শাস্ত্র মতে কালকে যিনি হরণ করেন তিনি কালী। কালের কবলে পড়ে বিনাশ হয়নি এমন বস্তু এই জগতে নেই। তাই কালের সঙ্গে কালীর সম্পর্ক চিরন্তন চিরসত্য এবং চির মাধুর্যময়। এই কালকে শাসন ও নিয়ন্ত্রণ করেন দেবী কালী আর দেবী কালী যে রূপে কর্ম ফল হরন করে সাধককে বা ভক্ত কে মুক্তি ও শান্তি প্রদান করেন তা ফলহারিণী রূপ|যদিও আক্ষরিক অর্থে গাছের ফলের সাথে ফল হারিণী অমাবস্যার সম্পর্ক নেই তবে যেহেতু জ্যৈষ্ঠমাসে আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল ইত্যাদি নানারকম ফলের মরসুমি ফল পাওয়া যায় এবং সাধক তাঁর ইষ্টদেবীকে বিভিন্ন ফল দিয়ে প্রসাদ নিবেদন করে থাকেন।কৌশিকী অমাবস্যার পাশাপাশি তারাপীঠে এদিন বিভিন্ন ফল দিয়ে দেবীর পুজো করা হয়। ফল এখানে প্রতীক। সাধকের কর্ম-রূপ ফল। দেবীর চরণে এদিন ভক্ত তাঁর জীবনের সব কর্মফল নিবেদন করেন।বিভিন্ন ফল দিয়ে মালা গেথে দেবীকে পড়ানো হয় এই তিথিতে|বহুকাল থেকে চলে আসছে এই প্রথা|বামা ক্ষেপার সময়েও ধূম ধাম করে ফল হারিণী কালী পুজো অনুষ্ঠিত হতো তারাপীঠ মন্দিরে|শোনা যায় সে সময় মহামারী, অনাবৃষ্টি বা বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেতে মানুষ এই তিথিতে কালী পুজো করতো।কথিত আছে দশ মহাবিদ্যার অন্যতম দেবী তারা এবং এই মাতৃরূপা মহাশক্তি প্রসন্না হলে জীবের দুঃখ ও দুর্দশা থেকে মুক্তি মেলে। সেই সঙ্গে শারীরিক, মানসিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শক্তি লাভ হয়।তাই ফল হারিণী কালী পুজোয় তারাপীঠে ভিড় করেন অসংখ্য ভক্ত ও মাতৃ সাধক|এবছর আমি নিজেও তারাপীঠে উপস্থিত থাকবো ফলহারিণী অমাবস্যা তিথিতে|চলতে থাকবে কালী কথা আগামী পর্ব গুলিতে ফল হারিণী অমাবস্যা নিয়ে আরো অনেক কথা বলবো সঙ্গে আরো কিছু কালী মন্দির ও সেখানকার ফল হারিণী কালী পুজো নিয়ে বলবো|পড়তে থাকুন|আগামী ফলহারিণী অমাবস্যা তারাপিঠে যারা দোষ খণ্ডন করাতে চান যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
কালীকথা – ফল হারিণী অমাবস্যা ও দক্ষিনেশ্বর
সামনের 29 তারিখ ফলহারিণী অমাবস্যা|আজ থেকে শুরু করছি কালী কথা নামে এই বিশেষ অধ্যায়|কালী কথায় থাকবে ফলহারিণী অমাবস্যা নিয়ে আলোচনা ও তার সাথে বাংলার কিছু প্ৰখ্যাত কালী মন্দিরের কথাও বলবো যেখানে নিষ্ঠা সহকারে পালিত হয় ফলহারিণী কালী পুজো|জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে একটি রাশিচক্রে দু’রকমের গ্রহ থাকে। নৈসর্গিক শুভ গ্রহ ও অশুভ গ্রহ। শুভগ্রহ জাতকের জীবনে শুভ ফল দিয়ে থাকে। ঠিক একই রকম অশুভ গ্রহ অশুভ ফল প্রদান করে থাকে, বিশেষ করে অশুভ গ্রহের দশাকালে জাতককে নানা ভাবে নাস্তানাবুদ হতে হয়। কোনও গ্রহই শুভ বা অশুভ নয়। গ্রহের রাশিচক্রে অবস্থান, মাঙ্গলিক অবস্থান ও ভাবগত ভাবে অবস্থানের ওপর গ্রহের শুভাশুভত্ব নির্ভর করে।আবার কিছু গ্রহগত সংযোগ বা অশুভ যোগ যাদের দোষ বলা হয়ে থাকে তারাও জীবনকে দুর্বিসহ করে তোলে, যেমন কালসর্প দোষ, মাঙ্গলিক দোষ, গ্রহণ দোষ, বিষ যোগ, দারিদ্র যোগ,ইত্যাদি|গ্রহের এই অশুভ ফল দেয়ার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে দায়ী কর্মফল|এই কর্ম ফল পূর্ব জন্মের ও হতে পারে আবার কোনো পূর্ব পুরুষের ও হতে পারে|দেবী কালী তার ফল হারিণী রূপে অবির্ভুতা হয়ে মানুষ কে তার কর্মফল থেকে মুক্তি দেন|অর্থাৎ গ্রহ দোষ খণ্ডনের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ তিথি ফলহারিণী অমাবস্যাতিথি|ফল হারিণী কালী পুজো নিয়ে বলতে