কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণের মৃত্যু রহস্য
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
দোল যাত্রা উপলক্ষে শুরু করেছিলাম কৃষ্ণ কথা। কৃষ্ণের জীবনের নানা লীলা এবং পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেছি ধারাবাহিক ভাবে। আজকের পর্বে জানাবো শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যু সংক্রান্ত সব রহস্যময় তথ্য।
সংক্ষেপে বলা যায় যাদব বংশ শেষ হয়ে যাওয়ার পর একটি গাছের তলায় বসে থাকা অবস্থায় তাঁর রক্তবর্ণ চরণ দেখে হরিণ মনে করে তীর ছোঁড়েন এক ব্যাধ সেই তীরের আঘাতেই মৃত্যু হয় শ্রী কৃষ্ণের।তবে এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
কেনো তা জানতে গেলে আরো অনেক কিছু জানতে হবে।
একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা অনুসারে মহাভারতের যুদ্ধের পর নিজের রাজ্য দ্বারকায় ফিরে যান কৃষ্ণ। স্ত্রী রুক্মীনি ও পুত্র সাম্বকে নিয়ে কিছুকাল সুখে বাস করেন।একদিন সপ্তঋষি কৃষ্ণ ও বলরামের সঙ্গে দেখা করতে দ্বারকা আসেন। তাঁদের নিয়ে একটু মজা করতে চান কৃষ্ণ-পুত্র সাম্ব ও তাঁর বন্ধুরা। মহিলার মত সাজপোশাক করে এবং পেটে লোহার টুকরো বেঁধে গর্ভবতী মহিলা সেজে সপ্তঋষির সামনে আসেন সাম্ব। ঋষিরা পুরো বিষয়টা ধরে ফেলেন|সপ্তঋষি অভিশাপ দেন যে সাম্বর শরীরে যা বাঁধা আছে, তাই এই যাদব বংশের ধ্বংসের কারণ হবে। ঠিক পরের দিন পেটে প্রচণ্ড ব্যাথায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন সাম্ব। কৃষ্ণ ও বলরাম তাঁকে দেখতে এলে সপ্তঋষির অভিশাপের কথা শোনের। সাম্বর পাশে রাখে লোহার টুকরোটাও দেখেন তাঁরা। ওই লোহার টুকরো গুঁড়ো করে প্রভাস নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। অনেকটা গুঁড়ো হলেও একট টুকরো লোহা থেকে যায়। তা নদীর জলে ভাসিয়ে দিলে সেই লোহার টুকরো একটা মাছ গিলে ফেলে। ওই মাছ আবার ধরা পড়ে স্থানীয় এক মত্স্যজীবীর জালে। মাছ কেটে পেটের মধ্যে লোহার টুকরো দেখে তা দিয়ে তীর বানান ওই মত্স্যজীবী|এবং ঘটনা চক্রে ওই তীরের আঘাতেই প্রান যায় কৃষ্ণর|সত্যি হয় সপ্তর্ষির অভিশাপ।
শ্রী কৃষ্ণ বিশেষ কিছু লীলা সম্পন্ন করতে এসেছিলেন পৃথিবীতে। তার লীলা সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি রাজকীয় প্রস্থান করেন।তার মৃত্যুর পরেও কিছু রহস্য থেকে যায়। যা নিয়ে আবার পরের একটি পর্বে আলোচনা হবে। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
