Home Blog Page 125

কেন শ্রী কৃষ্ণ, কালী রূপ ধারণ করেছিলেন ?

দ্বাপর যুগে শ্রীমতী রাধারাণী যখন শ্রীকৃষ্ণের প্রেম লীলায় মত্ত ছিল, তখন নন্দকুলের সকল গোপীগণ হঠাৎ করে শ্রীকৃষ্ণের বাঁশির ধ্বনি শুনতে পেয়ে হতচকিত হয়ে উঠেছিল। রাধারাণী তখন আয়ান ঘোষের আলয়ে নিত্য দিনের মতো রন্ধনরতা অবস্থায় ছিল। কৃষ্ণের এই মুরলী বংশীর ধ্বনি শুনে রাধার কানে পৌঁছানো মাত্রই রাধা তখন উতলা হয়ে পড়ে। অতঃপর রাধা রন্ধন সালা ত্যাগ করে তার সমাগত সহচরী সখী বৃন্দের সাথে দৌড়ে সেই স্থানে কানন অভিমুখে ছুটে গেলো। এদিকে আয়ানের বোন কুটিলা রাধার পালিয়ে যাওয়া দেখতে পেয়েও না দেখার ভান করে থাকে। এরপর আয়ান বাড়ি ফিরলে মা জটিলা বোন কুটিলা আয়ানকে রাধার ওপরে রাগিয়ে তোলার চেষ্টা করল। কুটিলা বলে, দাদা তোমার রাত বেড়ানো কুলটা স্ত্রী কে নিয়ে আমরা আর কোনোদিন সুখে শান্তিতে ঘর সংসার করতে পারবো না। তখন আয়ান ঘোষ বলল রাত বেড়ানো সে আবার কি রে কুটিলা? তোর কথার কোনো কিছুই তো আমি বুঝতে পারলাম না! রাধে আমায় বলেছে আজ সে আমার মঙ্গলের জন্য শ্যামা মায়ের শ্রী চরণে পুজা করবে। তখন কুটিলা বলল, দাদা তোমার রাধে আজ আসলে শ্যামা মায়ের পূজা করবে নাকি শ্যামের পূজা করবে তা আমারা কি কিছু জানি? তাই যদি হতো তাহলে শ্যামা মায়ের পূজা বুঝি ঘরে বসে হয় না? এদিকে হাঁটে বাটে ঘাটে মাঠে বদনাম শুনতে আমাদের কানে যে আর এগুলি মোটেও সহ্য হয় না। তোমার মতো আমরা তো আর চোখ থাকতে অন্ধ বাকেউ কানাও নই গো দাদা! এখন আর তোমার কাছে আমরা এ সমস্ত কথা বলেও কোনো কাজ হবেনা গো দাদা! একত্রে থাকতে গেলে সকলের ভালো মন্দ দেখতে হয়। আসলে কি হয়েছে তোরা আমাকে সরাসরি বলনা রে। আমি যে আর মোটেও রাধের বিরহের কথা একদম ভাবতে পারছি না। তখন তার মা জটিলা বলল, আমি বাপু কখনো কিছু বললে আমার কথা তুমি কানে তোলো না। তাই বেশতো এখন তোমার স্ত্রী নিয়েই একাকি থাকো। কুটিলা বলে, অতএব তোমার স্ত্রী কে তুমি সামলাও আমাদের কখনো ডেকনা দাদা। আগেও কতবার দেখেছি তোমার রাধে সেখানে রাত বিরেতে যেত, এখন আবার দেখি সে কিন্তু দিন দুপুরেও ঘরে থাকেনা। তখন আয়ান বলল, কুটিলা তুই কি আজ আসলেই তাকে হাতে নাতে ধরিয়ে দিতে পারবি বল? তাই যদি পারিস বোন তাহলে এখনই তুই সেখানে চল আমার সাথে। আমি সেখানে যদি রাধাকে দেখতে পাই তবেই এখন আমার চক্ষু কর্ণের বিবাদ মিটবে। তখন আয়ান ঘোষ প্রকাণ্ড একটি যষ্টি হাতে নিয়ে কুটিলাকে বলল আয় আমার সাথে। দেখি সে প্রতিদিন কোথায় যায় আমি আজ আমার নিজের চোখেই দেখব তাকে। যদি শ্যামা পূজা সত্যি সত্যিই মিছে হয় তাহলে কিন্তু আজ তাকে আমি লাঠির এক ঘাতেই মেরে একেবারে যমপুরীতে পাঠিয়ে দেবো।