনের বেলা। সমস্ত তান্ত্রিক নিয়ম অনুসরণ হয় । তবে সব কিছুই দিনের বেলা। রাতে মা নৈশ লীলা করেন। তাই নিঝুম অন্ধকার থাকে এবং পরিবেশ থাকে নিস্তব্ধ।

 

ফিরে আসবো পরের পর্বে । কালী কথা নিয়ে ধরাবাহিক লেখা চলতে থাকবে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – লাল কালী মন্দির

কালী কথা – লাল কালী মন্দির

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

বাংলার প্রসিদ্ধ কালী মন্দির গুলি মধ্যে উত্তর কলকাতার লাল কালী মন্দির অন্যতম।
এই কালী মন্দিরের সাথে জড়িয়ে আছে অনেক গল্প, কিংবদন্তী ও অলৌকিক ঘটনা। আজ কালী কথায় সেই সব নিয়েই লিখবো।

যেখানে সেন্ট্রাল এভিনিউয়ের রাস্তা দুভাগে ভাগ হয়ে নাম হয়েছে চিত্তরঞ্জন এভিনিউ এবং যতীন্দ্র মোহন এভিনিউ সেখানে অবস্থিত এই প্রাচীন কালী মন্দির।বর্তমানে মন্দিরটি যতীন্দ্র মোহন এভিনিউ-তে পড়ে। প্রায় সব মন্দিরই দেখা যায় সাধারণত রাস্তার একধারে কিন্তু অদ্ভুত ভাবে এখানে রাস্তায় মাঝখানে রয়েছে মন্দিরটি।
তারও একটি বিশেষ কারন আছে।

প্রায় ২৫০ বছর আগে এই মন্দির একটা মাটির ঘর ছিল তখন অমরকৃষ্ণ ঠাকুর চক্রবর্তী নামে এক মাতৃ সাধক রাজা নবকৃষ্ণের বাড়িতে চণ্ডীপাঠ করতেন আর ওই মাটির ঘরে তিনি তন্ত্রসাধনা করতেন|

শোনা যায় রঘু ডাকাত একবার হাটখোলা থেকে ডাকাতি করে ফেরার সময় লুঠ করা যোগমায়ার মূর্তি রাজা নবকৃষ্ণের পুকুরে ফেলে দেয় পরবর্তীতে অমরকৃষ্ণ ঠাকুর চক্রবর্তী স্বপ্নাদেশ পেয়ে মাকে নিয়ে এসে সেই মাটির ঘরে পুজো শুরু করেন|

ব্রিটিশ আমলে রাস্তা তৈরি করার সময় ইংরেজরা মন্দির টি সরাতে চাইলে অমরকৃষ্ণ ঠাকুর চক্রবর্তী মন্দির সরিয়ে নিয়ে যেতে অস্বীকার করেন৷ তখন ব্রিটিশ গভনর্মেন্ট তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে৷ তিনদিন তাঁকে হাজতে আটকে রেখেছিল৷শোনা যায় যোগমায়াকে কোলে নিয়েই হাজতে ছিলেন তিনি ৷ রাজকৃষ্ণদেব তাঁর হয়ে মামলা লড়েন এবং সেই মামলায় তাঁর জয় হয়৷ তারপর ইংরেজরাই ওনাকে প্রস্তাব দেয় মন্দিরটা সুন্দর করে বানিয়ে দেওয়ার৷ তাতে তিনি রাজি হয়েছিলেন৷ ইংরেজরাই এই লাল রঙের মন্দির তৈরি করে দেয়।

শোনা যায় ব্রিটিশরা যখন পুরোনো মন্দির ভেঙে দেয়া প্রচুর জল বেরিয়েছিলো এখান থেকে যদিও আশ্চর্যজনক ভাবে জলের কোনো উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি|

কলকাতায়া মেট্রো রেলের কাজ শুরু হওয়ার সময় এই মন্দিরের গায়ে কোনও আঁচড় লাগেনি৷ সেইসময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী, তিনি মন্দিরটা চিনতেন,ইন্দিরা গান্ধী বলেছিলেন, এই মন্দিরটা রেখেই মেট্রোর কাজ হবে৷ তার জন্য আলাদা করে তিনি কিছু টাকা অনুমোদন করেছিলেন বলেও শোনা যায়|ইন্দিরা গান্ধীর পরেও এই নিয়ম মেনেই মেট্রোর কাজ এগিয়েছে এখানে। মোট কথা কোনো ভাবেই মন্দির আগের স্থান থেকে সরানো যায়নি। তাই আজও রাস্তার মাঝখানেই এই কালী মন্দির অবস্থান করছে।

এই মন্দিরে মাকে যোগমায়া রূপে পুজো করা হয়৷ তন্ত্রমতে সেই পুজো হয়৷ আগে ছাগ বলি হত৷ এখন পশু বলি হয়না।
আর প্রতিবছর কালীপুজোর আগে মন্দিরের রঙ লাল করা হয়|

আজকের এই পর্ব এখানেই শেষ করছি।আবার পরের পর্বে নতুন কোনো কালী মন্দির নিয়ে
ফিরে আসবো কালী কথায়। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।