Home Blog Page 116

শিব চতুর্দশী – ত্রিপুরাসুর বধ

শিব পুরানের দশম অধ্যায়ে মহাদেব কতৃক ত্রিপুরাসুর ও তাদের ত্রিপুর ধ্বংসের উল্লেখ আছে, আজকের পর্বে সেই কথা আপনাদের বলবো, তারকাসুরের তিন পুত্র – তারকাক্ষ, কমলাক্ষ ও বিদ্যুন্মালী, তারা এক সঙ্গে ত্রিপুরাসুর বলে পরিচিত।

তিন অসুর তিনটি বিশাল ও রহস্যময় নগরীতে বাস করতেন, যাদের একটি স্বর্ণের, একটি রৌপ্যের ও একটি লৌহের। প্রথমটি থাকতো স্বর্গে, দ্বিতীয়টি অন্তরীক্ষে আর তৃতীয়টি পৃথিবীতে। তিন নগরীতে সমস্ত প্রকারের অভিষ্ট বস্তু ছিল।একত্রে এই তিন নগরীর অধিপতি অসুর ত্রয়ীই হলো ত্রিপুরাসুর|

ব্রহ্মার বরে দেব দানব যক্ষ রাক্ষস কেউই এঁদের বধ করতে পারতেন না। অস্ত্রশস্ত্র বা ব্রহ্মশাপেও এই পুরীগুলির কোনও ক্ষতি করা যেত না। শুধু সহস্র বছর বিচরণ করার পর এই তিনটি পুরি যখন এক হয়ে যাবে তখন যে দেবশ্রেষ্ঠ এক বাণে এই ত্রিপুর ভেদ করতে পারবেন, তিনিই ত্রিপাসুরদের বধ করবেন এই ছিল ব্রহ্মার বর।

এই বর পাবার পর দেবগণ কর্তৃক পূর্বে পরাজিত অসংখ্য অসুর এই তিন পুরীতে আশ্রয় নিতে শুরু করল। আর এই তিন অসুর তাদের রাজা হয়ে ইচ্ছানুসারে বিচরণ করে সকলকে নানা ভাবে অত্যাচার করতে লাগলো। তখন ব্রহ্মার উপদেশে তিন পুর একত্র হবার আগে দেবতারা মহাদেবকে ত্রিপুরাসুর বধ করতে অনুরোধ করলেন এবং তাঁদের অর্ধ তেজ দেবাদিদেব কে দিলেন।

সেই তেজে মহাদেব আরও বলিয়ান হলেন। তারপর সেই তিন পুর একত্র হতেই, মহাদেব বিশ্বকর্মার তৈরী সোনার রথে চড়ে বিখ্যাত পাশুপত অস্ত্র নিক্ষেপ করে ত্রিপুরাসুরকে বধ করেন ও তাদের ত্রিপুর ধবংস করলেন|

পুরাণ মতে, কার্তিক পূর্ণিমার দিনে ত্রিপুরাসুর নামক দৈত্যের বধ করেন শিব। এর পরই শিবকে ত্রিপুরারী নামে ভূষিত করেন বিষ্ণু।

ফিরে আসবো আগামী পর্বে এমন আরো অনেক পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে|চলবে এই শিব সংক্রান্ত ধারাবাহিক আলোচনা|পড়তে থাকুন|যারা আসন্ন শিব রাত্রি যুক্ত অমাবস্যায় গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে চান তারা অগ্রিম যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব চতুর্দশী বিশেষ পর্ব – কৈলাশ পর্বতের কথা