রাগান্বিত আয়ান লাঠি হাতে বড় বড় পা ফেলে রাধার উদ্দেশ্য তেড়ে যাত্রা করে, তার পাছে পাছে যায় জটিলা ও কুটিলা। তখন কালিন্দী কূলে কুঞ্জে কুঞ্জে একত্রিত হয়ে সকল সহচরী সখী বৃন্দ মনের আনন্দে ফুল তুলছিল। আর রাই কিশোরী তার কানাই কে তাঁর মনের মতো করে সাজাচ্ছিল। তখন হঠাৎ করে জটিলা ও কুটিলাকে সাথে নিয়ে আয়ান ঘোষ সেই কুঞ্জে কুঞ্জে, কন্দরে কন্দরে কানন নিকরে কেবলমাত্র শ্রীমতী রাধারাণীকে অন্বেষণ করতে করতে একেবারে সেই বিলাশ কুঞ্জের সমীপে এসে উপস্থিত হলো। দূর হতে আয়ান ঘোষের প্রমত্ত পদশব্দ ও রোষ গর্জন শুনতে পেয়ে সকল গোপীগণ হতচকিত হয়ে শ্রী রাধারাণীকে বলল। একেবারে মহা সর্বনাশ সমুপস্থিত হয়েছে দুলালি, ঐ যে দেখতে পাচ্ছি আয়ান এদিকে আসছে। তখন হঠাৎ এমন মহাবিপদের সংবাদ শুনে রাধারাণী ভিত চকিত হয়ে উঠল। অতঃপর রাধা কাতর নেত্রে শ্রীকৃষ্ণের পানে তাকাতেই তাঁর শ্যামাঙ্গ হতে সহসা বরাভয় প্রকটিত হতে লাগলো। আর চক্ষুর পলকে তার নিজের দ্বিভুজ দেহকানি একেবারে চতুর্ভুজ রূপ হয়েগেল। তখন তার এলু লায়িত কুন্তল যেন একেবারে দল দল করে দুলতে আরম্ভ করে দিতে লাগলো। তাঁর গলায় থাকা বিলম্বিত কমল মালা খানি নৃমুণ্ড মালারূপে, বাঁশি হল অসি এবং কপাল ফলকে তিলক রাগ শিশু শশিরূপে তাঁর দেহে যেন শোভাপেতে লাগলো। সেই মুহুর্তে কিন্তু ভয়ানক ক্রুদ্ধ অবস্থায় ছিল আয়ান ঘোষ। অবশেষে সে কুঞ্জদ্বারে এসে দেখতে পেল একি ! এ যে আমার সেই সমগ্র মানব জীবনের সাধনার ধন। যাকে আমি আমার সারাটা জীবন এই দুই নয়নে একবার দেখার জন্য হন্যে হয়ে খুঁজেছি।এই আমার পরম সেই আরাধ্য কাঙ্খিত ইষ্ট মুর্ত্তি ! তখন একেবারে গদগদ স্বরে আয়ান ঘোষ তার স্ত্রী কে ডাকতে লাগলো রাধে রাধে বলে ! তারপর আয়ান ঘোষ চিৎকার করে বলতে লাগলো ধন্য তুমি গো রাধে ! তোমার করুণার প্রসাদের কারনেই আজ আমি আমার সারা জীবনের সেই আকাঙ্খিত সেই ইষ্ট মূর্তির দর্শন পেলাম। সত্যিই ধন্য তুমি রাধে, তোমার মতো সহধর্মিণী পাওয়ার ফলেই আজ এই সাধের মানব জনম সার্থক হলো।আজ থেকে আমি কখনো তোমাকে আর কোনপ্রকার সন্দেহ করবো না। আামার মা কালী মহেষমোহিনী, মহিষমর্দ্দিনী, মানস মালিন্যহরা। এই ভাবে আয়ান ঘোষ মা কাত্যায়নীর স্তব করা আরম্ভ করলো।জয় আদ্যা সতী, দেবী ভাগবতী, অগতির গতি মা তারা! নমো নারায়ণী, ব্রহ্ম সনাতনী, চন্দ্রাননি, হর দারা ! শ্যামা সুরেশ্বরী, ভীমা ভয়ঙ্করী, দিগম্বরী, ঘোরবেশী ! শশ্মান বাসিনী, সমন ত্রাসিনী, সুহাসিনী, এলোকেশী! উমেশ অঙ্গনা, অঞ্জন গঞ্জনা, নিরঞ্জনা নিরুপমা ! তবনামে পূর্ণ আশ, মুক্ত মোহ পাশ, দিগ বাস মাগো মনোরমা ! নমো নৃত্য মা কালি, নিশানাথ ভালী, মুন্ডু মালী, মহোদরী ! মৃত্যুঞ্জয় জায়া, দে মা তব পদ ছায়া, মহামায়া, মহেশ্বরী ! বরাভয় করা, অসি মুন্ড ধরা। তাপহরা ত্রিনয়না! নমো নিস্তারিনী, শিব সীমন্তিনী, দেহি দীনে কৃপাকণা!

