Home Blog Page 129

পুরান রহস্য – বর্বরিকের কথা

কুরুক্ষে যুদ্ধের একটি পর্যায়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বারবারিকের কাটা মাথা জীবিত করে একটি পাহাড়ে স্থাপন করলেন। তিনি বললেন “হে মহান বর্বরিক তোমার এই মস্তক সর্বদা জীবিত থাকবে এবং তুমি সবকিছু দেখবে। কলিযুগে তোমার পূজা হবে এবং তোমার পূজা আমার পূজা বলেই আমি গ্ৰহন করবো। তুমি এই রূপে আমার নামেই পরিচিত হবে, সকলে তোমায় খাটুশ্যাম নামে ডাকবে আর তুমি তোমার শরনাপন্ন সকল দুর্বলের সহায় হবে।” এই বর্বরিক ভগবানের মুখ থেকে শ্রীমদ ভগবত গীতা শুনেছিলেন এবং ভগবানের বিশ্বরূপও দর্শন করেছিলেন।বর্তমানে রাজস্থানে তার মন্দিরও আছে|

কিন্তু কে এই বারবারিক এবং কেনো তার সাথে এমন করেছিলেন ভগবান কৃষ্ণ?আজকের পুরান রহস্য তাকেই উৎসর্গ করলাম,জানাবো তার বীরত্বর কাহিনী|মূলত ‘স্কন্দ পুরাণে’ বর্বরিকের উল্লেখ পাওয়া যায়।বর্বরিক “ভীমের পৌত্র ও ঘটোৎকচের পুত্র ছিলেন, বর্বরিকের মাতার নাম মৌরবি।”

মহাভারতে উল্লেখ আছে “বর্বরিক নবদূ্র্গার উপাসনা করে তিনটি অমোঘ বাণ লাভ করেছিলেন। এই বাণগুলী দ্বারা সে যাদের চিহ্নিত করবে, তারা যত সংখ্যকই হোক সেই বাণ তাদের বিনাশ করে আবার তার কাছে ফিরে আসবে।”
কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ চলাকালীন, বর্বরিকের পিতামহী ‘হিডিম্বাকে’ তিনি কথা দিয়েছিলেন যে দুর্বল পক্ষের হয়েই তিনি যুদ্ধ করবেন। কারন হিড়িম্বা ভেবেছিলেন পান্ডবপক্ষ দুর্বল। কিন্তু এটাই হলো তার কাল। পান্ডবগন যখন জানতে পারলেন যে বর্বরিক তার অমোঘ বাণ দ্বারা এক নিমেষে যুদ্ধ সমাপ্ত করতে পারে তখন তারা খুবই আনন্দিত হলেন।’

কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাকে দেখালেন যে তার প্রথম বাণ সন্ধানের ফলে সম্পুর্ণ কৌরব সেনার নাশ হয়ে গেলেও ‘ভীষ্ম, কৃপাচার্য ও অশ্বত্থামা’ সুরক্ষিত থাকতেন ফলে তখন কৌরব পক্ষ দুর্বল হয়ে যাবে আর বর্বরিক তখন তার প্রতিজ্ঞার কারনে দ্বিতীয় বাণ দ্বারা পান্ডব পক্ষের বিনাশ করতে বাধ্য হবে। যার পরিনাম হবে শুধুই বিনাশ।

এই পরিনাম দেখার পর স্বেচ্ছায় তার অমোঘ বাণ দ্বারা নিজের মস্তক “ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরনে অর্পন করেন।” অবশ্য অর্পন করার আগে তিনি শেষ ইচ্ছা হিসেবে বলেন যে তিনি সম্পুর্ণ যুদ্ধ দেখতে চান।তাই ভগবান কৃষ্ণ তার প্রার্থনা মেনে নিয়ে তার মাথা পাহাড়ে প্রতিষ্ঠিত করে ছিলেন|বারবারিক সমগ্র কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে দেখেছিলেন|শুধু তাই না তিনি মহাভারতের এক উপেক্ষিত বীর এবং ব্যতিক্রমী চরিত্র যার সম্পর্ক খুব কমই জানা যায়|

আজ পুরান রহস্য এইটুকুই|আগামী পর্বে আবার কলম ধরবো নতুন কোনো বিষয় নিয়ে|পড়তে থাকুন|চেম্বার হোক বা অনলাইন ভাগ্যবিচার ও জ্যোতিষ পরামর্শর জন্যে উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|নমস্কার| 

