Home Blog Page 135

পুরান কথা – শ্রী কৃষ্ণের বাঁশি

শ্রী কৃষ্ণের হাতে বাঁশি আমরা সবাই দেখেছি কিন্তু বাঁশির ও ভিন্ন ভিন্ন রূপ আছে আধ্যাত্মিক তাৎপর্য আছে|আজ পুরান কথায় সেই কথাই বলবো|শ্রীকৃষ্ণ তিন প্রকারের বাঁশী ব্যবহার করেন। তার একটিকে বলা হয় বেণু, অন্যটি মুরলী এবং তৃতীয়টি বংশী। বেণু অত্যন্ত ছোট, ছয় ইঞ্চির বেশী দীর্ঘ নয়, এবং তাতে ছয়টি ছিদ্র থাকে। মুরলীর দৈর্ঘ্য প্রায় আঠারো ইঞ্চি। তার একপ্রান্তে একটি ছিদ্র থাকে এবং তার গায়ে চারটি ছিদ্র থাকে। এই মুরলী অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর সুর সৃষ্টি করে। বংশী প্রায় পনেরো ইঞ্চি লম্বা, এবং তাতে নয়টি ছিদ্র থাকে।শ্রীকৃষ্ণ প্রয়োজন অনুসারে এই তিন রকমের বাঁশী বাজান।শ্রীকৃষ্ণের আর একটি বংশী আছে যা আরও লম্বা, যাকে বলা হয় মহানন্দ বা সম্মোহনী বা আকর্ষনী এই বাঁশী কখনো কখনো মণিরত্ন খচিত থাকে, কখনো তা মর্মর দিয়ে তৈরী হয় এবং কখনো কখনো বাঁশ দিয়ে তৈরী হয়। বাঁশী যখন মণিরত্ন দিয়ে তৈরী হয় তখন তাকে বলা হয় সম্মোহনী। আর যখন তা স্বর্ণ দিয়ে তৈরি হয়, তাকে বলা হয় আকর্ষণী।বাঁশির সাথে কৃষ্ণর সম্পর্ক নিয়ে একটি সুন্দর ঘটনার উল্লেখ করা যায় একেবার ঈর্ষা বসত গোপিনীরা অসতর্ক মুহূর্তে চুপি চুপি বাঁশিটি কে চুরি করলেন।বাঁশি গোপীদের বলিলেন : ” এভাবে আমাকে আপনারা কৃষ্ণের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত করলেন কেন ?” গোপীরা বলিলেন : ” তোমার এমন কি গুণ আছে যে , তুমি সর্বদা কৃষ্ণের হাতে হাতে ফের আর তাঁর অধর স্পর্শ করে থাকো? বাঁশি বললো গুণের কথা ছেড়ে দিন, আমার তো কোন অস্তিত্ব নেই । কারণ , আমার ভিতরে যে শাঁস ছিল যা বের করে ফেলা হয়েছে। ফলে আমার নিজস্ব কোন সত্তাই এখন আর নেই। আমার গোটা শরীরটাই ফোঁপরা- ফাঁপা । সুতরাং আমার আমিত্ব বলে আর কিছু নেই । আমার যা- কিছু সব তাঁর । আমার নিজের কোন সুরও নেই তানও নেই । কানাইয়ার সুর , কানাইয়ার তানই আমার সুর আমার তান। তিনি যে ভাবে আমাকে বাজান , আমি সে ভাবেই বাজি । শরণাগতকে তিনি কখনো পরিত্যাগ করেন না । আমার সর্বস্ব তাঁকে অর্পণ করে আমি তাঁর আশ্রয় নিয়েছি। তাই তিনি আমাকে তাঁর অধরে রাখেন তাই আমি তার এতো প্ৰিয়|গোপিনীরা কথার মর্মার্থ বুঝলেন|নিজের সব অহং বিসর্জন দিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে ভগবানের চরনে সমর্পন করলে তবেই তার সম্পূর্ণ কৃপা পাওয়া যায়|আরো অনেক শাস্ত্রের কথা ও পৌরাণিক তথ্য নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন|আগামী অমাবস্যা তিথিতে থাকছি তারাপীঠে মহা যজ্ঞে|যারা গ্রহ গত সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চান|যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরান কথা – মহা ভারতের অজানা কথা

