Home Blog

কালী কথা – পঞ্চগ্রামের ফলহারিণী কালী পূজা

প্রায় তিনশো বছর আগে মায়ের পুজোয় থেমে গিয়েছিল মহামারী সেই থেকে বিশেষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে পঞ্চগ্রামের ফল হারিণী কালী পুজো|এখানে অমাবস্যাতেই তৈরি হয় মূর্তি, অমাবস্যাতেই বিসর্জন৷ কারোর কাছে তিনি রক্ষা কালী মা। সব অশুভ শক্তি’র বিনাশকারী দেবী। কারোর কাছে তিনি মহামারী মা আবার কারোর কাছে তিনি কলেরা মা। কথিত আছে,নবাবি আমলে বর্ধমানের প্রাচীন জনপদ পঞ্চ গ্রাম মহামারী কলেরায় উজাড় হতে থাকে। গ্রাম বাসি দের উদ্যোগে কলেরা থেকে রক্ষে পাওয়ার জন্যই শুরু হয়েছিল পুজো এবং আজ তা উৎসবের রূপ নিয়েছে|পঞ্চগ্রামের ৫ গ্রাম হয়রামনগর, গোবিন্দপুর, জুয়ালভাঙা, কোন্দা এবং পাণ্ডবেশ্বর। কলেরা প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে দক্ষিণ প্রান্তের শেষে পাণ্ডবেশ্বরে হয় পুজো।শুরু হয় রক্ষা কালী মা পুজো। চলিত বিশ্বাস, পুজোর পর থেকে প্রকোপ কমে কলেরার। এরপর থেকে কলেরা বা মহামারী মা নামেও পূজিত হন চ্যাটার্জি বাড়ির রক্ষা কালী মা। জ্যৈষ্ঠ মাসের ফলহারিণী অমাবস্যায় প্রতি বছর পাণ্ডবেশ্বরে নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো নেন রক্ষা কালী মা।বছরের একটি দিন পুজো করেন স্থানীয় ভট্টাচার্য পরিবার আর বাকি ৩৬৪ দিন পুজো করে আসেন চ্যাটার্জি বাড়ির সদস্যরা।বলি প্রথা এখনও চালু।রয়েছে মানুষের মুখে মায়ের ভোগ তুলে দেওয়া রীতি ।দেবীকে পড়ানো হয় সোনার মুকুট, হার, চুড়ি, জিভ সহ ভরি ভরি সোনার গয়না প্রায় ৩৫০ বছর আগে যে নিয়মে মায়ের পুজো শুরু হয়েছিল আজও সেই একই নিয়মে পুজো হয়। বংশ পরম্পরায় আজও মৃৎশিল্পীরা ষোলআনা অর্থাৎ এক টাকার বিনিময় প্রতিমা গড়ে দেন|চলবে কালী কালী কথা|ফিরে আসবো আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন|ফল হারিণী অমাবস্যায় থাকছি তারাপিঠে|জ্যোতিষ ও তন্ত্র বিষয়ে কথা বলতে বা গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে চাইলে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|

কালী কথা – বর্ধমানের আনন্দময়ী কালী

শাস্ত্র মতে শিবপূজাকেও শক্তিপূজা বলা যেতে পারে কারন শিব হল ধ্বংসের দেবতা বা প্রলয়ের দেবতা যা এক কথায় শক্তিকেই প্রদর্শন কর কিন্তু আমাদের জেনে রাখতে হবে যে এই ‘শক্তি’ কথাটি স্ত্রী বাচক, অর্থাৎ শক্তিপূজা বলতে নারী বা মাতৃ পূজাই বলা হয়ে থাকে আর এই মাতৃশক্তি সাধনার অন্যতম শ্রেষ্ঠ তিথি হলো ফলহারিণী অমাবস্যা|ফল হারিণী কালীপুজোর ঐতিহ্যের দিক থেকে পিছিয়ে নেই বর্ধমান। জেলার বহু গ্রামে প্রাচীন কালীপুজো হয়। সে সব পুজো শুরুর পিছনে রয়েছে নানা কাহিনীও। জাঁকজমক কমলেও, পুজোর উদ্যোগে ভাটা পড়েনি আজও।আলাদা করে বলা যায় মানকরের আনন্দময়ী কালীর কথা|বুদবুদের মানকর গ্রামের কবিরাজ বাড়ির কালীপুজো প্রায় তিনশো বছরের পুরনো। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কালী ‘আনন্দময়ী’ কালী হিসাবেই পরিচিত। বর্ধমানের রাজা উদয়চাঁদের কবিরাজ ছিলেন রাজবল্লভ গুপ্ত। জনশ্রুতি আছে, এক সময় রাজার মেয়ে খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে, তাঁকে চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলেন রাজবল্লভ। এর পরে, তাঁকে মানকরে বেশকিছু জমি, পুকুর দেওয়া হয়। তাঁকে ‘রাজবৈদ্য’ হিসাবে নিযুক্তও করা হয়। তখন থেকেই রাজবল্লভ মানকরে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানেই আনন্দময়ী কালীর পুজো শুরু করেন।পুজোর দায়িত্বে থাকা বর্তমান প্রজন্মথেকে জানা যায় রাজবল্লভ ‘স্বপ্নাদেশ’ পেয়ে কাশী থেকে কষ্টি পাথরের কালী মূর্তি নিয়ে এসে পুজো শুরু করেন। সারা বছর পুজো হয় এই মন্দিরে। তবে জ্যৈষ্ঠ মাসে ফলহারিণী পুজো খুব ধুমধাম করে নিষ্ঠা সহকারে হয় এখানে।এই পুজোয় ১৮ রকমের মিষ্টি দেওয়া হয়। নুন ছাড়া, তরকারি পুজোর ভোগ হিসাবে নিবেদন করা হয়। মন্দিরের পাশে থাকা পুকুরে আজও পুজো উপলক্ষে কষ্টি পাথরের দেবী মূর্তিকে স্নান করানো হয়। সম্পূর্ণ স্নান পক্রিয়া হয় গোপনে শুধু মাত্র পূজারীদের উপস্থিতিতে এবং আজও এই পুকুরে সাধারণের ব্যবহার নিষিদ্ধ।ফিরে আসবো কালী কথা নিয়ে আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কালীকথা – কালী ডাকাতের কালী পুজো

হুগলি জেলার খানাকুলে সাড়ে তিনশো বছরের বেশি পুরনো ডাকাতকালীর পুজোয় এক অভিনব বহু রীতি পালন করা হয়।ফলহারিণীতে মহাসমারোহে কালী পুজো হয় খানাকুলের ডাকাত কালী মন্দিরে|প্রাচীন কালে ডাকাতির পর কালীপুজোয় বসতেন কালীচরণ মাঝি এবং তাঁর চেলাচামুন্ডারা। দিন বদলেছে। কালীচরণের বংশধরেরা আজ আর ডাকাতি করেন না। তবে প্রথা বজায় রাখতে রাতের অন্ধকারে ফল চুরি করেন তাঁরা। সে ফল কালীকে নিবেদন করেই পুজো শুরু করেন। হুগলীর খানাকুলের চক্রপুরে ডাকাতকালীর পুজো কয়েকশো বছরের প্রাচীন। কথিত আছে ৩৫৬ বছর আগে এ এলাকায় কালী ডাকাত নামে পরিচিত ছিলেন কালীচরণ মাঝি। তিনিই এ পুজোর সূচনা করেছিলেন। কালীচরণের বংশধরেরা জানিয়েছেন, এখনও পুজোর দিন শতাধিক ছাগবলি হয়। পাশাপাশি মেনে চলা হয় ঘটপুজোর রীতিও। কালীপুজোর দিন রাতে কালীচরণের বংশের এক জন সদস্য প্রথম মায়ের ঘট উত্তোলন করেন। তার পর আরও একটি ঘট উত্তোলন করেন পুরোহিত। ঘট দু’টি কালীমূর্তির পায়ের নীচে বসিয়ে তার পর শুরু হয় পুজোপাঠ। কালী ডাকাতের উত্তরপুরুষরা অংশ নেন পুজোয় এখন ডাকাতি করা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে রাতের অন্ধকারে ফল চুরি করে মায়ের পায়ে নিবেদন করা এই মন্দিরের এক অদ্ভুত রীতি যা আজও চলছে|ডাকাতকালীর পুজোয় আরও কয়েকটি অভিনব রীতি রয়েছে|মন্দিরে চার প্রহরে চার বার পুজো-আরতি হয়। শোনা যায় ২০০ বছর আগে এই কালীপুজোকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রথম মেলা বসেছিল।আজও সেই মিলন উৎসব পালিত হয়|চলবে কালী কালী কথা|ফিরে আসবো আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন|ধন্যবাদ|