বোলপুর ও শান্তিনিকেতনের অজানা ইতিহাস

কলকাতার কাছাকাছি যতগুলি বেড়ানোর স্থান আছে তারমধ্যে বোলপুর আমার খুব প্ৰিয়, খুব কাছের|কারন একটি নয় অনেকগুলি, প্রথমত প্রকৃতির আদিম সৌন্দর্য এখনো কিছুটা অকৃত্রিম ভাবে উপভোগ করা যায় এই লাল মাটির দেশে, দ্বিতীয়ত রবীন্দ্রঅনুরাগী হিসেবে গুরুদেবের সৃষ্টির কাছাকাছি আসতে হলে আসতেই বোলপুরে|আরেকটি কারন ও আছে তা হলো বোলপুর লাগোয়া কঙ্কালী তলা মন্দিরের সাথে আমার পেশাগত সম্পর্ক বহু দিনের আর তারাপীঠে ও খুব বেশি দুরে নয়|যদিও এবার ঠিক ঘুরতে আসা নয়, বোলপুর আসার আসল কারন চেম্বারে ক্লাইন্ট দের সাথে সাক্ষাৎ, তাদের সমস্যা শোনা ও যথা সাধ্য সমাধানের পথ খোঁজা|তবুও এই শীতের মরসুমে শহর ছেড়ে বের হওয়া মানে এক প্রকার বেড়ানোই বলা যায়|তাই এই কাজের বেড়ানোর কিছু উপলব্ধি বা অতীত অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিই আপনাদের সাথে|

বোলপুরের দর্শনীয় স্থান মানেই শুধু গুরুদেবের আশ্রম নয়| সেই সঙ্গে খোয়াই হাট, কোপাই পার, বিশ্ববাংলা হাটের চাতাল, সোনাঝুরির লাল ধুলো, আমার কুঠিরের কাঁকরের উঠোন খানি। সৃজনী গ্রামের বহুমুখী রূপ, রায়পুর জমিদার বাড়ির ইটের পাঁজরের ইতিহাস, লাল বাঁধের লাবণ্য, ডিয়ার পার্কের চঞ্চল হরিণের দল , ডোঙালি কালি মন্দিরের সন্ধ্যা, কঙ্কালী তলার পবিত্রতা, সবুজ বনের সজীবতা আর উড ফসিল পার্কের অতীতকে খুঁজে দেখাই হল বোলপুর ভ্রমণের সার্থকতা|

বোলপুরের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে বোলপুর থেকে কিলোমিটার তিনেক দূরে অজয় নদীর তীরে একটি ঐতিহাসিক জনপদ ছিলো সুপুর। মার্কণ্ডেয় পুরাণ বলছে, বাংলায় প্রথম বসন্তকালীন দুর্গাপুজার প্রচলন করেন এই সুপুর রাজ্যের এক রাজা সুরথ। তখন গ্রামদেবী ভগবতী শিবিক্ষা। তাঁকে তুষ্ট করতে লক্ষাধিক বলি দিয়েছিলেন সুরথ। সুপুরের শিবিক্ষা মন্দির থেকে ডাঙ্গালি কালিতলা অবধি নাকি হয়েছিল সেই বলি। এরপর থেকেই ডাঙ্গালি কালিতলা ও তার আশপাশের অঞ্চলের নাম হয়ে যায় ‘বলিপুর’। সেই বলিপুরই নাকি আজকের বোলপুর।

শাম্তি নিকেতনের ও নিজস্ব ইতিহাস আছে|নামকরনের ও আলাদা গল্প আছে|আদিতে শান্তিনিকেতনের নাম ছিল ভুবনডাঙা। জমিদার ভুবন সিংহের নামানুসারে এই নাম। এই সিংহ পরিবারের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশেষ ঘনিষ্ঠতা ছিল। একবার তিনি নিমন্ত্রণ রক্ষায় সেখানে গেলে ভুবনডাঙায় রাত হয়ে যায়। দৈবক্রমে সেদিন ছিল জ্যোৎস্নারাত। মাঠের মধ্যে ছিল কতগুলো ছাতিমগাছ। অপূর্ব সেই দৃশ্য। এই নৈসর্গিক দৃশ্যে অভিভূত হয়ে তিনি ভুবনডাঙার প্রেমে পড়ে যান। ১৮৬৩ সালের ৩১ মার্চ তিনি কুড়ি বিঘা জমি পাঁচ টাকায় পাট্টা নিলেন জমিদার ভুবন সিংহের কাছ থেকে। ছাতিমতলাতেই তিনি গড়ে তোলেন এক আশ্রম। পাশে একটি বাড়ি, যার নাম ‘শান্তিনিকেতন’! কালের প্রবাহে ভুবনডাঙা থেকে এলাকাটির নাম হয়ে যায় শান্তিনিকেতন! অনেকে অবশ্যই মনে করেন স্থানীয় দস্যু ভুবন সর্দারের নামে নাম হয়েছিল ভুবন ডাঙ্গার মাঠ|এই তথ্যর সপক্ষে অবশ্য তেমন কোনো প্রমান পাওয়া যায়না|

