Home Blog Page 115

শিব চতুর্দশী – শিব রাত্রির তাৎপর্য

শিব চতুর্দশী উপলক্ষে শিব নিয়ে অনেক তথ্য আপনাদের দিয়েছি এই ধারাবাহিক লেখায়। শিব সংক্রান্ত অনেক পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেছি। আজ জানাবো শিব রাত্রির তাৎপর্য। জানাবো শাস্ত্র মতে শিব রাত্রি পালন করলে কি ফল পাওয়া যায়।শিব চতুর্দশী তিথিতে প্রকট হয়েছিলো আদি শিব যে শিব লিঙ্গের আদি ও অন্ত খুঁজতে ব্যার্থ হয়ে ছিলেন স্বয়ং ব্রম্হা ও বিষ্ণু এবিষয়ে এই শিব লিঙ্গের মধ্যে উপস্থিত রয়েছে এ জগতের অনন্ত শক্তি। আর এত মাত্রায় শক্তি যেখানে মজুত রয়েছে তাকে ঠান্ডা রাখতে না পারলে সংসারের বিপদ অনিবার্য আর ঠিক এই কারণেই শিব লিঙ্গের মাথায় জল ঢালার প্রথা শুরু হয়। তিথি অনুসারে প্রত্যেক বছর ফাল্গুনমাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে শিবরাত্রি উদযাপন করা হয়।বিশ্বাস করা হয়, শিবরাত্রির রাতই মহাদেবের প্রিয় রাত।শিবরাত্রির দিনে শিব পার্বতীকে বিয়ে করেছিলেন।শুধু তাই নয় শিবরাত্রির দিনেই মহাদেব তাণ্ডব নৃত্য করেছিলেন। অবিবাহিত মেয়েদের জন্য এটাই সবচেয়ে পূণ্যের রাত।কথিত আছে যাঁরা ভগবান শিবের মতো স্বামী চান, তাঁরা এই দিন ব্রত করেন।শিবরাত্রির দিনের এই ব্রত শুধু অবিবাহিত মেয়েরাই নন, বিবাহিত মেয়েরা এমনকি ছেলেরাও এই ব্রত করতে পারেন।যারা নানা বিধ সমস্যায় জর্জরিত তারা সর্ব ক্ষেত্রে সাফল্য এবং সমৃদ্ধি চেয়েও এই ব্রত করতে পারেন।শিব সব রকম অশুভ শক্তিকে নাশ করেন এবং তিনি পরম দয়ালু ও অতি অল্পেই সন্তুষ্ট।শিবরাত্রির ব্রত করলে অশুভ শক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।শিব রাত্রি তিথিতে দেবাদিদেব আদি লিঙ্গের রূপ ধারণ করেছিলেন তাই সেই সময়ই শিবরাত্রি ব্রত উদযাপনের মাধ্যমে সহজেই তার কৃপা লাভ করা যায়।জগৎ কে রক্ষা করতে সমুদ্র মন্থনে বিষ পাণ করেছিলেন মহাদেব।যারা সারারাত জেগে শিবরাত্রি ব্রত পালন করবেন তাদের জীবনের সব বিষ অর্থাৎ সব দুঃখ কষ্ট হরণ করবেন মহাদেব।মহাশিবরাত্রির ব্রত করলে রজঃ গুণ এবং তমোঃ গুণগুলি নিয়ন্ত্রণে আসে। শিব রাত্রি যুক্ত অমাবস্যা তিথি গ্রহ জন্মছকে থাকা অশুভ গ্রহের দোষ খন্ডনের জন্য প্রশস্ত তিথি।যারা রুদ্রাক্ষ বা বিশেষ কোনো প্রতিকার ধারণ করতে চান অথবা গৃহে বিশেষ কোনো যন্ত্র স্থাপন করতে চান তারাও শিব রাত্রিকে কাজে লাগাতে পারেন।শিব রাত্রি ব্রত পালনের অন্য সব নিয়ম পালন করা যদি সম্ভব না হয় শুধু শিব মন্ত্র ‘ওম নমঃ শিবায়’ স্তব করেও মহাদেবের কৃপা লাভ করতে পারেন।আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারী পড়েছে এবছরের শিব চতুর্দশী তিথি। যারা শাস্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার চান যোগাযোগ করতে পারেন।ফিরে আসবো পরের পর্বে। মহাদেবকে নিয়ে এখনো অনেক কথা বলার বাকি আছে।সব বলবো আগামী পর্ব গুলিতে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব চতুর্দশী – শিব ও তন্ত্র

শিব ও তন্ত্র দুটি পরস্পরের সাথে সম্পর্ক যুক্ত। শিব সংক্রান্ত এই আলোচনায় তন্ত্র নিয়ে কিছু বলার উচিৎ। আজকের পর্বে মহাদেবের সাথে তন্ত্র শক্তির সম্পর্ক নিয়ে লিখবো।

তন্ত্র – ছোট্ট একটি শব্দ। কিন্তু গভীর তার অন্তর্নিহিত অর্থ। তন্ত্র হল এক বৃহৎ ও অতিপ্রাচীন গুপ্ত বা লুপ্তপ্রায় সাধন বিষয়। মুক্ত বিশ্বকোষে বলা আছে, তন্ত্র হিন্দুসমাজে প্রচলিত ঈশ্বর উপাসনার একটি পথবিশেষ। আসলে শিব ও মহাশক্তির উপাসনা সংক্রান্ত শাস্ত্রগুলিকেও তন্ত্র সাধনা নামে অভিহিত করা হয়।তন্ত্রশাস্ত্র অনুযায়ী, এই মহাবিশ্ব হল শিব ও মহাশক্তির দিব্যলীলা।যদিও তন্ত্র শব্দটির অর্থ ব্যাপক। তবে সংক্ষেপে তন্ত্র হচ্ছে “সৃষ্টির পরিচালনার নিয়ম”।

