Home Blog Page 39

ভক্তের ভগবান – শিব ভক্ত ভস্মাসুর

ভক্তের ভগবান – শিব ভক্ত ভস্মাসুর

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আমাদের পুরান তথা অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থে বর্ণিত সর্বাধিক আলোচিত, জনপ্রিয় এবং রোমাঞ্চকর বিষয় হলো দেবাসুর দ্বন্দ্ব। সেই সমুদ্র মন্থনের সময় থেকে দেবতাদের সাথে অসুরদের দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। এই অসুর দের অনেকেই পরবর্তীতে নিজ নিজ আরাধ্য দেবতাদের ধ্যান

করে তাদের থেকে বর লাভ করে সেই বরপ্রাপ্ত শক্তি দেবতাদের বিরুদ্ধেই কাজে লাগিয়েছে।

আজকের এই পর্বে জানবো শিব ভক্ত ভস্মাসুরের কথা|

 

দেবাদিদেব মহাদেবে শুধু দেবতাদের আরাধ্য দেবতা নন তিনি ভূত প্রেত অসুর দৈত্য দেরও আরাধ্য দেবতা|এই দেবাদিদেব মহাদেবকে তপস্যায় তুষ্ট করে অমরত্বের বর চেয়ে বসলেন এক অসুর তার নাম ভস্মাসুর|কিন্তু অমরত্ব প্রদান করা সম্ভব নয় তাই মহাদেব অন্য বর চাইতে বললেন|ভষ্মাসুর চাইলেন যার মাথায় সে হাত রাখবে সেই যেনো ভষ্ম হয়ে যায়|হাসি মুখে বরদান করলেন মহাদেব|বর পেয়ে তার প্রথম শিকার হিসেবে ভস্মাসুর স্বয়ং মহাদেবের মাথায় হাত রাখতে চাইলেন|কোনো ক্রমে সেই স্থান ত্যাগ করলেন মহাদেবে কিন্তু তার পিছু নিলেন ভষ্মাসুর|অবশেষে বিষ্ণুর স্মরণ নিলেন মহাদেব। ভস্মাসুর যেমন মহাদেবের ভক্ত তেমনি মহাদেবেও বিষ্ণুর

ভক্ত। ভক্তর বিপদে তিনি শান্ত থাকতে পারেন না।

 

শ্রী বিষ্ণু মোহিনী অবতারে ভষ্মাসুরের সম্মুখে অবতীর্ন হলেন মোহিনীর রূপে মুগ্ধ হয়ে ভষ্মাসুর তাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলেন|শর্ত হিসেবে নারী রুপী বিষ্ণু ভষ্মাসুরকে তার সাথে নৃত্যে অংশ নিতে বাধ্য করলেন|নৃত্যরত ভষ্মাসুর সবকিছু ভুলে হটাৎ নিজের মাথায় হাত রেখে বসলো|ব্যাস ফলে গেলো মহাদেবের বর|ভষ্ম হলেন ভষ্মাসুর এবং সে যাত্রায় রক্ষা পেলেন মহাদেব|

 

আরকেটি পৌরানিক ব্যাখ্যা অনুসারে বিষ্ণুর মোহিনী অবতার ভষ্মাসুর কে বিবাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নদীতে স্নান করে পবিত্র হয়ে আসতে বলেন|স্নান কালে ভুল বসত মাথায় হাত দিয়ে নিজেকে নিজে ভষ্ম করে ফেলে ভষ্মাসুর|প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায় এই মোহিনী অবতার ও শিবের একটি বরপুত্র আছেন যার নাম আয়াপ্পা|দক্ষিণ ভারতে ইনি খুবই জনপ্রিয় এবং কার্তিক রূপে পূজিত হন|

 

আমাদের পুরানে অসংখ্য বার এমন দেবাসুর দ্বন্দ্ব বেঁধেছে এবং অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছে শুভ শক্তি|রক্ষা পেয়েছে স্বর্গ মর্ত সহ গোটা সৃষ্টি|এবং এই সব ঘটনা থেকে একটি বিষয়

প্রমান হয় যে ভক্ত যতই ক্ষতিকারক হোক না কেনো তার সাধনা যদি নিখুঁত হয় ভগবান তার ডাকে সাড়া দিতে বাধ্য।

 

আবার এক ভক্ত এবং তার ভগবানের কথা নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – সাবিত্রী এবং সত্যবান

ভক্তের ভগবান – সাবিত্রী এবং সত্যবান

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শিবভক্ত, বিষ্ণু ভক্ত এবং কালী ভক্তদের নিয়ে আগে অনেকবার আলোচনা করেছি ভক্তের ভগবানে। আজকের পর্বে আলোচনা করবো সাবিত্রী ভক্তি নিয়ে যে ভক্তিতে টোলে গিয়েছিলেন স্বয়ং যমরাজ।

 

