বিষ্ণু যেমন নানা সময়ে অবতার রূপে পৃথিবীতে এসেছেন তেমনই তার কয়েকটি বিশেষরূপ ও রয়েছে যা বিশেষ কিছু কার্য সম্পাদন করার জন্য তিনি ধারন করেছিলেন যেমন মোহিনী রূপ বা হয়গ্রীব রূপ|আজ বলবো বিষ্ণুর হয়গ্রীব রূপ নিয়ে ও জানাবো তার তাৎপর্য|দেবতা ও অসুরদের দ্বন্দ্ব বহু বার হয়েছে|কথিত আছে, একবার মধু আর কৈটভ নামের দুই অসুর ব্রহ্মার কাছ থেকে বেদ চুরি করে পালায়। ব্রহ্মা উপায় না পেয়ে বিষ্ণুর দ্বারস্থ হন। বিষ্ণু তখন ‘হয়গ্রীব’ তথা ‘অর্ধেক ঘোড়া, অর্ধেক মানুষ’ রূপ ধরে অসুরদের পিছনে ধাওয়া করেন ও তাদের পরাস্ত বেদ উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।কিন্তু পথের মাঝে অবতারেই বেদ সহ ঘুমিয়ে পড়েন। সেই ফাঁকে অসুররা আবার ফেরত আসে এবং বিষ্ণুকে আক্রমণ করে। এই স্থানে দুপক্ষের প্রবল যুদ্ধ হয় এবং অসুররা পরাজিত হয়।সেই যুদ্ধের স্থান ছিলো আসাম এর মনীকুট পাহাড়‘মণিকূট’-এর ওপর রয়েছে তীর্থস্থল ‘হয়গ্রীব মাধবমন্দির’। এই মন্দিরের মূল দেবতাই বিষ্ণুর অবতার ‘হয়গ্রীব’-এর। আবার তিব্বতি বৌদ্ধদের তান্ত্রিক শাখার মতে ‘হয়গ্রীব’ মূর্তি তিব্বতি বজ্রযান বৌদ্ধমূর্তি। আর গৌতম বুদ্ধ এই স্থানেই নির্বাণ লাভ করেন। তাই এই মন্দির তিব্বতি বৌদ্ধদেরও তীর্থক্ষেত্র।আবার আগামী পর্বে এমনই কোনো পৌরাণিক বিষয় নিয়ে ফিরে আসবো|চলবে পুরান কথা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – বানেশ্বর শিব লিঙ্গ
আজ সোমবারের পুরান সংক্রান্ত আলোচনায় আপনাদের একটি বিশেষ শিব লিঙ্গর কথা বলবো যা বানেশ্বর শিবলিঙ্গ নামে আপনারা জেনে থাকবেন এই শিব লিঙ্গের সাথে আকৃতির বা ধনুর্বানের কোনো সম্পর্ক নেই উত্তর ও ব্যাখ্যা আছে পুরানে|পুরান অনুসারে, প্রাচীনকালে বাণ নামে এক শিব ভক্ত অসুর প্রতিদিন শিবলিঙ্গ নির্মাণ করে পূজা করতেন। এইভাবে দীর্ঘদিন শিবপূজার ফলে শিব তাকে দর্শন দিয়ে একটি বর দিতে চান। বাণ বলেন, প্রতিদিন তাকে শিবলিঙ্গ নির্মাণ করতে বেশ কষ্ট পেতে হয়। তাই বর হিসেবে তিনি উত্তম লক্ষণযুক্ত শিবলিঙ্গ চান। শিব চোদ্দো কোটি শিবলিঙ্গ নির্মাণ করে বাণকে দেন। বাণ সেগুলি পেয়ে মনে ভাবেন, এগুলি পূজায় যখন বিশেষ ফল পাওয়া যায়, তখন এগুলি সর্বসাধারণের কল্যাণের কাজেই ব্যবহার করা উচিত। এই ভেবে তিনি তিন কোটি লিঙ্গ কালিকাগর্তে, তিন কোটি লিঙ্গ শ্রীশৈলে, এক কোটি কন্যাশ্রমে, এক কোটি মহেশ্বর ক্ষেত্রে এবং অবশিষ্ট লিঙ্গগুলি বিভিন্ন তীর্থক্ষেত্রে স্থাপন করেন।বাণ নামক অসুরের দ্বারা পূজিত বলে এই লিঙ্গগুলি বাণলিঙ্গ বা বাণেশ্বর শিবলিঙ্গ নামে পরিচিত হল।বানেশ্বর শিব লিঙ্গ প্রাকৃতিক ভাবে উদ্ধার করা হয় এবং বেশ দুর্লভ|আবার আগামী পর্বে এমন কোনো পৌরাণিক বিষয় নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
ফলহারিণী অমাবস্যা ও শক্তি আরাধনা
