শুভ পঁচিশে বৈশাখ
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আজ বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথের জন্ম দিন। আজ আমরা সাধারণত গঙ্গা জলে গঙ্গা পূজো করার মতো তাঁর সৃষ্টি দিয়েই তাঁকে স্মরণ করে থাকি।
তবে আজ একটু আলাদা ভাবে তাঁকে দেখার চেষ্টা করবো।তার মানবিক দিক গুলি যেমন রস বোধ, খাওয়া দাওয়া, প্রকৃতি প্রেম, আধ্যাত্মিকতা, দেশ প্রেম নিয়ে একটু লেখার চেষ্টা করছি।অসাধারণ রসিক মানুষ ছিলেন কবিগুরু।
একবার চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় গেছেন শিলাইদহে জমিদার রবীন্দ্রনাথের কাছে লেখা আনতে। চারুচন্দ্র তখন ‘প্রবাসী’ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত। রবীন্দ্রনাথ তখন অবস্থান করছিলেন পদ্মার ওপারে বজরায়। নদীর ঘাট থেকে বজরা পর্যন্ত একটা তক্তার সাঁকো পেতে দেয়া হয়েছে।
চারুচন্দ্র পা টিপে টিপে নৌকায় উঠে আসছেন। বজরার ছাদ থেকে এ দৃশ্য দেখে রবীন্দ্রনাথ সাবধান করলেন চারুকে, ‘সাবধানে পা ফেলো। এ জোড়াসাঁকো নয়!’ তার এই মন্তব্য শুনে আশপাশের সবাই হেসে উঠে ছিলেন|রবীন্দ্রনাথের রসনা বিলাস নিয়েও বহু মিথ চালু আছে। অনেকে বলেন কবি রাজি কাটলেট এর কবি আসলে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। এই নিয়ে একটি গল্পও আছে।একবার তিনি বিখ্যাত বসন্ত কেবিনে গিয়েছিলেন কাটলেট খেতে।কাটলেটের উপরে থাকা পাউরুটির প্রলেপ কবির একেবারে পছন্দ হয়নি। বাবুর্চি তা জানতে পেরে ডিমের গোলায় ডুবিয়ে বানিয়ে দিলেন এক নতুন কাটলেট। সেটা খেয়ে কবির বেশ পছন্দ হয়েছিল।কবির মন রাখতে যেহেতু আবিষ্কার তাই সেই থেকে এই কাটলেটের নাম দেওয়া হয় ‘কবিরাজি কাটলেট’|
প্রকৃতি প্রেমিক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ এবং বর্ষা ছিলো কবির প্রিয় ঋতু।বর্ষা ঋতু কবির অজান্তেই যেন তাঁর অন্তর সত্তায় স্থায়ী আসন গেড়ে বসেছিল। তাই রবীন্দ্র সঙ্গীতে ও সাহিত্যে সর্বত্রই তার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।বর্ষায় কবি শান্তি নিকেতনেই থাকতে পছন্দ করতেন। সেই সময় বর্ষার বোলপুর যেনো এক স্বপ্নের জগৎ। সেই জগৎ ধরা দিতো তার গানে তার কবিতায়।
বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তিনি রাখি উৎসবকে হাতিয়ার করে ছিলেন।হিংসা নয় শান্তি এবং মৈত্রীর মাধ্যমে প্রতিবাদ ছিলো তাঁর প্রথম পছন্দ।
তাঁর ধর্ম চেতনা বা আধ্যাত্মিকতা ও ছিলো অন্য ধরণের। পরম পিতার প্রতি তাঁর আস্থা ছিলো অগাধ। ধর্মীয় গোঁড়ামির উর্ধে উঠে তিনি মানুষের মধ্যে নিজের ঈশ্বরকে খুঁজতেন। ভূত প্রেত পরলোক নিয়েও তাঁর কৌতূহল ছিলো।আত্মার অস্তিত্ব নিয়ে অনুসন্ধান করতে চাইতেন। তাই এক সময়ে ঠাকুর বাড়িতে প্ল্যানচেট নিয়ে চর্চাও হতো।
জন্ম দিনে তার চরিত্রের কিছু বিশেষ দিক ছুঁয়ে যেতে চেষ্টা করলাম। মানুষ রবীন্দ্রনাথকে খোঁজার চেষ্টা করলাম।আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। গুরুদেব কে জানাই প্রণাম এবং শ্রদ্ধাঞ্জলি। ফিরে আসবো আধ্যাত্মিক বিষয়
নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন ধন্যবাদ।
শুভ পঁচিশে বৈশাখ
কালী কথা – শিবানী পীঠ
কালী কথা – শিবানী পীঠ
পন্ডিতজি ভৃগুর শ্রীজাতক
ফল হারিণী অমাবস্যা উপলক্ষে চলছে কালী কথা। আজ কালী কথায় কলকাতার কাছেই বারুইপুরে অবস্থিত একটি সুন্দর এবং প্রসিদ্ধ কালী মন্দিরের কথা জানাবো।আজকের পর্বে শিবানী পিঠ কালী মন্দির।নামে পীঠ থাকলেও এটি কোনো শক্তিপীঠ বা সিদ্ধ পীঠ নয় তবে দক্ষিণ বঙ্গের অত্যন্ত জাগ্রত কালী তীর্থ।
দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুরে অবস্থিত শিবানী পীঠ মন্দিরটি সাধারণ মানুষের কাছে অতি পরিচিত। ভারী সুন্দর এই মন্দিরের পরিবেশটা ।ভট্টাচার্য্য পরিবারের এই মন্দিরটি স্থাপিত হয়েছিল ১৯৬৬ সালের কালিপূজার দিন।দেবীর বিগ্রহ দারু নির্মিত অর্থাৎ নিম কাঠের। সালঙ্কারা দেবী এখনে চতুর্ভুজা রূপে বিরাজ করছেন।
জনশ্রুতি আছে ভট্টাচার্য পরিবারের, নারায়ণদাস ভট্টাচার্য ও শান্তিলতা দেবীর কন্যা নিরুপমা চক্রবর্তী একদিন স্বপ্নে দেখেন, তাঁর বাপের বাড়িতে পঞ্চাননের পুজো হচ্ছে। পঞ্চানন মন্দিরে পাশে পুকুরের মধ্যে একটি ঘট অবহেলায় পড়ে রয়েছে। স্বপ্নেই তিনি দেখেন, সেই ঘটটিকে তুলতে গেলে ঘটের মধ্য থেকে এক কালীমূর্তি আবির্ভূত হলেন এবং নিরুপমাদেবীকে ঘটটি তুলে প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ দেন । কিছুদিন পর নিরুপমা দেবী বারুইপুর এসে তার স্বপ্নের কথা জানান।পরবর্তীতে এই পরিবারের দুর্গাদাস ভট্টাচার্য ঘটটি খুঁজে পান এবং মন্দির প্রতিষ্ঠা করে ঘট স্থাপন করা হয়।
শিবানী পীঠ হল দেবী শিবানীর মন্দির।দেবী শিবানী মা কালিরই একটি অংশ।তবে দেবী এখানে ঘরের মেয়ে এবং ভট্টাচার্য পরিবারেরই শিবানী নামক এক বালিকার নামে মায়ের নামকরণ হয় বলে কথিত আছে।
খুবই জাগ্রত মন্দির বলে প্রচুর ভক্ত এখানে আসেন তাদের মনষ্কামনা পূরণের উদ্দেশ্যে।বিশেষ বিশেষ দিনে খুবই ভীড় হয় এখানে।শণি,মঙ্গলবার এবং প্রতি অমাবশ্যার দিনে এখানে প্রচুর
ভক্ত সমাগম ঘটে
মন্দিরের ভেতরে প্রতিষ্ঠাতা শ্রী দুর্গাদাস ভট্টাচার্যর বেশ কয়েকটি মূর্তি বর্তমান। এখানে নাট মন্দিরের ভেতরে অনেক মুণি ঋষিদের মূর্তি বর্তমান।নাটমন্দিরে বসে একমনে মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকলে মনে প্রশস্তি পাওয়া যায়।শিবানী পীঠ স্থানীয় মানুষের কাছে এক বিশ্বাস এবং ভরসার স্থান।
ফিরে আসবো পরবর্তী কালী কথা
নিয়ে আগামী পর্বে। চলতে
থাকবে কালী কথা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
কালী কথা – বাসনা কালী
কালী কথা – বাসনা কালী
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আজ কালী কথায় আপনাদের গড়িয়ার নারকেল বাগান এলাকায় অবস্থিত জাগ্রত শ্রীশ্রী বাসনা কালীবাড়ি নিয়ে লিখবো।
এই মন্দিরে প্রায় দুশো বছর ধরে পূজিতা হচ্ছেন বাসনা কালীমাতা। জনশ্রুতি অনুযায়ী, দেবী নাকি স্বপ্নাদেশে বলেছিলেন এলাকাবাসীদের মনের বাসনা পূর্ণ করার জন্যই তিনি আবির্ভূতা হবেন,তাই মায়ের নাম হয়েছে বাসনা কালী।
