Home Blog Page 126

শিবভূমি – ভূতনাথ মন্দির

আজ শুরু করবো শিবের একটি বিশেষ রূপ দিয়ে,শিবের অনেকগুলি রূপের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর রূপটি হলেন বীরভদ্র। সতীর দেহত্যাগের পর ক্র‌ুদ্ধ ভোলানাথ বীরভদ্রের রূপ ধারণ করেন|মতান্তরে সতী দক্ষযজ্ঞে পতিনিন্দা শুনে প্রাণত্যাগ করলে, মহাদেব ক্রোধে উত্তেজিত হয়ে নিজেরমুখ থেকে বীরভদ্রের জন্মদান করেন। শিব ও পার্বতীর প্রতি হওয়া অন্যায় ও অবিচারের প্রতিশোধ নিতে দক্ষর যজ্ঞ স্থলে এসে উপস্থিত হন বীরভদ্র|বীরভদ্র অনুচরসহ দক্ষযজ্ঞে উপস্থিত হলে,মহাকালীও বীরভদ্রের সাথে যোগ দেন।বীরভদ্র তাঁর রোমকূপ থেকে রৌম্য নামক রুদ্রতুল্য অসংখ্য গণদেবতা সৃষ্টি করেন। পরে তাদের সাথে নিয়ে ইনি যজ্ঞের সমস্ত উপকরণ চূর্ণ, উৎপাটন ও দগ্ধ করে সকলকে প্রহার করতে থাকেন। এই সময় দক্ষের মস্তক ছিন্ন হয়|তবুও বীরভদ্রের ক্রোধ শান্ত হয়না|দেবতারা বীরভদ্র কে নিরস্ত্র ও শান্ত করতে চেয়ে ব্যার্থ হন|অবশেষে ব্রহ্মা এসে বীরভদ্রের স্তুতি করে তাঁকে শান্ত করেন|এবার আসি শিবভূমিতে,উত্তরা খন্ডের ঋষিকেশে অবস্থিত একটি বহু প্রাচীন শিব মন্দির, শিব এখানে ভুতেশ্বর মহাদেব নামে প্রসিদ্ধ এবং মন্দিরটি ভূতনাথ মন্দির নামেই জগৎ বিখ্যাত|এই মন্দির ঘিরে রয়েছে একটি রহস্য ও পৌরাণিক আখ্যান|পুরান অনুসারে দক্ষ কন্যা পার্বতীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া শিবের বরযাত্রী এই স্থানে এসেছিলো, এবং যাত্রা পথে এই নিদ্দিষ্ট স্থানে তারা অপেক্ষা করে ছিলো কিছুক্ষন, এটি তাদের বিশ্রামের স্থান|পরবর্তীতে স্থানীয় দের অনুরোধে স্বয়ং প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি ভুতেশ্বর রূপে এই স্থানে সদা বিরাজমান থাকবেন, তারপর থেকে এই স্থানে সুদৃশ্য আটতল বিশিষ্ট ভূতনাথ মন্দিরে, তিনি বিরাজমান,এমনকি মহাদেবের অশরীরী সঙ্গী সাথীরাও রয়েছে স্বমহিমায়, এমনটাই প্রচলিত বিশ্বাস|কথিত আছে এই মন্দিরে এসে ভুতেশ্বর মহাদেবের দর্শন করলে অশুভ শক্তি, ভুত, প্রেত মানুষের আর কোনো ক্ষতি করতে পারেনা, বাবা ভুতেশ্বরের কৃপায় দূর হয় অশুভ শক্তি জনিত সব সমস্যা, তাই এই এই সব সমস্যায় পীড়িত বহু মানুষ প্রায় প্রতিদিন আসেন এই মন্দিরে, ভক্তি সহকারে পূজা দেন|মন্দির প্রাঙ্গনে রয়েছে একটি সুসজ্জিত বেদি যার চারপাশে ঝোলানো রয়েছে দশটি ঘন্টা এবং রহস্য রয়েছে এই খানেও, ওই দশটি ঘন্টা থেকে দশ প্রকার আলাদা আলাদা ধ্বনি উৎপন্ন হয় যার কোনো কারন বা ব্যাখ্যা আজও পাওয়া যায়নি|মন্দিরের চার পাশে বেশ একটা গা ছম ছমে অলৌকিক শক্তির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়. প্রতিদিন সন্ধে ছটায় বন্ধ হয় মন্দির|চলবে শিব ও শিব ভূমি নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|নমস্কার|ধন্যবাদ|