পুরা কালে অশ্বপতি নামক রাজার একমাত্র কন্যা ছিলেন সাবিত্রী।তার মায়ের নাম ছিল মালবী।অশ্বপতি সাবিত্রী বা গায়ত্রীদেবীকে নিষ্ঠার সাথে পূজা করে এই কন্যা লাভ করেছিলেন। তাই এই কন্যার নামও সাবিত্রী রাখা হয়েছিল।

 

সাবিত্রী যৌবনে উপনীত হওয়ার পর, তাঁর অসাধারণ সৌন্দর্যের কারণে, কোন সাধারণ যুবক তাঁকে বিবাহ করতে যোগ্য বলে নির্বাচিত হলোনা না।পরে অশ্বপতি তাঁকে নিজের পছন্দমতো স্বামী খুঁজে নেবার অনুমতি দেন। সাবিত্রী বহু দেশ ঘুরে সত্যবান নামে এক যুবককে স্বামী রূপে নির্বাচন করেন।তখন দেবর্ষি নারদ এসে তার পিতাকে জানান সত্যবান স্বল্পায়ু। এরপর অশ্বপতি সাবিত্রীকে অন্য স্বামী খুঁজে নেবার কথা বললে। কিন্তু সাবিত্রী সত্যবানকেই স্বামী হিসাবে গ্রহণ করবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেন। সব শুনে নারদ সত্যবানের সাথেই সাবিত্রীর বিবাহ  দেওয়ার কথা বলেন। পরে অশ্বপতি সাবিত্রীকে সাথে নিয়ে দ্যুমৎসেনের আশ্রমে আসেন এবং সেখানেই সত্যবানের সাথে সাবিত্রীর বিবাহ হয়।

 

বিবাহের এক বৎসর পরই সত্যবানের মৃত্যুর দিন উপস্থিত হয়। সাবিত্রী এবং সত্যবান এক বনে গিয়ে উপস্থিত হন। বনে সত্যবান অবসন্ন হয়ে পড়ে যান। পরে সাবিত্রী সত্যবানের মাথা কোলে তুলে নিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পর সাবিত্রী রক্তবস্ত্র পরিহিত বিরাটকায় এক ভয়ঙ্কর পুরুষকে সত্যবানের পাশে দেখতে পেলেন। সাবিত্রী জিজ্ঞাসা করে জানতে পারেন যে― তিনিই যম।সত্যবান পুণ্যবান এবং সাবিত্রী পতিব্রতা বলে, যমদূতের পরিবর্তে যম নিজেই এসেছেন। এরপর সত্যবানকে পাশবদ্ধ করে যমকে  দক্ষিণ দিকে যেতে দেখে, সাবিত্রী যমের অনুসরণ করে অগ্রসর হন। যম তাঁকে অনুসরণ না করে ফিরে যেতে বলেন। কিন্তু সাবিত্রী স্তব দ্বারা যমকে সন্তুষ্ট করলে, যম তাঁকে স্বামীর জীবন ছাড়া অন্য যে কোন বর প্রার্থনা করতে বলেন।

 

সাবিত্রী যমের কাছ থেকে প্রথম বর প্রার্থনা করে পান কিন্তু সাবিত্রী তারপরেও যমকে অনুসরণ করা থেকে বিরত হলেন না। যম সাবিত্রীকে থামানোর জন্য পাঁচবার বর দেন। প্রথম বর ছিলো তাঁর শ্বশুরের অন্ধত্ব দূর হওয়ার বর প্রার্থনা।

দ্বিতীয় বর ছিলো তাঁর শ্বশুরের রাজ্যলাভ প্রার্থনা করেন।তৃতীয় বর ছিলো সাবিত্রীর পিতার শতপুত্র লাভ প্রার্থনা।চতুর্থ বর  ছিলো সত্যবানের ঔরসে সাবিত্রীর শতপুত্র  প্রার্থনা।পঞ্চম বর ছিলো সত্যবান জীবিত হওয়ার প্রার্থনা।

 

সাবিত্রীর নিষ্ঠা এবং ভক্তি স্বয়ং যমকেও নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য করে। এবং যম সত্যবানকে মুক্ত করে দেন এবং সাবিত্রীকে আশীর্বাদ করে বিদায় নেন যম রাজ বিদায় নেয়ার পর  সাবিত্রী সত্যবানের অচেতন শরীরের কাছে এসে তাঁর মাথা কোলে তুলে নিয়ে বসেন।পরে সত্যবানের সংজ্ঞা ফিরে এলে, উভয়েই গৃহে ফিরে যান। যমের আশীর্বাদে দীর্ঘ এবং আনন্দময় জীবন লাভ করেন সত্যবান।

 

ভক্তি এবং নিষ্ঠার জোরে একজন ভক্তযে স্বয়ং যমরাজের থেকে নিজের প্রিয়জনের প্রাণ ফিরিয়ে আনতে পারেন এই ঘটনা তার প্রমান।

 

ফিরে আসবো ভক্ত এবং ভগবানের পরবর্তী পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – শ্রী রাম ভক্ত জাম্ববান

