Home Blog

শিব চতুর্দশী -রাশি অনুসারে শিবের ভোগ নিবেদন

আগের পর্বে জানিয়েছিলাম রাশি অনুসারে শিব চতুর্দশী ব্রত চলা কালীন কোন মন্ত্র কোন রাশির জন্য উত্তম আজ জানাবো আপনারা রাশি অনুসারে কি দিয়ে মহাদেবের ভোগ নিবেদন করবেন|

মেষ রাশিমেষ রাশির অধিপতি মঙ্গল। এই রাশির জাতক জাতিকারা শিবকে পাঁচটি লাল ফল ও মিশ্রী অর্পণ করতে পারেন।

বৃষ রাশিশিবের আশীর্বাদ লাভের জন্য বৃষ রাশির জাতকদের এগারোটি হলুদ ফল ও সাথে কাজু ও মিশ্রীর ভোগ নিবেদন করুন|

মিথুন রাশিবুধ এই রাশির অধিপতি। জ্যোতিষ মতে পাঁচটি যেকোনো সবুজ ফল ও মিশ্রী এবং পেস্তা অর্পণ করলে দেবাদিদেব সন্তুষ্ট হবেন।

কর্কট রাশিকর্কট রাশির জাতক জাতিকারা যদি শিবকে মাখনের সঙ্গে মিশ্রী মিশিয়ে শিবকে ভোগ নিবেদন করেন, তা হলে সুফল পাবেন।

সিংহ রাশিগ্রহের রাজা সূর্য এই রাশির অধিপতি। সিংহ রাশির জাতকরা লাল রঙের পাঁচটি মিষ্টি ও বাদাম মহাদেবকে অর্পণ করুন। শুভ ফলাফল লাভ করবেন।

কন্যা রাশিবুধ এই রাশির অধিপতি হওয়ায় পেস্তা অর্পণ করতে পারেন মহাদেবকে পাশাপাশি কিশমিশ অর্পণ করলেও মহেশ্বর সন্তুষ্ট হবেন।

তুলা রাশিসুখ সৌভাগ্যের কারক গ্রহ শুক্র এই রাশির অধিপতি। কাজু ও মিশ্রীর পাশাপাশি শুকনো নারকেল ও মিশ্রী অর্পণ করলে সৌভাগ্য আসবে|

বৃশ্চিক রাশিসাহস ও পরাক্রমের কারক গ্রহ মঙ্গল এই রাশির অধিপতি হওয়ায়, শ্রাবণ মাসে শিবকে লাল ফল লাল রঙের মিষ্টি সাথে চিনাবাদাম ও আখরোটের ভোগ নিবেদন করতে পারেন।

ধনু রাশিবৃহস্পতি এই রাশির অধিপতি। শিব চতুর্দশী শুধু নয় যেকোনো সোমবার শিবকে জাফরান ও খেজুরের ভোগ নিবেদন করলে শিবের পাশাপাশি বিষ্ণুর আশীর্বাদ পাবেন

মকর রাশির জাতকরা শুকনো খেজুর ও ডুমুর নিবেদন করলে শিব প্রসন্ন হবেন। পাশাপাশি শনিদেব ও শান্ত থাকবেন।

কুম্ভ রাশিমকরের মতো শনি এই রাশিরও অধিপতি। জ্যোতিষ মতে, কুম্ভ রাশির জাতকরা পাঁচটি সুপুরি ও কাঁচা দুধে জাফরান মিশিয়ে অর্পণ করলে সুফল পাবেন।

মীন রাশিদেবগুরু বৃহস্পতি এই রাশির অধিপতি।শিব চতুর্দশী উপলক্ষে খেজুর, দুধ ও মধু অর্পণ করতে পারেন।ভালো ফল পাবেন।

শিব চতুর্দশী উপলক্ষে আগামী পর্বগুলিতেও চলতে থাকবে শিব ও শিব পুজো নিয়ে এই বিশেষ আলোচনা|পড়তে থাকুন।শাস্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার করাতে যারা শিবরাত্রি যুক্ত অমাবস্যা তিথিকে বেছে নিতে চান তারা এখন থেকেই যোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

