শিব অবতার – বীরভদ্র
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
সাধারণত অবতার নিয়ে কথা উঠলে শাস্ত্রে বিষ্ণুর দশ অবতার নিয়ে বেশি আলোচনা হয়। তবে শিবের ও একাধিক অবতার রয়েছে। শিবের মোট উনিশটি অবতারকে তার প্রধান এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবতার হিসেবে দেখা হয় যাদের উল্লেখ আছে শিব পুরান সহ একাধিক শাস্ত্রে। আসন্ন চৈত্র মাস উপলক্ষে ধারাবাহিক ভাবে শিব অবতার নিয়ে লিখবো ।আজ বীর ভদ্র অবতার।
শিবের সকল অবতারের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এবং উগ্র অবতার বীর ভদ্র। সতীর দেহ ত্যাগের পর তিনি শিবের জটা থেকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। দেবাদিদেবের অপমানের প্রতিশোধ নেয়াই ছিলো বীর ভদ্রর প্রধান উদ্দেশ্যে এবং বলা বাহুল্য সেই কাজে তিনি সফল হন।
বীরভদ্র অবতার সতীর মৃত্যুর জন্য দায়ী দক্ষকে হত্যা করেছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি নৈবেদ্য দূষিত করে, যজ্ঞের পাত্র ভেঙে এবং পুরোহিতদের অপমান করে যজ্ঞ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তিনি আনুষ্ঠানিক প্রাসাদে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিলেন। তাকে যখন নিরস্ত্র করতে আসেন অন্য দেবতারা তখন তিনি ভগবান ইন্দ্রকে পদদলিত করেছিলেন এবং যমের লাঠি ভেঙে দিয়েছিলেন। মহাকালীও বীরভদ্রের সাথে যোগ দেন।বীরভদ্র তাঁর রোমকূপ থেকে রৌম্য নামক রুদ্রতুল্য অসংখ্য গণদেবতা সৃষ্টি করেন। তাদের ক্রোধে মহা প্রলয়ের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
যখন সব দেবতারা বীরভদ্র কে নিরস্ত্র ও শান্ত করতে চেয়ে ব্যার্থ হন তখন ব্রহ্মা এসে বীরভদ্রের স্তুতি করে তাঁকে শান্ত করেন। এরপর বীরভদ্র দেবতাদের সাথে করে মহাদেবের কাছে উপস্থিত হন। বীরভদ্রের এইরূপ বীরত্ব ও প্রভুপরায়ণতায় সন্তুষ্ট হয়ে মহাদেব তার অংশ ও অনুগত বীর ভদ্রকে নানাবিধ বর দান করেন।
শিবের অবতার এবং অংশ রূপে বীর ভদ্র সকল শিব ভক্তের রক্ষাকর্তা এবং পূজনীয়।
ফিরে আসবো পরবর্তী শিব অবতার নিয়ে।
আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