শিব চতুর্দশী উপলক্ষে বিশেষ এই ধরাবাহিক আলোচনার আজকের এই পর্বে লিখবো দেবাদিদেব মহাদেবের বাসস্থান কৈলাশ পর্বত ও তার সাথে জড়িয়ে থাকা কিছু রহস্য নিয়ে|শাস্ত্রে কৈলাস পর্বতকে শিবের ‘লীলাধাম’ বলা হয়েছে কারন শিব এবং তার সহধর্মিনী দুর্গা ও কার্তিক গণেশ সহ শিবের সকল অনুসারী ভক্তরা কৈলাসে বাস করেন|তিব্বত মালভূমি থেকে ২২,০০০ ফুট ওপরে অবস্থিত কৈলাস হিন্দু সম্প্রদায় ছাড়াও বৌদ্ধদের কাছেও অত্যন্ত পবিত্র ধর্মীয় স্থান|কৈলাস পর্বতকেই পৃথিবীর কেন্দ্র বলা হয়ে থাকে। অনেকে বলে থাকেন কৈলাস পর্বত থেকে ফেরার পরে হঠাত্‍ করে চুল ও নখ বেশ কিছুটা বড় হয়ে যায়। আবার কথিত আছে, একবার কয়েকজন সাইবেরিয়ান পর্বতারোহী কৈলাস পর্বতের নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন। সঙ্গে সঙ্গেই তাদের বয়স কয়েক দশক বেড়ে যায় এবং এর এক বছর পরেই বয়সজনিত কারণে মৃত্যু হয় তাঁদের|এসবই অবশ্য প্রচলিত জনশ্রুতি বা কিংবদন্তী|মনে করা হয় কৈলাস পর্বতে যেহেতু ভগবানের বাস তাই সেখানে যাওয়া নিষিদ্ধ। প্রতি বছর বহু মানুষ মানস সরোবর যাত্রা করেন। তবে কৈলাস পর্বতের শৃঙ্গে এখনও পর্যন্ত কেউ উঠতে পারেননি। একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টের পর যাওয়া সেখানে নিষিদ্ধ। ঠিক পিরামিডের আকারের এই পাহাড়ে অনেক প্রাচীন গুম্ফা ও গুহা রয়েছে। যেখানে দেখা মিলতে পারে বৌদ্ধ ও হিন্দু সন্ন্যাসীদের। এই সন্ন্যাসীরা লোকচক্ষুর আড়ালে বহু বছর ধরে তপস্যা করে চলেছেন।তিব্বতি লোককথা অনুযায়ী, মিলারেপা নামে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী একবার কৈলাস পর্বতের শীর্ষের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি সবাইকে সাবধান করে দেন যে ঈশ্বরের বাসস্থানে না যাওয়াই ভালো। মানস সরবোর ছাড়াও কৈলাস পর্বতের নীচে রয়েছে আরও একটি অপরূপ সুন্দর হৃদ রাক্ষস তাল। ১৪,৯৫০ ফুট ওপরে অবস্থিত মানস সরোবর বিশ্বের উচ্চতম মিষ্টি জলের হৃদ। আরও একটি আশ্চর্যের বিষয় যত জোরেই হাওয়া থাকুক, মানস সরোবরের জল সবসময়ই শান্ত কিন্তু রাক্ষসতালের জল সব সময় অশান্ত থাকে। বিখ্যাত এক রাশিয়ান চিত্রকার বহুকাল এই অঞ্চলে কাটিয়ে তার অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করেছিলেন, তার কথায় কৈলাসের আসেপাশে শাম্বালা নামের একটি রহস্যময় রাজ্য আছে। সেখানে শুধু উচ্চ কোটির তপস্যিরা বসবাস করেন|বেশ কিছু বছর আগে আরো একটি রাশিয়ান অভিযাত্রী দল কৈলাশ অভিযানে গেছিলো তারা ফিরে এসে জানায় যে কৈলাশ সম্ভবত একটি বড় পিরামিড যাকে অনেক ছোট ছোট পিরামিড ঘিরে আছে আর সেখানে বহু অলৌকিক ঘটনা ঘটে।সেই অভিযাত্রী দলের নেতা এর্নেস্ট নিজের ডাইরি তে লিখেছিলেন যে রাতের নিশ্তব্দতায় পাহাড়ের ভিতর থেকে একটি আজব ফিসফিস এর শব্দ আসে। বহু বার এমন অভিযান হয়েছে এবং সবাই স্বীকার করেছেন যে কৈলাস পর্বতের চারিদিকে একটি অপার্থিব এবং অলৌকিক শক্তির স্রোত বয়ে চলে|যেখানে বাস করেন স্বয়ং মহাদেব সেই স্থান ঘিরে রহস্য ও অলৌকিক ঘটনাবলী থাকবে সেটাই স্বাভাবিক|ফিরে আসবো আগামী পর্বে এমন আরো অনেক অলৌকিক ও রহস্যময় বিষয় নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব পুরান – ব্যাধ ও শিব চতুর্দশী ব্রত

আজ আপনাদের দেবাদিদেব মহাদেবের এক অদ্ভুত লীলার কথা বলবো যেখানে প্রধান চরিত্র একজন ব্যাধ|

শিবপুরানের অষ্টম পরিচ্ছেদ অনুসারে, বহুকাল আগে বারাণসী তথা কাশীধামে এক নিষ্ঠুর ব্যাধ বাস করত। সে দিনরাত শুধু জীবহত্যা করে বেড়াত। একদিন ব্যাধ শিকার করতে গিয়ে অনেক পশু পাখি শিকার করে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই সে বাড়ির দিকে রওনা হয়। কিন্তু কিছুদূর যেতেই পথে রাত্রি হয়ে যায়। হিংস্র জন্তুর ভয়ে এক গাছের উপর আশ্রয় নেয় রাত কাটানোর জন্য|

সেদিন ছিল শিবচতুর্দশী অর্থাৎ মহাশিবরাত্রি। আর ব্যাধও ছিল উপবাসী। যে গাছে ব্যাধ আশ্রয় নিয়েছিল সেই গাছটি ছিল বেলগাছ। আর সেই গাছের নিচে ছিল একটি শিবলিঙ্গ।ব্যাধের হাত লেগে শিশির জলে ভেজা কয়েকটি বেলপাতা খসে পড়ে ঐ শিবলিঙ্গের মাথার উপর। তার ফেলা বেলপাতাগুলো শিবলিঙ্গের মাথায় পড়ে এর ফলে তার অজান্তেই শিবচতুর্দশী ব্রতের ফল লাভ হয়, পরদিন ব্যাধ সকালে বাড়ি ফিরে আসে। সে রাতে বাড়ি না ফেরায় সবাই তার জন্য ভাবছিল। ব্যাধ ফিরে আসতে তাকে তার বৌ খেতে দিল। এমন সময় একজন অতিথি বাড়িতে এলো। ব্যাধ কি ভেবে তার নিজের খাবারগুলি অতিথিকে দিল। এতে তার ব্রতের পারণ ফল লাভ হলো।