গেলে সবার আগে দক্ষিনেশ্বর মন্দির নিয়ে বলতে হয় কারন ঠাকুর রামকৃষ্ণ এই দিনেই স্ত্রী সারদা দেবীকে পুজো করেছিলেন জগৎ কল্যাণের জন্য। ১২৮০ বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ইংরেজির ১৮৭৩ সালে জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিতে দক্ষিণেশ্বরে আদ্যাশক্তি মহামায়ার পুজো করেছিলেন ঠাকুর রামকৃষ্ণ|ফলহারিণী কালী পুজোর দিন শ্রীমা সারদাকে ষোড়শীরূপে পুজো করেছিলেন তিনি যিনি দশ মহাবিদ্যার অন্যতম রূপ|আজও রামকৃষ্ণমঠ ও আশ্রমে এই পুজো ‘ষোড়শী’ পুজোনামে পরিচিত।আজও মহা ধূমধামে দক্ষিনেশ্বরে ফল হারিণী কালী পুজো অনুষ্ঠিত হয়|চলতে থাকবে কালী কথা আগামী পর্ব গুলিতে ফল হারিণী অমাবস্যা নিয়ে আরো অনেক কথা বলবো সঙ্গে আরো কিছু কালী মন্দির ও সেখানকার ফল হারিণী কালী পুজো নিয়ে বলবো|আগামী ফলহারিণী অমাবস্যা তারাপিঠে যারা দোষ খণ্ডন করাতে চান যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – সুদর্শন চক্র
আমাদের সনাতন ধর্মের দেবদেবীদের প্রত্যেকের যেমন নিজস্ব বাহন রয়েছে, সৃষ্টি কার্যে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে, তেমনই তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব অস্ত্র রয়েছে, যেমন শিবের ত্রিশূল, ইন্দ্রের বজ্র, পরশুরামের কুঠার, হনুমানের গদা, এই অস্ত্র গুলিরও নিজস্ব ইতিহাস ও পৌরাণিক ব্যাখ্যা আছে, আধ্যাত্মিক তাৎপর্য আছে, নাম ও আছে|আজ ভগবান বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র|নিয়ে আলোচনা করবো|হিন্দু বর্ষপঞ্জি অনুসারে, প্রতি বছর কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্দশীতে বৈকুণ্ঠ চতুর্দশী পালিত হয়, পুরান অনুসারে এই দিনে ভগবান শিব ভগবান বিষ্ণুকে সুদর্শন চক্র দিয়েছিলেন|সুদর্শন চক্র দানের প্রধান উদ্দেশ্য পালনকর্তা যেনো দৃঢ় হাতে সিস্টের পালন ও দুষ্টের দমন করতে পারেন|সু শব্দের অর্থ মঙ্গল এবং দর্শন মানে দেখা দেয়া অর্থাৎ সুদর্শন হলো মঙ্গলময় দর্শন এবং চক্র মানে যা নিজে থেকে ধাবিত হতে পারে|সুদর্শন চক্রের সাথে জড়িয়ে আছে বিষ্ণুর আরেক অবতার পরশুরামের নাম , ত্রেতাযুগে সীতার স্বয়ংবর সভায় যখন রাম হরধনু ভঙ্গ করে ফেলেন তখন রুষ্ট হয়ে তাঁকে শাস্তি দিতে মহেন্দ্র পর্বত থেকে সেখানে উপস্থিত হন পরশুরাম।কিন্তু বিষ্ণুর আর এক অবতার রামের আসল প্রকৃতি জানতে পেরে তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করেন তিনি। সেই সময় রাম তাঁকে সুদর্শন চক্রটি গচ্ছিত রাখতে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন যে দ্বাপর যুগে তিনি যখন আবার জন্ম নেবেন, তখন যেন পরশুরাম সেটি ফিরিয়ে দেন। দ্বাপর যুদে শ্রীকৃষ্ণের রূপ ধরে বিষ্ণু ধরাধামে অবতীর্ণ হলে ধর্ম রক্ষা করার জন্য তাঁকে সুদর্শন চক্রটি ফিরিয়ে দেন পরশুরাম। সুদর্শনচক্র তৈরি করেছিলেন স্বয়ং বিশ্বকর্মা, বৈষ্ণবরা বিশ্বাস করেন সুদর্শন চক্র ও বিষ্ণু এক এবং অভিন্ন|ভয়ংকর অসুররের কাছ থেকে সৃষ্টি কে রক্ষা করা হোক বা ক্রোধে উন্মত্ত মহাদেব কে শান্ত করতে সতীর দেহকে খণ্ডিত করা হোক সুদর্শন চক্র থাকে মুখ্য ভূমিকায়|প্রকৃত অর্থে সুদর্শন চক্র শুভ শক্তির প্রতীক যা অশুভ শক্তিকে বার বার পরাজিত করেছে|আগামী পর্বে আবার নতুন কোনো পৌরাণিক বিষয় নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – শ্রী কৃষ্ণের মৃত্যু রহস্য