বর্তমানে মন্দিরটি নতুন রূপে সম্প্রতি নির্মিত হয়েছে।
যে সময়ে কালীঘাট ছুঁয়ে গড়িয়ার কামডহরি দিয়ে আদিগঙ্গা বয়ে যেত সেই সময় থেকে জনশ্রুতি প্রচলিত আছে যে এই অঞ্চলে এক প্রাচীন গঙ্গার ঘাট ছিলো যাকে বলা হতো চাঁদনী ঘাট বাণিজ্যে বেরিয়ে গঙ্গার এই ঘাটেই নাকি নৌকা নোঙর করেছিলেন চাঁদ সওদাগর।বর্তমানে ওই স্থনেই আছে এক বহু পুরোনো জলাশয় সেই জলাশয় এর পাড়েই দাঁড়িয়ে রয়েছে বাসনা কালী বাড়ি।
প্রতিষ্ঠাতা রূপে বসন্তকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় এর নাম উঠে আসে যিনি বসন্ত ঠাকুর নামেই বেশি প্রসিদ্ধ।তিনি এই কালী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
তাঁকে স্বপ্নে দেবী বলেছিলেন, তুই এখনই বেনারসে যা। আমি তোর জন্য সেখানে অপেক্ষা করছি। আমাকে এই আদি গঙ্গার তীরে এনে প্রতিষ্ঠা কর। আদেশ শুনে বসন্ত ঠাকুর বেনারস ছুটে যান। কোলে বসিয়ে নিয়ে আসেন কালো কষ্টিপাথরের দেবী কালিকার মূর্তি।কথিত আছে বেনারসে যে শিল্পী এই কষ্টিপাথরের কালী তৈরি করেছিলেন, তিনিও একইসঙ্গে স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। তারপর কালীমূর্তি তৈরি শুরু করেন।
এখানে ব্রাহ্মণ ছাড়া অন্য কারও কালীকে স্পর্শ করার নিয়ম নেই। আজও বসন্তকুমারের পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম পুজোর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এখানে কালীর সঙ্গে গণেশ, দুর্গা, মনসা, শিব, হনুমান সহ আরও অনেক দেব-দেবীর মূর্তি রয়েছে। তাঁরাও নিয়মিত পুজো পান।
প্রতি অমাবস্যায় বিশেষ পূজো সহ এখানে দেবীর নিত্যপুজো হয়। দেবী কালীকে নিরামিষ ভোগ নিবেদন করার রীতি রয়েছে। মনোবাঞ্ছা পূরণের দেবী রূপে বাসনা কালী অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং জাগ্রতা তাই দেবীর টানে অসংখ্য ভক্ত পুজো দিতে আসেন এখানে।
ফিরে আসবো কালী কথার পরবর্তী পর্ব নিয়ে আগামী পর্বে। থাকবে ফল হারিণী অমাবস্যা নিয়ে অনেক তথ্য। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
ফলহারিণী অমাবস্যা ও শ্রী রামকৃষ্ণ
ফলহারিণী অমাবস্যা ও শ্রী রামকৃষ্ণ
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আর কিছু দিন পরেই ফল হারিণী অমাবস্যা।
এই ফল হারিণী অমাবস্যার সাথে বিশেষ ভাবে স্মরণ করা হয় ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণের নাম। কারন একবার ঠাকুর রামকৃষ্ণ ফল হারিণী অমাবস্যায় এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটিয়েছিলেন যার আধ্যাত্মিক গুরুত্ব অপরিসীম।
দক্ষিনেশ্বরে থাকা কালীন ১৮৭২ সালে এই বিশেষ অমাবস্যার রাতেই শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব তাঁর লীলা সঙ্গিনী দেবী সারদাকে ষোড়শীরূপে পুজো করেছিলেন। সেই ফলহারিণী কালী পুজোর রাতে স্ত্রী সারদা দেবীকে রামকৃষ্ণ পুজো করেছিলেন জগৎ কল্যাণের জন্য।
কথিত আছে এই পুজোতে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দেব তাঁর সর্বস্ব দিয়েছিলেন সারদা মায়ের শ্রীচরণে। এমনকি তাঁর জপের মালাটিও নিবেদন করেছিলেন সারদা মাকে। সারদা মায়ের মধ্যে সেই রাতে ঠাকুর আদ্যা শক্তি মহামায়ার দর্শন করেছিলেন বলে মনে করা হয়।
ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ মনে করতেন এই তিথিতে
যদি শুদ্ধ ভক্তি দিয়ে মাকে আত্মনিবেদন করা যায় তবে ভক্তের মনে অধ্যাত্ম চেতনার দ্রুত বিকাশ ঘটে এবং মায়ের কৃপা লাভ করা যায়।
সেই কারণেই ফল হারিণী অমাবস্যাকেই ঠাকুর বেছে নিয়েছিলেন সারদা মাকে মাতৃ রূপে আরাধনার জন্য।এই ঘটনা ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণর আধ্যাত্মিক জীবন এবং সাধনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় রূপে দেখা হয়।
আজও রামকৃষ্ণমঠ ও আশ্রমে ফল হারিণী অমাবস্যা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পালিত হয় এবং এই পুজো ‘ষোড়শী’ পুজো নামে পরিচিত|
আগামী পর্বে ফিরে আসবো আবার আগামী পর্বে ধারাবাহিক কালী কথা নিয়ে থাকবে ফল হারিণী অমাবস্যা সংক্রান্ত আরো অনেক শাস্ত্রীয় তথ্য এবং ব্যাখ্যা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
বিশেষ পর্ব – ফলহারিণী অমাবস্যা
বিশেষ পর্ব – ফলহারিণী অমাবস্যা
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
গ্রহের প্রতিকারের সাফল্য এবং
তার স্থায়ীত্ত্ব নির্ভর করে সঠিক তিথি
নির্বাচনের উপর।সঠিক তিথিতে করা শাস্ত্রীয় মতে দোষ খণ্ডন সবথেকে বেশি প্রভাব শালী হয়, এবং এই তিথি গুলির মধ্যে দীপান্বিতা অমাবস্যা, কৌশিকী অমাবস্যা, মৌনী অমাবস্যা এবং ফলহারিনী অমাবস্যা কে অন্যতম শ্রেষ্ঠ তিথি হিসেবে দেখা হয়। সামনেই ফল হারিণী অমাবস্যা। আজ লিখবো ফল হারিণী
অমাবস্যার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য নিয়ে।
জ্যোতিষ এবং তন্ত্র জগতে ফলহারিণী অমাবস্যা একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ তিথি ।জ্যৈষ্ঠমাসের অমাবস্যা তিথিকে ফল হারিণী অমাবস্যা বলা হয়। এই তিথিতে ফলহারিণী মাতারূপে দেবী কালী পূজিতা হন।যদিও ধরিত্রীজাত ফলের সঙ্গে এই মাতৃপুজোর কোনও সম্পর্ক নেই। এই ফল মানবজাতির কর্মফলের কথা স্মরণ করায়।
তবে কিছু শাস্ত্রীয় উপাচারে মরসুমি ফল ব্যবহার করার রীতি রয়েছে যেমন এই তিথিতে মাকালীকে
ফল অর্পণ করলে মায়ের বিশেষ কৃপা লাভ হয় বলে অনেকে মনে করেন।তার অবশ্য কিছু নিদ্দিষ্ট রীতি নীতি আছে। সেসব নিয়ে পরে কোনো সময়ে আলোচনা করবো।
মনে করা হয় এই দিনটিতে মা স্বয়ং ভক্তদের সুকর্মের জন্য আশীর্বাদ প্রদান করেন। অপরদিকে সন্তানের কুকর্মের জন্য উদ্ভূত অশুভ ফলের প্রভাব থেকে তিনিই আবার সন্তানদের মুক্ত করেন। অর্থাৎ ওই দিনে মা স্বয়ং যেমন সন্তানদের শুভ ফল প্রদান করেন, তেমনি তিনি সন্তানদের অশুভ ফলও হরণ করে থাকেন। তাই এই তিথিতে দেবী কালী হয়ে ওঠেন ফল হারিণী।
জাতক জাতিকার জন্মছক বিশ্লেষণ করলে অথবা হস্তরেখা বিচার করলে দেখা যায় অনেকেরই কিছু না কিছু গ্রহদোষ রয়েছে যা মূলত তার জন্ম জন্মান্তরের কর্ম ফল থেকে উদ্ভুত। এই ফল হারিণী অমাবস্যায় সঠিক শাস্ত্রীয় পদ্ধতিতে গ্রহের প্রতিকার গ্রহ গত অশুভ ফল থেকে মুক্তি দেয়।
