পুরান কথায় বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র নিয়ে আগে বলেছি আজ বলবো শিবের ত্রিশূল নিয়ে|ত্রিশূল বলতেই প্রথমে মনে ভেসে ওঠে দেবাদিদেব মহাদেবের নাম|পুরান অনুসারে শিব হলেন স্বয়ম্ভু যিনি নিজের চেতনায় নিজ ইচ্ছায় সৃৃষ্ট হন এবং যাকিছু অশুভ বা সৃষ্টির জন্যে বিপদজনক তা সংহার করার দায়িত্বে থাকেন তিনি স্বয়ং কিন্তু সংহার কর্তার এই সংহার লীলার জন্যে প্রয়োজন অস্ত্র, এই অস্ত্র নির্মাণের ভার স্বাভাবিক ভাবেই গিয়ে পরে দেব শিল্পী বিশ্বকর্মার উপর|বিষ্ণুপুরান অনুসারে সূর্যের তেজ ও রশ্মির ব্যবহার করে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা ত্রিশূল নির্মাণ করেন এবং তা শিবকে প্রদান করেন|এতে শিব ও তার অস্ত্র পান এবং সূর্যের তেজ কিছুটা কমায় বিশ্বকর্মার কন্যা এবং সূর্যপত্নী সংজ্ঞাও কিছুটা স্বস্তি পান|ত্রিশূল শুধু শিবের নয় দেবী দূর্গারও অস্ত্র কারন মহিষাসুর বধের জন্য বিভিন্ন দেবতা যখন দেবীকে বিভিন্ন অস্ত্রদান করেন তখন ভগবান শিব তাকে এই ত্রিশূলটি দান করেছিলেন,দেবী মহিষাসুরকে ত্রিশূল দিয়েই বধ করেন|আবার ত্রিশূল দিয়ে শিব দ্বারা গণেশের মুন্ড ছেদের ঘটনারও উল্লেখ আছে শাস্ত্রে|ত্রিশূল শুধু অস্ত্র নয় সনাতন ধর্মে ত্রিশূল সমৃৃদ্ধির প্রতীক আবার ত্রিশূলের তিনটি ফলার আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য রয়েছে|মনে করা হয় তিনটি ফলা যথাক্রমে সৃষ্টি-স্থিতি-বিনাশ কে চিহ্নিত করে আবার অন্য একটি বাখ্যা অনুসারে তিনটি ফলার অর্থ যথাক্রমে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত যা শিব তথা মহাকালের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে|শিবের ত্রিশূলে সব সময় বাঁধা থাকে ডমরু। এই ডমরু বেদ এবং তার উপদেশের প্রতীক যা আমাদের জীবনে এগিয়ে চলার রাস্তা দেখায়|শুধু হিন্দু নয় বৌদ্ধ ধর্মেও ত্রিশূল একটি পবিত্র প্রতীক হিসেবে সমাদৃত|বৈদিক বাস্তু শাস্ত্রেও ত্রিশূল ব্যাবহার হয়|বাস্তু শাস্ত্র মতে গৃহের প্রধান ফটকে ত্রিশূল চিহ্ন বা ত্রিশূল রাখলে গৃহে অশুভ শক্তি প্রবেশ করেনা ও গৃহে সুখ ও সমৃদ্ধি বিরাজ করে|চলবে পুরান কথা|আগামী পর্বে আবার কোনো নতুন বিষয় নিয়ে আসবো আপনাদে সামনে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
তীর্থ ক্ষেত্রে পন্ডিতজি – বৈষ্ণদেবীর মন্দির
দক্ষিণ ভারতের তীর্থ ক্ষেত্র গুলি নিয়ে ইতিমধ্যে লিখেছি বেশ কয়েকটি পর্ব আজ বলবো ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ তীর্থস্থান বৈষ্ণদেবীর মন্দির নিয়ে| বৈষ্ণদেবী স্বয়ং আদ্যাশক্তির একটি রূপ হিসেবে বিবেচিত হলেও তার উৎপত্তি নিয়ে কিছু লৌকিক কাহিনী প্রচলিত আছে|কথিত আছে এক ব্রাহ্মণ দম্পতির কন্যা ছিলেন বৈষ্ণদেবী|মাত্র নয় বছর বয়সে সে রাম ও বিষ্ণুকে তুষ্ট করার জন্য তপস্যা শুরু করতে শুরু করেন|অবশেষে ভগবান শ্রী রাম ও বিষ্ণু দুজনেই সন্তুষ্ট হয়ে আশীর্বাদ করেন বৈষ্ণোদেবী কে।দুর্গম পাহাড়ে একটি গুহার মধ্যে থাকতে শুরু করেন বৈষ্ণোদেবী এবং সেখানে তাঁর নিরাপত্তার জন্য শ্রীরাম একটি সিংহ ,হনুমান ও তীর-ধনুক দেন। এরপর থেকেই বৈষ্ণোদেবী ওই মন্দিরে থাকতে শুরু করেন এবং পরবর্তীকালে মাতা বৈষ্ণোদেবী নামে পূজিত হয়।