যে শহরের নামই দেবী কালীর নামে। সেই শহরে যে অসংখ্য কালী মন্দির থাকবে সেটাই স্বাভাবিক এবং আমি আগেও কলকাতার কালী মন্দির গুলি নিয়ে অনুষ্ঠান করেছি।কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ সব জায়গায় আছে প্রসিদ্ধ সব কালী মন্দির এবং তাদের নিয়ে রয়েছে বহু গল্প ও জনশ্রুতি। আজ আপনাদের জন্য উত্তর কলকাতার পাথুরিয়াঘাটার কালী মন্দিরের কথা নিয়ে এসেছি এই পর্বে।সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসও। খোদ বাঘাযতীনের হাত দিয়ে শুরু পাথুরিয়াঘাটা ব্যায়াম সমিতির কালীপুজো।পরবর্তীতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু স্বয়ং সভাপতিত্ব করেছেন এই পুজোর।লোকমুখে এই কালী বড়োকালী নামেই পরিচিত। আকারে তা যে বেশ বড়ো, তাতে সন্দেহ নেই। ৩১ ফুট উঁচু মূর্তির হাতে ৬ ফুটের খড়গ। দক্ষিণা কালীর মতোই এই মূর্তির বামহাতের একটিতে খড়গ অন্যটিতে অসুরমুণ্ড। ডানহাতে বরাভয় মুদ্রা।প্রথমে একটু গোড়ার কথা বলে নেয়া দরকার।পুজোর শুরু হয় স্বদেশি যুগের প্রথম যুগে। তখন অনুশীলন সমিতির শাখা তৈরি হচ্ছিল নানা জায়গায়। এর মধ্যেই ১৯০৮ সালে অতুলকৃষ্ণ ঘোষ এবং যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৈরি হয় পাথুরিয়াঘাটা ব্যায়াম সমিতি। এই যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ই বাঘাযতীন।তারপর ঘটে যায় আলিপুর বোমা কান্ড । অনুশীলন সমিতি নিষিদ্ধ হয়। গোপনে বিপ্লবী কর্মকাণ্ড চলতেই থাকে। কিন্তু প্রকাশ্যে অনুশীলন সমিতির সমস্ত কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় পাথুরিয়াঘাটা ব্যায়াম সমিতির কাজও।ব্রিটিশ বিরোধী যুদ্ধে ১৯১৫ সালে বুড়িবালামে প্রাণ হারালেন বাঘাযতীন। এরপর ১৯২৮ সালে জেল থেকে মুক্তি পান অতুলকৃষ্ণ। আবার শুরু হয় কালীপুজো। এই ১৯২৮ সালকেই পুজোর শুরু ধরা হয়। ২ বছর পর ১৯৩০ সালে পুজোর সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন সুভাষচন্দ্র।বনেদি বাড়ির পুজো গুলির পাশাপাশি পুরোনো দিনের কলকাতার পুজো আজও বেশ আলোচিত।ফিরে আসবো আগামী পর্বে। দেবী মাহাত্ম নিয়ে। সঙ্গে থাকবে নতুন কোনো দেবী পুজোর কথা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
দেবী মাহাত্মা – দশ মাথার কালী মূর্তি
বাংলা হলো শক্তি সাধনার আদি ভূমি। তাই বাংলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য কালী মন্দির। দেবী বিভিন্ন রূপে বিরাজ করছেন বিভিন্ন স্থানে। আজ আপনাদের যে দেবীর কথা বলবো তিনি দশ মাথা বিশিষ্ট কালী।দেবী খুবই জাগ্রত বলে মানুষের বিশ্বাস।দেবীর এই রূপে পূজিতা হন মালদার ইংরেজ বাজার এলাকায়।শাস্ত্রে দেবীর এই রূপ মহাকালী নামে পরিচিত।মালদার এই পুজোর ইতিহাস বেশ রোমাঞ্চকর এবং কিছু রীতি নীতি বেশ অদ্ভুত। আজও প্রথা মেনে দিনের আলোয় পূজিতা হন দশ মাথা কালী। বলি প্রথা আজও আছে এবং শোল মাছের টক বিশেষ প্রসাদ হিসেবে চলে আসছে বহু দিন থেকে তখন ১৯৩০ সাল, দেশে তখন শাসন করছে ইংরেজরা। মালদহে চরম অত্যাচার চালিয়েছিল ব্রিটিশ সরকার।