ভক্তের ভগবান – শ্রী রাম ভক্ত জাম্ববান

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

প্রভু শ্রী রামের ভক্তদের কথা উঠলেই সাধারণত রুদ্রবতার বজরংবলীকে নিয়ে আলোচনা হয় তবে রামায়নে আরো অনেক রামভক্ত আছেন। তাদের মধ্যে অনেকই সেই ভাবে প্রচারের আলোয় আসেননি এদের মধ্যে অন্যতম রামভক্ত এবং শ্রী রামের বানর সেনার অন্যতম বীর যোদ্ধা জাম্ববান।

 

পৌরাণিক কাহিনি মতে ভল্লুক রাজ জাম্ববানকে ব্রহ্মা সৃষ্টি করেছিলেন। অসীম ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন জাম্ববান।ত্রেতাযুগে জাম্ববান সুগ্রীবের মন্ত্রি ছিলেন ও রাম-রাবণের যুদ্ধকালে সুগ্রীব ও রামকে সাহায্য করেছিলেন।

 

শিশু রূপে হনুমান বিভিন্ন ঋষিদের আশ্রমে উপদ্রব শুরু  করলে, ঋষিদের অভিশাপে যখন দীর্ঘদিন তাঁর নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে বিস্মৃত হয়ে থাকেন।হনুমান কর্তৃক সাগর লঙ্ঘনের

আগে  জাম্ববান হনুমানকে তাঁর ক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। এরপর থেকে বজ্রবলী আর তাঁর ক্ষমতা সম্পর্কে আর বিস্মৃত হন নি।সেদিক দিয়ে রাবনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয় লাভে জাম্ববানের বড়ো ভূমিকা ছিলো।

 

দ্বাপর যুগে সত্রাজিৎ নামে এক রাজা কঠোর তপস্যাকরে সূর্যের কাছ থেকে সামন্তক মণি লাভ করেন। এই সামন্তক মণি নিজের কাছে পেতে চেয়েছিলেন স্বয়ং শ্রী কৃষ্ণ। সত্রাজিতের ভাই এই মণি ধারণ করে মৃগয়ায় গেলে সিংহ দ্বারা নিহত হন তখন ওই বনে বসবাসকারী জাম্ববান সেই

সিংহ কে হত্যা করে সামন্তক মণি উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে শ্রী কৃষ্ণ সামন্তক মনির সন্ধান করে বনে আসেন এবং জাম্ববানের সঙ্গে তার ভীষণ

যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে জাম্ববান পরাজিত হন এবং শ্রী কৃষ্ণ সামন্তক মণি হস্তগত করেন।

 

জাম্ববান উপলব্ধি করেন যে, রামই কৃষ্ণরূপে জন্মগ্রহণ করেছেন। পরে তিনি তার কন্যা জাম্ববতীর সাথে কৃষ্ণের বিবাহ দেন এবং বিষ্ণুর আরাধনা করে দেহত্যাগ করেন।

 

ভক্তের সাথে ভগবানের যুদ্ধ এবং ভগবানের আরাধনায় ভক্তের প্রাণ ত্যাগ এই সবই

ভক্তের প্রতি ভগবানের লীলা ছাড়া আর কিছুনয়।

 

ফিরে আসবো পরবর্তী পর্বে ভক্ত এবং

ভগবানের আরো একটি লীলা নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বড়দিনের শুভেচ্ছা

বড়দিনের শুভেচ্ছা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বড়ো দিন এলেই আমার স্বামীজী ও ঠাকুর রামকৃষ্ণর আদর্শর প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নত হয় কারন সব ধর্মীয় সংকীর্ণতার উর্দ্ধে গিয়ে তারা প্রভু যীশুর আরাধনা করেছিলো এই বাংলার মাটিতে, স্বয়ং ঠাকুর রামকৃষ্ণ, প্রভু যীশুর উপস্থিত উপলব্ধি করছিলেন একবার, সেকথাও উল্লেখ আছে নানা গ্রন্থে….রামকৃষ্ণ মিশনে একদিন আগেই শুরু হয়ে যায় বড়দিন পালন। যদিও গোটা দেশ তথা বাংলা আজ বড়দিন পালন করছে।

 

বড়দিন আজকের দিন সেই পরম পিতার শ্রেষ্ট সন্তানের জন্মদিন হিসেবেই পালিত হয় গোটা বিশ্বে|সব গির্জায় চলে বিশেষ প্রার্থনা|প্রকৃত অর্থে এই ক্রিসমাস ডে প্রভু যীশুর জন্মদিন কিনা তা বিতর্কের বিষয়|বাইবেলে কিন্তু কোথাও প্রভু যীশুর জন্মের নিদ্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ নেই|অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন এই তারিখের ঠিক নয় মাস পূর্বে মেরির গর্ভে প্রবেশ করেন যিশু। সম্ভবত, এই হিসাব অনুসারেই ২৫ ডিসেম্বর তারিখটিকে যিশুর জন্মতারিখ ধরা হয় হয় এবং উৎসব পালন করা হয়|

