Home Blog Page 24

কৃষ্ণ কথা – কৃষ্ণ ভক্ত মহাদেব 

কৃষ্ণ কথা – কৃষ্ণ ভক্ত মহাদেব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সবে শেষ হলো এবছরের মহা শিব রাত্রি আর কিছুদিন পরেই দোল পূর্ণিমা। শিব এবং কৃষ্ণের সম্পর্ক ভক্ত এবং ভগবানের সম্পর্ক। শিব পরম বৈষ্ণব এবং তিনি সদা তার আরাধ্য বিষ্ণু বা কৃষ্ণের ধ্যানে মগ্ন। আজ দেবাদিদেবের এমন এক লীলার কথা লিখবো যেখানে তার কৃষ্ণ প্রেম গভীর ভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

 

একবার ভক্ত মহাদেব তার আরাধ্য বিষ্ণুকে কৃষ্ণ রূপে দেখতে এবং তার সান্নিধ্য লাভ করতে ব্যাকুল হয়ে ওঠেন।তখন তিনি কৈলাশে গভীর ধ্যানে মগ্ন সেই অবস্তায় তিনি শ্রী কৃষ্ণের বাঁশির মধুর ধ্বনী শুনতে পেলেন।সেই অতীন্দ্রিয় শব্দ অনুসরণ করে তিনি বৃন্দাবনে পৌঁছান যেখানে ভগবান গোপীনাথ তাঁর গোপীদের সাথে মহা রাস-লীলা শুরু করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন।

 

মহা-রাসে যোগদানের তীব্র আকাঙ্ক্ষায় শিব নিধী বনের প্রবেশদ্বারের কাছে যান কিন্তু দ্বার রক্ষী যোগমায়া তাকে থামিয়ে দেন এবং বলেন – কৃষ্ণ ব্যতীত কোনও পুরুষের প্রবেশের অনুমতি নেই। প্রবেশ করতে চাইলে আপনাকে ব্রজের দাসী অর্থাৎ এক গোপীর রূপে থাকতে হবে।

 

এরপর শিব মানসরোবরের জলে ডুব দেন এবং সেখানে স্নান করার পর ভগবান শিব হ্রদ থেকে সুন্দরী গোপীনীর রূপে আবির্ভূত হন এবং সেই রূপে শ্রী কৃষ্ণের রাস স্থলে গিয়ে তার ভগবানের দর্শন লাভ করেন।

 

কিন্তু ভগবান অন্তর্যামী এবং তিনি শিবের এই ছদ্মবেশ ধরে ফেললেন এবং বললেন “হে গোপীশ্বর, তোমাকে গোপী রূপে দেখে আমি খুব খুশি হয়েছি। কিন্তু আপনি জানেন যে এই রস গৃহস্থদের জন্য নয়। অতএব, যেহেতু আপনি অংশগ্রহণ করেছেন এবং আপনার ইচ্ছা পূরণ করেছেন, তাই আমি আপনাকে রাস স্থানের দ্বার পাল নিযুক্ত করলাম এবং আপনি এই স্থানে সর্বদা গোপেশ্বর মহাদেব রূপে বিরাজ করবেন।

 

আজও শিব তার আরাধ্য হরির ইচ্ছেয় ওই স্থানে গোপেশ্বর রূপে বিরাজমান।ভগবানের সাথে মিলিত হতে শুদ্ধ ভক্তরা সব কিছু করতে পারেনা এমনকি স্বয়ং মহাদেবও ব্যাতিক্রম নন।কৃষ্ণ প্রেমে তার অনেক ভক্তই এমন কান্ড ঘটিয়েছেন এবং ভগবানের সাক্ষাৎ পেয়েছেন।

 

দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে আবার পরের পর্বে ধারাবাহিক কৃষ্ণ কথা নিয়ে ফিরে আসবো।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

সোমবতী অমাবস্যার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

সোমবতী অমাবস্যার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শিব রাত্রি তিথির মধ্যেই আজ রয়েছে সোমবতী অমাবস্যা। এই শিব রাত্রি যুক্ত অমাবস্যার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য জ্যোতিষ এবং তন্ত্র জগতে অপরিসীম। তা বুঝতে হলে শিবের সাথে তন্ত্রর সম্পর্ক বুঝতে হবে।

 

সাধারণত তন্ত্র শাস্ত্রর সঙ্গে দশমহাবিদ্যাকে যুক্ত করে দেখা হয়। তাই কৌশিকী বা দীপান্বিতা অমাবস্যা গুলির মতো অমাবস্যা তিথি গুলিকে জ্যোতিষ এবং তন্ত্র জগতে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। তবে শিবের সঙ্গে তন্ত্রের রয়েছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। তাই শিব রাত্রি এবং বিশেষ করে এই অমাবস্যা যুক্ত শিব রাত্রি তিথি তন্ত্র মতে প্রতিকারের আদর্শ তিথি।

 