ব্রিটিশের অত্যাচারের বিরুদ্ধে মানুষজন বিদ্রোহ করার সিদ্ধান্ত নেন। তখন নিজেদের মধ্যে শক্তি আর সাহস বৃদ্ধি করতে শুরু হয় এই কালীপুজো।দেবীর ১০ মাথা, ১০ হাত এবং ১০ পা রয়েছে। প্রতিমায় শিবের কোন অস্তিত্ব নেই। দেবীর পায়ের তলায় রয়েছে অসুরের কাটা মুণ্ডু।কিছু ধর্ম শাস্ত্রে এই রূপের উল্লেখ থাকলেও দেবীর এই রূপের পুজোর প্রচলন খুব একটা হয়নি।শোনা যায় বিহারের বিন্দুবাসিনীতে পাহাড়ের গায়ে প্রাচীন যুগে খোদাই করা রয়েছে এই মূর্তি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে যেখানে মহাকালীর মন্দির রয়েছে, সেখানে তন্ত্র সাধনা করতেন এলাকার এক তন্ত্র সাধক।সাধনার জন্য তৈরি করেন পঞ্চমুণ্ডির আসন। সেই আসনের ওপরে দেবীর বেদি নির্মিত হয়েছে। আজও তন্ত্র মতেই দেবীর পুজো হয়।প্রতিবছর কালী পুজোয় প্রথা মেনে এখানে শোভাযাত্রা সহকারে মন্দির পর্যন্ত মাকে নিয়ে যাওয়া হয়। দেবীর পুজো দেখতে আসেন দূর দূরান্তর মানুষ।আবার ফিরে আসবো পরের পর্বে।দেবী মাহাত্ম নিয়ে পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
দেবী মহাত্ম- রাজবল্লবী মাতার মন্দির
দেবী মহাত্ম শীর্ষক এই পর্বেআপনাদের হুগলি জেলার অন্তর্গত রাজবলহাটের দেবী রাজবল্লভী মন্দিরের কথা লিখবো।দেবী রাজবল্লভী দ্বিভূজা। তাঁর ডান হাতে একটি ছুরি আর বাঁ হাতে ধরা সিঁদুরের পাত্র। কটিদেশে ছোট ছোট হাতের কোমরবন্ধ, গলায় নরমুণ্ডের মালা। সব মিলিয়ে দেবী কালিকার সঙ্গে রাজবল্লভীর কিছু মিল আছে তবে গায়ের রং সাদা।দেবীর পায়ের নিচে একটি নয়, বরং দুটি শিবমূর্তি দেখতে পাওয়া যায়। ডান পা রয়েছে কালভৈরবের বুকের উপরে। আর বাম পা রাখা আছে বিরূপাক্ষ শিবের মাথায়।বহু ঐতিহাসিক মনে করেন রাজবল্লভী মায়ের নামেই রাজ বল হাট নাম হয়েছে এই স্থানের।শোনা যায়, বহুকাল আগে যখন এই অঞ্চলের পাশ দিয়ে কংসাবতী নদী বয়ে যেত, তখনই এক সদাগর দেবীর দেখা পান। তিনিই এখানে মন্দির তৈরি করেন। তবে এটি নিছক জনশ্রুতি হতে পারে কারন ইতিহাস অন্য কথা বলছে।রাজবলহাট তথা দেবী রাজবল্লভীর প্রতিষ্ঠা করেন রাজা সদানন্দ রায়।স্থানীয় রাজা সদানন্দ রায় একবার দামোদর ও রণ নদীর মধ্যবর্তী জঙ্গলাকীর্ণ স্থানে মৃগয়া করতে গিয়েছিলেন। সেখানে থেকে ফিরে প্রাণীহত্যার জন্য গভীর মনস্তাপে পড়ে যান। পরবর্তীতে সেই মনোস্তাপ থেকে মুক্তি পেতে গুরুর নির্দেশে গভীর অরণ্যে মাতৃ সাধনা শুরু করেন এবং দ্বিভূজা, ষোড়শীর বেশে রাজাকে দর্শন দিয়ে দেবী নির্দেশ করেন, এই জঙ্গলেই যেন তার মূর্তি প্রতিষ্ঠা এবং নিত্য পুজোর ব্যবস্থা করা হয়। আর রাজা যেন নিজের রাজ্যে ফিরে গিয়ে পুনরায় রাজধর্ম পালনে ব্রতী হন।সেই আদেশ অনুসারে স্থাপিত হয় রাজবল্লভী মায়ের মন্দির।সম্ভবত ব্রাহ্মণ বা উচ্চবর্ণের রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতা পান বলেই দেবীর নাম রাজবল্লভী।