আজ কালীক্ষেত্র পর্বে শ্যামবাজারের জয়কালী বাড়ির কথা লিখবো|এই কালী মন্দিরের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে নানা অলৌকিক ঘটনা ও অদ্ভুত সব জশ্রুতি|শাস্ত্র মতে পুজোয় ডিম ব্যবহার হয়না,কিন্তু এই মন্দিরে নিজের পুজোয় ডিমও নিয়েছেন দেবী জয়কালি। অবিশ্বাস্য হলেও এমনটাই সত্যি। কি করে শুরু হলো ডিম দিয়ে পুজোর তা নিয়েও এক ঘটনা আছে শোনা যায় বহুকাল আগে পরিবারের সদস্যরা এক বিকাল বেলা নিজেদের মধ্যেই আলচনা করছিলেন আলোচনার বিষয় ছিল ঠাকুরের খাবার।” ঠাকুরের খাবারের জন্য মিষ্টি , ফল এসব দিয়ে পুজো দিয়ে যায়। আবার ঠাকুরের মাছ, মাংস ভোগ হিসাবে নিবেদন করার রীতিও রয়েছে। কিন্তু সেদিন তাঁরা আলোচনা করছিলেন কেউ যদি এই পুজোর উদ্দেশ্যে ফল , মিষ্টির জায়গায় ডিম দেয় তখন কি হবে? ঠাকুর কি তা গ্রহন করবেন ? মিতা চৌধুরী জানিয়েছেন।, “অদ্ভুত ভাবে কিছুক্ষণ পরেই একজন মন্দিরে পুজো দিতে আসেন ডিম নিয়ে।” ডিম দিয়ে পুজো শুনেই সবাই নাকচ করে দেন। অনেকে আবার কিছুটা ভয়ও পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই ভক্ত নাছোড়বান্দা ছিলেন। কিছুতেই তিনি না পুজো দিয়ে ফিরে যাবেন না। আর পুজো দিলে তিনি দেবেন ওই ডিম দিয়েই। কারন তিনি সম্প্রতি ডিমের ব্যবসা শুরু করেছেন এবং তিনি ঠিক করেছেন ব্যবসা শুরুর আগে মা’কে পুজো দেবেন। আর যেহেতু তিনি ডিমের ব্যবসায়ী তাঁর বিশ্বাস ওই ডিম দিয়ে পুজো অর্পণ করলেই দেবী খুশি হবেন। ব্যবসায় উন্নতি হবে তাঁর। শেষে ডিম দিয়েই পুজো হয় তবে ওই ব্যবসায়ী একবারের জন্যও মন্দিরে প্রবেশ করেননি। বাইরে থেকেই পুজো নিয়ে চলে গিয়েছিলেন।সেই থেকে ডিম দিয়ে পুজোর প্রচলন হয়|মন্দির নির্মাণের সাথেও জড়িত আছে অলৌকিক এক ঘটনা|সাড়ে তিনশো বছর আগে এই পরিবারের পরিবারেরই এক সদস্য গঙ্গার স্নান করার পথে এই মূর্তিকে দেখেন। তিনি সেখানে মা’কে প্রনাম করে বারি চলে যান। সেদিনই তিনি স্বপ্নাদেশ পান যে মা চাইছেন তিনিই তাঁর পুজো করুন। সেই শুরু হয় জয়কালির আরাধনা। জঙ্গলে ভরা তৎকালীন কলকাতার থেকে সাড়ে তিনশো পেরিয়ে বর্তমানে নগর সভ্যতার সাক্ষী দেবী জয়কালি। অবিশ্বাস্য হলেও অত বছর আগে পাওয়া একটি মাটির মূর্তি এখনও অবিকল একরকম থেকে গিয়েছে।আগামী পর্বে অন্য কোনো কালী মন্দিরের কথা নিয়ে আবার ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন কালী তীর্থ |
শিব রাত্রির আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
