Home Blog Page 39

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণের দ্বারকা নগরীর 

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণের দ্বারকা নগরীর

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শ্রী কৃষ্ণের দ্বারা কংস বধের ঘটনা আমরা অনেকেই জানি|কংস মৃত্যুর পর কংসের শ্বশুর, মগধের রাজা জরাসন্ধ এবং অসুর কাল যবনের

হাত থেকে যাদব বংশ রক্ষা করতে কৃষ্ণ মথুরা ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং নতুন এক নগরী তৈরির সিদ্ধান্ত নেন|এই নগরীই ছিলো দ্বারকা নগরী। দ্বারকা অবস্থিত ছিলো গুজরাটের পশ্চিম সীমানায়।

 

দ্বারকা নগরী প্রতিষ্ঠার জন্য কৃষ্ণ দেব শিল্পী ‘বিশ্বকর্মার’ সাহায্য নেন। বিশ্বকর্মা কৃষ্ণকে জানান, যদি সমুদ্রের দেবতা ‘সমুদ্রদেব’ তাদেরকে কিছু জমি প্রদান করেন শুধুমাত্র তবেই এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। কৃষ্ণ তখন সমুদ্রদেবের পূজা করেন এবং সমুদ্রদেব খুশি হয়ে কৃষ্ণকে বারো যোজন জমি প্রদান করেন। জমি পাওয়ার পর বিশ্বকর্মা সেখানে দ্বারকা নগরী নির্মাণ করেন এবং শ্রীকৃষ্ণ দ্বারকায় স্বপরিবারের বসবাস করতে শুরু করেন। দ্বারকার রাজা হিসেবে তার হয় দ্বারকাধীশ।

 

পুরান থেকে ও বিভিন্ন শাস্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে জানা যায়, পুরো দ্বারকা নগরী মোট ৬টি ভাগে বিভক্ত ছিল। আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা, চওড়া রাস্তা, নগরচত্বর, সোনা, রূপা ও দামী পাথর দিয়ে নির্মিত বিশাল বিশাল প্রাসাদ, জনগণের সুযোগ সুবিধার জন্য নানা স্থাপনা সহ নানা উদ্যান এবং বিরাট বিরাট দীঘি ইত্যাদি নিয়ে গড়ে উঠেছিল দ্বারকা নগরী।

 

প্রায় ৭ লক্ষ ছোটবড় প্রাসাদ ছিল এ নগরীতে। এখানে ছিল ‘সুধর্ম সভা’ নামের এক বিশাল হলঘর, যেখানে নানা ধরনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হতো। গোটা নগরীটি ছিল জলবেষ্টিত। এটি ছিল মূলত একটি দ্বীপ-নগর। চারপাশে বেষ্টিত জলরাশি দ্বারকাকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতো।শ্রী কৃষ্ণের জন্য রাজ প্রাসাদ নির্মিত হয়েছিলো এই নগরের কেন্দ্র স্থলে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিলো তার চারপাশে। কৃষ্ণের সখা সুদামা এই প্রাসাদে কৃষ্ণের সাথে দেখা করতে এসেছে প্রথমে বাধা প্রাপ্ত হয়ে ছিলো। সেই ঘটনা আপনাদের আগের পর্বে বলেছি।

 

কৃষ্ণ তার বাকি জীবন এ দ্বারকা নগরীতেই অতিবাহিত করেছিলেন। শেষের দিকে তিনি ভাল্কা তীর্থের এক বনে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় দুর্ঘটনাবশত এক শিকারীর তীরের আঘাতে নিহত হন। কৃষ্ণের মৃত্যুর পর যদু বংশ ধ্বংস হয় এবং গোটা দ্বারকা নগরী এক বিশাল বন্যায় সমুদ্রের গভীরে হারিয়ে যায়|এই মহা প্লাবনের পূর্বে অর্জুন দ্বারকায় আসেন এবং যাদব বংশের নারীদের রক্ষা করে হস্তীনাপুরে নিয়ে যান।

 

আবার আগামী পর্বে কৃষ্ণ কথা নিয়ে ফিরবো। থাকবে আরো অনেক পৌরাণিক ঘটনা

এবং তথ্য। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণর বিশ্বরূপ

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণর বিশ্বরূপ

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

যার মধ্যে সর্বগুন সর্বোচ্চ মাত্রায় বর্তমান তাই তিনি ভগবান। তাই ভগবানের মর্যাদা একমাত্র কৃষ্ণই পান।যদিও কৃষ্ণের বালক রূপ অর্থাৎ গোপাল বা প্রেমিক রূপের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি তবে শাস্ত্রের তাকে নানা রূপে ও নানা ভূমিকায় পাওয়া গেছে। কৃষ্ণের এই রূপ গুলির মধ্যে তার উগ্র রূপ হলো বিরাট রূপ বা বিশ্বরূপ।আজ আলোচনা করবো তার বিশ্বরূপ বা বিরাট রূপ নিয়ে|