কালী কথা – কুলটির প্রসিদ্ধ ফলহারিণী কালী

কুলটির লালবাজারের ফলহারিনী কালী মন্দির বেশ বিখ্যাত এখানে সাদা রঙে ফলহারিণী রূপে পুজো নেন দেবী কালী।কথিত আছে এইরূপে ভবতারিণী দর্শন দিয়েছিলেন রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে।তিনিও স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুজো শুরু করেছেন। তবে কালীর এমন সাদা রূপের আরাধনা, সচরাচর দেখতে পাওয়া যায়না এই বাংলায়।পুজোর প্রতিষ্ঠাতাপরিবার এবং পূজারীদের থেকে জানা যায় বহুকাল আগে স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুজো শুরু হয়।দেবী স্বপ্নে স্বয়ং এইরূপ আগে থেকেই নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। তারপর থেকে নিয়মিত পুজো নিয়ে আসছেন কুলটির ফলহারিনী কালী। বিশেষ একটি পরিবার নিত্য পুজো করেন দেবীর। পাশাপাশি গ্রামের মানুষও দেবী কালিকার সাধনায় মেতে ওঠেন। প্রত্যেক ফল হারিণী অমাবস্যায় জাঁকজমক সহকারে হয় পুজো। স্থানীয় মানুষজনও সেই পুজোয় অংশগ্রহণ করেন। মন্দিরে সম্পূর্ণ প্রস্থর নির্মিত মূর্তি রয়েছে দেবীর। পাশের জেলা বাঁকুড়ার শুশুনিয়া থেকে মূর্তিটি নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সেই মূর্তির নিত্য পুজো হয়।প্রতিষ্ঠাতা ঘোষ পরিবারের কথায় স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পরেই তিনি বাঁকুড়ায় উদ্দেশ্যে রওনা দেন তাদের পরিবারের এক সদস্য সেখানে গিয়ে তিনি মায়ের মূর্তিটি পান এই রূপেই। তাই সেই রুপেরই আরাধনা শুরু করেছেন তিনি।পশ্চিম বর্ধমান জেলায় একমাত্র এখানেই রয়েছে সাদা রংয়ের কালীমূর্তি। বাংলা জুড়ে সাদা রংয়ের কালীমূর্তি বিশেষ দেখতে পাওয়া যায় না। পাশের জেলা বাঁকুড়া একটি জায়গায় এই রূপে কালীপুজো হয়। তবে কুলটির ফলহারিনী কালী জেলার একমাত্র সাদা রূপের কালীপুজো।সামনেই ফল হারিণী অমাবস্যা|চলতে থাকবে কালীকথা|ফিরে আসবো নতুন পর্ব নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

বেগুনবাড়ির বিখ্যাত ফলহারিণী কালী পুজো

জৈষ্ঠ্য অমাবস্যা বা ফলহারিণী কালী পূজা জ্যোতিষ বা তন্ত্র জগতের অন্যতম শ্রেষ্ট উৎসব বলা যায় । নিষ্ঠা মেনে এই পূজা করা হয় বিভিন্ন কালী মন্দিরে। আজ এমনই এক মন্দিরের কথা বলবো|মেদিনীপুরের বেগুনবাড়ির কালীপুজো জেলার সবচেয়ে প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী। বেগুনবাড়িতে কালীপুজো শুরুর কাহিনি বেশ রোমাঞ্চকর ।কথিত আছে এক সময় এই এলাকা কাশীজোড়া পরগনার রাজার অধীনস্থ ছিল। তখন রাজা রাজনারায়ণ রায়ের আমল সময়টা ১৭৫৬-১৭৭০ সাল । রাজার দুই বিশ্বস্ত লেঠেল হিনু ডাং এবং দিনু ডাং। এঁরা জাতিতে বাগদি। মাছ ধরা এঁদের কাজ হলেও এঁরা ডাকাতিও করতেন|সেই সময় কলেরার মহামারি ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। তখন এই দুই ডাকাত মা কালীর কাছে মানত করেন যে, যদি তাঁদের সন্তানাদি কলেরামুক্ত হয়ে ওঠে, তবে তাঁরা ঘটা করে মায়ের পুজো করবেন। কিন্তু সন্তানরা সুস্থ হয়ে উঠলেও পুজোর খরচ তাঁরা জোগাড় করতে পারেননি। তখন বাধ্য হয়ে ডাকাতি করে অর্থসংগ্রহে নেমে পড়েন তাঁরা। এবং সেই অর্থ দিয়েই মা কালীর পুজো শুরু করেন। এর পর প্রতি বছর এই ভাবে ডাকাতি করে মায়ের পুজো চালাতে থাকেন জ্যৈষ্ঠের ফলহারিণী অমাবস্যাতে।