মহাভারত কম বেশি আমরা সবাই পড়েছি হয়তো আজ মহাভারত কালের একটি পৌরাণিক ঘটনার উল্লেখ করবো যারা কেন্দ্রে রয়েছেন স্বয়ং ভগবান শ্রী কৃষ্ণ|পান্ডন ভাইদের সাথে শ্রী কৃষ্ণের ছিল অত্যান্ত স্নেহের ও আত্মিক সম্পর্ক একবার ভ্রমণে বেরিয়ে কথা প্রসঙ্গে পান্ডবেরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে জানতে চাইলেন: হে কৃষ্ণ! দ্বাপর যুগের অন্তে তো কলিযুগের সূচনা হবে। তবে সেই কলিযুগের মানুষের আচার আচরণ কেমন হবে” ?ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তখন পাঁচ ভাইকে জঙ্গলের ভেতরে পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন পথে কিছু দূর হেঁটে আবার তাঁর কাছে ফিরে আসতে বললেন।ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নির্দেশ মতো পান্ডবেরা জঙ্গলের কিছু দূর হেঁটে আবার ফিরে আসলেন।পান্ডবরা যখন ফিরে আসলো তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পাঁচ ভাইকে জঙ্গলের ভেতরে কে কি দৃশ্য দেখলেন তা জানতে চাইলেন।যুধিষ্ঠির জানালেন তিনি হেঁটে যাওয়ার সময় একটা অদ্ভুত জিনিস দেখেছিলেন, একটা হাতির দুইটি শুঁড়।।তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “কলিযুগের কিছু মানুষ হবে ঠিক এই রকম দুমুখো।তারা এক মুখে দুই রকম কথা বলবে আবার তারা মুখে বলবে এক রকম আর তাদের আচার আচরণ হবে সম্পূর্ণ বিপরীত রকম।।ভীম বললেন তিনি দেখতে পেয়েছিলেন, একটা গরু তার বাছুরকে আদর করে গা চেটে চেটে পরিস্কার করছে , কিন্তু এত বেশি জোরে চাটছে যে বাছুরটির গায়ের ছাল উঠে গিয়ে রক্ত ঝরছে।তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন: “কলিযুগের মাতা-পিতা হবে ঠিক এইরকম। মাতা-পিতার অত্যধিক স্নেহ ও অতিরিক্ত আদর এবং অতিরিক্ত ভালোবাসায়, তাদের সন্তানেরা দায়িত্বজ্ঞানহীন ও পরনির্ভরশীল হয়ে পড়বে। ফলে তাদের স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবন যাপন করতে অসুবিধা হবে।”অর্জুন বললেন তিনি দেখতে পেয়েছিলেন, একটি নদীতে একটি পচাগলা মৃত ছাগল আর ওই ছাগলের উপর বসে আছে একটা শকুন। কিন্তু ওই শকুনের ডানায় লেখা আছে “মন্ত্র”।তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “কলিযুগের কিছু ভন্ড সাধকেরা হবে ঠিক এই রকমের। দেশ ও সমাজের বুকে যাদের ধার্মিক ও জ্ঞানী হিসেবে খ্যাতি থাকবে, তাদের প্রকৃত মানসিকতা হবে শকুনের ন্যায়।”নকুল দেখতে পেয়েছিলেন, এক বিশালাকার পাথরের খন্ড পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ছে, কিন্তু কোন বিশালবৃক্ষে ঐ পাথর আটকাচ্ছে না। অবশেষে সামান্য একটা ঝোপের তলায় এসে আটকে যায়।তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন, কলিযুগের মানুষেরা বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত থাকবে ফলে তাদের পাপের পরিমাণ ওই পাথরের মতন ভারী হবে। বড়ো বড়ো জ্ঞানী লোক তাকে রক্ষা করতে পারবে না কিন্তু হঠাৎ কোনো সাধু সঙ্গে পড়ে হয়তো সেই বিপদ থেকে রক্ষা পাবে।সহদেব দেখতে পেয়েছিলেন বনের মধ্যে একটা বিশাল গভীর কূয়া |কিন্তু অবাক হয়ে দেখলেন ওই কূয়ার শেষ প্রান্তে বিন্দুমাত্র জল নেই।তখন শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “কলিযুগের কিছু মানুষের ঘর বাড়ি হবে বিশাল আকৃতির ও তাতে ধনসম্পত্তি থাকবে ওই গভীর কূয়ার সমান তা সত্বেও ওই বাড়ি ও ধনসম্পত্তি নিয়ে ওই মনিবের মধ্যে থাকবে না বিন্দু মাত্র সুখ।”কলি যুগ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারনা পাওয়া যায় এই ঘটনা গুলি থেকে যদিও কল্কি পুরানে আরো বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও কল্কি দেবের আগমনের কথা উল্লেখ আছে সেই প্রসঙ্গেও আলোচনা করবো আগামী কোনো পর্বে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