আরো একটি কিংবদন্তী অনুসারে শ্রীধর নামে এক ভক্তকে স্বপ্নে দেখা দিয়েছিলেন স্বয়ং বৈষ্ণদেবী। পাশাপাশি জানিয়ে দিয়েছিলেন কোন গুহার মধ্যে তাঁর মন্দির গড়বেন ভক্ত।দেবী আদেশানুয়ারী গুহা খুঁজে সেখানে শ্রীধর নির্মাণ করেন বৈষ্ণদেবী মন্দির। পরবর্তীতে এই মন্দিরই পরিচিতি পায় বৈষ্ণদেবী মাতার মন্দির নামে।আজও বৈষ্ণ দেবী পুজো উপলক্ষে কারণেই নয় দিন ধরে নবরাত্রি পালন করা হয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে|বৈষ্ণ দেবীর মন্দিরটি বিশ্বে সবচেয়ে পবিত্রতম স্থান হিসাবেও পরিচিত। এই মন্দিরের মধ্যে রয়েছে তিনটি গুহা। তবে এই মন্দির গুলির মধ্যে একটি গুহা বছরে বিভিন্ন সময় বন্ধ থাকে। শুধুমাত্র ভক্তদের জন্য এই গুহা সব সময় খোলা থাকে। কথিত আছে, সংকীর্ণ ও দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা পেরিয়ে বৈষ্ণো দেবীর মন্দিরে একবার যিনি যান ও দেবীর দর্শন লাভ করেন তার জীবন ধন্য হয়ে যায়|আমার জীবনে এই দুর্লভ সৌভাগ্য লাভ হয়েছে|প্রকৃতপক্ষেই দেবী দর্শনে দূর হয় ক্লান্তি, দেবী পূর্ণ করেন মনোস্কামনা।কথিত আছে মহাভারতে বর্ণিত কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের আগে পাণ্ডবরা বৈষ্ণদেবীর উপাসনা করেছিলেন এবং তারাই এই দুর্গম স্থানে এই মন্দির নির্মান করেছিলেন|আদিম রহস্য, পবিত্রতা ও আধ্যাত্মিকতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছে দুর্গম এই বৈষ্ণদেবী মন্দিরে যা অনুভব করতে হয় ভাষায় প্রকাশ করা মুশকিল|তবু চেষ্টা করলাম সেই অভিজ্ঞতা ও কিছু তথ্য ভাগ করে নেয়ার|আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে|ভালো থাকুন|পড়তে থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরানকথা – শনিদেবের কৃপা
আপনাদের পুরান গুলিতে ও একাধিক প্রাচীন ধর্ম শাস্ত্রে শনিদেবকে কেন্দ্র করে বহু রোমাঞ্চকর ঘটনার বর্ণনা আছে|আজ পুরান কথায় গ্রহরাজের কৃপাধন্য একটি রহস্যময় গ্রাম নিয়ে বলবো যে গ্রামের নামকরন হয়েছে গ্রহরাজ শনি ও তার একটি মন্দির কে কেন্দ্র করে|শিঙ্গাপুর গ্রামের অবস্থান ভারতের মহারাষ্ট্র প্রদেশে। জেলার নাম নাভাসা। মহারাষ্ট্রের সুপরিচিত শহর আহমেদ নগর থেকে গ্রামটির দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার। শনি শিঙ্গাপুর গ্রামটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে এখানে হিন্দু ধর্মের অন্যতম দেবতা শনির একটি মন্দির রয়েছে যাকে কেন্দ্র করে রহস্য অনেক কিংবদন্তি প্রচলিত আছে|এই গ্রামে দিন-রাত ২৪ ঘন্টা সবার ঘরের দরজা খোলা থাকে। ‘খোলা থাকে’ বললেও কিঞ্চিত ভুল হবে, কেননা সেই গ্রামের ঘর-বাড়ির দরজাতে কপাটই নেই; মানে চাইলেও দরজা বন্ধ করার সুযোগ নেই। অদ্ভুত এই নিয়মের সাথে জড়িত শনিদেবের নাম|কথিত আছে, প্রায় ৩০০ বছর আগে গ্রামটিতে একবার প্রচন্ড বৃষ্টি ও বন্যা হয়। বন্যা শেষ হলে গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পানাশালা নদীর তীরে বিশালাকৃতির কালো রঙের একটি পাথর পাওয়া