Home Blog Page 25

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – রামেশ্বরম শিব মন্দির

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – রামেশ্বরম শিব মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ পর্ব নিয়ে ধারাবাহিক এই লেখা শেষ করবো যে মন্দিরটি নিয়ে তা হলো ভারতের শেষ প্রান্তে অবস্থিত জ্যোতির্লিঙ্গ রামেশ্বরম।

 

রামেশ্বরম ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রামনাথপুর জেলার পাম্মান দ্বীপে অবস্থিত|এই দ্বীপ পাম্মান সেতু দ্বারা ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত এই সেতু কে অনেকে রামেশ্বর ব্রিজ ও বলে থাকেন|অপূর্ব সুম্দর এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিশেষত সমুদ্র ও তার দুদিকের দুটি ভিন্ন রং দেখলে অবাক হতে হয়|সমুদ্র সৈকতটিও অতি সুম্দর|এখান থেকে শ্রীলংকার মান্নার দ্বীপের দূরত্ব মাত্র চল্লিশ কিলোমিটার যা দূরবীনে চোখ রাখলে বেশ স্পষ্ট দেখা যায়।

 

রামানায়নে রাম ও রাবনের যুদ্ধতে রাবন বধ হন রামের হাতে, কিন্তু রাবন ছিলো নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ ও বড়ো শিব ভক্ত তাই রাবন কে হত্যা করে ব্রহ্ম হত্যার জন্য দায়ী হন শ্রী রাম এবং সেই মহা পাপ থেকে মুক্তি পেতে তিনি ভারতের মাটিতে পা রেখে একটি শিব লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে তার আরাধনা করেন এবং ব্রহ্ম হত্যার পাপ থেকে মুক্ত হন।

 

শ্রী রাম দ্বারা স্থাপিত সেই বিশেষ শিব লিঙ্গটি হলো এই রামেশ্বর শিব লিঙ্গ যা দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম|এই শিব লিঙ্গ শ্রীরামনাথস্বামী হিসাবে পরিচিত|

 

এখানে জানিয়ে রাখি ভারতের উত্তরে কেদারনাথ এবং দক্ষিনে রামেশ্বরম,এক সরল রেখায় অবস্থান করছে,তার সাথে আরো অনেক গুলি শিব মন্দির মিলিত হয়েছে ওই একি সরলরেখায় এও এক বিস্ময়|রামেশ্বর শুধু দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ নয় ভারতের জনপ্রিয় চারধাম তীর্থের মধ্যে অন্যতম।

জনশ্রুতি আছে পুরী যেমন ভগবানের ভোজনের স্থান তেমনই রামেশ্বরম ভগবানের বিশ্রাম স্থান।

 

আগামী পর্বে আবার ফিরে আসবো শিব সংক্রান্ত আধ্যাত্মিক এবং পৌরাণিক বিষয়

নিয়ে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – মল্লিকার্জুন শিব মন্দির

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – মল্লিকার্জুন শিব মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

এগিয়ে আসছে মহা শিব রাত্রি এবং সোমবতী অমাবস্যা। চলছে ধারাবাহিক দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ নিয়ে লেখা।ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীশৈলমে রয়েছে মল্লিকার্জুন জ্যোতির্লিঙ্গ।আজকের পর্বে এই জ্যোতির্লিঙ্গ নিয়ে লিখবো।

 

শ্রীশৈলমের মল্লিকার্জুন মন্দির একই সাথে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ এবং মহাশক্তিপীঠেরও অন্যতম।

শাস্ত্র মতে এখানে সতীর ওপরোষ্ঠ পড়েছিল।

তবে আজ শক্তি পীঠ হিসেবে নয় জানবো এই জ্যোতির্লিঙ্গর বিশেষত্ব এবং তাৎপর্য।

 

শ্রীশৈলমের শিবমন্দির তৈরির পিছনে রয়েছে এক পৌরাণিক কাহিনি।যখন শিব এবং পার্বতী তাঁদের দুই ছেলে গণেশ ও কার্তিকের জন্য উপযুক্ত পাত্রীর সন্ধান করছিলেন। সেই সময় কার্তিক নাকি তর্ক জুড়েছিলেন, কে আগে বিয়ে করবেন, সেই ব্যাপারে। শিব তখন জানিয়েছিলেন, যে আগে বিশ্ব প্রদক্ষিণ করে আসতে পারবে, তারই আগে বিয়ে হবে। কার্তিক তাঁর বাহন ময়ূরে চেপে বিশ্ব প্রদক্ষিণে বেরিয়ে পড়েছিলেন। অপর দিকে বুদ্ধিমান গণেশ শুধু শিব-পার্বতীকেই সাতবার প্রদক্ষিণ করেছিলেন। শাস্ত্রমতে নিজের মা-বাবাকে প্রদক্ষিণ করলেই বিশ্ব প্রদক্ষিণ হয়ে যায়।গণেশ তাই সেই পথ বেছে নেয়।

