ত্রিপুরায় পন্ডিতজি

191

করোনা আতঙ্ক কাটিয়ে, ঘর বন্দী দশা ঘুচিয়ে আবার ডানা মেলার পালা, আবার ভিন রাজ্যে পাড়ি দেয়া, যদিও মূল উদ্দেশ্যে চেম্বার এবং ক্লাইন্ট দের সাথে সাক্ষাৎ তবু যতবার এই ত্রিপুরায় পা রাখি এক অদ্ভুত আনন্দ পাই কারন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন ও আধ্যাত্মিক প্রতিতষ্ঠান এর এক অদ্ভুত মেল বন্ধন ঘটেছে এই রাজ্যে|

এক দিকে ত্রিপুরার চিত্রবৎ পরিবেশ সবুজ উপত্যকা, পাহাড়ী স্রোত, পাহাড় এবং উপত্যকা দ্বারা পরিবেষ্ঠিত। প্রাকৃতিক ভাবে ত্রিপুরার জনপ্রিয় আকর্ষণ স্থলগুলি হল কমলাসাগর হ্রদ, ডামবুর হ্রদ, উজ্জায়ান্তা প্রাসাদ, নীড়মহল, কুঞ্জবন প্রাসাদ, ত্রিপুরা সরকারী যাদুঘর, জাম্পুই পাহাড় ইত্যাদি যা আপনাকে একবার এলে বার বার আসতে বাধ্য করবে|

বলতেই হয় ত্রিপুরার সরকারী যাদুঘর একটি দর্শনীয় স্থান, এটি হল একটি সংগ্রহস্থল যেখানে হস্তনির্মিত এবং প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে যা উত্তর-পূর্বের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করে। বস্তুত, এই যাদুঘটি রাজ্যের সাংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে গন্য হয়|

গোমতী অভয়ারন্য রোয়া অভয়ারণ্য এবং সিপাহিজলা অভয়ারণ্য রাজ্যের মধ্যে অন্যতম পর্যটন স্থল যেখানে গেলে বন্যপ্রান প্রেমীরা মুগ্ধ হবেন|

আধ্যাত্মিক জগতের মানুষ হিসেবে ত্রিপুরার প্রাচীন মন্দির গুলির সঙ্গে আমার সম্পর্ক বহু দিনের|ত্রিপুরার মন্দিরগুলি হল এই রাজ্যের পর্যটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ত্রিপুরার মন্দিরগুলি তাদের স্থাপত্য এবং ভাস্কর্য-এর জন্য সুপরিচিত|

এক্ষেত্রে তিনটি মন্দিরের কথা বিশেষ ভাবে বলতে হয়|ভুবনেশ্বরী মন্দিরটি গোমতী নদীর তীরে অবস্থিত যা ত্রিপুরার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘রাজর্ষি’ এবং ‘বিসর্জন’ এর প্রেক্ষাপট হিসেবে এই মন্দিরটি ব্যবহৃত হয়েছিল।হিন্দুদের ৫১ টি পীঠস্থানের একটি হল ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির যা আগরতলা থেকে প্রায় 55 কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত,
এবং ত্রিপুরার সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটনস্থানের একটি হল কমলাসাগর কালী মন্দির যা বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত। মন্দিরগৃহে অবস্থিত দেবীর ভাবমূর্তিকে মহিষমর্দিনীর অনুরূপ হিসাবে বর্ণনা করা হয়ে থাকে।

ত্রিপুরার মানুষের আতিথেয়তা ও সুন্দর ব্যাবহারের কথাও বেশ সুপ্রসিদ্ধ, আজ রয়েছি ত্রিপুরায়, আগামী দুদিন থাকবো যথাক্রমে শিলচর ও গুয়াহাটি, সেই স্থান গুলি নিয়েও বলবো যথা সময়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|