Home Blog Page 112

দেবী মাহাত্ম- নল হাটির গুহ্য কালীমাতা

তন্ত্র সাধনার পীঠস্থান হলো বীরভূমবীরভূমের নলহাটির কাছেই আকালীপুরে আছে ভীষণ দর্শনা এক যিনি দেবী গুহ্য কালিকা বা গোপন কালী নামে পরিচিত।আজকের পর্বেএই দেবীর মাহাত্ম নিয়ে লিখবো।যদিও মহারাজা নন্দকুমার কে এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা রূপে ধরা হয় তবে এই বিচিত্র কালীমূর্তিটি তাঁর দ্বারা নির্মিত হয়নি। তা আরো প্রাচীন।জনশ্রুতি আছে মগধরাজ জরাসন্ধ এই মূর্তিটি নির্মাণ করেছিলেন। কালক্রমে বিভিন্ন রাজার হাতে পূজিত হওয়ার পর কাশীরাজ চৈত সিংহের রাজ্যের এক কৃষক তার জমিতে মূর্তিটি খুঁজে পান। সংবাদ পেয়ে চৈত সিংহ মন্দির প্রতিষ্ঠা করে দেবী গুহ্যকালিকার প্রতিষ্ঠা করতে চান।তখন ব্রিটিশ আমল ওয়ারেন হেস্টিংসও এই মূর্তির সন্ধান পেয়ে এটিকে লন্ডনের জাদুঘরে প্রেরণে উদ্যোগী হন। মূর্তিটি ব্রিটিশদের হাত থেকে রক্ষা করতে, চৈত সিংহ সেটিকে গঙ্গাবক্ষে লুকিয়ে রাখেন।বহু যুগ অতিক্রান্ত হয় তারপর মহারাজা নন্দকুমার স্বপ্নাদেশ পেয়ে সেটিকে কাশী থেকে নিজের চেষ্টায় উদ্ধার করে নিজ জন্মস্থান বীরভূমের ভদ্রপুর গ্রামে নিয়ে আসেন। নন্দকুমার নিজে ছিলেন পরম শাক্ত ও দেবী মহাকালীর ভক্ত। তিনি ১৭৭৫ সালের গোড়ায় তিনি মুর্শিদাবাদ-বীরভূমের সীমান্তবর্তী আকালীপুর গ্রামে দেবী গুহ্যকালীর মন্দির নির্মাণ শুরু করেন। তবে নির্মাণ শেষ করার আগেই বৈপ্লবিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরেন এবং ধরা পরেন স্বাস্তিস্বরূপ তারফাঁসি হয়মহারাজা নন্দ কুমারের পুত্র পিতার শেষ ইচ্ছে স্বরূপ দেবী গুহ্যকালীর মন্দির প্রতিষ্ঠা সম্পূর্ণ করেন ও নিয়মিত দেবীর পূজার ব্যবস্থা করেন।গুহ্যকালী দ্বিভুজা, সর্পভূষিতা ও খড়্গহস্তা। তাকে সূর্যকালী নামেও অভিহিত করা হয়। যে কোন কালী মূর্তির সাথে আমরা শায়িত অবস্থায় দেবাদিদেব মহাদেব কে দেখতে পাই‌। কিন্তু গুহ্য কালীর মূর্তির সাথে শিব শায়িত অবস্থায় থাকে না‌।সাধারণত তান্ত্রিকরাই এই দেবীর পুজো করে থাকেন। গৃহস্ত পরিবারের গৃহ মন্দিরে দেবীর পুজো হয়না সাধারনত।বহু এমন ঐতিহাসিক মন্দির এবং দেবী আদ্যা শক্তির নানা রূপ নিয়ে আলোচনা বাকি আছে। চলতে থাকবে এই ধারাবাহিক অনুষ্ঠান। ফিরে আসবো। পরের পর্বে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

মন্দির রহস্য – টাঙ্গিনাথ ধাম

আজকের পর্বে আপনাদের ঝাড় খন্ডের এক অদ্ভুত এবং রহস্যময় মন্দিরের কথা জানাবো। মানুষের বিশ্বাস এবং জনশ্রুতি অনুসারে এই মন্দিরেই আছে ভগবান পরশুরামের বিখ্যাত
সেই কুঠার।

বিখ্যাত মন্দির রয়েছে ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি থেকে ১৭৫ কিলোমিটার দূরে গুমলা জেলায়।
প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু পাহাড়ের ওপর অবস্থিত বাবা টাঙ্গিনাথ ধাম।

বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার হলেন পরশুরাম। পুরান ও অন্য বহু শাস্ত্রে উল্লেখ আছে যে তিনি অমর এবং অবিনাশি আজও তিনি পৃথিবীতেই আছেন।
আর এই টাঙ্গি নাথ এই মন্দিরে রয়েছে তাঁর কুঠার। ভক্তদের বিশ্বাস স্বয়ং পরশুরাম ও এখানে থাকেন।

