অম্বুবাচী ও মহাপীঠ কামাখ্যা : দ্বিতীয় পর্ব

348

সামনেই অম্বুবাচী, ধরিত্রির ঋতুমতী হওয়ার এই সময় কে উৎসবের আকারে পালন করা হয় সারা দেশ জুড়ে তবে তবে যে মন্দিরে এই অম্বুবাচী এক অন্য আধ্যাত্মিক মাত্রা পায় সেটি হলো পূর্ব ভারতের অন্যতম শক্তি পীঠ আসামের কামাখ্যা মন্দির|কামাখ্যায় কেনো অম্বুবাচী এতো গুরুত্ব সহকারে ও নিষ্ঠা সহ পালন হয় তার কিছু শাস্ত্রীয় কারন আছে|

নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত কামাখ্যা মন্দির হচ্ছে ৫১ সতীপীঠের অন্যতম। পুরান মতে দেবী সতীর গর্ভ এবং যোনি এখানে পড়েছিল। এ কারণেই প্রতিবছর এখানে মহা সমারোহে অম্বুবাচী পালিত হয়|আজকের পর্বে কামাখ্যা মন্দিরের ইতিহাস ও ধর্মীয় তাৎপর্য সংক্ষেপে আপনাদের সামনের তুলে ধরবো

আগেই বলেছি শাস্ত্রে বর্ণিত ৪টি আদি শক্তি পিঠগুলির মধ্যে, কামাখ্য মন্দিরটি বিশেষ কারণ দেবী সতীর গর্ভ এবং যোনি এখানে পড়েছিল এবং এইভাবে দেবী কামাখ্যাকে উর্বরতার দেবী বা “রক্তক্ষরণকারী দেবী” বলা হয়|মূল কামাখ্যা মন্দিরটি যে কতো প্রাচীন ও কবে কেমন নির্মাণ করেছিলেন তা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল তবে হিউ এন সাং এর লেখাতেও এই মন্দিরের উল্লেখ আছে|

ইতিহাসের কুখ্যাত চরিত্র কালাপাহাড় থেকে শুরু করে একাধিক বার একাধিক বৈদেশিক শত্রুর হাতে এই মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোচ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বসিংহ এই ধ্বংসাবশেষ খুজে পান তিনি এই মন্দির সংস্কার করেন এবং তিনিই এই মন্দিরে পূজার পুনর্প্রবর্তন করেন|পরবর্তীতে আসামের রাজারা এই মন্দিরের দায়িত্বভার গ্রহন করেন|

কালিকা পুরাণের মতে, কামাখ্যা মন্দিরে
সতী শিবের সঙ্গে বিহার করেন,যোগিনী তন্ত্রে অবশ্য কামাখ্যাকে কালী বলা হয়েছে
তবে কালিকা পুরাণ অনুসারে, কামাখ্যায় পূজা করলেসকল ইচ্ছা পূর্ণ হয়। প্রাচীন কাল থেকে কামাখ্যার পূজা বামাচার ও দক্ষিণাচার উভয় মতেই হয়।সাধারণত ফুল দিয়েই পূজা দেওয়া হয়। মাঝে মাঝে পশুবলি হয়। স্ত্রীপশু বলি সাধারণত নিষিদ্ধ |

নীলাচল পর্বতে অবস্থিত কামাখ্যা মন্দিরে চারটি কক্ষ আছে মূল গর্ভগৃহ ও তার সাথে তিনটি আলাদা আলাদা মণ্ডপ|গর্ভগৃহটি আসলে ভূগর্ভস্থ একটি গুহা। মুল গর্ভ গৃহে কোনো মূর্তি নেই। শুধু যোনি-আকৃতিবিশিষ্ট প্রস্তর খণ্ড ও ভূগর্ভস্থ প্রস্রবনটি আছে। প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে অম্বুবাচী মেলার সময় কামাখ্যা দেবীর ঋতুমতী হওয়ার ঘটনাকে উদযাপন করা হয়। এই সময়ে অলৌকিক ভাবে গুহার মধ্যে প্রবাহিত প্রস্রবণ রক্তবর্নে রূপান্তরিত হয়|এই সময়ে পুজো বন্ধ থাকে ও মন্দিরের দ্বার সর্বসাধারণের জন্যে রুদ্ধ থাকে|
ভক্তরা বাইরে থেকে প্রার্থনা করেন ও নিজের মনোস্কামনা জানান|

পূর্ব ভারতের তন্ত্র সাধনার প্রান কেন্দ্র বলাযায় কামাখ্যাকে তবে এবছর হয়তো সরকারী বিধিনিষেধ থাকার ফলে কামাখ্যা মন্দিরে অম্বুবাচী উপলক্ষে সেই জন সমাগম চোখে পড়বে না, দেশ বিদেশ থেকে তান্ত্রিক ও জ্যোতিষীদের যে জমায়েত হতো এই সময়ে মন্দির চত্বরে তা হয়তো থাকবেনা|তবে অন্তরে ভক্ত ও শ্রদ্ধা থাকলে মাকে ডাকার জন্যে কোনো প্রতিবন্ধকতাই বাঁধা হতে পারেনা|আর সকল নিয়ম ও উপাচার মেনে এবছর ও আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরের বিশেষ হোম যজ্ঞ ও শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনের সব ব্যবস্থা থাকবে|আপনারা ঘরে বসেই নিজেদের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পারেন, জ্যোতিষ ও তন্ত্র শাস্ত্র মতে সমাধান করাতে পারেন|যুক্ত হতে পারেন এই আধ্যাত্মিক কর্ম কাণ্ডের সাথে|প্রয়োজন মনে করলে নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন ধন্যবাদ|