Home Blog Page 130

দেবী জগৎধাত্রী

দুর্গাপুজো, লক্ষী পুজো, কালী পুজোর পর এবার জগদ্ধাত্রী পুজো, শাস্ত্র মতে দেবী জগদ্ধাত্রীর পুজোর গুরুত্ব অপরিসীম, তাই বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বন বা  এই ধর্মীয় উৎসব গুলির অন্যতম জগৎধাত্রী পুজো|কিভাবে বাংলায় জগৎধাত্রী পুজোর প্রচলন হলো তা নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও নদিয়ার রাজা কৃষ্ণ চন্দ্রের হাত ধরে যে এই পুজো বাংলায় জনপ্রিয়তা লাভ করে সে বিষয়ে প্রায় সবাই একমত|

দুর্গাপুজোর একমাস পর কার্তিকের শুক্লা নবমী তিথিতে তাঁর স্বপ্নাদিষ্টের রূপের প্রতিমা নির্মাণ করিয়ে পুজোর আদেশ দেন কৃষ্ণচন্দ্রকে। সেই থেকেই নদিয়ায় জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা। যা পরবর্তী কালে গোটা বাংলা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে|চন্দন নগরে প্রায় প্রধান উৎসব বলা হয় জগৎধাত্রী পুজোকে যা মহাসমারোহে পালিত হয়|ভিড় জমান দূর দূরান্তের মানুষ|

দেবী  জগদ্ধাত্রী দূর্গারই এক রূপ তার  বাহন সিংহের পদতলে একটি হস্তীমুণ্ড থাকে। প্রচলিত বিশ্বাস, জগদ্ধাত্রী করীন্দ্রাসুর অর্থাৎ মহাহস্তীরূপী অসুরকে বধ করেছিলেন। এই কারণে জগদ্ধাত্রী ‘করীন্দ্রাসুরনিসূদিনী’ নামে পরিচিত|

সেকালের বাবু সমাজ থেকে আজকের থিম পুজো, জগদ্ধাত্রী পুজোর জনপ্রিয়তা দিন দিন আরো প্রসারিত হয়েছে, যদিও চন্দন নগর বিখ্যাত বিরাট আকারে জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্যে তবে আজকাল সারা বাংলা জুড়েই হচ্ছে জগদ্ধাত্রী পুজো,গত বারের ন্যায় এবছরও  স্বাস্থ সংক্রান্ত বিধি নিষেধ বজায় রেখেই হচ্ছে জগৎধাত্রী পুজো|সেজে উঠছে মণ্ডপ|নিষ্ঠা ও ভক্তির অভাব নেই এতো টুকু|আপনারাও যোগ দিন এই পুজোয়|প্রার্থনা করুন দেবীর কাছে, নিজেদের মনোস্কামনা জানান|নিয়মিত টিভির অনুষ্ঠানে জগদ্ধাত্রী পুজোর শাস্ত্রীয় উপাচার আপনাদের সামনে তুলে ধরছি, আবার শুরু হয়েছে নিয়মিত চেম্বার ও অনলাইন জ্যোতিষ পরিষেবা, প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|সবাইকে জগৎধাত্রী পুজোর শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