মানব জীবনে জন্মছক বিশ্লেষণ করলে অথবা হস্তরেখা বিচার করলে দেখা যায় অনেকেরই কিছু না কিছু গ্রহদোষ রয়েছে। অর্থাৎ কিছু শুভ গ্রহ এবং কিছু অশুভ গ্রহের গ্রহগত সংযোগ ও তার কুপ্রভাব দেখা যায় এবং সেই প্রভাব আজীবন বয়ে বেড়াতে হয় যদি না সঠিক সময়ে শাস্ত্র সম্মত ভাবে সেই গ্রহ দোষ খণ্ডন হয় । সমস্যা থাকলে সমাধানও রয়েছে, তবে এই গ্রহ দোষ খণ্ডনের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান, সময় ও পদ্ধতি|তন্ত্র মতে বা শাস্ত্র সম্মত ভাবে গ্রহ দোষ খণ্ডনের ক্ষেত্রে যে বিশেষ অমাবস্যা তিথি গুলি রয়েছে তার মধ্যে দীপান্বিতা অমাবস্যা, কৌশিকী অমাবস্যা বা মৌনী অমাবস্যার থেকেও কিছুটা এগিয়ে থাকে ফল হারিনী অমাবস্যা কারন এই অমাবস্যার অর্থাৎই হলো জন্ম জন্মান্তরের পাপের ফল থেকে মুক্তি লাভ|শাস্ত্র মতে এই সময়ে করা যেকোনো তন্ত্র ক্রিয়া বা গ্রহ দোষ খণ্ডনের উপাচারের ফলে দেবী কালীর কৃপা সহজেই লাভ করা যায় এবং তিনি সমস্ত গ্রুহ গত কুপ্রভাব ও তার খারাপ ফল হরণ করে নেন এই তিথিতে ফল হারিণী রূপে ভক্তের পূজা গ্রহন করেনতাই এই অমাবস্যা ফলহারিনী নামে পরিচিত|এই অমাবস্যার অন্য একটি ঐতিহাসিক তাৎপর্যও রয়েছে, দক্ষিনেশ্বরে রামকৃষ্ণদেব ফলহারিণী কালী পুজোর দিনই স্ত্রী সারদা দেবীকে পুজো আদি শক্তির প্রতীক রূপে|শক্তি সাধনার এ এক অনন্য নজির|বহু প্রাচীন কাল থেকেই এই বিশেষ অমাবস্যায় কামাখ্যা, তারাপীঠ সহ একাধিক স্থানে তান্ত্রিক জ্যোতিষীরা উপস্থিত হয়ে বিশেষ পুজো,হোম যজ্ঞর মাধ্যমে বহু মানুষের গ্রহগত দোষ খণ্ডন করতেন|আজও চলছে সেই পরম্পরা|আজ ফল হারিণী অমাবস্যায় আমি রয়েছি তারাপীঠে এবং সারাদিন বিশেষ পূজা ও গ্রহ দোষ খণ্ডনের আয়োজন করা হয়েছে আপনাদের সবাইকে জানাই ফল হারিণী কালী পুজোর শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
কালী কথা – শালকিয়ার ফলহারিণী কালী পুজো
উত্তর হাওড়ার সালকিয়া অঞ্চলের জমিদার ছিলো বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার এবং এই পরিবারের অন্যতম কৃতি সন্তান গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের জমিদারির আমলে তেমন কোন পুজো হত না। পুজো বলতে জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো। বছরে ওই একবারই সাধারণ মানুষের জন্য জমিদার বাড়ির দ্বার উন্মুক্ত থাকত।তবে পরবর্তীতে শুরু হয় কালী পুজো বিশেষ করে ফলহারিণী অমাবস্যার পুজো|শোনা যায় একসময় হঠাৎ মহামারী দেখা দেয় চতুর্দিকে। বহু মানুষ এই মহামারীর প্রকোপে মারা যেতে থাকে। এই মহামারীর হাত থেকে বাঁচতে বহু মানুষ অঞ্চল ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যেতে শুরু করে। বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের জমিদার চিন্তায় পড়ে যান যে কিভাবে সেই প্রকোপ থেকে সবাইকে বাঁচাবেন। সেই সময় দেবী স্বপ্নাদেশ দেন যে তাঁকে ফলহারিণী রূপে পুজো করতে। সেই পুজো করলে তবেই সকল দুর্দশা দুর হবে। দেবী এও বলেন যে, তাঁর পুজোর জোগাড় নিজেই করবেন।