Home Blog Page 117

বাংলার ডাকাত কালী – বারাসাতের ডাকাত কালী

আজ আমার শহর অর্থাৎ উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার সদর শহর বারাসাতের ডাকাত কালীর মন্দিরের কথা লিখবো।আগে বারাসাতের ইতিহাস সম্পর্কে এটুকু বলে রাখি যে সাত টি বার বা জনপদ নিয়ে গড়ে উঠেছিলো বলে এই মফস্বলের নাম হয়েছে বারাসাত। এই সাত টি জনপদের মধ্যে বেশ কয়েকটির নাম আমরা জানতে পারি যেমন ” শ্রীধরপুর, হৃদয় পুর, বনমালী পুর, প্রাসাদ পুর ও নিশ্চিন্দি পুর” ইত্যাদি|

বিখ্যাত মানিকচাঁদ যিনি ইতিহাসে জগৎ শেঠ নামে পরিচিত তার পরিবারের বারো জন সদস্য এখানে বাস করতেন বলেও শোনা যায় । তাদের মধ্যেই একজন রামচন্দ্র শেঠ বারাসাতের কেন্দ্র স্থলে একটি পুকুর নির্মাণ করেছিলেন। বর্তমানে সেটি ” শেঠ পুকুর ” নামে পরিচিত। শহীদ তিতুমীরের বারাসাত বিদ্রোহ আমরা ইতিহাস বইতেই পাই এছাড়াও বারাসতের কিছু অদূরেই চন্দ্রকেতু গর যেখানে আছে “খনা মিহিরের ঢিবি” যা এখনও বিদ্যমান।

তবে আজকের আলোচ্য বিষয় বারাসাতের ডাকাত কালী মন্দির কুখ্যাত এক ডাকাত দল নাকি বারাসাতে কালী পূজা শুরু করেছিলো নবাবী আমলে । বারাসতের থেকে প্রায় দেড় দুই কিলোমিটার দূরে নদীভাগের কাছে রয়েছে তার কালী মন্দির। তবে বর্তমানে সেটিকে মন্দির না বলে পরিত্যক্ত ভুতুড়ে বাড়ি বলাই শ্রেয় তবে তার ইতিহাস বেশ প্রাচীন ও বর্ণময়| 

লোকমুখে শোনা যায় এক সময় দুর্ধর্ষ এক ডাকাত দল শাসন করতো বারাসাতের বিস্তীর্ণ দুর্গম অঞ্চল একবার ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পরে যাওয়ায় রাগে-ক্ষোভে মুর্তিটি তরোয়াল দিয়ে ভেঙে ফেলে ডাকাত সর্দার । পরবর্তীতে এই ভগ্ন মুর্তিকেই পুজো করত ডাকাত দল । স্বাধীনতার পরও এখানে ডাকাত সর্দারের একটি মুর্তি ছিল। যদিও পরে এটি চুরি হয়ে যাওয়ায় এখানে আর মুর্তি স্থাপনের সাহস দেখায়নি নানা কারনে|

স্থানীয়দের থেকে জানা যায় এই মন্দিরে নাকি ঘটেছে নানান অলৌকিক ঘটনা যেমন অমাবস্যার রাতে হটাৎ ঢাক ঢোল কাঁসরের শব্দ, অট্টহাসি বা মাঝরাতে ওই অঞ্চলে শোনাযায় নুপুরের শব্দ এই সব ঘটনা আজও অবাক করে অনেককে|
তাছাড়াও অনেকের স্বচক্ষে মাতৃদর্শনের সুযোগ হয়েছে বলেও শোনা যায়।

একসময় এখানে অষ্টধাতুর প্রতিমাকে কালিরূপে পুজো করত ডাকাতরা । ডাকাতি করার আগে নরবলি দিয়ে পাশের পুকুরে ভাসিয়ে দিত সে। এইভাবেই তারা নরবলির মাধ্যমে মাকে প্রসন্ন করত। আজও মন্দিরের পাশে রয়েছে সেই পুকুরটি। মন্দিরের মূল ফটক দিয়ে ঢুকে বাঁ দিকে গাছের শিকড়ে দেখা যায় একটি হাতের ছাপের মত অবয়ব। গাছের যে অংশকে কালী রূপে পুজো করা হয় সেটিও মানব দেহের নিম্নাংশের মত দেখতে|মনে করা হয় এখানে দেবী অত্যন্ত জাগ্রত এবং তার কাছে করা সব মনোস্কামনা পূরণ হয়|

সব মিলিয়ে বারাসাতের ডাকাত কালী মন্দির বাংলার প্রাচীন ডাকাত কালী মন্দিরগুলির অন্যতম|ফিরে আসবো পরের পর্বে|চলবে এই ধারাবাহিক আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