শিব ভূমি – অচলেস্বর শিব মন্দির 

আজকের পর্বে লিখবো একটি রহস্য ময় শিব মন্দির নিয়ে তবে তার আগে শিব নিয়ে কিছু কথা বলা দরকার|শিব দেবতাদের আরাধ্যা কিন্তু তিনি তাহলে সর্বদা কার ধ্যান করেন?সনাতন ধর্মে দেবতা ও দেবী কয়েক কোটি হতে পারে কিন্তু ভগবান একজনই তিনি কৃষ্ণ, আমরা জানি যিনি বিষ্ণু তিনিই কৃষ্ণ, তিনিই নারায়ন |তিনিই শিবের আরাধ্য|শিব তার ধ্যানেই মগ্ন থাকেন|শিব নিজে একজন পরম বৈষ্ণব|এই শ্রেষ্টত্ব নিয়ে অবশ্য শৈব্য ও বৈষ্ণবদের মাঝে মাঝেই বিরোধ দেখা দেয়|তবে সব বিবাদের সমাধান শিব নিজেই দিয়েছেন|দেবী পার্বতী একদিন শিব কে প্রশ্ন করেছিলেন যে তিনি কার ধ্যান করেন, উত্তরে শিব বলেন তিনি রামের ধ্যান করেন, অবশ্য তখন রামের জন্মই হয়নি, কিন্তু অন্তর্যামী মহাদেব ভগবানের লীলা জানতেন|রাম বিষ্ণুরই অবতার এতো আমরা সবাই জানি|এবার আসি আজকের শিব ভূমি অচলেশ্বর শিব মন্দিরের কথায়, কয়েকটি বিশেষ কারনে এই মন্দির বেশ রহস্যময় সে বিষয়ে পরে আসছি আগে এই মন্দির নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনাদের সাথে ভাগ করে নিই|রাজস্থানের সিরোহী জেলায় অচলগড় কেল্লার ঠিক বাইরেই এই মন্দিরের অবস্থান। অচলেস্বর শিব মন্দির নামেই বিখ্যাত এই মন্দির|কথিত আছে, মহাদেবের একটি পায়ের ছাপকে কেন্দ্র করে এই মন্দিরটি গড়ে ওঠে|নবম শতকে তৈরি হয় এই মন্দির|নন্দীর মূর্তির পাশাপাশি মন্দিরের মধ্যে রয়েছে একটি স্তূপ স্থানীয়দের বিশ্বাস এই স্তূপটি আদপে নরকের দক্ষিণ দ্বার|পাশেই রয়েছে একটি পুকুর। পুকুরের পাড়ে রয়েছে তিনটি ধাতব মহিষের মূর্তি। বলা হয়,এই তিনটি মূ্র্তি আসলে তিনটি রাক্ষসের প্রতিরূপ যারা এই মন্দির আক্রমন করে ও স্বাস্তি স্বরূপ পাথরে পরিণত হয়|ইতিহাস অনুসারে অতীতে বৈদেশিক আক্রমনের শিকার হয়েছে এই মন্দির কিন্তু রক্ষা পেয়েছে অলৌকিক ভাবে|এই মন্দিরের সবচেয়ে রহস্যময় বস্তুটি এর ভিতরে থাকা শিবলিঙ্গটি।