কিছুদিন পরে সেই ব্যাধ মারা গেলে। যমদূতরা তাকে নিতে আসে কিন্তু শিব রাত্রি পালনের পুন্য রয়েছে ওই ব্যাধের তাই সেখানে পৌঁছয় শিবের দূতেরা। কে ব্যাধকে নিয়ে যাবে তাই নিয়ে দুই দলে যুদ্ধ বেধে যায়। যমদূতেরা যুদ্ধে হেরে গেলে শিবদূতরা ব্যাধকে কৈলাসে নিয়ে যায়। যুদ্ধে হেরে গিয়েও যমদূতেরা তার পিছনে পিছনে সেখানে ধাওয়া করে।

কৈলাসের দ্বারে নন্দী পাহারায় ছিল। সে ব্যাধের শিব রাত্রির কথা বললে সব শুনে যমদূতেরা গিয়ে যমকে সব কথা বলে। যমরাজ শুনে বললেন ‘হ্যাঁ, যে শিব বা বিষ্ণুর ভক্ত কিংবা যে শিবচতুর্দশী ব্রত পালন করে আর যে বারানসী ধামে মরে, তার উপর যমের কোনো অধিকার থাকে না। তার মুক্তিলাভ ঘটে। এইভাবে মর্ত্যলোকে শিবচতুর্দশী ব্রতের প্রচার ঘটে।’

এই গল্প থেকে আমরা জানতে পারি কতো অল্পেই মহাদেব তুষ্ট হন|এমনকি অজান্তেও তার ব্রত পালন করলে পূর্ণ ফল পাওয়া যায়|

ফিরে আসবো পরের পর্বে|শিব পুরান নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব পুরান – শিব সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

শিব সংক্রান্ত কিছু অজানা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আজকের পর্বে আপনাদের জানাবো|এই তথ্য গুলি শিব পুরান সহ একাধিক শাস্ত্রে নানা ভাবে উল্লেখিত হয়েছে|শিবলিঙ্গে জল ঢালার পর যে গোল চাকতির উপর দিয়ে জল বেরিয়ে যায় সেটি আসলে পার্বতীর পিঠ। পুরাণ অনুযায়ী, জ্ঞাণের বিকাশ হয় শক্তির পিঠের উপর। আর শক্তির উত্‍স আসলে পার্বতী-দুর্গা বা নারী। নারী শক্তির উপর ভিত্তি করেই জ্ঞান বিকশিত হয়।তাই শক্তির আধার ওই স্থান যার উপর বিরাজ করেন অনন্ত শক্তির উৎস মহাদেব|শিব লিঙ্গের স্বরূপ নিয়েও অনেক ভুল ভ্রান্তি আছে, লিঙ্গে জল ঢেলে এসেছেন মানে অনেকে ভাবেন শিবের মাথায় জল ঢেলে এসেছেন। আসলে তা ঠিক নয়। ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ হল ‘বাস’ মানে, বাসস্থান। অর্থাত্‍ শিবঠাকুর যেখানে বাস করেন বা বিরাজ করেন, সেটাই আসলে ‘শিবলিঙ্গ’! ত্রিদেবের অন্যতম মহেশ্বর শুধু সংহার কর্তা নয় আসলে শিব ঠাকুর, জ্ঞাণের দেবতা। সরস্বতীকে পুজো করলে বিদ্যা-বুদ্ধি পাবেন। কিন্তু জ্ঞাণী হতে গেলে আপনাকে শিবের উপাসক হতে হবে। শিবের মতো স্বামীর প্রার্থনা করলেন মানে আপনি আসলে নিজের জন্য জ্ঞাণী স্বামী চাইছেন।নৃত্য শিল্পের সঙ্গে শিবের গভীর সম্পর্ক রয়েছে|কথিত আছে নৃত্য ও সঙ্গীত শিবের সৃষ্টি, তিনিই এই নৃত্যকলার প্রবর্তক| শিবের সব থেকে প্ৰিয় দুটি নৃত্যের নাম হল তাণ্ডব ও লাস্য| তাণ্ডব ধ্বংসাত্মক এবং পুরুষালি নৃত্য ও  লাস্য হলো তাণ্ডবের নারীসুলভ বিকল্প যার মধ্যে লুকিয়ে আছে সৃষ্টির আনন্দ| তাণ্ডব ও লাস্য নৃত্য যথাক্রমে ধ্বংস ও সৃষ্টির প্রতীকভবিষ্য পুরানে বলা হচ্ছে যে নাগেরাই প্রথম শিব পূজা শুরু করে এবং নাগ রাজা হিসেবে বাসুকি শিবের তপস্যা করেন ও শিব কে তুষ্ট করে বরদান পান যে তিনি শিবের কণ্ঠে স্থান পাবেন|শিব পুজোয় বেলপাতা অপরিহার্য কারনবেলপাতা মহাদেবের অত্যন্ত পছন্দের।হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী বেল পাতা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। পবিত্র এই পাতা মহাদেবের শ্রীচরণে উত্‍সর্গ করা হয়। বেল পাতাকে দেবাদিদেবের ত্রিনয়নের মতো দেখতে বলেই বেল পাতা দিয়ে মহাদেবের পুজোর রীতি প্রচলিত।এছাড়াও বেলপাতা বিষ ক্রিয়া কমাতে সক্ষম বলে মনে করা হয় তাই যেহেটু সমুদ্র মন্থন থেকে উঠে আসা বিষ পান করেছিলেন মহাদেবে তাই তার উদ্দেশ্যে বেলপাতা অর্পনের রীতি বলে মনে করা হয়|শিবপূজায় কেতকী, চাঁপার ন্যায় কিছু রঙিন ফুল অর্পণ করা নিষিদ্ধ|কারন কেতকী আদি শিব লিঙ্গ অনুসন্ধানকালে ব্রম্ম্হার হয়ে মিথ্যে সাক্ষী দিয়ে ছিলো|চাঁপা ফুল একদা মহাদেবের প্ৰিয় হলেও নারদ একবার চাঁপা ফুল কে ক্রোধ বসত অভিশাপ দিয়ে ছিলেন যে চাঁপা ফুল আর শিব পুজোয় ব্যবহার হবে না|সেই থেকে শিব পুজোয় ব্রাত্য থাকে চাঁপা ফুল|পুরান ও আরো অনেক আধ্যাত্মিক বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলতে থাকবে|ফিরে আসবো পরের পর্বে|পড়তে থাকুন|যেকোনো জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আসতে পারেন চেম্বারে অথবা ফোন করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব পুরান – অর্জুনের তপস্যা

