Home Blog

কালী কথা – মহারাজা নন্দ কুমারের কালী

কালী কথা – মহারাজা নন্দ কুমারের কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ আপনাদের বাংলার এমন এক প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কালী মন্দিরের কথা বলবো যার সাথে জড়িয়ে আছে মহারাজা নন্দ কুমারের নাম তাই অনেকেই এই কালীকে মহারাজা নন্দ কুমারের কালী বলে থাকেন।

 

তবে এই কালী মন্দিরের ইতিহাস আরো অনেক বেশি প্রাচীন।মগধরাজ জরাসন্ধ এবং রানী অহল্য বাই এর সাথে এই কালী মূর্তির সম্পর্ক রয়েছে।

 

তখন বর্তমানের বিহার ছিল ইতিহাসের মগধ ক্ষেত্র

কষ্টিপাথরে তৈরি পদ্মাসনা কালীমূর্তিকে মগধ রাজ জরাসন্ধ পুজো করতেন।তার নামেই তখন কালীর নাম হয় জরাসন্ধ কালী জরাসন্ধের মৃত্যুর পর সেই মূর্তি স্থান পায় পাতালে ।কেটে যায় বহু বছর। পরবর্তীতে রানি অহল্যাবাই কিছুদিন মগধে থাকাকালীন স্বপ্নাদেশে পাতালে দেবী মূর্তির সন্ধান পান।তার নির্দেশে একটি নিদ্দিষ্ট স্থানে শুরু হয় খনন। সেখান থেকে উদ্ধার হয় জরাসন্ধের এই প্রাচীন কালী মূর্তি।

 

দেবী মূর্তিটি কোষ্টি পাথরের তৈরী সাপের কুণ্ডলীর উপর পদ্মাসনে বসেন দেবী। মাথায় তার সহস্র নাগের ফনা। হাতে পায়ে সাপের নকশা।

 

মূর্তিটি যেহেতু মগধে মিলেছে এবং সেই সময়ে ওই স্থান কাশী রাজের অধীনে তাই রানি অহল্যা সেটি তৎকালীন কাশীরাজ চৈতসিংকে দান করেন। সেই সময়ে ব্রিটিশ শাসনধীন ভারতের বড়লাট অর্থাৎ তৎকালীন ইংরেজ শাসক ওয়ারেং হেস্টিংসের নজরে পড়ে মূর্তিটির উপরে তার মনে

ইংল্যান্ডের মিউজিয়ামে সেটি নিয়ে

যাওয়ার বাসনা জাগে। সেকথা জানতে পেরে কাশীরাজ চৈত সিং তখন মূর্তিটি বাঁচাতে

সেটিকে কাশীর দশাশ্বমেধ ঘাটে গঙ্গার পবিত্র জলে লুকিয়ে দেন।এক কথায় পাতাল থেকে খুঁজে আনা মূর্তির সলীল সমাধি ঘটে।

 

আবার কিছুকাল অতিক্রান্ত হয়। তখন মহারাজ নন্দকুমার বাংলার দেওয়ান।তিনি কাশীধামে যান। তীর্থ করতে এবং গঙ্গাবক্ষ থেকে কালী মূর্তি তুলে আনার স্বপ্নাদেশ পান।গঙ্গা থেকে আবার দেবী দেবী উদ্ধার হয় সেই মূর্তি তিনি নলহাটির এই আকালীপুরে এনে প্রতিষ্ঠা করেন এবং পুজোর ব্যাবস্তা করেন।এককালের জরাসন্ধা কালী হয়ে যান বাংলার অকালী পুরের মহারাজা

নন্দ কুমারের কালী।

 

বর্তমানে এই আকালীপুরের মন্দিরে পুজো হয় দিনের বেলা। সমস্ত তান্ত্রিক নিয়ম অনুসরণ হয় । তবে সব কিছুই দিনের বেলা হয় কারন রাতে

মা নৈশলীলা করেন। তাই নিঝুম অন্ধকার থাকেন এবং পরিবেশ থাকে শান্ত এবং নিস্তব্ধ।

 

ফিরে আসবো পরের পর্বে। কালী কথা নিয়ে। মৌনী অমাবস্যা উপলক্ষে ধরাবাহিক আলোচনা চলতে থাকবে।বাকি আছে বহু এমন অলৌকিক ঐতিহাসিক কালী পুজো নিয়ে আলোচনা।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – খুকীমা কালী

কালী কথা – খুকীমা কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দক্ষিণ বঙ্গের বজ বজে আছে এক অদ্ভুত কালী মন্দির।এখানে দেবীকে খুকীমা নামে ডাকা হয়। আজকের পর্বে খুকীমা কালীর কথা লিখবো।

