বিশেষ পর্ব – জগন্নাথ মন্দিরের গুপ্তধন রহস্য

260

সনাতন ধর্মের পবিত্র চার ধামের মধ্যে পুরীর জগন্নাথ মন্দির অবশ্যই অন্যতম|পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য আছে যা কিন্তু যথেষ্ট রহস্যে মোড়া, তারমধ্যে অন্যতম প্রভু জগন্নাথের রত্নভান্ডার যাকে গুপ্ত ধন বালাই যায় কারন আজ অবধি সেই সঞ্চিত ধন ভাণ্ডারে ঠিক কি কি আছে তার কোনো সঠিক হদিশ পাওয়া যায়নি। আজকের লেখা এই গুপ্তধন রহস্য নিয়ে।একটি সরকারি তথ্য অনুসারে মন্দিরের কোষাগারে রয়েছে সোনার হার, মূল্যবান রত্ন পাথর, সোনার থালা, মুক্তা, হীরা, প্রবাল ও রৌপ্য সামগ্রী।জগন্নাথের মাথার ব্রহ্মজ্যোতি হিরে, বলরামের মাথার নীলা বা সুভদ্রার মাথার মানিক, সবই রত্নভান্ডারে রাখা আছে।যে ব্রহ্মজ্যোতি হীরের কথা বললাম প্রতি বছর চিতালগি অমাবস্যায় এই আভরণ মাথায় ধারণ করেন প্রভু। আর স্নানযাত্রার সময় সেই হীরকখচিত আভূষণ তাঁর মাথা থেকে সরিয়ে রত্ন ভাণ্ডারে রেখে দেয়া হয়।একটি জনশ্রুতি আছে যে একবার এক সেবায়েত রত্ন ভাণ্ডারে দৃষ্টি নিঃক্ষেপ করায় রত্নের তেজে তার দৃষ্টি শক্তি চলে যায়।পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দীরের আর একটি রহস্য হলও গুপ্তধনের চাবীর রহস্য।বাহির ভান্ডার এবং ভিতর ভান্ডার এই দুই ভাগে বিভক্ত প্রভু জগন্নাথের রত্ন ভান্ডার যেখানে ঢোকার চাবি তিন জোড়া। পুরীর গজপতি রাজা, মন্দিরের সরকারি প্রশাসকের অফিস আর ভান্ডারের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর জিম্মাদারের কাছে চাবি গুলি রাখা থাকে। তিন মাথা একত্র না হলে বাহির-ভান্ডারই খুলবে না। সেখানেই রাখা থাকে বিভিন্ন পালাপার্বণে প্রভুর বেশভূষা— উল্টোরথে মন্দির প্রত্যাবর্তনের প্রাক্কালে রথারূঢ় জগন্নাথের সোনার বেশ বা মন্দিরের রাজরাজেশ্বর বেশের ধড়াচুড়ো। ভিতর-ভান্ডারের সম্পদ সচরাচর জগন্নাথের কাজে লাগে না।প্রসঙ্গত বলে রাখি মহারাজা রঞ্জিত সিং কোহিনূর হিরে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে দানের সিদ্ধান্ত নেন। তবে সেই ইচ্ছা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই রঞ্জিত সিংয়ের মৃত্যু হয় তারপর রঞ্জিৎ সিংয়ের ছেলে দলিপ সিংয়ের থেকে এই হিরে চলে যায় ইংল্যান্ডে।সেক্ষেত্রে কোহিনূর হিরের আসল মালিক জগন্নাথ দেব এবং তার প্রকৃত স্থান জগন্নাথ দেবের এই বিখ্যাত রত্ন ভাণ্ডারেই হওয়া উচিৎ।অনেকের মতে মন্দিরের উচ্চতা যত ঠিক ততটাই এই মন্দিরের গুপ্তধনের পরিমাণ। যা স্বর্ণ এবং যহরতে পরিপূর্ন। কথিত আছে কোনো এক অলৌকিক শক্তি এই গুপ্তধনের পাহাড়া দিচ্ছে।আজ এই বিশেষ পর্ব এখানেই শেষ করছি|ফিরবো আগামী পর্বে সঙ্গে থাকবে এমনই কোনো আধ্যাত্মিক এবং রহস্যময় বিষয়।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।