Home Blog Page 115

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের শুভেচ্ছা

আজ ২১ জুন বিশ্ব যোগ দিবস সারা বিশ্বে আজ International Yoga Day পালিত হচ্ছে।তবে আজ শুধু যোগ অভ্যাস করলে হবে না, এই দিনটার ইতিহাসটাও মনে রাখা দরকার, কারন এই ইতিহাসের আমার দেশের নাম আজীবন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে|সারা বিশ্ব জুড়ে, ভারতের যোগের ইতিহাসে কয়েক হাজার বছরের প্রাচীন হলেও এই যোগ দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এসেছেন মাত্র কয়েক বছর আগেই|হয়তো আপনারা জানেন ২০১৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২১ জুন তারিখটিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব দেন। সেই বছরই ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ ২১ জুন তারিখটিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস বলে ঘোষণা করে।যোগ হল প্রাচীন ভারতে উদ্ভূত শারীরিক ও মানসিক ব্যায়াম এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলন প্রথা। এর মধ্যে দিয়ে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় থাকে। ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করার কারণ হলো ‘‌এই তারিখটিতে উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘতম দিন হিসেবেও পালন করা হয়। তাই এই বিশেষ দিনের তাৎপর্য রয়েছে।’‌প্রাচীন ভারতীয় শাস্ত্রে উল্লেখ আছে আজকের দিনে আদি যোগী তাঁর সবচেয়ে নিষ্ঠাবান সাত জন শিষ্যকে প্রথম দেখেন যাঁরা আলোকপাতের পথ প্রদর্শন না করা পর্যন্ত তাঁকে ছেড়ে না যাওয়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন। এরপর পরবর্তী পূর্ণিমাতে আদি যোগী ওই শিষ্যদের যোগিক ক্রিয়া পদ্ধতি শেখাতে শুরু করেন। এটাই ছিলো প্রথাগত যোগ শিক্ষার সূচনা লগ্ন|জ্যোতিষ শাস্ত্র যেমন আমাদের গর্বের বিষয় তেমনই যোগ নিয়ে আমাদর গর্ব বহুদিনের যাকে স্বীকৃতি দিয়েছে গোটা বিশ্ব এবং গোটা বিশ্বকে দেয়া ভারতের একটি সুন্দর উপহার এই যোগ|নিয়মিত যোগ অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং সুস্থ থাকুন|আপনাদের সবাইকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনেক শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

অম্বুবাচী – নিয়মাবলী ও বিধি নিষেধ

অম্বুবাচি নিয়ে অনেকের মনেই অনেক প্রশ্ন থাকে তাই অম্বুবাচী উৎসব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছি এবং আজকের পর্বে আলোচনা করবো অম্বুবাচী সংক্রান্ত নানা বিধি নিষেধ ও তার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য|শাস্ত্র মতে অম্বুবাচীর প্রথম তিন দিন কৃষি কাজ ছাড়াও আরো অনেককিছুই করা নিষেধ, এই সময় কোনো শুভ বা মাঙ্গলিক কাজের সূচনা করা হয়না যেমন বিবাহ,গৃহ প্রবেশ বা মঠ ও মন্দিরের স্বাভাবিক পূজাঅর্চনা ইত্যাদি|আসলে এই সময় ধরিত্রী যেহেতু ঋতুমতী হয় তাই লৌকিক আচার ও প্রথা গুলিকে সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখা হয় এর পেছনে আছে বা বিশ্বাস, শ্রদ্ধা এবং হাজার হাজার বছরের প্রাচীন পরম্পরা ও শাস্ত্রীয় বিধান|যদিও চতুর্থ দিন থেকে শুভ কাজে আর কোনো রকম বাধা থাকেনা|শাস্ত্র মতে আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও কয়েকটি বিধি নিষেধ এই অম্বুবাচী চলাকালীন মেনে চলা শ্রেয় যেমন আদি শক্তির বিভিন্ন রূপকে যারা পূজা করেন অর্থাৎ কালী, চন্ডি, দূর্গা জগদ্ধাত্রী ইত্যাদি তারা দেবীমূর্তি কে একটি লাল কাপড়ে ঢেকে রাখতে পারেন |এই দেবী মূর্তিকে স্পর্শ করা বা মন্ত্রউচ্চারণ করা উচিৎ নয়|যারা দীক্ষিত তারা গুরু পূজা করতে পারেন, এছাড়া জপ চলতে পারে তাতে কোনো দোষ নেই|গৃহী রা এই সময় কয়েকটি নিয়ম মেনে চললে গৃহের কল্যাণ হয় যেমন নতুন বৃক্ষ রোপন না করা বা দাম্পত্য জীবনে শারীরিক ও মানসিক পবিত্রতা রক্ষাকরা|গ্রাম বাংলার বহু স্থানে নিষ্ঠার সাথে অম্বুবাচী পালন করা হয়|সাধারণত বিধবা মহিলারা অম্বুবাচী চলা কালীন আগুন জ্বালিয়ে খাবার রান্না করেন না|যারা ব্রহ্মচর্য পালন করেন তাদের এই সময় আমিষ খাবার বর্জন করে মূলত ফল মুল খেয়ে থাকতে হয়|এই কটাদিন বেদ পাঠ করা যায়না এবং উপনয়ন অনুষ্ঠান করা যায়না|অম্বুবাচীর আগের দিনটিকে বলা হয় ‘অম্বুবাচী প্রবৃত্তি’। তিন দিনের পরের দিনটিকে বলা হয় ‘অম্বুবাচী নিবৃত্তি’ যার পর আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার সূচনা হয় ধীরে ধীরে|অম্বুবাচী পরবর্তী সময় শক্তি সাধনার ও শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনের উপযুক্ত তিথি তাই যারা নানা সমস্যায় জর্জরিত তারা এই সময়কে কাজে লাগাতে পারেন|চলতে থাকবে অম্বুবাচি নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

