আমরা বিশ্বাস করি ভগবান হনুমানকে সিঁদুর দিয়ে পুজো দিলে তিনি সন্তুষ্ট হন এবং তাঁর ভক্তের মনস্কামনা পূর্ণ করেন এবং bপ্রতি মঙ্গলবার হনুমানজি-কে সিঁদুর দিয়ে পুজো দিলে গৃহস্থের মঙ্গল হয় এবং সংসারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে।এই উপাচারের সাথে জড়িত আছে এক পৌরাণিক ঘটনা রামভক্ত হনুমান-কে সিঁদুর দান করার পিছনে একটি পৌরাণিক কাহিনী রয়েছে।পুরানে উল্লেখ আছে একদিন দেবী সীতাকে সিঁদুর পড়তে দেখে হনুমান সীতাকে জিজ্ঞেস করেন যে তিনি কেন সিঁদুর পড়ছেন, উত্তরে সীতা হনুমানকে জানিয়েছিলেন,ঈশ্বর রামের দীর্ঘায়ুর জন্যই সিথিতে সিঁদুর পড়েন তিনি।হনুমান তখন ভাবেন যদি সিঁদুরই তাঁর প্রভু রামের দীর্ঘায়ুর চাবিকাঠি হয় তাহলে তিনিও সিঁদুর পড়বেন।তাই সীতার কথা শুনেই নিজের পুরো শরীরেই সিঁদুর মেখে নেন হনুমান।এখান থেকেই সূত্রপাত হয় তার সিঁদুর প্রীতির |গুরুর প্রতি শিষ্যের এমন ভালোবাসা ও ভক্তির কথা জানতে পেরে শ্রীরামচন্দ্র হনুমানকে আশীর্বাদ করেন যে, সবাই তাকে সিঁদুর দিয়ে পুজো করবে। আর সেই থেকে আজও ভগবান হনুমানকে সিঁদুর দান করে পুজো করা হয়।এরপর থেকেই হনুমান ভক্তরা মনে করেন, বীর হনুমানকে সিঁদুর দান করলে তিনি সেই সিঁদুর নিজের গায়ে মাখেন এবং ভক্তের সমস্ত ইচ্ছে পূরণ করে দেন।আপনারাও নিজ মনোস্কামনা জানিয়ে তার উদ্দেশ্যে সিঁদুর অর্পণ করতে পারেন|ভালো ফল পাবেন|এমন আরো অনেক পৌরাণিক ঘটনার ব্যাখ্যা পেতে পড়তে থাকুন প্রতিটি লেখা|জ্যোতিষ বিষয়ে পরামর্শ ও সমস্যার সমাধানের জন্য যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
মা সারদার জন্মতিথিতে প্রণাম ও শ্রদ্ধাঞ্জলি
হাতে গোনা আর কয়েকটি দিন পরেই কল্পতরু উৎসব, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য রামকৃষ্ণ ভক্তের কাছে একটি বিশেষ দিন, এবং তার ঠিক আগে আজকের দিনটি আমাদের অর্থাৎ রামকৃষ্ণ ও মা সারদার অনুরাগী দের কাছে একটি স্মরণীয় দিন, আজ দেবী সারদার একশো উনষত্তর তম জন্ম তিথি|আজ মা সারদার ব্যাক্তিত্বের একটি বিশেষ দিক আলোচনা করে তাকে শ্রদ্ধা জানাবো,তার দিব্য চরনে আমার প্রনাম নিবেদন করবো|একবার মা তার ভক্ত আমজাদকে নিজের হাতে খেতে দিয়েছিলেন, এমনকী খাওয়া শেষে এঁটো থালা পরিষ্কার করতেও তাঁর কোনও দ্বিধা ছিল না। আমজাদের পরিচয় সম্পর্কে মাকে মনে করিয়ে দেওয়ায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমার শরৎ যেমন ছেলে, ওই আমজাদও তেমন ছেলে’, এখানে শরৎ, অর্থাৎ পরবর্তী কালে স্বামী সারদানন্দ মহারাজ।