 

আবার অনেকের মতে ভৌগোলিক ভাবে উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণ অয়নান্ত দিবস উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বর তারিখে বড়দিন পালিত হয় বিশ্ব জুড়ে অর্থাৎ আক্ষরিক দিক দিয়ে এই দিন সত্যি বড়ো দিন|এই দিনকে খ্রিস্টমাস ও বলে আবার এক্স মাস ও বলে কারন ইংরেজি খ্রিস্টমাস শব্দটি “খ্রিস্টের মাস ” বোঝাতে ব্যবহার হয়ে আসছে এবং মূলত গ্রিক ভাষা থেকে এই শব্দের জন্ম হয়েছে|যেহেতু প্রাচীন গ্রিক ভাষায় Χ অক্ষর টি Christ বা খ্রিষ্ট শব্দের প্রথম অক্ষর তাই তাই এই অক্ষরটি খ্রিষ্ট শব্দেরনামসংক্ষেপ|

 

বড়দিন বলুন বা ক্রিস্টমাস কিংবা এক্সমাস দিনটি ওতি পবিত্র|আজ প্রভু যীশুর কাছে প্রার্থনা জানানোর দিন আজ উৎসব করার দিন|আপনারাও প্রার্থনা করুন উৎসব পালন করুন|আমার তরফ থেকে আপনাদের সবাইকে বড়দিনের অসংখ্য শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|

ভালো থাকবেন|ধন্যবাদ|

ভক্তের ভগবান – বিষ্ণুভক্ত রাজা হরিশ্চন্দ্র

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আজ আপনাদের মহান রাজা এবং বিষ্ণু ভক্ত হরিশ্চন্দ্রর কথা বলবো। যদিও সূর্য বংশীয় রাজা হরিশ্চন্দ্র বরুন দেবের তপস্যা করে রোহিতাস্ব কে পুত্র হিসেবে লাভ করেন তবুও মনে প্রাণে তিনি ছিলেন বিষ্ণু ভক্ত। তার স্ত্রীর ছিলেন শৈব্য।
রাজা হরিশ্চন্দ্র দান ধ্যানের জন্য বিখ্যাত ছিলেন।
মার্কেন্ডয় পুরানে উল্লেখ আছে একবার রাজা হরিশ্চন্দ্র মৃগয়ায় বেরিয়ে এক নারী কণ্ঠের আর্তনাদ শুনতে পেলেন। সেই নারী কণ্ঠ ছিলো মহর্ষি বিস্বামিত্রর আরাধ্যা দেবীর। সেই বনে বিস্বামিত্র তখন গভীর ধ্যানে মগ্ন। রাজা সেই কণ্ঠশ্বর অনুসরণ করে সেই নারী কে রক্ষা করতে গেলে নিজের অজান্তে বিস্বামিত্রর তপস্যায় বিঘ্ন ঘটনা এতে ঋষি ক্ষুব্ধ হন রাজার কাছে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দান চাইলেন এবং রাজা তাকে তার সর্বস্ব দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন। ঋষি বিস্বামিত্র তার রাজ্য, ধন, সম্পদ সব নিয়ে নিলেন।
সর্বহারা হয়ে রাজা হরিশ্চন্দ্র কাশীতে গিয়ে নিজ স্ত্রীর পুত্র কে নিয়ে চণ্ডালের কাজ করতে শুরু করেন। অভাবের তাড়নায় তার স্ত্রীপুত্রও তার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এর পর কেটে যায় কিছুকাল। ইতিমধ্যে হরিশ্চন্দ্রর পুত্র সর্প দংশনে প্রাণ হারালে তার মৃত দেহ কাশির সেই শ্মশানে আনা হয়। পুত্র শোকে ব্যাকুল হরিশ্চন্দ্র এবং তার স্ত্রী ঠিক করলেন দুজনে একত্রে প্রাণ বিসর্জন করবেন। শেষ বারের মতো হরিশ্চন্দ্র তার আরাধ্য বিষ্ণুর উপাসনা শুরু করলেন এবং বিষ্ণুর কৃপায় স্বয়ং ধৰ্মরাজ তাকে প্রাণ ত্যাগ করতে নিষেধ করলেন এবং ইন্দ্র নিজে এসে তাদের স্বর্গে নিয়ে যেতে চাইলেন।হরিশ্চন্দ্র শুধু নিজের নয় তার প্রজা ও অনুগতদের
মুক্তি চেয়ে নিলেন।
এই ভাবে বিষ্ণু ভক্ত হরিশ্চন্দ্র তার প্রভু বিষ্ণুর আশীর্বাদে ও নিজের সততা এবং ন্যায় পরায়ণতা দিয়ে সনাতন ধর্ম শাস্ত্রে নিজেকে অমরত্ত
প্রদান করেন।
আবার ফিরে আসবো অন্য এক ভক্ত এবং ভগবানের লীলা নিয়ে আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – কৃষ্ণভক্ত শ্রীল প্রভুপাদ