তাই হয়পুজো শুরুর প্রথম দিকে অর্থাৎ যখন এই পূজা শুরু হয়েছিল তখন পুজোর ঠিক আগের দিন মন্দির সংলগ্ন পুকুর পুজো করে একটি কাগজে যা যা গয়না ও বাসনপত্র লাগবে লিখে পুকুরের জলে ভাসিয়ে দেওয়া হত। মা ফলহারিনী তার পূজার গয়না ও বাসনপত্র নিজেই সেই পুকুর থেকে তুলে দিতেন। আবার পূজার ঠিক পরের দিনই এলাকার বাসিন্দারা সেই গয়না ও বাসনপত্র পুকুর ঘাটে রেখে দিতেন, মা আবার নিজেই সেগুলি পুকুরে নামিয়ে নিতেন।পুজোর সঠিক বয়স জানা না গেলেও আনুমানিক ৩০০বছর ধরে চলে আসছে প্রাচীন এই পুজো। মহাসাড়ম্বরে এখনও এই ফলহারিণী কালীপুজো অনুষ্ঠিত হয় এই মন্দিরে। বহু ভক্তের সমাগম ঘটে এই দিনে।এলাকার বাসিন্দারা যারা এই পুজোতে উপবাস থাকতেন, তারা নিজেরাই পুকুর থেকে কই মাছ ধরতেন মায়ের ভোগের জন্য।কারন কই মাছ ভাজা না দেওয়া হলে , মায়ের ভোগ সম্পূর্ণ হত না।মায়ের ভোগের চাল, শাক-সবজি ধোয়া থেকে শুরু করে রান্না করা সবটাই গঙ্গা জলে ছাড়া হয় না। পূর্বে এলাকার স্ত্রীলোকেরা গঙ্গা থেকে কলসি করে জল নিয়ে আসত মায়ের ভোগের জন্য।মায়ের পুজোতে পশু বলি নিষিদ্ধ। বলি দেওয়া হয় শুধুমাত্র ছাঁচিকুমড়ো এবং জমিদার বাড়ির খাঁড়া ছাড়া মায়ের পূজার বলি দেওয়া যাবে না, এটাই নিয়ম।যেহেতু মায়ের নাম ফলহারিনী কালী তাই, ফল ছাড়া পূজা দেওয়া চলে না। একটি মাত্র ফল হলেও তা মায়ের কাছে নিবেদন করতে হয়।সাধারণত আমরা অনান্য কালী পুজোতে দেখে থাকি যে, পূজা শেষে ভোরবেলা বিসর্জন ক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু মা ফলহারিনী কালীকে ভোরবেলা বিসর্জন দেওয়া হয় না। পরের দিন রাত্রি বেলা বিসর্জন দেওয়া হয়।চলতে থাকবে পুরান ও শক্তি আরাধনা নিয়ে নানা ধরনের বিশেষ এই পর্বগুলি পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
কালী কথা – পঞ্চগ্রামের ফলহারিণী কালী পূজা
প্রায় তিনশো বছর আগে মায়ের পুজোয় থেমে গিয়েছিল মহামারী সেই থেকে বিশেষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে পঞ্চগ্রামের ফল হারিণী কালী পুজো|এখানে অমাবস্যাতেই তৈরি হয় মূর্তি, অমাবস্যাতেই বিসর্জন৷ কারোর কাছে তিনি রক্ষা কালী মা। সব অশুভ শক্তি’র বিনাশকারী দেবী। কারোর কাছে তিনি মহামারী মা আবার কারোর কাছে তিনি কলেরা মা। কথিত আছে,নবাবি আমলে বর্ধমানের প্রাচীন জনপদ পঞ্চ গ্রাম মহামারী কলেরায় উজাড় হতে থাকে। গ্রাম বাসি দের উদ্যোগে কলেরা থেকে রক্ষে পাওয়ার জন্যই শুরু হয়েছিল পুজো এবং আজ তা উৎসবের রূপ নিয়েছে|পঞ্চগ্রামের ৫ গ্রাম হয়রামনগর, গোবিন্দপুর, জুয়ালভাঙা, কোন্দা এবং পাণ্ডবেশ্বর। কলেরা প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে দক্ষিণ প্রান্তের শেষে পাণ্ডবেশ্বরে হয় পুজো।শুরু হয় রক্ষা কালী মা পুজো। চলিত বিশ্বাস, পুজোর পর থেকে প্রকোপ কমে কলেরার। এরপর থেকে কলেরা বা মহামারী মা নামেও পূজিত হন চ্যাটার্জি বাড়ির রক্ষা কালী মা। জ্যৈষ্ঠ মাসের ফলহারিণী অমাবস্যায় প্রতি বছর পাণ্ডবেশ্বরে নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো নেন রক্ষা কালী মা।