Home Blog Page 40

ভক্তের ভগবান – কৃষ্ণভক্ত সুদর্শন

ভক্তের ভগবান – কৃষ্ণভক্ত সুদর্শন

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আমাদের সনাতন ধর্মের দেবদেবীদের প্রত্যেকের যেমন নিজস্ব বাহন রয়েছে, সৃষ্টি কার্যে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে, তেমনই তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব অস্ত্র রয়েছে, যেমন শিবের ত্রিশূল, ইন্দ্রের বজ্র, পরশুরামের কুঠার। তবে শ্রী কৃষ্ণের অস্ত্র সুদর্শন এদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।সুদর্শন একাধারে ভগবানের অস্ত্র আবার তার সর্বক্ষণের সঙ্গী এবং একই সাথে ভগবানের চরণ আশ্রিত পরম ভক্তও।

 

সুদর্শনের দুটি সত্ত্বা আছে একটিতে তিনি ভগবানের হাতের অস্ত্র। স্বয়ং শিব ভগবান বিষ্ণুকে সুদর্শন চক্র দিয়েছিলেন|সুদর্শন চক্র দানের প্রধান উদ্দেশ্য পালনকর্তা যেনো দৃঢ় হাতে সিস্টের পালন ও দুষ্টের দমন করতে পারেন|সু শব্দের অর্থ মঙ্গল এবং দর্শন মানে দেখা দেয়া অর্থাৎ সুদর্শন হলো মঙ্গলময় দর্শন এবং চক্র মানে যা নিজে থেকে ধাবিত হতে পারে|

 

সুদর্শন চক্রের সাথে জড়িয়ে আছে বিষ্ণুর আরেক অবতার পরশুরামের নাম , ত্রেতাযুগে সীতার স্বয়ংবর সভায় যখন রাম হরধনু ভঙ্গ করে ফেলেন তখন রুষ্ট হয়ে তাঁকে শাস্তি দিতে মহেন্দ্র পর্বত থেকে সেখানে উপস্থিত হন পরশুরাম।কিন্তু বিষ্ণুর আর এক অবতার রামের আসল প্রকৃতি জানতে পেরে তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করেন তিনি। সেই সময় রাম তাঁকে সুদর্শন চক্রটি গচ্ছিত রাখতে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন যে দ্বাপর যুগে তিনি যখন আবার জন্ম নেবেন, তখন যেন পরশুরাম সেটি ফিরিয়ে দেন। দ্বাপর যুদে শ্রীকৃষ্ণের রূপ ধরে বিষ্ণু ধরাধামে অবতীর্ণ হলে ধর্ম রক্ষা করার জন্য তাঁকে সুদর্শন চক্রটি ফিরিয়ে দেন পরশুরাম।

 

সুদর্শনচক্র তৈরি করেছিলেন স্বয়ং বিশ্বকর্মা, বৈষ্ণবরা বিশ্বাস করেন সুদর্শন চক্র ও বিষ্ণু এক এবং অভিন্ন|ভয়ংকর অসুররের কাছ থেকে সৃষ্টি কে রক্ষা করা হোক বা ক্রোধে উন্মত্ত মহাদেব কে শান্ত করতে সতীর দেহকে খণ্ডিত করা হোক সুদর্শন চক্র থাকে মুখ্য ভূমিকায়|প্রকৃত অর্থে সুদর্শন চক্র শুভ শক্তির প্রতীক যা অশুভ শক্তিকে বার বার পরাজিত করেছে|আমাদের জ্যোতিষ এবং বাস্তু শাস্ত্রে সুদর্শন যন্ত্রের উল্লেখ পাওয়া যায় যা সাক্ষাৎ সুদর্শন।বাস্তু দোষ এবং গ্রহ দোষ দুর করতে সুদর্শন যন্ত্র প্রয়োগ হয়।

 

সুদর্শন আবার একবার দেবতা রূপেও বর্ণিত হয়েছেন কিছু কিছু শাস্ত্রে।পুরান মতে সুদর্শন সূর্যদেব এবং সুদর্শনার পুত্র। ওঘবতী নামক এক রাজকন্যার সঙ্গে সুদর্শনের বিবাহ হয়।

 

সুদর্শনকে শ্রী কৃষ্ণ যেমন স্নেহ করতেন তেমনই শাসন ও করেন। একবার সুদর্শন যখন নিজের বল এবং পরাক্রমের জন্য অহংকারী হয়ে উঠেছিলেন তখন বিষ্ণু বজরংবলীকে ডেকে পাঠান এবং সুদর্শনকে বলেন দ্বার রক্ষী থাকতে এবং আদেশ দেন কাউকে যেনো তার অমুমতি ছাড়া অন্দর মহলে প্রবেশ করতে না দেয়া হয়। কিন্তু বজরংবলী অবলীলায় সুদর্শনকে পরাস্ত করে তার প্রভুর কাছে চলে যান।

 

