আজ এই পর্বে যে দেবীর কথা লিখবো তিনি ঠিক কালী না হলেও মাতৃ শক্তির এক রূপ এবং তার মন্দিরের কিছু বিশেষত্ত্ব আছে যা এই কালী ক্ষেত্রতে আপনাদের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন বলে মনে হয়|আজ গড়বেতার মা সর্বমঙ্গলার কথা বলবো অনেকেই মনে করেন এই মা সর্বমঙ্গলা দুর্গারই আর এক রূপ।গড়বেতা বললেই প্রথমে আসে সর্বমঙ্গলা মন্দিরের কথা।এককালে গড়বেতা সংলগ্ন বিরাট অঞ্চল জঙ্গলাকীর্ণ ছিল এবং অনার্য উপজাতদের বাসভূমি ছিল। শিকারই ছিল তাদের প্রধান উপজীবিকা। শিকার করতে যাওয়ার আগে তারা এক বনদেবীর পুজো করত। এই বনদেবী পরবর্তীকালে বগড়ীর অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা নামে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কথিত আছে, মহারাজ বিক্রমাদিত্য সর্বমঙ্গলা মায়ের সামনে তপস্যায় বসেন। তাঁর তপস্যায় মুগ্ধ হয়ে দেবী তাঁকে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী করে দেন।নিজের অলৌকিক ক্ষমতা পরখ করতে রাজা বিক্রমাদিত্য তার অনুগত বেতালকে নির্দেশ দেন মন্দিরের মুখ দক্ষিণ থেকে উত্তরে করতে। সঙ্গে সঙ্গে বেতাল মন্দিরের মুখ পরিবর্তন করে দেন।আজও মন্দির সেই ভাবেই অবস্থান করছে|পরবর্তীতে রাজা গজপতি সিংহ এই মন্দিরটি সংস্কার করে বিগ্রহ নব রূপে প্রতিষ্ঠা করেন।মন্দির স্থাপত্যশৈলীর নিরিখে এই মন্দিরটি পীর দেউল পর্যায়ে পড়ে অর্থাৎ ওপরদিকে ধাপে ধাপে ক্রমহ্রাসমান এবং সেখানে আকারে ছাদ বিশিষ্ট মন্দির রয়েছে|এই মন্দিরের বিশেষত্ব হলো সাধারণত হিন্দু দেবদেবীর মন্দিরের মুখ হয় দক্ষিণে। তবে সর্বমঙ্গলা মন্দিরের মুখ উত্তর দিকে|এই মন্দিরটি ভারতের একমাত্র উত্তরমুখী মন্দির|সর্বমঙ্গলা মন্দিরের পাশাপাশি এখানে রয়েছে ১২টি শিবের মন্দিরও।সব মিলিয়ে কিংবদন্তী, ইতিহাস ও প্রাচীন জশ্রুতিতে ভরপুর এই তীর্থক্ষেত্র|চলতে থাকবে কালী তীর্থ নিয়ে লেখালেখি ও কালী তত্ত্ব নিয়ে নানা ব্যাখ্যা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
কালী তীর্থ – সোনামুখীর মাইতো কালী
আজ কালী তীর্থতে লিখবো বাঁকুড়ার সোনামুখীতে অবস্থিত মাইতো কালী মন্দিরের কথা শুরু করবো একটি ঐতিহাসিক ঘটনা দিয়ে যা আবার অলৌকিক ও বটে|বাংলায় নবাবি আমল তখনো আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয় নি, সময় টা ১১৪৯ সাল, মারাঠা সেনাপতি ভাস্করপন্ডিত বর্গীদের একটি দলসহ বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর থেকে সোনামুখিতে যায়|মা কালীর মন্দিরের সামনে বর্গীদস্যুদল সমবেত হয় লুঠতরাজের জন্য। এই এলাকার চারদিক তখন গাছপালায় ভরা ছিল। তারই মধ্যে ছিল কালীর মন্দির।