সনাতন ধর্মের পবিত্র চার ধামের মধ্যে পুরীর জগন্নাথ মন্দির অবশ্যই অন্যতম|পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য আছে যা কিন্তু যথেষ্ট রহস্যে মোড়া, তারমধ্যে অন্যতম প্রভু জগন্নাথের রত্নভান্ডার যাকে গুপ্ত ধন বালাই যায় কারন আজ অবধি সেই সঞ্চিত ধন ভাণ্ডারে ঠিক কি কি আছে তার কোনো সঠিক হদিশ পাওয়া যায়নি। আজকের লেখা এই গুপ্তধন রহস্য নিয়ে।একটি সরকারি তথ্য অনুসারে মন্দিরের কোষাগারে রয়েছে সোনার হার, মূল্যবান রত্ন পাথর, সোনার থালা, মুক্তা, হীরা, প্রবাল ও রৌপ্য সামগ্রী।জগন্নাথের মাথার ব্রহ্মজ্যোতি হিরে, বলরামের মাথার নীলা বা সুভদ্রার মাথার মানিক, সবই রত্নভান্ডারে রাখা আছে।যে ব্রহ্মজ্যোতি হীরের কথা বললাম প্রতি বছর চিতালগি অমাবস্যায় এই আভরণ মাথায় ধারণ করেন প্রভু। আর স্নানযাত্রার সময় সেই হীরকখচিত আভূষণ তাঁর মাথা থেকে সরিয়ে রত্ন ভাণ্ডারে রেখে দেয়া হয়।একটি জনশ্রুতি আছে যে একবার এক সেবায়েত রত্ন ভাণ্ডারে দৃষ্টি নিঃক্ষেপ করায় রত্নের তেজে তার দৃষ্টি শক্তি চলে যায়।পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দীরের আর একটি রহস্য হলও গুপ্তধনের চাবীর রহস্য।বাহির ভান্ডার এবং ভিতর ভান্ডার এই দুই ভাগে বিভক্ত প্রভু জগন্নাথের রত্ন ভান্ডার যেখানে ঢোকার চাবি তিন জোড়া। পুরীর গজপতি রাজা, মন্দিরের সরকারি প্রশাসকের অফিস আর ভান্ডারের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর জিম্মাদারের কাছে চাবি গুলি রাখা থাকে। তিন মাথা একত্র না হলে বাহির-ভান্ডারই খুলবে না। সেখানেই রাখা থাকে বিভিন্ন পালাপার্বণে প্রভুর বেশভূষা— উল্টোরথে মন্দির প্রত্যাবর্তনের প্রাক্কালে রথারূঢ় জগন্নাথের সোনার বেশ বা মন্দিরের রাজরাজেশ্বর বেশের ধড়াচুড়ো। ভিতর-ভান্ডারের সম্পদ সচরাচর জগন্নাথের কাজে লাগে না।প্রসঙ্গত বলে রাখি মহারাজা রঞ্জিত সিং কোহিনূর হিরে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে দানের সিদ্ধান্ত নেন। তবে সেই ইচ্ছা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই রঞ্জিত সিংয়ের মৃত্যু হয় তারপর রঞ্জিৎ সিংয়ের ছেলে দলিপ সিংয়ের থেকে এই হিরে চলে যায় ইংল্যান্ডে।সেক্ষেত্রে কোহিনূর হিরের আসল মালিক জগন্নাথ দেব এবং তার প্রকৃত স্থান জগন্নাথ দেবের এই বিখ্যাত রত্ন ভাণ্ডারেই হওয়া উচিৎ।অনেকের মতে মন্দিরের উচ্চতা যত ঠিক ততটাই এই মন্দিরের গুপ্তধনের পরিমাণ। যা স্বর্ণ এবং যহরতে পরিপূর্ন। কথিত আছে কোনো এক অলৌকিক শক্তি এই গুপ্তধনের পাহাড়া দিচ্ছে।আজ এই বিশেষ পর্ব এখানেই শেষ করছি|ফিরবো আগামী পর্বে সঙ্গে থাকবে এমনই কোনো আধ্যাত্মিক এবং রহস্যময় বিষয়।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
বিশেষ পর্ব – শিবধাম কৈলাশ রহস্য
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
শাস্ত্রে কৈলাস পর্বতকে শিবের ‘লীলাধাম’ বলা হয়েছে কারন শিব এবং তার সহধর্মিনী দুর্গা ও কার্তিক গণেশ সহ শিবের সকল অনুসারী ভক্তরা কৈলাসে বাস করেন|আজকের পর্বে এই কৈলাশপর্বত সম্পর্কে কিছু অজানা কথা কিছু রহস্যময় তথ্য আপনাদের সাথে ভাগ করে নেবো।প্রতি বছর বহু মানুষ মানস সরোবর যাত্রা করেন। তবে কৈলাস পর্বতের শৃঙ্গে এখনও পর্যন্ত কেউ উঠতে পারেননি। একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টের পর যাওয়া সেখানে নিষিদ্ধ। ঠিক পিরামিডের আকারের এই পাহাড়ে অনেক প্রাচীন গুম্ফা ও গুহা রয়েছে। যেখানে দেখা মিলতে পারে বৌদ্ধ ও হিন্দু সন্ন্যাসীদের। এই সন্ন্যাসীরা লোকচক্ষুর আড়ালে বহু বছর ধরে তপস্যা করে চলেছেন।তিব্বত মালভূমি থেকে প্রায় কুড়ি হাজার ফুটের বেশি ওপরে অবস্থিত কৈলাস হিন্দু সম্প্রদায় ছাড়াও বৌদ্ধদের কাছেও অত্যন্ত পবিত্র ধর্মীয় স্থান|কৈলাস পর্বতকেই পৃথিবীর কেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।অনেকে বলে থাকেন কৈলাস পর্বত থেকে ফেরার পরে হঠাত্ করে চুল ও নখ বেশ কিছুটা বড় হয়ে যায়। আবার কথিত আছে, একবার কয়েকজন সাইবেরিয়ান পর্বতারোহী কৈলাস পর্বতের নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন। সঙ্গে সঙ্গেই তাদের বয়স কয়েক দশক বেড়ে যায় এবং এর এক বছর পরেই বয়সজনিত কারণে মৃত্যু হয় তাঁদের|এসবই অবশ্য প্রচলিত জনশ্রুতি বা কিংবদন্তী|একটি ব্যাখ্যা অনুসারে সময়ের ধরা বাঁধা গন্ডির বাইরে অবস্থিত এই পর্বত তাই এখানে নিদ্দিষ্ট এরিয়ার বাইরে নিষিদ্ধ জায়গায় যাওয়া মানে টাইম মেশিনে চড়ে অন্য সময়ে গিয়ে পড়া। তাই এই সব হয়।তিব্বতি লোককথা অনুযায়ী, মিলারেপা নামে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী একবার কৈলাস পর্বতের শীর্ষের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি সবাইকে সাবধান করে দেন যে ঈশ্বরের বাসস্থানে না যাওয়াই ভালো। মানস সরবোর ছাড়াও কৈলাস পর্বতের নীচে রয়েছে আরও একটি অপরূপ সুন্দর হৃদ রাক্ষস তাল।