তন্ত্র – ছোট্ট একটি শব্দ। কিন্তু গভীর তার অন্তর্নিহিত অর্থ। তন্ত্র হল এক বৃহৎ ও অতিপ্রাচীন গুপ্ত বা লুপ্তপ্রায় সাধন বিষয়। মুক্ত বিশ্বকোষে বলা আছে, তন্ত্র হিন্দুসমাজে প্রচলিত ঈশ্বর উপাসনার একটি পথবিশেষ। আসলে শিব ও মহাশক্তির উপাসনা সংক্রান্ত শাস্ত্রগুলিকেও তন্ত্র সাধনা নামে অভিহিত করা হয়।তন্ত্রশাস্ত্র অনুযায়ী, এই মহাবিশ্ব হল শিব ও মহাশক্তির দিব্যলীলা।যদিও তন্ত্র শব্দটির অর্থ ব্যাপক। তবে সংক্ষেপে তন্ত্র হচ্ছে “সৃষ্টির পরিচালনার নিয়ম”।

 

তন্ত্রে যেসব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও রীতি-নীতির বর্ণনা রয়েছে তার উদ্দেশ্যই হল মানুষকে অজ্ঞানতা ও পুনর্জন্মের হাত থেকে মুক্তি দেওয়া।আগেই বলেছি তন্ত্রের সঙ্গে মহাদেবের সম্পর্ক অতি গভীর।বলা ভালো মহাদেব থেকেই তন্ত্রের উৎপত্তি কারন শিবের ডমরু থেকে তন্ত্রের জন্ম হয়েছে ডমরু মহাদেবের অন্যতম প্ৰিয় বস্তু।

 

আবার সতী বা দেবী দুর্গার দশ হাতে আছেন দশ মহাবিদ্যা। এই দশমহাবিদ্যার উপর ভিত্তি করেই তন্তশাস্ত্রর ব্যাবহারিক দিকটি গড়ে উঠেছে।জ্যোতিষ শাস্ত্রে প্রতিটি গ্রহ দশ মহাবিদ্যার একেকটি বিদ্যার অধীনে আছে।

 

সংক্ষেপে তাই বলাই যায় মহাদেব ও আদ্যা

শক্তি মহামায়া এই দুই অনন্ত ও অসীম শক্তি তন্ত্রের আধার।তন্ত্র জ্ঞানচক্ষু উম্মোচন করে। সৃষ্টির কারন বুঝতে সাহায্য করে তন্ত্র। তন্ত্র সৃষ্টি, স্থিতি ও বিনাশের পরিচালনা শক্তি। ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর এই তিন শক্তির সমন্বয়ে সাধিত হয় তন্ত্র শক্তির অদৃশ্য বৃত্ত যা আমাদের জীবন ও সমগ্র সৃষ্টিকে পরিচালনা ও প্রভাবিত করে।

 

যারা তন্ত্র মতে এবং শাস্ত্রীয় পদ্ধতিতে জীবনের অন্ধকার দূর করতে চান তাদের জন্য আজ

মা হৃদয়েশ্বরি সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরে গ্রহ দোষ খন্ডন চলছে । যার সরাসরি সম্প্রচার আপনারা দেখতে পারেন এখানে।

 

সবাইকে জানাই শিব রাত্রি এবং সোমবতী অমাবস্যার শুভেচ্ছা।হর হর মহাদেব। ওম নমঃ শিবায়।ফিরে আসবো অন্য আধ্যাত্মিক এবং শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

শিবরাত্রির আধ্যাত্মিক তাৎপর্য 

শিবরাত্রির আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

নমস্কার আমি পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজকের এই বিশেষ পর্বে আপনাদের শিব

রাত্রির আধ্যাত্মিক তাৎপর্য জানাবো।

জানাবো এই দিনটির শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।

 

যদিও শিব ভক্তরা প্রায় সারা বছরই শিব পুজো করেন তবু শিব চতুর্দশী তিথির আলাদা মহাত্ম আছে। এই তিথি শিব পুজো করে শিব কৃপা লাভ করার শ্রেষ্ঠ তিথি। কিন্তু কেনো? দুটি কারন আছে এবং সেই দুটি কারন খুঁজতে হলে আমাদের পুরানের আশ্রয় নিতে হবে।

 

পুরান অনুসারে এই শিব রাত্রির তাৎপর্য সব থেকে বেশি কারন এটা আদি শিব লিঙ্গের আবির্ভাব তিথি ও একি সাথে শিব পার্বতীর বিবাহের দিন। স্বাভাবিক ভাবেই এই দিন উৎফুল্ল চিত্তে থাকেন শিব এবং পার্বতী দুজনেই এবং অল্প তেই তুষ্ট হন তারা। ভক্তের ডাকে এই দিন তাই সহজেই সাড়া দেন দেবাদিদেব এবং তার শক্তি পার্বতী।

 

