Home Blog Page 111

পুরান কথা – শিবের ধ্যানের রহস্য

শিব স্বয়ং দেবাদিদেব|তিনি দেবতাদের আরাধ্যা|শ্রাবন মাস এবং চৈত্র মাসের বিশ্ববাসী তার পুজো করে তার কাছে নিজের মনোস্কামনা জানায়|কিন্তু শিব কে আমরা ধ্যান মগ্ন অবস্থায় দেখি সর্বদা|তাহলে শিব কার ধ্যান করেন? উত্তরে আছে আমাদের শাস্ত্রে|আজ সেই উত্তর দেবো|সনাতন ধর্মে দেবতা ও দেবী কয়েক কোটি হতে পারে কিন্তু ভগবান একজনই তিনি কৃষ্ণ, আমরা জানি যিনি বিষ্ণু তিনিই কৃষ্ণ, তিনিই নারায়ন |তিনিই শিবের আরাধ্য|শিব তার ধ্যানেই মগ্ন থাকেন|শিব নিজে একজন পরম বৈষ্ণব|এই শ্রেষ্টত্ব নিয়ে অবশ্য শৈব্য ও বৈষ্ণবদের মাঝে মাঝেই বিরোধ দেখা দেয়|তবে সব বিবাদের সমাধান শিব নিজেই দিয়েছেন|দেবী পার্বতী একদিন শিব কে প্রশ্ন করেছিলেন যে তিনি কার ধ্যান করেন, উত্তরে শিব বলেন তিনি রামের ধ্যান করেন, অবশ্য তখন রামের জন্মই হয়নি, কিন্তু অন্তর্যামী মহাদেব ভগবানের লীলা জানতেন|রাম বিষ্ণুরই অবতার এতো আমরা সবাই জানি|একবার এক ভক্ত শ্রীল প্রভুপাদ কেও জিগেস করেছিলেন যে বৈষ্ণবরা শিব পুজো করতে পারবে কিনা, উত্তরে প্রভুপাদ হেসে বলেছিলেন, নিশ্চই পারবে, শিব নিজেই তো পরম বৈষ্ণব|শুধু তাই নয় আদি কালে বৈষ্ণব ধর্ম সৃষ্টিতেই শিবের বড়ো ভূমিকা রয়েছে|শিবের আরাধ্যা ভগবান বিষ্ণু|তিনিই পরমেশ্বর এমনকি কিছু শাস্ত্র অনুসারে শিবের জন্মই হয়েছে বিষ্ণুর ভ্রু যুগলের মধ্য ভাগ থেকে|ভগবান বিষ্ণু ও শিব কে প্রনাম জানিয়ে শেষ করছি আজকের আলোচনা|চলবে শিব ও শ্রাবন মাস নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরান কথা – কাশি বিশ্বনাথ মন্দিরের রহস্য

কাশী বিশ্বনাথ মন্দির বিশ্বের প্রাচীন তম শিব মন্দির গুলির অন্যতম এবং দ্বাদশ জ্যোতিরলিঙ্গের একটি|কাশী মন্দিরের প্রাচীন ইতিহাস ও এই মন্দির কে কেন্দ্র করে কিছু পৌরাণিক ঘটনার কথা আজ আপনাদের বলবো|পুরাণের কাশীখণ্ডে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের উল্লেখ পাওয়া যায়।সর্ব প্রথম কবে গড়ে ওঠে এই মন্দির তার সঠিক তথ্য জানা দুস্কর তবে একাদশ শতাব্দীতে রাজা হরি চন্দ্র মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করেছিলেন বলে জানা যায়|ইতিহাস অনুসারে 1194 সাল থেকে 1669 সাল অবধি একাধিকবার এই মন্দির বৈদেশিক শত্রুর হাতে ধ্বংস হয়েছে|তবে প্রতিবারই আবার সমহিমায় মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে বাবা বিশ্বনাথের এই মন্দির|প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী কাশী শিবের ত্রিশূলের ওপর অবস্থিত।ধর্মীয় কিছু গ্রন্থ অনুযায়ী বারাণসীতে ৩০ কোটি দেবীদেবতার বাস। কথিত আছে, কাশীতে যে ব্যক্তির মৃত্যু হয়, সে সোজা স্বর্গ লাভ করে।কাশী সময়ের গন্ডির বাইরে অবস্থান করছে অর্থাৎ জন্ম মৃত্যু আবর্ত থেকে মুক্ত|কাল ও কারুর অনিষ্ট করতে পারেনা কাশীতে যদি মদমহাদেব তার সহায় হয় এবং মহাদেবের ইচ্ছা ছাড়া কাশীতে একটি গাছের পাতাও নড়েনা বলে বিশ্বাস করা হয়|কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে বাবা বিশ্বনাথ এর আবির্ভাব জানতে গেলে পুরান জানতে হবে|পুরান অনুসারে একবার কে অধিক শক্তিশালী সে প্রসঙ্গে বিষ্ণু ও ব্রহ্মার মধ্যে তর্ক বাঁধে। এই তর্ক সমাপ্ত করতে শিব এক বিশাল লিঙ্গের আকার ধারণ করেন। তার পর ব্রহ্মা ও বিষ্ণুকে সেই বিশাল লিঙ্গের উৎস ও উচ্চতা খুঁজে বের করতে বলেন। ব্রহ্মা নিজের হংসে বসে ওপরের থাকে লিঙ্গের উচ্চতার খোঁজে বেরিয়ে পড়েন। অন্য দিকে বিষ্ণু শূকরের রূপ ধারণ করে পৃথিবীর মধ্যে খোদাই করতে শুরু করেন, যাতে লিঙ্গের তলের হদিশ পাওয়া যায়।বহু যুগ পেরিয়ে গেলেও ব্রহ্মা ও বিষ্ণু সেই লিঙ্গের উৎস ও উচ্চতা খুঁজে পান না। অবশেষে বিষ্ণু শিবের সামনে নতমস্তকে পরাজয় স্বীকার করলেও ব্রহ্মা মিথ্যা বলেন যে, তিনি এই লিঙ্গের উচ্চতা খুঁজে পেয়েছেন। ব্রহ্মার মিথ্যা ধরতে পারার পর শিব বিষ্ণুকে শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করেন এবং মিথ্যে বলার শাস্তি স্বরূপ কাল ভৈরব রূপে ব্রহ্মার চতুর্থ মাথা কেটে দেন।পৃথিবীর যে সমস্ত স্থান হতে আদি শিব লিঙ্গের দিব্যজ্যোতি নির্গত হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে একটি কাশী বিশ্বনাথ মন্দির|শিবের খুব প্ৰিয় স্থান এটি এবং শিব নিজে এখানে বাস করেন।শাস্ত্র মতে বিশ্বনাথ মন্দিরে মহাদেবের দর্শন করা ও পুজো দেয়ার অতি সৌভাগ্য দায়ক বিষয় এবং এতে ভক্তের সব মনোস্কামনা পূর্ন হয়|আগামী পর্বে শিব সংক্রান্ত অন্য কোনো বিষয় ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে আবার ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব ও রুদ্রাক্ষ