সাধারণত ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসে শিবরাত্রির তিথি পড়ে। এই বছর ১ মার্চ, মঙ্গলবার পড়েছে মহাশিবরাত্রির তিথি। ২৮ ফেব্রুয়ারি রাত ২.২৩ মিনিট থেকে ১ মার্চ রাত ১২.৩৯ মিনিট পর্যন্ত থাকবে শিব চতুর্দশীর তিথি। শিবরাত্রি’ কথাটা দুটি শব্দ থেকে এসেছে। ‘শিব’ ও ‘রাত্রি’, যার অর্থ শিবের জন্য রাত্রী। শিবরাত্রির সঙ্গে প্রচলিত আছে নানা কথা। পুরাণ মতে দেবী পার্বতীর সঙ্গে এদিন দেবাদিদেব মহাদেবের মিলন হয়।শিব রাত্রির এই তিথিতেই প্রকট হয়েছিলো আদি শিব লিঙ্গ। যজ্ঞের মধ্যে যেমন অশ্বমেধ যজ্ঞ, তীর্থের মধ্যে যেমন গঙ্গা তেমনই পুরাণ অনুযায়ী ব্রতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হল শিব চতুর্দশীর ব্রত। তাই শিবরাত্রির ব্রত পালন করলে ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ- এই চতুর্বিধ ফল লাভ হয়। দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনা করার সর্বশ্রেষ্ঠ দিন মহা শিবরাত্রি এদিন ভক্তি মনে পুজো করলে বাবা ভোলেনাথের ভক্তদের মনবাঞ্ছা পূরণ হয়। মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে শিবরাত্রি পালন করা হয়। শিব রাত্রির পরদিন 2 মার্চ থাকছে অমাবস্যা ওই তিথিতে আমি থাকছি তারাপীঠে|হবে হোম যজ্ঞ ও গ্রহ দোষ খণ্ডন|এখন থেকেই আপনারা যোগাযোগ করতে পারেন যেকোনো গ্রহ গত সমস্যা নিয়ে|এই তিথিতে গ্রহ দোষ খন্ডনের সুযোগ বার বার আসেনা|সবাইকে শিব রাত্রির আগাম শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|হর হর মহাদেব|
কালীতীর্থ – শেকলে বাঁধা কালী
আজ একটি অদ্ভুত কালী মন্দিরের কথ লিখবো এই কালী তীর্থ অনুষ্ঠানে যা মুর্শিদাবাদের লাল গোলার প্রসিদ্ধ শিকলে বাঁধা কালী বা শৃঙ্খলিত কালী নামে প্রসিদ্ধ|মুর্শিদাবাদের লালগোলার শ্রীমন্তপুরের এই কালী মন্দির অবস্থিত|সালটা 1790, স্বপ্নাদেশে তৎকালীন লালগোলার রাজা রামশঙ্কর রায় নির্দেশ পান,এই রাজ পরিবারের দ্বারা অধিষ্ঠিত হয়েই কালীমন্দির পূজিত হবেন দেবী। সেইমতো এই কালীমন্দিরের পিছন দিয়ে প্রবাহিত পদ্মার শাখা নদীতে হটাৎই একটি দেবীর কাঠামো ভাসতে দেখা যায়। পরে এতেই মাটি লাগিয়ে দেবীর প্রায় ৪ফুট উচ্চতার একটি মূর্তি তৈরি করা হয়।অদ্ভুত ভাবে এই মন্দিরে লোহার শিকল দিয়ে বাঁধা আছেন মা। যেই কারণে ‘শৃঙ্খলিতা কালী’ নামে ডাকা হয় দেবীকে কিন্তু কেনো এই শৃঙ্খল? তার পেছনেও রয়েছে কয়েকটি অদ্ভুত জনশ্রুতি|শোনা যায় পদ্মা থেকেই স্বপ্নাদেশে ভেসে আসা দেবী আবার সেই পথ ধরেই পদ্মাতেই ফিরে যেতে চেয়েছিলেন ,আর তার ফিরে যাওয়া আটকাতে এই শেকলের ব্যবহার|তবে মা কালীর এই শৃঙ্খলিত রূপ বাংলার আরো এক স্থানে দেখা যায়, বাঁকুড়ার সোনামুখির ধর্মতলার রায় পরিবারের খেপা কালী মন্দিরেও মা কালী কে শেকলে বেঁধে রাখা হয়েছে বহু কাল ধরে|কথিত আছে মন্দিরে কালী প্রতিমা নাকি মন্দির থেকে পালিয়ে যান। আগেরকার দিনে অনেক সময় দেখা গেছে রাতে পুজো শেষে মন্দিরে আর মূর্তির দেখা মেলেনি। অনেকবার রাতে পায়ের নুপুরের শব্দও শোনা গেছে। পরে মন্দিরে ‘খেপা কালী’কে আটকে রাখতে প্রতিমার পায়ের শিকল বাঁধার ব্যবস্থা করা হয় এবং এই প্রথা এখানে আজও বজায় আছে|কতইনা না রহস্য, দেবী কে ঘিরে,কতইনা অলৌকিক ঘটনা, আবার লিখবো অন্য কোনো কালী ক্তীর্থ নিয়ে, অন্য কোনো পর্বে|দেখতে থাকুন|