কথিত আছে সেদিন এই অঞ্চলের মানুষজন সকলে বর্গী দস্যুদের ভয়ে বাইরে বেরোননি।শুধু এক বৃদ্ধ সাহস করে সন্ধ্যায় দেবীমন্দিরে আলো দেওয়ার জন্য একটি প্রদীপ নিয়ে মন্দিরে ঘটের সামনে রেখে বলিস্থানে হাড়িকাঠের সামনে প্রণাম করছিলেন।এই ঘটনায় প্রবল রাগে বর্গীদলের সর্দার একটি খাঁড়া উঠিয়ে প্রণামরতবৃদ্ধকে বলি দিতে উদ্যত হয়।কিন্তু বলী দেয়া যায়নি অলৌকিক কোনো শক্তির প্রভাবে খাড়া নিচে নামেনি|এমনকি বর্গীদের সর্দার অন্ধও হয়ে যান। পরে ওই বৃদ্ধের চেষ্টাতেই সর্দার দৃষ্টি শক্তি ফিরে পান। এই সময় বর্গীদল বলে তারা আর লুঠপাট করবে না এবং তারা ফিরে যায় ওই স্থান ছেড়ে|কেনো দেবীকে মাইতো কালী বলে তার ও ব্যাখ্যা আছে, শোনা যায় ডাকাত দল যাওয়ার সময় ‘মায়ী-ত কালী হ্যায়, মায়ী-ত কালী হ্যায়” বলতে বলতে জয়ধ্বনি দিতে দিতে যায় । তখন থেকেই এই কালীর নাম হয় ” মাই- তো- কালী “।মাইতো কালী মন্দিরে কালীপুজোর সময় পাঁচদিন ধরে পুজো চলে আড়ম্বরের সঙ্গে। একসময় এই পুজো স্থানীয় বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের পুজো হলেও এই পুজো আজ সকলের এবং গোটা বাংলার প্রসিদ্ধ কালীক্ষেত্র গুলির মধ্যে অন্যতম|আবার আগামী পর্বে অন্য কোনো কালী তীর্থ নিয়ে ফিরে আসবো|দেখতে থাকুন|ধন্যবাদ|
কালী তীর্থ – দুর্লভা কালী, বর্ধমান
আজ থেকে শুরু করছি কালী তীর্থ নিয়ে একটি বিশেষ সিরিজ|কালী তীর্থ পর্বে আজ আপনাদের নিয়ে যাবো বর্ধমান, বলবো বর্ধমানের প্রসিদ্ধ কালী মন্দির গুলির মধ্যে অন্যতম দুর্লভা কালী নিয়ে ।বর্ধমানের দুর্লভা কালীর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য অলৌকিক জশ্রুতি ও ঘটনা|স্বাগত আপনাদের কালীতীর্থর এই পর্বে যে অলৌকিক ঘটনার মাধ্যমে গড়ে ওঠে এই প্রাচীন কালী মন্দির সেই ঐতিহাসিক ঘটনার প্রধান দুটি চরিত্র হোলেন প্রখ্যাত তান্ত্রিক সাধক গোকুলানন্দ ব্রহ্মচারি ও বর্ধমানের মহারাজা তেজচাঁদ|জনশ্রুতি অনুসারে ঘটনাটি অনেকটা এই রকম|লোকমুখে তাঁর নানান অলৌকিক ক্ষমতা ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই ক্ষমতার কথা শুনে একদিন রাত্রে বর্ধমানের মহারাজ তেজচাঁদ মন্ত্রী সান্ত্রীদের নিয়ে সেখানে গেলেন গোকুলানন্দ কাছে|চারদিকে ঘন জঙ্গল। তার মাঝে বসে কালী সাধনা করছেন তান্ত্রিক গোকুলানন্দ ব্রহ্মচারী। বর্ধমানের মহারাজ দেখতে চান তান্ত্রিকের অলৌকিক ক্ষমতা। সেদিন ঘোর অমাবস্যা। রাজা জানতে চাইলেন, আজ কি তিথি? তান্ত্রিক জানালেন, আজ পূর্ণিমা। রাজা বললেন, আমাকে পূর্ণিমার চাঁদ দেখাতে পারেন।