যায়, এই সময়ে একদিন সবাই যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন একই সময় গ্রামের সবার সাথে স্বপ্নে কথা বললেন স্বয়ং শনি দেবতা। সবাইকে তিনি জানালেন,এটি কোনো সাধারণ মূর্তি নয়, এটি আমার প্রতিমূর্তি। যদি তোমরা আমার উপাসনা করো তাহলে আমি তোমাদের সবার মুক্তি ও নিরাপত্তা দান করবো|শনি দেবতা তার উপাসনার পদ্ধতি হিসেবে দুটি শর্ত জুড়ে দেন। প্রথমত, এই গ্রামের কোনো এক জায়গায় আমার এ পবিত্র প্রতিমূর্তিটিকে সংরক্ষণ রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, গ্রামের কেউ তাদের ঘরের দরজার কপাট বন্ধ করতে পারবে না। যদি কেউ ঘরের দরজার কপাট বন্ধ করে তাহলে তিনি তাদের নিরাপত্তার দায়দায়িত্ব নিবেন না। কেননা সবার নিরাপত্তা প্রদানের জন্য দেবতাকে যখন তখন সবার ঘরে প্রবেশের সুযোগ থাকতে হবে। তাছাড়া দরজার কপাট বন্ধ থাকলে দেবতার সুনজর থেকেও গৃহবাসী বঞ্চিত হবে|এরপর তৈরি হলো এক শনি মন্দির প্রতিষ্টিত হলেন শনিদেব|এখানে শনি মন্দিরের উপরে কোনো ছাদ নেই। খোলা আকাশের নিচেই বেদি নির্মাণ করে শনি দেবতার পবিত্র পাথরটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।গ্রহ রাজ শনিদেবের এই আদেশ আজও অক্ষরে অক্ষরে পালন করে আসছেন এই গ্রামের মানুষ তাই এই রীতি যা ভাবতেও অবাক লাগে|আবার ফিরবো আগামী পর্বে|চলবে পুরান কথা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|নমস্কার|
তীর্থক্ষেত্রে পন্ডিতজি – তিরুপতি বালাজি
তীর্থ ক্ষেত্র গুলি নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে বহু দিন থেকেই বলছি আজকের পরপর্বে বলবো দক্ষিণ ভারতের তিরুপতি বালাজি মন্দির নিয়ে|মনে করা হয় কলিযুগের দুঃখ ও যন্ত্রণা থেকে মানব সমাজকে মুক্ত করতে ভগবান বিষ্ণু তিরুমালায় ‘ভেক্টেশ্বর’ রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন|অন্ধ্রপ্রদেশের চিত্তুর জেলার অন্তর্গত তিরুপতির তিরুমালা শৈলশহরে অবস্থিত ভগবানের ভেঙ্কটেশ্বরের তিরুমালা মন্দির যা বালাজি মন্দির নামেও প্রসিদ্ধ এবং ধন সম্পদের দিক দিয়ে বিশ্বের বিশ্বের ধনিতম মন্দির গুলির অন্যতম|বহু পুরান কাহিনী,কিংবদন্তি ও রহস্য জড়িয়ে আছে এই মন্দির ঘিরে যার কিছু আজ আমি আপনাদের সামনে আনবো|অনেকেই জানেন এই মন্দিরের দেবতার উদ্দেশ্যে মাথার চুল নিবেদন করা হয়|কিন্তু কেনো? তা জানতে হলে একটি পৌরাণিক ঘটনা জানতে হবে|একবার ভগবান ভেঙ্কটেশ্বরের মাথায় এক নাবালক রাখাল নিজের অজান্তেই আঘাত করেছিলেন যার ফলে ভগবানের মাথার কিছু অংশের চুল ছিঁড়ে পড়ে যায়। নীলাদেবী নামে এক গন্ধর্ব রাজকুমারী এই ঘটনাটি দেখতে পান| নীলাদেবী মনে করেন, ভগবান ভেক্টেশ্বরের সৌন্দর্যে কোন ক্ষুত থাকা উচিত নয় তিনি তখন নিজের মাথার চুল কেটে জাদুশক্তির সাহায্যে ভগবান ভেক্টেশ্বরের মাথায় প্রতিস্থাপন করেন|নীলাদেবী যেহেতু নিজের সৌন্দর্যের কথা না ভেবে ভগবান ভেক্টেশ্বরের সৌন্দর্যের বিষয়ে ভেবে নিজের মাথার চুল তাঁকে দান করেছিলেন, তাই ভগবান ভেক্টেশ্বরও রাজকুমারী নীলাদেবীকে এক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন|সেই প্রতিশ্রুতি অনুসারে এই ভেক্টেশ্বর মন্দিরে আগত প্রত্যেক ভক্ত তাঁদের নিজের মাথার চুল অর্পণ করবেন ভগবান ভেক্টেশ্বরকে। এবং সেই চুল প্রকৃত অর্থে পাবেন রাজকুমারী নীলাদেবী।