মন্দির রহস্য : দেবজী মহারাজের মন্দির

137

বহুদিন পরে আজ আবার আপনাদের ভারতের এক প্রাচীন রহস্যময় মন্দিরের কথা বলবো যার সাথে জড়িত আছে বহু কিংবদন্তী ও অলৌকিক ঘটনা|রয়েছে অশরীরী বা ভূতেদের উপস্থিতি নিয়ে নানান জনশ্রুতি|মধ্যপ্রদেশ এর ভোপাল থেকে প্রায় তিনশো কিলোমিটার দূরে মালাজপুরের একটি ছোট্ট গ্রাম বেতুল। এই বেতুলে অবস্থিত দেবজি মহারাজ মন্দির|কথিত আছে গুরু দেওজি সন্ত একজন অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন রাজপুরোহিত ছিলেন। শোনা যায় তিনি বালিকে চিনিতে, পাথরকে নারকেলে, কাদাকে ফসলে পরিবর্তিত করতে পারতেন। অশুভ শক্তি কে বিতাড়িত করার অদ্ভুত ক্ষমতাও তাঁর ছিল। তিনি মারা যাওয়ার পর তাঁর স্মৃতিতে গ্রামবাসীরা একটি সমাধি মন্দির তৈরি করে|কথিত আছে এই মন্দিরে এলে দেবজী মহারাজের আশীর্বাদে ও কৃপায় যেকনো ব্যাক্তির উপর ভর করে থাকা অশুভ শক্তি বা আত্মা পলায়ন করতে বাধ্য হয়|এখানে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় চারশো বছরের পুরোনো অদ্ভুত মেলা। সারা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এই অদ্ভুত মেলা প্রত্যক্ষ করার জন্য এই মন্দিরে উপস্থিত হন।এই মেলা ভূত মেলা নামে খ্যাত|চিরাচরিত প্রথা অনুসারে ভক্তরা শরীরে থাকা প্রেতকে তাড়ানোর জন্য হাতে কর্পূর জ্বালিয়ে দেবতাকে উপাসনা করেন । এছাড়াও এখানে ঝাড়ু পেটা করে ভূত তাড়ানোরও রীতি রয়েছে ।মেলা চলাকালী এবং সারা বছর গুরু দেওজি সন্ত মহারাজের সমাধির সামনে প্রতিদিন বিকেল বেলা আরতির পর অশুভ আত্মাকে তাড়িয়ে মানুষদের সুস্থ করা হয়।দেবজী মহারাজের এই মন্দিরে বহু কাল থেকে অলৌকিক এই ঘটনা ঘটে আসছে| আরতির পর সাধারণ দর্শনার্থীরা ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে এবং ভূতে ধরা মানুষেরা ঘড়ির কাঁটার দিকে মন্দিরটি পরিক্রমা শুরু করেন। এই পরিক্রমার সময় গুরু মহারাজের নামে মন্ত্রোচ্চারণের মাঝেই মন্ত্রঃপুত জল ছিটানো হয়। এরপরেই ভূতে ধরা মানুষেরা পাগলের মতো আচরণ করতে করতে অজ্ঞান হয়ে পড়েন ও পরবর্তীতে সুস্থ হয়ে যান|ভারত আস্থা ও বিশ্বাসের দেশ আর মানুষের বিশ্বাস যুক্তি তর্কের উর্দ্ধে|এমন আরো অনেক রহস্যময় মন্দিরের কথা বলবো আগামী দিনে|আপাতত চেম্বারে ও অনলাইনে নিয়মিত ভাগ্যবিচারের কাজ চলছে|প্রয়োজনে উল্লেখিত নাম্বারে নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করতে পারেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|