Home Blog

শিব অবতার – শরভ অবতার

শিব অবতার – শরভ অবতার

 

পন্ডিত জি ভৃগুর শ্রীজাতক

 

দেবাদিদেব মহাদেবের বিচিত্র এবং উগ্র বা ধ্বংসাত্মক একটি অবতার শরভ অবতার।

একটি বিশেষ উদ্দেশ্য সম্পন্ন করতে এই অবতারের আবির্ভাব হয়।আজকের শিব অবতার পর্বে লিখবো এই শরভ অবতার নিয়ে।

 

নৃসিংহ দেবের হাতে হিরণ্য কশিপুর বধ হলো কিন্তু নৃসিংহদেবের ক্রোধ কম হল না। তিনি ভয়ানক ধ্বংসলীলা চালিয়ে যেতে থাকেন। স্বর্গ মর্ত এবং পাতাল কেঁপে ওঠে তার ক্রোধে।

 

এই সময়ে সব দেবতারা একসাথে শিবের শরণ নেন। তাঁরা বুঝতে পারেন, একমাত্র মহাদেবই পৃথিবীকে রক্ষা করতে পারেন। শিব বীরভদ্র ও ভদ্রকালীকে প্রেরণ করেন নৃসিংহকে থামানোর জন্য। কিন্তু মহাপ্রতাপ নৃসিংহ সেই দুই মহাশক্তিকেও বিপর্যস্ত করে ফেলেন। এমতাবস্থায় মহাদেব নিজেই শরভ নামের এক বিচিত্রদর্শন প্রাণীর রূপ নিয়ে আবির্ভূত হন।

 

শাস্ত্রে উল্লেক্ষিত বর্ণনা অনুযায়ী শরভ এক সুবিশাল পাখি। তাঁর সহস্রবাহু এবং পশুর মতো দেহ|নৃসিংহ ও শরভ অবতারের মধ্যে ভয়ানক যুদ্ধ হয়|শরভের আঘাতে নৃসিংহ আত্মসংবরণ করেন। শরভই শেষ করেন নৃসিংহের লীলা।নৃসিংহ দেবের ক্রোধ থেকে রক্ষা পায় সৃষ্টি |

 

শিব নিজে একজন পরম বৈষ্ণব এবং নৃসিংহ দেব স্বয়ং বিষ্ণু| ভক্তের দ্বারা ভগবানের বধ বা ভক্ত এবং ভগবানের যুদ্ধ সনাতন ধর্ম শাস্ত্রের অতি বিরল ঘটনা|এই যুদ্ধ ও দুর্লভ অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় নৃসিংহ পুরান ও শিব পুরানে।

 

শিব কে বলা হয় সংহারকর্তা। সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে নৃশংহ দেবের ক্রোধ থেকে সৃষ্টি রক্ষা করতে দেবাদিদেব তাকে সংহার করতেই বিকট এবং বিচিত্র শুরভ রূপ নেন।

 

শিবের উনিশটি অবতার আছে। তাই ধারাবাহিক ভাবে চলবে এই পর্বগুলি।

আগামী পর্বে শিবের অন্য একটি অবতারের কথা আপনাদের শোনাবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব কথা – শিব অবতার পিপলাদ

শিব কথা – শিব অবতার পিপলাদ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শিব অবতার গুলির মধ্যে যেমন আছে উগ্র বীর ভদ্র অবতার তেমনই আছেন পরম জ্ঞানী বজরংবলী আবার পিপলাদের ন্যায় শুদ্ধ

ভক্ত রূপেও মহাদেব অবতীর্ণ হয়েছেন। শিবের এই বিশেষ অবতার সম্পর্কে জানবো আজকের পর্বে।

 

শিবের এই অবতারের সাথে জ্যোতিষ শাস্ত্রর বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সে বিষয়ে পরে বলছি আগে পিপলাদ সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য জানাই।

 

ত্যাগের মূর্ত প্রতীক সাধু দধিচি ও তাঁর স্ত্রী স্বর্চার সন্তান পিপলাদ রূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন শিব। শৈশবে পিসি দধিমতির কাছে পালিত হয়েছিলেন তিনি। প্রবল পরাক্রমী ছিলেন পিপলাদ|

 