আমাদের সনাতন ধর্মে অসংখ্য দেবদেবী থাকলেও ভগবান একজনই, তিনি স্বয়ং কৃষ্ণ|শৈশবে কালিয়া নাগ,পুতনা সহ একাধিক অসুর বধ এবং পরবর্তীতে মহাভারতের যুদ্ধে তার ভূমিকা আমরা কম বেশি সবাই জানি|কিন্তু মহাভারতের যুদ্ধের পর কৃষ্ণ কোথায় গেলেন?কিভাবে মৃত্যু বরণ করলেন তিনি? এমনকি মৃত্যুর পরেও তার শরীরের একটি অংশ নাকি জীবিত আছে! আজও তা অক্ষয় রয়েছে! কি তা?আজকের পুরান কথায় জানাবো শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যু সংক্রান্ত সব রহস্যময় তথ্য|যাদব বংশ শেষ হয়ে যাওয়ার শোকে একটা গাছের তলায় বসেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। সেই সময় তাঁর রক্তবর্ণ চরণ দেখে হরিণ মনে করে তীর ছোঁড়েন সেই মত্স্যজীবী। এই তীর তৈরিহয়েছিল একটি বিশেষ লোহার টুকরো থেকে। পায়ে এই তীর গেঁথে মৃত্যু হয় শ্রীকৃষ্ণের|এবার এর আগের ঘটনা জানলে বোঝা যাবে কিভাবে শেষ হলো যাদব বংশ এবং এই বিশেষ তীর বা এলো কোথাথেকে|মহাভারতের যুদ্ধের পর নিজের রাজ্য দ্বারকায় ফিরে যান কৃষ্ণ। স্ত্রী রুক্মীনি ও পুত্র সাম্বকে নিয়ে ৩৫ বছর সুখে বাস করেন।একদিন সপ্তঋষি কৃষ্ণ ও বলরামের সঙ্গে দেখা করতে দ্বারকা আসেন। তাঁদের নিয়ে একটু মজা করতে চান কৃষ্ণ-পুত্র সাম্ব ও তাঁর বন্ধুরা। মহিলার মত সাজপোশাক করে এবং পেটে লোহার টুকরো বেঁধে গর্ভবতী মহিলা সেজে সপ্তঋষির সামনে আসেন সাম্ব। ঋষিরা পুরো বিষয়টা ধরে ফেলেন|সপ্তঋষি অভিশাপ দেন যে সাম্বর শরীরে যা বাঁধা আছে, তাই এই যাদব বংশের ধ্বংসের কারণ হবে। ঠিক পরের দিন পেটে প্রচণ্ড ব্যাথায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন সাম্ব। কৃষ্ণ ও বলরাম তাঁকে দেখতে এলে সপ্তঋষির অভিশাপের কথা শোনের। সাম্বর পাশে রাখে লোহার টুকরোটাও দেখেন তাঁরা। ওই লোহার টুকরো গুঁড়ো করে প্রভাস নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। অনেকটা গুঁড়ো হলেও একট টুকরো লোহা থেকে যায়। তা নদীর জলে ভাসিয়ে দিলে সেই লোহার টুকরো একটা মাছ গিলে ফেলে। ওই মাছ আবার ধরা পড়ে স্থানীয় এক মত্স্যজীবীর জালে। মাছ কেটে পেটের মধ্যে লোহার টুকরো দেখে তা দিয়ে তীর বানান ওই মত্স্যজীবী|এবং ঘটনা চক্রে ওই তীরের আঘাতেই প্রান যায় কৃষ্ণর|সত্যি হয় সপ্তর্ষির অভিশাপ|এবার আসি কৃষ্ণের মৃত্যুর পরের রহস্যে|কৃষ্ণের অন্তেষ্টি ক্রিয়া সাঙ্গ করেন পাণ্ডবরা। কিন্তু চিতা নিভে গেলেও দেখা যায় তাঁর হৃদপিণ্ডটি অক্ষত আছে । তখন সেটিকে নদীর জলে ভাসিয়ে দ্বারকার সব মহিলা ও শিশুদের নিয়ে হস্তিনাপুর ফিরে যান পাণ্ডবরা। সমুদ্রের জল এসে ভাসিয়ে নিয়ে দ্বারকাকে। সমুদ্রের নিচে ডুবে যায় দ্বারকা।কিন্তু কৃষ্ণের হৃদপিণ্ড সাগরের জলে জীবিত অবস্থায় নিমজ্জিত হয়|এরপর কেটে যায় বহু কাল, একদিন নদীর জলে স্নান করতে করতে কৃষ্ণের দিব্য হৃদয় উদ্ধার করেন পুরীর মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্ন। সেই হৃদয় হাতে নিতেই স্বয়ং বিষ্ণু তাঁর কানে ফিসফিস করে বসেন যে এই হৃদয় তাঁরই। এই পৃথিবীতে এটি বরাবর থাকবে। দ্রুত জগন্নাথ মন্দিরে এসে জগন্নাথ দেবের মুর্তির মধ্যেই তা স্থাপন করেন ইন্দ্রদ্যুম্ন।বিষ্ণুর আদেশে এমন ভাবে তা করা হয়, যাতে তা কেউ দেখতে না পায়|মনে করা হয় আজও সেই দিব্য বস্তু, স্বজত্নে এবং গোপনে সংরক্ষিত আছে প্রভু জগন্নাথের মূর্তির মধ্যে|এই তথ্য বা তত্ত্ব বহু কাল থেকেই কিংবদন্তী রূপে প্রচলিত রয়েছে ভারতের আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে| যদিও কিঞ্চিৎ মতপার্থক্য বা ভিন্ন মত ও রয়েছে|শাস্ত্রীয় ভাবে প্রমাণিত নয়, তবুও অনেকের কাছেই এই তত্ত্ব গ্রহন যোগ্য এবং সমর্থনযোগ্য|তবে ব্যাক্তিগত ভাবে আমি মনে করি, ভগবানের লীলা বোঝা তো ওতো সহজ নয়, আমরা শুধু অনুমান করতে পারি|আর কিছু রহস্য আজীবন রহস্যই থাকবে|কিছু প্রশ্নের উত্তর না খোঁজাই ভালো|শ্রদ্ধা আর ভক্তি টাই শেষ কথা|চলবে পুরান কথা|আরো অনেক রহস্যময় পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আগামী দিনে আপনাদের সামনে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – পরশুরামের কুঠার
