ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সিদ্ধিদাতা গণেশের বহু প্রসিদ্ধ মন্দির রয়েছে এবং প্রতিটি মন্দিরে তাঁর মূর্তি গজাননরূপেই স্থাপিত হয়। কিন্তুতামিলনাড়ুর তিরুভারুরের বিখ্যাত আদিবিনায়ক মন্দিরে গণপতির মুখের আদল মানুষের মতো|আজ মন্দির রহস্যর এই পর্বে সেই মন্দিরটি নিয়েই লিখবো |আদি বিনায়ক মন্দিরে গণেশর মুখ মানুষেরমতো হওয়ার কারণ হল|গণেশের গজানন মুখ সৃষ্টি হওয়ার আগে তাঁর মুখ ছিল বাকি সবার মতো স্বাভাবিক অর্থ্যাৎ মানুষের মতো|গণেশ কে এখানে তার আগের রূপেই পূজা করা হয়।বিঘ্নহর্তা গণেশের এই রূপ খুব কমই পুজো করা হয়। এই রূপে গণেশের হাতে রয়েছে একটি কুড়ুল, একটি দড়ি, একটি মোদক ও একটি পদ্ম|আদি বিনায়ক মন্দিরে শুধু শ্রী গণেশই নয়, শিব ও মা সরস্বতীরও পূজা করা হয়। ফলে বহু ভক্ত একযোগে মহাদেব, আদি বিনায়কের সঙ্গে দেবী সরস্বতীর আশীর্বাদ পেতেও এখানে আসেন।আদি বিনায়ক মন্দির বহু প্রাচীন|সম্ভবত রামায়ণের যুগের ও আগের|কারন শোনা যায়ভগবান রাম একবার আদি বিনায়ক মন্দিরে তাঁর পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য পুজো দিয়েছিলেন|আজও বহু মানুষ পিতৃ পুরুষের আত্মার শান্তির জন্য এই মন্দিরে পুজো দিতে আসেন|ভক্তরা বিশ্বাস করেন, মহাগুরু অগস্ত্য স্বয়ং প্রতি ‘সংকষ্টি চতুর্থীতে’ আদি বিনায়কের পূজা করেন। এমনও বিশ্বাস করা হয় যে এখানে গণেশের পূজা করলে পারিবারিক অশান্তি দুর হয় ও পরিবারের শিশুদের বিশেষ ভাবে কল্যান হয়|আগামী পর্বে যথা সময়ে আবার ফিরে আসবো অন্য কোনো মন্দিরের রহস্য ও তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরীর দরিয়া বা বেড়ি হনুমান মন্দিরের রহস্য
বাঙালির বড়ো প্ৰিয় এবং অন্যতম জনপ্রিয় তীর্থ ক্ষেত্র হচ্ছে শ্রীক্ষেত্র পুরী|আমি নিজে কতবার যে গেছি তার হিসেব নেই |পুরীতে আছে এক অদ্ভুত বজরংবলীর মন্দির যা বেড়ি হনুমান বা দরিয়া হনুমান নামে খ্যাত|আজ মন্দির রহস্য পর্বে সেই বেড়ি মন্দিরের কথাই আপনাদের জন্য লিখছি |যারা পুড়িতে গেছেন তারা নিশ্চই জানেন পুরী ধামে চক্রতীর্থের কাছে বেড়ি হনুমান মন্দির অবস্থিত।শ্রীজগন্নাথদেব হনুমানকে পুরীধাম রক্ষায় নিয়োজিত করেন। কেননা কখনও কখনও সমুদ্রের ঢেউ পুরীতে প্রবেশ করত এবং পুরীবাসীকে ভুগতে হত। সেজন্য জগন্নাথদেব এখানে পাহারায় হনুমানকে নিযুক্ত করেন, যাতে সমুদ্র পুরী শহরে প্রবেশ করতে না পারে।বজরংবলী হনুমান পুরীতে দ্বার রক্ষক এবং জগতের নাথের ইচ্ছায় তিনি শ্রীক্ষেত্রর সুরক্ষার দায়িত্বে আছেন|পুরীর এই মন্দিরে হনুমানের মূর্তি একটি বেড়ি দিয়ে আবদ্ধ করা হয়েছে।তার ও একটি কারন আছে|পুরান অনুসারে একবার হনুমানের অযোধ্যা পরিদর্শনের জন্য ইচ্ছা হল এবং পুরীধাম পাহারার দায়িত্ব ফেলে ঐ স্থান ত্যাগ করে হনুমান অযোধ্যা গেলেন। ফলে সমুদ্রের জল শহরে প্রবেশ করল এবং শহরবাসীর খুব ভোগান্তি হলো । শ্রীজগন্নাথদেব হনুমানকে অযোধ্যা থেকে ফিরিয়ে আনলেন। তাঁকে এখানে বেড়ি দিয়ে আবদ্ধ করে রাখলেন এবং তাঁকে আজ্ঞা দিলেন যে, কখনও যেন সে এই স্থান ছেড়ে না যায় এবং দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করে।বেড়ি দিয়ে বা শৃঙ্খল দিয়ে আবদ্ধ করার জন্য বজরংবলীকে এখানে বেড়ি হনুমান বলা হয়|যেহেতু হনুমান পুরী ধামকে মহাসাগর বা দরিয়া থেকে সুরক্ষিত রাখতে দরিয়ার নিকটে অবস্থান করছে, সেজন্য তিনি দরিয়া হনুমান নামেও খ্যাত।যারা তীর্থ করতে পুরীতে আসেন তারা জগন্নাথ দর্শনের পাশাপাশি বেড়ি হনুমান দর্শন করতে ভোলেন না|আগামী পর্বে যথা সময়ে আবার ফিরে আসবো অন্য কোনো মন্দিরের রহস্য নিয়ে|পড়তে থাকুন |ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
মন্দির রহস্য – মাটিয়া কালী