ভক্তের ভগবান – কৃষ্ণভক্ত শ্রীল প্রভুপাদ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

একজন সাধারণ কৃষ্ণ ভক্তের ভক্তি কিভাবে গোটা বিশ্বে কৃষ্ণ প্রেমের ঝড় বইয়ে দিতে পারে এবং কিভাবে দশ বছরের সাধনায় একজন ভক্ত তার আরাধ্য ভগবানের আরো লাখ লাখ ভক্ত তৈরী করতে পারে তা ভক্তি বেদান্ত শ্রীল প্রভুপাদকে না জানলে বোঝা যায়না।

 

শ্রীল প্রভুপাদ অভয় চরণ দে 1 সেপ্টেম্বর, 1896-এ কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। যৌবনে তিনি মহাত্মা গান্ধীর আইন অমান্য আন্দোলনের সাথে জড়িত হন। পরবর্তীতে সংসারও করেন। তারপর অভয় 1933 সালে শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্তের শিষ্য হয়েছিলেন

কর্ম জীবন এবং সংসার জীবনের পর সত্তর বছর বয়সে শুরু হয় প্রভুপাদর সন্ন্যাস জীবন।

 

1965 সালে,প্রায় 70 বছর বয়সে, শ্রীল প্রভুপাদ একটি কার্গো জাহাজে চড়ে নিউইয়র্ক সিটিতে যান। জাহাজে 2টি হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন। সাথে ছিলো 7 ডলার এবং ধর্ম গ্রন্থ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে তিনি কৃষ্ণ চেতনার

শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে শুরু করেন।তৈরী করেন আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ বা ইস্কন।

যা আজকের সময়ে বিশ্বের সর্ব বৃহৎ ধর্মীয় সংগঠন।

 

জীবনের শেষ প্রান্তে উপনীত হয়ে কিভাবে

একজন বৃদ্ধ সন্যাসী এই অসাধ্য সাধন

করলেন তা আশ্চর্যর বিষয়। আসলে এই ভক্তকে ভগবান নিজেই নির্বাচন করেছিলেন নিজের নাম প্রচার এবং প্রসারের জন্য। পদে পদে পরীক্ষাও নিয়েছেন। আমেরিকা গামী জাহাজে একের পর এক হার্ট এটাক ছিলো সেই পরীক্ষার অংশ।

সব পরীক্ষাতেই তার ভক্ত সফল ভাবে উত্তীর্ন হন।

 

শ্রীল প্রভু পাদের জন্মের বহু আগেই ভবিষ্যত বাণী ছিলো যে একজন এমন কৃষ্ণ ভক্ত অবির্ভুত হবেন যিনি ভারতের বাইরে কৃষ্ণর মহিমা প্রচার করবেন এবং অসংখ্য বিপথগামী নরনারী কে উদ্ধার করবেন। শ্রীল প্রভুপাদ সারা জীবন কৃষ্ণ নাম প্রচার করে পাপীতাপীদের উদ্ধার করেছেন।

 

কথিত আছে তার কীর্তন শুনতে আসতেন স্বয়ং নারদ মুনি। একাধিক বার প্রভুপাদ শ্রী কৃষ্ণর সাক্ষাৎ দর্শন লাভ করেছেন সব তার ভক্তদের সেই স্বর্গীয় অনুভূতি শুনিয়েছেন।শুধু মানুষ নয় একবার এক হানা বাড়িতে অশরীরীরাও তার কীর্তন শুনে সেই স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

 

শ্রী কৃষ্ণের সঙ্গে প্রভুপাদ বাতসল্য ভাবে মিশতেন। নির্দ্বিধায় কৃষ্ণর ভোগের থালা থেকে পুজোর আগেই প্রসাদ তুলে চেখে দেখতেন এবং তারপর ভোগ নিবেদন করতে বলতেন।ভক্ত এবং ভগবানের মাঝের প্রাচীন যখন উধাও হয় তখন এমন টা হয়। এর জন্য সাধনার উচ্চ মার্গে পৌঁছাতে হয় যা শ্রীল প্রভুপাদ পেরে ছিলেন।

 

ফিরে আসবো এমনই আরো এক ভক্তের কথা নিয়ে।আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – রামভক্ত বিভীষণ

ভক্তের ভগবান – রামভক্ত বিভীষণ

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

ভক্তির জন্য সংসার ত্যাগ বা প্রাণ ত্যাগ সনাতন ধর্মে নতুন কিছু না তবে ভক্তির জন্য নিজ কুল নিজ ভ্রাতা এবং পরিবারের সাথে চরম শত্রুতা করে ভগবানের সাথে হাত মেলাতে একমাত্র বিভীষণই পেরে ছিলেন। আজ এই পরম রাম ভক্তকে নিয়ে লিখবো।