ত্রেতাযুগে জনকপুরে সীতার স্বয়ম্বর সভায় হরধনু ভেঙেছিলেন শ্রীরামচন্দ্র। শিবের থেকে প্রাপ্ত হরধনু পরশুরাম জনক রাজাকে দিয়েছিলেন। সেই হরধনু ভাঙার খবরে স্বভাবতই পরশুরাম উত্তেজিত হয়ে নিজের ক্রোধ প্রকাশ করেন পরে প্রভু রামের আসল পরিচয় জেনে নিজের ভুল বুঝতে পারেন কৃতকর্মের প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য কুঠারটি এক পাহাড়ের ওপর পুঁতে দেন এবং জঙ্গলে গিয়ে তপস্যা শুরু করেন। টাঙ্গিনাথ ধাম সেই স্থান বলেই মনে করা হয়। টাঙ্গিনাথ ধামে পরশুরামের পদচিহ্নও আছে বলে অনেকের ধারণা।

কুঠারকে হিন্দিতে টাঙ্গি বলে।সেই থেকেই নাম টাঙ্গি নাথ।পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে টাঙ্গিনাথ ধাম অত্যন্ত বিখ্যাত।শাস্ত্র মতে ভগবান শিবের থেকেই টাঙ্গি বা কুঠার পেয়েছিলেন পরশুরাম। এই টাঙ্গিনাথ ধামও শিবের মন্দির। এই মন্দির অত্যন্ত প্রাচীন। এখানে পাওয়া বিশাল আকারের কুঠারটি দেখতে অনেকটা ত্রিশূলের মত।

টাঙ্গি নাথ ধামে যে বিশাল টাঙ্গি বা কুঠারটি মাটিতে পুঁতে রাখা আছে তা যুগ যুগ ধরে অক্ষত রয়েছে। তাতে কোনও মরচে ধরেনি। এই কুঠার মাটির নীচেও অনেকখানি রয়েছে। ভক্তদের দাবি, এই কুঠার বহুবার চুরি করা ও ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু, তাতে কোনও লাভ হয়নি। উলটে, যারা এই কুঠার চুরি বা ধ্বংসের চেষ্টা করেছিল, তাদের ক্ষতিই হয়েছে।যেমন একবার স্থানীয় এক উপজাতির লোকজন কুঠারটি উপড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। না-পেরে কুঠারের ওপরের অংশটি কেটে নিয়েছিল। এর জেরে লোহার সম্প্রদায়ের মধ্যে মরক লাগে। বহু মানুষের মৃত্যু হয়। লোহার উপজাতিরাও এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যায়।

প্রতি বছর মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে তিন দিন ধরে টাঙ্গিনাথ ধামের মন্দির চত্বরে মেলা বসে এবং ব্যাপক ভক্ত সমাগম হয়।

ফিরে আসবো আগামী দিনে। নতুন বিষয় নিয়ে। চলবে ধারাবাহিক আলোচনা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

মন্দির রহস্য – জগদীশ পন্ডিতের জগন্নাথ মন্দির

নদিয়া  জেলায় চাকদা থেকে অল্প দূরেই বাংলার অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক জগন্নাথ মন্দিরটি অবস্থিত।এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা চৈতন্য  মহাপ্রভুর  অন্যতম  পারিষদ  জগদীশ পণ্ডিত স্বয়ং। আজকের পর্বে এই জগন্নাথ মন্দির নিয়ে লিখবো । জানাবো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।  গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু তখন সপারিষদ  নিলাচলে  অবস্থান  করছেন। প্রথা অনুসারে সেবার   জগন্নাথ  দেব যখন নবকলেবর  ধারণ করেন।তখন জগদীশ  পণ্ডিত  পুরীর  জগন্নাথ  দেবের  পরিত্যক্ত পুরোনো দারুময়  বিগ্রহটি  সংগ্রহ করেন এবং পুরীধাম থেকে  বহন  করে নবদ্বীপের  উদ্দেশে  যাত্রা  করেন।  তার উদ্দেশ্য ছিলো  বিগ্রহ  পুনঃ  প্রতিষ্ঠা  করা।  বিশাল  বিগ্রহ  দণ্ডে  ঝুলিয়ে  দুজনে  কাঁধে  করে  বয়ে  নিয়ে  চলেছেন। স্বাভাবিক ভাবেই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার ফলে ক্লান্ত হয়ে পড়লেন এবং এই স্থানে রাত্রি  যাপন  করলেন।পরদিন সকালে জগন্নাথ দেবকে কাঁধে  তুলবার  সময়  আর  ওঠাতে  পারলেন  না। কাঠের মূর্তি যেনো   পাথরের থেকেও বেশি ভারী হয়ে গেছে কোনো যাদু বলে।দৈববাণী  হল যে আমি  এখানেই  অবস্থান  করব। সেই  থেকে  জগন্নাথ  এখানেই  আছেন।এখানেই তার মন্দির নির্মাণ হয় জগদীশ  পণ্ডিত তার বাকি  জীবন  এখানেই  বসবাস  করে  জগন্নাথ  সেব  করেন।স্বয়ং শ্রীচৈতন্যদেব  ও  শ্রীনিত্যানন্দপ্রভু  এখানে  পদার্পণ  করে  ছিলেন।পূর্বে  মন্দির সংলগ্ন একটি  সুপ্রসিদ্ধ  দোলমঞ্চও ছিল।যা এখন প্রায় ধ্বংস  প্রাপ্ত।সুভদ্রা  ও  বলরাম  বিহীন  জগন্নাথ  দেবের  কাঠের  বিগ্রটির উচ্চতা  ৪ ফুট ।পুরীধাম  থেকে  জগন্নাথ  দেবের  বিগ্রটি বহন করে  আনবার  জন্য  জগদীশ  পণ্ডিত  যে  বড়  লাঠিটি  ব্যবহার করেছিলেন  সেটি  এখানে আজও  সযত্নে  রক্ষিত  আছে।জ্যৈষ্ঠ  পূর্ণিমায়  জগন্নাথ  দেবের  স্নানযাত্রা,পৌষমাসের  শুক্লা  তৃতীয়া  তিথিতে  জগদীশ  পণ্ডিতের  তিরোভাব  উৎসব  এখানে নিষ্ঠা সহকারে পালন করা হয়।বহু এমন ঐতিহাসিক মন্দির নিয়ে আলোচনাবাকি আছে। চলতে থাকবে এই ধারাবাহিক অনুষ্ঠান। ফিরে আসবো। পরের পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম- চট্টেশ্বরী দেবী