এই সামান্য ঘটনাটির তাৎপর্য মোটেও সাধারণ নয়। আজকের এই জটিল আর্থ-সামাজিক দুনিয়ায়, যেখানে অসহিষ্ণুতার একটা বিষময় বাতাবরণ, সেখানে মা সারদার এই সহজ অভিব্যক্তিটা খুব বেশি প্রাসঙ্গিক বলে মনে করি। আজও আমরা সর্বস্তরে জাতপাতের সীমানা লঙ্ঘন করতে পারছি না। আমরা সবাই এক এবং অভিন্ন, এই শাশ্বত বোধ আমাদের সবার মধ্যে আসছে না|কিন্তু পথ দেখাতে পারেন মা সারদা ও তার ত্যাগ এবং আদর্শ যিনি সেই যুগে দাঁড়িয়ে প্রকৃত সমাজসেবী হিসেবে এক বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন, ‘আমরা ওরা’র বন্ধন।মা সারদা প্রকৃত অর্থেই হয়ে উঠেছিলেন সৎ এর ও মা আবার অসৎ এর ও মা|তার কাছে নরেন ও যা রঘু ডাকাত ও তাই|তাই ঠাকুরের দেহ রাখার পর নিবেদিতা থেকে বিবেকানন্দ সকলের কাছেই তিনি ছিলেন প্রধান পরামর্শদাত্রী এবং সব কর্মকান্ডের শ্রেষ্ঠ অনুপ্রেরণা|প্রকৃত অর্থেই সংঘ জননী |আজ জন্মতিথিতে বিশ্ব জননী, সংঘ জননী মা সারদার চরনে আমার শত কোটি প্রনাম শ্রদ্ধাঞ্জলি | ভালো থাকুন |ধন্যবাদ |
বড়দিনের শুভেচ্ছা
আজ বহু প্রতিক্ষিত ও পবিত্র বড়দিন |আজকের এই পবিত্র দিন প্রভু যীশুর জন্মদিন হিসেবেই পালিত হয় গোটা বিশ্বে|প্রকৃত অর্থে এই ক্রিসমাস ডে প্রভু যীশুর জন্মদিন কিনা তা বিতর্কের বিষয়|বাইবেলে কিন্তু কোথাও প্রভু যীশুর জন্মের নিদ্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ নেই|অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন এই তারিখের ঠিক নয় মাস পূর্বে মেরির গর্ভে প্রবেশ করেন যিশু। সম্ভবত, এই হিসাব অনুসারেই ২৫ ডিসেম্বর তারিখটিকে যিশুর জন্মতারিখ ধরা হয় হয় এবং উৎসব পালন করা হয়|
সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ভারত এবং অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গ মেতে ওঠে এই উৎসব পালনে|
আজকাল বড়দিন আর শুধু ক্রিস্টান ধর্মের মানুষ দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, জাতী ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই বড়দিন পালন করি শুভেচ্ছা বিনিময় করি|আর এখানেই আমাদের দেশের সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের এক মহান চিত্র ফুটে ওঠে|
এই দিনকে খ্রিস্টমাস ও বলে আবার এক্স মাস ও বলে কারন ইংরেজি খ্রিস্টমাস শব্দটি “খ্রিস্টের মাস ” বোঝাতে ব্যবহার হয়ে আসছে এবং মূলত গ্রিক ভাষা থেকে এই শব্দের জন্ম হয়েছে|যেহেতু প্রাচীন গ্রিক ভাষায় Χ অক্ষর টি Christ বা খ্রিষ্ট শব্দের প্রথম অক্ষর তাই তাই এই অক্ষরটি খ্রিষ্ট শব্দেরনামসংক্ষেপ|
আবার অনেকের মতে ভৌগোলিক ভাবে উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণ অয়নান্ত দিবস উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বর তারিখে বড়দিন পালিত হয় বিশ্ব জুড়ে অর্থাৎ আক্ষরিক দিক দিয়ে এই দিন সত্যি বড়ো দিন|
