হনুমানজী হলেন শিবজীর অবতার পুরানে বলা রয়েছে দেবী সীতার আশীর্বাদে তিনি অষ্ট সিদ্ধি ও নব নিধীর অধিকারী ছিলেন|হনুমান চালিসাতেও অষ্ট সিদ্ধির কথা উল্লেখ আছে|আজ জানাবো কি এই অষ্ট সিদ্ধি|সিদ্ধি লাভ করে কোন ব্যক্তি মহাজাগতিক শক্তির অধিকারী হন অষ্ট সিদ্ধি হলো আটটি অলৌকিক গুন|তার এই আটটি অলৌকিক ক্ষমতা হলো|অণিমা : এই সিদ্ধি লাভে সাধক তার শরীরকে অত্যন্ত ছোট করার ক্ষমতা রাখে। এক অনুর ন্যায় সাধক তার শরীর ছোট করতে পারে। হনুমানজীও তাঁর এই অণিমা সিদ্ধির দ্বারা লঙ্কাপুরী নিরক্ষণ করেন এবং সেখানে প্রবেশ করেন। মহীমা : এই সিদ্ধিটি উপরের অণিমা সিদ্ধির একদম বিপরীত। এই মহীমা সিদ্ধিতে সাধক তার শরীরের আকৃতি পাহাড় সমান বড় করতে পারে। এই সিদ্ধির মাধ্যমে হনুমানজী তার শরীর একশত যোজন বড় করতে পারতেন|গরীমা : গরীমা সিদ্ধির প্রয়োগে সাধক তার তার নিজের ইচ্ছা অনুসারে দেহের ওজন বাড়াতে পারে। হনুমানজীর এই সিদ্ধির প্রয়োগ আমরা মহাভারতে দেখতে পাই। তিনি ভীমের অহম চূর্ণ করবার জন্য এই সিদ্ধির প্রয়োগ করেছিলেন এবং শক্তিমান ভীম তার লেজ সরাতে ব্যার্থ হয়ে ছিলেন|লঘিমা : এই সিদ্ধি উপরের গরীমা সিদ্ধির একবারে বিপরীত সিদ্ধি। এতে সাধক তার শরীরের ওজন তার মনের ইচ্ছা অনুসারে লঘু অর্থাৎ কম করতে পারে। অশোকাবাটিকাতে সীতা মাতা যখন রাক্ষসী ও রাবণ সেণার পরিবেষ্টিত ছিলেন তখন তিনি গাছের পাতায় বসে নিজের দেহের ওজন হাল্কা করে সেই জায়গার নিরীক্ষণ করে ছিলেন হনুমান|প্রাপ্তি : এই সিদ্ধি লাভে সাধক ভবিষ্যত দ্রষ্টা হতে পারেন এবং পশু পাখি জীব জন্তুর ভাষা বোঝার ক্ষমতা লাভ করে। হনুমানজী রাবণ দ্বারা সীতা হরণের পর সীতা মাতার খোঁজ করতে গিয়ে অনেক পশু পাখি ও জীব জন্তুর কাছে সীতা মাতার খোঁজ করেন।প্রাকাম্য : অষ্ট সিদ্ধির মধ্যে ষষ্ঠ সিদ্ধি হল প্রাকাম্য। এই সিদ্ধি বলে সাধক যেকোন জায়গায় যাবার ক্ষমতা লাভ করে। এর প্রভাবে সাধক আকাশে উড়তে পারে, পাতালের কেন্দ্রে পর্যন্ত যেতে পারে। জলে জীবিত থাকতে পারে, সাধক চিরকাল যুবক থাকতে পারে এবং যেকোন দেহ ধারন করতে পারে।মহাবীর হনুমান রামায়নে একাধিকবার এই শক্তি প্রয়োগ করছেন|ঈশিত্ব : এই সিদ্ধি হল নেতৃত্ব দানের ক্ষমতা। যে সাধক এই সিদ্ধি লাভ করেন তিনি দক্ষ নেতৃত্ব দানের ক্ষমতা পায়। হনুমানজীও এই সিদ্ধির কার্যকরীতায় বানর সেনাকে সঠিক নেতৃত্ব দান করেন এবং শ্রীরাম চন্দ্রের জয় সুনিশ্চিত করেন। এছাড়াও এই সিদ্ধি প্রাপ্ত হওয়াতে সাধক কোন মৃত জীবের প্রান ফেরত দিতে পারে। বশিত্ব : এই সিদ্ধি লাভে সাধক জিতেন্দ্রিয় হয়। অর্থাৎ সাধক তার ইন্দ্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনতে পারে। সাধক পশু পাখি এমনকি মানুষেকে নিজের বশে আনতে পারে।বজরংবলী এই বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন|সংক্ষেপে এই ছিলো অষ্ট সিদ্ধি|আগামী পর্বে এমনই কোনো গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – ভক্তের সাথে জগন্নাথের লীলা
শাস্ত্র মতে জগন্নাথ হলেন স্বয়ং ভগবান|তিনিই জগতের নাথ|তার মন্দির নিয়ে যেমন রয়েছে অসংখ্য অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ তেমন তার নিজের বহু লীলা আলোচনায় উঠে আসে বার বার এমনই এক লীলার কথা আজ বলবো|অত্যন্ত দরিদ্র এক ব্যক্তি সদা ভগবানের চিন্তা, ভজন, কীর্তন, স্মরণ, সৎসঙ্গ করত। একদিন সেই ব্যক্তি তার মনিবের কাছে, শ্রীজগন্নাথ ধাম যাত্রার জন্য ছুটি চাই। শেঠজী ছুটি দিল আর সেই ব্যক্তিকে বলল, “ভাই আমি তো সংসারী মানুষ, সবসময়ই ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকি তার কারণে কখনো তীর্থযাত্রার সুযোগ হয় না। তুমি তো যাচ্ছো এই ১০০ টাকা আমার নামে প্রভু জগন্নাথের চরণে সেবায় সমর্পিত করে দিও।” সেই ব্যক্তি টাকাটা নিয়ে জগন্নাথ দর্শনে যাত্রা শুরু করল।