ছট পুজোর শুভেচ্ছা

ছুটি শেষে আবার কর্ম ব্যাস্ত জীবনে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে, আবার নিয়মিত টিভির অনুষ্ঠান, ইউটিউব এর অনুষ্ঠান ও ক্লাইন্ট দেখা, তবে আজ ছট পুজো, তাই ছট পুজো নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাচার আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো|ধন, বৈভব, যশের কামনা করে থাকলে ছট পুজোর দিন প্রত্যক্ষ দেবতা সূর্যের সাধনা করতে ভুলবেন না। এদিন, বিধি অনুযায়ী পুজো ও উপোস করলে সমস্ত বাধা দূর হয় ও সরকারি চাকরি ও ব্যবসায় সাফল্য হাতে আসে।আজকের দিনে স্নান করে সূর্যকে জলের অর্ঘ্য দেওয়া উচিত। রোজ এই অর্ঘ্য দেওয়া যেতে পারে। ধর্মীয় ধ্যান-ধারণা অনুযায়ী, নিয়মিত জলের অর্ঘ্য দিলে সূর্য দেব খুশি হন।ছট পুজোর দিন সূর্য উপাসনায় মন্ত্র জপ করলে মনোকামনা শীঘ্র পুরো হয়। সুখ-সমৃদ্ধি, উন্নত স্বাস্থ্য ও সরকারি চাকরির জন্য সূর্যের মন্ত্র উপযোগী।এই মন্ত্রটি হলো এহি সূর্য সহস্ত্রাংশো তেজোরাশো জগত্পতে।অনুকম্পয় মাঁ ভক্ত্যা গৃহণাধ্য্র দিবাকর।।ওম ঘৃণি সূর্যায় নমঃ।।ওম এহি সূর্য সহস্ত্রাংশো তেজোরাশো জগত্পতেয় অনুকম্পয়েমাং ভক্ত্যায় গৃহাণার্ধয় দিবাকররু।।ওম হৃীং ঘৃণিঃ সূর্য আদিত্যঃ ক্লীং ওম।।সূর্যকে প্রসন্ন করার জন্য ছট পুজোর দিন গুড় দান করা উচিত। এদিন দান করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ব্যক্তি নিজের ইচ্ছানুযায়ী দান করতে পারেন।কমলা সূর্যের রং। রবিবারের দিন তাই এই রঙের কাপড় পড়া উচিত|আপনাদের সবাইকে জানাই ছট পুজোর শুভেচ্ছা, ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরুলিয়া ভ্রমণ – ভৌতিক স্টেশন বেগুন কোদর

ভৌতিক বা অলৌকিক অভিজ্ঞতা জীবনে আমার কিছু কম হয়নি, তার অনেকগুলোই ইতিমধ্যে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি গল্পর মাধ্যমে, এবার পুরুলিয়া ভ্রমণে এসেও এক অন্য ধরণের গা ছমছম করা অভিজ্ঞতা হলো, আজ সেই কথা বলি,আজ গেছিলাম সেই কুখ্যাত বেগুনকোদর স্টেশনে, অনেক ভৌতিক গল্প ও অলৌকিক অভিজ্ঞতা শুনেছি এই স্টেশন কে নিয়ে, আজ নিজে দেখলাম, জানিয়ে রাখি,একটি ঘটনার পর থেকে থেকে ৪২ বছর ধরে বন্ধ ছিল স্টেশনটি।

২০০৯-এ তত্কালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্টেশনটি ফের চালু করেন। তবে ভূতের ভয় যাত্রীদের পিছু ছাড়েনি। বিকেল পাঁচটার পরই এই স্টেশনে আর যাতাযাত আর করেন না যাত্রীরা।পুরুলিয়ায় অযোধ্যা পাহাড় ঘেঁষা ছোট্ট স্টেশন বেগুনকোদর ‘ভূতুড়ে’ স্টেশন হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছিল সেই ১৯৬৭ থেকে।শোনা যায় ওই বছর এক রাতে রেল লাইন ধরে সাদা পোশাক পরা একজন মহিলাকে হেঁটে যেতে দেখে স্টেশন মাস্টার মারা গিয়েছিলেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই মহিলা কয়েক বছর আগে আত্মহত্যা করেছিলেন বলে দাবি। এরপর থেকেই যাত্রীরা স্টেশনটি এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। ‘ভূতুড়ে’ তকমা সেঁটে যায় বেগুনকোদর স্টেশনের সঙ্গে। রেলওয়ের রেকর্ডেও এই তকমা পায় স্টেশনটি।

আজ অবশ্যই কোনো ভূত দেখার অভিজ্ঞতা হয়নি তবে নির্জন ও প্রায় পরিত্যক্ত এই স্টেশন চত্বরে এসে দাঁড়ালে একটু যে গা ছম ছম করে তা ঠিক, রাত কাটানোর অভিজ্ঞতা হলে অবশ্য কি হতো বলা যায়না, সে উত্তর তোলা থাক ভবিষ্যত এর জন্যেপরের অভিজ্ঞতা কি হয় জানাবো যথা সময়ে, পড়তে থাকুন|ভালো লাগলে জানাবেন|ভালো থাকুন|নমস্কার|