বড়দিন বলুন বা ক্রিস্টমাস কিংবা এক্সমাস দিনটি ওতি পবিত্র|আজ প্রভু যীশুর কাছে প্রার্থনা জানানোর দিন আজ উৎসব করার দিন|আপনারাও প্রার্থনা করুন উৎসব পালন করুন|আমার তরফ থেকে আপনাদের সবাইকে বড়দিনের অসংখ্য শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|ভালো থাকবেন|ধন্যবাদ|
মন্দির রহস্য – বীরভূমের প্রাচীন লক্ষী মন্দির
মন্দির রহস্য সিরিজে বহু প্রাচীন কালী মন্দির, হনুমান মন্দির এবং শিব মন্দিরের কথা লিখেছি|আজ এক প্রাচীন লক্ষী মন্দিরের কথা লিখবো যা অবস্থিত বীরভূমের এক প্রাচীন গ্রামে|এই মন্দির ঘিরে অসংখ্য অলৌকিক ঘটনা ও প্রচলিত কিংবদন্তী|শুরুতেই মন্দির নির্মাণের সাথে জড়িত অলৌকিক এক ঘটনার কথা বলি,প্রায় পাঁচশো বছর আগে বীরভূমে এই গ্রামে আসেন পূর্ববঙ্গের এক পরিব্রাজক সন্ন্যাসী কামদেব ব্রহ্মচারী। এই গ্রামের একটি নিমগাছের তলায় সাধনস্থল হিসেবে চিহ্নিত করে থাকতে শুরু করেন। কিছুদিনে পর এক গ্রামবাসী দীঘির ধারে জমিতে চাষ করছিলেন সে হটাৎ দেখতে পায়,দীঘির জলে একটি পদ্মফুল ভেসে যাচ্ছে।পদ্মফুল তুলতে নেমে পড়েন দীঘিতে ফুটে থাকা পদ্মফুল দেখতে পেলেও নাগাল পান না কিছুতেই।সেই রাতে মা লক্ষ্মীর স্বপ্নাদেশ পান ওই গ্রামবাসী, ওই দীঘির জলেই নিরাকার রূপে দেবী লক্ষী অবস্থান করছেন। পর দিনই দীঘিতে নিম কাঠ ভাসতে দেখেন তুমি । সেই কাঠ তুলে এনে দেবীর নির্দেশ মতো গ্রামের নিম গাছতলায় আসন পাতা কামদেব ব্রহ্মচারীর কাছে নিয়ে যান এবং সাধক ওই নিম কাঠ থেকে লক্ষ্মীমূর্তি গড়ে তোলেন। সেই দেবীমূর্তি প্রতিষ্ঠা হয় গ্রামেই।আজও ওই মূর্তি পূজিত হয় এখানে|দেবী লক্ষীর বাস এখানে । কিংবদন্তী বলে,তাই ঘোষ গ্রামে এক সময় ধান নয়, সরাসরি চাল ফলত। দীর্ঘদিন দেবীর হাতে তাই চালের শিষ শোভা পেত।এবিং লক্ষীর বাসস্থান এই গ্রাম, তবে অদ্ভুত ভাবে কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে এখানে কোনও বাড়িতে শাঁখ বাজে না। কেউ নিজের বাড়িতে লক্ষ্মীর ঝাঁপিও রাখেন না। কারণ বাড়িতে লক্ষ্মীপুজো করা নিষিদ্ধ এই গ্রামে কারন তার কারণ এখানে প্রাচীন এই সর্বজনীন লক্ষ্মী মন্দিরে ১২ মাস পূজিতা দেবী।কয়েক শো বছর ধরে এমনই প্রথা চলে আসছে এখানে।জানাবেন কিরকম লাগলো আজকের এই উপস্থাপনা |পড়তে থাকুন এবং যেকোনো জ্যোতিষ ও তন্ত্র সংক্রান্ত পরামর্শ ও সমস্যার সমাধানের জন্য যোগাযোগ করুন |ভালো থাকুন|ধন্যবাদ |
তন্ত্র রহস্য – প্রাচীন শাস্ত্র ও তন্ত্র
তন্ত্র পক্রিয়া, তন্ত্রের গুরুত্ব এবং মন্ত্র বহু প্রাচীন শাস্ত্রে লিপিবদ্ধ, তবে এই তন্ত্র বিদ্যার সাথে শাস্ত্রের সম্পর্ক আসলে বেদ নির্ভর কারন তন্ত্র মূলত বেদের শেষাংস থেকে সৃষ্টি যাকে আগম বলে|তাই তন্ত্র শাস্ত্রের আরেক নাম আগম শাস্ত্র|এই কারনেই অনেক তান্ত্রিক নিজেকে আগমবাগীশ হিসেবেও পরিচয় দেন, এর অর্থ তন্ত্র শাস্ত্রে পারদর্শী|শাস্ত্র অনুসারে