বাংলার ডাকাত কালী – রঘুডাকাতের কালী মন্দির

আর কয়েকটিদিন পরেই মৌনী অমাবস্যাতারাপীঠ সহ মা হৃদয়েশ্বরী সর্ব মঙ্গলার মন্দিরের বিশেষ পুজো ও গ্রহদোষ খণ্ডন এর হোম যজ্ঞর আয়োজন শুরু হয়ে গেছে এখন থেকেই|বহু মানুষ যোগাযোগ করছেন|তার মাঝেই আজ আপনাদের জন্যে নিয়ে এসেছি বাংলার এক প্রাচীন ডাকাত কালী মন্দিরের কথা যা অবস্থিত হুগলীর বাসুদেব পুরে|বাংলার এই ডাকাত কালী মন্দিরের সাথে জড়িত আছে কুখ্যাত রঘু ডাকাতের নাম|সাধক রামপ্রসাদ ও এই মন্দিরে এসেছিলেন ও এক অলৌকিক অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছিলেন|আজ বলবো সেই অলৌকিক ঘটনা|ব্রিটিশ আমলে রঘু ডাকাত ছিলো হুগলীর ত্রাস|তার ছিলো রবিনহুড ইমেজ অর্থাৎ ধনীদের লুট করে গরিব অসহায় দের সাহায্য করতো|সেকালে লোকে যমের মতো ভয় পেতো রঘুডাকাতকে|তার নামে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খেতো|রাত তো দূরের কথা দিনের বেলাতেও মানুষ বেশি টাকা পয়সা নিয়ে পথ হাঁটতে ভয় পেতো|রঘু ডাকাতের অতীত সম্পর্কে শোনা যায় আনুমানিক ৫০০ বছর আগে জয় পুরের বাসিন্দা বিধুভূষণ ঘোষ ও তার ভাই রঘু ঘোষ ঘন জঙ্গলের মধ্যে তাদের আরাধ্যা মা কালীর মূর্তি স্থাপন করে। দিনের বেলায় দুই ভাই দিনমজুরের কাজ করলেও রাতে ধনীদের বাড়িতে ডাকাতি করত যদিও ডাকাতি করে আনা জিনিসপত্র এলাকার গরিব মানুষের মধ্যে বিলি করত এই দুই ডাকাত ভাই |সেকালে ডাকাত দলের ভয়ে দুপুরের পর থেকে এই রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করত না। কথিত আছে সেই সময়েরঘু ডাকাতের লোকজন রাস্তা দিয়ে যাওয়া কোনও মানুষকে ধরে বেঁধে রাখত। সন্ধ্যার পর পুরোহিতকে ডেকে এনে ঢাকঢোল বাজিয়ে নরবলি হতো| তারপর পুজো দিয়ে ও মহাপ্রসাদ খেয়ে ডাকাতি করতে বের হত।এসবই অবশ্য শোনা কথা বা প্রচলিত কিংবদন্তী|শোনা যায় সাধক কবি রামপ্রসাদ সেন কোনও এক সময়ে এই রাস্তা ধরে ফিরছিলেন। ওই সময়ে রঘু ডাকাতের লোকজন তাকে নরবলি দেওয়ার জন্য ধরে নিয়ে এসে বেঁধে রাখে। অলৌকিক ভাবে ডাকাত দল বলি দেয়ার আগের মুহূর্তে হারিকাঠে রামপ্রসাদের পরিবর্তে মাকে দেখতে পায়। এরপর রঘু ডাকাত বলি বন্ধ করে রামপ্রসাদের সেবার ব্যবস্থা করে এবং পরের দিন সকালে নৌকায় করে রামপ্রসাদকে সসম্মানে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসে।সাধক রামপ্রসাদের জীবনীতে এই ঘটনার উল্লেখ আছে|রঘু ডাকাতের আমল থেকে আজও একই নিয়মে ও নিষ্ঠায় মন্দিরের পুজো চলছে। মন্দিরের নরবলির প্রথা বহু পূর্বে বন্ধ হয়েছে। তবে এখনও মানত করা হয় এবং পশু বলি হয় বিশেষ বিশেষ তিথিতে |বিশেষ বিশেষ তিথিতে বিশেষ পুজো ও সেই উপলক্ষে বহু মানুষের সমাগম হয়|আসন্ন মৌনী অমাবস্যা এমনই এক তিথি যেদিন বিশেষ পুজো ও জনসমাগম হবে বাংলার এই প্রাচীন ডাকাত কালী মন্দিরে|বাংলার নানা স্থানে রয়েছে এমন আরো অনেক প্রাচীন ঐতিহাসিক কালী মন্দিরে|আগামী পর্বে আবার অন্য কোনো কালী মন্দিরের কথা নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

