Home Blog Page 81

শ্রাবন মাসে শিবলিঙ্গে দুধ কেনো দেবেন

চলছে শ্রাবন মাস। আর কিছুদিন পরেই শিবরাত্রিতে মহিলারা শিবপূজা করবেন এবং শিবের মাথায় জল এবং দুধ অর্পণ করেন ।ঠিক কেনো শিবের মাথায় দুধ ঢালা হয় তার পৌরাণিক এবং সমাজতাত্ত্বিক কারন আছে।আসুন জেনে নিই।পৌরাণিক কালে দেবতা ও অসুরেরা মন্দার পর্বতের সাহায্যে সমুদ্র মন্থন করেন। এই সময় সমুদ্র থেকে উঠে আসে প্রচুর ধনরত্ন। কিন্তু তার সাথে প্রচুর পরিমানে গরলও উঠে আসে, যা পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকর ছিল। কোন দেবতা যখন সেই গরলের ভাগ নিতে নারাজ ছিলেন, সেই সময় মহাদেব তাঁর কণ্ঠে সমস্ত বিষ ধারণ করে নেন। এবং পরিবেশকে বিষের প্রকোপ থেকে রক্ষা করেন। এই ঘটনার পর তাঁর সারা শরীরের তাপমাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছিল। মহাদেবকে বিষের জ্বালা থেকে বাঁচাতে দেবী তারা প্রকট হয়ে শিবকে স্তন্য পান করান। সেই কারণেই এখনও শিবের বিষের জ্বালা কমাতে তাঁকে দুধ দিয়ে স্নান করানো হয়।আয়ুর্বেদ অনুসারে বৈজ্ঞানিকরা মনে করেন, বর্ষাকালে ঘাস খাওয়ার সময় গোরু ঘাসের সাথে বিভিন্ন রকমের ব্যাক্টেরিয়া খেয়ে ফেলে। যার ফলে দুধে বিষক্রিয়া থাকার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তাই বর্ষাকালের দুধ পান না করে শিবলিঙ্গে ঢালা হয়।শিব যেহেতু সমুদ্র মন্থনের সময় উৎপন্ন গরল নিজের কন্ঠে পান করে ছিলেন তাই তিনি বিষের প্রভাব থেকে মুক্ত।আসলে আরাধ্য দেবাদিদেবকে যা অর্পণ করা হবে তা আমাদের জীবনেই আশীর্বাদ নিয়ে আসবে তাই যারা প্রার্থনা করেন আমার সন্তান যেনো থাকে দুধে ভাতে তারা শিব লিঙ্গে দুধ অর্পণ করেন। দুধ এক্ষেত্রে সমৃদ্ধি এবং ঐশর্যর প্রতীক স্বরূপ।ফিরে আসবো আগামী পর্বে। শ্রাবন মাস জুড়ে থাকবে এমনই সব গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক বিষয় নিয়ে আলোচনা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