দিনের বিভিন্ন সময়ে এর রং থাকে বিভিন্ন রকমের। দিনে অন্তত তিন বার রং বদলায় এই শিবলিঙ্গ। সকাল বেলা এর রং থাকে লাল, বিকেলে হয় জাফরান, আর রাত্রে এর রং হয় কালো|আরো একটি রহস্যময় ঘটনার উল্লেখ পাওয়াযায় এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে|একবার গর্ভগৃহটি সংস্কারের সময় খোঁড়াখুঁড়ি করতে গিয়ে গর্ভগৃহ বেষ্টন করে থাকা একটি সুড়ঙ্গ আবিষ্কৃত হয়। সুড়ঙ্গের মধ্যে দু’টি কুলুঙ্গিতে পাওয়া যায় দেবী চামুণ্ডার দু’টি মূ্র্তি। দেখা যায়, মূর্তি দু’টিতে লেপা রয়েছে সিঁদুর। যেন সদ্য পূজিতা হয়েছেন দেবী|এও এক রহস্য যার সমাধান আজও সম্ভব হয়নি|এই পর্ব এখানেই শেষ করছি|তবে চলতে থাকবে শিব ভূমি ও শিব তত্ব নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব ভূমি – জাটোলি শিব মন্দির

শিব ও শঙ্কর কি একজন নাকি দুই ভিন্ন সত্ত্বা আজকের শিব ভূমির এই পর্বে শুরুতে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজবো|শিবপুরাণ এবং শৈবাগম শাস্ত্র এই দুই গ্রন্থে এই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে|এই বই দুইটি-তে বলা হয়েছে শিব নামটি-র সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শিবলিঙ্গের কথা। অন্যদিকে শঙ্কর নামটি হল ভগবানরূপে কল্পিত শিব-এর মানবরূপী পরিচয়। যার ফলে শিব পূজোয় যখন কল্পিত আচার পালন হয় সেখানে শিবকল্প ও শঙ্করকল্পের মধ্যে আচার-বিধির তফাৎ আসে। শিব ও শঙ্কর এই দুটি সবচেয়ে বেশি করে হিন্দু সমাজে ঘোরাফেরা করে। বিশেষ করে যারা ধর্মীয় ভাবাবেগকে দর্শন করে ঈশ্বর কল্পনায় মূর্ত হন তাদের কাছে শিব ও শঙ্কর নাম দুটি নিয়ে প্রবল ধাঁধা রয়ে গিয়েছে|শৈবাগম শাস্ত্র বলছে, শিব একটি পরমসত্তা। তিনি মহাজাগতিক চৈতন্য বা পরাচৈতন্যের প্রতিভূ। শিবলিঙ্গের অবয়ব সে সত্তা-কে স্মরণ করে। অন্যদিকে শঙ্কর হল শিবের একটি মানবায়িত রূপ। সেইসঙ্গে তিনি সুক্ষ্মদেহ সম্পন্ন এক সত্তা। তিনি ধ্যানরূপেণ পূজিত হন।আজকের পর্বে শিব ভূমি জাটোলি শিব মন্দিরের কথা বলবো,এই সুউচ্ছ শিবমন্দির দেবভূমি হিমাচল প্রদেশের সোলানে অবস্থিত রয়েছে|অনেকের মতেই এই মন্দির দেশের উচ্চতম শিব মন্দির|এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস অতি প্রাচীন এমননি একটি প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে প্রাচীনকালে স্বয়ং মহাদেব এই জায়গায় এসেছিলেন ও কিছুটা সময় এখানে কাটিয়ে যান|একটি বিশেষ কারনে এই মন্দির রহস্যময় মন্দিরে পরিনত হয়েছে|কথিত আছে এই মন্দিরের দেয়াল থেকে ডমরুর শব্দ উৎপন্ন হয়ে|এই মন্দিরের দেয়ালে আঘাত করলে এক বিশেষ ধরণের শব্দের তরঙ্গ তৈরি হয়। যা হুবহু মহাদেব হাতের বাদ্যযন্ত্র, ডমরুর শব্দের মতো|আস্থাশীল ও নিষ্ঠাবান দর্শিনার্থীদের কাছে এই