অনেকদিন পায়ে হেঁটে যাত্রা করে সে জগন্নাথ পুরী পৌঁছাল। মন্দিরে যাওয়ার সময় সে রাস্তায় দেখল অনেক সাধুসন্ত,ভক্তজন, বৈষ্ণবজন, হরিনাম সংকীর্তনে খুব আনন্দ করছিল। তাড়া সবাই ছিলো খুব ক্ষুধার্ত। সে এই ক্ষুধার্ত ভক্তদের দেখে চিন্তা করল, “শেঠজী আমাকে যে টাকা দিল তার থেকে ভক্তদের ভোজনের ব্যবস্থা করি।” সে ব্যক্তি ঐ ১০০ টাকা থেকে ভোজনের ব্যবস্থা করল। সবাইকে ৯৮ টাকা দিয়ে ভোজন করালেন। সকলে খুব তৃপ্ত হলেন। তার কাছে শুধু দুই টাকা আছে, সে ভাবল “এই দুইটাই আমি জগন্নাথের চরণে শেঠজীর নামে সমর্পণ করব। যখন আমি শেঠের কাছে পৌছাব। তখন আমি বলব শেঠজীকে আমি টাকা সমর্পন করেছি। শেঠজী তো জিজ্ঞাসা করবে না যে ১০০টাকা আমি জগন্নাথের চরণের সমর্থন করেছি কিনা। শেঠজী বলবে টাকা সমর্পণ করলে। আমি হ্যাঁ বললে ওটা তো মিথ্যা বলা হবে না এবং কাজও হয়ে যাবে।” ভক্ত সেই ব্যক্তি আকুল মনে জগন্নাথজীর দর্শন করল মন্দিরে প্রবেশ করল। শ্রীজগন্নাথদেবের দর্শন করে জগন্নাথজীর চরণে সেই দুটাকা দিয়ে বলল, এই দুইটাকা আমার শেঠজী দিয়েছে।আশ্চর্য জনক ভাবে সেই রাতে শেঠজী স্বপ্ন দেখল শ্রীজগন্নাথজীকে। জগন্নাথ তার স্বপ্নে এসে বলল শেঠজীকে, “তোমার ৯৮ টাকা আমি পেয়েছি। ” এই বলে শ্রী জগন্নাথজী অন্তর্ধান হয়ে গেলেন।কিছুদিন পর সেই ব্যক্তি তীর্থ করে ফিরে আসল| শেঠজী তখন তাকে জিজ্ঞাসা করল “আমার টাকা জগন্নাথজীকে সমর্পন করেছ তো?” ভক্ত বলল, ” হে শেঠজী টাকা আমি সমর্পণ করেছি।” শেঠজী বলল, “কিন্তু তুমি তো ৯৮ টাকা কেন দিলে, দুই টাকা কি কাজে খরচ করলে? ” তখন ভক্ত চিন্তা করলছিল শেঠজী কিভাবে জানল, ভক্ত তখন সকল কথা খুলে বলল শেঠজীকে। বলল,” সে ৯৮ টাকা দিয়ে ভক্ত সাধুসন্তদের সেবা করেছে ।আর দুই টাকা শুধু প্রভু জগন্নাথের চরণে সমর্পন করেছে ” শেঠজী সকল কথা শুনে বড় খুশি হল এবং তার চরণ স্পর্শ করে বললো ” তুমি ধন্য তোমার জন্য আমি শ্রীজগন্নাথদেবের দর্শন ঘরে বসে পেলাম।”প্রভু জগন্নাথের এই লীলা থেকে বোঝা যায় ভগবান ঐ ৯৮ টাকা স্বীকার করল কারণ ওটা যে ভক্তের সেবাতে লেগেছে। কারণ, ভক্তের হৃদয়ে ভগবানের বাস। যে দুইটাকা চরনে দেয়া হলো ঐ টাকাটার কোন মূল্য নেই প্রভুর কাছে।রথ যাত্রা উপলক্ষে প্রভু জগন্নাথে প্রসঙ্গে আরো আলোচনা থাকবে আগমনী পর্ব গুলিতে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
জগন্নাথ লীলা – কাঁঠাল চুরি
পুরী সহ গোটা বিশ্বে চলছে রথ যাত্রার প্রস্তুতি|আজ প্রভু জগন্নাথের একটি বিশেষ লীলা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো|পুরীতে একবার ভগবান শ্রীজগন্নাথ তার এক ভক্ত রঘুর কাছে এলেন এবং তাঁকে রাজার বাগান থেকে কাঁঠাল চুরি করতে তাঁর সঙ্গে যেতে বললেন। রঘু বলল, “তুমি কেন কাঁঠাল চুরি করতে চাও? তোমার যদি কাঁঠাল খাবার ইচ্ছা হয়, আমাকে বল-আমি তোমার জন্য সুন্দর একটি কাঁঠাল এনে দেব।” বালকরূপী জগন্নাথ বললেন, “এইভাবেই আমি আমার ভক্তের কাছ থেকে সবকিছুই নিয়ে থাকি। বস্তুত, আমার সবকিছুই আছে। মা যশোদা আমাকে কত ননী-মাখন খাওয়াতো, আমাকে আনন্দ দিত। কিন্তু তবুও আমি অন্যদের বাড়িতে মাখন চুরি করতে যেতাম। চুরি করা দ্রব্য ভোজনে বিশেষ আনন্দ আছে। আজ তোমাকে আমি উপলব্ধি করাব-চুরি করা কি আনন্দের। আমার সঙ্গে এসো।” রঘু