 

পরবর্তীতে বুদ্ধি, ঋদ্ধি ও সিদ্ধির সঙ্গে গণেশের বিয়ে সম্পন্ন হয় । বিশ্ব প্রদক্ষিণ করে ফিরে এসে সেসব দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন কার্তিক। তিনি কুমার এবং ব্রহ্মচারী হিসেবে থাকার জন্য ক্রৌঞ্চ পর্বতে চলে যান। ছেলেকে ফিরিয়ে নিতে শিব এবং পার্বতীও সেখানে যান। কিন্তু, কার্তিক ফিরতে রাজি হননি। তখন শিব ও পার্বতী কাছাকাছি এক স্থানে থাকা শুরু করেন। যেখান থেকে শিব প্রতি অমাবস্যা এবং পার্বতী প্রতি পূর্ণিমায় গিয়ে কার্তিককে দেখে আসতেন। যে জায়গায় শিব ও পার্বতী নির্বাচন করেন সেই জায়গাই পরিচিত হয় শ্রীশৈলম নামে।সেই পবিত্র স্থানেই জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে স্বয়ং শিব বিরাজ করছেন।

 

এখানের শিবমন্দিরটি পূর্বমুখী। এর মূল মণ্ডপে অনেকগুলো স্তম্ভ রয়েছে এবং নন্দীকেশ্বরের বিরাট মূর্তি রয়েছে।

 

সারা বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু ভক্ত আসেন এই মন্দিরে নিজের মনস্কামনা পূরণের প্রার্থনা জানাতে। তবে, অন্যান্য শিব মন্দিরের মতই শিবচর্তুদর্শী বা শিবরাত্রির দিন এই মন্দিরে ব্যাপক ভক্ত সমাগম হয়।এই স্থান দর্শন করলে একই সাথে শক্তি পীঠ এবং জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শনের পুন্য লাভ হয়।

 

ফিরে আসবো পরবর্তী জ্যোতির্লিঙ্গ এবং সেই

সংক্রান্ত পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – কেদারনাথ

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – কেদারনাথ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গর মধ্যে অন্যতম জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির হলো উত্তর ভারতের হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত কেদারনাথ ধাম।আজ লিখবো এই জ্যোতির্লিঙ্গটি নিয়ে।

 

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পান্ডবরা বহু স্বজন কে হত্যা কোরেছিলো সেই পাপ থেকে মুক্তি পেতে পান্ডবরা শিবের শরণাপন্ন হন কিন্তু শিব তাদের ক্ষমা করতে প্রস্তুত ছিলেন না তাই তিনি একটি ষাঁড় এর রূপ ধরে গা ঢাকা দেন।কিছুকাল অনুসন্ধান চালানোর পর পান্ডব রা তার স্বরূপ চিনতে পারেন ও ভীম বহু চেষ্টার পর ষাঁড়রুপি শিব কে ধরে ফেলেন তখন শিব বাধ্য হয়ে নিজ মূর্তিতে আবির্ভুত হন, এই আবির্ভাবের মুহূর্তে ষাঁড়রুপি শিবের শরীরের যে অংশ যেখানে অবস্থান করছিলো সেখানে একটি করে শিব মন্দির সৃষ্টি হয় শিব রুপী ষাঁড়ের পৃষ্ঠদেশ ছিলো কেদারনাথে। কেদারনাথ একটি জ্যোতির্লিঙ্গের স্বীকৃতি পায়।

 

স্কন্দ পুরান অনুসারে কেদারনাথ এর এই পবিত্র স্থানেই শিব তার জটা থেকে মুক্ত করে ছিলো গঙ্গাকে|দেবাদিদেব এখানে পূজিত হন কেদার হিসেবে|প্রাচীন কালে এই অঞ্চলের নাম ছিলো কেদারখন্ড|

 

স্বাভাবিক ভাবেই আদি কেদারনাথ মন্দির প্রকৃতপক্ষে কবে নির্মাণ হয়েছিলো তার কোনো নিদ্দিষ্ট নথি নেই|মন্দির প্রাঙ্গনে আছে বিশালাকার নন্দীর মূর্তি, অভ্যন্তরে কৃষ্ণ ও স্বস্ত্রীক পঞ্চ পাণ্ডবের মূর্তি খোদাই করা আছে|ত্রিকোণাকৃতি জ্যোতির্লিঙ্গ টি রয়েছে মুলমন্দিরের এক বিশেষ গর্ভগৃহে|মনে করা হয় এক হাজার বছর আগে আদি শংকরাচার্য মন্দিরটির সংস্কার করেন ও বদ্রিনাথের পূজারী কে এনে কেদারে পূজার প্রচলন করেন|তার আগে কেদারনাথ এ কোনো নিদ্দিষ্ট পূজারী ছিলো না, পরে পাঁচ জন পূজারী নিয়োগ করা হয়, যে পরম্পরা আজও চলছে|