এই পিপলাদ ও গ্রহ রাজ শনির মধ্যে একবার বিবাদ দেখা দেয়।বড় হয়ে যখন পিপলাদ জানতে পারেন যে তাঁর বাবাকে সমস্যায় ফেলেছিলেন শনিদেব । ক্ষুব্ধ পিপলাদ শনিকে অভিশাপ দিলে স্বর্গ থেকে পতন হয় শনির। দেবতারা এসে পিপলাদের কাছে শনির হয়ে ক্ষমা ভিক্ষা করলে পিপলাদ শনিকে ক্ষমা করে দেন কিন্তু বলেন যে শনির দৃষ্টি যার ওপর পড়বে তিনি শিবের পুজো করলে শনির দশা কেটে যাবে। শনির কুপ্রভাব

দুর হবে।

 

আজও জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে শিবের পুজো করলে ও শিব কৃপা লাভ করলে শনি গ্রহের কু প্রভাব থেকে মুক্তি লাভ হয় বলেই মনে করা হয়।

 

আপনারাও এই আসন্ন চৈত্র মাস কে কাজে লাগিয়ে নিজের গ্রহ গত দোষ খণ্ডন করাতে পারেন।এই সময় শিব কৃপা লাভের উত্তম সময়।

 

ফিরে আসবো পরবর্তী শিব অবতারের কথা

নিয়ে আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

দোল পূর্ণিমার শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন

দোল পূর্ণিমার শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সনাতন ধর্মের অন্যতম পবিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ উৎসব আজকের দোল উৎসব। প্রতিটি ধর্মীয় উৎসবের ন্যায় দোল পূর্ণিমার উৎসও খুঁজে পাওয়া যায় শাস্ত্রে।

 

শাস্ত্র অনুসারে রাজা হিরণ্যকশিপুর পুত্র ছিল প্রহল্লাদ। সে ছিল একজন ধর্মপ্রাণ বালক। বিষ্ণুর শত্রু হিরণ্য কশিপু এই প্রহল্লাদকে আগুনে পুড়িয়ে মারার প্রচেষ্টা করেন। হিরণ্যকশিপুর বোন হোলিকা সেই উদ্দেশে প্রহল্লাদকে নিয়ে আগুনে ঝাঁপ দেন । হোলিকা ভেবেছিলেন, তিনি তাঁর মায়াবী ক্ষমতাবলে বেঁচে যাবেন এবং পুড়ে ছাই হয়ে যাবে প্রহল্লাদ। কিন্তু আদতে দেখা যায় তার উল্টোটাই হয়। বিষ্ণুভক্ত বালকের গায়ে আগুনের এতটুকু আঁচও লাগেনি। অন্যদিকে আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় হোলিকার কন্যার। তারপর থেকেই এই অশুভ শক্তির পরাজয় ও শুভ শক্তির জয়কে উদযাপন করতে পালিত হয় হোলি উৎসব।

 

বাংলায় দোল পূর্ণিমার পরের দিনই সারা দেশ জুড়ে পালিত হয় এই হোলি।ব্যবহারিক প্রয়োগ এক হলেও হোলি এবং দোল আদতে আলাদা আলাদা দুটি উৎসব।শ্রীকৃষ্ণের জন্মভূমি হিসেবে পরিচিত মথুরা ও রাধার জন্মস্থান হিসেবে জগদ্বিখ্যাত বৃন্দাবনে ১৬ দিন ধরে এই দোল উৎসব পালিত হয়। কথিত রয়েছে এই দিনেই রাধিকাকে ‘ফাগে’ মানে গুড়ো রঙ দিয়ে রাঙিয়ে দিয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ এবং এই তিথিতেই শ্রীকৃষ্ণ রাধিকাকে প্রেম নিবেদন করেছিলেন।তাই দোল পূর্ণিমা মূলত রাধা কৃষ্ণের প্রেম উদযাপনের উৎসব।

 

বাংলার ভক্তি আন্দোলনের প্রান পুরুষ

চৈতন্যদেবের সাথেও ও দোল পূর্ণিমার সম্পর্ক আছে কারন এই দোল পূর্ণিমা তিথি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মতিথি।পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ার নবদ্বীপ, মায়াপুর, কৃষ্ণনগরে এই তিথি উপলক্ষে বিশেষ পুজো ও উৎসবের আয়োজন করা হয়।শ্রী চৈতন্যদেবের লীলা ভূমি বাংলার বাইরে ওড়িশাতেও ধুমধাম করে পালিত হয় শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মতিথি।