পুরান কথায় আজ পরশুরাম ও তার কুঠারের কথা বলবো|হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী শান্তি আনতে ধরিত্রিকে ২১ বার ক্ষত্রিয়শূন্য করেছিলেন বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরাম মাতৃ হত্যার জন্যও তিনি আলোচিত|তার কর্ম কাণ্ডের সাথে জড়িত তার বিখ্যাত কুঠার|জমদগ্নির ঔরসে রেণুকার গর্ভে পাঁচ পুত্রের মধ্যে পরশুরাম ছিলেন কনিষ্ঠ।জমদগ্নি একবার নিজ স্ত্রীর উপর ক্ষুব্ধ হয়ে পুত্রকে মাতৃ হত্যার আদেশ দিলেন|পরশুরাম পিতৃ আজ্ঞা পালন করেন ও কুঠার দিয়ে মাতৃহত্যা করলেন এই পাপে তার কুঠার তার হাতে সংযুক্ত হয়ে যায়|পরবর্তীতেপুত্রের কাজে জমদগ্নি খুশি হয়ে তাকে বর প্রার্থনা করতে বলেন এবং অন্য সন্তানদের অভিশাপ দেন। পরশুরাম মায়ের পুনর্জন্ম, মাতৃহত্যাজনিত পাপ ও মাতৃহত্যা স্মৃতি বিস্মৃত হওয়া, ভাইদের জড়ত্বমুক্তি, নিজের দীর্ঘায়ু ও অজেয়ত্বের বর প্রার্থনা করেন। জমদগ্নি তাঁকে সবগুলো বরই প্রদান করেন এবংব্রহ্মকুণ্ডে স্নান করার পর হাত থেকে কুঠার বিচ্ছিন্ন হয়েছিল পরশুরামের|ক্ষত্রিয়দের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে একুশবার পৃথিবী নিঃক্ষত্রিয় করেছিলেন। ক্ষত্রিয়দের রক্ত দিয়ে সমস্তপঞ্চক প্রদেশের পাঁচটি হ্রদ পূর্ণ করেন তিনি।তার সব কর্মকান্ড সম্পাদিত হয়েছিলো তার অস্ত্র কুঠারের মাধ্যমে|পরশুরাম ও তার কুঠার যেনো বীরত্বের প্রতিশব্দ|সনাতন ধর্ম শাস্ত্র গুলিতে অন্যতম আলোচিত ও শক্তিশালী অস্ত্র পরশুরামের কুঠার|আগামী পর্বে নতুন কোনো পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো|পড়তে থাকুন পুরান কথা|ভালো থাকুন|নমস্কার|
শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা
নেপালের লুম্বিনী তে শুদ্ধধোন ও মায়াদেবীর সন্তান হিসেবে জন্মে ছিলেন সিদ্ধার্থ |যৌবনে রাজকুমারী যশোধরা দেবীর সাথে বিবাহ হয় সিদ্ধার্থর এক পুত্র ও হয়, নাম রাহুল |কিন্তু তিনি তো সংসার করতে আসেননি তিনি বুদ্ধ, তিনি আবির্ভুত হয়েছিলেন মানুষ কে সংসারের যাবতীয় দুক্ষ, কষ্ট ও মায়া থেকে মুক্তি দিয়ে মহানির্বানের পথ দেখাতে |একবার রাজকুমার সিদ্ধার্থ প্রাসাদ থেকে ভ্রমণে বেরোলে, প্রথমে দেখলেন একজন বৃদ্ধ মানুষ তারপর একজন অসুস্থ মানুষ শেষে একজন মৃত মানুষ ও এই সবের পর এক সন্ন্যাসীকে দেখতে পান। এই দিন জীবনের এক চরম সত্য উপলব্ধি করলেন সিদ্ধার্থ, ভোগের রাস্তা ত্যাগ করে বেড়িয়ে পড়লেন ত্যাগের পথে, মুক্তির পথে এবং কঠোর সাধনার পর অবশেষে সিদ্ধি লাভ অর্থাৎ তার বুদ্ধ হয়ে ওঠা এবং বিশ্ববাসীকে মুক্তির পথ দেখানো যে পথে আজ হাটছে কোটি কোটি মানুষ |আজ দিনটি অতি পবিত্র, আজ বুদ্ধ পূর্ণিমা, ভগবান বুদ্ধ এই বিশেষ দিনটিতে জন্ম গ্রহন করেছিলেন সেই থেকে প্রতি বছর বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয় “বুদ্ধ পূর্ণিমা ” আজ এই উৎসব শুধু বৌদ্ধ দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই সারা বিশ্বের শান্তি প্ৰিয় ও আধ্যাত্মিক