Home Blog Page 110

দশ মহাবিদ্যা – দেবী কালী

সামনেই কৌশিকী অমাবস্যা আর কৌশিকী অমাবস্যা মানেই শক্তি সাধনার দুর্লভ যোগ এই আদ্যা শক্তি আরো অনেক গুলি রূপে প্রকাশিত হয়েছে যারা মধ্যে অন্যতম দশ মহাবিদ্যা রূপ|দেবীর এই দশ মহাবিদ্যা প্রথম রূপ হল কালী।শুম্ভ ও নিশুম্ভ বরে অজেয় হওয়ায় তাদের অত্যাচারে দেবগণের প্রার্থনায় দেবী দুর্গার ভ্রকুটি থেকে বেরিয়ে এলেন কালী। যার চার হাতের ডান দিকে হাতে খঙ্গ ও চন্দ্রহাস। বাম দিকের হাতে চর্ম ও পাশ। গলায় নরমুণ্ড, দেহ পশু চর্ম আবৃত। বড় বড় দাঁত,রক্ত চক্ষু ও বিস্তৃত মুখ, স্থুল কর্ণ। দেবীর বাহন কবন্ধ বা মস্তক বিহিন দেহ।শাস্ত্রে দেবীকে শান্ত ও উগ্র দুই রূপেই বর্ণনা করা আছে।শাস্ত্রে বলা আছে, কালী দুর্গার ললাট থেকে উৎপন্না হয়েছে, এই বাক্যের তাৎপর্য যে, ললাটের সংকোচনেই ক্রোধভাব প্রকাশিত হয় বলে সদা ক্রোধান্বিতা,রণরঙ্গিনী করাল-বদনা কালীকে ললাট-সম্ভবা বলা হয়েছে। বাস্তবিক কালীও দুর্গার রূপান্তর বিশেষ। ক্রোধাবস্থাপন্না শক্তিকেই কালী বলা হয়েছে।কালী নাম ও এক রহস্য, কাল-এর স্ত্রীলিঙ্গ হল কালী। আর শিব-কেও কাল নামে ডাকা হয়। কাল মানে অনন্ত সময়। এই সময়েরই স্ত্রীলিঙ্গ বোধক হচ্ছে কালী। শাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে যে কাল সর্বজীবকে গ্রাস করে, সেই কালকে আবার যিনি গ্রাস করেন-তাঁকেও কালী বলা হয়।বাঙালির ঘরে ঘরে কালী পুজোর প্রচলন শুরু হয়তন্ত্র সাধক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগিশ এর মাধ্যমেকৃষ্ণানন্দ একবার মহামায়াকে বললেন, ‘‘মা, তোমার যে রূপের পূজা আমি করব আমাকে সে রূপ দেখিয়ে দাও’’। তখন মা বললেন, ‘‘যে ভঙ্গীতে আমার এই বিগ্রহের পূজা তোমার দ্বারা প্রচলিত হবে, তা আমি মানবদেহের মাধ্যমেই দেখিয়ে দেব। এই রাত শেষে সর্ব প্রথম যে নারীকে যে রূপে যে ভঙ্গীতে দেখবে, ঐরকম মূর্তিতে আমার পূজার প্রচলন করবে। মায়ের নির্দেশমত পরদিন ভোরে কৃষ্ণানন্দ গঙ্গার দিকে কিছু দূর অগ্রসর হওয়ার পর এক শ্যামাঙ্গিনী বালিকাকে দেখতে পান। ওই বালিকা তখন অপরূপ ভঙ্গীতে কুটিরের বারান্দার উপরে এবং বামপদ ভূতলে দিয়ে দাড়িয়ে ছিলেন। তিনি একতাল গোময়যুক্ত ডান হাত এমনভাবে উচু করে ধরেছিলেন যা দেখে বরাভয় মুদ্রার মত মনে হয়েছিল। বাম হাত দিয়ে তিনি কুটিরের দেয়ালে মাটির প্রলেপ দিচ্ছিলেন। তিনি ক্ষুদ্র পরিসরে একটি শাড়ি পড়ে ছিলেন। তাই কৃষ্ণানন্দকে দেখে তিনি লজ্জায় জিভ কেটেছিলেন।তাঁর এরকম ভঙ্গী দেখে কৃষ্ণানন্দের মায়ের প্রত্যাদেশের কথা মনে পড়ে গেল। তারপরই তিনি মায়ের ঐরকম মূর্তি রচনা করে পূজার প্রচলন করলেন।ফিরে আসবো দশ মহাবিদ্যা, তন্ত্র এবং কৌশিকী অমাবস্যা নিয়ে আরো অনেক আলোচনা নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় পতাকার ইতিহাস