শিব পূরাণ মতে এক সময় ভগবান বিষ্ণু এবং ব্রহ্মার মধ্যে নিজেদের শ্রেষ্টত্ত্ব প্রমানের জন্য ভিষণ বিবাদ দেখা দিয়েছিল। লড়াই প্রায় বাঁধে বাঁধে। সেই সময় হঠাৎ করেই আগুনে জ্বলতে থাকা একটা কালো স্তম্ভ দুই দেবাতার মাঝে আর্বিভাব হয়। এই স্তম্ভ হঠাৎ করে এল কীভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ব্রহ্মা ঠিক করেন স্তম্ভের উপরের দিকে গিয়ে দেখবেন কোথায় এর শেষ আর বিষ্ণু দেব যাবেন নিচের দিকে। দেখবেন এর সূচনা।

সেই জ্বলন্ত তেজময় স্তম্ভ ছিলো আদি শিব লিঙ্গ।

 

বলা বাহুল্য দুজনেই ব্যর্থ হন। কারন শিব অনাদি এবং সনাতন। তার না আছে আদি না আছে অনন্ত। আছে শুধু অফুরন্ত শক্তি এবং তেজ।

আদি শিব লিঙ্গের সেই সেই আবির্ভাব তিথিকেই

পালন করা হয় শিব রাত্রি রূপে।

 

কেনো এই শিব রাত্রিতে শিব লিঙ্গে জল ঢালা হয় তার ও নিদ্দিষ্ট কারন আছে, আসলে অগুনে জ্বলতে থাকা ওই কালো থামটি ছিল আদি শিব লিঙ্গ। যার মধ্যে উপস্থিত রয়েছে এ জগতের অনন্ত শক্তি। আর এত মাত্রায় শক্তি যেখানে মজুত রয়েছে তাকে ঠান্ডা রাখতে না পারলে যে বিপদ! আর ঠিক এই কারণেই শিব লিঙ্গের মাথায় জল ঢালার প্রথা শুরু হয়। যেখানে অনন্ত শক্তি বিরাজমান সেই শক্তির উৎস স্থান কে ঠান্ডা রাখা, শান্ত রাখাই মূল উদেশ্য।

 

আবার লৌকিক মতে এই দিন শিবরাত্রি ব্রত এবং শিবলিঙ্গের জলাভিষেক করলে মনোস্কামনা পূর্ণ হয়। বিশেষ করে বিবাহের বাধা দুর হয়ে মনের মতো জীবন সঙ্গী লাভ হয়।সবাই আজ যথাসাধ্য শাস্ত্র মতে শিব রাত্রি পালন করুন।

 

আপনাদের সবাইকে শিব রাত্রির শুভেচ্ছা জানিয়ে শেষ করছি আজকের এই বিশেষ পর্ব|সবাই ভালো থাকুন। ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন ধন্যবাদ।

শিব কথা – শিব এবং মা গঙ্গা

শিব কথা – শিব এবং মা গঙ্গা

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শিব রাত্রি উপলক্ষে এই বিশেষ পর্বে আজ শিবের জটায় বিরাজমান মা গঙ্গাকে নিয়ে লিখবো

পুরাণ মতে সূর্য বংশের রাজা ভগীরথ তার পূর্বপুরুষদের কপিল মুনির অভিশাপ থেকে পরিত্রাণের জন্য মা গঙ্গাকে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে আনার সিদ্ধান্ত নেন এবং এর জন্য কঠোর তপসা করেন । ভগীরথের তপস্যায় খুশি হয়ে মা গঙ্গা পৃথিবীতে আসতে রাজি হন এই ঘটনা একাধিক শাস্ত্রে উল্লেখিত হয়েছে।

তবে মা গঙ্গার মর্তে আগমন এতো সহজ ছিলোনা। দেবী গঙ্গা ভগীরথকে বললেন যে পৃথিবী
তার এই প্রবল গতি সহ্য করতে পারবেনা এবং পাতালে চলে যাবে।ভগীরথ ব্রহ্মাজীর কাছে গিয়ে তার সমস্যার কথা বলেন।ব্রহ্মাজী ভগীরথকে শিবকে খুশি করতে বললেন।কারন একমাত্র শিবই পারেন এই সমস্যার সমাধান করতে।

এর পর নিজ লক্ষ্যে অবিচল ভগীরথ কঠোর তপস্যা করে শিবকে খুশি করেন এবং সন্তুষ্ট হয়ে শিব তাকে বর দিতে চাইলে তিনি তার সমস্যার কথা বলেন। গঙ্গার বেগে পৃথিবীকে বাঁচাতে ভগবান শিব তখন তার জটায় গঙ্গাকে ধারন করেন। কিন্তু আবার এক সমস্যা দেখা দেয় শিবের জটায় সম্পূর্ণ ভাবে আবদ্ধ হয়ে পরেন গঙ্গা
এদিকে তার মর্তে আগমন না হলে ভগীরথের পূর্ব পুরুষরা উদ্ধার পাবেন না তাই তার অনুরোধ
শিব তার জটার কিছুটা অংশ খুলে দেন এবং এইভাবে মা গঙ্গা দেবলোক থেকে শিবেরজটা হয়ে
পৃথিবীতে আসেন।ভগীরথের পূর্বপুরুষরা মা গঙ্গার স্পর্শে মোক্ষলাভ করেন।শিবের জটায় গঙ্গা বিরাজমান তাই শিবের আরেক নাম গঙ্গাধর।