আপাতত এই পর্বে বোলপুর শাম্তি নিকেতন নিয়ে এতোটুকুই|থাকছি আজ বোলপুর চেম্বারে|জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা হোক বা সমস্যার সমাধানের চেষ্টা|প্রয়োজনে আসতেই পারেন|ফোন করে নেবেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ

বীরভূমের সতী পীঠ

বহুবার এসেছি বীরভূমে, ঠিক কতোবার যে এসেছি তার কোনো হিসেব নেই হয়তো,কখনো তন্ত্র সাধনার কোনো বিশেষ তিথিতে এসেছি বিশেষ হোম যজ্ঞ বা গ্রহ দোষ খণ্ডনের কাজ নিয়ে কখনো চেম্বার করতে কখনো নিছক তীর্থ যাত্রায়, তবে যতবার এসেছি এক অদ্ভুত আধ্যাত্মিক শান্তি পেয়েছি, রোমাঞ্চকর অনুভূতি হয়েছে কারন একমাত্র পশ্চিমবঙ্গর বীরভূমই এমন স্থান যেখানে এক জেলাতে পাঁচটি সতীপীঠের রয়েছে। লাল মাটির দেশ বীরভূমকে তাই বলা চলে মা কালীর চারণভূমি।আজ আবার এলাম প্রধান উদ্দেশ্য অবশ্যই চেম্বারে জ্যোতিষ চর্চা ও মানুষের সমস্যার সমাধান দেয়া|তার মাঝেই বীরভূমের পাঁচটি সতী পীঠ গুলি নিয়ে একটি প্রতিবেদন আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছি|

নলাটেশ্বরী দিয়ে শুরু করছি, বীরভূমের নলহাটি স্টেশনের নিকটবর্তী এই স্থানে দেবী পার্বতীর কন্ঠনালী পড়েছিল। সেই থেকে এই এই পিঠের নাম নলাটেশ্বরী।একটি ছোট টিলার উপরে গড়ে উঠেছে মা নলাটেশ্বরী মন্দির, যা একসময় ঢাকা ছিল ঘন জঙ্গলে। এই মন্দিরের মা আমিষাশী। বছরের ৩৬৫ দিনেই এখানে মা-কে অন্ন ভোগ দেওয়া হয়। লোক মুখে প্রচারিত, কামদেব স্বপ্নাদেশে সতীরী কন্ঠনালী উদ্ধার করেন। দেবী এখানে ত্রিনয়নী কালিকা রূপে পূজিত হন। এই সতীপীঠের নামানুসারেই জায়গাটির নাম দেওয়া হয়েছে নলহাটি।

এরপরই নন্দীকেশ্বরী মন্দির। সতীর কন্ঠ হার পড়েছিল এখানে। সতী এখানে পূজিত হন নন্দিনী রূপে এবং মন্দিরে অবস্থিত ভৈরব এখানে পূজিত হন নন্দীকেশ্বর রূপে। এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সাধক বামাক্ষ্যাপার সিদ্ধিলাভের কাহিনীও। পুরাণ মতে, সাধক বামাক্ষ্যাপা যখন তারাপীঠে সাধনা করছিলেন, একদিন তাঁকে স্বপ্নে দেখা দেন মা নন্দীকেশ্বরী। তাঁকে আদেশ দেওয়া হয়, একমাত্র এই রূপে মা-কে পুজো করলেই সিদ্ধিলাভ হবে।

সারা বিশ্বের ৫১ সতী পীঠের অন্যতম বীরভূমের বক্রেশ্বর। ঋষি অষ্টবক্র মুনির নামানুসারে এই জায়গার নাম হয় বক্রেশ্বর। সতীর দুই ভ্রু-র মধ্যস্থল অর্থাৎ মন পড়েছিল এখানে। মা এখানে মহিষমর্দিনী দুর্গা রূপে পুজিত হন

বীরভূমেই রয়েছে ৫১ সতী পীঠের অন্যতম ফুল্লোরা সতীপীঠ, লাভপুরে অবস্থিত। এখানে সতীর অধঃওষ্ঠ বা ঠোঁট পড়েছিল। এখানে দেবী, ফুল্লোরা রূপে ও ভৈরব বিশ্বশ্বর রূপে পূজিত হন। তবে দেবী ফুল্লোরার কোনো বিদ্রোহ নেই এই মন্দিরে। মন্দিরের ভিতরে রয়েছে টকটকে লাল রঙের বড় একটি পাথরের খন্ড। সেই পাথরের সামনের ভাগটা ওষ্ঠাকৃতির।বশিষ্ট মুনির পুত্র অট্টহাস ছিলেন এই সতীপীঠের প্রথম সাধক এবং তাঁর নামানুসারেই জায়গাটির তৎকালীন নাম ছিল অট্টহাস