আজ ভারতের স্বাধীনতা দিবস|এই বছর স্বাধীনতা দিবসে একটু আলাদা কারন এবছর কেন্দ্র সরকার প্রতিটি বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন কে উৎসাহ দিতে একটি কর্মসূচি গ্রহন করছে যারা ‘ হার ঘর তিরঙ্গা ‘ নিঃসন্দেহে অভিনব প্রয়াস|আমাদের তিরঙ্গা জাতীয় পতাকার ও একটা ইতিহাস আছে|এই পতাকা সৃষ্টির সাথে জড়িয়ে আছে অনেক ঘটনা ও অনেক গল্প|ভারতের জাতীয় পতাকার রূপটি অতি সুন্দর এবং অর্থবহ|এই পতাকারা কেন্দ্রে চব্বিশটি দণ্ডযুক্ত নীল “অশোকচক্র” সহ গেরুয়া, সাদা ও সবুজ আনুভূমিক আয়তাকার ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা। ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই গণপরিষদের একটি অধিবেশনে এই পতাকার বর্তমান রূপটি ভারত অধিরাজ্যের সরকারি পতাকা হিসেবে গৃহীত হয়েছিল|স্বাধীনতারা কিছু বছর আগে আগে ১৯১৬ সালে অধুনা অন্ধ্রপ্রদেশের মছলিপত্তনম শহরের নিকটস্থ ভাটলাপেনামারু গ্রামের বাসিন্দা পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া একটি সাধারণ জাতীয় পতাকার রূপদানের চেষ্টা করেন|অনেক ঘটনা ও টানা পোড়েনের পর তিনিই হন দেশের জাতীয় পতাকার স্রষ্টা বা রূপকার|ভেঙ্কাইয়া এই পতাকার জন্য মহাত্মা গান্ধীর অনুমোদন চাইতে গেলে গান্ধীজি তাঁকে “ভারতের মূর্তপ্রতীক ও দেশের সকল অমঙ্গলহারী” চরকার চিত্র পতাকায় যোগ করার পরামর্শ দেন গান্ধীজি|যদিও তা বাস্তবায়িত হয়নি|পরবর্তীকালে ১৯৩১ সালের করাচি কংগ্রেস অধিবেশনে পতাকা সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রস্তাবটি পাস হয়। পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া অঙ্কিত একটি ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা গৃহীত হয়। এই পতাকায় আনুভূমিক গেরুয়া, সাদা ও সবুজের মধ্যস্থলে একটি চরকা খচিত ছিল। গেরুয়া ত্যাগ; সাদা সত্য ও শান্তি এবং সবুজ বিশ্বাস ও প্রগতির প্রতীক তথা চরকা ভারতের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও দেশবাসীর শ্রমশীলতার প্রতীক হিসেবে গৃহীত হয়।ওই বছরই ২ রা এপ্রিল কংগ্রেস কর্মসমিতি একটি সাত সদস্যের পতাকা সমিতি গঠন করে। পতাকায় ব্যবহৃত তিনটি রং নিয়ে আপত্তি আছে ওঠে কারণ এই রংগুলি সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে চিহ্নিত এই মর্মে একটি প্রস্তাব পাস হয়। পতাকার রঙ আবার পরিবর্তন করা হয়|আবার সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হচ্ছে এই অভিযোগের ভিত্তিতে পতাকার এই রঙ বাতিল করা হয়|স্বাধীনতা প্রাপ্তির কয়েকদিন পূর্বে ভারতের জাতীয় পতাকার বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য গণপরিষদ স্থাপিত হয়। গণপরিষদ রাজেন্দ্র প্রসাদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। এই কমিটির সদস্যরা ছিলেন মৌলানা আবুল কালাম আজাদ, সরোজিনী নাইডু, চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী, কে এম মুন্সি ও বি আর আম্বেডকর। পতাকা কমিটি স্থাপিত হয় ১৯৪৭ সালের ২৩ জুন।এই কমিটি পতাকা নিয়ে আলোচনা শুরু করে। তিন সপ্তাহ পরে ১৯৪৭ সালের ১৪ জুলাই তাঁরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পতাকাটি উপযুক্ত সংস্কারের পর সব দল ও সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণীয় করে তুলে জাতীয় পতাকা হিসেবে গৃহীত হবে। পরে এমন প্রস্তাবও গৃহীত হয় যে ভারতের জাতীয় পতাকার কোনো সাম্প্রদায়িক গুরুত্ব থাকবে না। চরকার পরিবর্তে সারনাথ স্তম্ভ থেকে ধর্মচক্র-টি গৃহীত হয় পতাকায়।এই পতাকাই ভারতের জাতীয় পতাকা রূপে স্বীকৃত হয় এবং ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট স্বাধীন ভারতে প্রথমবার এই পতাকাটি উত্তোলিত হয়|ভারতের জাতীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সবারই জেনে রাখা দরকার| জাতীয় পতাকা ক্ষতিগ্রস্থ হলে বা নোংরা হলে, এটিকে ফেলে দেওয়া বা অমর্যাদার সহিত নষ্ট করা যায় না।রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পতাকাকে সঠিক ভাবে বিদায় জানানো হয় বা সংরক্ষন করাই নিয়ম|স্বাধীনতা দিবস পালন করুন এবং অবশ্যই জাতীয় পতাকাকে যথাযত সন্মান দিন|আমার সকল পাঠক ও অনুরাগীদের জানাই স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|জয় হিন্দ|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