চেতনা সম্পন্ন মানুষের কাছে একটি বিশেষ দিন |আজ গোটা পৃথিবী যে রক্তাক্ত ও হিংস্র সময়ের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে আরো দিন দিন আরো বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন ভগবান বুদ্ধ ও জীবন দর্শন, কিন্তু কি সেই মহান জীবন দর্শন আর কি বা ভগবান বুদ্ধের স্বরূপ? এসব জানার ও অনুভব করার জন্য আজকের দিনটি শ্রেষ্ঠ দিন|বৈষ্ণব মতে বুদ্ধ আবার ভগবানের নবম অবতার মনে করা হয় বেদ অমান্য কারীদের ভিন্ন পথ প্রদর্শন করতে ও প্রানী হত্যা বন্ধ করতে তিনি আবির্ভূত হয়ে ছিলেন |যদিও এই মতবাদ নিয়ে কিছু ভিন্ন মতও আছে |সে বিতর্ক আজ থাক|শুধু জন্ম নয় আজকের এই বিশেষ তিথিতে সাধনায় সিদ্ধি লাভ করে ছিলেন গৌতম বুদ্ধ,আজও সারা পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ বিশেষ ভাবে পালন করে এই দিনটা |বৌদ্ধ মঠ গুলিতে সন্ন্যাসীরা প্রদীপ জ্বালিয়ে সমবেত ভাবে বিশেষ প্রার্থনা করেন |এই বিশেষ তিথি বৈশাখী পূর্ণিমা নামেও পরিচিত|বুদ্ধং স্মরণং গচ্ছামি “এই মন্ত্র আজ আর শুধু একটি ধর্ম বা সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, আজ এই শ্লোক বিশ্ব বাসির মুক্তির স্লোগানে পরিণত হয়েছে, এবং তা হয়েছে বুদ্ধের ত্যাগ ও আধ্যাত্মিক চেতনা কে সামনে রেখে|আমার সব পাঠক ও অনুরাগীদের জানাই বুদ্ধ পূর্ণিমার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – মা মনসা
আজ পুরান কথায় জানবো মা মনসার আবির্ভাব ও তার পুজোর প্রচলন নিয়ে পৌরাণিক ব্যাখ্যা|দেবী মনসা একদিকে যেমন লৌকিক দেবী অন্যদিকে পুরানে এমনকি মহাভারতেও তার উল্লেখ রয়েছে|সনাতন ধর্মে মা মনসা হিন্দুধর্মের লৌকিক সর্পদেবী। মধ্যযুগের লোককাহিনী বিষয়ক মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র। সর্পদেবী হিসেবে মনসার প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় হিন্দু ধর্মগ্রন্থ অথর্ববেদে। পুরাণে তাঁকে ঋষি কাশ্যপ ও নাগ-জননী কদ্রুর কন্যা বলা হয়েছে। খ্রিস্টীয় ১৪শ শতাব্দী নাগাদ মনসা প্রজনন ও বিবাহের দেবী হিসেবে চিহ্নিত হন এবং শিবের আত্মীয় হিসেবে শৈব দেবমণ্ডলীর অন্তর্ভুক্ত হন। কিংবদন্তি অনুযায়ী, শিব বিষপান করলে মনসা তাঁকে রক্ষা করেন সেই থেকে তিনি বিষহরি নামে পরিচিতা হন।মনসার জন্মকাহিনি প্রথম উল্লিখিত হয়েছে পুরাণ গ্রন্থেই মঙ্গলকাব্যে তাঁকে শিবের কন্যা বলা হলেও, অন্য একটি পুরাণ অনুসারে তিনি ঋষি কশ্যপের কন্যা।পুরা কালে সর্প ও সরীসৃপগণ পৃথিবীতে কলহ শুরু করলে কশ্যপ তাঁর মন থেকে মনসার জন্ম দেন। ব্রহ্মা তাঁকে সর্প ও সরীসৃপদের দেবী করে দেন। মনসা মন্ত্রবলে বিশ্বের উপর নিজ কর্তৃত্ব স্থাপন করেন। এরপর মনসা শিবের সঙ্গে সন্ধিস্থাপন করেন। শিব তাঁকে কৃষ্ণ-আরাধনার উপদেশ দেন। মনসা কৃষ্ণের আরাধনা করলে কৃষ্ণ তুষ্ট হয়ে তাঁকে সিদ্ধি প্রদান করেন এবং প্রথামতে তাঁর পূজা করে মর্ত্যলোকে তাঁর দেবীত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।মহাভারতে মনসার বিবাহের উল্লেখ রয়েছে। ঋষি জগৎকারু এক প্রচণ্ড তপস্যায় রত ছিলেন। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে বিবাহ করবেন না। একদা তিনি দেখতে পান যে একদল লোককে গাছে উলটো করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এঁরা ছিলেন তাঁরই পূর্বপুরুষ। তাঁদের সন্তানেরা তাঁদের শ্রাদ্ধাদি সম্পূর্ণ না করায় তাঁদের এই দুঃখজনক অবস্থা হয়েছিল। তাঁরা জগৎকারুকে বিবাহ করার উপদেশ দিয়ে বলেন যে তাঁর পুত্রই শ্রাদ্ধাদি সম্পূর্ণ করে তাঁদের দুঃখ থেকে মুক্তি দিতে পারবে। বাসুকী জগৎকারুর সঙ্গে নিজ ভগিনী মনসার বিবাহ দেন। আস্তিক নামে তাঁদের একটি পুত্রসন্তান হয়। আস্তিক তাঁর পূর্বপুরুষদের মুক্তি দেন। রাজা জনমেজয় সর্পজাতির বিনাশার্থে সর্পনিধন যজ্ঞ শুরু করলে আস্তিকই নাগদের রক্ষা করেন।