মহাভারতে কৃষ্ণ দুবার নিজের বিশ্বরূপ দেখিয়েছেন। মহা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যখন কৃষ্ণ পাণ্ডবদের দূত হিসেবে দুর্যোধনের দরবারে যান তখন দুর্যোধন কৃষ্ণকে অপমান করেন এবং বন্দী করার চেষ্টা করেন। তখন ক্রোধে শ্রী কৃষ্ণ তার বিরাট রূপ ধারণ করেন। সবাই ভীত হয়ে পড়েন এবং বিজ্ঞরা সেই সময় মহাভারতের যুদ্ধের ভয়াবহতে এবং পরিনাম আন্দাজ করে নেন।

পরবর্তীতে কুরুক্ষে যুদ্ধে কৃষ্ণ বার বার অর্জুনকে নিজের বিশ্বরূপ দেখার আজ্ঞা দেন, কিন্তু অর্জুন কিছু দেখতে পারেন না|তখন কৃষ্ণ বলেন-কিন্তু তুমি নিজের এই চোখ দিয়ে আমার দিব্য রূপ দেখতে পারবে না। তাই আমি তোমায় দিব্য চক্ষু দিচ্ছি। যার সাহায্যে তুমি আমার ঐশ্বরিক ক্ষমতা দেখতে পারবে|

এরপর অর্জুনকে দিব্য দৃষ্টি দিয়ে শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে নিজের পরম ঐশ্বরিক বিরাট রূপ দেখান।গোটা বিশ্ব ব্রম্ভান্ড যেনো এই রূপের কাছে তুচ্ছ|মনে করা হয় যদি আকাশে একসঙ্গে হাজার সূর্যোদয় হয়, তখনও তাদের সকলের প্রকাশ মিলে সেই বিরাট রূপের প্রকাশের সামনে দাঁড়াতে পারবে না।
শ্রী কৃষ্ণের এই রূপে অনেক মুখ ও চোখ আছে, অনেক অলৌকিক অলঙ্কার আছে, হাতে নানান দিব্য অস্ত্র-শস্ত্র আছে এবং তার গলায় নানান ধরণের দিব্য মালা আছে| তিনি একপ্রকার অলৌকিক বস্ত্র পরে আছেন ও যাঁর ললাট ও শরীরে দিব্য চন্দন, কুমকুম ইত্যাদি লাগানো রয়েছে|

শাস্ত্রে উল্লেখ আছে এমন বিরাট রূপ দেখে অর্জুন আনন্দ পান ভয় ও পানা।তাঁর মধ্যে অদ্ভুত শিহরণ দেখা দেয়। তিনি করজোড়ে এবং মাথা নুইয়ে প্রণাম করে বিরাট রূপ শ্রীকৃষ্ণের স্তুতি করতে শুরু করেন|অনন্ত ব্রহ্মাণ্ড যাঁর শরীরের বর্তমান সেই ভগবান আমার রথের সারথি হয়েছেন এটা ভেবে অর্জুন নিজেকে ধন্য মনে করেন।

আবার পরের পর্বে শ্রী কৃষ্ণের মহিমা এবং তার সাথে সংযুক্ত অন্য একটি পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – কৃষ্ণ এবং সুদামা

কৃষ্ণ কথা – কৃষ্ণ এবং সুদামা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শ্রী কৃষ্ণের আবির্ভাব হয়েছিলো মূলত কংসর অত্যাচার থেকে তার ভক্তদের রক্ষা করতে এবং ধর্ম পুনঃরস্থাপন করতে তবে তার অসংখ্য লীলার মাধ্যমে কৃষ্ণ রূপে তিনি প্রেম এবং ভগবানের প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত্যকে প্রাধান্য দিয়েছেন। কৃষ্ণ রূপে তিনি তার ভক্তদের সাথে সখা ভাবে মিশেছেন যার সব চেয়ে বড়ো উদাহরণ কৃষ্ণ এবং সুদামার সম্পর্ক। কৃষ্ণকে বুঝতে হলে এই

সম্পর্ককে ভালো করে বুঝতে হবে।

 

বৃন্দাবনের একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণকারী সুদামা ছিলেন বলরাম এবং কৃষ্ণর সহপাঠী তারা একসাথে বৃন্দাবনে আচার্য সন্দীপনের আশ্রমে অধ্যয়ন করতেন এবং তখন থেকেই তাদের বন্ধুত্ব তৈরী হয়। এরা তিন জন ছিলেন সন্দীপন ঋষির প্রিয় ছাত্র।

 