 

অদ্ভুত এই কালী মূর্তির ইতিহাস। শোনা যায় দয়াল ঠাকুর নামে এক মাতৃ সাধক এক সময়ে এই স্থানে সাধনা করতেন। পাশেই ছিলো শ্মশান এবং আদি গঙ্গা। এক রাতে এক ডাকাত দল এখানে আসে।

সাধক কে ডেকে নিয়ে যাওয়ার হয় তাদের সর্দারের কাছে।সর্দার তখন অসুস্থ্য এবং মরণাপন্ন।

চারদিকে ছড়িয়ে আছে লুঠের সামগ্রী। তার মধ্যে আছে এক খুদে বা ছোট্ট কালী মূর্তি।

 

অখণ্ড কষ্ঠীপাথরের তৈরি এই মূর্তি বড়ো কোনো পাথর থেকে কেটে বানানো। এমনকি দেবীর গলার নরমুণ্ডের মালাও খোদাই করে তৈরি। এ যে কোনো সাধারণ শিল্পীর হাতের কাজ হতে পারে না তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি তাঁর। তিনি অবহেলায় পড়ে থাকা সেই মূর্তির পুজোর ও ভোগের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিলেন।তার আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হলো।

 

অলৌকিক ভাবে নির্দেশ পালন করতেই সেরে ওঠেন ডাকাত সর্দার।তারা বিদায় নেয় এবং কালী মূর্তি ওই স্থানেই স্থাপিত হয় এবং খুকিমা নামে আজও তিনি সেখানে স্বমহিমায় বিরাজিতা।

 

একটি জনশ্রুতি অনুসারে এই মূর্তির পুজো করতেন মাতৃ সাধক কমলাকান্ত। এবং বর্ধমান থেকে এই মূর্তি ডাকাতি করে সেই রাতে আনা হয়। এবং হয়তো দেবীর ইচ্ছাতেই এখানে আরেক মাতৃ সাধক সেই মূর্তির পুজোর দায়িত্ব পান।আজ তিঁনিই বজবজের খুকী মা রূপে বিরাজ করছেন।

 

যারা আসন্ন মৌনী অমাবস্যায় গ্রহ দোষের প্রতিকার চান নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করুন।

ফিরে আসবো কালী কথা নিয়ে আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।

ধন্যবাদ।

কালী কথা – বৈষ্ণব কালী

কালী কথা – বৈষ্ণব কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সাধারণত বৈষ্ণব অর্থাৎ বিষ্ণুর উপাসক এবং শাক্ত অর্থাৎ শক্তির উপাসক। সনাতন ধর্মে শাক্ত ও বৈষ্ণব দুটি ভিন্ন দর্শন এবং দুটি ভিন্ন ধারা।দুয়ের মধ্যে মত পার্থক্য এবং বিরোধ বহু প্রাচীন কিন্তু

বাংলায় হুগলির হরিপালের শ্রীপতিপুরে বিখ্যাত অধিকারী পরিবারের কাছে এই দুই প্রকার সাধনা অর্থাৎ বিষ্ণু  ও দেবী কালি দুয়ে মিলে এক হয়ে

গেছে। আজকের কালী কথা পর্বে।হরিপালের বিখ্যাত বৈষ্ণব কালীর পুজো নিয়ে লিখবো।

 

শাস্ত্রে একটি ঘটনার উল্লেখ আছে একবার শ্রীকৃষ্ণ ও রাধিকা যখন লীলা করছিলেন সেই

খবর গিয়ে পৌছায় রাধিকার স্বামী আইহন ঘোষেরকাছে কিন্তুরাধিকার স্বামী আয়ন ঘোষ এসে

দেখেন রাধিকা কালি পুজো করছেণ,

প্রেমিকা কে অপমানের হাত থেকে বাঁচাবার জন্য স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ কালির রূপ ধরেন, যা কৃষ্ণকালী ।নামে পরিচিত সেই রুপই হুগলীর এই শতাব্দী প্রাচীন পুজোয় দেখা যায়।

 

এখানেদেবী কালির গলায় কন্ঠি মালা, বৈষ্ণব

তিলক আঁকা পুজোতে কোনরকম বলি নয়,

দেবী তৃপ্ত হন বাঁশির সুরে। আজ থেকে ৭০ বছর আগে বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী

বটোকৃষ্ণ অধিকারীর তন্ত্রসাথনায় সিদ্ধ হয়েপ্রথম শুরু করেন এই পুজো। এখানে মা পরম বৈষ্ণবী।

 

