Home Blog

কুবের কথা 

কুবের কথা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ পৌরাণিক আলোচনায় কুবের দেবকে

নিয়ে লিখবো।

 

কুবেরদেব সম্পর্কে রাবনের ভাই,রাবন তাকে চক্রান্ত করে পরাজিত করে তার সোনার লঙ্কা এবং পুস্পক রথ ছিনিয়ে নেন|পরবর্তীতে মহাদেবকে তপস্যায় সন্তুষ্ট করে কুবের দেবতার স্থান পান এবং জগতের সমগ্র ধন সম্পদ তার অধীনে আসে|কুবেরদেব হচ্ছেন দেবতাদের কোষাধক্ষ্য অর্থাৎ বিশ্ব ব্রহ্মান্ডর সমস্ত ধন সম্পদ কুবেরের দখলে থাকে।কুবের দেবের বাসস্থান অলোকাপুরী যা বিশ্বকর্মা নির্মাণ করেন|

 

পুরান অনুসারে কুবের হচ্ছেন ধনরাজ তিনি যক্ষদের রাজা, বামনাকৃতি এবং স্থূল শরীরের অধিকারী।আবার তিনি দিক পাল অর্থাৎ দশটি দিকের অধিপতি এবং নিজে তিনি উত্তর দিকে বিরাজমান তাই বাস্তু শাস্ত্রে উত্তরদিককে ধনস্থান বলে ধরা হয়|আবার কিছু গ্রন্থে কুবেরকে লোকপাল ও বলা হয় কারন তিনি ন্যায় নীতি এবং লোকহিতকর কাজ কর্মের দায়িত্বে আছেন।

 

ভগবান বিষ্ণু যখন শ্রীনিবাস হিসাবে পৃথিবীতে আসেন তখন রাজ কুমারী পদ্মাবতীর সাথে বিবাহের ব্যয় নির্বাহ করার জন্য কুবেরের থেকে অর্থ ধার করেন বিশ্বাস করা হয় যে ভগবান

শ্রীনিবাস যিনি তিরুপতীর বালাজি হিসাবে পরিচিত তিনি ভক্তদের দেওয়া সকল প্রণামী কুবের কে দেন ঋণ পরিশোধ করার জন্য।

তাই ভক্তরাও বালাজি দর্শনে এসে অর্থ দান করে ভগবানের ঋণ মেটাতে সাহায্য করেন|

 

পুরান মতে কুবের অর্থ ও সম্পদের রক্ষা কর্তা তার আশীর্বাদ ছাড়া ধনবান হওয়া বা সম্পদ টিকিয়ে রাখা অসম্ভব|তাই যারা প্রচুর অর্থ এবং সম্পদের মালিক হতে চান তারা কুবেরের আরাধনা করেন।

 

জ্যোতিষ শাস্ত্র এবং বাস্তু শাস্ত্রেও কুবের গুরুত্বপূর্ণ কারন কুবের যন্ত্র, কুবের রত্ন এবং কুবের কবচ বহু প্রাচীন কাল থেকে প্রচলিত প্রতিকার।

 

আবার পরের পর্বে অন্য এক পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আলোচনায় ফিরবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

সমুদ্র মন্থন রহস্য 

সমুদ্র মন্থন রহস্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

পুরানে বর্ণিত নানা অলৌকিক এবং রোমাঞ্চকর ঘটনাগুলির মধ্যে সমুদ্র মন্থন সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তার অনেক কারন আছে। আজকের এই পর্ব সমুদ্র মন্থন এবং সমুদ্র মন্থনে

দেবাদিদেব মহাদেবের ভূমিকা নিয়ে।

 

দেবতাদের শ্রেষ্ঠত্ত্ব প্রদান করতে এবং অসুর দের শক্তি সীমিত করে সৃষ্টি রক্ষা করতে অমৃতের সন্ধানে সমুদ্র মন্থন হয়। তবে শুধু অমৃত নয়

অমৃতের সাথে হলাহল বিষ, লক্ষ্মী, ঐরাবত হাতি, উচ্চৈঃশ্রবা ঘোড়া, পারিজাত বৃক্ষ সহ ১৪টি রত্ন উঠে এসেছিল এই মন্থনে। যেহেতু কুবের ধনসম্পদের দেবতা তাই এই ধন ভান্ডার রক্ষা করার দায়িত্ব তাকে দেয়া হয়।

 