কালীতীর্থ – আম্বাজী
কালীতীর্থ অনুষ্ঠানে শক্তি পিঠের কথা আগেও বলেছি, আজ আপনাদের আরো একটি শক্তিপীঠের কথা লিখছি,আজকের পর্বে গুজরাটের আম্বাজী শক্তি পীঠ|আমাদের শাস্ত্রে বর্ণিত একান্নটি শক্তিপীঠের মধ্যে অন্যতম এই আম্বাজী মাতার মন্দির যা গুজরাটের পালনপুর থেকে 65 কিলোমিটার এবং মাউন্ট আবু থেকে 45 কিলোমিটার দুরে অবস্থিত|শাস্ত্র মতে এখানে দেবী সতীর হৃদয় পতিত হয়েছিলো|অত্যান্ত জাগ্রত ও প্রসিদ্ধ এই আম্বাজী মন্দির|সারা বছর লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয় এই মন্দিরে|এখানে এক পুজোর এক অদ্ভুত রীতি লক্ষ্য করা যায়|দেবীর কোনো মূর্তি বা প্রতিরূপ এখানে নেই তার বদলে রয়েছে একটি শ্রীযন্ত্র যা ভক্তি ভরে পুজো করেন দর্শনার্থীরা তবে কিছু বিধি নিষেধ মেনে এবং ছবি তোলা কিন্তু কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ|রহস্যজনক ভাবে এই শ্রীযন্ত্র কিন্তু জন সমক্ষে আনা হয়না,পুজোর সময় পুরোহিতের চোখ ও ঢেকে দেয়া হয় বলে শোনা যায়|স্বর্ণ জড়িত এই প্রাচীন শ্রী যন্ত্র টি স্থাপিত আছে মন্দিরের অভ্যন্তরে একটি বিশেষ কক্ষে|এখানে অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় বিশেষ পুজো উপলক্ষে ভিড় হয় বেশি|তবে প্রায় সারাবছরই মানুষ আসেন, মন্দির দর্শন করেন ও দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন|আজ এই শক্তি পীঠের কথা এখানেই শেষ করছি, আবার দেখা হবে আগামী পর্বে|সঙ্গে থাকবে অন্য কোনো কালী তীর্থ কথা|দেখতে থাকুন|
কালীক্ষেত্র – শক্তি পীঠ দন্তেশ্বরী
আজকের কালী তীর্থ একটি শক্তি পীঠ নিয়ে|আজকের পর্বে শক্তি পীঠ দন্তেশ্বরী|শক্তি পীঠ দন্তেশ্বরী অবস্থিত বাংলার পার্শ্ববর্তী রাজ্য ছত্তিশগড়ে|ছত্তিশ গড়ের দান্তেওয়ারা অঞ্চলে এই দেবীর মন্দির শক্তি পিঠের অন্তর্গত|শাস্ত্র মতে দেবী সতীর দাঁত পতিত হয়েছিলো এখানে|মন্দিরের ইতিহাস বেশ প্রাচীন,এই স্থানে দেবী দন্তেশ্বরীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন কাকতীয় বংশের রাজারা|দেবী দন্তেশ্বরী এই প্রাচীন রাজ বংশের কুল দেবী|দেবী দন্তেশ্বরীর নাম থেকেই এই অঞ্চলের নাম করণ হয় দন্তেওয়ারা|চতুৰ্দশ শতাব্দীতে তৈরী হয়েছিলো এই মন্দির|মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে দেবীর মূর্তি যা একটি কৃষ্ণ বর্ণের পাথর থেকে তৈরী|মূল মন্দির চারটি ভাগে বিভক্ত যথা গর্ভ গৃহ,মহা মণ্ডপ, মুখ্য মণ্ডপ এবং সভা মণ্ডপ|মূল মন্দির কে ঘিরে রয়েছে একটি