পুরুলিয়া ভ্রমণ – ছৌনাচ

আপনাদের আমার এই পুরুলিয়া ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পড়তে ভালো লাগছে জেনে বেশ আনন্দ পাচ্ছি, উৎসাহিত বোধ করছি|প্রথম পর্বে অযোধ্যা পাহাড় নিয়ে বলেছি, এবার ডেস্টিনেশন ছৌনাচ|

পুরুলিয়া বেড়াতে যাবো আর ছৌনাচ দেখবো না বা ছৌনাচ নিয়ে দু চার কথা লিখবো না তা অসম্ভব, গতকাল রাতেই দেখলাম সেই বিখ্যাত ছৌনাচ, এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা|এখানে ছৌনাচ নিয়ে দু চারটে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনাদের দিয়ে রাখি|

ছৌ নাচের সাজসজ্জায় প্রধান উপকরণ মুখোশ৷ রংবেরঙের মুখোশ তৈরির জন্য প্রসিদ্ধ পুরুলিয়ার চড়িদা নামে এক অখ্যাত স্থান|মূলত পৌরাণিক কাহিনীর উপর নির্ভর করে তৈরি হওয়া ছৌ নাচের পালায় কখনো সেই মুখোশ হয় দুর্গা-মহিষাসুরের, কখনো বা রাম-লক্ষ্মণ-সীতার অর্থাৎ ওই পৌরাণিক দেব দেবী দের রুপদানে ব্যাবহৃত হয় মুখোশ গুলি|এই বিখ্যাত মুখোশ যে শুধু ছৌনাচ এ সীমাবদ্ধ তানয়, অনেকেই ঘরে সাজিয়ে রাখার জন্যে এই মুখোশ সংগ্রহ করেন|

খোঁজ নিয়ে জানলাম,চড়িদায় শ’-খানেক পরিবার ছৌ মুখোশ তৈরি করে৷ শিল্পীর সংখ্যা ৩০০-র মতো৷ এই ছৌনাচ অতি প্রাচীন শিল্প যা পুরুলিয়া তথা বাংলাকে এনে দিয়েছে আন্তর্জাতিক সন্মান|ছোটনাগপুর মালভূমির অন্ত্যজ শবর সাঁওতালদের একমাত্র বিনোদ ছিলো এই ছৌনাচ তবে বর্তমানে আমাদের মতো শহুরে মানুষ রাও ভাগ বসাচ্ছে এই আনন্দে|এই নির্মল প্রকৃতির বুকে, শহরের কোলাহল থেকে দুরে এই প্রাচীন শিল্প কলা আপনাকে মুহূর্তে নিয়ে যেতে পারে এক প্রাচীন ভারতবর্ষে, সে অভিজ্ঞতা ঠিক লিখে বোঝানো যায়না, অনুভব করতে হয়, এক অদ্ভুত ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হলো আজ|একফাঁকে এখানকার এক গ্রামের কিছু কচিকাঁচা দের সাথেও কিছুটা সময় কাটালাম, যৎসামান্য উপহার তুলে দিলাম তাদের হাতে, তাদের নিষ্পাপ মুখের হাসিও অনেক বড়ো প্রাপ্তি|পরবর্তী গন্তব্য ও তার অভিজ্ঞতাও আপনাদের সাথে ভাগ করে নেবো যথা সময়ে|পড়তে থাকুন|জানাবেন আপনাদের মতামত|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরুলিয়া ভ্রমণ – অযোধ্যা পাহাড়

দীপান্বিতা অমাবস্যার কর্ম ব্যাস্ততা কাটিয়ে আপাতত কিছুদিনের ছুটি, ওদিকে আবার শীতের আমেজ ও এসেছে, সবমিলিয়ে স্বপরিবারে এবার ভ্রমণের উদ্দেশ্যে পুরুলিয়া যাত্রা, এই যাত্রা পথের কিছু ভালো লাগা, কিছু অভিজ্ঞতা আর অবশ্যই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভাগ করে নেবো আপনাদের সাথে আরো যা কিছু তথ্য পাবো সেগুলিও তুলে ধরবো সময়ে সময়ে, আজ শুরু করছি পুরুলিয়ার অন্যতম আকর্ষণ অযোধ্যা পাহাড় দিয়ে|বহু প্রাচীন কাল থেকে এই পাহাড় রয়েছে এই স্থানে, রামায়ণ অনুসারে, রাম ও সীতা বনবাসের সময় অযোধ্যা পাহাড়ে এসেছিলেন। এখানে এসে সীতা তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়লে রাম নিজের তীরের সাহায্যে মাটি খুঁড়ে জল বের করে আনেন। সেই জায়গাটি সীতাকুণ্ড নামে পরিচিত।