অশুরদের অত্যাচারে যখন দেবলোকের জীবন দুর্বিসহ হয়ে পড়েছিল ঠিক সেই সময়েই অমরত্ব লাভের জন্য যাবতীয় সমুদ্রমন্থন করা হয়েছিল সমুদ্র মন্থনের ফলেই মিলবে অমৃত সেই অমৃত পান করেই লাভ করা যাবে অমরত্ব ৷ সেই মতই শুরু হয়েছিল সমুদ্রমন্থন| সমুদ্র মন্থনের সময়ে একধিক জিনিসপত্র সমুদ্রগর্ভ তেকে বেরতে শুরু করেছিল ৷ হঠাৎ একটি বড় মাটির পাত্রে উঠে এসেছিল কিছু একটা|

 

তাই নিয়েই বেধেছিল গোলযোগ ৷ অবশেষে জানতে পারা গিয়েছিল মাটির পাত্রে উঠে আসা তরল আসলে অমৃত নয় সেটি গরল অর্থাৎ বিষ ৷ সেই বিষ নির্গত না করলে বা রাখলে পাওয়া যাবেনা অমৃত ৷ তবে সেই অমৃত স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল কোথায় রাখা হবে ? সেই বিষ যেখানেই রাখা হবে থাকবে না প্রাণের স্পন্দন ৷

 

ত্রিলোকজুড়ে যখন এসেছিল এমন সমস্যা স্বয়ং এগিয়ে এসেছিলেন ভগবান শিব ৷ তাঁর কণ্ঠে ধারণ করেছিলেন জগতের বিষ ৷ বেঁচেছিল ত্রিলোক ৷ মহাদেব কণ্ঠে বিষ ধারণ করাতেই তাঁর কণ্ঠের রং হয়েছিল নীল ৷ শিবের গলার রঙ নীল বলেও তাঁকে নীলকণ্ঠ বলা হয়ে থাকে ৷সেই সময় দেবী পার্বতী তাঁর স্তন দুগ্ধ পান করিয়ে দেবাদিদেবের সমস্ত জ্বালা নিবারণ করেছিলেন। এই ভাবেই সৃষ্টির রক্ষা করেছিলেন মহাদেব, তাই তাঁকে ‘সৃষ্টির রক্ষাকর্তা’ বলা হয়।

 

আর কিছুদিন পরেই অক্ষয় তৃতীয়া।

বিশ্বাস করা হয় যে অক্ষয় তৃতীয়ার দিনই সমুদ্র মন্থন থেকে দেবী লক্ষ্মী আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাই অক্ষয় তৃতীয়া যেকোনো শুভ কাজের জন্য আদর্শ তিথি।

 

আজকের পৌরাণিক আলোচনা এখানেই

শেষ করছি|দেখা হবে আগামী পর্বে। থাকবে অন্য পৌরাণিক বিষয়।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জ্যোতিষ শাস্ত্র ও অমাবস্যা

জ্যোতিষ শাস্ত্র ও অমাবস্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

জ্যোতিষ শাস্ত্রে প্রতিটি তিথি, নক্ষত্র এবং গ্রহের সঞ্চারের আলাদা আলাদা তাৎপর্য আছে। তবে অমাবস্যা এবং পূর্ণিমা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ কৌশিকী, মৌনী, ফল হারিণী এবং দীপান্বিতা অমাবস্যা নিয়ে বেশি আলোচনা হলেও প্রায় সব অমাবস্যাই তাৎপর্য পূর্ণ যেমন এই বৈশাখী অমাবস্যা।

 

অমাবস্যা এবং পূর্ণিমা চন্দ্রকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত হয়। চন্দ্র জ্যোতিষ শাস্ত্রে মনের কারক গ্রহ। মাতৃ কারক গ্রহ। মানসিক শান্তি। উৎসাহ এবং সাফল্য নির্ভর করে চন্দ্রর উপর। এই যে জন্মকালীন নক্ষত্র জ্যোতিষ শাস্ত্রে এতো গুরুত্বপূর্ণ তাও ওই চন্দ্র দ্বারা নির্ধারিত হয়। চন্দ্র যে নক্ষত্রতে অবস্থান করে সেই নক্ষত্রর ফল প্রাপ্ত হয়।

 