আজও পূজার্চনার রীতিনীতিতে নানা তান্ত্রিক ক্রিয়াকলাপ দেখা যায়। রাজবল্লভী দেবীর স্বভাবও রাজকীয়। তিনি প্রতি রাত্রে কাঠের পালঙ্কে নিদ্রা যান। রাতে হঠাৎ তামাক সেবনের ইচ্ছাও হয় মাঝে মাঝে। তাই মন্দিরের এক কোণেই প্রস্তুত রাখা থাকে গড়গড়া। তবে খাবারের বিষয়ে তাঁর কোনো আড়ম্বর নেই। কোনোরকম সম্বরা না দিয়ে প্রতিদিন সিদ্ধ ভোগ রান্না হয় মন্দিরের লাগোয়া রন্ধনশালায়। বহু ভক্তকে সেই ভোগ পরিবেশন করা হয়।ফিরে আসবো পরের পর্বে অন্য কোনো দেবী মহাত্ম নিয়ে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবসের শুভেচ্ছা
ভারতবর্ষ এমনই এক বৈচিত্রপূর্ণ দেশ যে দেশে কয়েক কিলোমিটার অন্তর অন্তর বদলে যায় ভাষা। এই ভাষাকে নিয়ে আমাদের অনেক গর্ব অনেক অহংকার। প্রত্যেকের কাছেই তার মাতৃভাষা মধুরতম এবং সুন্দরতম। আজ এই মাতৃভাষাকে সন্মান জানানোর দিন।তাই প্রথমেই আপনাদের সবাইকে জানাই আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবসের অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|আজ ভাষা দিবসের ইতিহাসকেও এক বার ফিরে দেখা যেতে পারে|তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান জন্ম হওয়ার পর পশ্চিম পাকিস্তানের ঊর্দুভাষীরা ধর্মের দোহাই দিয়ে উপনিবেশবাদী ভাবধারায় পূর্ব পাকিস্তানকে করায়ত্ত করতে চাইল ঐ ভাষাকে আশ্রয় করেই, অর্থাৎ উর্দু কে প্রায় জোর করেই চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা হয়েছিলো বাঙালির জাতীয় ভাষা হিসেবে, প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিলো লক্ষ লক্ষ বাঙালি, শুরু হয়েছিলো ভাষা আন্দোলন|এরপর দীর্ঘ পথ, বহু আন্দোলন, রক্তাক্ত সংগ্রাম এবং ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলার ৮ই ফাল্গুন ১৩৫৮ অধুনা বাংলাদেশের সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, প্রানের বিনিময়ে এলো সাফল্য ও স্বীকৃতি যা পরবর্তীকালে পথ দেখালো সারা পৃথিবীকে, হয়ে রইলো এক অনন্যা সাধারণ নিদর্শন|পরবর্তীতে রাষ্ট্র সংঘে প্রস্তাব রাখা হলো, ওই বিশেষ দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবসের স্বীকৃতি দানের জন্যে, ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা-বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা, ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারি “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” হিসাবে স্বীকৃতি দিল এবং ২০০০ সাল থেকে প্রায় গোটা বিশ্ব জুড়ে আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবসে হিসেবে পালিত হচ্ছে|আজ একুশে ফেব্রুয়ারীরে আর কোনো নিদ্দিষ্ট দেশের নয়, তা গোটা বিশ্বের মাতৃ ভাষা প্রেমী মানুষের উৎসবের দিন।ভাষা আন্দোলনে শহীদ হওয়া বীর বঙ্গ সন্তান দের শ্রদ্ধা জানানোর দিন।সবাইকে আরো একবার আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবসের শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