শিব ও বারোটি রাশি

শাস্ত্র মতে হোম যজ্ঞ ও বিশেষ পূজা পাঠের মাধ্যমে গ্রহ দোষ খণ্ডনের ক্ষেত্রে শ্রাবন মাসে অতি উত্তম সময়|আবার রাশি সাপেক্ষেও দেবাদিদেবমহাদেবের সাথে জ্যোতিষ শাস্ত্রের সম্পর্ক রয়েছে|আজকের পর্বে আসুন জেনে নিই কোন রাশির জাতক জাতিকারা শ্রাবন মাসে মহাদেবকে সন্তুষ্ট করে কি পাবেন।মেষ রাশির জাতক-জাতিকারা মহাদেবের উপাসনার ফলে আয় ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করতে সক্ষম হবেন। শরীরে কোনও অসুস্থতা থাকলে তা খুব দ্রুত দূর হবে।বৃষ রাশির জাতক যদি শিবের উপাসনা করে, তা হলে সকল কাজে বিনা বাধায় এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে। কর্মক্ষেত্রে উন্নতি করতে পারবে। শরীর খুব ভাল থাকবে এবং বন্ধু ও পরিবারের মানুষদের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় থাকবে।মহাদেবের কৃপায় মিথুন রাশির আটকে থাকা কাজ উদ্ধার হতে পারে। প্রতিযোগিতামূলক কাজেও অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাবে। শারীরিক অসুস্থতার দিকে বেশ কিছুটা উন্নতি হবে।মহাদেবের কৃপায় কর্কট রাশির জাতক জাতিকাদের প্রেম এবং দাম্পত্য জীবনের সব বাধা কেটে যাবে।মহাদেবের উপাসনা করলে সিংহ রাশির শরীর স্বাস্থ্য ভাল যাবে। কর্মে উন্নতি লক্ষ্য করা যাবে এবং প্রেমের সম্পর্ক আরও গভীর হবে।যাদের কন্যা রাশি আপনাদের শ্রাবন মাসে মহাদেবের পুজো করা উচিত এবং শিবলিঙ্গে জল ঢালা উচিত। এর সঙ্গে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করতে হবে। এর ফলে তাঁদের ভাগ্য আরও উজ্জ্বল হবে এবং জীবনে অনেক উন্নতি সম্ভব হবে।তুলা রাশি মহাদেবের পুজো করলে উচ্চ শিক্ষা লাভ হবে ও কর্মের বাঁধা দূর বৃশ্চিক রাশির জাতক অবশ্যই শিবের উপাসনা করুন। এতে শারীরিক উন্নতির সঙ্গে দাম্পত্য জীবন ও কর্মেও উন্নতি লক্ষ্য করা যাবে।যাদের ধনু রাশি তারা মহাদেবের পুজো করলে শত্রুতা থেকে মুক্তি লাভ করবেন।মকর রাশির অধিপতি হলেন শনি। মহাদেবের পুজো করলে শনি তুষ্ট থাকেন। মহাদেবের আশীর্বাদধন্য হওয়ায় মকর রাশির জাতকরা জীবনের অনেক সংকট সহজে পেরিয়ে আসতে পারেন।কুম্ভ কুম্ভ রাশির জাতকদেরও অধিপতি হলেন শনি। মহাদেবের কৃপায় এরা সমাজে মান-সম্মান, খ্যাতি ও প্রতিপত্তি লাভ করেন। কুম্ভ রাশির জাতকরা খারাপ সময় কাটিয়ে উঠতে প্রতিদিন ‘ওম নমঃ শিবায়’ মন্ত্র জপ করুন।মীন রাশির জাতক-জাতিকারা মহাদেবের উপাসনার ফলে আয় ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করতে সক্ষম হবেন। শরীরে কোনও অসুস্থতা থাকলে তা খুব দ্রুত দূর হবে।উল্লেখিত রাশিগুলিরা পাশাপাশি যেকোনো রাশির জাতক রা শ্রাবন মাসে দেবাদিদেব মহাদেবের পূজা করে তাকে সন্তুষ্ট করতে পারেন বিশেষ করে যাদের অশুভ গ্রহ দোষ রয়েছে তারা শ্রাবন মাসে শাস্ত্র মতে গ্রহদোষ খণ্ডন করান।ফিরে আসবো পরের পর্বে। শিব বিষয়ে আরো অনেক শাস্ত্রীয় আলোচনা বাকি আছে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব ও তন্ত্র

শ্রাবন মাস উপলক্ষে শিব কে নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করছি আজ শিবের সাথে তন্ত্রের কি সম্পর্ক তা নিয়ে লিখবো ।

প্রথমে তন্ত্র নিয়ে ছোটো করে বলে নেয়া যাক।
তন্ত্র – ছোট্ট একটি শব্দ। তন্ত্র হল এক বৃহৎ ও অতিপ্রাচীন গুপ্ত বা লুপ্তপ্রায় সাধন বিষয়। মুক্ত বিশ্বকোষে বলা আছে, তন্ত্র হিন্দুসমাজে প্রচলিত ঈশ্বর উপাসনার একটি পথবিশেষ। আসলে শিব ও মহাশক্তির উপাসনা সংক্রান্ত শাস্ত্রগুলিকেও তন্ত্র সাধনা নামে অভিহিত করা হয়।তন্ত্রশাস্ত্র অনুযায়ী, এই মহাবিশ্ব হল শিব ও মহাশক্তির দিব্যলীলা।যদিও তন্ত্র শব্দটির অর্থ ব্যাপক। তবে সংক্ষেপে তন্ত্র হচ্ছে “সৃষ্টির পরিচালনার নিয়ম”।

তন্ত্রে যেসব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও রীতি-নীতির বর্ণনা রয়েছে তার উদ্দেশ্যই হল মানুষকে অজ্ঞানতা ও পুনর্জন্মের হাত থেকে মুক্তি দেওয়া।তন্ত্রের সঙ্গে মহাদেবের সম্পর্ক অতি গভীর বলা ভালো মহাদেব থেকেই তন্ত্রের উৎপত্তি কারন শিবের ডমরু থেকে তন্ত্রের জন্ম হয়েছে ডমরু মহাদেবের অন্যতম প্ৰিয় বস্তু।

আবার সতী বা দেবী দুর্গার দশ হাতে আছেন দশ মহাবিদ্যা। এই দশমহাবিদ্যার উপর ভিত্তি করেই তন্তশাস্ত্রর ব্যাবহারিক দিকটি গড়ে উঠেছে।জ্যোতিষ শাস্ত্রে প্রতিটি গ্রহ দশ মহাবিদ্যার একেকটি বিদ্যার অধীনে আছে।

সংক্ষেপে তাই বলাই মহাদেব ও আদ্যা শক্তি মহামায়া এই দুই অনন্ত ও অসীম শক্তি তন্ত্রের আধার।