সেই প্রথা আজও চলে আসছে|কেনো তিরুপতি মন্দিরে এতো ধন সম্পদ দান করেন ভক্তরা তাও এক রহস্য যা জানতে হলে আমাদের আরো একটা পৌরাণিক ঘটনা জানতে হবে|তিরুমালার রাজকুমারী পদ্মাবতীর সঙ্গে শ্রীবিষ্ণুর বিবাহ স্থির হয় এবং এই বিবাহের জন্যই বিষ্ণু সম্পদের দেবতা কুবেরের কাছ থেকে বিবাহ উপলক্ষে বিপুল ঋণ গ্রহণ করেন।ঋণ করার কারণ পদ্মাবতীর বাবা এই অর্থ দাবি করেছিলেন। কুবের এই শর্তে ঋণ দান করেন যে, বিষ্ণু যতদিন পর্যন্ত এই ঋণ শোধ করতে পারছেন না, ততদিন তিনি বৈকুণ্ঠে প্রবেশ করতে পারবেন না। সেই থেকে আজ পর্যন্ত বিষ্ণু কুবেবের ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি। ভক্তরা ভগবানকে বিপুল অর্থ ও সম্পদ প্রদান করেন, যাতে তিনি ঋণমুক্ত হন|আজও অগণিত ভক্ত ভগবানের ঋণ পরিশোধ করতে মুক্ত হস্তে দান করে চলেছেন|ভগবান ভেঙ্কটেশ্বরের চোখ কেনো ঢাকা তারও নানা রকম ব্যাখ্যা হয়|অনেকে বিশ্বাস করেন এই বিপুল ঋণের কারণেই লজ্জিত বালাজি নাকি চোখের অর্ধাংশ ঢেকে রাখেন|কিছু শাস্ত্রজ্ঞ মনে করেন ভগবান বিষ্ণুর অন্যতম অবতার বুদ্ধ। বুদ্ধের একটি রূপ হল অবলোকিতেশ্বর। এই রূপে বুদ্ধের চোখ অর্ধনিমিলিত থাকে। বালাজির মূর্তি আসলে অবলোকিতেশ্বরেরই মূর্তি|তবে স্থানীয়রা মনে করেন বালাজির তিরুপতির চোখ যাতে ঢাকা থাকে, তা আসলে তিলক|বালাজির দৃষ্টি অতীব অলৌকিক শক্তি সম্পন্ন। এই শক্তির প্রভাব সকলের সহ্য হবে না তাই ওই বিশেষ তিলক দ্বারা তাঁর নয়নকে অর্ধনিমিলিত রাখা হয়|রহস্য একটি দুটি নয় অনেক|প্রচলিত বিশ্বাস ভগবানের বুকে কান পাতলে শোনা যায় সমুদ্রের শব্দ|ভগবানের কপালে জমে বিন্দু বিন্দু ঘাম|ভগবানের চুল ও কোনো সাধারণ চুল নয়,তা আসল, অকৃত্তিম|বালাজির পূজা সামগ্রীও আসে একটি মাত্র নিদ্দিষ্ট গ্রাম থেকে|এই প্রথা চলে আসছে যুগ যুগ ধরে|আমি নিজেও তিরুপতি বালাজি মন্দির দর্শন করে ধন্য হয়েছি|চলবে তীর্থক্ষেত্র নিয়ে লেখা লেখি আগামী পর্বে আবার অন্য কোনো পৌরাণিক বিষয় নিয়ে বলবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – গরুড়দেব ও সাপেদের শত্রুতা
পুরানে দেবতা অসুর ও মানুষের পাশাপাশি কিছু অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন অদ্ভুত প্রাণীর ও উল্লেখ আছে|গরুড় দেব এদের অন্যতম|তিনি স্বয়ং ভগবান বিষ্ণুর বাহন|তিনি মহাবীর, তার প্রশ্নের উত্তরে সৃষ্টি হয়েছে গরুড় পুরান|তবে সব থেকে বেশি যে বিষয়টা আলোচিত হয় তা হলো গরুড়ের সাথে সাপেদের প্রবল শত্রুতা|কিন্তু কেনো এই শত্রুতা আর কবে তার সূচনা হলো? এসব জানার আগে গরুড়ের আসল পরিচয় ও স্বরূপ জানা দরকার|গরুড় আসলে হিন্দু ও বৌদ্ধপুরাণে উল্লিখিত একটি বৃহদাকার পৌরাণিক পাখি বা পক্ষীতুল্য জীব। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, গরুড় বিষ্ণুর বাহন।