রাশি অনুসারে শিবের মন্ত্র

আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারী শিব চতুর্দশী|জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতে এই তিথির গুরুত্ব অপরিসীম|আজকের পর্বে আসুন জেনে নিই রাশি অনুসারে কে কোন মন্ত্র জপ করে মহাদেবকে ডাকলে দ্রুত ও নিশ্চিত ভালো ফল পাবেন|মেষ রাশির ব্যক্তিদের পঞ্চাক্ষর মন্ত্র ওম নমঃ শিবায় জপ করা উচিত। শিব পঞ্চাক্ষর মন্ত্র হল সেই মন্ত্র যা সমস্ত ইচ্ছা পূরণ করে।বৃষ রাশির মানুষদের ওম নাগেশ্বরায় নমঃ মন্ত্র জপ করা উচিত।জপের পর শিব লিঙ্গে বেলপাতা ও দুধ নিবেদন করবেন|মিথুন রাশির জাতক জাতিকাদের মহাশিবরাত্রির দিন “ওম নমঃ শিবায় কালাম মহাকাল কালম কৃপালম ওম নমঃ” মন্ত্রটি জপ করা উচিত।কর্কট রাশির ব্যাক্তিদের শিব পূজার সময় অত্যন্ত ভক্তি সহকারে ” ওম চন্দ্রমৌলেশ্বর নমঃ ” মন্ত্রটি করা উচিত।সিংহ রাশি যাদের তারা ভক্তিভরে মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রটি জপ করুন। সুফল পাবেন|কন্যা রাশির জাতকদের মহাশিবরাত্রির দিন ওম নমো শিবায়  মন্ত্র ১০৮ বার জপ করা উচিত। তুলা রাশির জাতক জাতিকাদে  ওম হম জুম স্বাহা মন্ত্রটি জপতে হবে এবং শিব লিঙ্গে বেলপাতা ও স্বেত চন্দন নিবেদন করতে হবে|বৃশ্চিক ও ধনু রাশির যাদের তারা ” ওম নমো শিবায় গুরু দেবায় নমঃ” মন্ত্রটি প্রতি সোমবার জপ করুন মকর ও কুম্ভ রাশির জাতকরা ” ওম তৎপুরুষায় বিদ্মহে মহাদেবয় ধিমহি তন্নো রুদ্রা প্রচোদয়াত” মন্ত্র জপ করুন|কুম্ভ রাশির ব্যাক্তিদের ওম নমো শিবায় গুরু দেবায় নমঃ মন্ত্র জপ করা উত্তম হবে।মীন রাশির জাতক জাতিকারা ” ওম সুন্দরায় নমঃ ” মন্ত্রটি জপ করে শিব লিঙ্গ প্রদক্ষিণ করবেন|শিব চতুর্দশী তিথিতে মন্ত্রগুলি ১০৮ বার জপ করতে পারলে সব থেকে ভালো হয় । মন্ত্র জপ করার সময় মনকে নিবদ্ধ ও শান্ত রাখা প্রয়োজন।স্নান সেরে শুদ্ধ দেহে মহাদেবের সামনে বা তাকে স্মরণ করে মন্ত্র জপ করবেন|যারা শিব চতুর্দশী ও অমাবস্যা তিথিতে জ্যোতিষ ও তন্ত্র সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার শাস্ত্র মতে সমাধান চান তারা যোগাযোগ করতে পারেন।শিব ও শিব চতুর্দশী তিথি সংক্রান্ত আরো অনেক তথ্য নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বগুলিতে।পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব চতুর্দশী – বেদনিধির গল্প