পরবর্তীতে কৃষ্ণ দ্বারকা রাজ্যের সিংহাসন লাভ করেন অন্যদিকে সুদামা দারিদ্র্যতার জীবনে আবদ্ধ হয়ে পড়েন । এতো কিছুর পরেও তার ভক্তি, অনুরাগ এবং কৃষ্ণপ্রেম অব্যাহত ছিল।তিনি জানতেন বন্ধু তাকে ভুলবেননা। একদিন আবার তিনি তার বন্ধুর সানিধ্য পাবেন।

 

সুদামার সর্বদা অর্থের অভাব ছিল। প্রায়শই তার বাচ্চারা রাতে না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। বহু বছর পরেও কৃষ্ণের প্রতি সুদামার ভালোবাসা কমেনি এবং কৃষ্ণের গল্প তার বাচ্চাদের শোনাতেন। তার স্ত্রী সুশীলা একবার তাকে জোর করে ভগবান কৃষ্ণের সাথে দেখা করতে পাঠান।

 

সুদামা তার স্বাভাবিক মলীন এবং ছেঁড়া কাপড় পরে দ্বারকার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। পথে কিছু ভিক্ষা গ্রহন করে সেই সাধারণ খাদ্য দ্রব্য বন্ধুর উদ্দেশ্যে পুটলিতে বেঁধে নিলেন।

 

অবশেষে ক্ষুধার্ত এবং ক্লান্ত সুদামা দ্বারকায় পৌঁছেন।দ্বার রক্ষীরা তাকে প্রাসাদে প্রবেশ করতে দেয়না কারণ তাদের কাছে তিনি এক সাধারণ ভবঘুরে পথিক।

 

এদিকে কৃষ্ণের আগমনের খবর পৌছায় দ্বারকার অন্দর মহলে।সুদামা প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে আছেন শুনে কৃষ্ণ সরাসরি মূল ফটকের দিকে দৌড়ে গেলেন। কৃষ্ণের চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে শুরু করে।আবেগে ভরা হৃদয় নিয়ে কৃষ্ণ সুদামাকে জড়িয়ে ধরে তাঁর সিংহাসন অর্পণ করেন । তিনি তার অশ্রু দিয়ে সুদামার পা ধুয়ে দিলেন।সুদমার আনা খাদ্য সাদরে গ্রহন করলেন।বসালেন স্ত্রী রুক্মিণীর আসনে। কিছু দিন সেবা এবং আতিথ্য গ্রহন করে সুদামা জাগতিক কিছু না চেয়ে খালি হাতেই ফিরে এলেন।কারণ তিনি প্রিয় বন্ধুকে কাছে পেয়ে নিজের সব অভাব অভিযোগ ভুলে গেছিলেন।

 

গ্রামে ফিরে হতবাক হলেন সুদামা।দেখলেন তার পুরানো এবং ভাঙা কুঁড়েঘরটি একটি জমকালো প্রাসাদে রূপান্তরিত হয়েছে। স্ত্রীও রাজ রানী হয়েছেন। দারিদ্রতার অভিশাপ মুছে গেছে।

তিনি হয়তো কৃষ্ণকে তার অভাবের কথা বলতে পারেননি। কিন্ত অন্তর্যামী ভগবান সব বোঝেন। তার কাছে কিছুই গোপন থাকেনা।

ভগবানের প্রতি পূর্ণ আস্থা এবং সমর্পন থাকলে তার অভাব দুর হয়। সব মনোস্কামনা পূর্ণ হয়।

 

ভগবান কৃষ্ণকে নিয়ে আরো অনেক পৌরাণিক ঘটনা এবং তথ্য নিয়ে আবার ফিরে আসবো

আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণের বাঁশি

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণের বাঁশি

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

মধুসূদন মাস উপলক্ষে শুরু করেছি এই কৃষ্ণ কথা। সনাতন ধর্মে দেব দেবী অনেক থাকলেও ভগবান একজনই তিনি স্বয়ং শ্রী কৃষ্ণ। অনন্ত ভ্রম্ভান্ডর পরিচালনার ভার তার উপরে।কৃষ্ণের সাথে জড়িত প্রতিটি বিষয়ের শাস্ত্রীয় তাৎপর্য আছে। তার বাঁশিও ব্যাতিক্রম নয়।

শ্রী কৃষ্ণের হাতে বাঁশি আমরা সবাই দেখেছি কিন্তু বাঁশির ও ভিন্ন ভিন্ন রূপ আছে আধ্যাত্মিক তাৎপর্য আছে|আজ কৃষ্ণ কথায় কৃষ্ণের বাঁশি

নিয়ে লিখবো।

 