প্রায় পনেরো হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত মানস সরোবর বিশ্বের উচ্চতম মিষ্টি জলের হৃদ। আরও একটি আশ্চর্যের বিষয় যত জোরেই হাওয়া থাকুক এই মানস সরোবরের জল সবসময়ই শান্ত কিন্তু রাক্ষসতালের জল সব সময় অশান্ত থাকে। বিখ্যাত এক রাশিয়ান চিত্রকার বহুকাল এই অঞ্চলে কাটিয়ে তার অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করেছিলেন, তার কথায় কৈলাসের আসেপাশে শাম্বালা নামের একটি রহস্যময় রাজ্য আছে। সেখানে শুধু উচ্চ কোটির তপস্যিরা বসবাস করেন|এই শাম্বালাই অনেকের মতে জ্ঞান গঞ্জ যার কথা আগেই আপনাদের বলেছি।বেশ কিছু বছর আগে আরো একটি রাশিয়ান অভিযাত্রী দল কৈলাশ অভিযানে গেছিলো তারা ফিরে এসে জানায় যে কৈলাশ সম্ভবত একটি বড় পিরামিড যাকে অনেক ছোট ছোট পিরামিড ঘিরে আছে আর সেখানে বহু অলৌকিক ঘটনা ঘটে।সেই অভিযাত্রী দলের নেতা এর্নেস্ট নিজের ডাইরি তে লিখেছিলেন যে রাতের নিশ্তব্দতায় পাহাড়ের ভিতর থেকে একটি আজব ফিসফিস এর শব্দ আসে। একবার নয় বহু বার এমন অভিযান হয়েছে এবং সবাই স্বীকার করেছেন যে কৈলাস পর্বতের চারিদিকে একটি অপার্থিব এবং অলৌকিক শক্তির স্রোত বয়ে চলে|যেখানে বাস করেন স্বয়ং মহাদেব সেই স্থান ঘিরে রহস্য ও অলৌকিক ঘটনা ঘটবে সেটাই স্বাভাবিক।ফিরে আসবো আগামী পর্বে থাকবে এমনই কোনো অলৌকিক ও রহস্যময় বিষয় নিয়ে আলোচনা।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
বিশেষ পর্ব – তিরুপতি বালাজি রহস্য
ভগবান বহুবার বহু অবতারে, ভিন্ন ভিন্ন রূপে ভক্তের উদ্ধারের জন্য পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছেন মনে করা হয় কলিযুগের দুঃখ ও যন্ত্রণা থেকে মানব সমাজকে মুক্ত করতে ভগবান বিষ্ণু তিরুমালায় ‘ভেক্টেশ্বর’ রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন|আজকের পর্ব আলোচনা করবো দক্ষিণ ভারতের এই তিরুপতি বালাজি মন্দিরের কিছু অদ্ভুত এবং অলৌকিক রহস্যময় বিষয় নিয়ে।তিরুপতি মন্দিরের আরাধ্য দেবতা ভেঙ্কটেশ্বর। তাকে ভগবান বিষ্ণুর অবতার রূপেই দেখা হয়। তার আরো অনেক নাম আছে যেমন বালাজি গোবিন্দ এবং শ্রীনিবাস।তিরুমালার রাজকুমারী পদ্মাবতীর সঙ্গে শ্রীবিষ্ণুর বিবাহ স্থির হয় এবং এই বিবাহের জন্যই বিষ্ণু সম্পদের দেবতা কুবেরের কাছ থেকে বিবাহ উপলক্ষে বিপুল ঋণ গ্রহণ করেন।ঋণ করার কারণ পদ্মাবতীর বাবা এই অর্থ দাবি করেছিলেন। কুবের এই শর্তে ঋণ দান করেন যে, বিষ্ণু যতদিন পর্যন্ত এই ঋণ শোধ করতে পারছেন না, ততদিন তিনি বৈকুণ্ঠে প্রবেশ করতে পারবেন না। সেই থেকে আজ পর্যন্ত বিষ্ণু কুবেবের ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি। ভক্তরা ভগবানকে বিপুল অর্থ ও সম্পদ প্রদান করেন, যাতে তিনি ঋণমুক্ত হন|আজও অগণিত ভক্ত ভগবানের ঋণ পরিশোধ করতে মুক্ত হস্তে দান করে চলেছেন|সেই জন্যই এই মন্দির আজ পৃথিবীর অন্যতম ধনী মন্দির।অনেকেই এই মন্দিরে চুল দান করেন।তার সাথে একটি পৌরাণিক ঘটনার যোগ আছে।একবার ভগবান ভেক্টেশ্বরের মাথায় এক নাবালক রাখাল নিজের অজান্তেই আঘাত করেছিলেন যার ফলে ভগবানের মাথার কিছু অংশের চুল ছিঁড়ে পড়ে যায়। নীলাদেবী নামে এক গন্ধর্ব রাজকুমারী এই ঘটনাটি দেখতে পান| নীলাদেবী মনে করেন, ভগবান ভেক্টেশ্বরের সৌন্দর্যে কোন ক্ষুত থাকা উচিত নয় তিনি তখন নিজের মাথার চুল কেটে জাদুশক্তির সাহায্যে ভগবান ভেক্টেশ্বরের মাথায় প্রতিস্থাপন করেন|নীলাদেবী যেহেতু নিজের সৌন্দর্যের কথা না ভেবে ভগবান ভেক্টেশ্বরের সৌন্দর্যের বিষয়ে ভেবে নিজের মাথার চুল তাঁকে দান করেছিলেন, তাই ভগবান ভেক্টেশ্বরও রাজকুমারী নীলাদেবীকে এক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন|সেই প্রতিশ্রুতি অনুসারে এই ভেক্টেশ্বর মন্দিরে আগত প্রত্যেক ভক্ত তাঁদের নিজের মাথার চুল অর্পণ করবেন ভগবান ভেক্টেশ্বরকে। এবং সেই চুল প্রকৃত অর্থে পাবেন রাজকুমারী নীলাদেবী।সেই প্রথা আজও চলে আসছে|তিরুপতির বালাজি মূর্তির বুকে কান পাতলে শোনা যায় সমুদ্রের শব্দ|ভগবানের কপালে জমে বিন্দু বিন্দু ঘাম|ভগবানের চুল ও কোনো সাধারণ চুল নয়,তা আসল, অকৃত্তিম|বালাজির পূজা সামগ্রীও আসে একটি মাত্র নিদ্দিষ্ট গ্রাম থেকে|এই প্রথা চলে আসছে যুগ যুগ ধরে|ভগবান ভেঙ্কটেশ্বরের চোখ কেনো ঢাকা তারও নানা রকম ব্যাখ্যা হয়|অনেকে বিশ্বাস করেন এই বিপুল ঋণের কারণেই লজ্জিত বালাজি নাকি চোখের অর্ধাংশ ঢেকে রাখেন|তবে স্থানীয়রা মনে করেন বালাজির তিরুপতির চোখ যাতে ঢাকা থাকে তা আসলে তিলক|আবার এরেকটি ভিন্ন ব্যাখ্যা আছে তা হলো বালাজির দৃষ্টি অতীব অলৌকিক শক্তি সম্পন্ন। এই শক্তির প্রভাব সকলের সহ্য হবে না তাই ওই বিশেষ তিলক দিয়ে তাঁর নয়নকে অর্ধনিমিলিত রাখা হয় যাতে দর্শনকারী দের ওই মহা তেজের সম্মুখীননা হতে হয়।আমি নিজেও তিরুপতি বালাজি মন্দির দর্শন করেছি এবং এই প্রতিটি রীতি নীতি এবং অদ্ভুত বিষয় গুলি যে প্রতিদিন ঘটে চলেছে তা সামনাসামনি প্রত্যক্ষ করে ধন্য হয়েছি|ভারতে এমন রহস্যর শেষ নেই আবার পরের পর্বে ফিরে আসবো নতুন কোনো আধ্যাত্মিক এবং একইসাথে রহস্যময় বিষয় নিয়ে|পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