পবিত্র এই শ্রাবন মাসে তামার ঘটিতে গঙ্গা জল নিন তাতে কাঁচা দুধ মেশান এবং এই মিশ্রণ দিয়ে শিব লিঙ্গের অভিষেক করুন। এতে আপনার পরিবারের অশান্তি ও অভাব অভিযোগ দূর হবে এবং মহাদেবের অসীম কৃপা লাভ করবেন।

জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে শিব রাত্রিতে গ্রহ দোষ খণ্ডন করালে দ্রুত এবং নিশ্চিত ভালো ফল পাওয়া যায়।তাই যাদের প্রয়োজন আছে তারা যোগাযোগ করতে পারেন। শিব কথা নিয়ে আবার ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব কথা – শিবের অর্ধনারীশ্বর রূপ

শিব কথা – শিবের অর্ধনারীশ্বর রূপ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শিবের এমনই এক তাৎপর্য পূর্ণ রূপ তার অর্ধনারীশ্বর রূপ।শিব মাহাত্ম নিয়ে আলোচনা অসম্পূর্ণ থেকে যায় এই রূপের কথা না বললে।তাই আজকের পর্বে এই রূপ নিয়ে লিখবো।

 

পুরান মতে শিবের বাহন ভৃঙ্গীর একবার ইচ্ছে হয়েছিল তার আরাধ্য শিবকে প্রদক্ষীণ করার। কিন্তু তাতে বাধ সাধলেন পার্বতী। তিনি তাঁর স্বামীর পাশে বসে থাকায় শিবকে প্রদক্ষীণ করতে পারলেন না ভৃঙ্গী কারন তিনি শুধু শিবকে প্রদক্ষিণ করবেন|উপায় না দেখে ভৃঙ্গী মাছির রূপ নিয়ে শিবকে প্রদক্ষীণ করার চেষ্টা করলেন। তখন পার্বতী তাঁর এবং শিবের মধ্যে সব ব্যবধান ঘুচিয়ে মিলে গেলেন মহেশ্বরের শরীরের সঙ্গে।সৃষ্টি হলো অর্ধনারীশ্বর রূপ। ভৃঙ্গী বুঝলেন শিব এবং পার্বতী একই। তারা ভিন্ন নয়। শিব এবং শক্তি আলাদা নয়।

 

অর্ধনারীশ্বর রূপ সম্পর্কে আরো একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা আছে।একবার শিবের জটায় গঙ্গাকে অবস্থান করতে দেখে ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন পার্বতী। তাঁকে শান্ত করার জন্যে পার্বতীর শরীরের সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে দেন মহেশ্বর। একাংশে বর্তমান থাকে শিবের উপস্থিতি, অন্য অংশে বিরাজ করেন নারী শক্তি পার্বতী।শিব বুঝিয়ে দেন শিব ও পার্বতী এক এবং অভিন্ন।

তারা আলাদা নন|

 

বৈদিক একটি ব্যাখ্যাও আছে এই বিষয়ে|সৃষ্টির সূচনা লগ্নে ব্রহ্মার খেয়াল হয় যে জগত তো সৃষ্টি হয়েছে কিন্তু প্রান চাই, আরো সৃষ্টি চাই। সেই ক্ষনে তার সামনে ভেসে উঠলো মহেশ্বরের আকার, যাঁর এক অংশ পুরুষের এবং বাকি অর্ধেক অংশ নারীর। এই দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ব্রহ্মা নিজেকে দু’ভাগে বিভক্ত করে ফেললে তার ডান দিকের অংশ থেকে জন্ম নিল পুরুষ লিঙ্গের সব প্রাণী এবং বাঁ দিক থেকে জন্ম নিল সব প্রাণীর নারী লিঙ্গ।অর্থাৎ সৃষ্টিকর্মে ব্রম্ভাকে পথ দেখিয়েছিলো অর্ধ নারীশ্বর রূপ|

 

শাস্ত্রে অর্ধনারীশ্বর রূপ নর এবং নারী শক্তির মিলিত রূপ যেখানে মহেশ্বর ত্রিনেত্র এবং চতুর্ভুজ রূপে বিরাজমান তার হস্তে রয়েছে

পাশ, রক্ত কমল, নরকপাল এবং শুল।অনন্ত

শক্তি এবং তেজের প্রতীক এই মূর্তি।

 