শুক্লপক্ষ এবং কৃষ্ণপক্ষ এক মাসের দুটি অংশ রয়েছে। শুক্লপক্ষে চন্দ্রের শিল্পকলা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ চন্দ্র বৃদ্ধি পায়। কৃষ্ণপক্ষের চন্দ্র বক্ররেখা এবং অমাবস্যায় সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়। চাঁদের ষোলটি কলার মধ্যে ষোড়শ শিল্পকে অমা বলা হয়। তাই এই তিথি অমাবস্যা নামে পরিচিত।

 

স্কন্দ পুরানে চন্দ্রর ষোলো কলা এবং অমাবস্যা পূর্ণিমার বিস্তারিত ব্যাখ্যা আছে। আবার কিছু শাস্ত্রে রাহু কেতু দ্বারা চন্দ্রকে গ্রাস করার পৌরাণিক আখ্যান আছে।

 

অমাবস্যা তিথির কর্তা পিতৃদেব তাই অমাবস্যায় পরলোক গত পিতৃগণের শান্তির জন্য তর্পনের নিয়ম আছে।অমাবস্যায় পবিত্র নদীতে স্নান করলে পুণ্যলাভের সম্ভাবনা। এছাড়া যেকোনো তন্ত্রের কাজ এবং শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন এই সময়ে করলে তা অনেক বেশি সফল এবং কার্যকর হয়|শাস্ত্র মতে যেকোনো রকম প্রতিকার ধারণের জন্যে বা তন্ত্র মতে দীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে অমাবস্যাকেই আদৰ্শ তিথি ধরা হয়।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে আরো অনেক এমন শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক বিষয় নিয়ে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা

পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ পয়লা বৈশাখ। সনাতন ধর্মে এই বৈশাখ মাসের বিশেষ আধ্যাত্মিক তাৎপর্য আছে এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রেও বৈশাখ মাস নানা ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেই সব নিয়েই আজকের পর্ব।

সনাতন ধর্মে বৈশাখ মাসকে মাধব মাস বা
মধুসূদন মাস বলা হয়।যার অর্থ ভগবান কৃষ্ণের মাস। এই মাসে ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।অনেকে বৈশাখ মাসে গঙ্গায় অর্ঘ্য দান করলেন এবং গঙ্গা স্নান করলে নানাবিধ সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ হয়।

জ্যোতিষ শাস্ত্রের সাথেও বৈশাখ মাসের সম্পর্ক আছে।“বৈশাখ” শব্দটি এসেছে বিশাখা নামক নক্ষত্রের নাম থেকে। এই মাসে বিশাখা নক্ষত্রটিকে সূর্যের খুব কাছে দেখা যায়।

জমিদারির যুগে পয়লা বৈশাখ মানে ছিলো খাজনা আদায়ের শুরু, নতুন ফসল বেচে কৃষকদের হাতে অর্থ আসতো এবং তারা উৎসবে মেতে উঠতেন
আবার ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করতেন।

ব্যবসা বাণিজ্যর ক্ষেত্রেও পয়লা বৈশাখের ভূমিকা রয়েছে|তখনকার সময় এই দিনের প্রধান ঘটনা ছিল হালখাতা তৈরি করা। হালখাতা বলতে একটি নতুন হিসাব বই বোঝানো হয় । প্রকৃতপক্ষে হালখাতা হল বাংলা সনের প্রথম দিনে
ব্যবসার হিসাব আনুষ্ঠানিক ভাবে লিপিবদ্ধ করার পক্রিয়া। এ থেকে বাঙালির ব্যবসার গৌরবময় অতীত উপলব্ধি করা যায়।

আবার ফিরে আসি শাস্ত্রের কথায়। যেহেতু আজ থেকে মধুসূদন মাস শুরু হচ্ছে তাই পয়লা বৈশাখ থেকে সমগ্র বৈশাখ মাস জুড়ে বিষ্ণুর পুজো করা উচিত। এই সময় সকালে সূর্য প্রণাম করে ” ওম মাধবায় নমঃ “মন্ত্র জপ করুন। শাস্ত্র মতে এই মন্ত্রটি জপ করলে মানুষের জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি আসে। ভগবানের বিশেষ আশীর্বাদ লাভ হয়।

শাস্ত্র মতে সূচনা হোক নতুন বছরের। আজ
সবাইকে জানাই শুভ নববর্ষ।ফিরে আসবো আগামী পর্বে। অন্য আধ্যাত্মিক বিষয়
নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