শিব পুরানের নবম অধ্যায়ে উল্লেখিত বেদ নিধির গল্প আজকের পর্বে আপনাদের বলবো|অবন্তীনগরে সদাচারী এক ব্রাহ্মণ ছিলেন। সর্বশাস্ত্রে পণ্ডিত, নানান শুভকর্মে রত তিনি। পতিধর্মপরায়ণা তার স্ত্রী। তাদের ছিল দুই-পুত্র সুনিধি ও বেদনিধি, জ্যেষ্ঠ সুনিধি ছিল পিতা-মাতার মতই শাস্ত্রজ্ঞানী, সদাচারী পিতা-মাতার বশবর্তী। কিন্তু কনিষ্ঠ বেদনিধি ছিলেন দুশ্চরিত্র ও দুরাচারী|একবার তার বাবাকে রাজার দেয়া একটি উপহার চুরি করে সে এক নর্তকীকে দেয় এবং ধরা পড়ে বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়|প্রথমে সেই নর্তকীর কাছে সে আশ্রয় চায় কিন্তু কোথাও আশ্রয় না-পেয়ে বেদনিধি এবার দু’চোখে অন্ধকার দেখতে লাগল। কী করবে ভেবে না পেয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে লাগল। নগর ছাড়িয়ে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেল অনেক অনেক দূরের লোকালয়ে। দিন কেটে রাত হল। হেঁটে হেঁটে অবসন্ন তো হলই, খিদেয়ও অস্থির হয়ে উঠল সে। অথচ সঙ্গে কানাকড়ি নেই, এ-রাজ্যে ভিক্ষা করা মানা, চুরি করবার সুযোগটিও নেই।এমন সময় হঠাৎ পুজোর নৈবেদ্য নিয়ে ঢাক বাজিয়ে একদল মেয়ে-পুরুষকে মন্দিরের দিকে যেতে দেখল সে। তাদের হাতের নৈবেদ্য দেখে অস্থির খিদে চনচন করে উঠল। সুযোগ পেলে সেগুলোই খাবার প্রত্যাশা নিয়ে সে তাদের পিছু নিল।মন্দির প্রাঙ্গণ আলোয়-ফুলে সেজে রয়েছে। আজ মহা শিবরাত্রির পুজো। সারারাত ধরে পুজোর জন্য বিকেল থেকেই শুরু হয়েছে ভক্তকুলের ভিড়। রাজপ্রহরীদের প্রহরাও রয়েছে। মন্ত্র আর পূজারীর ‘ববম ববম’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠছে চারিদিক। শুরু হয়ে গেছে প্রহরে প্রহরে পুজো।সারাদিনের অনাহারে ক্লিষ্ট বেদনিধি প্রাঙ্গণের একটি কোণায় খাবারের অপেক্ষায় চোখের পাতাজোড়া ঠায় খুলে বসে রইল। প্রহরের পর প্রহর কাটতে লাগল। খিদের পরত চড়তে চড়তে ধৈর্যের বাঁধও তার ভাঙতে লাগল। সুযোগ পেলেই এবার সে চুরি করবে, ছিনিয়ে খাবে!সুযোগ এল তৃতীয় প্রহরের পর। ভক্তেরা পুজো করে যে-যেখানে পারল মন্দিরের প্রাঙ্গণে শুয়ে পড়ল। তারা আর জেগে থাকতে পারছিল না। ভাবল, এখন তো শুয়ে পড়া যাক, চার প্রহরে উঠে না-হয় আবার পুজো দেবে। তারা ঘুমিয়ে পড়তে প্রহরীরাও নিজেদের মধ্যে গল্পগুজবে মত্ত হয়ে অন্যমনস্ক হল। সেই সুযোগে ক্ষুধার্ত বেদনিধি অস্থির হয়ে উঠে দাঁড়াল। পা টিপে টিপে হাজির হল গিয়ে গর্ভগৃহের মধ্যে। দেখল, সলতে পুড়তে পুড়তে দীপ প্রায় নিভে এসেছে, নৈবেদ্যগুলোও ভালো করে দেখা যাচ্ছে না। শিবলিঙ্গের গায়েও অন্ধকারের ছায়া পড়েছে। সে নিজের কাপড় ছিঁড়ে সলতে পাকিয়ে দীপে সংযোগ করতেই দীপালোক উজ্জ্বল হল। শিবলিঙ্গের গায়ের অন্ধকার দূর হল, নৈবেদ্যের সাজানো থালাগুলিও স্পষ্ট দেখা যেতে লাগল। তখন সে চুপি চুপি শব্দ না-করে একটি থালা তুলে গর্ভগৃহের বাইরে বেরিয়ে এল। কিন্তু, চুপিসাড়ে প্রাঙ্গণ থেকে বেরোতে গিয়ে অন্ধকারে শুয়ে থাকা এক ভক্তের গায়ে তার পা পড়ে গেল। অমনি ভক্তটি ধড়মড় করে জেগে উঠে ‘চোর’, ‘চোর’-বলে চেঁচিয়ে উঠল। বেগতিক বুঝে বেদনিধি ছুটে পালাতে গেল। কিন্তু, পারল না। ভক্তের চিৎকারে সচকিত হয়ে উঠল প্রহরীরাও। তাদের ছোঁড়া বল্লম সোজা তার পিঠে এসে বিঁধল। এবং বেদনিধি মারা গেল।বেদনিধি মারা যেতেই তার আত্মাটি নিয়ে যেতে একইসঙ্গে হাজির হল যমদূত এবং শিবদূতেরা।শিবদূতেরা বললন, শিবরাত্রিতে দীপ দিয়ে সমস্ত রাত জাগন্ত ও উপবাসী থেকে মন্দিরে অবস্থান করে ওর সমস্ত পাপ নষ্ট হয়েছে। এর স্থান এখন শিবলোকে। একে আমরাই নিয়ে যাবো! শেষে ধর্মরাজ বললেন, শিবদূতেরা ঠিকই বলেছে, লোকটা মহাপাপিষ্ঠ হয়েও শিবরাত্রিতে অজান্তে উপবাস, রাত্রিজাগরণ ও দীপদান করে পূর্ণব্রতের পুণ্য লাভ করে পবিত্র হয়ে উঠেছে। শিবরাত্রি ব্রতের এমনই মাহাত্ম্য। তাই বলা হয়, শিবরাত্রি ব্রতের চেয়ে মহান ব্রত আর কিছু হয় না। তোমরা শান্ত হও, এখন আমি দেবাদিদেবের ইচ্ছেয় বেদনিধিকে জীবনদান করব।শুধু নতুন জীবন লাভ নয়|শিব কৃপায় বেদ নিধি বাকি জীবন রাজা হয়ে কাটিয়েছিলেন|আপনারাও চাইলে শিব চতুর্দশী তিথিকে কাজে লাগাতে পারেন শাস্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার বা মনোস্কামনা পূরণের জন্য|ফিরে আসবো পরের পর্বে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব চতুর্দশী – মহাদেব ও রাজা সুদর্শন

আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারী শিবচতুর্দশী শাস্ত্র মতে এই পূণ্য তিথিতে মহাদেবের সাথে মাতা পার্বতীর বিবাহ সম্পন্ন হয়। সতীর মৃত্যুর পর মহাদেব অনন্ত ধ্যানে মগ্ন হন তখন আদ্যাশক্তি মাতা পার্বতীর রূপ ধরে মহাদেবকে স্বামী রূপে পাওয়ার জন্য কঠোর ধ্যান করেন ও অবশেষে মহাদেবের ধ্যান ভঙ্গ হয় এবং এই তিথিতে তাদের মহা মিলন ঘটে আজ আপনাদের এই তিথির মহাত্ম বলবো আরো বলবো রাজা সুদর্শনের কথা|এই তিথিতে মহাদেব তার রুদ্র মূর্তি ধারণ করেন ও তাণ্ডব নৃত্যের মাধ্যমে সৃষ্টির ধ্বংসের পরিস্থিতি নিয়ে আসেন। তাই তাকে শান্ত করার জন্য তার আরাধনা করা হয়।বিবাহিত নারীরা মনে করেন এই ব্রত করলে তাদের স্বামীর মঙ্গল হবে ও অবিবাহিত নারীরা এই ব্রত পালন করলে মহাদেবের মতন স্বামী লাভ করবেন|অমাবস্যা যুক্ত শিব চতুর্দশী রুদ্রাক্ষ ধারণ ও গ্রহ দোষ খণ্ডন বা তন্ত্র সাধনার জন্য ও আদর্শ|পুরা কালে সুদর্শন নামের এক রাজা ছিলেন।একবার তিনি তার পোষ্য কুকুরের সাথে গভীর বনে শিকারের জন্য বেরিয়েছিলেন। সারাদিন ধরে কোনো শিকার করার মতন প্রাণী খুঁজে না পেয়ে তিনি ক্ষুধার্থ ও তৃষ্ণার্ত অবস্থায় তিনি রাতে একটি জলাধারের পারে এসে উপস্থিত হলেন। সেখানে তিনি একটা বেল গাছের তলায় একটা শিবলিঙ্গ খুঁজে পেলেন ও সারারাত জেগে সেই শিবলিঙ্গের আশপাশের পাতা এবং ধুলো পরিষ্কার করে সেই জল দিয়ে শিবলিঙ্গটিকে পরিষ্কার করলেন। এরপর পরের দিন সকালে নিজের গৃহে ফিরে তিনি তার ক্ষুধা ও তৃষ্ণা নিবারণ করলেন। সেই রাতটি ছিল শিবরাত্রির পুণ্য তিথি। সেইদিন সেই রাত্রি জাগরণের ফলে তার মনোবাঞ্ছা পূরণ হয়।তার মৃত্যুর পর তাকে যমলোকে নিয়ে যাওয়ার জন্য যমদূত উপস্থিত হন। তারা তাকে বেঁধে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয় তখন মহাদেবের দূত তাদের সাথে লড়াই করে তাকে সেই বাঁধন থেকে মুক্ত করে ও স্বর্গলোকে মহাদেবের আশীর্বাদ ধন্য হয়ে তিনি প্রবেশ করেন|এসবই সম্ভব হয়েছিল সেই শিব রাত্রি পালনের পুন্য ফলে|আপনারাও চাইলে শিব চতুর্দশী তিথিকে কাজে লাগাতে পারেন শাস্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার বা মনোস্কামনা পূরণের জন্য|ফিরে আসবো পরের পর্বে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিবচতুর্দশী – শিব ও কামদেব

দেবাদিদেব মহাদেবের ক্রোধের সম্মুখীন হয়ে একাধিক অসুর ও দৈত্য যেমন পরাজিত ও নিহত হয়েছে তেমনই দেবতারাও রক্ষা পাননি মহাদেবের ক্রোধাগ্নি থেকে|আজকের পর্বে বলবো কিকরে প্রেমের দেবতা কামদেব মহাদেবের কাছে স্বাস্তি পেয়েছিলেন সেই গল্প|বিভিন্ন পুরান ও ধর্ম গ্রন্থ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে দুরকম ভাবে এই ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা যায়|কিছু শাস্ত্রে উল্লেখ আছে দেবী পার্বতী শিবকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তপস্যায় মগ্ন শিব তার দিকে মনোযোগ দেননি।পার্বতীর এই প্রচেষ্টা দেখে প্রেমের দেবতা কামদেব এগিয়ে এসে শিবের দিকে ফুলের তীর নিক্ষেপ করেন,যাকে শাস্ত্রে মদন বান বলে উল্লেখ করা হয়েছে এই বানের আঘাতের ফলে শিবের তপস্যা ভেঙে যায়। তপস্যা ভঙ্গের কারণে শিব ক্রুদ্ধ হন এবং তিনি তার তৃতীয় চোখ দিয়ে কামদেবকে ক্রোধের আগুনে ভস্মীভূত করেন।তারপর কামদেবের স্ত্রী রতি ভগবান শিবকে পুজো করে সন্তুষ্ট করে বলেছিলেন, কামদেব নির্দোষ, বরং তিনি কেবল মা পার্বতীকে সাহায্য করেছিলেন। দেবাদিদেব এই প্রার্থনায় কিছুটা অনুতপ্ত হন এবং কামদেবকে পরের জন্মে শ্রী কৃষ্ণের পুত্র প্রদ্যুম্ন রূপে জন্মগ্রহণ করার বর দেন।শাস্ত্র মতে হোলি উৎসবের সাথে এই ঘটনার সম্পর্ক আছে ভগবান শিবের তপস্যা ভঙ্গের আনন্দে সমস্ত দেবতারা রং দিয়ে উদযাপন করেছিলেন যার পর থেকে হোলি শুরু হয়| দ্বিতীয় আরেকটা ব্যাখ্যা আছে যেখানে বলা হয় তারকাসুর নাম এক দৈত্য ব্রহ্মার বরে কেবল শিবপুত্রের হাতে নিহত হবার বরদান পেয়েছিলো। কিন্তু তখন ভগবান শিব ও মাতা পার্বতীর বিবাহ হয় নি। দেবী পার্বতী রোজ আসতেন হিমালয়ের দুর্গম এলাকায় ভগবান শিবের সাধনা স্থলে শিবপূজো করতে। কিন্তু ভগবান শিব মাতা পার্বতীকে চেয়েও দেখেন না। দেবতাদের মধ্যে চিন্তা জাগল এখন কিভাবে শিব পার্বতীর মধ্যে বিবাহ হবে এবং তাদের পুত্রের জন্ম হবে যার হাতে তারকাসুরের বধ হবে। দেবতাদের পরামর্শে ভগবান শিবের হৃদয় পরিবর্তনের ভার পড়লো কামদেবর উপরে|যথা সময়ে মদন দেব সস্ত্রীক ঋতুরাজ বসন্তকে সঙ্গে নিয়ে|ঋতুরাজ বসন্ত হিমালয়ে তুষারাবৃত স্থানে সৃষ্টি করলেন বসন্তের অনুপম প্রকৃতি । মদন ও রতিদেবী ধরলেন মিলনের নৃত্যগীত। একে একে মদনদেব পুষ্পধনু থেকে পঞ্চবাণ নিক্ষেপ করলেন। ধ্যান ভঙ্গ হলো মাহাদেবের এবং রেগে গিয়ে তিনি কামদেব কে তার তৃতীয় নয়ন দিয়ে ভস্ম করে দিলেন|পরবর্তী পর্ব অবশ্য সব জায়গায় একই রতিদেবী ভগবান শিবের কাছে কাতর অনুনয় বিনয় করেন। মহাদেবের আশীর্বাদে দ্বাপর যুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পুত্র রূপে জন্মে কামদেব নিজ শরীর ফিরে পেয়েছিলেন।ফিরে আসবো পরের পর্বে শিবের মহিমা ব্যাখ্যা করবো নানা পৌরাণিক ঘটনার মধ্যে দিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব চতুর্দশী বিশেষ পর্ব – মহাদেবের কুমির রূপ

দেবাদিদেবের বহু লীলার মধ্যে আজ একটি অদ্ভুত লীলা প্রসঙ্গে আপনাদের বলবো, কথিত আছে একবার ধ্যানমগ্ন পার্বতীর মধ্যে কতোটা দয়া এবং মায়া বর্তমান আছে তার পরীক্ষা নিয়েছিলেন স্বয়ং মহাদেব এবং তিনি এই এই পরীক্ষা নিতে কুমিরের রূপ ধরে ছিলেন|আজ জানাবো মহাদেবের এই বিশেষ লীলার কথা|একবার দেবী পার্বতী যে পর্বতে বসে নিজের সাধনা করতেন তার পাশেই একটি শিশু জলাশযয়ে নেমে জলের মধ্যে খেলা করছিল। হটাৎ একটি বিশাল আকৃতির কুমির শিশুটির পা কামড়ে ধরে এবং শিশুটি তার ফলে খুব কাঁদতে শুরু করে।দেবী পার্বতী ওই ছোট্ট শিশুটির ক্রন্দনরত অবস্থা দেখে ধ্যান থেকে বিরত হন এবং তিনি এগিয়ে এসে বাচ্চাটিকে ছেড়ে দেয়ার জন্য কুমিরটির কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ করতে থাকেন।কাতর হয়ে কাঁদতে কাঁদতে শিশুটিও দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন যে তাকে যেন সে কুমিরের হাত থেকে তিনি রক্ষা করেন।দেবীর কথা শুনে কুমিরটি দেবীকে বলে একটিমাত্র শর্তে সে বাচ্চাটিকে ছাড়তে পারে। দেবী হাজার হাজার বছর ধরে তপস্যা করে যে শক্তি ও ফল সঞ্চয় করেছেন সেটি সম্পূর্ণ কুমিরটিকে দিয়ে দিতে হবে। দেবী সেটা শুনে রাজি হয়ে যান এবং বলেন আমি আমার সমস্ত তপস্যার ফল তোমাকে দিতে রাজি আছি শুধু তুমি এই বাচ্চাটিকে মুক্তি দাও এই কথা বলেই দেবি নিজের সমস্ত তপস্যার ফল কুমিরটিকে দিয়ে দেন। এবং বাচ্চাটি কে কুমিরের কবল থেকে মুক্ত করেন।কুমিরটি দেবীর এই রুপ আচরণের কারন জিগেস করলে দেবী জানান তিনি পুনরায় আবার তপস্যা মগ্ন হয়ে পুণ্যফল অর্জন করতে পারবেন বাচ্চাটির প্রাণ গেলে সে তার প্রাণ কখনই ফেরত পাবে না।দেবী পার্বতীর কথা শেষ হতেই কুমির এবং বাচ্চাটি সেখান থেকে উধাও হয়ে যায়| দেবী কিছুটা অবাক হন এবং সেই স্থান ত্যাগ করে পাহাড়ের উপরে আবার নিজের ধ্যান শুরু করার জন্য এগোতে থাকেন।সেই সময়ে দেবীর সামনে স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেব উপস্থিত হন।দেবী পার্বতী স্বামীকে সামনে পেয়ে কিছুক্ষন আগে ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনা বিস্তারিত ভাবে বোলেন বললেন এবং সব শুনে মহাদেব হেসে জানানযে হে দেবী কুমির ও ছেলেটি রূপে সবটাই আমি ছিলাম।তার এই অদ্ভুত লীলার কারন জিগেস করলে তিনি বলেন তিনি কুমির রূপে দেবীকে পরীক্ষা করতে এসেছিলেন। দেবীর শরীরে কতটা দয়ামায়া আছে সেটা উপলব্ধি করে তিনি আনন্দিত ও গর্বিত|চলবে এই শিব সংক্রান্ত ধারাবাহিক আলোচনা|ফিরে আসবো আগামী পর্বে এমন আরো অনেক পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব চতুর্দশী – ত্রিপুরাসুর বধ

শিব পুরানের দশম অধ্যায়ে মহাদেব কতৃক ত্রিপুরাসুর ও তাদের ত্রিপুর ধ্বংসের উল্লেখ আছে, আজকের পর্বে সেই কথা আপনাদের বলবো, তারকাসুরের তিন পুত্র – তারকাক্ষ, কমলাক্ষ ও বিদ্যুন্মালী, তারা এক সঙ্গে ত্রিপুরাসুর বলে পরিচিত।