আপনাদের হৃদয়েস্বরী সর্ব মঙ্গলা মায়ের মন্দিরেআসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা শাস্ত্র মতে পুজো ও হোম যজ্ঞ এবং গ্রহ দোষ খন্ডনের সব ব্যবস্থা থাকবে|সামনেই কৌশিকী অমাবস্যা তারপর মহালয়া ও দীপান্বিতা অমাবস্যা সব মিলিয়ে তন্ত্র ও কালী সাধনার শ্রেষ্ট সময় যা গ্রহ দোষ খণ্ডন ও তন্ত্র মতে সমস্যা সমাধানের জন্য আদর্শ |আগামী পর্ব গুলিতে কালী কথা নিয়ে আলোচনা হবে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|নমস্কার|

কালী কথা বিশেষ পর্ব

কালী কথার এই পর্বে আলোচনা করবো পুরান অনুসারে দেবী কালীর জন্ম বা সৃষ্টি তত্ব নিয়ে|কালীর সৃষ্টি হয়ে ছিলো একটি বিশেষ উদ্দেস্যে |স্বর্গ তোলপাড় করে লন্ডভণ্ড করে দিচ্ছে অসুরের দল। দেবতাদের তাড়িয়ে স্বর্গরাজ্যের দখলের চেষ্টাও করছে তারা। দেবতাদের মধ্যে ত্রাহি-ত্রাহি রব। অসুরদের প্রধান রক্তবীজ-ৃএর ছিল ব্রহ্মার বর। যার জেরে রক্তবীজের শরীর থেকে এক ফোঁটা রক্ত ভূতলে পতিত হলেই তা থেকে জন্ম নিচ্ছিল একাধিক অসুর।এই পরিস্থিতিতে কার্যত দিশেহারা দেবতারা|এই বিপদ থেকে স্বর্গ-কে রক্ষা করতে এবং দেবতার মানসম্মান রক্ষার্থে অবতীর্ণ হন দেবীদুর্গা। সব অসুর দেবীদুর্গার হাতে নিহত হলেও ব্রাক্ষ্মার বরপ্রাপ্ত রক্তবীজ বারবার বেঁচে যায়।অবশেষে ক্রোধাম্বিত দেবীদুর্গা তাঁর ভ্রু যুগলের মাঝ থেকে জন্ম দেন কালীকে। কালীর ভয়াবহ রুদ্রমূর্তি আর নগ্নিকা রূপে নিহত হতে থাকে একের পর এক অসুর। রক্তবর্ণ লকলকে জিভ বের করে কালী গ্রাস করে নিতে থাকেন একের পর অসুর এবং তাদের রণবাহিনীকে। হাতি, ঘোরা সমতে অসুরের দলকে কালী গ্রাস করতে থাকেন। রক্তবীজকে অস্ত্রে বিদ্ধ করে তার শরীরের সমস্ত রক্ত পান করে নেন কালী। রক্তবীজের শরীর থেকে একফোঁটা রক্ত যাতে মাটিতে না পরে সেজন্য কালী তাকে শূন্যে তুলে নেন। রক্তবীজকে এক্কেবারে রক্তশূন্য করে দেহ ছুঁড়ে ফেলে দেন|শান্ত হল ব্রম্হান্ড |রক্ষা পেলো সৃষ্টি|আগামী পর্বে আরো বিস্তারিত আলোচনা করবো দেবী কালীর রূপ ও তার মহাত্ম নিয়ে|এই পর্ব থেকে বিদায় নেয়ার আগে জানিয়ে রাখি আগামী কৌশিকী অমাবস্যায় আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরের বিশেষ পুজো, হোম যজ্ঞ ও গ্রহ দোষ খণ্ডন সম্পন্ন হবে|আগ্রহীরা আগাম যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে ও সরাসরি কথা বলুন আমার সাথে|ভালো থাকুন|নমস্কার|

দারিদ্র যোগ থাকলে সাবধান

যুগ যুগ ধরে জ্যোতিষ ও তন্ত্র শাস্ত্রে কৌশিকী অমাবস্যা তিথির গুরুত্ব অপরিসীম|শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খন্ডনের ক্ষেত্রে এই অমাবস্যা তিথি শ্রেষ্ট তিথি| আজকের পর্বে ব্যাখ্যা করবো জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতে কেনো অমাবস্যা এতো গুরুত্বপূর্ণ পাশাপাশি একটি অশুভ যোগ দারিদ্র যোগ নিয়ে আলোচনা করবো|প্রথমে জানা দরকার এই অমাবস্যা তিথি কি|শুক্লপক্ষ এবং কৃষ্ণপক্ষ এক মাসের দুটি অংশ রয়েছে। শুক্লপক্ষে চন্দ্রের শিল্পকলা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ চন্দ্র বৃদ্ধি পায়। কৃষ্ণপক্ষের চন্দ্র বক্ররেখা এবং অমাবস্যায় সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়। চাঁদের ষোলটি কলার মধ্যে ষোড়শ শিল্পকে অমা বলা হয়। তাই এই তিথি অমাবস্যা নামে পরিচিত।যে অমাবস্যা তিথিতে দেবী কৌশিকী আবীরভূতা হয়েছিলেন তাকেই আমরা কৌশিকী অমাবস্যা বলি|কৌশিকী অমাবস্যা তিথিতে অশুভ শক্তি শুভ শক্তির সামনে পরাজিত হয়|এবার আসুন দারিদ্র যোগ কি|যদি কোনও জন্মছকে রবি ও শুক্র খুব কাছাকাছি বা একই ভাবে অবস্থান করে, তা হলে দারিদ্র যোগ সৃষ্টি হয়। আবার লগ্নের দশমে, রবির একাদশে, চন্দ্রের অষ্টমে কোনও গ্রহ না থাকলেও এই যোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে। এই দারিদ্র যোগ যদি কোনও জন্মছকে থাকে, তা হলে একটি মানুষের সমগ্র জীবনে অত্যন্ত যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। অভাব অনটন প্রায় সময়েই জাতককে তাড়িয়ে বেড়ায়। এই যোগ থাকলে কখনওই সহজে আর্থিক উন্নতি হবে না।স্বচ্ছলতা যেমন মানুষের জীবনে আশির্বাদ, ঠিক তেমন দারিদ্র মানুষের জীবনে অভিশাপ। এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কত মানুষ কত কী করেন। কিন্তু সঠিক সময়ে সঠিক উপায়টি না করলে কখনওই এর হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না। অবশ্য দারিদ্র যোগ মানেই যে আর্থিক দারিদ্রতা হতে হবে তা নয়|দারিদ্র যোগ কোন ভাবে সৃষ্টি হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে এর ফল|দারিদ্র যোগের ফলে শিক্ষা জীবন ব্যার্থ হতে পারে|শরীর খারাপ হতে পারে|দাম্পটি জীবনে সমস্যা দেখা দিতে পারে|অর্থাৎ যেভাবেই হোক দারিদ্র যোগের প্রতিকার দরকার|সেক্ষেত্রে শাস্ত্র মতে কৌশিকী অমাবস্যা সর্ব শ্রেষ্ট তিথি|আগামী কৌশিকী অমাবস্যায়যারা আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে বিষ যোগ, গ্রহণ দোষ, কাল সর্প দোষ , গুরু চণ্ডাল দোষ , পিতৃ দোষ, দারিদ্র যোগ ইত্যাদি ভয়াবহ দোষগুলি খণ্ডন করাতে চান যোগাযোগ করুন|আগামী পর্বে কৌশিকী অমাবস্যা ও অন্য একটিঅশুভ যোগ নিয়ে আবার ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