 

দোল বলুন আর হোলি বলুন দুটোই নিজেকে রাঙিয়ে নেয়ার উৎসব।তারুণ্যর উৎসব|অশুভ শক্তিকে বিদায় জানিয়ে শুভ শক্তিকে স্বাগত জানানোর উৎসব।

 

সবাইকে জানাই দোল পূর্ণিমার শুভেচ্ছ এবং অভিনন্দন। আগামী পর্বে অন্য আধ্যাত্মিক এবং পৌরাণিক বিষয় নিয়ে ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণের মৃত্যু রহস্য 

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণের মৃত্যু রহস্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দোল যাত্রা উপলক্ষে শুরু করেছিলাম কৃষ্ণ কথা। কৃষ্ণের জীবনের নানা লীলা এবং পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেছি ধারাবাহিক ভাবে। আজকের পর্বে জানাবো শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যু সংক্রান্ত সব রহস্যময় তথ্য।

 

সংক্ষেপে বলা যায় যাদব বংশ শেষ হয়ে যাওয়ার পর একটি গাছের তলায় বসে থাকা অবস্থায় তাঁর রক্তবর্ণ চরণ দেখে হরিণ মনে করে তীর ছোঁড়েন এক ব্যাধ সেই তীরের আঘাতেই মৃত্যু হয় শ্রী কৃষ্ণের।তবে এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

কেনো তা জানতে গেলে আরো অনেক কিছু জানতে হবে।

 

একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা অনুসারে মহাভারতের যুদ্ধের পর নিজের রাজ্য দ্বারকায় ফিরে যান কৃষ্ণ। স্ত্রী রুক্মীনি ও পুত্র সাম্বকে নিয়ে কিছুকাল সুখে বাস করেন।একদিন সপ্তঋষি কৃষ্ণ ও বলরামের সঙ্গে দেখা করতে দ্বারকা আসেন। তাঁদের নিয়ে একটু মজা করতে চান কৃষ্ণ-পুত্র সাম্ব ও তাঁর বন্ধুরা। মহিলার মত সাজপোশাক করে এবং পেটে লোহার টুকরো বেঁধে গর্ভবতী মহিলা সেজে সপ্তঋষির সামনে আসেন সাম্ব। ঋষিরা পুরো বিষয়টা ধরে ফেলেন|সপ্তঋষি অভিশাপ দেন যে সাম্বর শরীরে যা বাঁধা আছে, তাই এই যাদব বংশের ধ্বংসের কারণ হবে। ঠিক পরের দিন পেটে প্রচণ্ড ব্যাথায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন সাম্ব। কৃষ্ণ ও বলরাম তাঁকে দেখতে এলে সপ্তঋষির অভিশাপের কথা শোনের। সাম্বর পাশে রাখে লোহার টুকরোটাও দেখেন তাঁরা। ওই লোহার টুকরো গুঁড়ো করে প্রভাস নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। অনেকটা গুঁড়ো হলেও একট টুকরো লোহা থেকে যায়। তা নদীর জলে ভাসিয়ে দিলে সেই লোহার টুকরো একটা মাছ গিলে ফেলে। ওই মাছ আবার ধরা পড়ে স্থানীয় এক মত্‍স্যজীবীর জালে। মাছ কেটে পেটের মধ্যে লোহার টুকরো দেখে তা দিয়ে তীর বানান ওই মত্‍স্যজীবী|এবং ঘটনা চক্রে ওই তীরের আঘাতেই প্রান যায় কৃষ্ণর|সত্যি হয় সপ্তর্ষির অভিশাপ।

 

শ্রী কৃষ্ণ বিশেষ কিছু লীলা সম্পন্ন করতে এসেছিলেন পৃথিবীতে। তার লীলা সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি রাজকীয় প্রস্থান করেন।তার মৃত্যুর পরেও কিছু রহস্য থেকে যায়। যা নিয়ে আবার পরের একটি পর্বে আলোচনা হবে। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – ভক্তের সাথে কৃষ্ণ লীলা 

