শিব অবতার – অবধুত অবতার

5

শিব অবতার – অবধুত অবতার

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শিবের উনিশটি প্রধান অবতারের মধ্যে অবধূত অবতার অন্যতম। আজকের পর্বে এই বিশেষ অবতার বা রূপ নিয়ে লিখবো।

একাধিক পুরানে এই অবতার সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।স্কন্দ পুরাণ অনুযায়ী সতীকে হারানোর পর দিশেহারা এবং শোকগ্রস্ত শিব অবধূত রূপে আত্ম প্রকাশ করেন।
আবার শিব পুরাণ অনুযায়ী ইন্দ্রের অহংকার চূর্ণ করার জন্য শিব এই অবতার ধারণ করেন।

একবার দেবরাজ ইন্দ্র যখন নিজের ক্ষমতা এবং পদের জন্য অতীশয় অহংকারী হয়ে ওঠেন তখন
শিব দিগম্বর রূপে শরীরে ভস্ম মেখে একজন বৃদ্ধ যোগীর বেশে ইন্দ্রের যাওয়ার পথে শুয়ে পড়েন। ইন্দ্র প্রথমে শিবরূপী অবধূতকে সেখান থেকে সরানোর চেষ্টা শুরু করেন কিন্তু ব্যর্থ হন এবং তাঁকে অপমান করেন। কিন্তু তখনও শিব অবিচল এবং শান্ত থাকেন।ক্ষুব্ধ হয়ে ইন্দ্র সেই তাঁর ওপর প্রহার করার জন্য বজ্র তুলে নেন। কিন্তু বজ্র থেমে যায়।সেই সময়ে দেব গুরু বৃহস্পতি উপস্থিত হন এবং ইন্দ্রকে বলেন ইনি অবধূত রুপী শিব।

ইন্দ্রের অহংকার ভেঙে যায়। অনুতপ্ত ইন্দ্র ক্ষমা প্রার্থনা করেন। মৌনী মহাদেব সন্তুষ্ট হন এবং নিজের প্রকৃত রূপে পুনরায় আত্ম প্রকাশ করেন।

অন্য একটি শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা অনুসারে সতী বিয়োগে দিশেহারা শিব জটাযুক্ত, নগ্ন, ভস্ম মাখা শরীরে মুণ্ড মালা ধারণ করে জগৎ সংসারে ভ্রমণ শুরু করেন। তাঁর এই রূপই অবধূত অবধূত অবতার নামে খ্যাত হয়।

শিবের এই রূপ ত্যাগ। বৈরাগ্য এবং শান্তির প্রতীক রূপে পূজিত হয় এবং সমস্ত শিব ভক্তের কাছে শিবের অবধূত অবতার পরম শ্রদ্ধার এবং নমস্যা।

ফিরে আসবো পরের শিব অবতার নিয়ে। চলতে থাকবে এই ধারাবাহিক আলোচনা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।