বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অদ্ভুত নিদর্শন উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ শহরের প্রাচীন বয়ড়া কালী মন্দির যাকে কেন্দ্র করে শোনা যায় বেশ কিছু অলৌকিক ঘটনা|আজ এই মন্দিরের কথা বলবো|বর্তমান ১০ নং জাতীয় সড়কের ধারে মা বয়রা কালীর মন্দির। শহরের বুকে বয়ে চলেছে শ্রীমতি নদী। হতে পারে বর্তমানে নদী হারিয়েছে তার যৌবন। তবে এককালে এই নদীতে পারাপার হতো বাণিজ্যের বড়ো বড়ো নৌকা। কাহিনীটি সেই সময়েরই। এই নদীপথ দিয়ে যাতায়াত করতেন যেসব বণিকরা তারাই নদীর ধারে এক বয়রা গাছের নীচে মা কালীর পূজো শুরু করেন। সেই থেকেই এখানে মা কালীর নাম বয়রা কালী। তারা প্রতিষ্ঠা করেন দেবীর বেদী।শোনা যায় জঙ্গলাকীর্ণ সেই জায়গা ধীরে ধীরে পরিণত হয় ডাকাতদের আস্তানায়। মায়ের পুজো শুরু করে তারাও। ইতিমধ্যে এলাকায় নিযুক্ত হয়েছেন নতুন দারোগা তিনি ভিন্ন ধর্মের মানুষ সালটা ১৯৩২। তবে নতুন দারোগার আবার অভিনয় চর্চায় বেশ ঝোঁক। মাঝে মাঝেই এলাকার মানুষজনদের নিয়ে নাটক-যাত্রাপালার আসর বসাতেন। উৎসাহ দিতেন মানুষজনকে যাতে এই চর্চা কখনো বন্ধ না করে। এই দারোগা মশাইয়ের স্বপ্নে একদিন হাজির হোন মা বয়রা কালী স্বয়ং! তিনি তাঁকে আদেশ দেন মন্দির প্রতিষ্ঠা করবার। দারোগা নিজে ভিন্ন ধর্মের হলে হবে কি, সব ধর্মের প্রতি তাঁর সমান শ্রদ্ধা।তিনি বেরিয়ে পড়েন মন্দির নির্মাণের অর্থ সংগ্রহ করতে। এলাকাবাসীর কাছে যতটুকু সম্ভব চাঁদা সংগ্রহ করেন এবং বাকি অর্থ তিনি জোগাড় করেন এক লবণ গাড়ির নিলাম থেকে। আয়োজন করলেন পুজোর সমস্ত সামগ্রীর। সেই কাঁচা মন্দির আজ পরিণত হয়েছে পাকা মন্দির বাড়িতে।মন্দিরে আজও মহাড়ম্বরে প্রতি দীপান্বিতা অমাবস্যায় পূজিতা হয়ে আসছেন মা। বিদেশ বিভূুঁই থেকেও হাজির হয় ভক্তগণ। পুজোর দিনে লক্ষাধিক ভিড় সামলাতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। ১৯৯৮ সালে ভক্তদের চেষ্টায় এবং অর্থে গড়ে তোলা হয় মা বয়রার অষ্টধাতুর মূর্তি।পুজোর দিন মাকে সাজানো হয় সোনার গয়নায়। ভোগে থাকে তিন রকমের সব্জি এবং পাঁচ রকমের মাছ ভাজা। পূজোর দিন রাত্রিবেলায় নাকি মা বের হোন ভক্তদের মাঝে। অনেকেই নিঝুম রাস্তায় শুনেছেন মায়ের নূপুরের শব্দ। মায়ের পূজোয় অংশ নেন এলাকার অন্য ধর্মের লোকেরাও। সরকারি নিয়ম মেনে পুজোয় বন্ধ হয়েছে বলি প্রথা।মন্দিরের বর্তমান সেবাইতরা বলেন, “মা খুবই জাগ্রত ৷ তাই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা ছুটে আসেন পুজো দিতে ৷ মানসিক করেন ৷ দীপাবলির রাতে আনুমানিক লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হয় ৷ প্রাচীন পদ্ধতিতে পুজো করা হয় ৷ বিশেষত্ব হল মা-কে পাঁচ রকমের মাছ ভাজা ভোগ হিসেবে দেওয়া হয় ৷ আর কিছু জুটুক বা না জুটুক মাছ ভাজাটা দিতেই হবে ৷আগামী 24 নভেম্বর দীপান্বিতা অমাবস্যায় হৃদয়েস্বরী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরে ও তারাপীঠ মহা শ্মশানে এক যোগে হবে হোম যজ্ঞ ও তন্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার প্রদান|তারা পীঠে আমি নিজে উপস্থিত থাকবো|আপনারা হয়তো জানেন শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খন্ডনের অন্যতম শ্রেষ্ট তিথি দীপান্বিতা অমাবস্যা আবার একবছর পরে আসবে এই সুযোগ তাই আপনারা চাইলে এই মহা যজ্ঞে এবং গ্রহ দোষ খণ্ডন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন|বাড়িতে বসে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখতে পারেন সমস্ত অনুষ্ঠান|দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষে ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকবে কালী তত্ত্ব ও বিভিন্ন কালী মন্দির নিয়ে আলোচনা|ফিরে আসবো আগামী পর্বে কালী কথা নিয়ে|থাকবে অন্য কোনো প্রাচীন মন্দিরের ইতিহাস|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পাইক গাছার কপিলেস্বরী কালী মন্দিররের ইতিহাস