জ্যোতিষ শাস্ত্র ও দশ মহাবিদ্যা

সামনেই কৌশিকী অমাবস্যা জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতে যত গুলি অমাবস্যা তিথিতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয় তার মধ্যে অন্যতম এই কৌশিকী অমাবস্যা|তন্ত্র শাস্ত্র এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রর সঙ্গে আধ্যাত্বিকতার যে সম্পর্ক তার রহস্য লুকিয়ে রয়েছে দশ মহাবিদ্যারা মধ্যে|আজকের পর্বে জানাবো দশ মহাবিদ্যার সৃষ্টির কথা ও আগামী পর্ব গুলিতে দশ মহাবিদ্যার রূপ গুলি নিয়ে আলোচনা করবো|শাস্ত্রে, বিশেষ করে কালিকা পুরাণ,দেবী পুরাণ ও মৎস্য পূরানে বর্ণিত আছে, সতীর দেহত্যাগে মহাদেব বিলাপ করতে করতে অচেতন হয়ে পড়েন। তখন নারদ এসে বীণা বাজালে শিবের জ্ঞান ফেরে। শিব বলেন যে, তিনি অচেতন অবস্থায় এত ক্ষণ সতীকে দর্শন করছিলেন। সতী কোথায় তা নারদ জানতে চাইলেন তখন মহাদেব মহাকালের মধ্যে মেষ মীন এই রাশি গুলির মধ্যে দশ মহাবিদ্যার অবস্থান দেখিয়ে দেন|এখান থেকে জ্যোতিষ শাস্ত্র এবং দশ মহাবিদ্যার সম্পর্কে সূত্রপাত বলা যায়|আবার অন্য একটি ব্যাখ্যা অনুসারে পিতা দক্ষর মহা যজ্ঞের খবর পেয়ে দেবী পার্বতী বিনা নিমন্ত্রণে সেখানে যাওয়ার জন্য স্বামীর অনুমতি চান। কিন্তু মহাদেবের অনুমতি না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এরপর তিনি তাঁর ক্ষমতা দেখানোর জন্য স্বমূর্তি ত্যাগ করেন ও শিবের ভয় উৎপাদন করার জন্য দেবী ভগবতী দশদিকে দশমূর্তিতে আবির্ভূত হয়ে মহাদেবের পথ অবরুদ্ধ করেন|এই দশ মূর্তিকে দশমহাবিদ্যা বলা হয়|প্রতিটি গ্রহের ইষ্ঠ দেবী দশ মহাবিদ্যার একটি রূপ জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে কোন দেবী কোন গ্রহের ইষ্ঠ দেবী আসুন দেখে নেই ১ .শনিগ্রহের ইষ্টদেবী কালীকা২. গুরুগ্রহ বা বৃহস্পতির ইষ্টদেবী তারা৩. বুধগ্রহের ইষ্টদেবী ষোড়শী৪. চন্দ্রের ইষ্টদেবী ভুবনেশ্বরী৫. ভৈরবী সময় ও লগ্নের নিয়ন্ত্রণ করে৬. রাহুগ্রহের ইষ্টদেবী প্রচণ্ড চন্ডিকা ছিন্নমস্তা৭. কেতুগ্রহের ইষ্টদেবী ধূমাবতী৮. মঙ্গলগ্রহের ইষ্টদেবী বগলামুখী৯. সূর্যগ্রহের ইষ্টদেবী মাতঙ্গী১০. শুক্রগ্রহের ইষ্টদেবী কমলা বা কমলেকামিনীতন্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনেরা ক্ষেত্রে এই দশ মহাবিদ্যা রূপ গুলির গুরুত্ব অপরিসীম এবং তিথি নক্ষত্রর বিচারে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সময় কৌশিকী অমাবস্যা|আগামী পর্ব গুলিতে দশ মহাবিদ্যা ও কৌশিকী অমাবস্যা নিয়ে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা হবে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

তন্ত্র শাস্ত্র ও কৌশিকী অমাবস্যা

সামনেই কৌশিকী অমাবস্যা তন্ত্র জগতের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ তিথি|তারাপীঠে কৌশিকী অমাবস্যা তিথি তারানিশি রূপে পালিত হয়|আজ আপনাদের কৌশিকী অমাবস্যা ও তারাপীঠ এবং তন্ত্র শাস্ত্রের সম্পর্ক নিয়ে বলবো|তারা পীঠ ও দেবী তারার সাথে এই কৌশিকী অমাবস্যা ওতপ্রোত ভাবে জড়িত তার কারন দশ মহাবিদ্যার অন্যতম মা তারা এই তিথি তে মর্ত ধামে আবির্ভূত হন|তারাপীঠ শ্মশানে জ্যোতিরূপে বাস করেন মা তারা|কৌশিকী অমাবস্যায় এই স্থানেই সাধনা করে সিদ্ধি লাভ করেন বশিষ্ঠ দেব এবং বাবা ক্ষেপা|প্রতি বছর কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে তারাপীঠে এই উপলক্ষে বিশাল উত্‍সব হয়|দেশ বিদেশ থেকে তান্ত্রিকরা আসেন এই পবিত্র তিথিতে তন্ত্র ক্রিয়া সম্পন্ন করে নিযেদের কার্য সিদ্ধি করতে|তন্ত্রে কৌশিকী অমাবস্যার অর্থ হল তারা নিশি।তন্ত্র মতে অনেক কঠিন ও গুপ্ত সাধনা এই অমাবস্যায় করলে আশাতীত ফল মেলে|তন্ত্র শাস্ত্র মতে সাধনার মাধ্যমে সাধক কুলকুণ্ডলিনী চক্রকে জয় করে ও সীমাহীন ক্ষমতার অধিকার লাভ করে।বৌদ্ধ ও হিন্দু তন্ত্রে এই দিনের এক বিশেষ মাহাত্ম্য আছে। তন্ত্র মতে এই তিথিতে এক বিশেষ মুহূর্তে স্বর্গ ও নরক দুইয়ের দরজা মুহূর্তের জন্য খোলে ও সাধক নিজের ইচ্ছা মতো ধনাত্মক অথবা ঋণাত্মক শক্তি গ্রহন করেন ও সিদ্ধি লাভ করেন|জ্যোতিষ জগতেও এই তিথির আলাদা গুরুত্ব আছে তন্ত্র মতে বা পূজা ও হোম যজ্ঞর মাধ্যমে গ্রহের অশুভ প্রভাব কাটাতে এই এই কৌশিকী অমাবস্যা সব থেকে কার্যকর সময় হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে|মনে করা হয় এই দিন তারাপীঠে পুজো দিলে সকল মনোস্কামনা পুর্ন হয় এবং পুজো দিয়ে দ্বারকা নদীতে স্নান করলে শত জন্মের পুন্যলাভ হয়|শুধু হিন্দু মতে নয়, বৌদ্ধ মতেও তন্ত্র সাধনার জন্য এই দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ|সহজ ব্যাখ্যার কৌশিকী অমাবস্যা অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির জয়কে উদযাপন করার একটি ধর্মীয় উৎসব যা মহাসমারোহে পালিত হয়ে আসছে দেশের শক্তি উপাসকদের দ্বারা যুগ যুগ ধরে|আগামী পর্বে কৌশিকী অমাবস্যা ও তন্ত্র এবং জ্যোতিষ জগতের আরো অনেক তথ্য ও তার ব্যাখ্যা নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরান কথা – দেবী কৌশিকী