তিন অসুর তিনটি বিশাল ও রহস্যময় নগরীতে বাস করতেন, যাদের একটি স্বর্ণের, একটি রৌপ্যের ও একটি লৌহের। প্রথমটি থাকতো স্বর্গে, দ্বিতীয়টি অন্তরীক্ষে আর তৃতীয়টি পৃথিবীতে। তিন নগরীতে সমস্ত প্রকারের অভিষ্ট বস্তু ছিল।একত্রে এই তিন নগরীর অধিপতি অসুর ত্রয়ীই হলো ত্রিপুরাসুর|

ব্রহ্মার বরে দেব দানব যক্ষ রাক্ষস কেউই এঁদের বধ করতে পারতেন না। অস্ত্রশস্ত্র বা ব্রহ্মশাপেও এই পুরীগুলির কোনও ক্ষতি করা যেত না। শুধু সহস্র বছর বিচরণ করার পর এই তিনটি পুরি যখন এক হয়ে যাবে তখন যে দেবশ্রেষ্ঠ এক বাণে এই ত্রিপুর ভেদ করতে পারবেন, তিনিই ত্রিপাসুরদের বধ করবেন এই ছিল ব্রহ্মার বর।

এই বর পাবার পর দেবগণ কর্তৃক পূর্বে পরাজিত অসংখ্য অসুর এই তিন পুরীতে আশ্রয় নিতে শুরু করল। আর এই তিন অসুর তাদের রাজা হয়ে ইচ্ছানুসারে বিচরণ করে সকলকে নানা ভাবে অত্যাচার করতে লাগলো। তখন ব্রহ্মার উপদেশে তিন পুর একত্র হবার আগে দেবতারা মহাদেবকে ত্রিপুরাসুর বধ করতে অনুরোধ করলেন এবং তাঁদের অর্ধ তেজ দেবাদিদেব কে দিলেন।

সেই তেজে মহাদেব আরও বলিয়ান হলেন। তারপর সেই তিন পুর একত্র হতেই, মহাদেব বিশ্বকর্মার তৈরী সোনার রথে চড়ে বিখ্যাত পাশুপত অস্ত্র নিক্ষেপ করে ত্রিপুরাসুরকে বধ করেন ও তাদের ত্রিপুর ধবংস করলেন|

পুরাণ মতে, কার্তিক পূর্ণিমার দিনে ত্রিপুরাসুর নামক দৈত্যের বধ করেন শিব। এর পরই শিবকে ত্রিপুরারী নামে ভূষিত করেন বিষ্ণু।

ফিরে আসবো আগামী পর্বে এমন আরো অনেক পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে|চলবে এই শিব সংক্রান্ত ধারাবাহিক আলোচনা|পড়তে থাকুন|যারা আসন্ন শিব রাত্রি যুক্ত অমাবস্যায় গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে চান তারা অগ্রিম যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব চতুর্দশী বিশেষ পর্ব – কৈলাশ পর্বতের কথা

শিব চতুর্দশী উপলক্ষে বিশেষ এই ধরাবাহিক আলোচনার আজকের এই পর্বে লিখবো দেবাদিদেব মহাদেবের বাসস্থান কৈলাশ পর্বত ও তার সাথে জড়িয়ে থাকা কিছু রহস্য নিয়ে|শাস্ত্রে কৈলাস পর্বতকে শিবের ‘লীলাধাম’ বলা হয়েছে কারন শিব এবং তার সহধর্মিনী দুর্গা ও কার্তিক গণেশ সহ শিবের সকল অনুসারী ভক্তরা কৈলাসে বাস করেন|তিব্বত মালভূমি থেকে ২২,০০০ ফুট ওপরে অবস্থিত কৈলাস হিন্দু সম্প্রদায় ছাড়াও বৌদ্ধদের কাছেও অত্যন্ত পবিত্র ধর্মীয় স্থান|কৈলাস পর্বতকেই পৃথিবীর কেন্দ্র বলা হয়ে থাকে। অনেকে বলে থাকেন কৈলাস পর্বত থেকে ফেরার পরে হঠাত্‍ করে চুল ও নখ বেশ কিছুটা বড় হয়ে যায়। আবার কথিত আছে, একবার কয়েকজন সাইবেরিয়ান পর্বতারোহী কৈলাস পর্বতের নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন। সঙ্গে সঙ্গেই তাদের বয়স কয়েক দশক বেড়ে যায় এবং এর এক বছর পরেই বয়সজনিত কারণে মৃত্যু হয় তাঁদের|এসবই অবশ্য প্রচলিত জনশ্রুতি বা কিংবদন্তী|মনে করা হয় কৈলাস পর্বতে যেহেতু ভগবানের বাস তাই সেখানে যাওয়া নিষিদ্ধ। প্রতি বছর বহু মানুষ মানস সরোবর যাত্রা করেন। তবে কৈলাস পর্বতের শৃঙ্গে এখনও পর্যন্ত কেউ উঠতে পারেননি। একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টের পর যাওয়া সেখানে নিষিদ্ধ। ঠিক পিরামিডের আকারের এই পাহাড়ে অনেক প্রাচীন গুম্ফা ও গুহা রয়েছে। যেখানে দেখা মিলতে পারে বৌদ্ধ ও হিন্দু সন্ন্যাসীদের। এই সন্ন্যাসীরা লোকচক্ষুর আড়ালে বহু বছর ধরে তপস্যা করে চলেছেন।তিব্বতি লোককথা অনুযায়ী, মিলারেপা নামে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী একবার কৈলাস পর্বতের শীর্ষের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি সবাইকে সাবধান করে দেন যে ঈশ্বরের বাসস্থানে না যাওয়াই ভালো। মানস সরবোর ছাড়াও কৈলাস পর্বতের নীচে রয়েছে আরও একটি অপরূপ সুন্দর হৃদ রাক্ষস তাল। ১৪,৯৫০ ফুট ওপরে অবস্থিত মানস সরোবর বিশ্বের উচ্চতম মিষ্টি জলের হৃদ। আরও একটি আশ্চর্যের বিষয় যত জোরেই হাওয়া থাকুক, মানস সরোবরের জল সবসময়ই শান্ত কিন্তু রাক্ষসতালের জল সব সময় অশান্ত থাকে। বিখ্যাত এক রাশিয়ান চিত্রকার বহুকাল এই অঞ্চলে কাটিয়ে তার অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করেছিলেন, তার কথায় কৈলাসের আসেপাশে শাম্বালা নামের একটি রহস্যময় রাজ্য আছে। সেখানে শুধু উচ্চ কোটির তপস্যিরা বসবাস করেন|বেশ কিছু বছর আগে আরো একটি রাশিয়ান অভিযাত্রী দল কৈলাশ অভিযানে গেছিলো তারা ফিরে এসে জানায় যে কৈলাশ সম্ভবত একটি বড় পিরামিড যাকে অনেক ছোট ছোট পিরামিড ঘিরে আছে আর সেখানে বহু অলৌকিক ঘটনা ঘটে।সেই অভিযাত্রী দলের নেতা এর্নেস্ট নিজের ডাইরি তে লিখেছিলেন যে রাতের নিশ্তব্দতায় পাহাড়ের ভিতর থেকে একটি আজব ফিসফিস এর শব্দ আসে। বহু বার এমন অভিযান হয়েছে এবং সবাই স্বীকার করেছেন যে কৈলাস পর্বতের চারিদিকে একটি অপার্থিব এবং অলৌকিক শক্তির স্রোত বয়ে চলে|যেখানে বাস করেন স্বয়ং মহাদেব সেই স্থান ঘিরে রহস্য ও অলৌকিক ঘটনাবলী থাকবে সেটাই স্বাভাবিক|ফিরে আসবো আগামী পর্বে এমন আরো অনেক অলৌকিক ও রহস্যময় বিষয় নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব পুরান – ব্যাধ ও শিব চতুর্দশী ব্রত