গরুড় কশ্যপ মুনির সন্তান। কশ্যপের অনেক স্ত্রী ছিলেন। বিনতা তাঁদের অন্যতমা। এই বিনতার দুই পুত্র: গরুড় এবং অরুণ। কশ্যপের আর এক স্ত্রীর নাম কদ্রু। তাঁর অনেক সন্তান, সবাই সাপ। এখানে পারিবারিক ভাবে গরুড় ও সাপেদের শত্রুতার একটা ইঙ্গিত খুঁজে পাওয়া যায় |পড়ে বিষ্ণু গরুড় কে তার বাহন হিসেবে পান তার পেছনে ও আছে এক রোমাঞ্চকর পৌরাণিক কাহিনী |পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে গরুড়ের একবার অমৃতর খুব প্রয়োজন হয়ে পড়ে । অমৃত আছে দেবতাদের কাছে। গরুড় দেবলোকে অভিযান করলেন। দেবতাদের যুদ্ধে হারিয়ে অমৃতের ভাণ্ড নিয়ে গিয়ে দিলেন বিষ্ণুর কাছে। কিন্তু নিজে সেই অমৃত পান করলেন না। এই সংযম ও ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে বিষ্ণু গরুড়কে বর দিতে চাইলেন। গরুড় অমৃত চাইলেন না, কিন্তু অমরত্ব চাইলেন। তার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থনা করলেন যে, তিনি বিষ্ণুর রথের উপরে থাকতে চান। বিষ্ণু তাঁর সেই প্রার্থনা মঞ্জুর করলেন। এই কাহিনির আর একটি রূপও আছে। তাতে বলা হয়েছে, বিষ্ণু যেমন গরুড়কে বর চাইতে বললেন, গরুড়ও তেমনই বিষ্ণুকে বর দিতে চাইলেন বিষ্ণু তখন গরুড়কে তাঁর বাহন হতে বললেন এবং রথের ধ্বজায় অধিষ্ঠিত হতে অনুরোধ করলেন। গরুড় রাজি হলেন |সেই থেকে গরুড় বিষ্ণুর বাহন |তিনি অমরত্ব ও লাভ করলেন|বিষ্ণুর আশীর্বাদে অমর হয়ে অমৃতের ভাণ্ডটি নিয়ে গরুড় আবার ডানা মেললেন, সেটি যথাস্থানে রেখে আসতে হবে। দেবরাজ ইন্দ্র অমৃত কেড়ে নেওয়ার জন্য চড়াও হলেন বজ্র দিয়ে আঘাত করলেন গরুড় কে । গরুড় তো অমর, কিন্তু দেবরাজের অস্ত্র বলে কথা, তার ওপর দধীচীর সম্মানও রক্ষণীয়, অতএব গরুড় তাঁর দেহের একটি পালক নিক্ষেপ করলেন, অর্থাৎ যুদ্ধে অক্ষত থাকলেন না তিনি। ইন্দ্র তাতেই সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে বন্ধু করে নিলেন|গরুড়ের সঙ্গে সর্পকুলের প্রবল শত্রুতা। তার অনেক কারন আছে|একটি কারন হলো কদ্রু গরুড়ের মা বিনতাকে দাসী করে রেখেছিলেন। বিমাতার দাসত্ব থেকে জননীকে মুক্ত করতে চান গরুড়। যেহেতু ভাইরা সব সাপ গরুড় বরাবরই সাপেদের সহ্য করতে পারতেন না |আবার নাগেদের সঙ্গেও বিষ্ণুর একটা সম্পর্ক আছে। নাগকুলে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলেন অনন্তনাগ বা শেষনাগ। বিষ্ণু তাঁর ওপর শয়ন করেন। অনন্তনাগ যখন নিজের দেহটি পাকিয়ে ফেলেন, তখন সময় পিছন দিকে যায়, ব্রহ্মাণ্ডের লয় হয়। তিনি যখন পাক খোলেন, সময় এগিয়ে যায়, ব্রহ্মাণ্ডের আবার সৃষ্টি হয়|এই নাগও আবার পরম বিষ্ণু ভক্ত অর্থ্যাৎ দুই বিষ্ণু ভক্তের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা বা মৃদু শত্রুতা কিছু অস্বাভাবিক নয়|প্রাকৃতিক ভাবে গরুড়ের সাথে নাগেদের সম্পর্ক খাদ্য ও খাদকের |গরুড়ের প্রধান খাদ্য সাপ তাই গরুড় কে সাপেরা ভয় পাবে এটাই স্বাভাবিক|প্রাকৃতিক নিয়মে এরা একে অপরের শত্রু|গরুড় ও সাপেদের শত্রুতা নিয়ে শাস্ত্র গুলিতে একাধিক ঘটনার বর্ণনা আছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য রামায়ণ এর একটি ঘটনা যখন রাম সেনা নাগ পাশে আবদ্ধ তখন তাদের উদ্ধার করতে আসে স্বয়ং গরুড় দেব | তার আসার পর সকলে নাগ পাশ থেকে মুক্ত হয়ে আবার রাবন সেনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ন হয় |চলবে পুরান কথা|আবার অন্য কোনো পৌরাণিক বিষয় নিয়ে ফিরে আসবো যথা সময়ে|ভালো থাকুন|পড়তে থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – নিধীবনের রহস্য