বাংলার ডাকাত কালী – প্রহ্লাদ ডাকাতের বামা কালী

আজকের পর্বে ডাকাত সর্দার প্রহ্লাদের প্রতিষ্ঠিত | বর্ধমানের বামা কালীর কথা লিখবো|পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রহ্লাদ ডাকাতের প্রতিষ্ঠিত বামা কালী বেশ বিখ্যাত ।ডাকাত কালী মন্দিরটি বেশ প্রাচীন|সে প্রায় ৩০০ বছর আগের কথা পাণ্ডুক গ্রামে ছিলো এক দস্যু পরিবারের বাস তারাই তৈরী করেছিলেন এই বামা কালী মন্দির| বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা এক অলৌকিক ঘটনার কথা জানান তাদের মতে তাঁদের পূর্ব পুরুষেরা সালারের কাছে কেতুগ্রাম থানার মেটলি গ্রামের ‘রামসীতা’ মন্দিরের স্বর্ণ অলঙ্কার ডাকাতি করতে গিয়েছিলেন। পথে বীরভূমের মুলুকের কাছে অপরূপা নারী মূর্তি দেখে ডাকাতরা চমকে ওঠেন। কিন্তু ডাকাত সর্দার প্রহ্লাদ মেটের নির্দেশ ছিল, ডাকাতির পথে মেয়ে মানুষ আর শিশুর গায়ে হাত তোলা যাবে না শোনা যায় একবার সে নীতি লঙ্ঘন করায় এক সদস্যকে সর্দার প্রহ্লাদ এক কোপে দু’টুকরো করে দেন।সেই অপরিচিতা নারীর কাছে প্রহ্লাদ ডাকাত জানতে চান, ‘এই রাত্রিকালে আপনি কে মা?’ তখন সেই নারী জানান, আমি বামা।তারপর তারা দেখে যে মা মৃন্ময়ী মূর্তি থেকে চিন্ময়ী মূর্তি ধরেছেন এবং তিনি নিজে জানান যে আমাকে এখান থেকে নিয়ে না গেলে তোদের সর্বনাশ হবে।কিন্তু মায়ের এই বিশাল মূর্তিকে নিয়ে যাওয়ার অসুবিধার কথা বলেন ডাকাত সর্দার প্রহ্লাদ ও সেই সঙ্গে তিনি আরো বলেন, আজকে রাতে ডাকাতিতে সাফল্য পেলে তবেই মা তোকে নিয়ে যাব। কথিত আছে, মায়ের আর্শীবাদে সাফল্যও পায় ডাকাত দলটি। তাই ডাকাতি করে ফেরার পথে বামা মায়ের ছোট শিলা মূর্তিকে সঙ্গে নিয়ে ফেরেন ডাকাত দলটি।পাণ্ডুক গ্রাম ঢোকার পথে মায়ের নির্দেশ মতো তির ছোড়েন এবং সেই তির এসে পাণ্ডুক গ্রামের মাঝখানে পড়ে। সেখানেই বামা কালীর মূর্তি স্থাপন করেন সাধক ডাকাত প্রহ্লাদ।সেকালে আমাবস্যার গভীর রাতে, ঢাক ঢোল বাজিয়ে, মশাল জ্বালিয়ে ডাকাতদলের সদস্যরা মায়ের ঘট এনে পুজো করতেন। পুজো হয়ে গেলে পর দিন রাতে কাঁধে তুলে মাকে রসফাল্লা পুকুরে বিসর্জন করা হতো ।বিসর্জনের পরেই ডাকাত সর্দার প্রহ্লাদ-সহ সকলে কাঁদতে থাকেন মায়ের টানে। তাই মায়ের নির্দেশে পরবর্তীতে বারমাস পুজোর জন্য আর একটি মূর্তি গড়ে ডাকাত দলটি। সেখানে পুজো দিয়েই ডাকাতিতে বের হতেন তাঁরা।আজও রয়েছে সেই মূর্তি|বর্তমানে দেবীর বিশাল মন্দির তৈরি হয়েছে যা দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে। বেশ মজার একটি রীতিও এখানে প্রচলিত আছে| রীতি অনুসারে ডাকাত পরিবারের সদস্যরা বামা কালীর পুজোতে কোনও না কোনও জিনিস চুরি করে আনেন|দেবী মূর্তিতেও আছে বৈচিত্র|এখানে মায়ের বাঁ পা-টি এগিয়ে থাকে। দীপান্বিতা আমাবস্যায় ২২ ফুট উচ্চতার মৃন্ময়ী মূর্তি তৈরি করে পুজো হয়।বাংলার ডাকাত কালী গুলির মধ্যে অন্যতম এই প্রহ্লাদ ডাকাতের বামা কালী|সামনেই মৌনী অমাবস্যা|এই তিথিতেও তন্ত্র মতে বিরাট পুজোর আয়োজন হয় এখানে|ফিরবো পরের পর্বে|চলতে থাকবে ডাকাত কালী নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|আগামী মৌনী অমাবস্যায় গ্রহ দোষ খন্ডনের জন্য যোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|ধারাবাহিক লেখা আপনাদের ভালো লাগলে জানান|ধন্যবাদ|