দশ মহাবিদ্যা – দেবী ভৈরবী

দেবীর দশ মহাবিদ্যা ষষ্ঠ রূপ হল দেবী ভৈরবী|দুর্গার আভা মণ্ডলে উপরোক্ত দশ মহাবিদ্যা দশ প্রকার শক্তির প্রতীক। সৃষ্টির ক্রমে চার যুগেই এই দশ মহাবিদ্যা বিরাজমান ছিল। এর সাধনা মাত্রই ফলদায়ক এবং সাধকের সমস্ত কামনা পুরো হয়দশমহাবিদ্যার ষষ্ঠ রূপ দেবী ভৈরবী। ইনি চতুর্ভুজা, হাতে অক্ষমালা। দেবী অস্ত্রহীন। এই দেবী বিদ্যা ও ধনদাত্রী। চৌষট্টি যোগিনীদের মধ্যে প্রধানের নাম ভৈরবী। ইনি শিবের ন্যায় স্ত্রী মূর্তি, ইনি সঙ্গীতের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নামে পরিচিত।ত্রিগুণাত্মক শক্তিরুপী ন’দুর্গার আর একটি বিশেষত্ব আছে, যা তাঁর আধ্যাত্মিক স্বরূপে দশ মহাবিদ্যা রূপে বিরাজমান। ব্রহ্মার পুত্র দত্তত্রেয় তন্ত্র শাস্ত্রের গ্রন্থ রচনা করে মহিষাসুরমর্দিনী এবং সিদ্ধিদাত্রী দেবী ভগবতীর মধ্যে সমাহিত ওই দশ মহাবিদ্যার উল্লেখ করেন। মার্কণ্ডেয় পুরাণে দশ মহাবিদ্যার এবং তার মন্ত্রের বিস্তারিত বর্ণনা আছে|ভৈরবী সম্পর্কে উল্লেখ আছে যে তিনি ভয়ঙ্করী দেবী। কামনা ও প্রলোভনের স্বরূপ যা মৃত্যুর দিকে টেনে নিয়ে যায়।জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে ভৈরবী সময় ও লগ্নের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়েছেন|শাস্ত্র মতে কৌশিকী অমাবস্যা অন্য সমস্ত অমাবস্যার থেকে একটু আলাদা। কারণ তন্ত্রমতে ভাদ্র মাসের এই তিথিটি একটু বিশেষ কারণ অনেক কঠিন ও গুহ্য সাধনায় এই দিনে আশাতীত ফল মেলে|দশ মহাবিদ্যার অন্যতম দেবী তারা মর্তধামে আবির্ভূত হন এই তিথিতে তাই এই রাত কে তারারাত্রি ও বলে|তারাপিঠে এই তিথিতেই সাধনায় সিদ্ধি লাভ করেন বামা ক্ষ্যাপা|গ্রহ দোষ খন্ডনে এই তিথি শ্রেষ্ট তিথি|ফিরে আসবো দশ মহাবিদ্যা, তন্ত্র এবং কৌশিকী অমাবস্যা নিয়ে আরো অনেক আলোচনা নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

দশমহাবিদ্যা – দেবী ভুবনেশ্বরী

দশমহাবিদ্যার পঞ্চম রূপ ভুবনেশ্বরী। তন্ত্র শাস্ত্রে জানা যায়, মহাদেবের উপর অভিমান ও রাগে দেবী ষোড়শী রূপ ধারণ করেন এবং শিবের বক্ষে নিজের এই নতুন রূপের ছায়া দেখে নিজেই ভীত হন। পরে সেই ছায়া নিজের জেনে স্থির হন। দেবীর এই সুস্থির রূপ ভুবনেশ্বরী রূপে চিত্রিত হয়েছে। এই দেবীর গায়ের রং জবা ফুলের মতো। চার হাতে অস্ত্র ও বরাভয় মুদ্রা। চার দিকে চার জন দেবী এই দেবীকে ঘিরে আছেন। দেবীর আরও সহচরী আছে।দেবী ভুবিনেশ্বরী জগদ্ধাত্রী রূপেও পূজিতা হন বহু স্থানে|পুরান অবুসারে ত্রিদেব অর্থাৎ ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং মহেশ্বরকে ভুবনেশ্বরী দেবী শক্তি প্রদান করে থাকেন। ব্রহ্মাকে তিনি সরস্বতী, বিষ্ণুকে তিনি লক্ষ্মী এবং মহেশ্বরকে মহাকালী প্রদান করেন। সকল প্রাণীর স্রষ্টা-ও তিনি। শ্রীকৃষ্ণ এবং বলরামের বোন সুভদ্রাকে মনে করা হয়, দেবী ভুবনেশ্বরীর অবতার।মহাবিশ্ব সৃষ্টির শুরুতে দেবী ভুবনেশ্বরী গোপাল সুন্দরীর জন্ম দেন। আর তারপর তাঁর মাধ্যমেই জগৎ রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। এই গোপাল সুন্দরী স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ। দেবীভাগবত পুরাণ অনুসারে, তিনি পঞ্চ প্রকৃতির মাধ্যমে প্রকাশিত হন। এই পঞ্চ প্রকৃতি হলেন, দুর্গা লক্ষ্মী, সরস্বতী, গায়ত্রী এবং রাধা। শেষপর্যন্ত এঁরা ভুবনেশ্বরী দেবীতে বিলীন হন। যাঁকে আদি পরাশক্তি বলা হয়েছে।জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে দেবী ভুবনেশ্বরী হলেন শুক্রের ইষ্টদেবী|শুক্র সংক্রান্ত যেকোনো দোষ বা শুক্রের অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে দেবী ভুবিনেশ্বরী সহায়|সেক্ষেত্রে আগামী কৌশিকী অমাবস্যা তিথি শ্রেষ্ট তিথি|আগামী পর্বে আবার ফিরে আসবো দশ মহাবিদ্যা তন্ত্র এবং কৌশিকী অমাবস্যা নিয়ে আরো অনেক তথ্য নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