অলৌকিক শব্দ বা ডমরু ধ্বনি অতি পবিত্র|শিব সাধক স্বামী কৃষ্ণানন্দ পরমহংস ১৯৭৪ সালে বর্তমানে অবস্থিত মন্দিরের স্থাপনা কার্য শুরু করেন| মন্দিরের উচ্ছতা ১১১ ফুট|মন্দিরের ভিতরের এক ক্রিস্টাল শিবলিঙ্গ স্থাপন করা হয়েছে এবং শিব পার্বতীর মূর্তিও রয়েছে|পাশাপাশি আরও অন্যান্য দেবদেবীর মূর্তিও রাখা হয়েছে। সেইসঙ্গে ১১ ফুট উঁচু সোনার কলসি রাখা আছে মন্দিরের সর্বোচ্চ স্থানে|চলবে শিব নিয়ে আলোচনা আবার ফিরে আসবো নতুন পর্ব নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব ভূমি – লিলুতিনাথ শিব মন্দির

ভারতের প্রাচীন মন্দির গুলো নিয়ে রহস্যর কোনো শেষ নেই এই তালিকায় আছে বহু শিব মন্দির সেই রহস্য একে একে আপনাদের সামনে আনতে শুরু করেছিলাম শিব ভূমি শীর্ষক এই ধারাবাহিক পর্ব গুলির দ্বারা |চৈত্র মাস অর্থাৎ শিবের মাস, তাই মাসে কয়েকটি রহস্যময় শিব মন্দিরের কথা আপনাদের জানাচ্ছি আজকের পর্বে লিলুতিনাথ শিব মন্দির|উত্তর প্রদেশে অবস্থিত এই লিলুতিনাথ শিব মন্দির,মন্দিরটি, রয়েছে ইউপির পিলভিট নামক স্থানে।বেশ কয়েকটি কারনে এই মন্দির বেশ রহস্যময় যার মধ্যে সবার প্রথমে বলতে হয় শিব লিঙ্গের রঙ পরিবর্তন|এটি বিশ্বাস করা হয় যে এই মন্দিরের শিবলিঙ্গ সূর্যের রশ্মির সঙ্গে সঙ্গে দিনে তিনবার তার রঙ পরিবর্তন করেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে এই ধারণা কোনো গুজব নয় একেবারেই সত্যি,এই মন্দিরে শিবলিঙ্গের রঙ সকালে কালো, বিকেলে বাদামী এবং এবং রাতে হালকা শ্বেত বর্ণ ধারণ করেতবে আজও এই রঙ পরিবর্তনের কোনো ব্যাখ্যা বা কারন জানা যায়নি|দ্বিতীয় যে কারনে মন্দিরটি রহস্যময় এবং অলৌকিক সত্ত্বার অধিকারী তা হলো মহাভারতের অমর চরিত্র অস্বথামার উপস্থিতি,একটি জনশ্রুতি রয়েছে যে অশ্বত্থামা আজও মধ্যরাতে এই মন্দিরে পুজো করতে আসেন এবং যখন তিনি আসেন, হঠাৎ বজ্রপাত শুরু হয় এবং বৃষ্টিও হয়|স্থানীয় দের কাছে অত্যন্ত জাগ্রত ও জনপ্রিয় এই শিব মন্দির বহু দূর দূরান্ত থেকেও দর্শনার্থীরা আসেনলিলুতিনাথ শিব মন্দিরেশ্রদ্ধা ও ভক্তি সংক্রান্ত বিষয় গুলিকে যুক্তি দিয়ে বিচার না করাই ভালো, ভগবানের ইচ্ছায় সবাই সম্ভব তার লীলা বোঝা দায়, আমরা শুধু তার সামনে নিজেদের মাথা নত করতে পারি আর প্রার্থনা করতে পারি|ফিরবো আগামী পর্বে নতুন কোনো শিব ভূমি ও তার রহস্য নিয়ে|আগামী 31 তারিখ অমাবস্যা তিথিতে উপস্থিত থাকছি তারাপীঠে|যেকোনো তন্ত্র সংক্রান্ত অথবা জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব ভূমি – নিষ্কলঙ্ক মহাদেব মন্দির