বাংলার ডাকাত কালী – ভবানী পাঠকের কালী মন্দির

আজ থেকে শুরু করে এই সপ্তাহে প্রতিটি পর্বে বাংলার ডাকাত কালী মন্দির গুলি নিয়ে লিখবো ডাকাত কালী মন্দির গুলি বাংলার ইতিহাস এবং সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাথে জড়িত প্রতিটি মন্দির ঘিরে আছে বহু রহস্য ও কিংবদন্তীশুরু করবো উত্তর বঙ্গের জলপাইগুড়ি তে অবস্থিত এক প্রাচীন কালী মন্দির নিয়ে যা সাধারণ মানুষের কাছে আজও ভবানী পাঠকের মন্দির নামে পরিচিত|এককালে অবিভক্ত বাংলার উত্তরের অন্যতম জেলা ছিলো রংপুর, এই রংপুরের অধীনে ছিলো বর্তমানের জলপাইগুড়ি এবং এই অঞ্চল দিয়ে তখনো বয়ে যেতো তিস্তা নদী যাকে সেকালে বলা হতো ত্রিশ্রোতা নদী |কথিত আছে এই দুর্গম অঞ্চল শাসন করতো এক দুর্ধর্ষ দস্যু রানী এবং এক মাতৃ সাধক যাদের বঙ্কিম চন্দ্রের কালজয়ী উপন্যাসে যথাক্রমে দেবী চৌধুরানী এবং ভবানী পাঠক নামে অভিহিত করা হয়েছে|উপন্যাসে উল্লেখিত ত্রিস্রোতা নদীই বর্তমানে তিস্তা নদী যে নদী দিয়ে যাতায়াত করতো দেবী চৌধুরানীর বজ্রা|আজও সেই ইতিহাসের সাক্ষী বহন করে চলেছে ভবানী পাঠকের কালী মন্দির|জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের শিকারপুর চা বাগানের মধ্যে রয়েছে ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানীর সেই ঐতিহাসিক কালী মন্দির|বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যাyervউপন্যাস বলছে ভবানী পাঠক ডাকাত সর্দার হিসাবে পরিচিত থাকলেও তিনি ছিলেন একজন মাতৃ সাধক যিনি নানা বিধ তন্ত্র সাধনাও করেছেন|সন্ন্যাসীর মতো জীবনযাপন করতেন ভবানী পাঠক|ব্রিটিশ আমলে ভবানী সর্দার অত্যাচারী ইংরেজ ও দেশীয় জমিদারদের জিনিস লুঠপাট করে তা দীন দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেনআগেই বলেছি বেজায় কালী ভক্ত ছিলেন ভবানী পাঠক নিজের সাধনার জন্য তিনি কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন|বর্তমানে এই কালী মন্দির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠাতার সঠিক নাম নিয়ে কিঞ্চিৎ মতবিরোধ থাকলেও জনশ্রুতি অনুসারে এবং সর্বোপরি মানুষের বিশ্বাস এই যে এই কালী মন্দির ভবানী পাঠকই বানিয়েছিলেন|শোনা যায় মন্দিরে প্রথমে কাঠের মূর্তিই ছিল। দুই পাশে দুটি কাঠের কালী মূর্তি। সেই কালীকে পুজো করেই নাকি ভবানী পাঠক তাঁর অভিযানে বের হতেন। পরে কোনোভাবে সেই কাঠের মূর্তি পুড়ে যাওয়ায় মাটির মূর্তি তৈরি হয়|বর্তমানে ঐতিহাসিক এই মন্দিরে মা কালীর মূর্তি ছাড়াও তিস্তাবুড়ি, ভবানী পাঠক, দেবী চৌধুরানী, গঙ্গা দেবী, স্থানীয় এক সিদ্ধপুরুষ মোহনলালের মূর্তি আছে, জলপাইগুড়ির দর্শনীয় স্থান গুলির মধ্যে অন্যতম এই ভবানী পাঠকের কালী মন্দির|যাকে বাদ দিয়ে উত্তরবঙ্গের ইতিহাস লেখা যায়না|ভবানী পাঠকের মন্দিরে বড়ো আকারে কালী পুজো হয় আষাঢ় মাস ও কার্ত্তিক অমাবস্যায় এবং মন্দির প্রতিদিন ভোর পাঁচটায় খোলে, বন্ধ হয় বিকেল পাঁচটায়।সামনেই মৌনী অমাবস্যা|মৌনী অমাবস্যাতেও প্রতিবছর এই মন্দিরে বড়ো করে পুজো হয়|মূলত তন্ত্র মতেই হয় পুজো|যদিও বর্তমানে বলী প্রথা আর পালিত হয়না তবে নিয়ম নিষ্ঠা সেই আগের মতোই আছে|পরের পর্বে অন্য কোনো ডাকাত কালী মন্দিরের ইতিহাস ও রোমাঞ্চকর সব গল্প নিয়ে ফিরে আসবো যথা সময়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শুভ মকর সংক্রান্তি