বছরের একটি দিন পুজো করেন স্থানীয় ভট্টাচার্য পরিবার আর বাকি ৩৬৪ দিন পুজো করে আসেন চ্যাটার্জি বাড়ির সদস্যরা।বলি প্রথা এখনও চালু।রয়েছে মানুষের মুখে মায়ের ভোগ তুলে দেওয়া রীতি ।দেবীকে পড়ানো হয় সোনার মুকুট, হার, চুড়ি, জিভ সহ ভরি ভরি সোনার গয়না প্রায় ৩৫০ বছর আগে যে নিয়মে মায়ের পুজো শুরু হয়েছিল আজও সেই একই নিয়মে পুজো হয়। বংশ পরম্পরায় আজও মৃৎশিল্পীরা ষোলআনা অর্থাৎ এক টাকার বিনিময় প্রতিমা গড়ে দেন|চলবে কালী কালী কথা|ফিরে আসবো আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন|ফল হারিণী অমাবস্যায় থাকছি তারাপিঠে|জ্যোতিষ ও তন্ত্র বিষয়ে কথা বলতে বা গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে চাইলে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|
কালী কথা – বর্ধমানের আনন্দময়ী কালী
শাস্ত্র মতে শিবপূজাকেও শক্তিপূজা বলা যেতে পারে কারন শিব হল ধ্বংসের দেবতা বা প্রলয়ের দেবতা যা এক কথায় শক্তিকেই প্রদর্শন কর কিন্তু আমাদের জেনে রাখতে হবে যে এই ‘শক্তি’ কথাটি স্ত্রী বাচক, অর্থাৎ শক্তিপূজা বলতে নারী বা মাতৃ পূজাই বলা হয়ে থাকে আর এই মাতৃশক্তি সাধনার অন্যতম শ্রেষ্ঠ তিথি হলো ফলহারিণী অমাবস্যা|ফল হারিণী কালীপুজোর ঐতিহ্যের দিক থেকে পিছিয়ে নেই বর্ধমান। জেলার বহু গ্রামে প্রাচীন কালীপুজো হয়। সে সব পুজো শুরুর পিছনে রয়েছে নানা কাহিনীও। জাঁকজমক কমলেও, পুজোর উদ্যোগে ভাটা পড়েনি আজও।আলাদা করে বলা যায় মানকরের আনন্দময়ী কালীর কথা|বুদবুদের মানকর গ্রামের কবিরাজ বাড়ির কালীপুজো প্রায় তিনশো বছরের পুরনো। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কালী ‘আনন্দময়ী’ কালী হিসাবেই পরিচিত। বর্ধমানের রাজা উদয়চাঁদের কবিরাজ ছিলেন রাজবল্লভ গুপ্ত। জনশ্রুতি আছে, এক সময় রাজার মেয়ে খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে, তাঁকে চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলেন রাজবল্লভ। এর পরে, তাঁকে মানকরে বেশকিছু জমি, পুকুর দেওয়া হয়। তাঁকে ‘রাজবৈদ্য’ হিসাবে নিযুক্তও করা হয়। তখন থেকেই রাজবল্লভ মানকরে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানেই আনন্দময়ী কালীর পুজো শুরু করেন।পুজোর দায়িত্বে থাকা বর্তমান প্রজন্মথেকে জানা যায় রাজবল্লভ ‘স্বপ্নাদেশ’ পেয়ে কাশী থেকে কষ্টি পাথরের কালী মূর্তি নিয়ে এসে পুজো শুরু করেন। সারা বছর পুজো হয় এই মন্দিরে। তবে জ্যৈষ্ঠ মাসে ফলহারিণী পুজো খুব ধুমধাম করে নিষ্ঠা সহকারে হয় এখানে।এই পুজোয় ১৮ রকমের মিষ্টি দেওয়া হয়। নুন ছাড়া, তরকারি পুজোর ভোগ হিসাবে নিবেদন করা হয়। মন্দিরের পাশে থাকা পুকুরে আজও পুজো উপলক্ষে কষ্টি পাথরের দেবী মূর্তিকে স্নান করানো হয়। সম্পূর্ণ স্নান পক্রিয়া হয় গোপনে শুধু মাত্র পূজারীদের উপস্থিতিতে এবং আজও এই পুকুরে সাধারণের ব্যবহার নিষিদ্ধ।ফিরে আসবো কালী কথা নিয়ে আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