বিশেষ পর্ব – পদ্মনাভ মন্দির রহস্য
আজকের পর্বে কেরলের বিখ্যাত ও বিতর্কিত পদ্মনাভ মন্দির নিয়ে আলোচনা করবো। এই মন্দির নিয়ে রহস্যর শেষ নেই। তবে সেই রহস্য ময় জগতে প্রবেশ করার আগে এই মন্দিরের প্রাচীন ইতিহাস কিছুটা জেনে নেয়া প্রয়োজন।এই মন্দিরটির উল্লেখ রয়েছে মহাভারত থেকে শুরু করে বিষ্ণু পুরাণ, মৎস পুরাণ, স্কন্দপুরাণ, বরাহপুরাণ, পদ্মপুরাণ সহ একাধিক ধর্মগ্রন্থে। ভগবান বিষ্ণু তাঁর অনন্তশয়ান মুদ্রায় পূজিত হন এখানে।মনে করা হয় খৃষ্টীয় অষ্টম শতাব্দীতে এই মন্দির নব রূপে প্রতিষ্ঠা করেন ত্রাভাংকোর প্রসিদ্ধ রাজাদের মধ্যে অন্যতম মার্তন্ডা বর্মা শ্রীপদ্মনাভস্বামী মন্দিরের বিষ্ণু মুর্তিটি গঠন শৈলীর জন্য জগৎ প্রসিদ্ধ কারন নেপালের গন্ডকী নদীর তীর থেকে নিয়ে আসা এক হাজারের বেশি শালগ্রাম শিলা দিয়ে নির্মিত এই মূর্তি |মন্দিরের গর্ভ গৃহে একটি পবিত্র বেদীর উপর আঠেরো ফুট দৈর্ঘ্যর দেবমূর্তিটি রয়েছে যা তিনটি ভিন্ন দরজা থেকে দর্শন করা যায়|ক্রমানুসারে মস্তক এবং বক্ষ প্রথম দরজা দিয়ে, হস্তগুলি দ্বিতীয় দরজা দিয়ে এবং পদযুগল তৃতীয় দরজা দিয়ে দর্শন করা যায়|সেই প্রাচীন কালে এই সুক্ষ জ্যামিতিক হিসেবে নিকেশ কিভাবে সম্ভব হয়েছিলো তাও এক রহস্য।এই মন্দিরের প্রধান রহস্য এই মন্দিরের বিপুল ধনভান্ডার যেখানে ঠিক কি কি আছে তার সন্ধান আজও পুরোপুরি পাওয়া যায়নি।কয়েক বছর আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অনুসন্ধান চালিয়ে এই মন্দিরের অভ্যন্তরে ৬টি প্রকোষ্ঠের সন্ধান পাওয়া যায়, যার প্রত্যেকটি থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ সোনা। সব মিলিয়ে কয়েক লক্ষ কোটি টাকার সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিস এখান থেকে পাওয়া যায়|তবে মূল রহস্য এই ৬টি প্রকোষ্ঠ ছাড়িয়ে ৭ নম্বরে প্রকোষ্ঠ কে কেন্দ্র করে । এই প্রকোষ্ঠটি আজ পর্যন্ত খোলা সম্ভব হয়নি যার প্রধান কারন ধর্মীয় বিশ্বাস ও কিছুটা আইনি জটিলতা| এই প্রকোষ্ঠের দরজায় দুটি সাপের চিহ্ন আঁকা রয়েছে। কিন্তু কোনও স্ক্রু, তালা বা অন্য কিছু নেই, যা দিয়ে তা খোলা যেতে পারে|একটি কিংবদন্তি অনুসারে এই প্রকোষ্ঠের দরজা ‘নাগবন্ধনম’ দ্বারা আবদ্ধ যা কেবল মাত্র একটি নিদ্দিষ্ট মন্ত্রের বিশেষ উচ্চারণেই খুলতে পারে|আজও এক রহস্য এই বন্ধ দরজা। প্রত্যক্ষদর্শী রা বলেন বন্ধ দরজায় কান পাতলে নাকি ভিতরে জলের স্রোতের শব্দ শোনা যায় এমনকি প্রকোষ্ঠের ভিতরে সাপের হিস-হিস শব্দও শোনা গিয়েছে বলে অনেকে জানান|ঠিক কি আছে এই বন্ধ দরজার ওপারে তা নিয়ে জলপনার শেষ নেই।কেউ কেউ মনে করেন ওই বন্ধ প্রকোষ্টে রয়েছে অপার ঐশ্বর্য, ধন সম্পদ আবার কেউ কেউ বিশ্বাস করেন এর মধ্যে রাখা রয়েছে সৃষ্টিরহস্যের চাবিকাঠি|যতটা সম্পত্তির আভাস পাওয়া গেছে তাতেই পৃথিবীর ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত যত হিন্দু মন্দিরের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বিত্তশালী মন্দির পদ্মনাভস্বামীর মন্দির।ঠিক কি ভাবে এই মন্দিরে এই অতুল ঐশর্য জমা হয়েছে তা নিয়েও কয়েকটি মতবাদ আছে।অনেকে মনে করেন দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে সোনার খনি ছিল একসময়। সুমেরীয় আমলে মালাবার অঞ্চলে ছিল ব্যবসা বাণিজ্যের বেশ কয়েকটি কেন্দ্র। বাণিজ্যে উন্নতির আশায় ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময়ে নানা মূল্যবান সোনার নৈবেদ্য দান করত বিভিন্ন মন্দিরে।সেই ভাবে এই মন্দির এতো সম্পত্তির অধিকারী হয়েছে। আবার অনেকে মনে করেন মুসলিম যুগে নিজেদের ধন সম্পত্তি সুরক্ষিত রাখতে এই মন্দিরের মধ্যে গোপন কুঠুরিতে রাজারা তাদের সম্পদ লুকিয়ে রাখতো।সম্পদের উৎস যাই হোক এই মুহর্তে সব থেকে বেশি আলোচিত বিষয় এই গুপ্তধনের ঘরের বন্ধ দরজা।মন্দিরের পূজারী ও শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, এই দরজা যে খুলবে প্রাণসংশয় হতে পারে তাঁর। জোর করে দরজা খোলার চেষ্টা হলে তা রাজ্য বা দেশের উপর বয়ে আনতে পারে সাংঘাতিক দুঃসময়। এমনকি একবার আইনি পথে দরজা খোলার পরিকল্পনা হয় কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই আবেদনকারীর রহস্য জনক ভাবে মৃত্যু হয়।তারপর থেকে আর ওই দরজা খোলার চেষ্টা হয়নিজগতের কিছু রহস্য হয়তো রহস্য থাকাই শ্রেয়।ফিরে আসবো এমনই কোনো রহস্য নিয়ে আগামী পর্বে। থাকবে নতুন কোনো অজানা এবং অলৌকিক বিষয়। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