সতীপীঠের শেষ পীঠ কংকালীতলা পুরাণ মতে, দেবীর কাঁকাল বা কোমরের কংকাল এই স্থানে পড়েছিল। যার ফলে এখানকার নাম কংকালীতলা। এছাড়াও এই মন্দিরে দেবী, দেবগর্ভা হিসেবে পূজিত হন। এখানে কোনও মাতৃ বিগ্রহ বা প্রতিমা নেই। কংকালী মায়ের ছবিতেই পুজো করা হয় এখানে। কংকালীতলা মন্দিরের পাশেই রয়েছে পাড় বাঁধানো ছোট পুকুর, যার চারিদিকে সিঁড়ি নেমে গেছে জলে। এটাই আসল সতীকুণ্ড। যার মধ্যে সতীর কাঁকাল পড়েছিল।

আগামী পর্বে লিখবো তারাপীঠের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে কিছু গুরুত্ব পূর্ণ কথা তার পাশাপাশি থাকবে বোলপুরের ইতিহাস নিয়ে কিছু তথ্য|পড়তে থাকুন|জানিয়ে রাখি তিন ও চার তারিখ থাকছি যথাক্রমে তারাপীঠে ও বোলপুরে|যারা চেম্বারে আসতে চান ভাগ্য বিচার ও জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে|নির্দ্বিধায় উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করতে পারেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

পন্ডিতজির আসাম যাত্রা

যেমন টা আগেই বলেছিলাম আজ থাকবো আসামে, চলে এসেছি, আজ কাল দুদিনই থাকবো, আজ শিলচর ও কাল গৌহাটি, যদিও বেড়ানোর টাইম খুব একটা হবেনা কারন বহু মানুষ আমার অপেক্ষায় আছে, তাদের সমস্যা সমাধানেই কেটে যাবে বেশিটা সময়|তবে আসাম যাত্রা আমার এই প্রথম নয়, বহুবার এসেছি এবং প্রতিবারই আসামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য,ঐতিহাসিক স্থান গুলি এবং মন্দির গুলি আমায় মুগ্ধ করেছে|আজ সেই ভ্রমনের অভিজ্ঞতা ও সুখস্মৃতি আপনাদের সাথে ভাগ করেনিই, সাথে কিছু তথ্য|

এক সময় আসামের নাম ‘কামরূপ’ ছিল। আরও প্রচীনকালে কামরূপ ছিল ‘প্রাগজ্যোতিষ’ নামে পরিচিত| আসামে বহু প্রাচীন ক অনেক মন্দির আছে। এর মধ্যে কামাখ্যা ও ঊমানন্দা মন্দির দুটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া শহরের কেন্দ্রস্থলে ১০ম শতকে নির্মিত জনার্দন মন্দির দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে।

আসামে এলে ঘুরে দেখতে ভুলবেননা আসাম স্টেট মিউজিয়াম। গুয়াহাটি শহরে এই জাদুঘর অবস্থিত। স্বাধীনতার আগে ১৯৪০ সালে জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয় ।পরবর্তীতে ১৯৫৩ সালে জাদুঘরটি আসাম রাজ্য সরকার নিয়ন্ত্রণে নেন। এটি ভারতের অন্যতম বৃহৎ সংগ্রহশালা। এখানে প্রচীন কালের পাথরের মূর্তি, কাঠ, ধাতু এবং টেরাকোটার নানা নিদর্শন, লিপি, কারুশিল্প, লোকশিল্প, নানা ধরনের অস্ত্রসহ আসামের ইতিহাস-ঐতিহ্য, ও শিল্প-সংস্কৃতির নানা নিদর্শন রয়েছে।

আসাম স্টেট মিউজিয়ামের পাশেই যুদ্ধ স্মারক উদ্যান। বিশাল একটি দিঘিকে ঘিরেই মূলত এ স্মারক সম্ভার। দিঘির সম্মুখভাগেই আছে যুদ্ধ-স্মারক বিমান ও ট্যাংক। এছাড়া আছে কিছু ভাস্কর্য।

তন্ত্র ও জ্যোতিষ জগতের মানুষ হিসেবে কামাখ্যা মন্দির আমার জীবনের সাথে গভীর ভাবে জড়িয়ে রয়েছে, বহুবার এসেছি, কখনো ঘুরতে, কখনো কাজে, জানিয়ে রাখি হিন্দু দেবী কামাখ্যার এই মন্দির আসামের রাজধানী গুয়াহাটি শহরের পশ্চিমে নীলাচল পর্বতে অবস্থিত। এটি ৫১ সতীপীঠের অন্যতম। মন্দির চত্বরে দশমহাবিদ্যার মন্দির আছে।