বাংলাদেশের বিখ্যাত মন্দিরসমূহের মধ্যে অন্যতম শ্রী শ্রী চট্টেশ্বরী কালী মায়ের বিগ্রহ মন্দির যা নিয়ে আমার আজকের পর্ব।জনশ্রুতি মতে এটি একটি সতীপীঠ । যেখানে দেবী সতীর দেহের কোনও একটি অংশ পড়েছিল দক্ষযজ্ঞের পরে ।প্রায় ৩০০-৩৫০ বছর পূর্বে আর্য ঋষি যোগী ও সাধু সন্ন্যাসীদের মাধ্যমে শ্রী শ্রী চট্টেশ্বরী দেবীর প্রকাশ ঘটে। এটি বাংলাদেশের বন্দর নগরী চট্টগ্রামের চট্টেশ্বরী সড়কে তিন পাহাড়ের কোণে অবস্থিত।এখানে মন্দিরের বাঁধানো চত্বরটির বাঁদিকে কালী মন্দির ও ডানদিকে শিব মন্দির।শিব মন্দিরের পাশে রয়েছে একটি কুন্ড।মানুষ বিশ্বাস করেন এই কুন্ডের জলে অলৌকিক ক্ষমতা আছে।চট্টেশ্বরী মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত আদি কালীমূর্তি নিয়ে কিংবদন্তি রয়েছে। মন্দিরের সেবাইতেদের ধারণা অনুযায়ী স্বপ্নাদিষ্ট কালীমাতার একটি নিমকাঠের মূর্তি নির্মাণ করেছিলেন এখানকার মহারাজা।সেই মূর্তিটি ছিলো দক্ষিণকালীর। যাঁর পুজো করলে জাগতিক ও পারমার্থিক সবরকম ফললাভ হয় বলে মনে করা হতো ।পরবর্তীতে চট্টেশ্বরী মাতার সাধনা শুরু করেন চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালি থানার সরোয়াতলি গ্রামের অধিবাসী সাধক রামসুন্দর দেবশর্মণ।তন্ত্র সাধনার পাশাপাশি মায়ের পুজোও নিয়মিত চলতে থাকে।কথিত আছে স্বাধীনতার আগে কবি নবীন চন্দ্র সেন তথা তত্‍কালীন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এই মন্দিরে নিত্য পুজোর ব্যবস্থা করেছিলেন।পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের দ্বারা এই মন্দিরটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং মন্দিরের সেবায়েতের বাড়ি ও বিগ্রহ বিনষ্ট করা হয়। শ্রীচট্টেশ্বরী মাতার প্রাচীন নিমকাঠের মূর্তিটি খণ্ডবিখণ্ড করেছিল।পরে মূর্তিটির যে অংশগুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল সেগুলি জোড়া দেওয়া হয় এবং নতুন করে দেবী মূর্তি তৈরী হয়।তারপর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করার পরে মন্দিরটি সংস্কার করা হয়।দেবী চট্টেশ্বরীর বর্তমান মূর্তিটি কষ্টিপাথরের। শ্বেতপাথরের শিব মায়ের শ্রীচরণতলে শায়িত।আজও তন্ত্র মতে নিষ্ঠা সহকারে দেবীর পুজো হয়।ফিরে আসবো। নতুন কোনো মন্দিরের কথা বা দেবী মাহাত্ম নিয়ে।ধারাবাহিক এই অনুষ্ঠানে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম- সিমলা গড়ের ডাকাত কালী

আজকের পর্বে আপনাদের নিয়ে যাবো সিমলা গড়। হুগলিতে অবস্থিত এই অঞ্চল এক সময় হরিহর পুর নামে পরিচিত ছিলো আর বিখ্যাত ছিলো এখানকার ডাকাতদের জন্য। সেই ডাকাত দলের সর্দার ছিলো বিশ্বনাথ ওরফে বিশে।

ডাকাত সর্দার বিশে অত্যাচারী জমিদারদের শায়েস্তা করতে ডাকাত দল তৈরি করে ডাকাতি করেন। তাকে ধরার জন্য ইংরেজরা নানা ধরনের ফাঁদ পেতেছিল কিন্তু তাৎক্ষণিক বুদ্ধির কৌশলে প্রতিবারই তিনি অধরা থেকে যেতেন।

অবশেষে ১৮১৮ সালে ডাকাতি করার সময় পুলিশের জালে ধরা পরে যায় বিশে ডাকাত এবং বিচারে তার ফাঁসি হয়।