শিব পুরানের সপ্তম অধ্যায়ে অর্জুনের তপস্যা ও শিব এবং অর্জুনের যুদ্ধ ও সর্বপরি শিব কতৃক অর্জুনকে বরদানের উল্লেখ আছে|আজ সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো|দুর্যোধনের সঙ্গে পাশা খেলায় পরাজিত হন পঞ্চপাণ্ডব। তারা পরাজিত হয়ে রাজত্ব হারিয়ে দ্রৌপদীর সঙ্গে অরণ্যমধ্যে বাস করতে লাগলেন। পঞ্চপাণ্ডবের কুটিরে একদিন উপস্থিত হলেন ব্যাসদেব। যুধিষ্ঠির ব্যাসদেবকে বললেন, প্রভু আমাদের এই দুঃখ দূর করার জন্য কোনো উপদেশ দিন। ব্যাসদেব বললেন, আমি সবসময় শিবের সেবা করি, তোমরাও শিবের সেবা কর। তারপরে ব্যাসদেব বিচার করে বললেন, তোমাদের মধ্যে অর্জুনই শিবপূজার যোগ্য ব্যক্তি।অর্জুনকে তিনি বললেন তুমি ইন্দ্রনীল পর্বতে গিয়ে শিবের তপস্যা কর।ব্যাসদেবের উপদেশ মতো অৰ্জুন গেলেন ইন্দ্রনীল পর্বতে। সেখানে সুন্দর অশোকবনে শিবলিঙ্গ তৈরি করলেন। তারপর ব্যাসদেবের উপদেশমত ত্রিকালীন স্নান এবং নানারকম পূজা করলেন এবং তপস্যা শুরু করলেন। সেই তপের ফলে অর্জুনের মাথা থেকে তীক্ষ্ণশ্বর বেরোতে লাগল। দেবতাগণ তা দেখে ভয় পেলেন। তারা ইন্দ্রের কাছে গেলেন।ইন্দ্র অতি বৃদ্ধ জরাজর্জর, জটাধারী হয়ে হাতে লাঠি ধরে টলতে টলতে ইন্দ্র অর্জুনের কাছে গেলেন। ইন্দ্র নিজের কোন পরিচয় দিলেন না। বললেন, তুমি এই নবীন বয়সে কেন তপস্যা করছ? তুমি নিশ্চয় সুন্দরীর আকাঙ্ক্ষায় তপস্যা করছ না, কাউকে নিশ্চয় জয় করতে চাইছো?বৃদ্ধের জিজ্ঞাসা শুনে অর্জুন সব কথা খুলে বললেন। তখন ইন্দ্র অর্জুনের মনোরথ অবগত হয়ে বললেন, তুমি সুখের জন্য এই তপস্যা করছ। এটা কিন্তু তুমি ঠিক করনি, কারণ লৌকিক সুখ স্বপ্নতুল্য, বরং তুমি মুক্তির জন্য কর।অর্জুন বৃদ্ধের কথা শুনে রেগে গিয়ে বললেন, আমি মুক্তি চাই না। আপনি কিজন্য আমার তপস্যায় বিঘ্ন করতে এসেছেন, এখন আপনি যেতে পারেন।অর্জুনের কথা শুনে ইন্দ্র নিজের স্বরূপে দেখা দিলেন। অর্জুন তখন খুব লজ্জা পেলেন। তখন ইন্দ্র হেসে অর্জুনকে বললেন–তুমি ধন্য। তুমি কৃতার্থ, তোমার মন ও নিশ্চয় দেখছি। তাই তোমাকে বলছি–দুর্যোধন, দ্রোণ, ভীষ্ম কৰ্ণা বীর জগতে অজেয়। তাদেরকে জয় করা আর কারো দ্বারা সম্ভব নয়। শিব ছাড়া অন্য কেউই এদের জয় করতে পারবে না। তাই তুমি শিবেরই ভজনা কর। তবে তুমি সিদ্ধিলাভ করতে পারবে। খুব সাবধান হয়ে তপস্যা করবে। ইন্দ্রের নির্দেশে অর্জুন আবার ঘোরতর তপস্যা শুরু করলেন। পুনরায় তার তপস্যায় ব্যাঘাত ঘটালেন এক ব্যাধ এবং অর্জুন তার বান ছিনিয়ে নিলেন ব্যাধ রেগে বললো আমাদের প্রভুকে তুমি চেনো। তার সঙ্গে যুদ্ধে কেউ পারবে না। তাই বলছি, বাণটি ফেরৎ দাও। তা না হলে তোমার কপালে কষ্ট আছে।ক্রোধান্বিত হয়ে অর্জুন বললেন, তোমাদের রাজা এলে তাকে যুদ্ধের দ্বারা উপযুক্ত শাস্তি দেবো। সিংহ ও শৃগালের যুদ্ধ উপহাস করে। কিন্তু সেই যুদ্ধই এখানে হবে।সেই ব্যাধ ছিলো শিবের এক অনুচর সে অর্জুনের কথা শুনে ফিরে গেল শিবের কাছে, শিব সব কথা শুনে একজন দূত পাঠালেন দুতের কথা শুনে অর্জুন ক্রুদ্ধভাবে বললেন, আমি এই বাণ কখনই দেব না, এটা আমার।দূত গিয়ে শিবকে সব বলল। তারপর শুরু হলো শিব আর অর্জুনের যুদ্ধ। শিব অর্জুনের সব অস্ত্র বিনষ্ট করে দিলেন, তার ধনুকের জ্যা ছিঁড়ে গেল, তখন অর্জুনের কেবল শরীরটাই থাকল।তারপর শুরু হল দুজনের মধ্যে মল্লযুদ্ধ। তাতে পৃথিবী কেঁপে উঠল। দেবতারাও খুব ভয় পেল। তখন শিব অর্জুনকে নিয়ে আকাশে উঠে যুদ্ধ করতে লাগলেন তারপর হঠাৎ মহেশ্বর অর্জুনকে আপন রূপ দেখালেন তাকে।ক্ষমা চেয়ে অর্জুন শিবের পায়ে লুটিয়ে পড়লেন। বললেন, হে প্রভু, আমাকে ক্ষমা করুন। শিব শুনে বললেন, ভক্ত, আমি তোমার বীরত্বের পরীক্ষা নেওয়ার জন্যই এমন করেছি। তুমি যে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছো আমায়, তা আমি পূজারূপে গ্রহণ করেছি।স্বয়ং শিব অর্জুনকে শত্রু বিজয়ের বরদান দিয়েছিলেন|শিব পুরান অনুসারে অন্য কোনো বিষয় এবং তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে আবার ফিরে আসবো আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