আসামে এতো কিছু দেখা সত্ত্বেও কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্ক না ঘুরলে আসাম ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যায়|আসামের গোলাঘাট এবং নাগাওন জেলায় অবস্থিত। এই বন একশৃঙ্গী গণ্ডারের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এছাড়া এ বন বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবেও স্বীকৃত। আসাম একশৃঙ্গের গণ্ডারের জন্য বন্যপ্রাণী বা প্রকৃতিপ্রেমীর কাছে বেশি পরিচিত। ফলে রাজ্যটি বন্যপ্রাণী পর্যটনের ক্ষেত্রে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হয়ে উঠছে। এছাড়া আসামের চা বিশেষ বিখ্যাত।তবে আমার মতে সব থেকে বিখ্যাত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আসামের মানুষের আতিথেয়তা ও তাদের সারল্য|

আপাতত সেই বিখ্যাত চায়ে চুমুক দিয়ে ব্যাস্ত হয়ে যাবো ক্লাইন্ট দেখায়, তবে কালও থাকছি, সময় সুযোগ হলে আবার আসাম নিয়ে দুচার কথা বলবো আপনাদের জন্যে|জানাবেন আপনাদের মতামত|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ

ত্রিপুরায় পন্ডিতজি

করোনা আতঙ্ক কাটিয়ে, ঘর বন্দী দশা ঘুচিয়ে আবার ডানা মেলার পালা, আবার ভিন রাজ্যে পাড়ি দেয়া, যদিও মূল উদ্দেশ্যে চেম্বার এবং ক্লাইন্ট দের সাথে সাক্ষাৎ তবু যতবার এই ত্রিপুরায় পা রাখি এক অদ্ভুত আনন্দ পাই কারন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন ও আধ্যাত্মিক প্রতিতষ্ঠান এর এক অদ্ভুত মেল বন্ধন ঘটেছে এই রাজ্যে|

এক দিকে ত্রিপুরার চিত্রবৎ পরিবেশ সবুজ উপত্যকা, পাহাড়ী স্রোত, পাহাড় এবং উপত্যকা দ্বারা পরিবেষ্ঠিত। প্রাকৃতিক ভাবে ত্রিপুরার জনপ্রিয় আকর্ষণ স্থলগুলি হল কমলাসাগর হ্রদ, ডামবুর হ্রদ, উজ্জায়ান্তা প্রাসাদ, নীড়মহল, কুঞ্জবন প্রাসাদ, ত্রিপুরা সরকারী যাদুঘর, জাম্পুই পাহাড় ইত্যাদি যা আপনাকে একবার এলে বার বার আসতে বাধ্য করবে|

বলতেই হয় ত্রিপুরার সরকারী যাদুঘর একটি দর্শনীয় স্থান, এটি হল একটি সংগ্রহস্থল যেখানে হস্তনির্মিত এবং প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে যা উত্তর-পূর্বের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করে। বস্তুত, এই যাদুঘটি রাজ্যের সাংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে গন্য হয়|

গোমতী অভয়ারন্য রোয়া অভয়ারণ্য এবং সিপাহিজলা অভয়ারণ্য রাজ্যের মধ্যে অন্যতম পর্যটন স্থল যেখানে গেলে বন্যপ্রান প্রেমীরা মুগ্ধ হবেন|

আধ্যাত্মিক জগতের মানুষ হিসেবে ত্রিপুরার প্রাচীন মন্দির গুলির সঙ্গে আমার সম্পর্ক বহু দিনের|ত্রিপুরার মন্দিরগুলি হল এই রাজ্যের পর্যটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ত্রিপুরার মন্দিরগুলি তাদের স্থাপত্য এবং ভাস্কর্য-এর জন্য সুপরিচিত|

এক্ষেত্রে তিনটি মন্দিরের কথা বিশেষ ভাবে বলতে হয়|ভুবনেশ্বরী মন্দিরটি গোমতী নদীর তীরে অবস্থিত যা ত্রিপুরার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘রাজর্ষি’ এবং ‘বিসর্জন’ এর প্রেক্ষাপট হিসেবে এই মন্দিরটি ব্যবহৃত হয়েছিল।হিন্দুদের ৫১ টি পীঠস্থানের একটি হল ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির যা আগরতলা থেকে প্রায় 55 কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত,
এবং ত্রিপুরার সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটনস্থানের একটি হল কমলাসাগর কালী মন্দির যা বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত। মন্দিরগৃহে অবস্থিত দেবীর ভাবমূর্তিকে মহিষমর্দিনীর অনুরূপ হিসাবে বর্ণনা করা হয়ে থাকে।