তান্ত্রিক গোকুলানন্দ ব্রহ্মচারী বুঝলেন, রাজা তাঁর ক্ষমতার পরীক্ষা নিতে এসেছেন। মৃদু হাসলেন গোকুলানন্দ। চারদিক জ্যোৎস্না আলোকিত হয়ে উঠলো। আকাশের দিকে আঙুল দেখিয়ে তান্ত্রিক বললেন, ওই পূর্ণিমার চাঁদ। দেখুন মহারাজ|বিস্মিত চোখে তন্ত্র শক্তির অদ্ভুত প্রয়োগ দেখলেন রাজা|পরবর্তীতে মহারাজ তেজচাঁদ কালী মন্দির করে দিলেন। সেদিন থেকেই বর্ধমানের লাকুড্ডির দুর্লভা কালীবাড়িতে নিত্য পুজো চলছে।এই কালীমন্দিরে ঘটের আবাহন বা বিসর্জন নেই। ঘট ছাড়াই শুধু বিগ্রহের নিত্য পূজা হয় এই কালী মন্দিরে।বর্ধমানের রাজারা এই মন্দিরে ভোগঘর তৈরি করে দেন। পুজোর ব্যয়ভার বহন করতেন তাঁরাই। এখানে আজও নিত্য পূজার পাশাপাশি দেবীকে অন্নভোগ নিবেদন করা হয়।দীপান্বিতা কালীপুজোয় অগণিত ভক্তের সমাগম হয় মন্দিরে। মনে করা হয় দেবীর দর্শন পাওয়া অতি দুর্লভ। তাই নাম দুর্লভা কালী। প্রায় আড়াইশো বছর আগে তান্ত্রিক গোকুলানন্দ ব্রহ্মচারী পাশের জলাশয়ে স্নান করতে নেমে একটি পাথর পান।সেই পাথরকেই মা কালী রূপে পুজো করেন তিনি। সেই পাথর খণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয় রাজার তৈরি করে দেওয়া মন্দিরে। পরে কালীমূর্তি প্রতিষ্ঠিত হলেও আজও সেখানে সেই পাথর খণ্ড সামনে রেখেই পুজো করা হয়। সাধক কমলাকান্তও এখানে তন্ত্র সাধনা করতে আসতেন বলে শোনা যায়|কালী তীর্থ নিয়ে আজকের কথা এখানেই শেষ করলাম|তবে চলতে থাকবে কালী কথা, পড়তে থাকুন|সঙ্গে থাকুন|ধন্যবাদ|
বাংলার কালী – হট নগর কালী মন্দির
বাঁকুড়ার সোনামুখী তে রয়েছে এক অদ্ভুত নামের কালী মন্দির এবং তার সাথে জড়িত জশ্রুতিটিও বেশ অলৌকিক|হট্নগর’ কালীর নামকরণ নিয়ে বিভিন্ন লোককথা প্রচলিত। কেউ বলেন, হট্ নামে এক যোগী পুরুষ এই কালীর পুজো করতেন বলে এ রকম নামকরণ। আবার অনেকে বলেন, মা কালী হঠাৎ এসেছিলেন। তাই ‘হট্ নগর’ কালী নামকরণ হয়েছে।
কথিত আছে, গ্রামের পথে চিঁড়ে বিক্রি করে ফেরার পথে একটি শ্যামাঙ্গী মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় সোনামুখীর তারিণী সূত্রধরের বাচ্ছা মেয়েটি তার ঝুঁরিতে চেপে বসে পরে বাড়িতে এসে তারিণী দেবী দেখেন ওই মায়ের জায়গায় দুটি পাথর রয়েছে, পরবর্তীতে তিনি সপ্নাদেশ পান যে ওই মেয়ে মা কালী এবং মন্দির নির্মাণ হয় স্থানীয় জমিদারের সহায়তায়|