চড়ক পুজোর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

চড়ক পুজোর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

যে প্রাচীন শাস্ত্র গুলিতে শিব মহিমা বর্ণনা করা হয়েছে যেমন লিঙ্গপুরাণ, শিব পুরাণ এবং ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে চৈত্র মাসে শিবের আরাধনার কথা বলা থাকলেও চড়ক পুজোর উল্লেখ নেই। তবে পাশুপত সম্প্রদায় প্রাচীন কালে এই উৎসব পালন করত।নববর্ষের প্রথম দু-তিন দিন ধরে চড়ক উৎসব চলে এবং শৈব সম্প্রদায়ের এটি একটি প্রধান উৎসবে পরিণত হয়েছে।

 

ঠিক কবে থেকে এবং কী ভাবে চড়ক পুজো শুরু হয় তার সুনির্দিষ্ট ইতিহাস পাওয়া যায় না।

বলা হয়ে থাকে ১৪৮৫ খ্রিস্টাব্দে সুন্দরানন্দ ঠাকুর নামের এক রাজা চড়ক পুজো চালু করেন এবং সেই রীতি মেনে আজও চড়ক পূজো চলছে।

 

আবার কিছু শাস্ত্র বলে দ্বারকাধীশ কৃষ্ণের সঙ্গে একবার মহাদেবের একনিষ্ঠ উপাসক বাণরাজার যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধে জয়লাভ ও অমরত্ব লাভের প্রার্থনায় বাণরাজা নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে শিব পূজো করেন। শিব কৃপা লাভের পর সেদিন ভক্তিমূলক নাচগানও হয় । সেই দিন ছিল চৈত্র সংক্রান্তি। তখন থেকেই এই পুজোর শুরু হয়।

 

একটি অস্থায়ী গাছ কে কেন্দ্র করে চড়ক পূজো অনুষ্ঠিত হয়।চড়কগাছে ভক্ত বা সন্ন্যাসীকে লোহার হুড়কা দিয়ে চাকার সঙ্গে বেঁধে দ্রুতবেগে ঘোরানো হয়। মনে রাখতে হবে চড়ক পুজোর মূলে রয়েছে ভূতপ্রেত ও পুনর্জন্মবাদের প্রতি বিশ্বাস। চড়ক পুজোর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হল দৈহিক যন্ত্রণা। এখানে অনেকটা কঠিন হট যোগের ন্যায় দৈহিক যন্ত্রনা লাভের মধ্যে দিয়ে নিজের আরাধ্য দেবতার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন তার ভক্তরা।

 

অত্যন্ত নিষ্ঠা এবং ভক্তি সহকারে শিব ভক্তরা এই

চড়ক পুজোর আয়োজন করেন।

পুজোর আগের দিন চড়ক গাছটিকে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হয়। এতে জলভরা একটি পাত্রে শিবের প্রতীক শিবলিঙ্গ রাখা হয়, পূজারীরা একে ‘বুড়োশিব’ বলে থাকেন। এছাড়া এই সময় মাটির তৈরী কুমির পুজোর রীতি আছে অনেক স্থানে।

 

এই ছিলো সংক্ষেপে চরক পুজোর ইতিহাস এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। সবাইকে জানাই চড়ক পুজোর শুভেচ্ছা। ফিরে আসবো আগামী

পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

নীল ষষ্ঠীর শুভেচ্ছা

নীল ষষ্ঠীর শুভেচ্ছা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। এই তেরো পার্বণেরই অন্যতম হল নীল ষষ্ঠীর ব্রত।

দুরকম ভাবে এই দিনটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা যায় একটি লৌকিক মতে দ্বিতীয়টি পৌরাণিক মতে।

আগের একটি পর্বে শিবের নীল কণ্ঠ রূপের পৌরাণিক ব্যাখ্যা দিয়েছিলাম আজ নীল ষষ্ঠী ব্রত নিয়ে লিখবো।

 

নীল ষষ্ঠীর ব্রত যারা করেন তারা সারাদিন নির্জলা উপোস রেখে সন্ধের পর শিবলিঙ্গে জল ঢেলে, মহাদেবের পুজো করেন এবং প্রসাদ খেয়ে তবে উপবাস ভঙ্গ করেন। সাধারণত গ্রাম বাংলায় আমাদের মায়েরা এই ব্রত করেন সংসারের ও বিশেষ করে সন্তানের কল্যাণের জন্য।

 