শ্রীকৃষ্ণ তিন প্রকারের বাঁশী ব্যবহার করেন। তার একটিকে বলা হয় বেণু, অন্যটি মুরলী এবং তৃতীয়টি বংশী। বেণু অত্যন্ত ছোট, ছয় ইঞ্চির বেশী দীর্ঘ নয়, এবং তাতে ছয়টি ছিদ্র থাকে। মুরলীর দৈর্ঘ্য প্রায় আঠারো ইঞ্চি। তার একপ্রান্তে একটি ছিদ্র থাকে এবং তার গায়ে চারটি ছিদ্র থাকে। এই মুরলী অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর সুর সৃষ্টি করে। বংশী প্রায় পনেরো ইঞ্চি লম্বা, এবং তাতে নয়টি ছিদ্র থাকে।শ্রীকৃষ্ণ প্রয়োজন অনুসারে এই তিন রকমের বাঁশী বাজান।শ্রীকৃষ্ণের আর একটি বংশী আছে যা আরও লম্বা, যাকে বলা হয় মহানন্দ বা সম্মোহনী বা আকর্ষনী এই বাঁশী কখনো কখনো মণিরত্ন খচিত থাকে, কখনো তা মর্মর দিয়ে তৈরী হয় এবং কখনো কখনো বাঁশ দিয়ে তৈরী হয়। বাঁশী যখন মণিরত্ন দিয়ে তৈরী হয় তখন তাকে বলা হয় সম্মোহনী। আর যখন তা স্বর্ণ দিয়ে তৈরি হয়, তাকে বলা হয় আকর্ষণী।

 

এই বাঁশি বা মুরলী থেকেই শ্রী কৃষ্ণের নাম হয়েছে মুরলীমনোহর বা মুরলীধর।মুরলী শ্রী কৃষ্ণের অত্যন্ত প্রিয় এবং তার লীলা সংগী বলা যায়।

 

বাঁশির সাথে কৃষ্ণর সম্পর্ক নিয়ে একটি সুন্দর পৌরাণিক আছে একেবার ঈর্ষা বসত গোপিনীরা অসতর্ক মুহূর্তে চুপি চুপি বাঁশিটি কে চুরি করলেন।বাঁশি গোপীদের বলিলেন : ” এভাবে আমাকে আপনারা কৃষ্ণের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত করলেন কেন ?” গোপীরা বলিলেন : ” তোমার এমন কি গুণ আছে যে , তুমি সর্বদা কৃষ্ণের হাতে হাতে ফের আর তাঁর অধর স্পর্শ করে থাকো? বাঁশি বললো গুণের কথা ছেড়ে দিন, আমার তো কোন অস্তিত্ব নেই । আমার আমিত্ব বলে আর কিছু নেই । আমার যা- কিছু সব কৃষ্ণের। কৃষ্ণ ছাড়া আমার অস্তিত্ব নেই। আমি কৃষ্ণের স্মরনাগত। শরণাগতকে তিনি কখনো পরিত্যাগ করেন না । আমার সর্বস্ব তাঁকে অর্পণ করে আমি তাঁর আশ্রয় নিয়েছি। গোপিনীরা কথার মর্মার্থ বুঝলেন|নিজের সব অহং বিসর্জন দিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে ভগবানের চরনে সমর্পন করলে তবেই তার সম্পূর্ণ কৃপা পাওয়া যায়।কৃষ্ণের বাঁশি সেই সম্পূর্ণ সমর্পনের প্রতীক স্বরূপ।

 

কৃষ্ণ সংক্রান্ত আরো অনেক শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক তথ্য নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে|কৃষ্ণ কথায়। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

মধুসূদন মাসের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

মধুসূদন মাসের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বৈশাখ মাস মানেই মধুসূদন মাসের সূচনা। জ্যোতিষ শাস্ত্রে যে সাতাশটি নক্ষত্র আছে তার মধ্যে বিশাখা নক্ষত্রর নাম অনুসারে বৈশাখ মাসের নাম। আবার শাস্ত্র মতে এই মাস শ্রী বিষ্ণুকে উৎসর্গ করা হয়েছে। আজ থেকে মধুসূদন মাস উপলক্ষে শুরু করবো কৃষ্ণ কথা। আজ প্রথম পর্বে মধুসূদন মাসের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করবো।

 

শ্রী বিষ্ণুর একটি নাম মধুসূদন। মধু ও কৈটভ নামক দুই অসুর যখন প্রবল অত্যাচারী হয়ে ওঠে তখন স্বয়ং বিষ্ণু তাদের বধ করতে চান কিন্তু দীর্ঘ সময় যুদ্ধ করেও তাদের বধ করা যায়না। অবশেষে এই দুজন বিষ্ণু কে বলেন যে তারা জয়ী এবং তারা বিষ্ণুকে বর দিতে চান বিষ্ণু তাদের বধ করতে চাইলেন। তারা শর্ত দিলো যে যেখানে জল আছে সেখানে তাদের বধ করা যাবেনা। বিষ্ণু ব্রম্ভাকে শক্তিরূপিণী এক শিলা খন্ড শুন্যে ধারণ করতে বললেন। সেই শিলা শুন্যে ভাসতে লাগলো এবং তার উপর উঠে বিষ্ণু মধু এবং কৈটভকে বধ করলেন এবং বিষ্ণুর আরেকটি নাম হলো মধুসুদন। এই মাসেই এই যুদ্ধ হয়ে ছিলো তাই এই মাসকে মধুসুদন মাস বলে।

