আগের কয়েকটি পর্বে আপনাদের দশ মহাবিদ্যা রূপের কয়েকটি নিয়ে বলেছি|আজ থেকে আবার বাকি রূপ গুলো নিয়ে আলোচনা করবো|আজকের পর্বে দেবী ধুমাবতী|দশমহাবিদ্যার সপ্তম রূপ দেবী ধূমাবতী। একদিন কৈলাশে পার্বতী প্রচণ্ড ক্ষুধায় কাতর হয়ে বারবার শিবের কাছে অন্ন চান। কিন্তু ঘরে একটা চালও নেই। ক্ষুধার জ্বালায় ক্ষিপ্ত হয়ে শিবকে গ্রাস করে ফেলেন দেবী। সঙ্গে সঙ্গে দেবীর দেহ হতে ধোঁয়া নির্গত হতে থাকে। সেই ধোঁয়া পার্বতীকে বিবর্ণ করে দেয়। ধোঁয়ার আবৃত দেহ থেকে শিব বের হয়ে বলেন, ‘তুমি যখন ক্ষুধায় আমাকে গ্রাস করেছ তখন তুমি বিধবা হয়েছ। এই বিধবা বেশে তুমি ধূমাবতীরূপে পূজিতা হবে। তাই ধূমাবতী বিধবা|ধূমাবতী হলেন সপ্তম মহাবিদ্যা। গুহ্যাতিগুহ্য তন্ত্র গ্রন্থে দশ মহাবিদ্যাকে বিষ্ণুর দশ অবতারের উৎস বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই গ্রন্থ মতে মৎস্য অবতারের উৎস হলেন ধূমাবতী।মুণ্ডমালা গ্রন্থেও ধুমাবতীর উল্লেখ রয়েছে,এই গ্রন্থ মতে বামন অবতারের উৎস হলেন ধূমাবতী|তিনি শিবহীন, ভয়ঙ্করী, রুক্ষ মলিন বসনা, বিবর্ণ কুণ্ডলা, বিরল দন্তা, নিত্য বুবুক্ষিতা, অতিকৃশা, বৃদ্ধা। ধূমাবতীর দুই হাত, একহাতে কুলা ও অন্য হাতে ধর। ইনি রথরূঢ়া। রথের ধ্বজ চারটিতে চারটি কাক।দেবীর মূর্তিতত্ত্ব নিয়েও রয়েছে মতান্তর। ধূমাবতী তন্ত্রে তাঁকে শ্মশানচারিণী এক বৃদ্ধা বিধবারূপে কল্পনা করা হয়েছে, যাঁর এক হাতে একটি কুলো আর অন্য হাতটি বরাভয় প্রদান করছে। দেবী রীতিমত কুৎসিত এবং দীর্ঘাকায়া, রোগগ্রস্থা, পাণ্ডুরবর্ণা এবং মুক্তোকেশী। একইসঙ্গে তাঁর হৃদয় অত্যন্ত কুটিল। দারিদ্র্যের দেবী, তাই শরীরে অলংকার নেই। পরনে জীর্ণ, মলিন বস্ত্র। সবথেকে ভয়ের উদ্রেক করে দেবীর হিংস্র দুই চোখ। অন্যদিকে তাঁর মুখে বেশ কয়েকটি দাঁত নেই, তাই হাসলে ফোকলা দেখায়। দেবী একটি অশ্বহীন রথের ওপর আসীন, এই রথের পতাকায় একটি কাকের ছবি।দেবী ধুমাবতী কে মৃত্যুর দেবীও বলা হয়ে থাকে।ধূমাবতী সিদ্ধি বা অলৌকিক ক্ষমতা প্রদান করেন; তিনি সকল বিপদ থেকে ভক্তকে উদ্ধার করেন এবং জ্ঞান ও মোক্ষফল সহ সকল অভীষ্ট বস্তু প্রদান করেন। জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে কেতু সংক্রান্ত দোষ দুর করতে দেবী ধুমাবতীর স্মরণ নেয়া হয়|বারাণসীতে ধূমাবতীর একটি মন্দির রয়েছে। এছাড়া ভারতবর্ষে দেবীর মন্দিরের সংখ্যাখুবই কম। শ্মশান বা জঙ্গলে তন্ত্রমতে দেবী ধূমাবতীর পুজো হয়ে থাকে।ফিরে আসবো দশ মহাবিদ্যার পরের রূপ এবং আরো অনেক আলোচনা সাথে নিয়ে |পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
সিদ্ধিদাতা গণেশ ও চন্দ্রদেব
গণেশ পূর্ণিমা উপলক্ষে আজ বিঘ্নহর্তা গণেশদেবকে নিয়ে বেশ কয়েকটি পৌরাণিক ঘটনা আপনাদের বলবো|চন্দ্র দেব ও গণেশ ঠাকুর এর একবার দ্বন্দ্ব বেঁধে ছিলো|ভোজ সভায় কুবেরকে শিক্ষা দেয়ার ঘটনা আপনাদের আগেই বলেছি সেখানে তার ইচ্ছামত খাওয়ার ফলে গণেশের পেটটি তিনি যখন তিনি হাঁটতে শুরু করলেন তখন তিনি তার ভারসাম্য হারালেন এবং পড়ে গেলেন।চন্দ্র দেব আকাশ থেকে গণেশের এই সকল কাণ্ডকারখানাগুলি দেখছিলেন, তিনি হেসে উঠলেন। চাঁদের এই অবমাননা গণেশ বরদাস্ত করলেন না, তিনি প্রচন্ড ক্ষোভে চন্দ্র দেবকে আঘাত করলেন এবং সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য করে দিলেন।অনুতপ্ত ও পরাজিত চন্দ্রদেব চন্দ্র এই ঘটনায় নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং গণেশের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে।তার বারংবার ক্ষমা প্রার্থনার ফলে গণেশ তখন তাকে মুক্তি দিলেন এবং তার জন্য একটি সময়চক্র তৈরী করলেন যাতে প্রতি দিন অন্তর অন্তর চন্দ্র একবার সম্পূর্ণরুপে প্রকাশিত হবেন এবং একবার করে অদৃশ্য থাকবেন।