অম্বুবাচি – তন্ত্র ক্ষেত্র কামাখ্যা

শুরু হলো অম্বুবাচী এসময়ে সব থেকে বেশি আলোচিত হয় কামাখ্যা মন্দির যা হিন্দুদের ৫১ সতীপীঠের একটি যা ভারতের তন্ত্র সাধনার মূল কেন্দ্র| নীল পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত এই স্থান তাই অনেকের কাছেই যাদু নগরী বা মায়া নগরী|কিছু মানুষ বিশ্বাস করেন কামাখ্যা হলো যাদুটোনা, তন্ত্রসাধনার পীঠস্থান এখানে নাকি ভূত,প্রেত, ডাকিনী,যোগিনী দের দেখা মেলা যায়। তাদের কাছে এখনো ভয়ংকর জায়গা কামরূপ কামাখ্যা|কামাখ্যা সম্পর্কে এক কালে ধারনা ছিলো ওখানে পৌঁছালে আর নাকি ফিরে আসা যায় না। বলা হয় জাদুটোনা, ও তন্ত্র-মন্ত্রের রহস্যঘেরা দেশ এটি৷ শুধু কামরূপ কামাখ্যা নয়, ওখানের আশেপাশে অরণ্যে আর নির্জন পথেও নাকি দেখা মেলে অলৌকিক খমতা সম্পন্ন জীবদের ।প্রাচীন কালে কামরূপ-কামাখ্যা নারী শাসিত পাহাড়ী ভূ-খন্ড ছিলো । সেখানকার নারীরা তন্ত্র সাধনায় বিশেষ করে বশীকরণ বিদ্যায় পারদর্শী ছিলো। প্রচলিত কিংবদন্তী অনুসারে কামরূপ-কামাখ্যার মায়াবী সেই নারীরা পুরুষদের মন্ত্রবলে ভেড়া বানিয়ে রাখে তাই বিদেশী শত্রুরাও কামরূপ রাজ্য আক্রমন করার সাহস পেতোনা সহজে|শুধু কামাখ্যা মন্দির বা ভুবনেশ্বরী নয় কামরূপ জেলার সর্বত্র তন্ত্রসাধনা যথেষ্ট ফলপ্রদ। আগে এই কামরূপ প্রদেশ চারভাগে বিভক্ত ছিল। যেমন কামপীঠ, রত্নপীঠ, স্বর্ণপীঠ বা ভদ্রপীঠ ও সৌমার পীঠ। দেবী কামাখ্যা যেখানে বিরাজ করছেন সেই স্থান হল কামপীঠ।তন্ত্রসাধকদের মতে তন্ত্রসাধনার এর চেয়ে উপযুক্ত স্থান কমই আছে ভারতে|তিথি অনুসারে অম্বুবাচির সময় এই তন্ত্র সাধনা সব থেকে বেশি প্রভাবশালী তাই আজও অম্বুবাচি উপলক্ষে অসংখ্য ভক্ত ও তন্ত্র সাধক ভিড় জমান কামরূপ কামাখ্যায়|চলবে এই ধারাবাহিক আলোচনা|নতুন নতুন তথ্য পেতে ও আধ্যাত্মিক যেকোনো বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