ভারতের আদি ও অকৃত্রিম তন্ত্র সাধনার জায়গা হল নীলাচল পর্বত। যা ‘কামাখ্যাধাম’ নামে পরিচিত।তেমনই মহাদেবের বাস কৈলাশ পর্বতেও বহু অলৌকিক শক্তির উপস্থিতি আছে যাকে অনেকেই তন্ত্রশক্তির সাথে তুলনা করেন।

তন্ত্র এমনই একটি শাস্ত্র যার মাধ্যমে নিজেকে অনুসন্ধান করা যায়। নিজের অন্তরের ঈশ্বরকে খুঁজে পাওয়া যায়।স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেব কে প্রসন্ন করা যায়।

তন্ত্র জ্ঞানচক্ষু উম্মোচন করে। সৃষ্টির কারন বুঝতে সাহায্য করে তন্ত্র। তন্ত্র সৃষ্টি, স্থিতি ও বিনাশের পরিচালনা শক্তি। ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর এই তিন শক্তির সমন্বয়ে সাধিত হয় তন্ত্র শক্তির অদৃশ্য বৃত্ত যা আমাদের জীবন ও সমগ্র সৃষ্টিকে পরিচালনা ও প্রভাবিত করে

যে অঘোরো পন্থা তন্ত্রের একটি পথ সেই পন্থায় বিশ্বাসীরা শিবকেই আদি অঘোরী বলে মানে।

অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে শিব ও তন্ত্র দুটি পরস্পরের সাথে সম্পর্ক যুক্ত। যারা তন্ত্র মতে এবং শাস্ত্রীয় পদ্ধতিতে জীবনের অন্ধকার দূর করতে চান বা গ্রহগত কু প্রভাব কাটিয়ে জীবনে জয়ী হতে চান তারা এই শ্রাবন মাস এবং বিশেষ করে আসন্ন শিব রাত্রিকে বেছে নিতে পারেন গ্রহ দোষ খন্ডনের জন্য।

ফিরে আসবো পরের পর্বে। শিব বিষয়ে আরো অনেক কথা বলার আছে।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিবের পাঁচটি প্ৰিয় বস্তু