সিমলাগড় ডাকাত কালীবাড়ি প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো, শোনা যায় ডাকাতরা ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে নরবলি দিত সিমলাগড় কালীবাড়িতে কিন্তু একবার এক তান্ত্রিক পুরোহিত তন্ত্রসাধনা করতে এসে নরমুন্ড দেখে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এরপর থেকেই নরবলি বন্ধ হয়ে যায়, ছাগ বলি চালু থাকে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে সৈন্যচলাচল বাড়তে শুরু করল ওই এলাকায়। মানুষরাও ভয় কাটিয়ে মায়ের পুজো দিতে শুরু করতে, ধীরে ধীরে বাড়তে লাগলো ভক্তের সংখ্যা। পরে মন্দির সংস্কার করে আরও বড় মন্দির তৈরী হল। মন্দিরে মায়ের মূর্তিটি মাটির নয় পাথরের। নিয়ম মেনে প্রতিবছর তা রঙ করা হয়।

আজও এখানে নিষ্ঠা সহকারে তন্ত্র মতে কালী পুজোয় মাছ-সহ ১০৮ রকমের ভোগ দেওয়া হয়। দীপান্বিতা অমাবস্যায় বিশেষ পুজো হয় এবং পয়লা বৈশাখে প্রচুর ভক্তের সমাগম ঘটে।

যথা সময়ে আবার ফিরে আসবো। নতুন কোনো মন্দিরের কথা বা দেবী মাহাত্ম নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একটি অলৌকিক অভিজ্ঞতা