বাংলার কালী মন্দির মানে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয় বাংলাদেশেও আছে বেশ কিছু কালী মন্দির|আজকের পর্বে আপনাদের এমনই এক ঐতিহাসিক কালী মন্দির নিয়ে বলবো তবে তার আগে এই কালী তত্ত্ব নিয়ে একটা কথা বলে রাখি|দক্ষযজ্ঞের প্রাক্কাল। এমন সময় পিতৃগৃহে যেতে বদ্ধপরিকর সতী, আর মহাদেব তাঁকে আটকাতে বদ্ধপরিকর। বাধ্য হয়েই আঙুল বাঁকাতে হল মহামায়াকে। “দশমহাবিদ্যা” অর্থাৎ নিজের প্রধান দশটি রূপ— কালী, তারা, ষোড়শী, ভৈরবী, ভুবনেশ্বরী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী, বগলামুখী, মাতঙ্গী এবং কমলার বেশে দশ দিক থেকে ঘিরে ধরে ভয় দেখালেন স্বামীকে। ব্যস! তাতেই বাজিমাত— মিলল অনুমতি।অর্থাৎ দশ মহাবিদ্যার অন্তর্গত বিশেষ একটি রূপ দেবী কালী|উৎপত্তি ভীতি সঞ্চার করার জন্য হলেও উদ্দেশ্য মহৎ|কপিলমুনি কালী বাড়ী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য এক পবিত্র স্থান।পুন্যত্মা কপিল মুনি কোন এক সময় সাধনায় সিদ্ধিলাভের জন্য কপোতাক্ষের পাড়ে সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির স্থাপন করেন।কিন্ত কালের বিবর্তনের সাথে এটি বিলিন হয়েযায়।পরবর্তীতে রায়সাহেব বিনোদ বিহারী মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করেন বাংলার ১৩৩৬ সালে|বর্তমানে সেই মন্দিরেই হয় পুজো|শোনা যায় জাগ্রত মা এখানে কোন এক বারুণী মেলার সময় রায় সাহেবের মেয়ে পরিচয় দিয়ে এক সাখারুর নিকট থেকে সাখা পরেন|তিনি সাখারুকে বলেন আমার বাবার নিকট থেকে টাকা নেবেন।এদিকে বিনোদের তখন কোন কন্যাই ছিলনা।তিনি সাখারুর টাকা পরিশোধ করে দিয়ে চিন্তা করতে থাকেন কে হবে এই মেয়েটি।তিনি সন্ধ্যায় পুজা দিতে গিয়ে অবাক হয়ে দেখেন মায়ের হাতে নতুন সাখা। তিনি পুরহিতকে ডেকে জানতে চান মায়ের হাতে সাখা দিয়েছে কে? পুরহিত কোন উত্তর দিতে পারেনা। তখন তিনি আনন্দে কেঁদে ফেলেন। তিনি বুঝতে পারলেন তার মেয়ে আর কেউনা সাক্ষাত মা কালী যিনি বালিকা রূপে তার নিজের কন্যা পরিচয়ে এসেছিলেন|আজও প্রতিটি বিশেষ তিথিতে এখানে বিশেষ পুজো হয় এবং বহু দুর থেকে দর্শণার্থীরা আসেন|আপনারা হয়তো জানেন শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খন্ডনের অন্যতম শ্রেষ্ট তিথি দীপান্বিতা অমাবস্যা আগামী 24 নভেম্বর দীপান্বিতা অমাবস্যায় আমার গৃহ মন্দির ও তারাপীঠ মহা শ্মশানে একসাথে হবেহোম যজ্ঞ ও তন্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার আপনারা চাইলে এই মহা যজ্ঞে নিজের গ্রহ দোষ খণ্ডন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন|ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকবে কালী তত্ত্ব ও বিভিন্ন কালী মন্দির নিয়ে আলোচনা|ফিরে আসবো আগামী পর্বে কালী কথা নিয়ে |থাকবে অন্য কোনো মন্দিরের ইতিহাস|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
দেবভূমি হরিদ্বারের দক্ষিনা কালীমন্দিরের ইতিহাস
সাধারনত কালী বা বিশেষ করে দক্ষিনা কালীর প্রসঙ্গ এলে বাংলা বা দক্ষিনেশ্বর মন্দিরের কথা মনে পড়ে তবে আজ আপনাদের এমন এক দক্ষিনা কালী মন্দিরের কথা বলবো যা অবস্থিত সুদূর হরিদ্বারে|তবে তার আগে কালীতত্ত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ন কিছু কথা|প্রায় শোনা যায় দূর্গা ও কালী একই|আসুন জেনে নিই শাস্ত্র কি বলছে, মহাদেব আড়ালেই তার পত্নীকে “কালী” সম্বোধন করতেন। এবারে সকলের সন্মুখেই ‘কালী’ ডাক শুনে চূড়ান্ত অপমানিত বোধ করে ক্রোধিত হন দেবী। ফলস্বরূপ, মানস সরোবরের ধারে এক কঠোর তপস্যায় বসলেন। অতঃপর তপস্যান্তে মানস সরোবরের শীতল জলে স্নানের মাধ্যমে দেহের সকল কালিমা ত্যাগ করে উজ্জ্বল চাঁদের মতো বর্ণ ধারণ করলেন।পৌরাণিক এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে দুর্গা এবং কালী প্রকৃত পক্ষে এক এবং অভিন্ন পার্থক্যটা নিছক বর্ণে|উত্তরাখণ্ডে চারধাম যাত্রার প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত হরিদ্বার বাঙালির অতি পরিচিত জায়গা। মূলত মহাদেবের ধাম হিসেবে পরিচিত উত্তরাখণ্ড। তবে অন্যান্য দেবদেবীদেরও মন্দির আছে উত্তর ভারতের এই রাজ্যে।