সুউচ্চ প্রাচীর|স্থানীয় অধিবাসী দের কাছে দেবী দন্তেশ্বরী অত্যান্ত প্রসিদ্ধ এবং শ্রদ্ধার|বিশেষ বিশেষ তিথিতে বিশেষ পুজো ছাড়াও প্রতিবছর নব রাত্রি ও দশেরা উৎসব এখানে মহাসমারোহে পালিত হয় ও সেই উপলক্ষে ব্যাপক জনসমাগম হয়|আজকের পর্বে এই টুকুই আগামী দিনের কালী ক্ষেত্র অনুষ্ঠানে থাকবে আরো অনেক শক্তি পিঠের কথা ও তার সঙ্গে জড়িত অসংখ্য অলৌকিক ঘটনা|পড়তে থাকুন|জ্যোতিষ সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে বা সাক্ষাৎ এর জন্য যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|
কালীতীর্থ – বড়ো কালী মন্দির
বাংলার বিভিন্ন স্থানে অনেক সুউচ্চ কালী মন্দির বা বিশালআকার কালী মূর্তি থাকলেও আজও বড়ো কালী বলতে অনেকেই বর্ধমানের কালনার ভট্টাচার্য পরিবার কতৃক স্থাপিত একটি বিশেষ কালী মূর্তির কথাই বোঝান|অনেক রহস্য ময় ঘটনা ও জনশ্রুতি সৃষ্টি হয়েছে এই প্রাচীন কালী মন্দিরকে কেন্দ্র করে|আজকের কালীক্ষেত্র পর্বে কালনার এই প্রসিদ্ধ এবং জাগ্রত বড়ো কালীর কথা লিখবো|ব্রিটিশ আমলে এই কালী মন্দির তৈরি হয়, আনুমানিক ভাবে বড়কালীর পুজো অন্তত ৪০০ বছরের প্রাচীন|৪০০ বছর আগে হোগলা পাতার ছাউনি দেওয়া মাটির মন্দিরে শুরু হয়েছিল পুজো|পরবর্তীতে স্থানীয় ভট্টাচার্য পরিবারের প্রচেষ্টায় তৈরি হয় পাকা মন্দির আজও বংশ পরম্পরায় তারাই বড়োকালীর পুজোর সমস্ত দায়িত্ব নিষ্ঠা সহকারে পালন করে আসছেন|দেবী হয়ে উঠেছেন তাদের পারিবারিক কুলদেবী|এলাকাও আজ পরিচিত বড়োকালী তলা নামে|এবার একটি অলৌকিক ঘটনার কথা উল্লেখ করবো,এখানে দেবীর পায়ে নূপুর থাকার জন্য পুজোর দায়িত্বে থাকা পরিবারের কারও নূপুর পরা বা নূপুর উপহার দেওয়া নিষিদ্ধ। কথিত আছে, একবার সেই রীতি ভেঙে পরিবারের এক মহিলা নুপুর পড়েছিলেন আশ্চর্য জনক ভাবে ওই দিনই সন্ধ্যাবেলায় সর্পদষ্ট হন তিনি পরে অবশ্য দেবীর কৃপায় প্রানে বাঁচেন তিনি|আরেকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা যায়, শোনা যায় একবার এলাকারই অন্য এক পরিবার বড়কালীর চেয়ে বেশি উচ্চতার প্রতিমা বানাবে বলে মাপ চুরি করে নিয়ে যায়। কিন্তু ভাগীরথীর ঘাটে বিসর্জনের সময়ে দেখা যায়, বড়কালীর উচ্চতাই সবথেকে বেশি|এই কালী মন্দিরের পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট মশাল|এক সময়ে এলাকায় ছিল ঘন বন। ছিলো ডাকাত,আনাগোনা ছিল বাঘেরও। বাঘের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অমাবস্যার রাতে দু’টি মশাল জ্বালিয়ে রাখা হত পুজোর সময়। সেই রীতি মেনে আজও পুজোর সময় দু’টি মশাল জ্বালিয়ে রাখা হয়|বাংলার তথা জেলার বিখ্যাত এই কালী মন্দিরে একাধিক সময়ে একাধিক বিখ্যাত মাতৃ সাধক এসেছেন যাদের মধ্যে রয়েছেন সাধক রামকৃষ্ণ,আনন্দ ময়ী মা, ভবা পাগলা ও ওমকার নাথের মতো ব্যাক্তিত্বরা|আজ এখানেই থামছি,তবে কালী তীর্থ নিয়ে এই বিশেষ পর্ব গুলি চলবে|পড়তে থাকুন|ধন্যবাদ|