আজ মকর সংক্রান্তি এই আধুনিক সময়েও এখনও দূর গাঁয়ে পৌষ সংক্রান্তির উৎসব নিয়ে আসে আনন্দ বার্তা। পৌষ সংক্রান্তিতে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় স্নিগ্ধ সবুজ গ্রাম। শহরের ব্যস্ত জীবনেও দোকানে দোকানে সেজে উঠা তিল, কদমা, প্যাকেটের চালের গুঁড়োর প্যাকেট, ঝোলা গুড়ের হাঁড়ি জানান দেয় চলে এসেছে পৌষ সংক্রান্তি। হালে পিঠে থেকে পায়েস সবই সহজলভ্য নির্দিষ্ট দোকানে। তবে শুধু গ্রামে নয়, শহরেও বেশ কিছু পরিবার আজও সমান আন্তরিকতার সঙ্গে এবং নানা আয়োজনে পালন করে পৌষ সংক্রান্তির উৎসব। বাড়িতেই তৈরি করেন পিঠে-পুলি। এই পৌষ বা মকর সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতির একটি বিশেষ উৎসব বা বিশেষ ঐতিহ্যবাহী দিন।বাংলা মাস অনুযায়ী পৌষ মাসের শেষ দিনটিতে এই উৎসব পালন করা হয় তবে শুধু বাংলায় বাঙালিরাই নন, আমাদের দেশের নানা প্রান্তে এই দিনটিকে নানা ভাবে বিশেষ বিশেষ উৎসবের সঙ্গে পালন করা হয়, পালন করা হয় কিছু উপাচার ও অবশ্যই গঙ্গা স্নানের মাধ্যমে পূর্ণতা পায় এই মকর সংক্রান্তি|শব্দের মানে খুঁজলে দেখা যায় সংক্রান্তি শব্দের অর্থ সঞ্চার বা গমন করা। সূর্যের মকর রাশিতে গমন হয় এই তিথিতে|পুরান মতে অনুযায়ী, এই দিনই দেবতাদের সঙ্গে অসুরদের যুদ্ধ শেষ হয়েছিল। বিষ্ণু অসুরদের বধ করে তাঁদের কাটা মুন্ডু মন্দিরা পর্বতে পুঁতে দিয়েছিলেন, মকর সংক্রান্তি তে, তাই মকর সংক্রান্তির দিনই সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাস হয়ে শুভ শক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে আজও মানা হয়ে থাকে, মকর সংক্রান্তির এই মহাতিথিতেই মহাভারতের পিতামহ ভীষ্ম শরশয্যায় ইচ্ছামৃত্যু গ্রহণ করেছিলেন।মকর সংক্রান্তির দিন সাধারণত সূর্যদেবের পুজো করা হয়। তাঁর আশীর্বাদে আমাদের সকল রোগ-ব্যাধি দূর হয় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে তাই এই বিশেষ দিনটিতে সকলেই নিজের ঘরবাড়ি, বিশেষ করে রা

কালীকা পুরান – শরভ অবতারের দেহত্যাগ

কালীকা পুরানে শিবের বিবাহর যেমন উল্লেখ আছে তেমনই দেবাদিদেব কে নিয়ে আরো অনেক ঘটনা লিপিবদ্ধ আছে আজ বলবো শরভ অবতার নিয়ে|নৃসিংহ দেবের হাতে হিরণ্য কশিপুর বধ হলো কিন্তু নৃসিংহদেবের ক্রোধ কম হল না। তিনি ভয়ানক ধ্বংসলীলা চালিয়ে যেতে থাকেন। এই সময়ে সব দেবতারা একসাথে শিবের শরণ নেন। তাঁরা বুঝতে পারেন, একমাত্র মহাদেবই পৃথিবীকে রক্ষা করতে পারেন। শিব বীরভদ্র ও ভদ্রকালীকে প্রেরণ করেন নৃসিংহকে থামানোর জন্য। কিন্তু মহাপ্রতাপ নৃসিংহ সেই দুই মহাশক্তিকেও বিপর্যস্ত করে ফেলেন।শেষে মহাদেব নিজেই শরভ নামের এক বিচিত্রদর্শন প্রাণীর রূপ নিয়ে আবির্ভূত হন।এই শরভের রূপের বর্ণনা আছে পুরানে|শরভ এক সুবিশাল পাখি। তাঁর সহস্রবাহু এবং পশুর মতো দেহ|নৃসিংহ ও শরভ অবতারের মধ্যে ভয়ানক যুদ্ধ হয়|শরভের আঘাতে নৃসিংহ আত্মসংবরণ করেন। শরভই শেষ করেন নৃসিংহের লীলা।নৃসিংহ দেবের ক্রোধ থেকে রক্ষা পায় সৃষ্টি|শিব নিজে একজন পরম বৈষ্ণব এবং নৃসিংহ দেব স্বয়ং বিষ্ণু| ভক্তের দ্বারা ভগবানের বধ বা ভক্ত এবং ভগবানের যুদ্ধ সনাতন ধর্ম শাস্ত্রের অতি বিরল ঘটনা|কালীকা পুরান অনুসারে বিষ্ণু অবতার নৃসিংহদেব স্বয়ং তার এই পরিণতি বেছে নিয়েছিলেন কারন তার ইচ্ছা ছাড়া জগৎ সংসারে কিছুই সম্ভব নয় শরভের কাছে পরাজয়ের পরে, বিষ্ণু তাঁর স্বাভাবিক রূপ গ্রহণ করেছিলেন এবং শিবের যথাযথ প্রশংসা করেছিলেন ও নিজেকে শিব ভক্ত রূপে ঘোষণা করেছিলেন ।নিজের কাজ শেষ করার পর শরভ ও দেহত্যাগ করেন স্বেচ্ছায়|শিবের এই রূপ “শরবেশমূর্তি” বা “সিংহমনামূর্তি” নামেও পরিচিত আবার শরভেশ্বর নামে তার পূজাও হয়|আগামী পর্বে অন্য কোনো পৌরাণিক কাহিনী আপনাদের শোনাবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কালীকা পুরান – অর্ধনারীশ্বর রূপ