দেব ভূমি হরিদ্বারেই রয়েছে দক্ষিণ কালী মন্দির। দেশের অন্যতম সিদ্ধপীঠ এটি। মন্দিরের পুরোহিত বলেন এই ধরনের দক্ষিণ কালী মন্দির সারা ভারতে মাত্র দু’টি আছে। তার মধ্যে একটি হল দক্ষিণেশ্বর এবং দ্বিতীয়টি হরিদ্বারে। দক্ষিণেশ্বরের সঙ্গে হরিদ্বারের এই মন্দিরের ঘনিষ্ঠ যোগও আছে। রামকৃষ্ণদেবের এক শিষ্য এই মন্দির প্রতিষ্ঠার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে জানা যায় যদিও তার নাম সেই ভাবে উল্লেখিত নয়|হরিদ্বারে চণ্ডীঘাটের কাছেই অবস্থিত দক্ষিণ কালী মন্দির। এখানে গঙ্গা বইছে উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে। কিন্তু দেবী কালীর মূর্তি পূর্বদিকে মুখ করে আছে। মন্দিরে প্রবেশ করলে প্রথমে কালীমূর্তি চোখে পড়ে। এরপর সিঁড়ি দিয়ে নেমে গেলে চোখে পড়ে দশমহাবিদ্যার মূর্তিগুলি। গুহার মধ্যে অগ্নিকুণ্ডের সামনে রয়েছে এই মূর্তিগুলি। গুহায় প্রবেশ করলে অজান্তেই ভক্তি ও শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে যায়। আলো-আঁধারের পরিবেশে মন একেবারে অন্যরকম হয়ে যায়|কালী ভক্তির গভীর সাগরে নিমজ্জিত হয় দেহ মন|সেবায়েতরা বলেন মা কালীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে হরিদ্বারের এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন আধ্যাত্মিক গুরু কামরাজ। তাঁর আহ্বানে গঙ্গার তীরবর্তী এই মন্দিরে গিয়ে বসবাস শুরু করেন অলহা ও মছলা নামে এক দম্পতি তারাই মন্দিরের দেখা শোনা ও পুজো করতেন ।স্থানীয়দের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মন্দিরে বাস করেন সাদা-কালো রঙের নাগ-নাগিন। তাছাড়া রহস্যময় এক ড্রাগন স্বরূপ প্রাণীও নাকি বাস করে এই মন্দিরে। তবে কেউ তাদের দেখতে পান না। জোড়া সাপ ও ড্রাগন কোনওদিন কারও ক্ষতিও করেনি আজ অবধি|হরিদ্বারের এই সিদ্ধপীঠে রোজ কয়েকশো ভক্ত পুজো দিতে যান। প্রতি শনিবার বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। নবরাত্রিতেও বিশেষ পুজো হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করলে সব মনোকামনা পূর্ণ হয়। এছাড়া রোগ-যন্ত্রণা, অন্যান্য সমস্যাও দূর হয়। দেবীর উদ্দেশে অর্পণ করা হয় নারকেল, গোলাপ ফুল, কালোজাম, মিষ্টি পান। শনিবার মা কালীকে দেওয়া হয় খিচুড়ি।আগামী 24 নভেম্বর দীপান্বিতা অমাবস্যায় আমার গৃহ মন্দির ও তারাপীঠ মহা শ্মশানে একসাথে হবেহোম যজ্ঞ ও তন্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার আপনারা চাইলে এই মহা যজ্ঞে নিজের গ্রহ দোষ খণ্ডন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন|দীপাবলী উপলক্ষে চলতে থাকবে এই কালী কথা ফিরে আসবো আগামী পর্বে কালী কথা নিয়ে|থাকবে অন্য কোনো মন্দিরের ইতিহাস|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
ঘোমটা কালীমন্দিরের ইতিহাস
আগে কলকাতার কালী মন্দির গুলি নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে বেশ কয়েকটি পর্বে বলেছিলাম|আজ কলকাতার আরো একটি প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কালী মন্দির নিয়ে বলবো যাকে অনেকে ঘোমটা কালী মন্দির বলেন যদিও ভবতারিণী কালী মন্দির হিসেবও খ্যাতিআছে উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুরের বলরাম ঘোষ স্ট্রিটে অবস্থিত একটি এই প্রাচীন কালী মন্দিরের । মন্দিরটি স্থাপিত হয় ১৮৮৮ খ্রীষ্টাব্দর ৫ই বৈশাখ| দিনটি ছিল বাসন্তী পঞ্চমী।প্রতিষ্ঠা করেন সারদা প্রসাদ ঘোষের মাতা দয়াময়ী দাসী। বলরাম ঘোষ ঢাকায় মুর্শিদকুলি খাঁর অধীনে চাকরি করতেন। কলকাতায় এসে শ্যামপুকুর অঞ্চলে জমি কিনে বাড়ি তৈরি করেন। তাঁর নামে রাস্তার নাম বলরাম ঘোষ স্ট্রিট। এই বংশের তুলসীরাম ঘোষ কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকতেন। ঢাকায় নবাবের অধীনে উচ্চ পদে চাকরি করতেন। তুলসীরামের নাতি সারদাপ্রসাদ। তুলসীরাম স্বপ্নে এক কালী মূর্তি দেখেছিলেন। স্বপ্নে দেখা কালী মূর্তি অনুযায়ী তিনি একটি ছবি আঁকিয়েছিলেন। সেটি মন্দিরের গর্ভগৃহের দেওয়ালে টাঙানো আছে। স্বামীর মৃত্যুর পর তুলসীরামের পুত্রবধূ দয়াময়ী দেবী ছেলের সঙ্গে কলকাতায় ফিরে আসেন। এই জমি কিনে মন্দির তৈরি শুরু করেন এবং তুলসীরামের আঁকানো ছবি অনুযায়ী কালী মূর্তি তৈরি করান। কিন্তু তিনি মন্দির প্রতিষ্ঠা দেখে যেতে পারেন নি। তাঁর অবর্তমানে তাঁর পুত্র সারদাপ্রসাদ সেই কাজ সমাপন করেন।উঁচু ভিত্তিবেদির স্থাপিত, ত্রিখিলান প্রবেশপথযুক্ত, দক্ষিণমুখী মন্দিরটি নবরত্ন শৈলীর। মন্দিরের খিলানের এক একটি স্তম্ভ ‘কলাগেছ্যা’ রীতির গোল ও সরু স্তম্ভগুচ্ছের সমষ্টি। গর্ভগৃহের সামনে ত্রিখিলান প্রবেশপথযুক্ত অলিন্দগর্ভগৃহে কষ্টিপাথরের দক্ষিণাকালী ‘ভবতারিণী’ নামে নিত্য পূজিতা। ভবতারিণী মন্দিরে কালী মূর্তিটি ঘোমটা দেওয়া।