তন্ত্রে যেসব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও রীতি-নীতির বর্ণনা রয়েছে তার উদ্দেশ্যই হল মানুষকে অজ্ঞানতা ও পুনর্জন্মের হাত থেকে মুক্তি দেওয়া।তন্ত্রের সঙ্গে মহাদেবের সম্পর্ক অতি গভীর বলা ভালো মহাদেব থেকেই তন্ত্রের উৎপত্তি কারন শিবের ডমরু থেকে তন্ত্রের জন্ম হয়েছে ডমরু মহাদেবের অন্যতম প্ৰিয় বস্তু।

আবার সতী বা দেবী দুর্গার দশ হাতে আছেন দশ মহাবিদ্যা। এই দশমহাবিদ্যার উপর ভিত্তি করেই তন্তশাস্ত্রর ব্যাবহারিক দিকটি গড়ে উঠেছে।জ্যোতিষ শাস্ত্রে প্রতিটি গ্রহ দশ মহাবিদ্যার একেকটি বিদ্যার অধীনে আছে।

সংক্ষেপে তাই বলাই মহাদেব ও আদ্যা শক্তি মহামায়া এই দুই অনন্ত ও অসীম শক্তি তন্ত্রের আধার।

ভারতের আদি ও অকৃত্রিম তন্ত্র সাধনার জায়গা হল নীলাচল পর্বত। যা ‘কামাখ্যাধাম’ নামে পরিচিত।তেমনই মহাদেবের বাস কৈলাশ পর্বতেও বহু অলৌকিক শক্তির উপস্থিতি আছে যাকে অনেকেই তন্ত্রশক্তির সাথে তুলনা করেন।

তন্ত্র এমনই একটি শাস্ত্র যার মাধ্যমে নিজেকে অনুসন্ধান করা যায়। নিজের অন্তরের ঈশ্বরকে খুঁজে পাওয়া যায়।

তন্ত্র জ্ঞানচক্ষু উম্মোচন করে। সৃষ্টির কারন বুঝতে সাহায্য করে তন্ত্র। তন্ত্র সৃষ্টি, স্থিতি ও বিনাশের পরিচালনা শক্তি। ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর এই তিন শক্তির সমন্বয়ে সাধিত হয় তন্ত্র শক্তির অদৃশ্য বৃত্ত যা আমাদের জীবন ও সমগ্র সৃষ্টিকে পরিচালনা ও প্রভাবিত করে।

যারা তন্ত্র মতে এবং শাস্ত্রীয় পদ্ধতিতে জীবনের অন্ধকার দূর করতে চান বা গ্রহগত কু প্রভাব কাটিয়ে জীবনে জয়ী হতে চান তারা শিব রাত্রি যুক্ত অমাবস্যাকে বেছে নিতে পারেন গ্রহ দোষ খন্ডনের জন্য।

ফিরে আসবো পরের পর্বে। শিব বিষয়ে আরো অনেক কথা বলার আছে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব চতুর্দশী – শিবের পঞ্চানন রূপ

শিবের পঞ্চানন রূপকে দুই ভাবে দেখা যায় বা ব্যাখ্যা করা যায়।প্রথমত পঞ্চানন রূপের অন্তর্নিহত অর্থ বা শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা যে ব্যাখ্যা অনুসারে।দ্বিতীয়ত একজন লৌকিক দেবতা হিসেবে তার ব্যাখ্যা।আজ দুটি দিক নিয়েই লিখবো।পাঁচ সংখ্যাটির সঙ্গে শিবের এক রহস্যময় ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে।শিবের পবিত্র সংখ্যা হল পাঁচ। পরম বৈষ্ণব শিবের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রগুলির একটি নমঃ শিবায় পাঁচটি অক্ষর দ্বারা গঠিত আবার শিবের শরীর পাঁচটি মন্ত্র দ্বারা গঠিত। এগুলিকে বলা হয় পঞ্চব্রহ্মণ।পঞ্চানন রূপে শিবের পাঁচটি সত্তা বা রূপ প্রকাশিত হয়। এই পাঁচটি রূপ হলো ১- সদ্যোজাত২- বামদেব৩-অঘোর৪- তৎপুরুষ৫- ঈশানবিভিন্ন শাস্ত্র অনুসারে আবার এই পাঁচটি রূপ পঞ্চভূত, পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয় ও পঞ্চ কর্মেন্দ্রিয়ের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।দেবাদিদেবের পঞ্চানন রূপের আরো একটি ব্যাখ্যা হয় যেখানে পঞ্চানন শিবের এক লৌকিক রূপ। গ্রাম বাংলায় বহু জায়গায় পঞ্চানন শিবের মন্দির আছে। স্থানীয় ভাষায় তিনি “বাবাঠাকুর” নামে পরিচিত। আবার কারও কারও মতে তিনি “পাঁচু ঠাকুর”যিনি শিবের ই একটি বিশেষ রূপ।গ্রাম বাংলায় লৌকিক দেবতা রূপে পূজিত পঞ্চানন ঠাকুরের সঙ্গে থাকেন তাঁর দুই অনুচর। ধনুষ্টংকার এবং জরাসুর নামক দুই অপদেবতা। এছাড়া থাকে ভূত-প্রেত, ঘোড়া ইত্যাদি পশু। যাআবার অনেকের মতে তিনি শিবের পুত্র বা অবতার অনেকটা দক্ষযজ্ঞকালে জন্ম নেওয়া বীরভদ্রের মত।বাংলার অন্যতম প্রাচীন তথা জনপ্রিয় লৌকিক দেবতা “ধর্মঠাকুর” আসলে শিবের পঞ্চানন রূপ বলেই অনেকে মনে করেন।দেবাদিদেব নানা রূপে পূজিত হন তবে তার পুজোকরে তার কৃপা লাভ করার শ্রেষ্ট তিথি আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারী অর্থাৎ শিব চতুর্দশী। জ্যোতিষ শাস্ত্রমতে গ্রহের প্রতিকারের জন্যও এই তিথি অন্যতম শ্রেষ্ঠ।ফিরে আসবো পরের পর্বে। থাকবে শিব সংক্রান্ত আরো অনেক আলোচনা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিবের চতুর্দশী – শিবের তিনটি অলংকার

আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারী শিবরাত্রি । দেবাদি দেব মহাদেবকে তুষ্ট করতে ও তাঁর কৃপা পেতে শিবরাত্রিরের ব্রত রাখেন অনেকেই। এই সময়ে যত বেশি শিব কথা বলা যায়, শিব বিষয়ে পাঠ করা যায় এবং শিব তত্ত্ব শোনা যায় ততো ভালো|আজ আপনাদের শিবের তিনটি বিশেষ অলংকারের কথা বলবো যা সর্বদা শিবের সঙ্গে থাকে|প্রথমেই বলবো ত্রিশূলের কথা।মহাদেবের ত্রিশূল তিনটি শক্তির প্রতীক। জ্ঞান, ইচ্ছা ও সম্মতি প্রদান করেন মহাদেব। আবার কথিত আছে, শিবের ত্রিশূল প্রতিটি মানুষকে তার কর্ম হিসেবে শাস্তি দেয়। ঘরে সুখ শান্তি বৃদ্ধি করত ত্রিশূল রাখুন। অনেকে শিবের মূর্তির পাশে ত্রিশূল রেখে থাকেন। বহু মন্দিরে প্রতিদিন শিবের ত্রিশূলের পুজো করা হয়।বাস্তু মতে গৃহে ত্রিশূল থাকলে এটি সমস্ত ক্ষতি ও দুঃখের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করে। শিব রাত্রিতে শিব কে ত্রিশুল নিবেদন করতে পারেন এতে সহজেই মহাদেবের আশীর্বাদ পাবেন।দ্বিতীয় স্থানে রাখবো রুদ্রাক্ষ। শাস্ত্রে রুদ্রাক্ষের গুরুত্ব রয়েছে বিস্তর। মহাদেবের সঙ্গে যোগ রয়েছে এই গাছের। কথিত আছে, ভগবান শিব কঠিন তপস্যার পর চোখ খুলতে তাঁর চোখ থেকে অশ্রু নির্গত হয়। যা মাটিতে পড়তে সেই অশ্রু থেকে তৈরি হয় রুদ্রাক্ষ গাছ।রুদ্রাক্ষ ও মহাদেব প্রায় সমার্থক। মহাদেবের খুব প্ৰিয় অলংকার রুদ্রাক্ষ যারা মধ্যে রয়েছে অফুরন্ত শক্তির ভান্ডার|জ্যোতিষ শাস্ত্রে গ্রহ অনুসারে রুদ্রাক্ষ ধারন করে প্রতিকারের কথা বলা হয়|রুদ্রাক্ষ শারীরিক ও মানসিক ভাবে নানা সমস্যা দূর করতে সক্ষম। জ্যোতিষ ও বাস্তু শাস্ত্রের পাশাপাশি আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেও রুদ্রাক্ষ ব্যবহৃত হয়।রুদ্রাক্ষ যদি খাঁটি হয় এবং সঠিক ভাবে ব্যাবহার হয় তা কাজ করবেই|আমার নিজের প্রতিষ্ঠানে আমি চেষ্টা করি পৃথিবীর সেরা রুদ্রাক্ষ ন্যায্য মূল্যে মানুষের হাতে তুলে দিতে।ডমরুকে রাখবো তৃতীয় স্থানে যা শিবের অন্যতম প্ৰিয় অলংকার।শিবের হাতে ডমরু নামে এই বাদ্যযন্ত্র সর্বদা দেখা যায়। শিব নটরাজ নামেও খ্যাত। কথিত আছে ডমরু বাজিয়ে তিনি নৃত্য করেন। শিব এই কারণে নটরাজ নামেও খ্যাত।শিবের ত্রিশূলে সব সময় বাঁধা থাকে ডমরু। আবার তন্ত্র শাস্ত্রে বলা হয় শিবের ডমরু থেকে তন্ত্রের জন্ম হয়েছে।ডমরু আবার বেদ ও তার উপদেশের প্রতীক। মনে করা হয়, ডমরু বাজিয়ে শিব পুজো করলে মঙ্গল হয়। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, শিব ডমরুর শব্দ শুনলে খুশি হন। তাই তাঁকে আনন্দ দিতে পুজোর সময় ডমরু বাজাতে পারেন অথবা শিব চতুর্দশী তিথিতে শিবকে ডমরু নিবেদন করে নিজের মনোস্কামনা জানান।আপনার মনোস্কামনা দ্রুত পূর্ণ হবে।ফিরে আসবো পরের পর্বে।চলতে থাকবে শিব ও শিব পুজো নিয়ে এই বিশেষ আলোচনা|পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব চতুর্দশী -রাশি অনুসারে শিবের ভোগ নিবেদন