জন্মাষ্টমীর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব

আজ জন্মাষ্টমীর এই পবিত্র সময়ে আসুন জেনে নিই এই তিথির পৌরাণিক ব্যাখ্যা ও তার আধ্যাত্মিক গুরুত্ব|চন্দ্রমা ধরে হিন্দু শাস্ত্রে যে ক্যালেন্ডার হয় তাতে অষ্টমী তিথিতে জন্মছিলেন ভগবান শ্রী কৃষ্ণ ৷ হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, সৌর ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে যখন রোহিণী নক্ষত্রের প্রাধান্য দেখা যায়, তখন জন্মাষ্টমী পালিত হয়। উৎসবটি প্রতি বছর ইংরাজি ক্যালেন্ডারে অগাস্ট মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোনও এক সময়ে পড়ে।করা হয়েছিল, দেবকী ও বাসুদেবের অষ্টম পুত্র তাঁকে হত্যা করবে।শাস্ত্র অনুসারে কংস তাঁর বোন ও ভগ্নি-পতীকে ভালোবাসতেন। কিন্তু, তাঁদের অষ্টম পুত্র তাঁকে হত্যা করবে, এই ভবিষ্যবাণী শোনার পর তাঁদের সব সন্তানকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন কংস। প্রথম ছয় সন্তানকে হত্যা করতে সক্ষমও হন। সপ্তম সন্তানের হদিশ পাননি কংস। অষ্টম সন্তান, অর্থাৎ কৃষ্ণের জন্মের সময় গোটা রাজ্য ঘুমিয়ে পড়েছিল। বাসুদেব গোপনে সেই সন্তানকে বৃন্দাবনের নন্দ বাবা ও যশোধাকে হস্তান্তরিত করেন।তার পরিবর্তে এক কন্যাসন্তানকে নিয়ে আসনে বাসুদেব ও দেবকী। যাতে তাঁদের অষ্টম সন্তান কৃষ্ণের কোনও খোঁজ না পান কংস। ওই কন্যাসন্তানকে নিয়ে এসে অসুরের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু, তিনি যখন তাকে হত্যা করতে উদ্যত হন, সেই সময় ওই কন্যাসন্তান দেবী দুর্গায় রূপ ধারণ করেন। তিনি কংসকে সব কুকর্মের জন্য সতর্ক করে দেন।এদিকে বৃন্দাবনে বেড়ে ওঠে কৃষ্ণ। সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর কোনও ধারণা ছিল না। যখন আরও বড় হয়ে ওঠেন, গোটা বিষয়টি তিনি শোনেন। তার পর সোজা মথুরা চলে আসেন। এখানে এসে কংসকে হত্যা করেন। দেখা হয় মা বাবা দেবকী ও বাসুদেবের সঙ্গে।পরবর্তীতে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে তার ভূমিকা ও দ্বারকায় জীবনের শেষ অধ্যায় নিয়ে শাস্ত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যা আছে যা নানা সময়ে আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি আগামী দিনেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে|জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারেও এই দিনটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে যাদের জন্মপত্রিকায় চন্দ্র দুর্বল অবস্থানে রয়েছে, তাদের জন্য জন্মাষ্টমীর কিছু উপাচার ও কৃষ্ণের আরাধনা গুরুত্বপুর্ণ|সামনেই আবার কৌশিকী অমাবস্যা তাই পবিত্র সময়ে জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকারের জন্যে শ্রেষ্ট সময়|প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|আপনাদের সবাইকে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানাই|ভালো থাকুন|পড়তে থাকুন|ধন্যবাদ|

দশ মহাবিদ্যা – দেবী ছিন্নমস্তা

জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে দশ মহাবিদ্যার একেকটি রূপ একেকটি গ্রহর ইষ্ঠ দেবী যা প্রথম দিন আপনাদের বলেছি|রাহু একটি পাপ গ্রহ হিসেবে বিবেচিত হয় আমাদের জ্যোতিষ শাস্ত্রে এবং এই গ্রহের ইষ্ঠ দেবী ছিন্ন মস্তা|আজ আলোচনা করবো দেবীর এই বিশেষ রূপ নিয়ে|দশমহাবিদ্যার তৃতীয় রূপ হল ছিন্নমস্তা।একদিন পার্বতী ডাকিনী ও বর্ণিনীকে নিয়ে মন্দাকিনী নদীতে স্নান করতে যান। মন্দাকিনীতে জলকেলী করে উঠে দুই সহচরী আর্তনাদ করে ওঠেন, ‘আমি ক্ষুধার্ত, আমাদের খাদ্য দাও’। কিন্তু ডাকিনী ও বর্ণিনী রক্ত ও মাংস ছাড়া অন্য খাদ্য খায় না। তখন দেবী অট্টহাস্য করে নিজের নখাগ্র দিয়ে নিজের কণ্ঠচ্ছেদ করলেন। ছিন্নমস্তকটি তখন তাঁর বাম হাতে এসে পড়লো। মুক্তকণ্ঠ থেকে তিনটি ধারায় ফিনকী দিয়ে রক্তস্রোত বের হতে লাগল। দেবীর দুই পাশে দাঁড়িয়ে দুই সহচারী সেই দুই রক্তধারা পান করতে লাগল। মধ্য ধারা দেবী সেই ছিন্ন মস্তক দ্বারা পান করতে লাগলেন। এই রূপ তিনি স্বামীকে ভয় দেখানোর জন্য এই বিভূতি দেখান।দেবীর এই তৃতীয় রূপই সব থেকে ভয়ঙ্কর। বাম হাতে ধরে আছেন নিজের মাথা এবং গলা থেকে নির্গত রক্তের স্রোত তিন ধারার মধ্য মাঝের ধারা সেই ছিন্ন মস্তকে পান করছেন। বামে মহচরী ডাকিনী ও ডানে সহচরী বর্ণিনী বাকি সেই দুই রক্তধারা পান করছেন। সবাই দিগম্বরী, মুণ্ডমালিনী ও মুক্তকেশী। ছিন্নমস্তা দেবী নানা ফুলে শোভিত। গলায় মুণ্ডমালা এবং নাগ উপবীত।দেবী ছিন্নমস্তা রতি ও কামদেবেরউপর দণ্ডায়মান।এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে আসি|যে বেদ আমাদের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যর ধারক ও বাহক সেই বেদেই রয়েছে ভারতীয় জ্যোতিষ শাস্ত্রের জন্ম রহস্য জ্যোতিষ ৬ টি বেদাঙ্গের অন্যতম|যে নয় টি গ্রহ নিয়ে আমাদের জ্যোতিষ শাস্ত্র আবর্তিত হয় তার প্রত্যেকটির একেকটা নিজস্ব ইষ্ঠ দেবী রয়েছে যা দশ মহাবিদ্যা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে উঠে আসছে আবার গ্রহের দেবতা বা অধিপতি রয়েছে|যেমন রবির সূর্য দেব, শনির শনিদেব ইত্যাদি ইত্যাদি আবার রাহু কেতুর মতো দানবও রয়েছে|নক্ষত্রদের ও নিজস্ব অধিপতি রয়েছে|আবার প্রতিটি গ্রহের রয়েছে নিজস্ব তত্ব এবং দিশা|আমরা যখন কোনো গ্রহের প্রতিকারের কথা বলি সে রত্ন বা রুদ্রাক্ষ ধারন হোক বা শাস্ত্র মতে পুজো ও হোম যজ্ঞর মাধ্যমে হোক ওই আধ্যাত্মিক বিষয়টাও তার সাথে যুক্ত থাকে|আপনাদের হৃদয়েস্বরী সর্ব মঙ্গলা মায়ের মন্দিরে আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা শাস্ত্র মতে পুজো ও হোম যজ্ঞ এবং গ্রহ দোষ খন্ডনের সব ব্যবস্থা থাকবে|যারা আগ্রহী তারা যোগাযোগ করতে পারেন|ফিরে আসবো দশ মহাবিদ্যা, তন্ত্র এবং কৌশিকী অমাবস্যা নিয়ে আরো অনেক আলোচনা নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থ্যাকুন|ধন্যবাদ|