তাই এঁকে অনেকে ‘ঘোমটা কালী’ বলে থাকেন। মন্দিরের গর্ভগৃহের একদিকে নারায়ণ শিলা , কৃষ্ণ-রাধিকা মূর্তি, একটি একক কৃষ্ণ মূর্তি ইত্যাদিও নিত্য পূজিত। বড় কৃষ্ণ-রাধিকা মূর্তিদ্বয় এই মন্দিরের পূর্বতন এক পুরোহিতের। মন্দিরের দুপাশে আছে দুটি আটচালা শিব মন্দির। দুটি মন্দিরের ভিতরে যথাক্রমে হরেশ্বর ও হরপ্রসন্ন নামে দুটি কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ নিত্যপূজিত। তিনটি মন্দির একটি লম্বা বারান্দা দিয়ে যুক্ত। টানা বারান্দার সামনের দিকটা ও সিঁড়ি ঢালাই লোহার সুদৃশ্য রেলিং দিয়ে ঘেরা। তিনটি মন্দিরের চারিদিকে প্রদক্ষিণ করার প্রশস্ত জায়গা আছে। মন্দিরের সামনে একটি চাঁদনি আকৃতির নাটমন্দির আছে। মন্দিরটি পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। মন্দির প্রাঙ্গণের প্রবেশ-দ্বারের পাশে একটি প্রতিষ্ঠাফলক আছে। মন্দির প্রাঙ্গণ গাছের ছায়া-ঘেরা। ভবতারিণী মন্দিরে বৈষ্ণব মতে পূজা হয়। নিত্য পূজা ছাড়াও কালী পূজার সময় ও বাসন্তী পঞ্চমীর দিন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ধুমধাম সহকারে মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি অমাবস্যায় হোম হয়। কালী পূজায় অন্নভোগ ও আমিষ ভোগ হয় না। নুন ছাড়া লুচি, পাঁচ রকমের ভাজা, বোঁদে, মিষ্টি ইত্যাদি দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়। এছাড়া দুর্গা পূজাতে নবমীর দিন এক দিনের দুর্গা পূজা, জগদ্ধাত্রী পূজা, চাঁচর, জন্মাষ্টমী ইত্যাদি মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়। চার-পাঁচ জন সেবায়েত পালা করে মন্দিরে পূজা-কার্য করে থাকেন। শহর কলকাতার ঐতিহাসিক মন্দির গুলির মধ্যে ঘোমটা কালী বা ভবতারিণী মন্দির অন্যতম|আগামী 24 নভেম্বর দীপান্বিতা অমাবস্যা তিথিতে তারাপীঠ মহা শ্মশানে হবে হোম যজ্ঞ ও তন্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার প্রদান|তারা পীঠে আমি নিজে উপস্থিত থাকবো|পাশাপাশি আপনাদের হৃদয়েস্বরী সর্ব মঙ্গলা মায়ের মন্দিরেও হবে গ্রহ দোষ খণ্ডন অনুষ্ঠান কারন আপনারা হয়তো জানেন শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খন্ডনের অন্যতম শ্রেষ্ট তিথি দীপান্বিতা অমাবস্যা আবার একবছর পরে আসবে এই সুযোগ তাই আপনারা চাইলে এই মহা যজ্ঞে অংশ নিতে পারে ও গ্রহগত যেকোনো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন|দুটি স্থান থেকে একযোগে সরাসরি পুজো ও হোম যজ্ঞের লাইভ সম্প্রচার দেখতে পাবেন আমার সোশ্যাল মিডিয়া পেজ ও প্রোফাইলে|সঙ্গে থাকবেন|ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকবে কালী তত্ত্ব ও বিভিন্ন কালী মন্দির নিয়ে আলোচনা|ফিরে আসবো আগামী পর্বে কালী কথা নিয়ে|থাকবে অন্য কোনো প্রাচীন মন্দিরের ইতিহাস ও কিংবদন্তী সাথে অনেক অলৌকিক ঘটনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
মন্দির বাজারের শ্মশান কালী
দেবী কালী বিভিন্ন রূপে পূজিতা হন যার মধ্যে দেবীর শ্মশান কালী রূপ রয়েছে|দেবীর এই বিশেষ রূপের পুজো করতো বাংলার দুর্ধর্ষ ডাকাতরা এবং উচ্চ মার্গের তন্ত্র সাধকরা|আজ আপনাদের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার মন্দির বাজারে অবস্থিত এক শ্মশান কালীর কথা বলবো|দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রাচীন মন্দিরবাজারের দক্ষিণ বিষ্ণুপুড়ে রয়েছে এক গা-ছমছমে শ্মশান। কথিত আছে এই শ্মশানে নাকি একসময় আস্তানা করত সব সাধক আর তান্ত্রিকদের দল। উদ্দেশ্য ছিল শব সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করা। এখনো পর্যন্ত এই শ্মশানে গেলে হাড় হিম হয়ে যাবে। আদিগঙ্গার পাড়ে এই শ্মশানে মা কালী পূজিতা হন করুণাময়ী নামে।প্রচলিত আছে এই মন্দিরে কালীপুজোয় নাকি গভীর রাত হলেই চলে নানান রোমাঞ্চকর ঘটনা। মন্দিরের সেবায়েতরা মেতে ওঠেন শ্মশান জাগানোর খেলায়। কথিত আছে, একসময় নরমুণ্ডর মালা দিয়ে চলত তন্ত্র মতে দেবীর আরাধনা। বর্তমানে বলি দেওয়া হয় না, কিন্তু কালীপুজোর দিন ডাকিনী যোগিনীকে দেওয়া হয় কাঁচা মাংস, মদ আর ছোলা। তার পাশাপাশি থাকে শিয়াল ভোগ। আজও নাকি নড়মুন্ডির মালা পুজোয় পুজোয় ব্যাবহার হয়|প্রচলিত এই সব জশ্রুতি আজও লোকের মুখে মুখে প্রচলিত|প্রায় ১০৭ বছর আগে এই শ্মশানে টালির ছাউনির মধ্যে কালী মায়ের আরাধনার সূচনা করেছিলেন তান্ত্রিক মণিলাল চক্রবর্তী। এখানে জনশ্রুতি রয়েছে, এই মণিলাল চক্রবর্তী নাকি যখন যুবক ছিলেন তখন তন্ত্রের দীক্ষা নিয়েছিলেন। সাধনার জন্য বেছে নেন এই শ্মশানকে।