কারণ এই দিন দেবী আদ্যা শক্তি স্বয়ং ফল হারিণী রূপে বিরাজ করেন।
তাই জ্যোতিষ এবং তন্ত্রের জগতে এই দিনের অন্য মাহাত্ম রয়েছে। অশুভ গ্রহদোষ খণ্ডন বা কোনো বিশেষ প্রতিকার গ্রহণের ক্ষেত্রে এই অমাবস্যাকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ তিথি হিসেবে দেখা হয়।
ফিরে আসবো ধারাবাহিক কালী কথা এবং ফল হারিণী অমাবস্যা সংক্রান্ত আরো অনেক শাস্ত্রীয় তথ্য নিয়ে আগামী পর্ব গুলিতে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
কালী কথা – ট্যাবা কালী
কালী কথা – ট্যাবা কালী
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আসন্ন ফলহারিণী অমাবস্যা উপলক্ষে চলছে ধারাবাহিক কালী কথা। আজ কালী কথায় বীরভূমের ঐতিহ্যপূর্ণ কালীপুজোগু লির মধ্যে অন্যতম লাভপুরের ট্যাবা কালী নিয়ে লিখবো।
দেবী কালীকে অনেক রূপেই পুজো করা হয়
যার মধ্যে কিছু রূপ শাস্ত্র সম্মত ও পুরানে উল্লেখিত। আবার কিছু রূপ বা নাম লৌকিক ও হয়
যার সাথে জড়িয়ে থাকে কিছু অলৌকিক ঘটনা বা জনশ্রুতি।বীরভূমের ট্যাবাকালীও এমনই
এক দেবী।
এই পুজোর বয়স প্রায় ২৫০ বছর।মন্দির একটিমাত্র কিন্তু ভিতরে মূর্তি তিনটি।তিনটি মূর্তির মধ্যিখানে থাকেন বড়মা, তাঁর উচ্চতাই ২৬ ফুট। বাঁ দিকে থাকেন ট্যাবা কালী। ডান দিকে রয়েছেন মা বিশ্বেশরী।এই দুই মূর্তির উচ্চতা ১২ ফুট করে।
শোনা যায় এক কালে শিশুদের ট্যাবা নামক এক রোগ হতো এবং এই অঞ্চলে সেই রোগের প্রকোপ , ছিলো বেশি তার নিরাময়ে এই মন্দির থেকে কবচ সংগ্রহ করে পরিয়ে দেয়া হতো এবং তাতেই রোগ নিরাময় হতো বলে বিশ্বাস স্থানীয়দের।
সেই থেকে নাম ট্যাবা কালী।
স্থানীয়দের মুখে শোনা যায় প্রায় আড়াইশো
বছর আগে লাভপুরের জমিদার বংশ এই
গ্রামে মা কালীর পুজো শুরু করেন।
পরবর্তী কালে দোনাইপুরের পাঠকদের হাতে ওঠে। পূজোর ভার।পাঠক বংশের আদি পুরুষরা ছিলেন তান্ত্রিক। কথিত রয়েছে, স্বপ্নাদেশ পেয়ে মন্দিরে ‘ট্যাবা কালী’ মূর্তির প্রতিষ্ঠা করা হয়।
জন শ্রুতি আছে যে প্রথম যিনি পুজো প্রথম শুরু করেন,তিনি চোখে দেখতে পেতেন না। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় কালীপুজোর দিন তিনি সমস্ত কিছু স্পষ্ট ভাবেই দেখতে পেতেন।
প্রতি বছর কালীপুজোর রাতে তিনজন তান্ত্রিক এবং তিনজন পুরোহিত পুজো করেন। বিসর্জনের দিন পুজো চলাকালীন মায়ের কাছে দেওয়া আলতা ও সিঁদুর নিয়ে গ্রামের সকলে মাখেন। তার পর মন্দির লাগোয়া পুকুরে এক সময়ে তিনটি মূর্তি বিসর্জন করা হয়।
এই কালীপূজো এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং দেবীকে অত্যন্ত জাগ্রত বলে মনে করা হয়।
বহু ভক্ত আসেন মায়ের কাছে নিজেদের মনোস্কামনা নিয়ে এবং দেবীর আশীর্বাদে তাদের মনোস্কামনা পূরণ হয় বলেই বিশ্বাস।
ফিরে আসবো আগামী পর্বে। ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকবে কালী কথা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
কালী কথা – সেবকেস্বরী কালী
কালী কথা – সেবকেস্বরী কালী
পন্ডিত জিভৃগুশ্রী জাতক
শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটক যাওয়ার পথে ৩১ নম্বর জাতীস সড়কের ধারে রয়েছে সেবকেশ্বরী কালী মন্দির। এই কালী মন্দির নিয়ে আজকের পর্ব।
খাড়া পাহাড়ের গা বেয়ে তৈরি হয়েছে এই সিঁড়ি। অদ্ভূত নির্জন পরিবেশ।দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে এই মন্দির এক মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি করে।সেবকেশ্বরী মন্দিরে দেবী দর্শনের জন্য অন্তত ১০৭টি সিঁড়ি পেরতে হয়।
বিশেষ অমাবস্যা তিথি গুলিতে শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকা থেকেই নয়, বহু দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা দেবী দর্শনের জন্য আসেন। রাতভর চলে দেবীর আরাধনা। এরপর সকাল থেকে শুরু হয় খিচুড়ি ভোগ নিবেদন। অন্তত দেড়শো কড়াই খিচুড়ি হয় কালীপুজোর রাতে।
কালীপুজোর দিনগুলোতে এই সেবকেশ্বরী কালীমন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে।
ভক্তদের বিশ্বাস দেবী অত্যন্ত জাগ্রতা। দেবীর কাছে অন্তর থেকে প্রার্থনা করলে ভক্তের মনস্কামনা পূরণ করেন তিনি।
সেবক পাহাড়ের উপর হয় দেবীর আরাধনা তাই দেবীর নাম সেবকেশ্বরী।মন্দিরের সামনে পঞ্চমুন্ডির আসন রয়েছে যা এক মাতৃ সাধকের স্বপ্নাদেশে পাওয়া।
পুজোয় সাদা ভাত, পাঁচরকম ভাজা, তরকারি, পায়েস, লুচি, দই, মিষ্টি মাকে নিবেদন করা হয়। তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে এখানে বাধ্যতামূলক ভাবে বোয়াল মাছ দেবীর ভোগ হিসাবে নিবেদন করা হয়। রাতভর চলে দেবীর আরাধনা। এরপর সকাল থেকে শুরু হয় খিচুড়ি ভোগ নিবেদন। অন্তত দেড়শো কড়াই খিচুড়ি হয় কালীপুজোর রাতে।
শুধু শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকা থেকেই নয়, বহু দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা দেবী দর্শনে। দার্জিলিং বেড়াতে গেলে অনেকেই একবার সেবক কালীবাড়ি ঘুরে আসেন।
আগামী পর্বে আবার ফিরে আসবো
কালী কথা নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা
শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
বুদ্ধ পূর্ণিমায় ভগবান বুদ্ধর আগমন ঘটেছিলো মানব সভ্যতাকে অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে জ্ঞানের আলোয় ফিরিয়ে আনতে।হিংসাকে পরাজিত করে অহিংসাকে স্থাপন করতে। তার বাণী তার শিক্ষা তার ভক্ত শিষ্যদের মাধ্যমে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পরে। আজ বুদ্ধ পূর্ণিমায় তাঁকে স্মরণ করবো তার দুই শিষ্যর সাথে করা তার এক বিশেষ লীলার মধ্যে দিয়ে।
আনন্দ এবং রবি ছিলেন বুদ্ধের দুই প্রিয় শিষ্য। একদিন তারা কিছু অদ্ভুত ঘটনা প্রত্যক্ষ করলেন। তারা দেখলেন একদিন সকালে এক ব্যাক্তি এসে বুদ্ধ কে জিগেস করলেন যে ভগবান আছে কি নেই। এবং জানালেন যে তিনি ভীষণ ভাবে ঈশ্বর বিশ্বাসী। বুদ্ধ উত্তরে বললেন যে না ঈশ্বর নেই। ব্যক্তিটি খুশি না হলেও মুখে কিছু না বলে সেখান থেকে বিদায় নিলেন। দুপুরে আরো একজন বুদ্ধের কাছে এলেন এবং একই প্রশ্ন করলেন। ইনি ছিলেন একজন নাস্তিক এবং ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন না। তার উত্তরে বুদ্ধ বললেন একমাত্র ঈশ্বরই সত্যি বাকি সব মিথ্যা।সেদিন সন্ধ্যায় আরো একজন এসে ঈশ্বর সম্পর্কে একই প্রশ্ন করলেন এবং বুদ্ধ কিছু না বলে মৌন থাকলেন।
