Home Blog Page 128

দেবী দুর্গার বিভিন্ন বাহনে আগমন

আমরা জানি দেবী দুর্গার বাহনটির নাম সিংহ। কিন্তু নবরাত্রির সময় দেবী দুর্গা মর্তে আসার জন্য এবং কৈলাসে ফেরার জন্য ভিন্ন বাহন ব্যবহার করেন। এই সময়ে দেবী দুর্গার বাহন হয় গজ, ঘোড়া, দোলা, এবং নৌকা।দেবী ভাগবত পুরাণ মর্তে নেমে আসার জন্য যে বাহনের ব্যবহার করেন ও ফিরে যাওয়ার জন্য যে বাহন ব্যবহার করেন তার বিচার করেই পৃথিবীর ভবিষ্যৎ কেমন হতে চলেছে তা বোঝা যায়।আসন্ন দূর্গাপূজায় দেবী দুর্গার আগমন গজে, যার অর্থ শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা এবং উমা কৈলাসে ফিরবেন নৌকায় যার অর্থ শস্য বৃদ্ধি ও জল বৃদ্ধি।দেবীর আগমন ও ফিরে যাওয়া কোন ক্ষেত্রে কোন বাহনে হয় এবং তার অর্থ কি আসুন জেনে নেয়া যাক|দেবীর আগমন কোন বারে হচ্ছে এবং দেবী কোন বারে ফিরে যাচ্ছে তার উপর নির্ভর করে বাহন নির্ধারিত হয়|রবি অথবা সোমবার দেবীর আগমন হওয়ার অর্থ হল উমা এবার গজের পিঠে চেপে আসবেন। গজ সবসময়ই শুভ। এর অর্থ হল শস্য ফলবে অফুরন্ত। পৃথিবীতে মানুষের খাদ্যের আকাল হবে না। আবার গজে ফিরে যাওয়ার অর্থ হল সারা বছরই মায়ের আশীর্বাদ পাবে জীবকুল। ভালোবাসা এবং আনন্দে পূর্ণ থাকবে জীবন।শনি ও মঙ্গল বার দেবীর আগমনের অর্থ হল তিনি আসবেন ঘোড়ায় চেপে। ঘোটকে আসা খুব একটা শুভ নয়। এর অর্থ হল বিপদ ও ধ্বংস বাড়বে। এই ঘোড়া রাজায় রাজায় যুদ্ধ হওয়ার প্রতীক। অর্থাৎ বিভিন্ন দেশের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দেয় ঘোড়া। রাজনৈতিক ক্ষেত্র ও সামাজিক ক্ষেত্রে অস্থিরতার ইঙ্গিত দেবীর ঘোড়ায় আগমন এবং গমন|বৃহঃস্পতিবার ও শুক্রবার দেবীর আগমন হলে পালকিতে আগমন হয়, দেবীর পালকিতে যাত্রা অশুভ ইঙ্গিত দেয়। এর অর্থ অত্যন্ত খারাপ দিন অপেক্ষা করে আছে পৃথিবীবাসীর জন্য। খরা, মহামারী অপেক্ষা করে আছে আগামী দিনে। দোলা বহন করেন চারজন মানুষ। এর অর্থ হল মানুষ একজোট না থাকলে খারাপ সময় পেরনো অসম্ভব হবে।বুধবার দেবী দুর্গার আগমন অথবা গমন হলে নৌকায় যাত্রা করেন দেবী, নৌকা যাত্রা হলে তা ইচ্ছা পূরণের ইঙ্গিত দেয়। এর অর্থ হল পৃথিবীতে শস্যের কোনও অভাব হবে না।তবে একইসঙ্গে বন্যা হওয়ারও ইশারা করে এই বাহন। ফসল ভাল হলেও অতিবৃষ্টি এবং বন্যাতেও ভুগতে হতে পার. মানুষকে।পরের পর্বে দেবী দূর্গা সংক্রান্ত আরো অনেক পৌরাণিক তথ্য ও আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