পরবর্তীকালে মা কালীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে শ্মশানের নিকটস্থ জঙ্গলেই দেবীর নিত্য পূজা শুরু করেন। সেই থেকে আজও এখানে ধুমধাম করে আরাধনা করা হয়ে আসছে মা কালীর। এখানে বলি দেওয়ার প্রথা নেই কিন্তু কাঁচা মাংস ভোগে দেওয়া হয়।বহুদিন আগেই মণিলাল বাবুর মৃত্যু হয়েছে, তাঁর মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীরা এই শ্মশান কালীর মন্দিরের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন । তারা বংশ পরম্পরায় তন্ত্র শিক্ষা লাভ করেন এবং নানাবিধ গুপ্ত বিদ্যায় পারদর্শী বলে জশ্রুতি প্রচলিত আছে|দীপাবলী উপলক্ষে প্রতিবছর এই শ্মশানকালী মন্দিরে মহাসমারোহে পুজো অনুষ্ঠিত হয় যা দেখতে আসেন বহু মানুষ|আজকের কালী কথা শেষ করার আগে জানিয়ে রাখি দীপান্বিতা অমাবস্যা তিথিতে তারাপীঠ মহা শ্মশানে ও আমার নব নির্মিত গৃহ মন্দিরে বিশেষ হোম যজ্ঞর মাধ্যমে শাস্ত্রীয় পদ্ধতিতে গ্রহ দোষ খন্ডনের সব ব্যবস্থা থাকবে|আমি নিজে উপস্থিত থাকছি তারাপীঠে|যেকোনো জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে যোগাযোগ করতে পারেন এখন থেকেই|দীপাবলী উপলক্ষে চলতে থাকবে এই কালী কথা ফিরে আসবো আগামী পর্বে কালী কথা নিয়ে|থাকবে অন্য কোনো মন্দিরের ইতিহাস|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
বিদ্যা সুন্দর কালী মন্দিরের ইতিহাস
বাংলার ইতিহাসের সাথে সমাজ জীবনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত আছে অসংখ্য কালী মন্দির এবং দেবী কালী সংক্রান্ত নানা পৌরাণিক ঘটনাবলী|কালী কথায় বা বাংলার কালীতে আগেও এই নিয়ে আলোচনা করেছি|আসন্ন দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষে আবার শুরু করছি দেবী কালী নিয়ে লেখা থাকবে দেবীরআধ্যাত্মিক মহিমা ও কিছু কালী মন্দিরের কথা|আজ লিখবো বর্ধমানের প্রসিদ্ধ এবং প্রাচীন বিদ্যাসুন্দর কালী মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে|বর্ধমানের বিদ্যাসুন্দর কালীপুজোর পেছনে জড়িয়ে রয়েছে এক অলৌকিক ঘটনা|বর্ধমানের রাজা তেজচাঁদের কন্যা বিদ্যা ও মন্দিরের পুজারি সুন্দর এই ঘটনার প্রধান দুই চরিত্র|তখন বর্ধমানের মহারাজা তেজচাঁদের আমল । রাজার এক কন্যা ছিল, নাম বিদ্যা ৷ আর রাজবাড়ির পুজারি ছিলেন সুন্দর নামে এক যুবক। সুন্দরের আর্থিক অবস্থা মোটেই ভাল ছিল না । রাজবাড়িতে ফুল দিতে আসত মালিনী মাসি নামে জনৈক ভদ্র মহিলা|তিনি প্রতি ঠাকুর বাড়িতে ফুলের মালা দিতেন। যথারীতি একদিন মালিনী মাসি মন্দিরে ফুলের মালা নিয়ে এসেছেন । সেই মালা দেখে পুজারি সুন্দর খুব আকৃষ্ট হন । তিনি মালিনী মাসিকে জিজ্ঞাসা করেন, এত সুন্দর ফুলের মালা কে গেঁথেছে ? যে মালা গেঁথেছে তাকে দেখার জন্য ছটফট করতে থাকে সুন্দর । মালিনী মাসি তাকে বলে, রাজকুমারী বিদ্যা মালা গেঁথেছে কিন্তু তাকে দেখা সম্ভব নয় ।পরবর্তীকালে বিদ্যার সঙ্গে সুন্দরের পরিচয় হয় । তাদের মধ্যে প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে । এমনকী তারা নাকি মন্দিরের পাশ থেকে রাজবাড়ি পর্যন্ত একটা সুড়ঙ্গ বানিয়ে তার ভিতর দিয়ে বিদ্যা ও সুন্দর একে-অপরের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করতে যেত । একদিন চরের মাধ্যমে তেজচাঁদ বিদ্যা ও সুন্দরের প্রণয়ের ব্যাপারে জেনে ফেলেন । খবরটা কানে যেতেই রাজা প্রচণ্ড রেগে যান । তিনি বিদ্যা এবং সুন্দরকে কালীর সামনে বলি দেওয়ার আদেশ দেন ৷সেই সময়ে বর্ধমানের বেশিরভাগ এলাকা ছিল ঘন জঙ্গলে ভর্তি । বিশেষ করে দামোদর তীরবর্তী তেজগঞ্জ এলাকায় ছিল আরও গভীর জঙ্গল । সেখানেই কালী মন্দিরে পুজো হতো । ওই কালী মন্দিরে কেউ সচরাচর যেতেন না । কথিত আছে, যারা অন্যায় অত্যাচার করত, তাদের এই মন্দিরে দেবীর সামনে হাঁড়িকাঠে নরবলি দেওয়া হত । তাই সেই সময় এই কালী দক্ষিণ মশান কালী নামে পরিচিত ছিল । ফলে দিনের বেলাতেও ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াত করার কেউ খুব একটা সাহস করত না ।