দশ মহাবিদ্যা – দেবী তারা

দশ মহাবিদ্যা,তন্ত্র বা কৌশিকী অমাবস্যা নিয়ে আলোচনা শুরু করলে দেবী তারা ও তারাপীঠ প্রসঙ্গ আসবেই কারন কৌশিকী অমাবস্যা হলো তারা নিশি যা দেবী কৌশিকীর আবির্ভাব তিথি রূপে পালিত হয়, দেবী কৌশিকীর একটি বিশেষ রূপ দেবী তারা,আবার দেবী তারা দশ মহাবিদ্যার অন্যতম দেবী|দশ মহাবিদ্যার দ্বিতীয় রূপ হল তারা। ভীষণ দর্শনা দেবী কালীর ভয়ে মহাদেব ভীত হলে সতী দ্বিতীয় বার আবির্ভূত হন তারা রূপে। তাঁর গায়ের রং নীল, নব যৌবনা, পরিধানে ব্যাঘ্র চর্ম। দেবীর চারটি হাত। দেবীর অবস্থান প্রজ্জলিত চিতার মধ্যে। তাঁর বাম পা শিবের বুকে অবস্থিত। তন্ত্রশাস্ত্রে ইনি মহানীল সরস্বতী।বাংলার তারাপীঠে অধিষ্টান করছেন দেবী তারা|জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতে প্রসিদ্ধ এই তারাপীঠ এবং তারাপীঠ মহা শ্মশান যা তন্ত্র সাধনার এক উৎকৃষ্ট স্থান কারন এটি কোনো সাধারণ শ্মশান নয় এটি মহা শ্মশান এই মহাশ্মশানেই জীবন আর মৃত্যুর পটভূমি নিত্য রচনা করে চলেন দেবী তারা|প্রচলিত বিশ্বাস বলে তারাপীঠের মহাশ্মশানেও জ্যোতিরূপে বাস করেন দেবী|কিংবদন্তী অনুসারে দ্বারকা নদী মহাশক্তির উৎস। এই নদীজলে স্নান করলেই সিদ্ধিলাভের যোগ্যতা অর্জন করেন মানুষ। দূর হয় সব পাপ|আশ্চর্যজনক ভাবে এই নদী উত্তর মুখী|তারাপীঠের পঞ্চমুন্ডীর আসন ও জগৎ প্রসিদ্ধ এই পঞ্চমুণ্ডের আসন আলাদা। এখানে পাঁচটি মুণ্ড সাপের, ব্যাঙের, খরগোশের, শিয়ালের এবং মানুষের। এই আসনে বসেই বহু যুগ পূর্বে দেবীকে তুষ্ট করে তারাপীঠকে সিদ্ধপীঠে পরিণত করেছিলেন ঋষি বশিষ্ঠ পরবর্তীতে বামা ক্ষেপা|মাতারার মুল প্রস্তর নির্মিত মূর্তি টি রয়েছে একটি ধাতব মূর্তির অভ্যন্তরে|এই মূর্তিটি ভীষণা চতুর্ভূজা, মুণ্ডমালাধারিণী এবং লোলজিহ্বা মূর্তি। এলোকেশী দেবীর মস্তকে রয়েছে একটি রৌপ্যমুকুট |বহির্মূর্তিটি সাধারণট শাড়ি-জড়ানো অবস্থায় গাঁদা ফুলের মালায় ঢাকা অবস্থায় থাকে। মূর্তির মাথার উপরে থাক একটি রূপোর ছাতা|প্রতিকৃতি বিগ্রহের নিচে গোলাকার বেদীতে দুটি রূপোর পাদপদ্ম থাকে|যারা তারা পীঠ মন্দির ও দেবীকে দর্শন করেছেন তারা জানেন উত্তরমুখী আটচালা মন্দিরটি লাল ইঁটে নির্মিত এবং মন্দিরের চূড়ায় একটি তামার পতাকাসহ ত্রিশূল ত্তিনটি পদ্ম ভেদ করে উঠেছে|প্রাচীন কালে বণিক জয় দত্তের তৈরি করে দেওয়া তারামায়ের মন্দিরটি আজ আর নেই। বর্তমানের মন্দিরটি ১২২৫ বঙ্গাব্দে তৈরি করান মল্লারপুরের জগন্নাথ রায়|যারা বিশ্বাস করেন তারাপীঠ একটি সিদ্ধ পীঠ তারা মনে করেন দেবী সতীর চোখের ঊর্ধ্বনেত্রের মণি অর্থাৎ তারা পড়ায় দ্বারকা নদীর পুব পাড়ের চণ্ডীপুর আজ তারাপীঠ|তারাপীঠ সিদ্ধ পীঠ না কেবল মাত্র একটি জাগ্রত শক্তি পীঠ বা উপপীঠ এ নিয়ে বিতর্ক ও মতান্তর বহু যুগ ধরে চলে আসছে|কথিত আছে বশিষ্ট দেব সাধনা করতেন কামাখ্যায় কিন্তু কোনো কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি কামাখ্যা ত্যাগ করেন ও বাংলার বীরভূমের এই বিশেষ স্থানে এসে পঞ্চমুন্ডীর আসন প্রতিষ্ঠা করে দেবী উগ্রতারার সাধনা শুরু করেন ও দুর্লভ কৌশিকী অমাবস্যা তিথিতে তিনি সিদ্ধি লাভ করেন|পরবর্তীতে ধীরে ধীরে এই স্থান মাহাত্ম লোক মুখে প্রচারিত হয় ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তারাপীঠ|ফিরে আসবো দশ মহাবিদ্যা, তন্ত্র এবং কৌশিকী অমাবস্যা নিয়ে আরো অনেক আলোচনা নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|