দূর্গা পুজা ও নীলকণ্ঠ পাখি

দেবী দুর্গার বাহন, তার দশ হাত, দেবীর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আগের পর্বগুলিতে বলেছি, দূর্গাপুজো উপলক্ষে চলবে দেবী দূর্গা বিষয়ক আলোচনা, আজ আলোচনা করবো দেবীর বিসর্জনের সাথে যুক্ত একটি অদ্ভুত রীতি ও তার কেন্দ্রবিন্দু একটি পৌরাণিক পাখি নিয়ে|বাংলার বনেদি বাড়ির পুজোয় এক এক রকম আচার রয়েছে|সন্ধি পুজোয় কামন দাগা, আখ বা চাল কুমড়ো বলি দেয়া, কত রকম প্রথা রয়েছে আর সেইসবের সঙ্গেই জুড়ে হাজির হয় নীলকণ্ঠ পাখি। দশমীর দিন এই পাখি না থাকলে বাংলার অনেক বনেদি মনে করা হতো আসল উপাচারই যে করা হলো না তাই বহু কষ্টে জোগাড় হতো নীলকণ্ঠ পাখি|বর্তমানে অবশ্য এই পাখির দর্শন অতি দুর্লভ আর কিছু আইনি জটিলতা ও রয়েছে তাই সাধ থাকলেও অনেকেরই সাধ্য নেই নীলকণ্ঠ পাখি জোটানোর|বর্তমানে এই প্রথা লুপ্তপ্রায়|দূর্গাপুজোর বিভিন্ন রীতি নীতির মধ্যে একটি অদ্ভুত নিয়ম হলো বিসর্জনে এই নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানো যা বহুকাল থেকে পালন করা হচ্ছে|কিন্তু জানেন কি নীলকণ্ঠ পাখির আসল পরিচয় কি এবং কেনো তা বিসর্জনে ওড়ানোর রীতি|উত্তর লুকিয়ে আছে পুরানে এবং রামায়নে|সেই রামায়ণের কাহিনি থেকেই নীলকণ্ঠ পাখি দূর্গা পুজোর অঙ্গ হিসাবে নিজের জায়গা তৈরি করে নিয়েছে। কথিত আছে রাবণবধের ঠিক আগে এই পাখিটির দেখা পান রামচন্দ্র। তার ঠিক আগেই যে তিনি সম্পন্ন করেছিলেন অকাল বোধন|আবার অনেকের মতে, রাবণবধের আগে এবং সেতুবন্ধনের সময় হাজির হয়েছিল নীলকণ্ঠ পাখি। পথ দেখিয়ে রাম-বাহিনীকে লঙ্কায় নিয়ে গিয়েছিল সে। তখন থেকেই প্রচারিত হয়, এই পাখির দর্শন অত্যন্ত শুভ এবং এইসব পৌরাণিক কাহিনি থেকেই এই পাখির মাহাত্ম্য ছড়িয়ে পড়ে সব জায়গায়।ইংরেজিতে নীলকণ্ঠ পাখির নাম্বার ‘ইন্ডিয়ান রোলার’ তবে বাংলা নামটি এই পাখির চেহারার বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মানানসই।পুরান অনুসারে সমুদ্রমন্থনের সময় হলাহল উঠে এলে দেবতা ও অসুরদের রক্ষা করতে চলে আসেন দেবাদিদেব মহাদেব। সেই তীব্র বিষ নিজেই পান করেন আর বিষের জ্বালায় তাঁর কণ্ঠ নীল হয়ে যায়। সেখান থেকেই তাঁর আরেক নাম ‘নীলকণ্ঠ’। এই পাখিটির নীল রঙের শরীর ও কণ্ঠ দেখলে অনেকটা সেই কথাই মনে পরে । তাই নীলকণ্ঠ নাম সার্থক|আমাদের শাস্ত্র মতে এই পাখি অত্যন্ত পবিত্র। এমনকী তার দেখা পাওয়াটা সৌভাগ্যের বিষয়। বাংলায় বিসর্জনের রীতিতে এই পাখির ব্যবহার প্রচলিত ছিল অনেক আগে থেকেই|নীলকণ্ঠ পাখির অবাধ যাতায়াত রয়েছে দেবাদিদেবের কৈলাশ পর্বতেও এবং বিসর্জনের সময় এই পাখি আগে কৈলাশে পৌঁছে মায়ের মর্ত থেকে আগমনের বার্তা দেয়|তাই বিসর্জনের সময়ে নীলকণ্ঠ পাখি মুক্ত করে দেয়া হয়|শুধু বাংলায় নয়, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও আরো বেশ কিছু রাজ্যে নীলকণ্ঠ পাখিকে রীতিমতো দেবতার আসনে বসানোর রীতি রয়েছে। অনেকে এই পাখিকে ভগবান শিবের এক রূপ বলে মনে করেন। এই পাখি দেখার অর্থ স্বয়ং শিব দর্শন। এই পাখি দেখে মনোবাসনা জানিয়ে আশিস চাওয়ার রীতি রয়েছে বহু সমাজে|দূর্গা পুজো উপলক্ষে আরো অনেক এমন বিশেষ পর্ব আপনাদের জন্য নিয়ে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