আগের পর্বে জানিয়েছিলাম রাশি অনুসারে শিব চতুর্দশী ব্রত চলা কালীন কোন মন্ত্র কোন রাশির জন্য উত্তম আজ জানাবো আপনারা রাশি অনুসারে কি দিয়ে মহাদেবের ভোগ নিবেদন করবেন|

মেষ রাশিমেষ রাশির অধিপতি মঙ্গল। এই রাশির জাতক জাতিকারা শিবকে পাঁচটি লাল ফল ও মিশ্রী অর্পণ করতে পারেন।

বৃষ রাশিশিবের আশীর্বাদ লাভের জন্য বৃষ রাশির জাতকদের এগারোটি হলুদ ফল ও সাথে কাজু ও মিশ্রীর ভোগ নিবেদন করুন|

মিথুন রাশিবুধ এই রাশির অধিপতি। জ্যোতিষ মতে পাঁচটি যেকোনো সবুজ ফল ও মিশ্রী এবং পেস্তা অর্পণ করলে দেবাদিদেব সন্তুষ্ট হবেন।

কর্কট রাশিকর্কট রাশির জাতক জাতিকারা যদি শিবকে মাখনের সঙ্গে মিশ্রী মিশিয়ে শিবকে ভোগ নিবেদন করেন, তা হলে সুফল পাবেন।

সিংহ রাশিগ্রহের রাজা সূর্য এই রাশির অধিপতি। সিংহ রাশির জাতকরা লাল রঙের পাঁচটি মিষ্টি ও বাদাম মহাদেবকে অর্পণ করুন। শুভ ফলাফল লাভ করবেন।

কন্যা রাশিবুধ এই রাশির অধিপতি হওয়ায় পেস্তা অর্পণ করতে পারেন মহাদেবকে পাশাপাশি কিশমিশ অর্পণ করলেও মহেশ্বর সন্তুষ্ট হবেন।

তুলা রাশিসুখ সৌভাগ্যের কারক গ্রহ শুক্র এই রাশির অধিপতি। কাজু ও মিশ্রীর পাশাপাশি শুকনো নারকেল ও মিশ্রী অর্পণ করলে সৌভাগ্য আসবে|

বৃশ্চিক রাশিসাহস ও পরাক্রমের কারক গ্রহ মঙ্গল এই রাশির অধিপতি হওয়ায়, শ্রাবণ মাসে শিবকে লাল ফল লাল রঙের মিষ্টি সাথে চিনাবাদাম ও আখরোটের ভোগ নিবেদন করতে পারেন।

ধনু রাশিবৃহস্পতি এই রাশির অধিপতি। শিব চতুর্দশী শুধু নয় যেকোনো সোমবার শিবকে জাফরান ও খেজুরের ভোগ নিবেদন করলে শিবের পাশাপাশি বিষ্ণুর আশীর্বাদ পাবেন

মকর রাশির জাতকরা শুকনো খেজুর ও ডুমুর নিবেদন করলে শিব প্রসন্ন হবেন। পাশাপাশি শনিদেব ও শান্ত থাকবেন।

কুম্ভ রাশিমকরের মতো শনি এই রাশিরও অধিপতি। জ্যোতিষ মতে, কুম্ভ রাশির জাতকরা পাঁচটি সুপুরি ও কাঁচা দুধে জাফরান মিশিয়ে অর্পণ করলে সুফল পাবেন।

মীন রাশিদেবগুরু বৃহস্পতি এই রাশির অধিপতি।শিব চতুর্দশী উপলক্ষে খেজুর, দুধ ও মধু অর্পণ করতে পারেন।ভালো ফল পাবেন।

শিব চতুর্দশী উপলক্ষে আগামী পর্বগুলিতেও চলতে থাকবে শিব ও শিব পুজো নিয়ে এই বিশেষ আলোচনা|পড়তে থাকুন।শাস্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার করাতে যারা শিবরাত্রি যুক্ত অমাবস্যা তিথিকে বেছে নিতে চান তারা এখন থেকেই যোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