এটিও এখানে একটি দর্শনীয় স্থান|চার পাশে শাল, শিরিষ, মহুয়া, সেগুনে ছাওয়া সবুজ অরণ্যভূমি আর ছোট-বড় পাহাড়ি ঝোরা নিয়ে মনোরম পাহাড়ি পরিবেশ। পাহাড়ের ঢালে আদিবাসী গ্রাম, চাষের ক্ষেত। ট্রেকিংয়ের জন্যই অযোধ্যা পাহাড় বেশি পরিচিত। এর একটা এন্ট্রি পয়েন্ট পূর্ব দিকে সিরকাবাদ, অন্যটি পশ্চিমে বাঘমুন্ডি। দু’টি দিক দিয়েই ট্রেকিং করে পাহাড়ে ওঠা যায়। পাহাড়ে ট্রেকিং করা ছাড়াও ঘুরে নেওয়া যায় ছৌ শিল্পের পিঠস্থান চোড়িদা গ্রাম, চাণ্ডিল ড্যাম, পাখি পাহাড়, সীতা কুণ্ড, টুরগা ফলস প্রভৃতি, এই অরণ্যে বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে স্থানীয় আদিবাসীরা বন্য পশু শিকার উৎসবে যোগ দেয়|এই প্রথা বহু প্রাচীন কাল থেকে চলে আসছে|ভৌগোলিক ভাবে,পুরুলিয়া জেলার ঝাড়খণ্ড সীমান্তে দলমা পাহাড়ের একটি অংশ ও পূর্বঘাট পর্বতমালার একটি সম্প্রসারিত অংশ অযোধ্যা পাহাড়। উচ্চতা প্রায় ২০০০ফুট।

অযোধ্যা পাহাড়ের উচ্চতম শৃঙ্গটি হল গোরগাবুরু। এই অঞ্চলটি ছোটো নাগপুর মালভূমির সবচেয়ে নিচু ধাপ অযোধ্যা পাহাড়,ময়ূর পাহাড় ও আছে, অযোধ্যা পাহাড়ের সবচেয়ে উঁচু টিলা এটি। মায়াবী আলোয় সূর্য ডোবে এখানে। গাড়ি রাস্তা ফেলে হেঁটে খানিকটা উঠলেই একটা ছোট হনুমান মন্দির। নিস্তব্ধ সেই বিকেলের ধার ঘেঁষে টুপ করে ঢলে পড়ে সূর্য। সে এক দেখার মতো দৃশ্য|আগামী দিনে এই ভ্রমণ নিয়ে আরো কিছু তথ্য ও গল্প আপনাদের সাথে ভাগ করে নেয়ার ইচ্ছে রইলো এই লেখা লেখির মাধ্যমে|পড়তে থাকুন এবং জানাবেন কেমন লাগছে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

ভাতৃদ্বিতীয়া ও পুরান

আজ সারা দেশ জুড়ে যে ভাই দুজ বা ভাতৃদ্বিতীয়া পালন হয় যাকে বাংলায় আমরা ভাইফোঁটা হিসেবে উদযাপন করি সেই উৎসবের সূচনা হয়েছিলো শ্রীকৃষ্ণর হাত ধরে, পুরান তাই বলছে|

পুরান অনুসারে ধনত্রয়োদশীর পরের দিন চতুর্দশী তিথিতে নরকাসুরকে বধ করলেন কৃষ্ণ। তার পর প্রাগজ্যোতিষপুর থেকে দ্বারকায় ফিরে এলেন এই দ্বিতীয়া তিথিতে। কৃষ্ণকে দেখে তার বোন সুভদ্রার উচ্ছ্বাস বাধা মানল না। তিনি বরাবরই কৃষ্ণের আদরের বোন। এই কয়েকদিন তিনি দাদাকে দেখতে পাননি। তার উপর আবার খবর পেয়েছেন সুভদ্রা, নরকাসুরের অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন কৃষ্ণ, সেই থেকেই তিনি ভাইয়ের সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত এবং উদ্বিগ্ন, অতএব, দ্বারকা পৌঁছতেই কৃষ্ণকে তিনি বসালেন আসনে। তাঁর কপালে পরিয়ে দিলেন বিজয়তিলক। এবং, মুখমিষ্টি করালেন। সেই প্রথাই স্বীকৃত হল ভ্রাতৃদ্বিতীয়া বা ভাইফোঁটা নামে।