 

চারপাশে তুষার ঢাকা পর্বত মাঝ খানে কেদারনাথ মন্দির এক অপূর্ব অনুভূতি জাগায় মনে|তবে এই অঞ্চলের তীব্র শীতের ও প্রতিকূল পরিবেশের জন্য মন্দিরটি কেবল এপ্রিল মাসের শেষ থেকে কার্তিক পূর্ণিমা অবধি দর্শনার্থী দের জন্য খোলা থাকে। শীতকালে কেদারনাথ মন্দিরের মূর্তিগুলিকে ছয় মাসের জন্য উখিমঠে নিয়ে গিয়ে পূজা করা হয়|পরে আবার নিদ্দিষ্ট সময়ে মূর্তিগুলি কেদারনাথ মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হয়|যুগ যুগ ধরে এই পরম্পরা চলে আসছে|কেদারনাথ মন্দিরের কাছেই আছে আদি শঙ্করাচার্য্যর সমাধি মন্দির।

 

আজ জ্যোতির্লিঙ্গ কেদারনাথ নিয়ে এটুকুই।

ফিরে আসবো পরের পর্বে। অন্য একটি জ্যোতির্লিঙ্গের কথা নিয়ে।

আসন্ন শিব রাত্রিতে জ্যোতিষ সংক্রান্ত

প্রতিকারের জন্য যোগাযোগ করুন।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – বৈদ্যনাথ ধাম 

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – বৈদ্যনাথ ধাম

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের পর্বে বৈদ্যনাথ ধাম নিয়ে আলোচনা করবো। এটি দ্বাদশ জ্যোৎরলিঙ্গের অন্যতম।

এই মন্দিরটি বর্তমানে ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের দেওঘর জেলায় অবস্থিত।

 

এই স্থান আবার একটি শক্তি পিঠও কারন শাস্ত্র অনুসারে এখানে সতীর হৃদয় বা হৃৎপিণ্ড পড়েছিল। বৈদ্যনাথ ধামে অধিষ্ঠিত দেবী জয় দুর্গা ও ভৈরব হলেন স্বয়ং শিব যিনি বৈদ্যনাথ রূপে এখানে বিরাজমান।তবে আজ শক্তি পিঠ নয় জ্যোতির্লিঙ্গ বৈদ্যনাথ নিয়ে লিখবো।

 

পুরানে আছে একবার রাবন শিবকে স্থায়ী ভাবে লঙ্কায় নিয়ে যেতে কঠোর তপস্যা করেন।নিজের অত্যান্ত প্রিয় ভক্তকে শিব আত্মলিঙ্গ অর্পণ করে লঙ্কার প্রতিষ্ঠা করতে বলেন তাকে।শর্ত ছিলো কৈলাস থেকে লঙ্কার পথে যাওয়ার সময় কোথাও যদি রাবণ শিবলিঙ্গ কে কোন জায়গায় রেখে দেন, তাহলে তিনি সেখানেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবেন। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে লঙ্কায় যাওয়ার পথে ক্লান্ত এবং তৃষ্ণার্থ রাবন এই স্থানে সেই দিব্য শিবলিঙ্গ কিছুক্ষনের জন্য নামিয়ে রাখেন আর সেখানেই শিবলিটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল। সেই শিব

লিঙ্গই বৈদ্য নাথ রূপে এখানে বিরাজ করছে।

 

এই শিব খেত্রে শিবকে বৈদ্যনাথ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যার অর্থ হল যিনি সর্বরোগহারি, রামায়ণেও এই বৈদ্যনাথ

মন্দিরের উল্লেখ পাওয়া যায়।শিব পুরাণে এই মন্দিরকে দুটি আত্মার মিলনস্থল বলেও বর্ণনা করা হয়েছে।কারন এটিই একমাত্র শক্তিপীঠ যেখানে বৈদ্যনাথে শিব এবং শক্তি একসাথে বিরাজমান।

 

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী মোঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি মানসিংহ এই বৈদ্যনাথ মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন এবং দেওঘর রাজ্যের রাজা দ্বিধাউর এই মন্দির নির্মাণের কাজে অনেকখানি সহযোগিতা করেছিলেন। পরবর্তী কালে এই মন্দির একাধিক বার সংস্কার করা হয় এমনকি ব্রিটিশ আমলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিও এই মন্দিরের রক্ষনাবেক্ষনের ভার নেয়।

 