বুঝলো এ প্রভুর লীলা|নিরুপায় হয়ে রঘু প্রভুর প্রস্তাবে সম্মত হল এবং তাঁর সঙ্গ নিল। তাঁরা উভয়ে চুপিসারে রাজার বাগানে প্রবেশ করলেন। জগন্নাথ রঘুকে বললেন, “তুমি গাছে চড়বে। আমি মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকব। তুমি সবচেয়ে সুন্দর ও বড় কাঁঠালটি পাড়বে এবং মাটিতে ফেলবে। আমি এখানে দাঁড়িয়ে থাকব। তারপর আমরা উভয়ে কাঁঠাল নিয়ে পালাব।” রঘু যথাযথভাবে প্রভুর নিদের্শ অনুসরণ করল। রঘু কাঁঠাল গাছে উঠে সবচেয়ে বড় ও ভাল কাঁঠালটি খুঁজে বের করল এবং সেটা পাড়ল। ‘জগন্নাথ’, চাপাস্বরে রঘু জগন্নাথকে ডাকল। ‘তুমি কি তৈরি?’ জগন্নাথ উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ, আমি তৈরি, নিচে ফেল !’ রঘু কাঁঠাল নিচে ফেলল- জগন্নাথ সেটা ধরবেন ভেবে। কিন্তু কোথায় জগন্নাথ ! তিনি ইতিমধ্যেই বাগান থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। কাঁঠাল ধরার জন্য কেউই সেখানে ছিল না। সশব্দে কাঁঠালটি মাটিতে পড়ে ফেটে চৌচির হল। যখন রাজার বাগানের মালী ঐ শব্দ শুনল,রঘু ধরা পড়লো এবং রাজার কাছে খবর গেলো|রাজা তাঁর মন্ত্রীদের সাথে নিয়ে মালীর নির্দেশিত স্থানে গেলেন। তিনি রঘু দাসকে গাছে চড়ে থাকতে এবং নিচে কাঁঠাল পড়ে থাকতে দেখে আশ্চর্য হলে। রাজার অনুরোধে রঘু গাছ থেকে নেমে এল। রাজা রঘুকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘প্রভু, তোমার যদি কাঁঠাল খাওয়ার ইচ্ছা হয়ে থাকে, তাহলে গভীর রাত্রে আমার বাগানে এসে গাছে চড়ার কি প্রয়োজন ছিল? তুমি আমাকে একবার বলতে পারতে। আমি কাঁঠাল পাড়ার ব্যবস্থা করে তোমার বাড়িতে পাঠিয়ে দিতাম!’ রঘু তখন প্রভু জগন্নাথ কিভাবে তাঁকে ঠকিয়েছে- সব বৃত্তান্ত বলল। প্রত্যেকেউ প্রভুর রম্য এই লীলা শুনে খুবই আনন্দ পেল এবং সকলেই হাসতে লাগল। তাঁরা রঘুর মহত্ত্বের জন্য তাঁর গুনগান করলেন।সখ্যরসে এই ভাবে প্রভু জগন্নাথ রঘুর সঙ্গে অনেক লীলা করেছিলেন।আবার ফিরে আসবো এমনই অন্য কোনো ঘটনা নিয়ে পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
তারাপীঠ মহা শ্মশানের রহস্য
আগামী 28 তারিখ অমাবস্যা|স্বাভাবিক ভাবেই তন্ত্র ও শক্তি সাধনার উপযুক্ত তিথি|আজ তারাপীঠের কিছু রহস্যজনক বিষয় আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো|বাংলার তন্ত্র সাধনায় তারাপীঠ একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে যুগ যুগ ধরে আর এই তন্ত্র সাধনায় পঞ্চমুন্ডির আসনের একটা বড়ো ভূমিকা থাকে, তারাপীঠের পঞ্চমুণ্ডের আসন একটি রহস্যময় বিষয়। পঞ্চ মুন্ডির পাঁচটি মুণ্ড সাপের, ব্যাঙের, খরগোশের, শিয়ালের এবং মানুষের। এই আসনে বসেই বহু যুগ পূর্বে দেবীকে তুষ্ট করে তারাপীঠকে সিদ্ধপীঠে পরিণত করেছিলেন ঋষি বশিষ্ঠ। সাধক বামাখ্যাপাও এই আসনে বসে তন্ত্রসাধনায় সিদ্ধি লাভ করেন অর্থাৎ|সেই আসন আজও বিদ্যমান।অশুচি চিত্তে আসনে বসেছিল বসলে সাধক শাস্তি পায় বলে বিশ্বাস|দেবী তারার রূপের মধ্যে লুকিয়ে আছে বহু রহস্য এবং তারাপীঠ মহা শ্মশান ও রহস্য দিয়ে ঢাকা|তারাপীঠ শ্মশান দেবী তারার আবাস। তারাপীঠের মহাশ্মশানেও জ্যোতিরূপে বাস করেন দেবী। তা ঠিক যেন একটি তারার মিটমিটে আলো|দেবীর সঙ্গে থাকেন যোগিনীরা। অনেকেই তারাপীঠের মহাশ্মশানে অন্ধকারের মধ্যে এই মিটমিটে আলো দেখতে পান। লোকবিশ্বাস বলে, সেই আলো দেখে কাছে যেতে নেই। তাতে দেবী রুষ্টা হন! দেবীর উপস্থিতিই এই শ্মশানের তিন মহারহস্যের মধ্যে প্রথম।তারাপীঠের মহাশ্মশানের মাহাত্ম্য বুঝতে গেলে তাকাতে হবে তারার তন্ত্রোক্ত রূপবর্ণনায়।