কৃষ্ণ কথা – ভক্তের সাথে কৃষ্ণ লীলা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বৃন্দাবনে শ্রী কৃষ্ণ একাধিক লীলা করেছেন তার মধ্যে আজও শ্রী কৃষ্ণের একটি বাল্য লীলা সবার মুখে মুখে ফেরে যেখানে শ্রী কৃষ্ণ একজন সাধারণ ফল বিক্রেতা রমণীকে খেলার ছলে তার অলৌকিক শক্তি দেখিয়ে ছিলেন।

 

একদিন শ্রী কৃষ্ণ তার সখাদের সাথে বৃন্দাবনের পথে খেলছিলেন। ঠিক সসময় এক দরিদ্র ফল বিক্রেতা মহিলা এলেন । ক্ষুদার্থ শ্রী কৃষ্ণ ফল

বিক্রেতার কাছে ফল চাইলেন।ফল বিক্রতা বললেন তার ছেলেমেয়েরা তিন দিন থেকে অনাহারে আছি । এই ফল বেচে তাদের জন্য খাবার কিনতে হবে। তাই কিছু অন্নর বিনিময়ে তিনি ফল দিতে পারবেন।এই কথা শুনে শ্রী কৃষ্ণ ঘরে অন্ন অনতে গেলেন।

 

অন্ন নিয়ে আসার সময়ে ছোট কৃষ্ণের হাতের মধ্যে থেকে সব অন্ন পড়ে গেল। তিনি আবার গেলেন অন্ন আনতে কিন্তু এবার ও ব্যার্থ হলেন।এমন করে বেশ কয়েকবার একই ঘটনা ঘটলো বারবারই সব অন্ন নিচে পড়ে যেতে লাগল।

 

এই ঘটনা দেখে ফলবিক্রেতা মহিলার মন গলে গেল ।বলল আমারো দুটো ছেলে আছে তাদের ক্ষিধার জন্য কান্না তিনদিন থেকে দেখছি । তুমিও আমার পুত্র সম। তুমিও ক্ষুদার্থ এই নাও আমার ঝুড়ির সব ফল নাও ।কৃষ্ণ আনন্দে সব ফল গ্রহন করলেন।

 

এদিকে সব ফল দান করে শুন্য ঝুড়ি নিয়ে ঘরে ফিরে আসে ঐ ফল বিক্রেতা মহিলা । তার এক ছেলে সেই ঝুড়ির দিকে এগিয়ে যায় ।ভাবে যদি অন্ন বা অন্য খাদ্য সামগ্রী পাওয়া যায় । কিন্তু গিয়ে দেখে একি সেই ঝুড়ি তো স্বর্নালংকারে ভর্তি ।ফলবিক্রেতা এই লীলা দেখে বুঝতে পারে শ্রী কৃষ্ণ সাধারন মানব না। তিনি অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন দেব শিশু বা হয়তো ভগবান আজ

তাকে কৃপা করেছেন।তার সব কষ্ট দুর হয়েছে।

 

এই ভাবে বার বার শ্রী কৃষ্ণ দেখিয়েছেন যে তিনি ভক্তের ভগবান। যেখানে ভক্ত তার উপর ভরসা করেন তাঁকে আপন করে নেন সেখানেই তিনি নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেন ভক্তের জন্য।

 

শ্রী কৃষ্ণ কথা পরবর্তী পর্ব নিয়ে আবার ফিরে আসবো যথা সময়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণের গোলোক ধাম

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

মর্ত লোকে মথুরা, বৃন্দাবন এবং দ্বারকা যেমন শ্রী কৃষ্ণের লীলা স্থল তেমনই অতীন্দ্রীয় জগতে শ্রী কৃষ্ণের আবাস স্থল হলো গোলোক।

 

শাস্ত্র মতে গোলক ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং রাধার নিত্যধাম যা মূলত প্রেমের স্থান, ভক্তির স্থান এখানে কৃষ্ণ তার গোপ-গোপী এবং সখাদের সঙ্গে নিত্য লীলা করেন।

 