চারশো বছরের পুরোনো এই মন্দিরের গঠনশৈলী অদ্ভুত। মন্দিরের সামনে রাখা রয়েছে তারিণী সূত্রধরের একটি মূর্তি। সেখানে দেখা যায়, মাথায় ধানের ঝুড়িতে চেপে মা আসছেন। অন্য দিকে সিদ্ধপুরুষ হট্ যোগীর মূর্তি। সবার উপরে শিব।যদিও বহুবার সংস্কার হয়েছে মন্দিরের তবে সেই দৈব পাথর আজও সংরক্ষিত আছে মন্দিরে|মন্দিরে ঘট রেখে পুজো করা হয়। পরে বছর বাৎসরিক পুজোর সময় সেই ঘট বিসর্জন দিয়ে নতুন ঘট আনা হয়।
প্রত্যেক দিনই ভক্তদের ভিড় লাগে থাকে হট নগর কালী মন্দিরে এবং বিশেষ বিশেষ তিথিতে হয় বিশেষ পুজো|আজ বাংলার কালী এই খানেই শেষ করছি|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
মন্দির রহস্য – পঞ্চানন তলার সরস্বতী মন্দির
সারা দেশের বহু শিব মন্দির, কালী মন্দির, হনুমান মন্দিরের কথা আপনাদের বলছি আগেই, এমনকি রহস্যময় শনি মন্দির ও যমরাজ এর মন্দির ও আছে সেই তালিকায়|কিছু দিন আগেই গেছে সরস্বতী পুজো তাই ভাবলাম আজ এই বাংলার সম্ভবত একমাত্র সরস্বতী মন্দির ও তার নির্মাণের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আপনাদের সামনে তুলে ধরি|হাওড়া পঞ্চানন তলায় ১৯২৩ সালের ২৮ জুন প্রতিষ্ঠিত হয় এই মন্দির|যা বাংলার প্রথম সরস্বতী মন্দির|মন্দির নির্মাণের প্রধান কান্ডারী উমেশ চন্দ্র দাস ও তার পরিবার।তাঁর আদি বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে।বর্গী হানার আশঙ্কায় তাঁরা সেখান থেকে হুগলির বাঁশবেড়িয়ায় চলে যান। ১৮৫৬ থেকে ১৮৮৭ পর্যন্ত হাওড়া জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন তিনি|অবসর নিয়ে জয় পুর থেকে স্বেত পাথরের মূর্তি আনিয়ে তিনি সরস্বতী পুজোর সূচনা করেন|তবে ইচ্ছে থাকলেও উমেশচন্দ্র ওই মন্দির প্রতিষ্ঠা করে যেতে পারেননি। ১৯১৩ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর বছর দশেক পরে ১৯২৩ এর ২৮ জুন মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০১ এ সেটির সংস্কার হয়।বরাবরই শিক্ষা ক্ষেত্র কে সর্বাধিক গরুত্বদেয়া উমেশ বাবু সরস্বতী আরাধনাকেই অবসর জীবনের ব্রত করে নিয়েছিলেন এবং তার ইচ্ছাকে মর্যাদা দিয়ে তৈরী হয় এই সরস্বতী মন্দির|মন্দির ও দেবী প্রতিমা অপূর্ব সুন্দর|মূর্তি একটি শ্বেতপাথর কেটে তৈরি মূর্তিটি চার ফুট লম্বা। শ্বেতপাথরের তৈরি মা সরস্বতী দাঁড়িয়ে আছেন হাঁসের উপরে, বাঁ হাতে ধরা বীণা|বাসন্তী রঙের মন্দিরের চূড়া। চূড়ায় রয়েছে ধাতুর ত্রিশূল আর চক্র। চূড়ার চার কোণে ফুলের আকৃতি। চার কোণে রয়েছে দেবীর বাহন হাঁস। তাদের নিচে রয়েছে বীণা। রয়েছে শঙ্খ।অনেকেই হয়তো দেখেছেন বা জানেন এই মন্দিরের কথা তবে বিস্তারিত ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অনেক তথ্যই হয়তো এতদিন অজানা ছিলো সেই অজানা ইতিহাস আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