সাধক বটকৃষ্ণ অধিকারী এই গ্রামেরই

এক দরিদ্র গোড়া বৈষ্ণব পরিবারে জন্ম

গ্রহণ করেন বৈষ্ণব সূলোভ আচরণ ছোট

থেকেই দেখা গিয়েছিলো অধিকারী

মশাইয়ের মধ্যে। বড়ো হয়ে সংসার ধর্ম করার পরেও তন্ত্রসাধনার দিকে আগ্রহছিল তার বেশি।একসময় তিনি শ্মশানে সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন ও স্বপ্নাদৃষ্ট হয়ে এইখানে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন এই মাতৃ মন্দির। শুরু হয় পুজো।

 

স্বপ্নেই তিনি দেখে ছিলেন যে তার দেবী মূর্তি সাধারণ কালো বা নীল নয় দেবীর গাত্র বর্ণ সবুজ এবং শ্যাম ও শ্যামা এক সাথে বিরাজমান। তাই এই অদ্ভুত রুপই প্রতিষ্ঠিত হন দেবী

 

যদিও আজকের এখানেই শেষ করছি। তবে মৌনী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে কালী কথা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

 

 

শুভ মকর সংক্রান্তি

শুভ মকর সংক্রান্তি

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ মকর সংক্রান্তি।শব্দের মানে খুঁজলে দেখা যায় সংক্রান্তি শব্দের অর্থ সঞ্চার বা গমন করা। সূর্যের মকর রাশিতে গমন হয় এই তিথিতে।

 

বাংলা মাস অনুযায়ী পৌষ মাসের শেষ দিনটিতে এই উৎসব পালন করা হয় তবে শুধু বাংলায় বাঙালিরাই নন, আমাদের দেশের নানা প্রান্তে এই দিনটিকে নানা ভাবে বিশেষ বিশেষ উৎসবের সঙ্গে পালন করা হয়। সনাতন ধর্মে এই তিথিতে পালন করা হয় কিছু উপাচার ও অবশ্যই গঙ্গা স্নানের মাধ্যমে পূর্ণতা পায় এই মকর সংক্রান্তি|

 

পুরান মতে অনুযায়ী, এই দিনই দেবতাদের সঙ্গে অসুরদের যুদ্ধ শেষ হয়েছিল। বিষ্ণু অসুরদের বধ করে তাঁদের কাটা মুন্ডু মন্দিরা পর্বতে পুঁতে দিয়েছিলেন, মকর সংক্রান্তি তে, তাই মকর সংক্রান্তির দিনই সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাস হয়ে শুভ শক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে আজও মানা হয়ে থাকে, মকর সংক্রান্তির এই মহাতিথিতেই মহাভারতের পিতামহ ভীষ্ম শরশয্যায় ইচ্ছামৃত্যু গ্রহণ করেছিলেন।

 

এই আধুনিক সময়েও এখনও দূর গাঁয়ে পৌষ সংক্রান্তির উৎসব নিয়ে আসে আনন্দ বার্তা। পৌষ সংক্রান্তিতে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় স্নিগ্ধ সবুজ গ্রাম। পীঠে পুলির সুঘ্রান ছড়িয়ে পরে বাতাসে।।তবে শুধু গ্রামে নয়, শহরেও বেশ কিছু পরিবার আজও সমান আন্তরিকতার সঙ্গে এবং নানা আয়োজনে পালন করে পৌষ সংক্রান্তির উৎসব। বাড়িতেই তৈরি করেন পিঠে-পুলি। এই পৌষ বা মকর সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতির একটি বিশেষ উৎসব বা বিশেষ ঐতিহ্যবাহী দিন।আবার কৃষি প্রধান বাংলায় এই সময়ে নতুন ফসল বিশেষ করে ধান তোলা হয়।

 

শুরুতেই বলেছি সূর্য দেব এই দিন রাশি পরিবর্তন করেন। প্রবেশ করেন নিজের পুত্রের রাশি মকরে।

তাই মকর সংক্রান্তির দিন সাধারণত সূর্যদেবের পুজো করা হয়। তাঁর আশীর্বাদে আমাদের সকল রোগ-ব্যাধি দূর হয় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে তাই এই বিশেষ দিনটিতে সকলেই নিজের ঘরবাড়ি, বিশেষ করে রান্নাঘর ও রন্ধন দ্রব্যাদি পরিষ্কার করেন, যাতে সমস্ত রকম ‘অপরিশুদ্ধতা’ দূর হয়।

 

আপনাদের সবাইকে মকর সংক্রান্তির অসংখ্য শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।ভালো থাকুন।