স্কন্দপুরাণ এবং মার্কণ্ডেয় পুরাণেও গোলোকের উল্লেখ পাওয়া যায়। শাস্ত্রে বৈকুণ্ঠ ও গোলোক উভয়কেই নিত্য ধাম এবং কৃষ্ণ তাঁর দ্বি-ভুজ রূপে চিরকাল গোলোকধাম ও তাঁর চতুর্ভুজ বিষ্ণু রূপে তিনি নিত্যকাল বৈকুণ্ঠ লোকে বাস করেন

 

অনেকে মনে করেন বৃন্দাবন আসলে সেই দিব্য গোলক ধামেরই অংশ এবং মায়া বলে জাগতিক রূপে বিরাজমান আসলে তা অলৌকিক ওব অপার্থিব।গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শন অনুসারে অবশ্য পৃথিবীর বৃন্দাবন ও গোলোক বৃন্দাবনের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।সবই এক।

 

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরান মতে বৈকুণ্ঠর উপরে গোলক অবস্থিত। আয়তন ৫০ কোটি যোজন। সুবিশাল পর্বত দিয়ে ঘেরা এই দিব্য স্থান শ্রী কৃষ্ণের লীলা স্থল।

 

শ্রী কৃষ্ণ কে নিয়ে আছে অনেক রহস্য। সেই সব নিয়েই ধারাবাহিক কৃষ্ণ কথা। দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে চলতে থাকবে এই উপস্থাপনা। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ ও গিরিরাজ গোবর্ধন

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ ও গিরিরাজ গোবর্ধন

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শ্রীকৃষ্ণের লীলা ভূমি বৃন্দাবনের অন্যতম পবিত্র এবং দর্শনীয় স্থান গুলির মধ্যে একটি গোবর্ধন পর্বত যাকে গিরিরাজ নামেই অভিহিত করা হয়।

 

শ্রী কৃষ্ণের শৈশবের সাথে জড়িয়ে আছে গিরিরাজ গোবর্ধন পর্বতের কথা পুরাণের কাহিনিতে মতে ভালো বৃষ্টি হয়ে যাতে ফলন ভালো হয়, তার জন্য দেবরাজ ইন্দ্রের পুজো করতেন বৃন্দাবনবাসী।কারন গবাদী পশু পালন এবং কৃষি কাজের জন্য জলের উপর নির্ভর করতে হতো।

একবার শ্রীকৃষ্ণের পরামর্শ অনুযায়ী বৃন্দাবনের অধিবাসীরা ইন্দ্রের পুজো না করার সিদ্ধান্ত নেয়। তখন দেবরাজ তিনি প্রচণ্ড রেগে গিয়ে বৃন্দাবনে প্রবল বৃষ্টি নামান।ভারী দুর্যোগ দেখা দেয়।

 

দেবরাজ ইন্দ্রের রোষে বন্যায় গোটা বৃন্দাবন প্রায় ভেসে যায়। কৃষ্ণের কারণেই তাঁদের এই বিপদ বলে অভিযোগ করেন বৃন্দাবনবাসী। তারা কৃষ্ণকে সাহায্য করতে বলেন।তখন তাঁদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেন কিশোর শ্রীকৃষ্ণ। নিজের কনিষ্ঠ আঙুলের ডগায় বৃন্দাবনের গোবর্ধন পর্বত অনায়াসে তুলে ফেলেন শ্রীকৃষ্ণ।

 

প্রবল বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে তার নীচে আশ্রয় নেয় বৃন্দাবনের সকল মানুষ ও গবাদি পশু। টানা সাত দিন শ্রী কৃষ্ণ আঙুলের ডগায় গোবর্ধন পাহাড় তুলে অটল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।তার এই দিব্য লীলা দেখে বৃন্দাবনবাসীরা ধন্য হয়।

 

অবশেষে দেবরাজ ইন্দ্র নিজের ভুল বুঝতে পেরে সেই প্রবল বৃষ্টি বন্ধ করেন।রক্ষা পায় বৃন্দাবন

এই ঘটনায় শ্রী কৃষ্ণের পাশাপাশি বৃন্দাবনবাসী গোবর্ধন পর্বতের কাছেও ঋণী হয়ে পরে। তারা গোবর্ধন পর্বতকে দেবতা জ্ঞানে পুজো করতে শুরু করেন এবং সেই থেকে দীপাবলির পরের দিন গোবর্ধন পুজো শুরু হয়। শুধু তাই নয় বৃন্দাবনে আসা প্রত্যেক পূন্যার্থী গোবর্ধন পরিক্রমা করেন এবং গিরিরাজের বিশেষ আশীর্বাদ লাভ করেন।