আজকের পর্বে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও রহস্যময় গুজরাটের নিষ্কলঙ্ক মহাদেব মন্দির নিয়ে বলবো |গুজরাতের ভাবনগর জেলায় আরব সাগরের তীরে কোলিয়ক গ্রাম, এখানেই রয়েছে নিষ্কলঙ্ক মহাদেব মন্দির, একাধিক শিবলিঙ্গ রয়েছে এখানে, এগুলি স্বয়মভু অর্থাৎ নিজে থেকেই মাটির তলা থেকে প্রকট হয়েছে|রহস্যময় ব্যাপার হলো, এই মন্দিরের দেখা সব সময় পাওয়া যায় না। শুধুমাত্র ভাটার সময় মন্দিরে পুজো দেওয়া সম্ভব হয়, জোয়ারের সময় সমুদ্রের জলের তলায় চলে যায় এই মন্দির|কেবল মন্দির চূড়ার পতাকা দেখতে পাওয়া যায়|প্রতিদিন নিদ্দিষ্ট সময়ে সূর্যোদয়ের মত সমুদ্র বক্ষ থেকে উঠে আসে। এই দৃশ্য দেখার জন্যই বহু দর্শনার্থী ভিড় করেন সমুদ্র তটে। এখনও মনোষ্কামনা পূরণের আশায় এই মন্দিরে পুজো দিতে আসেন বহু পুণ্যার্থী।মহাভারতে এই মন্দিরের উল্লেখ আছে, কথিত আছে মহাভারতে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পরে কৌরব ও অন্যান্যদের হত্যা করার পাপ ধুতে এখানেই পুজো দেন পঞ্চপাণ্ডব|প্রায় সারাবছরই মনোষ্কামনা পূরণের আশায় এই মন্দিরে পুজো দিতে আসেন বহু পুণ্যার্থী।আপনারাও কখনো সম্ভব হলে অবশ্যই দর্শন করুন এই অদ্ভুত এবং রহস্যময় মন্দির|ফিরে আসবো অন্য কোনো শিব ভূমি নিয়ে যথা সময়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ |

শিব ভূমি – ঘুমন্ত শিব

আজ শিব ভূমির এই পর্বে আলোচনা করবো একটি অদ্ভুত শিব মন্দির নিয়ে যেখানে কয়েকশো বছর ধরে ঘুমিয়ে রয়েছেন মহাদেব| বর্ধমানের ইটাচুনা রাজবাড়িতে অধিষ্ঠিত শিব ঠাকুরকে নিয়ে আছে এক রহস্য, শিব মূর্তি আছে, অর্থবল, লোকবল সবই আছে, তবু গত দেশড় বড়র ধরে ঘুমিয়ে শিব ঠাকুর, মন্দিরে তাঁর পুজি হয় না। কিন্তু কেনো? প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে , ১৮৭১ সালে তদানিন্তন ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে গিরিডি অঞ্চলে রেল লাইন বসাবার কন্ট্রাক্ট পান পরিবারের কর্তা বিজয় নারায়ণ কুণ্ডু। সেখানে কাজ করতে গিয়ে গিরিডির জঙ্গলে এক অদ্ভূত শিব মূর্তির খোঁজ পান তিনি। মূর্তিটির প্রচলিত শিব মূর্তির মত নয়, অভিনব, ঠিক যেন দাওয়ায় বসে আছেন দেবাদিদেব মহাদেব।মূর্তিটি এনে তিনি স্থাপন করেন নিজ গৃহে| পুজো শুরু হয়, এরপরই ঘটে কিছু অলৌকিক ঘটনা, শিব মূর্তি স্থাপনের পরই মারা যান পরিবারের এক সদস্য।