রাশি অনুসারে শিবের মন্ত্র

আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারী শিব চতুর্দশী|জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতে এই তিথির গুরুত্ব অপরিসীম|আজকের পর্বে আসুন জেনে নিই রাশি অনুসারে কে কোন মন্ত্র জপ করে মহাদেবকে ডাকলে দ্রুত ও নিশ্চিত ভালো ফল পাবেন|মেষ রাশির ব্যক্তিদের পঞ্চাক্ষর মন্ত্র ওম নমঃ শিবায় জপ করা উচিত। শিব পঞ্চাক্ষর মন্ত্র হল সেই মন্ত্র যা সমস্ত ইচ্ছা পূরণ করে।বৃষ রাশির মানুষদের ওম নাগেশ্বরায় নমঃ মন্ত্র জপ করা উচিত।জপের পর শিব লিঙ্গে বেলপাতা ও দুধ নিবেদন করবেন|মিথুন রাশির জাতক জাতিকাদের মহাশিবরাত্রির দিন “ওম নমঃ শিবায় কালাম মহাকাল কালম কৃপালম ওম নমঃ” মন্ত্রটি জপ করা উচিত।কর্কট রাশির ব্যাক্তিদের শিব পূজার সময় অত্যন্ত ভক্তি সহকারে ” ওম চন্দ্রমৌলেশ্বর নমঃ ” মন্ত্রটি করা উচিত।সিংহ রাশি যাদের তারা ভক্তিভরে মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রটি জপ করুন। সুফল পাবেন|কন্যা রাশির জাতকদের মহাশিবরাত্রির দিন ওম নমো শিবায়  মন্ত্র ১০৮ বার জপ করা উচিত। তুলা রাশির জাতক জাতিকাদে  ওম হম জুম স্বাহা মন্ত্রটি জপতে হবে এবং শিব লিঙ্গে বেলপাতা ও স্বেত চন্দন নিবেদন করতে হবে|বৃশ্চিক ও ধনু রাশির যাদের তারা ” ওম নমো শিবায় গুরু দেবায় নমঃ” মন্ত্রটি প্রতি সোমবার জপ করুন মকর ও কুম্ভ রাশির জাতকরা ” ওম তৎপুরুষায় বিদ্মহে মহাদেবয় ধিমহি তন্নো রুদ্রা প্রচোদয়াত” মন্ত্র জপ করুন|কুম্ভ রাশির ব্যাক্তিদের ওম নমো শিবায় গুরু দেবায় নমঃ মন্ত্র জপ করা উত্তম হবে।মীন রাশির জাতক জাতিকারা ” ওম সুন্দরায় নমঃ ” মন্ত্রটি জপ করে শিব লিঙ্গ প্রদক্ষিণ করবেন|শিব চতুর্দশী তিথিতে মন্ত্রগুলি ১০৮ বার জপ করতে পারলে সব থেকে ভালো হয় । মন্ত্র জপ করার সময় মনকে নিবদ্ধ ও শান্ত রাখা প্রয়োজন।স্নান সেরে শুদ্ধ দেহে মহাদেবের সামনে বা তাকে স্মরণ করে মন্ত্র জপ করবেন|যারা শিব চতুর্দশী ও অমাবস্যা তিথিতে জ্যোতিষ ও তন্ত্র সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার শাস্ত্র মতে সমাধান চান তারা যোগাযোগ করতে পারেন।শিব ও শিব চতুর্দশী তিথি সংক্রান্ত আরো অনেক তথ্য নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বগুলিতে।পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব চতুর্দশী – বেদনিধির গল্প