সেই থেকে নির্ধারিত হয় চন্দ্রের অমাবস্যা ও পূর্ণিমা এবং গ্রহনের রীতি|আবার অন্য একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা অনুসারে দেবী পার্বতী একবার কৈলাসে গনেশের প্রিয় খাদ্য মোদক বানিয়ে ছিলেন।খাদ্য রসিক গণেশ ঠাকুর যত বেশি সম্ভব মোদক খেয়ে ফেলেছিলেন।তারপর তার বাহন ইঁদুরের পিঠে চেপে বেড়াতে বেরোলেন এমনিতেই তার বাহন ইঁদুরটি মোদক পরিপূর্ণ গণেশের ভার বহন করতে পারছিল না এমন সময়ে হঠাৎ করে একটি সাপ ইঁদুরটির সামনে এসে উপস্থিত হয়।ইঁদুরটি ভয় পেয়ে যায় এবং গণেশ তার পিঠের উপর থেকে পড়ে যায়।গণেশ মাটিতে আঘাত পাওয়ার সাথে সাথেই সমস্ত মোদক গুলি তার পেট থেকে বেরিয়ে আসে।গণেশ সেগুলিকে তুলে পুনরায় গিলে ফেলেন আর যাতে সেগুলি তার পেট থেকে না বেরিয়ে আসে সেই জন্য সেই সাপটিকে দিয়ে কোমরবন্ধন করে ফেলেন।সেই জন্য বেশ কিছু মূর্তিতে গণেশের পেটে একটি সাপের বাঁধন দেখতে পাওয়া যায়।আকাশ থেকে সমগ্র বিষয়টি দেখে চন্দ্র দেব হেসে ফেলেন এবং গনেশ এতে প্রচণ্ড রেগে যান এবং চন্দ্র দেবতাকে অভিশাপ দিয়ে বলেন গণেশ চতুর্থীর দিন চন্দ্রকে দেখতে পাবেন না যদিও বা কেউ চন্দ্রকে দেখেন তা অশুভ বলে চিহ্নিত হবে|গণেশ চতুর্থী অন্যতম শ্রেষ্ট তিথি ও যাদেরবাড়িতে নেতিবাচক শক্তি আছে বা সব কাজেবাধা আসে চাকরিতে বাধা, পারিবারিক অশান্তি, দাম্পত্য কলহ ইত্যাদি সমস্যা থাকলে গণেশ আরাধনা অবশ্যই করুন|আপনাদের আগেই বলেছি আজ গণেশ চতুর্থী তে আপনাদের হৃদয়েশ্বরী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরের বিশেষ গণেশ পুজো, হোম যজ্ঞ ও বিশেষ প্রতিকারপ্রদান করা হবে আপনার চাইলে এই আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডে যোগ দিতে পারেন|আপনাদের সবাইকে জানাই গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
গণেশ ও কুবের দেব
আসন্ন গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে আজ আরো একটি গণেশ দেবের মহিমা আপনাদের জন্য লিখবো| পুরান অনুসারে একবার কুবের ও গণেশের মধ্যে সংঘাত বেঁধেছিলো আজ|আজ আপনাদের সেই ঘটনার কথা বলবো|সনাতন ধর্মে কুবের অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন দেবতা ছিলেন কারণ তিনি মহাবিশ্বের সমস্ত ধনসম্পদের অধীশ্বর।তার তার কাছে ছিল অগাধ গুপ্তধন এবং তার ভান্ডারে সবকিছুই ছিল যার জন্য তিনি খুবই গর্বিত ছিলেন।নিজের ধন সম্পদ ও বৈভব দেখানোর জন্য একদিন কুবের সমস্ত দেবতাদের নৈশভোজে আমন্ত্রণ করেন এবং তাদের মধ্যে শিব এবং পার্বতীও ছিলেন।কিন্তু তারা দুজনেই সেই ভোজ সভায় উপস্থিত না হয়ে তারা গণেশকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠান।গণেশ কুবেরের ব্যবহার লক্ষ্য করেন এবং সিদ্ধান্ত নেন তার গর্ব খর্ব করার।তিনি সমস্ত খাবারই দ্রুত খেয়ে ফেলেন এবং তার ফলে অন্যান্য আমন্ত্রিতদের জন্য কিছুই অবশিষ্ট থাকে না যদিও তাতেও তার ক্ষুধানিবৃত্তি হয়নি।তখন সে কুবেরের সঞ্চিত সম্পদ এবং ঐশ্বর্যগুলি খেতে শুরু করেন এর মধ্যে ছিল স্বর্ণ এবং অন্যান্য দামি বস্তু সমূহ। তাতেও তার পেট না ভরাতে তিনি কুবেরকে খেতে চান|নিজেকে বাঁচাতে সেইসময় কুবের কৈলাস পর্বতে দৌড়ে যান আশ্রয়ের খোঁজে এবং মহাদেবের কাছে স্মরণ নেন|মহেশ্বর গণেশের এই রূপ আচরনের প্রকৃত কারণ বুঝতে পেরে ক্ষুদার্থ গণেশকে তৎক্ষণাৎ অন্ন পরিবেশন করেন ।গণেশ সেই অন্ন গ্রহণের সাথে সাথে তার ক্ষুধা নিবৃত্তি ঘটে।তিনি শান্ত হয়ে কুবের দেবকে ছেড়ে দেন|ঘটনার পর কুবের বুঝতে পারেন লোভীর মতো সম্পদ গ্রহণ করা উচিত নয় এবং সেই সম্পদ নিয়ে গর্ব বা অহংকার অনুচিত তিনি সম্মত হন তার সমস্ত সম্পদ প্রয়জনে সকলের মধ্যে বিলিয়ে দিতে।