পড়তে থাকুন।ধন্যবাদ।

কালী কথা – ভবানী পাঠকের কালী

কালী কথা – ভবানী পাঠকের কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

জলপাইগুড়ি তে অবস্থিত এই প্রাচীন একটি কালী মন্দির সাধারণ মানুষের কাছে আজও ভবানী পাঠকের মন্দির নামে পরিচিত।কথিত আছে এই দুর্গম অঞ্চল শাসন করতো এক দুর্ধর্ষ দস্যু রানী এবং এক মাতৃ সাধক যাদের বঙ্কিম চন্দ্রের কালজয়ী উপন্যাসে যথাক্রমে দেবী চৌধুরানী এবং ভবানী পাঠক নামে অভিহিত করা হয়েছে|উপন্যাসে উল্লেখিত ত্রিস্রোতা নদীই বর্তমানে তিস্তা নদী যে নদী দিয়ে যাতায়াত করতো দেবী চৌধুরানীর বজ্রা|

 

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠাতার সঠিক নাম নিয়ে কিঞ্চিৎ মতবিরোধ থাকলেও জনশ্রুতি অনুসারে এই মন্দির ভবানী পাঠকই বানিয়েছিলেন|

 

আজও এক ইতিহাসের সাক্ষী বহন করে চলেছে ভবানী পাঠকের কালী মন্দির|জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের শিকারপুর চা বাগানের মধ্যে রয়েছে ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানীর মন্দির।বঙ্কিম চন্দ্রের উপন্যাস অনুসারে ভবানী পাঠক ডাকাত সর্দার হিসাবে পরিচিত থাকলেও তিনি সন্ন্যাসীর মতো জীবনযাপন করতেন। তিনি অত্যাচারী ইংরেজ ও দেশীয় জমিদারদের জিনিস লুঠপাট করে তা দীন দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন এবং বেজায় কালী ভক্ত ছিলেন ভবানী পাঠক|

 

শোনা যায় মন্দিরে প্রথমে কাঠের মূর্তিই ছিল। দুই পাশে দুটি কাঠের কালী মূর্তি। সেই কালীকে পুজো করেই নাকি ভবানী পাঠক তাঁর অভিযানে বের হতেন। পরে কোনোভাবে সেই কাঠের মূর্তি পুড়ে যাওয়ায় মাটির মূর্তি তৈরি হয়|বর্তমানে ঐতিহাসিক এই মন্দিরে মন্দিরে মা কালীর মূর্তি ছাড়াও তিস্তাবুড়ি, ভবানী পাঠক, দেবী চৌধুরানী, গঙ্গা দেবী, সিদ্ধপুরুষ মোহনলালের মূর্তি আছে, জলপাইগুড়ির দর্শনীয় স্থান গুলির মধ্যে অন্যতম এই ভবানী পাঠকের কালী মন্দির|

 

প্রায় প্রতি অমাবস্যায় এখানে বড়ো আকারে কালী পুজো হয় কার্ত্তিক অমাবস্যায়। মন্দির প্রতিদিন ভোর পাঁচটায় খোলে বন্ধ হয় বিকেল পাঁচটায়।

 

আজ এই পর্ব এখানেই শেষ করলাম|ফিরবো আগামী কালী কথা পর্বে। মৌনী

অমাবস্যা উপলক্ষে যারা জ্যোতিষ পরামর্শ এবং শাস্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার চান তারা এখনো যোগাযোগ করতে পারেন। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

স্বামী বিবেকানন্দর জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি 

স্বামী বিবেকানন্দর জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণের মানস পুত্র। মা সারদা যেমন ছিলেন ঠাকুরের লীলা সঙ্গিনী তেমনই নরেন ছিলেন তার প্রধান শিষ্য এবং প্রচারক। তিনি ছিলেন ভারতের অন্তরাত্মার প্রকাশ। ভারতকে বুঝতে গেলে স্বামীমীজী কে বুঝতে হবে। তিনি যুব শক্তির প্রতীক।

তাই আজ তার জন্মদিন জাতীয় যুব দিবস

রূপেও পালিত হয়।

 

ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ তার প্রিয় শিষ্য নরেনকে নিজের সর্বস্ব দিয়ে নিঃস্ব হয়ে ছিলেন এবং স্বামী বিবেকানন্দ হয়ে উঠেছিলেন সর্বজ্ঞানী এবং অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। তার গোটা জীবন অলৌকিক ঘটনায় ভরা।

 

স্বামীজীর মধ্যে এক ধরণের প্রশান্তি ছিলো যারা তার সংস্পর্শে আসতেন তারা এক আধ্যাত্মিক শান্তি অনুভব করতেন। একবার গুরুভাইদের সাথে হিমালয় ভ্রমণ কালে এক গৃহস্ত ভক্তের বাড়িতে তারা আশ্রয় নিয়ে ছিলেন। গৃহস্তের এক শিশুকে কাঁদতে দেখে স্বামীজি সারারাত তাকে কোলে নিয়ে জপ করে কাটিয়েছিলেন আশ্চর্য বিষয় সারা রাত শিশুটি আর কাঁদেনি।