 

স্কন্দ পুরান মতে এই মাস যেকোনো শুভ কার্যের জন্য আদৰ্শ মাস।এই মাসে বিষ্ণু তার ভক্তদের বিশেষ কৃপা করেন এবং এই মধুসুদন মাসে শ্রী বিষ্ণুর আরাধনা করলে সকল অশুভ শক্তি দুর হয় এবং সব মনোস্কামনা পূর্ণ হয়।

 

সমগ্র মধুসুদন মাস জুড়ে আমি আপনাদের সামনে শ্রী কৃষ্ণের সাথে জড়িত বিভিন্ন পৌরাণিক ঘটনা এবং বিশেষ কিছু লীলা ব্যাখ্যা সহ আপনাদের জন্য উপস্থাপন করবো। ফিরে আসবো আগামী পর্বে কৃষ্ণকথা নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন

পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ পয়লা বৈশাখ শুরু হবে ১৪৩২ বঙ্গাব্দ।এই বৈশাখ মাসের বিশেষ আধ্যাত্মিক তাৎপর্য আছে এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রেও বৈশাখ মাস নানা ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেই সব নিয়েই আজকের পর্বে আলোচনা করবো।তবে প্রথমেই জানাই নব বর্ষের শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।

বাংলার জমিদারির যুগে পয়লা বৈশাখ মানে ছিলো খাজনা আদায়ের শুরু, নতুন ফসল বেচে কৃষকদের হাতে অর্থ আসতো এবং তারা উৎসবে মেতে উঠতেন আবার ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করতেন। চড়কের মেলা চলতো।আরো উৎসবের আয়োজন করা হত। কোথায় গম্ভীরা নাচ কোথাও বর্ষ বরণ উৎসব।

ব্যবসা বাণিজ্যর ক্ষেত্রেও পয়লা বৈশাখের ভূমিকা রয়েছে|তখনকার সময় এই দিনের প্রধান ঘটনা ছিল একটি হালখাতা তৈরি করা। হালখাতা বলতে একটি নতুন হিসাব বই বোঝানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে হালখাতা হল বাংলা সনের প্রথম দিনে দোকানপাঠের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে লিপিবদ্ধ করার প্রক্রিয়া। গ্রাম, শহর বা বাণিজ্যিক এলাকা, সকল স্থানেই পুরনো বছরের হিসাব বই বন্ধ করে নতুন হিসাব বই খোলা হয়। হালখাতার দিনে দোকনদাররা তাদের ক্রেতাদের মিষ্টান্ন আপ্যায়ন করে থাকে। এই প্রথাটি এখনও অনেকাংশে প্রচলিত আছে|

সনাতন ধর্মে বৈশাখ মাসকে মাধব মাস বা
মধুসূদন মাস বলা হয়।যার অর্থ ভগবান কৃষ্ণের মাস। এই মাসে ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।এই মধুসূদন মাসের
সূচনা হয় আজকের দিন থেকে।

“বৈশাখ” শব্দটি এসেছে বিশাখা নামক নক্ষত্রের নাম থেকে। এই মাসে বিশাখা নক্ষত্রটিকে সূর্যের খুব কাছে দেখা যায়। তাই জ্যোতিষ শাস্ত্রেও এই সময় একটি বিশেষ সময়।

শাস্ত্র মতে সূচনা হোক নতুন বছরের। আজ
সবাইকে জানাই শুভ নববর্ষ।ফিরে আসবো আগামী পর্বে।আগামী কাল থেকে মধুসুদন মাস উপলক্ষে শুরু করবো কৃষ্ণ কথা। থাকবে কৃষ্ণ সংক্রান্ত নানা শাস্ত্রী এবং পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আলোচনা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

চড়ক এবং গাজন উৎসবের ইতিহাস

চড়ক এবং গাজন উৎসবের ইতিহাস

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

চৈত্র মাস হল শিব পার্বতীর বমাস। এই মাসেই তাই গাজনের ধুম। এই গাজনের মাধ্যমে শিব ভক্তরা তাদের আরাধ্য মহাদেব কে এবং দেবী পার্বতীকে স্মরণ করেন।গাজনের শেষ দিনের অনুষ্ঠান চড়ক যা এই উৎসবেরই একটি অঙ্গ।আজকের পর্ব চড়ক এবং গাজন নিয়ে।

 

