বিশেষ পর্ব – রানী রাসমণির অন্নপূর্ণা মন্দির
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আসন্ন অন্নপূর্ণা পূজা উপলক্ষে আগামী তিন দিন দেবী অন্নপূর্ণার মাহাত্ম এবং বাংলার একটি প্রাচীন এবং বিখ্যাত অন্নপূর্ণা মন্দির নিয়ে লিখবো।
রানী রাসমণি তার দক্ষিনেশ্বর মন্দিরের জন্য বেশি জনপ্রিয় হলেও তার পরিবারে দেবী অন্নপূর্ণার পুজোর প্রচলন ছিলো এবং একটি অন্নপূর্ণা মন্দিরও তারা নির্মাণ করিয়ে ছিলেন।
ব্যারাকপুরের অবস্থিত এই অন্নপূর্ণা মন্দির নির্মিত হয়েছিল দক্ষিণেশ্বরের মন্দির নির্মাণের বেশ কয়েক বছর পরে। মথুরমোহন বিশ্বাসের ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করতেই জগদম্বা তৈরি করেছিলেন এই মন্দির।
এই অন্নপূর্ণা মন্দির নির্মাণের সাথে জড়িত আছে এক অলৌকিক ঘটনা। একবার রানি রাসমণি
তাঁর জামাই মথুরমোহন বিশ্বাস সহ অন্যান্য আত্মীয়স্বজন নিয়ে জল পথে কাশীযাত্রা করেছিলেন। যাত্রা শুরুর দিন রাতেই রানীমা দেবীর স্বপ্নাদেশ পান যে কাশী না গিয়ে গঙ্গার পাড়েই মন্দির প্রতিষ্ঠা করে তাঁর নিত্যপুজোর ব্যবস্থা করা হোক। রানি কাশীযাত্রা স্থগিত করে ফিরে আসেন। নানা কারণে সেবার মন্দির তৈরী হয়নি ।তারমধ্যে তৈরী হয়ে যায় দক্ষিনেশ্বর মন্দির।এদিকে অন্নপূর্ণা-দর্শন না হওয়ায় মথুরমোহনের মনে মনে ইচ্ছে ছিল দেবী অন্নপূর্ণার মন্দির প্রতিষ্ঠা করার। কিন্তু তাঁর জীবদ্দশায় তা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ করেন তাঁর স্ত্রী রানি রাসমণির ছোটো মেয়ে জগদম্বাদেবী। তৈরী হয় তার মায়ের স্বপ্নদেশ পাওয়া অন্নপূর্ণা মন্দির।
এই অন্নপূর্ণা মন্দির টি ন’টি চূড়াবিশিষ্ট নবরত্ন
শৈলীর মাতৃমন্দির, ছ’টি আটচালার শিবমন্দির, দু’টি নহবতখানা, নাটমন্দির, ভোগের ঘর, গঙ্গায় স্নানঘাট ইত্যাদি তৈরি হয়েছিল।অন্নপূর্ণা মন্দিরটি দেখতে অবিকল দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মন্দিরের মতো।মন্দিরের গর্ভগৃহে অধিষ্ঠিত শিব ও অন্নপূর্ণার বিগ্রহ অষ্টধাতুর। মাতৃমূর্তি দক্ষিণমুখী।পাশে ভিক্ষা পাত্র হাতে শিব।যেমন টা শাস্ত্রে বর্ণিত আছে তেমনই।
অন্নপূর্ণা মন্দিরের তোরণদ্বারের ওপর স্থাপিত রয়েছে এক সিংহমূর্তি। যা নিয়ে সেকালে ব্রিটিশরা আপত্তি করে ছিলো কারণ ব্রিটিশদের দাবি ছিল, সিংহ তাদের রাজশক্তির প্রতীক। বিবাদ গড়ায় আদালত পর্যন্ত। তবে আইনি লড়াইয়ে জয় হয়েছিল রাসমণির পরিবারের। হার মানে ইংরেজরা।
ব্যারাকপুরে অন্নপূর্ণা মন্দির প্রাঙ্গণে রয়েছে ছ’টি শিবমন্দির।মন্দিরের পাশেই বাঁধানো গঙ্গার ঘাট আছে যা রানি রাসমণি ঘাট নামে পরিচিত।
শোনা যায় এই ঘাটে ঠাকুর স্বয়ং শ্রীরামকৃষ্ণ
স্নান করেছিলেন।
দেবী অন্নপূর্ণাকে নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলতে থাকবে। ফিরে আসবো
আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।