দেবাদি দেব মহাদেবকে তুষ্ট করতে ও তাঁর কৃপা পেতে শ্রাবন মাসে ব্রত রাখেন অনেকেই।এই সময়ে যত শিব বিষয়ে পাঠ করা যায় এবং শিব তত্ত্ব শোনা যায় ততো ভালো|আজ আপনাদের শিবের পাঁচটি বিশেষ অলংকারের কথা জানাবো যা সর্বদা শিবের সঙ্গে থাকে এবং এগুলি অর্পণ করে শিবকে সহজেতুষ্ট করা যায়।প্রথমেই বলবো ত্রিশূলের কথা।মহাদেবের ত্রিশূল তিনটি শক্তির প্রতীক। জ্ঞান, ইচ্ছা ও সম্মতি প্রদান করেন মহাদেব। আবার কথিত আছে, শিবের ত্রিশূল প্রতিটি মানুষকে তার কর্ম হিসেবে শাস্তি দেয়। ঘরে সুখ শান্তি বৃদ্ধি করত ত্রিশূল রাখুন। অনেকে শিবের মূর্তির পাশে ত্রিশূল রেখে থাকেন। বহু মন্দিরে প্রতিদিন শিবের ত্রিশূলের পুজো করা হয়।বাস্তু মতে গৃহে ত্রিশূল থাকলে এটি সমস্ত ক্ষতি ও দুঃখের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করে। শিব শিব কে ত্রিশুল নিবেদন করতে পারেন এতে সহজেই মহাদেবের আশীর্বাদ পাবেন।দ্বিতীয় স্থানে রাখবো রুদ্রাক্ষ। শাস্ত্রে রুদ্রাক্ষের গুরুত্ব রয়েছে বিস্তর। মহাদেবের সঙ্গে যোগ রয়েছে এই গাছের। কথিত আছে, ভগবান শিব কঠিন তপস্যার পর চোখ খুলতে তাঁর চোখ থেকে অশ্রু নির্গত হয়। যা মাটিতে পড়তে সেই অশ্রু থেকে তৈরি হয় রুদ্রাক্ষ গাছ।রুদ্রাক্ষ ও মহাদেব প্রায় সমার্থক। মহাদেবের খুব প্ৰিয় অলংকার রুদ্রাক্ষ যারা মধ্যে রয়েছে অফুরন্ত শক্তির ভান্ডার|জ্যোতিষ শাস্ত্রে গ্রহ অনুসারে রুদ্রাক্ষ ধারন করে প্রতিকারের কথা বলা হয়|শ্রাবন মাসে শিব লিঙ্গেযদি রুদ্রাক্ষ অর্পণ করাযায়। শিব কৃপা লাভ হয়।তৃতীয় হলো ডমরু শিবের অন্যতম প্ৰিয় বস্তু এটি ।শিবের হাতে ডমরু নামে এই বাদ্যযন্ত্র সর্বদা দেখা যায়। শিব নটরাজ নামেও খ্যাত। কথিত আছে ডমরু বাজিয়ে তিনি নৃত্য করেন। শিব এই কারণে নটরাজ নামেও খ্যাত।শিবের ত্রিশূলে সব সময় বাঁধা থাকে ডমরু। আবার তন্ত্র শাস্ত্রে বলা হয় শিবের ডমরু থেকে তন্ত্রের জন্ম হয়েছে।ডমরু আবার বেদ ও তার উপদেশের প্রতীক। মনে করা হয়, ডমরু বাজিয়ে শিব পুজো করলে মঙ্গল হয়। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, শিব ডমরুর শব্দ শুনলে খুশি হন। তাই তাঁকে আনন্দ দিতেপুজোর সময় ডমরু বাজাতে পারেন অথবা শিবশ্রাবন মাসে শিবকে ডমরু নিবেদন করে নিজের মনোস্কামনা জানান।আপনার মনোস্কামনা দ্রুত পূর্ণ হবে।শিব তার গায়ে ভশ্ম মাখতে ভালো বাসেন।পুরান মতে এই ভস্ম এনে দিতো শিবের এক ভক্ত যার নাম ভশমাসুর। একদিন সে যখন জানালো যেসে আর ভশ্ম খুঁজে পাচ্ছে না এবং যদি মহাদেব তাকে বর দেন যে তার স্পর্শে যেকোনো জীব এবং বস্তু ভস্মতে পরিণত হবে তাহলে তার কাজের সুবিধা হবে। ভোলানাথ তথাস্তু বলে দিলেন।পরবর্তীতে ভক্ত তার আরাধ্যকেই ভশ্মিভুত করতে চাইলে শ্রী বিষ্ণু অবতীর্ণ হয়ে কৌশল খাটিয়ে ভশমাসুরকে বধ করেন।শ্রাবন মাসে শিবকে ভশ্ম নিবেদন করলে শিব সন্তুষ্ট হন এবং মনোস্কামনা পূর্ণ করেন।যদিও বাস্তবে বাঘছাল অর্পণ আমাদের দেশের আইন অনুসারে সম্ভব নয়। তবুও শিবের এটি অন্যতম প্ৰিয় বস্তু। পৌরুষ এবং অফুরন্ততেজের প্রতীক এই বাঘ ছাল মহাদেবের অঙ্গে স্থান পায়।সমগ্র শ্রাবন মাস জুড়ে থাকছে শিব নিয়ে নানা তথ্য। পৌরাণিক ঘটনা এবং শাস্ত্রীয় বিধি নিষেধ।ফিরে আসবো আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবাদিদেব মহাদেবের কিছু অদ্ভুত রহস্য

শ্রাবন মাস শিবের মাস তা আমরা সবাই শ্রাবন মাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রীয় উপাচার নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি। তবে শুধু উপাচার নয় এই মাসে শিব কথা শোনা,শিব পুরান পাঠ এবং শিব মাহাত্ম আলোচনা করার ও আলাদা তাৎপর্য আছে। আজ আপনাদের শিবের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কিছু দিব্য বস্তুর অন্তর্নিহিত গুরুত্ব জানাবো।শিব তার জটায় গঙ্গা কে স্থান দিয়েছেন এবং তার ভয়ংকর গতি থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করেছেন।গঙ্গা নিষ্কলুষ জ্ঞানের প্রতিনিধিত্ব করে।যখন শিবের মতই আমাদের হৃদয় স্থির হয়তখনই পরম জ্ঞান লাভ হয়।সাপ হচ্ছে কুলকুণ্ডলীনি শক্তির প্রতীক।আবার সর্প মানে ভয় আতঙ্ক যদি যিনি ভয় কে গলায় জড়িয়ে রাখেন তিনি ভয় যার অঙ্গের ভূষণ তিনি দেবাদিদেব মহাদেব।শিবের অঙ্গে ভষ্ম থাকে এটা জীবনের অনিত্যতাকে স্মরন করিয়ে দেয়। এটা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমাদেরও একদিন ভষ্মে পরিণত হতে হবে। এই ভস্ম শিবের খুবই প্ৰিয়।শিবের জটায় থাকে চন্দ্র চন্দ্র সর্বদাই মনের সাথে সম্পর্কিত। এটি জীবনের সকল পরিস্থিতিতে সুখী থাকা এবং মনের উপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার প্রতীক।স্বয়ং শিব এই চন্দ্র কে ধারণ করেন অর্থাৎ তিনি মন এবং মানসিক শক্তির নিয়ন্ত্রক।ডমরু শিবের অসীম তথা উন্মুক্ত চিন্তাচেতনার প্রতীক।আবার তন্ত্র শাস্ত্র মতে এই ডমরু থেকেই তন্ত্রের জন্ম হয়েছে।শিবের নীলাভ শরীরের ও অন্তর্নিহিত অর্থ আছে।আকাশ অন্তহীন শিবও তেমনি অন্তহীন। নীলাভ শরীর অন্তহীন আকাশের মতই শিবের অন্তহীনতাতথা অসীমতার প্রতীক।শিব প্রকৃতির তিনগুন নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন সত্ত রজ এবং তম গুন।ত্রিশূল তারই প্রতীক। তিনি এটির মাধ্যমে সকলকে নিজ নিজ ধর্ম পালনে উৎসাহিত করে থাকেন। আবার সৃষ্টি এবং ধ্বংশ এই ত্রিশূলের মাধ্যমেই হয়।শিবকে নিয়ে রহস্যর শেষ নেই।শ্রাবন মাস জুড়ে থাকছে শিব নিয়ে নানা তথ্য। পৌরাণিক ঘটনা এবং শাস্ত্রীয় উপাচার। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শ্রাবন মাসে শিবকে সন্তুষ্ট করার সহজ উপায়