দেবী দুর্গার বাহন

দেবী দুর্গার অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আগেই বলেছি আজকের পর্বে দেবীর বাহন নিয়ে বলবো তবে শুরুতে দেবীর গহনা ও সাজসজ্জা নিয়ে কিছু তথ্য জানিয়ে রাখি|দেবতাদের দেয়া অস্ত্রে সজ্জিত দেবীকে অলঙ্কারে ভূষিত করেন কুবের, সূর্যদেব দেবীকে কাঞ্চন বর্ণের সৌন্দর্যময় দ্যুতি প্রদান করেন। বিশ্বকর্মা প্রদান করেন দুর্ভেদ্য কবচ-কুণ্ডল ও অক্ষয় বস্ত্র। এতে দেবীর সুরক্ষিত হয়ে উঠেন। আর হিমালয় তাকে দেন বাহনদেব সিংহ।সবকিছুর সম্মিলনে দেবী হয়ে ওঠেন অনন্ত শক্তি ও অপার রূপ এবং ঐশর্যর প্রতীক।প্রচলিত মতে সিংহ হলো দুর্গার বাহন, এজন্য যারা দুর্গার মূর্তি বানায়, তারা সিংহের পিঠের উপরই দুর্গাকে স্থাপন করে দেয়, এতে খুব সহজেই বোঝা যায় বা মনে হয় যে, সিংহই দুর্গাকে বহন করে নিয়ে এসেছে; কিন্তু বাস্তব ব্যাপার তা নয় সিংহ হিংস্র, আক্রমণাত্মক। সিংহ শৌর্যের প্রতীক। এই সব গুণ দুর্গার মধ্যেও দেখা যায়। আবার সিংহের গর্জনকে দুর্গার ধ্বনি মনে করা হয়, যার সামনে সংসারের সমস্ত আওয়াজ দুর্বল হয়ে যায়|অর্থাৎ সিংহ মা দুর্গার তেজ ও পরাক্রমের প্রতীক|আবার পদ্মপুরানে আরও বলা আছে যে, দুর্গার ক্রোধ থেকে সিংহের জন্ম|কালিকাপুরাণ মতে শ্রীহরি দেবীকে বহন করছেন। এই হরি শব্দের এক অর্থ সিংহ।আবার শ্রীশ্রীচণ্ডীতে উল্লেখ আছে গিরিরাজ হিমালয় দেবীকে সিংহ দান করেন।শিবপুরাণ বলে, ব্রহ্মা দুর্গাকে বাহনরূপে সিংহ দান করেছেন। উদ্দেশ্য ছিল শুম্ভ ও নিশুম্ভ বধের সুবিধাঅসীম শক্তিশালী সিংহের কাছে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে আত্মসর্মপণের। কারণ সে এতো শক্তিশালী হয়েও দেবীর পদতলে নিত্য শরনাগত|যেহেতু বৈষ্ণব ধর্ম হিংস্রতাক সমর্থন করেনা এবং সম্পূর্ণ ভাবে সাত্ত্বিক জীবন ধরনে বিশ্বাসী তাই বৈষ্ণব মতে যেখানে যেখানে দেবীর পুজো হয় সেখানে সিংহকে ঘোড়ার অবয়বে প্রতিষ্ঠা করা হয়|বাংলার বহু প্রাচীন বনেদি বা জমিদার বাড়ির পুজোতে দেবীর বাহন হিসেবে এই রূপ সিংহ মূর্তি দেখা যায়|আগামী পর্বগুলিতে দেবী দূর্গা সংক্রান্ত আরো অনেক তথ্য ও পৌরাণিক ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা চলতে থাকবে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

দেবী দূর্গা ও তার পুজোর সূচনা

আর কিছুদিন পরেই বাংলা তথা সারাদেশে পালিত হবে দূর্গাপুজো|যে দূর্গা পুজোকে কেন্দ্র করে আমাদের এতো আবেগ এতো তোড়জোড় আজ সেই দূর্গা পুজোর সূচনা কিভাবে হয়েছিলো তা নিয়ে লিখবো|পুরান অনুসারে যখন মহিষাসুরের অত্যাচারে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়ে দেবতারা শ্রীবিষ্ণু ও মহাদেবের কাছে সাহায্যের জন্য উপস্থিত হন। প্রবল পরাক্রমশালী মহিষাসুরকে বধ করার জন্য সকল দেবতার তেজ থেকে এক অপূর্ব নারীর সৃষ্টি হয়।এই নারীই দেবী দূর্গা|সকল দেবতারা তাঁকে নিজেদের অস্ত্র ও অলংকার দিয়ে সজ্জিত করেন। এই নারীই মহিষাসুরকে যুদ্ধে আবাহন করেন। প্রচণ্ড যুদ্ধের পর ত্রিশূল দিয়ে গেঁথে মহিষাসুরকে বধ করেন দুর্গা। শুধু মহিষাসুর নয়, মধু কৈটভ, শুম্ভ-নিশুম্ভকেও পরাজিত করেন দেবী দূর্গা|আমরা সবাই কম বেশি এই ঘটনা জানি|কিন্ত মর্তে দেবীর পুজোর সূচনা এবং বাংলায় দেবীর পুজো কি ভাবে প্রধান উৎসব হয়ে উঠলো তা হয়তো অনেকের জানা নেই|দেবী দুর্গার মহিমা বর্ণিত হয়েছে মার্কন্ডেয় পুরাণ এবং শ্রীশ্রী চন্ডীতে।শ্রীশ্রী চন্ডীতে বলা হয়েছে তিনি জগত্‍পালিকা আদ্যাশক্তি ও সনাতনী।মহাভারত, বিষ্ণু পুরাণ, দেবী পুরাণ, ভাগবত পুরানেও দেবীর গুনকীর্তন আছে, মহাভারতের বিরাটপর্বে ও ভীষ্মপর্বেও দুর্গাস্তব আছে। ভীষ্মপর্বে ত্রয়োবিংশ অধ্যায়ে অর্জুন দেবী দুর্গার স্তবপাঠ করেন। বিষ্ণু পুরাণের পঞ্চম অংশে দেবকীর গর্ভে দুর্গার জন্মানোর বৃত্তান্ত আছে।মহাকাব্য রামায়ণ অনুসারে শারদীয়া দুর্গাপুজো বা অকাল বোধনের সূচনা করেছিলেন শ্রীরামচন্দ্র। তিনি রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করার জন্য লংকা গমন করার আগে অকাল বোধন করে শরত্‍কালে দুর্গার পুজো করেন। রামচন্দ্রের আরাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে তাকে বর দেন দেবী। শ্রীশ্রী চন্ডীতে বর্ণিত আছে প্রাচীনকালে রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্য সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে বনে যান|সেখানে তারা এক মুনির দর্শন পান|মেধা মুনি নামে ওই ঋষি সব শোনার পর তাঁদের বলেন যে “বিষ্ণুর যে মহামায়া শক্তি তারই প্রভাবে এই রকম হয়। সেই মহামায়া প্রসন্না হলে মানবের মুক্তি লাভ ঘটে ” মুনির উপদেশ পেয়ে সুরথ ও সমাধি মাটির প্রতিমা গড়ে ৩ বছর কঠোর তপস্যা করেন তারপর পর দেবী তুষ্ট হয়ে তাদের দেখা দেন এবং মনোবাঞ্ছনা পূর্ণ করেন। পরবর্তীতে বসন্তকালকে দুর্গাপূজার উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করে তারা বাসন্তী পূজার প্রচলন করেন।বাংলায় কবে ও কারা প্রথম দূর্গাপুজোর প্রচলন করেন তা নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে। তবে কিছু ঐতিহাসিক তথ্য অনুসারে ১৫০০ সালে বাংলায় প্রথম দূর্গাপুজো হয়। দিনাজপুর ও মালদহের জমিদাররা প্রথম দূর্গাপুজোর শুরুর পরিকল্পনা নেন। কারও মতে, তাহেরপুরের রাজা কংসনারায়ণ প্রথম সাড়ম্বের দূর্গাপুজো শুরু করেন |আবার অনেকে মনে করেন নদিয়ার রাজা কৃষ্ণ চন্দ্রের উত্তরসূরি ভবানন্দ ১৯০৬ সালে প্রথম দুর্গা পুজা করেন ।বারোয়ারি পুজো সম্পর্কে বলা হয়ে একবার হুগলীর গুপ্তি পাড়ায় এক ধনি ব্যাক্তির বাড়ির দুর্গা পুজায় অংশ নিতে না পেরে বারো জন মানুষ রাগ করে সেখান থেকে বেড়িয়ে আসেন এবং নিজেরাই চাঁদা তুলে শুরু করেন দুর্গা পুজা । এই বারো জন বন্ধুর মাধ্যমে শুরু হয় বাংলার বারোয়ারী দুর্গা পুজা|সেই পুজোয় ক্রমশ শাখা প্রশাখা বিস্তার করে আজকের থিম পুজোর রুম নিয়েছে|পরের পর্বে দেবী দূর্গা সংক্রান্ত আরো অনেক পৌরাণিক তথ্য ও আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