আপনারা জানেন শ্রাবন মাস দেবাদিদেব মহাদেবের মাস|পবিত্র এই শ্রাবন মাসে তাই রুদ্রাক্ষ ধারন করা শুভ আবার বাস্তু দোষ দুর করতে রুদ্রাক্ষ ব্যবহার হয় এমনকি শিব লিঙ্গে রুদ্রাক্ষ নিবেদন করে বিশেষ ফল লাভ করতে পারেন |কিন্তু কেনো রুদ্রাক্ষ এতো পবিত্র ও এতো ক্ষমতাশালী আর শিবের সাথে তার সম্পর্ক কি? উত্তর রয়েছে আমাদের পুরানে|রুদ্র শব্দের অর্থ হলো শিব, অক্ষ অর্থ চোখ বা চক্ষুজল।শিবের অশ্রু থেকে রুদ্রাক্ষের উদ্ভব হয়েছিল।শিব পুরাণে রুদ্রাক্ষের জন্মকথার উল্লেখ আছে|পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে ভয়ংকর অসুর ত্রিপুরকে বধ করতে গিয়ে শিব দীর্ঘকাল অপলক চোখে যুদ্ধ করার কারণে তার ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত চোখ থেকে মাটিতে গড়িয়ে পড়ে এক ফোঁটা অশ্রু। সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা সেই অশ্রুজলকে বৃক্ষে পরিণত হওয়ার আদেশ দেন। এরপর এই গাছটি বড় হলে তার ফল ও ফুল হতে শুরু করে। সেই ফলই রুদ্রাক্ষ নামে পরিচিত।রুদ্রাক্ষ শিবের চোখের প্রতিরূপ।শিবের অত্যন্ত প্রিয় বস্তু।তার মধ্যে বহু প্রকার শক্তি একিভুত থাকে।প্রতিটি রুদ্রাক্ষের মধ্যে শিবের উপস্থিত রয়েছে বলে মনে করা হয়। অবশ্য শিবের সঙ্গে সঙ্গে অন্য দেবগণেরও প্রভাব থাকে। গ্রহ গত ভাবে এক একটি রুদ্রাক্ষ একএকটি গ্রহের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত|যেমন একমুখী হলো সূর্যের আবার দুই মুখী হলো চন্দ্রের|তাছাড়া হর গৌরী ও গণেশ রুদ্রাক্ষ বিশেষ ভাবে পরিচিত এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রে প্রতিকার রূপে রুদ্রাক্ষ বহু কাল ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে|জ্যোতিষ পরামর্শ নিয়ে রাশি লগ্ন সাপেক্ষে ও রুদ্রাক্ষ ব্যাবহার করা যায়|কথিত আছে যে রুদ্রাক্ষ পরলে মানুষের সমস্ত রোগ, দুঃখ ও ভয় দূর হয়। শুধু তাই নয়, একজন ব্যক্তি জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য লাভ করেন।জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিশ্বাস করা হয় যে ভগবান শিবের অশ্রু থেকে তৈরি একটি রুদ্রাক্ষও একজন ব্যক্তির দুর্ভাগ্যকে সৌভাগ্যে রূপান্তরিত করার ক্ষমতা রাখে তবে রুদ্রাক্ষ পরার কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।রুদ্রাক্ষ কব্জি, গলা ও জপমালা হিসাবে পরা যেতে পারে। এটা কন্ঠে ধারণ করা সবচেয়ে ভালো।কব্জিতে ১২ টি, গলায় ৩৬ টি এবং জপমালায় মোট ১০৮ টি রুদ্রাক্ষের দানা পরতে হবে আবার একটি রুদ্রাক্ষও ধারণ করতে পারেন। কিন্তু এই দানা বুক যাতে স্পর্শ করে সেদিকে নজর দিতে হবে এবং লাল সুতোয় বাধা থাকবে হবে।বাস্তু তে প্রধান দরজায় রুদ্রাক্ষ স্থাপন করে বাস্তু দোষ থেকে ও অশুভ শক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়|রুদ্রাক্ষ পরার আগে গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধ করে এটি ভগবান শিবকে উৎসর্গ করতে হবে ও মহামৃত্যুঞ্জয় অথবা শিব স্তোত্র জপ করতে হবে।শ্রাবণের সোমবার এবং শিবরাত্রিতে রুদ্রাক্ষ পরা উত্তম। যাঁরা রুদ্রাক্ষ পরিধান করেন, তাঁদের সাত্ত্বিক থাকতে হবে এবং আচার-আচরণ শুদ্ধ রাখতে হবে, তা রুদ্রাক্ষের সঠিক ফল পাওয়া যাবে|আগামী পর্বে শিব সংক্রান্ত অন্য কোনো বিষয় ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে আবার ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শ্রাব মাসের সোমবার গুলি কি করলে শিব কৃপা লাভ করবেন