শিব পুরানের নবম অধ্যায়ে উল্লেখিত বেদ নিধির গল্প আজকের পর্বে আপনাদের বলবো|অবন্তীনগরে সদাচারী এক ব্রাহ্মণ ছিলেন। সর্বশাস্ত্রে পণ্ডিত, নানান শুভকর্মে রত তিনি। পতিধর্মপরায়ণা তার স্ত্রী। তাদের ছিল দুই-পুত্র সুনিধি ও বেদনিধি, জ্যেষ্ঠ সুনিধি ছিল পিতা-মাতার মতই শাস্ত্রজ্ঞানী, সদাচারী পিতা-মাতার বশবর্তী। কিন্তু কনিষ্ঠ বেদনিধি ছিলেন দুশ্চরিত্র ও দুরাচারী|একবার তার বাবাকে রাজার দেয়া একটি উপহার চুরি করে সে এক নর্তকীকে দেয় এবং ধরা পড়ে বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়|প্রথমে সেই নর্তকীর কাছে সে আশ্রয় চায় কিন্তু কোথাও আশ্রয় না-পেয়ে বেদনিধি এবার দু’চোখে অন্ধকার দেখতে লাগল। কী করবে ভেবে না পেয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে লাগল। নগর ছাড়িয়ে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেল অনেক অনেক দূরের লোকালয়ে। দিন কেটে রাত হল। হেঁটে হেঁটে অবসন্ন তো হলই, খিদেয়ও অস্থির হয়ে উঠল সে। অথচ সঙ্গে কানাকড়ি নেই, এ-রাজ্যে ভিক্ষা করা মানা, চুরি করবার সুযোগটিও নেই।এমন সময় হঠাৎ পুজোর নৈবেদ্য নিয়ে ঢাক বাজিয়ে একদল মেয়ে-পুরুষকে মন্দিরের দিকে যেতে দেখল সে। তাদের হাতের নৈবেদ্য দেখে অস্থির খিদে চনচন করে উঠল। সুযোগ পেলে সেগুলোই খাবার প্রত্যাশা নিয়ে সে তাদের পিছু নিল।মন্দির প্রাঙ্গণ আলোয়-ফুলে সেজে রয়েছে। আজ মহা শিবরাত্রির পুজো। সারারাত ধরে পুজোর জন্য বিকেল থেকেই শুরু হয়েছে ভক্তকুলের ভিড়। রাজপ্রহরীদের প্রহরাও রয়েছে। মন্ত্র আর পূজারীর ‘ববম ববম’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠছে চারিদিক। শুরু হয়ে গেছে প্রহরে প্রহরে পুজো।সারাদিনের অনাহারে ক্লিষ্ট বেদনিধি প্রাঙ্গণের একটি কোণায় খাবারের অপেক্ষায় চোখের পাতাজোড়া ঠায় খুলে বসে রইল। প্রহরের পর প্রহর কাটতে লাগল। খিদের পরত চড়তে চড়তে ধৈর্যের বাঁধও তার ভাঙতে লাগল। সুযোগ পেলেই এবার সে চুরি করবে, ছিনিয়ে খাবে!সুযোগ এল তৃতীয় প্রহরের পর। ভক্তেরা পুজো করে যে-যেখানে পারল মন্দিরের প্রাঙ্গণে শুয়ে পড়ল। তারা আর জেগে থাকতে পারছিল না। ভাবল, এখন তো শুয়ে পড়া যাক, চার প্রহরে উঠে না-হয় আবার পুজো দেবে। তারা ঘুমিয়ে পড়তে প্রহরীরাও নিজেদের মধ্যে গল্পগুজবে মত্ত হয়ে অন্যমনস্ক হল। সেই সুযোগে ক্ষুধার্ত বেদনিধি অস্থির হয়ে উঠে দাঁড়াল। পা টিপে টিপে হাজির হল গিয়ে গর্ভগৃহের মধ্যে। দেখল, সলতে পুড়তে পুড়তে দীপ প্রায় নিভে এসেছে, নৈবেদ্যগুলোও ভালো করে দেখা যাচ্ছে না। শিবলিঙ্গের গায়েও অন্ধকারের ছায়া পড়েছে। সে নিজের কাপড় ছিঁড়ে সলতে পাকিয়ে দীপে সংযোগ করতেই দীপালোক উজ্জ্বল হল। শিবলিঙ্গের গায়ের অন্ধকার দূর হল, নৈবেদ্যের সাজানো থালাগুলিও স্পষ্ট দেখা যেতে লাগল। তখন সে চুপি চুপি শব্দ না-করে একটি থালা তুলে গর্ভগৃহের বাইরে বেরিয়ে এল। কিন্তু, চুপিসাড়ে প্রাঙ্গণ থেকে বেরোতে গিয়ে অন্ধকারে শুয়ে থাকা এক ভক্তের গায়ে তার পা পড়ে গেল। অমনি ভক্তটি ধড়মড় করে জেগে উঠে ‘চোর’, ‘চোর’-বলে চেঁচিয়ে উঠল। বেগতিক বুঝে বেদনিধি ছুটে পালাতে গেল। কিন্তু, পারল না। ভক্তের চিৎকারে সচকিত হয়ে উঠল প্রহরীরাও। তাদের ছোঁড়া বল্লম সোজা তার পিঠে এসে বিঁধল। এবং বেদনিধি মারা গেল।বেদনিধি মারা যেতেই তার আত্মাটি নিয়ে যেতে একইসঙ্গে হাজির হল যমদূত এবং শিবদূতেরা।শিবদূতেরা বললন, শিবরাত্রিতে দীপ দিয়ে সমস্ত রাত জাগন্ত ও উপবাসী থেকে মন্দিরে অবস্থান করে ওর সমস্ত পাপ নষ্ট হয়েছে। এর স্থান এখন শিবলোকে। একে আমরাই নিয়ে যাবো! শেষে ধর্মরাজ বললেন, শিবদূতেরা ঠিকই বলেছে, লোকটা মহাপাপিষ্ঠ হয়েও শিবরাত্রিতে অজান্তে উপবাস, রাত্রিজাগরণ ও দীপদান করে পূর্ণব্রতের পুণ্য লাভ করে পবিত্র হয়ে উঠেছে। শিবরাত্রি ব্রতের এমনই মাহাত্ম্য। তাই বলা হয়, শিবরাত্রি ব্রতের চেয়ে মহান ব্রত আর কিছু হয় না। তোমরা শান্ত হও, এখন আমি দেবাদিদেবের ইচ্ছেয় বেদনিধিকে জীবনদান করব।শুধু নতুন জীবন লাভ নয়|শিব কৃপায় বেদ নিধি বাকি জীবন রাজা হয়ে কাটিয়েছিলেন|আপনারাও চাইলে শিব চতুর্দশী তিথিকে কাজে লাগাতে পারেন শাস্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার বা মনোস্কামনা পূরণের জন্য|ফিরে আসবো পরের পর্বে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব চতুর্দশী – মহাদেব ও রাজা সুদর্শন

আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারী শিবচতুর্দশী শাস্ত্র মতে এই পূণ্য তিথিতে মহাদেবের সাথে মাতা পার্বতীর বিবাহ সম্পন্ন হয়। সতীর মৃত্যুর পর মহাদেব অনন্ত ধ্যানে মগ্ন হন তখন আদ্যাশক্তি মাতা পার্বতীর রূপ ধরে মহাদেবকে স্বামী রূপে পাওয়ার জন্য কঠোর ধ্যান করেন ও অবশেষে মহাদেবের ধ্যান ভঙ্গ হয় এবং এই তিথিতে তাদের মহা মিলন ঘটে আজ আপনাদের এই তিথির মহাত্ম বলবো আরো বলবো রাজা সুদর্শনের কথা|এই তিথিতে মহাদেব তার রুদ্র মূর্তি ধারণ করেন ও তাণ্ডব নৃত্যের মাধ্যমে সৃষ্টির ধ্বংসের পরিস্থিতি নিয়ে আসেন। তাই তাকে শান্ত করার জন্য তার আরাধনা করা হয়।বিবাহিত নারীরা মনে করেন এই ব্রত করলে তাদের স্বামীর মঙ্গল হবে ও অবিবাহিত নারীরা এই ব্রত পালন করলে মহাদেবের মতন স্বামী লাভ করবেন|অমাবস্যা যুক্ত শিব চতুর্দশী রুদ্রাক্ষ ধারণ ও গ্রহ দোষ খণ্ডন বা তন্ত্র সাধনার জন্য ও আদর্শ|পুরা কালে সুদর্শন নামের এক রাজা ছিলেন।একবার তিনি তার পোষ্য কুকুরের সাথে গভীর বনে শিকারের জন্য বেরিয়েছিলেন। সারাদিন ধরে কোনো শিকার করার মতন প্রাণী খুঁজে না পেয়ে তিনি ক্ষুধার্থ ও তৃষ্ণার্ত অবস্থায় তিনি রাতে একটি জলাধারের পারে এসে উপস্থিত হলেন। সেখানে তিনি একটা বেল গাছের তলায় একটা শিবলিঙ্গ খুঁজে পেলেন ও সারারাত জেগে সেই শিবলিঙ্গের আশপাশের পাতা এবং ধুলো পরিষ্কার করে সেই জল দিয়ে শিবলিঙ্গটিকে পরিষ্কার করলেন। এরপর পরের দিন সকালে নিজের গৃহে ফিরে তিনি তার ক্ষুধা ও তৃষ্ণা নিবারণ করলেন। সেই রাতটি ছিল শিবরাত্রির পুণ্য তিথি। সেইদিন সেই রাত্রি জাগরণের ফলে তার মনোবাঞ্ছা পূরণ হয়।তার মৃত্যুর পর তাকে যমলোকে নিয়ে যাওয়ার জন্য যমদূত উপস্থিত হন। তারা তাকে বেঁধে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয় তখন মহাদেবের দূত তাদের সাথে লড়াই করে তাকে সেই বাঁধন থেকে মুক্ত করে ও স্বর্গলোকে মহাদেবের আশীর্বাদ ধন্য হয়ে তিনি প্রবেশ করেন|এসবই সম্ভব হয়েছিল সেই শিব রাত্রি পালনের পুন্য ফলে|আপনারাও চাইলে শিব চতুর্দশী তিথিকে কাজে লাগাতে পারেন শাস্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার বা মনোস্কামনা পূরণের জন্য|ফিরে আসবো পরের পর্বে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিবচতুর্দশী – শিব ও কামদেব

দেবাদিদেব মহাদেবের ক্রোধের সম্মুখীন হয়ে একাধিক অসুর ও দৈত্য যেমন পরাজিত ও নিহত হয়েছে তেমনই দেবতারাও রক্ষা পাননি মহাদেবের ক্রোধাগ্নি থেকে|আজকের পর্বে বলবো কিকরে প্রেমের দেবতা কামদেব মহাদেবের কাছে স্বাস্তি পেয়েছিলেন সেই গল্প|বিভিন্ন পুরান ও ধর্ম গ্রন্থ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে দুরকম ভাবে এই ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা যায়|কিছু শাস্ত্রে উল্লেখ আছে দেবী পার্বতী শিবকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তপস্যায় মগ্ন শিব তার দিকে মনোযোগ দেননি।পার্বতীর এই প্রচেষ্টা দেখে প্রেমের দেবতা কামদেব এগিয়ে এসে শিবের দিকে ফুলের তীর নিক্ষেপ করেন,যাকে শাস্ত্রে মদন বান বলে উল্লেখ করা হয়েছে এই বানের আঘাতের ফলে শিবের তপস্যা ভেঙে যায়। তপস্যা ভঙ্গের কারণে শিব ক্রুদ্ধ হন এবং তিনি তার তৃতীয় চোখ দিয়ে কামদেবকে ক্রোধের আগুনে ভস্মীভূত করেন।তারপর কামদেবের স্ত্রী রতি ভগবান শিবকে পুজো করে সন্তুষ্ট করে বলেছিলেন, কামদেব নির্দোষ, বরং তিনি কেবল মা পার্বতীকে সাহায্য করেছিলেন। দেবাদিদেব এই প্রার্থনায় কিছুটা অনুতপ্ত হন এবং কামদেবকে পরের জন্মে শ্রী কৃষ্ণের পুত্র প্রদ্যুম্ন রূপে জন্মগ্রহণ করার বর দেন।শাস্ত্র মতে হোলি উৎসবের সাথে এই ঘটনার সম্পর্ক আছে ভগবান শিবের তপস্যা ভঙ্গের আনন্দে সমস্ত দেবতারা রং দিয়ে উদযাপন করেছিলেন যার পর থেকে হোলি শুরু হয়| দ্বিতীয় আরেকটা ব্যাখ্যা আছে যেখানে বলা হয় তারকাসুর নাম এক দৈত্য ব্রহ্মার বরে কেবল শিবপুত্রের হাতে নিহত হবার বরদান পেয়েছিলো। কিন্তু তখন ভগবান শিব ও মাতা পার্বতীর বিবাহ হয় নি। দেবী পার্বতী রোজ আসতেন হিমালয়ের দুর্গম এলাকায় ভগবান শিবের সাধনা স্থলে শিবপূজো করতে। কিন্তু ভগবান শিব মাতা পার্বতীকে চেয়েও দেখেন না। দেবতাদের মধ্যে চিন্তা জাগল এখন কিভাবে শিব পার্বতীর মধ্যে বিবাহ হবে এবং তাদের পুত্রের জন্ম হবে যার হাতে তারকাসুরের বধ হবে। দেবতাদের পরামর্শে ভগবান শিবের হৃদয় পরিবর্তনের ভার পড়লো কামদেবর উপরে|যথা সময়ে মদন দেব সস্ত্রীক ঋতুরাজ বসন্তকে সঙ্গে নিয়ে|ঋতুরাজ বসন্ত হিমালয়ে তুষারাবৃত স্থানে সৃষ্টি করলেন বসন্তের অনুপম প্রকৃতি । মদন ও রতিদেবী ধরলেন মিলনের নৃত্যগীত। একে একে মদনদেব পুষ্পধনু থেকে পঞ্চবাণ নিক্ষেপ করলেন। ধ্যান ভঙ্গ হলো মাহাদেবের এবং রেগে গিয়ে তিনি কামদেব কে তার তৃতীয় নয়ন দিয়ে ভস্ম করে দিলেন|পরবর্তী পর্ব অবশ্য সব জায়গায় একই রতিদেবী ভগবান শিবের কাছে কাতর অনুনয় বিনয় করেন। মহাদেবের আশীর্বাদে দ্বাপর যুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পুত্র রূপে জন্মে কামদেব নিজ শরীর ফিরে পেয়েছিলেন।ফিরে আসবো পরের পর্বে শিবের মহিমা ব্যাখ্যা করবো নানা পৌরাণিক ঘটনার মধ্যে দিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব চতুর্দশী বিশেষ পর্ব – মহাদেবের কুমির রূপ