রাজার হুকুম মতো তাদেরকে বলি দিতে নিয়ে যাওয়া হয় সেই মন্দিরে|বলি দেওয়ার আগের মুহূর্তে বিদ্যা ও সুন্দর সেই মন্দিরের কাপালিকের কাছে অনুরোধ জানায়, মৃত্যুর আগে তারা দেবীকে প্রণাম করে আসতে চায় । কাপালিক সেই অনুমতি দেন । প্রণাম করতে যাওয়ার সময় কাপালিক অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান । তারপরেই বিদ্যা ও সুন্দর নাকি কোথায় যেন মিলিয়ে যায় । এরপর থেকে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি । সেই সময় থেকেই মন্দিরের নামকরণ হয় বিদ্যাসুন্দর কালী মন্দির । তার পর থেকে বন্ধ হয়ে যায় নরবলিও ।এখানে দেবীর মন্দির ছাড়াও দুটো শিব মন্দির আছে, যা ভৈরব ও পঞ্চানন্দ নামে পরিচিত । নরবলি বন্ধের পরে মন্দিরে মেষ বলি ও পরে ভেড়া বলি দেওয়া হত । এখন ছাগল বলি দেওয়া হয় ।প্রাচীন সেই সুড়ঙ্গ নাকি ছিলো তবে সেই সুড়ঙ্গ আর এখন নেই তা বুজিয়ে ফেলা হয়েছে ।প্রচলিত এই প্রাচীন অলৌকিক ঘটনা আজও মানুষের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়|বহু দুর থেকে মানুষ আসেন এই মন্দিরে দেবীকালীর দর্শন করতে|আগামী 24 নভেম্বর দীপান্বিতা অমাবস্যায় আমার তারাপীঠ মহা শ্মশানে হবে হোম যজ্ঞ ও তন্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার প্রদান|তারা পীঠে আমি নিজে উপস্থিত থাকবো|পাশাপাশি আপনাদের হৃদয়েস্বরী সর্ব মঙ্গলা মায়ের মন্দিরেও হবে গ্রহ দোষ খণ্ডন অনুষ্ঠান কারন আপনারা হয়তো জানেন শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খন্ডনের অন্যতম শ্রেষ্ট তিথি দীপান্বিতা অমাবস্যা আবার একবছর পরে আসবে এই সুযোগ তাই আপনারা চাইলে এই মহা যজ্ঞে অংশ নিতে পারে ও গ্রহগত যেকোনো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন|ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকবে কালী তত্ত্ব ও বিভিন্ন কালী মন্দির নিয়ে আলোচনা|ফিরে আসবো আগামী পর্বে কালী কথা নিয়ে|থাকবে অন্য কোনো প্রাচীন মন্দিরের ইতিহাস|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
দেবী লক্ষীর কথা
আজ লক্ষী পুজো উপলক্ষে আপনাদের জানাবো দেবী লক্ষীর উৎপত্তি এবং তার পৌরাণিক ব্যাখ্যা নিয়ে নিয়ে তবে শুরু করবো বাংলার এক প্রাচীন লক্ষী মন্দিরের কথা দিয়ে|বীরভূমের এক গ্রামে রয়েছে এই প্রাচীন লক্ষী মন্দির|শুরুতেই মন্দির নির্মাণের সাথে জড়িত অলৌকিক এক ঘটনার কথা বলি,প্রায় পাঁচশো বছর আগে বীরভূমে এই গ্রামে আসেন পূর্ববঙ্গের এক পরিব্রাজক সন্ন্যাসী কামদেব ব্রহ্মচারী। এই গ্রামের একটি নিমগাছের তলায় সাধনস্থল হিসেবে চিহ্নিত করে থাকতে শুরু করেন। কিছুদিনে পর এক গ্রামবাসী দীঘির ধারে জমিতে চাষ করছিলেন সে হটাৎ দেখতে পায়,দীঘির জলে একটি পদ্মফুল ভেসে যাচ্ছে।পদ্মফুল তুলতে নেমে পড়েন দীঘিতে ফুটে থাকা পদ্মফুল দেখতে পেলেও নাগাল পান না কিছুতেই।সেই রাতে মা লক্ষ্মীর স্বপ্নাদেশ পান ওই গ্রামবাসী, ওই দীঘির জলেই নিরাকার রূপে দেবী লক্ষী অবস্থান করছেন। পর দিনই দীঘিতে নিম কাঠ ভাসতে দেখেন তুমি । সেই কাঠ তুলে এনে দেবীর নির্দেশ মতো গ্রামের নিম গাছতলায় আসন পাতা কামদেব ব্রহ্মচারীর কাছে নিয়ে যান এবং সাধক ওই নিম কাঠ থেকে লক্ষ্মীমূর্তি গড়ে তোলেন। সেই দেবীমূর্তি প্রতিষ্ঠা হয় গ্রামেই।আজও ওই মূর্তি পুজো হয় এখানে|ব্রম্মবৈবর্ত পুরান অনুসারে দেবী লক্ষী উৎপন্ন হয়েছেন শ্রী কৃষ্ণের বাম দিক থেকে|বিষ্ণু পুরাণ, ভাগবত, মহাভারত প্রভৃতি গ্রন্থ অনুসারে লক্ষ্মী দেবীর উৎপত্তি হয়েছে সমুদ্র থেকে। দুর্বাসা মুনির শাপে স্বর্গ একদা শ্রীহীন বা লক্ষ্মী-ছাড়া হয়ে যায়। তখন বিষ্ণুর পরামর্শে স্বর্গের ঐশ্বর্য ফিরে পাবার জন্য দেবগণ অসুরদের সাথে নিয়ে সমুদ্র-মন্থন শুরু করেন। সেই ক্ষীর-সমুদ্র মন্থনের ফলে উঠে আসল নানা রত্ন, মণি-মাণিক্য, অমৃতসুধা আরও কত কি। এসব ছাড়াও সমুদ্র-মন্থনের ফলে উঠে আসলেন লক্ষ্মী লক্ষ্মী দেবী এবং ঠাই পেলেন বিষ্ণুর বক্ষে। সমুদ্র থেকে দেবীর উদ্ভব বলে দেবীকে বলা হয় সমুদ্রোদ্ভবা|শাস্ত্র মেনে সঠিক উপাচার পালন করে দেবী লক্ষীর আরাধনা করুন তিনি আপনাদের প্রার্থনা শুনবেন|আপনাদের সবাইকে আমার তরফ থেকে লক্ষীপুজোর শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
দেবী লক্ষীর পুজোর শাস্ত্রীয় বিধি নিষেধ