আসন্ন শিব রাত্রি উপলক্ষে ফিরে আসবো দেবাদিদেবের অন্য রূপ এবং তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা এবং সেই সম্পর্কিত পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে।সময় আর বেশি নেই হাতে যারা শিব রাত্রিতে গ্রহের প্রতিকার চান তারা এখনই যোগাযোগ করুন।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব এবং চন্দ্র

শিব এবং চন্দ্র

পন্ডিতজী ভৃগুশ্রী জাতক

দেবাদিদেবের মস্তকে অর্ধচন্দ্র শোভা পায়
এর ব্যাখ্যা বিভিন্ন পুরাণে বিভিন্ন রকম।
আজকের পর্বে আসুন জেনে নেওয়া যাক শিব এবং চন্দ্রের সম্পর্ক এবং তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।

একটি ব্যাখ্যা অনুসারে সমুদ্র মন্থনের সময় অমৃতের সঙ্গে বিষ উঠে এসেছিল যা মহাদেব নিজের কণ্ঠে ধারণ করেছিলেন। সেই তীব্র বিষ ধারণ করার ফলে মহাদেবের শরীরের তাপমাত্রা ভীষণভাবে বেড়ে যায়।সেই তাপ হ্রাস করতেই শিব মাথায় চন্দ্রকে ধারণ করেছিলেন।জ্যোতিষ মতে চন্দ্র শীতল এবং জলতত্ত্ব দিয়ে গঠিত তাই শিব শীতলতা লাভ করেছিলেন চন্দ্রের স্পর্শে।

ব্রহ্মাপুত্র প্রজাপতি দক্ষ তার ২৭ জন কন্যা অর্থাৎ ২৭ টি নক্ষত্রের সঙ্গে চন্দ্রদেবের বিবাহ দিয়েছিলেন। সেই নক্ষত্রদের মধ্যে চন্দ্রদেবের প্রিয় ছিলেন রোহিণী। বাকি কন্যারা একবার রোহিনীর বিরুদ্ধে দক্ষর কাছে দুর্ব্যবহার এর অভিযোগ করেন তাতে রেগে গিয়ে দক্ষ চন্দ্রদেবকে অভিশাপ দেন যে ধীরে ধীরে চন্দ্রের ঔজ্জ্বল্য কমে যাবে। ক্রমশঃ তাই হতে থাকে শেষে চন্দ্রদেবের মাত্র একফালি অংশই উজ্বল ছিল সেই সময়ে দেবতাদের অনুরোধে চন্দ্রকে নিজের জটায় স্থান দেন পাশাপাশি তিনি সঙ্গে চন্দ্রদেবকে বর প্রদান করেন যে ১৫ দিন চন্দ্রের উজ্বলতা হ্রাস পাবে। তবে পরবর্তী ১৫ দিনে তা আবার ফিরে আসবে। পৌরাণিক মতে, এই কারণেই প্রত্যেক মাসে চাঁদের আলোর হ্রাস-বৃদ্ধি হয়।

আবার শিব পুরাণে অনুসারে সতীর দেহ ত্যাগের পর ক্ষুব্ধ মহাদেবের ক্রোধ শান্ত করতে বিষ্ণু নিজের সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ ৫১টি অংশে খণ্ডিত করে দেয়ার পর শিবের ক্রোধ কিছুটা কমলেও রুদ্রতেজ পুরোপুরি শান্ত হয়নি হয়নি। সেই তেজ কমানোর উপায় খুঁজতে দেবতারা ব্রহ্মার স্মরণে যায়। ব্রহ্মা তাঁদের একটাই উপান বলেছিলেন, তা হল অমৃতের কলস এবং ষোলকলাময় চন্দ্র।অমৃত পান করে শান্ত হলেন মহাদেব কিন্তু কলসে থাকা চন্দ্র তার হাতের আঘাতে দ্বিখণ্ডিত হলো।অমৃত পান করে প্রসন্ন এবং শান্ত হয়ে চন্দ্রকে পুনরায় ষোলকলা ফিরে পাওয়ার বর দিলেন শিব এবং নিজের মাথায় ধারণ করলেন।তারপর থেকেই মহাদেবের মাথায় শোভা পায় অর্ধচন্দ্র।

শিব রাত্রি উপলক্ষে চলতে থাকবে শিব নিয়ে আলোচনা।আগামী পর্বে আবার কোনো নতুন বিষয় নিয়ে আসবো আপনাদে সামনে|মনে রাখবেন শিব রাত্রি এবং সোমবতি অমাবস্যা
গ্রহ দোষ খন্ডনের আদর্শ তিথি।
পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব কথা – শিব এবং নন্দী – ভৃঙ্গী

শিব কথা – শিব এবং নন্দী – ভৃঙ্গী

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শিবের পাশে সর্বদা থাকেন তার একান্ত প্রিয় দুই অনুচর নন্দী এবং ভৃঙ্গী। অনেক শিবমন্দিরের সামনে নন্দীর মূর্তিও থাকে আজ এই দুই শিবের এই দুই সঙ্গী সম্পর্কে জানাবো।