মনসাবিজয় কাব্য থেকে জানা যায়, বাসুকীর মা একটি ছোটো মেয়ের মূর্তি নির্মাণ করেছিলেন। শিবের শিবের ক্রিপায় এই মূর্তি থেকেই মনসার জন্ম হয় এবং পরবর্তীতে বাসুকী তাঁকে নিজ ভগিনীরূপে গ্রহণ করেন। বাসুকী তার কাছে গচ্ছিত বিষের ভান্ডার মনসাকে দেন যা পরবর্তীতে মনসার শক্তির উৎস হয়ে ওঠে|অর্থাৎ মনসার উৎপত্তি মূলত পুরানে বর্ণিত এবং তার জনপ্রিয়তা ও পুজোর প্রচার তাকে বাংলার লৌকিক দেবী হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে|প্রনাম জানাই মা মনসা কে|আবার যথা সময়ে ফিরে আসবো পুরান কথার কোনো নতুন পর্ব নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – গ্রহরাজ শনিদেবের ক্রোধ
আমাদের পুরান ও জ্যোতিষ শাস্ত্রে গ্রহ রাজ শনিকে একটি ভয়ানক গ্রহ বা রাগী দেবতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে|শনিদেব বদরাগী, তিনি নিষ্ঠুর! কিন্তু কেনো?কি তার রাগের কারন? সত্যি কি তিনি এতটা ভয়ের? এতটা হানিকারক!এই সব প্রশ্নের উত্তর রয়েছে আমাদের শাস্ত্রে|বিভিন্ন হিন্দু পুরাণে শনির কাহিনি সম্পর্কে ভিন্ন মতবাদ রয়েছে।হাজার বদনাম সত্ত্বেও মৎস্য পুরাণ কিন্তু শনিদেবকে লোকহিতকর গ্রহের তালিকাতেই ফেলেছে। মৎস্য পুরাণে বলা হচ্ছে, দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার মেয়ে সঞ্জনার সঙ্গে বিয়ে হয় সূর্যদেবের। কিন্তু সূর্যের প্রচণ্ড তাপে প্রায় ঝলসে যান সঞ্জনা। তখন তাঁর নতুন নাম হয় সন্ধ্যা। নিজের এমন দূরবস্থায় স্বামীর প্রতি সমস্ত ভালোবাসা হারিয়ে ফেলেন তিনি। সূর্যের থেকে দূরে পালাতে চান তিনি। কিন্তু কী ভাবে? তখন সন্ধ্যা নিজেরই একটি প্রতিকৃতি সৃষ্টি করেন| তাঁর নাম দেন ছায়া। ছায়াকে স্বামীর দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে সন্ধ্যা পিতার ঘরে ফিরে যান। এ ভাবে যে তাঁর স্ত্রী বদল হয়ে গেল তা খেয়ালই করেন না সূর্যদেব।এই সূরদেব ও ছায়ার সন্তান হিসেবে জন্ম নেন শনি। মেয়ে তাঁর কাছে, এদিকে সূর্যের সন্তান-জন্মের খবর পেয়ে বিশ্বকর্মা ধন্দে পড়ে যান। সন্ধ্যার কাছে ছুটে গিয়ে সব জানতে চান। সব শুনে বিশ্বকর্মা সন্ধ্যাকে সেই মুহূর্তেই পতিগৃহে ফিরে যেতে নির্দেশ দেন। ক্ষুব্ধ সন্ধ্যা ফিরে গিয়ে ছায়াকে নিঃশেষ করে নিজে ফের সূর্যের স্ত্রীর ভূমিকা পালন করতে থাকেন। এ ঘটনাও সূর্যের নজর এড়িয়ে যায়|শনির জীবনের দুক্ষ দুর্দশার সূত্রপাত এখান থেকেই, এর পর শনির প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণ করতে শুরু করেন সন্ধ্যা। শনিকে সূর্যের থেকে দূরে সরাতে অনবরত স্বামীর কান ভাঙাতে থাকেন সন্ধ্যা। এভাবে মায়ের স্নেহ এবং বাবার ভালোবাসা না পেয়ে ক্রুদ্ধ, বিরক্ত, অলস হয়ে উঠতে থাকেন শনি। কোনও কিছুই তাঁর ভালো লাগে না।কিছুকাল পরে, সূর্যের ঔরসে সন্ধ্যার গর্ভে একটি ছেলে ও একটি মেয়ের জন্ম হয়। ছেলের নাম রাখা হয় যম ও মেয়ের নাম যমুনা। ক্রমে ছেলে-মেয়েরা বড় হলে তাঁদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন সূর্য। যমকে দেওয়া হয় ধর্মরাজের দায়িত্ব। পৃথিবীর বুকে ধর্মরক্ষার দায়িত্ব তাঁর। যমুনা পবিত্র নদীর রূপ নিয়ে সব পাপ-তাপ ধুয়ে দেওয়ার দায়িত্ব পান।