আজ মন্দির রহস্য পর্বে আপনাদের জন্য এমন এক কালী পুজো নিয়ে লিখবো যেখানে তথা কথিত মন্দির বলে কিছু নেই আবার মায়ের মৃন্ময়ী মূর্তি থেকেও নেই|আগাগোড়া পুরোটাই রহস্য দিয়ে ঢাকা|দেবী এখানে মাটিয়া কালী নামে প্রসিদ্ধ|দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কালী মন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম কালী মন্দির হল কুশমন্ডি ব্লকের আমিনপুরের ‘মাটিয়া কালী’ মন্দির।দীর্ঘ ৬০০ বছর ধরে এখানে পুজো হয়ে আসছে দেবীর।যে মাটির আসনে পুজো করা হয় তাঁকে সেই মাটিতেই মিলিয়ে যান তিনি। এখানে দেবীর কোনো প্রতিমা নেই। নেই কোনো পাকা মন্দির। তিনি এখানে মাটির বেদীতেই বিরাজমান।স্বাধীনতার আগে ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধের সময় রটন্তী কালী নামে মায়ের পুজো করে যুদ্ধে জয়লাভ করেছিল জমিদার বংশ। যদিও পরে মাটিতে থাকার কারণে এই রটন্তী কালী এলাকাবাসীর কাছে ‘মা মাটিয়া কালী’ নামে পূজিত হন।পুজোর সূচনা গ্রামের জমিদার যোগেন্দ্রনারায়ণ রায়চৌধুরীর আমলে। ইংরেজ আমলে হরিপুর এস্টেটের জমিদারির দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর। তিনিই একদিন দেবীর স্বপ্নাদেশ পান। মা কালী তাঁকে নির্দেশ দেন, এই গ্রামের মাটিতেই মিশে আছেন তিনি । তাই তিনি এই খোলা আকাশের নীচে মাটির বেদীতেই পুজো নিতে চান। স্বপ্নাদেশ মতো আজও নির্মাণ করা হয়নি কোনো মন্দির। সেই থেকে মাটির বেদীকেই মা কালী রূপে পুজো করে আসছেন গ্রামের লোক|গ্রামের অভিভাবকের আসনে দেবী স্বয়ং তাই গ্রামে যেকোনো শুভ কাজের পূর্বে দেবীর পুজো করা হয় রীতি মেনে|পূর্বে ‘মা মাটিয়া কালীর’ থানের ঈশাণ কোণে ছিল একটি ঘর। যেখানে এক সময় মায়ের সাজগোজের গয়না রাখা হত। তার পাশেই রয়েছে পঞ্চমুখী শিব। যদিও মায়ের পাকা মন্দির নেই তবে পঞ্চমুখী শিবের জন্য মন্দির করা হয়েছে। প্রাচীন রীতি মেনে আজও মাটির থানেই হয় এই পুজো। শোনা যায়, মা মাটিতে থাকার কারণে সেই সময়ে জমিদার পরিবারের সকলে নাকি মাটিতেই ঘুমোতেন।তবে কার্তিক মাসের দীপান্বিতা অমাবস্যায় তাঁর পুজোর সময় তৈরী করা হয় দেবী প্রতিমা যা পরবর্তীতে মাটিতেই বিলীন হয়ে যায়|আগামী পর্বে যথা সময়ে আবার ফিরে আসবো অন্য কোনো মন্দিরের রহস্য নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়ের বাড়ির পুজো
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সাড়া জাগানো নাম তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়|তবে সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি তিনি মাতৃ শক্তির আরাধনাও করেছেনশতাব্দী প্রাচীন বন্দোপাধ্যায় বাড়ির কালী পুজোবেশ কয়েকটি কারনে বৈচিত্রপূর্ন|আজ লিখবো সাধক তারাশঙ্করের পুজো নিয়ে|বীরভূমে রয়েছে একাধিক শক্তি পীঠ যার মধ্যে সতী পীঠের অন্যতম লাভপুরের ফুল্লরা মায়ের মন্দিরে প্রথমে পুজোর পর তারা মায়ের পুজোশুরু হয় তারাশঙ্করের পৈতৃক ভিটেতে। বন্দোপাধ্যায় বাড়ির গৃহ মন্দিরে তারা মা, নীল সরস্বতী রূপে বিরাজমানা।তারাশঙ্করের বাড়ির পুজোয় মা দশ মহাবিদ্যার এক বিদ্যারূপে পূজিত হন। তারাশঙ্করের বংশধর এবং পরিবারের সদস্যরা তো বটেই প্রতি অমাবস্যা এবং বিশেষ বিশেষ তিথিতে রাতের এই পুজোয় অংশ নেন আশেপাশের গ্রাম মিলিয়ে কয়েকশো মানুষ।তারাশঙ্করের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তাদের পূর্ব পুরুষ জমিদার হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন নিঃসন্তান ছিলেন। পরে ফুল্লরা মন্দিরে সাধনা করতে আসা তান্ত্রিক রামজি গোঁসাই হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী প্রভাবতী দেবীকে উপায় বাতলে দেন। নিদান দেন যে, আশ্বিন মাসে দুর্গাদুর্গাপুজো” করতে হবে|নিদান মেনে পুজো সারেন হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী প্রভাবতী দেবী। শোনা যায়, তার পরের বছরই জন্ম হয় তারাশঙ্করের ।