শ্রাবন মাসে কোনো দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনা করা হয় এবং কেনো তিনি এই মাসেইতার ভক্ত দের দাকে দ্রুত সারা দিয়ে থাকেনতার দুটি পৌরাণিক কারন আছে।শিবকে স্বামীরূপে পাওয়ার জন্য পার্বতী দীর্ঘ সময় তপস্যা করেন এবং কঠোর সাধনা করে শিবকে সন্তুষ্ট করলে পার্বতীকে বিবাহ করতে রাজি হন মহাদেব।শাস্ত্র মতে শ্রাবন মাসেই হর গৌরীর এই আধ্যাত্মিক মহা মিলন ঘটেছিলো তাই শ্রাবন মাসেসহজেই শিবকে প্রসন্ন করে তার কৃপা লাভ হয়।দ্বিতীয় পৌরাণিত কাহিনি অনুযায়ী শ্রাবণ মাসেই সমুদ্র মন্থনের ঘটনা ঘটেছিল। সমুদ্র উত্থিত হলাহল বিষ থেকে গোটা ধরিত্রীকে রক্ষা করার জন্য স্বয়ং মহাদেব নিজ কণ্ঠে সেই বিষধারণ করেছিলেন। বিষের প্রভাবে নীল কণ্ঠ রুপী শিবের শরীরে বিষের তীব্রতা হ্রাস করার জন্য স্বর্গের দেবতারা শিবের মাথায় গঙ্গাজল ঢালতে থাকেন। সেই থেকেই শুরু হয় শ্রাবণ মাসেশিবের মাথায় গঙ্গাজল এবং বেলপাতা অর্পণ। তবে শুধুই বেলপাতা গঙ্গা জল বা দুধ নয়।শাস্ত্র মতে আরো কিছু উপাদান এবং সহজসরল উপাচার আছে যা পালন করে আপনারা দেবাদিদেবের কৃপায় অনেক জটিল সমস্যার সমাধান পাবেন। এবার আসুন জেনে নিই এমনই বেশ কিছু উপাচার এবং তার গুরুত্ব।শ্রাবন মাসে শিবরাত্রির দিন ১০৮টা বেলপাতায় সাদা চন্দন মাখিয়ে শিব পুজো করলে সম্পদ লাভ হয় দুঃখ কষ্ট লাঘব হয়।শ্রাবন মাসে শিবরাত্রির দিন দুধ, দই, ঘি, মধু, চিনি পঞ্চামৃত সহযোগে “ওঁ পার্বতী পতয়ে হরায়ে নমঃ”- এই মন্ত্রে ১০৮ বার শিবের অভিষেক করলে বিবাহের বাধা দূর হয় বিবাহিত জীবন ও সুন্দর হয় শ্রাবন মাসের প্রতি সোমবার ১০৮টা বট পাতায় সাদা চন্দন এবং কর্পূর মিশিয়ে ভগবান শিবকে পুজো করলে স্বামী এবং সন্তান ভাগ্য ভালো হয়।শ্রাবন মাসে ভগবান শিবকে মধু আর কর্পূর নিবেদন করলে গোপন শত্রুতা দূর হয় জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ হয়।শ্রাবন মাসে দুধ ও সিদ্ধি সহযোগেশিবলিঙ্গের অভিষেক করলে মানসিক অবসাদদূর হয় এবং গৃহে শান্তি আসে।শ্রাবন মাস জুড়ে থাকছে শিব নিয়ে নানা তথ্য। পৌরাণিক ঘটনার এবং এমন সব কার্যকরী শাস্ত্রীয় আলোচনা।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কোন ফুলে শিব পুজো করলে কি লাভ হবে