বিশেষ পর্ব – অমর নাথ রহস্য
ভারতের প্রাচীন তীর্থ ক্ষেত্র গুলি অনেক রহস্যগোপন করে রেখেছে নিজের মধ্যে। শুধু ধর্ম বা আধ্যাত্মিকতা নয়। রয়েছে অনেক ইতিহাস এবংপৌরাণিক কাহিনী। এমনই এক প্রাচীন এবংনানা রকম রহস্য দিকে মোরা অমরনাথ।আজকের পর্বে লিখবো এই অমরনাথ নিয়ে।অমরনাথ গুহার আবিষ্কার সম্পর্কে একটি প্রাচীন জনশ্রুতি আছে। শোনা যায় এক রাখাল একদিন এই পাহাড়ি অঞ্চলে ভেড়া চড়ানোর সময়ে।এক জটাধারী সন্ন্যাসীর দেখা পায় তিনিতাকে কয়লা ভর্তি একটি ব্যাগ দিয়েছিলেন।সেই রাখাল বাড়িতে গিয়ে যখন সেই ব্যাগটিদেখে তখন তার মধ্যে শোনা দেখে চমকে ওঠে । অদ্ভূত ভাবে কয়লা সোনায় পরিণত হয়েছে।সে এই রহস্যর উত্তর পেতে সেই সন্ন্যাসীর সন্ধানে ফিরে যান সেই পাহাড়ে । সন্ন্যাসীকে খুঁজতে গিয়ে তিনি একটি পাহাড়ি গুহা দেখতে পান।তবে সেই সন্ন্যাসী সেখানে ছিলেন না। তখন থেকেই এই স্থানটি তীর্থস্থান হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।সেই গুহাই আজকের অমরনাথ গুহা।অমর নাথে বাবা মহাদেবকে বরফানি বাবানামে ডাকা হয়। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ভাবে বরফ দিয়ে বছরের একটি নিদ্দিষ্ট সময়ে সৃষ্টি হওয়া শয়ম্ভু দেবাদিদেবের উচ্চতা পরিবর্তিত হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, বরফানি বাবার উচ্চতা চাঁদের আলোকে কমতে থাকে এবং বাড়তে থাকে। যখন পূর্ণিমা থাকে তখন শিবলিঙ্গ তার পূর্ণ আকারে থাকে। অন্যদিকে, অমাবস্যার দিনে শিবলিঙ্গের আকার কিছুটা কমে যায়।এই শিবলিঙ্গেঅবিরাম তুষার ফোঁটা পড়তে থাকে।যেনো বাবার জলাভিষেক হয়ে চলেছে প্রতি মুহূর্তে।পুরান অনুসারে এই গুহায় ভগবান শিব দেবী পার্বতীকে অমরত্বের গোপন রহস্য বর্ণনা করেছিলেন।প্রতি বছর অমরনাথ যাত্রার সময় পবিত্র গুহায় একজোড়া পায়রা উড়ে এসে বসে। গুহায় শিবলিঙ্গের পাশাপাশি ওই জোড়া পায়রা দর্শন করাও অত্যন্ত শুভ।কিভাবে এবং কেনোপায়রার এই জোড়া এখানে আসে সেই নিয়েএকটি পৌরাণিক কাহিনী আছে।আগেই বলেছি পৌরাণিক কাহিনি মতে অমরনাথের এই পবিত্র গুহায় দেবী পার্বতীকে ভোলেনাথ অমরত্তর রহস্য ব্যাখ্যা করেছিলেন।এই জায়গায় এই ঘটনা ঘটেছিলো কারন শর্ত ছিলো আর কেউ এই জ্ঞান শুনবে না।তাই নির্জন স্থানে মহাদেব দেবীকে নিয়ে যান।শিব যখন পার্বতীকে এই গোপন জ্ঞানপ্রদান করছিলেন, সেই সময় একই গুহায় একজোড়া পায়রা উপস্থিত ছিল।সেই পায়রা যুগল ও শুনলো জন্ম মৃত্যুর অমোঘ চক্র থেকে মুক্তির পথ সম্পর্কিত নানা কাহিনি।এবং এই কাহিনি শোনার পর জোড়া পায়রা অমরত্ব লাভ করে। সেই দিনের পর থেকে আজ অবধি পবিত্র গুহায় তাদের দেখা যায়।আগামী পর্বে আবার ফিরে আসবো এমনই অদ্ভুত এবং রহস্য ময় কোনো দৈব্য স্থনের অজানা ইতিহাস নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।
বিশেষ পর্ব – তারাপীঠের ইতিহাস
বর্তমানে যে তারাপীঠ মন্দির বাংলার তন্ত্র সাধনার পীঠস্থান হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তার ইতিহাস কিন্তু বহু প্রাচীন এবং নানা দিক দিয়ে বেশ রহস্যময়। মূলত দুভাবে এই মন্দিরের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যকে ব্যাখ্যা করা যায় এক পুরাণ এবং লোককথা।সেদিক দিয়ে এই মন্দির হাজার বছর পুরোনো আবার বর্তমান মন্দিরের স্থাপত্যর বিচারে বা বামা নাটোর রাজপরিবার এবং ক্ষেপার সময় কাল থেকে ধরলে কয়েকশো বছরের ইতিহাস।শুরু করবো জয়দত্ত সদাগরের কথা দিয়ে ।আজ থেকে প্রায় আটশো বছর আগের ঘটনা। তিনি ছিলেন বীরভূমের রত্নাগড় নিবাসী। একবার তিনি বাণিজ্যে প্রভূত সম্পদ, অর্থ লাভ করে বাড়ি ফিরছিলেন। চলার পথে অসুস্থতায় মৃত্যু হল তাঁর সঙ্গে থাকা প্ৰিয় পুত্রের। বাড়ি ফিরেই ছেলের অন্ত্যেষ্টি করবেন স্থির করে তিনি মাঝিদের বললেন, পুত্রের দেহটাকে ভালো করে সংরক্ষণ করে রাখতে।এদিকে সন্ধ্যা নেমেছে। রাত্রিটা তাই পথেই বিশ্রাম নিতে হবে। চলতে চলতে থামলেন এক বিশাল জঙ্গলের পাশে। স্থানটির নাম চণ্ডীপুর।নিদ্রাহীন জয় দত্ত তখন মৃত ছেলের দেহ আঁকড়ে রাত জাগছেন। সেই সময় এক কুমারী মেয়ে নৌকার কাছে এসে দাঁড়ালেন। দেখা গেলো রাত্তির আকাশজুড়ে অপূর্ব এক জ্যোতি। অপূর্ব সুন্দরী সেই মেয়েটি জয়দত্তকে জিজ্ঞাসা করলেন,‘ও বাছা, এত নৌকা ভরে কী নিয়ে চলেছো গো?’ পুত্রশোকে জয়দত্তের মন ভারাক্রান্ত ছিল। তাই তিনি রাগত স্বরে মেয়েটিকে বললেন, ‘ছাই আছে’। সে কথা শুনে মেয়েটি ‘আচ্ছা’ বলে চলে গেলেন। কিছুক্ষণ পরে জয়দত্ত দেখলেন তাঁর নৌকার সব বাণিজ্যসামগ্রী, অর্থ ছাইতে পরিণত হয়েছে। পরদিন সকালে মাঝিরা রান্নায় বসল। খেয়েদেয়ে নৌকা নিয়ে যাত্রা করতে হবে। কাটা শোল মাছ কাছেই এক কুণ্ডের জলে ধুতে গেল তারা। কী আশ্চর্য! জলের স্পর্শ পেয়ে মাছটি জ্যান্ত হয়ে সাঁতরে চলে গেল। মাঝিরা দৌড়ে এসে জয়দত্তকে সব কথা জানাল। জয়দত্তের মনে পড়ল আগের রাতের সেই মেয়েটির কথা। তিনি বুঝতে পারলেন কোনো দেবী এসেছিলেন তার কাছে। অজ্ঞানতা বসত তিনি বুঝতে পারেননি।