দেবী দুর্গার কৈলাশ এ প্রত্যাবর্তন ঘটেছে তবে আগামীকাল লক্ষী পুজো|আমরা সবাই তার আরাধনা করবো নিজের মতো করে|আসুন আজ জেনে নিই দেবী লক্ষীর পুজোয় কি করবেন কি করবেন না|আপনারা পুজোর দিন অন্ন বা যেকোনও খাবার নষ্ট করবেন না। এতে মা অসন্তুষ্ট হন। দেবী লক্ষ্মী অন্নের অপচয় সহ্য করেন না। ফলে বাড়িতে অর্থ ও খাবারের অভাব দেখা দিতে পারে। এই দিনে সম্ভব হলে অন্ন দান করুন|পুজোর ক্ষেত্রে লক্ষ্মী দেবীকে কোনও ভাবে সাদা রঙের ফুল দিয়ে পুজো করা যাবে না। সাদা রঙ ছাড়া লাল, হলুদ, গোলাপি রঙের ফুল ব্যবহার করা যাবে।লক্ষ্মীপুজো করার সময় কোনওভাবেই কালো পোশাক পরা যাবে না। কারন সাদা ও কালো রঙ দেবী পছন্দ করেননা তার প্ৰিয় রঙ হলুদ ও লাল|মা লক্ষ্মীর পুজোয় সাদা ফুল যেমন ব্যবহার করা যায় না, তেমনই আসনে সাদা বা কালো কাপড় পাতার নিয়ম নেই। ব্যবহার করা যেতে পারে লাল, গোলাপি প্রভৃতি রঙের কাপড়। বিশ্বাস, মা লক্ষ্মী এতে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন কারন ওই একই|মনে করা হয়, শ্রীলক্ষ্মীর পূজনে তুলসী ব্যবহার করলে দেবী অসন্তুষ্ট হন| কথিত আছে, তুলসির সঙ্গে শালগ্রাম শিলার বিবাহ হয়। শালগ্রাম গ্রাম শিলা নারায়ণের প্রতিভূ। যেহেতু শ্রীলক্ষ্মীও বিষ্ণুপত্নী তাই দুজনের সম্পর্ক মধুর নয় তাই এই পুজোয় তুলসির ব্যবহার চলে না।পুজোর পর মন্দির বা ঠাকুর ঘরের দক্ষিণমুখে প্রসাদ অর্পণ করার কথা বলে থাকেন অনেকে। এর শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা না থাকলেও বাস্তু শাস্ত্র মতে শুভ| লক্ষ্মীপুজোর প্রসাদে না বলতে নেই। অল্প হলেও মুখে তুলতে হয়।এতে দেবী প্রসন্ন হন|ঢাক ঢোল এবং কাঁসর ঘণ্টা লক্ষ্মীপুজোয় বাজানো যাবে না। অত্যধিক শব্দ পছন্দ করেন না শ্রীলক্ষ্মী। সব পুজোতেই বাদ্যি বাজানো হয়। কিন্তু মা লক্ষ্মীর পুজোয় কাঁসর ঘণ্টা বাজালে দেবীর অসন্তুষ্ট হন বলে মনে করা হয়।এবিষয়ে একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা আছে|পুরাণ মতে, ঘণ্টাকর্ণ নামে এক দেবতা পূজনীয় লক্ষ্মী দেবীকে দেখে অশালীন আচরণ করেছিলেন। যে দেবীকে গোটা দেবলোক পুজো করেন, সেই দেবীকেই কিনা অপমান করেন ঘণ্টাকর্ণ। এই ঘটনায় দেবী লক্ষ্মী ঘণ্টাকর্ণের উপর বেজায় ক্রুদ্ধ হন।বলা হয় সেই থেকেই অন্যান্য সমস্ত পুজোতে ঘণ্টা বাজালেও, লক্ষ্মী পুজোতে ঘণ্টা বাজানো নিষিদ্ধ। সেই থেকেই মা লক্ষ্মীর পুজোয় কোন ব্যক্তি ঘন্টা বাজালে, তাঁর উপর বেজায় ক্ষিপ্ত হন পদ্মাসনা দেবী লক্ষ্মী|আবার কিছু উপচার আছে যেগুলি ঠিক ভাবে পালন করলে দেবী আশীর্বাদ করেন লক্ষী পুজোর দিন স্নান করে শুদ্ধ হয়ে লক্ষ্মী গায়ত্রী মন্ত্র ১০৮ বার জপ করলে মা লক্ষ্মী অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন। এই মন্ত্র জপ করার সময় পদ্মবীজের মালা ব্যবহার করলে ভাল হয়।দক্ষিণাবর্ত শঙ্খকে বলা হয় মা লক্ষ্মীর শঙ্খ। লাল, সাদা বা হলুদ রংয়ের একটি পরিষ্কার কাপড়, একটি রুপোর পাত্র অথবা মাটির পাত্রের উপর রাখতে হয় এই শঙ্খ। এই শঙ্খের মধ্য দিয়েই বাড়িতে মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ প্রবাহিত হয়।বলা হয়, সমস্ত দেবতা বাস করেন তুলসী গাছে। আবার অন্য একটি মত অনুযায়ী, দেবী তুলসী হলেন মা লক্ষ্মীরই এক রূপ। তাই বাড়িতে তুলসী গাছ থাকলে এবং সেখানে প্রতিদিন প্রদীপ জ্বাললে তুষ্ট হন মা লক্ষ্মী।পুজোর দিন লক্ষ্মী দ্বাদশ স্তোত্র ১২ বার উচ্চারণ করলে ঋণমুক্তি ঘটে অথবা লক্ষীর পাঁচালি অবশ্যই পরুন|আপনাদের সবাইকে আমার তরফ থেকে লক্ষীপুজোর আগাম শুভেচ্ছা|আগামীকাল আপনাদের জন্য দেবী লক্ষী সংক্রান্ত পৌরাণিক কিছু ঘটনা ও তার ব্যাখ্যা নিয়ে ফিরে আসবো| ভালো থাকুন|পড়তে থাকুন|ধন্যবাদ|
শুভ বিজয়ার শুভেচ্ছা
আপনাদের নবনির্মিত মা হৃদয়েস্বরী সর্বমঙ্গলা মন্দিরের এবছর ছিলো প্রথম দূর্গা পুজা তাই উৎসাহ এবং উদ্দীপনা ছিলো একটু বেশি|

পাশাপাশি আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা ছিলো প্রত্যাশা মতো সব মিলিয়ে পুজো সুন্দর ও সার্থক ভাবে সম্পন্ন|তবে সব ভালো কিছুরই শেষ থাকে সেই নিয়ম মেনে আজ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হবে বিজয়ার মধ্যে দিয়ে|তাই আজ আমাদের সবারই মন কম বেশি খারাপ, কারন আজ বিজয়া দশমী|আজ দেবী দুর্গার বিসর্জনের দিন|মা ফিরে যাবেন কৈলাশে|তারপর আবার এক বছরের প্রতীক্ষা|তবে প্রকৃত অর্থে কিন্তু আজ দুক্ষের দিন নয়, আজ গৌরবের দিন|অন্তত শাস্ত্র তাই বলছে|