দেবীর বামপদ অগ্রগামী, তাই দেবী ‘বামাকালী’ নামেও পরিচিতা।দেবীর গাত্রবর্ণ ঘননীল। অগ্নিময় শ্মশানে জ্বলন্ত চিতার মধ্য থেকে বিনির্গতা এই দেবী লোলজিহ্বা, লম্বোদরী, নবযৌবনা এবং মুণ্ডমালিনী। দেবীর আসনস্বরূপ জ্বলন্ত চিতা জ্ঞানাগ্নির প্রতীক। চতুর্ভুজা এই দেবীর ডানদিকের উপরের হাতে খড়্গ এবং নিচের হাতে কাটারি। বামদিকের উপরের হাতে পদ্মফুল এবং নিচের হাতে নরকপাল। দেবীর কটিদেশ ব্যাঘ্রচর্মে আবৃত। দেবীর মস্তকে ‘পঞ্চমুদ্রাবিভুষিত’ পিঙ্গলবর্ণের একজটা। ‘পঞ্চমুদ্রা’ অর্থাৎ শ্বেত অস্থি নির্মিত চারটি পটি দিয়ে ত্রিকোণাকারে গাঁথা পাঁচটি নরকরোটি। মু্ণ্ড জ্ঞানের প্রতীক। এখানে পঞ্চমুণ্ড শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস ও গন্ধের প্রতীক।তারাপীঠের মহাশ্মশানের আরো একটি রহস্য লুকিয়ে আছে শ্মশান-সংলগ্ন দ্বারকা নদীর জলে।দ্বারকা নদী উত্তরবাহিনী অর্থাৎ এর স্রোত বইছে উত্তর দিকে। হিন্দু ধর্মে উত্তরবাহিনী নদী বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কেন না, ভারতের প্রায় সব নদীই নেমেছে উত্তর দিকে স্থিত হিমালয় থেকে। অতএব, তাদের ধারা কখনই উত্তর অভিমুখী হবে না। হলে তা বইবে উল্টো খাতে। একমাত্র কাশীতে গঙ্গা উত্তরবাহিনী। আর বীরভূমে দ্বারকা। তাই দ্বারকা নদী মহাশক্তির উৎস। কথিত আছে এই নদীজলে স্নান করলেই সিদ্ধিলাভের যোগ্যতা অর্জন করেন মানুষ। ফিরে আসবো আগামী পর্বে আরো অনেক রহস্য ও পৌরাণিক তথ্য নিয়ে|আগামী অমাবস্যায় অর্থাৎ 28 তারিখ থাকছি এই তারাপীঠে সেই মহাযজ্ঞ ও আপনারা দেখতে পাবেন যথা সময়ে পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – শ্রী কৃষ্ণের বাঁশি
শ্রী কৃষ্ণের হাতে বাঁশি আমরা সবাই দেখেছি কিন্তু বাঁশির ও ভিন্ন ভিন্ন রূপ আছে আধ্যাত্মিক তাৎপর্য আছে|আজ পুরান কথায় সেই কথাই বলবো|শ্রীকৃষ্ণ তিন প্রকারের বাঁশী ব্যবহার করেন। তার একটিকে বলা হয় বেণু, অন্যটি মুরলী এবং তৃতীয়টি বংশী। বেণু অত্যন্ত ছোট, ছয় ইঞ্চির বেশী দীর্ঘ নয়, এবং তাতে ছয়টি ছিদ্র থাকে। মুরলীর দৈর্ঘ্য প্রায় আঠারো ইঞ্চি। তার একপ্রান্তে একটি ছিদ্র থাকে এবং তার গায়ে চারটি ছিদ্র থাকে। এই মুরলী অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর সুর সৃষ্টি করে। বংশী প্রায় পনেরো ইঞ্চি লম্বা, এবং তাতে নয়টি ছিদ্র থাকে।শ্রীকৃষ্ণ প্রয়োজন অনুসারে এই তিন রকমের বাঁশী বাজান।শ্রীকৃষ্ণের আর একটি বংশী আছে যা আরও লম্বা, যাকে বলা হয় মহানন্দ বা সম্মোহনী বা আকর্ষনী এই বাঁশী কখনো কখনো মণিরত্ন খচিত থাকে, কখনো তা মর্মর দিয়ে তৈরী হয় এবং কখনো কখনো বাঁশ দিয়ে তৈরী হয়। বাঁশী যখন মণিরত্ন দিয়ে তৈরী হয় তখন তাকে বলা হয় সম্মোহনী। আর যখন তা স্বর্ণ দিয়ে তৈরি হয়, তাকে বলা হয় আকর্ষণী।বাঁশির সাথে কৃষ্ণর সম্পর্ক নিয়ে একটি সুন্দর ঘটনার উল্লেখ করা যায় একেবার ঈর্ষা বসত গোপিনীরা অসতর্ক মুহূর্তে চুপি চুপি বাঁশিটি কে চুরি করলেন।বাঁশি গোপীদের বলিলেন : ” এভাবে আমাকে আপনারা কৃষ্ণের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত করলেন কেন ?” গোপীরা বলিলেন : ” তোমার এমন কি গুণ আছে যে , তুমি সর্বদা কৃষ্ণের হাতে হাতে ফের আর তাঁর অধর স্পর্শ করে থাকো? বাঁশি বললো গুণের কথা ছেড়ে দিন, আমার তো কোন অস্তিত্ব নেই । কারণ , আমার ভিতরে যে শাঁস ছিল যা বের করে ফেলা হয়েছে। ফলে আমার নিজস্ব কোন সত্তাই এখন আর নেই। আমার গোটা শরীরটাই ফোঁপরা- ফাঁপা । সুতরাং আমার আমিত্ব বলে আর কিছু নেই । আমার যা- কিছু