জ্যোতির্লিঙ্গ হওয়ায় বৈদ্যনাথে বিরাট আকারে পালিত হয় মহা শিবরাত্রি।সারা দেশের শিব ভক্তদের অন্যতম প্রিয় এবং শ্রদ্ধার স্থান এই বৈদ্যনাথ ধাম এবং বাবা বৈদ্যনাথ তাদের সবার মনোস্কামনা পূরণ করেন বলেই বিশ্বাস।

 

আজকের জ্যোতির্লিঙ্গ পর্ব এখানেই শেষ করছি।

দেখা হবে পরের পর্বে থাকবে পরবর্তী জ্যোতির্লিঙ্গ নিয়ে লেখা । পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – কাশী বিশ্বনাথ মন্দির

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – কাশী বিশ্বনাথ মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শিব সংক্রান্ত আলোচনা কাশীকে বাদ দিয়ে সম্ভব নয়। আজ কাশীর কথা দিয়েই শুরু করছি।

কথিত আছে কাশী এই জগতের বাইরে। শিবের ত্রিশুলে অবস্থিত এই নগরী। মহা প্রলয়ে সব ধ্বংশ হয়ে গেলেও কাশী অক্ষত থাকবে।কাশীতে স্নান করে মহাদেব ব্রহ্ম হত্যার পাপ থেকে মুক্ত হয়েছিলেন তাই তাকে মুক্তেশ্বর মহাদেব ও বলা হয়।

 

“কাশী বিশ্বনাথ মন্দির ” দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম|বারাণসীর অপর নাম কাশী তাই এই মন্দির কে কাশী বিশ্বনাথ বলা হয়|শিব এখানে বিশ্বনাথ বা বিশ্বেস্বর রূপে প্রতিষ্ঠিত|

 

শিব মন্দির ও শিব লিঙ্গ এখানে কবে থেকে প্রতিষ্ঠিত তা সঠিক ভাবে বলা যায়না।

স্কন্দ পুরাণেও এই জ্যোতির্লিঙ্গের উল্লেখ আছে।কথিত আছে, সতীর দেহত্যাগের পর শিব মণিকর্ণিকা ঘাট দিয়ে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে এসেছিলেন|বিশ্বাস করা হয় শিব স্বয়ং এখানে বাস করতেন|এই মন্দির ও শিব লিঙ্গ নিয়ে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে অসংখ্য প্রচলিত কিংবদন্তী যা প্রতিটি শিব ভক্তের কাছে ধ্রুব সত্য|এই মন্দিরের ইতিহাসও বৈচিত্রময় ও বর্ণময়|বহু ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী কাশী বিশ্বনাথ মন্দির|

 

অতীতে বিশেষত মুসলিম শাসন কালে বহুবার ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে এই মন্দির এবং পুনরায় নতুন করে সৃষ্টিও হয়েছে|পুরাকাল থেকে এই মন্দিরের অস্তিত্ব থাকলেও একাদশ শতাব্দীতে হরি চন্দ্র মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করেছিলেন|তারপর পর্যায়ক্রমে মোহাম্মদ ঘোরী,কুতুবুদ্দিন আইবক, ফিরোজ শাহ তুঘলক ও ঔরংযেব মন্দির টি ধ্বংস করেন|প্রতিবারই অবশ্যই পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়ায় কাশী বিশ্বনাথ মন্দির|বর্তমান সময়ে যে মন্দিরটি রয়েছে তা ১৭৮০ সালে ইন্দোরের মহারানি অহিল্যা বাই হোলকর তৈরি করে দিয়েছিলেন|পরবর্তীকালে ১৮৩৫ সালে পাঞ্জাবের শিখ সম্রাট রঞ্জিত সিংহমন্দিরের চূড়াটি ১০০০ কিলোগ্রাম সোনা দিয়ে মুড়ে দেন|বর্তমান মন্দিরটির উচ্চতা 15.5 মিটার এবং চুড়োটি সোনায় মোড়ানো বলে অনেকে এই মন্দির কে স্বর্ন মন্দিরও বলেন|

 

প্রধান মন্দিরের মধ্যে একটি ৬০ সেন্টিমিটার উঁচু ও ৯০ সেন্টিমিটার পরিধির শিবলিঙ্গ রুপোর বেদির উপর স্থাপিত।মুল মন্দির প্রাঙ্গনে একটি প্রাচীন কূপ লখ্য করা যায়, কথিত আছে অতীতে একবার শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে মন্দিরের পুরোহিত শিব লিঙ্গ নিয়ে ওই কূপে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।

 

সনাতন ধর্মে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলির মধ্যে একদম প্রথম সারিতে রয়েছে বারাণসী বা কাশী আর এই প্রাচীন ধর্মীয় নগরীর ধর্মচর্চার প্রানকেন্দ্র হচ্ছে কাশী বিশ্বনাথ মন্দির যা জ্যোতির্লিঙ্গ গুলির মধ্যে অন্যতম।

 