দেবী দুর্গার অস্ত্র – দ্বিতীয় পর্ব

বিগত পর্বে দেবী দুর্গার হাতে শোভিত পাঁচটি অস্ত্র নিয়ে লিখেছিলাম আজ বাকি পাঁচটি অস্ত্র নিয়ে লিখবো|তীর-ধনুক:দেবী দুর্গার হাতে তীর-ধনুক থাকে। পবনদেব এই অস্ত্র প্রদান করেন।লক্ষ্যভেদ বা স্থির লক্ষ্য আর একাগ্রতা প্রতীক হলো তীর-ধনুক। যুদ্ধে জয় পেতে বা লক্ষ্য স্থির রাখতে তীর-ধনুক অস্ত্র হিসেবে দেবীর হাতে সজ্জিত থাকে।ঘণ্টা : দেবরাজ ইন্দ্র ঘণ্টা অস্ত্রটি দেবীকে প্রদান করেন। ঘন্টাধ্বনি অশুভ শক্তিকে দুর্বল করে। শ্রী শ্রী চণ্ডীতে বর্ণিত আছে দেবী মহিষাসুরকে যুদ্ধে আহ্বান করার সময় সতর্কবার্তা স্বরূপ দেবী অট্টহাসি হাসেন এবং শাঁখ ও ঘণ্টার ধ্বনিতে তাদের যুদ্ধের প্রস্তুতির নির্দেশ দেন।ঘণ্টারধ্বনিতে যুদ্ধের সূচনা হয়।শব্দ এমন তরঙ্গ যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। সেই সুদূরপ্রসারী শব্দ তরঙ্গ বার্তা বাহক হিসেবেও কাজ করে।সনাতন ধর্মে পুজোর সময় এই কারনেই ঘন্টা বাজানোর রীতি সৃষ্টি হয়েছে|বজ্র: দেবীর হাতে থাকে বজ্র।ঘন্টা সহ দেবরাজ ইন্দ্র দেবী দুর্গাকে বজ্র প্রদান করেন।বজ্র দৃঢ়তা এবং সংহতির প্রতীক। আমাদের যাপিত বা ব্যবহারিক জীবনে ও চরিত্রে কঠোরতা প্রয়োজন। সংহতি পূর্ণ সমাজ জীবন সব মানুষের কাম্য। তাই দেবীর হাতে বজ্র শোভা পাচ্ছে।বজ্র দিয়ে দেবী অসুরিক শক্তির উপরে আঘাত হানেন|সর্প : দেবীর হাতে শোভিত সর্প বা নাগপাশ বিশুদ্ধ চেতনার প্রতীক।দেবি দূর্গাকে নাগরাজ দেন সর্প বা নাগপাশ। আসুরিক প্রবৃত্তি লাঘব এবং মনে বিশুদ্ধ চেতনার বিকাশে দেবী দুর্গার হাতে সর্প বা নাগপাশ শোভা পায়|নাগ দৃঢ়তা ও চতুরতার প্রতীক রূপেও পরিচিত|ত্রিশূল: দেবী দুর্গার অন্যতম প্রধান অস্ত্র ত্রিশূল|শিবকথা ও দেবতাদের অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে বলার সময়ে আলাদা করে ত্রিশূল নিয়ে বলেছি তবু আজ সংক্ষেপে বলি|মহাদেব দেবী দুর্গাকে প্রদান করেন ত্রিশূল |ত্রিশূল হলো ত্রিগুণের প্রতীক। এই ত্রিগুণ হলো সত্ত্ব, রজঃ, তমঃ। সত্ত্ব গুণ হলো দেবগুণ। অর্থাৎ, এই গুণ নিরহংকার, ত্যাগ ও উচ্চ অলৌকিকত্বের প্রকাশ। এই গুণের অধিকারী দেবতারা। রজঃ গুণ হলো মনুষ্যকুল বা জীবের গুণ। শোক, লোভ, মায়া, দুঃখ, মোহ, কাম সবই রজঃ গুণ। এই গুণ জীবকুলের মায়া স্বরূপ।তমঃ গুণ হলো রাক্ষস বা ঋণাত্মক শক্তির প্রকাশ।ত্রিশূল যার হাতে তিনি ত্রিগুনের শাসন কর্তা তার স্মরণ নিলে ত্রিগুণ থেকে মুক্তি লাভ ঘটে|তাই দেবী দূর্গা ত্রিশূল ধারিণী|আগামী পর্বে দেবী দূর্গা সংক্রান্ত আরো অনেক পৌরাণিক তথ্য ও আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