আসুন জেনে নিই এই দিন সম্পর্কে আমাদের সনাতন ধর্ম শাস্ত্র ঠিক কি বলছে|বিজয়া ও দশমী এই দুই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সব প্রশ্নের উত্তর ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা|আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের দশমী তিথিতে পিতৃ গৃহ ছেড়ে কৈলাসে স্বামীগৃহে পাড়ি দেন দেবী|তাই দশমী শব্দটি ব্যবহিত হয়|এবার যদি বিজয়া শব্দটির বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখা যাবে পুরান অনুসারে নয় দিন ও নয় রাত্রি যুদ্ধ করার পর দশম দিনে দেবী মহিষাসুরকে বধ করে বিজয় লাভ করেন|অর্থাৎ বিজয়া রূপে আত্মপ্রকাশ করেন|তাই এই দিন টি বিজয়া দশমী রূপে চিহ্নিত হয়|

মহিষাসুর বধের পর দেবতাদের আলিঙ্গন থেকেই কোলাকুলি বা আলিঙ্গন করার সূচনা হয়|আর যেকোনো শুভ কাজ সফল ভাবে সম্পন্ন হলে মিষ্টি মুখতো থাকবেই|আবার উত্তর ও মধ্য ভারতে এই দিনে দশেরা উদযাপিত হয়|’দশেরা’ শব্দটির উৎপত্তি সংস্কৃত শব্দ ‘দশহর’ থেকে এবং এখানে মূলত রাম কতৃক দশানন রাবন বোধের দিনটিকে উদযাপন করা হয়|বাল্মীকি রামায়ণ অনুসারে আশ্বিন মাসের শুক্লা দশমী তিথিতেই লঙ্কেশ্বর রাবণকে বধ করেছিলেন রাম ওই দিনটাই দশেরা এবং আশ্বিন মাসের ৩০ তম দিনে যে দিন অযোধ্যা প্রত্যাবর্তন করেন রাম সেদিনটি দীপাবলি রূপে পালিত হয়|অর্থাৎ এই দিন টা যথার্থ অর্থেই গৌরবের|তাই হয় তো স্নেহের আলিঙ্গন এবং মিষ্টি বিতরণের প্রচলন|তবু মন খারাপ থাকতেই পারে কারন নয় দিন ব্যাপী উৎসবের আজ সমাপ্তি|তবে দীপাবলি আসছে, আলোর উৎসবে আবার মেতে উঠবে দেশ|জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতের ক্ষেত্রে সর্ব শ্রেষ্ট সময় দীপান্বিতা অমাবস্যা আর কদিন পরেই|সে নিয়ে বলবো যথা সময়ে|সবাইকে শুভ বিজয়া|ভালো থাকুন|পড়তে থাকুন|ধন্যবাদ|
নবদূর্গার নবম রূপ – দেবী সিদ্ধিদাত্রী
নবদুর্গার নবম তথা শেষ রূপ হল সিদ্ধিদাত্রী। সিংহবাহিনী দেবীর চার হাতে আশীর্বাদী মুদ্রা। তিনি সিদ্ধি দান করেন। সবাইকে বরাভয় দেন এই মাতৃকামূর্তি ।যদিও বিভিন্ন পুরাণে দেবীর ভিন্ন রূপ বর্ণিত, কোথাও তিনি অষ্টভুজা, তো কোথাও তিনি অষ্টাদশভুজা আবার কোথাও দেবী ‘সিদ্ধিদাত্রী’ চতুর্ভুজা রূপেও পূজিত।দেবী সিদ্ধি দান করেন|দেবী ভগবত্ পুরাণে আছে, স্বয়ং মহাদেব দেবী পার্বতী কে সিদ্ধিদাত্রী রূপে পুজো করেছিলেন|এবং তার ফলে মহাদেব সকল সিদ্ধি লাভ করেন|দেবীর উপাসনায় সংসারে আসে সুখ এবং সমৃদ্ধি এবং সকল সিদ্ধি লাভ হয়| যারা কর্ম ক্ষেত্রে উন্নতি চায় শিক্ষা ক্ষেত্রে সমস্যা থেকে মুক্তি চায় এবং প্রকৃত জ্ঞান লাভ করতে চায় তারা দেবীর এই রূপের আরাধনা করতে পারেন|দেবী সিদ্ধিদাত্রীর আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য,নব রাত্রির এই বিশেষ দিনে আপনারা দেবীর মূর্তিকে গন্ধম, পুষ্পম, দীপম, সুগন্ধম এবং ভোগ নিবেদন করে পঞ্চোপচার পূজা করতে পারেনা । তাছাড়া দেবীর উদ্দেশ্যে আপনারা সিঁদুর, মেহেন্দি, কাজল নিবেদন করতে পারেনা তাতে আপনারা বিবাহিত জীবনে সুখের হবে দেবীর আশীর্বাদে|দেবী সিদ্ধিদাত্রীর পুজোয় এই মন্ত্রটি জপ করতে পারেন -ওম দেবী সিদ্ধিদাত্রায়ায় নমঃ। ওম দেবী সিদ্ধিদাত্রায় নমঃ ॥সিদ্ধ গন্ধর্ব যক্ষ্যাদিরসুরৈরমরপি। সেবামনা সর্বদা ভূয়াত সিদ্ধিদা সিদ্ধিদায়িনী।।সিদ্ধ গন্ধর্ব যক্ষদ্যারসুররমররাপি। সেবামনা সদা ভূয়াত সিদ্ধিদা সিদ্ধিদায়িনী ॥বা দেবী সর্বভূতেষু মা সিদ্ধিদাত্রী রূপেন সংস্থা। নমস্তস্য নমস্তস্য নমস্তস্য নমো নমঃ ॥ইয়া দেবী সর্বভূতেষু মা সিদ্ধিদাত্রী রূপেনা সংস্থিতা। নমস্তস্যায় নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥পদ্মাসনে বসা দেবীকে তিলের তৈরি নাড়ু বা খাবার ভোগ হিসেবে দেওয়ার চল রয়েছে। মনে করা হয়, তাতে ভক্তের শারীরিক ও মানসিক পীড়া দুর হয়|পরিবারের ও কল্যান হয়|আসন্ন দূর্গা পুজো উপলক্ষে যুক্ত থাকুন হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরের পুজোর সাথে|আবার দেখা হবে পরের পর্বে আধ্যাত্মিক ও পৌরানিক আরো অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা থাকবে প্রতিটি অনুষ্ঠানে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|