সেই রাতে দেবী তারা স্বপ্নে দেখা দিলেন এবং বললেন কুণ্ডের জল ছেলের গায়ে ছড়ালেই সে বেঁচে উঠবে। পরদিন বশিষ্ঠকুণ্ডের জল ছেলের গায়ে ছেটাতেই ছেলে ‘তারা তারা’ বলে বেঁচে উঠল সে। শুধু তাই নয় তিনি হারানো সম্পদও ফিরে পেলেন। সেদিন রাতে বী তাঁকে স্বপ্নে দর্শন দিলেন। তাঁকে আদেশ করে বললেন যে এই জঙ্গলের মধ্যে একটা শ্বেতশিমুল গাছের নীচে একটা শিলাবিগ্রহ রয়েছে। সেই বিগ্রহ একটা মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করে তার পুজোর ব্যবস্থা করবি। আমি হলাম উগ্রতারা। জঙ্গলের মধ্যে শ্মশানে আমার বাস।’ পরদিন সকালে জয় দত্ত আদেশ অনুসারে জঙ্গলে খুঁজে খুঁজে শ্বেতশিমুল গাছের নীচ থেকে শিলাবিগ্রহ আবিষ্কার করলেন এবং তার কাছেই পেলেন চন্দ্রচূড় শিবের মূর্তি। বশিষ্ঠকুণ্ড বা জীবিতকুণ্ডের সামনে তাড়াতাড়ি মন্দির নির্মাণ করে সেই শিলামূর্তি ও চন্দ্রচূড় শিবের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করলেন এবং কাছেই মহুলা গ্রামের এক ব্রাহ্মণকে নিত্যপূজার দায়িত্ব দিয়ে বিদায় নেন।এই ছিলো তারাপীঠ মন্দির সৃষ্টির ইতিহাস।সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।আবার শাস্ত্র মতে এখানে সতীর ঊর্ধ্ব নয়নতারা বা প্রজ্ঞানয়ন পড়েছিল।শুধু তাই নয় সতীহারা শিব দেবীকে কামনা করে এখানে এসে সাধনা করেন। তিন লক্ষ জপ করেছিলেন। তাঁর সাধনায় তুষ্ট হয়ে তারা বলেছিলেন, তিনি আবার উমারূপে তাঁর কাছে স্ত্রী রূপে যাবেন। বশিষ্ঠ ঋষি বিষ্ণুর দ্বারা আদিষ্ট হয়ে তারা পীঠের সেই স্বেত শিমুল গাছের নিচে বসে সাধনা করেছিলেন।এবং সিদ্ধি লাভ করে ছিলেন।সমুদ্র মন্থনে ওঠা বিষ ওপান করে মহাদেব যখন নীলকণ্ঠ তখন ‘দেবী তারা’ শিবকে আপন সন্তানের মতো কোলে নিয়ে আপন স্তন্য থেকে অমৃত পান করান সেই অমৃত পান করে শিবের বিষজ্বালা দূর হল। সেই থেকে দেবীর নাম হল তারিণী। তিনি শিবকে তারণ করেছেন। এই বিশ্বকেও তিনি তারণ করেন।সেই তারিণী থেকেই তারা নামের সৃষ্টি।পরবর্তীতে সাধক বামা ক্ষেপা থেকে সাধক কমলা কান্ত সবার ও অন্যতম প্ৰিয় সাধন স্থল ছিলো এই তারাপীঠ। বামা ক্ষেপা তো তার সারাটা জীবনই কাটিয়েছেন এই তারা পীঠ মহাশ্মশানে। সেই সময় দেশ বিদেশ থেকে বহু বিখ্যাত মানুষ তারাপিঠে আসতেন শুধু একবার এই মাতৃ মন্দির দর্শন করতে এবং বামা ক্ষেপার আশীর্বাদ পেতে। সেই পরম্পরা অবশ্য আজও চলছে। যদিও দ্বারকা নদী দিয়ে বহু জল প্রবাহিত হয়েছে। আজ বামা ক্ষেপাও নেই সশরীরে তবু মানুষের আস্থা আছে। ভক্তি আছে। আর আছে তারাপীঠের সমৃদ্ধ ইতিহাস।ফিরে আসবো আগামী পর্বে এমনই কোনো অজানা রহস্যময় আধ্যাত্মিক স্থানের ইতিহাস নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
বিশেষ পর্ব – জ্ঞান গঞ্জ রহস্য
আজ লিখবো রহস্যময় জ্ঞানগঞ্জ নিয়ে যার কথা প্রথম লোকসমক্ষে আসে১৯৩৩ সালে জেমস্ হিলটনের লেখা বিখ্যাতবই ‘লষ্ট হরাইজন’ এর মাধ্যমে ৷ এই জ্ঞান গঞ্জ শ্যঙ্গড়ী-ল্যা বা সাম্বালা উপত্যকা নামেও খ্যাতজ্ঞানগঞ্জ হল হিমালয়ের দুর্গম স্থানে লুকিয়ে থাকা এক রহস্যময় নগররাষ্ট্র। তিব্বতে এই নগররাষ্ট্রটিকে বলা হয়ে শাম্বালা। ভারতে বলা হয় জ্ঞানগঞ্জ বা সিদ্ধাশ্রম। এই নগররাষ্ট্রে প্রবেশ করার অধিকার সাধারণ মানুষের নেই। কারণ জ্ঞানগঞ্জ হল অমরলোক। এখানে কারও মৃত্যু হয় না। চেতনা এখানে সদা জাগ্রত থাকে।হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের উচ্চকোটির যোগী, সাধু, ঋষি, মুনি ও সিদ্ধপুরুষরাই কেবলমাত্র জ্ঞানগঞ্জে বাস করার আমন্ত্রণ পান। তবে সিদ্ধপুরুষ হলেই জ্ঞানগঞ্জে প্রবেশের অনুমতি মেলে না। যাঁরা জীবনে একটিও পাপ করেননি, কেবলমাত্র সেইসব সিদ্ধপুরুষরাই সর্বোচ্চ জ্ঞানলাভ করার জন্য এই আধ্যাত্মিক নগরীতে প্রবেশ করতে পারেন। কারণ জ্ঞানগঞ্জে লুকিয়ে রাখা আছে এই গ্রহের সর্বোচ্চ জ্ঞান। যে জ্ঞান পৃথিবীর ভাগ্য নির্ধারণ করে চলেছে।হিন্দু বা সনাতন ধর্মে জ্ঞানগঞ্জের নাম ‘সিদ্ধাশ্রম’। সিদ্ধপুরুষদের নির্জন আবাস হলো ‘সিদ্ধাশ্রম’। সিদ্ধাশ্রমের কথা বলা হয়েছে চতুর্বেদ, উপনিষদ, রামায়ণ, মহাভারত সহ বিভিন্ন প্রাচীন পুঁথিতে। বিষ্ণুপুরাণে বলা হয়েছে সিদ্ধাশ্রম হল শ্রীবিষ্ণুর সর্বশেষ অবতার বা কল্কি অবতারের জন্মভূমি। পুরাণ অনুসারে এই সিদ্ধাশ্রমের অবস্থান, বামন অবতার হয়ে মর্ত্যে আসা শ্রীবিষ্ণুর আশ্রমের পূর্বদিকে।বাল্মিকী রামায়ণে বলা হয়েছে, সিদ্ধাশ্রমের আবাসিক ছিলেন মহামুনি বিশ্বামিত্র। সিদ্ধাশ্রমের পরিবেশকে কলুষিত করা এক দানবকে শাস্তি দেওয়ার জন্য রাম লক্ষ্মণকেও তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন সিদ্ধাশ্রমে। নারদপুরাণে বলা হয়েছে হিমালয়ের গভীরে থাকা সিদ্ধাশ্রম হলো সিদ্ধ পুরুষ দের আশ্রম যেখানে তপস্যারত অবস্থায় আছেন অনেক সিদ্ধ যোগী ও যোগিনী।