দেবাদিদেবের বহু লীলার মধ্যে আজ একটি অদ্ভুত লীলা প্রসঙ্গে আপনাদের বলবো, কথিত আছে একবার ধ্যানমগ্ন পার্বতীর মধ্যে কতোটা দয়া এবং মায়া বর্তমান আছে তার পরীক্ষা নিয়েছিলেন স্বয়ং মহাদেব এবং তিনি এই এই পরীক্ষা নিতে কুমিরের রূপ ধরে ছিলেন|আজ জানাবো মহাদেবের এই বিশেষ লীলার কথা|একবার দেবী পার্বতী যে পর্বতে বসে নিজের সাধনা করতেন তার পাশেই একটি শিশু জলাশযয়ে নেমে জলের মধ্যে খেলা করছিল। হটাৎ একটি বিশাল আকৃতির কুমির শিশুটির পা কামড়ে ধরে এবং শিশুটি তার ফলে খুব কাঁদতে শুরু করে।দেবী পার্বতী ওই ছোট্ট শিশুটির ক্রন্দনরত অবস্থা দেখে ধ্যান থেকে বিরত হন এবং তিনি এগিয়ে এসে বাচ্চাটিকে ছেড়ে দেয়ার জন্য কুমিরটির কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ করতে থাকেন।কাতর হয়ে কাঁদতে কাঁদতে শিশুটিও দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন যে তাকে যেন সে কুমিরের হাত থেকে তিনি রক্ষা করেন।দেবীর কথা শুনে কুমিরটি দেবীকে বলে একটিমাত্র শর্তে সে বাচ্চাটিকে ছাড়তে পারে। দেবী হাজার হাজার বছর ধরে তপস্যা করে যে শক্তি ও ফল সঞ্চয় করেছেন সেটি সম্পূর্ণ কুমিরটিকে দিয়ে দিতে হবে। দেবী সেটা শুনে রাজি হয়ে যান এবং বলেন আমি আমার সমস্ত তপস্যার ফল তোমাকে দিতে রাজি আছি শুধু তুমি এই বাচ্চাটিকে মুক্তি দাও এই কথা বলেই দেবি নিজের সমস্ত তপস্যার ফল কুমিরটিকে দিয়ে দেন। এবং বাচ্চাটি কে কুমিরের কবল থেকে মুক্ত করেন।কুমিরটি দেবীর এই রুপ আচরণের কারন জিগেস করলে দেবী জানান তিনি পুনরায় আবার তপস্যা মগ্ন হয়ে পুণ্যফল অর্জন করতে পারবেন বাচ্চাটির প্রাণ গেলে সে তার প্রাণ কখনই ফেরত পাবে না।দেবী পার্বতীর কথা শেষ হতেই কুমির এবং বাচ্চাটি সেখান থেকে উধাও হয়ে যায়| দেবী কিছুটা অবাক হন এবং সেই স্থান ত্যাগ করে পাহাড়ের উপরে আবার নিজের ধ্যান শুরু করার জন্য এগোতে থাকেন।সেই সময়ে দেবীর সামনে স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেব উপস্থিত হন।দেবী পার্বতী স্বামীকে সামনে পেয়ে কিছুক্ষন আগে ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনা বিস্তারিত ভাবে বোলেন বললেন এবং সব শুনে মহাদেব হেসে জানানযে হে দেবী কুমির ও ছেলেটি রূপে সবটাই আমি ছিলাম।তার এই অদ্ভুত লীলার কারন জিগেস করলে তিনি বলেন তিনি কুমির রূপে দেবীকে পরীক্ষা করতে এসেছিলেন। দেবীর শরীরে কতটা দয়ামায়া আছে সেটা উপলব্ধি করে তিনি আনন্দিত ও গর্বিত|চলবে এই শিব সংক্রান্ত ধারাবাহিক আলোচনা|ফিরে আসবো আগামী পর্বে এমন আরো অনেক পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|