দেবী মাহাত্ম – কলকাতার বনদূর্গা
সারা বাংলা জুড়ে রয়েছে অসংখ্য রহস্যময় মন্দির।প্রায় প্রতিটি মন্দির ঘিরে রয়েছে অনেক অলৌকিক কাহিনী ও অদ্ভুত সব ঘটনা এবং চমকপ্রদ সব পুজোর রীতি।কোথাও অধিষ্টান করছেন দেবী কালী কোথাও দূর্গা কোথাও আবার অন্যকোনো রূপ। সেই সব দেবী মহাত্ম নিয়ে এবার থেকে আলোচনা হবে একেকটি পর্বে। আজ শুরুতে লিখবো দক্ষিণ কলকাতার এক অদ্ভুত বন দুর্গার মন্দির নিয়ে।যে মন্দিরে দেবীর পুজোয় ব্যবহৃত হয় রাশি রাশি হাঁসের ডিম।কলকাতার বিজয়গড়-শ্রীকলোনিতে অবস্থিত বারো ভূত বা দ্বাদশ অবতার মন্দির।বহুকাল থেকেই এই মন্দিরে বনদুর্গা পূজিতা হন।তাকে অনেকেই বুড়িমা বলেন আবার অনেকের কাছে তিনি লৌকিক দেবী বন দেবী।বহু মানুষ মনে করেন বনদুর্গার এই মন্দির শতাব্দী প্রাচীন।দেবী এখানে পূজিত হন হাঁসের ডিমেই। মকর সংক্রান্তির দিন গামলা গামলা হাঁসের ডিম দফায় দফায় দেওয়া হয় দেবীর পুজো। শুধু মকর সংক্রান্তি নয়। প্রতিটি অমাবস্যা তিথিতেও হয় ধুমধাম করে দেবীর পুজো।তবে নৈবেদ্য হিসেবে হাঁসের ডিম থাকবেই।বনদুর্গা ও তাঁর পুজোর নৈবেদ্য নিয়ে একাধিক গল্প প্রচলিত আছে।বনের দেবী বলে তাঁর ভোগে দেওয়া হয় ডিম এটা যেমন অনেকে মনে করেন । আবার একটি জনশ্রুতি অনুসারে একবার এক ভিখারিনীর বেশে এক গরীব ঘরে গিয়েছিলেন দেবী।দরিদ্র পরিবারের সেই গৃহকর্ত্রী ভিখারিনীকে নিরাশ করেননি। ঘরে থাকা একমুঠো চাল আর পোষা হাঁসের ডিম দিয়েই অতিথি আপ্যায়ন করেছিলেন। সেই ভোগে তৃপ্ত হন দেবী। তারপর থেকেই নৈবেদ্যই স্থান পায় ডিম। সেই পরম্পরা আজও চলছে।পুজোয় নৈবেদ্য হিসেবে জমা লক্ষ লক্ষ ডিম প্রসাদ হিসেবে ভক্তদের দেওয়া ছাড়াও আশপাশের অনাথ আশ্রম, বৃদ্ধাশ্রম ও দরিদ্র নারায়নের মধ্যেবিলি করা হয়।বহু এমন অদ্ভুত সব মন্দির ও সেই মন্দিরের দেবী মাহাত্ম নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বগুলিতে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
শিব চতুর্দশী বিশেষ পর্ব- ষোলো থেকে একুশ মুখী রুদ্রাক্ষ
বাকি রয়েছে অনেকগুলি রুদ্রাক্ষ নিয়ে আলোচনা আজ তাদের কয়েকটি নিয়ে লিখবো।শাস্ত্র মতে হর পার্বতীর মিলিত রূপ ১৬ মুখী রুদ্রাক্ষ। একে জয় রুদ্রাক্ষ ও বলে। আবার শিবের মহা মৃত্যুঞ্জয় রূপেও দেখা হয়। এই রুদ্রাক্ষ ভয় শোক ও হতাশা দূর করে ও আত্মবিশ্বাস দেয়। ছাত্র ছাত্রী দের জন্য বিশেষ ভাবে শুভ।দেবী কাত্যায়নী হলেন ১৭ মুখী রুদ্রাক্ষর অধীস্টাত্রী দেবী। এই রুদ্রাক্ষ মনের মতো জীবন সঙ্গী পেতে সাহায্য করে এবং দাম্পত্য জীবন সুখের করে।পাশাপাশি নীরোগ ও দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন লাভ করতে সাহায্য করে।