ত্রিপুরার মানুষের আতিথেয়তা ও সুন্দর ব্যাবহারের কথাও বেশ সুপ্রসিদ্ধ, আজ রয়েছি ত্রিপুরায়, আগামী দুদিন থাকবো যথাক্রমে শিলচর ও গুয়াহাটি, সেই স্থান গুলি নিয়েও বলবো যথা সময়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

পুরান রহস্য – বৃহস্পতির অভিশাপ

সম্প্রতি বৃহস্পতির সঞ্চার হয়েছে গ্রহরাজা শনির ঘরে, এই সঞ্চার নানা দিক দিয়ে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, প্রায় প্রতিটি রাশির জাতক জাতিকার জীবনেই এই সঞ্চার প্রভাব ফেলবে, সেই প্রভাব নিয়ে ইতিমধ্যে টিভি ও ইউটিউব এর অনুষ্ঠানে আলোচনা করেছি আজ আলোচনা করবো বৃহস্পতি সংক্রান্ত কিছু পৌরাণিক বিষয় নিয়ে, জানাবো একটি বিশেষ ঘটনা|

বৃহস্পতি ছিলেন দেব গুরু, সর্বশ্রেষ্ঠ পন্ডিত দের অন্যতম, খুব স্বাভাবিকভাবেই ইন্দ্র- স্বর্গের রাজা তাঁকে তার প্রধান পুরোহিত হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন। বৃহস্পতির একজন স্ত্রী ছিলেন, তার নাম ছিল তারা। বৃহস্পতি বলতে যেমন ওই নামের গ্রহকে বোঝায় তেমনই তারা মানে নক্ষত্র|তারা একদিন পূর্ণ চন্দ্রের দিকে তাকালেন এবং চাঁদের দেবতার প্রেমে পড়ে গেলেন। চন্দ্র নিজে পৃথিবীতে নেমে এলেন এবং দুজনে গভীর ভালোবাসার সম্পর্কে আবদ্ধ হলেন|

স্বাভাবিক ভাবেই বৃহস্পতি এই ঘটনায় ভয়ঙ্কর রেগে গেলেন এবং তিনি ইন্দ্রকে বললেন, “আমি আমার স্ত্রীকে ফেরত চাই। আপনাকে তাকে ফেরত এনে দিতে হবে, অন্যথায় আমি আপনার ধর্মানুষ্ঠান পরিচালনা করবো না।” ইন্দ্র হস্তক্ষেপ করলেন এবং তারাকে ফিরতে বাধ্য করলেন কিন্তু তখন গর্ভবতী ছিলেন তারা,কিছুদিন পরেই বৃহস্পতি জানতে পারলেন এই সন্তান তার নয়, তার স্ত্রী ও চন্দ্রর সন্তান তখন তিনি সেই শিশুটিকে অভিশাপ দিলেন এই বলে যে, “তুমি যেন একজন নপুংসক হও – না নারী, না পুরুষ।” সেই সন্তান ই নবগ্রহের অন্যতম গ্রহ বুধ বা বুধের অধিষ্টিত দেবতা|

জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে বুধের কারকতা, তার বৈশিষ্ট ও চরিত্রর মধ্যে আজও সুস্পষ্ট রয়েছে বৃহস্পতির সেই অভিশাপ|যাই হোক এই ছিলো পৌরাণিক ঘটনা ও তার ব্যাখ্যা|গ্রহ গত সমস্যা ও তার জ্যোতিষ কেন্দ্রীক সমাধান পেতে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শুভ নানক জয়ন্তী

আজ 19 নভেম্বর সারা দেশ জুড়ে পালিত হবে সিখ সম্প্রদায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব নানক জয়ন্তী।কোথাও কোথাও এটি গুরু পর্ব বা প্রকাশোৎসব নামেও পরিচিত|আজ এই বিশেষ দিনে আসুন নতুন করে আরো একবার জানার চেষ্টা করি এই মহান গুরুর জীবন ও তার আধ্যাত্মিক কর্মকান্ড|

১৪৬৯ সালে তালবন্ডী নামক স্থানে শিখ ধর্মের অন্যতম ধর্মগুরু, গুরু নানক জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে এটি পাকিস্তানে অবস্থিত ও নানকানা সাহিব হিসেবে পরিচিত|গুরুনানকের জন্ম তিথিতেই প্রতি বছর পালিত হয় নানক জয়ন্তী|

শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন উদাসীন প্রকৃতির|মনে করা হয় মাত্র ৭-৮ বছর বয়সে তিনি স্কুলে যাওয়া ছেড়ে দেন|এই সময়ে থেকেই তার মধ্যে ভগবত প্রাপ্তি সম্পর্কে নানান প্রশ্ন উঁকি দিতে থাকে|পরবর্তীতে গুরু নানক অধিকাংশ সময় আধ্যাত্মিক চিন্তাভাবনা ও সৎসঙ্গে কাটাতে শুরু করেন|