কালীতীর্থ – হুগলী ডাকাতকালী মন্দির
আজ কালী তীর্থর এই পর্বে আপনাদের জন্যে নিয়ে এসেছি বাংলার এক প্রাচীন ডাকাত কালী মন্দিরের কথা যা অবস্থিত হুগলীর বাসুদেব পুরে|ত্রিবেণী ডাকাত কালী নামেও এই মন্দির পরিচিত|বাংলার এই ডাকাত কালী মন্দিরের সাথে জড়িত আছে কুখ্যাত রঘু ডাকাতের নাম|সাধক রামপ্রসাদ ও এই মন্দিরে এসেছিলেন ও এক অলৌকিক অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছিলেন|রঘু ডাকাতের আমল থেকেই মন্দিরের পুজো চলছে। মন্দিরে নরবলির প্রথা বহু পূর্বে বন্ধ হয়েছে। তবে এখনও মানত করা| ছাগবলি হয়|এই ডাকাত কালী মন্দিরের ইতিহাস বেশ প্রাচীন ও রোমাঞ্চকর|শোনা যায় আনুমানিক ৫০০ বছর আগে বাগহাটির জয়পুরের বাসিন্দা বিধুভূষণ ঘোষ ও তার ভাই রঘু ঘোষ ঘন জঙ্গলের মধ্যে হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী তাদের মায়ের মূর্তি স্থাপন করে। দিনের বেলায় দুই ভাই দিনমজুরের কাজ করলেও রাতে ধনীদের বাড়িতে ডাকাতি করত যদিও ডাকাতি করে আনা জিনিসপত্র এলাকার গরিব মানুষের মধ্যে বিলি করত এই দুই ডাকাত|সেকালে ডাকাত দলের ভয়ে দুপুরের পর থেকে এই রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করত না। কথিত আছে সেই সময়েরঘু ডাকাতের লোকজন রাস্তা দিয়ে যাওয়া কোনও মানুষকে ধরে বেঁধে রাখত। সন্ধ্যার পর পুরোহিতকে ডেকে এনে ঢাকঢোল বাজিয়ে নরবলি হতো| তারপর পুজো দিয়ে ও মহাপ্রসাদ খেয়ে ডাকাতি করতে বের হত। লুঠ করে সেই টাকার কিছুটা অংশ গরিবদের মধ্যে বিতরণ করত|সাধক কবি রামপ্রসাদ সেন কোনও এক সময়ে এই রাস্তা ধরে ফিরছিলেন। ওই সময়ে রঘু ডাকাতের লোকজন তাকে নরবলি দেওয়ার জন্য ধরে নিয়ে এসে বেঁধে রাখে। অলৌকিক ভাবে ডাকাত দল বলি দেয়ার আগের মুহূর্তে হারিকাঠে রামপ্রসাদের পরিবর্তে মাকে দেখতে পায়। এরপর থেকে রঘু ডাকাত বলি বন্ধ করে রামপ্রসাদের সেবার ব্যবস্থা করে এবং পরের দিন সকালে নৌকায় করে রামপ্রসাদকে সসম্মানে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসে।এখানে চতুর্ভুজা কালিকার ঊর্ধ্ব বাম হস্তে খড়্গর পরিবর্তে রয়েছে তরবারি ও অন্যান্য হাতগুলিতে রয়েছে দেবী কালিকার মতোই নানা প্রহরণ৷ দেবী জোড় পায়ে শবরূপী শিবের হৃদপদ্মে দণ্ডায়মান৷ মায়ের মুখোমুখি মন্দির অঙ্গনে স্থাপিত শিবলিঙ্গ৷ রয়েছে জটাজাল বিস্তৃত প্রাচীন বটবৃক্ষ৷আজও রঘু ডাকাত কতৃক স্থাপিত এই কালী মন্দিরে পুজো হয়|বিশেষ বিশেষ তিথিতে বিশেষ পুজো ও সেই উপলক্ষে বহু মানুষের সমাগম হয়|বাংলার নানা স্থানে রয়েছে এমন বহু প্রাচীন ঐতিহাসিক কালী মন্দির|আগামী পর্বে আবার অন্য কোনো কালী মন্দিরের কথা লিখবো আপনাদের জন্য|পড়তে থাকুন|ধন্যবাদ|
