Home Blog Page 40

জয় হনুমান – বেড়ি হনুমানের কথা

জয় হনুমান – বেড়ি হনুমানের কথা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আর কিছুদিন পরেই হনুমান জয়ন্তী। বজরংবলীর আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে এই কটা দিন তার মহিমা বর্ণনা করবো। জানাবো বজরংবলী সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ পৌরাণিক তথ্য এবং ঘটনা। আজ শুরু করবো পুরীর বিখ্যাত বেড়ি হনুমানের মন্দির দিয়ে।

 

বাঙালির বড়ো প্ৰিয় এবং অন্যতম জনপ্রিয় তীর্থ ক্ষেত্র হচ্ছে শ্রীক্ষেত্র পুরী|আমি নিজে কতবার যে গেছি তার হিসেব নেই |যারা পুড়িতে গেছেন তারা নিশ্চই জানেন পুরী ধামে চক্রতীর্থের কাছে বেড়ি হনুমান মন্দির অবস্থিত।

 

পুরীর মন্দির তৈরির সময় বেশ সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল সমুদ্র। ক্রমাগত ঢেউয়ের চোটে, বারবার ব্যাঘাত ঘটছিল মন্দির নির্মাণে। সেই সময় প্রভু জগন্নাথ হনুমানকে মন্দির রক্ষার কাজে নিযুক্ত করেন। মন্দির তৈরী হওয়ার পরেও

কখনও কখনও সমুদ্রের ঢেউ পুরীতে প্রবেশ করত এবং তাতে বহু ভক্ত এবং সাধারণ পুরীবাসীকে ভুগতে হত।ফসলের ক্ষতি হতো।সেজন্য জগন্নাথদেব এখানে পাহারায় হনুমানকে নিযুক্ত করেন, যাতে সমুদ্র পুরী শহরে প্রবেশ করতে না পারে।বজরংবলী হনুমান পুরীতে দ্বার রক্ষক এবং জগতের নাথের ইচ্ছায় তিনি শ্রীক্ষেত্রর সুরক্ষার দায়িত্বে আছেন|

 

পুরীর এই মন্দিরে হনুমানের মূর্তি কেনো একটি বেড়ি দিয়ে আবদ্ধ করা হয়েছে।তার ও একটি কারন আছে|হনুমান তার আরাধ্য শ্রী রাম জন্ম ভূমি দর্শনের জন্য একবার ব্যাকুল হয়ে ওঠেন এবং তার অযোধ্যা পরিদর্শনের জন্য ইচ্ছা হয়। পুরীধাম পাহারার দায়িত্ব ফেলে ঐ স্থান ত্যাগ করে হনুমান অযোধ্যা গেলেন। ফলে সমুদ্রের জল শহরে প্রবেশ করে এবং শহরবাসীর খুব ভোগান্তি হয় ।

অনেকে বলেন সমুদ্র দেব জগন্নাথ দর্শন করতে পুরীর মন্দিরে প্রবেশ করতেন।

 

আসল কারণ যাই হোক।ভক্ত দের দুঃখ দেখে শ্রীজগন্নাথদেব হনুমানকে অযোধ্যা থেকে ফিরিয়ে আনলেন। তাঁকে এখানে বেড়ি দিয়ে আবদ্ধ করে রাখলেন এবং তাঁকে আজ্ঞা দিলেন যে, কখনও যেন সে এই স্থান ছেড়ে না যায় এবং দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করেন

 

বেড়ি দিয়ে বা শৃঙ্খল দিয়ে আবদ্ধ করার জন্য বজরংবলীকে এখানে বেড়ি হনুমান বলা হয়|যেহেতু হনুমান পুরী ধামকে মহাসাগর বা দরিয়া থেকে সুরক্ষিত রাখতে দরিয়ার নিকটে অবস্থান করছে, সেজন্য তিনি দরিয়া হনুমান নামেও খ্যাত।যারা তীর্থ করতে পুরীতে আসেন তারা জগন্নাথ দর্শনের পাশাপাশি বেড়ি হনুমান দর্শন করতে ভোলেন না। বেড়ি হনুমান ভক্ত ভৎসল এবং তিনি সকল ভক্তের মনোস্কামনা পূরণ করেন।

 

আগামী পর্বে যথা সময়ে আবার ফিরে আসবো

বজরংবলী সংক্রান্ত পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় আলোচনা নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব কথা – শিব এবং তন্ত্র শাস্ত্র

শিব কথা – শিব এবং তন্ত্র শাস্ত্র

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

চৈত্র মাস উপলক্ষে শিব কে নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করছি আজ শিবের সাথে তন্ত্রের কি সম্পর্ক তা নিয়ে লিখবো।

 

তন্ত্র হিন্দুসমাজে প্রচলিত ঈশ্বর উপাসনার একটি পথবিশেষ। আসলে শিব ও মহাশক্তির উপাসনা সংক্রান্ত শাস্ত্রগুলিকেও তন্ত্র সাধনা নামে অভিহিত করা হয়।তন্ত্র শাস্ত্র অনুযায়ী, এই মহাবিশ্ব হল শিব ও মহাশক্তির দিব্যলীলা।যদিও তন্ত্র শব্দটির অর্থ ব্যাপক। তবে সংক্ষেপে তন্ত্র হচ্ছে “সৃষ্টির পরিচালনার নিয়ম”।

 