রামায়ণ অনুসারে বিভীষণ ছিলেন রাবণের ছোট ভাই। অত্যাচারী রাবণ যখন ছল করে সীতাকে হরণ করে লঙ্কায় আনলেন এবং রাম যখন রাবনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন তখন বিভীষণ
তার ভাই তার পরিবার এবং সমগ্র লংকার বিরুদ্ধে গিয়ে তার আরাধ্য শ্রী রামের পক্ষ নেন।কারণ রাক্ষস কূলে জন্মালেও বিভীষণ ছিলেন শ্রী রামের পরম ভক্ত এবং ভগবানের পক্ষে দাঁড়াতে তিনি সর্বস্য ত্যাগ করেন।

প্রথমে তিনি বারবার সীতাকে ফিরিয়ে দিতে রাবনকে অনুরোধ করেছেন কিন্তু রাবণ তার কথা শোনেননি এবং শেষে নিজের রাজ্য নিজের প্রাণ দিয়ে মূল্য দিতে হয়েছিল।ধর্ম এবং অধর্মর যুদ্ধে রামের জয়লাভের পেছনে বিভীষণের যথেষ্ট অবদান ছিল।। রাম রাবণের যুদ্ধে রাবণে পরাজিত হলে বিভীষণ লঙ্কার রাজা উপাধি পান।কিন্তু বিভীষনের রাজ্য পরিচালনায় মন ছিলোনা। তিনি আজীবন প্রভু শ্রী রামের নাম জপ করে তার ধ্যান করেই কাটাতে চেয়ে ছিলেন।

এখানে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করতে হয়। রাম এবং রাবনের যুদ্ধ বাঁধার বহু আগে থেকেই বিভীষণ শ্রী রামের ভক্ত ছিলেন। কথিত আছে তার প্রাসাদের সর্বত্র তিনি শ্রী রামের নাম লিখে রাখতেন। একদিন ভ্রাতা রাবন যখন গুপ্তচর মারফত জানতে পারলেন তার ভাই তার শত্রুর নাম তার প্রাসাদে লিখে রাখেন রাবন তাকে তীব্র ভৎসনা করলেন এবং এর কারন জানতে চাইলেন। চতুর বিভীষণ এর উত্তরে বলেন রা অর্থাৎ রাবন এবং ম অর্থাৎ মন্দদরি অর্থাৎ তিনি তার ভ্রাতা এবং মাতৃ স্বরূপা বৌদির নাম লিখেছেন। উত্তর শুনে রাবনের ক্রোধ শান্ত হয়।

ভক্তিতে যদি অটুট থাকা যায় একজন ভক্ত তার ভগবানের জন্য সব কিছু ত্যাগ করতে পারে সব এবং ত্যাগ করা সব কিছুই তার কাছে পুনরায় ফিরে আসে। বিভীষণ তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

আবার ভক্ত এবং ভগবানের পরবর্তী পর্ব নিয়ে ফিরে আসবো থাকবে আরো অনেক পৌরাণিক ঘটনা এবং ভক্তের কথা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – হরিভক্ত দেবর্ষি নারদ 

ভক্তের ভগবান – হরিভক্ত দেবর্ষি নারদ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

পুরানে অসংখ্য হরি ভক্তের উল্লেখ আছে তবে দেবর্ষি নারদের ন্যায় নারায়ণ

ভক্ত দ্বিতীয় কেউ নেই। নারদ এক জনপ্রিয় পৌরাণিক চরিত্র, আচার আচরণে তিনি পরম বৈস্নব |মুখে সদা হরিনাম, সর্বত্র তার অবাধ যাতায়াত, সব সংবাদ, সব জ্ঞান তার মধ্যে সদা বর্তমান |দেব লোক থেকে জমলোক সব স্থানে তিনি সমান জনপ্রিয়।

 

নারদের জন্মই হয় নারায়নের বরে পূর্ব জন্মে নারদ ছিলেন এক ব্রাহ্মণ সন্তান তার নাম ছিলো নন্দ।তিনি কৈশোরে তার আরাধ্য শ্রী হরির দর্শন পেতে জঙ্গলে গিয়ে বিষ্ণুর ধ্যান শুরু করেন নন্দ। তাঁর প্রচণ্ড তপস্যায় তুষ্ট হয়ে বিষ্ণু তাঁকে দর্শন দেন। শ্রীবিষ্ণু নন্দের পবিত্রতা, তার সাধনা এবং ঈশ্বরকে পাওয়ার প্রবল ইচ্ছে দেখে খুশি হয়ে তাঁকে বর দেন যে পরের জন্মে তিনি বিষ্ণুর পরম ভক্ত হয়ে জন্ম নেবেন। তাঁর ভক্তির কারণেই নারদ হয়ে জন্মে তিনি অমরত্ব লাভ করেন।

 