তীর্থক্ষেত্রে পন্ডিতজি – কামরূপ কামাখ্যা

অম্বুবাচি উপলক্ষে আমার টিভির অনুষ্ঠানে ও ধারাবাহিক লেখালেখিতে ইতিমধ্যে উঠে এসেছে কামাখ্যা মন্দিরের কথা আজ নিছক পর্যটকের চোখ দিয়ে তীর্থ ক্ষেত্র হিসেবে এই স্থানের বর্ণনা করবো|আসামের গুয়াহাটি শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই কামরূপ কামাখ্যা। এখানে রয়েছে সারি সারি পর্বতমালা। এর ঠিক পাশেই ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রে মা কামাখ্যার মন্দির।রহস্য,আধ্যাত্মিকতা, পৌরাণিক ঘটনা ও ঐতিহাসিক তাৎপর্যর দিক দিয়ে কামাখ্যা কামরূপ কামাখ্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্থল|ছোট্ট দুটি শব্দ ‘কামরূপ কামাখ্যা’। আর এই দুটি শব্দের মধ্যেই লুকানো তাবৎ রহস্য, রোমাঞ্চ আর গল্পগাথা।বলা হয় একসময় এ জায়গায় কেউ গেলে আর ফিরে আসত না। এখনো জাদুবিদ্যা সাধনার জন্য বেছে নেওয়া হয় কামাখ্যা মন্দিরকেই। কামরূপ কামাখ্যার আশপাশের অরণ্য আর নির্জন পথে নাকি ঘুরে বেড়ায় ভালো-মন্দ আত্মারা। এমনকি এক কালে বৈদেশিক শত্রুরা বিশ্বাস করতো কামরূপ-কামাখ্যার অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন মায়াবী নারীরা পুরুষদের মন্ত্রবলে ভেড়া বানিয়ে রাখতো|তাই অনেকেই এই পথ মাড়াতে চাইতো না সহজে|আজও এই তীর্থে পদার্পন করলে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চকর অনুভূতি হয় যা আমি প্রত্যেকবার অনুভব করেছি|মহাভারতের যুগে এই স্থনের নাম ছিল প্রাগজ্যোতিষ। পাল রাজারা এককালে শাসন করতো এই প্রদেশ|এই আসামেরই কামরুপ জেলার নীলকন্ঠ পাহাড়ের চূড়ায় সন্ধান মেলে এক প্রাচীন মন্দিরের,এই প্রাচীন মন্দিরটিই কামাক্ষা দেবীর মন্দির নামে পরিচিত।পীঠ নির্ণয় তন্ত্র মতে সিদ্ধ পীঠ কামরূপে মায়ের মাতৃ যোনি পতিত হয়েছিল বিধায় এই স্থানটি ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম প্রধান এবং গুরুত্বপুর্ণ শক্তিপীঠ। যে স্থানে দেবীর যোনি পতিত হয়েছিল সেই স্থান হচ্ছে তীর্থচূড়ামণি। তীর্থচূড়ামনির অর্থ হলো সব তীর্থের মধ্যে সেরা তীর্থ স্থান। যেখানে সতীর যোনি মন্ডল পতিত হয়েছিল সেই জায়গাটাকে বলে কুব্জিকাপীঠ।কথিত আছে যোনিরূপ যে প্রস্তরখণ্ডে মা কামাক্ষা অবস্থান করছেন, সেই শিলা স্পর্শ করলে মানুষ মুক্তিলাভ করে। কালিকাপুরাণে বলা হয়েছে মহামায়া সতীর যোনি অঙ্গ পতিত হওয়ার পর এই উচ্চ পর্বত মহামায়ার যোনি মন্ডলের ভার সহ্য করতে না পেরে কেঁপে উঠলো এবং ক্রমশঃ পাতালে প্রবেশ করতে লাগলো। তখন দেবতাদের অনুকম্পায় এই পর্বত পাতালে প্রবেশ থেকে রক্ষা পায়। কিন্তু মতৃ যোনি পতিত হওয়ার ফলে পর্বতের রং নীল বর্ণ ধারণ করেছিল তাই পর্বতের নাম হলো নীলকণ্ঠ বা নীলচল পর্বত।পৌরাণিক এই মন্দিরটি ৫১টি সতীপীঠের অন্যতম প্রধান পীঠস্থান। এই মন্দির চত্বরে দশমহাবিদ্যার মন্দিরও বিদ্যমান। মনেকরা হয় মূল কামাখ্যার মন্দিরটি নাগারা স্থাপত্যশৈলীর মন্দির ছিল। বর্তমান কামাখ্যা মন্দিরে গর্ভগৃহ ও তিনটি মণ্ডপ সম্বলিত চারটি কক্ষ রয়েছে যেগুলোর স্থানীয় নাম চলন্ত, পঞ্চরত্ন এবং নাটমন্দির। গর্ভগৃহটি পঞ্চরথ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত।কামাখ্যা মন্দিরের প্রধান উৎসব বলাযায় উৎসবকে দেশ বিদেশথেকে মাতৃ সাধক ও তীর্থযাত্রীরা এখানে আসেন ওই সময়ে|আর কয়েকটি দিন পরেই অনুষ্ঠিত হবে সেই উৎসব|আবার আগামী কোনো পর্বে অন্যকোনো তীর্থ ক্ষেত্র নিয়ে ফিরে আসবো যথা সময়ে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