ভক্ত এবং ভগবানের সম্পর্ক এরককমই হয়। শাসন এবং অনুশাসন দুই থাকে। তার সাথে থাকে স্নেহ এবং সঠিক পথ প্রদর্শন।

 

আবার ভক্তের ভগবানের পরবর্তী পর্ব নিয়ে যথা সময়ে ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – শিব ভক্ত কুবেরদেব 

ভক্তের ভগবান – শিব ভক্ত কুবেরদেব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সনাতন ধর্মে দেবী ধন সম্পদের দেবী হলেও কুবের দেব হলেন ধন সম্পদের দাতা এবং রক্ষা কর্তা। তার আশীর্বাদ ছাড়া সম্পদ আসেনা বা এলেও স্থায়ী হয়না।এই কুবের দেব হলেন মহান শিব

ভক্ত শিবের দয়াতেই তিনি ধনরাজ হন। আজ এই শিব ভক্ত এবং ভক্ত এবং ভগবানের মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি বিশেষ লীলা নিয়ে

আলোচনা করবো।

 

কুবের ছিলেন যক্ষের রাজা এবং সম্পর্কে রাবনের ভাই।একবার লঙ্কার রাজা রাবণ ভাই কুবেরকে লঙ্কা থেকে বিতাড়িত করেন এবং পুষ্পক রথ সমেত তার সমস্ত ধন সম্পদ অধিকার করে নেন।তখন কুবেরকে সেখান থেকে মূল ভূখণ্ডে চলে যেতে হয়। নিজের রাজ্য এবং সম্পদ হারানোর হতাশায় কুবের হিমালয়ে গিয়ে ভগবান শিবের তপস্যা শুরু করেন এবং পরম শিব

ভক্ত হয়ে ওঠেন।

 

তার তপস্যায় তুষ্ট হয়ে শিব দয়া করে কুবেরকে তার রাজ্য এবং সমগ্র বিশ্বের ধনসম্পদের অধিকারী করে দেন এইভাবেই কুবের বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হয়ে ওঠেন।

 

ধনরাজ হয়ে কুবেরের মধ্যে অহংকার জন্ম নেয় তিনি ভাবতে শুরু করেন তিনিই শিবের সর্বশ্রেষ্ঠ ভক্ত, কারণ তিনি শিবকে অনেক কিছু দিয়েছিলেন।শিবকে নৈবেদ্য রূপে বিপুল ধন সম্পত্তি দিতে চাইলে ভগবান শিব শুধুমাত্র বিভূতি ছাড়া আর কিছুই স্পর্শ করেননি।

 

ভক্ত রূপে কুবের যখন নিজেকে শ্রেষ্ঠ এবং অসীম ক্ষমতার অধিকারী ভাবতে শুরু করেন তখন শিব তাকে শিক্ষা দিতে কুবেরের প্রাসাদে আমন্ত্রণ রক্ষা করতে গণেশকে পাঠান।সব খাদ্য দ্রব্য শেষ করে গণেশ কুবেরের সমস্ত সঞ্চিত ধনসম্পদ গ্রাস করতে শুরু করেন।যখন প্রায় নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে তখন কুবের মহাদেবের লীলা বুঝতে পারেন এবং নিজের অহংকারের জন্য মহাদেবের কাছে ক্ষমা চেয়ে সে যাত্রায় রক্ষা পান।

 

ভগবান যেমন ভক্তের তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে তার সব মনোস্কামনা পূর্ণ করতে পারেন আবার ভুল করলে তাকে শাস্তি দিয়ে সঠিক পথে ফিরিয়েও আনতে পারেন।

 

ফিরে আসবো ভক্ত এবং ভগবানের আরো এক পৌরাণিক লীলা নিয়ে আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – কালীভক্ত বিবেকানন্দ

ভক্তের ভগবান – কালীভক্ত বিবেকানন্দ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

জীবনের প্রথম দিকে প্রতিমা পূজার বিরোধী হলেও বিবেকানন্দই পরবর্তীতে হয়ে উঠেছিলেন করুণাময়ী মা ভবতারিণীর একনিষ্ঠ ভক্ত। আজকের পর্বে স্বামী বিবেকানন্দর

কালী ভক্তির কথা লিখবো।

 

ঠাকুর রামকৃষ্ণর সান্নিধ্যে এসে প্রথম দিকে যুবক নরেন্দ্রনাথ কালীকে গ্রহণ করতে বা তার পূজা করতে সম্মত ছিলেন না। রামকৃষ্ণ তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “যদি আমার মা কালীকে নাই মানবি, তাহলে এখানে আসিস কেন?” নরেন্দ্রনাথ উত্তরে বলতেন, “আমি আপনাকে দেখতে আসি। আমি আসি, কারণ, আপনাকে আমি ভালবাসি।”

 