পৌরাণিক ব্যাখ্যার বাইরে যে লৌকিক ব্যাখ্যা আছে নীল ষষ্ঠী নিয়ে সেখানে একটি

ব্রত কথার উল্লেখ পাওয়ার যায়।

এক গ্রামে এক ব্রাহ্মণ ও ব্রাহ্মণী ছিলেন।

তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ। মন দিয়ে ঈশ্বরের আরাধনা করলেও তাঁদের সব ছেলে-মেয়েগুলি একে একে মারা যায়। এই ঘটনায় ঈশ্বরের উপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন ব্রাহ্মণী। তাঁরা দু-জনে ঘরবাড়ি ছেড়ে মনের দুঃখে কাশীবাসী হন। কাশীতে গিয়ে একদিন গঙ্গায় স্নান সেরে মণিকর্ণিকা ঘাটে বসে আছেন, হঠাত্‍ই এক বৃদ্ধা ব্রাহ্মণীকে দেখা দিয়ে একটি উপদেশ দেন। তিনি বলেন – চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন নির্জলা উপবাস রেখে মহাদেবের পুজো করবে। সন্ধেবেলা শিবের ঘরে বাতি দিয়ে তবেই জল খাবে।’ ষষ্ঠীবুড়ির কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে ফের সন্তান লাভ করেন ওই ব্রাহ্মণী।

আসলে ওই বৃদ্ধা ছিলেন মা ষষ্ঠী। এবং সেই

থেকে মর্তে নীল ষষ্ঠীর ব্রত প্রচলিত হয়।

 

আবার নীল কণ্ঠ শিবের আরাধনা হয় এই তিথিতে। নীল পুজোয় শিব লিঙ্গে জলাভিষেক করলে এবং শিব লিঙ্গ প্রদক্ষিণ করলে শিব কৃপা লাভ হয়। সব মনোস্কামনা পূর্ণ হয় বলেও বিশ্বাস।

 

ফিরে আসবো পরের পর্বে। অন্য শাস্ত্রীয় আলোচনা নিয়ে। সবাইকে জানাই নীল পূজোর শুভেচ্ছা।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

চড়ক উৎসবের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

চড়ক উৎসবের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

চৈত্র মাস হল শিব পার্বতীর মাস।এই মাসের অন্যতম বিখ্যাত উৎসব চড়ক উৎসব এবং শিবের গাজন।এই চড়ক এবং গাজনের মাধ্যমে শিব ভক্তরা তাদের আরাধ্য মহাদেব কে এবং দেবী পার্বতীকে স্মরণ করেন।গাজনের শেষ দিনের অনুষ্ঠান চড়ক যা এই উৎসবেরই একটি অঙ্গ।আজকের পর্ব চড়ক এবং গাজন নিয়ে।

 

কেউ বলেন গর্জন থেকে গাজন, কেউ বলেন ‘গাঁয়ের জন’-এর উৎসব থেকে গাজন।প্রকৃত অর্থ যাই হোক দুটি অর্থই বেশ মানানসই।কারন এককালে ঢাকের বাদ্যি, ভোলা মহেশ্বরের নামে সন্ন্যাসীদের গর্জন ও গাজনগীতিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে উঠতো বাঙালি মেতে ওঠে গাজন উৎসবে। বর্তমান সময়ে গ্রামেই গাজন গানের উৎসব পালন হয়।বহু গ্রামাঞ্চলে আজও বৈশাখী আমেজ মানেই গাজন এবং চড়ক উৎসব।

 

বাঙালির নব বর্ষের সূচনা হয় গাজন এবং চড়ক উৎসবের মধ্যে দিয়ে। এই গাজন এবং চড়ক দুটি বেশ প্রাচিন কাল থেকেই বঙ্গদেশে প্রচলিত। শিব পার্বতী ছাড়াও বহু লৌকিক দেব দেবী এই উৎসবে মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে।

 

গ্রাম বাংলার পাশাপাশি এক সময় কলকাতার

বাবু সমাজেও চড়ক বেশ জনপ্রিয় ছিলো।

এককালে কলকাতার বাবুরা ঘটা করে চড়ক উৎসব পালন করতো।বাগবাজারের এই চড়ক ছিল কলকাতার বিখ্যাত ও সর্বপ্রধান চড়ক। চড়ক গাছের সঙ্গে উপর উপর চারটি মাচান বেঁধে তার মাঝখানে এক জন করে মহাদেব সাজিয়ে চার কোণে চার জন করে মোট ষোলো জনকে পিঠ ফুঁড়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হত।