তন্ত্রের ব্যাখ্যা করতে হলে সহজ করে সংক্ষেপে বলা যায় তন্ত্রের দৃষ্টিতেশরীর প্রধান নিমিত্ত, তন বা তনু থেকে তন্ত্র শাস্ত্রের উৎপত্তি শরীর ছাড়া চেতনার উচ্চস্তরে পৌঁছানো যায় না। এজন্য তন্ত্রের গূঢ়ার্থ নিজ ‘তন’ বা দেহের মাধ্যমে আত্মার সাথে পরমাত্মার মিলন ও নিজ দেহে লুকিয়ে থাকা বা সুপ্ত অবস্থায় থাকা কুন্ডলিনি শক্তির পূর্ণ জাগরণ|এই অসাধ্য সাধন করতে পারলেই জগতের বহু শক্তি সাধকের নিয়ন্ত্রণে আসে|বাইরে থেকে এই শক্তির প্রয়োগজাদু বিদ্যার মত মনে হলেও তা আসলে শাস্ত্র নির্ভর এবং হাজার হাজার বছরের গবেষণার ফসল|শাস্ত্রে তন্ত্রের উল্লেখ সম্পর্কে বলতে গেলে বেদ পূরণের পাশাপাশি বলতে হয় আরো একটি বইয়ের কথা, তন্ত্রশাস্ত্রে সুপন্ডি তন্ত্রসাধক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ ১৭০টি তন্ত্র সাধনার গ্রন্থ থেকে নির্যাস গ্রহণ করে বিখ্যাত “তন্ত্রসার” গ্রন্থটি রচনা করেন, এই বই আজ সমগ্র দেশে সমাদৃত হয়।শুধু ভারতীয় বা হিন্দুদের মধ্যে নয় জৈন এবং বৌদ্ধ ধর্ম কেও প্রভাবিত করেছিলো তন্ত্রবিদ্যা|তিব্বতী বৌদ্ধ তন্ত্রে একসময় বিশাল উচ্চতায় আরোহন করে ছিলো|মধ্যযুগীয় ভারতের মহাসিদ্ধদের দ্বারা উদ্ভাবিত বজ্রযান মতবাদটি বৌদ্ধ তন্ত্র নামে পরিচিত সাহিত্যের সাথে মিশে গেছে|এই সংক্রান্ত বহু প্রাচীন পুঁথি ও গ্রন্থ আজও সংরক্ষিত আছে বিশ্বের নানা প্রান্তে যা তন্ত্র শাস্ত্রের মনি মুক্ত রূপে প্রশংসিত হয়|ব্যাবহারিক ভাবে তন্ত্র মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে সঠিক দিশায় এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রে প্রতিকার রূপে সাফল্যর সাথে যুগ যুগ ধরে তা প্রমানিত|তন্ত্র মতে যেকোনো সমস্যা নিয়ে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে |ভালো থাকুন|ধন্যবাদ
ঐতিহাসিক মালদায় পন্ডিতজি
শীত জাঁকিয়ে পড়া মানেই ভ্রমণ প্ৰিয় বাঙালির সামনে বেড়ানোর হাতছানি|শীতের আমেজ গায়ে লাগিয়ে ঘুরে বেড়ানো বা সবাই মিলে দল বেঁধে পিকনিক, মজাই আলাদা|কাজের চাপে আলাদা করে বেড়ানোর সুযোগ খুব কমই আসে, তবে যখনই কলকাতার বাইরে চেম্বার করতে যাই তখনই অনেকটা রথ দেখা আর কলা বেচার ঢঙে একটু ঘুরে নিই, অজানা কে জানার চেষ্টা করি , চেষ্টা করি নতুন কিছু অভিজ্ঞতা নিজের ঝুলিতে ভরে নেয়ার|ঘেটে দেখি সেই স্থানের ইতিহাস এবং দর্শনীয় স্থান গুলির সাথে জড়িয়ে থাকা নানান গল্প|আর সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিই আপনাদের সাথে|এবার ডেস্টিনেশন মালদা|কাল থাকছি মালদা চেম্বারে|প্রথমেই বলি গৌড়ের পথেই রয়েছে একটি ছোট্ট গ্রাম, রামকেলি, বাংলার মহান ধর্ম সংস্কারক শ্রী চৈতন্যের অস্থায়ী বাড়ি হিসাবে বিখ্যাত এই স্থান|এখানে তিনি বৃন্দাবনে যাওয়ার পথে কিছু দিন অবস্থান করেছিলেন।