বাঙালির নব বর্ষের সূচনা হয় গাজন এবং চড়ক উৎসবের মধ্যে দিয়ে। এই গাজন এবং চড়ক দুটি বেশ প্রাচিন কাল থেকেই বঙ্গদেশে প্রচলিত। শিব পার্বতী ছাড়াও বহু লৌকিক দেব দেবী এই উৎসবে মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে।

 

কেউ বলেন গর্জন থেকে গাজন, কেউ বলেন ‘গাঁয়ের জন’-এর উৎসব থেকে গাজন।প্রকৃত অর্থ যাই হোক দুটি অর্থই বেশ মানানসই।কারন এককালে ঢাকের বাদ্যি, ভোলা মহেশ্বরের নামে সন্ন্যাসীদের গর্জন ও গাজনগীতিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে উঠতো বাঙালি মেতে ওঠে গাজন উৎসবে। বর্তমান সময়ে গ্রামেই গাজন গানের উৎসব পালন হয়।বহু গ্রামাঞ্চলে আজও বৈশাখী আমেজ মানেই গাজন এবং চড়ক উৎসব।

 

তবে কলকাতার বাবু সমাজেও চড়ক বেশ জনপ্রিয় ছিলো এক সময়ে।

এককালে কলকাতার বাবুরা ঘটা করে চড়ক উৎসব পালন করতো।বাগবাজারের এই চড়ক ছিল কলকাতার বিখ্যাত ও সর্বপ্রধান চড়ক। চড়ক গাছের সঙ্গে উপর উপর চারটি মাচান বেঁধে তার মাঝখানে এক জন করে মহাদেব সাজিয়ে চার কোণে চার জন করে মোট ষোলো জনকে পিঠ ফুঁড়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হত।

 

এই উৎসবে মুখোশ নাচও হতো কোথাও কোথাও।সন্ন্যাসীদের কঠিন সাধনার মাধ্যমে এই উৎসব পালিত হতো।বিশেষ করে উত্তর বঙ্গে গম্ভীরা রূপে পালন হতো এই উৎসব।

 

পরবর্তীতে শারীরিক নৃশংসতার কারণে কোথাও কোথাও গাজনের কিছু উপাচার নিষিদ্ধ হয়। তবে এই চৈত্র উৎসবে সন্ন্যাসীদের নিষ্ঠা এবং

ভক্তি আজও অটুট আছে । বাংলার প্রায় প্রতিটি শিব মন্দিরে এই সব রীতি নীতি দেখা যায়।

আজও বাংলা জুড়ে গাজন এবং চড়কের মেলা বসে।আনন্দ এবং উৎসাহ আগের মতোই আছে।

 

আপনাদের সবাইকে জানাই গাজন এবং

চড়ক উৎসবের অনেক শুভেচ্ছা বাংলা নব

বর্ষ উপলক্ষে একটি বিশেষ পর্ব নিয়ে

ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বিশেষ পর্ব – নীল ষষ্টির শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

বিশেষ পর্ব – নীল ষষ্টির শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সনাতন ধর্মে যতগুলি ব্রত আছে তার মধ্যে অন্যতম হল নীল ষষ্ঠীর ব্রত।

দুরকম ভাবে এই দিনটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা যায় একটি লৌকিক মতে দ্বিতীয়টি পৌরাণিক মতে।

আজ দুটি দিক নিয়েই লিখবো।

 

বহু কাল আগে এক গ্রামে এক ব্রাহ্মণ ও ব্রাহ্মণী ছিলেন। তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ। মন দিয়ে ঈশ্বরের আরাধনা করলেও তাঁদের সব ছেলে-মেয়েগুলি একে একে মারা যায়। এই ঘটনায় ঈশ্বরের উপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন ব্রাহ্মণী। তাঁরা দু-জনে ঘরবাড়ি ছেড়ে মনের দুঃখে কাশীবাসী হন। কাশীতে গিয়ে একদিন গঙ্গায় স্নান সেরে মণিকর্ণিকা ঘাটে বসে আছেন, হঠাত্‍ই এক বৃদ্ধা ব্রাহ্মণীকে দেখা দিয়ে একটি উপদেশ দেন। তিনি বলেন – চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন নির্জলা উপবাস রেখে মহাদেবের পুজো করবে। সন্ধেবেলা শিবের ঘরে বাতি দিয়ে তবেই জল খাবে।’ সেই রহস্যময়ী বৃদ্ধার কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে ফের সন্তান লাভ করেন ওই ব্রাহ্মণী।

আসলে ওই বৃদ্ধা ছিলেন মা ষষ্ঠী। এবং সেই

থেকে মর্তে নীল ষষ্ঠীর ব্রত প্রচলিত হয়।

 

আবার পুরান মতে দেবাদিদেব শিবের অপর নাম নীলকণ্ঠ বা নীল কারন সমুদ্র মন্থণের সময় উঠে আসা বিষ পান করে তার কণ্ঠ নীল বর্ণের হয়ে যায়।নীল ষষ্টিতে শিবের এই নীল কণ্ঠ রূপের পুজো করা হয় বলে অনেকে বিশ্বাস করেন।