আজ অবধি আপনাদের অনেক অলৌকিক কাহিনী বলেছি, অনেক আধ্যাত্মিক রহস্য নিয়ে আলোচনা করেছি, বহু প্রাচীন মন্দিরের অদ্ভুত সব ইতিহাস আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি।তবে সেগুলি প্রায় সবই প্রচলিত কিংবদন্তী বা জনশ্রুতি যার মধ্যে কিছু শাস্ত্র থেকে পাওয়া পৌরাণিক ঘটনাও আছে। কিন্তু আজ আপনাদের নিজের নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া একটি অদ্ভূত ঘটনার কথা বলবো। ঘটনাটি অলৌকিক কিনা তা আপনারাই ঠিক করবেন।সময়টা আশির দশকের মাঝামাঝি। তখন ছাত্র জীবন। খুব সম্ভবত দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা সবে শেষ হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই হাতে অফুরন্ত সময়। কি করবো কোথায় যাবো এই যখন ভাবছি একদিন এক বন্ধু প্রস্তাব দিলো পুরুলিয়া যাওয়ার। তার বাবার একটি যাত্রার দল আছে।পুরুলিয়ায় তার বাবার যাত্রা মঞ্চস্ত হবে।সেই উপলক্ষে সে যাবে। চাইলে সাথে আমিও যেতে পারি। শুনেই যেনো হাতে চাঁদ পেলাম। কারন নাটক থিয়েটার যাত্রার প্রতি আমার একটা টান ছিলো। পুরুলিয়ার ছোউ নাচ নিয়ে অনেক শুনেছি। পত্র পত্রিকায় বিস্তর ছবিও দেখেছি। কখনো সামনাসামনি দেখার অভিজ্ঞতা হয়নি। তাছাড়া ভ্রমন কাহিনীতে মামা ভাগ্নে পাহাড় জয় চন্ডী পাহারের কথাও শুনেছি। ভেবে দেখলাম নিখরচায় এমন বেড়ানোর সুযোগ কোনোমতে হাত ছাড়া করা যাবেনা।কোনো রকমে বাবা মাকে রাজি করিয়ে। ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।প্রথমে ট্রেনে করে পুরুলিয়া তারপর গাড়িতে কয়েক কিলোমিটার পেরিয়ে পৌছালাম। এক প্রত্যন্ত গ্রামে। এখানেই হবে যাত্রা।পৌঁছাতে রাত হয়ে গেছিলো। দূর থেকে ভেসে আসা ধামসা মাদলের শব্দ। ঝিঁঝি পোকার ডাক। বাতাসের সো সো শব্দ। অন্ধকার এক মায়াবী রাজ্যে এনে ফেলেছিলো আমাদের। থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছিলো এক স্কুল বাড়িতে। রাতে মোটা চালের ভাত। কুমড়োর ঘ্যাট আর সোনা মুগের ডাল দিয়ে খাওয়া দাওয়া সেরে কিছুক্ষন স্কুলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দূরে চাঁদের আলোয় ঢাকা কোনো এক নাম না জানা পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে বেশ কিছুক্ষন গল্প করলাম দুই বন্ধু। দলের বাকিরা ততক্ষন ঘুমের দেশে।আমরাও দেরি না করে শুতে গেলাম। ক্লান্তিতে বেশি দেরি হলোনা ঘুম আসতে।পরদিন সকালে ঘুম ভাঙতে নিজেকে এক অদ্ভুত অপার্থিব জগতে নতুন করে আবিষ্কার করলাম। দূষণ হীন। কোলাহল মুক্ত নির্মল প্রকৃতি। যেদিকে দুচোখ যায় সবুজ আর সবুজ। মেঠো রাস্তা। দূরে উঁচু উঁচু টিলা গুলো যেনো হাতছানি দিয়ে ডাকছে। স্কুল মাঠেই যাত্রার মঞ্চ ও অস্থায়ী দর্শকসন তৈরী হয়েছে। গোটা দল ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে নিজের ঝালিয়ে নেয়ার কাজে। স্থানীয় একটি ছেলের সাথে বেশ আলাপ জমে যায়। শুনলাম কাছেই। বিখ্যাত এক প্রাকৃতিক জলপ্রপাত আছে। নাম বামনি জল প্রপাত।রুটি তরকারি দিয়ে ব্রেকফাস্ট সেরে সেই নতুন বন্ধু ও আমরা দুজন বেরিয়ে পড়লাম। সেই জলপ্রপাত দেখতে। বিকেল বিকেল ফিরে এসে বিশ্রাম নিয়ে রাতে যাত্রা দেখবো। এই ছিলো পরিকল্পনা।কিছুটা মেঠো পথ। মাঝে মাঝে সবুজ উন্মুক্ত প্রান্তর। কথাও আবার লাল মাটির কাঁচা রাস্তা দুদিকে জঙ্গল। এই সব পেরিয়ে এগিয়ে যেতে লাগলাম। নতুন আলাপ হওয়া ছেলেটির সাথে কথা বলে জানলাম যে সে এখানকার বাসিন্দা নয়। আসলে সে মামার বাড়ি বেড়াতে এসেছে। আগে দু একবার মাত্র সে এই পথে এসেছে।তার বাড়ি গিরিডিতে। যাই হোক সূর্য যখন মাথার উপর থেকে কিছুটা ঢলে পড়েছে পশ্চিম দিকে তখন এসে পৌছালাম সেই বিখ্যাত জলপ্রপাতের সামনে।সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে। একটা ছোটো পাহাড় থেকে প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্টি জল রাশি প্রবল তেজে আছড়ে পড়ছে নিচে পাথুরে জমিতে। একটা শির্ণ নদী বয়ে চলেছে দূরে কোথাও।এতো জোরে জলের শব্দ হচ্ছে কিছুই আর শোনা যাচ্ছেনা। কিছুক্ষন একটা পাথরের উপর বসে তিন জন সবটুকু প্রাণ ভরে দেখে নিলাম। বিকেল গড়িয়ে আর কিছুক্ষন পর সন্ধ্যে হয়ে যাবে। আলো থাকতে থাকতে ফিরতে হবে। তাই উঠে রওনা দিলাম।কিছুক্ষন হেঁটেই বুঝলাম কি মস্ত ভুল হয়েছে। তিন জনেরই খিদেতে পেট চুই চুই করছে। সাথে খাবার নেয়া উচিৎ ছিলো। ভেবেছিলাম হাতে কিছু টাকা আছে কিছু কিনে খেয়ে নেবো। কিন্তু এই পান্ডব বর্জিত দেশে কোনো দোকান পাঠ চোখেই পড়লোনা।খিদে তেষ্টায় আর ক্লান্তিতে অবস্থা বেশ কাহিল। হাঁটতেও বেশ কষ্ট হচ্ছে।কোনো রকমে সামনের একটা বাঁক ঘুরতেই চোখে পড়লো এক গাছে তলায় এক বৃদ্ধা বসে আছেন। পরনে লাল পাড় দেয়া সাদা তবে মলিন শাড়ি। পাশে একটি পুটলি রাখা আছে।আমাদের দিকে তাকিয়ে দেখে তিনি যেনো মৃদু হাসলেন। আমরাও মন্ত্র মুগ্ধর মতো তার সামনে গিয়ে থমকে দাঁড়ালাম। জিগেস করলাম আপনি কে? এখানে কি করছেন? মৃদু হেসে বৃদ্ধা বললেন। আমি এখানেই থাকি। তোমাদের মুখ দেখে মনে হচ্ছে সারাদিন কিছু খাওয়া হয়নি। আমার কাছে খাবার আছে। তোমরা আগে খেয়ে নাও। আমরা কিছু বলার আগেই তিনি পুটলি খুলে কলা পাতায় আমাদের জন্য মোটা চালের ভাত আর কলাইয়ের ডাল বেড়ে দিলেন।কথা না বাড়িয়ে আমরা খেতে শুরু করলাম। মনে হলো এমন সুস্বাদু খাবার আর এতো তৃপ্তি করে জীবনে আগে কখনো খাইনি। খাওয়া শেষে তিনি বললেন ওই দূরে একটা পুকুর আছে যাও জল খেয়ে হাত মুখ ধুয়ে এসো। তার কোনো কথাই যেনো অগ্রাহ্য করা যায়না। এগিয়ে গেলাম তিনজন। সত্যি একটা পুকুর আছে। নির্মল জল। খেলাম। হাত মুখ ধুলাম।তারপর আবার আগের জায়গায় ফিরে এলাম। কিন্তু আশ্চর্য সেই বৃদ্ধা আর নেই। তার কোনো চিহ্নই নেই। মনে হলো যেনো স্বপ্ন দেখলাম একটু আগে। অবাক হয়ে যখন পরস্পরের মুখ চাওয়া চাই করছি তখন বন্ধু বললো। চল আর দেরি করলে সন্ধ্যে হয়ে যাবে। অন্ধকারে পথ হারিয়ে ফেলবো।সে রাতে যাত্রার ভালোই জমে ছিলো। সব শেষে যখন শুতে গেলাম তখন প্রায় ভোর হতে যায়। কিন্তু ঘুম আসেনি। সারারাত সেই বৃদ্ধার হাসি মাখা মুখখানি যেনো চোখের উপর ভাসছিলো। ভোর হয়ে গেলো কখন বুঝতেই পারলাম না। সকালে এলাকার মুরুব্বি গোছের লোক এসে বললো আজ আমাদের ঘুরতে নিয়ে যাবে। কেউ যেতে চাইলো না। রাতে ট্রেন গোছ গাছ আছে। সেই আমরা তিন তার গাড়িতে বেরোলাম ঘুরতে। কাছেই বড়ন্তি বলে একটি পাহাড় ঘেরা সুন্দর গ্রাম আছে। সেখানে যাওয়া হবে। গেলাম সেখানে। সারাদিন ঘুরলাম। অপূর্ব অভিজ্ঞতা।সুন্দর সুন্দর জায়গা আছে সেখানে।একটি হ্রদ এবং চারপাশে পাহাড় রয়েছে। বিকেলে ফেরার পথে একটি জায়গায় এসে সেটা চিনতে পারলাম। হ্যা কাল এখানেই সেই বৃদ্ধার সাথে দেখা হয়েছিলো। গাড়িটা থামাতে বলে তিন জন নামলাম। এক কাঠুরিয়া কিছু কাঠ কেটে মাথায় করে নিয়ে যাচ্ছে। কথা বলে জানলাম স্থানীয় লোক। তাকে সেই বৃদ্ধার কথা জিগেস করতে তিনি যেনো আকাশ থেকে পরলেন। বললেন এখানে অমন কেউতো থাকেনা। জীবনেও তিনি দেখেননো ওই রকম কোনো বৃদ্ধাকে এখানে।বাকি পথটা গাড়িতে প্রায় চুপ চাপ এলাম। কারুর মুখে কোনো কথা নেই। সবাইকে অন্যমনস্ক।জানিনা তিনি কে ছিলেন। আমার কাছে অন্তত তিনি সাক্ষাৎ মা অন্নপূর্ণা। যিনি কাউকে অভুক্ত থাকতে দেননা।প্রতি বছর অন্নপূর্ণা পুজোর সময়ে আমার বৃদ্ধার কথা মনে পরে। সামনের ২৯ মার্চ আমার গৃহ মন্দিরে অন্নপূর্ণা পুজো অনুষ্ঠিত হবে।জানিনা আর তার দেখা পাবো কিনা। তবে তার আরাধনা করে ধন্য হবো সেই দিন।জানাবেন কিরকম লাগলো আমার এই অভিজ্ঞতা। আমন্ত্রণ রইলো অন্নপূর্ণা পুজোর। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