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা
ভাবতেও গর্ব হয় আমার মাতৃ ভাষা বাংলাকে রক্ষা করতে, তার শ্রেষ্ঠত্ব ও স্বতন্ত্রতা বজায় রাখতে চলেছে লড়াই ৷ ঝরেছে রক্ত ৷ বিক্ষোভ মিছিলে কেঁপে উঠেছিল গোটা বাংলাদেশ ৷ শেষমেশ জিত হল সত্যের আর সেই জয়ের দিনটা ছিলো আজকের দিন, আজ আমাদের প্রতিটা বাঙালির বড়ো আনন্দেরে দিন, আজ মাতৃ ভাষা দিবস, তবে এখন তো এ এক আন্তর্জাতিক উৎসব|একুশ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতির প্রথম দাবি করা হয় ১৯৯৭ সালে ৷ ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বরের জন্মস্থান ময়মনসিংহ জেলার গফুরগাঁও উপজেলা থেকে ওঠে এই দাবি , পরবর্তীতে বহু প্রতীক্ষা ও চেষ্টার পর ১৯৯৯ সালে ১৭ নভেম্বর রাষ্ট্রসংঘের ৩০তম অধিবেশনে প্রস্তাবটি ওঠে ৷২০০৮ সাল থেকে জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত ১৮৮ দেশ একযোগে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তজার্তিক ভাষা দিবস হিসেবে পালন করতে শুরু করে|ভাষাকে ঘিরে আন্দোলন, ভাষা কে ঘিরে একটা জাতীর, একটা রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশ , এমন নজির গোটা বিশ্বের ইতিহাসে আর দ্বিতীয় নেই|যদিও আজীবন আমার মাতৃ ভাষাই আমার মনের কথা প্রকাশ করার প্রধান মাধ্যম, রোজ আমার ভাষা আমার সঙ্গেই থাকে, রোজ এই ভাষাতেই আমি আমার ক্লাইন্ট দের সাথে কথা বলি এবং আমার মতোই আমার বাংলা ভাষাও এগিয়ে চলেছে, পরিবর্তিত হচ্ছে, প্রতিনিয়ত, তবু আজ একজন বাঙালি হিসেবে এই দিনটায় আলাদা করে গর্ব হয় আনন্দ হয় এই ঐতিহ্যর কথা ভেবে|আজকের দিনে মাথা নত নিজের মাতৃ ভাষার জন্যে, নিজের সংস্কৃতি ও সাহিত্যর জন্যে, আর মাথা নত হয়ে আসে সেই বীর শহীদদের জন্যে যারা ভাষা আন্দোলনে প্রান বিসর্জন দিয়েছেন|পৃথিবীর সব বাংলাভাষী মানুষকে আমার ও আমার পরিবারের তরফ থেকে জানাই আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবসের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন, ভালো থাকুন, ভালো রাখুন নিজের মাতৃ ভাষা কে|
কালী তীর্থ – কীর্তিশ্বরী মন্দির
বলা হয় বাংলার ছয়টি জাগ্রত কালী মন্দির, যেখানে গেলে সকল মনের বাসনা পূরণ হবেই।তার মধ্যে অন্যতম কালি তীর্থ কীর্তিশ্বরী মন্দির|কীর্তিশ্বরী মন্দির মুর্শিদাবাদে অবস্থিত যা কিছু প্রাচীন গ্রন্থ অনুসারে ৫১ পীঠের অন্যতম|দেবী সতীর মুকুট এই স্থানে স্থানে পড়েছিলে বলে মনে করা হয়|স্বাভাবিক ভাবেই পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় অবস্থিত এই মন্দিরটি এই জেলার অন্যতম প্রাচীন কালী মন্দির।একসময় এই মন্দিরের পুরাতন কাঠামো বর্তমানে নষ্ট হয়ে গেলেও গেলেও নতুন আঙ্গিকে এই মন্দির গড়ে তোলেন ঊনিশ শতকে রাজা দর্প নারায়ণ।