রয়েছে তার স্মৃতি বিজড়িত তাল গাছ ও কলা গাছ|রয়েছে একটি ছোট্ট মন্দির এবং মহাপ্রভুর পদচিহ্ন|মাতৃ সাধক ও মা সর্বমঙ্গলার উপাসক হিসেবে কালী ক্ষেত্র আমায় বরাবরই একটু বেশি আকর্ষণ করে|মালদা ভ্রমণ ও ব্যাতিক্রম নয়|মালদায় এলে হান্টা কালী বাড়ি ও জহুরা কালী বাড়ি যেতে আমার কখনো ভুল হয়না|মালদায় ইংরেজবাজার থানা এলাকায় একটি প্রাচীন আমবাগানের মধ্যে রয়েছে এই প্রাচীন জহুরা কালীমন্দির|দেবীর কেনো এই বিচিত্র নাম হলো সে নিয়েও আছে এক রহস্যময় তত্ব|শোনো যায় এক কালে এই অঞ্চলে ছিলো ঘন অরণ্য|ডাকাত রাই একপ্রকার শাসন করতো এই এলাকা এবং এই দেবী এক সময়ে ছিলেন ডাকাতদের আরাধ্যা। এখানে দেবী চণ্ডীর পুজো করে ডাকাতরা যেত ডাকাতি করতে। ডাকাতি করে প্রচুর ধনরত্ন আনত তারা, তারপর সেগুলোকে এখানেই মাটির তলায় রাখত। সেই ধনরত্নের ওপরই দেবীমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয় যেহেতু ধনরত্নকে হিন্দিতে বলে ‘জওহর’। দেবীমূর্তির নিচে প্রচুর ধনরত্ন রাখা থাকত বলেই এখানে দেবী চণ্ডী ‘জহরা’ বা ‘জহুরা’ নামে বিখ্যাত|মালদায় রয়েছে আরেক প্রাচীন কালী মন্দির যা হান্তা কালী মন্দির নামে প্রসিদ্ধ|চৌত্রিশ নম্বর জাতীয় সড়ক লাগোয়া এই কালী মন্দির গোটা উত্তর বঙ্গ জুড়ে বেশ প্রসিদ্ধ|দেবী এখানে অত্যান্ত জাগ্রত তাই দূর দূর থেকে বহু মানুষ আসেন দেবীর দর্শন লাভ করতে এবং নিজের মনোস্কামনা জানাতে|বিশেষ বিশেষ তিথিতে ভিড় হয় চোখে পড়ার মতো|আজ গেছিলাম এই কালী মন্দিরে দেবীর দর্শন করে ধন্য হলাম|যদিও ভৌগোলিক ভাবে মালদায় প্রতিষ্ঠিত নয় তবু এখানে বলে রাখি মালদার অদূরেই রয়েছে বিখ্যাত বোল্লা কালী মন্দির|বহু কাল আগে স্বপ্নাদেশে পাওয়া একটি কালো পাথর খন্ডকে প্রথম মাতৃরূপে পুজো শুরু করেছিলেন স্থানীয় মানুষ পরে তৈরি হয় মন্দির|কথিত আছে একবার এই এলাকায় পরপর ডাকাতের অত্যাচার শুরু হয়, বোল্লাকালী তখন রুদ্রমূর্তি ধারণ করে বাসিন্দাদের রক্ষা করেন। এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান গুলির মধ্যে এটিও নিঃসন্দেহে একটি|শুধু মন্দির বা তীর্থ স্থান নয়|প্রাচীন বাংলার বহু ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে সমৃদ্ধ এই মালদা জেলা|রয়েছে প্রাচীন গৌরের ধ্বংসাবশেষ, আদিনা মসজিদ, দাখিল দরজা, ফিরোজ মিনার, বড়ো সোনা মসজিদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান|ইতিহাস, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, এবং মালদার মানুষের আন্তরিক ও সুন্দর ব্যাবহার প্রতিবারই মুগ্ধ করে|এই শীতের মরসুমে দুরে কোথাও যাওয়ার সময় বা সুযোগ না পেলে ঘুরে আসতেই পারেন মালদা থেকে|নিরাশ হবেন না|কাল থাকছি মালদার হোটেল প্রতাপাদিত্যতে|উত্তর বঙ্গের বন্ধুরা চাইলে আসতেই পারেন|শুধু উল্লেখিত নাম্বারে আগে একবার যোগাযোগ করে নেবেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