বাংলার কালী – মালদার গোবরজনা কালি মন্দির
আজ বহুদিন পর আরো একটি প্রাচীন কালী মন্দির নিয়ে লিখবো|সম্প্রতি এই মন্দির নিয়ে আমার টিভির অনুষ্ঠানেও বলেছি|আজকের পর্বে গোবরজন্না কালি মন্দির| মালদার গোবরজন্না কালি মন্দিরের কথা অনেকেরই অজানা। কিন্তু প্রচারের আলো থেকে অনেকটাই দূরে হলেও এই কালিমন্দিরের মাহাত্ম্য কিন্তু অপরিসীম|প্রায় ৩০০ বছরেরও বেশি পুরনো এই মা কালীর মন্দির, কিন্তু জাঁকযমকে কিন্তু এতটুকু ভাটা পড়েনি। আজও প্রত্যেক কার্তিক অমাবস্যা তিথিতে ধুমধাম করে দেবীর আরাধনা করা হয়। মালদা জেলার প্রসিদ্ধ কালীপুজো গুলোর মধ্যে অন্যতম গোবরজনা কালী পুজো। মালদা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে পুকুরিয়া থানার অন্তর্গত আড়াইডাঙ্গা অঞ্চলে গোবরজনা গ্রাম। আর এই গ্রামে দেড় বিঘা জমির উপর স্থাপিত গোবরজনা প্রাচীন কালী মন্দির | কথিত আছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেবী চৌধুরানী উপন্যাসের নায়ক ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানীর স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এই পুজোয়। এই মন্দিরের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে কালিন্দী নদী। শোনা যায় একসময় ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানী বজরা করে এই নদী পথ দিয়ে যাওয়ার পথে নদীতে তাদের বজরা আটকে পড়ায় এই গোবর জনা কালী মন্দিরে রাত্রি যাপন করেছিলেন। তারপর মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে মায়ের পুজো দিয়েছিলেন তারা। তারপর থেকে এই পুজোকে ভবানী পাঠকের পূজো বলে আখ্যা দিয়ে থাকেন। বর্তমানে তার বংশধরেরা বংশপরম্পরায় পুজো করে আসছেন। এই মন্দিরে প্রতি কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে বিশেষ পুজো হয় এবং আমাবস্যা শেষে পাশেই কালিন্দী নদীতে প্রতিমা বিসর্জন করা হয়। কালী পূজার সময় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষাধিক ভক্ত ভিড় জমায় এই মন্দিরে। মন্দির সংলগ্ন এলাকায় বিশাল মেলা বসে পুজোর দুদিন। বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগমের ফলে নিরাপত্তার জন্য পুলিশি ব্যবস্থা থাকে আটোসাটো। কালীপুজোর দিন ছাড়াও প্রতি সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার পুজো হয়ে থাকে। এ পূজার একটি বড় বিষয় হল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধন। হিন্দু ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মের মানুষ অংশগ্রহণ করেন এই পুজোয়| আগামী পর্বে অজানা কোনো কালী ক্ষেত্র ও তার সাথে জড়িয়ে থাকা অলৌকিক গল্প নিয়ে আবার ফিরে আসবো পড়তে থাকুন|জ্যোতিষ কেন্দ্রিক সমস্যা নিয়ে সরাসরি আমার সাথে কথা বলতে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