বিবেকানন্দর ঘোর কালী ভক্তির সাথে জড়িয়ে আছে দক্ষিনেশ্বর মন্দিরে ঘটে যাওয়া এক অলৌকিক ঘটনা।১৮৮৪ সালে রামকৃষ্ণ পরমহংস নরেন্দ্রনাথ দত্তকে দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়িতে আর্থিক উন্নতির জন্য প্রার্থনা করতে পাঠিয়েছিলেন। তিন বার কালীর আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে গিয়ে তিন বারই নরেন্দ্রনাথ উচ্চারণ করেছিলেন: “মা, জ্ঞান ও ভক্তি ছাড়া আর কিছুই আমি চাই না।” এই ঘটনার পর থেকে তিনি কালীমূর্তি পূজা মেনে নেন এবং কালীমূর্তির কাছে জাগতিক সুখ চাওয়ার বদলে বিবেক এবং বৈরাগ্য চেয়ে নেন।

 

নরেন্দ্র নাথের দক্ষিনেশ্বর মন্দিরে আসা। মা ভবতারিণীর দর্শন করা এবং তার কাছে নিজের সুখ স্বচ্ছন্দর বদলে জ্ঞান এবং বৈরাগ্য চাওয়া এসবই ছিলো মা ভবতারিণীর লীলা। ভগবান যদি ঠিক করেন ভক্তকে কৃপা করবেন তাহলে তিনিই পথ দেখবেন তিনিই নিমিত্ত বেছে নেবেন। বিবেকানন্দর ক্ষেত্রে ঠাকুর রামকৃষ্ণ ছিলেন সেই নিমিত্ত মাত্র।

 

দেবী কালীর একনিষ্ঠ ভক্তে পরিণত হওযয়া বিবেকানন্দ বলেছিলেন, কালী হলেন “ব্রহ্মাণ্ডের দিব্য জননী”, যিনি “নিজের মধ্যে সৃষ্টি ও ধ্বংস, প্রেম ও ভীতি, জীবন ও মৃত্যুকে আত্মীভূত করেছেন।

 

পরবর্তীকালে বিবেকানন্দ যখন পাশ্চাত্যে বেদান্ত প্রচারে গিয়েছিলেন, তখন তিনি ভগিনী নিবেদিতাকে একটি চিঠিতে লেখেন যে, মা তাকে রক্ষা করছেন এবং হৃদয়ের সমর্থন জোগাচ্ছেন।

 

পরবর্তীতে স্বামী বিবেকানন্দর ইচ্ছেতেই বেলুড় মঠে শুরু হয় দেবী পুজো। তন্ত্র মতে বলী দিয়ে পুজো করতে চাইতেন স্বামীজী। কিন্তু মা সারদার ইচ্ছেতে বলী বন্ধ হয়।

 

আবার পরের পর্বে অন্য এক ভক্ত এবং

তার ভক্তি নিয়ে আধ্যাত্মিক আলোচনা করবো। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – রামভক্ত জটায়ু

ভক্তের ভগবান – রামভক্ত জটায়ু

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আগে একটি পর্বে আপনাদের রামভক্ত শবরীর কথা বলেছিলাম। আজকের পর্বে আপনাদের আরো এক মহান রাম ভক্ত জটায়ুর কথা বলবো।

রামায়নে জটায়ু সম্পর্কে কিছু তথ্য থাকলেও বজরংবলীর উজ্জ্বল উপস্থিতি তে অন্যান্য রাম ভক্তদের ন্যায় জটায়ুর মহিমা এবং তার প্রভু শ্রী রামের প্রতি ভক্তি অনেকটাই ম্লান হয়ে রয়ে গেছে।

 

জটায়ু ঋষি কষ্যপের বংশে জন্মেছিলেন এবং তার সম্পতি নামে এক ভাই ছিলো। যৌবনে একবার কৌতূহল বসত জটায়ু সূর্য দেবতার

কাছে উড়ে যান। সূর্যের কক্ষপথে প্রবেশ করলে প্রচন্ড তাপে তার ডানা ঝলসে যেতে লাগল। তার ভাইকে বাঁচানোর মরিয়া প্রচেষ্টায় সম্পতি তার সামনে উড়ে যায় এবং তার ডানা প্রশস্ত করে জটায়ুকে রক্ষা করেন।

 

রামায়ণের অরণ্য কাণ্ডে বলা হয়েছে যে জটায়ু হলেন শকুনের রাজা বা গিধরাজ।আবার জটায়ু ছিলেন সমগ্র পক্ষীকুলের উপর রাজত্ব করার অধিকারী তাই তাকে পক্ষীরাজও বলা হয়।

জটায়ু ছিলেন পরম রাম ভক্ত এবং রামকে তার সর্বশক্তি দিয়ে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।তাই।

 

বনবাসে থাকাকালীন রাবণ যখন মাতা সীতাকে অপহরণ করেছিলেন, যখন জটায়ু তাকে বাঁচানোর জন্য রাবনের সাথে ভীষণ যুদ্ধ করেন এবং রাবন কতৃক পরাজিত এবং নিহত হন।

তবে মৃত্যুর পূর্বে তিনি রামকে রাবনের দিশা বলে দেন।মৃত্যুর পর শ্রী রাম রাজকীয় মর্যাদায়

তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন এবং তার এই পরম ভক্তের আত্মত্যাগের জন্য নিজের চোখের জল ফেলেন।

 

জটায়ু সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ ভাবে নিজ আরাধ্য শ্রী রামের সেবা করেন এবং প্রাণ বিসর্জন দেন। তার দেহ ত্যাগ তার ভক্তিকে পূর্ণতা দান করেন এবং তার ভক্তির জোরে তার নাম অন্যতম শ্রেষ্ঠ

রাম ভক্ত রূপে পরিগণিত হয়।

 

আবার পরের পর্বে এমনই এক মহান ভক্ত এবং তার ভক্তির বৃত্তান্ত নিয়ে ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – মা সারদার কথা

ভক্তের ভগবান – মা সারদার কথা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

মা সারদার কাছে এসে একবার এক গৃহী ভক্ত নাছোড়বান্দা, ‘তোমাকে বলতেই হবে তুমি আমার কেমন মা।’ শেষমেশ মা মুচকি হেসে বলেছিলেন, ‘আমি সত্যিকারের মা, পাতানো মা নই। ‘ বাস্তবে মা সারদা ছিলেন তার ভক্তদের কাছে সত্যি কারের মা। আজ এই পর্বে মা সারদা এবং তার ভক্তদের কিছু ঘটনা আপনাদের সামনে উপস্থিত করবো।

 

একবার জয়রামবাটি থেকে অনেকের সঙ্গে দক্ষিণেশ্বর আসছেন।বেশ কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিলেন মা। সন্ধে নামছে। চারদিক অন্ধকার হয়ে আসছে। ডাকাত মাঠ নাম কুখ্যাত এক মাঠের প্রান্তে এসে দাঁড়ান মা সারদা।কিছুক্ষনের মধ্যেই সামনে এসে দাঁড়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাত।তার পরিচয় বুঝতে পেরেও মা সারদা বললেন বললেন, ‘বাবা আমি পথ ভুলেছি।তোমার জামাই দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে থাকেন। তুমি যদি সেখানে আমাকে পৌঁছে দাও তিনি তোমায় খুব আদর যত্ন করবেন।’ডাকাত তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে মা সারদাকে দক্ষিনেশ্বর পৌঁছে দিয়ে ছিলেন।পরে তারা মায়ের ভক্ত হয়ে ওঠেন। মা সারদা বাস্তবেই ছিলেন সতের ও মা অসতের ও মা।

 

স্বামী সারদানন্দের বন্ধু অভিনেতা পদ্মবিনোদ সারদা মায়ের ভক্ত ছিলেন। একদিন রাতে নেশার ঝোঁকে মায়ের বাড়ির চলে আসেন। মাও তাকে সাক্ষাৎ দেন। বাকি ভক্তরা রাগ করলে মা তাদের বলেন ছেলের ডাকে সাড়া না দিয়ে পারিনে। সে যেমন ছেলে হোক।’

 

মায়ের এক ভক্ত ছিলো আমজাদ কথা স্মরণ যাকে মা নিজের হাতে তাকে খেতে দিতেন এমনকী খাওয়া শেষে এঁটো থালা পরিষ্কার করতেও তাঁর কোনও দ্বিধা ছিল না। আমজাদের পরিচয় সম্পর্কে মাকে মনে করিয়ে দেওয়ায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমার শরৎ যেমন ছেলে, ওই আমজাদও তেমন ছেলে’শরৎ অর্থাৎ স্বামী সারদানন্দ।

 

প্রতিটি মানুষকে নিজের মধ্যে দেবতাজ্ঞানে গ্রহণ করতেন। সাড়া দিয়েছেন সবার ডাকে, এমনকী পশুপাখিদেরও সন্তানস্নেহে আপ্লুত করেছেন। তার অলৌকিক সত্ত্বা ভক্তদের থেকে আড়ালে থাকতো।

এক বার এক সহজ সরল ভক্ত নিজেকে সংযত করে রাখতে না পেরে মাকে সরাসরি প্রশ্ন করলেন, মা, আপনি কি সাক্ষাৎ মা কালী? সারদা দেবী মৃদু হেসে বলেছিলেন – ওই, লোকে বলে কালী’!

 

ভক্তদের কাছে মা সারদা ছিলেন সাক্ষাৎ জগৎজননী। ঠাকুর রামকৃষ্ণর যদি অবতার হন তাহলে মা সারদা ছিলেন ভগবানের লীলা সঙ্গিনী।

 

মা সারদা কে প্রণাম জানিয়ে আজকের পর্ব এখানেই শেষ করছি।ফিরে আসবো ভক্ত এবং ভগবানের পরবর্তী পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – শিবভক্ত বাসুকি নাগ 

ভক্তের ভগবান – শিবভক্ত বাসুকি নাগ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