অম্বুবাচি ও জ্যোতিষ শাস্ত্র

জ্যোতিষ শাস্ত্র ও গ্রহ গত সংযোগ রয়েছে এই অম্বুবাচী উৎসবের সাথে | আষাঢ় মাসে মৃগশিরা নক্ষত্রের তিনটি পদ শেষ হলে অম্বুবাচী কালের সূচনা হয় হন| এই বিশেষ সময়কাল ধরে প্রতি বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অম্বুবাচী পালন করেন।প্রতিবছর আষাঢ় মাসের সাত তারিখ থেকে শুরু হয় অম্বুবাচী|আবার সনাতন জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুসারে সূর্য যে বারের যে সময়ে মিথুন রাশিতে গমন করে, তার পরবর্তী সেই বারের সেই সময় থেকে অম্বুবাচী হয়| যে তিন দিন সূর্য আর্দ্রা নক্ষত্রের প্রথম পাদে থাকেন, তা-ই অম্বুবাচী|অর্থাৎ জ্যোতিষশাস্ত্র ওতপ্রোত ভাবে জড়িত এই ধর্মীয় উৎসবের সাথে কারন গ্রহ নাক্ষত্রিক যোগাযোগ দেখে অম্বুবাচী পালন করা হয় সারা দেশ জুড়ে|জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে অম্বুবাচি চলাকালীন কয়েকটি বিষয়ে মেনে চলা উচিৎ সেগুলি হলো – অম্বুবাচীতে ভূমিকর্ষণ ও বৃক্ষরোপণ নিষেধ। কারণ এই সময় ধরণী ঋতুমতী হয়।এই সময় মাটি খুঁড়বেন না, গাছ লাগাবেন না, এই সময়ে গৃহপ্রবেশ, বিবাহ ও অন্যান্য শুভ কাজ করা নিষিদ্ধ। এই সব কাজ করলে তা অশুভ হবে বলে মনে করা হয়।এই সময়ে কোনও বিশেষ পূজা রাখবেন না। তবে কোনও বছর যদি এই সময় জগন্নাথদেবের রথযাত্রা পড়ে, তবে তা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই হতে পারে। কেননা এই সময়ে নিত্যকর্ম হবে, কাম্য কর্ম হবে না। রথযাত্রা নিত্যকর্ম। যারা আদি শক্তির বিভিন্ন রূপ, যথা কালী, দুর্গা, জগদ্ধাত্রী, বিপত্তারিণী, শীতলা, চণ্ডীর মূর্তি বা পট পূজা করেন, তাঁরা মূর্তি বা পট লাল কাপড়ে ঢেকে রাখবেন। পূজার সময় কোনও মন্ত্র পাঠ করবেন না, কেবল ধূপ-দীপ দেখিয়ে প্রণাম করলেই হবে।অম্বুবাচীতে ভুলেও মূর্তি বা পট স্পর্শ করবেন না। অম্বুবাচীর নিবৃত্তির পর আচ্ছাদন খুলে আসন ধুয়ে দেবীকে স্নান করিয়ে পূর্বের মতো পূজা ও আম-দুধ নিবেদন করবেন।তুলসি গাছের গোড়া এই সময় মাটি দিয়ে উঁচু করবেন। যাঁরা শাক্তমন্ত্রে দীক্ষিত, তাঁরা জপ করতে পারবেন। কারণ জপে কোনও দোষ নেই।অম্বুবাচীতে গুরুপূজা চলবে। গুরু যদি নারী হন, অর্থাৎ গুরুমা হন, তা হলেও পূজা চলবে। অম্বুবাচীতে গুরু প্রদত্ত নিজ ইষ্টমন্ত্র যত বেশি সম্ভব জপ করুন।অম্বুবাচীতে বিধিপূর্বক অগ্নিস্থাপন করে নিজ ইষ্ট মন্ত্রে হোম করুন ও নিজের মনোস্কামনা ব্যাক্ত করুন সর্পভয় নিবারণের জন্য আম ও দুধ সেবন করুন। কথিত আছে এই সময়ে আম ও দুধ খেলে এক বছর সাপের ভয় থাকে না তাই এই নিয়ম মেনে চলতে পারেন।যারা গ্রহগত কোনো সমস্যার শাস্ত্র সম্মত প্রতিকার চান অথবা জ্যোতিষ পরামর্শ প্রয়োজয় তারা উল্লেক্ষিত নাম্বারে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের শুভেচ্ছা

আজ ২১ জুন বিশ্ব যোগ দিবস সারা বিশ্বে আজ International Yoga Day পালিত হচ্ছে।তবে আজ শুধু যোগ অভ্যাস করলে হবে না, এই দিনটার ইতিহাসটাও মনে রাখা দরকার, কারন এই ইতিহাসের আমার দেশের নাম আজীবন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে|সারা বিশ্ব জুড়ে, ভারতের যোগের ইতিহাসে কয়েক হাজার বছরের প্রাচীন হলেও এই যোগ দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এসেছেন মাত্র কয়েক বছর আগেই|হয়তো আপনারা জানেন ২০১৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২১ জুন তারিখটিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব দেন। সেই বছরই ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ ২১ জুন তারিখটিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস বলে ঘোষণা করে।যোগ হল প্রাচীন ভারতে উদ্ভূত শারীরিক ও মানসিক ব্যায়াম এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলন প্রথা। এর মধ্যে দিয়ে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় থাকে। ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করার কারণ হলো ‘‌এই তারিখটিতে উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘতম দিন হিসেবেও পালন করা হয়। তাই এই বিশেষ দিনের তাৎপর্য রয়েছে।’‌প্রাচীন ভারতীয় শাস্ত্রে উল্লেখ আছে আজকের দিনে আদি যোগী তাঁর সবচেয়ে নিষ্ঠাবান সাত জন শিষ্যকে প্রথম দেখেন যাঁরা আলোকপাতের পথ প্রদর্শন না করা পর্যন্ত তাঁকে ছেড়ে না যাওয়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন। এরপর পরবর্তী পূর্ণিমাতে আদি যোগী ওই শিষ্যদের যোগিক ক্রিয়া পদ্ধতি শেখাতে শুরু করেন। এটাই ছিলো প্রথাগত যোগ শিক্ষার সূচনা লগ্ন|জ্যোতিষ শাস্ত্র যেমন আমাদের গর্বের বিষয় তেমনই যোগ নিয়ে আমাদর গর্ব বহুদিনের যাকে স্বীকৃতি দিয়েছে গোটা বিশ্ব এবং গোটা বিশ্বকে দেয়া ভারতের একটি সুন্দর উপহার এই যোগ|নিয়মিত যোগ অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং সুস্থ থাকুন|আপনাদের সবাইকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনেক শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