তারপর ক্রমাগত বাধা আসতে থাকে বিভিন্ন কাজে। এইভাবে বন্ধ হয়ে যায় শিবপুজো। কেনো এমনটা হয়েছিলো তা নিয়ে পন্ডিতদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে|অনেকেই মনে করেন শাস্ত্র মতে মা দূর্গা বা মা কালি ছাড়া শিব মূর্তির পুজো হয় না। আবার অনেকে বিশ্বাস করেন, যদিও বা হয় তবে শুধু শিব লিঙ্গের পুজো হতে পারে, একা শিব মূর্তির পুজো হয় না, তাতে মঙ্গলের পরিবর্ধে নেমে আসে ঘোর অমঙ্গল এবং টাই হয়েছিলো এই পরিবারে| চৈত্র মাস জুড়ে চলবে শিব ও শিব ভূমি নিয়ে এই ধারাবাহিক আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব ভূমি -হৃদয়পুরের শিবতলার বুড়ো শিব

ইতিমধ্যে বহু বিখ্যাত মন্দির ও বহু শিব লিঙ্গের কথা আপনাদের সামনে এনেছি তবে আজ আর দুরে কোথাও নয়, আজ যে শিব মন্দিরের কথা বলবো তা আমার বাড়ির একদম পাশেই অবস্থিত, বলা ভালো এই শিব আমার প্রতিবেশী|আমাদের হৃদয়পুরের শিব তলায় রয়েছে এক প্রাচীন শিব মন্দির যা লোক মুখে বুড়ো শিব নামেই খ্যাত|এই মন্দির যে কতো প্রাচীন তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন তবে এলাকার বয়স্ক মানুষদের মতামত অনুসারে এই বুড়ো শিব মন্দিরের বয়স আনুমানিক দুশো থেকে তিনশো বছর|মন্দির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায় নদিয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের পরিবারের এক সদস্য বঙ্কিম বিহারী রায় এই অঞ্চলে জমিদার ছিলেন এবং তিনিই এই মন্দির প্রতিষ্টা করেছিলেন|মতান্তরে তারও আগে থেকে ছিলো এই মন্দির|প্রাচীন হওয়ার পাশাপাশি অত্যন্ত জাগ্রত ও প্রসিদ্ধ এই মন্দিরের বুড়ো শিব|শুধু স্থানীয় নন গোটা জেলা এবং জেলার বাইরের মানুষও এই শিব মন্দিরের মহাত্ম এক বাক্যে স্বীকার করেন|প্রতি বছর নীল ষষ্ঠী উপলক্ষে বিশেষ পুজো হয় এখানে যা নিয়ে শিব ভক্তদের উৎসাহ থাকে চরমে এবং তারপরদিন চরক উপলক্ষে ঝাঁপ আয়োজিত হয়, সেও এক দেখার মতো জিনিস গাজন সন্ন্যাসী নিষ্ঠা সহকারে সমস্ত উপাচার পালন করেন ফল ও বাতাসা বিলিয়ে দেয়া হয় অসংখ্য ভক্তদের মধ্যে যার নাগাল পাওয়া বেশ পুণ্যের বলে মনে করা হয়|একটি প্রচলিত রীতি অনুসারে চরক উৎসবের আগে গাজন সন্যাসীরা বাদুর কুবের পুরের প্রাচীন একটি শিব মন্দিরের পুজো দিয়ে তারপর এই বুড়ো শিবের পুজোতে অংশগ্রহণ করেন|এই রীতি আজও চলছে|আলাদা করে একটি দুটি অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ না করলেও, সংক্ষেপে বলতে পারি বহু অলৌকিক ও দৈব ঘটনার সাক্ষী এই প্রাচীন শিব মন্দির যে সব ঘটনার কিছু কিছু শোনা যায় ভক্তদের মুখে|এই মন্দিরের শিবের কৃপা তার অগণিত ভক্তদের পাশাপাশি আমি নিজেও পেয়েছি|আমি নিজেও শিব তলার এই বুড়ো শিবের অসংখ্য ভক্তদের এক জন|চলবে শিব ভূমি নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব ভূমি – রাজ রাজেশ্বর শিব মন্দির