মন্দির রহস্য – দেবী ধুমাবতীর মন্দির রহস্য

দশ মহাবিদ্যার অন্যতম দেবী হলেন ধুমাবতী। আমাদের দেশে ধূমাবতীর মন্দিরের সংখ্যা অত্যন্ত অল্প।বারাণসীর একটি মন্দিরে ধূমাবতী হলেন প্রধান দেবতা।আজকের পর্বে আপনাদের এই মন্দিরের কথা জানাবো।বারাণসীতে অবস্থিত এই ধুমাবতী মন্দিরকে কিছু শাস্ত্রে শক্তিপীঠ বলে দাবি করা হয়। দেবী ধুমাবতীর রূপ কিছুটা ব্যাতিক্রমী।ধূমাবতী তন্ত্র গ্রন্থে তাঁকে বৃদ্ধা ও কুৎসিত বিধবার রূপে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি শীর্ণকায়া, দীর্ঘাকার, রোগগ্রস্থা ও পাণ্ডুরবর্ণা। তিনি অশান্ত ও কুটিল হৃদয়। তাঁর দেহে অলংকারাদি নেই। তিনি পুরনো মলিন বস্ত্র পরিধান করে থাকেন। তিনি মুক্তকেশী।তিনি এক হাতে একটি কুলো ধরে থাকেন এবং অপর হাতে বরমুদ্রা বা চিন্মুদ্রা দেখান। তিনি অশ্ববিহীন রথে আরূঢ়া এবং তাঁর পতাকায় কাকের ছবি থাকে।তার এই পরিচিত রূপেই তিনি এই মন্দিরে বিরাজ করছেন।বারাণসীর এই মন্দিরে ফল ও ফুল দিয়ে দেবীর পূজা করা হয়। সাধারণ সন্ন্যাসী ও তান্ত্রিকরাই দেবীর পুজো করে থাকেন এবং দেবীর অমঙ্গলজনক সত্ত্বাটির জন্য কেবলমাত্র তান্ত্রিক বীরাচারেই দেবীর পূজা করা হয়। তবে এই মন্দিরে দেবী গ্রামদেবতা বা স্থানীয়দের রক্ষাকর্ত্রীরূপেও পূজিতা হন। এখানে বহু নব বিবাহিত যুগলেও দেবীর পূজা দিতে আসেন।কথিত আছে, ধূমাবতী মহাপ্রলয়ের সময় উপস্থিত হন। প্রলয়কালে উত্থিত প্রকাণ্ড কৃষ্ণ মেঘ তাঁর স্বরূপ। এই কারণে সহস্রনাম স্তোত্রে তাঁকে “প্রলয়রূপিণী” বা “প্রলয়মত্তা”, বলা হয়। অন্যমতে, তিনি মহাকালরূপী শিবের বিলোপের মনে করা হয় মহাপ্রলয় বা বিশ্ববিনাশের পর উত্থিত ধোঁয়ার প্রতীক দেবী ধুমাবতী।যিনি তিনি ধোঁয়ার আকারে বিহার করেনধূমাবতী সাধারণত অমঙ্গলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হলেও সহস্রনাম স্তোত্রে তাঁর কয়েকটি সদগুণেরও উল্লেখ রয়েছে। তিনি বরদাত্রী ও কোমলহৃদয়া। এবং সন্তানদাত্রী।কেতু যাদের অশুভ তারা ধুমাবতীর পুজো করলে সুফল পান।ফিরে আসবো আগামী পর্বে। দেবী মাহাত্ম নিয়ে।আলোচনা হবে নতুন কোনো মন্দির বাদেবী মাহাত্ম নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম – দেবী সিদ্ধেশ্বরী