 

শাস্ত্র মতে এই তিথিতে শিবের সঙ্গে নীলচণ্ডিকা বা নীলাবতী পরমেশ্বরীর বিয়ে সম্পন্ন হয়।

দক্ষযজ্ঞে দেহত্যাগের পর সতী পুনরায় নীলধ্বজ রাজার বিল্ববনে আবির্ভূতা হয়ে ছিলেন ৷ এরপর রাজা তাঁকে নিজের মেয়ের মতো করে বড় করে শিবের সঙ্গে ফের বিয়ে দেন ৷ সেই বিবাহের তিথি উদযাপন করা হয় নীল পূজায়।

 

গ্রাম বাংলায় নীল ষষ্ঠীর ব্রত যারা করেন তারা সারাদিন নির্জলা উপোস রেখে সন্ধের পর শিবলিঙ্গে জল ঢেলে, মহাদেবের পুজো করেন এবং প্রসাদ খেয়ে তবে উপবাস ভঙ্গ করেন। সংসারের ও বিশেষ করে সন্তানের কল্যাণের জন্য।

এই ব্রত করা হয়।

 

ফিরে আসবো পরের পর্বে।চড়ক পুজো নিয়ে আলোচনা করবো আগামী দিনে সবাইকে জানাই নীল পূজোর শুভেচ্ছা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শুভ হনুমান জয়ন্তী

শুভ হনুমান জয়ন্তী

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ হনুমানজির আবির্ভাব তিথি। এই দিনটিকে ‘হনুমান জয়ন্তী’ হিসেবে পালিত হয় আমাদের দেশে। এই পর্বে আসুন জেনে নিই রূদ্র অবতার হনুমান সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য|

পুরানের একটি ঘটনা অনুসারে একদা দশানন রাবণ কৈলাশে দ্বার পাহারারত নন্দীকে ব্যাঙ্গ করলে, বানর বলে|ক্ষিপ্ত হয়ে নন্দী রাবণকে অভিশাপ দিলেন, নর আর বানরের হাতেই রাবণ আর তার কূল ধ্বংস হবে|এই অভিশাপ সত্য
হয়ে ছিলো যখন হনুমান শ্রী রাম কে লঙ্কা আক্রমণ করতে সাহায্য করেন।

হনুমানের পিতার নাম ছিল কেশরী, মায়ের নাম ছিল অঞ্জনা। হনুমানের পালক পিতা হলেন পবন দেবতা|রাক্ষস বাহিনীর অত্যাচার থেকে ধরিত্রীকে মুক্ত করতে, তথা ভগবান রামের সেবা ও রাম নাম প্রচারের জন্যই রুদ্র অবতার হনুমানের আবির্ভাব।

শাস্ত্র মতে হনুমান চার যুগে অমর, পুরাণে তাই বলা হয়|এমনকি আজও তিনি স্বশরীরে এই পৃথিবীতে বিরাজমান।

রামায়নে রামের সহকারী হিসেবে রাবনকে পরাজিত করতে বিরাট ভূমিকা নিয়েছিলেন বজরংবলী কিন্তু এখানেই শেষ নয় হনুমানজী দ্বাপর যুগেও ছিলেন। মহাভারতেও তার উল্লেখ রয়েছে মনে করা হয় কুরুক্ষে যুদ্ধে অর্জুন ও শ্রীকৃষ্ণের রথের ধ্বজা হিসেবে ছিলেন তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছায় কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবা করেছেন। হনুমানজীর অনুরোধে শ্রীকৃষ্ণ রামচন্দ্রের রূপ ধারণ করে হনুমানকে একবার দর্শন দিয়েছিলেন।

যেখানে যেখানে রঘুনাথের গুণগান করা হয়, সেখানে সেখানেই তিনি বিরাজমান।
রামকৃষ্ণ মিশনের বহু প্রচলিত একটি রীতি হলো যেখানেই সাধুরা রাম নাম করবেন , কীর্তন ভজন হবে সেখানেই একটি ফাঁকা আসন রাখা হবে, মনে করা হয় ওই ফাঁকা আসনে এসে বসেন স্বয়ং হনুমান তারপর নাম গান শেষ হলে আবার অদৃশ্য হন|

হনুমান চালিসা অনুসারে রোগ ভোগ, ভুত পিশাচ এবং যেকোনো সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া যায় হুনুমানের স্মরণ নিলে, তাকে ভক্তি সহকারে ডাকলে|তিনি অসীম বল শালী কিন্তু সম্পূর্ণ নিরহংকার।রামায়ণে একমাত্র তিনিই নিষ্কাম কর্ম করে গেছেন। প্রভু শ্রী রাম কে সেবা করা ছাড়া তার আর কোনো লক্ষ্য নেই।