আপনাদের আগেই বলেছি আগামী 31 আগস্ট গণেশ চতুর্থী তে আপনাদের হৃদয়েশ্বরী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরের বিশেষ গণেশ পুজো, হোম যজ্ঞ ও বিশেষ প্রতিকার প্রদান করা হবে কারন এই তিথি অত্যান্ত শুভ ও কার্যকরী বিশেষ করে যন্ত্র স্থাপন, রুদ্রাক্ষ ও রত্ন ধারনের জন্য অতি শুভ তিথি|আপনার চাইলে এই আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডে যোগ দিতে পারেন|আবার ফিরে আসবো গণেশ প্রসঙ্গ নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – গণেশ ও বিষ্ণুর শঙ্খ
আগামী 31 আগস্ট গণেশ চতুর্থী|গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে আগামী আজ থেকে তিন দিন সিদ্ধি দাতা গণেশ কে নিয়ে কিছু পৌরাণিক ঘটনা ও তার পুজোর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা সহ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো|আজকের পৌরাণিক ঘটনা ভগবান বিষ্ণুর শঙ্খ নিয়ে|ভগবান বিষ্ণুর প্রিয় শঙ্খটির কথা সকলেই জানেন যেটিকে তিনি সর্বদা তাঁর নিজের কাছে রাখতেন।একদিন তিনি তাঁর প্রিয় শঙ্খটিকে কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছিলেন না।এই বিষয়টি তাকে খুবই মর্মাহত করে তুলল, তিনি তার সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করলেন শঙ্খটিকে খুঁজে বের করার জন্য।যখন শঙ্খ খোঁজাখুঁজির পালা চলছিল তখন ভগবান কৃষ্ণ হঠাৎ করে সেই শঙ্খটির আওয়াজ শুনতে পেলেন কিছুটা দূর থেকে এবং সেই শব্দ শুনে সেটি কোন দিক থেকে আসছে তার অনুসন্ধান করে তিনি অনুধাবন করলেন যে শব্দটির উৎস হল কৈলাস পর্বত।তিনি কৈলাস পর্বত চলে এলেন এবং দেখতে পেলেন স্বয়ং গণেশ সেই শঙ্খটিকে ফুঁ দিয়ে বাজাতে ব্যাস্ত।তিনি জানতেন গণেশ সহজে নমনীয় হওয়ার পাত্র নন, তাই তিনি সেটি ফেরত পাওয়ার জন্য দেবাদিদেব শিবকে বললেন যাতে তিনি গণেশকে শঙ্খটি ফেরত দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।শিব জানালেন যে তাঁরও ক্ষমতা নেই গণেশের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করার এবং তাঁকে প্রশমিত করার একমাত্র পথ হল গণেশের পূজা করা।তাই বিষ্ণু গণেশের পূজা করতে উদ্যোগী হলেন।তিনি পূজার সমস্ত উপকরণ দিয়ে শ্রী গণেশকে হৃদয় থেকে আহ্বান করলেন।এটি দেখে গণেশ অত্যন্ত প্রীত হলেন এবং বিষ্ণুর শঙ্খটিকে তাঁকে ফিরিয়ে দিলেন।তার মানে ভগবান বিষ্ণু স্বয়ং নিজের হারানো সম্পদ ফিরে পেতে গণেশ আরাধনা করেছিলেন এথেকে বোঝা যায় সিদ্ধিদাতা গণেশ পুজোর মাহাত্ম ও তার আধ্যাত্মিক গুরুত্ব কত বেশি|আগামী 31 আগস্ট গণেশ চতুর্থী তে আপনাদের হৃদয়েশ্বরী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরের বিশেষ গণেশ পুজো, হোম যজ্ঞ ও বিশেষ প্রতিকার প্রদান করা হবে কারন এই তিথি অত্যান্ত শুভ ও কার্যকরী|আপনার চাইলে এই আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডে যোগ দিতে পারেন|আবার ফিরে আসবো গণেশ প্রসঙ্গ নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
অমাবস্যা, তন্ত্র ও জ্যোতিষ শাস্ত্র
গতকাল আপনারা মা হৃদয়েশ্বরী মন্দিরে বিশেষ পুজো হোম যজ্ঞ ও গ্রহ দোষ খণ্ডন দেখেছেন পঞ্জিকা মতে আজও থাকছে কৌশিকী অমাবস্যা|আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরবো অমাবস্যা, তন্ত্র ও জ্যোতিষ শাস্ত্র সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ব্যাখ্যা|যুগ যুগ ধরে জ্যোতিষ ও তন্ত্রে শাস্ত্রে অমাবস্যা তিথির গুরুত্ব অপরিসীম|মনের কথার আজকের পর্বে ব্যাখ্যা করবো জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতে কেনো অমাবস্যা এতো গুরুত্বপূর্ণ|প্রথমে জানা দরকার এই অমাবস্যা তিথি কি|শুক্লপক্ষ এবং কৃষ্ণপক্ষ এক মাসের দুটি অংশ রয়েছে। শুক্লপক্ষে চন্দ্রের শিল্পকলা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ চন্দ্র বৃদ্ধি পায়। কৃষ্ণপক্ষের চন্দ্র বক্ররেখা এবং অমাবস্যায় সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়। চাঁদের ষোলটি কলার মধ্যে ষোড়শ শিল্পকে অমা বলা হয়। তাই এই তিথি অমাবস্যা নামে পরিচিত।