কলকাতার কালী – তারাশঙ্করী পীঠ
বাংলা তথা কলকাতার বহু বিখ্যাত কালী মন্দিরের কথা ইতিমধ্যে লিখেছি এই ধারাবাহিক লেখায়, আজ ও কলকাতার বেলগাছিয়া অঞ্চলে অবস্থিত এক প্রসিদ্ধ কালী মন্দিরের কথা বলবো যা তারাশঙ্করী পীঠ নামে বিখ্যাত|পুরানে উল্লেখিত শক্তি পীঠ নয়,তারাপীঠের মতো এটাও সিদ্ধপীঠ। ১৯৫২ সালে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন যোগী মহারাজ পরেশচন্দ্র রায় মৌলিক এবং তন্ত্রমতে মায়ের আরাধনা শুরু করেন তিনি। লোক মুখে এক অদ্ভুত ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় এই মন্দির কে কেন্দ্র করে,শোনা যায় অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী যোগী মহারাজ পরেশচন্দ্র রায় মৌলিক ভবিষ্যত দেখতে পারতেন|একবার তৎকালীন কংগ্রেস নেতা গনি খান চৌধুরী মন্দিরে এসেছিলেন তখন মাতৃ সাধক ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছিলেন, সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হলে রেলমন্ত্রকের দায়িত্ব পাবেন তিনি।পরবর্তীতে বাস্তবে হয়েছিল ঠিক তেমনটাই। একটি অদ্ভুত রীতি পালিত হয় এই মন্দিরে|মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় বারাণসীর মণিকর্নিকা মহাশ্মশান থেকে সধবার চিতার আগুন আনা হয়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত জ্বলছে চিতার আগুন|অত্যন্ত পবিত্র অগ্নি রূপে এই আগুন কে শ্রদ্ধা করা হয় এই মন্দিরে|মা তারার পাশাপাশি এই মন্দিরের পূজিত হন যশমাধব তার মূর্তি নিমদারু কাঠের তৈরি। নিত্য পুজোয় যশমাধবকে দেওয়া হয় নিরামিষ ভোগ।একই সঙ্গে তারাশঙ্করী পীঠে পূজিত হন কালভৈরব|তারাশঙ্করী পীঠের আরও এক আকর্ষণ হন ‘নবমুণ্ডি আসন’। বাঘ, হাতি, শেয়াল, সাপ, অপঘাতে মৃত ব্যক্তি, চণ্ডাল ইত্যাদির ৯টি মাথার খুলি দিয়ে সজ্জিত এই আসন।আগামী সময়ে আবার ফিরে আসবো অন্যকোনো পর্বে নতুন কোনো কালী মন্দিরের কথা নিয়ে|পড়তে থাকুন|কাল থাকছি মালদা চেম্বারে|উত্তর বঙ্গের বন্ধুরা চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
ইতু পুজোর ব্রত
আজ ইতু পুজো বাংলার পুজো এবং ব্রত গুলির মধ্যে একটি জনপ্রিয় ব্রত ইতু পুজোর ব্রত তাই এই পবিত্র দিনে আপনাদের ইতু পুজোর ব্রত নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলবো|আজ ইতু পুজো এই ইতু শব্দের প্রকৃত অর্থ হলো মিত্র এবং এখানে সূর্য কেই মূলত মিত্র নামেই অভিহিত করা হয় অবশ্য ইতু পুজো সূর্য উপাসনা হলেও এই পুজোর রীতিও উপাচার বিশ্লেষণ করে ইতুকে মাতৃকাদেবী রূপেই গণ্য করে