আজও চলে আসছে ভাইয়ের কল্যানে বোনদের এই বিশেষ উৎসব, আজ বাংলা প্রত্যেক বোনই তার ভাইয়ের কল্যানে তার কপালে তিলক পড়িয়ে দেন, মিষ্টি মুখ করান, এবং প্রার্থনা করেন যেনো তার ভাইয়ের থেকে দুরে থাকে সব বিপদ|প্রত্যেক বোন ও তার ভাইয়ের সম্পর্ক যেনো সুদৃঢ় হয় এই কামনাই করি, ভাতৃদ্বিতীয়ার অনেক শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শুভ দীপাবলী

আজ দীপাবলী কারন ১৪ বছর বনবাসে কাটিয়ে আজ অযোধ্যা  ফিরেছিলেন রাম৷ তাই রামচন্দ্রের পথ আলোকিত করতে গোটা দেশ সেজে উঠেছিল আলোয়৷

আবার বাংলায় আজ কালী সাধনার দিন, কারন আজ দীপান্বিতা অমাবস্যা, মা কালী শাস্ত্রমতে শক্তির উপাসকদের দেবী। তার অপর নাম শ্যামা বা আদ্যাশক্তি। তন্ত্রশাস্ত্র মতে, তিনি দশমহাবিদ্যা নামে পরিচিত। তন্ত্রমতে পূজিত প্রধান ১০ জন দেবীর মধ্যে প্রথম দেবী কালী। শাক্তরা কালীকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির আদি কারণ মনে করেন।

দীপাবলী ও কালী পুজো দুই আসলে অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির জয় লাভের প্রতীক, রাম যেমন অশুভ শক্তির প্রতিনিধি রাবনকে হারিয়ে ছিলেন তেমনই দেবী কালী অসুর বধ করে সৃষ্টি রক্ষা করেছিলেন|

আজ এই অমাবস্যা তিথি তন্ত্র সাধনার দিন এই তন্ত্র ও মূলত ব্যবহার হয় অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভ শক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করতে, এই অশুভ শক্তি বিশ্বব্যাপি হতে পারে, আমার আপনার জীবন কেন্দ্রিক হতে পারে, বাস্তু সম্পর্কিত ও  হতে পারে|

এবছর গুরুত্বপূর্ণ এই অমাবস্যা তিথিতে আমি উপস্থিত রয়েছি তারাপীঠে, সারাদিন চলবে বিশেষ পুজো, হোম যজ্ঞ, দোষ খণ্ডন|সরাসরি সম্প্রচার দেখুন সোশ্যাল মিডিয়ায়|সঙ্গে থাকুন|দীপাবলীর অসংখ্য শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|ভালো থাকুন|নমস্কার|