বৃন্দাবনে অবস্থিত নিধীবন নিয়ে, যাকে ঘিরে আছে অজস্র লোক কথা ও রহস্যময় ঘটনা বৃন্দাবনের নিধীবনের পাশেই রয়েছে বিখ্যাত বাঁকে বিহারীর মন্দির মনে করা হয় প্রতি রাতেই এই মন্দিরে বিশ্রাম করতে আসেন স্বয়ং ভগবান কৃষ্ণ|তার রাত কাটানোর নানা প্রমান পাওয়াযায় সকালে মন্দিরের দরজা খোলার পর যা অলৌকিক কিন্তু বাস্তব|মনে করা হয়, এই বনেই গোপিনীদের সঙ্গে রাস লীলায় মেতে উঠেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ ৷ এই বনের গাছ চির সবুজ ৷ কখনও, কোনও কারণে, এমনকী গাছ ফাঁপা হয়ে গেলেও বা জলের অভাব ঘটলেও গাছের পাতা কখনও হলুদ হয় না বা শুকিয়ে যায় না|আজও প্রতি রাতে কৃষ্ণ তার গোপিনীদের নিয়ে রাসলীলায় মেতে ওঠেন নিধীবনে|আশ্চর্যজনক ভাবে সূর্য ডোবার সাথে সাথে প্রতিটি প্রাণী বন ছেড়ে চলে যায়|কথিত আছে রাতে বনের প্রতিটি গাছ গোপিনীর রূপ ধরে শ্রী কৃষ্ণের সাথে রাসলীলায় অংশ নেয় এবং সূর্যউদয়ের আগে আবার সবকিছু ফিরে যায় আগের অবস্থায়|এমনকি এই বনে রাতে নূপুরের শব্দও শোনা যায়|সন্ধের পর এখানে প্রবেশ নিষেধ|এই নির্দেশ যারা মানেননি তাদের করুন পরিণতির কোথাও শোনা যায়|এমনকি আশপাশের বাড়ি গুলির জানালা যদি নিধীবনের দিকে থাকে তবে সেগুলিও বন্ধ রাখা হয় রাতে|পুরান ও শাস্ত্র গুলিতে কতইনা রহস্য লুকিয়ে আছে আগামী পর্বে ফিরে আসবো অন্য কোনো বিষয় নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – বিষ্ণুর হয়গ্রীব রূপ
বিষ্ণু যেমন নানা সময়ে অবতার রূপে পৃথিবীতে এসেছেন তেমনই তার কয়েকটি বিশেষরূপ ও রয়েছে যা বিশেষ কিছু কার্য সম্পাদন করার জন্য তিনি ধারন করেছিলেন যেমন মোহিনী রূপ বা হয়গ্রীব রূপ|আজ বলবো বিষ্ণুর হয়গ্রীব রূপ নিয়ে ও জানাবো তার তাৎপর্য|দেবতা ও অসুরদের দ্বন্দ্ব বহু বার হয়েছে|কথিত আছে, একবার মধু আর কৈটভ নামের দুই অসুর ব্রহ্মার কাছ থেকে বেদ চুরি করে পালায়। ব্রহ্মা উপায় না পেয়ে বিষ্ণুর দ্বারস্থ হন। বিষ্ণু তখন ‘হয়গ্রীব’ তথা ‘অর্ধেক ঘোড়া, অর্ধেক মানুষ’ রূপ ধরে অসুরদের পিছনে ধাওয়া করেন ও তাদের পরাস্ত বেদ উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।কিন্তু পথের মাঝে অবতারেই বেদ সহ ঘুমিয়ে পড়েন। সেই ফাঁকে অসুররা আবার ফেরত আসে এবং বিষ্ণুকে আক্রমণ করে। এই স্থানে দুপক্ষের প্রবল যুদ্ধ হয় এবং অসুররা পরাজিত হয়।সেই যুদ্ধের স্থান ছিলো আসাম এর মনীকুট পাহাড়‘মণিকূট’-এর ওপর রয়েছে তীর্থস্থল ‘হয়গ্রীব মাধবমন্দির’। এই মন্দিরের মূল দেবতাই বিষ্ণুর অবতার ‘হয়গ্রীব’-এর। আবার তিব্বতি বৌদ্ধদের তান্ত্রিক শাখার মতে ‘হয়গ্রীব’ মূর্তি তিব্বতি বজ্রযান বৌদ্ধমূর্তি। আর গৌতম বুদ্ধ এই স্থানেই নির্বাণ লাভ করেন। তাই এই মন্দির তিব্বতি বৌদ্ধদেরও তীর্থক্ষেত্র।আবার আগামী পর্বে এমনই কোনো পৌরাণিক বিষয় নিয়ে ফিরে আসবো|চলবে পুরান কথা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – বানেশ্বর শিব লিঙ্গ