মহাদেবের আশীর্বাদ পেতে শ্রাবন মাসে শিবের আরাধনা করতে ভুলবেন না শ্রাবন মাসে অতি সহজেই দেবাদিদেব মহাদেবকে তুষ্ট করা যায় এবং শিবকৃপা লাভ করে জীবনের অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। শ্রাবন মাসে খুব সহজেই শিবের প্ৰিয় ফুল অর্পণ করে তাকে সন্তুষ্ট করা যায়|আসুন আজ জেনে নিই কোন ফুল অর্পণ করলে কি ফল লাভ করবেন।

ধূতরা ফুল ও বেলপাতা মহাদেবের অত্যন্ত পছন্দের।ধুতরা ফুল অর্পন করলে মানসিক অবসাদ দূর হয় এবং ভালো কর্ম প্রাপ্তি হয়।
অপরাজিতা ফুল শিবের পছন্দের এবং এই
ফুল মহাদেবের অপার সহ্য শক্তির প্রতীক এই ফুল শিব পুজোয় ব্যবহৃত হয়।আপনারাও অপরাজিতা ফুল মহাদেবের পুজোয় ব্যাবহার করুন এতে অর্থ কষ্ট এবং পারিবারিক বিবাদ
দূর হয়।

শাস্ত্র মতে চাঁপা ফুলের গন্ধ আশীর্বাদ ও শুভকামনা বয়ে আনে। মন ভালো করে দেওয়া গন্ধের চাঁপা ফুল শিবের পায়ে উত্‍সর্গ করুন ।গোপন শত্রুতা থেকে সুরক্ষিত থাকবেন।

আকন্দ ফুলের মালা শিব লিঙ্গে অর্পণ করুন মহাদেবে সন্তুষ্ট হবেন এবং দ্রুত আপনার সব মনোস্কামনা পূর্ণ করবেন।

শাস্ত্র মতে কল্কে ফুলের গাঢ় হলুদ রং ত্যাগের প্রতীক। দেবাদিদেব মহাদেব নিজেও ত্যাগ ও তিতিক্ষার প্রতীক। তাই কল্কে ফুল দিয়ে শিবপুজো করা হয়ে থাকে|শ্রাবন মাসে শিবের পুজোয় কল্কে ফুল রাখুন দাম্পত্য জীবন সুখের হবে।

ছোট্ট ছোট্ট জুঁই ফুলের অপূর্ব মিষ্টি সুবাস মহাদেবকে উত্‍সর্গ করা হয়ে থাকে।
দেবাদিদেবের অত্যন্ত পছন্দের এই ফুল|মহাদেবের উদ্দেশ্যে জুঁই ফুল নিবেদন করুন।
সম্পদ ও ঐশর্যর অধিকারী হবেন।

আশাকরি আজকের পর্বের এই তথ্য আপনাদের ভালো লাগবে|শ্রাবন মাসে এমন আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাবেন।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

​শিব লিঙ্গে কী কী অর্পণ করবেন না

এই পবিত্র শ্রাবন মাসে শিব পুজো বা শাস্ত্র মতে নানা বিধ উপাদান দিয়ে শিবলিঙ্গের বিশেষ অভিষেক করলে নানা রকম প্রাপ্তি হয়। কিন্তু এমন বহু উপাদান আছে যা শিব লিঙ্গে নিবেদন করলে ভালোর পরিবর্তে খারাপ হয়। আসুন জেনে নিই শাস্ত্র নিই কোন কোন সামগ্রী শিব লিঙ্গে অর্পণ করবেন না এবং শিব পুজোয় কোন জিনিস গুলি ব্যাবহার করবেন না।শিবের মাথায় জল ঢালার সময় তামা বা পিতলের পাত্র ব্যবহার করতে হবে। স্টিল বা লোহার পাত্র ব্যবহার করা যাবে না।তুলসী বৈষ্ণব দের কাছে অত্যান্ত পবিত্র কিন্তু তুলসী পাতা শিবের পুজোয় ব্যবহার করা যাবে না বা শিব লিঙ্গে তুলসী অর্পণ করা যাবেনা।শঙ্খ দ্বারা শিব লিঙ্গের অভিষেক বা শিব পুজোয় শঙ্খের ব্যবহার না করাই ভাল। শিব লিঙ্গে শঙ্খ অর্পণ করা থেকেও বিরত থাকুন।সাদা রঙের সব ফুলই শিব পছন্দ করেন, তবে সাদা চম্পা বা কেতকী এই দু’টি ফুল শিবকে অর্পণ করবেন না।এই দুটি ফুল শিব পুজোয় নিষিদ্ধ।দুধ দিয়ে শিব লিঙ্গের অভিষেক করলে মনোস্কামনা পূর্ণ হয় কিন্তু গরুর খাঁটি দুধ ব্যবহার করতে হবে।প্যাকেট দুধ ব্যবহার না করাই শ্রেয়।বিভিন্ন দেব দেবীর পুজোয় আপনারা নারকেল ব্যবহার করে থাকেন কিন্তু এই নারকেল শিব পুজোয় ব্যবহার করা যাবে না।বজরংবলীকে সিঁদুর নিবেদন করার রীতি আছে। বিভিন্ন দেবীর পুজোতেও সিঁদুর ব্যবহার হয়তবে সিঁদুর কোনও ভাবেই শিব পুজোয় দেবেন না।এতে অমঙ্গল হয়।তিল মহাদেবের পুজোয় ব্যবহার করা যাবে না।তাই শিব লিঙ্গে তিল অর্পন করা থেকে বিরত থাকুন।এই শ্রাবন মাস শিব কৃপা লাভ করার জন্য শ্রেষ্ঠ সময় তাই শ্রাবন মাস জুড়ে থাকবে এমনই সব শিব সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে লেখা লেখি ।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শ্রাবন মাসে রাশি অনুসারে রুদ্রাক্ষর প্রয়োগ