সরস্বতী পুজো ও প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা

ঘটনাচক্রে সরস্বতী পুজো ও প্রজাতন্ত্র দিবস এবছর একই দিনে পড়েছে, প্রতি বছর এই দুটি দিন নিয়ে কিছু না কিছু লিখে থাকি, এবছর একসাথেই সরস্বতী পুজো ও প্রজাতন্ত্র দিবস নিয়ে দুচার কথা আপনাদের সাথে ভাগ করে নিই।

শুরু টা বিদ্যার দেবী সরস্বতীকে দিয়ে হোক, সরস্বতী শব্দের দুই অর্থ – একটি ত্রিলোক্য ব্যাপিনী সূর্যাগ্নি, অন্যটি নদী, শব্দের অর্থ অনুসারে সর শব্দের অর্থ জল অর্থাৎ যাতে জল আছে তাই সরস্বতী|জল কিন্তু প্রান বা জীবনের উৎস|পুরান মতে সৃষ্টির একদম আদি লগ্নে ধ্যানে বসেন সৃষ্টি কর্তা ব্রহ্মদেব সেই ধ্যানে তিনি তাঁর সকল ভালো গুণকে একত্র করতে থাকেন। আর ব্রহ্মার সকল ভালো গুণ একত্রিত হয়ে তা ধীরে ধীরে এক নারীর আকার নিতে থাকে।এবং সেই নারী পরবর্তীতে আবির্ভুতা হন দেবী সরস্বতী রূপে,এবং এই ভাবেই ধ্যান মগ্ন ব্রহ্মার মুখ গহ্বর থেকে সৃষ্টি হয় দেবী সরস্বতীর|জন্মের পর সরস্বতী তাঁকে এই বিশ্বকে কী ভাবে আরও সুন্দর করে তোলা যায়, সে সম্পর্কে পরামর্শ দেন ও ব্রহ্মা দেবী সরস্বতীর উপর দায়িত্ব দেন বিশ্বের সৌন্দর্য রক্ষা ও সমস্ত সৃজন শীল কাজের|দেবীর বাহন রাজ হংস পরম জ্ঞানের প্রতিক|আবার হংসের রয়েছে এক অদ্ভুত ক্ষমতা, হংস জল ও দুধের পার্থক্য করতে সক্ষম। জল ও দুধ একত্রে মিশ্রিত থাকলে হাঁস শুধু সারবস্তু দুগ্ধ বা ক্ষীরটুকুই গ্রহণ করে, জল পড়ে থাকে। জগতে জ্ঞান থাকবে অজ্ঞানতাও থাকবে, শিক্ষা থাকবে অশিক্ষাও থাকবে, সংস্কার থাকবে কু সংস্কার ও থাকবে, তবে আমাদের সচেতন ভাবে হংসের ন্যায় ভালো টা নিতে হবে আর খারাপ টা বর্জন করতে হবে এটা বোঝাতেই সম্ভবত সরস্বতীর বাহন হিসেবে হংসকে নির্বাচিত করা হয়েছে|