 

এক দিনে কী ভাবে গোটা বই পড়া এবং মনে রাখা সম্ভব সম্ভব তা জানা সত্যি কঠিন কাজ, অলৌকিক শক্তি ছাড়া বোধ হয় সম্ভব নয়, আর এই অলৌকিক ক্ষমতা ছিলো বিবেকানন্দর

মেরঠে থাকাকালীন স্বামীজি লাইব্রেরি থেকে বই আনাতেন। স্বামী অভেদানন্দ বইগুলি নিয়ে আসতেন। আবার পরের দিনই বইগুলি পড়ে তা ফেরত দিয়ে দিতেন স্বামীজি। এক দিন লাইব্রেরিয়ানের মনে সন্দেহ হয়। একদিন স্বামীজি লাইব্রেরিতে আসতেই, সেই বই থেকে জিজ্ঞাসা করলেন। স্বামীজি শুধু উত্তর দিলেন না, কোন পাতায় কী লেখা রয়েছে প্রায় সবই বলে দিলেন। যা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন ওই লাইব্রেরিয়ান।

এমনই ছিলো স্বামীজীর অদ্ভুত স্মৃতি শক্তি

 

একবার মঠের বারান্দায় সারা রাত স্বমীজীকে পায়চারি করতে দেখে তার এক গুরুভাই তাকে জিগেস করলেন কি হয়েছে। স্বামীজী বললেন কথাও বহু মানুষ বিপদে পড়েছে। কষ্ট পাচ্ছে।

পরদিন জানা যায় ভারত থেকে বহু দুরে সমুদ্রে একটি জাহাজ দুর্ঘটনা ঘটেছে সেই রাতে এবং

বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

 

ফরাসী গায়িকা মাদাম এমা কাল্ভের সাথে শিকাগোয় ১৮৯৪ খ্রিঃ সাক্ষাৎ হয় স্বামী বিবেকানন্দর, মাদাম কাল্ভে তখন জীবনের প্রতি সম্পুর্ন বীতশ্রদ্ধ এবং আত্মহত্যা প্রবণ হয়ে পড়েছিলেন সেটাও স্বাভাবিক কারন তিনি তখন মেজাজী, একগুঁয়ে এবং পুরোমাত্রায় ভোগী মহিলা এবং স্বাভাবিক কারণেই তাঁর জীবনে শান্তি ছিল না, ঝড় বয়ে যাচ্ছে তার অন্তরে|তাকে দেখেই স্বামীজী বলে উঠলেন,বাছা, কী ঝোড়ো হাওয়াই না তুমি নিয়ে এলে। শান্ত হও।’ তারপর অতি শান্তস্বরে মাদামের জীবনের একান্ত ব্যক্তিগত ঘটনা বলতে লাগলেন|যেন এক অলৌকিক ব্যাপার। ‘আপনি এত সব জানলেন কি করে?এই প্রশ্নের উত্তরে স্বামীজী বললেন,আমি খোলা বইয়ের মতন তোমার ভেতরটা পড়তে পারি।শুধু তাই নয় স্বামীজীর কথায় তার অন্তরের সব ঝড় থেমে গেলো শান্ত হলেন তিনি,স্বামীজীর শিষ্য হয়ে সব ছেড়ে আধ্যাত্মিক পথ আপন করে নিলেন।

 

এমন বহু নজীর আছে। স্বামীজির অগাধ জ্ঞান এবং বিশ্ব জোড়া খ্যাতি সত্ত্বেও তিনি তার গুরু ভাইদের কাছে যখন আসতেন। যখন লাটু মহারাজ বা রাখাল মহারাজ দের সাথে আনন্দে মেতে উঠতেন তখন তিনি হয়েযেতেন এক শিশুর মতোই সহজ সরল।

 

জন্মদিনে শ্রদ্ধা এবং প্রনাম জানাই এই মহান সন্ন্যাসীকে|ফিরে আসবো কালী কথা সংক্রান্ত ধারাবাহিক আধ্যাত্মিক আলোচনা নিয়ে।

আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।

ধন্যবাদ।

কালী কথা – বর্ধমানের জীবন্ত কালী

কালী কথা – বর্ধমানের জীবন্ত কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বর্ধমানের পাতুন নামে ছোট্ট একটি গ্রামে হয় এক অদ্ভুত কালী পুজো। অদ্ভুত কারন এই গ্রামে প্রায় চারশো বছর ধরে পূজিতা হয়ে আসছেন জ্যান্ত কালী। জ্যান্ত কালী মানে সত্যি সত্যি মানব রুপী কালী অর্থাৎ কোনও মূর্তি নয় মানুষই কালীর সাজে সেজে থাকেন এখানে । তাঁকে ঘিরেই চলে পূজা অর্চনা এবং যাবতীয় তান্ত্রিক উপাচার। শুনতে অদ্ভূত লাগলেও এই গ্রামের মানুষের কাছে এটা স্বাভাবিক রীতি।

 

শুধু জীবন্ত মানুষকে দেবী রূপে পুজো নয়। আরো কিছু রীতি নীতি বহু বছর ধরে এই গ্রামে পালিত হয়ে আছে এই পুজোকে কেন্দ্র করে।

 

কালী পুজো উপলক্ষে মূল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়

চৈত্র সংক্রান্তিতে এই সময়ে মা কালীর বেশে বহুরূপী গ্রামে ঘুরে ঘুরেই করেন গাজনের নাচ। সেই সময়ে ওই শোভা যাত্রায় নানা রকম লোকগান এবং মন্ত্র উচ্চারণ করা হয়। মা কালীর এক হাতে থাকে খাঁড়া বা তরোয়াল এবং অন্য হাতে থাকে কাগজ বা মাটির তৈরি নরমুণ্ড।অদ্ভুত সেই রূপ এবং শোভা যাত্রা দেখতে আসেন বহু মানুষ।

 

তবে একটি নিদ্দিষ্ট পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কেউ দেবী কালীর মুখোশ পড়ে কালী সাজতে পারেননা। এই মুখোশও রাখা থাকে ওই পরিবারের কাছেই। মুখোশকে নিত্য পুজো করা হয়। এবং বছরের এই নিদ্দিষ্ট সময়ে মুখোশ জনসমক্ষে আনা হয়।গ্রামের বাকি পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেন তবে তারা সাজেন কালীর চ্যালাচামুণ্ডা আর একজন সাজেন শিব।

 

স্থানীয় রা বলেন পুজোর কিছু বিশেষ সময়ে এবং বিসর্জনের সময়ে একজন ব্যক্তিকে দেবীকে ধরে রাখতে হয়। কারন দেবীর মুখোশ পড়ার পরে সেই দেবীর সাজে সজ্জিত মানুষটির মধ্যে অদ্ভুত শক্তি সঞ্চারিত হয় যা যেকোনো সময়ে নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যেতে পারে এবং কোনো বিপত্তি ঘটে যেতে পারে। তাই সতর্ক থাকতে হয়।

 

প্রতি বছর গভীর রাতে দেবীর পুজো অনুষ্ঠিত হয়। নিয়ম নিষ্ঠা মেনে সব রীতি পালিত হয়।ঢাকের শব্দ। ধুনীর ধোঁয়া। নাচ গান। সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত এবং মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

 

এমন কতই না অদ্ভুত সব পুজো এবং রীতি নীতি আছে সারা বাংলা জুড়ে। রয়েছে কতো রহস্যময় দেবী মন্দির।আবার এমন কোনো কালী পুজোর কথা নিয়ে ফিরে আসবো যথা সময়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – বোল্লা কালী

কালী কথা – বোল্লা কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

মৌনী অমাবস্যা উপলক্ষে বিগত কয়েক বছরের ন্যায় এবছরও আপনাদের হৃদয়েশ্বরী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরে বিশেষ পুজো, হোম যজ্ঞ ও গ্রহ দোষ খণ্ডনের ব্যবস্থা থাকছে,সেই সংক্রান্ত তোড়জোড় নিয়ে এখন থেকেই কিছুটা ব্যাস্ত হয়ে পড়েছি|তার ফাঁকেই আজ বাংলার একটি অন্যতম জাগ্রত ও বিখ্যাত কালী মন্দিরের কথা আপনাদের জানাবো। আজকের পর্বে বোল্লা কালী মন্দির|

 

বোল্লা কালীমন্দির আমাদের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার একটি বিখ্যাত কালী মন্দির।

 

বালুরঘাট শহর থেকে এই মন্দিরের দূরত্ব মাত্র কুড়ি কিলোমিটার|মন্দিরটি দক্ষিণ দিনাজ পুরের বোল্লা গ্রামে অবস্থিত এবং মূলত গ্রামের নাম থেকেই বোল্লা কালী মন্দিরের নামকরণ।

আজ থেকে চারশো বছর এই অঞ্চলের জমিদার ছিলেন বল্লভ চৌধুরি|তার নাম অনুসারেই এলাকার নাম হয় বোল্লা।

 

