শক্তি পীঠ : বিমলা

334

শক্তি পীঠ নিয়ে লেখালেখি আপনাদের বেশ ভালো লাগে তা আপনারা নানা ভাবে আমাকে জানিয়েছেন এবং আরো বেশি লিখতে উৎসাহিত করেছেন এজন্য আমি কৃতজ্ঞ|তবে আবার ব্যস্ত কর্ম জীবনে ফিরে আসার পর এবং নিয়মিত টিভির অনুষ্ঠানে হাজিরা দেয়া,ইউটিউব ও ফেসবুক লাইভ করা আর অনলাইন ও চেম্বারে ক্লাইন্ট দেখার পর লেখার জন্য সময়ের কিছুটা অভাব দেখা দিয়েছে|তবুও সময় পেলেই হাতে কলম তুলে নিই আপনাদের জন্য কারন এখনো অনেক গুলি শক্তি পীঠের কথা লেখা বাকি রয়েছে|আজ নিয়ে এসেছি শক্তি পীঠ বিমলা,আলোচনা করবো এই বিশেষ শক্তি পীঠ নিয়ে, বিস্তারিত ভাবে, সঙ্গে থাকুন|

উড়িষ্যা বা পুরীর কথা উঠলেই আমাদের মাথায় আসে প্রভু জগন্নাথের নাম, এমন বাঙালি কমই আছে যে একবার হলেও পুরী যায়নি, পুরীকে বলা হয় বাঙালির সেকেন্ড হোম|তবে অনেকেই হয়তো জানেন না বা সেই ভাবে লক্ষ্য করেন না যে এই পুরীর জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গনেই বিরাজ করছে একটি অন্যতম শক্তি পীঠ দেবী বিমলার মন্দির|জগন্নাথ মন্দির চত্ত্বরের দক্ষিণ পশ্চিম কোনে অবস্থান করছে দেবী বিমলার ছোট্ট কিন্তু সুন্দর এই মন্দির টি|শাক্ত ও তান্ত্রিক দের কাছে এই দেবী ও তার মন্দির অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ|মনে করা হয় দেবী বিমলা প্রভু জগন্নাথের রক্ষাকতৃ|জগন্নাথ দেবের পূজার পূর্বে দেবী বিমলার পূজা হয় এবং জগন্নাথ দেবের প্রসাদ বিমলা দেবীকে নিবেদন করার পর তা মহাপ্রসাদ হিসেবে গণ্য হয়|

কালিকা পুরাণ গ্রন্থে তন্ত্র-সাধনার কেন্দ্র হিসেবে যে চারটি প্রধান পীঠের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলি ভারতের চার দিকে অবস্থিত। এর মধ্যে পশ্চিম দিকের পীঠটি হল বিমলা দেবী পুরান মতে এখানে দেবী সতীর পা পতিত হয়েছিলো|এই পীঠের ভৈরব স্বয়ং জগন্নাথ কারন এখানে জগন্নাথদেব ও শিব অভিন্ন|এছাড়াও হেবজ্র তন্ত্র, মহাপীঠ নির্ণয় তন্ত্র, বামন পুরান, মৎস পুরান ও দেবী ভাগবত পুরান ইত্যাদি গ্রন্থেও এই শক্তি পীঠের উল্লেখ আছে|তন্ত্রগ্রন্থ কুব্জিকাতন্ত্র মতে, বিমলা ৪২টি সিদ্ধপীঠের একটি| নামাষ্টোত্তরশত গ্রন্থেও পুরুষোত্তমের বিমলার নাম পাওয়া যায়|যদিও এই পীঠের স্বরূপ এবং দেবীর দেহের কোন অংশ এখানে পতিত হয়েছিলো তা নিয়ে পন্ডিত দের মধ্যে ও কিছু গ্রন্থের মধ্যে কিঞ্চিৎ মত পার্থক্য ও বিরোধিতা আছে তবে এই শক্তি পীঠের অস্তিত্ব ও গুরুত্ব সর্বত্র স্বীকৃত|শঙ্করাচার্য বিমলা দেবীকে প্রতিষ্ঠা করে গোবর্ধন মঠ স্থাপন করেছিলেন|

মনে করা হয় বিমলা দেবীর মন্দিরটি জগন্নাথদেবের মন্দিরের থেকেও প্রাচীন|স্থাপত্য শৈলী ও প্রাচীনত্বের দিক থেকে বলা যায় সোমবংশী রাজবংশের রাজা যযাতি কেশরী এই মন্দিরটি নির্মাণ করিয়েছিলেন পরে তা সংস্কার হয় নানা সময়ে|এক কালে শৈব্য ও তান্ত্রিক দের প্রভাব এখানে বেশি ছিলো এমনকি দেবী কে আমিষ ভোগ ও দেয়া হতো পরে তা বন্ধ হয়|যদিও বিশেষ বিশেষ তিথিতে এখনো দেবী বিমলা কে আমিষ ভোগ নিবেদন করা হয়|জগন্নাথের মিনারের পশ্চিম কোনে বেলে পাথর ও ল্যাটেরাইট নির্মিত পূর্ব মুখী মন্দির টি অবস্থিত |মন্দিরটি চারটি অংশে বিভক্ত, সভা কক্ষ,গর্ভ গৃহ,উৎসব কক্ষ ও ভোগ বিতরন কক্ষ |পাশেই রয়েছে রোহিনী কুন্ড|বর্তমানে মন্দিরের রক্ষনাবেক্ষন এর দায়িত্বে রয়েছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া|

মন্দিরের কেন্দ্রীয় গর্ভগৃহে রাখা আছে দেবী বিমলার মূর্তিটি। দেবী এখানে চতুর্ভূজা। তাঁর তিন হাতে জপমালা,বরমুদ্রা ও অমৃতকুম্ভ। চতুর্থ হাতের বস্তুটি ঠিক কী, তা এখনো স্পষ্ট নয় | তবে দেবী দুর্গার যে মূর্তি আমরা সচরাচর দেখতে অভ্যস্থ, দেবী বিমলার মূর্তি আদৌ সে রকম নয়। শুধু দেবী পার্বতীর দুই সখি জয়া ও বিজয়াকে দেবী বিমলার দুই পাশে দেখা যায়। মূর্তির উচ্চতা ৪ ফুটের কিছু বেশি।বিমলা মন্দিরের বিমানটির উচ্চতা ৬০ ফুট|

প্রতি বছর আশ্বিন মাসে ষোলো দিন ধরে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হয়|নানান উৎসবের মধ্যে দুর্গাপূজা বিমলা মন্দিরের প্রধান উৎসব|দুর্গাপূজার শেষ দিন, অর্থাৎ বিজয়াদশমীতে পুরীর রাজা প্রথা মেনে বিমলাকে মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গা রূপে পূজা করেন|এই প্রথা চলে আসছে যুগ যুগ ধরে|

আজ শক্তি পীঠ বিমলা নিয়ে লেখা এখানেই শেষ করলাম|ফিরে আসছি শিগ্রই অন্য কোনো শক্তি পীঠের কথা নিয়ে, ততদিন চোখ রাখুন আমার ইউটিউব চ্যানেল ও টেলিভিশন এর অনুষ্ঠানে আর কেমন লাগছে জানাতে ভুলবেন না|জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আসতে চাইলে উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করবেন নির্দ্বিধায়, আমি ছিলাম, আছি, থাকবো|আপনাদের সাথে, আপনাদের পাশে|ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন|