পুরান কথা – কাশি বিশ্বনাথ মন্দিরের রহস্য

22

কাশী বিশ্বনাথ মন্দির বিশ্বের প্রাচীন তম শিব মন্দির গুলির অন্যতম এবং দ্বাদশ জ্যোতিরলিঙ্গের একটি|কাশী মন্দিরের প্রাচীন ইতিহাস ও এই মন্দির কে কেন্দ্র করে কিছু পৌরাণিক ঘটনার কথা আজ আপনাদের বলবো|পুরাণের কাশীখণ্ডে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের উল্লেখ পাওয়া যায়।সর্ব প্রথম কবে গড়ে ওঠে এই মন্দির তার সঠিক তথ্য জানা দুস্কর তবে একাদশ শতাব্দীতে রাজা হরি চন্দ্র মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করেছিলেন বলে জানা যায়|ইতিহাস অনুসারে 1194 সাল থেকে 1669 সাল অবধি একাধিকবার এই মন্দির বৈদেশিক শত্রুর হাতে ধ্বংস হয়েছে|তবে প্রতিবারই আবার সমহিমায় মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে বাবা বিশ্বনাথের এই মন্দির|প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী কাশী শিবের ত্রিশূলের ওপর অবস্থিত।ধর্মীয় কিছু গ্রন্থ অনুযায়ী বারাণসীতে ৩০ কোটি দেবীদেবতার বাস। কথিত আছে, কাশীতে যে ব্যক্তির মৃত্যু হয়, সে সোজা স্বর্গ লাভ করে।কাশী সময়ের গন্ডির বাইরে অবস্থান করছে অর্থাৎ জন্ম মৃত্যু আবর্ত থেকে মুক্ত|কাল ও কারুর অনিষ্ট করতে পারেনা কাশীতে যদি মদমহাদেব তার সহায় হয় এবং মহাদেবের ইচ্ছা ছাড়া কাশীতে একটি গাছের পাতাও নড়েনা বলে বিশ্বাস করা হয়|কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে বাবা বিশ্বনাথ এর আবির্ভাব জানতে গেলে পুরান জানতে হবে|পুরান অনুসারে একবার কে অধিক শক্তিশালী সে প্রসঙ্গে বিষ্ণু ও ব্রহ্মার মধ্যে তর্ক বাঁধে। এই তর্ক সমাপ্ত করতে শিব এক বিশাল লিঙ্গের আকার ধারণ করেন। তার পর ব্রহ্মা ও বিষ্ণুকে সেই বিশাল লিঙ্গের উৎস ও উচ্চতা খুঁজে বের করতে বলেন। ব্রহ্মা নিজের হংসে বসে ওপরের থাকে লিঙ্গের উচ্চতার খোঁজে বেরিয়ে পড়েন। অন্য দিকে বিষ্ণু শূকরের রূপ ধারণ করে পৃথিবীর মধ্যে খোদাই করতে শুরু করেন, যাতে লিঙ্গের তলের হদিশ পাওয়া যায়।বহু যুগ পেরিয়ে গেলেও ব্রহ্মা ও বিষ্ণু সেই লিঙ্গের উৎস ও উচ্চতা খুঁজে পান না। অবশেষে বিষ্ণু শিবের সামনে নতমস্তকে পরাজয় স্বীকার করলেও ব্রহ্মা মিথ্যা বলেন যে, তিনি এই লিঙ্গের উচ্চতা খুঁজে পেয়েছেন। ব্রহ্মার মিথ্যা ধরতে পারার পর শিব বিষ্ণুকে শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করেন এবং মিথ্যে বলার শাস্তি স্বরূপ কাল ভৈরব রূপে ব্রহ্মার চতুর্থ মাথা কেটে দেন।পৃথিবীর যে সমস্ত স্থান হতে আদি শিব লিঙ্গের দিব্যজ্যোতি নির্গত হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে একটি কাশী বিশ্বনাথ মন্দির|শিবের খুব প্ৰিয় স্থান এটি এবং শিব নিজে এখানে বাস করেন।শাস্ত্র মতে বিশ্বনাথ মন্দিরে মহাদেবের দর্শন করা ও পুজো দেয়ার অতি সৌভাগ্য দায়ক বিষয় এবং এতে ভক্তের সব মনোস্কামনা পূর্ন হয়|আগামী পর্বে শিব সংক্রান্ত অন্য কোনো বিষয় ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে আবার ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|