বোল্লা মন্দির প্রতিষ্ঠার সাথেও জড়িয়ে আছে এক অলৌকিক ঘটনা|কথিত আছে একবার স্থানীয় জমিদার মুরারী মোহন চৌধুরি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে মামলায় জড়িয়ে যান। তারপর তিনি বোল্লা মায়ের কাছে মানত করে মামলায় জয় লাভ করেন শোনা যায় দেবী কালি স্বয়ং তার উদ্ধারের জন্য এসেছিলেন এবং পরবর্তী দিনই জমিদার মুক্তি পেয়েছিলেন|কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসাবে তিনি দেবী কালির একটি সুদৃশ্য মন্দির নির্মাণ করেছিলেন।

 

তবে এই ঘটনার অনেক আগে থেকেই এখানে কালী পুজোর প্রচলন ছিলো|বহুকাল আগে এখানে এক মহিলা স্বপ্নাদেশে একটি কালো পাথরখণ্ড কুড়িয়ে পেয়ে সেটিকে প্রথম মাতৃরূপে পুজো শুরু করেছিলেন।

 

কথিত আছে একবার এই এলাকায় পরপর ডাকাতের অত্যাচার শুরু হয় স্বয়ং

বোল্লাকালী তখন রুদ্রমূর্তি ধারণ

করে বাসিন্দাদের রক্ষা করেন।

 

বর্তমানে রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে দক্ষিণ বোল্লা কালী মন্দিরে পুজো ও বিরাট মেলা অনুষ্ঠিত হয়|

সমগ্র উত্তর বঙ্গ সহ সারা রাজ্য এমনকি বাংলা দেশ থেকেও বহু মানুষ আসেন মা বোল্লা কালীর দর্শন করতে ও তার পুজোয় অংশ নিতে|

 

ফিরে আসবো কালী কথা নিয়ে আগামী পর্বে। যারা আগামী মৌনী অমাবস্যায় শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে চান। নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করতে পারেন। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – বড়ো দেবী 

কালী কথা – বড়ো দেবী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের কালী কথায় কোচবিহারের পাঁচশো বছরের প্রাচীন বড়ো দেবীর পুজোর কথা জানাবো।একাধিক অলৌকিক ঘটনা এবং কিংবদন্তী জড়িত আছে এই পুজোর সাথে।

 

একবার কোচবিহার রাজ বংশের অন্যতম রাজা মহারাজা নরনারায়ণ স্বপ্নে ওই এই দেবীকে দেখেছিলেন সেই রূপেই আজও এখানে পূজিত হন দেবী।

 

একটি জনশ্রুতি মতে এই রাজ বংশের বিশ্ব সিংহ এবং তাঁর ভাই শীষ্য সিংহ খেলার ছলে দেবীর আরাধনা শুরু করেন। ময়নার ডালকেই দেবীরূপ দিয়ে পুজো করেন তাঁরা। পরবর্তীতে সেই কাঠ ‘বড় দেবী’র মন্দিরে এনে, তাকে কাঠামো হিসেবে ব্যবহার করে তার উপর শুরু হয় প্রতিমা

তৈরির কাজ।

 

বর্তমানে প্রথাগত প্রতিমার থেকে এই প্রতিমা সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে দেবী রক্তবর্ণা এবং উগ্ররূপে তিনি বিরাজ করছেন । সঙ্গে থাকেন দুই সখী জয়া এবং বিজয়া। দেবীর বাহন বাঘ এবং সিংহ উভয়।

 

কিংবদন্তী অনুসারে ‘বড় দেবী’র পুজোয় একফোঁটা হলেও প্রাণীর রক্তর প্রয়োজন হয় এবং আজও নাকি তাজা রক্ত সংগ্রহ করে দেবীকে উৎসর্গ করা হয়।

 

এই অদ্ভুত রীতি নিয়ে একটি অলৌকিক ঘটনা প্রচলিত আছে। শোনা যায় একবার মহারাজা বিশ্ব সিংহ খেলার ছলে এক সাথীকে তরোয়াল দিয়ে আঘাত করেন। সঙ্গে সঙ্গে সেই বালকের মাথা আলাদা হয়ে যায় ধড় থেকে। সেই মাথা দেবীকে নিবেদন করেন বিশ্ব সিংহ। সেই থেকেই এই রীতির প্রচলন।যদিও এই সবই জনশ্রুতি আকারে প্রচলিত যার ঐতিহাসিক তথ্য প্রমাণ সেই ভাবে উপলব্ধ নয়।

 

বর্তমানে পুজোর আয়োজন করে রাজ্য পর্যটন দফতরের অধীনস্থ কোচবিহার দেবত্র ট্রাস্ট। আজও পুজোতে পশুবলি হয়। অষ্টমীতে মহিষ, দশমীতে শূকর বলির প্রথা চালু রয়েছে আজও।