দেবর্ষি নারদের জন্ম নিয়ে একাধিক শাস্ত্রে একাধিক তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে।একটি তত্ব অনুসারে নারদের জন্ম হয়ে ছিল ব্রহ্মার কণ্ঠ থেকে।প্রথমে ব্রহ্মা তাঁকে সৃষ্টির ভার দেন। সৃষ্টির কাজে ব্যস্ত থাকলে ঈশ্বর চিন্তা বিঘ্নিত হবে বিবেচনা করে ইনি ব্রহ্মার আদেশ মানতে রাজী হলেন না। ফলে ব্রহ্মা তাঁকে অভিশাপ দিয়ে বলেন যে, নারদকে গন্ধমাদন পর্বতে গন্ধর্বযোনিতে জন্মগ্রহণ করতে হবে।যথা সময়ে ইনি গন্ধর্বযোনিতে জন্মগ্রহ করেন।এই সময় তাঁর নাম ছিল উপবর্হণ।

 

ব্রহ্মার মানসপুত্র নারদ একজন ত্রিকালজ্ঞ, বেদজ্ঞ ও তপস্বী|তার বৈরাজ্ঞ ও জ্ঞানের জন্য তিনি দেবর্ষি উপাধিতে ভূষিত।নারদের জন্ম থেকে তার প্রতিটি লীলায় শ্রী বিষ্ণু স্বমহিমায় উপস্থিত। নারদের কণ্ঠে সদা হরিনাম এবং সর্বদা তিনি বিষ্ণুর ধ্যানে মগ্ন।

 

নারদ কংসের কাছে কৃষ্ণের জন্মের আগেই কৃষ্ণের আবির্ভাব এবং কৃষ্ণকর্তৃক কংসবধের কথা বলেছিলেন।যার ফলে ফলে কংস চরম অত্যাচারি হয়ে উঠেছিলো, অন্ধকার নেমে এসে ছিলো দেবকী ও বাসুদেবের জীবনে। আপাত দৃষ্টিতে দেখলে নারদ অন্যায় করেছিলেন কিন্তু এসবই ভগবানের লীলা মাত্র নারদকে স্বয়ং ভগবান বেছে নিয়ে ছিলেন তার লীলায় সহায়তা করার জন্য।

অতি উচ্চ মার্গের ভক্ত না হলে এই সৌভাগ্য হয়না।

 

একজন আদর্শ ভক্ত রূপে নারদ সদা কৃষ্ণ নাম করেছেন ও নাম বিলিয়েছেন, ভক্তি মার্গে চলতে উৎসাহ দিয়েছেন সবাই কে, পাপ থেকে দূরে থাকতে বলেছেন সর্বদা |যেকোনো কার্যে তিনি নিমিত্ত মাত্র, যাই হয়েছে তা ভগবান এর ইচ্ছায় হয়েছে।

 

আগামী পর্বে আরো এক মহান ভক্ত এবং তার ভক্তির কথা নিয়ে ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – বিষ্ণু ভক্ত শেষ নাগ

ভক্তের ভগবান – বিষ্ণু ভক্ত শেষ নাগ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

গরুড় বা সুদর্শনের ন্যায় বিষ্ণু আরো এক একনিষ্ট ভক্ত এবং সর্বক্ষণের সঙ্গী হলেন শেষ নাগ। তিনি পালন কর্তা বিষ্ণুকে তার সৃষ্টি পরিচালনায় সাহায্য করেন আবার অনন্ত সজ্জা রূপে তিনি শ্রী বিষ্ণুর চিরসঙ্গী। শ্রী কৃষ্ণ রূপে যখন শ্রী বিষ্ণু তার তার লীলা করতে ধরাধামে অবতীর্ণ হন তখন তখন শেষ নাগও বলরাম অবতারে তার লীলা সঙ্গী হন।

আজ এই মহান ভক্ত প্রসঙ্গে আলোচনা করবো।

 

কশ্যপ মুনির ঔরসে কদ্রুর গর্ভে বিষ্ণু ভক্ত শেষ নাগ জন্মগ্রহণ করেন। তার সহস্র ফনার ছায়ার বিশ্রাম নেন শ্রী বিষ্ণু। তার কুন্ডলীকৃত দেহই শ্রী বিষ্ণুর অনন্ত সজ্জা। পুরান মতে নাগেদের মধ্যে শেষ নাগই শ্রেষ্ঠ।

 

সৃষ্টির ধ্বংস এবং পুনরায় সৃষ্টির সূচনায় শেষ নাগের বিশেষ ভূমিকার কথা একাধিক

পুরানে উল্লেখিত আছে। পুরান মতে শেষ নাগের মস্তকে পৃথিবী অধিষ্ঠান করছে। তার ক্রোধে পৃথিবী তে ভূমিকম্প হয় আবার প্রতি কল্পর শেষে শেষ নাগের মুখ থেকে অগ্নি নির্গত হয় এবং পৃথিবী ধ্বংশ হয়।এসবই হয় শ্রী বিষ্ণুর ইচ্ছেতে।ভগবান তার প্রিয় ভক্তের মাধ্যমে তার সৃষ্টি কার্য সম্পন্ন করেন।