অম্বুবাচীর কি এবং কেনো

আর কয়েকদিন পরেই অম্বুবাচি সেই উপলক্ষে বেশ কয়েকটি পর্বে অম্বুবাচির ব্যাখ্যা ও তারপর গুরুত্ব আপনাদের সামনে তুলে ধরবো|আজ প্রথম পর্ব|হিন্দুধর্মের এক গুরুত্বপূর্ণ বাৎসরিক উৎসব অম্বুবাচী।বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় এই অম্বুবাচী, ‘অমাবতী’ বলেও পরিচিত। এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শাস্ত্রের নানা কাহিনী। হিন্দু শাস্ত্রে ও বেদে পৃথিবীকে মা বলা হয়ে থাকে। এমনকি পৌরাণিক যুগেও পৃথিবীকে ধরিত্রী মাতা বলে সম্বোধন করা হয়েছে।সবার আগে আমাদের জানা উচিৎ কি এই শব্দের প্রকৃত অর্থ ‘অম্বুবাচী’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল ‘অম্বু’ বা জল ‘বাচি ‘অর্থাৎ সূচনা|এই সময় থেকে প্রকৃতির নব সৃষ্টি কার্যর সূচনা হয়|মনে করা হয়, আষাঢ় মাসে মৃগশিরা নক্ষত্রের চতুর্থ পদে ঋতুমতী হন ধরিত্রী। পূর্ণ বয়স্কা ঋতুমতী নারীরাই কেবল সন্তান ধারণে সক্ষম হন। তাই অম্বুবাচীর পর ধরিত্রীও শস্য শ্যামলা হয়ে ওঠেন। শাস্ত্র মতে অম্বুবাচির আরম্ভ কাল কে বলে অম্বুবাচী প্রবৃত্তি ও সমাপ্তিমে বলে অম্বুবাচি নিবৃত্তি|অম্বুবাচীর সময় দেবী পূজা বন্ধ থাকলেও,বিভিন্ন তন্ত্রের আরাধনা করা হয়|বিগত বছর গুলিতে তারাপীঠ কামাখ্যা সহ একাধিক শক্তি পীঠে নানান বিধি নিষেধ আরোপিত ছিলো তাই সেই আগের মতো তন্ত্র সাধনা বা জনসমাগম হয়তো চোখে পড়েনি তবে এবছর আবার সেই চেনা ছবি দেখা যেতে পারে|অসমের কামাক্ষ্যায় বিশেষ পুজো পালিত হয় অম্বুবাচী উপলক্ষ্যে। এই তিনদিন সময়ের মধ্যে কামাক্ষ্যা থেকে শুরু করে দেশের সমস্ত দেবীস্থানে দরজা বন্ধ থাকে। স্পর্শ করার নিয়ম থাকে না দেবীকে। শাস্ত্র মতে, সতীর গর্ভ ও যোনি পড়েছিল কামাক্ষ্যায়। সেই সময় থেকে এই জায়গা পবিত্র সতীপীঠ।আগামী পর্ব গুলিতে বলবো কামাখ্যা ও অম্বুবাচি সংক্রান্ত আরো অনেক কথা পাশাপাশি জানাবো এই সময়ে কি করবেন এবং কি করবেন না তাই পড়তে থাকুন|জ্যোতিষ সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা নিয়ে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|নমস্কার|