তাঁর জন্মের পরই তারা মায়ের মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করা হয় লাভপুর গ্রামের দক্ষিণ প্রান্তের একটি মাঠে। সেই থেকে বছর বছর সেখানে পুজো হয়ে আসছে। আজ পর্যন্ত সেই ধারা অব্যাহত। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এখানে তারা মা, নীল সরস্বতী রূপে পূজিত হন। বর্তমানে মাঠটি তারামা ডাঙা নামে পরিচিত। নামের সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই এখানে দেবীর গায়ের রঙ নীল। সারা দেহে জড়ানো থাকে সাপ। প্রতিমার পরনে থাকে বাঘ ছাল, মাথায় গেরুয়া জটা, গলায় মুণ্ডমালা এবং হাতে কৃপাণও থাকে।তারাশঙ্করের লেখায় বার বার ঘুরেফিরে এসেছে এই পুজোর কথা|আজও সন্ধের দিরে পুজো শুরু হলেও, তা চলে মধ্যরাত্রি পর্যন্ত। পুজোর পাশাপাশি চলে হোম-যজ্ঞও। তারাশঙ্কর যত দিনে জীবিত ছিলেন, তিনি পুজো করিয়ে গিয়েছেন নিয়ম করে। তাঁর লেখা ‘গণদেবতা’, ‘ধাত্রীদেবতা’, ‘কবি’-সহ বিভিন্ন উপন্যাসে তারা মায়ের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে বিভিন্ন ভাবে। ফিরে আসবো অন্য কোনো মন্দিরের কথা নিয়ে|সঙ্গে থাকবে আরো অনেক অলৌকিক ঘটনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
সাক্ষী গোপালের অলৌকিক বৃত্তান্ত
যখন কাউকে সাক্ষী রেখে কোনও কাজ করা হয় তখন ব্যবহার করা হয় সাক্ষী গোপাল কথাটি।জানেন কি কে এই সাক্ষী গোপাল? কেনই বা তার এমন অদ্ভূত নাম? আজকের পর্বে জানাবো সাক্ষী গোপালের অলৌকিক বৃত্তান্ত|ভারতের ওড়িশার কটক শহরে রয়েছে সাক্ষী গোপালের একটি মন্দির। সাক্ষী গোপালের এই মন্দিরের সাথে জড়িত আছে অলৌকিক এক ঘটনা যেখান থেকে শুরু হয় এই কিংবদন্তী|শোনা যায় এই মন্দিরের বিগ্রহটি আগে ছিল বৃন্দবনের এক মন্দিরে। সেখান থেকে স্বয়ং ওড়িশার এই স্থানে এসেছিল ওই মূর্তি। আর এই মূর্তির নিজে পায়ে আসার ঘটনাটি ঘিরেই প্রচলিত হয়েছে এক জন্যশ্রুতি । বলা বাহুল্য সেই কাহিনির মাধ্যমেই জন্ম হয়েছে সাক্ষী গোপাল বাগধারাটি।শোনা যায় দক্ষিণ ভারতের এক কুলীন ব্রাহ্মণ সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব নিজের ছেলের হাতে তুলে দিয়ে তীর্থদর্শনে বেরিয়ে পড়েন। তীর্থে তীর্থে ঘুরে তিনি মথুরায় এসে পৌঁছন।সেখানে তার সঙ্গে একজন যুবক ব্রাহ্মণের আলাপ হয় একসঙ্গে মিলেই তারা ঘুরে দেখতে থাকেন বৃন্দাবনের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। হঠাৎ করেই ব্রাহ্মণের মনে হয় এমন ছেলে তাঁর কন্যার জন্য একেবারে উপযুক্ত পাত্র। তৎক্ষণাৎ নিজের মনের কথা সেই যুবককে বলেন ব্রাহ্মণ। কিন্তু ব্রাহ্মণত্বের বিচারে সেই যুবক কুলীন ছিল না, তাই প্রাথমিক ভাবে এমন প্রস্তাবে অসম্মতি জানায় ওই যুবক। তার যুক্তি ছিল, এই বিয়ে ব্রাহ্মণ সমাজ কিছুতেই মেনে নেবে না। তখন ওই বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ যুবককে আশ্বস্ত করেন যে এমন কোনও পরিস্থিতি তিনি তৈরি হতে দেবেন না। তখন তাঁরা দুজনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন বৃন্দাবনের এক গোপাল মন্দিরে। ব্রাহ্মণ সেই মন্দিরের দেবতাকে সাক্ষী করে শপথ করেন যে তিনি তাঁর কন্যার বিবাহ ওই যুবকের সঙ্গেই দেবেন। যুবকটিও কিছুদিন সময় চেয়ে নিজের বাড়ি ফিরে যায়।তারপর নিজের গ্রামে পরিবারের কাছে ফিরে আসেন ওই ব্রাহ্মণ। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় সেই পাত্রের পরিচয় সকলে জানার পর। ব্রাহ্মণের নিজের পরিবার সহ সমাজের প্রত্যেকেই এই বিয়ের বিরুদ্ধে একেবারে বেঁকে বসেন। ফলত বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ পড়েন এক ভয়ানক ধর্মসঙ্কটে। একদিকে তাঁর প্রতিজ্ঞাভঙ্গের ভয়, অন্যদিকে সমাজচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা। এমন সময় হঠাৎই সেখানে হাজির হন সেই যুবক। কিন্তু তাঁকে চরম অপমান করে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেন গ্রামবাসী ও ওই বৃদ্ধের আত্মীয়রা। অপমানিত যুবক গ্রামবাসীদের উদ্দেশে ঘোষণা করেন, যে মন্দিরে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেই মন্দিরের বিগ্রহকেই তিনি সাক্ষী হিসেবে সকলের সামনে নিয়ে আসবেন।তিনি নিজে দেবেন সাক্ষী|মনের দুঃখে যুবক হাজির হন বৃন্দাবনের সেই গোপালের মন্দিরে। কথিত আছে, সেখানে গিয়ে আকুলভাবে তিনি দেবতাকে জানান তাঁর সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের কথা। সেই ডাকে নাকি সাড়াও দেন স্বয়ং গোপাল। তিনি রাজি হন সাক্ষী দিতে এবং যুবকের কথামতোই পাথরের বিগ্রহ রূপে স্বশরীরে তিনি সাক্ষী দিতে রওনা হন দক্ষিণ ভারতের ওই গ্রামের উদ্দেশে।গোপালের একটি শর্ত ছিলো|যাওয়ার পথে যুবক যেন পিছন ফিরে মূর্তির দিকে না দেখে। পিছনে তাকালেই তিনি থেমে যাবেন ।যুবক শর্ত মেনেই নিতেই শুরু হয় যাত্রা। বেশ খানিকটা পথ যাওয়ার পর ওড়িশার কাছাকাছি একটি গ্রামে এসে যুবকের মনে হয় গোপালের বিগ্রহ আর সঙ্গে আসছেন না। সন্দেহের বশেই একটিবারের জন্য পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখেন|ব্যাস শর্ত অনুসারে গোপাল সেখানেই দাঁড়িয়ে পড়েন।ভগবানের উপর যতক্ষণ ভক্তের বিশ্বাস ছিলো ভগবান তার সাথে ছিলো|বিশ্বাস ভঙ্গ হতেই তিনি আবার পাথরের মূর্তিতে পরিণত হলেন এবং তার গতি স্তব্ধ হলো|তবে এই খবর সর্বত্র রটে যায় এবং বৃন্দাবনের গোপাল মূর্তি এতদূর হেঁটে এসেছেন শুনে পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে দলে দলে মানুষ ওড়িশার ওই গ্রামে জমায়েত হতে থাকেন। খবর পৌঁছায় সেই বৃদ্ধ ব্রাহ্মণের বাড়িতেও। তিনিও সদলবলে সেই গ্রামে উপস্থিত হন।সবাই নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং ব্রাহ্মণকন্যার সঙ্গে সেই যুবকের বিয়ের আয়োজন করেন|দ্রুত এই অলৌকিক ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই গোপালের নামে ওই স্থানে একটি মন্দির বানিয়ে দেওয়া হয়। মন্দিরে স্থাপিত সেই গোপালের বিগ্রহ পরিচিত হয় ‘সাক্ষী গোপাল’ নামে|জন্ম হয় সাক্ষী গোপালের নামে প্রচলিত বিখ্যাত প্রবাদ|আগামী পর্বে আবার কোনো পৌরাণিক বা শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে ফিরে আসবো আপনাদের সামনে পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
মন্দির রহস্য – কনক দুর্গার মন্দির
বহু মন্দিরের ইতিহাস ও অলৌকিক বৃত্তান্ত আপনাদের আগেই বলেছি ধরবাহিক লেখনী গুলির মাধ্যমে| তবে বাংলায় ঐতিহাসিক তথা প্রাচীন মন্দিরের সংখ্যা এতোই বেশি যে সহজে শেষ হওয়ার নয়|আজ বলবো ঝাড় গ্রামের কনক দূর্গা মন্দিরের কথা|চিল্কিগড়ের কনক দুর্গা মন্দির বাংলার প্রাচীন দূর্গা মন্দির গুলির মধ্যে অন্যতম। শোনা যায় এই মন্দিরটি প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো। আজও জশ্রুতি আছে যে একসময় নরবলি হত।যদিও তার ঐতিহাসিক তথ্য প্রমান জোগাড় করা মুশকিল তাই এক্ষেত্রে বিশ্বাস টাই সব|এখনও মোষ বা পাঁঠা বলি হয় বিশেষ রীতি মেনে।বলা হয় এই মন্দিরে নিজেই নিজের ভোগ রান্না করেন দেবী।ভোগের ক্ষেত্রে এখানে বেশ বৈচিত্র এবং অদ্ভুত কিছু রীতি আছে|পুজোর চারদিন দুর্গাদেবীকে হাঁসের ডিম, মাছ পোড়া, শাক ভাজা, পান্তা ভাত দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়। অষ্টমীর রাতে মন্দিরে পাতকুয়োর সামনে পাঠা বলি দিয়ে দেবীকে নিবেদন করা হয়। শোনা যায় নিশি রাতে সেই বলি হয়৷ নবমীর অন্নভোগের আগে সেই বলির মাংস নতুন মাটির হাড়িতে সেদ্ধ করে রাখা হয়।