 

এই উৎসবে মুখোশ নাচও হতো কোথাও কোথাও।সন্ন্যাসীদের কঠিন সাধনার মাধ্যমে এই উৎসব পালিত হতো।বিশেষ করে উত্তর বঙ্গে গম্ভীরা রূপে পালন হতো এই উৎসব।

 

পরবর্তীতে শারীরিক নৃশংসতার কারণে কোথাও কোথাও গাজনের কিছু উপাচার নিষিদ্ধ হয়। তবে এই চৈত্র উৎসবে সন্ন্যাসীদের নিষ্ঠা এবং

ভক্তি আজও অটুট আছে । বাংলার প্রায় প্রতিটি শিব মন্দিরে এই সব রীতি নীতি দেখা যায়।

আজও বাংলা জুড়ে গাজন এবং চড়কের মেলা বসে।আনন্দ এবং উৎসাহ আগের মতোই আছে।

 

আসলে শিব এবং পার্বতী বাংলার ঘরের মেয়ে এবং জামাতা রূপে দেখা হয় তাই শাস্ত্র বা পুরানের উর্ধে গিয়ে বাংলায় লৌকিক রূপে শিব পার্বতীর আরাধনার একটি পন্থা এই চড়ক উৎসব।

 

আপনাদের সবাইকে জানাই গাজন এবং

চড়ক উৎসবের আগাম শুভেচ্ছা অন্য রকম

শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে আবার ফিরে আসবো

আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিবের নীল কণ্ঠ রূপ

শিবের নীল কণ্ঠ রূপ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শিবের নানা রূপ। নানা অবতার। একাধিক রূপ নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি শিব সংক্রান্ত ধারাবাহিক পর্ব গুলিতে। আজ শিবের নীল কণ্ঠ রূপ নিয়ে লিখবো।

 

পুরান মতে দেবাদিদেব শিবের অপর নাম নীলকণ্ঠ বা নীল কারন সমুদ্র মন্থণের সময় উঠে আসা বিষ পান করে তার কণ্ঠ নীল বর্ণের হয়ে যায়।যখন অমৃতের সন্ধানে ভয়ঙ্কর হলাহল বিষ উঠে আসে সমুদ্র গর্ভ থেকে তখন সেই বিষের প্রভাবে সমস্ত প্রাণী জগৎ বিপদগ্রস্ত হয়। শিব হলেন সংহার কর্তা। বিপদ এবং অনিষ্ট নাশ করেন তিনি।এবারেও তাঁরই ডাক পরে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে। শিব সমস্ত বিষ পান করেন। বিষের প্রভাবে কণ্ঠ নীল হয়ে যায়।রক্ষা পায় সৃষ্টি। কণ্ঠ নীল হওয়ায় শিবের নাম হয় নীল কণ্ঠ।

 

আবার এই নীল কণ্ঠ রূপের অন্য একটি

ব্যাখ্যাও হয়। বৈষ্ণবদের একাংশ মনে করে যে নীল হলেন নীল মাধব শ্রী কৃষ্ণ স্বয়ং। শিব পরম বৈষ্ণব। পরম হরি ভক্ত। সর্বদা তাঁর কণ্ঠে হরি নাম থাকে। তিনি সর্বদা হরির ধ্যানে মগ্ন থাকেন। তাই নীল বর্ণের কৃষ্ণকে সর্বদা কণ্ঠে ধারণ করার জন্য তিনি নীল কণ্ঠ। অর্থাৎ এই নীল বিষ নয় নীল বর্ণের অর্থ শ্রী কৃষ্ণ স্বয়ং।

 

নীল ষষ্টিতে নীল কণ্ঠ রূপের পূজো হয়।

শাস্ত্র মতে এই তিথিতে শিবের সঙ্গে নীলচণ্ডিকা বা নীলাবতী পরমেশ্বরীর বিয়ে উপলক্ষ্যে লৌকিক আচার-অনুষ্ঠান সংঘটিত হয় । দক্ষযজ্ঞে দেহত্যাগের পর সতী পুনরায় নীলধ্বজ রাজার বিল্ববনে আবির্ভূতা হয়ে ছিলেন ৷ এরপর রাজা তাঁকে নিজের মেয়ের মতো করে বড় করে শিবের সঙ্গে ফের বিয়ে দেন ৷ সেই বিবাহের তিথি উদযাপন করা হয় নীল পূজায়।