জ্যোতিষ শাস্ত্রে বলা হয় হনুমানের স্মরণ নিলে শনি দেবের কুপ্রভাব কেটে যায় কারণ লঙ্কা আক্রমণ করার সময় লঙ্কায় রাবনের হাতে বন্দী শনিদেবকে হনুমান মুক্তি দিয়ে ছিলেন। খুশি হয়ে শনি দেব তার ভক্তদের ক্ষতি না করার প্রতিশ্রুতি দেন।

আজ শাস্ত্র মতে হনুমানজীকে ডাকুন। তার পুজো করুন। তার কৃপায় সংকট দুর হয় মনোস্কামনা
পূর্ণ হয়।সবাইকে হনুমান জয়ন্তীর শুভেচ্ছা জানাই। ফিরে আসবো আগামী পর্বে পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় আলোচনা নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জয় হনুমান – চিরঞ্জিবী হনুমানজী

জয় হনুমান – চিরঞ্জিবী হনুমানজী

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আসন্ন হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে শুরু করেছি তিন দিন ব্যাপী বজরংবলী সংক্রান্ত ধারাবাহিক আলোচনা। আজ বজরংবলীর চিরঞ্জিবী সত্ত্বা নিয়ে লিখবো।

শাস্ত্রে যে সাতজন চিরঞ্জিবীর উল্লেখ আছে তাদের মধ্যে অন্যতম হনুমান।ভগবান হনুমান ভগবান ইন্দ্রের বরপ্রদত্ত। বিশ্বাস করা হয়, হনুমান একমাত্র নিজের ইচ্ছেয় মৃত্যুবরণ করতে পারবেন বলে বর দিয়েছিলেন ইন্দ্র।কিন্তু কেনো এমন বর দেয়ার প্রয়োজন হলো তা নিয়ে শাস্ত্রে একটি
ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়।

হনুমান যখন শিশু ছিলেন, তিনি সূর্যকে দেখেছিলেন এবং ভেবেছিলেন এটি একটি লাল ফল, তাই তিনি এটি খাওয়ার চেষ্টায় এর দিকে উড়ে গেলেন। ইন্দ্র যখন হনুমানকে আসতে দেখেন, তখন তিনি তাকে আঘাত করার জন্য তার বজ্র নিক্ষেপ করেন। আহত হন পবন পুত্র হনুমান সেই ক্রোধে পবন দেব পৃথিবীতে বায়ু সঞ্চালন করতে অস্বীকার করেছিলেন। বায়ুর অভাবে জীবকুল যখন শেষ হয়ে যেতে বসে তখন সমস্ত দেবতারা হনুমানকে বর দেন।বর দিয়েছিলেন যাতে যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা হনুমানের কোনো ক্ষতি না হয়।ভগবান শিব বর দিয়েছিলেন যে তাঁর বা তাঁর কোনো অস্ত্র দ্বারা কখনোই হনুমানের মৃত্যু হবেনা।এই সময়ে দেবরাজ ইন্দ্র বর দিয়েছিলেন যে হনুমানের মৃত্যু কেবল তার নিজের ইচ্ছায় ঘটবে।

ভগবান শ্রী রামও বর দিয়েছেন হনুমানকে। সেই বর অনুযায়ী কলি যুগের শেষ হলে তবেই মুক্তি মিলবে হনুমানের।কলিতে যখন কল্কি অবতার রূপে ভগবান আসবেন তখন আবার দুষ্টের দমন এবং ধর্ম পুনরস্থাপন করতে হনুমানের সাহায্য প্রয়োজন হবে বলেও মনে করা হয়।

আবার সীতাদেবীর বর অনুযায়ী হনুমান চিরঞ্জীবী। তিনি অজর-অমর হওয়ার বর প্রাপ্ত। অর্থাত্‍‌ তিনি কখনও বুড়ো হবেন না। আবার তাঁর কখনও মৃত্যু হবে না। কথিত আছে, রামায়ণের সমস্ত চরিত্র মোক্ষ লাভ করে, কিন্তু হনুমান সব সময়ের জন্য পৃথিবীতে থাকার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, যত দিন মানুষের হৃদয়ে রাম জীবিত আছেন, তত দিন তিনি পৃথিবীতে থাকবেন।

অন্যান্য দেব দেবীদের তুলনায় হনুমান সহজে এবং দ্রুত তার ভক্তের ডাকে সাড়া দেন এবং তাদের মনোস্কামনা পূর্ণ করেন কারন তিনি স্বশরীরে এই পৃথিবীতে বিরাজ করছেন।

ফিরে আসবো পরের পর্বে। বজরংবলী সংক্রান্ত আরো একটি পর্ব নিয়ে। থাকবে হনুমান সংক্রান্ত আরো অনেক তথ্য।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।