নন্দী ও ভৃঙ্গী কে নিয়ে শাস্ত্রে অনেক কথাই বলা আছে কূর্ম পুরাণে নন্দী প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, মহাদেবের এই প্রধান অনুচরটি করালদর্শন, বামন, বিকটাকার, মুণ্ডিতমস্তক, ক্ষুদ্রবাহু ও মহাবল।পূর্বে নন্দী মহারাজ পৃথক দেবতা হিসেবেও পূজিত হতেন পরবর্তীতে তিনি শিবের বাহন হিসেবে স্থান পান।

শিব মহাপুরাণ মতে, নন্দী শিলাদ মুনির পুত্র। শিলাদ ছিলেন ভগবান শিবের পরম ভক্ত এবং শিবের আশীর্বাদেই নন্দীর জন্ম হয়েছিলো এবং শিব স্বয়ং তাকে চিরঞ্জীবী হওয়ার বর দেন ও নিজের বাহন হিসেবে স্থান দেন|রামায়ণেও নন্দীর উল্লেখ পাওয়া যায় যেখানে অহংকারী রাবন কৈলাশ এসে নন্দীকে তার চেহারার জন্যে অপমান করেন ও বানর বলেন, নন্দী তাকে অভিশাপ দিয়েছিলো যে এক বানর তার পতন ডেকে আনবেন, পরে তাই হয়েছিলো|বজরংবলী রাবনের পতনের অন্যতম কারন।

নন্দীর ন্যায় ভৃঙ্গীও শিবের অনুচর। নন্দী যেমন হৃষ্টপুষ্ট, ভৃঙ্গী তেমনই রুগ্ন , কঙ্কালসার। ভৃঙ্গী আগে ছিলেন এক মুনি, শিবের উপাসক। তিনি শিবের সাথে পুজোয় কিছুতেই রাজি নন। ক্রুদ্ধ পার্বতী অভিশাপ ভৃঙ্গী কে অভিশাপ দিলেন। সেই অভিশাপে ভৃঙ্গী কঙ্কালে পরিণত হলেন। দু’পায়ে আর দাঁড়াতে পারেন না তিনি, তখন শিবের আশীর্বাদে তাঁর তৃতীয় চরণের সৃষ্টি হল। কিন্তু তবু ভৃঙ্গী পার্বতীর পুজো করবেন না। তখন শিব তাঁকে নিজের অর্ধনারীশ্বর রূপ দেখালেন, যাতে তিনি বুঝতে পারেন যে পার্বতী শিবেরই অংশ। পরবর্তীতে তিনিও হয়ে উঠলেন শিবের অনুচর, একত্রে উচ্চারি হতে শুরু হয় নন্দী ও ভৃঙ্গীর নাম|

শিবের সাথে নন্দী ভৃঙ্গীর সম্পর্ক এতটাই গভীর যে নন্দী ভৃঙ্গী ছাড়া শিবকে কল্পনা করা যায়না।যেখানে শিব সেখানেই তার এই দুই অনুচর স্বমহিমায় বিরাজমান।

আসন্ন শিব রাত্রি উপলক্ষে শিব সংক্রান্ত পৌরাণিক এবং ধারাবাহিক আলোচনা চলতে থাকবে।শিব রাত্রিতে যারা জ্যোতিষ মতে প্রতিকার গ্রহন করতে চান তারা যোগাযোগ করতে পারেন। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব কথা – পঞ্চানন শিব

শিব কথা – পঞ্চানন শিব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

একাধিক শাস্ত্রে শিবের একাধিক রূপ এবং অবতারের উল্লেখ আছে। তার মধ্যে একটি শিবের পঞ্চানন রূপ।শিবের পঞ্চানন রূপকে দুই ভাবে দেখা যায় বা ব্যাখ্যা করা যায়।প্রথমত পঞ্চানন রূপের অন্তর্নিহত অর্থ বা শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা যে ব্যাখ্যা অনুসারে।দ্বিতীয়ত একজন লৌকিক দেবতা হিসেবে তার ব্যাখ্যা।

 

পাঁচ সংখ্যাটির সঙ্গে শিবের এক রহস্যময় ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে।শিবের পবিত্র সংখ্যা হল পাঁচ। পরম বৈষ্ণব শিবের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রগুলির একটি নমঃ শিবায় এক পঞ্চাক্ষরি মন্ত্র।আবার শিবের শরীর পাঁচটি মন্ত্র দ্বারা গঠিত। এগুলিকে বলা হয় পঞ্চব্রহ্মণ।

 

পঞ্চানন রূপে শিবের পাঁচটি সত্তা বা রূপ প্রকাশিত হয়। এই পাঁচটি রূপ হলো

 

১- সদ্যোজাত

২- বামদেব

৩-অঘোর

৪- তৎপুরুষ

৫- ঈশান

 