কালীকথা – কালী ডাকাতের কালী পুজো
হুগলি জেলার খানাকুলে সাড়ে তিনশো বছরের বেশি পুরনো ডাকাতকালীর পুজোয় এক অভিনব বহু রীতি পালন করা হয়।ফলহারিণীতে মহাসমারোহে কালী পুজো হয় খানাকুলের ডাকাত কালী মন্দিরে|প্রাচীন কালে ডাকাতির পর কালীপুজোয় বসতেন কালীচরণ মাঝি এবং তাঁর চেলাচামুন্ডারা। দিন বদলেছে। কালীচরণের বংশধরেরা আজ আর ডাকাতি করেন না। তবে প্রথা বজায় রাখতে রাতের অন্ধকারে ফল চুরি করেন তাঁরা। সে ফল কালীকে নিবেদন করেই পুজো শুরু করেন। হুগলীর খানাকুলের চক্রপুরে ডাকাতকালীর পুজো কয়েকশো বছরের প্রাচীন। কথিত আছে ৩৫৬ বছর আগে এ এলাকায় কালী ডাকাত নামে পরিচিত ছিলেন কালীচরণ মাঝি। তিনিই এ পুজোর সূচনা করেছিলেন। কালীচরণের বংশধরেরা জানিয়েছেন, এখনও পুজোর দিন শতাধিক ছাগবলি হয়। পাশাপাশি মেনে চলা হয় ঘটপুজোর রীতিও। কালীপুজোর দিন রাতে কালীচরণের বংশের এক জন সদস্য প্রথম মায়ের ঘট উত্তোলন করেন। তার পর আরও একটি ঘট উত্তোলন করেন পুরোহিত। ঘট দু’টি কালীমূর্তির পায়ের নীচে বসিয়ে তার পর শুরু হয় পুজোপাঠ। কালী ডাকাতের উত্তরপুরুষরা অংশ নেন পুজোয় এখন ডাকাতি করা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে রাতের অন্ধকারে ফল চুরি করে মায়ের পায়ে নিবেদন করা এই মন্দিরের এক অদ্ভুত রীতি যা আজও চলছে|ডাকাতকালীর পুজোয় আরও কয়েকটি অভিনব রীতি রয়েছে|মন্দিরে চার প্রহরে চার বার পুজো-আরতি হয়। শোনা যায় ২০০ বছর আগে এই কালীপুজোকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রথম মেলা বসেছিল।আজও সেই মিলন উৎসব পালিত হয়|চলবে কালী কালী কথা|ফিরে আসবো আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন|ধন্যবাদ|
কালী কথা – কুলটির প্রসিদ্ধ ফলহারিণী কালী
কুলটির লালবাজারের ফলহারিনী কালী মন্দির বেশ বিখ্যাত এখানে সাদা রঙে ফলহারিণী রূপে পুজো নেন দেবী কালী।কথিত আছে এইরূপে ভবতারিণী দর্শন দিয়েছিলেন রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে।তিনিও স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুজো শুরু করেছেন। তবে কালীর এমন সাদা রূপের আরাধনা, সচরাচর দেখতে পাওয়া যায়না এই বাংলায়।পুজোর প্রতিষ্ঠাতাপরিবার এবং পূজারীদের থেকে জানা যায় বহুকাল আগে স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুজো শুরু হয়।দেবী স্বপ্নে স্বয়ং এইরূপ আগে থেকেই নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। তারপর থেকে নিয়মিত পুজো নিয়ে আসছেন কুলটির ফলহারিনী কালী। বিশেষ একটি পরিবার নিত্য পুজো করেন দেবীর। পাশাপাশি গ্রামের মানুষও দেবী কালিকার সাধনায় মেতে ওঠেন। প্রত্যেক ফল হারিণী অমাবস্যায় জাঁকজমক সহকারে হয় পুজো। স্থানীয় মানুষজনও সেই পুজোয় অংশগ্রহণ করেন। মন্দিরে সম্পূর্ণ প্রস্থর নির্মিত মূর্তি রয়েছে দেবীর। পাশের জেলা বাঁকুড়ার শুশুনিয়া থেকে মূর্তিটি নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সেই মূর্তির নিত্য পুজো হয়।