এবার আসি প্রজাতন্ত্র দিবসে, যদিও শুরুটা ছিলো অন্যরকম,১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি জাতীয় কংগ্রেস ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি পূর্ণ স্বরাজ ঘোষণা করে এবং তারপর থেকে প্রতি বছর ওই দিনটাকেই স্বাধীনতা দিবস হিসাবে পালন করতে শুরু করে কিন্তু পরবর্তীতে ভারতের স্বাধীনতা আসে 1947 সালের 15ই আগস্ট এবং সেই থেকে ওই দিন স্বাধীনতা দিবস ও 26 এ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে|পরবর্তীতে ১৯৫০ সালে এই দিনেই ভারতের সংবিধান গৃহীত হয়েছিল এবং জন্ম দিয়েছিল বিশ্বের বৃহত্তম প্রজাতন্ত্রের|এই দিন থেকেই বিশ্বের বৃহত্তম লিখিত সংবিধান আনুষ্ঠানিক ভাবে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতবর্ষের সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হয়|আজ দিনটি আধ্যাত্মিকতা ও রাষ্ট্রপ্রেম দুদিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ|আপনাদের সবাইকে জানাই সরস্বতীপুজো ও প্রজাতন্ত্র দিবসের অসংখ্য শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|ভালো থাকুন|পড়তে থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব পুরান – ঋষি মার্কেণ্ডেয়র কথা

শিব পুরানের ষোলো তম অধ্যায়ে আছে ঋষি মার্কেণ্ডেয়র কথা|লেখা আছে তার অমরত্ত্ব প্রাপ্তি নিয়ে একটি গল্প যা আজকের পর্বে আপনাদের জানাবো |

শিব পূরাণ মতে বহুকাল পূর্বে মৃকাণ্ডু নামে এক ঋষি বাস করতেন। তিনি ছিলেন ধর্মপরায়ণ ও জিতেন্দ্রিয়। অর্থাৎ সমস্ত ইন্দ্রিয়কে জয় করতে পেরেছিলেন তিনি। তা সেই মৃকাণ্ড পুত্রলাভের আশায় বসলেন ব্রহ্মার তপস্যায়। দীর্ঘ তপস্যায় খুশি হলেন ব্রহ্মা। দিলেন বরও। তবে ওই একটা কিন্তু রয়েই গেল। প্রজাপতি ব্রহ্মা জানালেন, প্রবল ধার্মিক হওয়া সত্ত্বেও মাত্র সাত বছর বয়সে মৃত্যু হবে সেই পুত্রের|

যথাসময়ে পুত্রসন্তানের মুখ দেখলেন মৃকাণ্ডু।তার নাম রাখা হলো মার্কেন্ডেয়|তবে দিনরাত তাঁকে তাড়া করে বেড়াত একটাই দুশ্চিন্তা। ব্রহ্মার সেই কথাগুলো কিছুতেই মন থেকে তাড়াতে পারছিলেন না মৃকাণ্ডু। ঋষি শুরু করলেন বিষ্ণুর আরাধনা। কিন্তু ঋষি মৃকাণ্ডুকে খালি হাতেই ফিরতে হল বিষ্ণুর কাছ থেকে কারন কিন্তু পুত্রের দীর্ঘজীবন লাভের বর দেওয়ার সাধ্য ছিল না স্বয়ং বিষ্ণুরও এই কাজ একমাত্র শিবই করতে পারেন|

বালক মার্কেন্ডেয় মায়ের কাছ থেকে জানতে পারলেন যে তাঁর স্বল্পায়ুর কারনে সর্বদা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত তাঁর পিতা-মাতা।তাঁকে সাহায্য করলেন তার গুরুদেব ঋষি পুলহ। তিনি সব শুনে তাকে বলেন, জগতের গুরু মহেশ্বরই একমাত্র পারবেন মার্কণ্ডেয়কে দীর্ঘজীবন লাভের বর দিতে। একইসঙ্গে তাঁকে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করারও পরামর্শ দেন ঋষি। পুলহের কথামতো তপস্যা শুরু করল সেই বালক। গুরুর চরণ বন্দনা করে সে চলে গেল সাগর তীরে। সেখানেই মাটি দিয়ে সে তৈরি করল এক শিবলিঙ্গ। তার সামনে বসে শুরু হল মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রের জপ।

বেশ কিছুটা সময় কেটে গেলো সাতে পা দিলো মার্কণ্ডেয়। বিধির বিধানে মার্কণ্ডয়ের কাল পূর্ণ হয়েছে। তাকে মৃত্যুপুরীতে নিয়ে আসার আদেশ দিলেন ধর্মরাজ। যমের আজ্ঞা পেয়ে একদল যমদূত হাজির হল মার্কণ্ডেয়-র সামনে। ভয়ঙ্কর তাদের মূর্তি। তবে সেদিকে যেন ভ্রূক্ষেপই নেই মার্কণ্ডেয়র। একমনে ধ্যান করে চলেছে সেই ছোট্ট বালক।তারপর যথা সময়ে যমদূতেরা তার প্রাণ নিতে উদ্যত হতেই মাটির ওই শিবলিঙ্গের সামনেই প্রকট হলেন স্বয়ং মহেশ্বর। বিরাট ও বিকট পঞ্চানন রূপ ধারণ করে মহাদেব যমদূত দের সামনে রুখে দাঁড়াতেই ভয়ে চম্পট দিল যমদূতেরা।
এরপর মার্কণ্ডেয়-র প্রাণ নিতে সেখানে হাজির হলেন স্বয়ং যমরাজ। কিন্তু মহেশ্বরের ক্রোধের সামনে পরাজিত হলেন তিনিও উপায় না দেখে ব্রহ্মার দ্বারস্থ হলেন যম। ওদিকে মহাদেবের ক্রোধাগ্নিতে তো তখন তিন লোক কম্পমান । মহাদেবকে শান্ত করতে অগত্যা এগিয়ে এলেন সমস্ত দেবতা। অবশেষে রাগ পড়ে মহাদেবের। দেবাদিদেব জানান যে যদি কোনো ভক্ত শিবলিঙ্গের সামনে বসে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করে তাহলে সে দীর্ঘজীবন লাভের বর পাবে সে।