তীর্থক্ষেত্রে পন্ডিতজি – কোনারক সূর্য মন্দির

পেশাগত জ্যোতিষ চর্চার পাশাপাশি যতটা সময় পাওয়া যায় তা পড়াশোনা, তীর্থ যাত্রা গবেষণার কাজে লাগাতে চেষ্টা করি |ফল স্বরূপ এই ধারাবাহিক লেখনী নিয়ে আসতে পেরেছি আপনাদের সামনে|আগের পর্বে পুরী নিয়ে বলেছিলাম আজকের পর্বে কোনারকের সূর্য মন্দির কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরবো|১২৫০ সালে কলিঙ্গের রাজা নরসিংহ দেব কোনারকের সূর্য মন্দির তৈরি করেন|বর্তমানে উড়িষ্যার ভুবনেশ্বর থেকে ৬০ কিলোমিটার ও পুরী থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মন্দিরটি|উড়িষ্যা ও দ্রাবিড় সভ্যতার সংমিশ্রণে ধূসর রঙের বেলেপাথর দিয়ে এই বিশাল রথের আকারের মন্দির তৈরি হয়েছে যার সম্মুখে রয়েছে সূর্যদেবের সাত জোড়া ঘোড়া।আজও এই কোনারক সূর্য মন্দির বহন করে চলেছে একাধিক রহস্য|এই মন্দিরে না আছে বিগ্রহ না হয়েছে কোনদিন পূজা|কিন্তু কেনো?সেও এক রহস্য|রাজার আদেশ ছিলো এই মন্দিরে প্রতিদিন ১২০০ শ্রমিক কাজ করবে আর তারা ১২ বছরে এই মন্দির নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করবে। এই সময়ের থেকে একদিন কমবেশি বা একজন শ্রমিক কম-বেশি হলে সকলের প্রাণদণ্ড দেওয়া হবে|কিন্তু সেই আদেশ শেষ পয্যন্ত মানা হয়নি|নির্মাণ কাজে অংশ নেয়া এক শ্রমিকের পুত্র ধর্মদাস মঙ্গলঘট নির্মাণের কাজে হাত লাগায় এবং সফল হয়। কিন্তু তাতে রাজার নির্দেশ অমান্য করা হয় কারণ শ্রমিকের সংখ্যা ১২০০ থেকে ১২০১ হয়|তখন ধর্মদাস ১২০০ শ্রমিকের জীবন বাঁচানোর জন্য মন্দিরের চূড়া থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তখন থেকেই এই মন্দির অপবিত্র হয়ে যায়। তাই এই মন্দিরে আজও পূজা হয়না|এই মন্দিরের আরেকটি রহস্য হল এর চুম্বকত্ব যা অনেক বড় বড় জিনিসকেওআকর্ষণ করতো নিজের দিকে|শোনা যায় ইংরেজরা যখন পুরী বন্দরে তাদের জাহাজ নিয়ে আসত তখন মাঝেমধ্যেই দিকভ্রান্ত হয়ে পড়তো। তখন ইংরেজরা এর কারণ অনুসন্ধান করে জানতে পারেন যে মন্দিরের ভেতরে রয়েছে এক বিশাল আকার শক্তিশালী চুম্বক। তখন তারা নিজেদের সমস্যা সমাধানের জন্য এই মন্দির থেকে চুম্বক খুলে নিয়ে যায় এতে মন্দিরের কিছু ক্ষতিও হয় যা পরে মেরামত করা হয়|আমার মতে কোনারক মন্দিরের সবথেকে বেশি রহস্যময় দিক হলো তার নির্মাণ শৈলী যা জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিত, জ্যামিতি আর ভাস্কর্যের এক অদ্ভুত জটিল সংমিশ্রনে তৈরি|রথ এর আদলে তৈরী এই সূর্য্য মন্দিরের ১২ জোড়া চাকা ছিল আদতে প্রতিটা চাকা একেকটি সূর্য্য ঘড়ি|মন্দির গাত্রে চিত্রিত ভাস্কর্য্য ও কম রহস্যময় নয় যা নিয়ে আজও গবেষণা হচ্ছে সারা বিশ্ব জুড়ে|দেবতা না থাকলেও, পুজো না হলেও প্রাচীন ভারতের শিল্পকর্মের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরন হিসেবে কোনারক সূর্য মন্দির সারা পৃথিবীতে সমাদৃত|আগামী পর্বে আবার ফিরবো এক নতুন কোনো তীর্থ ক্ষেত্র নিয়ে|জ্যোতিষ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনে উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরান রহস্য – শনিদেব ও রাবন