সব তাঁর । আমার নিজের কোন সুরও নেই তানও নেই । কানাইয়ার সুর , কানাইয়ার তানই আমার সুর আমার তান। তিনি যে ভাবে আমাকে বাজান , আমি সে ভাবেই বাজি । শরণাগতকে তিনি কখনো পরিত্যাগ করেন না । আমার সর্বস্ব তাঁকে অর্পণ করে আমি তাঁর আশ্রয় নিয়েছি। তাই তিনি আমাকে তাঁর অধরে রাখেন তাই আমি তার এতো প্ৰিয়|গোপিনীরা কথার মর্মার্থ বুঝলেন|নিজের সব অহং বিসর্জন দিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে ভগবানের চরনে সমর্পন করলে তবেই তার সম্পূর্ণ কৃপা পাওয়া যায়|আরো অনেক শাস্ত্রের কথা ও পৌরাণিক তথ্য নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন|আগামী অমাবস্যা তিথিতে থাকছি তারাপীঠে মহা যজ্ঞে|যারা গ্রহ গত সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চান|যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – মহা ভারতের অজানা কথা
মহাভারত কম বেশি আমরা সবাই পড়েছি হয়তো আজ মহাভারত কালের একটি পৌরাণিক ঘটনার উল্লেখ করবো যারা কেন্দ্রে রয়েছেন স্বয়ং ভগবান শ্রী কৃষ্ণ|পান্ডন ভাইদের সাথে শ্রী কৃষ্ণের ছিল অত্যান্ত স্নেহের ও আত্মিক সম্পর্ক একবার ভ্রমণে বেরিয়ে কথা প্রসঙ্গে পান্ডবেরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে জানতে চাইলেন: হে কৃষ্ণ! দ্বাপর যুগের অন্তে তো কলিযুগের সূচনা হবে। তবে সেই কলিযুগের মানুষের আচার আচরণ কেমন হবে” ?ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তখন পাঁচ ভাইকে জঙ্গলের ভেতরে পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন পথে কিছু দূর হেঁটে আবার তাঁর কাছে ফিরে আসতে বললেন।ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নির্দেশ মতো পান্ডবেরা জঙ্গলের কিছু দূর হেঁটে আবার ফিরে আসলেন।পান্ডবরা যখন ফিরে আসলো তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পাঁচ ভাইকে জঙ্গলের ভেতরে কে কি দৃশ্য দেখলেন তা জানতে চাইলেন।যুধিষ্ঠির জানালেন তিনি হেঁটে যাওয়ার সময় একটা অদ্ভুত জিনিস দেখেছিলেন, একটা হাতির দুইটি শুঁড়।।তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “কলিযুগের কিছু মানুষ হবে ঠিক এই রকম দুমুখো।তারা এক মুখে দুই রকম কথা বলবে আবার তারা মুখে বলবে এক রকম আর তাদের আচার আচরণ হবে সম্পূর্ণ বিপরীত রকম।।ভীম বললেন তিনি দেখতে পেয়েছিলেন, একটা গরু তার বাছুরকে আদর করে গা চেটে চেটে পরিস্কার করছে , কিন্তু এত বেশি জোরে চাটছে যে বাছুরটির গায়ের ছাল উঠে গিয়ে রক্ত ঝরছে।তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন: “কলিযুগের মাতা-পিতা হবে ঠিক এইরকম। মাতা-পিতার অত্যধিক স্নেহ ও অতিরিক্ত আদর এবং অতিরিক্ত ভালোবাসায়, তাদের সন্তানেরা দায়িত্বজ্ঞানহীন ও পরনির্ভরশীল হয়ে পড়বে। ফলে তাদের স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবন যাপন করতে অসুবিধা হবে।”অর্জুন বললেন তিনি দেখতে পেয়েছিলেন, একটি নদীতে একটি পচাগলা মৃত ছাগল আর ওই ছাগলের উপর বসে আছে একটা শকুন। কিন্তু ওই শকুনের ডানায় লেখা আছে “মন্ত্র”।তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “কলিযুগের কিছু ভন্ড সাধকেরা হবে ঠিক এই রকমের। দেশ ও সমাজের বুকে যাদের ধার্মিক ও জ্ঞানী হিসেবে খ্যাতি থাকবে, তাদের প্রকৃত মানসিকতা হবে শকুনের ন্যায়।”নকুল দেখতে পেয়েছিলেন, এক বিশালাকার পাথরের খন্ড পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ছে, কিন্তু কোন বিশালবৃক্ষে ঐ পাথর আটকাচ্ছে না। অবশেষে সামান্য একটা ঝোপের তলায় এসে আটকে যায়।তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন, কলিযুগের মানুষেরা বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত থাকবে ফলে তাদের পাপের পরিমাণ ওই পাথরের মতন ভারী হবে। বড়ো বড়ো জ্ঞানী লোক তাকে রক্ষা করতে পারবে না কিন্তু হঠাৎ কোনো সাধু সঙ্গে পড়ে হয়তো সেই বিপদ থেকে রক্ষা পাবে।সহদেব দেখতে পেয়েছিলেন বনের মধ্যে একটা বিশাল গভীর কূয়া |কিন্তু অবাক হয়ে দেখলেন ওই কূয়ার শেষ প্রান্তে বিন্দুমাত্র জল নেই।তখন শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “কলিযুগের কিছু মানুষের ঘর বাড়ি হবে বিশাল আকৃতির ও তাতে ধনসম্পত্তি থাকবে ওই গভীর কূয়ার সমান তা সত্বেও ওই বাড়ি ও ধনসম্পত্তি নিয়ে ওই মনিবের মধ্যে থাকবে না বিন্দু মাত্র সুখ।”কলি যুগ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারনা পাওয়া যায় এই ঘটনা গুলি থেকে যদিও কল্কি পুরানে আরো বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও কল্কি দেবের আগমনের কথা উল্লেখ আছে সেই প্রসঙ্গেও আলোচনা করবো আগামী কোনো পর্বে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
অম্বুবাচি – তন্ত্র ক্ষেত্র কামাখ্যা
শুরু হলো অম্বুবাচী এসময়ে সব থেকে বেশি আলোচিত হয় কামাখ্যা মন্দির যা হিন্দুদের ৫১ সতীপীঠের একটি যা ভারতের তন্ত্র সাধনার মূল কেন্দ্র| নীল পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত এই স্থান তাই অনেকের কাছেই যাদু নগরী বা মায়া নগরী|কিছু মানুষ বিশ্বাস করেন কামাখ্যা হলো যাদুটোনা, তন্ত্রসাধনার পীঠস্থান এখানে নাকি ভূত,প্রেত, ডাকিনী,যোগিনী দের দেখা মেলা যায়। তাদের কাছে এখনো ভয়ংকর জায়গা কামরূপ কামাখ্যা|কামাখ্যা সম্পর্কে এক কালে ধারনা ছিলো ওখানে পৌঁছালে আর নাকি ফিরে আসা যায় না। বলা হয় জাদুটোনা, ও তন্ত্র-মন্ত্রের রহস্যঘেরা দেশ এটি৷ শুধু কামরূপ কামাখ্যা নয়, ওখানের আশেপাশে অরণ্যে আর নির্জন পথেও নাকি দেখা মেলে অলৌকিক খমতা সম্পন্ন জীবদের ।প্রাচীন কালে কামরূপ-কামাখ্যা নারী শাসিত পাহাড়ী ভূ-খন্ড ছিলো । সেখানকার নারীরা তন্ত্র সাধনায় বিশেষ করে বশীকরণ বিদ্যায় পারদর্শী ছিলো। প্রচলিত কিংবদন্তী অনুসারে কামরূপ-কামাখ্যার মায়াবী সেই নারীরা পুরুষদের মন্ত্রবলে ভেড়া বানিয়ে রাখে তাই বিদেশী শত্রুরাও কামরূপ রাজ্য আক্রমন করার সাহস পেতোনা সহজে|শুধু কামাখ্যা মন্দির বা ভুবনেশ্বরী নয় কামরূপ জেলার সর্বত্র তন্ত্রসাধনা যথেষ্ট ফলপ্রদ। আগে এই কামরূপ প্রদেশ চারভাগে বিভক্ত ছিল। যেমন কামপীঠ, রত্নপীঠ, স্বর্ণপীঠ বা ভদ্রপীঠ ও সৌমার পীঠ। দেবী কামাখ্যা যেখানে বিরাজ করছেন সেই স্থান হল কামপীঠ।তন্ত্রসাধকদের মতে তন্ত্রসাধনার এর চেয়ে উপযুক্ত স্থান কমই আছে ভারতে|তিথি অনুসারে অম্বুবাচির সময় এই তন্ত্র সাধনা সব থেকে বেশি প্রভাবশালী তাই আজও অম্বুবাচি উপলক্ষে অসংখ্য ভক্ত ও তন্ত্র সাধক ভিড় জমান কামরূপ কামাখ্যায়|চলবে এই ধারাবাহিক আলোচনা|নতুন নতুন তথ্য পেতে ও আধ্যাত্মিক যেকোনো বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
অম্বুবাচি ও জ্যোতিষ শাস্ত্র