ফিরে আসবো পরবর্তী জ্যোতির্লিঙ্গ নিয়ে আগামী পর্বে।যারা শিব রাত্রিতে শাস্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার চান নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করতে পারেন।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – ঘৃষ্ণেশ্বর শিব মন্দির 

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – ঘৃষ্ণেশ্বর শিব মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

তন্ত্রর কথা উঠলেই সাধারণত কালী বা দশ মহা বিদ্যার কথা ওঠে তবে শিব থেকেই তন্ত্রের সৃষ্টি।

যারা জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিশ্বাস করেন এবং তন্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার চান তাদের জন্য তাই শিব রাত্রি একটি গুরুত্বপূর্ণ তিথি। সেই তিথিকে সামনে রেখে শুরু করেছি দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ সংক্রান্ত আলোচনা।সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আজকের পর্বে আপনাদের বলবো জ্যোতির্লিঙ্গ ঘৃষ্ণেশ্বরের কথা।

 

পুরান মতে এই স্থানে ঘুশ্মা নামে এক শিব ভক্ত নারী বাস করতেন শিবের আশীর্বাদে তার এক পুত্র হয়েছিলো যে পুত্রকে পরবর্তীতে চক্রান্ত করে হত্যা করে ঘুশ্মার বোন সুহেদা|ঘুশ্মা বিচলিত না হয়ে শিব সাধনা শুরু করেন ও শিব সন্তুষ্ট হয়ে তার পুত্র কে জীবিত করে দেন|শিব আরেকটি বর দিতে চাইলে ঘুশ্মা তাঁর আরাধ্য দেবতা কে অনুরোধ করেন তিনি যেন চিরকালের জন্য সেই স্থানে বিরাজ করেন|শিব সেই অনুরোধ মেনে নেন|ঘুশ্মার নাম অনুসারে এই জ্যোতির্লিঙ্গের নাম হয় ঘুশ্মাস্বর বা ঘৃষ্ণেশ্বর।

 

ঘৃষ্ণেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ মহারাষ্ট্র রাজ্যের আওরঙ্গাবাদ থেকে ৩০ কিলোমিটার এবং দৌলতাবাদ বা দেবগিরি থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ইলোরা গুহার কাছে অবস্থিত|অতি প্রাচীন এই জ্যোতির্লিঙ্গের উল্লেখ পাওয়াযায় শিব পুরানে|

 

শিবভক্ত এক উপজাতি এক সময়ে এই স্থানে বাস করতো। সেই উপজাতিদের প্রধান ঘৃষ্ণেশ্বরের কৃপায় এখানে গুপ্তধনখুঁজে পেয়েছিলেন বলে জনশ্রুতি আছে। শোনা যায় সেই টাকায় তিনি অষ্টাদশ শতাব্দীতে নির্মিত প্রাচীন মন্দিরটির সংস্কার করান এবং একটি হ্রদ প্রতিষ্ঠা করেন|পরবর্তীতে অহল্যাবাই হোলকারও ঘৃষ্ণেশ্বরের মন্দির সংস্কার করিয়েছিলেন|

 

এই মন্দিরটি লাল পাথরের তৈরি। এতে পাঁচটি চূড়া দেখা যায়।মন্দিরের উপরে লাল পাথরে দশাবতারের মূর্তি দেখা যায়|চব্বিশটি সুদৃশ্য স্তম্ভ নিয়ে তৈরি হয়েছে দরবার কক্ষটি|মন্দির প্রাঙ্গনে নন্দিকেশ্বরের মূর্তিও আছে|শিবলিঙ্গ এখানে পূর্ব মুখী|প্রায় সারাবছর জনসমাগম হলেও শিব রাত্রি এখানে বিশেষ ভাবে পালিত হয় যা দেখতে দুর দূরান্ত থেকে শিব ভক্তরা আসেন।

 

আজ এখানেই শেষ করছি। ফিরে আসবো পরবর্তী জ্যোতির্লিঙ্গ সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – ত্রম্বকেশ্বর শিব মন্দির

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – ত্রম্বকেশ্বর শিব মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

মহারাষ্ট্রে অবস্থিত ত্রম্বকেশ্বর মন্দির যা দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্তর্গত।পুরান মতে একবার গণেশ মহাদেবের পুজো করেন সেই সময়ে শিবের গলায় থাকা বাসুকি নাগের মনে হয় যে গণেশ তারই পুজো করছেন। তার এই ঔদ্ধত্যের জন্য শিব রেগে গিয়ে তাকে অভিশাপ দেন যে নাগকূল তাদের সব ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে।তাই হয়|পরবর্তীতে ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা নাগেরা শিবের কাছে গিয়ে অভিশাপ ফিরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানায়। শিব তখন দয়াবসত তাদের মর্ত্যে গিয়ে তাঁর পুজো করতে বলেন|নাগকুল এই ত্রম্বকেশ্বর মন্দিরে শিব পূজা করে তাদের হারানো গৌরব ফিরে পায়।

