দক্ষিনেশ্বর – মন্দিরের ইতিহাস

190

আগেই কথা দিয়েছিলাম একটি বিশেষ ধারাবাহিক লেখনীর সূচনা করবো আজ যা হবে দক্ষিনেশ্বর মন্দির নিয়ে|কথা রাখতে আজ শুরু করছি এই বিশেষ লেখা থাকবে মন্দির সংক্রান্ত প্রাচীন ইতিহাস, মন্দিরের সাথে জড়িত অসংখ্য গল্প প্রচলিত কিংবদন্তি|আলোচনা করবো ঠাকুর রামকৃষ্ণ, রানী রাসমণি, তোতাপুরী মহারাজ, বিবেকানন্দ ও ভগিনী নিবেদিতা কে নিয়ে|কারন এই বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা ও তাদের জীবন নানা ভাবে জড়িয়ে আছে এই বিশেষ তীৰ্থ ক্ষেত্রর সাথে তাই তাদের বাদ দিয়ে আলোচনা সম্ভব নয়|তবে এই বিস্তৃত আলোচনা মাত্র একটি পর্বে সম্ভব নয় কারন পেশা গত ব্যস্ততা ইদানিং কিছুটা বেড়েছে|টিভির অনুষ্ঠান, ইউটিউব এর অনুষ্ঠান সামলে অনলাইন ও চেম্বারে জ্যোতিষ চর্চা করে যেটুকু সময় পাবো লিখবো আপনাদের জন্য|মোট পাঁচটি পর্বে দক্ষিনেশ্বর নিয়ে আলোচনা করবো| আজ প্রথম পর্ব|

দক্ষিনেশ্বর সম্পর্কে জানতে হলে এই মন্দিরের রূপকার রানী রাসমণি সম্পর্কে আগে জেনে নেয়া ভালো|১৭৯৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর অধুনা উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হালিশহরের কোনা গ্রামে এক দরিদ্র কৃষিজীবী পরিবারে রাণী রাসমণির জন্ম হয়|মাত্র এগারো বছর বয়সে কলকাতার জানবাজারের ধনী জমিদার বাবু রাজচন্দ্র দাসের সঙ্গে তার বিবাহ হয়। তাদের চার কন্যা- পদ্মমনি,কুমারী,করুণাময়ী, জগদম্বা।পদ্মমণির স্বামী রামচন্দ্র দাশ, কুমারীর স্বামী প্যারিমোহন চৌধুরী,করুণার বিয়ে হয় মথুরবাবুর সাথে|১৮৩৬ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর রাসমণি দেবী স্বহস্তে তার জমিদারির ভার তুলে নেন এবং অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তা পরিচালনা করতে থাকেন|তিনি ছিলেন এক দানশীলা, কর্তব্যপরায়ণা ও ধার্মীক মহিলা|প্রজাকল্যানে ও ধর্মে কর্মে তিনি মুক্ত হস্তে বহু অর্থ ব্যয় করেছিলেন|তার অনন্য সাধারণ সৃষ্টি কর্ম গুলির মধ্যে অন্যতম অবশই দক্ষিনেশ্বর মন্দির|

হিন্দুদের কাছে অত্যান্ত পবিত্র ও জনপ্রিয় এই মন্দির তৈরির পেছনেও একটি ইতিহাস আছে|
সাল 1847 কলকতার জানবাজারের রানী রাসমণি কাশী যাবেন স্থির করলেন তীৰ্থ করার উদ্দেশ্যে|সঙ্গে যাবে অনেক গুলি নৌকা, দাস দাসী, আত্মীয় স্বজন|সব কিছুই প্রায় তৈরি কিন্তু মা কালীর ইচ্ছের উপর তো আর কেউ নন|যাত্রার আগের রাতেই ঘটলো এক অলৌকিক ঘটনা|রানীমাকে দেবী স্বপ্নাদেশ দিলেন যে তিনি যেনো গঙ্গার তীরে তার একটি মন্দির নির্মাণ করেন ও তাকে প্রতিষ্ঠিত করেন|স্থগিত রইলো যাত্রা|খোঁজ শুরু হলো গঙ্গার তীরে একটি আদর্শ স্থান তা পাওয়াও গেলো|এক ইংরেজ সাহেবের কাছ থেকে গঙ্গার তীরে একটি কুড়ি একরের জায়গা কিনে নেন রানীমা|শুরু হয় মন্দির তৈরির কাজ|

1847 সালে শুরু হয়ে মন্দির নির্মাণ শেষ হয় 1855 সালে|খরচ পড়েছিলো আনুমানিক প্রায় দশ লক্ষ টাকা|মন্দিরের উচ্চতা হয় একশো ফুটের বেশি|গৰ্ভ গৃহে সুদৃশ্য রুপোর পদ্মের উপর প্রতিষ্ঠিতা হন দেবী ভবতারিণী|তার চরন তলে বাবা মহাদেব|যা আজও দর্শন করতে আসেন হাজার হাজার ভক্ত দেশ বিদেশ থেকে|

মন্দির প্রতিষ্ঠা হলেও পুজো শুরুর আগে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় রানী রাসমণি কে কারন তিনি অব্রাহ্মন ছিলেন ব্রাহ্মণ পূজারী রা তাই জাত পাতের কথা তুলে শুরুতে পুজো করতে অস্বীকার করেন|অবশেষে পুজো করতে রাজি হলেন রামকুমার চট্টোপাধ্যায়|তিনি সঙ্গে নিয়ে এলেন তার ছোটো ভাই গদাধর চট্টোপাধ্যায় কে|এই ভাবে প্রথম মন্দিরে প্রবেশ করলেন ঠাকুর রামকৃষ্ণ যিনি পরবর্তীতে হয়ে উঠলেন প্রেমের ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংস|

আজ প্রথম পর্বে এটুকুই দক্ষিনেশ্বর নিয়ে এখনো অনেক কথা বলার আছে, অনেক কিছু জানার আছে জানবো সে সব কিছু আগামী পর্ব গুলিতে|পড়তে থাকুন, সঙ্গে থাকুন আর অবশ্যই যোগাযোগ রাখুন জ্যোতিষ ও তন্ত্র সংক্রান্ত কাজের জন্য|আপনাদের পন্ডিতজি সর্বদা আপনাদের পাশে আছে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