বিভিন্ন শাস্ত্র অনুসারে আবার এই পাঁচটি রূপ পঞ্চভূত, পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয় ও পঞ্চ কর্মেন্দ্রিয়ের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

 

দেবাদিদেবের পঞ্চানন রূপের আরো একটি ব্যাখ্যা হয় যেখানে পঞ্চানন শিবের এক লৌকিক রূপ। গ্রাম বাংলায় বহু জায়গায় পঞ্চানন শিবের মন্দির আছে। স্থানীয় ভাষায় তিনি “বাবাঠাকুর” নামে পরিচিত। আবার কারও কারও মতে তিনি “পাঁচু ঠাকুর”যিনি শিবের ই একটি বিশেষ রূপ।

 

গ্রাম বাংলায় লৌকিক দেবতা রূপে পূজিত পঞ্চানন ঠাকুরের সঙ্গে থাকেন তাঁর দুই অনুচর। ধনুষ্টংকার এবং জরাসুর নামক দুই অপদেবতা। এছাড়া থাকে ভূত-প্রেত, ঘোড়া ইত্যাদি পশু। যা

আবার অনেকের মতে তিনি শিবের পুত্র বা অবতার অনেকটা দক্ষযজ্ঞকালে জন্ম নেওয়া বীরভদ্রের মত।

 

বাংলার অন্যতম প্রাচীন তথা জনপ্রিয় লৌকিক দেবতা “ধর্মঠাকুর” আসলে শিবের পঞ্চানন রূপ বলেই অনেকে মনে করেন।

 

দেবাদিদেব নানা রূপে পূজিত হন তবে তার পুজোকরে তার কৃপা লাভ করার শ্রেষ্ট তিথি আগামী ১৫ ই ফেব্রুয়ারী অর্থাৎ শিবরাত্রি এবং তার সাথেই থাকছে সোমবতি অমাবস্যা।

জ্যোতিষ শাস্ত্রমতে গ্রহের প্রতিকারের জন্যও এই তিথি অন্যতম শ্রেষ্ঠ।যারা এই পবিত্র সময়ে গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে চান তারা যোগাযোগ করতে পারেন।

 

ফিরে আসবো পরের পর্বে। থাকবে শিব সংক্রান্ত আরো অনেক আলোচনা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব এবং ত্রিশূল

শিব এবং ত্রিশূল

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শিবের প্রিয় অস্ত্র ত্রিশূল শুধু অস্ত্র নয় শুভ শক্তির প্রতীক দেবাদিদেব মহাদেবেকে নিয়ে আলোচনা অসম্পূর্ণ থেকে যায় যদি তার চির সঙ্গী ত্রিশূলের কথা না বলা হয়। সংহার কর্তা মহাদেবের প্রধান অস্ত্র।তার ত্রিশূল। আবার এই ত্রিশূলই তিনি তুলে দেন দেবী দুর্গার হাতে মহিষাসুর বধের সময়ে।

পুরান অনুসারে শিব হলেন স্বয়ম্ভু তার আদি অন্ত কিছুই নেই। তার সৃষ্টি নেই তার বিনাশ ও নেই।নিজের চেতনায় নিজ ইচ্ছায় সৃৃষ্ট হন এবং যাকিছু অশুভ বা সৃষ্টির জন্যে বিপদজনক তা সংহার করার দায়িত্বে থাকেন তিনি। কিন্তু সংহার কর্তার এই সংহার লীলার জন্যে প্রয়োজন অস্ত্র।
এই অস্ত্র নির্মাণের ভার স্বাভাবিক ভাবেই গিয়ে পরে দেব শিল্পী বিশ্বকর্মার উপর|

বিষ্ণুপুরান অনুসারে সূর্যের তেজ ও রশ্মির ব্যবহার করে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা ত্রিশূল নির্মাণ করেন এবং তা শিবকে প্রদান করেন|এতে শিব ও তার অস্ত্র পান এবং সূর্যের তেজ কিছুটা কমে তাতে বিশ্বকর্মার কন্যা এবং সূর্যর পত্নী সংজ্ঞা স্বামীর অতিরিক্ত তেজ থেকে কিছুটা স্বস্তি পান|এখানে ত্রিশুল একসাথে দুটি সমস্যার সমাধান করে।

মহিষাসুর বধের জন্য বিভিন্ন দেবতা যখন দেবীকে বিভিন্ন অস্ত্রদান করেন তখন ভগবান শিব তাকে এই ত্রিশূলটি দান করেছিলেন,দেবী মহিষাসুরকে ত্রিশূল দিয়েই বধ করেন|আবার ত্রিশূল দিয়ে শিব দ্বারা গণেশের মুন্ড ছেদের ঘটনারও উল্লেখ আছে শাস্ত্রে|