আজ সোমবারের পুরান সংক্রান্ত আলোচনায় আপনাদের একটি বিশেষ শিব লিঙ্গর কথা বলবো যা বানেশ্বর শিবলিঙ্গ নামে আপনারা জেনে থাকবেন এই শিব লিঙ্গের সাথে আকৃতির বা ধনুর্বানের কোনো সম্পর্ক নেই উত্তর ও ব্যাখ্যা আছে পুরানে|পুরান অনুসারে, প্রাচীনকালে বাণ নামে এক শিব ভক্ত অসুর প্রতিদিন শিবলিঙ্গ নির্মাণ করে পূজা করতেন। এইভাবে দীর্ঘদিন শিবপূজার ফলে শিব তাকে দর্শন দিয়ে একটি বর দিতে চান। বাণ বলেন, প্রতিদিন তাকে শিবলিঙ্গ নির্মাণ করতে বেশ কষ্ট পেতে হয়। তাই বর হিসেবে তিনি উত্তম লক্ষণযুক্ত শিবলিঙ্গ চান। শিব চোদ্দো কোটি শিবলিঙ্গ নির্মাণ করে বাণকে দেন। বাণ সেগুলি পেয়ে মনে ভাবেন, এগুলি পূজায় যখন বিশেষ ফল পাওয়া যায়, তখন এগুলি সর্বসাধারণের কল্যাণের কাজেই ব্যবহার করা উচিত। এই ভেবে তিনি তিন কোটি লিঙ্গ কালিকাগর্তে, তিন কোটি লিঙ্গ শ্রীশৈলে, এক কোটি কন্যাশ্রমে, এক কোটি মহেশ্বর ক্ষেত্রে এবং অবশিষ্ট লিঙ্গগুলি বিভিন্ন তীর্থক্ষেত্রে স্থাপন করেন।বাণ নামক অসুরের দ্বারা পূজিত বলে এই লিঙ্গগুলি বাণলিঙ্গ বা বাণেশ্বর শিবলিঙ্গ নামে পরিচিত হল।বানেশ্বর শিব লিঙ্গ প্রাকৃতিক ভাবে উদ্ধার করা হয় এবং বেশ দুর্লভ|আবার আগামী পর্বে এমন কোনো পৌরাণিক বিষয় নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
ফলহারিণী অমাবস্যা ও শক্তি আরাধনা
মানব জীবনে জন্মছক বিশ্লেষণ করলে অথবা হস্তরেখা বিচার করলে দেখা যায় অনেকেরই কিছু না কিছু গ্রহদোষ রয়েছে। অর্থাৎ কিছু শুভ গ্রহ এবং কিছু অশুভ গ্রহের গ্রহগত সংযোগ ও তার কুপ্রভাব দেখা যায় এবং সেই প্রভাব আজীবন বয়ে বেড়াতে হয় যদি না সঠিক সময়ে শাস্ত্র সম্মত ভাবে সেই গ্রহ দোষ খণ্ডন হয় । সমস্যা থাকলে সমাধানও রয়েছে, তবে এই গ্রহ দোষ খণ্ডনের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান, সময় ও পদ্ধতি|তন্ত্র মতে বা শাস্ত্র সম্মত ভাবে গ্রহ দোষ খণ্ডনের ক্ষেত্রে যে বিশেষ অমাবস্যা তিথি গুলি রয়েছে তার মধ্যে দীপান্বিতা অমাবস্যা, কৌশিকী অমাবস্যা বা মৌনী অমাবস্যার থেকেও কিছুটা এগিয়ে থাকে ফল হারিনী অমাবস্যা কারন এই অমাবস্যার অর্থাৎই হলো জন্ম জন্মান্তরের পাপের ফল থেকে মুক্তি লাভ|শাস্ত্র মতে এই সময়ে করা যেকোনো তন্ত্র ক্রিয়া বা গ্রহ দোষ খণ্ডনের উপাচারের ফলে দেবী কালীর কৃপা সহজেই লাভ করা যায় এবং তিনি সমস্ত গ্রুহ গত কুপ্রভাব ও তার খারাপ ফল হরণ করে নেন এই তিথিতে ফল হারিণী রূপে ভক্তের পূজা গ্রহন করেনতাই এই অমাবস্যা ফলহারিনী নামে পরিচিত|এই অমাবস্যার অন্য একটি ঐতিহাসিক তাৎপর্যও রয়েছে, দক্ষিনেশ্বরে রামকৃষ্ণদেব ফলহারিণী কালী পুজোর দিনই স্ত্রী সারদা দেবীকে পুজো আদি শক্তির প্রতীক রূপে|শক্তি সাধনার এ এক অনন্য নজির|বহু প্রাচীন কাল থেকেই এই বিশেষ অমাবস্যায় কামাখ্যা, তারাপীঠ সহ একাধিক স্থানে তান্ত্রিক জ্যোতিষীরা উপস্থিত হয়ে বিশেষ পুজো,হোম যজ্ঞর মাধ্যমে বহু মানুষের গ্রহগত দোষ খণ্ডন করতেন|আজও চলছে সেই পরম্পরা|আজ ফল হারিণী অমাবস্যায় আমি রয়েছি তারাপীঠে এবং সারাদিন বিশেষ পূজা ও গ্রহ দোষ খণ্ডনের আয়োজন করা হয়েছে আপনাদের সবাইকে জানাই ফল হারিণী কালী পুজোর শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
