শিব অবতার – দুর্বাশা
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
শাস্ত্রে যে উনিশজন শিব অবতারের উল্লেখ পাওয়া যায় তাদের মধ্যে একজন দুর্বাশা ঋষি।দুর্বাশা ছিলেন অত্রি ঋষি এবং অনসূয়ার পুত্র।
তার পিতামাতা নিষ্ঠার সাথে
শিবের তপস্যার পর শিবের অংশ হিসেবে দুর্বাশাকে অর্জন করেছিলেন।
শৈশব থেকেই তিনি অত্যন্ত রোগা এবং লম্বা ছিলেন।তিনি স্বভাবে শিবের রূদ্র রূপের প্রকাশ ঘটাতেন অর্থাৎ অত্যন্ত ক্রোধি ছিলেন দুর্বাশা।
অধর্ম নাশ করে ধর্ম স্থাপন করতেই শিবের দুর্বাশা রূপে আগমন তাই ধর্মের পথ থেকে বিচ্যুতদের প্রতি রুদ্র অগ্নিময় এবং ক্রোধী ছিলেন দুর্বাশা।
যারা ধর্মের পথ অনুসরণ করেন না বলে বিশ্বাস করতেন তাদের দ্রুত অভিশাপ দিতেন।
শিবের অবতার হিসেবে তিনি তাঁর দশ হাজার শিষ্যকে নিয়ন্ত্রণ ও শাসন করতে এবং তাদের প্রকৃত ধর্ম এবং সত্য শেখাতেন।
যখন শকুন্তলা দুর্বাশাকে অবহেলা করেন তখন তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে তাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন যে, তিনি যার কথা ভাবছেন এবং যার জন্য তিনি দুর্বাসাকে অবহেলা করেছেন, তিনি তাকে ভুলে যাবেন।এই অভিশাপের কারণেই রাজা দুষ্যন্ত শকুন্তলাকে ভুলে গিয়েছিলেন।
রাগী হলেও দুর্বাশা ছিলেন কোমল হৃদয় এবং সরল স্বভাবের একবার দুর্বাসা একবার ইন্দ্রকে তিনি একটি ফুলের মালা অর্পণ করেছিলেন।
ইন্দ্র তার ঐরাবতকে মালাটি পড়িয়ে দেন এবং ঐরাবত মালাটি তার পায়ের তলায় পিষে ফেলেন ভগবান ইন্দ্রের অহংকারে ক্রুদ্ধ হয়ে, ঋষি দুর্বাসা তাকে অভিশাপ দিলেন, যার ফলে তাকে সমস্ত ধন, গুণ এবং শক্তি চলে যায়। স্বর্গ রাজ্যও হাতছাড়া হয়।
আবার যারা ধর্মের এবং সত্যের পথে থাকতো তাদের তিনি পুরুস্কার এবং আশীর্বাদ দিতেন।
শিবের এই অবতার নানা দিক দিয়েই অভিনব এবং বৈচিত্র পূর্ণ।
ফিরে আসবো শিবের আরো একটি অবতারের কথা নিয়ে। আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