প্রচলিত আছে, কদ্রু কশ্যপ ঋষির কাছ থেকে আটটি টি পুত্র লাভ করেন। এঁদের নাম অনন্ত, বাসুকী, তক্ষক, কর্কোটক, পদ্ম, মহাপদ্ম, শঙ্খ ও কুলিক। এঁদেরকেই নাগের প্রমুখ অষ্টকুল বলা হয়।শেষনাগ বিষ্ণুর এবং তার ছোট ভাই বাসুকী শিবের প্রধান সেবক হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন।

 

শিব পুরাণ অনুযায়ী নাগলোকের রাজা বাসুকী শিবের পরম ভক্ত ছিলেন এবং এই নাগজাতির লোকেরাই সর্বপ্রথম শিবলিঙ্গের পুজো শুরু করেন।আজকের পর্বে জানাবো কি ভাবে এই পরম ভক্ত তার ভগবানের কণ্ঠে স্থান পেলেন।

 

বাসুকীর বিশেষ অবদান ছিলো সমুদ্র মন্থন এর ক্ষেত্রে আবার কারাগারে জন্ম নেয়া কৃষ্ণ কে যখন পিতা বাসুদেব নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিচ্ছিলেন তখন নদী মধ্যে প্রবল বৃষ্টি পাত থেকে বাসুকি তার বিশাল ফনা দিয়ে শ্রী কৃষ্ণ কে রক্ষা করেছিলেন |

 

ভবিষ্য পুরানে বলা হচ্ছে যে নাগেরাই প্রথম শিব পূজা শুরু করে এবং নাগ রাজা হিসেবে বাসুকি শিবের তপস্যা করেন ও শিব কে তুষ্ট করে বরদান পান যে তিনি শিবের কণ্ঠে স্থান পাবেন ও সারা জীবন শিবের সব থেকে কাছে থেকে তার স্তুতি করবেন |তাই তিনি শিবের গলায় স্থান পান।

 

আরেকটি কাহিনী অনুসারে সমুদ্র মন্থন করে অমৃত সন্ধানের সময়ে বাসুকি রজ্জু হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে ছিলেন ও তার পরবর্তীতে শিব যখন হলা হল পান করেন তখনোও বাসুকি শিবের পাশে থেকে তার প্রতি নিজের অনুগত্য প্রকাশ করেন | বাসুকীর এই ভক্তি দেখে শিব সন্তুষ্ট হন ও বাসুকি কে তার শরীরে আশ্রয় দেন |

 

শিব ও বাসুকি কে নিয়ে আরো একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় | মনে করা হয় শিব ও পার্বতীর বিবাহের সময় যখন শিবের অঙ্গ সজ্জার প্রয়োজন হয় তখন বাসুকি তার কণ্ঠে জড়িয়ে যান | শিব এতে এতটাই খুশি হন যে সদা সর্বদা তিনি বাসুকি কে ওই স্থানে ধারণ করে থাকেন|

 

এনিয়ে আরো একটি মত আছে যেখানে বিশ্বাস করা হয় বাসুকি শিবের ধ্যান করেছিলেন এবং তাঁর ভক্তিতে খুশি হয়ে ভগবান শিব তাঁর কাছে আবির্ভূত হলেন এবং তাঁকে বর চাইতে বললেন।বাসুকি মহাদেবকে নিজের শরীরে স্থান দেয়ার অনুরোধ করেন।শিব এই অনুরোধ মেনে নেন সেই থেকে নাগরাজ বাসুকি সর্বদা তার গলায় জড়িয়ে আছেন।

 

মহাদেব ভালো, মন্দ, পুণ্য, দোষ, বিষ, অমৃত সবই জয় করেছেন। তিনি নির্গুণ তাই তার গলায় নাগ রাজ স্বয়ং বিরাজমান।অর্থাৎ ভক্তের ভক্তি যদি খাঁটি হয় ভগবান তাকে নিজ অঙ্গে ধারণ করতেও দ্বিধা করেন না।

 

আবার এমনই এক ভক্ত এবং তার ভক্তির কথা নিয়ে ফিরে আসবো ভক্তের ভগবানে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – মাতা সীতা এবং ভক্ত বজরংবলী

ভক্তের ভগবান – মাতা সীতা এবং ভক্ত বজরংবলী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সবাই পবন পুত্র হনুমানকে রাম ভক্ত বলেই জানেন। কিন্তু শুধু রাম নন রূদ্র অবতার হনুমান ছিলেন মাতা সীতার ও ভক্ত। কবিরাজ তুলসী দাস তার হনুমান চালিশায় লিখেছেন যে হনুমানকে অষ্ট সিদ্ধি এবং নব নিধীর অধিকারী করেছেন মাতা সীতা।

 

রূদ্র অবতার নিজের জীবন তুচ্ছ করে লঙ্কায় গিয়ে শ্রী রামের দূত হিসেবে সীতা মাতার সঙ্গে দেখা করেন এবং সেই সময়ে তিনি মাতা সীতাকে উদ্ধার করতেও চান কিন্তু সীতা রাজি হননি কারন ভগবানের ইচ্ছে ছিলো অন্যরকম। স্বয়ং শ্রী রাম এসে রাবনকে তার পাপের শাস্তি দেবেন এবং সীতাকে উদ্ধার করবেন এই ছিলো ভবিতব্য।