বিভিন্ন পুরাণ ও প্রাচীন ধর্ম গ্রন্থে অর্ধনারীশ্বর রূপ নিয়ে রয়েছে মতভেদ এবং নানা রকম ব্যাখ্যা আজকের পর্বে লিখবো অর্ধনারীশ্বর রূপ সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পৌরাণিক তথ্য ও তার ব্যাখ্যা নিয়ে|শিবের বাহন ভৃঙ্গীর একবার ইচ্ছে হয়েছিল তার আরাধ্য শিবকে প্রদক্ষীণ করার। কিন্তু তাতে বাধ সাধলেন পার্বতী। তিনি তাঁর স্বামীর কোলে বসে থাকায় শিবকে প্রদক্ষীণ করতে পারলেন না ভৃঙ্গী কারন তিনি শুধু শিবকে প্রদক্ষিণ করবেন|উপায় না দেখে ভৃঙ্গী মাছির রূপ নিয়ে শিবকে প্রদক্ষীণ করার চেষ্টা করলেন। তখন পার্বতী তাঁর এবং শিবের মধ্যে সব ব্যবধান ঘুচিয়ে মিলে গেলেন মহেশ্বরের শরীরের সঙ্গে।সৃষ্টি হলো অর্ধনারীশ্বর রূপ|নারী শক্তির কাছে সেবার মাথা নত করতে হয়েছিলো শিবভক্ত ভৃঙ্গীকে|সেই রুপই অর্ধনারীশ্বর রূপ|বৈদিক একটি ব্যাখ্যাও আছে এই বিষয়ে|সৃষ্টির সূচনা লগ্নে ব্রহ্মার খেয়াল হয় যে জগত তো সৃষ্টি হয়েছে কিন্তু প্রান চাই, আরো সৃষ্টি চাই ভাবতে ভাবতে আচমকাই তাঁর চোখের সামনে ভেসে মহেশ্বরের আকার, যাঁর এক অংশ পুরুষের এবং বাকি অর্ধেক অংশ নারীর। এই দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ব্রহ্মা নিজেকে দু’ভাগে বিভক্ত করে ফেললে তার ডান দিকের অংশ থেকে জন্ম নিল পুরুষ লিঙ্গের সব প্রাণী এবং বাঁ দিক থেকে জন্ম নিল সব প্রাণীর নারী লিঙ্গ।অর্থাৎ সৃষ্টিকে পথ দেখিয়েছিলো অর্ধ নারীশ্বর রূপ|ভিন্ন একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যাও আছে,শোনা যায় একবার শিবের জটায় গঙ্গাকে অবস্থান করতে দেখে ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন পার্বতী। তাঁকে শান্ত করার জন্যে পার্বতীর শরীরের সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে দেন মহেশ্বর। একাংশে বর্তমান থাকে শিবের উপস্থিতি, অন্য অংশে বিরাজ করেন নারী শক্তি পার্বতী।শিব বুঝিয়ে দেন শিব ও পার্বতী এক এবং অভিন্ন|তারা আলাদা নন|সনাতন ধর্মে স্ত্রী সব সময়ে স্বামীর বাঁ-দিকে অধিষ্ঠান করেন। এই সব মেনেই অর্ধনারীশ্বরের নারী শক্তির স্থান বাঁদিকে। শুধু মহেশ্বরই নন, বিষ্ণুও যখন অর্ধনারীশ্বর অবতারে আবির্ভূত হন, তখন তাঁর বাঁদিকেই জায়গা হয় দেবী লক্ষী বা শ্রীরাধিকার, এটাই রীতি|বিজ্ঞান অনুসারে হৃদয়ের সাথে সম্পর্ক রয়েছে শরীরের বা দিকের এবং মস্তিস্ক ডান দিকের সাথে যুক্ত|বুদ্ধি এবং আবেগ নিয়ন্ত্রিত হয় যথাক্রমে মস্তিস্ক ও হৃদয় দিয়ে|সহজ ভাষায় বলা যায় শিবের অস্তিত্ব নির্ভর করে আদ্যাশক্তির উপর ।আদ্যা শক্তি মহামায়া আছেন বলেই শিব আছেন। তিনি তাঁরই ভাবনা এবং চিন্তার নারী রূপ।দেবী আছেন বলেই জ্ঞান, সম্পত্তি এবং পরাক্রম আছে। শক্তি সর্বদাই রূপান্তরিত হতে থাকেন, তিনি মায়া এবং তাঁকে সর্বদা মান দিয়ে আসেন মহেশ্বর। তাঁরা এক এবং অভিন্ন।পরবর্তী পর্বগুলিতে থাকবে আরো অনেক পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আলোচনা থাকবে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কালীকা পুরান – নরকাসুরের কথা