স্কন্দ পুরাণ অনুসারে অমাবস্যা সংক্রান্ত একটি শ্লোকে বলা হচ্ছে|’আমা শোভাগইন দেবী প্রক্ত মহাকালসংস্থিতা পরমা মায়া দেহিনাম দেহধারিনী।’এই শ্লোক অনুসারে, আমা চাঁদ দ্বারা উপাসনা করা হয়, এটি চাঁদের সমস্ত ষোলো কলার শক্তি অন্তর্ভুক্ত করে। এই শিল্প ক্ষয় এবং উত্থান হয় না। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে যখন সূর্য ও চাঁদ কোনও কোনও রাশিতে থাকে, তখন অমাবস্যা তিথি সৃষ্টি হয়|শাস্ত্রে অমাবস্যা তিথির কর্তা পিতৃদেব বলে বিশ্বাস করা হয়। সুতরাং, অমাবস্যায় পিতৃগণের সিদ্ধির জন্য তর্পণ, শ্রদ্ধা কর্ম ও দান করা গুরুত্বপূর্ণ। অমাবস্যায় পবিত্র নদীতে স্নান করলে পুণ্যলাভের সম্ভাবনা। এছাড়া যেকোনো তন্ত্রের কাজ এবং শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন এই সময়ে করলে তা অনেক বেশি সফল এবং কার্যকর হয়|শাস্ত্র মতে যেকোনো রকম প্রতিকার ধারণের জন্যে এই সময় শ্রেষ্ট সময়|আবার সারা বছরের অমাবস্যা তিথি গুলির মধ্যে কয়েকটি অমাবস্যা অত্যাধিক গুরুত্ব নিয়ে আসে বিশেষ করে জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতের ক্ষেত্রেযেমন কৌশিকী অমাবস্যা, ফল হারিনী অমাবস্যা, দীপান্বিতা অমাবস্যা এবং মৌনী অমাবস্যা|কিছু তন্ত্র মতে কৌশিকী অমাবস্যার রাতকে তারা রাত্রিও বলা হয়। এ দিন এক বিশেষ মুহূর্তে স্বর্গ ও নরক দুইয়ের দ্বার মুহূর্তের জন্য উম্মুক্ত হয় এবং এই সময়ে তন্ত্র মতে বহু অসাধ্য সাধন সম্ভব হয় আবার ফল হারিনী অমাবস্যায় শাস্ত্র মতে মা কালীকে সন্তুষ্ট করে যেকোনো অশুভ কর্মফল থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব|দীপান্বিতা অমাবস্যা আমরা দীপাবলি হিসেবে পালন করে থাকি যা অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির জয় লাভের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়|মৌনী অমাবস্যাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়|এই অমাবস্যায় মৌন থেকে নিজের মনকে একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করে শক্তি সাধনা করতে হয়|এবার তন্ত্র সম্পর্কে একটু বলে নেয়া দরকার ,তন্ত্র শব্দটির অর্থ ব্যাপক । সংক্ষেপে তন্ত্র হচ্ছে “সৃষ্টির পরিচালনার নিয়ম “। মহাদেব বা শিবের ডমরু থেকে তন্ত্রের উৎপত্তি । সতী বা দেবি দূর্গার দশ হাতে আছেন দশ মহাবিদ্যা |এই দশমহাবিদ্যার উপর ভিত্তি করেই অনেকটা তন্তশাস্ত্র গড়ে উঠেছে|তন্ত্রের বিষয়টা অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত সাধারনভাবে, তন্ত্র অসীম জ্ঞানের আধার|তন্ত্র জ্ঞানচক্ষু উম্মোচন করে ।সৃষ্টির কারন বুঝতে সাহায্য করে তন্ত্র । তন্ত্র সৃষ্টি , স্থিতি ও বিনাশের পরিচালনা শক্তি । ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর এই তিন শক্তির পরিচালনা নিয়ম ব্যাক্ত করে তন্ত্র ।তন্ত্রের সাথে সম্পর্কিত আছে মন্ত্র ,যন্ত্র|এই তন্ত্র মন্ত্র এবং যন্ত্র তিনটিই একত্রে ব্যবহিত হয় জ্যোতিষ শাস্ত্রে শাস্ত্রীয় প্রতিকার রূপে এবং এক্ষেত্রে তিথি ও নক্ষত্র অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে|যেহেতু তন্ত্র ও জ্যোতিষ জগতে শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন একটি অতি পরিচিত ও শক্তি শালী পন্থা এক্ষেত্রে এবং অমাবস্যা তিথি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তাই প্রতিটি অমাবস্যায় আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরে বিশেষ পুজো হোম যজ্ঞ ও শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনের সু ব্যবস্থা থাকে আগামী সকল অমাবস্যা তেই এই পরম্পরা অনুসরণ করা হবে |আপনারা নিজেদের ভাগ্যবিচার ও গ্রহদোষ থেকে মুক্তি পেতে এই গুরুত্বপূর্ণ তিথি গুলিকে কাজে লাগাতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন|ভালো থাকুন|পড়তে থাকুন|দেখা হবে আগামী পর্বে |ধন্যবাদ|