 

রানী যশমতিকে স্বয়ং বিষ্ণু আশীর্বাদ দিয়েছিলেন যে আমি যখন কৃষ্ণ রূপে পৃথিবীতে আসবো তখন বলরাম রূপে শেষ নাগ আমার লীলা সঙ্গী হবেন এবং সেই সময়ে শেষ নাগের সঙ্গে তোমার বিবাহ হবে।দ্বাপর যুগে রানী রেবতী রূপে যশমতির জন্ম হয় এবং বলরাম রুপী শেষ নাগের সঙ্গে তার বিবাহ হয়।

 

আবার অনেকে মনে করেন ত্রেতা যুগে বিষ্ণু যখন রাম অবতার নেন তখন শেষ নাগ লক্ষণ রূপে তার তার সাথে ছিলেন এবং লক্ষণের ধর্মপত্নী আর কেউ নন তিনি স্বয়ং রানী যশমতি।

 

শিবের যেমন নন্দী। রামের যেমন বজরংবলী বিষ্ণুর তেমনই শেষ নাগ। ভক্ত এবং ভগবানের এই যুগলবন্দি সমগ্র সৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

 

আবার পরের পর্বে এমনই এক ভক্ত এবং ভগবানের লীলা নিয়ে আধ্যাত্মিক আলোচনা করবো। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – শিবভক্ত বানাসুর

ভক্তের ভগবান – শিবভক্ত বানাসুর

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শাস্ত্রে আছে শিব অতি অল্পে তুষ্ট হন এবং তার প্রকৃত ভক্তদের তিনি অপার ঐশর্য প্রদান করেন। দেবাদিদেব শুধু দেবতাদের আরাধ্যা দেবতা নন বহু অসুর, দৈত্য বা রাক্ষস ও তার আরাধনা করে তার কাছে বর প্রার্থনা করেছেন এবং তার অশেষ কৃপা লাভ করে ধন্য হয়েছেন।এদের মধ্যে অনেকই শিবের কাছে বর লাভ করে স্বয়ং শিব কেই বিপদে ফেলেছেন। তাদের কথা পরে বলবো আজ আপনাদের শিব ভক্ত বানাসুরের কথা জানাবো।

 

প্রাচীনকালে বাণ নামে এক শিব ভক্ত অসুর প্রতিদিন একটি করে শিব শিবলিঙ্গ নির্মাণ করে পূজা করতেন এবং মনে মনে তার আরাধ্য শিবের দর্শন কামনা প্রার্থনা করতেন।এইভাবে দীর্ঘদিন শিবপূজার ফলে শিব তাকে দর্শন দিয়ে একটি বর দিতে চান। ভক্ত বাণ বলেন, প্রতিদিন তাকে শিবলিঙ্গ নির্মাণ করতে বেশ কষ্ট পেতে হয়। তাই বর হিসেবে তিনি উত্তম লক্ষণযুক্ত চোদ্দ কোটি শিবলিঙ্গ চান। শিব ভক্তের মনোস্কামনা পূর্ণ করেন এবং চোদ্দো কোটি শিবলিঙ্গ নির্মাণ করে

বাণকে দেন।

 

এতো গুলি শিবলিঙ্গ পেয়ে বানাসুর ঠিক করেন তিনি সারা ভারতবর্ষে এই শিব লিঙ্গগুলি স্থাপন করবেন যাতে সর্বত্র শিব ভক্তরা এই সুন্দর এবং শয়ম্ভু শিব লিঙ্গ দর্শন করতে বা সংগ্রহ করতে পারেন।

 

পরিকল্পনা করে বানাসুর শ্রীশৈলে তিনকোটি, নেপালে এককোটি, কন্যতীর্থে এককোটি,কন্যাশ্রমে এককোটি,মহেন্দ্র পর্বতক্ষেত্রে এককোটি, মহেশ্বরক্ষেত্রে এককোটি, সৌরাষ্ট্রে এক কোটি উজ্জয়িনীতে এক কোটি ওমকার তীর্থে এককোটি,কাশীতে এককোটি,রামেশ্বরে এককোটি শিব লিঙ্গ নিঃক্ষেপ করেন এবং এই ভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে যায় বানাসুরের বানলিঙ্গ।

 

তবে নর্মদা নদী তীরে সর্বাধিক বানলিঙ্গ দেখতে পাওয়া যায়। এই প্রাকৃতিক শয়ম্ভু শিব লিঙ্গ দর্শন পাওয়া বা সংগ্রহ করে গৃহ মন্দিরে স্থাপন করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।একজন প্রকৃত ভক্ত রূপে বানাসুর তার আরাধ্য মহাদেবের মহিমা এই সারা বিশ্বে প্রচার করেছিলেন।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে।থাকবে আরেক

ভক্ত এবং আরাধ্য দেবতার লীলা কথা।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।