শুভ সরস্বতী পুজো
আমাদের সনাতন ধর্মে বিদ্যার দেবী বলা হয় দেবী সরস্বতীকে তাই বিশেষ করে বিদ্যার্থীদের কাছে দেবী সরস্বতী পূজনীয় তবে সকল হিন্দুদের কাছেই তিনি পরম শ্রদ্ধার এবং পূজনীয়। তাঁর আশির্বাদে শুধুমাত্র বিদ্যা নয় বুদ্ধিও বৃদ্ধি পায়, বৃদ্ধি পায় সৃজন শীল ক্ষমতা ও সমৃদ্ধি|আজ সেই বহু প্রতীক্ষিত সরস্বতী পুজো|সরস্বতী শব্দের দুই অর্থ – একটি ত্রিলোক্য ব্যাপিনী সূর্যাগ্নি, অন্যটি নদী, শব্দের অর্থ অনুসারে সর শব্দের অর্থ জল অর্থাৎ যাতে জল আছে তাই সরস্বতী|পুরান মতে সৃষ্টির একদম আদি লগ্নে ধ্যানে বসেন সৃষ্টি কর্তা ব্রহ্মদেব সেই ধ্যানে তিনি তাঁর সকল ভালো গুণকে একত্র করতে থাকেন। আর ব্রহ্মার সকল ভালো গুণ একত্রিত হয়ে তা ধীরে ধীরে এক নারীর আকার নিতে থাকে।এবং সেই নারী পরবর্তীতে আবির্ভুতা হন দেবী সরস্বতী রূপে,এবং এই ভাবেই ধ্যান মগ্ন ব্রহ্মার মুখ গহ্বর থেকে সৃষ্টি হয় দেবী সরস্বতীর|জন্মের পর সরস্বতী তাঁকে এই বিশ্বকে কী ভাবে আরও সুন্দর করে তোলা যায়, সে সম্পর্কে পরামর্শ দেন ও ব্রহ্মা দেবী সরস্বতীর উপর দায়িত্ব দেন বিশ্বের সৌন্দর্য রক্ষা ও সমস্ত সৃজন শীল কাজের|অনেকেই প্রশ্ন করেন রাজহংস কেন সরস্বতীর বাহন| এর কারন জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই হাঁসের সমান গতি, ঠিক যেমন জ্ঞানময় পরমাত্মা সর্বব্যাপী ও সর্বত্র বিরাজমান অর্থাৎ পরম জ্ঞানের প্রতিক এই রাজ হংস|আবার হংসের রয়েছে এক অদ্ভুত ক্ষমতা, হংস জল ও দুধের পার্থক্য করতে সক্ষম। জল ও দুধ একত্রে মিশ্রিত থাকলে হাঁস শুধু সারবস্তু দুগ্ধ বা ক্ষীরটুকুই গ্রহণ করে, জল পড়ে থাকে। জগতে জ্ঞান থাকবে অজ্ঞানতাও থাকবে, শিক্ষা থাকবে অশিক্ষাও থাকবে, সংস্কার থাকবে কু সংস্কার ও থাকবে, তবে আমাদের সচেতন ভাবে হংসের ন্যায় ভালো টা নিতে হবে আর খারাপ টা বর্জন করতে হবে এটা বোঝাতেই সরস্বতীর বাহন হিসেবে হংসকে নির্বাচিত করা হয়েছে|সরস্বতী পূজা করুন ভক্তি ভরে,অঞ্জলি দিন শাস্ত্র মতে|দেখতে থাকুন আমার প্রতিটি অনুষ্ঠান আর যেকোনো গ্রহগত সমস্যার সমাধানের জন্যে যোগাযোগ করুন আমার উল্লেখিত নাম্বারে|সবাইকে সরস্বতী পূজার শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান রহস্য : সরস্বতী পুজোর আগে কেনো কুল খেতে নেই ?