ভক্ত আনন্দ এবং রবি সেদিন রাতে বুদ্ধর কাছে এসে জানতে চাইলেন কেনো তিনি একই
প্রশ্নের উত্তরে তিনজকে আলাদা আলাদা উত্তর দিলেন। বুদ্ধ বললেন প্রথম ব্যক্তি ছিলেন ঈশ্বর বিশ্বাসী কিন্তু তিনি ঈশ্বর সম্পর্কে অনুসন্ধান করেননি। শুধু বিশ্বাস করলে হয়না সাধনা প্রয়োজন। অনুসন্ধান প্রয়োজন। দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন নাস্তিক কিন্তু তিনিও অজ্ঞানী কোনোরকম সাধনা এবং জ্ঞান ছাড়া নাস্তিক হওয়া যায়না।আর তৃতীয় ব্যাক্তির ক্ষেত্রে তিনি কেনো নীরব ছিলেন তা জানার জন্য পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বললেন।
পরদিন সকালে সেই তৃতীয় ব্যক্তি আবার এলেন এবং জানতে চাইলেন ঈশ্বর আছে না নেই। বুদ্ধ বললেন তার একটি মূল্য বান রত্ন তিনি হারিয়ে ফেলেছেন এবং সেটা খুঁজে দিতে পারলে তবেই এর উত্তর দেবেন। ব্যাক্তিটি সারাদিন নানা স্থানে সেই রত্ন খোঁজ করে সন্ধ্যায় বুদ্ধর কাছে এলেন এবং বুদ্ধ তাকে বললেন রত্নটি তিনি তার কুটিরে হারিয়ে ফেলেছেন তাই বাইরে খুঁজে লাভ নেই। এতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে এই ব্যক্তি এই পরিহাসের মানে জানতে চাইলেন। বুদ্ধ তখন হেসে বললেন
ঈশ্বর ও তার মধ্যে আছে এবং তিনি এইরকম নির্বোধের ন্যায় তাকে নানা স্থানে খুঁজে চলেছেন তাই তার মনে ঈশ্বরকে নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে তার উচিৎ ঈশ্বরকে নিজের অন্তরে খোঁজা।
এই ভাবে বুদ্ধ তার দুই শিষ্য কে বোঝান ঈশ্বর সূর্যের ন্যায় সত্য। তাকে মানা না মানার প্রশ্ন নেই তাকে জানতে হয় এবং তার জন্য প্রয়োজন জ্ঞান এবং সাধনা। একজন গুরুর উচিৎ সেই সাধনায়
তাকে উৎসাহ দেয়া। জ্ঞান দান করা।
ভগবান বুদ্ধ আজ সারা বিশ্বে শান্তির প্রতীক।
তার বাণী লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষকে আলো দেখাচ্ছে।
আজ বুদ্ধ পূর্ণিমার পবিত্র দিনে প্রনাম জানাই বুদ্ধের চরণে।সবাইকে বুদ্ধ পূর্ণিমার শুভেচ্ছা।
আবার পরের পর্বে ফিরে আসবো কালী কথা নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
কালী কথা – নাক কাটা কালী
কালী কথা – নাক কাটা কালী
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
পুরুলিয়া জেলার প্রাচীন কালীপুজোগুলির মধ্যে চিড়াবাড়ি এলাকার নাক কাটা কালি পুজো অন্যতম। আজকের পর্বে জানাবো কেনো দেবীর এমন অদ্ভুত নাম আর কেনই বা এমন অদ্ভুত রূপ।
শোনা যায় বহুকাল আগে এই অঞ্চলে ডাকাত দের উৎপাত ছিলো সেই সময়ে ডাকাতদের হাত থেকে ফসল বাঁচাতে পুজো শুরু করেছিলেন গ্রামবাসীরা সেই রাগে ডাকাতরা দেবীর মূর্তি ভেঙে দিয়েছিল । কেটে দিয়েছিল মূর্তির নাক ।সেই থেকে দেবী এখানে পূজিত হন নাক-কাটা কালীরূপে।
শুধু নাক নয় দেবী মূর্তি এখানে খণ্ডিত।