আর কিছুদিন পরেই কৌশিকী অমাবস্যা|বছরের যত গুলো অমাবস্যা পালন করা হয়ে থাকে তার মধ্যে কৌশিকী অমাবস্যা একটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ তিথি|আধ্যাত্মিক দৃষ্টি ভঙ্গী থেকে এবং তন্ত্র সাধনার প্রেক্ষাপটে কৌশিকী অমাবস্যার তাৎপর্য অপরিসীম|ইংরেজি ক্যালেন্ডার মতে চলতি মাসের 26 তারিখ পড়েছে এবছরের কৌশিকী অমাবস্যা|আজকের এই বিশেষ পর্বে আসুন জেনে নিই কি এই কৌশিকী অমাবস্যা|কি তার তাৎপর্য|কিএই কৌশিকী অমাবস্যর পৌরাণিক এবং ধর্মীয় ব্যাখ্যা এবং শাস্ত্রে দেবী কৌশিকী সম্পর্কে কি ব্যাখ্যা আছে|শ্রীশ্রীচণ্ডীতে উল্লেখ আছে বলা আছে, পুরাকালে একবার শুম্ভ ও নিশুম্ভ কঠিন সাধনা করে ব্রহ্মাকে তুষ্ট করলে তিনি তাঁদের বর দেন, কোনও পুরুষ তাঁদের বধ করতে পারবেন না৷ শুধু কোনও অ-যোনি সম্ভূত নারী তাঁদের বধ করতে পারবেন। অর্থাৎ এমন এক নারী, যিনি মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম নেননি, তাঁর হাতেই এই দুই অসুর ভাই-এর মৃত্যু হবে|অন্যদিকে পূর্ব জন্মে পার্বতী যখন সতী রূপে দক্ষ যজ্ঞ স্থলে আত্মাহুতি দেন, তার কারণে এই জন্মে ওঁর গাত্র বর্ণ কালো মেঘের মতো। তাই ভোলানাথ তাঁকে কালিকা ডাকতেন। একদিন দানব ভাইদের দ্বারা পীড়িত ক্লান্ত দেবতারা যখন কৈলাশে আশ্রয় নিলেন, শিব সব দেবতাদের সামনেই পার্বতীকে বললেন, “কালিকা তুমি ওদের উদ্ধার করো।” সবার সামনে ‘কালী’ বলে ডাকায় পার্বতী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ, অপমানিত ও ক্রোধিত মনে মানস সরোবরের ধারে কঠিন তপস্যা করলেন।তপস্যান্তে শীতল মানস সরোবরের জলে স্নান করে নিজের দেহের সব কালো পরিত্যাগ করলেন ও পূর্ণিমার চাঁদের মতো গাত্র বর্ণ ধারণ করলেন।দেবীর দেহ হতে নির্গত ওই কালো কোশিকাগুলি থেকে এক অপূর্ব সুন্দর কৃষ্ণবর্ণ দেবীর সৃষ্টি হয়। সেই দেবী হলেন দেবী কৌশিকী|এই কৌশিকী অমাবস্যার তিথিতেই দেবীর উৎপত্তি হয় এবং তিনি শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করেন।তাই দেবীর নাম অনুসারে এই অমাবস্যার নাম কৌশিকীঅমাবস্যা|পুরান গুলিতেও দেবী কৌশিকী সম্পর্কে ও তার আবির্ভাব তিথি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা আছে|মৎস পূরাণ ও মার্কন্ডেয় পূরাণে বলা হয়,অত্যাচারি অসুর দ্বয় শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করতে দেবী পার্বতী সাধনা শুরু করেন। তপস্যার পর, নিজের শ্বেতশুভ্র গায়ের রঙ পরিত্যাগ করে ,উজ্জ্বল কালো বর্ণে ভয়াল রূপ ধারণ করেন দেবী। সেই রূপে দেবী পার্বতী হয়ে ওঠেন ‘কৌশিকী’। আর এই কৌশিকী অমাবস্যার এক বিশেষ কালক্ষণে দেবী বধ করেন শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামের দুই অসুরকে। সেই কালক্ষণকে স্মরণ করেই অনুষ্ঠিত হয় কৌশিকী অমাবস্যার পূজা।আপনাদের জানিয়ে রাখি কৌশিকী অমাবস্যা তিথিতে এবছর আপনাদের মা হৃদয়েস্বরীর মন্দিরে বিশেষ পুজো ও হোম যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে|আগামী পর্ব গুলিতে আবার কৌশিকী অমাবস্যা নিয়ে বলবো|পড়তে থাকুন|ধন্যবাদ|