দেবী বসুন্ধরা ১৮ মুখী রুদ্রাক্ষর অধীস্টাত্রী দেবী। যারা এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করে তাদের জাগতিক সব মনোস্কামনা পূর্ণ হয়। জমি বাড়ি সংক্রান্ত ব্যবসা যারা করেন তাদের জন্য এই রুদ্রাক্ষ বিশেষ ভাবে শুভ।শাস্ত্র মতে লক্ষী এবং নারায়ণ একত্রে বাস করেন ১৯ মুখী রুদ্রাক্ষতে। তাই এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে সব বিপদ নাশ হয় এবং সৌভাগ্য লাভ হয়। যারা প্রবল অর্থ কষ্টে আছেন তারা এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে পারেন।শাস্ত্র মতে ২০ মুখী রুদ্রাক্ষ ব্যক্তিকে মানসিক শান্তি ও চাপ থেকে মুক্তি দেয়।নেতিবাচক শক্তির বিরুদ্ধে একটি ঢাল হিসেবে এই রুদ্রাক্ষকে ব্যবহার করা হয়।শাস্ত্র মতে ২১ মুখী রুদ্রাক্ষ একজন ব্যক্তির ভুল কর্মের ফলাফল হ্রাস করে।দুর্ঘটনা এবং দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা থেকে রক্ষা করে এবং সর্ব ক্ষেত্রে সাফল্য দেয়।শিব রাত্রিতে রুদ্রাক্ষ শোধন ও ধারণ করা বিশেষ ভাবে শুভ। যারা গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে চান তারাও এই তিথিকে বেছে নিতে পারেন। ফিরে আসবো পরের পর্বে পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ। ওঁম নমঃ শিবায়ঃ।
শিব চতুর্দশী বিশেষ পর্ব – তেরো চোদ্দ পনেরো মুখী রুদ্রাক্ষ
শাস্ত্র মতে রুদ্রাক্ষ শোধন করা বা ধারণ করার শ্রেষ্ট তিথি শিব চতুর্দশী তিথি। এই বিশেষ তিথিতে সঠিক নিয়ম মেনে জন্ম ছক অনুসারে নিদ্দিষ্ট সমস্যাকে বিবেচনা করে রুদ্রাক্ষ ধারন করে রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে হয়। আগেই বেশ কয়েকটি রুদ্রাক্ষর কথা বলেছিম আজ তেরো থেকে পনেরো মুখী রুদ্রাক্ষ নিয়ে লিখবো।
তেরো-মুখী রুদ্রাক্ষ কামদেবের স্বরূপ যা ধারণে মনের বাসনা পূর্ণ হয় এবং কোনও প্রকারের অকল্যাণ হয় না।যাদের দাম্পত্য জীবন সুখের নয় তারা শুক্রবার কাম দেব ও মহা দেবকে স্মরণ করে গঙ্গাজল ও দুধ বা ঘি দিয়ে শোধন করে এই রুদ্রাক্ষ কন্ঠে বা বাহুতে ধারণ করতে পারেন।
চৌদ্দমুখী রুদ্রাক্ষ শিব ও হনুমান স্বরূপ।ধারণ করলে জীবনে সুখ সমৃদ্ধির আগমন ঘটে থাকে। সর্বপ্রকার সম্মান প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে সকল সুখ-শান্তি এবং আয়ু বৃদ্ধি ঘটে থাকে। এই প্রকার রুদ্রাক্ষ ধারণকারী ব্যক্তি শিবের আশীর্বাদ লাভ করেন ও বজরংবলী তাদের রক্ষা করেন। এই রুদ্রাক্ষ সর্বরোগে বিনাশের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিকে নীরোগ রাখতে সাহায্য করে।যেকোনো দিন শুদ্ধ দেহে ও পবিত্র মনে ওঁম নমঃ শিবায় জপ করে এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে পারেন।
শাস্ত্র মতে ধন, যশ, জনপ্রিয়তা লাভের জন্য পনেরো রুদ্রাক্ষের তুলনা হয় না।অনেকেই লটারি, শেয়ার বাজার ইত্যাদিতে দিনের পর দিন অর্থব্যয় করে থাকেন। তারা যদি পনেরো মুখী রুদ্রাক্ষ ধারণ করেন তাহলে সুফল পেতে পারেন।লাল ধাগায় রবিবার এই রুদ্রাক্ষ বাহুতে বা কণ্ঠে ধারণ করতে পারেন।সুফল পাবেন।