নরকাসুরের কিংবদন্তি কামরূপ রাজ্যের ইতিহাসে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কারন কামরূপ শাসন করা কয়েকটি রাজবংশ নরকাসুর থেকেই সৃষ্টি হয়েছে বলে মানা হয়। গুয়াহাটীর দক্ষিণে তার নামে একটি পাহাড়ও আছে। দেবী কামাখ্যা এবং তন্ত্র সাধনার পীঠ স্থান কামাখ্যার সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত নরকাসুর যার সম্পর্কে অনেক তথ্য আছে আসাম রাজ্যে রচিত কালীকা পুরানে|আজ আপনাদের জন্য লিখবো নরকাসুর নিয়ে|রামায়ণ এবং মহাভারতেও নরকাসুরের সৃষ্টি প্রাগজ্যোতিষ রাজ্যের উল্লেখ আছে। তার পুত্র ভগদত্ত‌ মহাভারতের যুদ্ধে কৌরবদের হয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন|নরকের মাতা ভূমি দেবী বিষ্ণুর কাছে বর চেয়েছিলেন যেন তার পুত্র দীর্ঘ জীবন লাভ করে এবং সে শক্তিশালী হয়। বিষ্ণু এই বর পূরণ করেন। সঙ্গে বিষ্ণু নরকাসুরকে কামাখ্যা দেবীর পূজা করতে শেখান। প্রথম অবস্থায় ভাল ভাবে শাসন করা নরকাসুর পরে অত্যাচারী হয়ে ওঠে।নরকাসুর কামাখ্যা দেবীকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। দেবীকে বলাতে দেবী শর্ত রাখেন যে একরাতে যদি নরকাসুর নীলাচল পাহাড়ের তলা থেকে মন্দির পর্যন্ত সিঁড়ি নির্মাণ করতে পারেন তবে তিনি বিয়ে করতে রাজী হবেন। নরকাসুর সেইমত সিড়ি নির্মাণ করে রাত পেরোনোর আগে শেষ করার উপক্রম করলেন। কামাখ্যা দেবী তখন একটি মোরগকে আদেশ দিলে সে ডাক দেয়। নরকও রাত পেরোলো এই ভেবে কাজঅসম্পূর্ণ রাখলেন এবং ফল স্বরূপ দেবী তাকে স্বামী রূপে প্রত্যাখ্যান করলেন|পুরানে আরো একটি ঘটনার উল্লেখ আছে যেখানে বশিষ্ঠ মুনিকে কামাখ্যা মন্দিরে উপাসনা বাঁধা পেয়ে তিনি নরকাসুর এবং দেবীকে অভিশাপ দেন যে এই মন্দিরে পূজা করা কারো মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হবে না।পরবর্তীতে শিবের হস্তক্ষেপে এই অভিশাপ সেই বছর পর্যন্ত সীমিত হয়। অন্যদিকে নরকাসুর বিষ্ণু এবং কামাখ্যার অপ্রিয়ভাজন হয়ে ওঠেন।পৃথিবীর সকল রাজ্য জয় করার পর নরকাসুর স্বর্গ আক্রমণ করেন এবং ইন্দ্র পালাতে বাধ্য হন। স্বর্গর অপ্সরাদের অপহরণ করে নিয়ে যান। পরবর্তীতে কৃষ্ণর ভার্যা সত্যভামাকে অদিতি নরকাসুরের কুকীর্তি বলে। সত্যভামা কৃষ্ণকে নরকাসুরের বিপক্ষে যুদ্ধের জন্য রাজি করান। কৃষ্ণ এবং সত্যভামা গরুড়ে উঠে নরকাসুরের রাজ্য আক্রমণ করেন। প্রথমে কৃষ্ণ‌ নরকাসুরের সেনাপতি মুর কে বধ এবং অবশেষে সুদর্শন চক্র দ্বারা কৃষ্ণ‌ নরকাসুরকে বধ করেন|নরকাসুর ও কৃষ্ণর এই যুদ্ধ এবং আরো অনেকপৌরাণিক তথ্য লিপিবদ্ধ আছে কালীকা পুরানে|পরবর্তী পর্বগুলিতে থাকবে আরো অনেক পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কালিকা পুরান – মহিষাসুর বধ

দেবী দুর্গার মহিষাসুর বধ সম্পর্কে কম বেশি আমরা সবাই জানি কিন্তু কালিকা পুরানে দেবী কোন কোন রূপে কোন সময়ে মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন তার বিস্তারিত বিবরণ আছে|আসুন আজ জেনে নিই কালীকা পুরান অনুসারে মহিষাসুর বধ পর্ব|কালীকা পুরানে দেবীর সৃষ্টি, তার রূপস্বজ্জা, অস্ত্র প্রাপ্তি, রনক্ষেত্রের বিবরণ, যুদ্ধের সময়কাল সব বিস্তারিত ভাবে লিপিবদ্ধ আছে|পুরান অনুসারে একশতবর্ষব্যাপী যুদ্ধের পর দেবতাদের পরাস্ত করে মহিষাসুর দেবতাদের তাড়িয়ে দিলেন স্বর্গ থেকে। অধিকার করলেন স্বর্গলোক। মুনি ঋষিরাও রেহাই পেলেন না তার অত্যাচার থেকে।নিজেই অধিকার করে বসলেন ত্রিভুবন|ত্রিলোকের কোনও পুরুষই তাকে পরাভূত করতে পারবে না এই ছিলো ব্রম্হার বর|বিতাড়িত দেবতারা ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের শরণাপন্ন হলেন এবং তাদের মুখে মহিষাসুরের ভয়াবহ অত্যাচারের কাহিনি শুনে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর ক্রোধান্বিত হলেন। ত্রিদেবের ক্রোধাগ্নির প্রচণ্ড তেজ ও দেবতাদের পুঞ্জীভূত রোষ সম্মিলিত হয়ে হিমালয়ের শীর্ষে মহর্ষি কাত্যায়নের আশ্রমে আবির্ভূতা হলেন দেবী কাত্যায়নী|ঋষি কাত্যায়নের আশ্রমে দশভূজার সৃষ্টিকার্য হয়েছিল বলে দেবী দুর্গার আর এক নাম ‘কাত্যায়নী’।কালীকা পুরাণ অনুসারে, শিবের তেজ থেকে দেবীর মুখ, যমের তেজে চুল, বিষ্ণুর তেজে বাহু, ব্রহ্মার তেজে পদযুগল, অগ্নির তেজে ত্রিনয়ন ও অন্যান্য দেবতার তেজে দুর্গার সৃষ্টি হয়। দেবী দুর্গা প্রবল পরাক্রমে এবং কৌশলে পরাজিত হল মহিষাসুরের বাহিনীকে। এরপর শুরু হল মহিষাসুর এবং দেবী দুর্গার দ্বন্দ্ব যুদ্ধ। প্রবল যুদ্ধে কম্পিত হয়ে উঠল ত্রিভূবন। অবশেষে যুদ্ধে পরাজিত মহিষাসুরের গলায় পা রেখে ত্রিশুল দিয়ে তার বক্ষ বিদীর্ণ করে তাকে বধ করেন দেবী মহিষাসুরমর্দিনী|কালিকা পুরাণ অনুসারে দেবী তিনবার মহিষাসুরকে বধ করেন। আদি সৃষ্টি কল্পে অষ্টাদশভূজা উগ্রচণ্ডী রূপে মহিষাসুরকে বধ করেন। দ্বিতীয় সৃষ্টি কল্পে ষোড়শভুজা ভদ্রকালী রূপে মহিষাসুরকে বধ করেন। আবার তৃতীয় সৃষ্টি কল্পে দশভূজা দেবী দুর্গা রূপে মহিষাসুরকে বধ করেন। মহিষাসুর তৃতীয়বার বধ হওয়ার পর দেবীর আশীর্বাদে তিনি চিরতরে দেবীর পদতলে স্থান পান।ফিরে আসবো পরের পর্বে|কালীকা পুরান নিয়ে|থাকবে আরো অনেক পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কালীকা পুরান – ভৃঙ্গী ও মহাকাল