 

সবাইকে নীল পুজোর আগাম শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। ফিরে আসবো আরো অনেক শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক বিষয় নিয়ে

আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব – পার্বতীর বিবাহ পর্ব

শিব – পার্বতীর বিবাহ পর্ব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

চৈত্র মাস শিব পার্বতীর মাস।আজকর পর্বে শিব এবং পার্বতীর বিবাহ প্রসঙ্গ নিয়ে লিখবো।

জানাবো দুজনের বিবাহ সংক্রান্ত কিছু

পৌরাণিক তথ্য।

 

একবার তারকাসুর নামক এক শক্তিশালী অসুর জগতের, বিশেষ করে দেবরাজ ইন্দ্রের জন্য এক বড় বিপদ হয়ে দাঁড়ায়।সমগ্র সৃষ্টি তার অত্যাচার ভোগ করতে থাকে।তারকাসুর ব্রহ্মার কাছ থেকে এই বর পেয়েছিল যে, শিবপুত্র ছাড়া সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডে আর কেউ তাকে হত্যা করতে পারবে না! তাকাসুরের অপরাজেয়তার কথা জেনে, শিবের পুত্রের শীঘ্রই আগমন প্রয়োজন হয়ে পরে।

কিন্তু শিব তখন সর্ব ত্যাগী সন্ন্যাসী রূপে সর্বদা ধ্যানে মগ্ন।

 

ব্রহ্মার পরামর্শ অনুসারে, দেবদের একটি বিশাল প্রতিনিধিদল শিবের কাছে যায় এবং পার্বতীর সঙ্গে তার বিবাহের প্রসঙ্গ তোলে। শিব অন্তর্যামী। তিনি জানতেন এই বিবাহ না হলে সৃষ্টি রক্ষা পাবেনা। তাই তিনি বিবাহে সম্মতি দেন।

 

অন্যদিকে পার্বতী মনে প্রাণে শিবকে স্বামী মেনে সর্বদা তাঁর ধ্যানেই মগ্ন থাকতেন। দুজনের বিবাহ ছিলো সময়ের অপেক্ষা।

 

যথা সময়ে বিবাহ স্থির হয় এবং বিবাহের শুভ দিন এসে উপস্থিত হয়।বিয়ের দিন শিব চঞ্চল নর্তকের পোশাক পরে ‘নটরাজ’ ছদ্মবেশে ছিলেন এবং কন্যা পক্ষ তাকে চিনতে না পেরে অবহেলা করে বসে।তখন তিনি ঘোষণা করলেন যে তিনিই শিব।

 

তখন পার্বতীর বাবা-মা দুজনেই শুধু অসন্তুষ্টই হননি, বরং শিবের সাথে তাদের কন্যার বিবাহ দিতেও অস্বীকার করলেন। সপ্ত ঋষিদের আবির্ভূত হয়ে শিবের বিষয়ে তাদের বোঝাতে হয়েছিল।তারপর তারা বিয়েতে মত দেন।

 

যখন বরযাত্রী এসে পৌঁছাল, তখন বাবা-মায়েরা অনুষ্ঠানে আগত প্রত্যেক দেবতাকেই বর বলে ভ্রান্ত ধারণায় ছিলেন। আর যখন ভগবান সত্যিই এলেন, তখন তিনি শিবগণ, ভূত এবং পিশাচদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে, নন্দী নামক বৃষ বাহন-এর উপর ভূতনাথের এক ভয়ঙ্কর রূপে আবির্ভূত হলেন।

এতে উপস্থিত সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

 

ভগবান বিষ্ণুকে হস্তক্ষেপ করে বলতে হয়েছিল যে, তারা যা দেখছে তা শিবের একটি মায়া, যা তাদের মৌলিক বিশ্বাস পরীক্ষা করার জন্য করা হয়েছে।

অবশেষে বিবাহ অনুষ্ঠান আরম্ভ হয়।এতো কিছুর পরেও পার্বতী কিন্তু শিবের প্রতি নিজের বিশ্বাসে অবিচল ছিলেন।

 