ঘটনা জানতে পারেন কাশীজোড়ার রাজা। তিনি দেবীর জন্য কিছু জমি দান করেন। ক্ষীরাই নদীর বুকে হওয়া এই পুজোর নাম হয় ‘তিনতাউড়ি বেগুনবাড়ির কালীপুজো’। সম্প্রতি দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে গড়ে তোলা হয়েছে দেবীর মন্দির।আগামী ফলহারিণী অমাবস্যা তারাপিঠে যারা দোষ খণ্ডন করাতে চান যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ফল হারিণী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে কালী কথা পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরান কথা – শ্রী কৃষ্ণের দ্বারকা নগরী

শ্রী কৃষ্ণের দ্বারা কংস বধের ঘটনা আমরা অনেকেই জানি|কংস মৃত্যুর পর কংসের শ্বশুর, মগধের রাজা জরাসন্ধ কৃষ্ণের উপর রেগে যান ও এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মথুরা আক্রমণ করেন। কিন্তু ১৭ বার মথুরা আক্রমণের পরও জরাসন্ধ মথুরা জয় করতে ব্যর্থ হন। তবে এই ১৭ বার আক্রমণে মথুরার অধিবাসী যাদবরা দুর্বল হয়ে পড়ে। কৃষ্ণ যখন বুঝতে পারেন জরাসন্ধ আর একবার আক্রমণ করলে তারা আর তা প্রতিরোধ করতে পারবেন না, তখন তিনি তার লোকদের নিয়ে মথুরা ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং নতুন এক নগরী তৈরির সিদ্ধান্ত নেন|এই নগরীই ছিলো দ্বারকা নগরী|দ্বারকা নগরী প্রতিষ্ঠার জন্য কৃষ্ণ দেব শিল্পী ‘বিশ্বকর্মার’ সাহায্য নেন। বিশ্বকর্মা কৃষ্ণকে জানান, যদি সমুদ্রের দেবতা ‘সমুদ্রদেব’ তাদেরকে কিছু জমি প্রদান করেন শুধুমাত্র তবেই এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। কৃষ্ণ তখন সমুদ্রদেবের পূজা করেন এবং সমুদ্রদেব খুশি হয়ে কৃষ্ণকে ১২ যোজন জমি প্রদান করেন। জমি পাওয়ার পর বিশ্বকর্মা সেখানে দ্বারকা নগরী নির্মাণ করেন এবং শ্রীকৃষ্ণ দ্বারকায় তার তার আশ্রিত ও পরিবার নিয়ে বাস করতে শুরু করেন|পুরান থেকে ও বিভিন্ন শাস্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে জানা যায়, পুরো দ্বারকা নগরী মোট ৬টি ভাগে বিভক্ত ছিল। আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা, চওড়া রাস্তা, নগরচত্বর, সোনা, রূপা ও দামী পাথর দিয়ে নির্মিত বিশাল বিশাল প্রাসাদ, জনগণের সুযোগ সুবিধার জন্য নানা স্থাপনা সহ নানা উদ্যান ও লেক ইত্যাদি নিয়ে গড়ে উঠেছিল দ্বারকা নগরী। প্রায় ৭ লক্ষ ছোটবড় প্রাসাদ ছিল এ নগরীতে। এখানে ছিল ‘সুধর্ম সভা’ নামের এক বিশাল হলঘর, যেখানে নানা ধরনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হতো। গোটা নগরীটি ছিল জলবেষ্টিত। এটি ছিল মূলত একটি দ্বীপ-নগর। চারপাশে বেষ্টিত জলরাশি দ্বারকাকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতো।কৃষ্ণ তার বাকি জীবন এ দ্বারকা নগরীতেই অতিবাহিত করেছিলেন। শেষের দিকে তিনি ভাল্কা তীর্থের এক বনে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় দুর্ঘটনাবশত এক শিকারীর তীর বিদ্ধ হয়ে নিহত হন। কৃষ্ণের মৃত্যুর পর গোটা দ্বারকা নগরী এক বিশাল বন্যায় সমুদ্রের গভীরে হারিয়ে যায়|মহাভারতে উল্লেখ আছে, কৃষ্ণের মৃত্যুর ৩৬ বছর আগে নাকি সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়েছিল দ্বারকা।যেখানে দ্বারকা নগর গড়ে উঠেছিলো বলে শাস্ত্রে আছে বাস্তবে সেই অঞ্চলেই পাওয়া গেছে কৃষ্ণের সময়ের প্রাচীন নগরীর ধ্বংসস্তুপ যা আরো একবার পুরান ও ইতিহাসকে মিলিয়ে দিচ্ছে এক সূত্রে|দ্বারকা নগরী নিয়ে রহস্যর শেষ নেই, শেষ নেই পুরান রহস্যর|আবার আগামী পর্বে নতুন রহস্য নিয়ে ফিরবো|পড়তে থাকুন|জ্যোতিষ সংক্রান্ত প্রয়োজনে উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কালীকথা- ফল হারিণী অমাবস্যা ও তারাপীঠ

শাস্ত্র মতে কালকে যিনি হরণ করেন তিনি কালী। কালের কবলে পড়ে বিনাশ হয়নি এমন বস্তু এই জগতে নেই। তাই কালের সঙ্গে কালীর সম্পর্ক চিরন্তন চিরসত্য এবং চির মাধুর্যময়। এই কালকে শাসন ও নিয়ন্ত্রণ করেন দেবী কালী আর দেবী কালী যে রূপে কর্ম ফল হরন করে সাধককে বা ভক্ত কে মুক্তি ও শান্তি প্রদান করেন তা ফলহারিণী রূপ|যদিও আক্ষরিক অর্থে গাছের ফলের সাথে ফল হারিণী অমাবস্যার সম্পর্ক নেই তবে যেহেতু জ্যৈষ্ঠমাসে আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল ইত্যাদি নানারকম ফলের মরসুমি ফল পাওয়া যায় এবং সাধক তাঁর ইষ্টদেবীকে বিভিন্ন ফল দিয়ে প্রসাদ নিবেদন করে থাকেন।কৌশিকী অমাবস্যার পাশাপাশি তারাপীঠে এদিন বিভিন্ন ফল দিয়ে দেবীর পুজো করা হয়। ফল এখানে প্রতীক। সাধকের কর্ম-রূপ ফল। দেবীর চরণে এদিন ভক্ত তাঁর জীবনের সব কর্মফল নিবেদন করেন।বিভিন্ন ফল দিয়ে মালা গেথে দেবীকে পড়ানো হয় এই তিথিতে|বহুকাল থেকে চলে আসছে এই প্রথা|বামা ক্ষেপার সময়েও ধূম ধাম করে ফল হারিণী কালী পুজো অনুষ্ঠিত হতো তারাপীঠ মন্দিরে|শোনা যায় সে সময় মহামারী, অনাবৃষ্টি বা বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেতে মানুষ এই তিথিতে কালী পুজো করতো।কথিত আছে দশ মহাবিদ্যার অন্যতম দেবী তারা এবং এই মাতৃরূপা মহাশক্তি প্রসন্না হলে জীবের দুঃখ ও দুর্দশা থেকে মুক্তি মেলে। সেই সঙ্গে শারীরিক, মানসিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শক্তি লাভ হয়।তাই ফল হারিণী কালী পুজোয় তারাপীঠে ভিড় করেন অসংখ্য ভক্ত ও মাতৃ সাধক|এবছর আমি নিজেও তারাপীঠে উপস্থিত থাকবো ফলহারিণী অমাবস্যা তিথিতে|চলতে থাকবে কালী কথা আগামী পর্ব গুলিতে ফল হারিণী অমাবস্যা নিয়ে আরো অনেক কথা বলবো সঙ্গে আরো কিছু কালী মন্দির ও সেখানকার ফল হারিণী কালী পুজো নিয়ে বলবো|পড়তে থাকুন|আগামী ফলহারিণী অমাবস্যা তারাপিঠে যারা দোষ খণ্ডন করাতে চান যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কালীকথা – ফল হারিণী অমাবস্যা ও দক্ষিনেশ্বর