 

আজ এই মহান বৈষ্ণব এবং মাতা সীতার একটি পৌরাণিক ঘটনা আপনাদের জানাবো যেখানে তার রাম ভক্তি খুব সুন্দর ভাবে

ফুটে উঠেছে।

 

পুরানে উল্লেখ আছে একদিন দেবী সীতাকে সিঁদুর পড়তে দেখে হনুমান সীতাকে জিজ্ঞেস করেন যে তিনি কেন সিঁদুর পড়ছেন, উত্তরে সীতা হনুমানকে জানিয়েছিলেন যে তার প্রভু শ্রী রামের দীর্ঘায়ুর জন্যই সিথিতে সিঁদুর পড়েন তিনি।হনুমান তখন ভাবেন যদি সিঁদুরই তাঁর প্রভু রামের দীর্ঘায়ুর চাবিকাঠি হয় তাহলে তিনিও সিঁদুর পড়বেন।তাই সীতার কথা শুনেই নিজের পুরো শরীরেই সিঁদুর মেখে নেন হনুমান।এখান থেকেই সূত্রপাত হয় তার সিঁদুর প্রীতির |গুরুর প্রতি শিষ্যের এমন ভালোবাসা ও ভক্তির কথা জানতে পেরে শ্রীরামচন্দ্র হনুমানকে আশীর্বাদ করেন যে, সবাই তাকে সিঁদুর দিয়ে পুজো করবে। আর সেই থেকে আজও ভগবান হনুমানকে সিঁদুর দান করে পুজো করা হয়।এরপর থেকেই হনুমান ভক্তরা মনে করেন বীর হনুমানকে সিঁদুর দান করলে তিনি সেই সিঁদুর নিজের গায়ে মাখেন এবং ভক্তের সমস্ত ইচ্ছে পূরণ করে দেন।

 

আবার লঙ্কা বিজয় করে অযোধ্যায় ফেরার পর মাতা সীতা যখন তার প্রিয় হনুমকে একটি বহু মূল্য রত্নের মালা দেন তখন হনুমান খেলার ছলে তা ছিঁড়ে ফেলেন এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সীতা তাকে তিরস্কার করেন এতে হনুমান জানান তিনি তাদের চরণে স্থান চান আর কিছু নয়। মাতা সীতা এবং প্রভু রাম তার হৃদয়ে বিরাজ করছেন। এই বলে হনুমান নিজের বুক চিরে রাম সীতার দর্শন করান।

 

ফিরে আসবো ভক্ত এবং ভগবানের আরো একটি দিব্য লীলা নিয়ে পরবর্তী পর্বে। পরতে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – কৃষ্ণ ভক্ত অর্জুন

ভক্তের ভগবান – কৃষ্ণ ভক্ত অর্জুন

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সনাতন ধর্মে দেবতা অনেক আছে কিন্তু ভগবান একজনই।তিনি শ্রী কৃষ্ণ।তার মধ্যে সর্বগুন সর্বোচ্চ মাত্রায় বর্তমান তাই তিনি ভগবান। তিনিই অন্তিম আকর্ষণ তার দর্শন পাওয়ার পর আর কিছু আকর্ষণ থাকেনা।

 

তিনি একাধারে বীর যোদ্ধা আবার পরম দয়ালু তিনি দ্বারকাধীশ আবার অর্জুনের রথের সারথি|তার রূপ ও অনেক|তার একেকজন ভক্তকে তিনি এক এক রূপে দর্শন দিয়েছেন আজ আলোচনা করবো তার বিশ্বরূপ বা বিরাট রূপ নিয়ে। যে রূপে তিনি তার পরম ভক্ত অর্জুনকে দর্শন দিয়ে তার মনোস্কামনা পূর্ণ করেছিলেন।

 

কুরুক্ষে যুদ্ধে কৃষ্ণ বার বার অর্জুনকে নিজের বিশ্বরূপ দেখার আজ্ঞা দেন, কিন্তু অর্জুন কিছু দেখতে পারেন না|তখন কৃষ্ণ বলেন-কিন্তু তুমি নিজের এই চোখ দিয়ে আমার দিব্য রূপ দেখতে পারবে না। তাই আমি তোমায় দিব্য চক্ষু দিচ্ছি। যার সাহায্যে তুমি আমার ঐশ্বরিক ক্ষমতা দেখতে পারবে|এরপর অর্জুনকে দিব্য দৃষ্টি দিয়ে শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে নিজের পরম ঐশ্বরিক বিরাট রূপ দেখান।গোটা বিশ্ব ব্রম্ভান্ড যেনো এই রূপের কাছে তুচ্ছ|মনে করা হয় যদি আকাশে একসঙ্গে হাজার সূর্যোদয় হয়, তখনও তাদের সকলের প্রকাশ মিলে সেই বিরাট রূপের প্রকাশের সামনে দাঁড়াতে পারবে না।শ্রী কৃষ্ণের এই রূপে অনেক মুখ ও চোখ আছে, অনেক অলৌকিক অলঙ্কার আছে, হাতে নানান দিব্য অস্ত্র-শস্ত্র আছে এবং তার গলায় নানান ধরণের দিব্য মালা আছে| তিনি একপ্রকার অলৌকিক বস্ত্র পরে আছেন এবং ললাট ও শরীরে দিব্য চন্দন, কুমকুম ইত্যাদি লাগানো রয়েছে|