হিন্দুধর্ম অনুসারে শ্রাবন হলো শিবের মাসে এবং শ্রাবনের সোমবার হল পরমেশ্বর ভগবান শিবের প্রিয় বার। অধিকাংশ শৈব হিন্দুরা সোমবারে শিব প্রিয় ব্রত পালন করেন। শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার শৈবদের কাছে অতন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আবার শিব হলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম এক দেবতা। সনাতন ধর্মের শাস্ত্রসমূহে তিনি পরমসত্ত্বা রূপে ঘোষিত। শিব সৃষ্টি-স্থিতি-লয়রূপ তিন কারনের কারন। তাই মনে করা হয় জীবনের যে কোনও জটিল থেকে জটিলতর সমস্যায় দেবাদিদেব মহাদেব কে স্মরণ করলে সহজেই সেই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায়।শ্রাবনের প্রতি সোমবার মহাদেবকে তুষ্ট করতে মেনে চলতে হবে কিছু নিয়ম।আজকের এই পর্বে আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই শাস্ত্রীয় উপাচার গুলি সম্পর্কে|সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই স্নানের জলে কালো তিল দিয়ে স্নান সারুন। শাস্ত্র মতে, কালো তিল দিয়ে স্নান করলে শরীর শুদ্ধ হয়।তারপর মন্দিরে বা বাড়িতে শিবলিঙ্গ থাকলে তা পুজো করার প্রস্তুতি নিন। শিবলিঙ্গ ভাল করে পরিষ্কার করে নিন। প্রথমে দুধ দিয়ে স্নান করান।তারপর শিবলিঙ্গে মধু ও ঘি দিয়ে একসঙ্গে আবার ভালো করে শিবলিঙ্গ স্নান করান। এরপর গঙ্গাজল দিয়ে আবার স্নান করান।তারপর নিঁখুত বেলপাতা, ফুল দিয়ে পুজো করুন। অপরাজিতা ফুল অবশ্যই রাখবেন। ধূপ ধুনো জ্বেলে মহাদেবের পুজো করুন। ওম নমঃ শিবায়ঃ মন্ত্র উচ্চারণ করুন।শিবলিঙ্গের উপর চন্দনের ফোঁটা দিয়ে দিন। বাতাসা ও মনের মত ফল ও মিষ্টি দিয়ে পুজো সেরে ফেলুন। আবশ্যই যে দিন মহাদেবের পুজো করবেন, সেই দিন নিরামিষ খাবেন। সকালে স্নান করে জলের মধ্যে দুধ ও কালো তিল নিন। সেই জল দিয়ে শিবের অভিষেক করুন। তামার পাত্রই ব্যবহার করা শ্রেয়। তামা ছাড়া অন্য কোনও ধাতুর পাত্র ব্যবহার করবেন না। মনে করা হয় চাঁপা ফুলের গন্ধ আশীর্বাদ ও শুভকামনা বয়ে আনে। মন ভালো করে দেওয়া গন্ধের চাঁপা ফুল শিবের পায়ে উত্‍সর্গ করা হয়। ঠিক যেমন ভক্তেরা তাঁদের সমগ্র সত্ত্বা মহাদেবের পায়ে উত্‍সর্গ করেন।অভিষেক করার সময়ে ‘ওঁ নমঃ ভগবতে রূদ্রায়’ মন্ত্রের জপ করুন।শিবের অভিষেক করার সময়েই রোগমুক্তির প্রার্থনা করুন। মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রের জপ করতে পারেন। প্রতি সোমবার নিষ্ঠা সহকারে শিবের কাছে সংকল্প করুন, আপনার মনোষ্কামনা পূর্ণ হলে কাঁচা দুধে শিবের অভিষেক করবেন|শ্রাবন মাসে প্রতি সোমবার এই সকল পদ্ধতি অবলম্বন মহাদেবকে সন্তুষ্ট করুন আর কাটিয়ে উঠুন জীবনের জটিল থেকে জটিলতর সমস্যা|শিব তত্ত্ব ও শ্রাবন মাসের গুরুত্ব নিয়ে আবার ফিরে আসবো যথা সময়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শ্রাবন মাস কেনো শিবের মাস