দেবী কালীর পুজো ও বলী
আজ দেবী কালী নিয়ে এই বিশেষ পর্বে বলবো বহু যুগ থেকে চলে আসা কালী পুজোর বিশেষ করে তন্ত্র মতে পুজোর একটি অঙ্গ বলি নিয়ে,অনেকেই মনে করেন কালী পুজোর সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে, বলী প্রথা,এই চিন্তা ধারা ঠিক কি ভুল এই বিতর্কও বহু দিনের|সত্য যুগে বৈদিক আচার সম্পন্ন শুদ্ধ ব্রাহ্মনগণ যজ্ঞে বৃদ্ধ পশু আহুতি দিয়ে তত্ক্ষণাত্ মন্ত্রযোগে পশুর উন্নত নবজীবন দান করবার যথেষ্ঠ ক্ষমতা তাদের ছিল ।কিন্তু কলিযুগে বৈদিক আচারভ্রষ্ট ব্রাহ্মনদের সে ক্ষমতাই নেই । ভগবান শ্রীবিষ্ণুর অবতার বুদ্ধদেব জগতে পশুবলি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলেন একটি সময়ে|শ্রীমদ্ভাগবত পঞ্চম, ষষ্ঠ ও একত্রিশ শ্লোকে বলা হয়েছে -“যারা পশুবলি দিয়ে ভৈরব বা ভদ্রাকালী প্রভৃতি দেবদেবীর পূজা করে , হিংসা কবলিত সেই পশু যমালয়ে রাক্ষস হয়ে ঘাতকের মতো সুতীক্ষ্ন অস্ত্র দিয়ে তাদের বধ করে|বৈষ্ণব ঘরানায় পশু বলী বা রক্ত পাতের কোনো স্থান নেই কিন্তু তন্ত্রে আছে|আর কালী পুজো হয় তন্ত্র মতে|বেলুড় মঠে দূর্গা পূজার সূচনা কালে স্বামী বিবেকানন্দ চেয়ে ছিলেন পশু বলী দিতে কিন্তু মা সারদা বুঝিয়ে তাকে এই কাজ থেকে বিরত করেন অনেকেই মনে করেন আসলে বলী বা স্যাক্রিফাইস এর অর্থ হলো নিজের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সড় রিপুর উপর জয় পাওয়া|বলীর সপক্ষে যারা তারা বলেন তন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাচার বলী এবং বলী প্রদত্ত পশু তার জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে মোক্ষ লাভ করে যা তার কাছে আশীর্বাদ স্বরূপ এতে দুক্ষের কোনো কারন নেই|তবে বাংলার কালী পুজোয় বলীর ইতিহাস অতি প্রাচীন|এককালে ডাকাত রা নর বলী পর্যন্তদিতো এবং বলী দিয়ে দেবীকে সন্তুষ্ট করে ডাকাতি করতে যেতো, রঘু ডাকাত, বিশে ডাকাত, চিতে ডাকাত এদের সবার পুজো তেই বলী হতো|বনেদী বাড়ির পুজো গুলোতেও বলী হতো|এখন অধিকাংশ জায়গায় থেকে বলী লুপ্ত হয়েছে, কোথাও কোথাও কুমড়ো বা আখ বলী দিয়ে নিয়ম রক্ষা করা হয়|আজ কৌশিকী অমাবস্যায় আমি থাকছি আপনাদের হৃদয়েস্বরী মা সর্ব মঙ্গলার মন্দিরে সেখানে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ পুজো, হোম যজ্ঞ ও বহু মানুষের দোষ খণ্ডন|সরাসরি সম্প্রচার হবে সোশ্যাল মিডিয়ায়|আপনিও চাইলে অংশগ্রহণ করতে পারেন, নিজের জীবনের গ্রহগত কুপ্রভাব কাটিয়ে সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন|দেবী কালী নিয়ে আলোচনা সহ ফিরে আসবো আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
দেবী কালী ও তার মূর্তি রহস্য
আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে শুরু করেছি দেবী কালী সংক্রান্ত আলোচনা আজ দেবীমূর্তি সংক্রান্ত রহস্য ব্যাখ্যা করবো সহজ ভাবে|শিব কেনো কালীর পায়ের তলায় থাকেন তার নিদ্দিষ্ট ব্যাখ্যা আছে|অসুরদের হারানোর পর প্রবল বিজয়নৃত্য শুরু করেন কালী। অসুরের ধরহীন মুণ্ড দিয়ে বানান কোমড়বন্ধ ও গলার মালা। কালীর উন্মাদ নাচে স্বর্গে তখন ত্রাহি-ত্রাহি রব। দেবতারা ফের ছুটলেন মহাদেবের কাছে। কারণ কালীর নৃত্যে সৃষ্টির লয় ধ্বংস হওয়ার পরিস্থিতি। ছুটলেন মহাদেব কালীর নাচ বন্ধ করতে। কিন্তু, মহাদেবের হাজারো কথাও শুনতে পেলেন না উন্মাদিনী কালী। উপায়ান্ত না দেখে মহাদেব এবার কালীর পা-এর তলায় নিজেকে ছুঁড়ে ফেলে দেন। পায়ের নিচে স্বামীকে পরে থাকতে দেখতে লজ্জিত হন কালী। লজ্জায় জিভ কাটেন তিনি। পৌরাণিক এই কাহিনি অবলম্বনে পূজিত হয়ে আসছেন কালী।আমাদের অন্যতম আরাধ্যা দেবী কালিকা বা কালীর সবচেয়ে জনপ্রিয় মূর্তিতে দেবীকে নগ্নিকা হিসেবে দেখা যায়। দেবীর এই মূর্তি অনেকের কাছে কৌতুহলের কারণ, অনেকের কাছে কৌতুকেরও। সেক্ষেত্রে এই দেবীরূপের প্রকৃত তাৎপর্য জানা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।তাঁর এই মুক্ত কেশপাশ তাঁর বৈরাগ্যের প্রতীক। তিনি জ্ঞানের দ্বারা লৌকিক মায়ার বন্ধন ছেদন করেছেন। তাই তিনি চিরবৈরাগ্যময়ী কখনও দেবীকে গাঢ় নীল বর্ণেও কল্পনা করা হয়। তিনি গাঢ় নীল আকাশের মতোই অসীম। তাঁর নীল গাত্রবর্ণ সেই গগনসম অসীমতার ইঙ্গিতবাহী।তিনি বিশ্বব্যাপী শক্তির প্রতীক। তিনি অসীম। এই চিরশক্তিকে আবৃত করে এমন সাধ্য কোন বস্ত্রের রয়েছে! দেবী তাই দিগম্বরী।দেবীর গলায় রয়েছে মোট ৫০টি মুণ্ডের মালা। এই মুণ্ডগুলি ৫০টি বর্ণ (১৪টি স্বরবর্ণ ও ৩৬টি ব্যঞ্জনবর্ণ) বা বীজমন্ত্রের প্রতীক। এই বীজমন্ত্রই সৃষ্টির উৎস। দেবী নিজে শব্দব্রহ্মরূপিনী।দেবীর কোমরের কাটা হাত গুলি কর্ম ও কর্ম ফলের ইঙ্গিত দেয়বিদায় নেয়ার আগে জানিয়ে রাখি আগামী কৌশিকী অমাবস্যায় হৃদয়েশ্বরী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরের বিশেষ পুজো, হোম যজ্ঞ ও গ্রহ দোষ খণ্ডন সম্পন্ন হবে|দেবী কালী ও কৌশিকী অমাবস্যা প্রসঙ্গে আরো বিস্তারিত আলোচনা নিয়ে ফিরে আসবো যথা সময়ে|দেখতে থাকুন
দেবী কালি – সৃষ্টি রহস্য
আজ কালী কথার এই পর্বে আলোচনা করবো পুরান অনুসারে দেবী কালীর জন্ম বা সৃষ্টি তত্ব নিয়ে|কালীর সৃষ্টি হয়ে ছিলো একটি বিশেষ উদ্দেস্যে |স্বর্গ তোলপাড় করে লন্ডভণ্ড করে দিচ্ছে অসুরের দল। দেবতাদের তাড়িয়ে স্বর্গরাজ্যের দখলের চেষ্টাও করছে তারা। দেবতাদের মধ্যে ত্রাহি-ত্রাহি রব। অসুরদের প্রধান রক্তবীজ-ৃএর ছিল ব্রহ্মার বর। যার জেরে রক্তবীজের শরীর থেকে এক ফোঁটা রক্ত ভূতলে পতিত হলেই তা থেকে জন্ম নিচ্ছিল একাধিক অসুর।এই পরিস্থিতিতে কার্যত দিশেহারা দেবতারা|এই বিপদ থেকে স্বর্গ-কে রক্ষা করতে এবং দেবতার মানসম্মান রক্ষার্থে অবতীর্ণ হন দেবীদুর্গা। সব অসুর দেবীদুর্গার হাতে নিহত হলেও ব্রাক্ষ্মার বরপ্রাপ্ত রক্তবীজ বারবার বেঁচে যায়।অবশেষে ক্রোধাম্বিত দেবীদুর্গা তাঁর ভ্রু যুগলের মাঝ থেকে জন্ম দেন কালীকে। কালীর ভয়াবহ রুদ্রমূর্তি আর নগ্নিকা রূপে নিহত হতে থাকে একের পর এক অসুর। রক্তবর্ণ লকলকে জিভ বের করে কালী গ্রাস করে নিতে থাকেন একের পর অসুর এবং তাদের রণবাহিনীকে। হাতি, ঘোরা সমতে অসুরের দলকে কালী গ্রাস করতে থাকেন। রক্তবীজকে অস্ত্রে বিদ্ধ করে তার শরীরের সমস্ত রক্ত পান করে নেন কালী। রক্তবীজের শরীর থেকে একফোঁটা রক্ত যাতে মাটিতে না পরে সেজন্য কালী তাকে শূন্যে তুলে নেন। রক্তবীজকে এক্কেবারে রক্তশূন্য করে দেহ ছুঁড়ে ফেলে দেন|শান্ত হল ব্রম্হান্ড |রক্ষা পেলো সৃষ্টি|আগামী পর্বে আরো বিস্তারিত আলোচনা করবো দেবী কালীর রূপ ও তার মহাত্ম নিয়ে|বিদায় নেয়ার আগে জানিয়ে রাখি আগামী কৌশিকী অমাবস্যায় হৃদয়েশ্বরী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরের বিশেষ পুজো, হোম যজ্ঞ ও গ্রহ দোষ খণ্ডন সম্পন্ন হবে|আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে ও সরাসরি কথা বলুন আমার সাথে|ভালো থাকুন|পড়তে থাকুন|নমস্কার|
কেন শ্রী কৃষ্ণ, কালী রূপ ধারণ করেছিলেন ?