অম্বুবাচী – নিয়মাবলী ও বিধি নিষেধ

অম্বুবাচি নিয়ে অনেকের মনেই অনেক প্রশ্ন থাকে তাই অম্বুবাচী উৎসব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছি এবং আজকের পর্বে আলোচনা করবো অম্বুবাচী সংক্রান্ত নানা বিধি নিষেধ ও তার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য|শাস্ত্র মতে অম্বুবাচীর প্রথম তিন দিন কৃষি কাজ ছাড়াও আরো অনেককিছুই করা নিষেধ, এই সময় কোনো শুভ বা মাঙ্গলিক কাজের সূচনা করা হয়না যেমন বিবাহ,গৃহ প্রবেশ বা মঠ ও মন্দিরের স্বাভাবিক পূজাঅর্চনা ইত্যাদি|আসলে এই সময় ধরিত্রী যেহেতু ঋতুমতী হয় তাই লৌকিক আচার ও প্রথা গুলিকে সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখা হয় এর পেছনে আছে বা বিশ্বাস, শ্রদ্ধা এবং হাজার হাজার বছরের প্রাচীন পরম্পরা ও শাস্ত্রীয় বিধান|যদিও চতুর্থ দিন থেকে শুভ কাজে আর কোনো রকম বাধা থাকেনা|শাস্ত্র মতে আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও কয়েকটি বিধি নিষেধ এই অম্বুবাচী চলাকালীন মেনে চলা শ্রেয় যেমন আদি শক্তির বিভিন্ন রূপকে যারা পূজা করেন অর্থাৎ কালী, চন্ডি, দূর্গা জগদ্ধাত্রী ইত্যাদি তারা দেবীমূর্তি কে একটি লাল কাপড়ে ঢেকে রাখতে পারেন |এই দেবী মূর্তিকে স্পর্শ করা বা মন্ত্রউচ্চারণ করা উচিৎ নয়|যারা দীক্ষিত তারা গুরু পূজা করতে পারেন, এছাড়া জপ চলতে পারে তাতে কোনো দোষ নেই|গৃহী রা এই সময় কয়েকটি নিয়ম মেনে চললে গৃহের কল্যাণ হয় যেমন নতুন বৃক্ষ রোপন না করা বা দাম্পত্য জীবনে শারীরিক ও মানসিক পবিত্রতা রক্ষাকরা|গ্রাম বাংলার বহু স্থানে নিষ্ঠার সাথে অম্বুবাচী পালন করা হয়|সাধারণত বিধবা মহিলারা অম্বুবাচী চলা কালীন আগুন জ্বালিয়ে খাবার রান্না করেন না|যারা ব্রহ্মচর্য পালন করেন তাদের এই সময় আমিষ খাবার বর্জন করে মূলত ফল মুল খেয়ে থাকতে হয়|এই কটাদিন বেদ পাঠ করা যায়না এবং উপনয়ন অনুষ্ঠান করা যায়না|অম্বুবাচীর আগের দিনটিকে বলা হয় ‘অম্বুবাচী প্রবৃত্তি’। তিন দিনের পরের দিনটিকে বলা হয় ‘অম্বুবাচী নিবৃত্তি’ যার পর আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার সূচনা হয় ধীরে ধীরে|অম্বুবাচী পরবর্তী সময় শক্তি সাধনার ও শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনের উপযুক্ত তিথি তাই যারা নানা সমস্যায় জর্জরিত তারা এই সময়কে কাজে লাগাতে পারেন|চলতে থাকবে অম্বুবাচি নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