আজ আপনাদের দেবাদিদেব মহাদেবের এক অদ্ভুত লীলার কথা বলবো যেখানে প্রধান চরিত্র একজন ব্যাধ|

শিবপুরানের অষ্টম পরিচ্ছেদ অনুসারে, বহুকাল আগে বারাণসী তথা কাশীধামে এক নিষ্ঠুর ব্যাধ বাস করত। সে দিনরাত শুধু জীবহত্যা করে বেড়াত। একদিন ব্যাধ শিকার করতে গিয়ে অনেক পশু পাখি শিকার করে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই সে বাড়ির দিকে রওনা হয়। কিন্তু কিছুদূর যেতেই পথে রাত্রি হয়ে যায়। হিংস্র জন্তুর ভয়ে এক গাছের উপর আশ্রয় নেয় রাত কাটানোর জন্য|

সেদিন ছিল শিবচতুর্দশী অর্থাৎ মহাশিবরাত্রি। আর ব্যাধও ছিল উপবাসী। যে গাছে ব্যাধ আশ্রয় নিয়েছিল সেই গাছটি ছিল বেলগাছ। আর সেই গাছের নিচে ছিল একটি শিবলিঙ্গ।ব্যাধের হাত লেগে শিশির জলে ভেজা কয়েকটি বেলপাতা খসে পড়ে ঐ শিবলিঙ্গের মাথার উপর। তার ফেলা বেলপাতাগুলো শিবলিঙ্গের মাথায় পড়ে এর ফলে তার অজান্তেই শিবচতুর্দশী ব্রতের ফল লাভ হয়, পরদিন ব্যাধ সকালে বাড়ি ফিরে আসে। সে রাতে বাড়ি না ফেরায় সবাই তার জন্য ভাবছিল। ব্যাধ ফিরে আসতে তাকে তার বৌ খেতে দিল। এমন সময় একজন অতিথি বাড়িতে এলো। ব্যাধ কি ভেবে তার নিজের খাবারগুলি অতিথিকে দিল। এতে তার ব্রতের পারণ ফল লাভ হলো।

কিছুদিন পরে সেই ব্যাধ মারা গেলে। যমদূতরা তাকে নিতে আসে কিন্তু শিব রাত্রি পালনের পুন্য রয়েছে ওই ব্যাধের তাই সেখানে পৌঁছয় শিবের দূতেরা। কে ব্যাধকে নিয়ে যাবে তাই নিয়ে দুই দলে যুদ্ধ বেধে যায়। যমদূতেরা যুদ্ধে হেরে গেলে শিবদূতরা ব্যাধকে কৈলাসে নিয়ে যায়। যুদ্ধে হেরে গিয়েও যমদূতেরা তার পিছনে পিছনে সেখানে ধাওয়া করে।

কৈলাসের দ্বারে নন্দী পাহারায় ছিল। সে ব্যাধের শিব রাত্রির কথা বললে সব শুনে যমদূতেরা গিয়ে যমকে সব কথা বলে। যমরাজ শুনে বললেন ‘হ্যাঁ, যে শিব বা বিষ্ণুর ভক্ত কিংবা যে শিবচতুর্দশী ব্রত পালন করে আর যে বারানসী ধামে মরে, তার উপর যমের কোনো অধিকার থাকে না। তার মুক্তিলাভ ঘটে। এইভাবে মর্ত্যলোকে শিবচতুর্দশী ব্রতের প্রচার ঘটে।’