দেবী মাহাত্মর আজকের পর্বে আপনাদের বাংলার কোচবিহার রাজ্যের দেবী সিদ্ধেশ্বরীর কথা লিখবো যার সাথে জড়িত আছে এক অদ্ভুত ও অলৌকিক ঘটনা।

কুচবিহারের দ্বিতীয় মহারাজা নরনারায়ন ছিলেন দেবী কামাখ্যার ভক্ত। নিয়মিত তার রাজ্য থেকে নৈবেদ্য পাঠানো হতো দেবীর পূজায়। জনশ্রুতি আছে একবার সন্ধ্যা আরতির সময় মহারাজ নরনারায়ন এক পূজারীর সাহায্যে আড়াল থেকে  নৃত্যরতা দেবীকে দর্শন  করেন।মা কামাখ্যা এই বিষয়ে অবগত হয়ে ক্রুদ্ধ হন ও রাজাকে অভিশাপ দেন যে তিনি বা তার বংশের কেউ আর কোনো দিন কামাখ্যা দেবীকে দর্শন করতে পারবেননা।

সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের পশ্চিম প্রান্তে প্রাচীরবেষ্টিত একটি প্রাচীন কামরাঙা গাছ আছে। গাছটির গোড়া সুতো দিয়ে বাঁধানো এবং গোড়াতে সিঁদুর লিপ্ত কয়েকটি শিলাখণ্ড আছে।সেই প্রাচীন কাল থেকে দেবীর আদেশ অনুসারে এই কামরাঙা গাছটি দেবী কামাখ্যার প্রতীক এবং পীঠস্থান  রূপে পূজিত হয়।দেবী কামাখ্যা দর্শনের অভিশাপ থাকায় তৎকালীন কুচবিহার রাজ্যের মহারাজগণ,রাজগণ বর্তমান জেলার রাজজ্ঞাতী বা রাজগণ এই কামরাঙা গাছেই দেবী কামাখ্যাকে দর্শন করেন এবং পূজা দেন।

পরবর্তীতে মহারাজা নরনারায়ণ অত্যন্ত মর্মাহত হয়ে মায়ের কাছে ব্যাথিত চিত্তে বলেন যে, তার অপরাধে তার বংশধরেরা মায়ের মূর্তি দর্শন ও পূজা দেওয়া থেকে কেন বঞ্চিত হবে। এতে মা কামাখ্যা সদয় হয়ে বলেন যে তিনি এবার থেকে তার রাজ্যের বানেশ্বর শিব মন্দির এর কাছে সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের দেবী বিগ্রহে এবং পাশে প্রাচীন কামরাঙা বৃক্ষে দেবীরূপে সর্বদা বিরাজ করবেন। মহারাজগন এবং রাজগণ  সেখানে পূজা দিলে মা কামাখ্যার দর্শন ও পূজা দেওয়া হবে।

আজও প্রথা মেনে স্বপ্ন প্রদত্ত মন্ত্র দিয়ে দেবী সিদ্ধেশ্বরীকে আরাধনা করা হয়।উত্তর বঙ্গ বাসির কাছে এই দেবস্থান বা পীঠস্থান হলো “দ্বিতীয় কামাখ্যাপীঠ” যেখানে প্রতিটি বিশেষ তিথিতে বহু মানুষ আসেন দেবীকে দর্শন করে তার আশীর্বাদ নিতে।

বহু এমন অলৌকিক ঘটনা ও মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা বাকি আছে। ফিরে আসবো যথা সময়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম – ভিরিঙ্গি মায়ের মন্দির