প্রতিষ্ঠাতা ঘোষ পরিবারের কথায় স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পরেই তিনি বাঁকুড়ায় উদ্দেশ্যে রওনা দেন তাদের পরিবারের এক সদস্য সেখানে গিয়ে তিনি মায়ের মূর্তিটি পান এই রূপেই। তাই সেই রুপেরই আরাধনা শুরু করেছেন তিনি।পশ্চিম বর্ধমান জেলায় একমাত্র এখানেই রয়েছে সাদা রংয়ের কালীমূর্তি। বাংলা জুড়ে সাদা রংয়ের কালীমূর্তি বিশেষ দেখতে পাওয়া যায় না। পাশের জেলা বাঁকুড়া একটি জায়গায় এই রূপে কালীপুজো হয়। তবে কুলটির ফলহারিনী কালী জেলার একমাত্র সাদা রূপের কালীপুজো।সামনেই ফল হারিণী অমাবস্যা|চলতে থাকবে কালীকথা|ফিরে আসবো নতুন পর্ব নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
বেগুনবাড়ির বিখ্যাত ফলহারিণী কালী পুজো
জৈষ্ঠ্য অমাবস্যা বা ফলহারিণী কালী পূজা জ্যোতিষ বা তন্ত্র জগতের অন্যতম শ্রেষ্ট উৎসব বলা যায় । নিষ্ঠা মেনে এই পূজা করা হয় বিভিন্ন কালী মন্দিরে। আজ এমনই এক মন্দিরের কথা বলবো|মেদিনীপুরের বেগুনবাড়ির কালীপুজো জেলার সবচেয়ে প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী। বেগুনবাড়িতে কালীপুজো শুরুর কাহিনি বেশ রোমাঞ্চকর ।কথিত আছে এক সময় এই এলাকা কাশীজোড়া পরগনার রাজার অধীনস্থ ছিল। তখন রাজা রাজনারায়ণ রায়ের আমল সময়টা ১৭৫৬-১৭৭০ সাল । রাজার দুই বিশ্বস্ত লেঠেল হিনু ডাং এবং দিনু ডাং। এঁরা জাতিতে বাগদি। মাছ ধরা এঁদের কাজ হলেও এঁরা ডাকাতিও করতেন|সেই সময় কলেরার মহামারি ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। তখন এই দুই ডাকাত মা কালীর কাছে মানত করেন যে, যদি তাঁদের সন্তানাদি কলেরামুক্ত হয়ে ওঠে, তবে তাঁরা ঘটা করে মায়ের পুজো করবেন। কিন্তু সন্তানরা সুস্থ হয়ে উঠলেও পুজোর খরচ তাঁরা জোগাড় করতে পারেননি। তখন বাধ্য হয়ে ডাকাতি করে অর্থসংগ্রহে নেমে পড়েন তাঁরা। এবং সেই অর্থ দিয়েই মা কালীর পুজো শুরু করেন। এর পর প্রতি বছর এই ভাবে ডাকাতি করে মায়ের পুজো চালাতে থাকেন জ্যৈষ্ঠের ফলহারিণী অমাবস্যাতে।ঘটনা জানতে পারেন কাশীজোড়ার রাজা। তিনি দেবীর জন্য কিছু জমি দান করেন। ক্ষীরাই নদীর বুকে হওয়া এই পুজোর নাম হয় ‘তিনতাউড়ি বেগুনবাড়ির কালীপুজো’। সম্প্রতি দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে গড়ে তোলা হয়েছে দেবীর মন্দির।আগামী ফলহারিণী অমাবস্যা তারাপিঠে যারা দোষ খণ্ডন করাতে চান যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ফল হারিণী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে কালী কথা পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – শ্রী কৃষ্ণের দ্বারকা নগরী