পরবর্তীতে মূর্তি ভাঙার অপরাধে সেই ডাকাত দলকে নিশ্চিহ্ন করে দেন দেবী।এমন টাই জনশ্রুতি আছে।এই কালীমূর্তির নাক কাটা অবস্থায় পুজো হয় নাক তাই কাটা কালী নামেই খ্যাত।এক প্রাচীন বট গাছের নিচে রয়েছে দেবীর খণ্ডিত মূর্তি ।
অলৌকিক ভাবে এই দেবীর পুজোর পর থেকেই বন্ধ হয় ডাকাতি এবং গ্রাম বাসীরা ফিরে পান তাদের হারানো শান্তি ও সমৃদ্ধি।সে প্রায় দুশো বছর আগের কথা সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত এই গ্রামকে সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষা করেন এই দেবী।
প্রত্যেক অমাবস্যায় এবং প্রতি বছর কালী পুজোর সময়ে মহা ধুমধামের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে এই পুজো । প্রাচীন প্রথা মেনে ছাগ বলিও হয় এই মন্দিরে এবং পুজো হয় তন্ত্র মতে।
ডাকাতদের যুগ আর নেই। বর্তমানে গ্রামবাসীরাই পুজোর সব দায়িত্ব পালন করেন।নাক কাটা কালীর উপরে গোটা পুরুলিয়া জেলার মানুষের অগাধ আস্থা এবং শ্রদ্ধা।
দেখা হবে আগামী পর্বে। কালী কথায় থাকবে অন্য এক কালী মন্দিরের কথা।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
কালী কথা – ত্রিপুর সুন্দরী মন্দির
কালী কথা – ত্রিপুর সুন্দরী মন্দির
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
গড়িয়ার কাছে বোড়াল গ্রামে অবস্থিত প্রাচীন ত্রিপুরসুন্দরী মন্দির নিয়ে আজকের কালী কথা।
এই মন্দির নিঃসন্দেহে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহ্য সম্পন্ন কালী মন্দির গুলির মধ্যে একটি।
এক সময় বোড়ালের পাশেই প্রবাহিত হতো আদি-গঙ্গা।সেই সময় দুর্গম ছিলো এই অঞ্চল।ডাকাত এবং হিংস্র জীব জন্তুর ভয়ে এদিকে সন্ধ্যের পর মানুষ আসতো না খুব একটা।এই দুর্গম স্থানেই গড়ে ওঠে ত্রিপুর সুন্দরী মন্দির।
জনশ্রুতি আছে এটিও একটি সতীপীঠ। শোনা যায় এখানে সতীর ডান হাতের তালু পতিত হয়েছিল।
তবে শাস্ত্রে তেমন প্রমান পাওয়া যায়না তাই শক্তি পীঠের মর্যাদা দেয়া হয়না।অনেকে আবার বলেন মন্দিরটি আসলে অতীতে কোনো তান্ত্রিক বৌদ্ধদেবীর । বোড়ালের দেবী মূর্তিটি দারু-নির্মিত।
বর্তমানে প্রাচীন মন্দিরটির সংস্কার করা হয়েছে।
মন্দিরে নিত্য পুজোর ব্যবস্থা আছে ।
এখানে মা ত্রিপুরেশ্বরী ছাড়াও শিবমন্দির আছে, সেখানেও নিত্যপুজো হয়।বেশ অনেকটা জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই মন্দিরে সাথেই আছে সংগ্রহশালা যেখানে প্রাচীন কালের বহু প্রত্ননিদর্শন রাখা আছে।এগুলি এই স্থানে আসা দর্শণার্থীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ।
মন্দিরের কাছেই শ্মশান। বলা হয় এই শ্মশানে চাঁদ সওদাগরের ডুবে যাওয়া সপ্তডিঙার মৃতদের সৎকার হয়েছিল।
প্রতি অমাবস্যায় এবং বিশেষ বিশেষ দিনে প্রচুর ভীড় হয় এখানে।। সকাল দশটা নাগাদ পুজো হয় এবং প্রতি সরস্বতী পুজোয় ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে বিরাট মেলা বসে।বহু দর্শণার্থী আসেন সেই সময়ে।
ফিরে আসবো কালী কথা নিয়ে আগামী পর্বে। থাকবে এমনই এক প্রাচীন মন্দিরের ইতিহাস এবং অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।