সাধারণত তন্ত্র সাধনা বলতেই কালী, তারা বা দশ মহা বিদ্যার কথা বলা হয় তবে তন্ত্রের সঙ্গে মহাদেবের সম্পর্ক অতি গভীর।বলা ভালো মহাদেব থেকেই তন্ত্রের উৎপত্তি কারন শিবের ডমরু থেকে তন্ত্রের জন্ম হয়েছে ডমরু মহাদেবের অন্যতম প্ৰিয় বস্তু।

 

তন্ত্রে যেসব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও রীতি-নীতির বর্ণনা রয়েছে তার উদ্দেশ্যই হল মানুষকে অজ্ঞানতা ও পুনর্জন্মের হাত থেকে মুক্তি দেওয়া।

আর এই মুক্তি দেবাদিদেব মহাদেবের কৃপা ছাড়া সম্ভব নয়। শক্তি ছাড়া শিব এবং শিব ছাড়া শক্তি অসম্পূর্ণ।

 

আবার সতী বা দেবী দুর্গার দশটি রূপ দশ মহা বিদ্যা।এই দশমহাবিদ্যার উপর ভিত্তি করেই তন্তশাস্ত্রর ব্যাবহারিক দিকটি গড়ে উঠেছে।জ্যোতিষ শাস্ত্রে প্রতিটি গ্রহ দশ মহাবিদ্যার একেকটি বিদ্যার অধীনে আছে।এই দশ মহাবিদ্যার আবির্ভাব শিবের জন্যই হয়েছে। পুরানে সেই বর্ণনা রয়েছে।দেবী কালী বা দেবী কৌশিকীর আবির্ভাবের সাথেও প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ ভাবে শিবের সম্পর্ক রয়েছে।

 

সংক্ষেপে বলা যায় মহাদেব ও আদ্যা শক্তি মহামায়া এই দুই অনন্ত ও অসীম শক্তি তন্ত্রের আধার।

 

ভারতের সর্বাধিক জনপ্রিয় তন্ত্র সাধনার

জায়গা হল নীলাচল পর্বত। যা ‘কামাখ্যাধাম’ নামে পরিচিত।তেমনই মহাদেবের বাস কৈলাশ পর্বতেও বহু অলৌকিক শক্তির উপস্থিতি আছে যাকে অনেকেই তন্ত্রশক্তির সাথে তুলনা করেন।

 

তন্ত্র এমনই একটি শাস্ত্র যার মাধ্যমে নিজেকে অনুসন্ধান করা যায়। নিজের অন্তরের ঈশ্বরকে খুঁজে পাওয়া যায়।স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেব কে প্রসন্ন করা যায়।

 

তন্ত্র জ্ঞানচক্ষু উম্মোচন করে। সৃষ্টির কারন বুঝতে সাহায্য করে তন্ত্র। তন্ত্র সৃষ্টি, স্থিতি ও বিনাশের পরিচালনা শক্তি। ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর এই তিন শক্তির সমন্বয়ে সাধিত হয় তন্ত্র শক্তির অদৃশ্য বৃত্ত যা আমাদের জীবন ও সমগ্র সৃষ্টিকে পরিচালনা ও প্রভাবিত করে।

 

যে অঘোরো পন্থা তন্ত্রের একটি পথ সেই পন্থায় বিশ্বাসীরা শিবকেই আদি অঘোরী বলে মানে।

অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে শিব ও তন্ত্র দুটি পরস্পরের সাথে সম্পর্ক যুক্ত।

 

ফিরে আসবো পরের পর্বে। শিব সংক্রান্ত

আরো অনেক কথা বলার আছে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব কথা – ত্রিশূল রহস্য

শিব কথা – ত্রিশূল রহস্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দেবতা দের আরাধ্য দেবতা হলেন দেবাদিদেব মহাদেব।তিনি আবার সংহার কর্তাও। যতো কঠিন কাজের ভার তার উপরেই অর্পণ করা হয়।

মা গঙ্গাকে জটায় ধারণ করা হোক বা হলাহল বিষ পান করা হোক সবই শিবকে করতে হয়েছে।

 

কিন্তু শিবের অস্ত্র ত্রিশুল কে নিয়ে সেই ভাবে আলোচনা হয়না তবে দেবাদিদেব মহাদেবেকে নিয়ে আলোচনা অসম্পূর্ণ থেকে যায় যদি তার চির সঙ্গী ত্রিশূলের কথা না বলা হয়। সংহার কর্তা মহাদেবের প্রধান অস্ত্র তার ত্রিশূল।

 

শুধু অস্ত্র নয় শুভ শক্তির প্রতীক এই ত্রিশূল।

আবার এই ত্রিশূলই তিনি তুলে দেন দেবী দুর্গার হাতে মহিষাসুর বধের সময়ে।কারণ অশুভ শক্তি নাশের ভার ছিলো দেবী দুর্গার উপরে।

 

দেব শিল্পী বিশ্ব কর্মাই সমস্ত দৈব্য এবং স্বর্গীয় নির্মাণ করে থাকেন মহাদেবের অস্ত্র নির্মাণের ভার স্বাভাবিক ভাবেই গিয়ে পরে দেব শিল্পী

বিশ্বকর্মার উপর|

 

বিষ্ণুপুরান অনুসারে সূর্যের তেজ ও রশ্মির ব্যবহার করে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা ত্রিশূল নির্মাণ করেন এবং তা শিবকে প্রদান করেন|এতে শিব ও তার অস্ত্র পান এবং সূর্যের তেজ কিছুটা কমে তাতে বিশ্বকর্মার কন্যা এবং সূর্যর পত্নী সংজ্ঞা স্বামীর অতিরিক্ত তেজ থেকে কিছুটা স্বস্তি পান|এখানে ত্রিশুল একসাথে দুটি সমস্যার সমাধান করে।