 

শাস্ত্রে উল্লেখ আছে এমন বিরাট রূপ দেখে অর্জুন আশ্চর্যচকিত হয়ে পড়েন এবং তাঁর শিহরণ দেখা দেয়। তিনি করজোড়ে এবং মাথা নুইয়ে প্রণাম করে বিরাট রূপ শ্রীকৃষ্ণের স্তুতি করতে শুরু করেন|

 

শ্রী কৃষ্ণ শুধু তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভক্ত অর্জুনকে বিরাট রূপ দেখিয়ে বিরত থাকেন নি। তিনি যুদ্ধে স্বজন হত্যার চিন্তায় বিমর্শ অর্জুনকে দিব্য জ্ঞান দিয়ে ছিলেন এবং বুঝিয়ে ছিলেন মানুষ নিমিত্ত মাত্র স্বয়ং ভগবানই সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং যা হবে তার ইচ্ছেতেই হবে। তাই মানুষের উচিৎ নিষ্কাম কর্ম করে যাওয়া।শুধু বাণী নয় যুদ্ধক্ষত্রে তিনি তার অনুগত ভক্ত কৃষ্ণের রথের সারথি হতেও দ্বিধা বোধ করেননি।

 

ভগবান আক্ষরিক অর্থেই ভক্তের ভগবান।

ভক্তকে সঠিক দিশা দেখিয়ে জীবনের সব যুদ্ধে জয়ী করার জন্য তিনি সদা সচেষ্ট।

 

আবার ভক্তের ভগবান এবং তার লীলা নিয়ে

ফিরে আসবো পরবর্তী পর্বে। পরতে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – কৃষ্ণ ভক্ত জয়দেব

ভক্তের ভগবান – কৃষ্ণ ভক্ত জয়দেব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ আপনাদের গীত গোবিন্দর রচয়িতা এবং মহান কৃষ্ণ ভক্ত পরম বৈষ্ণব শ্রী জয়দেব প্রসঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে আলোচনা করবো। জানাবো এক অলৌকিক ঘটনার কথা।

 

শ্রী জয়দেব গোস্বামী একাদশ শতাব্দীতে বিরহুম জেলার কেন্দুলি গ্রামে আবির্ভূত হন। তাঁর পিতার নাম ভোজাদেব এবং মাতার নাম বামা দেবী। তাঁর প্রাথমিক জীবন সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়, তবে বলা হয় যে তিনি অল্প বয়স থেকেই সংস্কৃতের পণ্ডিত ছিলেন এবং আধ্যাত্মিক জীবনে

আকৃষ্ট হন।যুবক বয়সে জয়দেব বহু তীর্থ স্থান পরিদর্শন করার পর জগন্নাথ পুরীতে যান। সেখানে তিনি পদ্মাবতী নামে এক ভক্ত মেয়েকে বিয়ে করেন।

 

রাধা কৃষ্ণের প্রেম লীলা নিয়ে জয়দেব গীত গোবিন্দ রচনা করে ছিলেন যা বৈষ্ণব সাহিত্যর এক অমূল্য সম্পদ।

 

গীতা-গোবিন্দ রচনা করার সময়, জয়দেব একটি পদ লিখতে গিয়ে থেমে গিয়েছিলেন যেখানে কৃষ্ণ তাকে ছেড়ে যাওয়ার পরে রাধা অনুতপ্ত হন এবং কৃষ্ণ শ্রী রাধার ভক্ত সেবক হয়ে তার মান ভঞ্জন করছেন।কৃষ্ণ রাধার অনুগত বা তার অধীনে এটা লেখা যথাযত হবে কিনা এটা নিয়ে জয়দেব চিন্তিত ছিলেন।লেখা বন্ধ রেখে গঙ্গা স্নান করতে গেল। তাঁর অনুপস্থিতিতে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং জয়দেবের রূপে আবির্ভূত হন, স্বর্ণাক্ষরে একটি শ্লোক লেখেন এবং পদ্মাবতীর তৈরি খাবার গ্রহণ করেন । জয়দেব ফিরে এসে পদ্মাবতীকে তার সামনে খেতে দেখে অবাক হয়ে যান কারন পদ্মাবতী স্বামীর আগে খেতেন না। জিগেস করে জানতে পারেন তিনি নাকি একটু আগেই নিজে এসে খাবার খেয়েছেন এবং তার ঘরে চলে গেছেন।জয়দেব তার ঘরে গিয়ে স্বর্ণাক্ষরে লেখা শ্লোকটি দেখতে পেলেন, যে শ্লোকটি তিনি লিখতে দ্বিধাবোধ করেছিলেন। অশ্রুসজল চোখে তিনি স্ত্রীকে ডাকলেন এবং জানালেন তারা পরম সৌভাগ্য লাভ করেছেন আজ ভগবান স্বয়ং এসে তার হয়ে শ্লোক রচনা করেছেন।