দ্বাপর যুগে শ্রীমতী রাধারাণী যখন শ্রীকৃষ্ণের প্রেম লীলায় মত্ত ছিল, তখন নন্দকুলের সকল গোপীগণ হঠাৎ করে শ্রীকৃষ্ণের বাঁশির ধ্বনি শুনতে পেয়ে হতচকিত হয়ে উঠেছিল। রাধারাণী তখন আয়ান ঘোষের আলয়ে নিত্য দিনের মতো রন্ধনরতা অবস্থায় ছিল। কৃষ্ণের এই মুরলী বংশীর ধ্বনি শুনে রাধার কানে পৌঁছানো মাত্রই রাধা তখন উতলা হয়ে পড়ে। অতঃপর রাধা রন্ধন সালা ত্যাগ করে তার সমাগত সহচরী সখী বৃন্দের সাথে দৌড়ে সেই স্থানে কানন অভিমুখে ছুটে গেলো। এদিকে আয়ানের বোন কুটিলা রাধার পালিয়ে যাওয়া দেখতে পেয়েও না দেখার ভান করে থাকে। এরপর আয়ান বাড়ি ফিরলে মা জটিলা বোন কুটিলা আয়ানকে রাধার ওপরে রাগিয়ে তোলার চেষ্টা করল। কুটিলা বলে, দাদা তোমার রাত বেড়ানো কুলটা স্ত্রী কে নিয়ে আমরা আর কোনোদিন সুখে শান্তিতে ঘর সংসার করতে পারবো না। তখন আয়ান ঘোষ বলল রাত বেড়ানো সে আবার কি রে কুটিলা? তোর কথার কোনো কিছুই তো আমি বুঝতে পারলাম না! রাধে আমায় বলেছে আজ সে আমার মঙ্গলের জন্য শ্যামা মায়ের শ্রী চরণে পুজা করবে। তখন কুটিলা বলল, দাদা তোমার রাধে আজ আসলে শ্যামা মায়ের পূজা করবে নাকি শ্যামের পূজা করবে তা আমারা কি কিছু জানি? তাই যদি হতো তাহলে শ্যামা মায়ের পূজা বুঝি ঘরে বসে হয় না? এদিকে হাঁটে বাটে ঘাটে মাঠে বদনাম শুনতে আমাদের কানে যে আর এগুলি মোটেও সহ্য হয় না। তোমার মতো আমরা তো আর চোখ থাকতে অন্ধ বাকেউ কানাও নই গো দাদা! এখন আর তোমার কাছে আমরা এ সমস্ত কথা বলেও কোনো কাজ হবেনা গো দাদা! একত্রে থাকতে গেলে সকলের ভালো মন্দ দেখতে হয়। আসলে কি হয়েছে তোরা আমাকে সরাসরি বলনা রে। আমি যে আর মোটেও রাধের বিরহের কথা একদম ভাবতে পারছি না। তখন তার মা জটিলা বলল, আমি বাপু কখনো কিছু বললে আমার কথা তুমি কানে তোলো না। তাই বেশতো এখন তোমার স্ত্রী নিয়েই একাকি থাকো। কুটিলা বলে, অতএব তোমার স্ত্রী কে তুমি সামলাও আমাদের কখনো ডেকনা দাদা। আগেও কতবার দেখেছি তোমার রাধে সেখানে রাত বিরেতে যেত, এখন আবার দেখি সে কিন্তু দিন দুপুরেও ঘরে থাকেনা। তখন আয়ান বলল, কুটিলা তুই কি আজ আসলেই তাকে হাতে নাতে ধরিয়ে দিতে পারবি বল? তাই যদি পারিস বোন তাহলে এখনই তুই সেখানে চল আমার সাথে। আমি সেখানে যদি রাধাকে দেখতে পাই তবেই এখন আমার চক্ষু কর্ণের বিবাদ মিটবে। তখন আয়ান ঘোষ প্রকাণ্ড একটি যষ্টি হাতে নিয়ে কুটিলাকে বলল আয় আমার সাথে। দেখি সে প্রতিদিন কোথায় যায় আমি আজ আমার নিজের চোখেই দেখব তাকে। যদি শ্যামা পূজা সত্যি সত্যিই মিছে হয় তাহলে কিন্তু আজ তাকে আমি লাঠির এক ঘাতেই মেরে একেবারে যমপুরীতে পাঠিয়ে দেবো।রাগান্বিত আয়ান লাঠি হাতে বড় বড় পা ফেলে রাধার উদ্দেশ্য তেড়ে যাত্রা করে, তার পাছে পাছে যায় জটিলা ও কুটিলা। তখন কালিন্দী কূলে কুঞ্জে কুঞ্জে একত্রিত হয়ে সকল সহচরী সখী বৃন্দ মনের আনন্দে ফুল তুলছিল। আর রাই কিশোরী তার কানাই কে তাঁর মনের মতো করে সাজাচ্ছিল। তখন হঠাৎ করে জটিলা ও কুটিলাকে সাথে নিয়ে আয়ান ঘোষ সেই কুঞ্জে কুঞ্জে, কন্দরে কন্দরে কানন নিকরে কেবলমাত্র শ্রীমতী রাধারাণীকে অন্বেষণ করতে করতে একেবারে সেই বিলাশ কুঞ্জের সমীপে এসে উপস্থিত হলো। দূর হতে আয়ান ঘোষের প্রমত্ত পদশব্দ ও রোষ গর্জন শুনতে পেয়ে সকল গোপীগণ হতচকিত হয়ে শ্রী রাধারাণীকে বলল। একেবারে মহা সর্বনাশ সমুপস্থিত হয়েছে দুলালি, ঐ যে দেখতে পাচ্ছি আয়ান এদিকে আসছে। তখন হঠাৎ এমন মহাবিপদের সংবাদ শুনে রাধারাণী ভিত চকিত হয়ে উঠল। অতঃপর রাধা কাতর নেত্রে শ্রীকৃষ্ণের পানে তাকাতেই তাঁর শ্যামাঙ্গ হতে সহসা বরাভয় প্রকটিত হতে লাগলো। আর চক্ষুর পলকে তার নিজের দ্বিভুজ দেহকানি একেবারে চতুর্ভুজ রূপ হয়েগেল। তখন তার এলু লায়িত কুন্তল যেন একেবারে দল দল করে দুলতে আরম্ভ করে দিতে লাগলো। তাঁর গলায় থাকা বিলম্বিত কমল মালা খানি নৃমুণ্ড মালারূপে, বাঁশি হল অসি এবং কপাল ফলকে তিলক রাগ শিশু শশিরূপে তাঁর দেহে যেন শোভাপেতে লাগলো। সেই মুহুর্তে কিন্তু ভয়ানক ক্রুদ্ধ অবস্থায় ছিল আয়ান ঘোষ। অবশেষে সে কুঞ্জদ্বারে এসে দেখতে পেল একি ! এ যে আমার সেই সমগ্র মানব জীবনের সাধনার ধন। যাকে আমি আমার সারাটা জীবন এই দুই নয়নে একবার দেখার জন্য হন্যে হয়ে খুঁজেছি।