শ্রাবন মাস এলেই লক্ষ্য লক্ষ্য শিব ভক্ত বাবার মাথায় জল অর্পন করতে বেরিয়ে পড়েন|পালন হয়ে শ্রাবনের বিশেষ ব্রত|সারা শ্রাবন মাস জুড়ে কেউ শিব পুরান ও শিব স্তোত্র পাঠ করেন আবার কেউ ওঁম নমঃ শিবায়ঃ মন্ত্র জপ করেন|কারন শিব কে সন্তুষ্ট করে তার কৃপা লাভ করার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়|কিন্তু কেনো শিবের এতো প্ৰিয় এই মাস? তার উত্তর ও আছে আমাদর পুরানে|পুরাণ মতে সমুদ্র মন্থনে ওঠা হলাহল এই শ্রাবণ মাসেই পান করেছিলেন শিব।সেই প্রচণ্ড বিষ পান করে তাঁর সারা শরীর নীলবর্ণ ধারণ করে। তাই মহাদেবের আর এক নাম নীলকণ্ঠ। সেই কারণে মহাদেবকে শ্রাবণ মাসে দুধ অথবা জল ঢেলে এবং বেলপাতা অর্পন করে পুজো করেন ভক্তরা। বিশেষ করে শ্রাবণ মাসের সোমবারগুলিতে উপবাস রেখে শিবলিঙ্গের মাথায় দুধ অথবা জল ঢালার প্রথা রয়েছে। এতে পূণ্য লাভ হয় বলে বিশ্বাস|শাস্ত্র ও বিজ্ঞান কে পাশাপাশি রাখলে দেখা যাবে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই কমে যায় এই বর্ষা ঋতুতে|তাই বেশি তৈলাক্ত, মশলাদার খাবার এই সময় বর্জন করা উচিত। শ্রাবণ মাসে নিরামিষ খাওয়া সম্ভব হলে সবচেয়ে ভালো।আবার শিব মানেই সৃষ্টি ৷ শ্রাবণ মাসে বৃষ্টি হয়, উর্বর হয়ে ওঠে জমি ৷ কৃষি কাজের জন্য আদর্শ পরিবেশ তাই জমিতে নতুন ফসল ফলানোর সময় এই শ্রাবণ মাস|জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে এই মাসে শ্রবনা নক্ষত্র গোটা জীব জগৎ কে নিয়ন্ত্রণ করে। যে কোনও শুভ কাজ ও ধর্মীয় উত্‍সব পালন করার জন্য শ্রাবণ মাস উপযুক্ত। বিবাহিত মহিলারা শ্রাবণ সোমবারের উপবাস রাখেন এবং শিবের কাছ থেকে সৌভাগ্য প্রার্থনা করেন। অনেকে আবার এই মাসের প্রথম সোমবার থেকে ষোলো সোমবারের উপবাস শুরু করেন। এই মাসের বিশেষ গুরুত্ব হল, এ সময় মঙ্গলবার পার্বতীর জন্য উপবাস রাখা হয়। এটি মঙ্গলা গৌরী ব্রত নামে পরিচিত।শ্রাবন মাসের বেশি করে ভগবানের নাম শুনলে শিব পুজো করলে এবং নিরামিষ আহার করলে আধ্যাত্মিক ভাবে মানুষের আত্মার বিকাশ হয়| শ্রাবণ মাসকে উত্‍সবের মাস হিসেবেও মনে করা হয়। রাখিবন্ধন, নাগ পঞ্চমী সহ একাধিক উত্‍সব পালন করা হয় শ্রাবণ মাসে।শিবের প্ৰিয় এই শ্রাবন মাসে শিবের কাছে নিজের মনস্কামনা পূরণের প্রার্থনা করুন। তার পর অজ্ঞানত কোনও ভুল হয়ে গেলে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। শিব পুরাণ অনুযায়ী শ্রাবন মাসে শাস্ত্র মেনে শিব পুজো করলে ব্যক্তি মোক্ষ লাভ করতে পারে।আগামী পর্বে শিব ও শ্রাবন মাস সংক্রান্ত অন্য কোনো বিষয় ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে আবার ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব লিঙ্গে কি অর্পণ করলে কি ফল পাবেন

শ্রাবন মাস শিব কৃপা লাভের শ্রেষ্ট সময়|শ্রাবন মাসের কিছু বিশেষ শাস্ত্রীয় পদ্ধতি তে শিবের অভিষেক করলে ও কিছু বিশেষ সামগ্রী রীতি মেনে শিব লিঙ্গে অর্পন করলে আপনার জীবনের অনেক সমস্যা দূর হতে পারে|আজকের পর্বে আসুন জেনে নিই শিব লিঙ্গে কি অর্পণ করলে কি ফল পাবেন|বিয়েতে বিলম্ব হলে বা কোনও না-কোনও কারণে বাধা উৎপন্ন হলে শিবরাত্রির দিনে শিবকে জাফরান মিশ্রিত দুধ দিয়ে অভিষেক করুন। এর পর শিবলিঙ্গে ১০৮টি বেলপাতা অর্পণ করুন। শাস্ত্র মতে শিবলিঙ্গে আতর অর্পণ করলে ব্যক্তির বিচারধারা নির্মল হয়। এর ফলে ব্যক্তি কোনও ভুল পদক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকবে। আতরকে অত্যন্ত উপকারী মনে করা হয়। শান্তি লাভের জন্যও শিবের পুজোয় আতর ব্যবহার করা উচিত। পরিবেশ শুদ্ধ রাখে আতর।শিবকে গঙ্গাজল অর্পণ করলে দোষ শান্ত হয়। এর ফলে ব্যক্তির স্বাস্থ্য ভালো থাকে। জীবনে সুখ-সম-সমৃদ্ধি ও শান্তি বজায় রাখার জন্য শিব পুজোয় গঙ্গাজল ব্যবহার করতে ভুলবেন না।ভাঙ শিবের প্রিয়। শিব পুজোয় ভাঙ ব্যবহার করলে ব্যক্তির চারিত্রিক দোষ-ত্রুটি দূর হয়|চন্দন শিবের প্রিয়। শিবলিঙ্গে চন্দন অর্পণ করলে এটি আপনার ব্যক্তিত্বকে আরও আকর্ষক করে তুলবে। এর প্রভাবে মান-সম্মান বৃদ্ধি পাবে। শিব পুজোয় চন্দন প্রয়োগ করলে সর্প শান্তি ও সমস্ত দোষ নিবারণ সম্ভব।শিবকে মধু অর্পণ করলে ভাষায় মাধুর্য দেখা যাবে। মধু অর্পণের ফলে জীবনে ধন-সম্পত্তির বৃদ্ধি সম্ভব। পাশাপাশি মধু দিয়ে পুজো করলে সমস্ত রোগ দূর হবে।শিবলিঙ্গে ঘি অর্পণ করাও অত্যন্ত শুভ। এ ক্ষেত্রে গাওয়া ঘিকেই শিবের পুজোয় সর্বোৎকৃষ্ট মনে করা হয়। শিবলিঙ্গে ঘি অর্পণ করলে শক্তি সঞ্চয় করা যায়। পরাক্রম ও সাহস বৃদ্ধি হয়। পাশাপাশি কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার শক্তি লাভ করতে পারেন শিব ভক্তরা।শিব পুজোয় কাঁচা দুধের বিশেষ ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। কাঁচা দুধ শীতল হওয়ায় এ দিয়ে শিবের অভিষেক করলে মহাদেবও শীতলতা লাভ করেন। শিব পুজোয় দুধ ব্যবহার করলে ব্যক্তি জীবনে সুখ ও শান্তি লাভ করতে পারবে। পাশাপাশিঈশ্বরে বিশ্বাসীরা অনেকেই বাড়িতে শিবলিঙ্গর পুজো করে থাকেন। তবে বাস্তু অনুযায়ী শ্রাবণ মাসে বাড়িতে একটি বিশেষ শিবমূর্তি রাখুন বাড়ির পূর্ব দিকে মার্বেলের তৈরি শিবের অর্ধনারীশ্বর অবতারের মূর্তি রেখে পুজো করলে ভাগ্য সহায় হয়।বাড়িতে তুলসি গাছ না থাকলে তুলসির চারা রোপনের এটাই আদর্শ মাস। বাড়ির উত্তর দিকে রাখবেন তুলসি গাছ। এতে বাড়িতে শুভ শক্তির আগমন ঘটে। বলা হয়, অবিবাহিত মহিলারা বিয়ের জন্য ভাল পাত্রের সন্ধানও পান|শ্রাবণ মাসে জল দিয়ে রুদ্রাভিষেক করাকেও শুভ মনে করা হয়। শারীরিক অসুস্থতা থাকলে শ্রাবণ মাসে জল দিয়ে রুদ্রাভিষেক করুন।ভালো ফল পাবেন। আবার সরষের তেল দিয়ে শিবের রুদ্রাভিষেক করারও বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে, শ্রাবণ মাসে সরসের তেল দিয়ে শিবের অভিষেক করলে শনি গ্রহের দোষ দূর হয়।শাস্ত্র মতে শিব পুজো করুন|ফিরে আসবো আগামী পর্বে শিব ও শ্রাবন মাস সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব কথা – শিবলিঙ্গর রহস্য

