দশ মহা বিদ্যা : দেবী মাতঙ্গী

368

দশ মহাবিদ্যা পর্ব গুলির শেষ পর্ব অর্থাৎ মাতঙ্গী সম্পর্কে আলোচনা নিয়ে ফিরতে একটু বেশি বিলম্ব হয়ে গেলো কারন গত কুড়ি তারিখের আমফান ঝড় সব কিছু তছনছ করে দিয়ে ছিলো,বিদ্যুৎ সহ যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পরে ছিলো আর মানসিক ভাবে আমরা অনেকেই বিপর্যস্ত ছিলাম, তবে ধীরে ধীরে আমরা খারাপ সময় টা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছি বা ফেরার চেষ্টা করছি |তাই ফিরে এলাম নিজের প্রতিশ্রুতি রাখতে, দশ মহাবিদ্যার শেষ পর্ব নিয়ে|এই অবাঞ্চিত বিলম্বর জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থী|

ইংরেজি তে বলে all good things come to an end অর্থাৎ সব ভালো কিছুর একটা শেষ আছে, সেই নিয়ম মেনে আজ দশ মহাবিদ্যা সিরিজের শেষ রূপ অর্থাৎ মাতঙ্গী কে নিয়ে আলোচনা করবো|

দেবী মাতঙ্গী সরস্বতীরই তান্ত্রিক রূপ বলে মনে করা হয় তাই স্বাভাবিক ভাবেই ইনি শিক্ষা, কলা ও জ্ঞানের দেবী হিসেবে পূজিতা|ইনি বিনা বাদনরতা মূর্তি তে বিরাজমান |প্রচলিত বিশ্বাস মতে এই দেবীর আরাধনার মাধ্যমে শিল্প সাহিত্য ও সংগীতের জগতের মানুষ দের ব্যাপক উন্নতি সাধন হয়,ইনি বাগদেবী ও একাধারে সংগীতের দেবী|

দেবী কে দুটি ভিন্ন রূপে পাওয়া যায় প্রথম টিতে দেবীর রূপ রক্তবসনা ও গলায় শোভিত গুঞ্জার মালা |দেবী মাতঙ্গী দ্বিভুজা, দেবীর একহাতে নরমুন্ড ও অন্য হাতে উন্মুক্ত তরোয়াল|দেবীর হরিৎ গাত্র বর্ণ পরম জ্ঞানের প্রতীক |আরেক টি রূপ অনুসারে তিনি চতুর্ভুজা ও তার চারটি হাত চারটি বেদের প্রতীক|হাত গুলিতে রয়েছে অঙ্কুশ, ওসি, পাশ ও ঢাল |দেবী রত্নসিংহাসনএ বিরাজমান|

পুরান মতে দেবীর উৎপত্তি হয় যখন দেবতারা ভয়ঙ্কর অসুর শুম্ভ ও নিশুম্ভর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে মাতঙ্গ মুনির আশ্রমে স্মরণ নেয়|তাদের আরাধনায় মাতঙ্গ ঋষির স্ত্রীর শরীর থেকে সৃষ্টি হয় দেবী মাতঙ্গির|

বৈদিক জ্যোতিষ মতে দেবী মাতঙ্গী সূর্য গ্রহের ইষ্ট দেবী |তন্ত্রেও তার গুরুত্ব পূর্ন অপরিসীম |তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা বা জ্যোতিষ সংক্রান্ত ব্যাখ্যা ও মানব জীবনে তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা এখানে নয় |তার জন্য আমার নাম্বার পোস্টের সাথে দেয়াই আছে, প্রয়োজন হলে যোগাযোগ করতেই পারেন |

এবার ফিরে আসবো এক সম্পূর্ণ নতুন ধারাবাহিক লেখনী নিয়ে এবং সেই ধারাবাহিক হবে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ নিয়ে |নিশ্চই ভালো লাগবে আপনাদের|পাসে থাকবেন বরাবরের মতোই, এ আমার বিশ্বাস |অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাদের |