মন্দির রহস্য – ভূতবাবার মন্দির

422

আজ অনেক দিন পর একটি নতুন মন্দির রহস্য পর্ব নিয়ে আমি আবার আপনাদের সামনে, আজ লিখবো দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় অবস্থিত ভূত বাবার মন্দির নিয়ে|

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার আদিগঙ্গার তীরে কৃষ্ণমোহনপুরে ‘ভূতবাবা-র’ থানটি অবস্থিত। এই অঞ্চলের লোকেরা এই থানকে ছোটকাছারী বলে ডাকেন|এই ছোটো কাছারি বলার কারন বিখ্যাত বড়ো কাছারী মন্দিরের সাথে এই মন্দিরের একটি সম্পর্ক আছে|এই বড়ো কাছারি মন্দির নিয়ে আমি আগেই একটি লিখেছি|

জনশ্রুতি শোনা যায় যে অতীতে বিষ্ণুপুরের বড়কাছারী নিকট যেতে হলে অনেক রাস্তা হাঁটতে হত। পথ ছিলো বিপদ সংকুল ও দুর্গম সেই কারণে অতীতে কোন এক ভক্ত এই থানটি তৈরী করে দেন এবং ছোটকাছারী নাম দিয়ে পূজা শুরু হয়|

এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠিত দেবতা ভূত বাবা আসলে একজন লৌকিক দেবতা, পুরান বেদ বা অন্য কোনো শাস্ত্রে এই দেবতার কোনো উল্লেখ নেই তবে স্থানীয় দের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রসিদ্ধ|অতীতে কোনো দেবতার মূর্তি ছিল না তবে
বতমানে ভূতবাবা-র যে মূর্তিটি রয়েছে সেটিতে তিনি সিংহাসনের উপর বামপদ ঝুলিয়ে বসে আছেন। দক্ষিণপদ বাম জানু উপর উপবিষ্ট। হাতে গলায় রুদ্রাক্ষ দেখা যায়। বিস্তৃত মোটা গোঁফ। দেবতার দুই হাত। এক হাতে গাঁজার কলকে। মাথায় চুল ও সৌম্যমুখ। ভূতবাবার ডানদিকে সহচর, বামদিকে নৃত্যরত আরেক সহচরী চোখে পড়ে|

মন্দির প্রাঙ্গনে রয়েছে এক অতি প্রাচীন ও রহস্যময় শেওড়া গাছ, এককালে যখন এখানে কোন মূতি পুজো হত না। আদিতে এখানে একটি ‘শ্যাওড়া ‘ গাছকেই ভূতবাবার প্রতীক হিসাবে পূজিত হত|বহু মানুষ বিশ্বাস করেন এই শেওড়া গাছের গোড়ার মাটি ও শিকড়ের মধ্যে রয়েছে অলৌকিক ক্ষমতা|

ভূতবাবার বাত্‍সরিক পুজো হয় ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষে যেকোন শনিবার ধরে ।সেই দিন এখানে মেলা বসে।এছাড়া প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার ১২ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত পুজো হয়।বহু মানুষ আসেন এই মন্দিরের এবং তাদের মনোস্কামনা জানান ভূতবাবাকে|

এমন কোনো রহস্যময় মন্দিরের কথা নিয়ে আবার ফিরে আসবো অন্য কোনো পর্বে|জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে কথা থাকলে উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে সরাসরি কথা বলতে পারেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|