রাখী বন্ধন

117

আজ রাখী পূর্ণিমা|ভারতীয় সনাতন সভ্যতায় বহু প্রাচীন কালথেকে চলে আসছে এই উৎসব|ভারতের পুরাণ, মহাকাব্য থেকে ইতিহাস ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রক্ষাবন্ধনের গল্প|রামায়নে মহর্ষি বাল্মীকির আশ্রমে রাম-সীতার দুই সন্তান লব-কুশের জন্মের পর তাদের হাতে সুরক্ষা কবচ হিসেবে একটি বিশেষ সুতো বেঁধে দেন বাল্মীকি|মহাভারতে, মা কুন্তী যখন কর্ণকে জন্মের পর জলে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন সদ্যোজাতের হাতে বেঁধে দিয়েছিলেন একটি সুতো যা রাখীর মতোই রক্ষা কবচ হিসেবে রক্ষা করেছিলো তার সন্তানকে|শিশুপালের দিকে সুদর্শন চক্র ছুড়ে দেওয়ার সময় কৃষ্ণের হাতের আঙ্গুল কেটে রক্ত বের হতে শুরু করে। কৃষ্ণসখী দ্রৌপদী তাঁর শাড়ির আঁচল খানিকটা ছিঁড়ে তাঁর হাতে বেঁধে দেন। বড়ো ভাইয়ের ন্যায় শ্রীকৃষ্ণও দ্রৌপদীকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেন|এও তো একপ্রকার রাখী বন্ধন|পুরান অনুসারে দেবী লক্ষী রাজা বলীর হাতে রাখী পড়িয়ে বিষ্ণু কে বৈকুন্ঠ লোকে ফিরিয়ে এনেছিলেন|রাখী বন্ধন প্রতিশ্রুতি রক্ষার উত্সব। ভাইবোনের মধ্যেই হোক কিংবা প্রিয় দুই মানুষের মধ্যে। সেই জন্যই তো প্রেম পর্যায়ের গানেও রবি ঠাকুর লিখেছেন … ” মনে ক’রে সখী, বাঁধিয়া রাখিয়ো আমার হাতের রাখী– তোমার কনককঙ্কনে|আপনাদের সকলকে জানাই রাখী বন্ধনের অনেক শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|