                

দশ মহাবিদ্যা – দেবী কালী

সামনেই কৌশিকী অমাবস্যা আর কৌশিকী অমাবস্যা মানেই শক্তি সাধনার দুর্লভ যোগ এই আদ্যা শক্তি আরো অনেক গুলি রূপে প্রকাশিত হয়েছে যারা মধ্যে অন্যতম দশ মহাবিদ্যা রূপ|দেবীর এই দশ মহাবিদ্যা প্রথম রূপ হল কালী।শুম্ভ ও নিশুম্ভ বরে অজেয় হওয়ায় তাদের অত্যাচারে দেবগণের প্রার্থনায় দেবী দুর্গার ভ্রকুটি থেকে বেরিয়ে এলেন কালী। যার চার হাতের ডান দিকে হাতে খঙ্গ ও চন্দ্রহাস। বাম দিকের হাতে চর্ম ও পাশ। গলায় নরমুণ্ড, দেহ পশু চর্ম আবৃত। বড় বড় দাঁত,রক্ত চক্ষু ও বিস্তৃত মুখ, স্থুল কর্ণ। দেবীর বাহন কবন্ধ বা মস্তক বিহিন দেহ।শাস্ত্রে দেবীকে শান্ত ও উগ্র দুই রূপেই বর্ণনা করা আছে।শাস্ত্রে বলা আছে, কালী দুর্গার ললাট থেকে উৎপন্না হয়েছে, এই বাক্যের তাৎপর্য যে, ললাটের সংকোচনেই ক্রোধভাব প্রকাশিত হয় বলে সদা ক্রোধান্বিতা,রণরঙ্গিনী করাল-বদনা কালীকে ললাট-সম্ভবা বলা হয়েছে। বাস্তবিক কালীও দুর্গার রূপান্তর বিশেষ। ক্রোধাবস্থাপন্না শক্তিকেই কালী বলা হয়েছে।কালী নাম ও এক রহস্য, কাল-এর স্ত্রীলিঙ্গ হল কালী। আর শিব-কেও কাল নামে ডাকা হয়। কাল মানে অনন্ত সময়। এই সময়েরই স্ত্রীলিঙ্গ বোধক হচ্ছে কালী। শাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে যে কাল সর্বজীবকে গ্রাস করে, সেই কালকে আবার যিনি গ্রাস করেন-তাঁকেও কালী বলা হয়।বাঙালির ঘরে ঘরে কালী পুজোর প্রচলন শুরু হয়তন্ত্র সাধক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগিশ এর মাধ্যমেকৃষ্ণানন্দ একবার মহামায়াকে বললেন, ‘‘মা, তোমার যে রূপের পূজা আমি করব আমাকে সে রূপ দেখিয়ে দাও’’। তখন মা বললেন, ‘‘যে ভঙ্গীতে আমার এই বিগ্রহের পূজা তোমার দ্বারা প্রচলিত হবে, তা আমি মানবদেহের মাধ্যমেই দেখিয়ে দেব। এই রাত শেষে সর্ব প্রথম যে নারীকে যে রূপে যে ভঙ্গীতে দেখবে, ঐরকম মূর্তিতে আমার পূজার প্রচলন করবে। মায়ের নির্দেশমত পরদিন ভোরে কৃষ্ণানন্দ গঙ্গার দিকে কিছু দূর অগ্রসর হওয়ার পর এক শ্যামাঙ্গিনী বালিকাকে দেখতে পান। ওই বালিকা তখন অপরূপ ভঙ্গীতে কুটিরের বারান্দার উপরে এবং বামপদ ভূতলে দিয়ে দাড়িয়ে ছিলেন। তিনি একতাল গোময়যুক্ত ডান হাত এমনভাবে উচু করে ধরেছিলেন যা দেখে বরাভয় মুদ্রার মত মনে হয়েছিল। বাম হাত দিয়ে তিনি কুটিরের দেয়ালে মাটির প্রলেপ দিচ্ছিলেন। তিনি ক্ষুদ্র পরিসরে একটি শাড়ি পড়ে ছিলেন। তাই কৃষ্ণানন্দকে দেখে তিনি লজ্জায় জিভ কেটেছিলেন।তাঁর এরকম ভঙ্গী দেখে কৃষ্ণানন্দের মায়ের প্রত্যাদেশের কথা মনে পড়ে গেল। তারপরই তিনি মায়ের ঐরকম মূর্তি রচনা করে পূজার প্রচলন করলেন।ফিরে আসবো দশ মহাবিদ্যা, তন্ত্র এবং কৌশিকী অমাবস্যা নিয়ে আরো অনেক আলোচনা নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় পতাকার ইতিহাস