দেবী দুর্গার অস্ত্রশস্ত্র

আগের পর্বে দেবী দুর্গার দশ হাত নিয়ে লিখেছিলাম,আজ দেবী দুর্গার দশ হাতে থাকা দশটি অস্ত্র নিয়ে বলবো, মার্কণ্ডেয় পুরানে দেবীর দশ হাতের অস্ত্র সম্পর্কে বর্ণনা আছে,শুরু হয় শঙ্খ দিয়ে| বরুণদেব দেবীকে শঙ্খ প্রদান করেন। এটি ঠিক অস্ত্র নয়।শঙ্খ জাগরণের প্রতীক। পুরাণ মতে, শঙ্খ থেকে যে শব্দের উৎপত্তি হয় তার থেকেই জীবজগতের সমস্ত প্রাণের সৃষ্টি। শঙ্খ বা শাঁখ দেবী দুর্গার বাম হাতে থাকে।সনাতন ধর্মে শঙ্খ খুব পবিত্র একটি উপকরন কারন পৃথিবী সৃষ্টির সময় জলমগ্ন ছিল আর তখন শ্রী বিষ্ণু একটি শঙ্খের রূপে অবস্থান করছিলেন সমুদ্রের গভীর তলদেশে।শঙ্খ শুভ শক্তিকে আহ্বান জানায়, এই শঙ্খের ধ্বনির মধ্যে দিয়েই মহিষাসুরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন দেবী দূর্গা| চক্র দেবীর অন্যতম অস্ত্র যা নিয়ে একটি ভিন্ন পর্বে আগেই লিখেছি দেবতাদের অস্ত্র নিয়ে লেখার সময়ে|স্বয়ং শ্রী বিষ্ণু চক্রটি দেবী দুর্গাকে প্রদান করেন।সুদর্শন চক্র দেবীর ডান হাতে থাকে। ‘সু’ অর্থাৎ সুন্দর আর ‘দর্শন’ অর্থাৎ দৃশ্যমান। সুদর্শন চক্র হলো ব্রহ্মাণ্ডের প্রতীক স্বরূপ। যে চক্রে ব্রহ্মাণ্ড ঘুরছে। ।জগতে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং অশুভ শক্তির বিনাশের জন্য বিশ্বকর্মা সুদর্শন চক্র নির্মাণ করেছিলেন শ্রী বিষ্ণুর জন্য| মহিষাসুর নিধন যজ্ঞে দেবী মহামায়াকে গদা প্রদান করেন ধর্মরাজ যম|গদা বা কালদণ্ড হলো অনুশাসন ও আনুগত্যের প্রতীক। কাল বা মহাকালের প্রতি আমরা অনুগত। দেবী দুর্গার হাতে গদা বা কালদণ্ডকে সম্মোহনকারী শক্তি হিসেবে দেখা হয়। মহিষাসুরকে বধ করার নিমিত্তে বা সম্মোহিত করার জন্য গদা বা কালদণ্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল| পদ্ম, অক্ষমালা ও কমণ্ডলু একসাথে দেবীর এক হাতে শোভা পায়, দেবী দুর্গাকে শঙ্খ, চক্র, গদা পদ্ম ধারীও বলা হয়। পদ্ম ঠিক অস্ত্র নয় পদ্ম আলোর প্রতীক।প্রান শক্তির প্রতীক দেবী দুর্গাকে পদ্ম, অক্ষমালা, কমণ্ডলু প্রদান করেন প্রজাপতি ব্রহ্মা। পদ্ম ফুলের জন্ম পুকুরে অথবা জলাধারের গভীরে হলেও অন্ধকার থেকে আলোর পথে উত্তরণের প্রতীক হলো পদ্ম।পদ্ম ছাড়া দেবী দুর্গার একই হাতে থাকে অক্ষমালা ও কমণ্ডলু। অক্ষমালা ও কমণ্ডলু পবিত্রতার প্রতীক।যুদ্ধে শুধু শক্তি নয় এই প্রান শক্তি ও পবিত্রতা ব্যাবহার হয় হাতিয়ার হিসেবে| দেবী দুর্গার পঞ্চম অস্ত্র হচ্ছে খড়গ|খড়গ হচ্ছে ষড়রিপু দমনের প্রতীক। খড়গ হলো বলি প্রদানের অস্ত্র যারা প্রকৃত অর্থ কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্যকে পরাজিত করা সংক্ষেপে যাকে বলে ষড়রিপু।দেবীর হাতে যে খড়গ উদ্যত হয়ে থাকে তা পরম মোক্ষেরও প্রতীক। এই খড়গ সর্বদা উদ্যত ও অভয় প্রদানকারী। মোক্ষ হল জাগতিক বন্ধন থেকে মুক্তি|শ্রী শ্রী চণ্ডীতে দেবী চামুণ্ডার কথা আছে, যিনি অসুর নিধন কালে তাঁর হাতে খড়গ দ্বারা অশুভ শক্তি নাশ করেন। আগামী পর্বে বাকি অস্ত্র গুলি নিয়ে আবার ফিরে আসবো জানবো তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