 

ফিরে আসবো কৃষ্ণ কথার পরবর্তী

পর্ব নিয়ে যথা সময়ে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ ও দ্রৌপদী

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ ও দ্রৌপদী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শ্রী কৃষ্ণ যুগে যুগে অবতার রূপে পৃথিবীতে এসেছেন এবং নানা রকম লীলা করছেন।

তার সর্বদা ছিলেন তার লীলা সঙ্গিনীরা।

সত্য যুগে যিনি বেদবতী ত্রেতাতে তিনিই সীতা এবং দ্বাপর যুগে তিনিই দ্রৌপদী। তার কৃষ্ণ ভক্তির জন্য তার আরেকনাম কৃষ্ণা।কৃষ্ণ তত্ত্ব বুঝতে হলে দ্রৌপদীর সাথে তার সম্পর্ক এবং লীলা ভালো করে বুঝতে হবে।

 

শ্রী কৃষ্ণ এবং দ্রৌপদীর সম্পর্ককে নানা ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। আসলে পঞ্চপান্ডবের স্ত্রী হয়েও আজীবন তিনি কৃষ্ণ ভক্তে মজে ছিলেন।

 

পাঞ্চালরাজ দ্রুপদের যজ্ঞ বেদী থেকে দ্রৌপদীর আবির্ভাব হয়ে ছিলেন এবং তার স্বয়ংবর সভায় পৌঁছে পঞ্চ পান্ডব তাদের বীরত্ব এবং শ্রী কৃষ্ণের আশীর্বাদের জোরে দ্রৌপদীকে জয় করেন।

 

যখন রাজ সভায় কৌরব কতৃক দ্রৌপদীর

বস্ত্র হরণ হচ্ছিলো তখন স্বয়ং শ্রী কৃষ্ণ তার সন্মান রক্ষা করেন। এখানে উল্লেখ যোগ্য বিষয় হলো যতক্ষণ পর্যন্ত দ্রৌপদী নিজের সন্মান রক্ষার ভার নিজের হাতে রেখেছিলেন ততক্ষন পর্যন্ত শ্রী কৃষ্ণ হস্থক্ষেপ করেননি যেই মুহূর্তে দ্রৌপদী সমস্ত ভার কৃষ্ণের হাতেsঅর্পণ করে নিজেকে তার চরনে সম্পূর্ণ রূপে সমর্পন করলেন তখন শ্রী কৃষ্ণ নিজেই অবতীর্ণ হলেন।অর্থাৎ ভগবান চান ভক্তের সম্পূর্ণ সমর্পন এবং স্মরনাগতি।

 

পরবর্তীতে দ্রৌপদীর ইচ্ছেতেই পান্ডবরা কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে অংশ নেন এবং কৌরবদের পরাজিত করেন। সেখানেও নেতৃত্বে স্বয়ং শ্রী কৃষ্ণ।যুদ্ধে আহত কৃষ্ণের সেবা করায় দ্রৌপদীকে নিজের ভগিনীর বলে ঘোষণা করেন এবং কোনও না কোনও দিন এর প্রতিদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। নিজের সেই প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেন শ্রী কৃষ্ণ।

 

শ্রী কৃষ্ণ শুধু প্রেমের নয়। পবিত্রতার প্রতীক। সহনশীলতা এবং সৌন্দর্যর প্রতীক। তার লীলা বুঝতে হলে তার লীলা সহযোগীদের ও বুঝতে হবে। দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে আপাতত সেই চেষ্টাই করছি।

 

ফিরে আসবো কৃষ্ণ কথার পরবর্তী পর্ব নিয়ে।

যথা সময়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা –শ্রী কৃষ্ণ ও সুদর্শন চক্র

কৃষ্ণ কথা –শ্রী কৃষ্ণ ও সুদর্শন চক্র

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শিবের যেমন ত্রিশূল। ইন্দ্রের যেমন বজ্র তেমনই শ্রী কৃষ্ণের সুদর্শন চক্র। সুদর্শন একাধারে ভগবানের অস্ত্র আবার তার সর্বক্ষণের সঙ্গী এবং একই সাথে ভগবানের চরণ আশ্রিত পরম ভক্তও।আজকের পর্বে আলোচনা করবো শ্রী কৃষ্ণের হাতের সুদর্শন চক্র নিয়ে।