আজ শনিদেবকে কেন্দ্র করে ঘটা এক পৌরাণিক ঘটনার কথা বলবো যেখানে রয়েছেন লংকাঅধিপতি রাবন এবং রুদ্রঅবতার হুনুমান|রাবন পুত্র মেঘনাথ যখন জন্ম গ্রন্থন করেন তখন আকাশে শনিদেবের খুব প্রভাব চলছিল|রাবন চেয়েছিলেন মেঘনাথের জন্মের সময় সব গ্রহরা তার অনুকূলে থাকবেন|এমন ভাবে তারা অবস্থান করবেন যাতে মেঘনাথ হবেন অমর ওঅপরাজেয়|নিজের ক্ষমতার অপব্যাবহার করে রাবন সব গ্রহদের বন্দী করলেন এবং একটি নিদ্দিষ্ট ভাবে অবস্থান করতে বাধ্য করলেন কিন্তু চতুর শনিদেব চক্রান্ত করলেন এবং নিজের পা ব্যবহার করে তার নিদ্দিষ্ট ভাবের সীমানা অতিক্রম করে অন্য রাশিতে নিজের সঞ্চার ঘটালেন|ফলে মেঘনাথের জন্ম কালে হিসেব উল্টো পাল্টা হয়ে গেলো এবং শনিগ্রহের এই প্রভাবে মেঘনাথর আর অমরত্ব পাওয়া হয়নি|এই ঘটনায় রাবন খুব রেগে যান এবং শনিদেব কে আঘাত করে বসলেন| রাবন ছিলেন অনেক বড় যোগী। যোগ বলে তিনি শনিদেবকে আটক করে রেখেছিলেন লঙ্কাতে|পরবর্তীতে হনুমানজী যখন রামজীর দেওয়া আংটি সীতা মাতাকে পৌঁছে দিতে লঙ্কা পৌছন তখন দেখেন শনিদেব আটক রয়েছেন। উনি সব কথা শোনেন এবং শনিদেবকে সেখানে থেকে মুক্ত করেন। কৃতজ্ঞতা বসত শনিদেব কথা দেন তিনি রামচন্দ্র ও হনুমানজীর ভক্তদের বিশেষ আশীর্বাদ অর্পন করবেন|তবে এর পরেও একাধিক বার শনিদেব ও হনুমান মুখোমুখি হয়েছেন|সে নিয়েও আছে রোমাঞ্চকর পৌরাণিক কাহিনী|সেই সব ঘটনা বলবো যথা সময়ে, যথা স্থানে|আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি|চলবে পুরান কথা পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

তীর্থ ক্ষেত্রে পন্ডিতজি – পুরী জগন্নাথ মন্দির

পুরীতে যাননি এমন বাঙালি কমই আছেন আমার একাধিকবার সৌভাগ্য হয়েছে এই তীর্থ ক্ষেত্র দর্শন করার আর যতবারই গেছি মুগ্ধ হয়েছি|আজ এই মন্দির সংক্রান্ত কিছু অদ্ভুত তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরবো|শাস্ত্র মতে হিন্দু দের পবিত্র চার ধামের মধ্যে পুরীর জগন্নাথ মন্দির অবশ্যই অন্যতম|পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য আছে যা কিন্তু যথেষ্ট রহস্যে মোড়া, তারই কিছু আজ পুরান কথায় আপনাদের সামনে আনবো এক এক করে|প্রথমেই বলি,মন্দিরের উপর দিয়ে কোন বিমান বা পাখি উড়ে যেতে পারেনা। অবিশ্বাস্য মনে হলেও বিষয়টি কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীরা অগ্রাহ্য করতে পারেন না|মন্দিরের চূড়ায় যে পতাকাটি লাগানো আছে তা রোজ নিয়ম করে পাল্টানো হয়,এই পতাকা সব সময় হওয়ার বিপরীতে ওড়ে। এর কারণ কিন্তু জানা যায় না কিন্তু এই অদ্ভূত ঘটনাটি ঘটে থাকে|আপনারা যারা পুরীর মন্দির দর্শন করেছেন হয়তো জানেন পুরীর যে কোন জায়গা থেকেই আপনি যদি মন্দিরের চূড়ার দিকে তাকান তাহলে সুদর্শন চক্র আপনার দিকে সম্মুখীন হয়ে থাকবে|এও এক রহস্য|মন্দির চত্বরের কোলাহলের জন্যে হয়তো খেয়াল থাকেনা কিন্তু মন্দিরের ভিতরে সিংহদ্বারে মন্দিরে প্রবেশ করার পর প্রথম সিঁড়িতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রের আওয়াজ আর শুনতে পাওয়াযায় না কিন্তু সিঁড়ি টপকে গেলেই তারপর আবার সমুদ্রের আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায়|মনে করা হয় পুরী হলো ভগবানের ভোজনের স্থান তাই এখানকার সবচেয়ে অবিশ্বাস্য বৈশিষ্ট্যটি হল প্রসাদ। রহস্যময় বিষয় হলো সারাবছর ধরে সমপরিমাণ প্রসাদ রান্না করা হয়, কিন্তু একই পরিমাণ প্রসাদ দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ হোক বা কয়েক লক্ষ মানুষকে খাওয়ানো হোক তবু প্রসাদ কখনো নষ্ট হয় না বা কখনো কম পড়ে না|এই প্রসাদ রন্ধন পক্রিয়াতেও রয়েছে এক রহস্য রান্নার পদ্ধতিতেও বেশ রহস্য আছে, মন্দিরের হেঁশেলে একটি পাত্রের উপর আরেকটি পাত্র এমন করে মোট সাতটি পাত্র আগুনের উপর বসে রান্না করা হয়। এই পদ্ধতিতে যেটি সবচেয়ে উপরে বসানো হয় থাকে, তার রান্না সবার আগে হয়। আর তার নিচেরগুলো তারপর , এভাবেই চলে আসছে যুগ যুগ ধরে|পুরী মন্দিরের এতো রহস্য এতো অলৌকিক বিষয় থেকে এটাই প্রমান হয় যে ভগবানের লীলা বোঝা দায়|তার ইচ্ছায় সবই সম্ভব|সাধারণ বুদ্ধি বা যুক্তি দিয়ে ভগবানের লীলার বিচার সম্ভব নয়|শুধু অন্তরে আস্থা ও ভক্তি থাকতে হবে|চলবে তীর্থ স্থান নিয়ে লেখা লেখি |দেখা হবে পরের পর্বে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরান কথা – শক্তি পীঠ বিমলা দেবী