 

ত্রিশুল দিয়ে যেমন শিব ব্রম্ভার একটি মাথা খণ্ডন করেন তেমনই ত্রিশূল দিয়ে শিব দ্বারা গণেশের মুন্ড ছেদের ঘটনারও উল্লেখ আছে শাস্ত্রে। আবার বহু অসুর এবং দৈত্যর প্রাণ গেছে এই ত্রিশুলের আঘাতে।

 

ত্রিশূল শুধু অস্ত্র নয় সনাতন ধর্মে ত্রিশূল সমৃৃদ্ধির প্রতীক আবার ত্রিশূলের তিনটি ফলার আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য রয়েছে|মনে করা হয় তিনটি ফলা যথাক্রমে সৃষ্টি-স্থিতি-বিনাশ কে চিহ্নিত করে আবার অন্য একটি বাখ্যা অনুসারে তিনটি ফলার অর্থ যথাক্রমে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত যা শিব তথা মহাকালের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে|শিবের ত্রিশূলে সব সময় বাঁধা থাকে ডমরু। এই ডমরু বেদ এবং তার উপদেশের প্রতীক যা আমাদের জীবনে এগিয়ে চলার রাস্তা দেখায়|শুধু হিন্দু নয় বৌদ্ধ ধর্মেও ত্রিশূল একটি পবিত্র প্রতীক হিসেবে সমাদৃত। সনাতন ধর্মের পবিত্র নগরী কাশী অবস্থান করছে এই মহাদেবের ত্রিশূলে।

 

বাস্তু শাস্ত্র মতে গৃহের প্রধান ফটকে ত্রিশূল চিহ্ন বা ত্রিশূল রাখলে গৃহে অশুভ শক্তি প্রবেশ করেনা ও গৃহে সুখ ও সমৃদ্ধি বিরাজ করে|জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে শ্রাবন মাসে এবং নীল ষষ্টির শিব পুজোর সময়ে শিবকে ত্রিশূল অর্পণ করলে শিব সন্তুষ্ট হন এবং মনোস্কামনা পূর্ণ করেন।কবচ আকারে পবিত্র ত্রিশুল ধারন করলেও ভালো ফল পাওয়া যায় বলে অনেকে বিশ্বাস করেন।

 

চৈত্র মাস জুড়ে চলতে থাকবে শিব নিয়ে আলোচনা আগামী পর্বে আবার কোনো নতুন বিষয় নিয়ে আসবো আপনাদে সামনে|

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

রামনবমীর শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

রামনবমীর শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ রাম নবমী। দীর্ঘ টানা পোড়েন এবং আইনি জটিলতার পরে রাম লালা তার জন্ম ভূমিতে বিরাজমান হয়েছেন। এই মুহূর্তে সারা দেশ জুড়ে শ্রী রাম কে নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ এবং উদ্দীপনা চোখে পড়ছে তবে এতো কিছুর মাঝে শাস্ত্রকে ভুলে গেলে চলবেনা। আজ আপনাদের রাম নবমীরে শাস্ত্রীয় এবং আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা জানাবো।

শ্রী রাম ছিলেন সূর্য্য বংশীয় রাজা দশরথের অস্বমেধ যোগ্য লব্ধ যেষ্ঠ পুত্র। শৈশব থেকেই তিনি রাজধর্ম পালন করছেন কারন রামের যখন চোদ্দ বছর বয়স তাকে ঋশি বিস্বামিত্র রাক্ষস দের হাত থেকে যজ্ঞ রক্ষা করার জন্য দশরথের কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে যান। সেই থেকে শুরু হয় তার দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালন যা শেষ হয় রাবন বধের মধ্যে দিয়ে।

বিভিন্ন যুগে ভগবান বিষ্ণু বিশ্ব সংসারের সকল মানুষকে ন্যায়পরায়ণতার ও সত্যের পথ প্রদর্শন করতে মিথ্যার উপর সত্যের জয় প্রতিষ্ঠা করতে
নানা অবতার রূপে আমাদের ধরিত্রী তে অবতরণ করেন|ত্রেতা যুগে রাম ভগবান বিষ্ণুর সপ্তম অবতার রূপে জণ্মেছিলেন।

সনাতন ধর্মে যতজন ভগবানের অবতার আছেন তাদের মধ্যে রামকে এক কথায় সর্বশ্রেষ্ঠ বলা যায়।
তিনি ন্যায় এবং সুশাসনের প্রতীক। তার জীবন এবং দর্শন ভারতের আদর্শ। আজ তার তার জন্ম তিথিকেই আমরা রাম নবমী রূপে পালন করি।রাম নবমী পালন করার মূল উদ্দেশ্য হল অধর্মকে নিক্ষেপ করে ধর্মকে স্থাপন করা। মন্দ শক্তির বিনাশ করে শুভ শক্তির সূচনা করা।

ভগবান রামের উল্লেখ যে শুধুমাত্র প্রাচীন হিন্দু গ্রন্থে পাওয়া যায় তা নয়, জৈন এবং বৌদ্ধ ধর্ম গ্রন্থেও ভগবান রামের উল্লেখ আছে। বিশ্বের বহু দেশেই রামের মন্দির আছে,ইন্দোনেশিয়ায় রয়েছে পৃথিবীর বৃহত্তম রাম মূর্তি|শ্রী রাম সততার প্রতীক, ত্যাগের প্রতীক,অসত্যর উপর সত্যর জয়ের প্রতীক|রাজ ধর্ম পালন করতে তিনি যে আত্মত্যাগ করেছেনতা এক দৃষ্টান্ত|রাম নামকে বলা হয় কলিযুগের সব অন্ধকারকে দূর করে এগিয়ে যাওয়ার প্রধান অস্ত্র|