গ্রাম বাংলার মানুষ এবং এই পরম্পরা চলে আসছে যুগ যুগ ধরে|এবার পুজোর রীতি নীতি বা উপাচার নিয়ে বলতে গেলে প্রথমেই যা উল্লেখ করতে হয় তা হলো ঘট|ইতুর ঘটের গায়ে পুতুল আঁকা এবং ভেতরে শস্যদানা ও তৃণগুচ্ছ রাখা হয়|প্রতীকী অর্থে শষ্যক্ষেত্র কে মাতৃ রূপে পুজো করা হয় ইতু পুজোর মাধ্যমে| শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুসারে পুজো সম্পন্ন হলে ইতুকে বা ঘটকে বিসর্জন দিতে হয়|এই দিন পুজো চলাকালীন বাড়ির গৃহিনীরা ইতুর পাঁচালি বা ব্রত কথা পাঠও করেন কোথাও কোথাও|এই পুজো সংক্রান্ত নিয়ম ও উপাচারে পার্থক্য চোখে পরে স্থান ভেদে|অর্থাৎ এক এক স্থানে এক একটি গোষ্ঠীর মধ্যে নিয়মের কিঞ্চিৎ রকমফের থাকতেই পারে|তবে নিয়মের পার্থক্য যাই থাক এই পুজোর উদ্দেশ্য কিন্তু সর্বত্র একই তা হলো সূর্যদেব তথা প্রকৃতির আশীর্বাদ লাভ করে গৃহের কল্যাণ ও শ্রীবৃদ্ধি|সবাইকে আমার পক্ষ থেকে ইতু পুজোর অনেক শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
তন্ত্র রহস্য – তন্ত্রের আরাধ্যা দেবী
প্রথম পর্বে তন্ত্রের সহজ ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছি, আজ জানাবো তন্ত্রে আরাধ্যা দেবী বা দেবতা কে বা কারা|বাংলায় তন্ত্রে সাধনায় প্রকৃতি কে ‘চৈতন্যময়ী’ বলে মনে করে দেবীরূপে ভজনা করা বিবর্তিত হয়েছিল। এবং এই নারীকেন্দ্রিক তান্ত্রিক ধারণাটি পল্লবিত হয়েছিল সারা দেশ জুড়ে বিশেষত পূর্ব ভারতে|চৈতন্যময়ী প্রকৃতিরূপী নারীবাদী তন্ত্রের দেবী দূর্গা-কালী- বাসুলী – তারা- শিবানী। কিন্তু তন্ত্রের কেন্দ্রে রয়েছেন শিব। তন্ত্রমতে শিব তাঁর শক্তি পেয়েছে কালীর কাছ থেকে। আবার শিব- এর রয়েছে পৃথক নিজস্ব শক্তি। তন্ত্রমতে পুরুষ শক্তিলাভ করে নারীশক্তি থেকে। শিব শক্তি লাভ করেছেন তাঁর নারীশক্তির প্রকাশ- গৌড়ীর শক্তি থেকে। তবে শিবের নিজস্ব শক্তিও স্বীকৃত। তন্ত্রসাধনার মূল উদ্দেশ্যই হল-শক্তি দেবীর সাধনা করে “শিবত্ব” লাভ তথা শক্তিমান হওয়া।আবার মহাদেব বা শিবের ডমরু থেকে তন্ত্রের উৎপত্তি । সতী বা দেবি দূর্গার দশ হাতে আছেন দশ মহাবিদ্যা । এই দশমহাবিদ্যার উপর ভিত্তি করেই অনেকটা তন্তশাস্ত্র গড়ে উঠেছে ।অর্থাৎ তন্ত্রের দেবী বা আরাধ্য দেবতা এক নয় এবং নিদ্দিষ্ট কোনো পন্থা নেই|বহু মত, বহু পদ্ধতি ও তেমনই ভিন্ন ভিন্ন শক্তিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় তন্ত্র সাধনা|আগামী পর্বে সেসব নিয়ে আলোচনা করবো|আর দৈনন্দিন জীবনে প্রতিকার রূপে তন্ত্রের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
তন্ত্র রহস্য – তন্ত্রশাস্ত্রের গোড়ার কথা