আজ ভারতের স্বাধীনতা দিবস|এই বছর স্বাধীনতা দিবসে একটু আলাদা কারন এবছর কেন্দ্র সরকার প্রতিটি বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন কে উৎসাহ দিতে একটি কর্মসূচি গ্রহন করছে যারা ‘ হার ঘর তিরঙ্গা ‘ নিঃসন্দেহে অভিনব প্রয়াস|আমাদের তিরঙ্গা জাতীয় পতাকার ও একটা ইতিহাস আছে|এই পতাকা সৃষ্টির সাথে জড়িয়ে আছে অনেক ঘটনা ও অনেক গল্প|ভারতের জাতীয় পতাকার রূপটি অতি সুন্দর এবং অর্থবহ|এই পতাকারা কেন্দ্রে চব্বিশটি দণ্ডযুক্ত নীল “অশোকচক্র” সহ গেরুয়া, সাদা ও সবুজ আনুভূমিক আয়তাকার ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা। ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই গণপরিষদের একটি অধিবেশনে এই পতাকার বর্তমান রূপটি ভারত অধিরাজ্যের সরকারি পতাকা হিসেবে গৃহীত হয়েছিল|স্বাধীনতারা কিছু বছর আগে আগে ১৯১৬ সালে অধুনা অন্ধ্রপ্রদেশের মছলিপত্তনম শহরের নিকটস্থ ভাটলাপেনামারু গ্রামের বাসিন্দা পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া একটি সাধারণ জাতীয় পতাকার রূপদানের চেষ্টা করেন|অনেক ঘটনা ও টানা পোড়েনের পর তিনিই হন দেশের জাতীয় পতাকার স্রষ্টা বা রূপকার|ভেঙ্কাইয়া এই পতাকার জন্য মহাত্মা গান্ধীর অনুমোদন চাইতে গেলে গান্ধীজি তাঁকে “ভারতের মূর্তপ্রতীক ও দেশের সকল অমঙ্গলহারী” চরকার চিত্র পতাকায় যোগ করার পরামর্শ দেন গান্ধীজি|যদিও তা বাস্তবায়িত হয়নি|পরবর্তীকালে ১৯৩১ সালের করাচি কংগ্রেস অধিবেশনে পতাকা সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রস্তাবটি পাস হয়। পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া অঙ্কিত একটি ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা গৃহীত হয়। এই পতাকায় আনুভূমিক গেরুয়া, সাদা ও সবুজের মধ্যস্থলে একটি চরকা খচিত ছিল। গেরুয়া ত্যাগ; সাদা সত্য ও শান্তি এবং সবুজ বিশ্বাস ও প্রগতির প্রতীক তথা চরকা ভারতের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও দেশবাসীর শ্রমশীলতার প্রতীক হিসেবে গৃহীত হয়।ওই বছরই ২ রা এপ্রিল কংগ্রেস কর্মসমিতি একটি সাত সদস্যের পতাকা সমিতি গঠন করে। পতাকায় ব্যবহৃত তিনটি রং নিয়ে আপত্তি আছে ওঠে কারণ এই রংগুলি সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে চিহ্নিত এই মর্মে একটি প্রস্তাব পাস হয়। পতাকার রঙ আবার পরিবর্তন করা হয়|আবার সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হচ্ছে এই অভিযোগের ভিত্তিতে পতাকার এই রঙ বাতিল করা হয়|স্বাধীনতা প্রাপ্তির কয়েকদিন পূর্বে ভারতের জাতীয় পতাকার বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য গণপরিষদ স্থাপিত হয়। গণপরিষদ রাজেন্দ্র প্রসাদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। এই কমিটির সদস্যরা ছিলেন মৌলানা আবুল কালাম আজাদ, সরোজিনী নাইডু, চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী, কে এম মুন্সি ও বি আর আম্বেডকর। পতাকা কমিটি স্থাপিত হয় ১৯৪৭ সালের ২৩ জুন।এই কমিটি পতাকা নিয়ে আলোচনা শুরু করে। তিন সপ্তাহ পরে ১৯৪৭ সালের ১৪ জুলাই তাঁরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পতাকাটি উপযুক্ত সংস্কারের পর সব দল ও সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণীয় করে তুলে জাতীয় পতাকা হিসেবে গৃহীত হবে। পরে এমন প্রস্তাবও গৃহীত হয় যে ভারতের জাতীয় পতাকার কোনো সাম্প্রদায়িক গুরুত্ব থাকবে না। চরকার পরিবর্তে সারনাথ স্তম্ভ থেকে ধর্মচক্র-টি গৃহীত হয় পতাকায়।এই পতাকাই ভারতের জাতীয় পতাকা রূপে স্বীকৃত হয় এবং ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট স্বাধীন ভারতে প্রথমবার এই পতাকাটি উত্তোলিত হয়|ভারতের জাতীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সবারই জেনে রাখা দরকার| জাতীয় পতাকা ক্ষতিগ্রস্থ হলে বা নোংরা হলে, এটিকে ফেলে দেওয়া বা অমর্যাদার সহিত নষ্ট করা যায় না।রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পতাকাকে সঠিক ভাবে বিদায় জানানো হয় বা সংরক্ষন করাই নিয়ম|স্বাধীনতা দিবস পালন করুন এবং অবশ্যই জাতীয় পতাকাকে যথাযত সন্মান দিন|আমার সকল পাঠক ও অনুরাগীদের জানাই স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|জয় হিন্দ|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|