শাস্ত্রমতে এই রাম নবমী উপলক্ষ্যে ধার্মিক ব্যক্তিরা সমগ্র দিন জুড়ে বৈদিক মন্ত্র পাঠ করেন। সমগ্র দিনজুড়ে ভক্তিমূলক গান গাওয়া বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় বইগুলি থেকে পাঠ করে শোনাবার রীতি আছে| এই দিনটিতে রাম কথার বর্ণনা করে, রাম কাহিনী পড়ে সহজেই বিষ্ণুর কৃপা লাভ করা যায়, অনেকে মন্দিরে যান, অনেকে বাড়িতে রামের মূর্তিতে পূজা করেন। বহু স্থানে সূর্য দেবকে জল প্রদান করে সূর্য দেবতার আশীর্বাদ গ্রহণ করা হয় আজকের দিনে|

এই কলি যুগে রাম নাম মুক্তির পথ। শুধু মাত্র নাম জপের মাধ্যমে অসাধ্য সাধন হতে পারে। পুরানে আছে দস্যু রত্নাকর শুধু রাম নাম জপ করে সব পাপ থেকে মুক্ত হয়ে ঋষি বাল্মীকিতে রূপান্তরিত হয়ে ছিলেন।

সবাইকে জানাই রাম নবমীর শুভেচ্ছা। ফিরে আসবো আগামী দিনে। শিব সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনায়। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী অন্নপূর্ণার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা 

দেবী অন্নপূর্ণার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

 

বিশেষ পর্ব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ দেবী অন্নপূর্ণার পূজা|আজকের এই বিশেষ পর্বে দেবী অন্নপূর্ণার রূপ এবং তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করবো।

 

তিথি মেনে চৈত্র মাসের শুক্লাপঞ্চমী তিথিতে অন্নপুর্ণার পুজা করা হয়। সাধারণত কালী বা জগদ্ধাত্রী পুজোর মতই তান্ত্রিক মতে এই

পুজো হয়ে থাকে।

 

শাস্ত্র মতে দেবী অন্নপূর্ণা মূলত দ্বিভূজা আবার চতুর্ভূজা রূপেও কোথাও কোথাও তার পুজো দেবীর গায়ের রঙ উজ্জ্বল গৌর বর্ণ। দেবীর বামহাতে সোনার অন্নপাত্র। ডানহাতে চামচ বা হাতা।মাথায় বিরাজিত অর্ধচন্দ্র। তিনি ক্ষুধার্ত মহাদেবকে অন্নদান করছেন স্মিতহাস্যে তার এক পাশে শ্রী ও অন্য পাশে ভূমি|এই হলো দেবীর শাস্ত্রে উল্লেখিত রূপ আবার দেবীকে একা শান্ত এবং সৌম রূপে পদ্মাসনে বিরাজিতা রূপেও দেখা

যায়।

 

সনাতন ধর্মে দেবী অন্নপূর্ণার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য অপরিসীম|অন্নদামঙ্গল কাব্য রচিত হয়েছে দেবীর মহিমা কীর্তন করে। আবার প্রাচীন তন্ত্রসার গ্রন্থে দেবীর পূজা পদ্ধতি রয়েছে।

 

দেবী অন্নপূর্ণা সম্পর্কে অনেকে মনে করেন যে তিনি গ্রিক ও রোমান দেবী ‘অন্নোনা’র রূপান্তর। প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যর ধ্বংসাবশেষ থেকে দেবীর যে মূর্তি পাওয়া যায় তাতে তার বামহাতে শিঙ্গা আর ডানহাতে তুলাদণ্ড।যদিও এই মতবাদ যুক্তি গ্রাহ্য নয় কারন। দেবী অন্ন পূর্ণা হাজার হাজার বছর থেকে সনাতন ধর্মে পূজিতা হয়ে আসছেন। তিনি শস্যর দেবী রূপে প্রাচীন হরপ্পা সভ্যতায় পূজিতা ছিলেন।

 

আবার গ্রাম বাংলায় তিনি লৌকিক দেবী। ভালো ফসল পাওয়ার জন্য এবং সংসারে স্বচ্ছলতা প্রার্থনা করে বঙ্গদেশে সাধারণ মানুষ অন্নপূর্ণার পুজো করেন অগ্রহায়ণ মাসের নবান্নের সময়। এটি প্রাচীন পুজো যা পরবর্তীকালে কাশীতে অনুপ্রবেশ করেছিল প্রবাসী বাঙালিদের মাধ্যমেই।

 

তীর্থ ক্ষেত্র কাশীতে দেবী অন্নপূর্ণার বিখ্যাত মন্দির রয়েছে। সেখানে প্রতি বছর ধুমধাম করে অন্নপূর্ণা পুজো হয়ে থাকে। এই মন্দিরে অন্নকূট উত্‍সব বিখ্যাত।

 

দেবী অন্নপূর্ণাকে প্রনাম জানিয়ে আজকের পর্ব শেষ করলাম। ফিরে আসবো শিব সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার অন্নপূর্ণা পুজোর ইতিহাস

বাংলার অন্নপূর্ণা পুজোর ইতিহাস

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আসন্ন অন্নপূর্ণা পুজো উপলক্ষে দেবী অন্নপূর্ণার পুজোর মাহাত্ম ও তার ইতিহাস নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করছি। আজ বঙ্গ দেশে দেবী পুজোর ইতিহাস নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনাদের সামনে রাখবো।