 

সু শব্দের অর্থ মঙ্গল এবং দর্শন মানে দেখা দেয়া অর্থাৎ সুদর্শন হলো মঙ্গলময় দর্শন এবং চক্র মানে যা নিজে থেকে ধাবিত হতে পারে|

সুদর্শনের দুটি সত্ত্বা আছে একটিতে তিনি ভগবানের হাতের অস্ত্র। আবার অন্য দিকে তিনি কৃষ্ণের দেহ রক্ষী এবং তার পরম ভক্ত এবং নিজেও একজন দেবতা স্বরূপ।

 

সুদর্শনচক্র তৈরি করেছিলেন স্বয়ং বিশ্বকর্মা, বৈষ্ণবরা বিশ্বাস করেন সুদর্শন চক্র ও বিষ্ণু এক এবং অভিন্ন|স্বয়ং শিব ভগবান বিষ্ণুকে সুদর্শন চক্র দিয়েছিলেন|সুদর্শন চক্র দানের প্রধান উদ্দেশ্য পালনকর্তা যেনো দৃঢ় হাতে সিস্টের পালন ও দুষ্টের দমন করতে পারেন।

 

সুদর্শন চক্রের সাথে জড়িয়ে আছে বিষ্ণুর আরেক অবতার পরশুরামের নাম , ত্রেতাযুগে সীতার স্বয়ংবর সভায় যখন রাম হরধনু ভঙ্গ করে ফেলেন তখন রুষ্ট হয়ে তাঁকে শাস্তি দিতে মহেন্দ্র পর্বত থেকে সেখানে উপস্থিত হন পরশুরাম।কিন্তু বিষ্ণুর আর এক অবতার রামের আসল প্রকৃতি জানতে পেরে তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করেন তিনি। সেই সময় রাম তাঁকে সুদর্শন চক্রটি গচ্ছিত রাখতে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন যে দ্বাপর যুগে তিনি যখন আবার জন্ম নেবেন, তখন যেন পরশুরাম সেটি ফিরিয়ে দেন। দ্বাপর যুদে শ্রীকৃষ্ণের রূপ ধরে বিষ্ণু ধরাধামে অবতীর্ণ হলে ধর্ম রক্ষা করার জন্য তাঁকে সুদর্শন চক্রটি ফিরিয়ে দেন পরশুরাম।

 

সুদর্শনকে শ্রী কৃষ্ণ যেমন স্নেহ করতেন তেমনই শাসন ও করেন। একবার সুদর্শন যখন নিজের বল এবং পরাক্রমের জন্য অহংকারী হয়ে উঠেছিলেন তখন বিষ্ণু বজরংবলীকে ডেকে পাঠান এবং সুদর্শনকে বলেন দ্বার রক্ষী থাকতে এবং আদেশ দেন কাউকে যেনো তার অমুমতি ছাড়া অন্দর মহলে প্রবেশ করতে না দেয়া হয়। কিন্তু বজরংবলী অবলীলায় সুদর্শনকে পরাস্ত করে তার প্রভুর কাছে চলে যান।সুদর্শনের অহংকার চূর্ণ হয় এবং তিনি আবার নিজের অহং ভুলে কৃষ্ণের সেবায় নিয়োজিত হন।

 

ফিরে আসবো কৃষ্ণ কথা নিয়ে আগামী পর্বে।ভগবানের আরো অনেক লীলা নিয়ে আলোচনা বাকি আছে।যারা আসন্ন দোল পূর্ণিমায় গ্রহের প্রতিকার করাতে চান। নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করতে পারেন।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ এবং খাটু শ্যাম 

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ এবং খাটু শ্যাম

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

এই ঘোর কলিযুগে যে কয়েকটি দেব মন্দির আজও প্রতিনিয়ত অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হয় এবং যে কয়জন দেবতার কাছে করা প্রতিটি মনোস্কামনা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি হয় খাটু শ্যাম তাদের মধ্যে অন্যতম।এই খাটু শ্যাম আসলে ঘটৎকচের পুত্র বারবারিক। শ্রী কৃষ্ণের বরে তিনি আজও পূজিত হচ্ছেন।আজ কৃষ্ণ কথার এই বিশেষ পর্ব বাবা খাটু শ্যামকে উৎসর্গ করলাম।