শিব পার্বতীর বিবাহ শোভাযাত্রায় ব্রহ্মাণ্ডের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন, ‘সপ্তমাতা’ অর্থাৎ সাতজন মাতা যথা ব্রহ্মী, মহেশ্বরী, কৌমারী, বৈষ্ণবী, বরাহী, ইন্দ্রী এবং চামুণ্ডা। সাথে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, ইন্দ্র, গ্রহপ্রধান ও দেবগণ, সপ্ত ঋষি, ব্রহ্মমানস পুত্র, ঋষিগণ, শিবগণ, পিশাচ, দেবী ভগবতীর বিভিন্ন অবতার, গন্ধর্ব, অপ্সরা,সবাই এসেছিলেন এই দিব্য মুহূর্তের সাক্ষী হতে।

 

আনন্দ ও উল্লাসের মধ্যে দিয়ে বিবাহ সম্পন্ন হয়।যথা সময়ে শিব পার্বতীর পুত্র কার্তিকেয়ের জন্ম এবং তারকাসুরের বিনাশও হয়।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে। শিব সংক্রান্ত ধারাবাহিক আলোচনা চলতে থাকবে নীল ষষ্ঠী পর্যন্ত। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব এবং কুবের

শিব এবং কুবের

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ধন সম্পদের দেবতা কুবের দেব হলেন মহান শিব

ভক্ত শিবের দয়াতেই তিনি ধনরাজ হন।

আজ এই মহান শিব ভক্ত নিয়ে লিখবো।

জানাবো তার জীবনে শিবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

 

কুবের ছিলেন যক্ষের রাজা এবং সম্পর্কে রাবনের ভাই।একবার লঙ্কার রাজা রাবণ ভাই কুবেরকে লঙ্কা থেকে বিতাড়িত করেন এবং পুষ্পক রথ সমেত তার সমস্ত ধন সম্পদ অধিকার করে নেন।তখন কুবেরকে সেখান থেকে মূল ভূখণ্ডে চলে যেতে হয়। নিজের রাজ্য এবং সম্পদ হারানোর হতাশায় কুবের হিমালয়ে গিয়ে ভগবান শিবের তপস্যা শুরু করেন এবং পরম শিব

ভক্ত হয়ে ওঠেন।

 

তার তপস্যায় তুষ্ট হয়ে শিব দয়া করে কুবেরকে তার রাজ্য এবং সমগ্র বিশ্বের ধনসম্পদের অধিকারী করে দেন এইভাবেই কুবের সৃষ্টির সবচেয়ে ধনী দেবতা হয়ে ওঠেন।

 

তবে এতে ধনরাজ হয়ে কুবেরের মধ্যে অহংকার জন্ম নেয় তিনি ভাবতে শুরু করেন তিনিই শিবের সর্বশ্রেষ্ঠ ভক্ত কারণ তিনি শিবের বিশেষ কৃপা লাভ করেন আবার তিনি শিবকে নৈবেদ্য রূপে বিপুল ধন সম্পত্তি দিতে চাইলে ভগবান শিব শুধুমাত্র বিভূতি ছাড়া আর কিছুই স্পর্শ করেননি।

 

ভক্ত রূপে কুবের যখন নিজেকে শ্রেষ্ঠ এবং অসীম ক্ষমতার অধিকারী ভাবতে শুরু করেন তখন শিব তাকে শিক্ষা দিতে কুবেরের প্রাসাদে আমন্ত্রণ রক্ষা করতে গণেশকে পাঠান।সব খাদ্য দ্রব্য শেষ করে গণেশ কুবেরের সমস্ত সঞ্চিত ধনসম্পদ গ্রাস করতে শুরু করেন।যখন প্রায় নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে তখন কুবের মহাদেবের লীলা বুঝতে পারেন এবং নিজের অহংকারের জন্য মহাদেবের কাছে ক্ষমা চেয়ে সে যাত্রায় রক্ষা পান।

 

শিব অল্পেই তুষ্ট হন এবং ভক্তের তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে তার সব মনোস্কামনা পূর্ণ করতে পারেন আবার ভুল করলে তাকে শাস্তি দিয়ে সঠিক পথে ফিরিয়েও আনতে পারেন।

 

যারা আর্থিক সমস্যায় রয়েছেন। তারা কুবেরের কাছে প্রার্থনা করার পাশাপাশি যদি এই নীল ষষ্ঠীর সময়ে শিব পূজো করেন তাতেও ফল পাবেন।কুবের স্বয়ং শিব ভক্ত। শিবের উপাসকদের তিনি বিশেষ কৃপা করেন।

 

ফিরে আসবো চৈত্র মাস উপলক্ষে আরো

এক পর্ব নিয়ে নিয়ে আগামী দিনে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।