শিব চতুর্দশী উপলক্ষে চলবে রুদ্রাক্ষ নিয়ে এই ধারাবাহিক আলোচনা। রুদ্রাক্ষ ধারনের পাশাপাশি যারা শাস্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার করাতে চান তারাও এই শিব চতুর্দশী তিথিকে কাজে লাগাতে পারেন। ফিরে আসবো পরের পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
শিবচতুর্দশী বিশেষ পর্ব- দশ এগারো এবং বারো মুখী রুদ্রাক্ষ
আজ শুরু করবো দশ মুখী রুদ্রাক্ষ দিয়ে।এই দশমুখী রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে নবগ্রহ শান্ত থাকে।দশদিক দশমুখী রুদ্রাক্ষের অধিপতি। ভগবান বিষ্ণু এর আদি দেবতা। এই দশমুখী রুদ্রাক্ষ ধারণকারীর নাম যশ দশদিকে প্রসারিত হয়।অশুভ শক্তি নাশ করে নিজেকে রক্ষা করতে বা শত্রুকে দমন করতে দশমুখী রুদ্রাক্ষের কোনও বিকল্প হয় না। জীবনে আনন্দের আগমন ঘটানোর জন্য রুদ্রাক্ষ ধারণ করা হয়ে থাকে। ওম হ্রীং নম: মন্ত্রের জপ করতে হয়। ভগবান বিষ্ণু যে দশ অবতার হয়েছিলেন মৎস্য, কূর্ম, বরাহ, বামন, বুদ্ধ, রাম, কল্কি, প্রমুখ সেই দশাবতারের শক্তি গুলি এই দশমুখী রুদ্রাক্ষের মধ্যে নিহিত আছে বলে মনে করা হয়।এগারো মুখী রুদ্রাক্ষর অধিষ্ঠাতা দেবতা হনুমান। ধারকের জ্ঞান, বিচারবুদ্ধি, বাকশক্তি বৃদ্ধি পায়। জীবনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য এটি ধারণ করতে হয়। অনেক সাধু সন্ন্যাসী এই ১১মুখী রুদ্রাক্ষকে ভগবানের সর্বশ্রেষ্ঠ দান বলে মনে করেন।ধরণের আগে ওম হ্রীং হুম নম: মন্ত্র জপ করা উচিত।প্রকৃত পক্ষে ১১মুখী খুবই রুদ্রাক্ষ দুর্লভ।কথিত আছে এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে গোদান, ব্রাহ্মন ভোজন ও দেব সেবার ফল পাওয়া যায়।১১ মুখী রুদ্রাক্ষ হল ভগবান শিবের বিভিন্ন শক্তির কেন্দ্র বিন্দু তাই এই রুদ্রাক্ষ সকল বিপত্তি বিনাশকারী ও সমৃদ্ধিকারী।দ্বাদশ মুখী রুদ্রাক্ষর অধিষ্ঠাতা দেবতা সূর্য। নিয়ন্ত্রক গ্রহ রবি। এই রুদ্রাক্ষ খ্যাতি ও প্রতিপত্তি। ওম ক্রৌং ক্ষৌং রৌং নম: মন্ত্র জপ করে এই রুদ্রাক্ষ স্বর্ণ বা রৌপ দিয়ে ধারণ করা উচিত।এটি খুব শক্তিশালী ও তেজস্বী রুদ্রাক্ষ। সাধারণত সাধু সন্ন্যাসী ও আধ্যাত্মিক জগতের মানুষরা এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করেন।সামনেই শিব চতুর্দশী। রুদ্রাক্ষ ধারনের শ্রেষ্ঠ সময়।আগামী পর্বে আরো অনেকগুলি রুদ্রাক্ষর কথা বলবো।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
শিব চতুর্দশী – সাত আট ও নয় মুখী রুদ্রাক্ষ