উড়িষ্যা বা পুরীর কথা উঠলেই আমাদের মাথায় আসে প্রভু জগন্নাথের নাম, এমন বাঙালি কমই আছে যে একবার হলেও পুরী যায়নি, পুরীকে বলা হয় বাঙালির সেকেন্ড হোম|তবে অনেকেই হয়তো জানেন না বা সেই ভাবে লক্ষ্য করেন না যে এই পুরীর জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গনেই বিরাজ করছে একটি অন্যতম শক্তি পীঠ দেবী বিমলার মন্দির|জগন্নাথ মন্দির চত্ত্বরের দক্ষিণ পশ্চিম কোনে অবস্থান করছে দেবী বিমলার ছোট্ট কিন্তু সুন্দর এই মন্দির টি|শাক্ত ও তান্ত্রিক দের কাছে এই দেবী ও তার মন্দির অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ|মনে করা হয় দেবী বিমলা প্রভু জগন্নাথের রক্ষাকতৃ|জগন্নাথ দেবের পূজার পূর্বে দেবী বিমলার পূজা হয় এবং জগন্নাথ দেবের প্রসাদ বিমলা দেবীকে নিবেদন করার পর তা মহাপ্রসাদ হিসেবে গণ্য হয়|কালিকা পুরাণ গ্রন্থে তন্ত্র-সাধনার কেন্দ্র হিসেবে যে চারটি প্রধান পীঠের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলি ভারতের চার দিকে অবস্থিত। এর মধ্যে পশ্চিম দিকের পীঠটি হল বিমলা দেবী পুরান মতে এখানে দেবী সতীর পা পতিত হয়েছিলো|এই পীঠের ভৈরব স্বয়ং জগন্নাথ কারন এখানে জগন্নাথদেব ও শিব অভিন্ন|এছাড়াও হেবজ্র তন্ত্র, মহাপীঠ নির্ণয় তন্ত্র, বামন পুরান, মৎস পুরান ও দেবী ভাগবত পুরান ইত্যাদি গ্রন্থেও এই শক্তি পীঠের উল্লেখ আছে|তন্ত্রগ্রন্থ কুব্জিকাতন্ত্র মতে, বিমলা ৪২টি সিদ্ধপীঠের একটি| নামাষ্টোত্তরশত গ্রন্থেও পুরুষোত্তমের বিমলার নাম পাওয়া যায়|যদিও এই পীঠের স্বরূপ এবং দেবীর দেহের কোন অংশ এখানে পতিত হয়েছিলো তা নিয়ে পন্ডিত দের মধ্যে ও কিছু গ্রন্থের মধ্যে কিঞ্চিৎ মত পার্থক্য ও বিরোধিতা আছে তবে এই শক্তি পীঠের অস্তিত্ব ও গুরুত্ব সর্বত্র স্বীকৃত|শঙ্করাচার্য বিমলা দেবীকে প্রতিষ্ঠা করে গোবর্ধন মঠ স্থাপন করেছিলেন|মনে করা হয় বিমলা দেবীর মন্দিরটি জগন্নাথদেবের মন্দিরের থেকেও প্রাচীন|স্থাপত্য শৈলী ও প্রাচীনত্বের দিক থেকে বলা যায় সোমবংশী রাজবংশের রাজা যযাতি কেশরী এই মন্দিরটি নির্মাণ করিয়েছিলেন পরে তা সংস্কার হয় নানা সময়ে|এক কালে শৈব্য ও তান্ত্রিক দের প্রভাব এখানে বেশি ছিলো এমনকি দেবী কে আমিষ ভোগ ও দেয়া হতো পরে তা বন্ধ হয়|যদিও বিশেষ বিশেষ তিথিতে এখনো দেবী বিমলা কে আমিষ ভোগ নিবেদন করা হয়|জগন্নাথের মিনারের পশ্চিম কোনে বেলে পাথর ও ল্যাটেরাইট নির্মিত পূর্ব মুখী মন্দির টি অবস্থিত |মন্দিরটি চারটি অংশে বিভক্ত, সভা কক্ষ,গর্ভ গৃহ,উৎসব কক্ষ ও ভোগ বিতরন কক্ষ |পাশেই রয়েছে রোহিনী কুন্ড|বর্তমানে মন্দিরের রক্ষনাবেক্ষন এর দায়িত্বে রয়েছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া|মন্দিরের কেন্দ্রীয় গর্ভগৃহে রাখা আছে দেবী বিমলার মূর্তিটি। দেবী এখানে চতুর্ভূজা। তাঁর তিন হাতে জপমালা,বরমুদ্রা ও অমৃতকুম্ভ। চতুর্থ হাতের বস্তুটি ঠিক কী, তা এখনো স্পষ্ট নয় | তবে দেবী দুর্গার যে মূর্তি আমরা সচরাচর দেখতে অভ্যস্থ, দেবী বিমলার মূর্তি আদৌ সে রকম নয়। শুধু দেবী পার্বতীর দুই সখি জয়া ও বিজয়াকে দেবী বিমলার দুই পাশে দেখা যায়। মূর্তির উচ্চতা ৪ ফুটের কিছু বেশি।বিমলা মন্দিরের বিমানটির উচ্চতা ৬০ ফুট|প্রতি বছর আশ্বিন মাসে ষোলো দিন ধরে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হয়|নানান উৎসবের মধ্যে দুর্গাপূজা বিমলা মন্দিরের প্রধান উৎসব|দুর্গাপূজার শেষ দিন, অর্থাৎ বিজয়াদশমীতে পুরীর রাজা প্রথা মেনে বিমলাকে মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গা রূপে পূজা করেন|এই প্রথা চলে আসছে যুগ যুগ ধরে|চলতে থাকবে পুরান কথা|ফিরে আসবো আগামী পর্বে অন্যকোনো পৌরাণিক বিষয় নিয়ে|পড়তে থাকুন|জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরান কথা – কালভৈরব