একটা সময়ের পর তার মধ্যে দৈব শক্তির প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়|বোঝাযায় তিনি কোনো সাধারণ মানুষ নয়|তার জন্ম হয়েছে একটি বিশেষ লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্য নিয়ে|কালক্রমে, আধ্যাত্মিক চর্চা ও সাধনার মধ্যে দিয়ে তিনি হয়ে উঠলেন সকলের শ্রদ্ধেয় গুরুনানক|শিখ সম্প্রদায় তথা সমগ্র মানব জাতীর কাছে এক প্রণম্য ব্যাক্তিত্ব|

এই মহান গুরুকে আমার প্রণাম ও শ্রদ্ধা জানাই|সবাইকে জানাই নানক জয়ন্তীর অনেক শুভেচ্ছা|দেখতে থাকুন আমার অনুষ্ঠান, পড়তে থাকুন আমার প্রতিটি লেখা, যোগাযোগ করুন প্রয়োজন মনে করলে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

রাসপূর্ণিমার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

আজ সনাতন ধর্মের তথা সারা বিশ্বের বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব, রাস পূর্ণিমা,বাংলায় চৈতন্যদেব রাধাকৃষ্ণের রাস উৎসবের সূচনা করেছিলেন নবদ্বীপে|পুরান মতে
রাস মূলতঃ শ্রীকৃষ্ণের ব্রজলীলার অনুকরণে বৈষ্ণবীয় ভাবধারায় অনুষ্ঠিত ধর্মীয় উৎসব। ভগবান কৃষ্ণ কার্তিক মাসের এই পূর্ণিমাতেই বৃন্দাবনে রাধা-সহ সখীদের মেতেছিলেন রাসলীলায়, সেই তিথিকেই পালন করা হয়, রাস পূর্ণিমা রূপে,

আক্ষরিক অর্থে রাস শব্দের আরেক অর্থ অনেকের সঙ্গে একসঙ্গে আনন্দঘন নৃত্যবিশেষ
যদিও রাস শব্দর উৎপত্তি হয়েছেন ‘ রস’ শব্দ থেকে, এখানে রস মানে আনন্দ, দিব্য অনুভূতি, দিব্য প্রেম বা ভক্তি রস|

অনেকে মনে করেন, ঈশ্বরের সঙ্গে আত্মার মহামিলনই রাস, চীরহরণের’ পর গোপীদের সঙ্গে শ্রী কৃষ্ণর এই লীলা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো বৃন্দাবনে, গোপীরা অধীর অপেক্ষা করছিলো কবে শ্রীকৃষ্ণের কাছ থেকে, তাদের ডাক আসবে, অবশেষে এই পূর্ণিমা তিথিতে কৃষ্ণ তাদের সেই আশা পূর্ণ করেন রাস নৃত্যর মাধ্যমে, একদিক দিয়ে দেখতে গেলে এই উৎসব ভক্ত ও ভগবানের মিলন উৎসব|শ্রীমদ্ভাগবতে একটি বিশেষ অংশ হল রাসলীলা।

আমার ও আমার পরিবারের তরফ থেকে আপনাদের সবাইকে জানাই রাস পূর্ণিমার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

দেব সেনাপতি কার্তিক

আজ কার্তিক সংক্রান্তি,কার্তিক পুজোর এই পবিত্র সময়ে দেব সেনাপতি কার্তিকের জন্ম বৃত্তান্ত ও তার বাহন অর্থাৎ ময়ূর নিয়ে কিছু পৌরাণিক তথ্য ও ব্যাখ্যা আপনাদের সামনের উপস্থাপন করবো এই বিশেষ পর্বে|

কোথাও তিনি মুরগান, কোথাও শুভ্রমনিয়াম, আবার বাংলায় তিনি ঘরের ছেলে কার্তিক|
কার্তিক শিব ও পার্বতীর সন্তান এ আমরা সবাই জানি, কিন্তু তার জন্মর একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে ছিলো|তারকাসুরের অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য দেবতারা একজন শৌর্য-বীর্যসম্পন্ন দেবসেনাপতির খোঁজ করছিলেন। অবশেষে সকলে মিলে মহাদেবের শরণাপন্ন হলেন তপস্যা ভঙ্গ করে অন্তত যাতে একটা পুত্র তিনি দেবতাদের উপহার দেন। এতে শিব সম্মত হয়ে নিজের তেজ নিঃক্ষেপ করলেন, মহাদেবের তেজ গিয়ে পড়ল পৃথিবীতে। বসুন্ধরা এই তেজ সহ্য করতে না পেরে তা অগ্নিতে নিক্ষেপ করলেন। অগ্নি আবার সেই মহাতেজ শরবনে নিক্ষেপ করলেন। আর এই শরবনেই একটি সুন্দর সন্তানের জন্ম হল। ঠিক এই সময় ছয়জন কৃত্তিকা অগ্নির ছয় পত্নী সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন।তারা কার্তিকের লালন পালনের দায়িত্ব নিলেন|পরবর্তীতে তিনি হলেন দেব সেনাপতি এবং যুদ্ধে বধ করলেন তারকাসুর কে|কার্তিকের বিবাহ হয়েছিলো দেবসেনা নামক এক রমণীর সাথে|

