দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ : রামেশ্বরম

451

পড়াশোনা, আধ্যাত্মিক চর্চা ও আমার পেশা জ্যোতিষ এর বাইরে যে জিনিষ টা আমাকে সব থেকে বেশি টানে তা হলো ভ্রমন,তবে আমার ভ্রমণ শুধুই আনন্দ লাভ বা পরিবারের সাথে সময় কাটানো তে সীমাবদ্ধ থাকে না তার সাথে যোগ হয় আধ্যাত্মিক চেতনা ও অনুসন্ধিৎসা যার জন্য ব্যাস্ত পেশাগত জীবন থেকে ছুটি নিয়ে একাধিক বার ছুটে গেছে নানান ধর্মীয় স্থানে,তীৰ্থ ক্ষেত্রে|মুগ্ধ হয়েছি প্রতিবার, ফিরেছি নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে|গত বছর অক্টবর মাসের সতেরো তারিখে অর্থাৎ লক্ষী পূজার ঠিক পরেই পাড়ি জমিয়ে ছিলাম রামেশ্বরম|আজ দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গগুলির মধ্যে যে মন্দিরটি নিয়ে আলোচনা করবো তা হলো ভারতের শেষ প্রান্তে অবস্থিত এই বিশেষ জ্যোতির্লিঙ্গ রামেশ্বরম|

ভারত ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার দেশ|বিশ্বাস ও শ্ৰদ্ধা নিয়ে দেখলে বা উপলব্ধি করলে কোনো এক অলৌকিক শক্তির অদৃশ্য উপস্থিত সর্বদাই লক্ষ করা যায় ভারতের আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র গুলির চারপাশে, এ আমি নিজে ব্যক্তিগত ভাবে বহুবার অনুভব করেছি|উত্তর এ কেদারনাথ ও দক্ষিনে রামেশ্বরম,এক সরল রেখায় অবস্থান করছে,তার সাথে আরো অনেক গুলি শিব মন্দির মিলিত হয়েছে ওই একি সরলরেখায় এও এক বিস্ময়|

রামেশ্বরম ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রামনাথপুর জেলার পাম্মান দ্বীপে অবস্থিত|এই দ্বীপ পাম্মান সেতু দ্বারা ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত এই সেতু কে অনেকে রামেশ্বর ব্রিজ ও বলে থাকেন|অপূর্ব সুম্দর এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিশেষত সমুদ্র ও তার দুদিকের দুটি ভিন্ন রং দেখলে অবাক হতে হয়|সমুদ্র সৈকতটিওঅতি সুম্দর|এখান থেকে শ্রীলংকার মান্নার দ্বীপের দূরত্ব মাত্র চল্লিশ কিলোমিটার যা দূরবীনে চোখ রাখলে বেশ স্পষ্ট দেখা যায়|রামেশ্বর চেন্নাই ও মাদুরাইয়ের রেলপথের
টার্মিনাস|

রামানায়নে রাম ও রাবনের যুদ্ধতে রাবন বধ হন রামের হাতে, কিন্তু রাবন ছিলো নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ ও বড়ো শিব ভক্ত তাই রাবন কে হত্যা করে ব্রহ্ম হত্যার জন্য দায়ী হন শ্রী রাম এবং সেই মহা পাপ থেকে মুক্তি পেতে তিনি ভারতের মাটিতে পা রেখে একটি শিব লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে তার আরাধনা করেন|শ্রী রাম দ্বারা স্থাপিত সেই বিশেষ শিব লিঙ্গটি হলো এই রামেশ্বর শিব লিঙ্গ যা দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম|এই শিব লিঙ্গ শ্রীরামনাথস্বামী হিসাবে পরিচিত|

রামায়ন মহাভারতের ন্যায় সনাতন ধর্মশাস্ত্র গুলি যে নিছক মহাকাব্য নয়, তার প্রতিটি অক্ষর সত্যি তা উপলব্ধি করতে হলে একবার না একবার এখানে আসতেই হবে|আজও ভগ্নপ্রায় অবস্থায় টিকে থাকা রাম সেতু প্রমান করে কোনো একদিন যোগ সূত্র স্থাপন হয়েছিলো এই দুই দেশের মধ্যে|NASA র স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতে এটা প্রমানিত
হয়েছে। ১৯৮০ সালের আগে কিছুদূর এতে হাটাও যেতকিন্তু ১৯৮০ সালের এক ভয়াবহ সামুদ্রিক ঝড়ে এটা পুরোপুরি ধ্বংস হয়। আরো অসংখ্য ভৌগোলিক ব্যাখ্যা রয়েছে যা প্রমান করে রামায়ন সত্য, সত্য রামের মহিমা|আর সব থেকে বড়ো সাক্ষী হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে স্বয়ং রামেশ্বর মহাদেব|

রামেশ্বর ভারতের জনপ্রিয় চারধাম তীর্থের মধ্যে অন্যতম|ভারতের এই প্রান্তিক ভূখণ্ডে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আরো অসংখ্য মন্দির ও ধর্মীয় স্থান অনতি দূরেই অবস্থিত বিখ্যাত কন্যাকুমারী মন্দির|প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য দুয়ে মিলে স্থান টি তীর্থ যাত্রীদের স্বর্গরাজ্য বললে কম বলা হয় না|স্বামী বিবেকানন্দর খুব প্ৰিয় স্থান ছিলো রামেশ্বরম, জীবনে দুবার এসেছিলেন তিনি এখানে|

আজ রামেশ্বর নিয়ে এটুকুই,আবার ফিরে আসবো পরের পর্বে নতুন এক জ্যোতির্লিঙ্গের কথা নিয়ে, ভাগ করে নেবো আমার অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে,আর একটা কথা,টেলিভিসন ও লাইভ ভিডিওর পাশাপাশি আজ থেকে এক নতুন অনুষ্ঠান নিয়ে আসছি আমার ইউটিউব চ্যানেল এ প্রতিদিন সকাল পাঁচটায় দেখতে ভুলবেন না|আর অবশ্যই যোগাযোগ করবেন নিজের প্রয়োজন মতো|ধন্যবাদ|