সামনের 29 তারিখ ফলহারিণী অমাবস্যা|আজ থেকে শুরু করছি কালী কথা নামে এই বিশেষ অধ্যায়|কালী কথায় থাকবে ফলহারিণী অমাবস্যা নিয়ে আলোচনা ও তার সাথে বাংলার কিছু প্ৰখ্যাত কালী মন্দিরের কথাও বলবো যেখানে নিষ্ঠা সহকারে পালিত হয় ফলহারিণী কালী পুজো|জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে একটি রাশিচক্রে দু’রকমের গ্রহ থাকে। নৈসর্গিক শুভ গ্রহ ও অশুভ গ্রহ। শুভগ্রহ জাতকের জীবনে শুভ ফল দিয়ে থাকে। ঠিক একই রকম অশুভ গ্রহ অশুভ ফল প্রদান করে থাকে, বিশেষ করে অশুভ গ্রহের দশাকালে জাতককে নানা ভাবে নাস্তানাবুদ হতে হয়। কোনও গ্রহই শুভ বা অশুভ নয়। গ্রহের রাশিচক্রে অবস্থান, মাঙ্গলিক অবস্থান ও ভাবগত ভাবে অবস্থানের ওপর গ্রহের শুভাশুভত্ব নির্ভর করে।আবার কিছু গ্রহগত সংযোগ বা অশুভ যোগ যাদের দোষ বলা হয়ে থাকে তারাও জীবনকে দুর্বিসহ করে তোলে, যেমন কালসর্প দোষ, মাঙ্গলিক দোষ, গ্রহণ দোষ, বিষ যোগ, দারিদ্র যোগ,ইত্যাদি|গ্রহের এই অশুভ ফল দেয়ার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে দায়ী কর্মফল|এই কর্ম ফল পূর্ব জন্মের ও হতে পারে আবার কোনো পূর্ব পুরুষের ও হতে পারে|দেবী কালী তার ফল হারিণী রূপে অবির্ভুতা হয়ে মানুষ কে তার কর্মফল থেকে মুক্তি দেন|অর্থাৎ গ্রহ দোষ খণ্ডনের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ তিথি ফলহারিণী অমাবস্যাতিথি|ফল হারিণী কালী পুজো নিয়ে বলতে গেলে সবার আগে দক্ষিনেশ্বর মন্দির নিয়ে বলতে হয় কারন ঠাকুর রামকৃষ্ণ এই দিনেই স্ত্রী সারদা দেবীকে পুজো করেছিলেন জগৎ কল্যাণের জন্য। ১২৮০ বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ইংরেজির ১৮৭৩ সালে জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিতে দক্ষিণেশ্বরে আদ্যাশক্তি মহামায়ার পুজো করেছিলেন ঠাকুর রামকৃষ্ণ|ফলহারিণী কালী পুজোর দিন শ্রীমা সারদাকে ষোড়শীরূপে পুজো করেছিলেন তিনি যিনি দশ মহাবিদ্যার অন্যতম রূপ|আজও রামকৃষ্ণমঠ ও আশ্রমে এই পুজো ‘ষোড়শী’ পুজোনামে পরিচিত।আজও মহা ধূমধামে দক্ষিনেশ্বরে ফল হারিণী কালী পুজো অনুষ্ঠিত হয়|চলতে থাকবে কালী কথা আগামী পর্ব গুলিতে ফল হারিণী অমাবস্যা নিয়ে আরো অনেক কথা বলবো সঙ্গে আরো কিছু কালী মন্দির ও সেখানকার ফল হারিণী কালী পুজো নিয়ে বলবো|আগামী ফলহারিণী অমাবস্যা তারাপিঠে যারা দোষ খণ্ডন করাতে চান যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরান কথা – সুদর্শন চক্র

আমাদের সনাতন ধর্মের দেবদেবীদের প্রত্যেকের যেমন নিজস্ব বাহন রয়েছে, সৃষ্টি কার্যে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে, তেমনই তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব অস্ত্র রয়েছে, যেমন শিবের ত্রিশূল, ইন্দ্রের বজ্র, পরশুরামের কুঠার, হনুমানের গদা, এই অস্ত্র গুলিরও নিজস্ব ইতিহাস ও পৌরাণিক ব্যাখ্যা আছে, আধ্যাত্মিক তাৎপর্য আছে, নাম ও আছে|আজ ভগবান বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র|নিয়ে আলোচনা করবো|হিন্দু বর্ষপঞ্জি অনুসারে, প্রতি বছর কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্দশীতে বৈকুণ্ঠ চতুর্দশী পালিত হয়, পুরান অনুসারে এই দিনে ভগবান শিব ভগবান বিষ্ণুকে সুদর্শন চক্র দিয়েছিলেন|সুদর্শন চক্র দানের প্রধান উদ্দেশ্য পালনকর্তা যেনো দৃঢ় হাতে সিস্টের পালন ও দুষ্টের দমন করতে পারেন|সু শব্দের অর্থ মঙ্গল এবং দর্শন মানে দেখা দেয়া অর্থাৎ সুদর্শন হলো মঙ্গলময় দর্শন এবং চক্র মানে যা নিজে থেকে ধাবিত হতে পারে|সুদর্শন চক্রের সাথে জড়িয়ে আছে বিষ্ণুর আরেক অবতার পরশুরামের নাম , ত্রেতাযুগে সীতার স্বয়ংবর সভায় যখন রাম হরধনু ভঙ্গ করে ফেলেন তখন রুষ্ট হয়ে তাঁকে শাস্তি দিতে মহেন্দ্র পর্বত থেকে সেখানে উপস্থিত হন পরশুরাম।কিন্তু বিষ্ণুর আর এক অবতার রামের আসল প্রকৃতি জানতে পেরে তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করেন তিনি। সেই সময় রাম তাঁকে সুদর্শন চক্রটি গচ্ছিত রাখতে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন যে দ্বাপর যুগে তিনি যখন আবার জন্ম নেবেন, তখন যেন পরশুরাম সেটি ফিরিয়ে দেন। দ্বাপর যুদে শ্রীকৃষ্ণের রূপ ধরে বিষ্ণু ধরাধামে অবতীর্ণ হলে ধর্ম রক্ষা করার জন্য তাঁকে সুদর্শন চক্রটি ফিরিয়ে দেন পরশুরাম। সুদর্শনচক্র তৈরি করেছিলেন স্বয়ং বিশ্বকর্মা, বৈষ্ণবরা বিশ্বাস করেন সুদর্শন চক্র ও বিষ্ণু এক এবং অভিন্ন|ভয়ংকর অসুররের কাছ থেকে সৃষ্টি কে রক্ষা করা হোক বা ক্রোধে উন্মত্ত মহাদেব কে শান্ত করতে সতীর দেহকে খণ্ডিত করা হোক সুদর্শন চক্র থাকে মুখ্য ভূমিকায়|প্রকৃত অর্থে সুদর্শন চক্র শুভ শক্তির প্রতীক যা অশুভ শক্তিকে বার বার পরাজিত করেছে|আগামী পর্বে আবার নতুন কোনো পৌরাণিক বিষয় নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরান কথা – শ্রী কৃষ্ণের মৃত্যু রহস্য

আমাদের সনাতন ধর্মে অসংখ্য দেবদেবী থাকলেও ভগবান একজনই, তিনি স্বয়ং কৃষ্ণ|শৈশবে কালিয়া নাগ,পুতনা সহ একাধিক অসুর বধ এবং পরবর্তীতে মহাভারতের যুদ্ধে তার ভূমিকা আমরা কম বেশি সবাই জানি|কিন্তু মহাভারতের যুদ্ধের পর কৃষ্ণ কোথায় গেলেন?কিভাবে মৃত্যু বরণ করলেন তিনি? এমনকি মৃত্যুর পরেও তার শরীরের একটি অংশ নাকি জীবিত আছে! আজও তা অক্ষয় রয়েছে! কি তা?আজকের পুরান কথায় জানাবো শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যু সংক্রান্ত সব রহস্যময় তথ্য|যাদব বংশ শেষ হয়ে যাওয়ার শোকে একটা গাছের তলায় বসেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। সেই সময় তাঁর রক্তবর্ণ চরণ দেখে হরিণ মনে করে তীর ছোঁড়েন সেই মত্‍স্যজীবী। এই তীর তৈরিহয়েছিল একটি বিশেষ লোহার টুকরো থেকে। পায়ে এই তীর গেঁথে মৃত্যু হয় শ্রীকৃষ্ণের|এবার এর আগের ঘটনা জানলে বোঝা যাবে কিভাবে শেষ হলো যাদব বংশ এবং এই বিশেষ তীর বা এলো কোথাথেকে|মহাভারতের যুদ্ধের পর নিজের রাজ্য দ্বারকায় ফিরে যান কৃষ্ণ। স্ত্রী রুক্মীনি ও পুত্র সাম্বকে নিয়ে ৩৫ বছর সুখে বাস করেন।