জ্যোতিষ শাস্ত্র ও গ্রহ গত সংযোগ রয়েছে এই অম্বুবাচী উৎসবের সাথে | আষাঢ় মাসে মৃগশিরা নক্ষত্রের তিনটি পদ শেষ হলে অম্বুবাচী কালের সূচনা হয় হন| এই বিশেষ সময়কাল ধরে প্রতি বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অম্বুবাচী পালন করেন।প্রতিবছর আষাঢ় মাসের সাত তারিখ থেকে শুরু হয় অম্বুবাচী|আবার সনাতন জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুসারে সূর্য যে বারের যে সময়ে মিথুন রাশিতে গমন করে, তার পরবর্তী সেই বারের সেই সময় থেকে অম্বুবাচী হয়| যে তিন দিন সূর্য আর্দ্রা নক্ষত্রের প্রথম পাদে থাকেন, তা-ই অম্বুবাচী|অর্থাৎ জ্যোতিষশাস্ত্র ওতপ্রোত ভাবে জড়িত এই ধর্মীয় উৎসবের সাথে কারন গ্রহ নাক্ষত্রিক যোগাযোগ দেখে অম্বুবাচী পালন করা হয় সারা দেশ জুড়ে|জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে অম্বুবাচি চলাকালীন কয়েকটি বিষয়ে মেনে চলা উচিৎ সেগুলি হলো – অম্বুবাচীতে ভূমিকর্ষণ ও বৃক্ষরোপণ নিষেধ। কারণ এই সময় ধরণী ঋতুমতী হয়।এই সময় মাটি খুঁড়বেন না, গাছ লাগাবেন না, এই সময়ে গৃহপ্রবেশ, বিবাহ ও অন্যান্য শুভ কাজ করা নিষিদ্ধ। এই সব কাজ করলে তা অশুভ হবে বলে মনে করা হয়।এই সময়ে কোনও বিশেষ পূজা রাখবেন না। তবে কোনও বছর যদি এই সময় জগন্নাথদেবের রথযাত্রা পড়ে, তবে তা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই হতে পারে। কেননা এই সময়ে নিত্যকর্ম হবে, কাম্য কর্ম হবে না। রথযাত্রা নিত্যকর্ম। যারা আদি শক্তির বিভিন্ন রূপ, যথা কালী, দুর্গা, জগদ্ধাত্রী, বিপত্তারিণী, শীতলা, চণ্ডীর মূর্তি বা পট পূজা করেন, তাঁরা মূর্তি বা পট লাল কাপড়ে ঢেকে রাখবেন। পূজার সময় কোনও মন্ত্র পাঠ করবেন না, কেবল ধূপ-দীপ দেখিয়ে প্রণাম করলেই হবে।অম্বুবাচীতে ভুলেও মূর্তি বা পট স্পর্শ করবেন না। অম্বুবাচীর নিবৃত্তির পর আচ্ছাদন খুলে আসন ধুয়ে দেবীকে স্নান করিয়ে পূর্বের মতো পূজা ও আম-দুধ নিবেদন করবেন।তুলসি গাছের গোড়া এই সময় মাটি দিয়ে উঁচু করবেন। যাঁরা শাক্তমন্ত্রে দীক্ষিত, তাঁরা জপ করতে পারবেন। কারণ জপে কোনও দোষ নেই।অম্বুবাচীতে গুরুপূজা চলবে। গুরু যদি নারী হন, অর্থাৎ গুরুমা হন, তা হলেও পূজা চলবে। অম্বুবাচীতে গুরু প্রদত্ত নিজ ইষ্টমন্ত্র যত বেশি সম্ভব জপ করুন।অম্বুবাচীতে বিধিপূর্বক অগ্নিস্থাপন করে নিজ ইষ্ট মন্ত্রে হোম করুন ও নিজের মনোস্কামনা ব্যাক্ত করুন সর্পভয় নিবারণের জন্য আম ও দুধ সেবন করুন। কথিত আছে এই সময়ে আম ও দুধ খেলে এক বছর সাপের ভয় থাকে না তাই এই নিয়ম মেনে চলতে পারেন।যারা গ্রহগত কোনো সমস্যার শাস্ত্র সম্মত প্রতিকার চান অথবা জ্যোতিষ পরামর্শ প্রয়োজয় তারা উল্লেক্ষিত নাম্বারে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের শুভেচ্ছা
আজ ২১ জুন বিশ্ব যোগ দিবস সারা বিশ্বে আজ International Yoga Day পালিত হচ্ছে।তবে আজ শুধু যোগ অভ্যাস করলে হবে না, এই দিনটার ইতিহাসটাও মনে রাখা দরকার, কারন এই ইতিহাসের আমার দেশের নাম আজীবন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে|সারা বিশ্ব জুড়ে, ভারতের যোগের ইতিহাসে কয়েক হাজার বছরের প্রাচীন হলেও এই যোগ দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এসেছেন মাত্র কয়েক বছর আগেই|হয়তো আপনারা জানেন ২০১৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২১ জুন তারিখটিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব দেন। সেই বছরই ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ ২১ জুন তারিখটিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস বলে ঘোষণা করে।যোগ হল প্রাচীন ভারতে উদ্ভূত শারীরিক ও মানসিক ব্যায়াম এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলন প্রথা। এর মধ্যে দিয়ে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় থাকে। ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করার কারণ হলো ‘এই তারিখটিতে উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘতম দিন হিসেবেও পালন করা হয়। তাই এই বিশেষ দিনের তাৎপর্য রয়েছে।’প্রাচীন ভারতীয় শাস্ত্রে উল্লেখ আছে আজকের দিনে আদি যোগী তাঁর সবচেয়ে নিষ্ঠাবান সাত জন শিষ্যকে প্রথম দেখেন যাঁরা আলোকপাতের পথ প্রদর্শন না করা পর্যন্ত তাঁকে ছেড়ে না যাওয়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন। এরপর পরবর্তী পূর্ণিমাতে আদি যোগী ওই শিষ্যদের যোগিক ক্রিয়া পদ্ধতি শেখাতে শুরু করেন। এটাই ছিলো প্রথাগত যোগ শিক্ষার সূচনা লগ্ন|জ্যোতিষ শাস্ত্র যেমন আমাদের গর্বের বিষয় তেমনই যোগ নিয়ে আমাদর গর্ব বহুদিনের যাকে স্বীকৃতি দিয়েছে গোটা বিশ্ব এবং গোটা বিশ্বকে দেয়া ভারতের একটি সুন্দর উপহার এই যোগ|নিয়মিত যোগ অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং সুস্থ থাকুন|আপনাদের সবাইকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনেক শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
অম্বুবাচী – নিয়মাবলী ও বিধি নিষেধ
অম্বুবাচি নিয়ে অনেকের মনেই অনেক প্রশ্ন থাকে তাই অম্বুবাচী উৎসব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছি এবং আজকের পর্বে আলোচনা করবো অম্বুবাচী সংক্রান্ত নানা বিধি নিষেধ ও তার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য|শাস্ত্র মতে অম্বুবাচীর প্রথম তিন দিন কৃষি কাজ ছাড়াও আরো অনেককিছুই করা নিষেধ, এই সময় কোনো শুভ বা মাঙ্গলিক কাজের সূচনা করা হয়না যেমন বিবাহ,গৃহ প্রবেশ বা মঠ ও মন্দিরের স্বাভাবিক পূজাঅর্চনা ইত্যাদি|আসলে এই সময় ধরিত্রী যেহেতু ঋতুমতী হয় তাই লৌকিক আচার ও প্রথা গুলিকে সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখা হয় এর পেছনে আছে বা বিশ্বাস, শ্রদ্ধা এবং হাজার হাজার বছরের প্রাচীন পরম্পরা ও শাস্ত্রীয় বিধান|যদিও চতুর্থ দিন থেকে শুভ কাজে আর কোনো রকম বাধা থাকেনা|শাস্ত্র মতে আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও কয়েকটি বিধি নিষেধ এই অম্বুবাচী চলাকালীন মেনে চলা শ্রেয় যেমন আদি শক্তির বিভিন্ন রূপকে যারা পূজা করেন অর্থাৎ কালী, চন্ডি, দূর্গা জগদ্ধাত্রী ইত্যাদি তারা দেবীমূর্তি কে একটি লাল কাপড়ে ঢেকে রাখতে পারেন |এই দেবী মূর্তিকে স্পর্শ করা বা মন্ত্রউচ্চারণ করা উচিৎ নয়|যারা দীক্ষিত তারা গুরু পূজা করতে পারেন, এছাড়া জপ চলতে পারে তাতে কোনো দোষ নেই|গৃহী রা এই সময় কয়েকটি নিয়ম মেনে চললে গৃহের কল্যাণ হয় যেমন নতুন বৃক্ষ রোপন না করা বা দাম্পত্য জীবনে শারীরিক ও মানসিক পবিত্রতা রক্ষাকরা|গ্রাম বাংলার বহু স্থানে নিষ্ঠার সাথে অম্বুবাচী পালন করা হয়|সাধারণত বিধবা মহিলারা অম্বুবাচী চলা কালীন আগুন জ্বালিয়ে খাবার রান্না করেন না|যারা ব্রহ্মচর্য পালন করেন তাদের এই সময় আমিষ খাবার বর্জন করে মূলত ফল মুল খেয়ে থাকতে হয়|এই কটাদিন বেদ পাঠ করা যায়না এবং উপনয়ন অনুষ্ঠান করা যায়না|অম্বুবাচীর আগের দিনটিকে বলা হয় ‘অম্বুবাচী প্রবৃত্তি’। তিন দিনের পরের দিনটিকে বলা হয় ‘অম্বুবাচী নিবৃত্তি’ যার পর আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার সূচনা হয় ধীরে ধীরে|অম্বুবাচী পরবর্তী সময় শক্তি সাধনার ও শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনের উপযুক্ত তিথি তাই যারা নানা সমস্যায় জর্জরিত তারা এই সময়কে কাজে লাগাতে পারেন|চলতে থাকবে অম্বুবাচি নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|