বলা হয় সরস্বতী পুজোর আগে কেনো কুল খেতে নেই, বিশেষত বিদ্যার্থীদের তার উত্তর ও রয়েছে পুরানে,সরস্বতী বন্দনার ঠিক আগে আজ একটি পৌরাণিক ঘটনা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো যার মাধ্যমে আপনারা জানতে পারবেন কেনো সরস্বতী পুজোর আগে বিদ্যার্থীদের কুল খেতে নিষেধ করা হয়|এই ঘটনায় প্রধান চরিত্র ব্যাসদেব|পুরাণ মতে, ধ্যান ও ভক্তির দ্বারা দেবী সরস্বতীকে তুষ্ট করতে একদিন বদ্রিকাশ্রমে তপস্যা করার সিদ্ধান্ত নেন মহামুনি ব্যাসদেব। তপস্যা শুরুর আগেই দেবী সরস্বতী ব্যাসদেবকে একটি শর্ত দেন তাঁকে। একটি কুল বীজ রেখে তিনি বলেন, এই বীজ থেকে গাছ হয়ে কুল হবে। সেই কুল যেদিন ব্যাসদেবের মাথায় পড়বে সেদিন দেবী সন্তুষ্ট হবেন ব্যাসদেবের তপস্যা সম্পূর্ণ হবে। অর্থাৎ বিরাট একটি সময় সীমা নির্ধারিত হয়|দেবী সরস্বতীর শর্ত মেনে নিয়ে তপস্যা শুরু করেন ব্যাসদেব। দীর্ঘ সময় কেটে গেলো সেই বীজ থেকে গাছ হল, গাছে কুল ধরল এবং কুল পেকে তা ব্যাসদেবের মাথাতেও পড়ল। ঘটনাচক্রে সেই দিনটা ছিল বসন্তী পঞ্চমী, এরপর সরস্বতীর অর্চনায় কুল ফল নিবেদন করেন ব্যাসদেব । সেই থেকেই বিদ্যার দেবীর প্রসাদ হিসেবেই মরসুমের প্রথম কুল খাই আমরা। এবং দেবীর পুজোর আগে কারোর কুল খাওয়া উচিত নয় বিশেষ করে ছাত্র ছাত্রীদের কারন সরস্বতীর কৃপা তাদের সবথেকে বেশি প্রয়োজন|অর্থাৎ প্রচলিত নিয়ম বা বিশ্বাসের সাথে জড়িত আছে শাস্ত্র|দেবী সরস্বতী ও তার পুজো নিয়ে আরো পৌরাণিক ঘটনার ও ব্যাখ্যা নিয়ে ফিরে আসবো যথা সময়ে|আপাতত অনলাইন ও চেম্বারে সমান ভাবে জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকার দেয়ার কাজ চলছে তার জন্য যোগাযোগ করতে হবে উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
বাংলার কালী – মহানাদ কালী মন্দির
আগামী 31 তারিখ মৌনী অমাবস্যা, এই অমাবস্যাতেই অনুষ্ঠিত হয় রটন্তী কালী পুজো|এবছর আমি নিজে মৌনী অমাবস্যার বিশেষ তিথিতে উপস্থিত থাকবো তারাপীঠে, হবে বিশেষ পুজো, হোম যজ্ঞ ও গ্রহ দোষ খন্ডনের শাস্ত্রীয় বিধি পালিত হবে ওই দিন|আজ রটন্তী কালী পুজোর ঠিক আগে বাংলার এক এমন প্রাচীন কালী মন্দিরের কথা আপনাদের বলবো যে মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো আজ থেকে প্রায় দুশো বছর আগে এমনই এক রটন্তী কালী পুজোর সময়|হুগলীর জমিদার কৃষ্ণচন্দ্র নিয়োগী ১৮৩০ সালে মহানাদ কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতি বছর জাঁকজমক করে দুর্গা, লক্ষ্মী ও জগদ্ধাত্রী পুজো হত পরবর্তীতে জমিদার সারা বছর দেবী দর্শন ও তার পুজো চালু রাখতে ১৮২২ সালে মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয়। টানা আট বছর ধরে ৮৪ ফুট উঁচু মন্দিরের কাজ শেষ হওয়ার পরে ১৮৩০ সালের মাঘ মাসে রটন্তি কালী পুজোর সময়ে মন্দিরে দক্ষিণা কালী প্রতিষ্ঠিত হয়। কথিত আছে একবার জমিদার বাড়িতে আসেন রানি রাসমণি। মন্দিরের গঠনশৈলী ও দক্ষিণা কালীর মূর্তি দেখে তিনি মুগ্ধ হন। তার কিছুদিন পরে রাসমণি তাঁর লোকজনদের এনে