জ্যোতিষ শাস্ত্রে রত্ন যেমন একটি প্রতিকার তেমনই রুদ্রাক্ষ একটি অতি শক্তিশালী প্রতিকার। ভুল রত্ন ধরণে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে কিন্তু রুদ্রাক্ষ সেই দিক দিয়ে অনেকটাই নিরাপদ। তাই দিন দিন রুদ্রাক্ষর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। আজকের পর্ব সাত আট ও নয় মুখী রুদ্রাক্ষ নিয়ে।সাত মুখী রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে দুর্দশা দূর হয়। বাণিজ্যে সাফল্য আসে। যে ব্যক্তির অত্যধিক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং তা কাটিয়ে ওঠার কোনও উপায় তাঁর হাতে নেই তাঁদের রুদ্রাক্ষ পরা উচিত।অধিষ্ঠাত্রী দেবী মহালক্ষ্মী। নিয়ন্ত্রণ করে শনি।ওম হুম নম: মন্ত্র জপ করে এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করা উচিত। সপ্তমুখী রুদ্রাক্ষ সাক্ষাৎ কামরূপ। এটি রোগ নিবারক ও সমৃদ্ধিশালী। এটি দুর্গার প্রভাবে পুর্ণ। তাই হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেয়। শনিবার এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে হয়।শনির সাড়েসাতি বা ঢাইয়া যদি কারুর প্রতিকূলতার কারন হয় তারা সাত মুখী রুদ্রাক্ষ ধারন করলে বিশেষ উপকার পাবেন।অষ্টমুখী রুদ্রাক্ষ- রাহু গ্রহের মারকতা নাশার্থে ধারণ করা হয়। এই রুদ্রাক্ষের দুটি নাম বিনায়ক ও বটুকভৈরব।এই রুদ্রাক্ষ ধারণে হঠাত্ আঘাত পাওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। দুষ্কৃতকারীদের হাতে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। রাশিচক্রে শনি ও রাহু অশুভ থাকলে উক্ত রুদ্রাক্ষ যথাবিধি সংস্কারপূর্বক পুরুষের ডান বাহুতে এবং স্ত্রীলোকের বাম বাহুতে ধারণীয়।অধিষ্ঠাতা দেবতা গণেশ। নিয়ন্ত্রক গ্রহ রাহু।শাস্ত্রে আছে আট মুখী রুদ্রাক্ষ ধারণে বাধা-বিপত্তি দূর হয়। শত্রুনাশ হয়। ওম হুম নম: মন্ত্র জপ করে এই রুদ্রাক্ষ পরলে রোগ মুক্তিও ঘটে।যাদের জন্ম ছকে গ্রহণ দোষ আছে তারা এই রুদ্রাক্ষ পড়লে গ্রহণ দোষের কুপ্রভাব থেকে মুক্ত থাকবেন।নয় মুখী রুদ্রাক্ষর অধিষ্ঠাত্রী দেবী দুর্গা। নিয়ন্ত্রক গ্রহ কেতু। ধারকের জীবনে শক্তি সঞ্চারিত হয়, ভয় দূর হয়। যারা বারবার বাধাগ্রস্ত হন, সময়কালে বুদ্ধি ভ্রম ঘটে থাকে তারা নয় মুখী রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে পারেন। এই রুদ্রাক্ষকে ন’ দেবীর স্বরূপ মনে করা হয়। সমাজে প্রতিষ্ঠার ইচ্ছে থাকলে, এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করা উচিত। এক্ষেত্রে ওম হ্রীং হুম নম: মন্ত্র জপ করতে হয়।যাদের জন্মছকে কাল সর্প দোষ আছে তারা এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে বিশেষ ভাবে সুফল পাবেনবাকি থাকলো রুদ্রাক্ষ নিয়ে আরো অনেক কথা। সেসব নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
শিব চতুর্দশী বিশেষ পর্ব- চার পাঁচ ও ছয় মুখী রুদ্রাক্ষ