ত্রিশূলের তিনটি ফলার আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা এবং তাৎপর্য রয়েছে|মনে করা হয় তিনটি ফলা যথাক্রমে সৃষ্টি-স্থিতি-বিনাশ কে চিহ্নিত করে আবার অন্য একটি বাখ্যা অনুসারে তিনটি ফলার অর্থ যথাক্রমে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত যা শিব তথা মহাকালের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে|শিবের ত্রিশূলে সব সময় বাঁধা থাকে ডমরু। এই ডমরু বেদ এবং তার উপদেশের প্রতীক যা আমাদের জীবনে এগিয়ে চলার রাস্তা দেখায়|শুধু হিন্দু নয় বৌদ্ধ ধর্মেও ত্রিশূল একটি পবিত্র প্রতীক হিসেবে সমাদৃত|

এবার আসি বৈদিক জ্যোতিষ এবং বাস্তু শাস্ত্রের দিকে। বাস্তু শাস্ত্রে অশুভ শক্তিকে দূরে রাখতে ত্রিশূল ব্যাবহার হয়|বাস্তু শাস্ত্র মতে গৃহের প্রধান ফটকে ত্রিশূল চিহ্ন বা ত্রিশূল রাখলে গৃহে অশুভ শক্তি প্রবেশ করেনা ও গৃহে সুখ ও সমৃদ্ধি বিরাজ করে|জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে শ্রাবন মাসে শিবকে ত্রিশূল অর্পণ করলে শিব সন্তুষ্ট হন এবং মনোস্কামনা পূর্ণ করেন।কবচ আকারে পবিত্র ত্রিশুল ধারন করলেও ভালো ফল পাওয়া যায় বলে অনেকে বিশ্বাস করেন।

শিব রাত্রি উপলক্ষে চলতে থাকবে শিব নিয়ে আলোচনা।আগামী পর্বে আবার শিব সংক্রান্ত কোনো নতুন বিষয় নিয়ে ফিরে আসবো আপনাদের জন্য।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

শিব কথা – শিব এবং বাসুকি নাগ

শিব কথা – শিব এবং বাসুকি নাগ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আসন্ন শিব রাত্রি উপলক্ষে আজ থেকে শুরু করছি দেবাদিদেব মহাদেবকে নিয়ে বিশেষ পর্ব শিব কথা।আজ শুরু করবো শিব এবং বাসুকি নাগের সম্পর্ক দিয়ে।

 

সনাতন ধর্মে নাগ আধ্যাত্মিক শক্তি এবং কুন্ডলিনী শক্তির প্রতীক। শিব স্বয়ং মহাকাল স্বরূপ তিনি সকল অতিন্দ্রিয় শক্তিকে নিজ কণ্ঠে ধারণ করেন।

শিবের গলার সাপ কোনো সাধারণ সর্প নয় তিনি নাগ রাজ বাসুকি।স্বয়ং নাগ রাজ শিবের অলংকার স্বরূপ।

 

তবে কিভাবে এই প্রবল পরাক্রমী বাসুকি কিভাবে শিবের মাথায় স্থান পেলো তাই নিয়ে ভবিষ্য পুরানে বলা হচ্ছে যে নাগেরাই প্রথম শিব পূজা শুরু করে এবং নাগ রাজা হিসেবে বাসুকি শিবের তপস্যা করেন ও শিব কে তুষ্ট করে বরদান পান যে তিনি শিবের কণ্ঠে স্থান পাবেন ও সারা জীবন শিবের সবথেকে কাছে থেকে তার স্তুতি করবেন |

 

শিব ও বাসুকি কে নিয়ে আরো একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় | মনে করা হয় শিব ও পার্বতীর বিবাহের সময় যখন শিবের অঙ্গ সজ্জার প্রয়োজন হয় তখন বাসুকি তার কণ্ঠে জড়িয়ে যান | শিব এতে এতটাই খুশি হন যে সদা সর্বদা তিনি বাসুকি কে ওই স্থানে ধারণ করে থাকেন |

 

আরেকটি কাহিনী অনুসারে সমুদ্র মন্থন করে অমৃত সন্ধানের সময়ে বাসুকি রজ্জু হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে ছিলেন ও তার পরবর্তীতে শিব যখন হলা হল পান করেন তখনো বাসুকি শিব কে সাহায্য করেন | বাসুকীর এই ভক্তি দেখে শিব সন্তুষ্ট হন ও বাসুকি কে তার জটায় আশ্রয় দেন |

 

স্বয়ং নাগ রাজ যার অঙ্গের অলংকার তাঁর কৃপা পেলে যে জীবন ধন্য হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। তাই শাস্ত্রীয় মতে শিব পুজো করুন, শিবকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করুন তিনি অল্পেই সন্তুষ্ট হন এবং তিনি সন্তুষ্ট হলে আর কোনো দুক্ষ কষ্ট থাকেনা। শিব রাত্রিতে সম্ভব হলে গ্রহের প্রতিকার করান।ফিরে আসবো শিব কথার পরবর্তী পর্বে। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।