আজকের পর্বে শিব ভূমি তে বলবো পূর্ব ভারতে সবচেয়ে বড় কালো পাথরের শিবলিঙ্গ নিয়ে, বাংলার নদিয়া জেলার মাজদিয়ার তিন কিমি দূরে শিবনিবাস গ্রাম আর এই গ্রামেই রয়েছে এই সর্ব বৃহৎ ও অন্যতম প্রাচীন শিব লিঙ্গ টি যার নাম রাজ রাজেশ্বর|বাংলার ইতিহাস বলছে , নবাবী আমলে কৃষ্ণচন্দ্র বাংলায় বর্গী আক্রমণের সময় তাঁর রাজধানী কৃষ্ণনগর থেকে মাজদিয়ায় সরিয়ে আনেন, শিবের নামে তার রাজধানীর নামকরণ করেন শিবনিবাস৷ এখানে তিনি এক সুন্দর রাজপ্রাসাদ ও কয়েকটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন৷ তারমধ্যে তিনটি মন্দির এখনও অবশিষ্ট হয়েছে৷ এরমধ্যে সবচেয়ে পুরোনো মন্দিরটি হল রাজরাজেশ্বর শিবমন্দির, শিব এখানে রাজরাজেশ্বর নামে পরিচিত|মহারাজা কৃষ্ণ চন্দ্র কতৃক ১৭৫৪ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয় মন্দিরটি৷ লোকমুখে বুড়ো শিবের মন্দির বলে খ্যাত এই মন্দির, চুড়ো সমেত এই মন্দিরের উচ্চতা ১২০ ফুট যা বাংলার মধ্যে অন্যতম, মন্দিরের ভিতর কালো শিবলিঙ্গ, উচ্চতা ১১ ফুট ৯ ইঞ্চি, বেড় ৩৬ ফুট। সিঁড়ি দিয়ে উঠে শিবের মাথায় জল ঢালতে হয়। পূর্ব ভারতে এতো বড় শিবলিঙ্গ আর নেই|আগামী দিনে নদীয়া বেড়াতে গেলে স্বচক্ষে দেখে আসতে পারেন মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের এই অদ্ভুত কীর্তি, ভালো লাগবে, আবার পরের পর্বে ফিরে আসবো|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব ভূমি – ভুশন্ডেশ্বর শিব মন্দির

আজ শিব ভূমির এই পর্বে আমি আপনাদের বলবো সমগ্র এশিয়ার মধ্যে সর্ব বৃহৎ শিবলিঙ্গের কথা যা এই বাংলার খুব কাছেই অবস্থিত|একটি পুরান কাহিনি অনুসারে ত্রেতা যুগে লঙ্কার রাজা রাবণ মহাদেবের কাছ থেকে উপহার হিসেবে একটি শিব লিঙ্গ পান কিন্তু রাবণ যখন তাঁর পুস্পক রথে করে এই শিবলিঙ্গটি নিয়ে চলে যেতে দেখেন তখন ক্ষুব্ধ হন দেবতারা এবং ঠিক করেন এই শিবলিঙ্গ নিয়ে যাওয়া আটকাতে হবে৷ দেবতারা ওই শিবলিঙ্গ চাইলেও তা দিতে রাজি হন না রাবণ, ফলে এই টানা পোড়েনে রাবণ তখন পথের মধ্যই কোনও এক স্থানে ওই লিঙ্গটি নামিয়ে রাখেন৷ কিন্তু তারপর আবার ওই লিঙ্গটি তুলতে গেলে এত ভারী লাগে যে রাবণ তা তুলতে পারেন না,বহু