শাস্ত্রে কাল ভৈরব নিয়ে হয়তো আপনারা পড়েছেন কিন্তু জানেনা কি কে এই কাল ভৈরব? কি ভাবেই বা তার আবির্ভাব হলো?এবং কি তার ধার্মিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব? কেনই বা তাকে নিয়ে এতো রহস্য|শিব পুরানে কাল ভৈরব এর উল্লেখ পাওয়া যায়, সাধারণত প্রত্যেক শিব মন্দিরেই থাকে কালভৈরবের মূর্তি। দাঁড়িয়ে থাকেন কালভৈরব। তাঁর চার হাত। হাতে থাকে ডোমরু, পাশা, নরমুণ্ড ও ত্রিশূল। কোনও কোনও মূর্তিতে চারটির বেশি হাতও থাকে। তাঁর এই মূর্তি দিগম্বর|প্রচলিত ধর্ম বিশ্বাস মতে মহাজগতের বিশেষ স্থানগুলি ভৈরব রক্ষা করেন এবং ভৈরবের মোট সংখ্য ৬৪। এই ভৈরব দের ৮টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয় প্রত্যেক ভৈরবের একজন করে ভৈরবী থাকেন। অষ্টাঙ্গ ভৈরবের নামগুলি এই রকম — অসিতাঙ্গ ভৈরব, রুরু ভৈরব, চণ্ড ভৈরব, ক্রোধ ভৈরব, উন্মত্ত ভৈরব, কপাল ভৈরব, ভীষণ ভৈরব এবং সংহার ভৈরব।প্রতিটি শ্রেণির আবার একজন করে প্রধান ভৈরব রয়েছেন। প্রধান ৮ ভৈরবকে ‘অষ্টাঙ্গ ভৈরব’ বলা হয়। এই আটজন মহাবিশ্বের আটটি দিকের অধিপতি। এই আট জন আবার নিয়ন্ত্রিত হন মহা স্বর্ণ কালভৈরবের দ্বারা। তিনি সাধারণভাবে কালভৈরব নামেই পরিচিত।অর্থাৎ ভৈরব ও কাল ভৈরব আলাদা এবং ভিন্ন তাদের স্বরূপ ও তাৎপর্য|”কাল” অর্থাৎ সর্ব শক্তি মান সময় এবং “ভৈরব” একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ ‘ভয়ঙ্কর’ বা ‘ভয়াবহ’। কালভৈরব আসলে শিবেরই একটি বিশেষ রূপ বা শিবের অংশ বিশেষ । শিব অনুসারে কোনো একসময় ব্রহ্মা নাকি কোনও ধর্মবিরোধী কাজ করেছিলেন যার ফলে শিব অত্যন্ত রেগে যান ব্রহ্ম দেবের উপর। তাই সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য কালভৈরবকে সৃষ্টি করেছিলেন করেছিলেন শিব। অর্থ্যাৎ শিবের ক্রোধ থেকে জন্ম কাল ভৈরবের আর সেই কালভৈরবই ব্রহ্মার একটি মাথা কেটে নিয়েছিল। কিন্তু তারপর সেই ছিন্ন মস্তক ছুঁড়ে ফেলতে চাইলেও কালভৈরনের হাতেই আটকে ছিল সেটি।সেই অবস্থায় কিছু কাল ভ্রাম্যমান অবস্থায় কাটান তিনি |এদিকে ব্রহ্ম হত্যার পাপ অন্য দিকে এই অসহায় অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে কপাল ব্রত পালন করতে হয় তাঁকে।তাতেও তেমন ফল হয়না, অবশেষে কাশীতে আসার পর তাঁর হাত থেকে হটাৎ খোশে পড়ে যায় সেই মস্তক। তার পর শিব কাল ভৈরব কে নিষ্ঠা সহকারে কাশী তেই স্থাপন করেন এবং কাশীকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেন কালভৈরবকে। তাই শিব হলেন কাশীর রাজা আর কালভৈরব তাঁর কোতোয়াল। তিনিই আশীর্বাদ করেন, তিনিই অভিশাপ দেন। এমনকি স্বয়ং যমরাজেরও নাকি কাশীবাসীকে শাস্তি দেওয়ার কোনও অধিকার নেই।কাশী তে কাল ভৈরব ই শেষ কথা |আগামী পর্বে ফিরে আসবো অন্য কোনো বিষয় নিয়ে|চলবে পুরান কথা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|নমস্কার|