কালীকা পুরানে দেবী কালীকা শুধু নয় শিব ও শিবের অনুচর সংক্রান্ত বহু তথ্য রয়েছে, রয়েছে বহু পৌরাণিক ঘটনা ও তার ব্যাখ্যা|আজ লিখবো শিবের অনুচর ভৃঙ্গী ও মহাকালের কথা| কালীকা পুরান অনুসারে ভৃঙ্গী ও মহাকাল দুজনেই শিবের অনুচর। একবার শিব পাৰ্বতীর সঙ্গে কৈলাশে ভ্রমন করছিলেন সেই সময় ভূঙ্গী ও মহাকাল দ্বাররক্ষক রূপে নিযুক্ত ছিল। গোপনে তারা শিব ও পার্বতীর অনুশাসন ভেঙে শিব ও পার্বতীকে একত্রে দেখে ফেলে এবং তাতে পার্বতী ক্রুদ্ধ হয়ে এদের মনুষ্যযোনিতে জন্ম হবে বলে অভিশাপ দেন|পরবর্তীতে ভৃঙ্গী ও মহাকাল শিবানীর কাছে প্রার্থনা করে যে শিব ও শিবানীও যেন মনুষ্যরূপে জন্মগ্রহণ করেন কারন তারা শিবানীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করতে চায় । শিব দক্ষের পৌত্র পৌষ্যের পুত্ররূপে জন্মগ্রহণ করে। তখন তাঁর নাম হল চন্দ্ৰশেখর। ওদিকে শিবানী ইক্ষাকুবংশীয় এক রাজকন্যারূপে জন্মগ্রহণ করেন । তখন, তার নাম হল তারাবতী । চন্দ্ৰশেখরের সঙ্গে তারাবতীর বিবাহ হয় । তঁদের দুটি বানর পুত্র জন্মগ্রহণ করে । তারাই হচ্ছে বেতাল ও ভৈরব অর্থাৎ ভৃঙ্গী ও মহাকালের মনুষ্য যোনি| মহাদেবের আরও অনুচর ছিল যাদের উল্লেখ আছে কালীকা পুরানে যথা কুবের, নন্দী, ভূঙ্গী, মহাকাল,বেতাল, যোগিনী, ভৈরবী, যক্ষ, রাক্ষস ইত্যাদি।এদের সৃষ্টি সম্পর্কে বলা হয়েছে ব্ৰহ্মা প্ৰথম জল সৃষ্টি করেন । তারপর সেই জল রক্ষার জন্য যে প্ৰাণীদের সৃষ্টি করেন তার হল রাক্ষস । যক্ষদের রাজা হলেন কুবের । কৈলাসের অলকাপুরীতে তার বাসস্থান । কুবের মহাদেবের ধনরক্ষক । তিনি মানুষকে ধনপ্রদান করেন । আবার যোগিনীরা শিবানীর সহচরী। তারা বিভিন্ন সময়ে শিবানীকে সাহায্য করে ও তাঁর আদেশ অনুসারে কাজ করে । যোগিনীরা সংখ্যায় চৌষট্টি জন । তাদের মধ্যে প্ৰধান হচ্ছে ভৈরবী । তিনি দশমহাবিদ্যার অন্যতমা|এই সব তথ্য আমরা পাই কালীকা পুরান সহ একাধিক গ্রন্থে| আগামী পর্বগুলিতে কালীকা পুরান অনুসারে আরো অনেক পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে আবার ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|