 

বাংলায় বর্তমানে দূর্গা পুজো এবং কালী পুজো প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও এক কালে অন্নপূর্ণা পুজোর বেশ চল ছিলো মূলত বনেদি জমিদার বা রাজ পরিবার গুলোতেই এই পুজো হতো। সেই ভাবে অন্নপূর্ণা পূজা বারোয়ারী পুজোর রূপ পায়নি। তবে অন্নপূর্ণা পুজোর ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ এবং তাৎপর্য পূর্ণ।

 

দেবী অন্নদার কৃপা প্রাপ্ত হয়ে ভবানন্দ মজুমদার জাহাঙ্গীরের কাছে রাজা উপাধি লাভ করেছিলেন।তিনিই দেবী অন্নপূর্ণার পুজো বঙ্গদেশে প্রচলন করেছিলেন। তিনি ছিলেন কৃষ্ণনগরের মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের পূর্বসুরী। তাকেইবাংলার অন্নপূর্ণা পুজোর সূচনা করার কৃতিত্বদেয়া হয়

 

তবে বহু আগেথেকেই বিভিন্ন শাস্ত্রে বঙ্গদেশে দেবী অন্নপূর্ণার পুজোর উল্লেখ আছে।অন্নদামঙ্গলকাব্যে দেবী পুজোর বিষয়ে অনেককিছুই লেখা আছে।

 

শোনাযায় নবাব মুর্শিদকুলি খাঁয়ের কাছে নির্ধারিত দিনে কর বা রাজস্ব মেটাতে না পেরে দুর্গাপুজোর সময় মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র মুর্শিদাবাদে কারারুদ্ধ হন। সেই সময়ে দেবী অন্নপূর্ণা রাজাকে স্বপ্নে দর্শন দিয়ে অন্নপূর্ণা পুজোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। মহারাজা কৃষ্ণ চন্দ্র মুক্তি পেয়ে সেই আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে ছিলেন।

 

আবার অনেকে মনে করেন এই পুজো এসেছিল কাশী থেকে কারন বাংলার সঙ্গে কাশীর যোগ বহুকালের এবং কাশী হল মা অন্নপূর্ণার প্রধান অধিষ্ঠানক্ষেত্র।

 

বাংলায় দেবী অন্নপূর্ণার একটি মন্দির রয়েছে বেহালার বড়িশায়। সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের এক নিঃসন্তান সদস্য তার স্ত্রীর কাসিবাস আটকাতে নিজের জমিদারিতেই তৈরী করে দেন অন্নপূর্ণার মন্দির যা আজও স্বমহিমায় বিরাজমান।পরবর্তীতে বাংলার প্রখ্যাত কিছু রাজ পরিবার এবং জমিদারদের হাত ধরে তৈরী হয় বেশ কিছু অন্নপূর্ণা মন্দির।যার মধ্যে রয়েছে ব্যারাকপুরে রানী রাসমণির পরিবারের অন্নপূর্ণা মন্দির যার কথা আগের পর্বে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেছি।

 

একসময় রাজা বা জমিদার বাড়ির অন্দর মহল ছাড়িয়ে সাধারন গৃহস্ত বাড়িতেও শুরু হয় দেবী আরাধনা। সেখানে তিনি লৌকিক দেবী। সমৃদ্ধি এবং অন্নের দেবী।ঘরের মেয়ে দুর্গারই যেনো আরেকটি রূপ দেবী অন্নপূর্ণা।

 

দেবী অন্নপূর্ণার পুজো সংক্রান্ত আরো

অনেক শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা ও তথ্য নিয়ে ফিরে আসবো

আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বিশেষ পর্ব – রানী রাসমণির অন্নপূর্ণা মন্দির

বিশেষ পর্ব – রানী রাসমণির অন্নপূর্ণা মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আসন্ন অন্নপূর্ণা পূজা উপলক্ষে আগামী তিন দিন দেবী অন্নপূর্ণার মাহাত্ম এবং বাংলার একটি প্রাচীন এবং বিখ্যাত অন্নপূর্ণা মন্দির নিয়ে লিখবো।

 

রানী রাসমণি তার দক্ষিনেশ্বর মন্দিরের জন্য বেশি জনপ্রিয় হলেও তার পরিবারে দেবী অন্নপূর্ণার পুজোর প্রচলন ছিলো এবং একটি অন্নপূর্ণা মন্দিরও তারা নির্মাণ করিয়ে ছিলেন।

ব্যারাকপুরের অবস্থিত এই অন্নপূর্ণা মন্দির নির্মিত হয়েছিল দক্ষিণেশ্বরের মন্দির নির্মাণের বেশ কয়েক বছর পরে। মথুরমোহন বিশ্বাসের ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করতেই জগদম্বা তৈরি করেছিলেন এই মন্দির।

 