পুরান কথা – প্রভু জগন্নাথের স্নান যাত্রা

আগামী 14 তারিখ রয়েছে দেবস্নান পূর্ণিমা বিশেষ একটি কারণে এই তিথি খুব গুরুত্বপূর্ণ|প্রাথমিক ভাবে নাম থেকেই বোঝা যায় এই পূর্ণিমা যে সে পূর্ণিমা নয় এ হলো দেবস্নান পূর্ণিমা, কারন এই পূর্ণিমা তিথিতে জগতের নাথ জগন্নাথের স্নান যাত্রার সূচনা হয়|শাস্ত্র মতে এই দিন জগন্নাথদেবের জন্মতিথি রথ যাত্রার সূচনা পর্ব|স্নানযাত্রা আমাদের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের খুবই পবিত্র উৎসব এবং এই স্নানযাত্রা উপলক্ষে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা এবং মদনমোহনের বিগ্রহ শোভাযাত্রা সহকারে গর্ভগৃহ থেকে স্নানবেদীতে আনা হয় এবং এই সময়ে ভক্তদের দর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়|স্নানযাত্রার দিন কূপের জল মন্ত্র দ্বারা শুদ্ধ করে ১০৮ কলস জলে বিগ্রহ স্নান করানো হয়। স্নানপর্বের পর বিগ্রহ সাজানো হয় গজবেশে। অনেকেই মনে করেন এই উৎসব কালে জগন্নাথ দর্শন করলে সব পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়| স্নানযাত্রার পর শুরু হয় অনসর। এই অনসরকালে জগন্নাথদেব অসুস্থতার কারণে ভক্তগণের অন্তরালে গোপন স্থানে চিকিৎসাধীন থাকেন,তিনি গৃহবন্দি হন,রথযাত্রা পর্যন্ত বিশ্রাম নেন,এই সময়ে জগৎ রক্ষাকারী এই দেবতাকে কম্বল চাপা দিয়ে রাখা হয়।আর রথযাত্রার দিন আত্মপ্রকাশ করেন। রথের দিন রাজবেশে ভক্তদের সাথে মিলিত হতে সবার সামনে আসেন জগতের নাথ|স্নান যাত্রার ইতিহাস অতি প্রাচীন, স্কন্দপুরাণ মতে পুরীর মন্দির প্রতিষ্ঠার পর রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন এই অনুষ্ঠান প্রচলন করেন এই বিশেষ তিথিতে|জ্যৈষ্ঠী পূর্ণিমায় শ্রী হরির স্নানযাত্রা দর্শনের মাধ্যমে অনায়াসেই জীব মুক্তি লাভ করতে পারে। এমন কি কেউ যদি ভক্তি সহকারে একবারও স্নান যাত্রা মহোৎসব দর্শন করেন, তাঁর সংসার বন্ধন থেকে মুক্তি লাভ সুনিশ্চিত হয়ে যায়। তার আর শোক করতে হয় না। জৈমিনি মুনি স্নান যাত্রার মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ভগবান পুরুষোত্তমের স্নানযাত্রা দর্শন করলে জীব তীর্থ সমূহে় স্নান করার থেকেও শতগুণ অধিক ফল প্রাপ্ত হয় এবং এতে কোনো সংশয় নেই। যদি কেউ আন্তরিকতার সাথে স্নান কালে ভগবানকে নিরীক্ষণ করে, তাদের মোক্ষ লাভ হয়। জীবগণ ভবসাগর থেকে উদ্ধার লাভ করতে পারে এবং আজন্ম যা পাপ করেছে তা বিনষ্ট হয়ে যায় স্নান যাত্রা দর্শন করে|চলবে পুরানকথা জগন্নাথ ধাম পুরী ও তার মন্দিরে নিয়ে আরো আলোচনা থাকবে আগামী দিনে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|