দেবী দুর্গার দশ হাতের রহস্য

যেমন টা কথা দিয়ে ছিলাম আগেই যে দেবী দূর্গা কে নিয়ে ফিরে আসবো, আজ শুরু করবো দেবী দুর্গার নাম ও তার দশ হাতের ব্যাখ্যা দিয়ে| আমাদের শাস্ত্রে ‘দুর্গা’ শব্দটিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলা হয়েছে ‘দৈত্যনাশার্থবচনো দকারঃ পরিকীর্তিতঃ। উকারো বিঘ্ননাশস্য বাচকো বেদসম্মত।। রেফো রোগঘ্নবচনো গশ্চ পাপঘ্নবাচকঃ। ভয়শত্রুঘ্নবচনশ্চাকারঃ পরিকীর্তিত।।’ দুর্গা শব্দের অর্থ যিনি দুর্গতি বা সংকট থেকে রক্ষা করেন। অর্থাৎ সংকট বা দুর্গতি থেকে তিনি রক্ষা করবেন এবং করেন বলেই তিনি দুর্গা। অর্থাৎ, ‘দ’ অক্ষরটি দৈত্য বিনাশ করে, উ-কার বিঘ্ন নাশ করে, রেফ রোগ নাশ করে, ‘গ’ অক্ষরটি পাপ নাশ করে এবং আ-কার শত্রু নাশ করে। একসঙ্গে করলে এর অর্থ দাঁড়ায়, দৈত্য, বিঘ্ন, রোগ, পাপ ও শত্রুর হাত থেকে যিনি রক্ষা করেন, তিনিই দুর্গা।দেবী দুর্গার আগমনই হয়েছে সময়ের প্রয়োজনে। যখন দেবালয়ে আসুরিক প্রবৃত্তি বেড়ে গিয়েছিল। মহিষাসুর দেবতাদের শান্তি বিনষ্ট করে দিয়েছিল সেইসময় দেবী দুর্গার আগমন ঘটে। শব্দকল্পদ্রুম অনুসারে , ‘দুর্গং নাশয়তি যা নিত্যং সা দুর্গা বা প্রকীর্তিতা’। অর্থাৎ, যিনি দুর্গ নামে অসুরকে বধ করেছিলেন, তিনি সব সময় দুর্গা নামে পরিচিত। কেন দেবীর দশ হাত, কেন এত অস্ত্র, তানিয়েও শাস্ত্রে ব্যাখ্যা আছে, চণ্ডিতে দেবী দুর্গাকে দশ প্রহরণধারিণী নামে অভিহিত করা হয়। মহালয়ার পুণ্য তিথিতে আহ্বান জানানো হয়, জাগো দুর্গা, জাগো দশ প্রহরণধারিণী। প্রহরণ শব্দের অর্থ হাতিয়ার, প্রহার বা অস্ত্র। দশ হাতে অস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে যিনি অসুর বা অপশক্তি নাশ করেন তিনিই দশ প্রহরণধারিণী। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, পৃথিবীর দশটি দিকের প্রতিভূ এই দশ হাত। পুরাণে বলা আছে, কুবের, যম, ইন্দ্র, বরুণ, ঈশান, বায়ু, অগ্নি, নৈঋত, ব্রহ্মা ও বিষ্ণু এই দশ দিক থেকে মহিষাসুরকে বধ করার উদ্দেশ্যে দেবী দুর্গার দশটি হাত সৃষ্টি। মহিষাসুরকে বধের জন্য ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং মহেশ্বরের শরণাপন্ন হন দেবতারা। ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং মহেশ্বরের মিলিত ত্রিশক্তি থেকে দেবী দুর্গার আবির্ভাব। প্রত্যেক দেবতার তেজে দেবীর বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ গড়ে ওঠে এবং দেবীর দশটি হাত আবির্ভূত হয়।তন্ত্র শাস্ত্র অনুসারে আবার দশমহাবিদ্যার দশটি রূপের আধার দেবী দুর্গার দশটি হাত| দেবতারা শুধু যে দেবীকে অস্ত্র দেন তা নয়, দেবীর শরীরের বস্ত্র, অলংকারও দেবতারা প্রদান করেন, তার বাহনের ও পৌরাণিক ব্যাখ্যা আছে|সেসব নিয়ে চলবে আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