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শ্রাবন মাস যেমন শিবের প্ৰিয় মাস তেমনই শিবের অত্যান্ত প্ৰিয় একটি উপাদান হলো রুদ্রাক্ষ যা কিনা শিবেরই অংশ।জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে রত্নের ন্যায় প্রতিটি গ্রহের নিজস্ব রুদ্রাক্ষ আছে তাই স্বাভাবিক ভাবেই রাশি ও লগ্ন সাপেক্ষে রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে অধিক ভালো ফল লাভ হয়। শুধু ধারণ করা নয় বাস্তু শাস্ত্রে এবং বিভিন্ন টোটকা বা উপাচারেও রুদ্রাক্ষ ব্যাবহার হয়। আজকের পর্বে আসুন জেনে নিই এই শ্রাবন মাসে কে কোন রুদ্রাক্ষ কি ভাবে ব্যাবহার করলে কি ফল পাবেন।

মেষ এবং বৃশ্চিক রাশির বা লগ্নের জাতক জাতিকা দের জন্য ৩ মুখী রুদ্রাক্ষ বিশেষ শুভ। আপনারা শ্রাবন মাসে শিব লিঙ্গে এই রুদ্রাক্ষ নিবেদন করে ধারণ বা গৃহে স্থাপন করতে পারেন এতে আপনাদের মনোস্কামনা দ্রুত পূর্ণ হবে।

বৃষ এবং তুলা রাশির বা লগ্নের জাতক জাতিকাদের জন্য ৬ মুখী রুদ্রাক্ষ অত্যাত্ন শুভ গ্রহগত যেকোনো দোষ দূর করতে আপনারা এই রুদ্রাক্ষ শ্রাবনের যেকোনো শুক্রবার শিব লিঙ্গে অর্পণ করুন।

যাদের মিথুন এবং কন্যা রাশি সেই সব জাতক-জাতিকারা ৪ মুখী রুদ্রাক্ষের মালা শিব লিঙ্গে অর্পণ করে সবুজ কাপড়ে মুড়ে ক্যাশ বাক্সে রাখুন এতে আপনাদের অর্থ কষ্ট দূর হবে।

কর্কট রাশির এবং লগ্নের জাতক-জাতিকারা ২ মুখী রুদ্রাক্ষ শ্রাবন মাসের যেকোনো সোমবার শিব লিঙ্গে স্পর্শ করিয়ে এবং গঙ্গা জল ও দুধ দিয়ে স্নান করিয়ে ধারণ করুন বা কাছে রাখুন এতে অবসাদ দূর হয় মানসিক শান্তি আসে।

সিংহ রাশির জাতক জাতিকারা ১ মুখী রুদ্রাক্ষ শিব লিঙ্গে অর্পণ করুন এবং ওম নমঃ শিবায় জপ করুন তারপর লাল সুতোয় ধারণ করতে পারেন। বাস্তু দোষ দূর করতে প্রধান দরজায় ও স্থাপন করতে পারেন এতে সুখ ও সমৃদ্ধি আসবে।

ধনু ও মীন রাশির জাতকরা ৫মুখী রুদ্রাক্ষ শিব লিঙ্গে অর্পন করে মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র পাঠ করুন। পরে রুদ্রাক্ষটি গৃহ মন্দিরে স্থাপন করুন।
এতে রোগ ভোগ আপনাদের থেকে দূরে থাকবে।

মকর ও কুম্ভ রাশির বা লগ্নের জাতক জাতিকারা ৭ মুখী রুদ্রাক্ষ শনি মন্দিরে দান করুন এতে গ্রহ রাজ আপনাদের উপর প্রসন্ন হবেন এবং জীবনে সাফল্য আসবে।

ফিরে আসবো আগামী পর্বে। শ্রাবন মাস জুড়ে থাকবে এমনই সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

শ্রাবন মাসে রাশি অনুসারে কে কি ভোগ নিবেদন করবেন?