নবমীর যজ্ঞের পরে হাড়িতে রাখা বলির মাংস রান্না করে কনক দূর্গার ভোগ নিবেদন করা হয়। একেই পুরোহিতরা বিরাম ভোগ বলেন। অষ্টমী পুজোর পরই রাতের বেলায় জঙ্গলের গভীরে বলির আয়োজন হয়। তিথি-নক্ষত্র মেনেই বলি দেওয়া হয় আর সেটি নিয়ে আসা হয় রাজবাড়ির বিশেষ কক্ষে। এই পুজোতে বাইরের কোনও মানুষের প্রবেশ অধিকার থাকে না। শুধুমাত্র পুরোহিত এবং কয়েকজন সহায়ক থাকেন যাঁরা বংশ পরম্পরা ধরে এই কাজ করে আসছেন।শোনা যায় চিল্কিগড়ে মত্তগজ রাজবংশের গোপীনাথ সিং এই পুজোর প্রতিষ্ঠা করেন। মত্তগজ বংশের পর চিল্কিগড়ের আসেন ধবলদেও সিংহ। তাঁরও আগে ছিলেন ত্রিপাঠি বংশের রাজারা। এঁরা সকলেই ছিলেন শক্তির উপাসক। চিল্কিগড় এলাকা ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ণ। আজও কান পাতলে শোনা যায় অদ্ভুত সব গা ছম ছম করা কিংবদন্তী শোনা যায়, চিল্কিগড়ের প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন যে মন্দিরটি রয়েছে তার পশ্চিমপ্রান্তের এক পরিত্যাক্ত দালানে নাকি নরবলি হত। সেই রক্তেই নাকি পূজিতা হতেন কনকদূর্গা।প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এই মন্দির। ঝাড়গ্রাম থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার ডুলুং নদীর তীরে গভীর জঙ্গলে অবস্থিত । এখানকার দেবী অশ্বারোহিনী চতুর্ভূজা। ১৯৬০ সালে আসল মূর্তিটি চুরি হয়ে যায়৷ ১৯৯৬ সালে গোপীনাথের বংশধররা অষ্টধাতুর কনকদুর্গার একটি রেপ্লিকা মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত করেন৷ মন্দির লাগোয়া এলাকায় বিশাল জঙ্গল। পর্যটনের জন্য বেশ ভালো।বহু দুর দুরন্ত থেকে মানুষ আসেন দেবীর দর্শন করতে|ফিরে আসবো অন্য কোনো মন্দিরের রহস্য নিয়ে|আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
মন্দির রহস্য – দেবী ছিন্নমস্তার মন্দির
ভারতের প্রাচীন রহস্যময় মন্দিরগুলি নিয়ে বিগত দিনে বেশ কয়েকটি লেখা লিখেছি |সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আজ একটি বহু প্রাচীন ছিন্ন মস্তা দেবীর মন্দিরের কথা আপনাদের বলবো|মন্দিরটি অবস্থিত আমাদেরর প্রতিবেশী রাজ্য খন্ডে|বিখ্যাত পরিচক সত্যজিৎ রায়ের ছিন্নমস্তার অভিশাপ গল্পে এই মন্দিরের উল্লেখ আছে যা নিয়ে পরে চলচ্চিত্র ও হয়েছে|ছিন্ন মস্তা মন্দিরটি ৬০০০ বছরের পুরানো|মন্দিরের ভিতরে ছিন্নমস্তিকার দেবীর মূর্তিটি দেখতে আশ্চর্যজনক। পদ্মফুলের উপর তাঁর মূর্তি স্থাপিত। তাঁর তিনটি চোখ রয়েছে। ডান হাতে তলোয়ার আর বাম হাতে দেবী তাঁর নিজের বিচ্ছিন্ন মস্তক ধারণ করছেন। বিপরীত ভঙ্গিতে কামদেব এবং রতি দেবীর পায়ের নীচে শয়ন অবস্থায় উপবিষ্ট। মা দেবীর চুল খোলা ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তিনি একটি সর্প মালা এবং একটি মুণ্ড মালা পরে রয়েছেন। দেবী মা এখানে অলংকারে সুশোভিত। দিগম্বরী রূপেদেবী ছিন্ন মস্তার সুবিশাল আকার বিরাজমান।মন্দিরটি তার তান্ত্রিক স্থাপত্যশৈলীর জন্যও বিখ্যাত। বহু দুর থেকে তান্ত্রিক জ্যোতিষী ও সাধারণ ভক্তরা আসেন মায়ের কাছে কারন জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতে দেবী ছিন্নমস্তাকে রাহু গ্রহের ইষ্ট দেবী হিসেবে দেখা হয়|তার পুজো দিয়ে রাহু কে সন্তুষ্ট করা হয়|পুরান অনুসারে এক বার দেবী আদ্যাশক্তি তাঁর সখী দের সঙ্গে গঙ্গা নদীতে স্নান করতে গেলে তাঁর দুই সখী সেখানে কিছু ক্ষণ কাটানোর পর ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েন। দুজনের ক্ষুধা এতই প্রবল যে, দু’জনের গায়ের রং পরিবর্তিত হতে শুরু করে এবং তা কালো হয়ে যায়। তখন তারা দেবী মায়ের কাছে খাবারের জন্য দাবি করতে থাকে। মা তাকে ধৈর্য ধরতে বলল। কিন্তু তারা ক্ষুধার জ্বালায় জ্বলছিল। বন্ধুদের অবস্থা দেখে নিজের মাথা কেটে ফেলেন দেবী মা। তাঁর শিরশ্ছেদ করার সময় নিজের মাথা বাম হাতে পড়ে যায়। সেখান থেকে রক্তের তিনটি স্রোত বইতে শুরু করে। দেবী মা নিজের দুই সঙ্গিনীর পান করার জন্য দু’টি স্রোত প্রদান করেন এবং তিনি নিজেই অবশিষ্ট স্রোত থেকে রক্ত পান করতে শুরু করেছিলেন।