হৃদয়েশ্বরী মা সর্বমঙ্গলা

আর কিছুদিন পরেই কৌশিকী অমাবস্যা।শাস্ত্র মতে এই অমাবস্যা অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির বিজয় চিহ্নিত করে আবার তন্ত্র মতে কৌশিকী অমাবস্যা তিথিতে যেকোনো গ্রহ দোষ খণ্ডন বা প্রতিকার ধারন অনেক বেশি কার্যকরী হয়|জ্যোতিষ শাস্ত্রে অমাবস্যা মানেই বিশেষ তিথি|যারা মধ্যে কৌশিকী অমাবস্যা ও ফল হারিণী অমাবস্যা খানিকটা এগিয়ে|আপনারা জানেন কয়েক বছর আগে এক ফল হারিনী অমাবস্যার পুন্য তিথিতে আপনাদের হৃদয়েশ্বরী সর্ব মঙ্গলা মন্দিরের দ্বার উন্মুক্ত হয়েছিলো সর্ব সাধারণের জন্যে, যদিও আমি নিজে ব্যাক্তিগত ভাবে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে সেবক এবং উপাসক হিসেবে মা সর্বমঙ্গলা পুজোয় নিয়োজিত রয়েছি|দেবী সর্বমঙ্গলা শক্তিস্বরূপা,তার পুজোয় ভক্তের সার্বিক উন্নতি হয়, মঙ্গল হয় তাই তিনি সর্ব মঙ্গলা, আর আমার ইষ্ট দেবী হৃদয়েশ্বরী মা সর্ব মঙ্গলা অত্যান্ত জাগ্রত ও ভক্তের মনোস্কামনা পুরুন করতে তার কোনো জুড়ি নেই, তার চরনে রাখা প্রত্যেকের মনোস্কামনা তিনি পূর্ণ করেন প্রতিটি বিশেষ তিথিতে তার দরবারে অনুষ্টিত হোম যজ্ঞ ও দোষ খণ্ডন সব দিক দিয়ে সার্থক ও সফল হয়েছে| দেবী সর্বমঙ্গলা অষ্টাদশভূজা সিংহবাহিনী ‘মহিষমর্দিনী’ মহালক্ষীরূপিণী|কষ্টি পাথরে নির্মিত হওয়ায় দেবী মূর্তি স্বাভাবিক ভাবেই ঘোর কৃষ্ণবর্ণের |তাছাড়া তিনি আদ্যা শক্তি মহামায়ার রূপ বিশেষ তাই করল বদনা হওয়াটাই স্বাভাবিক|আমার গৃহমন্দিরে স্থাপিত হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার রূপ সৃষ্টির খেত্রে তার আদি ও প্রাচীনতম প্রচলিত রূপকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে| তিনি দূর্গা ও কালীর সম্মিলিত রূপ|এই ফল হারিনী অমাবস্যায় দেবী ফলহারিনী রূপে বিরাজ করেন ও কর্মফল থেকে মুক্তি দিয়ে তার ভক্তদের মনোস্কামনা পূর্ণ করেন|দেবীর পূজা প্রসঙ্গে বলে রাখি, ফল হারিনী অমাবস্যায়, হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরে পুজো হয় তন্ত্র মতে, শাস্ত্রীয় উপাচার অনুসরণ করে, হোম যজ্ঞ, চন্ডী পাঠ সবাই হয়, এই দিন ভোগ রান্না থেকে শুরু করে প্রসাদ বিতরণ হয় নিষ্ঠার সাথে তবে বলি প্রথার কোনো স্থান নেই মন্দিরে|নিশ্চই আপনারা হয়তো জানেন জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যার প্রতিকার যেমন রত্ন বা কবজ ধারনের মাধ্যমে হয় তেমনি সঠিক পদ্ধতিতে মন্ত্র উচ্চারণ পূজা পাঠ ও হোম যজ্ঞের মাধ্যমে গ্রহদোষ খণ্ডনের মাধ্যমেও হয়|সেক্ষেত্রে হৃদয়েস্বরী সর্ব মঙ্গলা মায়ের মন্দিরে আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা শাস্ত্র মতে পুজো ও হোম যজ্ঞ এবং গ্রহ দোষ খন্ডনের সব ব্যবস্থা থাকবে|গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য আজ আপনাদের জানিয়ে দিই|আজ হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরে নতুন করে পথ চলা শুরু হচ্ছে আমার নতুন গৃহ মন্দিরে|আগামী পর্বে মন্দিরে সংক্রান্ত আরো অনেক তথ্য ও শাস্ত্র সম্মতব্যাখ্যা নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

সর্বমঙ্গলা মন্দির ও রাজা বিক্রমাদিত্য

আজ আপনাদের এক প্রাচীন সর্বমঙ্গলা মন্দিরের কথা বলবো যে মন্দির ও দেবীর সাথে যুক্ত হয়ে আছে কিংবদন্তী রাজা বিক্রমাদিত্য ও বেতালের নাম|প্রাচীন এই সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দির অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গের গড়বেতায়|গড়বেতা জঙ্গলাকীর্ণ এবং অনার্য উপজাতিদের বাসভূমি ছিল। শিকারই ছিল তাদের প্রধান উপজীবিকা। শিকার করতে যাওয়ার আগে তারা এক বনদেবীর পুজো করত। এই বনদেবী পরবর্তীকালে এখানকার অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা নামে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। শোনা জায় মহারাজ একবার রাজা বিক্রমাদিত্য সর্বমঙ্গলা মায়ের সামনে তপস্যায় বসেন। তাঁর তপস্যায় মুগ্ধ হয়ে দেবী তাঁকে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী করে দেন।নিজের অলৌকিক ক্ষমতা পরখ করতে রাজা বিক্রমাদিত্য তার অনুগত বেতালকে নির্দেশ দেন মন্দিরের মুখ দক্ষিণ থেকে উত্তরে করতে। সঙ্গে সঙ্গে বেতাল মন্দিরের মুখ পরিবর্তন করে দেন।আজও মন্দির সেই ভাবেই অবস্থান করছে|পরবর্তীতে রাজা গজপতি সিংহ প্রাচীন মন্দিরটি সংস্কার করে বিগ্রহ নব রূপে প্রতিষ্ঠা করেন।মন্দির স্থাপত্যশৈলীর নিরিখে এই মন্দিরটি পীর দেউল পর্যায়ে পড়ে অর্থাৎ ওপরদিকে ধাপে ধাপে ক্রমহ্রাসমান এবং সেখানে আকারে ছাদ বিশিষ্ট মন্দির রয়েছে|এই মন্দিরের বিশেষত্ব হলো সাধারণত হিন্দু দেবদেবীর মন্দিরের মুখ হয় দক্ষিণে। তবে সর্বমঙ্গলা মন্দিরের মুখ উত্তর দিকে|গড়বেতার এই মন্দিরটি ভারতের একমাত্র উত্তরমুখী মন্দির|সর্বমঙ্গলা মন্দিরের পাশাপাশি এই তীর্থ স্থানে রয়েছে ১২টি শিবের মন্দিরও।সব মিলিয়েবহু কিংবদন্তী, ইতিহাস ও প্রাচীন জশ্রুতিতে ভরপুর এই তীর্থক্ষেত্র|আপনারা হয়তো ইতিমধ্যে জেনে গেছেন যে আগামী কাল আমার নতুন গৃহ মন্দিরে হৃদয়েশ্বরী সর্ব মঙ্গলা মায়ের মন্দির নব রূপে আত্ম প্রকাশ করবে|আজ অবধি অসংখ্য মানুষ উপকৃত হয়েছেন এই মায়ের মন্দিরে গ্রহ দোষ খণ্ডন করিয়ে,অনেকের জীবনের অনেক বাঁধা বিপত্তি দূর হয়ে জীবনে সাফল্য, সুখ ও সমৃদ্ধি এসেছে, অনেকেই এর কৃতিত্ব আমাকে দেন , তবে আমি বলি আমি নিমিত্ত মাত্র, এই মন্দিরের সাথে যুক্ত হওয়া ও এই আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা সবটাই মা হৃদয়েশ্বরীরে ইচ্ছে, আপনারা আসুন , যুক্ত হন, নিজের যেকোনো সমস্যা মাকে জানান, অসংখ্য মানুষ উপকৃত হয়েছেন, মায়ের কৃপা লাভ করেছেন, আপনারাও পারবেন মনে ইচ্ছা ও ভক্তি থাকলেই হবে|চলতে থাকবে সর্ব মঙ্গলা মায়ের মন্দির ও পুজো প্রসঙ্গে আলোচনা পাশাপাশি কৌশিকী অমাবস্যা নিয়ে বলবো আগামী পর্ব গুলিতে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শ্রদ্ধার্ঘ্য কবিগুরুর চরনে