বালক মার্কেন্ডেয়র মাধ্যমে এই ভাবে মহাদেব ও মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রের মহিমা জানলো জগৎবাসি|

আগামী পর্বে শিব পুরান অনুসারে অন্য কোনো বিষয় এবং তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে আবার ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব পুরান – শিব বাঘ ছাল কেনো পরেন

আসন্ন শিব চতুর্দশীকে কেন্দ্র করে আগামী দিনের পর্ব গুলিতে আলোচনা করবো শিব পুরান নিয়ে জানবো শিব সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য|আমরা প্রত্যেকেই দেবাদিদেব মহাদেবকে বাঘ-ছাল পরিহিত বেশে দেখি এমনকি তিনি যখন ধ্যানমগ্ন থাকেন, তখন সেই বাঘ-ছালের উপর বসেই ধ্যান করেন।শিব কেনো বাঘ ছাল পরেন এবং কোথাথেকে তিনি এই বাঘ ছাল পেলেন আজ সেই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবো শাস্ত্র থেকে|শিবের বাঘছাল পরা নিয়ে নিয়ে একটি জশ্রুতি প্রচলিত আছে|আজ শুরুতে সেই ঘটনা আপনাদের বলবো|শিব হলেন সর্ব ত্যাগী সন্ন্যাসী যিনি কখনো কৈলাসে ধ্যান মগ্ন আবার তিনি দুর্গম বনে জঙ্গলে বিচরন করে বেড়ান আপন খেয়ালে |শিব একবার হাঁটতে হাঁটতে এক বনে গিয়েছিলেন। সেই বনে কয়েকজন ঋষি তাদের পরিবার নিয়ে বসবাস করতো। তিনি যখন বনে জঙ্গলে ঘোরাফেরা করছিলেন তার পরনে কোনও পোশাক ছিল না। তার সৌম কান্তি রূপ ও দিব্য জ্যোতি দেখে স্থানীয় মানুষ, পশু পাখি এমন কি প্রকৃতি তার দিকে আকর্ষিত হতে থাকে|সেই বনে বসবাস কারী ঋষি ও সাধুরা এতে ঈর্ষা ও ক্রোধ অনুভব করে এবং তারা শিবকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেন|আসলে তারা শিব কে তখনো চিনতে পারেননি শিব কে তারা সাধারণ ভবঘুরে ভেবেছিলেন|পরিকল্পনা অনুসারে, ওইসব ঋষিরা শিবের ভ্রমণের পথে একটা বড় গর্ত খুঁড়লেন এবং তাতে একটি বাঘও ছেড়ে রাখলেন।লক্ষ ছিলো বাঘ কে দিয়ে শিব কে হত্যা করা|শিবের অসীম শক্তি সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা ছিল না। শিব ওই গর্তে প্রবেশ করলেন এবং তৎক্ষণাৎ বাঘটিকে হত্যা করে বাঘের ছাল ছড়িয়ে পরিধান করলেন। তখন ঋষিরা সেই ঘটনা দেখে আশ্চর্য হয়ে পরেন তারা বুঝতে পারেন তিনি কোন সাধারণ মানুষ নন স্বয়ং শিব|সঙ্গে সঙ্গে তারা মহাদেবের চরণে লুটিয়ে পড়েন আশির্বাদ নিতে ও ক্ষমা চাইতে|শিব পরম দয়ালু তাই তিনি তাদের ক্ষমা প্রার্থনা গ্রহন করলেন ও মাফ করে দিলেন|সেই থেকেই তিনি কেবলমাত্র বাঘের ছাল পড়ে থাকেন।শিবের বেশভুষা বেশ রহস্যময় এবং তাৎপর্যপূর্ণ শিবের পোশাক বাঘছাল আসলে ত্যাগ, বীরত্ব এবং শৌর্যর প্রতীক|শিব আদি যোগী এবং এবং সর্ব শক্তিমান তাই তার এই পোশাক যথেষ্ট মানান সই|আগামী পর্বে শিব পুরান অনুসারে অন্য কোনো বিষয় এবং তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে আবার ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ওঁম নম শিবায়|

বাংলার ডাকাত কালী – খানাকুলের ডাকাত কালী পুজো

হুগলি জেলার খানাকুলে সাড়ে তিনশো বছরের বেশি পুরনো ডাকাতকালীর পুজোয় আজও
এক অভিনব রীতি পালন করা হয়।আজকের পর্বে এই বিখ্যাত ডাকাত কালী মন্দিরের কথা লিখবো |