তার এই রূপই ছিন্নমস্তা নামে পরিচিত|শত্রুদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করার জন্য ছিন্নমস্তা দেবীর বিশেষ পূজা করা হয়। এখানে মায়ের রূপ উগ্র।তন্ত্র মতে পুজো হয়|ভক্তরা দেবী ছিন্নমস্তিকার কাছে বলি দান এবং তন্ত্র সাধনার মাধ্যমে নিজেদের মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন।ফিরে আসবো এমনই কোনো রহস্যময় প্রাচীন মন্দিরের কথা নিয়ে|আগামী পর্বে |পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – ব্রহ্মাস্ত্র রহস্য
বর্তমানে একটি চলচিত্রের কল্যানে ব্রহ্মস্ত্র শব্দটি বেশ জনপ্রিয়|কিন্তু কি ওই ব্রহ্মস্ত্র তা জানতে গেলে আমাদের পুরান ও রামায়ন মহাভারত পড়তে হবে|জানতে হবে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের কথা|দীর্ঘ ১৮ দিন ধরে চলেছিল এই যুদ্ধ এবং যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় ১৬০ কোটি মানুষ। এই বিপুল সংখ্যক প্রাণহানি কোনও সাধারণ অস্ত্রে কী ভাবে সম্ভব, সেই প্রশ্ন বার বার|মহাভারতে নানা রকম পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছিল বলে দাবি করেন অনেকেই ব্রহ্মস্ত্র সহ মহাভারতে উল্লেখিত দৈব মারণ অস্ত্র নিয়ে আজ আলোচনা করবো|আধুনিক ঐতিহাসিকদের মতে মহাভারত রচিত হয়েছিল ১০০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে। পঞ্চপাণ্ডবের সঙ্গে ভয়ানক যুদ্ধে সামিল হয়েছিলেন ১০০ কৌরব-ভ্রাতা। মহাভারতের বর্ণনায় এমন বেশ কয়েকটি অস্ত্রের বর্ণনা পাওয়া যায়, যেগুলি তাদের ব্যাবহারে ও মারণ ক্ষমতায় পরমাণুঅস্ত্রের মতো। কিছু অস্ত্র এখনকার দিনের পরমাণু অস্ত্রের কথা মনে করিয়ে দেয় সহজেই।মহাভারত-সহ পুরাণে একাধিক জায়গায় ব্রহ্মাস্ত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়। অন্যান্য অস্ত্রের তুলনায় এর মারণ ক্ষমতা অনেক বেশি। ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালাতে সক্ষম বলেই এই অস্ত্র ব্যবহারে সেই সময়েও নিষেধাজ্ঞা ছিল। আর সমস্ত অস্ত্র ব্যর্থ হলে শুধুমাত্র অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটাতেই ব্রহ্মস্ত্র প্রয়োগ করা যাবে বলে নির্দেশ ছিল।যে লক্ষ্যের প্রতি ব্রহ্মাস্ত্র প্রয়োগ করা হবে, তা সম্পূর্ণ রূপে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। এই অস্ত্র আমাদের শুধুমাত্র পরমাণু বোমার কথাই মনে করায়। বিশেষজ্ঞদের মতে ব্রহ্মাস্ত্র আসলে বহু পরমাণু বোমার সম্মীলিত শক্তি। এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা স্বয়ং এই অস্ত্র নির্মাণ করেছিলেন। এই অস্ত্র ব্যবহার করার ক্ষমতা হাতে গোণা কয়েকজনের কাছেই ছিল। কারণ ব্রহ্মাস্ত্রের অধিকারী হতে হলে ব্রহ্মাকে খুশি করা প্রয়োজন।