হৃদয়েশ্বরী মা সর্বমঙ্গলা মন্দির উদ্বোধন ও প্রান প্রতিষ্ঠা

340

শ্রাবনী অমাবস্যার এই পবিত্র তিথীতে যে আধ্যাত্মিক কর্ম কান্ড আমি শুরু করতে চলেছি তা নিয়ে ব্যস্ততা তুঙ্গে|মা সর্বমঙ্গলার আশীর্বাদে আজ মন্দির প্রতিষ্ঠা ও শাস্ত্র মতে দেবীর প্রান প্রতিষ্ঠার কাজ সম্পন্ন হবে|বিগত পর্বে আমি এই মন্দির প্রতিষ্ঠার কারন ও আগামী দিনের পরিকল্পনা আপনাদের সাথে ভাগ করেনিয়েছিলাম|আজ দেবী সর্বমঙ্গলা সম্পর্কে বিশদে জানাবো|জানবো তার স্বরূপ ও মর্তে তার পূজার প্রচলন নিয়ে এক অলৌকিক ঘটনা|

আপনারা হয়তো জানেন যে প্রাচীনতম ও সর্বাধিক জনপ্রিয় সর্ব মঙ্গলা মন্দির অবস্থিত বর্ধমানে|যাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে বেশ কিছু অলৌকিক লোককাহিনী বা কিংবদন্তী|কথিত আছে, প্রায় সাড়ে তিনশো বছর আগে শহর বর্ধমানের উত্তরাংশে বাহির সর্বমঙ্গলা পাড়ায় বাগদিরা পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে একটি শিলামূর্তি পেয়েছিল। সেটিকে প্রস্তর খণ্ড ভেবে তার উপরে শামুক–গুগলি থেঁতো করতো। পরবর্তীতে বর্ধমান মহারাজা সঙ্গম রায় স্বপ্নাদেশ পেয়ে শিলামূর্তিটিকে নিয়ে এসে সর্বমঙ্গলা নামে পুজো শুরু করেন।যদিও এই নিয়ে কিঞ্চিৎ মতপার্থক্য রয়েছে| পরবর্তীকালে ১৭০২ সালে টেরাকোটার নিপুণ কারুকার্য খচিত সর্বমঙ্গলা মন্দির নির্মাণ করেন মহারাজাধিরাজ কীর্তিচাঁদ মহতাব|মন্দিরের তুলনায় দেবী মূর্তি বহু প্রাচীন|কারুর কারুর মতে দেবী মূর্তি হাজার বা দুহাজার বছরের পুরোনো|পরবর্তীতে শেষ যুবরাজ উদয়চাঁদ মহতাব ট্রাস্ট কমিটি গঠন করেন এবং প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের পরম্পরা আজও চলে আসছে একি নিষ্ঠা ও ভক্তির সাথে|

বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী দেবী সর্বমঙ্গলা মূলত বাংলার লৌকিক দেবতা হলেও অনেকেই
মন্দিরটিকে শক্তিপীঠ বলেন|সেই মতে এখানে দেবীর নাভি পরেছিল।দেবী সর্বমঙ্গলার ভৈরব এখানে মহাদেব|সর্বমঙ্গলা দেবীর মুল মূর্তিটি কষ্টি পাথরের অষ্টাদশভূজা সিংহবাহিনী ‘মহিষমর্দিনী’ মহালক্ষীরূপিণী|কষ্টি পাথরে নির্মিত হওয়ায় দেবী মূর্তি স্বাভাবিক ভাবেই ঘোর কৃষ্ণবর্ণের|তাছাড়া তিনি আদ্যা শক্তি মহামায়ার রূপ বিশেষ তাই করল বদনা হওয়াটাই স্বাভাবিক|

আমার গৃহমন্দিরে স্থাপিত হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার রূপ সৃষ্টির খেত্রে তার আদি ও প্রাচীনতম প্রচলিত রূপকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে|আগামী দিনে প্রতিটি বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ তিথীতে থাকবে বিশেষ পূজা, যজ্ঞ ও প্রসাদ বিতরনের সু ব্যবস্থা|পাশাপাশি হোম যজ্ঞ ও পূজার মাধ্যমে গ্রহদোষ খণ্ডন হবে নিয়মিত|আর যতদিন না সশরীরে উপস্থিত হওয়া সম্ভব হচ্ছে ততদিন প্রযুক্তির ব্যবহারে আপনারা এই সব কিছুই স্বচক্ষে দর্শন করতে পারবেন|সাক্ষী থাকতে পারবেন নিজেদের গ্রহদোষ খণ্ডনের দিব্য মুহূর্তের|পারবেন অঞ্জলি দিতে ও মা সর্বমঙ্গলার আশীর্বাদ নিতে|আর সমস্ত প্রশ্নের উত্তর জানতে বা আরো বিশদে জানতে চোখ রাখুন আমার টিভির অনুষ্ঠানে, সাবস্ক্রাইব করুন আমার ইউটিউব চ্যানেল এবং অবশ্যই পড়তে থাকুন আমার ফেসবুকে আমার লেখাগুলি|ভালো থাকুন|যুক্ত হন এই আধ্যাত্মিক কর্মকান্ডের সাথে|জয় হৃদয়েশ্বরী মা সর্বমঙ্গলার জয়|