আজ বাইশে শ্রাবন অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়ান দিবস|বাঙালিরা পৃথিবীরা যে প্রান্তেই থাকুক দুটি তারিখ তারা কখনোই ভুলতে পারেনা এক পঁচিশে বৈশাখ এবং তারপর এই বাইশে শ্রাবন|মানে বিশ্বকবির আগমন ও তার বিদায়আজকের দিনটি তাকে স্মরণ করার দিন, তাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেয়ার দিন আর এই কাজ টা সাধারনত করা হয় তার গানের মাধ্যমে|তার কবিতার মাধ্যমে এবং তার জীবন দর্শন ও কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনারা মাধ্যমে|আজ আসুন ফিরে দেখি কবিগুরুর শেষের কয়েকটি দিন|সেদিন 30 এ জুলাই বেলা ১১টায় স্ট্রেচারে করে জোড়াসাঁকোর অস্থায়ী অপারেশন-টেবিলে আনা হলো কবিকে। লোকাল অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে অপারেশন শুরু হলো|দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে শেষ হলো অস্ত্রোপচার। তখন ও সব ঠিক ছিলো|কবি রসিকতা করলেন, ‘খুব মজা, না?’শরীরে যথেষ্ট যন্ত্রণা হয়েছিল অপারেশনের সময়। কিন্তু তা বুঝতে দেননি কবি। সেদিন ঘুমালেন। পরদিন ৩১ জুলাই যন্ত্রণা বাড়ল। জ্বর বাড়ছে। নিঃসাড় হয়ে আছেন। ১ আগস্ট কথা বলছেন না কবি শুধু সামান্য জল ও ফলের রস খাওয়ানো হচ্ছে তাঁকে। চিকিৎসকেরা শঙ্কিত।পরদিন ২ আগস্ট কিছু খেতে চাইলেন না কবি|পরিস্থিতি ক্রমশঃ খারাপ হচ্ছে, পরদিন ৪ আগস্ট সকালে জ্বর বাড়ল। ডা. নীলরতন ৫ আগস্ট ডাক্তার বিধান রায়কে নিয়ে এলেন। রাতে স্যালাইন দেওয়া হলো কবিকে। অক্সিজেন আনিয়ে রাখা হলো।পরদিন ৬ আগস্ট বাড়িতে উৎসুক মানুষের ভিড়। রাত ১২টার দিকে আরও অবনতি হলো কবির শরীরের।সেই বছর ৭ আগস্ট ছিল ২২ শ্রাবণ। কবিকে সকাল নয়টার দিকে অক্সিজেন দেওয়া হলো। নিশ্বাস ধীরে ধীরে ক্ষীণ হতে থাকল কবির। দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তা একেবারে থেমে গেল।নিজের প্ৰিয় বর্ষা ঋতুতেই বিদায় নিলেন কবি|রেখে গেলেন তার অসংখ্য সৃষ্টি ও আদৰ্শ যা আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে|যদিও ব্যাক্তিগত ভাবে রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস করতেন আত্মার অমর তার সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই,তিনি সকল ধর্মীয় গোড়ামির উর্ধে ছিলেন আবার ধ্যান ও প্রার্থনা সংগীত কে গুরুত্ব দিতেন |তিনি নির্দ্বিধায় বলতে পারতেন -“তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছো আকীর্ণ করি বিচিত্র ছলনা জলে করি হে ছলনা ময়ী “বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ নাথ কে নিয়ে, তার সৃষ্টি কে নিয়ে গবেষণা চলছে, চলবে |আগামী দিনে হয়তো তাকে নিয়ে আরো নতুন নতুন তথ্য সামনে আসবে|ততদিন তার সৃষ্টিরা মধ্যে দিয়ে তাকে খুঁজে পাওয়ার এই প্রচেষ্টা চলতে থাকুক|প্রয়ান দিবসে গুরুদেবের চরনে রইলো প্রনাম ও শ্রদ্ধাঞ্জলি|রবীন্দ্রনাথ পড়ুন|রবীন্দ্রনাথকে চিনুন|ভালো থাকুন| ধন্যবাদ|

পুরান কথা – শিব কেনো বাঘছাল পরেন

আমরা প্রত্যেকেই দেবাদিদেব মহাদেবকে বাঘ-ছাল পরিহিত বেশে দেখি এমনকি তিনি যখন ধ্যানমগ্ন থাকেন, তখন সেই বাঘ-ছালের উপর বসেই ধ্যান করেন।শিব কেনো বাঘ ছাল পরেন এবং কোথাথেকে তিনি এই বাঘ ছাল পেলেন তা নিয়ে একটি জশ্রুতি প্রচলিত আছে|আজ সেই ঘটনা আপনাদের বলবো|শিব হলেন সর্ব ত্যাগী সন্ন্যাসী যিনি কখনো কৈলাসে ধ্যান মগ্ন আবার তিনি দুর্গম বনে জঙ্গলে বিচরন করে বেড়ান আপন খেয়ালে |শিব একবার হাঁটতে হাঁটতে এক বনে গিয়েছিলেন। সেই বনে কয়েকজন ঋষি তাদের পরিবার নিয়ে বসবাস করতো। তিনি যখন বনে জঙ্গলে ঘোরাফেরা করছিলেন তার পরনে কোনও পোশাক ছিল না। তার সৌম কান্তি রূপ ও দিব্য জ্যোতি দেখে স্থানীয় মানুষ, পশু পাখি এমন কি প্রকৃতি তার দিকে আকর্ষিত হতে থাকে|সেই বনে বসবাস কারী ঋষি ও সাধুরা এতে ঈর্ষা ও ক্রোধ অনুভব করে এবং তারা শিবকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেন|আসলে তারা শিব কে তখনো চিনতে পারেননি এবং পরিকল্পনা অনুসারে, ওইসব ঋষিরা শিবের ভ্রমণের পথে একটা বড় গর্ত খুঁড়লেন এবং তাতে একটি বাঘও ছেড়ে রাখলেন।লক্ষ ছিলো বাঘ কে দিয়ে শিব কে হত্যা করা|শিবের অসীম শক্তি সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা ছিল না। শিব ওই গর্তে প্রবেশ করলেন এবং তৎক্ষণাৎ বাঘটিকে হত্যা করে বাঘের ছাল ছড়িয়ে পরিধান করলেন। তখন ঋষিরা সেই ঘটনা দেখে আশ্চর্য হয়ে পরেন তারা বুঝতে পারেন তিনি কোন সাধারণ মানুষ নন স্বয়ং শিব সঙ্গে সঙ্গে তারা মহাদেবের চরণে লুটিয়ে পড়েন আশির্বাদ নিতে ও ক্ষমা চাইতে|শিব তাদের ক্ষমা প্রার্থনা গ্রহন করলেন ও মাফ করে দিলেন|সেই থেকেই তিনি কেবলমাত্র বাঘের ছাল পড়ে থাকেন।শিবের পোশাক বাঘছাল আসলে ত্যাগ, বীরত্ব সহ শৌর্যর প্রতীক|শিব আদি যোগী এবং এবং সর্ব শক্তিমান তাই তার এই পোশাক যথেষ্ট মানান সই|আগামী পর্বে অন্য কোনো পৌরাণিক বিষয় এবং তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে আবার ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরান কথা – শিব পুজোর ফুল