এই অন্নপূর্ণা মন্দির নির্মাণের সাথে জড়িত আছে এক অলৌকিক ঘটনা। একবার রানি রাসমণি

তাঁর জামাই মথুরমোহন বিশ্বাস সহ অন্যান্য আত্মীয়স্বজন নিয়ে জল পথে কাশীযাত্রা করেছিলেন। যাত্রা শুরুর দিন রাতেই রানীমা দেবীর স্বপ্নাদেশ পান যে কাশী না গিয়ে গঙ্গার পাড়েই মন্দির প্রতিষ্ঠা করে তাঁর নিত্যপুজোর ব্যবস্থা করা হোক। রানি কাশীযাত্রা স্থগিত করে ফিরে আসেন। নানা কারণে সেবার মন্দির তৈরী হয়নি ।তারমধ্যে তৈরী হয়ে যায় দক্ষিনেশ্বর মন্দির।এদিকে অন্নপূর্ণা-দর্শন না হওয়ায় মথুরমোহনের মনে মনে ইচ্ছে ছিল দেবী অন্নপূর্ণার মন্দির প্রতিষ্ঠা করার। কিন্তু তাঁর জীবদ্দশায় তা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ করেন তাঁর স্ত্রী রানি রাসমণির ছোটো মেয়ে জগদম্বাদেবী। তৈরী হয় তার মায়ের স্বপ্নদেশ পাওয়া অন্নপূর্ণা মন্দির।

 

এই অন্নপূর্ণা মন্দির টি ন’টি চূড়াবিশিষ্ট নবরত্ন

শৈলীর মাতৃমন্দির, ছ’টি আটচালার শিবমন্দির, দু’টি নহবতখানা, নাটমন্দির, ভোগের ঘর, গঙ্গায় স্নানঘাট ইত্যাদি তৈরি হয়েছিল।অন্নপূর্ণা মন্দিরটি দেখতে অবিকল দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মন্দিরের মতো।মন্দিরের গর্ভগৃহে অধিষ্ঠিত শিব ও অন্নপূর্ণার বিগ্রহ অষ্টধাতুর। মাতৃমূর্তি দক্ষিণমুখী।পাশে ভিক্ষা পাত্র হাতে শিব।যেমন টা শাস্ত্রে বর্ণিত আছে তেমনই।

 

অন্নপূর্ণা মন্দিরের তোরণদ্বারের ওপর স্থাপিত রয়েছে এক সিংহমূর্তি। যা নিয়ে সেকালে ব্রিটিশরা আপত্তি করে ছিলো কারণ ব্রিটিশদের দাবি ছিল, সিংহ তাদের রাজশক্তির প্রতীক। বিবাদ গড়ায় আদালত পর্যন্ত। তবে আইনি লড়াইয়ে জয় হয়েছিল রাসমণির পরিবারের। হার মানে ইংরেজরা।

 

ব্যারাকপুরে অন্নপূর্ণা মন্দির প্রাঙ্গণে রয়েছে ছ’টি শিবমন্দির।মন্দিরের পাশেই বাঁধানো গঙ্গার ঘাট আছে যা রানি রাসমণি ঘাট নামে পরিচিত।

শোনা যায় এই ঘাটে ঠাকুর স্বয়ং শ্রীরামকৃষ্ণ

স্নান করেছিলেন।

 

দেবী অন্নপূর্ণাকে নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলতে থাকবে। ফিরে আসবো

আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব কথা – শিব ধাম কৈলাশ

শিব কথা – শিব ধাম কৈলাশ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের পর্ব শিব ধাম কৈলাশ নিয়ে।

শাস্ত্রে কৈলাস পর্বতকে শিবের ‘লীলাধাম’ বলা হয়েছে কারন শিব এবং তার সহধর্মিনী দুর্গা ও কার্তিক গণেশ সহ শিবের সকল অনুসারী ভক্তরা কৈলাসে বাস করেন|

 

এই কৈলাশ নিয়ে রয়েছে অনেক লোক কথা আছে অনেক কিংবদন্তী। তার কতোটা সত্য কতোটা কল্পনা তা বিচার করা খুব কঠিন। তবে একথা সত্য যে কৈলাশ হিন্দু এবং বৌদ্ধদের মধ্যে অত্যন্ত পবিত্র এবং রহস্যময় এক স্থান।

 

প্রতি বছর বহু মানুষ মানস সরোবর যাত্রা করেন। তবে কৈলাস পর্বতের শৃঙ্গে এখনও পর্যন্ত কেউ উঠতে পারেননি। একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টের পর যাওয়া সেখানে নিষিদ্ধ। শোনা যায় ঠিক পিরামিডের আকারের এই পাহাড়ে অনেক প্রাচীন গুম্ফা ও গুহা রয়েছে। যেখানে দেখা মিলতে পারে বৌদ্ধ ও হিন্দু সন্ন্যাসীদের। এই সন্ন্যাসীরা লোকচক্ষুর আড়ালে বহু বছর ধরে তপস্যা করে চলেছেন।

 

ভৌগোলিক ভাবে কৈলাস পর্বতকেই পৃথিবীর কেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।অনেকে বলে থাকেন কৈলাস পর্বত থেকে ফেরার পরে হঠাত্‍ করে চুল ও নখ বেশ কিছুটা বড় হয়ে যায়। আবার কথিত আছে, একবার কয়েকজন সাইবেরিয়ান পর্বতারোহী কৈলাস পর্বতের নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন। সঙ্গে সঙ্গেই তাদের বয়স কয়েক দশক বেড়ে যায় এবং এর এক বছর পরেই বয়সজনিত কারণে মৃত্যু হয় তাঁদের|এসবই অবশ্য প্রচলিত জনশ্রুতি বা কিংবদন্তী।

 

একটি ব্যাখ্যা অনুসারে সময়ের ধরা বাঁধা গন্ডির বাইরে অবস্থিত এই পর্বত তাই এখানে নিদ্দিষ্ট এরিয়ার বাইরে নিষিদ্ধ জায়গায় যাওয়া মানে প্রকৃতির বিরুদ্ধে যাওয়া । তাই এই সব হয়।

 