 

মহাদেব বারবারিককে বর দিয়েছিলেন, তিনি তাঁর ‘তিনটি তীর’ দিয়েই বিশ্বজয় করতে পারবেন। প্রথম তীরটি দিয়ে বারবারিক যা যা ধ্বংস করতে চান সেগুলি চিহ্নিত করতে পারতেন। দ্বিতীয় যে তীর তা দিয়ে বারবারিক যাকে যাকে বাঁচাতে চান তাদেরকে চিহ্নিত করতে পারতেন। আর তৃতীয় তীরটি দিয়ে প্রথম তীর দ্বারা চিহ্নিত সকল বস্তু ধ্বংস করতে পারতেন।

 

এই তিন তীর নিয়েই কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে লড়তে উদ্যোগী হন বারবারিক। তিনি চাইতেন যে পক্ষ হারবে তিনি তার হয়ে যুদ্ধ করবেন। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ অচিরেই বুঝেছিলেন, বারবারিকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ কোনও পক্ষের জন্যই মঙ্গলজনক হবে না। যুদ্ধ চলতে থাকবে।বারবারিক এর জন্য এই যুদ্ধ শেষই হবেনা। আদি অনন্ত কাল ধরে চলবে।তখন শ্রীকৃষ্ণ এক ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশে তাঁর পথ আগলে দাঁড়ান। আর জিজ্ঞেস করেন, বারবারিক কার পক্ষে লড়তে চান।বারবারিক বলেন তিনি পক্ষ বদলে বদলে মায়ের আদেশ মতো দুর্বলের পক্ষে লড়বেন।অর্থাৎ বারবারিক যদি যুদ্ধ করেন তাহলে শেষে তিনিই শুধু বেঁচে থাকবেন। আর কেউ নয়।

 

তাই এরপর কৃষ্ণ ভিক্ষা হিসেবে বারবারিকের মস্তক চান। এবারে বারবারিক বুঝতে পারেন যে এই ব্রাহ্মণ সাধারণ কেউ নন। পরিচয় জানতে চাইলে কৃষ্ণ নিজের রূপ ধারণ করেন। আর তারপর বারবারিক তারপর কৃষ্ণকে নিজের মস্তক কেটে নিবেদন করেন।

 

তবে মস্তক নিবেদন করলেও বারবারিক শর্ত দিয়েছিলেন। তিনি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ দেখতে চান। ফলে শ্রীকৃষ্ণ বারবারিকের মস্তক একটি উঁচু ঢিবির ওপর রাখেন। যাতে বারবারিক অনায়াসে যুদ্ধ দেখতে পান।যুদ্ধ শেষে বারবারিকের মস্তক বলে ওঠে শ্রীকৃষ্ণ পাণ্ডবদের পক্ষে ছিলেন বলেই তাঁরা জিততে পেরেছেন।

 

শ্রীকৃষ্ণ বারবারিককে বর দিয়েছিলেন যে তিনি কলিযুগে খাটুশ্যাম নামে পূজিত হবেন। পাশাপাশি তিনি এও বলেন, “তোমার পুজো আমি আমার নিজের পুজো বলেই গ্রহণ করব।” সেই থেকেই খাটু শ্যামের প্রসিদ্ধি সর্বত্র ছড়িয়ে পরে।

রাজস্থানের সিকারে খাটুশ্যামজির বড় মন্দির রয়েছে।অসংখ্য ভক্তসমাগম হয় এই মন্দিরে।

মনে করা হয় খাটু শ্যাম এর কাছে করা প্রতিটি মনোস্কামনা পূর্ণ হয়।আমি নিজে ব্যক্তিগত ভাবে বাবা খাটু শ্যামের কৃপা পেয়ে ধন্য হয়েছি। আজ যা কিছু করতে পারছি তা খাটু শ্যাম বাবার আশীর্বাদেই সম্ভব হচ্ছে বলে বিশ্বাস করি।

 

প্রণাম জানাই খাটু শ্যামের চরণে।

আবার কৃষ্ণ কথা নিয়ে পরবর্তী পর্বে

ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।