শ্রাবন মাসে বিশেষ কিছু উপাচার ও শিবের প্ৰিয় ফুল দিয়ে তার আরাধনা করলে সহজেই শিব সন্তুষ্ট হন ও শিব কৃপা লাভ হয়|শাস্ত্রীয় কিছু উপাচার নিয়ে আগেই বলেছি আজ আসুন দেখে নিই কোন ফুল ব্যবহার করবেন শিব পুজোয়|শিবপূজায় কেতকি ফুল অর্পণ করা নিষিদ্ধ|কারন কেতকী আদি শিব লিঙ্গ অনুসন্ধানকালে ব্রম্ম্হার হয়ে মিথ্যে সাক্ষী দিয়ে ছিলো এবং তাতে রুষ্ঠ হয়েছিলেন দেবাদিদেব|বেশ কিছু ফুল আছে যেগুলো শিবের অত্যান্ত প্ৰিয় এবং সেগুলি অর্পণ করলে তিনি সন্তুষ্ট হন ও মনোস্কামনা পূর্ন করেন|বেল ফুলশিবের সবচেয়ে প্রিয় ফুল হল বেলগাছের ফুল। ভুল করে এই ফুলকে সুগন্ধী বেল ফুলের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না যেন।দুটি সম্পূর্ণ আলাদা|ধুতরো ফুল ধূতরা ফুল মহাদেবের খুব প্ৰিয় ফুল তাই তাই ধুতরো ফুল ও বেলা পাতা মহাদেবের পুজোয় ব্যবহার করুন|অপরাজিতামহাদেবের অপর নাম নীলকণ্ঠ। সমুদ্র মন্থনের সময় যে প্রচণ্ড বিষ উঠেছিল, সমগ্র সৃষ্টিকে তার থেকে বাঁচাতে সেই বিষ নিজের কণ্ঠে ধারণ করেছিলেন মহাদেব। ফলে তাঁর সারা শরীর নীলবর্ণ ধারণ করে। অপরাজিতা ফুলের রং ঠিক মহাদেবের গাত্রবর্ণের মতোই। মহাদেবের অপার সহ্য শক্তির প্রতীক এই ফুল শিব পুজোয় ব্যবহৃত হয়।আপনারাও অপরাজিতা ফুল মহাদেবের পুজোয় ব্যাবহার করুন|আকন্দমনে করা হয় আকন্দ ফুলের গন্ধে হারানো স্মৃতি ফিরে আসে। আকন্দ ফুল দিয়েও মহাদেবের পুজোর রীতি প্রচলিত|আকন্দ ফুলের মালা শিব লিঙ্গে অর্পণ করুন মহাদেবে সন্তুষ্ট হবেন|কল্কেহলুদ রঙের কল্কে ফুলের গাঢ় হলুদ রং ত্যাগের প্রতীক। দেবাদিদেব মহাদেব নিজেও ত্যাগ ও তিতিক্ষার প্রতীক। তাই কল্কে ফুল দিয়ে শিবপুজো করা হয়ে থাকে|শ্রাবন মাসে শিবের পুজোয় কল্কে ফুল রাখুন ভালো ফল পাবেন|জুঁইছোট্ট ছোট্ট জুঁই ফুলের অপূর্ব মিষ্টি সুবাস মহাদেবকে উত্‍সর্গ করা হয়ে থাকে। ক্ষমার প্রতীক দেবাদিদেবের অত্যন্ত পছন্দের এই ফুল|মহাদেবের উদ্দেশ্যে জুঁই ফুল নিবেদন করলে তিনি সন্তুষ্ট হন|শিবের প্ৰিয় শ্রাবন মাসে এই ফুল গুলির পাশাপাশি মহাদেবের পুজোয় ব্যবহার করুন বেলপাতা, গঙ্গা জল, মধু , দুধ ও আতর এবং সম্ভব হলে মহাদেবের উদ্দেশ্যে রুদ্রাক্ষ অর্পণ করুন রুদ্রাক্ষ মহাদেবের খুব প্ৰিয়|যাদের গৃহে শিব লিঙ্গ আছে ও নিয়মিত পুজো হয় তারা সংসারের কল্যানে মহাদেবের প্ৰিয় কয়েকটি বস্তু মহাদেবের উদ্দেশ্যে নিবেদন করতে পারেন যেমন ধাতব নাগ, ত্রিশূল এবং ডমরু|আগামী পর্বে শিব সংক্রান্ত অন্য কোনো বিষয় সাথে শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে আবার ফিরে আসবো পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|