তন্ত্র বিষয়টি যুগ যুগ ধরে বহু রহস্য, বহু তত্ত্বকে নিজের মধ্যে গোপন করে রেখেছে যার মধ্যে তন্ত্রের বহু জটিল ও কঠিন বিষয় জনসমক্ষে ব্যাখ্যা করা বা আলোচনা করা সম্ভব নয়|তবে কিছু বিষয় আছে যা আজ অনেকেই জানেন বা জানতে চান|তন্ত্র শাস্ত্রের সাথে জড়িত এমনই কিছু বিষয় নিয়ে আজ থেকে ধারাবাহিক ভাবে লিখবো তার পাশাপাশি থাকবে বিখ্যাত কিছু তন্ত্র তন্ত্র সাধক ও তাদের সাধনার কথা|প্রথমেই বলি তন্ত্র ভারতের অতিপ্রাচীন এবং গুরু পরম্পরার একটি গুপ্ত বিদ্যা। এটি গুরু পরম্পরা বিদ্যা বলে প্রকৃত গুরুর খোঁজ করতে হয়। দীক্ষা ছাড়া এ শাস্ত্র সম্পর্কে সহজে কেউ কাউকে কিছু ব্যক্ত করেন না।বৌদ্ধতন্ত্র ও সনাতনধর্মীয় তন্ত্রের মধ্যে বস্তুত কোনও উল্লেখযোগ্য প্রভেদ নেই। আসলে সেভাবে দেখলে তন্ত্র কোনও ধর্মীয় মতবাদ নয়, তন্ত্র এক সাধনপদ্ধতি মাত্র। মনুষ্যদেহকে এক যন্ত্রস্বরূপ বিচার করে সেই সূত্রে এক গুহ্যসাধনপদ্ধতিকেই তন্ত্র বলে।সংক্ষেপে তন্ত্র হচ্ছে “সৃষ্টির পরিচালনার নিয়ম ” । মহাদেব বা শিবের ডমরু থেকে তন্ত্রের উৎপত্তি । সতী বা দেবি দূর্গার দশ হাতে আছেন দশ মহাবিদ্যা এই দশমহাবিদ্যার উপর ভিত্তি করেই অনেকটা তন্তশাস্ত্র গড়ে উঠেছে |তন্ত্রসাধনার মূল স্রোতটি যে আচারপদ্ধতিকে আশ্রয় করে গড়ে ওঠে, তা হলো পঞ্চ ম-কার ক্রিয়া|আগামী পর্ব গুলিতে এই ক্রিয়া পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো|আপাতত বলে রাখি বামা ক্ষেপা থেকে রামকৃষ্ণ ও পরবর্তীতে কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ সবাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে এই ক্রিয়ার অনুসারী|আক্ষেপের বিষয় প্রাচীন ভারত থেকে বহু মূল্যবান পুঁথি বিদেশী পরিব্রাজকরা তাঁদের দেশে নিয়ে চলে গেছেন।তাই তন্ত্র শাস্ত্রের বহু মনি মানিক আমরা হারিয়েছি|আবার পরবর্তী কালে তন্ত্রসারের মত গ্রন্থও লেখা হয়েছে|তন্ত্রের উদ্দেশ্যে সাধক কে জাগতিক মোহো মায়া থেকে মুক্তি দিয়ে জন্ম মৃত্যুর আবর্ত থেকে মুক্ত করা|আবার কিছু ক্ষেত্রে তন্ত্র সাধনা থেকে অলৌকিক শক্তি উৎপন্ন করে সাধক জাগতিক সমস্যার সমাধানও খুঁজে দিতে পারেন যার একাধিক উদাহরন রয়েছে ইতিহাসে|কমলাকান্ত অমাবস্যার রাতে রাজাকে চাঁদ দেখিয়েছিলেন, বামা ক্ষ্যাপা অসুস্থ মানুষকে অলৌকিক উপায়ে সুস্থ করেছিলেন এমনকি কোনো এক অতীন্দ্রিয় শক্তির দ্বারা ত্রৈলঙ্গ স্বামী চুনকে দইয়ে পরিনত করে ছিলেন|তন্ত্র শাস্ত্রের মহিমা অপার|জ্যোতিষ শাস্ত্রেও শাস্ত্রীয় প্রতিকার রূপে যুগ যুগ ধরে ব্যাবহার হয়ে আসছে এই তন্ত্র|আমি নিজে ব্যাক্তিগত ভাবে এই শাস্ত্রের সফল প্রয়োগের সাক্ষী থেকেছি বহুবার|বলবো সব কথা|পর্বে পর্বে|পড়তে থাকুন|যেকোনো জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যানিয়ে কথা বলতে চাইলে বা সাক্ষাৎ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|