একদিন সপ্তঋষি কৃষ্ণ ও বলরামের সঙ্গে দেখা করতে দ্বারকা আসেন। তাঁদের নিয়ে একটু মজা করতে চান কৃষ্ণ-পুত্র সাম্ব ও তাঁর বন্ধুরা। মহিলার মত সাজপোশাক করে এবং পেটে লোহার টুকরো বেঁধে গর্ভবতী মহিলা সেজে সপ্তঋষির সামনে আসেন সাম্ব। ঋষিরা পুরো বিষয়টা ধরে ফেলেন|সপ্তঋষি অভিশাপ দেন যে সাম্বর শরীরে যা বাঁধা আছে, তাই এই যাদব বংশের ধ্বংসের কারণ হবে। ঠিক পরের দিন পেটে প্রচণ্ড ব্যাথায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন সাম্ব। কৃষ্ণ ও বলরাম তাঁকে দেখতে এলে সপ্তঋষির অভিশাপের কথা শোনের। সাম্বর পাশে রাখে লোহার টুকরোটাও দেখেন তাঁরা। ওই লোহার টুকরো গুঁড়ো করে প্রভাস নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। অনেকটা গুঁড়ো হলেও একট টুকরো লোহা থেকে যায়। তা নদীর জলে ভাসিয়ে দিলে সেই লোহার টুকরো একটা মাছ গিলে ফেলে। ওই মাছ আবার ধরা পড়ে স্থানীয় এক মত্‍স্যজীবীর জালে। মাছ কেটে পেটের মধ্যে লোহার টুকরো দেখে তা দিয়ে তীর বানান ওই মত্‍স্যজীবী|এবং ঘটনা চক্রে ওই তীরের আঘাতেই প্রান যায় কৃষ্ণর|সত্যি হয় সপ্তর্ষির অভিশাপ|এবার আসি কৃষ্ণের মৃত্যুর পরের রহস্যে|কৃষ্ণের অন্তেষ্টি ক্রিয়া সাঙ্গ করেন পাণ্ডবরা। কিন্তু চিতা নিভে গেলেও দেখা যায় তাঁর হৃদপিণ্ডটি অক্ষত আছে । তখন সেটিকে নদীর জলে ভাসিয়ে দ্বারকার সব মহিলা ও শিশুদের নিয়ে হস্তিনাপুর ফিরে যান পাণ্ডবরা। সমুদ্রের জল এসে ভাসিয়ে নিয়ে দ্বারকাকে। সমুদ্রের নিচে ডুবে যায় দ্বারকা।কিন্তু কৃষ্ণের হৃদপিণ্ড সাগরের জলে জীবিত অবস্থায় নিমজ্জিত হয়|এরপর কেটে যায় বহু কাল, একদিন নদীর জলে স্নান করতে করতে কৃষ্ণের দিব্য হৃদয় উদ্ধার করেন পুরীর মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্ন। সেই হৃদয় হাতে নিতেই স্বয়ং বিষ্ণু তাঁর কানে ফিসফিস করে বসেন যে এই হৃদয় তাঁরই। এই পৃথিবীতে এটি বরাবর থাকবে। দ্রুত জগন্নাথ মন্দিরে এসে জগন্নাথ দেবের মুর্তির মধ্যেই তা স্থাপন করেন ইন্দ্রদ্যুম্ন।বিষ্ণুর আদেশে এমন ভাবে তা করা হয়, যাতে তা কেউ দেখতে না পায়|মনে করা হয় আজও সেই দিব্য বস্তু, স্বজত্নে এবং গোপনে সংরক্ষিত আছে প্রভু জগন্নাথের মূর্তির মধ্যে|এই তথ্য বা তত্ত্ব বহু কাল থেকেই কিংবদন্তী রূপে প্রচলিত রয়েছে ভারতের আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে| যদিও কিঞ্চিৎ মতপার্থক্য বা ভিন্ন মত ও রয়েছে|শাস্ত্রীয় ভাবে প্রমাণিত নয়, তবুও অনেকের কাছেই এই তত্ত্ব গ্রহন যোগ্য এবং সমর্থনযোগ্য|তবে ব্যাক্তিগত ভাবে আমি মনে করি, ভগবানের লীলা বোঝা তো ওতো সহজ নয়, আমরা শুধু অনুমান করতে পারি|আর কিছু রহস্য আজীবন রহস্যই থাকবে|কিছু প্রশ্নের উত্তর না খোঁজাই ভালো|শ্রদ্ধা আর ভক্তি টাই শেষ কথা|চলবে পুরান কথা|আরো অনেক রহস্যময় পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আগামী দিনে আপনাদের সামনে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|