অনেকে বিশ্বাস করেন মহাবতার বাবাজি এইআশ্রমের আচার্য্য। তার বয়স ২০০০ এর বেশি।জ্ঞানগঞ্জের সৌন্দর্য ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। হিমালয়ের এক গোপনস্থানে, সিদ্ধ-হ্রদ নামে একটি সুবিশাল হ্রদকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার বছর আগে গড়ে উঠেছে এই নগররাষ্ট্রটি। জ্ঞানগঞ্জের সুদৃশ্য বাড়ি ও প্রাসাদগুলি বর্ণময় পাথর দিয়ে তৈরি। বাড়ি ও প্রাসাদের দেওয়ালগুলিতে খোদাই করা আছে জ্ঞানগঞ্জের প্রতীক। যে প্রতীকে দেখতে পাওয়া যাবে আট পাপড়ি যুক্ত একটি পবিত্র পদ্মফুলকে। পদ্মটিকে ঘিরে আছে তুষারাচ্ছাদিত পর্বতমালা। পদ্মের মাঝখানে ঝলমল করছে অতীব উজ্জ্বল একটি স্ফটিক।দিনের বিভিন্ন সময় বদলে যায় জ্ঞানগঞ্জের পরিবেশ। গিরগিটি যেমন বিপদের আশঙ্কায় রূপ বদলে প্রকৃতিতে মিশে যায়। ঠিক সেরকমভাবেই হিমালয়ের বুকে প্রকৃতির রঙের মধ্যে হারিয়ে যায় জ্ঞানগঞ্জ। তাই ধরা পড়ে না সাধারণ চোখে। তাই নগররাষ্ট্রটির অবস্থান সম্পর্কেও কারও কোনও ধারণা নেই। বার বার রূপ বদলানোর ফলে জ্ঞানগঞ্জের হদিশ নাকি দিতে পারছে না বিজ্ঞানও। সত্যিই হিমালয়ে এরকম কোনও নগররাষ্ট্রের ধ্বংসাবশেষও খুঁজে পায়নি স্যাটেলাইট। অথচ অসংখ্য হিন্দু ও বৌদ্ধ পুরাণে হিমালয়ে লুকিয়ে থাকা এই নগররাষ্ট্রটির উল্লেখ আছেগৌতম সারাজীবন ধরে যা জ্ঞান অর্জন করেছিলেন তা জানিয়ে গিয়েছিলেন কয়েকজন শিষ্যকে। এই শিষ্যদের মধ্যে একজন ছিলেন শাম্ভালার রাজা সুচন্দ্র বা দাওয়া সাঙ্গপো।ভগবান বুদ্ধের কাছ থেকে পাওয়া জ্ঞান লিপিবদ্ধ করে শাম্ভালায় নিয়ে গিয়েছিলেন দাওয়া সাঙ্গপো। লুকিয়ে রেখেছিলেন গোপন স্থানে। তিব্বতীরা বিশ্বাস করেন শাম্ভালা ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোনও জায়গায় লিপির আকারে সেই জ্ঞান সংরক্ষিত নেই।তিব্বতীয় বৌদ্ধরা বিশ্বাস করেন রহস্যময় শাম্ভালা লুকিয়ে আছে ট্রান্স-হিমালয়ের কোনও দুর্গম জায়গায়। পৃথিবীর যখন ভয়ঙ্কর দুঃসময় আসবে, নীল পৃথিবীকে ধ্বংসের হাত থেকে উদ্ধার করবেন শাম্ভালার ২৫ তম শাসক। ঔপন্যাসিক জেমস হিলটন শাম্ভালার প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে লিখে ফেলেছিলেন ‘Lost Horizon, about the lost kingdom of Shangri-La’ নামের উপন্যাসটি। এখানে হিমালয়ের রহস্যময় নগররাষ্ট্র শাম্ভালা, তাঁর উপন্যাসে হয়ে গিয়েছিল শাংগ্রি-লা, যাতে তিব্বতীদের ধর্মবিশ্বাসে আঘাত না লাগে।১৮৩৩ সালে হাঙ্গেরির গবেষক সিসোমা ডি কোরোস গবেষণা শুরু করেছিলেন জ্ঞানগঞ্জ বা শাম্ভালাকে নিয়ে। বছরের পর বছর তিব্বতে কাটালেও রহস্য ভেদ করতে পারেননি। এরপর জ্ঞানগঞ্জ রহস্যভেদ করতে ভারতে এসেছিলেন রাশিয়ার বিতর্কিত দার্শনিক ও রহস্যসন্ধানী মাদাম ব্লাভাটস্কি। রহস্যভেদ না করতে পারলেও রহস্যের আগুনে ইন্ধন দিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন শাম্ভালা বা জ্ঞানগঞ্জ আসলে লুমেরিয়া ও অ্যাটলান্টিসের মতোই মায়াবী। তাকে খুঁজে বের করা প্রায় অসম্ভব। কারণ নগরটি নিজে থেকে ধরা দিতে চায় নাজ্ঞানগঞ্জ বা শাম্ভালার ওপর গবেষণা করেছিলেন রাশিয়ার প্রখ্যাত দার্শনিক, লেখক, প্রত্নতাত্ত্বিক, চিত্রশিল্পী, ধর্মতত্ত্ববিদ নিকোলাই রোয়েরিখ। তাঁর মনে হয়েছিল জ্ঞানগঞ্জ বা শাম্ভালা লুকিয়ে আছে, মঙ্গোলিয়া ও তিব্বতের মাঝে থাকা আলতাই পর্বতশ্রেণির মধ্যে।ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ওয়েস্টার্ন কমান্ডের অফিসার ছিলেন এল পি ফারেল। ব্রিটিশ হলেও ভারতের দর্শন ও সংস্কৃতি নিয়ে তাঁর ছিল ভীষণ আগ্রহ। সেই ফারেল সাহেব বলেছিলেন, ১৯৪২ সালে তিনি জ্ঞানগঞ্জে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। তাঁর ডায়রিতে ফারেল সাহেব লিখেছিলেন তার অভিজ্ঞতা।জ্ঞানগঞ্জ বা সিদ্ধাশ্রমের কথা যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন প্রখ্যাত দার্শনিক, ভারত-তত্ত্ববিদ ও সংস্কৃত বিশারদ পন্ডিত গোপীনাথ কবিরাজ। জ্ঞানগঞ্জের কথা বলেছিলেন স্বামী বিশুদ্ধানন্দ পরমহংস। তিনি বলেছিলেন, তাঁকে ছোটবেলায় জ্ঞানগঞ্জে নিয়ে গিয়েছিলেন কোনও সিদ্ধপুরুষ এবং সেখানে বহু বছর সাধনা করেছিলেন তিনি । আজও ভারতে বহু ধর্মগুরু আছেন যারা জ্ঞান গঞ্জ প্রত্যক্ষ ভাবে দেখার কথা বলেন।অদ্ভূত তাদের অভিজ্ঞতা এবং সবার বর্ণনাই প্রায় একই রকম শোনায়।ফিরে আসবো আগামী পর্বে।এমনই কোনো রহস্য নিয়ে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
গুরু কথা – যোগী রাজ কাঠিয়া বাবা