হুগলীর খানাকুলের চক্রপুরে ডাকাতকালীর পুজো কয়েকশো বছরের প্রাচীন। কথিত আছে ৩৫৬ বছর আগে এ এলাকায় কালী ডাকাত নামে পরিচিত ছিলেন কালীচরণ মাঝি। তিনিই এ পুজোর সূচনা করেছিলেন। কালীচরণের বংশধরেরা জানিয়েছেন, এখনও পুজোর দিন মানত হিসেবে পশু বলিও হয়। পাশাপাশি মেনে চলা হয় ঘটপুজোর রীতিও। কালীপুজোর দিন রাতে কালীচরণের বংশের এক জন সদস্য প্রথম মায়ের ঘট উত্তোলন করেন। তার পর আরও একটি ঘট উত্তোলন করেন পুরোহিত। ঘট দু’টি কালীমূর্তির পায়ের নীচে বসিয়ে তার পর শুরু হয় পুজোপাঠ।

শোনা যায় নবাবী আমলে ডাকাতির পর কালীপুজোয় বসতেন কালীচরণ মাঝি এবং তাঁর চেলাচামুন্ডারা। দিন বদলেছে। কালীচরণের বংশধরেরা আজ আর ডাকাতি করেন না। তবে প্রথা বজায় রাখতে রাতের অন্ধকারে ফুল ও ফল চুরি করেন তাঁরা। সে ফুল ও ফল কালীকে নিবেদন করেই পুজো শুরু করেন।চুরি করা সামগ্রীতে হয় মায়ের পুজো|এটাই এখানকার রীতি|

আজও এই পুজোয় কালী ডাকাতের উত্তরপুরুষরা অংশ নেন পুজোয় |ডাকাতকালীর পুজোয় আরও কয়েকটি অভিনব রীতি রয়েছে|মন্দিরে চার প্রহরে চার বার পুজো-আরতি হয়। শোনা যায় ২০০ বছর আগে এই কালীপুজোকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রথম মেলা বসেছিল।আজও সেই মিলন উৎসব পালিত হয়|

প্রতি বছর মৌনী অমাবস্যাতেও মহাসমারোহে কালী পুজো হয় খানাকুলের ডাকাত কালী মন্দিরে|দেখতে আসেন বহু মানুষ|

চলবে ডাকাত কালী মন্দিরের কথা|ফিরে আসবো আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

ডাকাত কালী – কালী ডাকাতের কালী পূজা

বাংলার কালী ক্ষেত্র গুলির মধ্যে রয়েছে অসংখ্য ডাকাত কালী মন্দির, এই মন্দির গুলির সাথে জড়িয়ে আছে বহু গল্প ও দুর্ধর্ষ সব ডাকাতদের নাম এমনই এক কালী মন্দির রয়েছে বর্ধমানের কাটোয়ায় যা কাটোয়ার খেপি মায়ের মন্দির বলে বিখ্যাত|ডাকাত কালী সর্দার ছিল এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা|আজকের পর্বে লিখবো কালী ডাকাতের এই পুজোর কথা|অতীতে ডাকাতদের হাতে পূজিত কালী আজ কাটোয়ার অন্যতম বিখ্যাত কালী ক্ষেত্র|শোনা যায় আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগে কাটোয়া শহরের ভাগীরথীর তীরে খ্যাপাকালী পাড়া জঙ্গলে ভরা ছিল। কথিত আছে, সেই জঙ্গলে বাস করত দুর্ধর্ষ কালী ডাকাত । ওই ডাকাত জঙ্গলে কালী ঠাকুরের পুজো করত। ডাকাতি করার সময় কালী মাকে পুজো করে সে ডাকাতি করতে বের হতো। ওই ডাকাতের ভয়ে তটস্থ থাকত বর্ধমান, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষজন।পুলিশের ভয়ে ডাকাত সর্দার কালি ঠাকুরকে জঙ্গলের ভেতরে লুকিয়ে রাখত|আজ সেই জঙ্গলে গড়ে উঠেছে খ্যাপাকালী পাড়া|রূপ নিয়েছে তীর্থস্থানের|আজ তার চারিদিকে জনবসতি। এখন ঝা চকচকে সুবিশাল মন্দিরে ডাকাতের হাতে পূজিত কালীর পুজো হয় মহা ধুমধামে। কালী পুজোর সময় মূর্তিকে প্রায় পাঁচ কেজি সোনা ও নয় কেজি রুপো দিয়ে সাজানো হয়,সোনার মুকুট, থেকে শুরু করে সোনার সিতা হার, সোনার বালা থেকে শুরু করে সোনা-রুপোর নানান গয়নায় ভরে ওঠে মায়ের মূর্তি।ডাকাতদের হাত দিয়ে শুরু সেই পুজো আজ কাটোয়া শহরের খেপি মায়ের পুজো বলেই বিখ্যাত।ক্ষেপী মায়ের পুজোয় আশপাশের জেলা থেকে শুরু করে সারা বাংলার মাতৃ সাধক ও ভক্তরা আসেন তাদের মনোস্কামনা নিয়ে|একসময় গ্রাম বাংলায় ডাকাতরা কালী পুজো করে ডাকাতি করতে যেতো কেউ কেউ আবার ডাকাতির পর ফিরে এসে কালী পুজো করতো|সেই দিন আর নেই, সেই ডাকাতরাও নেই সবই আজ ইতিহাস তবে রয়ে গেছে তাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ডাকাত কালীর মন্দির গুলি|আবার যথা সময়ে ফিরে আসবো অন্য কোনো ডাকাত কালী মন্দিরের কথা নিয়ে পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|মৌনী অমাবস্যায় যারা গ্রহদোষ খণ্ডন করাতে চান এখনই যোগাযোগ করুন|ধন্যবাদ|