শ্রী কৃষ্ণের দ্বারা কংস বধের ঘটনা আমরা অনেকেই জানি|কংস মৃত্যুর পর কংসের শ্বশুর, মগধের রাজা জরাসন্ধ কৃষ্ণের উপর রেগে যান ও এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মথুরা আক্রমণ করেন। কিন্তু ১৭ বার মথুরা আক্রমণের পরও জরাসন্ধ মথুরা জয় করতে ব্যর্থ হন। তবে এই ১৭ বার আক্রমণে মথুরার অধিবাসী যাদবরা দুর্বল হয়ে পড়ে। কৃষ্ণ যখন বুঝতে পারেন জরাসন্ধ আর একবার আক্রমণ করলে তারা আর তা প্রতিরোধ করতে পারবেন না, তখন তিনি তার লোকদের নিয়ে মথুরা ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং নতুন এক নগরী তৈরির সিদ্ধান্ত নেন|এই নগরীই ছিলো দ্বারকা নগরী|দ্বারকা নগরী প্রতিষ্ঠার জন্য কৃষ্ণ দেব শিল্পী ‘বিশ্বকর্মার’ সাহায্য নেন। বিশ্বকর্মা কৃষ্ণকে জানান, যদি সমুদ্রের দেবতা ‘সমুদ্রদেব’ তাদেরকে কিছু জমি প্রদান করেন শুধুমাত্র তবেই এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। কৃষ্ণ তখন সমুদ্রদেবের পূজা করেন এবং সমুদ্রদেব খুশি হয়ে কৃষ্ণকে ১২ যোজন জমি প্রদান করেন। জমি পাওয়ার পর বিশ্বকর্মা সেখানে দ্বারকা নগরী নির্মাণ করেন এবং শ্রীকৃষ্ণ দ্বারকায় তার তার আশ্রিত ও পরিবার নিয়ে বাস করতে শুরু করেন|পুরান থেকে ও বিভিন্ন শাস্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে জানা যায়, পুরো দ্বারকা নগরী মোট ৬টি ভাগে বিভক্ত ছিল। আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা, চওড়া রাস্তা, নগরচত্বর, সোনা, রূপা ও দামী পাথর দিয়ে নির্মিত বিশাল বিশাল প্রাসাদ, জনগণের সুযোগ সুবিধার জন্য নানা স্থাপনা সহ নানা উদ্যান ও লেক ইত্যাদি নিয়ে গড়ে উঠেছিল দ্বারকা নগরী। প্রায় ৭ লক্ষ ছোটবড় প্রাসাদ ছিল এ নগরীতে। এখানে ছিল ‘সুধর্ম সভা’ নামের এক বিশাল হলঘর, যেখানে নানা ধরনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হতো। গোটা নগরীটি ছিল জলবেষ্টিত। এটি ছিল মূলত একটি দ্বীপ-নগর। চারপাশে বেষ্টিত জলরাশি দ্বারকাকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতো।কৃষ্ণ তার বাকি জীবন এ দ্বারকা নগরীতেই অতিবাহিত করেছিলেন। শেষের দিকে তিনি ভাল্কা তীর্থের এক বনে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় দুর্ঘটনাবশত এক শিকারীর তীর বিদ্ধ হয়ে নিহত হন। কৃষ্ণের মৃত্যুর পর গোটা দ্বারকা নগরী এক বিশাল বন্যায় সমুদ্রের গভীরে হারিয়ে যায়|মহাভারতে উল্লেখ আছে, কৃষ্ণের মৃত্যুর ৩৬ বছর আগে নাকি সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়েছিল দ্বারকা।যেখানে দ্বারকা নগর গড়ে উঠেছিলো বলে শাস্ত্রে আছে বাস্তবে সেই অঞ্চলেই পাওয়া গেছে কৃষ্ণের সময়ের প্রাচীন নগরীর ধ্বংসস্তুপ যা আরো একবার পুরান ও ইতিহাসকে মিলিয়ে দিচ্ছে এক সূত্রে|দ্বারকা নগরী নিয়ে রহস্যর শেষ নেই, শেষ নেই পুরান রহস্যর|আবার আগামী পর্বে নতুন রহস্য নিয়ে ফিরবো|পড়তে থাকুন|জ্যোতিষ সংক্রান্ত প্রয়োজনে উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|