ভারতের সিদ্ধ যোগী দের মধ্যে অন্যতম একটি নাম শ্রী শ্রী রামদাস কাঠিয়া বাবাজি|তিনি আধ্যাত্বিক জগতের সিদ্ধ সাধকদের মধ্যে একজন এবং তার জীবন ও সাধনা আজও তার অসংখ্য ভক্ত ও অনুরাগীর ম্যধ্যে এক রহস্য স্বরূপ|আজকের পর্বে জানাবো কাঠিয়া বাবার জীবন সংক্রান্ত কিছু তথ্য এবং কিছু অলৌকিক ঘটনা।পাঞ্জাবের এক গ্রামে জন্মেছিলেন কাঠিয়া বাবা একবার কৈশোরে মাঠে মহিষ চরাতে চরাতে তিনি একজন উজ্জ্বলকান্তি সাধু পুরুষের দর্শন লাভ করলেন। অভুক্ত সেই সাধুকে তিনি আহার করান সাধু প্রসন্ন হয়ে তাঁকে বরদান করলেন যে, “তুমি যোগীরাজ হবে।” এই বরদান করে সাধু অন্তর্হিত হন।সেই সময় কাঠিয়া বাবাজী মহারাজের মনে হল যেন সংসারের প্রতি তাঁর সমস্ত আসক্তি কেটে গেছে|বড়ো হওয়ার সাথে সাথে সন্ন্যাস জীবন তাকে আকর্ষণ করতে শুরু করে।পরবর্তীতে তিনি পুরোপুরি গৃহ ত্যাগ করে আধ্যাত্মিক সাধনার পথ বেছে নিলেন শুরু করলেন শাস্ত্র পাঠ ও ধ্যান জপ|খুব কম বয়সে তিনি গায়ত্রীতে সিদ্ধি লাভ করলেন|কথিত আছে স্বয়ং গায়ত্রীদেবী আবির্ভূত হয়ে তাঁকে দর্শন দিয়ে কৃতার্থ করেন|পরবর্তীতে শ্রীশ্রী দেবদাসজী কাঠিয়া বাবাজী মহারাজের সান্নিধ্যে আসেন তিনি যিনি ছিলেন একজন সিদ্ধ মহাপুরুষ|তার কাছে দীক্ষা গ্রহণ করে তিনি।নাম হয় রাম দাস কাঠিয়া বাবা।শুরুর পথ ছিলো খুবই কঠিন।পদে পদেগুরু শিষ্যের কঠিন পরীক্ষা নিতেন|একবার গুরু দেব নির্দেশ দিলেন যে, “যত ক্ষণ না আমি ফিরে আসি তুমি এখানে এই আসনে বসে থাকবে। আসন ছেড়ে অন্য জায়গায় কোথাও যাবে না।” শ্রীরামদাসজী আট দিন একটানা সেই আসনে বসে আহার নিদ্রা প্রকৃতির ডাক উপেক্ষা করে।ফিরে এসে তাঁর গুরু আজ্ঞা পালনের প্রতি এই একনিষ্ঠতা দৃঢ়তা দেখে গুরুদেব খুব প্রসন্ন হলেন এরকম আরো অনেক পরীক্ষা এবং সাধনার নানা স্তর অতিক্রম করে সিদ্ধি লাভ করে প্রকৃত অর্থে যোগিরাজ হয়ে উঠেছিলেন রাম দাস বাবাজি|সারা ভারতের তীর্থ দর্শন করে বৃন্দাবনে পাকাপাকি ভাবে থাকতে শুরু করেছিলেন তিনি|নির্বাক সম্প্রদায়ের গুরুদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম শ্রেষ্ট গুরু ও সাধক যার কাছে দীক্ষা নিয়েছেন অসংখ্য মানুষ।আকাশমার্গে বৃন্দাবন থেকে কলকাতায় আগমন করে একজনকে মন্ত্র প্রদান করেছিলেন তিনি একবার তিনি দেহে থাকাকালীন নিজেরই ছবি থেকে বহির্গত হয়ে একজনকে দীক্ষা দিয়েছিলেন।শোনাযায় তিনি এক কালে দুই পৃথক স্থানে ভক্তদের দর্শন দান করতে সমর্থ ছিলেন। শুধু তাই নয় এখনো পর্যন্ত তিনি তার প্রকৃত ভক্তদের দর্শন প্রদান করে থাকেন।একবার কাশীতে মা অন্যেপূর্ণার দর্শন পাওয়ার জন্য কাঠিয়া কাঠিয়া বাবা অন্ন জল ত্যাগ করেন।তিন দিন শুধু ধ্যান জপ করে কাটান। অবশেষেস্বয়ং মা অন্নপূর্ণা তার কুটিরে আবীরভূতা হন। এবং তার জন্য নিয়ে আসা দুগ্ধ পান করিয়ে তার জীবন রক্ষা করেন।এই মহান সাধক ও গুরুকে প্রনাম জানিয়ে আজকের পর্ব শেষ করছি। চলতে থাকবে নানানআধ্যাত্মিক বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
গুরু কথা – মহা যোগী পাহাড়ি বাবা
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
ভারতের আধ্যাত্মিক জগতে অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র পাহাড়ি বাবা। পাহাড়ি বাবা তার সন্ন্যাস জীবনে লোক মুখে প্রচারিত নাম। পাহাড়ি বাবার সন্ন্যাস পূর্ব জীবন সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায়না তবে তার জীবনের বহু অলৌকিক ঘটনা আজও লোকের মুখে মুখে ফেরে যার মধ্যে দুয়েকটি আজ আপনাদের জানাবো।সর্বদা হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে ধ্যান মগ্ন থাকার জন্য বাবার নাম হয় পাহাড়ি বাবা।শোনা যায় একদিন শ্রী শুকদেব বাবাজির স্বপ্নে আবির্ভূত হয়ে বললেন, “এই জায়গার নীচে আমার একটি প্রাচীন বিগ্রহ আছে, এটি আবিষ্কার করুন এবং এটি স্থাপন করুন।” জেগে উঠে বাবা জায়গাটি খনন করেছিলেন এবং সেদিন ছিলো বৈশাখ অমাবস্যা বাবা খাক চক নামক সেই স্থানে শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে শ্রী শুকদেবের শ্রীবিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন।শোনা যায় পাহাড়ি বাবা একবার এক ভক্তের সাথে গঙ্গাসাগর যাত্রা করেছিলেন জল পথে জাহাজে পৌঁছতে হয় সাগর দ্বীপে বতখন বাবার বয়স ছিল একশোর বেশি তার সাথে ক্ষীণকায় শরীর । এই দেখে জাহাজের ক্যাপ্টেন তার বয়স এবং শারীরিক কাঠামোর কথা বলে বাবাকে জাহাজে চড়তে নিষেধ করেছিলেন।সেই সময়ে গঙ্গা নদী তীরবর্তী সৈকতে পড়ে ছিল বটবৃক্ষের বিশাল কাণ্ড। বাবা সেই বিশাল কাণ্ডটা মাথায় তুলে নিয়ে ক্যাপ্টেনকে জিজ্ঞেস করলেন, “আমাকে বলুন, এটা কোথায় রাখব?” ক্যাপ্টেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেন না।কিভাবে এক বৃদ্ধ সাধু এই বিশাল কান্ড এই ভাবে তুলতে পারে তা তার বোধ গম্য হয়নি। তবে তিনি বোঝেন বাবা কোনো সাধারণ ব্যাক্তি নন তিনি সাথে সাথে বাবার চরণে আত্মসমর্পণ করলেন। বাবা তাকে ক্ষমা করেন এবং বলেন “কোনও সাধুকে তার বার্ধক্য বা দুর্বলতার জন্য উপহাস করবেন না, তিনি শ্রী রামের শক্তিতে চলেন”।পাহাড়ি বাবা সম্পর্কে আরো একটি অদ্ভুত এবং অলৌকিক ঘটনার কথা আজ বলবো।