ব্রহ্মশীর্ষ অস্ত্রর উল্লেখ ও আছে কিছু গ্রন্থে প্রাচীণ পুঁথি অনুসারে ব্রহ্মাস্ত্রের থেকেও চারগুণ বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন ছিল ব্রহ্মশীর্ষ অস্ত্র। ব্রহ্মার চার মুখ থেকে নির্গত শক্তির সমান ক্ষমতা ধরে এই অস্ত্র। ব্রহ্মশীর্ষ অস্ত্র মাত্র একবার প্রয়োগ করেই সমস্ত সৃষ্টিকে মুহূর্তের মধ্যে ছাইয়ে পরিণত করা সম্ভব। এমনকি ব্রহ্মশীর্ষ অস্ত্র প্রয়োগ করলে স্বর্গলোকও এর হাত থেকে রেহাই পেত না। এই অস্ত্র প্রয়োগ করা হলে উল্কা-বৃষ্টি হতো বলে জানা যায়|নারায়ণী অস্ত্র নামে আরো একটি অস্ত্র ছিলো মনে করা হয় রামায়ণে শুধুমাত্র রাম এবং মহাভারতে কেবল শ্রীকৃষ্ণ, দ্রোণ ও অশ্বত্থামা এই অস্ত্রের অধিকারী ছিলেন। অশ্বত্থামা কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পাণ্ডবদের উপর এই অস্ত্র প্রয়োগ করেন। তখন সমস্ত ধরনের অস্ত্র একসঙ্গে আকাশ থেকে ঝরে পড়তে শুরু করে। কিন্তু কৃষ্ণ জানতেন কী ভাবে এই অস্ত্রকে শান্ত করতে হয়। তিনি পাণ্ডবপক্ষের সবাইকে বলেন সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের অস্ত্র ত্যাগ করে মাটিয়ে শুয়ে সম্পূর্ণ ভাবে নারায়ণী অস্ত্রের সামনে আত্মসমর্পণ করতে। তার ফলেই পাণ্ডবরা এই মারণ অস্ত্রের আঘাত থেকে রক্ষা পান।ব্রহ্মানন্দ অস্ত্র অন্যতম শক্তিশালী অস্ত্র ছিলো যার মহাভারতে উল্লেখ পাওয়া যায় মহাভারতে।বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার পাঁচ মুখের সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে এই মারণাস্ত্রের। সমগ্র সৌরজগতের শক্তি নিহিত ব্রহ্মানন্দ অস্ত্রের মধ্যে। বশিষ্ঠ মুনি বিশ্বামিত্রের উদ্দেশ্যে একবার এই অস্ত্র প্রয়োগ করেছিলেন বলে পুরানে উল্লেখ আছে|সব শেষে বলবো পশুপতাস্ত্রর কথা|পশুপতাস্ত্র হল পশুপতি অর্থাত্ শিবের অস্ত্র। মহাদেবের কাছ থেকেই এই অস্ত্র লাভ করেন পঞ্চপাণ্ডব অর্জুন। মহাদেবের এই অস্ত্র ভয়ংকর শক্তিশালী এবং উল্লেখযোগ্য বিষয় হল চোখের দৃষ্টির মাধ্যেমেই এই অস্ত্র চালনা করা সম্ভব। তবে কেউ এই অস্ত্র তাঁর চেয়ে দুর্বল কারোর প্রতি নিক্ষেপ করতে পারবেন না। গোটা সৃষ্টি ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে পশুপতাস্ত্র। মহাভারতে কেবলমাত্র অর্জুন এবং রামায়ণে কেবল মাত্র যোদ্ধা ইন্দ্রজিত্ পশুপতাস্ত্র ব্যবহারের অধিকারী ছিলেন।যথা সময়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে|চলবে পৌরাণিক ও আধ্যাত্মিক বিষয় নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
শ্রী কৃষ্ণ অবতার নন কেনো
বিষ্ণুর ১০ অবতার যুগে যুগে পাপীদের বিনাশ ঘটিয়ে সাধুদের পরিত্রাণ দিতে এই ধরায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তাদের কীর্তি আগেই আপনাদের বলেছি আবার এই অবতারদের মধ্যেও দু’রকম শ্রেণী রয়েছে। বিষ্ণুর অংশাবতার এবং বিষ্ণুর পূর্ণাবতার।গীতাতে একাধিক স্লোকে কৃষ্ণ নিজেকে ভগবান বলে উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, তিনিই শুরু আবার তিনিই শেষ। তাঁর ইচ্ছেতেই জগতের সবকিছু। সবাই তাঁর-ই অংশ। আর কোনও অবতারকে এমন কথা বলতে শোনা যায় নিতাই বাকি ৯ অবতারের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলা যায়, তারা অবতার কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ অবতার নন। তিনি স্বয়ং পরমেশ্বর ভগবান।যে সকল অবতারেরা বিষ্ণুর দেহের অংশ থেকে থেকে সৃষ্ট তাঁরা অংশাবতার। আর যে সকল ক্ষেত্রে বিষ্ণু স্বয়ং জন্ম নিয়েছেন, সেক্ষেত্রে তাঁর সেই জন্মগুলিকে বলা হয় পূর্ণাবতার।সেনিয়ে আগামী দিনে বলবো|আজ বলবো শ্রী কৃষ্ণ অবতার নন কেনো|শ্রীকৃষ্ণ সবথেকে আলাদা। বলা হয়, অবতার নয়। শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান।কেন শ্রীকৃষ্ণ সকলের থেকে আলাদা কেনো তা তাঁর কার্যকলাপেই প্রমাণিত হয়, তিনি বাকি অবতারের থেকে আলাদা কারন বাকি অবতারদের কোনও একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল। সেই লক্ষ্য পূরণ করতেই তাঁরা অবতীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের কোনও নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য ছিল না। বরং একাধিক লক্ষ্য ছিল। বা এভাবেও বলা যায়, তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ধর্ম সংস্থাপন। তার জন্য তিনি যা যা করতে হয়, করেছেন।