 

জয়দেবের সময়ে গজপতি পুরুষোত্তমদেব ছিলেন পুরীর রাজা। তিনি জয়দেবের প্রতি ঈর্ষান্বিত ছিলেন এবং নিজেকে জয়দেবের সমতুল্য একজন কবি মনে করে নিজে গীতা-গোবিন্দ নামে একটি কাব্য গ্রন্থ রচনা রচনা করেছিলেন।ঠিক হয়

দুটি পাণ্ডুলিপি রাতে ভগবান জগন্নাথের সামনে রাখা হবে এবং ভগবান তাঁর সিদ্ধান্ত নেবেন।তিনিই জানাবেন পরের দিন যখন ভক্তরা আসেন, তারা দেখতে পান জয়দেবের গীতা-গোবিন্দ জগন্নাথের বুকে আটকে আছে রাজার পাণ্ডুলিপি মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।

 

আসলে ভক্ত যখন ভগবানের কাছে সম্পূর্ণ রূপে আত্মসমর্পণ করেন তখন তিনিই তাদের পরিচালনা করেন।

 

ভক্ত এবং ভগবানের পরবর্তী পর্ব নিয়ে আগামী পর্বে ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – কৃষ্ণভক্ত গোপেশ্বর মহাদেব

ভক্তের ভগবান – কৃষ্ণভক্ত গোপেশ্বর মহাদেব

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

দেবাদিদেব মহাদেব দেবতাদের আরাধ্য দেবতা। দেবতারা তার ধ্যান করেন কিন্তু তিনি নিজে পরম বৈষ্ণব এবং হরির ভক্ত। তিনি নিজে কৈলাশে সর্বদা হরির ধ্যানে মগ্ন থাকেন।একবার ভক্ত মহাদেব তার আরাধ্য বিষ্ণুকে কৃষ্ণ রূপে দেখতে এবং তার সান্নিধ্য লাভ করতে এক অদ্ভুত কান্ড ঘটিয়ে ছিলেন।

একবার মহাদেব যখন কৈলাশে গভীর ধ্যানে মগ্ন সেই অবস্তায় তিনি শ্রী কৃষ্ণের বাঁশির মধুর ধ্বনী শুনতে পেলেন।সেই অতীন্দ্রিয় শব্দ অনুসরণ করে তিনি বৃন্দাবনে পৌঁছান যেখানে ভগবান গোপীনাথ তাঁর গোপীদের সাথে মহা রাস-লীলা শুরু করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন।

মহা-রাসে যোগদানের তীব্র আকাঙ্ক্ষায় শিব নিধী বনের প্রবেশদ্বারের কাছে যান কিন্তু দ্বার রক্ষী যোগমায়া তাকে থামিয়ে দেন এবং বলেন – কৃষ্ণ ব্যতীত কোনও পুরুষের প্রবেশের অনুমতি নেই। প্রবেশ করতে চাইলে আপনাকে ব্রজের দাসী অর্থাৎ এক গোপীর রূপে থাকতে হবে।

এরপর শিব মানসরোবরের জলে ডুব দেন এবং সেখানে স্নান করার পর ভগবান শিব হ্রদ থেকে সুন্দরী গোপীনীর রূপে আবির্ভূত হন এবং সেই রূপে শ্রী কৃষ্ণের রাস স্থলে গিয়ে তার ভগবানের দর্শন লাভ করেন।

কিন্তু ভগবান অন্তর্যামী এবং তিনি শিবের এই ছদ্মবেশ ধরে ফেললেন এবং বললেন “হে গোপীশ্বর, তোমাকে গোপী রূপে দেখে আমি খুব খুশি হয়েছি। কিন্তু আপনি জানেন যে এই রস গৃহস্থদের জন্য নয়। অতএব, যেহেতু আপনি অংশগ্রহণ করেছেন এবং আপনার ইচ্ছা পূরণ করেছেন, তাই আমি আপনাকে রাস স্থানের দ্বার পাল নিযুক্ত করলাম এবং আপনি এই স্থানে সর্বদা গোপেশ্বর মহাদেব রূপে বিরাজ করবেন।

আজও শিব শিব তার আরাধ্য হরির ইচ্ছেয় ওই স্থানে গোপেশ্বর রূপে বিরাজমান।
ভগবানের সাথে মিলিত হতে শুদ্ধ ভক্তরা সব কিছু করতে পারেনা এমনকি স্বয়ং মহাদেবও ব্যাতিক্রম নন।

আবার পরের পর্বে ভক্ত এবং ভগবানের আরো একটি লীলা নিয়ে ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।