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

যদিও শিব ভক্তরা সারা বছরই শিব পুজো করেন।দেবাদিদেব ও তার প্রকৃত ভক্তদের সর্বদা কৃপা করেন তবুও শ্রাবন মাস বিশেষ শিব কৃপা লাভ পাওয়ার জন্য কারন শ্রাবন মাস শিবের মাস। এই শ্রাবন মাসে কিছু সহজ সরল শাস্ত্রীয় উপাচার যেনম বিশেষ ভাবে কার্যকরী হয়ে ওঠে তেমনই যদি কেউ নিজের রাশি অনুসারে মহাদেবকে ভোগনিবেদন করে তার জীবন থেকে সব দুঃখ কষ্টদূর হয়। আসুন আজ জেনে নিই রাশি অনুসারে আপনি কোন ভোগ দিয়ে শিব পুজো করবেন।মেষ রাশির অধিপতি মঙ্গল। শ্রাবণ মাসে এই রাশির জাতকরা শিবকে কালো আঙুর, কিশমিশ এবং মিশ্রী অর্পণ করতে পারেন সাথে যেকোনো লাল রঙের মিষ্টিও নিবেদন করুন।এতে আপনার দারিদ্রতা দূর হবে শিবের আশীর্বাদ লাভের জন্য বৃষ রাশির জাতকদের কাজু বাদাম এবং হলুদ মিষ্টি দিয়ে ভোগ নিবেদন করুন । শ্রাবণ মাসে এই উপায় করলে শিব প্রসন্ন হবেন এবং বৃষ রাশির জাতক জাতিকারা শুভ ফল পাবেন।বুধ  মিথুন রাশির অধিপতি। জ্যোতিষ মতে শ্রাবন মাসে আপনারা দুধ, সবুজ বেলপাতা এবং পেস্তা অর্পণ করলে আপনাদের সবদিক দিয়ে কল্যান হবে।চন্দ্র এই কর্কট রাশির অধিপতি এই রাশির তত্ত্ব জল আবার শিব নিজের মস্তকে চন্দ্র ধারণ করে থাকেন। শ্রাবণ মাসে কর্কট জাতকরা যদিশিবকে মাখন এবং গঙ্গা জল নিবেদন করেন আপনাদের সব বাঁধা বিপত্তি দূর হবে।গ্রহের রাজা সূর্য সিংহ রাশির অধিপতি। সিংহ রাশির জাতকরা শ্রাবণ মাসে লাল চন্দন নিবেদন করুন এবং মধু ভোগ হিসেবে নিবেদন করুন। আপনাদের শান্তি এবং সমৃদ্ধি লাভ হবে।বুধ কন্যা রাশির অধিপতি আপনারা সবুজআঙ্গুর এবং যেকোনো সবুজ মিষ্টি ভোগ হিসেবে অর্পণ করতে পারেন মহাদেবকে।শিব কৃপা লাভকরবেন।সুখ এবং সৌভাগ্যের কারক গ্রহ শুক্র তুলা রাশির অধিপতি। আপনারা নারকেল ও মিশ্রী অর্পণ করলে সৌভাগ্য বৃদ্ধি হবে।বৃশ্চিক রাশি মঙ্গলের সাহস ও পরাক্রমের কারক গ্রহ যাদের এই রাশি তারা আখরোটের ভোগ নিবেদন করতে পারেন।এতে আত্ম বিশ্বাস বাড়বে এবং জীবন যুদ্ধে জয় নিশ্চিত হবে।বৃহস্পতি ধনু রাশির অধিপতি। শ্রাবণ মাসের যে কোনও সোমবার শিবকে জাফরান ও খেজুরের ভোগ নিবেদন করলে শিব কৃপায় সব বিপদ জীবন থেকে দূর হবে।মকর রাশি গ্রহ রাজ শনির রাশি। যাদের মকর রাশি তারা শিবকে ডুমুর নিবেদন করুন এবং অপরাজিতা ফুল অর্পণ করুন শিব প্রসন্ন হবেন। পাশাপাশি শনিও গ্রহ ও শান্ত থাকবেন।জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে মকরের মতো শনি কুম্ভ রাশিরও অধিপতি। জ্যোতিষ মতে কুম্ভ রাশির জাতকরা শ্রাবণ মাসে সুপুড়ি ও আখের রস নিবেদন করলে দ্রুত মনোস্কামনা পূর্ণ হবে।দেবগুরু বৃহস্পতি মীন রাশির অধিপতি। শ্রাবণ মাসের যে কোনও সোমবার মীন রাশির জাতক জাতিকারা শিব লিঙ্গে জাফরান নিবেদন করুন।আপনাদের সংসার সুখের হবে।শ্রাবন মাস জুড়ে থাকবে শিব নিয়ে নানা তথ্য। পৌরাণিক ঘটনার এবং এমন সব কার্যকরী শাস্ত্রীয় টোটকা। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।