এই আমার পরম সেই আরাধ্য কাঙ্খিত ইষ্ট মুর্ত্তি ! তখন একেবারে গদগদ স্বরে আয়ান ঘোষ তার স্ত্রী কে ডাকতে লাগলো রাধে রাধে বলে ! তারপর আয়ান ঘোষ চিৎকার করে বলতে লাগলো ধন্য তুমি গো রাধে ! তোমার করুণার প্রসাদের কারনেই আজ আমি আমার সারা জীবনের সেই আকাঙ্খিত সেই ইষ্ট মূর্তির দর্শন পেলাম। সত্যিই ধন্য তুমি রাধে, তোমার মতো সহধর্মিণী পাওয়ার ফলেই আজ এই সাধের মানব জনম সার্থক হলো।আজ থেকে আমি কখনো তোমাকে আর কোনপ্রকার সন্দেহ করবো না। আামার মা কালী মহেষমোহিনী, মহিষমর্দ্দিনী, মানস মালিন্যহরা। এই ভাবে আয়ান ঘোষ মা কাত্যায়নীর স্তব করা আরম্ভ করলো।জয় আদ্যা সতী, দেবী ভাগবতী, অগতির গতি মা তারা! নমো নারায়ণী, ব্রহ্ম সনাতনী, চন্দ্রাননি, হর দারা ! শ্যামা সুরেশ্বরী, ভীমা ভয়ঙ্করী, দিগম্বরী, ঘোরবেশী ! শশ্মান বাসিনী, সমন ত্রাসিনী, সুহাসিনী, এলোকেশী! উমেশ অঙ্গনা, অঞ্জন গঞ্জনা, নিরঞ্জনা নিরুপমা ! তবনামে পূর্ণ আশ, মুক্ত মোহ পাশ, দিগ বাস মাগো মনোরমা ! নমো নৃত্য মা কালি, নিশানাথ ভালী, মুন্ডু মালী, মহোদরী ! মৃত্যুঞ্জয় জায়া, দে মা তব পদ ছায়া, মহামায়া, মহেশ্বরী ! বরাভয় করা, অসি মুন্ড ধরা। তাপহরা ত্রিনয়না! নমো নিস্তারিনী, শিব সীমন্তিনী, দেহি দীনে কৃপাকণা!
আপনাদের হৃদয়েস্বরী সর্ব মঙ্গলা মায়ের মন্দিরেআসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা শাস্ত্র মতে পুজো ও হোম যজ্ঞ এবং গ্রহ দোষ খন্ডনের সব ব্যবস্থা থাকবে|সামনেই কৌশিকী অমাবস্যা তারপর মহালয়া ও দীপান্বিতা অমাবস্যা সব মিলিয়ে তন্ত্র ও কালী সাধনার শ্রেষ্ট সময় যা গ্রহ দোষ খণ্ডন ও তন্ত্র মতে সমস্যা সমাধানের জন্য আদর্শ |আগামী পর্ব গুলিতে কালী কথা নিয়ে আলোচনা হবে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|নমস্কার|
কালী কথা বিশেষ পর্ব
কালী কথার এই পর্বে আলোচনা করবো পুরান অনুসারে দেবী কালীর জন্ম বা সৃষ্টি তত্ব নিয়ে|কালীর সৃষ্টি হয়ে ছিলো একটি বিশেষ উদ্দেস্যে |স্বর্গ তোলপাড় করে লন্ডভণ্ড করে দিচ্ছে অসুরের দল। দেবতাদের তাড়িয়ে স্বর্গরাজ্যের দখলের চেষ্টাও করছে তারা। দেবতাদের মধ্যে ত্রাহি-ত্রাহি রব। অসুরদের প্রধান রক্তবীজ-ৃএর ছিল ব্রহ্মার বর। যার জেরে রক্তবীজের শরীর থেকে এক ফোঁটা রক্ত ভূতলে পতিত হলেই তা থেকে জন্ম নিচ্ছিল একাধিক অসুর।এই পরিস্থিতিতে কার্যত দিশেহারা দেবতারা|এই বিপদ থেকে স্বর্গ-কে রক্ষা করতে এবং দেবতার মানসম্মান রক্ষার্থে অবতীর্ণ হন দেবীদুর্গা। সব অসুর দেবীদুর্গার হাতে নিহত হলেও ব্রাক্ষ্মার বরপ্রাপ্ত রক্তবীজ বারবার বেঁচে যায়।অবশেষে ক্রোধাম্বিত দেবীদুর্গা তাঁর ভ্রু যুগলের মাঝ থেকে জন্ম দেন কালীকে। কালীর ভয়াবহ রুদ্রমূর্তি আর নগ্নিকা রূপে নিহত হতে থাকে একের পর এক অসুর। রক্তবর্ণ লকলকে জিভ বের করে কালী গ্রাস করে নিতে থাকেন একের পর অসুর এবং তাদের রণবাহিনীকে। হাতি, ঘোরা সমতে অসুরের দলকে কালী গ্রাস করতে থাকেন। রক্তবীজকে অস্ত্রে বিদ্ধ করে তার শরীরের সমস্ত রক্ত পান করে নেন কালী। রক্তবীজের শরীর থেকে একফোঁটা রক্ত যাতে মাটিতে না পরে সেজন্য কালী তাকে শূন্যে তুলে নেন। রক্তবীজকে এক্কেবারে রক্তশূন্য করে দেহ ছুঁড়ে ফেলে দেন|শান্ত হল ব্রম্হান্ড |রক্ষা পেলো সৃষ্টি|আগামী পর্বে আরো বিস্তারিত আলোচনা করবো দেবী কালীর রূপ ও তার মহাত্ম নিয়ে|এই পর্ব থেকে বিদায় নেয়ার আগে জানিয়ে রাখি আগামী কৌশিকী অমাবস্যায় আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরের বিশেষ পুজো, হোম যজ্ঞ ও গ্রহ দোষ খণ্ডন সম্পন্ন হবে|আগ্রহীরা আগাম যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে ও সরাসরি কথা বলুন আমার সাথে|ভালো থাকুন|নমস্কার|