ওদিকে সন্ধ্যার ক্রমাগত কান ভাঙানোর ফলে বড় ছেলে হওয়া সত্ত্বেও শনিকে কোনও দায়িত্বই দেন না সূর্য। এ ভাবে বঞ্চিত, অসহায় শনি ভাই-বোনের থেকে দূরে সরে গিয়ে আরও ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন। একদিন শোক ও রাগে পাগল হয়ে সন্ধ্যাকে লাথি মারেন তিনি। সেই রাগে শনিকে খোঁড়া হয়ে যাওয়ার অভিশাপ দেন সন্ধ্যা। মা-কে লাথি মারার জন্য শনির ওপর সূর্য ক্রুদ্ধ হলেও বেশি অবাক হন সন্ধ্যার ভূমিকায়। একজন মা কী করে তাঁর সন্তানকে এমন অভিশাপ দিতে পারেন! সন্ধ্যার কাছে সব কথা জানতে চান তিনি। সূর্যের জেরায় ভেঙে পড়ে অবশেষে তাঁকে সব জানাতে বাধ্য হন সন্ধ্যা।অবশেষে শনির ওপর এতদিন এত অন্যায় হয়েছে বুঝতে পেরে নিজের ভুল স্বীকার করেন সূর্য। শনিকে সৌরমণ্ডলে স্থান দেন তিনি। কর্মফলের দেবতা হিসেবে শনিকে উন্নীত করা হয়। এ জন্যই কেউ কোনও অপকর্ম করলে শনির নজর এড়ায় না এবং শনির হাতে তার শাস্তি নিশ্চিত।অর্থাৎ তার এই ক্রোধ ও নিষ্ঠুরতা দিয়ে তাকে বিচার করলে হবেনা|তিনি কর্ম ফল প্রদান করেন|তিনি ভালোর জন্যে ভালো আবার খারাপের জন্যে খারাপ|চলতে থাকবে পুরান কথা|আরো এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাবেন আগামী দিনে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – গরুড় পুরান ও নরক
পুরান গুলির মধ্যে গরুড় পুরান নামে একটি পুরান আছে|এই গরুড় পুরান আঠেরো টি মহা পুরানের অন্যতম |অনেক রহস্য অনেক অনেক গল্প ছড়িয়ে আছে গরুড় পুরানে|পাপ পুন্য কি, নরক কেমন বা কোন পাপের কি শাস্তি, এই সব প্রশ্নের উত্তর অতি সুন্দর ভাবে দেয়া হয়েছে গরুড় পুরানে| শুধু নরক বর্ণনা নয় প্রতিটি পাপের স্বাস্তি ও উল্লেখ করা আছে গরুড় পুরানে |যা এই পুরান কে এক অন্য মাত্রা দান করেছে |গরুড় পুরানে বর্ণিত বিভিন্ন পাপের স্বাস্তি গুলি কিছুটা এইরূপ -শুকরমুখম— যারা অন্যের উপরে অত্যাচার করে, বিশেষত যে সব রাজা প্রজাপীড়ন করেন। তাঁদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে এই নরক। এখানেও শাস্তি প্রহার।বেদম প্রহার করে যমদূতরা।তমিশ্রম— অন্যের সম্পদ যদি কেউ আত্মসাৎ করেন, তাঁর জন্য রয়েছে এই নরক। যমদূত রা যমলোকে তাঁকে হাত বেঁধে ক্রমাগত প্রহার করবে । তাদের রক্তপাত হতে থাকবে এবং তারা জ্ঞান হারানো পর্যন্ত এই প্রহার চলবে।আদি অনন্ত কাল চলতে পারে এই প্রহার |রৌরব— অন্যের সম্পদে বিলাসিতা, করা বা ভোগ ইত্যাদির জন্য রয়েছে এই শাস্তি। সাপে পরিপূর্ণ এই নরকে তাদের নিক্ষেপ করা হবে।কুম্ভীপাক— জ্বলন্ত কুণ্ডে বসানো মহাকুম্ভে ফুটন্ত তেলে পাপী দের সেদ্ধ করা হবে, যারা নিজের আনন্দের জন্য পশুহত্যা করে।মহারৌরব— এখানেও সাপ। এবং সমান যন্ত্রনা দায়ক । যারা উত্তরাধিকারী রাখে না, তাদের জন্য নির্ধারিত এই নরক।বিষধর সাপের হাতে তুলে দেয়া হবে এই পাপী দের অন্ধকুপ— সৎ ব্যক্তকে যাঁরা পীড়ন করে এবং নিজের সামর্থ্য থাকতেও যারা কাউকে সাহায্য করে না, তাদেরই এখানে নিয়ে এসে এক কুয়োয় ফেলে দেওয়া হয়। সেখানে সিংহ, বাঘ, ঈগল থেকে শুরু করে বিষধর সাপ, বিছে ইত্যাদি তাদের নিরন্তর কামড়াতে থাকে।খুবলে খুবলে খায় ও যন্ত্রনা দেয় পাপী কে |তপ্তমূর্তি— সোনা-রুপো চুরি করলে নরকের এই বিভাগে নিয়ে আসা হয়। লেলিহান আগুনে তাদের নিক্ষেপ করা হয়। শাল্মলী— অসৎ ও ব্যাভিচারী স্ত্রী-পুরুষকে পাঠানো হয় এখানে। জ্বলন্ত থামকে আলিঙ্গন করতে বলা হয়। না করলে যমদূতরা জ্বলনত কাঠ দিয়ে পেটায়। মারতে থাকে যতদিন না শাস্তি সম্পূর্ণ হয় |বজ্রকন্টকশালী— পশুকামিতার শাস্তি বিধান হয় এই নরকে। তীক্ষ্ণ হীরক-খচিত লৌহমানবকে আলিঙ্গন করতে বলা হয়। অত্যন্ত যন্ত্রনা দায়ক এই শাস্তি |পুয়োদকম— অবৈধ যৌনতা এবং স্ত্রী দের ঠকানোর শাস্তি | রক্ত ও বিষাক্ত দ্রব্যে পূর্ন জলাধারে তাদের নিক্ষেপ করা হয়।