শুভ ধনতেরাস

নমস্কার আমি পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক, আজকের পর্বে আলোচনা করবো ধনতেরাস নিয়ে, জানবো এই উৎসবের সাথে জড়িত এক অদ্ভুত পৌরাণিক ঘটনা, এবং এই উৎসবের গুরুত্ব|প্রাচীন কালে ভারতবর্ষে এক রাজা ছিলেন, তার নাম ছিলো রাজা হিমা, রাজা হিমার ১৬ বছরের ছেলের এক অভিশাপ ছিল। তার কুষ্টিতে লেখা ছিল, বিয়ের চার দিনের মাথায় সাপের কামড়ে তার মৃত্যু হবে। তার স্ত্রীও জানত সেই কথা। তাই সেই অভিশপ্ত দিনে সে তার স্বামীকে সে দিন ঘুমোতে দেয়নি। শোয়ার ঘরের বাইরে সে সমস্ত গয়না ও সোনা-রূপার মুদ্রা জড়ো করে রাখে। সেই সঙ্গে সারা ঘরে বাতি জ্বালিয়ে দেয়। স্বামীকে জাগিয়ে রাখতে সে সারারাত তাকে গল্প শোনায়, গান শোনায়। পরের দিন যখন মৃত্যুর দেবতা যম তাদের ঘরের দরজায় আসে, আলো আর গয়নার জৌলুসে তাঁর চোখ ধাঁধিয়ে যায়। রাজপুত্রের শোয়ার ঘর পর্যন্ত তিনি পৌঁছন ঠিকই। কিন্তু সোনার উপর বসে গল্প আর গান শুনেই তাঁর সময় কেটে যায়। সকালে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই চলে যান তিনি। রাজপুত্রের প্রাণ বেঁচে যায়। পরদিন সেই আনন্দে ধনতেরাস পালন শুরু হয়।দীপাবলী মূলত পাঁচ দিনের উত্সব। এর আর এক নাম আছে— ধনাত্রয়োদশী বা ধনবত্রী ত্রয়োদশী। ‘ধন’ শব্দের মানে সম্পত্তি। ত্রয়োদশী শব্দের অর্থ হিন্দু ক্যালেন্ডারের ১৩তম দিন। দীপাবলীর সময় লক্ষ্মীপুজোর দিন দুই আগে ধনতেরাস হয়। বলা হয়, ধনতেরাসের দিন দেবী লক্ষ্মী তার ভক্তদের গৃহে যান ও তাঁদের ইচ্ছাপূরণ করেন। ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের কাছে এই দিনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা এ দিন দামি ধাতু কেনেন। সম্পদের দেবতা কুবেরও এ দিন পূজিত হন|আজ সেই তিথি, আজ ধনতেরাস। মূলত অবাঙালিদের মধ্যে এর প্রচলন থাকলেও এখন বাঙালিদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে এই উৎসব। এই উৎসবে মূলত সোনা কেনা হয়।ধনতেরাসের পরের দিন নরক চতুর্দশী বা ভূত চতুর্দশী।ভারতে ধনতেরাস উত্সব উদযাপিত হয় সোনা, রুপো বা বাসন কিনে। একে সৌভাগ্যের লক্ষণ বলা হয়। নতুন জামাকাপড়ও এ সময় কেনে মানুষ। এরপর করা হয় লক্ষ্মী পুজো। চারিদিকে প্রদীপ জ্বালিয়ে দেবীর আরাধনা করা হয়। পুজো হয় গণেশেরও।যেকোনো শুভ কাজের জন্যই এই তিথি ভালো|আপনারা যারা জ্যোতিষ পরামর্শ বা প্রতিকার নেয়ার কথা ভাবছেন চাইলে এই তিথিকে কাজে লাগাতে পারেন|আগামী দীপাবলি উপলক্ষে তারাপীঠে গ্রহ দোষ খণ্ডনের সু ব্যবস্থা থাকবে|যেকোনো সমস্যা নিয়ে আসতে পারেন|যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে ও সরাসরি কথা বলুন আমার সাথে|ভালো থাকুন|নমস্কার|