দশ মহাবিদ্যা -দেবী কমলা

আজ দশ মহাবিদ্যার অন্তিম রূপ দেবী কমলা নিয়ে আলোচনা করবো জানবো তার তার রূপের অন্তরনিহিত তাৎপর্য ও পৌরাণিক ব্যাখ্যা|আগেই বললাম দশমহাবিদ্যার শেষ বা দশম রূপ ঐশ্বর্য লক্ষ্মী কমলা।দেবী কমলার উৎপত্তি হয় সমুদ্র মন্থনের সময়।দেবী কমলা চতুর্ভূজা। দেবীর ডান হাতে পারিজাত পুষ্প, বাম হাতে বরমুদ্রা, সমুদ্রের মধ্যে দেবী প্রস্ফুটিত পদ্মে আসীন। দুই পাশে দুইটি হাতি শুড় দিয়ে কলসে করে জল নিয়ে দেবীকে স্নান করাচ্ছে।দেবী কমলা হচ্ছেন ইচ্ছাপূরণের দেবী। মূলত জাগতিক সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি তিনি তাঁর ভক্তদের দেন।কমলাকে গজলক্ষ্মীও বলা হয়।দেবীর এই রূপটি জাগতিক বন্ধনের রূপ।দেবী কমলা ঐশ্বর্য,সুখ,শান্তি,সৌভাগ্য,সৌন্দর্য,প্রীতি ও করুনা প্রদান করেন। পদ্মের উপর তিনি বিরাজমানা এই পদ্ম উর্বরতা,আধ্যাত্মিকতা ও কর্তৃত্বের প্রতীক। যে হাতি দুটি তাঁকে স্নান করাচ্ছে তা বিশালত্ব ও ঐশ্বর্যের প্রতীক। সাধারনত দেবীর পূজা করা হয় জাগতিক লাভের জন্যে। মা কমলা একাধারে বিশুদ্ধতা,পবিত্রতা, সমৃদ্ধি ও সম্পদ,উর্বরতা ও ফসল, এবং সৌভাগ্যের প্রতীকআবার চন্ডীমঙ্গল গ্রন্থে চণ্ডীর একরূপ কমলে কামিনী।দীর্ঘ সমুদ্র যাত্রায় বনিক ধনপতির ছটি ডিঙা একসময়ে সমুদ্রে ডুবে যায়।তারপর কোনােরকমে একটি ডিঙা আশ্রয় করে ধনপতি কালীদহে পৌঁছেন। সেখানে দেবী চণ্ডী তাকে ‘কমলে-কামিনী’ মূর্তি দেখান। ধনপতি সিংহলে গিয়ে সেখানকার রাজাকে কমলে-কামিনী’র কথা বলেন কিন্তু রাজা তা বিশ্বাস না করে তাকে কারাগারে বন্দি করেন।পরবর্তী ঘটনাবলী হয়তো আপনারা জানেন|পুরান মতে দেবী কমলা মহর্ষি ভৃগুর কন্যা।সাধারনত গৃহস্তর বাড়িতে দশ মহাবিদ্যার এই বিশেষ রুপ সম্পদ,উন্নতি এবং সৌভাগ্য প্রদানের জন্যে পূজিতা হয় বহু কাল থেকে|বৈদিক জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুসারে শুক্রগ্রহের ইষ্টদেবী কমলা বা কমলেকামিনী তিনিই মহাশক্তি, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্ত্রী তিনিই। তিনিই বিশ্বের সব সম্পদের অধিষ্ঠাত্রী। তিনি সমৃদ্ধির দেবী।কমলা সাধককে ধন-ধান্যে ভরিয়ে রাখেন। কমলার পুজো সমস্ত ধরনের ভয় থেকে মুক্ত রাখে ।সামনেই দূর্গাপুজো|আগামী পর্ব গুলিতে দেবী দুর্গার রূপ, শাস্ত্র মতে তার পুজো সম্পর্কে নানা জানা অজানা কথা ও পৌরানিক ঘটনা নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|জ্যোতিষ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে যেকোনো সময়ে যোগাযোগ করতে পারেন নির্দ্বিধায়|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ।

