মন্দির রহস্য – ভবানী পাঠকের কালী মন্দির

194

আজ মন্দির রহস্যর এই পর্বে এমন একটি মন্দিরের কথা লিখবো যা বাংলার ইতিহাস এবং সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাথে জড়িত এবং বহু রহস্য ও কিংবদন্তী প্রচলিত আছে এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে,উত্তর বঙ্গের জলপাইগুড়ি তে অবস্থিত এই প্রাচীন কালী মন্দির সাধারণ মানুষের কাছে আজও ভবানী পাঠকের মন্দির নামে পরিচিত|

এককালে অবিভক্ত বাংলার উত্তরের অন্যতম জেলা ছিলো রংপুর, এই রংপুরের অধীনে ছিলো বর্তমানের জলপাইগুড়ি এবং এই অঞ্চল দিয়ে তখনো বয়ে যেতো তিস্তা নদী|কথিত আছে এই দুর্গম অঞ্চল শাসন করতো এক দুর্ধর্ষ দস্যু রানী এবং এক মাতৃ সাধক যাদের বঙ্কিম চন্দ্রের কালজয়ী উপন্যাসে যথাক্রমে দেবী চৌধুরানী এবং ভবানী পাঠক নামে অভিহিত করা হয়েছে|উপন্যাসে উল্লেখিত ত্রিস্রোতা নদীই বর্তমানে তিস্তা নদী যে নদী দিয়ে যাতায়াত করতো দেবী চৌধুরানীর বজ্রা|

আজও সেই ইতিহাসের সাক্ষী বহন করে চলেছে ভবানী পাঠকের কালী মন্দির|জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের শিকারপুর চা বাগানের মধ্যে রয়েছে ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানীর মন্দির|উপন্যাস বলছে ভবানী পাঠক ডাকাত সর্দার হিসাবে পরিচিত থাকলেও তিনি সন্ন্যাসীর মতো জীবনযাপন করতেন। তিনি অত্যাচারী ইংরেজ ও দেশীয় জমিদারদের জিনিস লুঠপাট করে তা দীন দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন এবং বেজায় কালী ভক্ত ছিলেন ভবানী পাঠক|প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠাতার সঠিক নাম নিয়ে কিঞ্চিৎ মতবিরোধ থাকলেও জনশ্রুতি অনুসারে এই মন্দির ভবানী পাঠকই বানিয়েছিলেন|

শোনা যায় মন্দিরে প্রথমে কাঠের মূর্তিই ছিল। দুই পাশে দুটি কাঠের কালী মূর্তি। সেই কালীকে পুজো করেই নাকি ভবানী পাঠক তাঁর অভিযানে বের হতেন। পরে কোনোভাবে সেই কাঠের মূর্তি পুড়ে যাওয়ায় মাটির মূর্তি তৈরি হয়|বর্তমানে ঐতিহাসিক এই মন্দিরে মন্দিরে মা কালীর মূর্তি ছাড়াও তিস্তাবুড়ি, ভবানী পাঠক, দেবী চৌধুরানী, গঙ্গা দেবী, সিদ্ধপুরুষ মোহনলালের মূর্তি আছে, জলপাইগুড়ির দর্শনীয় স্থান গুলির মধ্যে অন্যতম এই ভবানী পাঠকের কালী মন্দির|

এখানে বড়ো আকারে কালী পুজো হয় আষাঢ় মাস ও কার্ত্তিক অমাবস্যায় এবং মন্দির প্রতিদিন ভোর পাঁচটায় খোলে, বন্ধ হয় বিকেল পাঁচটায়।

আজ এই পর্ব এখানেই শেষ করলাম|ফিরবো আগামী পর্বে জানাবেন কেমন লাগছে এই ধারাবাহিক লেখনী|যারা জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকার চান উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে সরাসরি কথা বলতে পারেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|