কংস বধ, শিশুপাল বধ, দ্রৌপদীর লজ্জা নিবারণ এবং সর্বোপরি অস্ত্র না ধরেও কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পরিচালনা। এমন কাজ তো কেবলমাত্র স্বয়ং পরমেশ্বর ভগবানই করে থাকেন। আর শ্রীকৃষ্ণ নিজেও স্বীকার করে নিয়েছেন, তিনি স্বয়ং ভগবান। শুধু অর্জুনকে নয়, একাধিকবার কৃষ্ণ একাধিক জনকে নিজের বিশ্বরূপ দর্শন করিয়েছেন।বিষ্ণুর বাকি অবতারের ক্ষেত্রে কিন্তু এমনটা কখনও দেখা যায়নি। তাঁরা কখনওই নিজেদের ভগবান বা অবতার বলে স্বীকার করেননি। এমনকি রাম তো প্রথমে জানতেনই না যে তিনি অবতার। অনেক পরে জানতে পেরেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ কিন্তু মোটেই তেমন নন। সেই বাল্যকাল থেকেই পূতনা বধ, কালীয়নাগ দমন, গোবর্ধন পর্বত ধারণ ইত্যাদি একাধিক লীলার মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি ভগবান। আর শেষে অর্জুনকে ভগবত গীতা শোনালেন।শ্রী কৃষ্ণ কে জানতে হলে গীতা জানতে হবে পাশাপাশি পারতে হবে মহাভারতে|তাছাড়া ভাগবত পুরান পাঠ করতে হবে|ফিরে আসবো আগামী পর্বে|চলবে পৌরাণিক ও আধ্যাত্মিক বিষয় নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
মন্দির রহস্য – ঘড়ি বাবার মন্দির
ভক্তরা নিজের মনোবাঞ্ছা পূরণ করতে মন্দিরে আসেন ও নানা জিনিস মানত করেন কেউ দেব মূর্তির সামনে নানা সুস্বাদু খাবার নিবেদন করেন। কেউ গরিবের সেবা করে ঈশ্বরকে তুষ্ট করার চেষ্টা করেন। কেউ আবার প্রচুর সোনাদানা, রত্ন, অর্থ দিয়ে দেবতাকে সন্তুষ্ট করতে চান।যেমন তিরুপতি মন্দিরে অনেকে কেশ দান করেন বা পদ্মনাভ মন্দিরে এককালে সোনাদানা দান করা হতো|শুনলে অবাক হবেন বারাণসীর জৌনপুরে রয়েছেন একে অদ্ভুত মন্দির যেখানে মন্দিরে ভগবানের পুজোতে নিবেদন করা হয় ঘড়ি। ভক্তদের বিশ্বাস, সেই মন্দিরের দেবতাকে ঘড়ি নিবেদন করলে জীবনে ভোলা সময় দ্রুত আসবে এবং দুঃসময় চলে যাবে|জৌনপুরের এই মন্দিরটি ব্রহ্ম বাবা নামেও পরিচিত তবে মন্দিরের অনন্য নৈবেদ্যগুলির কারণে, আজ এই মন্দিরটি ‘ঘড়ি বাবা মন্দির’ নামে বিখ্যাত|এই মন্দিরের প্রধান বৈশিষ্ট্যই হল ঘড়ি নিবেদন। লোকে ফুল, মালা ইত্যাদি না দিয়ে মন্দিরে ঘড়ি দান করেন। স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে এই প্রথা চলে আসছে। ব্রহ্ম বাবা বা ঘড়ি বাবার মন্দিরে এই অদ্ভুত ঘড়ি নিবেদনের প্রথা চালু হওয়ার নেপথ্যে একটি অলৌকিক ঘটনা আছে। শোনা যায় প্রায় ত্রিশ বছর আগে একবার এক ব্যক্তির খুব ভালো ড্রাইভার হয়ার ইচ্ছা জাগে। সেই মনোবাঞ্ছাপুরণ করতে তিনি ব্রহ্ম বাবা মন্দিরে যান এবং মনোবাঞ্ছা পূরণ করতে মন্দিরে মানত করেন ওই ব্যক্তি।মনের ইচ্ছা কিছুদিনের মধ্যেই পূরণ হয় তারপর সেই ব্যক্তি ব্রহ্ম বাবার মন্দিরে একটি ঘড়ি নিবেদন করেন।সেই ঘটনা মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। তারপর থেকেই ভক্তদের বিশ্বাস হযে যায় যে ব্রহ্ম বাবা মন্দিরে ঘড়ি নিবেদন করলে মনোবাঞ্ছা পূরণ হয়। মানত পূরণ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা মন্দিরে ঘড়ি দিতে আসেন|মন্দিরের বাইরের গাছে, সবাই তাঁদের ইচ্ছা পূরণের জন্য একটি ঘড়ি নিবেদন করেন।মন্দির চত্বরে জমা হয়েছে ঘড়ির স্তুপ এবং আশ্চর্য জনক ভাবে ঘড়ি বাবার মন্দিরে নিবেদন করা ওই ঘড়ি আজও কেউ চুরি করে না। হয়তো ঘড়ি বাবার প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধার কারনে সব ঘড়ি সুরক্ষিত থাকে এখানে|যথা সময়ে পরবর্তী পর্বে আবার ফিরে আসবো নতুন কোনো মন্দিরের রহস্য নিয়ে|সঙ্গে নিয়ে পৌরানিক ও অলৌকিক সব ঘটনার উল্লেখ|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|