শ্রাবন মাসে আমরা অনেকেই শিব লিঙ্গে গঙ্গা জল বেলপাতা অর্পণ করি এবং আরো অনেক শাস্ত্রীয় উপাচার পালন করি|কিন্তু এই শিব লিঙ্গের স্বরূপ ও তার অন্তর্নিহিত গভীর তাৎপর্য নিয়ে মানুষের মধ্যে কিছু ভুল ভ্রান্তিও আছে|আজকের পর্বে চেষ্টা করবো এই শিব লিঙ্গের রহস্য ভেদ করার|লিঙ্গ শব্দের অর্থ সংস্কৃতে ‘চিহ্ন বা প্রতীক’। আরো অর্থ হয় তা হলো বাসস্থান|শিব লিঙ্গ আদি অনন্ত মহা শক্তির প্রতীক ও দেবাদিদেব মহাদেবের বাসস্থান ও বলা যেতে পারে|মহাপুরাণের মধ্যে অন্যতম ‘লিঙ্গপুরাণ’, যাতে লেখা আছে শিব লিঙ্গের রহস্য ও আরো অনেক তথ্য|লিঙ্গ পুরাণের তৃতীয় অধ্যায়ের শুরুতে শিব লিঙ্গের বর্ণনায় বলা আছে যে নির্গুণ ব্রহ্মকেই লিঙ্গ বলে। মহাদেব সেই নির্গুণ ব্রহ্ম তার থেকেই সকল শক্তির উৎপত্তি|সমগ্র শিবলিঙ্গের আকৃতির তিন ভাগ আছে এবং পাশে যে ত্রিশূল বসানো থাকে তার তিনটি শূল তিন গুণের প্রতীক, যথা- সত্ত্ব গুন,রজ গুন, এবং তম গুন| তিন গুণ যথাক্রমে সৃষ্টিকর্তা- ব্রহ্মা, পালনকর্তা- বিষ্ণু ও সংহারকর্তা- শিব কে বোঝায়।শিব লিঙ্গেও এই তিন শক্তির বাস|সবার নিচের অংশ বা ভুমি ভাগে সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার অংশ। এটি আমাদের বোঝায় সব কিছুর মুলেই সৃষ্টিকর্তা বিদ্যমান। আর সবকিছুর সাত্ত্বিক গুণসম্পন্ন শান্তিময় স্থান এটি। অর্থাৎ ঈশ্বরের ছত্রতলেই জগতের সব শান্তি।পীঠ বা মধ্য ভাগে পালনকর্তা বিষ্ণু অবস্থান করে। এই অংশ বোঝায় বিষ্ণু নিজে আমাদের ধারণ করেছেন তার মধ্যে এবং সুরক্ষা দিচ্ছেন। এইটি রজগুণকে বুঝায় যা সত্ত্ব আর তমের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। আবার এই অংশ বিষ্ণুর বৈশিষ্ট্যকেও বোঝায়। বিষ্ণু মোক্ষ দানে সহায়তা করে, যা শিব লিঙ্গে ঢালা জলের মধ্যে প্রকাশ পায়। জল যা জীবনের প্রতীক তা জগতে ঈশ্বরের মধ্যে দিয়ে প্রকৃতিতে এসে আবার বিলীন হয়ে যায়।সর্বোপরি রুদ্র ভাগ এবং এই অংশ কে মূল লিঙ্গ বলে । একে পূজা ভাগও বলে। শিব নিজে এখানে অবস্থান করে। যা সর্বশক্তির উৎস ও কেন্দ্র। লিঙ্গপুরাণের পূর্বভাগের অধ্যায়-১৭ তে এর বর্ণনা দেওয়া আছে এইভাবে যে শিব নিজে এই ভাগে ধ্যান অবস্থায় আছেন। শিব সাকার কিন্তু লিঙ্গের মধ্যে তার আকার নেই, কিন্তু পরমেশ্বর নিরাকার কিন্তু লিঙ্গে তিনি লিঙ্গ আকৃতিতে অবস্থিত। এবং এই জন্যই সকল প্রকার আরাধনাই এই শিবলিঙ্গে সম্ভব, যা একই সঙ্গে সাকার ও নিরাকার এবং সমগ্র জগতের প্রাণ কেন্দ্র।শিব লিঙ্গের গায়ে আঁকা থাকে মঙ্গল-তিলক যা ত্রিপুণ্ড্র নামে পরিচিত তা ঈশ্বরের সৃষ্টির তিন লোক স্বর্গ মর্ত আর পাতাল বোঝায়।আগামী পর্বে শিব সংক্রান্ত অন্য কোনো বিষয় ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে আবার ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব কথা – বেলপাতা কেনো শিবের প্ৰিয়