 

বর্তমান মন্দির টি নির্মাণ করিয়েছিলেন পেশোয়া তৃতীয় বালাজি বাজি রাও,1755 থেকে 1786 দীর্ঘ একত্রিশ বছর লেগেছিলো এই মন্দির নির্মাণ সম্পুর্ন হতে।

 

ত্র্যম্বকেশ্বর মন্দিরের পিছনের পাহাড় ব্রহ্মগিরি থেকে উদ্ভূত হয়ে গোদাবরী গুপ্ত ভাবে পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে এসে ক্ষীণ আকারে বেরিয়ে আসছে জ্যোতির্লিঙ্গ ত্র্যম্বকেশ্বরের মধ্য থেকে। মন্দির থেকে কিছু দূরে কুশাবর্ত কুণ্ড ও গোমতী ঘাট। কুম্ভপর্বে যে তিনটি স্নান হয়, তার একটি রামতীর্থ রামঘাটে ও অপর দুটি হয় এই কুশাবর্ত তীর্থে।

 

প্রচলিত বিশ্বাস মতে এই মন্দিরে বিশেষ পুজোর মাধ্যমে কাল সর্প দোষ খণ্ডন হয়। আমি নিজেও এই স্থানে জ্যোতিষ সংক্রান্ত কাজের জন্য গেছি এবং পূজো পাঠ সম্পন্ন করেছি। ধন্য হয়েছি জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শন করে।

 

পরবর্তী জ্যোতির্লিঙ্গ নিয়ে আবার ফিরে আসবো যথা সময়ে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – ভীমাশঙ্কর শিব মন্দির

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – ভীমাশঙ্কর শিব মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

জ্যোতির্লিঙ্গ ভীমা শঙ্কর আমার আজকের পর্বে আলোচ্য বিষয়।এই জ্যোতির্লিঙ্গর স্থান নিয়ে কিছু বিতর্ক চলে আসছে বহু যুগ ধরে।

 

অনেকেই মনে করেন পুনেতে অবস্থিত ভীমা শংকর হচ্ছে প্রকৃত জ্যোতির্লিঙ্গ আবার কেউ কেউ বিশ্বাস করেন আসামে অবস্থিত এই ভীমেস্বরই হচ্ছেন ভীমাশংকর এবং এই স্বয়ংভু শিব লিঙ্গই প্রকৃত জ্যোতির্লিঙ্গ।

 

আজ আমি আসামের ভীমা শঙ্করের কথাই বলছি কারন জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে এই মন্দির অধিক জনপ্রিয় এবং স্বীকৃত।আসামের গুয়াহাটির কাছে দীপর হ্রদের ধারে ডাইনি পাহাড় বা ডাকিনি পাহাড় নামে এক বেশ রহস্যময় স্থানে ভীমশঙ্কর অবস্থিত|এখানে শিব মন্দির ও শিব লিঙ্গ প্রায় প্রাকৃতিক ভাবেই তৈরি যা আধ্যাত্মিক ভাবে দর্শনার্থীদের মোহিত করে|

 

এই শিব লিঙ্গ ও শিব মন্দির তৈরির পেছনে রয়েছে এক পৌরাণিক ঘটনা|শিব পুরান মতে কুম্ভ কর্ণ ও পাতাললোকের রাজকুমারী কর্কটির পুত্র ছিলেন ভীমাসুর যিনি ব্রম্ভার বর লাভ করে অজেও হয়ে উঠেছিলে|অহংকার ও ঔদ্ধত্যর বশবর্তী হয়ে তিনি কামরূপ রাজ প্ৰিয়ধর্ম কে হত্যা করতে যান|রাজা ছিলেন পরম শিব ভক্ত|তিনি শিবের কাছে প্রার্থনা করলে যথা সময়ে স্বয়ং শিব প্রকট হয়ে ভীমাসুর কে হত্যা করেন ও কাম রূপ রাজ কে রক্ষা করেন|পরবর্তীতে রাজা এবং অন্যান্য ঋষি মুনি দের অনুরোধ রাখতে শিব সেই স্থানে বিরাজমান হতে সম্মতি দেন|আজও তিনি ডাকিনি পাহাড়ে অবস্থিত ভীমশংকরে জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে স্বমহিমায় বিরাজমান|ভীমাসুরের নাম থেকেই ভীমেস্বর বা ভীম শংকর নামের সৃষ্টি|

 

এখানে শিব লিঙ্গের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে

এক প্রাকৃতিক জলধারা বা ঝর্না|দু ধারে সবুজ বনাঞ্চল ও জল ধারা দেখতে দেখতে পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে এই স্থানে পৌঁছানো এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে কিছু দূরেই রয়েছে একটি গণেশ মন্দির|সেখানেও ভক্তিভরে পূজা দেন দর্শনার্থীরা।