এই গল্প থেকে আমরা জানতে পারি কতো অল্পেই মহাদেব তুষ্ট হন|এমনকি অজান্তেও তার ব্রত পালন করলে পূর্ণ ফল পাওয়া যায়|

ফিরে আসবো পরের পর্বে|শিব পুরান নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব পুরান – শিব সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

শিব সংক্রান্ত কিছু অজানা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আজকের পর্বে আপনাদের জানাবো|এই তথ্য গুলি শিব পুরান সহ একাধিক শাস্ত্রে নানা ভাবে উল্লেখিত হয়েছে|শিবলিঙ্গে জল ঢালার পর যে গোল চাকতির উপর দিয়ে জল বেরিয়ে যায় সেটি আসলে পার্বতীর পিঠ। পুরাণ অনুযায়ী, জ্ঞাণের বিকাশ হয় শক্তির পিঠের উপর। আর শক্তির উত্‍স আসলে পার্বতী-দুর্গা বা নারী। নারী শক্তির উপর ভিত্তি করেই জ্ঞান বিকশিত হয়।তাই শক্তির আধার ওই স্থান যার উপর বিরাজ করেন অনন্ত শক্তির উৎস মহাদেব|শিব লিঙ্গের স্বরূপ নিয়েও অনেক ভুল ভ্রান্তি আছে, লিঙ্গে জল ঢেলে এসেছেন মানে অনেকে ভাবেন শিবের মাথায় জল ঢেলে এসেছেন। আসলে তা ঠিক নয়। ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ হল ‘বাস’ মানে, বাসস্থান। অর্থাত্‍ শিবঠাকুর যেখানে বাস করেন বা বিরাজ করেন, সেটাই আসলে ‘শিবলিঙ্গ’! ত্রিদেবের অন্যতম মহেশ্বর শুধু সংহার কর্তা নয় আসলে শিব ঠাকুর, জ্ঞাণের দেবতা। সরস্বতীকে পুজো করলে বিদ্যা-বুদ্ধি পাবেন। কিন্তু জ্ঞাণী হতে গেলে আপনাকে শিবের উপাসক হতে হবে। শিবের মতো স্বামীর প্রার্থনা করলেন মানে আপনি আসলে নিজের জন্য জ্ঞাণী স্বামী চাইছেন।নৃত্য শিল্পের সঙ্গে শিবের গভীর সম্পর্ক রয়েছে|কথিত আছে নৃত্য ও সঙ্গীত শিবের সৃষ্টি, তিনিই এই নৃত্যকলার প্রবর্তক| শিবের সব থেকে প্ৰিয় দুটি নৃত্যের নাম হল তাণ্ডব ও লাস্য| তাণ্ডব ধ্বংসাত্মক এবং পুরুষালি নৃত্য ও  লাস্য হলো তাণ্ডবের নারীসুলভ বিকল্প যার মধ্যে লুকিয়ে আছে সৃষ্টির আনন্দ| তাণ্ডব ও লাস্য নৃত্য যথাক্রমে ধ্বংস ও সৃষ্টির প্রতীকভবিষ্য পুরানে বলা হচ্ছে যে নাগেরাই প্রথম শিব পূজা শুরু করে এবং নাগ রাজা হিসেবে বাসুকি শিবের তপস্যা করেন ও শিব কে তুষ্ট করে বরদান পান যে তিনি শিবের কণ্ঠে স্থান পাবেন|শিব পুজোয় বেলপাতা অপরিহার্য কারনবেলপাতা মহাদেবের অত্যন্ত পছন্দের।হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী বেল পাতা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। পবিত্র এই পাতা মহাদেবের শ্রীচরণে উত্‍সর্গ করা হয়। বেল পাতাকে দেবাদিদেবের ত্রিনয়নের মতো দেখতে বলেই বেল পাতা দিয়ে মহাদেবের পুজোর রীতি প্রচলিত।এছাড়াও বেলপাতা বিষ ক্রিয়া কমাতে সক্ষম বলে মনে করা হয় তাই যেহেটু সমুদ্র মন্থন থেকে উঠে আসা বিষ পান করেছিলেন মহাদেবে তাই তার উদ্দেশ্যে বেলপাতা অর্পনের রীতি বলে মনে করা হয়|শিবপূজায় কেতকী, চাঁপার ন্যায় কিছু রঙিন ফুল অর্পণ করা নিষিদ্ধ|কারন কেতকী আদি শিব লিঙ্গ অনুসন্ধানকালে ব্রম্ম্হার হয়ে মিথ্যে সাক্ষী দিয়ে ছিলো|চাঁপা ফুল একদা মহাদেবের প্ৰিয় হলেও নারদ একবার চাঁপা ফুল কে ক্রোধ বসত অভিশাপ দিয়ে ছিলেন যে চাঁপা ফুল আর শিব পুজোয় ব্যবহার হবে না|সেই থেকে শিব পুজোয় ব্রাত্য থাকে চাঁপা ফুল|পুরান ও আরো অনেক আধ্যাত্মিক বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলতে থাকবে|ফিরে আসবো পরের পর্বে|পড়তে থাকুন|যেকোনো জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আসতে পারেন চেম্বারে অথবা ফোন করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|