সনাতন ধর্ম অনুযায়ী বেলপাতা শিবের অত্যন্ত প্রিয়। শ্রাবণ মাসে শিবের বিশেষ পূজার্চনার যে নিয়ম রয়েছে তার অন্যতম উপাদান বেলপাতা,এমনিতে শিবের কোনও পুজোই বেলপাতা ছাড়া পূর্ণ হয় না। শ্রাবণ মাসে বেলপাতা ছাড়া ভুলেও শিবের পুজো করবেন না। একটি বেলপাতাতেই শিব প্রসন্ন হতে পারেন আপনার ওপর কিন্তু কিভাবে টা সম্ভব জানাবো আজকের পর্বে|শিবের প্রিয় বেলপাতার উৎপত্তি সম্পর্কে স্কন্দপুরাণে একটি কাহিনি প্রচলিত আছে। পুরাণ অনুযায়ী একবার দেবী পার্বতী নিজের ললাট থেকে ঘাম মুছে ফেলেন, তাঁর কয়েক ফোঁটা ঘাম মন্দার পর্বতে গিয়ে পড়ে। সেখান থেকে বেল বৃক্ষের উৎপত্তি।বেল গাছের শিকড়ে গিরিজা, গুড়িতে মহেশ্বরী, শাখায় দক্ষয়ায়নী, পাতায় পার্বতী ও ফুলে গৌরীর বাস মনে করা হয়।আবার আয়ুর্বেদ মতে বেলপাতার মধ্যে রয়েছে এমন ভেষজ গুন যা যেকোনো রকম বিষক্রিয়াকে দমন করতে পারে|শিব যখন সমুদ্র মন্থন থেকে উঠে আসা বিষ পান করেছিলেন এবং বিষের প্রভাবে নীল কণ্ঠ হয়েছিলেন তখন বিশেষর প্রভাব কে সীমিত রাখতে বেলপাতা প্রয়োগ হয়েছিলো বলেও অনেকের ধারনা|আবার বেলপাতা সংযম ও ধ্যানের প্রতীক|আসুন এবার দেখে নিই কি ভাবে বেলপাতা ব্যবহার করবেন এই শ্রাবন মাসের শিব পুজোয়|উল্টো বেলপাতা, অর্থাৎ বেলপাতার যে অংশটি মসৃণ, তা শিবলিঙ্গ স্পর্শ করিয়ে অর্পণ করা উচিত।অনামিকা, বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ ও মধ্যমা আঙুল দিয়ে ধরে বেলপাতা অর্পণ করবেন। বেলপাতার মধ্যবর্তী পাতাটি ধরে অর্পণ করতে হয়। শুধু বেলপাতা অর্পণ করবেন না। বেলপাতার সঙ্গে সঙ্গে জলধারাও অর্পণ করতে থাকুন।তিন পাতা বিশিষ্ট বেলপাতা অর্পণ করা উচিত। ১ বা দুই পাতা বিশিষ্ট, কাটা-ফাটা পাতা কখনও অর্পণ করবেন না।কিছু তিথিতে বেলপাতা তুলতে নেই। চতুর্থী, অষ্টমী, নবমী, চতুর্দশী, অমাবস্যা, সংক্রান্তি ও সোমবার বেলপাতা তুলতে নেই। এমন পরিস্থিতিতে পুজো থেকে একদিন আগে বেলপাতা তুলে রেখে নিন।কথিত আছে শিবকে বেলপাতা অর্পণ করলে ভক্তদের সমস্ত দুঃখ-কষ্ট দূর হয়। ভোলানাথ তাঁর সমস্ত মনস্কামনা পূর্ণ করেন।শাস্ত্র মতে শিব পুজো করুন|ফিরে আসবো আগামী পর্বে শিব ও শ্রাবন মাস সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শ্রাবন মাসের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব

কথা দিয়েছিলাম পবিত্র শ্রাবন মাসে আমার অনুষ্ঠানে থাকবে শিব ও শ্রাবন মাসের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব নিয়ে নানা তথ্য ও পৌরাণিক ব্যাখ্যা এবং প্রতিটি পর্বে থাকবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রীয় উপাচার যা আপনাদের কাজে লাগবে|আসুন আজ শুরু করা যাক শ্রাবন মাসের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব দিয়ে|আমাদের সনাতন ধর্মে এই শ্রাবন মাসটি শিবকে উত্সর্গ করা হয়। শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার শিবের পুজো করা জন্য শিব ভক্তরা অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করে থাকেন এবং শ্রাবন মাসে শিবের বিশেষ পুজোর রীতি প্রচলিত আছে।চলতি বছর 18 জুলাই থেকে শ্রাবণ মাস শুরু হয়েছে এবং শেষ হবে 17 অগস্ট ও এই বছর শ্রাবন মাসের পাঁচটি সোমবার রয়েছে|শ্রাবণের প্রথম সোমবার – ১৮ জুলাইশ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবার – ২৫ জুলাইশ্রাবণের তৃতীয় সোমবার -১ আগস্টশ্রাবণের চতুর্থ সোমবার – ৮ আগস্টশ্রাবণের পঞ্চম সোমবার – ১৫ আগস্ট পুরান অনুসারে করা হয় যে, শাওয়ান মাসে শিব-পার্বতী , উভয়েই মর্ত্যে নেমে এসে পৃথিবী ভ্রমণ করেন ও ভক্তদের প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে আর্শীবাদ করেন।আবার এই শ্রাবন মাসেই হয়েছিলো সমুদ্র মন্থন এবং সেই সমুদ্র মন্থন থেকে উঠে আশা বিষ থেকে বিশ্ব কে রক্ষা করতে মহাদেব স্বয়ং সেই বিষ কণ্ঠে ধারন করেছিলেন|বিষের প্রভাবে কণ্ঠ নীল বর্নে রূপান্তরিত হয় এবং মহাদেবের আরেকটি নাম হয় নীলকণ্ঠ|শ্রাবণ শিবের অত্যন্ত প্রিয় মাস এবং হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি মাস যার জ্যোতিষচর্চা, আধ্যাত্মিকতা সব দিক থেকেই সমান মাহাত্ম্য রয়েছে। এই মাসে বেশ কিছু শাস্ত্রীয় উপাচার রয়েছে যা বিশ্বাস নিয়ে সঠিক ভাবে পালন করলে যাবতীয় মনস্কামনা পূরণ হয়।শ্রাবন মাসেই পালিত হয় মঙ্গলা গৌরী ব্রত|বিবাহিত মহিলারা শ্রাবণ সোমবারের উপবাস রাখেন এবং শিবের কাছ থেকে সৌভাগ্য প্রার্থনা করেন। অনেকে আবার এই মাসের প্রথম সোমবার থেকে ষোলো সোমবারের উপবাস শুরু করেন। এই মাসের বিশেষ গুরুত্ব হল, এ সময় মঙ্গলবার পার্বতীর জন্য উপবাস রাখা হয়। এটি মঙ্গলা গৌরী ব্রতর প্রধান অঙ্গ বলে পরিচিত। মনে করা হয়, শ্রাবণ মাসের সোমবারের উপবাস রাখলে ও শিবের অভিষেক করলে সুখ-সমৃদ্ধি লাভ হয়। আবার অবিবাহিতারা শ্রাবণের সোমবারের উপবাস রাখলে ও মহাদেবের পুজো করলে পছন্দের জীবনসঙ্গী পেতে পারেন এবং যারা অবিবাহিত বা বিবাহিত জীবনে কোনো সমস্যা রয়েছে তারা এই ব্রত করলে ভালো ফল পাবেন|যারা এই ব্রত কোনো কারনে পালন করতে পারবেন না তারা একটি সহজ পদ্ধতিতে শিবকে সন্তুষ্ট করতে পারেন জল ও একটি বেলপাতা অর্পণ করলেই শিবকে প্রসন্ন করা যায়। শ্রাবণের সোমবারে সকালে তাড়াতাড়ি উঠে স্নান করে শিব মন্দিরে যান। শিব ও পার্বতীকে পুজোর সমস্ত উপকরণ অর্পণ করুন। শিবকে জলাভিষেক করার সময় শিব মন্ত্র জপ করুন|শ্রাবন মাসে কিছু সহজ ঘরোয়া শাস্ত্রীয় উপাচার পালন করেও আপনারা এই শ্রাবন মাসে শিব কৃপা লাভের মাধ্যমে জীবনের অনেক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারেন|শ্রাবণ রুদ্রাক্ষ ধারণের জন্য প্রশস্ত সময়।এছাড়া বাড়িতে কষ্টি পাথরের বা পারদের শিব লিঙ্গ স্থাপন করতে পারেন কোনো বাস্তু দোষ থাকলে দূর হবে এবং আর্থিক সমস্যায় ভালো ফল পাবেন|শ্রাবণে শিবলিঙ্গে বিল্বপত্র প্রদানের একটি নিয়ম রয়েছে। এই মাসের অষ্টমী, চতুর্থী, নবমী, অমাবস্যা, সংক্রান্তি ও সোমবারগুলিতে বিল্বপত্র শিবের মাথা থেকে নামাতে নেই বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে ।সোমবারের পুজো করার সময় মহাদেবকে চাল অর্পন করতে ভুলবেন না। পুজোর সময় চাল অর্পন করলে আর্থিক সমস্যা কমে যায় এবং অর্থ বৃদ্ধি পেতে থাকে। সেই সঙ্গে হঠাৎ করে মাইনে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।জীবনে খারাপ ঘটনা এড়াতে মহাদেবের পুজোর সময় যব অর্পন করুন। এর ফলে জীবনে অনেক দুর্ঘটনার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। রবিবার মহাদেবের পুজোয় গম অর্পন করা খুব ভাল। এর ফলে দাম্পত্য জীবন সুখের হয়|শ্রাবনের শনিবার মহাদেবকে তিল অর্পন করুন। কারণ এই জিনিসটি মহাদেবের বেজায় পছন্দের জিনিস। তিল অর্পন করার সময় মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র উচ্চারণ করলে সুফল তাড়াতাড়ি পাওয়া যায়। শরীর থেকে রোগ নিরাময় হয়ে যায়।জীবনে সব রকম বাধা কাটাতে এবং যে কোনও ক্ষতির আশঙ্কা কমাতে মহাদেবকে বুধবার সবুজ মুগ ডাল অর্পন করতে হবে। এই নিয়ম করলে মনের ইচ্ছে দ্রুত পূরণ হয়।শ্রাবন মাসে সহজ এই উপাচার গুলি পালন করুন ভালো ফল পাবেন|আগামী দিনে শ্রাবন মাস ও শিব সংক্রান্ত নানা তথ্য ও আরো গুরুত্বপূর্ণ সব শাস্ত্রীয় উপাচার আপনাদের সামনে তুলে ধরবো|থাকবে পৌরাণিক ঘটনা ও আরো অনেককিছু|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