বাবা তখন বৃন্দাবনে একবার একজন ভক্ত দীক্ষা নেয়ার আশায় বাবার কাছে আসছিলো । কিন্তু বৃন্দাবনে পৌঁছানোর আগেই বাবা সমাধি গ্রহণ করেন । বৃন্দাবন এসে সব শুনে মনের দুঃখে সেই ভক্ত খাক চকে বাবার সমাধিতে অন্ন-জল ছাড়াই বসে রইলেন। এই ভাবে তিন দিন অতিক্রান্ত হয় চতুর্থ দিনে বাবা অলৌকিকভাবে সমাধি থেকে আবির্ভূত হন এবং সেই ভক্তকে সম্পূর্ণ শাস্ত্রীয় পদ্ধতিতে দীক্ষা দেন।বাবার অসংখ্য ভক্ত শিষ্য আজও রয়েছে। পাহাড়ি বাবার প্রয়াণের পর তার তারা বাবার সাধন মার্গ অনুসরণ করেন এবং আজও পাহাড়ি বাবা তার শিষ্য ও ভক্ত দের সব বিপদ ও প্রতিকূলতাথেকে রক্ষা করেন বলে তাদের বিশ্বাস।ফিরে আসবো আগামী পর্বে।অন্য কোনোগুরুর জীবনী ও অলৌকিক ঘটনায় সমৃদ্ধ উপস্থাপনা নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
গুরু কথা – শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের অলৌকিক জীবন
গুরু পূর্ণিমা উপলক্ষে আমার এই ধারাবাহিক পর্বগুলি আপনাদের ভালো লাগছে জেনে আনন্দ পাচ্ছি। কারন আপনাদের জন্যই আমার এই বিশেষ উপস্থাপনা।আজ যে অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন প্রকৃত গুরুর কথা আপনাদের জানাবো।তিনি শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর যার সন্যাসজীবনের পূর্বের নাম ছিলো রাম চন্দ্র চক্রবর্তী|পরাধীন ভারতে ১৮৬০সালে বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলয় শ্রীঁরাধামাধব চক্রবর্তী ও শ্রীমতি কমলাদেবীর সন্তান হিসাবে শ্রীশ্রী রামঠাকুর জন্মগ্রহণ করেন|রাম ঠাকুরের আরেক যমজ ভাই ছিলো তার নাম ছিলো লক্ষণ|তাদের পারিবারিক গুরু ছিলেন শ্রীঁমৃত্যুঞ্জয় ন্যায়পঞ্চানন|বালক রামচন্দ্র শৈশব থেকেই আধ্যাত্মিক চেতনার অধিকারী ছিলেন|শাস্ত্রে তার খুব আগ্রহ ছিলো মাঝে মাঝেই ঈশ্বর চিন্তা করে তিনি ভাব তন্ময় হয়ে যেতেন |ঈশ্বরে কে কেন্দ্র করে নানা আধ্যাত্মিক প্রশ্ন তার মনে ঘুরপাক খেতো এই ঈশ্বরের খোঁজেই ১৮৭২ সালে সকলের অজ্ঞাতে অজানাকে জানার লক্ষ্যে গৃহত্যাগী হন|পরে পৌঁছান পৌঁছালেন আসামের শ্রীশ্রী কামাক্ষ্যাদেবীর মন্দিরে এবং এক অক্ষয় তৃতীয়ার দিন শ্রীশ্রী রামঠাকুর দেখেন জটাধারী, দীর্ঘাঙ্গী এক জ্যোতির্ময় মহাপুরুষ সামনে দাঁড়িয়ে|গুরু হিসাবে তিনি সেই দিব্য পুরুষ কে গ্রহন করলেন শুরু হলো তার সাধনা ও আধ্যাত্মিক যাত্রা|কঠিন সাধনায় একসময় তিনি হয়ে উঠলেন অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন রাম ঠাকুর অষ্টসিদ্ধি লাভ করলেন তিনি |বহু অলৌকিক ঘটনা তিনি ঘটিয়েছেন তার জীবদ্দশায় যার মধ্যে দুটি ঘটনা আজ আপনাদের বলবো।একবার ঠাকুর কলকাতায় এক ডাক্তার ভক্তের বাড়িতে ছিলেন। একদিন সকালে তাঁর বৈঠকখানার ঘরে তিনি, ঠাকুর এবং সেই সময়ের বিখ্যাত কবিরাজ জানকীনাথ দাশগুপ্ত বসে আছেন। ঠাকুর তাঁদের ধর্মের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা শোনাচ্ছিলেন। হঠাৎ দেখা গেল, ঠাকুরের হাতে ছোট ছোট গুটি বেরোতে শুরু করল। ক্রমে সেই গুটি তাঁর সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ল। কবিরাজ জানকীনাথ দেখামাত্র বুঝতে পারলেন যে ওগুলো গুটিবসন্ত। সবাইক আতঙ্কিত। ঠাকুর হেসে বললেন ভয় পাওয়ার কিছু নেই, এর জন্য ওষুধের প্রয়োজন হবে না’। এই কথা বলে ঠাকুর সেই গুটিগুলোকে এক এক করে টিপে টিপে বসিয়ে দিতে লাগলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই সব গুটি ঠাকুরের গা থেকে ম্যাজিকের মতো মিলিয়ে গেল। ঠাকুর বললেন, ‘এ রোগ আমার নয়, অনেকদিন আগে আমার এক ভক্তের গুটিবসন্ত হয়েছিল। সে দিন তাঁকে পরিচর্যা করে যমের কাছ থেকে ফিরিয়ে এনেছিলাম। যম ছেড়ে দিলেও রোগ কি ছাড়ে, সেই ভক্তের রোগ আজ আমাকে ভোগালেও মারতে পারল না’একবার ভক্ত রোহিনী বাবুর বাড়িতে এসেছেন ঠাকুর।সৎসঙ্গ শেষ করে খাওয়ার সময় ঠাকুর বললেন যে তিনি মাংস খাবেন। উপস্থিত সকলে চমকে উঠলেন। যে মানুষটা সারা দিনে একটা ফলও খায় না, সে আজ মাংস খেতে চাইছে! রোহিণীবাবু উল্লসিত, তাঁর বাড়িতে পরমপুরুষ শ্রী রামঠাকুর মাংস খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।অবাক কান্ড তো বটেই এ তাঁর পরম সৌভাগ্য। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঠাকুরকে এক বাটি মাংস এনে দিলেন। মুহূর্তের মধ্যে সেই মাংস খেয়ে নিয়ে ঠাকুর বললেন, ‘আরও মাংস নিয়ে এসো, তোমাদের কাছে যা আছে সব নিয়ে এসো’।সেই রাতে বাড়ির সব রান্না করা মাংস খেয়ে শেষ করেছিলেন ঠাকুর।সেই রাতে ঠাকুরের পেটে অসহ্য ব্যথা হয়। চিকিৎসা হওয়ার পর জানা যায় তার মাংসে বিষ ছিলো। বাড়ির লোক এবং পশু পাখিদের রক্ষা করতে তিনি বিষ নিজে খেয়েছেন।যদিও সেই বিষ শরীরে ধারণ করেও তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।আজকের পর্ব এখানেই শেষ করলাম।পরের পর্বে আবার অন্য কোনো গুরুর কথা নিয়েফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।