 

অন্যান্য জ্যোতির্লিঙ্গর ন্যায় এখানেও শিব রাত্রিতে বহু দর্শণার্থী আসেন। বিশেষ পূজো এবং উৎসবের আয়োজন করা হয়।

 

ফিরে আসবো পরবর্তী জ্যোতির্লিঙ্গর কথা এবং তার পৌরাণিক ব্যাখ্যা নিয়ে। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধম্যবাদ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – মহাকালেশ্বর শিব মন্দির 

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – মহাকালেশ্বর শিব মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আসন্ন শিব রাত্রি উপলক্ষে শুরু করেছি জ্যোতির্লিঙ্গ নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের প্রায় প্রতিটির সাথেই জড়িত আছে একাধিক পৌরাণিক ঘটনা এবং ইতিহাস আজকের পর্বে লিখবো জ্যোতির্লিঙ্গ মহাকালেশ্বরের কথা|

 

শিব এখানে সয়ম্ভু|এই শিব লিঙ্গ কে দক্ষিনা মূর্তিও বলা হয় কারন তাঁর অবস্থান দক্ষিণ মুখী|এই জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম বৈশিষ্ট হলো তান্ত্রিক নেত্র যা আর কোনো মূর্তিতে চোখে পরে না|ওঙ্কারেশ্বর এর ন্যায় এই শিব মন্দির ও পাঁচটি তল বিশিষ্ট যা মহাকাল মন্দির নামে খ্যাত।বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম এই মহাকালেশ্বর অবস্থিত। মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে, রূদ্র সাগর হ্রদের তীরে।

 

প্রথমে আসি পুরানের কথায় পুরাণ অনুসারে উজ্জয়িনী শহরটির নাম ছিল অবন্তিকা|অবন্তিকার রাজা ছিলেন শিব ভক্ত কিন্তু এই সৎ এবং শিব ভক্ত রাজার শত্রুও ছিলো অনেক |একবার ব্রহ্মার আশীর্বাদে দূষণ নামে এক দৈত্য অদৃশ্য হয়ে যাবার ক্ষমতা পেয়েছিল। প্রতিবেশী শত্রুরাজারা দূষণের সাহায্যে উজ্জয়িনীর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে এবং উজ্জ্বয়ীনি আক্রমণ করেন। যুদ্ধে তাদেরই জয় হয় এবং তারা সকল শিবভক্তের উপর অত্যাচার শুরু করে দেন।অসহায় ভক্তদের প্রার্থনা শুনে শিব মহাকালের রূপে উজ্জয়িনীতে আবির্ভূত হয়ে অসুর ও রাজার বাকি শত্রুদের পরাজিত করেন।ভক্ত দের অনুরোধে শিব উজ্জয়িনীতে বাস করতে রাজি হন|সেই থেকে তিনিই হন রাজ্যের প্রধান দেবতা এবং শিবভক্তদের রক্ষাকর্তা।

 

মহাদেবে’র মূর্তিটি মহাকাল মন্দিরের গর্ভগৃহের উপরে স্থাপিত|এছাড়াও মন্দিরের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে গনেশ, পার্বতী, কার্তিক ও নন্দীর মূর্তি|সুবিস্তৃত মন্দির প্রাঙ্গন ও সুউচ্ছ চূড়া মহাকাল মন্দিরের সৌন্দর্য বহু অংশে বৃদ্ধি করে|ভূগর্ভস্থ কক্ষটির পথটি পিতলের প্রদীপ দ্বারা আলোকিত হয়। মনে করা হয়, দেবতাকে এই কক্ষেই প্রসাদ দেওয়া হয়|এ এক ব্যতিক্রমী ও স্বতন্ত্র প্রথা।

 

সনাতন ধর্ম বিশ্বাস অনুসারে, এই মন্দিরের প্রধান উপাস্য দেবতা শিব অনন্তকাল ধরে উজ্জয়িনীর শাসক|তিনি পার্বতী সহ এখানে স্বমহিমায় বিরাজমান|এই চত্বরেই রয়েছে শক্তি পীঠ মহাকালী এবং স্বপ্নেশ্বর মহাদেবের মন্দির|

 

বৈদেশিক শত্রুর আক্রমনে এই মন্দির একবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।পরবর্তীতে শিব ভক্ত মারাঠা পেশোয়ারা আবার এই মন্দির পুনর্নির্মাণ করান।

স্থানীয় প্রশাসন এই মন্দিরের দায়িত্ব নেয়।

 

অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী প্রায় সারা বছরই আসেন মহাকাল মন্দিরে, তাদের মনোস্কামনা জানান ও প্রচলিত বিস্বাস বাবা মহাকালেশ্বর কাউকে খালি হাতে ফেরান না|প্রতি বছর শিব রাত্রিতে এখানে মেলা বসে ও সেই উপলক্ষে ব্যাপক জন

সমাগম হয়। আর কয়েকদিন পরেই শিব রাত্রি উপলক্ষে সেজে উঠবে মহাকাল মন্দির।

 

আবার আগামী পর্বে আলোচনা করবো অন্য একটি জ্যোতির্লিঙ্গ নিয়ে। এই ধারাবাহিক আলোচনা চলতে থাকবে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – ওঙ্কারেশ্বর শিব মন্দির 

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – ওঙ্কারেশ্বর শিব মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সামনেই শিবরাত্রি যুক্ত অমাবস্যা।শিব মাহাত্মা

শ্রবণ এবং কথনের শ্রেষ্ঠ সময়। সেই উপলক্ষে আজকের জ্যোতির্লিঙ্গ পর্ব নিয়ে আরো একবার আমি আপনাদের সামনে উপস্থিত।আজকের পর্বে জানাবো মধ্যপ্রদেশের ওঙ্কারেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গর কথা যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা পৌরাণিক

ঘটনা।

 

প্রথমে আসি পৌরাণিক দিকে হিন্দু শাস্ত্রমতে বিন্ধ্যাচল পর্বতমালার রক্ষক অসুর বিন্ধ্য নিজের পাপ স্খলনের জন্য মহাদেবকে প্রসন্ন করেছিলেন। তিনি বালি ও পলির মিশ্রণে একটি শিবলিঙ্গ তৈরি করেছিলেন এবং সাধনা করে ছিলেন।শিব তাঁর তপস্যায় প্রসন্ন হয়ে দুটি রূপে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। একটি রূপ হল ওঙ্কারেশ্বর, অপরটি অমরেশ্বর।

 

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর স্টেশন থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ওঙ্কারেশ্বর মন্দির।কথিত

আছে- শ্রীরামচন্দ্রের পূর্বপুরুষ ইক্ষাকু বংশের রাজা মান্ধাতা ও তাঁর দুই সন্তান অম্বরীশ

ও মুচুকুন্দ এখানেই ভগবান শিবকে সন্তুষ্ট করেছিলেন।

 

পাঁচতলা এই মন্দিরের গর্ভগৃহেই রয়েছে শিবলিঙ্গ। জাতিধর্ম নির্বিশেষে সবাই এখানকার শিবলিঙ্গ স্পর্শ করে পুজো দিতে পারেন। সারা বছর ধরেই পুণ্যার্থীরা এখানে পুজো দিতে আসেন।

 

নদীগর্ভের পলি ঘনীভূত হয়ে এখানে দেবনাগরী ‘ওঁ’ এর আকৃতি ধারণ করেছিল। সেই কারণে দ্বীপটির নাম রাখা হয় ওঙ্কারেশ্বর।ওঙ্কারেশ্বর দ্বীপটি প্রায় তিন বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত। মধ্যপ্রদেশের খাণ্ডোয়া জেলার এই মন্দির নর্মদা নদী ও তার উপনদী কাবেরীর তীরে মান্ধাতা দ্বীপ সংলগ্ন। এই দ্বীপ ওঙ্কারেশ্বর দ্বীপ নামেও পরিচিত।রাজা মান্ধাতার নামে এই দ্বীপটি মান্ধাতা দ্বিপ নামেও খ্যাত।

 

সেখানেই আত্মপ্রকাশ করেছিল ওঙ্কারেশ্বর ও অমরেশ্বর।এখানকার মন্দিরে শিবের পাশাপাশি একটি।পার্বতী ও একটি পঞ্চমুখী গণেশের মূর্তি রয়েছে।

 

এই ওঙ্কারেশ্বরের কাছে রয়েছে আদি শংকরাচার্যর গুহা। যেখানে গুরু গোবিন্দপাদের দর্শন পেয়েছিলেন আদি শংকরাচার্য। সেই গুহাটি রয়েছে ওঙ্কারেশ্বর মন্দিরের ঠিক নীচে। সেখানে আদি শংকরাচার্যের একটি মূর্তিও রয়েছে।

 

সারা বিশ্বের শিবভক্তদের কাছে ওঙ্কারেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। শ্রাবণ মাসে এবং শিব চতুর্দশীর সময়ে এখানে ভক্তদের বেশি সংখ্যায় ভক্তদের আগমন ঘটে।

 

শিব রাত্রিতে যারা শাস্ত্র মতে গ্রহদোষ খণ্ডন

করাতে চান এখনই যোগাযোগ করুন।

ফিরে আসবো জ্যোতির্লিঙ্গ সংক্রান্ত ধারাবাহিক আলোচনা নিয়ে আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।