বিগত পর্বে এক দুই ও তিন মুখী রুদ্রাক্ষ নিয়ে লিখেছিলাম আজ লিখবো চার পাঁচ ও ছয় মুখী রুদ্রাক্ষ নিয়ে।শাস্ত্র মতে চার মুখের রুদ্রাক্ষের মধ্যে ব্রহ্মার সমস্ত শক্তি নিহিত আছে। জ্যোতিষ শাস্ত্র মতেএটি ধারণ করলেই যে সমস্ত পড়ুয়ার পড়া শুনে অমনোযোগ সে ক্ষেত্রে সমস্যা মিটে যায়। তবে শুধু ধারণ করাই নয় দরিদ্র বা দুঃস্থ কোনও ব্যক্তি এই রুদ্রাক্ষ পুজো করলেই শীঘ্রই আর্থিক কষ্ট থেকে মুক্তি পায়।এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত যে কোনো ব্যক্তি স্বচ্ছলতা ফিরে পান।এই রুদ্রাক্ষ গলায় থাকলে শত্রুপক্ষ কোনও ক্ষতি করতে পারে না।চারমুখী রুদ্রাক্ষ সংসারের শ্রীবৃদ্ধি ঘটায় এবং বহু জন্মের পাপ খণ্ডন করতে সাহায্য করে।শ্রাবন মাসে বা শিব রাত্রিতে শোধন করে এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে, ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ লাভ হয়। ওম হ্রীং নম: মন্ত্র জপ করে একে ধারণ করতে হয়।চার মুখী রুদ্রাক্ষর নিয়ন্ত্রক গ্রহ বুধ এবং ধারণ করলে সৃজনশক্তি বৃদ্ধি পায়। সন্তানের বিদ্যার উন্নতির জন্য চার।এই রুদ্রাক্ষর অধিষ্ঠাতা দেবতা ব্রহ্মা। বুধবার দিন গঙ্গা জলে শোধন করিয়ে ওঁম নমঃ শিবায় মন্ত্র জপ করেও চার মুখী রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে পারেন।পাঁচ মুখী রুদ্রাক্ষর অধিষ্ঠাতা দেবতা কালাগ্নি রুদ্র। নিয়ন্ত্রক গ্রহ বৃহস্পতি।পাঁচ মুখী রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে স্বাস্থ্য ও শান্তি সুরক্ষিত থাকে।অনেকের মতে একে ধারণ করলে এক কথায় সমস্ত সমস্যার সমাধান হয়।পাঁচ মুখী রুদ্রাক্ষ ধারণের পূর্বে ওম হ্রীং নম: মন্ত্র জপ করবেন। পঞ্চমুখী রুদ্রাক্ষ শান্তিদায়ক, পাপনাশক।শাস্ত্রে আছে গো-ব্রাহ্মণ হত্যাকারীর পাপমোচন করে এই ররুদ্রাক্ষ। এতে মানুষের শ্রীবৃদ্ধি ঘটে। এই রুদ্রাক্ষ ধারনে মানবের আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও ধর্মানুশীলন বৃদ্ধি পায়।খুবই সহজ লভ্য ও সস্তাদামের হয় পাঁচ মুখী রুদ্রাক্ষ।তবে জ্যোতিষ শাস্ত্রে এর গুরুত্ব অপরিসীম। বৃহস্পতিবার লাল ধাগায় কাঁচা দুধ ও ঘি দিয়ে শোধন করে মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র পাঠ করে পাঁচ মুখী রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে পারেন।ছয় মুখী রুদ্রাক্ষ আপনার প্রেম ও দাম্পত্য জীবনের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ।অধিষ্ঠাতা দেবতা কার্তিকেয়। নিয়ন্ত্রক গ্রহ শুক্র।এই রুদ্রাক্ষ ধারণে শোক থেকে মুক্তি ঘটে। উচ্চশিক্ষা লাভ হয়।বিবাহিত জীবন সুখের হয়। এটি কার্তিকের রুদ্রাক্ষ। এটি পরলে ব্রহ্মহত্যার পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে।পরার সময় ওম হ্রীং হুম নম: মন্ত্র জপ করবেন শোনা বা রুপো অথবা হলুদ ধাগায় শুক্রবার এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে হয়।সব রকম অশুভ শক্তিথেকে নিজেকে রক্ষা করতে বা শত্রুকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে এই রুদ্রাক্ষর জুড়ি নেই।শিব চতুর্দশী উপলক্ষে চলবে রুদ্রাক্ষ নিয়ে এই ধারাবাহিক লেখা।বাকি রইলো আরো অনেকগুলি রুদ্রাক্ষর কথা। সেগুলি নিয়েও আলোচনা হবে আগামী পর্ব গুলিতে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।