তীর্থক্ষেত্রে পন্ডিতজি – কামরূপ কামাখ্যা

অম্বুবাচি উপলক্ষে আমার টিভির অনুষ্ঠানে ও ধারাবাহিক লেখালেখিতে ইতিমধ্যে উঠে এসেছে কামাখ্যা মন্দিরের কথা আজ নিছক পর্যটকের চোখ দিয়ে তীর্থ ক্ষেত্র হিসেবে এই স্থানের বর্ণনা করবো|আসামের গুয়াহাটি শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই কামরূপ কামাখ্যা। এখানে রয়েছে সারি সারি পর্বতমালা। এর ঠিক পাশেই ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রে মা কামাখ্যার মন্দির।রহস্য,আধ্যাত্মিকতা, পৌরাণিক ঘটনা ও ঐতিহাসিক তাৎপর্যর দিক দিয়ে কামাখ্যা কামরূপ কামাখ্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্থল|ছোট্ট দুটি শব্দ ‘কামরূপ কামাখ্যা’। আর এই দুটি শব্দের মধ্যেই লুকানো তাবৎ রহস্য, রোমাঞ্চ আর গল্পগাথা।বলা হয় একসময় এ জায়গায় কেউ গেলে আর ফিরে আসত না। এখনো জাদুবিদ্যা সাধনার জন্য বেছে নেওয়া হয় কামাখ্যা মন্দিরকেই। কামরূপ কামাখ্যার আশপাশের অরণ্য আর নির্জন পথে নাকি ঘুরে বেড়ায় ভালো-মন্দ আত্মারা। এমনকি এক কালে বৈদেশিক শত্রুরা বিশ্বাস করতো কামরূপ-কামাখ্যার অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন মায়াবী নারীরা পুরুষদের মন্ত্রবলে ভেড়া বানিয়ে রাখতো|তাই অনেকেই এই পথ মাড়াতে চাইতো না সহজে|আজও এই তীর্থে পদার্পন করলে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চকর অনুভূতি হয় যা আমি প্রত্যেকবার অনুভব করেছি|মহাভারতের যুগে এই স্থনের নাম ছিল প্রাগজ্যোতিষ। পাল রাজারা এককালে শাসন করতো এই প্রদেশ|এই আসামেরই কামরুপ জেলার নীলকন্ঠ পাহাড়ের চূড়ায় সন্ধান মেলে এক প্রাচীন মন্দিরের,এই প্রাচীন মন্দিরটিই কামাক্ষা দেবীর মন্দির নামে পরিচিত।পীঠ নির্ণয় তন্ত্র মতে সিদ্ধ পীঠ কামরূপে মায়ের মাতৃ যোনি পতিত হয়েছিল বিধায় এই স্থানটি ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম প্রধান এবং গুরুত্বপুর্ণ শক্তিপীঠ। যে স্থানে দেবীর যোনি পতিত হয়েছিল সেই স্থান হচ্ছে তীর্থচূড়ামণি। তীর্থচূড়ামনির অর্থ হলো সব তীর্থের মধ্যে সেরা তীর্থ স্থান। যেখানে সতীর যোনি মন্ডল পতিত হয়েছিল সেই জায়গাটাকে বলে কুব্জিকাপীঠ।কথিত আছে যোনিরূপ যে প্রস্তরখণ্ডে মা কামাক্ষা অবস্থান করছেন, সেই শিলা স্পর্শ করলে মানুষ মুক্তিলাভ করে। কালিকাপুরাণে বলা হয়েছে মহামায়া সতীর যোনি অঙ্গ পতিত হওয়ার পর এই উচ্চ পর্বত মহামায়ার যোনি মন্ডলের ভার সহ্য করতে না পেরে কেঁপে উঠলো এবং ক্রমশঃ পাতালে প্রবেশ করতে লাগলো। তখন দেবতাদের অনুকম্পায় এই পর্বত পাতালে প্রবেশ থেকে রক্ষা পায়। কিন্তু মতৃ যোনি পতিত হওয়ার ফলে পর্বতের রং নীল বর্ণ ধারণ করেছিল তাই পর্বতের নাম হলো নীলকণ্ঠ বা নীলচল পর্বত।পৌরাণিক এই মন্দিরটি ৫১টি সতীপীঠের অন্যতম প্রধান পীঠস্থান। এই মন্দির চত্বরে দশমহাবিদ্যার মন্দিরও বিদ্যমান। মনেকরা হয় মূল কামাখ্যার মন্দিরটি নাগারা স্থাপত্যশৈলীর মন্দির ছিল। বর্তমান কামাখ্যা মন্দিরে গর্ভগৃহ ও তিনটি মণ্ডপ সম্বলিত চারটি কক্ষ রয়েছে যেগুলোর স্থানীয় নাম চলন্ত, পঞ্চরত্ন এবং নাটমন্দির। গর্ভগৃহটি পঞ্চরথ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত।কামাখ্যা মন্দিরের প্রধান উৎসব বলাযায় উৎসবকে দেশ বিদেশথেকে মাতৃ সাধক ও তীর্থযাত্রীরা এখানে আসেন ওই সময়ে|আর কয়েকটি দিন পরেই অনুষ্ঠিত হবে সেই উৎসব|আবার আগামী কোনো পর্বে অন্যকোনো তীর্থ ক্ষেত্র নিয়ে ফিরে আসবো যথা সময়ে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

অম্বুবাচীর কি এবং কেনো

আর কয়েকদিন পরেই অম্বুবাচি সেই উপলক্ষে বেশ কয়েকটি পর্বে অম্বুবাচির ব্যাখ্যা ও তারপর গুরুত্ব আপনাদের সামনে তুলে ধরবো|আজ প্রথম পর্ব|হিন্দুধর্মের এক গুরুত্বপূর্ণ বাৎসরিক উৎসব অম্বুবাচী।বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় এই অম্বুবাচী, ‘অমাবতী’ বলেও পরিচিত। এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শাস্ত্রের নানা কাহিনী। হিন্দু শাস্ত্রে ও বেদে পৃথিবীকে মা বলা হয়ে থাকে। এমনকি পৌরাণিক যুগেও পৃথিবীকে ধরিত্রী মাতা বলে সম্বোধন করা হয়েছে।সবার আগে আমাদের জানা উচিৎ কি এই শব্দের প্রকৃত অর্থ ‘অম্বুবাচী’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল ‘অম্বু’ বা জল ‘বাচি ‘অর্থাৎ সূচনা|এই সময় থেকে প্রকৃতির নব সৃষ্টি কার্যর সূচনা হয়|মনে করা হয়, আষাঢ় মাসে মৃগশিরা নক্ষত্রের চতুর্থ পদে ঋতুমতী হন ধরিত্রী। পূর্ণ বয়স্কা ঋতুমতী নারীরাই কেবল সন্তান ধারণে সক্ষম হন। তাই অম্বুবাচীর পর ধরিত্রীও শস্য শ্যামলা হয়ে ওঠেন। শাস্ত্র মতে অম্বুবাচির আরম্ভ কাল কে বলে অম্বুবাচী প্রবৃত্তি ও সমাপ্তিমে বলে অম্বুবাচি নিবৃত্তি|অম্বুবাচীর সময় দেবী পূজা বন্ধ থাকলেও,বিভিন্ন তন্ত্রের আরাধনা করা হয়|বিগত বছর গুলিতে তারাপীঠ কামাখ্যা সহ একাধিক শক্তি পীঠে নানান বিধি নিষেধ আরোপিত ছিলো তাই সেই আগের মতো তন্ত্র সাধনা বা জনসমাগম হয়তো চোখে পড়েনি তবে এবছর আবার সেই চেনা ছবি দেখা যেতে পারে|অসমের কামাক্ষ্যায় বিশেষ পুজো পালিত হয় অম্বুবাচী উপলক্ষ্যে। এই তিনদিন সময়ের মধ্যে কামাক্ষ্যা থেকে শুরু করে দেশের সমস্ত দেবীস্থানে দরজা বন্ধ থাকে। স্পর্শ করার নিয়ম থাকে না দেবীকে। শাস্ত্র মতে, সতীর গর্ভ ও যোনি পড়েছিল কামাক্ষ্যায়। সেই সময় থেকে এই জায়গা পবিত্র সতীপীঠ।আগামী পর্ব গুলিতে বলবো কামাখ্যা ও অম্বুবাচি সংক্রান্ত আরো অনেক কথা পাশাপাশি জানাবো এই সময়ে কি করবেন এবং কি করবেন না তাই পড়তে থাকুন|জ্যোতিষ সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা নিয়ে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|নমস্কার|

