বাংলার কালী – মহানাদ কালী মন্দির

169

আগামী 31 তারিখ মৌনী অমাবস্যা, এই অমাবস্যাতেই অনুষ্ঠিত হয় রটন্তী কালী পুজো|এবছর আমি নিজে মৌনী অমাবস্যার বিশেষ তিথিতে উপস্থিত থাকবো তারাপীঠে, হবে বিশেষ পুজো, হোম যজ্ঞ ও গ্রহ দোষ খন্ডনের শাস্ত্রীয় বিধি পালিত হবে ওই দিন|আজ রটন্তী কালী পুজোর ঠিক আগে বাংলার এক এমন প্রাচীন কালী মন্দিরের কথা আপনাদের বলবো যে মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো আজ থেকে প্রায় দুশো বছর আগে এমনই এক রটন্তী কালী পুজোর সময়|হুগলীর জমিদার কৃষ্ণচন্দ্র নিয়োগী ১৮৩০ সালে মহানাদ কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতি বছর জাঁকজমক করে দুর্গা, লক্ষ্মী ও জগদ্ধাত্রী পুজো হত পরবর্তীতে জমিদার সারা বছর দেবী দর্শন ও তার পুজো চালু রাখতে ১৮২২ সালে মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয়। টানা আট বছর ধরে ৮৪ ফুট উঁচু মন্দিরের কাজ শেষ হওয়ার পরে ১৮৩০ সালের মাঘ মাসে রটন্তি কালী পুজোর সময়ে মন্দিরে দক্ষিণা কালী প্রতিষ্ঠিত হয়। কথিত আছে একবার জমিদার বাড়িতে আসেন রানি রাসমণি। মন্দিরের গঠনশৈলী ও দক্ষিণা কালীর মূর্তি দেখে তিনি মুগ্ধ হন। তার কিছুদিন পরে রাসমণি তাঁর লোকজনদের এনে মন্দিরের উচ্চতা, প্রতিমার খুঁটিনাটি লিখে নিয়ে যান। শেষে মহানাদ কালী বাড়ির আদলেই দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণীর মন্দির তৈরিতে উদ্যোগী হন রানি। মন্দিরের উচ্চতা ৬৪ ফুট এবং কালীমূর্তির চারপাশে শিবলিঙ্গ রয়েছে। শিবলিঙ্গের পুজোর পরেই মায়ের পুজো শুরু হয়। মা খুব জাগ্রত বলে হাওড়া, হুগলি, বর্ধমান ও দুই ২৪ পরগনা থেকে বহু মানুষ ভিড় জমান এই মন্দিরে|রটন্তী অমাবস্যায় বিশেষ পুজো হয়|আপাতত চলবে কালী কথা, টিভির অনুষ্ঠানে আলোচনা করছি কালী ক্ষেত্র নিয়ে আগামী 31 তারিখ থাকবো তারাপীঠে, গ্রহ দোষ খণ্ডন ও তন্ত্র মতে প্রতিকারের জন্য যোগাযোগ করুন আমার সাথে, সরাসরি কথা বলুন|ভালো থাকুন|নমস্কার|