কালী কথা – পর্ব আট

সামনেই দীপান্বিতা অমাবস্যা ওই বিশেষ তিথিতে উপস্থিত থাকবো তারাপীঠে,হবে হোম যজ্ঞ, পুজো, শাস্ত্রীয় পদ্ধতিতে গ্রহের প্রতিকার,বহু মানুষ উপস্থিত থাকবেন, সরাসরি সম্প্রচার ও হবে সোশ্যাল মিডিয়ায়, তারই মাঝে সময় বের করে আজ কালী কথা নিয়ে আমি আবার উপস্থিত, কালী কথার আজকের পর্বে সংক্ষেপে বাংলার কালীপুজোর ইতিহাসকে আপনাদের সামনের আনার চেষ্টা করবো|প্রাচীন কালে বাংলায় কালী পুজো শুধু মাত্র ডাকাত ও শ্মশানবাসি তন্ত্র সাধকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো|বাংলায় নবদ্বীপের প্রথিতযশা তান্ত্রিক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশকে বাংলায় কালীমূর্তি ও কালীপূজার প্রবর্তক মনে করা হয়। তাঁর পূর্বে কালী উপাসকগণ তাম্রটাটে ইষ্টদেবীর যন্ত্র এঁকে বা খোদাই করে পূজা করতেন। অষ্টাদশ শতাব্দীতে নদিয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় কালীপূজাকে জনপ্রিয় করে তোলেন। বাংলার কালী পুজোর ইতিহাস অনুসারে চামুণ্ডা কালীর পূজা বাংলা ও বহির্বঙ্গে প্রাচীন উৎসব হলেও বর্তমান আকারে কালীপূজা আধুনিক কালের। ষোড়শ শতাব্দীতে নবদ্বীপের প্রসিদ্ধ স্মার্ত পণ্ডিত তথা নব্যস্মৃতির স্রষ্টা রঘুনন্দন দীপান্বিতা অমাবস্যায় লক্ষ্মীপূজার বিধান দিলেও, কালীপূজার উল্লেখ করেননি। ১৭৬৮ সালে রচিত কাশীনাথের কালী সপর্যাসবিধি গ্রন্থে দীপান্বিতা অমাবস্যায় কালীপূজার বিধান পাওয়া যায়। তবে খ্রিষ্টীয় সপ্তদশ শতাব্দীতে বাংলায় কালীপূজার প্রচলনের কিছু কিছু প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।ঊনবিংশ শতাব্দীতে কৃষ্ণচন্দ্রের পৌত্র ঈশানচন্দ্র ও বাংলার ধনী জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতায় কালীপূজা ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।ধীরে ধীরে বনেদী বাড়ি গুলিতে দুর্গাপূজার পাশাপাশি কালী পুজোও আরম্ভ হয়|বর্তমানে কালীপূজা বাংলায় দুর্গাপূজার মতোই এক বিরাট উৎসব|শুধু উৎসব নয় এই তিথি তন্ত্র ও জ্যোতিষ জগতের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ তিথিএই তিথিকে ব্যবহার করে জীবনের সমস্যার সমাধান চাইলে অবশ্যই যোগাযোগ করুন আমার সাথে উল্লেখিত নাম্বারে বাকি টা আমি বলে দেবো|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কালী কথা – সপ্তম পর্ব

তন্ত্রশাস্ত্রে কালী পুজো একটি অপরিহার্য বিষয়, তবে বিভিন্ন রূপে কালীকে পুজো করা হয়|কেউ আবার দশমহাবিদ্যা রূপ গুলির ও সাধনা করেন|তবে শাস্ত্রে আটটি ভিন্ন কালী রূপের উল্লেখ আছে এবং প্রতিটি রূপের আলাদা তাৎপর্য ও ব্যাখ্যা আছে|

তন্ত্র পুরাণে দেবী কালীর একাধিক রূপভেদের উল্লেখ পাওয়া যায়। শাস্ত্র মতে, কালী আট প্রকার। দক্ষিণকালিকা, সিদ্ধকালিকা, গুহ্যকালিকা, শ্রীকালিকা, ভদ্রকালী, চামুণ্ডাকালিকা, শ্মশানকালিকা ও মহাকালী। আবার মহাকাল সংহিতার মতে, নয় প্রকার কালীর উল্লেখ পাওয়া যায়। দক্ষিণাকালী, ভদ্রকালী, শ্মশানকালী, কালকালী, গুহ্যকালী, কামকলাকালী, ধণকালিকা, সিদ্ধিকালী, সিদ্ধিকালী, চণ্ডিকালিকা।

শক্তির দেবী হিসাবেই কালী পূজিত হন। সনাতন ধর্ম-মতে এর উল্লেখ মেলে। কালী-নাম মাহাত্ম্যে কাল-কে যদি আলাদা করে নেওয়া হয় তাহলে কাল-এর একাধিক অর্থ বের হয়। কাল মানে সময়, আবার কাল তথা কৃষ্ণবর্ণ। কাল-এর অর্থ-এ লুকিয়ে আছে সংহার- বা মৃত্যু ভাবনাতেও। কালীকে কাল অর্থাৎ সময়ের জন্মদাত্রী বলা যেতে পারে, আবার পালনকর্ত্রী এবং প্রলয়কারিণী নিয়ন্ত্রক বলা হয়।

দীপান্বিতা অমাবস্যা এই কালী সাধনার শ্রেষ্ঠ সময় এবং এই বছর এই দিনে তৈরি হচ্ছে এক মহা যোগ|আমি উপস্থিত থাকবো তারাপীঠে|আপনারা যেকোনো সমস্যার তন্ত্রমতে সমাধানের জন্যে উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|নমস্কার|