 

এখানে দূর্গা পুজোয় ধুম ধাম করে দেবী আরাধনা হয় এবং বিসর্জনের সময় যমুনা দীঘিতে নিয়ে যাওয়া হয় মৃন্ময়ী প্রতিমা যা খণ্ডিত করে বিসর্জন দেওয়া হয়।

 

বাংলার বহু এমন ঐতিহাসিক কালী ক্ষেত্র এবং অলৌকিক ঘটনাবলী নিয়ে চলতে থাকবে কালী কথা।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – জয় কালী

কালী কথা – জয় কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আর কয়েকটি দিন পরেই রটন্তী কালী পুজো এবং মৌনী অমাবস্যা। সেই উপলক্ষে শুরু করেছি কালী কথা।আজ কালী কথা পর্বে শ্যামবাজারের জয়কালী বাড়ির কথা লিখবো|এই কালী মন্দিরের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে নানা অলৌকিক ঘটনা ও অদ্ভুত সব জশ্রুতি|

 

এই মন্দির নির্মাণের সাথে জড়িত আছে অলৌকিক এক ঘটনা|সাড়ে তিনশো বছর আগে এই পরিবারের পরিবারেরই এক সদস্য গঙ্গার স্নান করার পথে এই মাতৃ মূর্তিকে দেখেন। তিনি সেখানে মা কে প্রনাম করে বাড়ি চলে যান। সেদিনই তিনি স্বপ্নাদেশ পান যে মা চাইছেন তিনিই তাঁর পুজো করুন। সেই শুরু হয় জয়কালির আরাধনা।

 

শাস্ত্র মতে পুজোয় ডিম ব্যবহার হয়না,কিন্তু এই মন্দিরে পুজোয় ডিম ব্যবহার হয়।

অবিশ্বাস্য হলেও এমনটাই সত্যি। কি করে শুরু হলো ডিম দিয়ে পুজোর তা নিয়েও এক ঘটনা আছে শোনা যায় বহুকাল আগে পরিবারের সদস্যরা এক বিকাল বেলা নিজেদের মধ্যেই আলচনা করছিলেন আলোচনার বিষয় ছিল ঠাকুরের খাবার।” ঠাকুরের খাবারের জন্য মিষ্টি , ফল এসব ব্যবহার হয় । আবার ঠাকুরের মাছ, মাংস ভোগ হিসাবে নিবেদন করার রীতিও রয়েছে। কিন্তু সেদিন তাঁরা আলোচনা করছিলেন কেউ যদি এই পুজোর উদ্দেশ্যে ফল , মিষ্টির জায়গায় ডিম দেয় তখন কি হবে? ঠাকুর কি তা গ্রহন করবেন ? “অদ্ভুত ভাবে কিছুক্ষণ পরেই একজন মন্দিরে পুজো দিতে আসেন ডিম নিয়ে।” ডিম দিয়ে পুজো শুনেই সবাই নাকচ করে দেন। অনেকে আবার কিছুটা ভয়ও পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই ভক্ত নাছোড়বান্দা ছিলেন। কিছুতেই তিনি না পুজো দিয়ে ফিরে যাবেন না। আর পুজো দিলে তিনি দেবেন ওই ডিম দিয়েই। কারন তিনি সম্প্রতি ডিমের ব্যবসা শুরু করেছেন এবং তিনি ঠিক করেছেন ব্যবসা শুরুর আগে মা’কে পুজো দেবেন। আর যেহেতু তিনি ডিমের ব্যবসায়ী তাঁর বিশ্বাস ওই ডিম দিয়ে পুজো অর্পণ করলেই দেবী খুশি হবেন। ব্যবসায় উন্নতি হবে তাঁর। শেষে ডিম দিয়েই পুজো হয় তবে ওই ব্যবসায়ী একবারের জন্যও মন্দিরে প্রবেশ করেননি। বাইরে থেকেই পুজো নিয়ে চলে গিয়েছিলেন।সেই থেকে ডিম দিয়ে পুজোর প্রচলন হয়|

 

জয় কালীর পুজোর প্রায় সাড়ে তিনশো বছর অতিক্রান্ত হয়েছে।আজও জয়কালি একই ভাবে পূজিতা হচ্ছেন । অবিশ্বাস্য হলেও অত বছর আগে পাওয়া একটি মাটির মূর্তি এখনও অবিকল একরকম থেকে গিয়েছেন। সব অমাবস্যাতেই দেবী জয় কালীর বিশেষ পুজোর আয়োজন হয়।

 

আগামী পর্বে অন্য কোনো কালী মন্দিরের কথা

নিয়ে আবার ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।