তীর্থ ক্ষেত্রে পন্ডিতজি – শিব ভূমি ত্রম্বকেশ্বর

চলছে শ্রাবন মাস, অর্থাৎ শিবের মাস, জ্যোতিষ শাস্ত্রের সাথে গভীর সম্পর্ক রয়েছে পবিত্র শ্রাবন মাসের এবং দেবাদিদেব মহাদেবের|আজ শুরুতে সেই বিষয়ে একটু আলোকপাত করবো কারন আজকের শিব ভূমি ত্রম্বকেশ্বর|আমি নিজে ব্যাক্তিগত ভাবে এই মহান তীর্থক্ষেত্র দর্শন করছি এবং এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করছি, সেই প্রসঙ্গে পরে আসছি জ্যোতিষ শাস্ত্রের একটি তাৎপর্য পূর্ণ বিষয় নিয়ে একটু বলে নিই|শ্রবনা নক্ষত্র থেকেই এই মাসের নামকরন যা জ্যোতিষ শাস্ত্রের অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ এক নক্ষর আবার,জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে লগ্ন কুন্ডলি তে যে কয়েকটি অশুভ গ্রহগত সংযোগ থাকে তার মধ্যে অন্যতম কাল স্বর্প দোষ|মোট বারো প্রকারের কাল স্বর্প দোষ থাকে যার সব গুলোই একেকটা সাপের নামে আর এই কাল সর্প দোষ খণ্ডনের সর্ব শ্রেষ্ঠ স্থান মহারাষ্ট্রে অবস্থিত ত্রম্বকেশ্বর মন্দির যা দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্তর্গত|কেনো এই স্থানে কালসর্প দোষ খণ্ডিত হয় তার পেছনে আছে এক পৌরাণিক ঘটনা|

পুরান মতে একবার গণেশ মহাদেবের পুজো করেন সেই সময়ে শিবের গলায় থাকা বাসুকি নাগের মনে হয় যে গণেশ তারই পুজো করছেন। তার এই ঔদ্ধত্যের জন্য শিব রেগে গিয়ে তাকে অভিশাপ দেন যে নাগকূল তাদের সব ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে।তাই হয়|পরবর্তীতে ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা নাগেরা শিবের কাছে গিয়ে অভিশাপ ফিরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানায়। শিব তখন দয়া বসত তাদের মর্ত্যে গিয়ে তাঁর পুজো করতে বলেন|নাগকুল এই ত্রম্বকেশ্বর মন্দিরে শিব পূজা করে তাদের হারানো গৌরব ফিরে পায়|সেই থেকে এই মন্দিরের নিষ্ঠা সহকারে প্রথা মেনে পূজাপাঠের মাধ্যমে কাল স্বর্প দোষ খণ্ডনের প্রথা চলে আসছে|

অবশ্য আরেকটি পৌরাণিক আখ্যান মতে রাহু ও কেতুও এই স্থানে মহাদেবের পুজো করেছিলেন|তাই এই শিব মন্দির রাহু ও কেতু দ্বারা সৃষ্ট কালসর্প দোষ খন্ডনের শ্রেষ্ঠ স্থান বলে বিবেচিত হয়|

ত্রম্বকেশ্বর মন্দিরের প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে যত দূর জানা যায়,বর্তমান মন্দির টি নির্মাণ করিয়েছিলেন পেশোয়া তৃতীয় বালাজি বাজি রাও,1755 থেকে 1786 দীর্ঘ একত্রিশ বছর লেগেছিলো এই মন্দির নির্মাণ সম্পুর্ন হতে|ত্র্যম্বকেশ্বর মন্দিরের পিছনের পাহাড় ব্রহ্মগিরি থেকে উদ্ভূত হয়ে গোদাবরী গুপ্ত ভাবে পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে এসে ক্ষীণ আকারে বেরিয়ে আসছে জ্যোতির্লিঙ্গ ত্র্যম্বকেশ্বরের মধ্য থেকে। মন্দির থেকে কিছু দূরে কুশাবর্ত কুণ্ড ও গোমতী ঘাট। কুম্ভপর্বে যে তিনটি স্নান হয়, তার একটি রামতীর্থ রামঘাটে ও অপর দুটি হয় এই কুশাবর্ত তীর্থে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা এবার বলি, 2019 সালের মাঝামাঝি গেছিলাম এই মন্দিরে,উদ্দেশ্য ছিলো কিছু ক্লাইন্টের কাল সর্প দোষ খণ্ডন ও অবশ্যই জ্যোতিরলিঙ্গ দর্শন|তবে পেয়েছিলাম অনেক বেশি কারন হটাৎ সেদিন ওই স্থানে শঙ্করাচার্যর আগমন ঘটে ছিলো|তার দিব্য দর্শন লাভ করে ধন্য হয়েছিলাম|এছাড়াও গোদাবরী কুন্ডে স্নান করার পর যে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি লাভ করেছিলাম তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না|মধুর সেই স্মৃতি আজীবন আমার সাথে থাকবে|অন্য কোনো শিব ভূমি নিয়ে আবার ফিরে আসবো যথা সময়ে পড়তে থাকুন|জ্যোতিষ বিষয়ে কথা বলতে অথবা সমস্যা নিয়ে আসতে চাইলে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|