কালসূত্র— এই নরকও দারুণ উত্তপ্ত। গুরুজনদের ভক্তি না-করলে, অসম্মান করলে এখানে নিক্ষেপ করা হবে।শুধু শাস্তি নয় প্রতিটি বিভাগ, যমদূত দের বর্ণনা ও জমরাজের ভূমিকা অতি সুন্দর ও নিখুঁত ভাবে চিত্রিত হয়েছে গরুড় পুরানে|চলতে থাকবে পুরানকথা|আবার ফিরে আসবো পুরান কথার নতুন পর্ব নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরানকথা- মৎস পুরান ও বাস্তু দেবের জন্ম
জ্যোতিষ শাস্ত্রর ন্যায় বাস্তু শাস্ত্র ও অত্যন্ত ও জনপ্রিয় ও কার্যকরী একটি শাস্ত্র যা আমাদের জীবন কে নানা দিক থেকে সরাসরি প্রভাবিত করে,বৈদিক জ্যোতিষ শাস্ত্র যেমন জন্ম নিয়েছে বেদের একটি অংশ থেকে তেমনই বাস্তু শাস্ত্রের জন্ম হয়েছে একটি বিশেষ পুরান থেকে এবং এর সাথে জড়িয়ে আছে একটি রোমাঞ্চকর পৌরাণিক ঘটনা|মৎস অবতার বিষ্ণুর প্রথম অবতার আর সেই অবতার নিয়েই মৎস পুরান তাই নানা দিক থেকে এই পুরান টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ |মৎস্য পুরাণ অনুযায়ী, প্রথম মহাপ্রলয়ের সময় জীবকুলকে রক্ষা করতে ভগবান বিষ্ণু মৎস অবতার রূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। আজ থেকে বহু যুগ আগে দক্ষিণ ভারতে এই পুরান জ্যোতিষ এর অন্যতম শাখা বাস্তু শাস্ত্রের সূচনা করে কারন বাস্তুদেবতার উৎপত্তি এই পুরানেই লিপিবদ্ধ হয়েছে|বাস্তু দেবতার পূজার্চনার ব্যাপারে একটি মজার ঘটনার উল্লেখ মেলে মৎস্য পুরানে ।মৎস পুরানে উল্লেক্ষিত পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী অনেকদিন আগে অন্ধক নামে এক অসুরের সাথে দেবাদিদেব মহাদেবের অনেক বছর ধরে যুদ্ধ হয় এবং অবশেষে মহাদেব শিব অসুরকে বধ করেন । দেবতা শিব যখন অসুরকে বধ করেন তখন তার শরীর নির্গত ঘাম থেকে এক মহাত্মার জন্ম হয় । যিনি অন্ধকাসুর এবং তার যোদ্ধা গণের সমস্ত রক্ত পান করেন । কিন্তু তবুও সেই মহাত্মার খুদা শান্ত না হওয়াতে, তিনি দেবাদিদেব মহাদেবের তপস্যা করেন । ভোলা মহেশ্বর তপস্যাতে তুষ্ট হয়ে বর প্রদান করেন আর সেই বর পেয়ে মহাত্মা ভূলোকে এসে সমস্ত প্রাণীদের খেতে শুরু করেন ।মহাত্মার এই ভয়ঙ্কর রূপ দেখে দেবতা, দানব, রাক্ষস এবং সমস্ত প্রাণী আতঙ্কিত হয়ে পরম পিতা ব্রহ্মাকে স্মরণ করেন । ব্রহ্মদেব তখন মহাত্মাকে পেট পেতে উপুড় হওয়ার পরামর্শ দেন এবং ব্রহ্ম দেবের পরামর্শ মেনে মহাত্মা তাই করেন । ব্রহ্মদেবের পরামর্শ অনুযায়ী ৮১ জন দেবতা মহাত্মার পেটের ভেতর বিভিন্ন অংশে গিয়ে বসলেন ।ব্রহ্মা মহাত্মার প্রার্থনায় অবিভূত হয়ে তাকে বর দিলেন যে – নতুন বাস ভবনের নির্মাণের আগে যদি কেউ তোমাকে বাস্তুদেবতা বলে মেনে পুজো করে এবং অন্নদান করে তাহলে তুমি তাকে সুখ সমৃদ্ধি দিয়ে ভরিয়ে তুলবে কিন্তু যদি কেউ তোমার পুজো না করে নতুন ঘরে বসবাস শুরু করে তবে তুমি তাকে ভক্ষণ করতে পারবে, এমনকি তাকে লাঞ্ছনাও দিতে পারবে ।আজও এই নীতি মেনেই ভারতবর্ষে বাস্তু পূজা হয় ও বাস্তু দেব কে সন্তুষ্ট করা হয় |চলবে পুরান কথা|পুরানের এমন আরো অনেক ঘটনা ও তার ব্যাখ্যা নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে |পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|