দশ মহাবিদ্যা – মাতঙ্গী

আজ আলোচনা করবো দশমহাবিদ্যার অন্যতম রূপ মাতঙ্গী দেবীকে নিয়ে যা দেবীর কন্যা রূপগুলির একটি|সরস্বতীর তান্ত্রিক রূপ দেবী মাতঙ্গী।তিনি দশমহাবিদ্যার নবম রূপও বটে|পুরান অনুসারে মাতঙ্গ মুনির আশ্রমে দেবতাদের আহ্বানে ইনি মাতঙ্গ মুনির স্ত্রীর শরীর থেকে আবীরভূতা হয়ে অসুর দের বধ বধ করেন ও দেবতাদের রক্ষা করেন|স্বাভাবিক ভাবেই দেবী সরস্বতীর থেকে দেবী মাতঙ্গিনীর রূপ ভিন্ন দেবী মাতঙ্গী শ্যামবর্ণা।দেবী মাতঙ্গীর চার হাত। প্রথম হাতে বীণা, দ্বিতীয় হাতে বরাভয় বা অভয় মুদ্রা, তৃতীয় হাতে নর-করোটি এবং চতুর্থ হাতে খড়গ । দেবীর হাতের নর-করোটির উপর আসীন তার বাহন টিয়াপাখি। যখন দেবী মহাকালীর রুদ্ররূপিণী পাপনাশিনী রূপ এবং দেবী সরস্বতীর অসীম জ্ঞান একইরূপে মিলিত হয়, তখন সৃষ্টি হয় দেবী মাতঙ্গীর।দেবীর ভোগ সব থেকে অদ্ভুত ও রহস্যময়|মনুষ্য-উচ্ছিষ্ট ছাড়া আর কোনওরকম সাজিয়ে-গুছিয়ে দেওয়া ভোগে দেবী মাতঙ্গী তুষ্ট হন না । তা সে মানুষ উচ্ছিষ্ট নিরামিষ ব্যঞ্জন হোক বা মানুষ উচ্ছিষ্ট মাছ মাংস হোক, উচ্ছিষ্ট ভোগের কারণেই দেবী মাতঙ্গীর অপর নাম উচ্ছিষ্টা চণ্ডালিনী|অন্তির্নিহিত তাৎপর্য হলো দেবী মানুষের মধ্যেই বাস করেন মানুষ কে অবহেলা করে তিনি খুশি হন না তাই মানুষের উচ্ছিষ্ট তিনি নির্দ্বিধায় গ্রহন করেন এবং সন্তুষ্ট থাকেন|দেবী মাতঙ্গী রক্তবসনা। রজঃস্বলা নারীর রক্ত বস্ত্র দেবী পরিধান করেন এবং তার মাধ্যমে পরশ্রীকাতরতা এবং কুণ্ঠাবোধের যত গ্লানি এবং অপরাধ বোধ দেবী নিজ অঙ্গে গ্রহণ করে মানুষের আত্মার শুদ্ধিকরণ ঘটান|ভারতবর্ষে দেবী মাতঙ্গীর কিছু বিখ্যাত মন্দির রয়েছে যেমন কর্নাটকের বেলগাওঁ, এছাড়া দেবী মাতঙ্গীর মন্দির রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের মাদানাপাল্লেতে, তামিলনাড়ুর নাঙ্গুরে এবং মধ্যপ্রদেশের ঝাবুয়াতে ।আগামী দিনে ফিরে আসবো আরো অনেক পুরান, জ্যোতিষ ও তন্ত্র সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

দশ মহাবিদ্যা – দেবী বগলা

আজ দশ মহাবিদ্যা পর্বে আলোচনা করবো দেবী বগলা রূপ নিয়ে|জানাবো তার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য তার রূপের ব্যাখ্যা ও পৌরাণিক এক ঘটনা যে ঘটনার মাধ্যমে উৎপত্তি হচ্ছে দেবী বগলার|দশমহাবিদ্যার অষ্টম রূপ বগলা।বগলামুখী দেবী সিদ্ধবিদ্যা ও পীতাম্বরাবিদ্যা এই নামে প্রসিদ্ধ।রুরু নামক দৈত্যের পুত্র দুর্গম দেবতাদের চেয়ে বলশালী হওয়ার জন্য ব্রহ্মার তপস্যা করে বরপ্রাপ্ত হন। দেবতারা তখন দেবী ভগবতীর আরধনা করেন। দেবী আর্বির্ভূত হয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন।এই যুদ্ধে দেবীর দেহ হতে কালী, তারা, ভৈরবী, রমা, মাতঙ্গী, বগলা,কামাক্ষী, জম্ভিনী, মোহিনী, ছিন্নমুণ্ডা, গুহ্যকালী প্রভৃতি মহাশক্তি বের হয়ে যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন ও অশুভ শক্তি পরাজিত হয় দেবীর সম্মুখে|দেবীর গায়ের বর্ণ পীত। বসন পীত বর্ণ। সুধা সমুদ্রের মাঝে সিংহাসনে উপবিষ্টা। এঁর বাহন শব। দ্বিভূজ দেবী বাম হাতে দুর্গম অসুরের জিহবা ধরে আছেন ও ডান হাতে গদা দিয়ে শত্র দমন করেন তিনি|বগলামুখী দেবি পীতবস্ত্রা, পীতপুস্পপ্রীয়া, এবং পীতঅলঙ্কারধারিনি।জ্যোতিষ ও তন্ত্র শাস্ত্রে দেবী বগলা মুখীর গুরুত্ব অপরিসীম|শাস্ত্র মতে বগলামুখীর আরাধনা করলে শত্রুদের বিনাশ, জীবনে সাফল্য এবং অশুভ শক্তির কাছে জয় লাভ হয়।দেবী বগলামুখীর মন্ত্র সাধকের সমস্ত ইচ্ছা পূরণ করতে পারে। বগলামুখী মন্ত্র সমস্ত ধরণের বাধা থেকে মুক্তি দেয়, রোগ এবং দুর্ঘটনার দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা থেকে রক্ষা করে এবং সুরক্ষা দেয়।জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে দেবী বগলামুখী হলেন মঙ্গলগ্রহের ইষ্টদেবী তাই যাদের মঙ্গল পীড়িত বা মাঙ্গলিক দোষের জন্য যারা ক্ষতিগ্রস্ত তাদের দোষ খন্ডনে বগলামুখী দেবীর স্মরন নেয়া হয় শাস্ত্র সম্মত পদ্ধতিতে|ফিরে আসবো দশ মহাবিদ্যার পরের রূপ তার সাথে আরো অনেক পুরান, জ্যোতিষ ও তন্ত্র সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|