কোনো কোনো গ্রন্থে প্রাচীন এই মন্দিরটি মুক্তেশ্বরী মন্দির নামেও পরিচিত। এই মন্দিরে বিশেষ কোন বিগ্রহের পূজা করা হয় না একটি কালো পাথরকেই বিগ্রহ রূপে পূজা করা হয়ে থাকে|কীর্তিশ্বরী মন্দির অত্যন্ত জাগ্রত মন্দির বলে প্রসিদ্ধ সারা বাংলা জুড়ে এবং প্রায় সারা বছর জুড়েই ধৰ্মপ্রাণ হিন্দুরা ও মায়ের উপাসকরা এই মন্দিরে ভক্তিভরে পূজা দিয়ে যান এবং তাদের মনষ্কামনা পূর্ণ করেন বলেই এই মন্দিরের খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে|আবার আগামী দিনে অন্য কোনো কালী তীর্থ নিয়ে বলবো অনেক অজানা কথা দেখতে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
কালী তীর্থ – কাটোয়ার ডাকাত কালী
বাংলার কালী ক্ষেত্র গুলির মধ্যে রয়েছে অসংখ্য ডাকাত কালী মন্দির, এই মন্দির গুলির সাথে জড়িয়ে আছে বহু গল্প ও দুর্ধর্ষ সব ডাকাতদের নাম, একসময় গ্রাম বাংলায় ডাকাতরা কালী পুজো করে ডাকাতি করতে যেতো কেউ কেউ আবার ডাকাতির পর ফিরে এসে কালী পুজো করতো|সেই দিন আর নেই, সেই ডাকাতরাও নেই সবই আজ ইতিহাস তবে রয়ে গেছে তাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ডাকাত কালীর মন্দির গুলি|এমনই এক কালী মন্দির রয়েছে বর্ধমানের কাটোয়ায় যা কাটোয়ার খেপি মায়ের মন্দির বলে বিখ্যাত|একসময়ে ডাকাতদের হাতে পূজিত কালী আজ কাটোয়ার অন্যতম বিখ্যাত কালী ক্ষেত্র|শোনা যায় আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগে কাটোয়া শহরের ভাগীরথীর তীরে খ্যাপাকালী পাড়া জঙ্গলে ভরা ছিল। কথিত আছে, সেই জঙ্গলে বাস করত এক দুর্ধর্ষ ডাকাত। ওই ডাকাত জঙ্গলে কালী ঠাকুরের পুজো করত। ডাকাতি করার সময় কালী মাকে পুজো করে সে ডাকাতি করতে বের হতো। ওই ডাকাতের ভয়ে তটস্থ থাকত বর্ধমান, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষজন।পুলিশের ভয়ে ডাকাত সর্দার কালি ঠাকুরকে জঙ্গলের ভেতরে লুকিয়ে রাখত|আজ সেই জঙ্গলে গড়ে উঠেছে খ্যাপাকালী পাড়া। চারিদিকে জনবসতি। এখন ঝা চকচকে সুবিশাল মন্দিরে ডাকাতের হাতে পূজিত কালীর পুজো হয় মহা ধুমধামে। কালী পুজোর সময় মূর্তিকে প্রায় পাঁচ কেজি সোনা ও নয় কেজি রুপো দিয়ে সাজানো হয়,সোনার মুকুট, থেকে শুরু করে সোনার সিতা হার, সোনার বালা থেকে শুরু করে সোনা-রুপোর নানান গয়নায় ভরে ওঠে মায়ের মূর্তি। ডাকাতদের হাত দিয়ে শুরু সেই পুজো আজ কাটোয়া শহরের খেপি মায়ের পুজো বলেই বিখ্যাত।ক্ষেপী মায়ের পুজোয় আশপাশের জেলা থেকে শুরু করে সারা বাংলার মাতৃ সাধক ও ভক্তরা আসেন তাদের মনোস্কামনা নিয়ে|আবার যথা সময়ে ফিরে আসবো কালীক্ষেত্র নিয়ে থাকবে কালী প্রসঙ্গে নানা আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|