বাংলার দুর্গাপুর যেমন শিল্পাঞ্চল হিসাবে বিখ্যাত তেমনই বহু ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে দুর্গাপুরের শ্রী শ্রী ভিরিঙ্গি মায়ের শ্মশান কালি মন্দির বেশ পরিচিত স্থান।সিপাহী বিদ্রোহের পাঁচ বছর আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল।এই মন্দির প্রাঙ্গনে মায়ের এক বিরল দৃশ্য দেখা যায়। বজরংবলী হনুমান এর কাঁধে নন্দী ভৃঙ্গি সহ মহাকালী মূর্তি এখানে বিরাজ করছে।মন্দিরের পশ্চাৎ দেশে সিদ্ধাসন নামক এক পবিত্র স্থান আছে যেখানে পঞ্চমুখী শিবলিঙ্গ বিরাজমান। একটি বাঁধানো ঘাট ও আছে।মায়ের মন্দিরের সামনে রয়েছে হাড়িখাট যেখানে বিশেষ সময়ে বলি হয়। তাছাড়াও এখানে আছে নাগেশ্বর, মহাকালভৈরবী, সিদ্ধিদাতা ও হনুমানজীর মন্দির আছে এখানে।ভিরিঙ্গি মন্দির যেখানে আছে বহুকাল আগে সেখান থেকে তিনটে বিষ্ণুমূর্তি ও মহাদেবের দুই সঙ্গী নন্দী ও ভৃঙ্গির মূর্তি উদ্ধার হয়েছিল বলে শোনা যায়।প্রথা মেনে মা কালীকে ভোগ নিবেদন করার আগে চন্ডভৈরব দের খাওয়ার নিবেদন করা হয়। বেশ কিছু অলৌকিক ঘটনাও শোনা যাও এই তীর্থস্থান কে কেন্দ্র করে।শোনা যায় মন্দিরের প্রতিষ্ঠতা অক্ষয় কুমার রায় যখন তার গুরুদেবের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ তখন তার গুরুদেব শেষ কৃত্যের সময়ে তাঁর চিতা ভস্মর মধ্যে রুপোর মোহর দেখতে পাওয়া যায়।মন্দিরের নীচে শায়িত আছেন মন্দিরের প্রতিষ্ঠতা অক্ষয় কুমার রায় ও তার পুত্র রবীন্দ্রনাথ রায় যাদের আন্তরিকে চেষ্টায় তৈরি হয়েছিল মন্দিরের বর্তমান রূপ।বর্ধমানে জেলায় খুব কম মানুষই আছেন যারা ভিরিঙ্গি কালি মায়ের কথা শোনেননি। সারা বছর বিভিন্ন জেলার মানুষের মনোস্কামনা পূরণের জন্য এখানে আসেন।বিশেষ তিথি গুলিতে জন সমাগম হয় যথেষ্ট।ফিরে আসবো দেবী মাহাত্ম নিয়ে। আগামী পর্বে। ধারাবাহিক ভাবে চলবে আলোচনা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

মন্দির রহস্য – শীতলা মন্দির রহস্য

পূর্ব মেদিনীপুরের নাচিন্দা গ্রামে রয়েছে এক জাগ্রত শীতলা মাতার মন্দির যেখানেদেবী শীতলা চণ্ডীকে নিয়ে প্রচলিত আছে বহু অলৌকিক জনশ্রুতি।আজ এই মন্দিরে কথা আপনাদের জানাবো।শোনা যায় যেখানে শীতলা মন্দির, তার কাছাকাছিই থাকতেন এক অসুস্থ বৃদ্ধা।একদিন রাতে ওই বৃদ্ধাকে স্বপ্নে দেখা দেন দেবী শীতলা এবং তিনি বলেন, ‘তুই চুপচাপ শুয়ে থাকিস না। তোর বাড়ির সামনের পুকুরে রোজ স্নান করবি।স্নান শেষে একট গাছের নীচে ঘট স্থাপন করবি।আমার পুজো করবি। আমার পুজো করলে তোর আর কোনো দুঃখ থাকবেনা। আমার পুজো করলে রোগগ্রস্ত মানুষ মুক্তি পাবে। সন্তানহীনা সন্তান লাভ করবে।স্বপ্ন দেখার পর বৃদ্ধর ঘুম ভেঙে যায়।সেদিন ছিল অক্ষয় তৃতীয়া।তিনি স্বপ্নে দেখানো দেবীর নির্দেশমতোই পুকুর থেকে স্নান সারেন। তারপর একটি গাছের নীচে জলভর্তি ঘট স্থাপন করেন।দেবীর পুজো করেন এবং সুস্থ হয়ে ওঠেন।সেই থেকে প্রতিবছর অক্ষয় তৃতীয়ায় বিশেষ পুজো হয় এই মন্দিরে। পুজো উপলক্ষে মেলাও বসে।এই অঞ্চলে দেবী শীতলা চন্ডীকে নিয়ে বহু অলৌকিক ও অদ্ভুত ঘটনা প্রচলিত আছেশোনা যায় দেবী শীতলা নানা রূপে এই মন্দিরের আশপাশে ঘুরে বেড়ান।একবার তিনি সাধারণ বিবাহিত মহিলার রূপ ধরে শাঁখা পরেছিলেন শাঁখারির থেকে আবার কোনো এক রাতে কয়েকজন জন ক্লান্ত পথিককে মন্দির চত্বরে আশ্রয় দিয়ে রেঁধে খাইয়েছিলেন।পরদিন ভোরে পূজারির ডাকে তাঁদের ঘুম ভাঙে। পূজারি তখন সেই পথিকদের জানান যে স্বপ্নে দেবী শীতলা তাঁকে দেখা দিয়েছিলেন। স্বপ্নে দেবী বলেছেন, রান্না করতে গিয়ে তাঁর হাত পুড়ে গেছে। শাড়িতে কালী লেগেছে।সেই সময়ে পূজারি এবং ওই চার ভক্ত দেখতে পান যে দেবী মূর্তির হাতে পোড়া দাগ। আর, শাড়িতে রান্নার কালির দাগ।অসংখ্য মানুষ এখানে আসেন পুজো দিতে তাদের বিশ্বাস দেবী ভক্তদের মনস্কামনা পূরণ করেন। মানত পূরণের পর এখানকার ভক্তরা মন্দিরে এসে পুজো দিয়ে যান।বহু এমন মন্দিরের কথা ও দেবী মাহাত্ম নিয়ে আলোচনা চলবে ধারাবাহিক ভাবে।ফিরে আসবো আবার যথা সময়ে। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।