চেষ্টার পরেও ব্যর্থ হয়ে শূন্য হাতে রাবনকে লংকায় ফিরতে হয় এবং সেই বিশাল ও অপূর্ব সুন্দর শিব লিঙ্গটি চীরকালের জন্যে রয়ে যায় মর্তে|মনে করা হয় কৈলাশে এই শিবলিঙ্গটি দেবী পার্বতী পুজো করতেন|এই স্থানটি হলো বাংলা থেকে অল্প দুরে, দিঘার কাছে উড়িষ্যায়,বালাসোরে এবং এখানেই ভুশন্ডেশ্বর শিব মন্দিরে সেই শিব লিঙ্গ স্বমহিমায় বিরাজমান|শিবলিঙ্গটি মাটি থেকে ১২ ফুট উচু এবং পরিধি ১৪ ফুট|ভুশন্ডেশ্বর শিব লিঙ্গটির অর্ধেক আসলে দেখা যায় যা মাটির উপর রয়েছে বাকী অর্ধেক রয়েছে মাটির তলায়|স্থানীয় দের কাছে অত্যান্ত জনপ্রিয় এই শিব মন্দির, বহু মানুষ আসেন পুজো দিতে, আর শিব রাত্রিতে অসংখ্য শিব ভক্তের সমাগম হয় এখানে|চাইলে আপনারাও একদিন ঘুরে আসতে পারেন|চলবে শিব ভূমি|দেখতে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

বাংলার শিব – মহাকাল শিব মন্দির

চলছে চৈত্র মাস গোটা শ্মাস জুড়েই দেবাদিদেব মহাদেব কে নিয়ে লিখছি |আজকের পর্বে বাংলার এক জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ শিব মন্দিরের কথা আপনাদের জানাবো|উত্তর বঙ্গের দার্জিলিং অনেকেরই প্ৰিয় ভ্রমণ স্থান|এই দার্জিলিং এর চৌরাস্তা থেকে কয়েক মিনিটের হাঁটা পথে পৌঁছানো যায় মহাকাল মন্দিরে যা বাংলার প্রাচীনতম শিব মন্দির গুলির অন্যতম|দার্জিলিং স্থানটির সাথে আধ্যাত্মিকতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে|শোনা যায় ঐ জায়গাটি কোনো এক সময় সিকিমের রাজারদের অধীনে থাকার সময় সেখানে বৌদ্ধদের আশ্রম ছিল। বৌদ্ধ সন্যাসীরা এই জায়গার নামকরন করেছেন ‘দোর্জে’ ও ‘লিং’ দুটি শব্দ থেকে যার অর্থ বজ্রের দেশ|মহাকাল শিব মন্দিরের মূল মন্দিরের সামনে প্রবেশ দ্বারের কাছেই রয়েছে শিবের বাহন নন্দীর মূর্তি|এই মন্দিরের বিশেষত্ব হলো এখানে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে এক অপূর্ব সহাবস্থান চোখে পড়ে| গোলাকার মন্দিরের মাঝখানে শিবলিঙ্গ ও বুদ্ধ মূর্তির সাথে হিন্দুদের ব্রাহ্মন পুরোহিত ও বৌদ্ধদের সন্যাসীকে একসাথে নিজ নিজ আরাধ্য ভগবানের অর্চনা করতে দেখা যায়|হিন্দু ও বৌদ্ধ উভয় ধর্মের মানুষের কাছেই স্থানটি অত্যন্ত পবিত্র এবং আস্থার|আগামী দিনে দার্জিলিং ভ্রমন কালে পাহাড় দর্শনের পাশাপাশি অবশ্যই মহাকাল মন্দির দর্শক করুন|আগামী পর্বে অন্য কোনো শিব মন্দিরের কথা নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন শিব ভূমি|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|