মন্দিরের উচ্চতা, প্রতিমার খুঁটিনাটি লিখে নিয়ে যান। শেষে মহানাদ কালী বাড়ির আদলেই দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণীর মন্দির তৈরিতে উদ্যোগী হন রানি। মন্দিরের উচ্চতা ৬৪ ফুট এবং কালীমূর্তির চারপাশে শিবলিঙ্গ রয়েছে। শিবলিঙ্গের পুজোর পরেই মায়ের পুজো শুরু হয়। মা খুব জাগ্রত বলে হাওড়া, হুগলি, বর্ধমান ও দুই ২৪ পরগনা থেকে বহু মানুষ ভিড় জমান এই মন্দিরে|রটন্তী অমাবস্যায় বিশেষ পুজো হয়|আপাতত চলবে কালী কথা, টিভির অনুষ্ঠানে আলোচনা করছি কালী ক্ষেত্র নিয়ে আগামী 31 তারিখ থাকবো তারাপীঠে, গ্রহ দোষ খণ্ডন ও তন্ত্র মতে প্রতিকারের জন্য যোগাযোগ করুন আমার সাথে, সরাসরি কথা বলুন|ভালো থাকুন|নমস্কার|
প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা
আমরা গর্বিত আমরা স্বাধীন প্রজাতান্ত্রিক ভারত বর্ষের নাগরিক, আমাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, সামাজিক নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত আছে যে সংবিধানের মাধ্যমে আজ সেই সংবিধান কার্যকর হওয়ার দিন|আজ আমাদের দেশের বাহাত্তর তম প্রজাতন্ত্র দিবস|প্রতিবারের মতো এবারও মহা সমারোহে দেশ জুড়ে পালিত হবে প্রজনতন্ত্র দিবস|হবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, রাষ্ট্রপ্রধানদের বক্তৃতা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা|আসুন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই মহান দিনটির সাথে জড়িয়ে থাকা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একটু ভালো করে আরো একবার জেনে নেয়া যাক|আনুষ্ঠানিক ভাবে এই দিন থেকেই বিশ্বের বৃহত্তম লিখিত সংবিধান আনুষ্ঠানিক ভাবে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতবর্ষের সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হয়|প্রজাতন্ত্র দিবসের সূচনা করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি,1950 সালের এই দিনেই স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ তার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন|১৯৫০ সালে এই দিনেই ভারতের সংবিধান গৃহীত হয়েছিল এবং জন্ম দিয়েছিল বিশ্বের বৃহত্তম প্রজাতন্ত্রের|যদিও শুরুটা ছিলো অন্যরকম ১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি জাতীয় কংগ্রেস ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি পূর্ণ স্বরাজ ঘোষণা করে এবং তারপর থেকে প্রতি বছর ওই দিনটাকেই স্বাধীনতা দিবস হিসাবে পালন করতে শুরু করে কিন্তু পরবর্তীতে ভারতের স্বাধীনতা আসে 1947 সালের 15ই আগস্ট এবং সেই থেকে ওই দিন স্বাধীনতা দিবস ও 26 এ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে|আজ প্রতিটা ভারতবাসির গর্বের দিন|আসুন আজ শ্রদ্ধা জানাই দেশের সংবিধানকে, শ্রদ্ধা জানাই দেশের বীর সৈনিকদের যারা রাষ্ট্র রক্ষায় আত্ম ত্যাগ করেছেন|জয় হিন্দ|বন্দে মাতারাম|আপনাদের সবাইকে জানাই প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|