তিব্বতি লোককথা অনুযায়ী, মিলারেপা নামে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী একবার কৈলাস পর্বতের শীর্ষের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি সবাইকে সাবধান করে দেন যে ঈশ্বরের বাসস্থানে না যাওয়াই ভালো। মানস সরবোর ছাড়াও কৈলাস পর্বতের নীচে রয়েছে আরও একটি অপরূপ সুন্দর হৃদ রাক্ষস তাল।প্রায় পনেরো হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত মানস সরোবর বিশ্বের উচ্চতম মিষ্টি জলের হৃদ। আরও একটি আশ্চর্যের বিষয় যত জোরেই হাওয়া থাকুক এই মানস সরোবরের জল সবসময়ই শান্ত কিন্তু রাক্ষসতালের জল সব সময় অশান্ত থাকে।

 

বিখ্যাত এক রাশিয়ান চিত্রকার বহুকাল এই অঞ্চলে কাটিয়ে তার অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করেছিলেন, তার কথায় কৈলাসের আসেপাশে শাম্বালা নামের একটি রহস্যময় রাজ্য আছে। সেখানে শুধু উচ্চ কোটির তপস্যিরা বসবাস করেন|এই শাম্বালাই অনেকের মতে জ্ঞান গঞ্জ

যেখানে উচ্চ কোটির সাধু মহাত্মারা বাস করেন।

 

বেশ কিছু বছর আগে আরো একটি রাশিয়ান অভিযাত্রী দল কৈলাশ অভিযানে গেছিলো তারা ফিরে এসে জানায় যে কৈলাশের আশেপাশে

বহু অলৌকিক ঘটনা ঘটে।যেমন রাতের নিশ্তব্দতায় পাহাড়ের ভিতর থেকে একটি আজব ফিসফিস এর শব্দ আসে। একবার নয় বহু বার এমন অভিযান হয়েছে এবং সবাই স্বীকার করেছেন যে কৈলাস পর্বতের চারিদিকে একটি অপার্থিব এবং অলৌকিক শক্তির স্রোত বয়ে চলে|

 

আমার মতে যেখানে বাস করেন স্বয়ং মহাদেব সেই স্থান ঘিরে রহস্য ও অলৌকিক ঘটনা ঘটবে সেটাই স্বাভাবিক

 

সামনেই অন্নপূর্ণা পুজো ফিরে আসবো আগামী পর্বে থাকবে দেবী অন্নপূর্ণাকে নিয়ে শাস্ত্রীয়

আলোচনা।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব অবতার – হনুমান

শিব অবতার – হনুমান

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শিবের সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং পৌরাণিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন অবতার বা অংশ হলেন হনুমান।আজকের পর্বে আপনাদের জানাবো রূদ্র
অবতার হনুমান সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য|

কবিরাজ তুলসীদাস হনুমানের সাক্ষাৎ দর্শন লাভ করার পর হনুমান চালিসা রচনা করে ছিলেন। তার কথায় ” শঙ্কর সুমন কেশরী নন্দন ” অর্থাৎ হনুমান কেশরী পুত্র এবং শিবের অংশ রূপে তার জন্ম। হনুমানের মায়ের নাম ছিল অঞ্জনা। হনুমানের পালক পিতা হলেন পবন দেবতা|রাক্ষস বাহিনীর অত্যাচার থেকে ধরিত্রীকে মুক্ত করতে তথা ভগবান রামের সেবা ও রাম নাম প্রচারের জন্যই রুদ্র অবতার হনুমানের আবির্ভাব।

পুরানের একটি ঘটনা অনুসারে একদা দশানন রাবণ কৈলাশে পাহারারত নন্দীকে ব্যাঙ্গ করলেন বানর বলে|ক্ষিপ্ত হয়ে নন্দী রাবণকে অভিশাপ দিলেন এক বানরের হাতেই রাবণ আর তার কূল ধ্বংস হবে|এই অভিশাপই পরবর্তীতে সত্য হয়েছিলো। রাবনের পতনের বড়ো ভূমিকা নিয়েছিলেন হনুমানজি।

শুধু রামায়ণ নয়। হনুমানজী দ্বাপর যুগেও ছিলেন।এমনকি মহাভারতেও তার উল্লেখ রয়েছে মনে করা হয় কুরুক্ষে যুদ্ধে অর্জুন ও শ্রীকৃষ্ণের রথের ধ্বজা হিসেবে ছিলেন। তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছায়।কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবা করেছেন। হনুমানজীর অনুরোধে শ্রীকৃষ্ণ রামচন্দ্রের রূপ ধারণ করে হনুমানকে একবার দর্শন দিয়েছিলেন।শাস্ত্র মতে হনুমান চার যুগে অমর অর্থাৎ তিনি আজও স্বশরীরে এই পৃথিবীতে বিরাজমান।

বজরংবলী অষ্ট সিদ্ধির অধিকারী। অর্থাৎ আটটি দুর্লভ ক্ষমতা রয়েছে তার। আবার তার স্মরণাগত দের গ্রহ রাজ শনিদেব কোনো ক্ষতি করেন না কারন রাবনের কারাগার থেকে তিনি শনিদেবকে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং শনিদেব খুশি হয়ে তাকে এই বর দিয়েছিলেন।

একবার শত্রুঘ্ন ও রাজা বীরমণির মধ্যে ভয়ানক যুদ্ধ হয়। রাম ভক্ত হনুমান বীরমণির সেনার সংহার শুরু করে দেন। রাজা বীরমণিকে মহাদেব তার রাজ্য রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তাই মহাদেবকে বাধ্য হয়ে তার নিজের অবতারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে হয়। শ্রী রামের হস্থক্ষেপে সে যাত্রায় যুদ্ধ থামে এবং হনুমানের পরাক্রমে খুশি হয়ে শিব তাকে আশীর্বাদ করেন।শিব এবং তার অবতারের মধ্যে এই যুদ্ধ পুরানে বেশ বিরল ঘটনা।