কালী কথা – শালকিয়ার ফলহারিণী কালী পুজো
উত্তর হাওড়ার সালকিয়া অঞ্চলের জমিদার ছিলো বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার এবং এই পরিবারের অন্যতম কৃতি সন্তান গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের জমিদারির আমলে তেমন কোন পুজো হত না। পুজো বলতে জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো। বছরে ওই একবারই সাধারণ মানুষের জন্য জমিদার বাড়ির দ্বার উন্মুক্ত থাকত।তবে পরবর্তীতে শুরু হয় কালী পুজো বিশেষ করে ফলহারিণী অমাবস্যার পুজো|শোনা যায় একসময় হঠাৎ মহামারী দেখা দেয় চতুর্দিকে। বহু মানুষ এই মহামারীর প্রকোপে মারা যেতে থাকে। এই মহামারীর হাত থেকে বাঁচতে বহু মানুষ অঞ্চল ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যেতে শুরু করে। বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের জমিদার চিন্তায় পড়ে যান যে কিভাবে সেই প্রকোপ থেকে সবাইকে বাঁচাবেন। সেই সময় দেবী স্বপ্নাদেশ দেন যে তাঁকে ফলহারিণী রূপে পুজো করতে। সেই পুজো করলে তবেই সকল দুর্দশা দুর হবে। দেবী এও বলেন যে, তাঁর পুজোর জোগাড় নিজেই করবেন।তাই হয়পুজো শুরুর প্রথম দিকে অর্থাৎ যখন এই পূজা শুরু হয়েছিল তখন পুজোর ঠিক আগের দিন মন্দির সংলগ্ন পুকুর পুজো করে একটি কাগজে যা যা গয়না ও বাসনপত্র লাগবে লিখে পুকুরের জলে ভাসিয়ে দেওয়া হত। মা ফলহারিনী তার পূজার গয়না ও বাসনপত্র নিজেই সেই পুকুর থেকে তুলে দিতেন। আবার পূজার ঠিক পরের দিনই এলাকার বাসিন্দারা সেই গয়না ও বাসনপত্র পুকুর ঘাটে রেখে দিতেন, মা আবার নিজেই সেগুলি পুকুরে নামিয়ে নিতেন।পুজোর সঠিক বয়স জানা না গেলেও আনুমানিক ৩০০বছর ধরে চলে আসছে প্রাচীন এই পুজো। মহাসাড়ম্বরে এখনও এই ফলহারিণী কালীপুজো অনুষ্ঠিত হয় এই মন্দিরে। বহু ভক্তের সমাগম ঘটে এই দিনে।এলাকার বাসিন্দারা যারা এই পুজোতে উপবাস থাকতেন, তারা নিজেরাই পুকুর থেকে কই মাছ ধরতেন মায়ের ভোগের জন্য।কারন কই মাছ ভাজা না দেওয়া হলে , মায়ের ভোগ সম্পূর্ণ হত না।মায়ের ভোগের চাল, শাক-সবজি ধোয়া থেকে শুরু করে রান্না করা সবটাই গঙ্গা জলে ছাড়া হয় না। পূর্বে এলাকার স্ত্রীলোকেরা গঙ্গা থেকে কলসি করে জল নিয়ে আসত মায়ের ভোগের জন্য।মায়ের পুজোতে পশু বলি নিষিদ্ধ। বলি দেওয়া হয় শুধুমাত্র ছাঁচিকুমড়ো এবং জমিদার বাড়ির খাঁড়া ছাড়া মায়ের পূজার বলি দেওয়া যাবে না, এটাই নিয়ম।যেহেতু মায়ের নাম ফলহারিনী কালী তাই, ফল ছাড়া পূজা দেওয়া চলে না। একটি মাত্র ফল হলেও তা মায়ের কাছে নিবেদন করতে হয়।সাধারণত আমরা অনান্য কালী পুজোতে দেখে থাকি যে, পূজা শেষে ভোরবেলা বিসর্জন ক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু মা ফলহারিনী কালীকে ভোরবেলা বিসর্জন দেওয়া হয় না। পরের দিন রাত্রি বেলা বিসর্জন দেওয়া হয়।চলতে থাকবে পুরান ও শক্তি আরাধনা নিয়ে নানা ধরনের বিশেষ এই পর্বগুলি পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|