আবার বিবাহ সংক্রান্ত অন্য একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যাও আছে যা মূলত লোককাহিনী যেখানে কার্তিক উষা নামে এক সুন্দরী রমণীকে বিবাহ করতে চেয়েছিলেন কিন্তু মাতা পার্বতীর সম্মতি না দেয়ায় তিনি আর বিবাহ করেননি এবং চীরকুমার রয়ে গেছিলেন|যাইহোক অগ্নির ছয় পত তাকে পালন কোরেছিলেন তাই তার নাম সড়ানন|

কার্তিকের বাহন ময়ূর কেনো হলো তা নিয়েও একটি ব্যাখ্যা আছে, ময়ূর খুব সামান্যই নিদ্রা যায়। সর্বদা সতর্ক। আলস্যহীন। ময়ুরের স্বজনপ্রীতি লক্ষণীয়। সৈনিক পুরুষ ময়ূরের মতো অনলস, কর্মকুশল এবং লোকপ্রিয় হবেন তা বলাই বাহুল্য। তাছাড়া, ময়ূর মেঘ দেখলে যেমন আনন্দে পেখম তুলে নৃত্য করে, তেমনই ধীর ব্যক্তি শত বিপদেও উৎফুল্ল থাকবেন। সম্ভবত এই সব কারণেই দেব সেনাপতি কার্তিকের উপযুক্ত বাহন হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ময়ূর|

আপনাদের সবাইকে কার্তিক পুজোর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরান রহস্য – দেবী জগদ্ধাত্রী ও তার উৎপত্তি

শাস্ত্র মতে মা দুর্গা মর্ত্য থেকে কৈলাসে ফিরে যাওয়ার পর আবার মর্ত্যে ফেরেন দেবী জগদ্ধাত্রী রূপে।কিন্তু এই দেবীর উৎপত্তি ও তার পুজোর কারন নিয়ে একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যাও আছে|আজকের পর্বে জানাবো সেই পুরান রহস্য|পুরান মতে মা দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করার পর দেবতারা আবার নিজেদের পুরানো গর্বে অভিভূত অবতারে ফিরে যান। নিজেদের ক্ষমতার অহংয়ে তারা আবার অন্ধ হয়ে পড়েন। যেন তাঁরাই দণ্ডমুণ্ডের কর্তা, তাঁরা ছাড়া আর কারও কোনও শক্তিই নেই আর কী!দেবতাদের এই অহংকার দেখে ভারী ক্রুদ্ধ হয়ে যান ব্রহ্মা। তিনি যক্ষরূপ ধারণ করে দেবতাদের একে একে ডেকে পাঠান। একটি সামান্য ঘাসকে রেখে তিনি পবনদেবকে বলেন তা নিজ ক্ষমতায় সরিয়ে দেখাতে। পবনদেব হাজারো চেষ্টার পরেও বিফল হন। এরপর বরুনদেবকে ডেকে পাঠানো হয় এবং বলা হয় ঘাসটিকে ভিজিয়ে দেখাতে। তিনিও অসফল হন। তারপরে ডাক পরে অগ্নিদেব, তিনিও ঘাসটিকে জ্বালাতে সক্ষম হন না।এই ভাবে দেবতাদের অহংকার চূর্ণ হয়|প্রত্যেকে অসফল হওয়ার পর নিজরূপে হাজির হন ব্রহ্মা। এবং তিনি দেবতাদের বোঝান যে সবার ওপরে ব্রহ্মাই সত্যি। তাহার ওপর কেহ না। তিনি আরও বলেন, দেবতাই হোক কিংবা মানব অথবা দৈত্য, এই জগতে সবচেয়ে বড় একটি অসুরের বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই করতে হবে আর সেটি হল তাঁদের মানসিক অহংয়ের অসুর।করিন্দ্রাসুর আসলে এই অহং বোধের প্রতিফলন|আর এই অসুরকে বধ করতেই পরম ব্রহ্ম যে দেবীর রূপ নেন, তিনিই জগদ্ধাত্রী। আপনাদের সবাইকে জগদ্ধাত্রী পুজোর বিজয়ার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|আবার অনলাইনে ও চেম্বারে নিয়মিত জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকার নির্ধারনের কাজে মনোনিবেশ করেছি|প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|নমস্কার|