তীর্থক্ষেত্রে পন্ডিতজি – কোনারক সূর্য মন্দির

পেশাগত জ্যোতিষ চর্চার পাশাপাশি যতটা সময় পাওয়া যায় তা পড়াশোনা, তীর্থ যাত্রা গবেষণার কাজে লাগাতে চেষ্টা করি |ফল স্বরূপ এই ধারাবাহিক লেখনী নিয়ে আসতে পেরেছি আপনাদের সামনে|আগের পর্বে পুরী নিয়ে বলেছিলাম আজকের পর্বে কোনারকের সূর্য মন্দির কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরবো|১২৫০ সালে কলিঙ্গের রাজা নরসিংহ দেব কোনারকের সূর্য মন্দির তৈরি করেন|বর্তমানে উড়িষ্যার ভুবনেশ্বর থেকে ৬০ কিলোমিটার ও পুরী থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মন্দিরটি|উড়িষ্যা ও দ্রাবিড় সভ্যতার সংমিশ্রণে ধূসর রঙের বেলেপাথর দিয়ে এই বিশাল রথের আকারের মন্দির তৈরি হয়েছে যার সম্মুখে রয়েছে সূর্যদেবের সাত জোড়া ঘোড়া।আজও এই কোনারক সূর্য মন্দির বহন করে চলেছে একাধিক রহস্য|এই মন্দিরে না আছে বিগ্রহ না হয়েছে কোনদিন পূজা|কিন্তু কেনো?সেও এক রহস্য|রাজার আদেশ ছিলো এই মন্দিরে প্রতিদিন ১২০০ শ্রমিক কাজ করবে আর তারা ১২ বছরে এই মন্দির নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করবে। এই সময়ের থেকে একদিন কমবেশি বা একজন শ্রমিক কম-বেশি হলে সকলের প্রাণদণ্ড দেওয়া হবে|কিন্তু সেই আদেশ শেষ পয্যন্ত মানা হয়নি|নির্মাণ কাজে অংশ নেয়া এক শ্রমিকের পুত্র ধর্মদাস মঙ্গলঘট নির্মাণের কাজে হাত লাগায় এবং সফল হয়। কিন্তু তাতে রাজার নির্দেশ অমান্য করা হয় কারণ শ্রমিকের সংখ্যা ১২০০ থেকে ১২০১ হয়|তখন ধর্মদাস ১২০০ শ্রমিকের জীবন বাঁচানোর জন্য মন্দিরের চূড়া থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তখন থেকেই এই মন্দির অপবিত্র হয়ে যায়। তাই এই মন্দিরে আজও পূজা হয়না|এই মন্দিরের আরেকটি রহস্য হল এর চুম্বকত্ব যা অনেক বড় বড় জিনিসকেওআকর্ষণ করতো নিজের দিকে|শোনা যায় ইংরেজরা যখন পুরী বন্দরে তাদের জাহাজ নিয়ে আসত তখন মাঝেমধ্যেই দিকভ্রান্ত হয়ে পড়তো। তখন ইংরেজরা এর কারণ অনুসন্ধান করে জানতে পারেন যে মন্দিরের ভেতরে রয়েছে এক বিশাল আকার শক্তিশালী চুম্বক। তখন তারা নিজেদের সমস্যা সমাধানের জন্য এই মন্দির থেকে চুম্বক খুলে নিয়ে যায় এতে মন্দিরের কিছু ক্ষতিও হয় যা পরে মেরামত করা হয়|আমার মতে কোনারক মন্দিরের সবথেকে বেশি রহস্যময় দিক হলো তার নির্মাণ শৈলী যা জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিত, জ্যামিতি আর ভাস্কর্যের এক অদ্ভুত জটিল সংমিশ্রনে তৈরি|রথ এর আদলে তৈরী এই সূর্য্য মন্দিরের ১২ জোড়া চাকা ছিল আদতে প্রতিটা চাকা একেকটি সূর্য্য ঘড়ি|মন্দির গাত্রে চিত্রিত ভাস্কর্য্য ও কম রহস্যময় নয় যা নিয়ে আজও গবেষণা হচ্ছে সারা বিশ্ব জুড়ে|দেবতা না থাকলেও, পুজো না হলেও প্রাচীন ভারতের শিল্পকর্মের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরন হিসেবে কোনারক সূর্য মন্দির সারা পৃথিবীতে সমাদৃত|আগামী পর্বে আবার ফিরবো এক নতুন কোনো তীর্থ ক্ষেত্র নিয়ে|জ্যোতিষ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনে উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরান রহস্য – শনিদেব ও রাবন

আজ শনিদেবকে কেন্দ্র করে ঘটা এক পৌরাণিক ঘটনার কথা বলবো যেখানে রয়েছেন লংকাঅধিপতি রাবন এবং রুদ্রঅবতার হুনুমান|রাবন পুত্র মেঘনাথ যখন জন্ম গ্রন্থন করেন তখন আকাশে শনিদেবের খুব প্রভাব চলছিল|রাবন চেয়েছিলেন মেঘনাথের জন্মের সময় সব গ্রহরা তার অনুকূলে থাকবেন|এমন ভাবে তারা অবস্থান করবেন যাতে মেঘনাথ হবেন অমর ওঅপরাজেয়|নিজের ক্ষমতার অপব্যাবহার করে রাবন সব গ্রহদের বন্দী করলেন এবং একটি নিদ্দিষ্ট ভাবে অবস্থান করতে বাধ্য করলেন কিন্তু চতুর শনিদেব চক্রান্ত করলেন এবং নিজের পা ব্যবহার করে তার নিদ্দিষ্ট ভাবের সীমানা অতিক্রম করে অন্য রাশিতে নিজের সঞ্চার ঘটালেন|ফলে মেঘনাথের জন্ম কালে হিসেব উল্টো পাল্টা হয়ে গেলো এবং শনিগ্রহের এই প্রভাবে মেঘনাথর আর অমরত্ব পাওয়া হয়নি|এই ঘটনায় রাবন খুব রেগে যান এবং শনিদেব কে আঘাত করে বসলেন| রাবন ছিলেন অনেক বড় যোগী। যোগ বলে তিনি শনিদেবকে আটক করে রেখেছিলেন লঙ্কাতে|পরবর্তীতে হনুমানজী যখন রামজীর দেওয়া আংটি সীতা মাতাকে পৌঁছে দিতে লঙ্কা পৌছন তখন দেখেন শনিদেব আটক রয়েছেন। উনি সব কথা শোনেন এবং শনিদেবকে সেখানে থেকে মুক্ত করেন। কৃতজ্ঞতা বসত শনিদেব কথা দেন তিনি রামচন্দ্র ও হনুমানজীর ভক্তদের বিশেষ আশীর্বাদ অর্পন করবেন|তবে এর পরেও একাধিক বার শনিদেব ও হনুমান মুখোমুখি হয়েছেন|সে নিয়েও আছে রোমাঞ্চকর পৌরাণিক কাহিনী|সেই সব ঘটনা বলবো যথা সময়ে, যথা স্থানে|আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি|চলবে পুরান কথা পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|