অনেকেই মনে করেন বজরংবলী ব্রহ্মচারী। অবিবাহিত।একথা আংশিক সত্য,পুরান অনুসারে হনুমান বিবাহিত এবং তার সন্তানও রয়েছে|

সূর্যদেব ছিলেন হুনুমানের শিক্ষক, তিনি হনুমানকে নবনিধীর শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু নবম সূত্রটি কেবল মাত্র বিবাহিত দের জন্যে তাই বিবাহ করা বাধ্যতামূলক ছিলো।এই কারনে শিবের আশীর্বাদে শুভ্রলা নামে একটি কন্যা সৃষ্টি হয় এবং হনুমানের সাথে তার বিবাহ হয় তবে বিবাহের পরের মুহূর্তেই শুভ্ৰলা অদৃশ্য হয়|এই ভাবে বিবাহিত হয়েও ব্রহ্মচারী রয়ে গেলেন হনুমান|অন্ধ্রপ্রদেশের একটি মন্দিরে হনুমান তার স্ত্রী শুভ্ৰলার সাথে একত্রে পূজিত হন|

শাস্ত্র মতে হনুমানের একটি পুত্রও ছিলো যার জন্ম হয়ে ছিলো অদ্ভুত ভাবে, লঙ্কা অভিযানের সময়ে হনুমানের শরীরের এক ফোঁটা ঘাম পড়েছিলো সমুদ্রে এই ঘামের বিন্দু থেকে জন্মান হনুমান পুত্র মকরধজ। পিতার ন্যায় তিনিও ছিলেন অত্যন্ত
শক্তিশালী যোদ্ধা।

শিব সংক্রান্ত আরো অনেক তথ্য নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বগুলিতে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব কথা – দেবী অন্নপূর্ণা ও মহাদেব

শিব কথা – দেবী অন্নপূর্ণা ও মহাদেব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সামনেই দেবী অন্নপূর্ণারে পুজো।তিনি অন্নের দেবী, সুখ ও সমৃদ্ধির দেবী|মর্তে দেবীর আবির্ভাবের সঙ্গে মহাদেবের গভীর সম্পর্ক রয়েছে আজ সেই পৌরাণিক ঘটনা আপনাদের জানাবো।

 

পুরাণ মতে দেবী পার্বতীর সঙ্গে দেবাদিদেবের মতবিরোধে দেবী কৈলাস ত্যাগ করলে মহামারি, খাদ্যাভাব ঘটে। ভক্তগণকে এই বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য দেবাদিদেব ভিক্ষার ঝুলি নিজ কাঁধে তুলে নেন। কিন্তু দেবীর মায়ায় ভিক্ষারও আকাল ঘটে। তখন দেবাদিদেব শোনেন কাশীতে এক নারী সকলকে অন্ন দান করছেন। দেবীকে চিনতে মহাদেবের একটুও দেরি হয় না। মহাদেব দেবীর কাছে ভিক্ষা গ্রহণ করেন ও অন্ন ভিক্ষা নিয়ে তার ভক্তদের খাদ্যাভাব থেকে রক্ষা করেন|

 

এরপর মহাদেব দেবীর একটি মন্দির নির্মাণ করেন কাশীতে এবং সেই থেকে তিনি কাশীর অধিষ্টাত্রী দেবী তার কৃপায় কাশিতে ইচ্ছা থাকলেও অনাহারে থাকা যায়না, প্রত্যেক কাশী বাসির অন্নদানের ভার দেবী অন্নপূর্ণার|

 

সবই ছিলো শিব এবং দেবী মহামায়ারে লীলা যার মধ্যে দিয়ে এক চৈত্র মাসের শুক্ল অষ্টমীতে দেবী অন্নপূর্ণা আবির্ভুতা হয়ে ছিলেন কাশীধামে। যে কাশী নগরী মহাদেবের ত্রিশূলের উপর অবস্থিত এবং মহাপ্রলয় ও যে কাশীরে ক্ষতি করতে অক্ষম সেই কাশীর সব কাশী বাসি প্রতিটি ভক্তের ভালো মন্দের দায়িত্ব স্বয়ং মহাদেব দেবী অন্নপূর্ণার হাতে অর্পণ করেছেন।

 

অন্নদাত্রী দেবী অন্নপূর্ণার আরেকনাম অন্নদা

তিনি দেবী দুর্গার আরেক রূপভেদ।মূলত দ্বিভূজা বা চতুর্ভূজা । গায়ের রঙ লালচে। দ্বিভূজা দেবীর বামহাতে সোনার অন্নপাত্র। ডানহাতে চামচ বা হাতা।মাথায় বিরাজিত অর্ধচন্দ্র। তিনি ক্ষুধার্ত মহাদেবকে অন্নদান করছেন স্মিতহাস্যে তার এক পাশে শ্রী ও অন্য পাশে ভূমি। শাস্ত্রে আছে দেবী অন্নপূর্ণা যে গৃহে নিত্য পূজিত হন সেই গৃহে মহাদেবের আশীর্বাদ থাকে দিবো সব অভাব

দুর হয়।

 

আবার ফিরে আসবো শিব মহিমা নিয়ে। থাকবে শিব সংক্রান্ত আরো একটি

পৌরাণিক ঘটনা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।