মন্দির রহস্য – পঞ্চানন তলার সরস্বতী মন্দির

111

সারা দেশের বহু শিব মন্দির, কালী মন্দির, হনুমান মন্দিরের কথা আপনাদের বলছি আগেই, এমনকি রহস্যময় শনি মন্দির ও যমরাজ এর মন্দির ও আছে সেই তালিকায়|কিছু দিন আগেই গেছে সরস্বতী পুজো তাই ভাবলাম আজ এই বাংলার সম্ভবত একমাত্র সরস্বতী মন্দির ও তার নির্মাণের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আপনাদের সামনে তুলে ধরি|হাওড়া পঞ্চানন তলায় ১৯২৩ সালের ২৮ জুন প্রতিষ্ঠিত হয় এই মন্দির|যা বাংলার প্রথম সরস্বতী মন্দির|মন্দির নির্মাণের প্রধান কান্ডারী উমেশ চন্দ্র দাস ও তার পরিবার।তাঁর আদি বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে।বর্গী হানার আশঙ্কায় তাঁরা সেখান থেকে হুগলির বাঁশবেড়িয়ায় চলে যান। ১৮৫৬ থেকে ১৮৮৭ পর্যন্ত হাওড়া জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন তিনি|অবসর নিয়ে জয় পুর থেকে স্বেত পাথরের মূর্তি আনিয়ে তিনি সরস্বতী পুজোর সূচনা করেন|তবে ইচ্ছে থাকলেও উমেশচন্দ্র ওই মন্দির প্রতিষ্ঠা করে যেতে পারেননি। ১৯১৩ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর বছর দশেক পরে ১৯২৩ এর ২৮ জুন মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০১ এ সেটির সংস্কার হয়।বরাবরই শিক্ষা ক্ষেত্র কে সর্বাধিক গরুত্বদেয়া উমেশ বাবু সরস্বতী আরাধনাকেই অবসর জীবনের ব্রত করে নিয়েছিলেন এবং তার ইচ্ছাকে মর্যাদা দিয়ে তৈরী হয় এই সরস্বতী মন্দির|মন্দির ও দেবী প্রতিমা অপূর্ব সুন্দর|মূর্তি একটি শ্বেতপাথর কেটে তৈরি মূর্তিটি চার ফুট লম্বা। শ্বেতপাথরের তৈরি মা সরস্বতী দাঁড়িয়ে আছেন হাঁসের উপরে, বাঁ হাতে ধরা বীণা|বাসন্তী রঙের মন্দিরের চূড়া। চূড়ায় রয়েছে ধাতুর ত্রিশূল আর চক্র। চূড়ার চার কোণে ফুলের আকৃতি। চার কোণে রয়েছে দেবীর বাহন হাঁস। তাদের নিচে রয়েছে বীণা। রয়েছে শঙ্খ।অনেকেই হয়তো দেখেছেন বা জানেন এই মন্দিরের কথা তবে বিস্তারিত ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অনেক তথ্যই হয়তো এতদিন অজানা ছিলো সেই অজানা ইতিহাস আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|