Home Blog Page 49

গণেশ কুবের এবং চন্দ্র

গণেশ কুবের এবং চন্দ্র

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আসন্ন গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে আজ আরো একটি গণেশ দেবের মহিমা আপনাদের জন্য লিখবো।
আজকের এই পৌরাণিক ঘটনার প্রধান তিনটি চরিত্র হলেন গণেশ, কুবের এবং চন্দ্র।

সনাতন ধর্মে কুবের অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন দেবতা ছিলেন কারণ তিনি মহাবিশ্বের সমস্ত ধনসম্পদের অধীশ্বর।তার তার কাছে ছিল অগাধ গুপ্তধন এবং তার ভান্ডারে সবকিছুই ছিল যার জন্য তিনি খুবই গর্বিত ছিলেন।নিজের ধন সম্পদ ও বৈভব দেখানোর জন্য একদিন কুবের সমস্ত দেবতাদের নৈশভোজে আমন্ত্রণ করেন এবং তাদের মধ্যে শিব এবং পার্বতীও ছিলেন।কিন্তু তারা দুজনেই সেই ভোজ সভায় উপস্থিত না হয়ে তারা গণেশকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠান।গণেশ কুবেরের ব্যবহার লক্ষ্য করেন এবং সিদ্ধান্ত নেন তার গর্ব খর্ব করার।তিনি সমস্ত খাবারই দ্রুত খেয়ে ফেলেন এবং তার ফলে অন্যান্য আমন্ত্রিতদের জন্য কিছুই অবশিষ্ট থাকে না যদিও তাতেও তার ক্ষুধানিবৃত্তি হয়নি।তখন সে কুবেরের সঞ্চিত সম্পদ এবং ঐশ্বর্যগুলি খেতে শুরু করেন এর মধ্যে ছিল স্বর্ণ এবং অন্যান্য দামি বস্তু সমূহ। তাতেও তার পেট না ভরাতে তিনি কুবেরকে খেতে চান|নিজেকে বাঁচাতে সেইসময় কুবের কৈলাস পর্বতে দৌড়ে যান আশ্রয়ের খোঁজে এবং মহাদেবের কাছে স্মরণ নেন|মহেশ্বর গণেশের এই রূপ আচরনের প্রকৃত কারণ বুঝতে পেরে ক্ষুদার্থ গণেশকে তৎক্ষণাৎ অন্ন পরিবেশন করেন ।গণেশ সেই অন্ন গ্রহণের সাথে সাথে তার ক্ষুধা নিবৃত্তি ঘটে।তিনি শান্ত হয়ে কুবের দেবকে ছেড়ে দেন|ঘটনার পর কুবের বুঝতে পারেন লোভীর মতো সম্পদ গ্রহণ করা উচিত নয় এবং সেই সম্পদ নিয়ে গর্ব বা অহংকার অনুচিত তিনি সম্মত হন তার সমস্ত সম্পদ প্রয়জনে সকলের মধ্যে বিলিয়ে দিতে সম্মত হলেন।

গণেশ যখন কুবেরকে শিক্ষা দিছিলেন তখন আকাশ থেকে সমগ্র বিষয়টি দেখে চন্দ্র দেব হেসে ফেলেন এবং গনেশ এতে প্রচণ্ড রেগে যান এবং চন্দ্র দেবকে অভিশাপ দিয়ে বলেন গণেশ চতুর্থীর দিন চন্দ্রকে দেখতে পাবেন না কেউ যদিও বা
কেউ চন্দ্রকে দেখেন তা অশুভ বলে চিহ্নিত হবে।
এই ভাবে গণেশ একই সাথে কুবের এবং চন্দ্রকে দন্ড দিয়েছিলেন।

গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে বিশেষ পর্ব নিয়ে আবার ফিরে আসবো আগামী দিনে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা

শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সমাজে শিক্ষকদের ভূমিকায় সম্পর্কে শ্রদ্ধেয়

এ পি জে আবদুল কালাম বলেছিলেন, ‘যদি একটি দেশকে বা জাতীতে দুর্নীতিমুক্ত এবং উন্নত হতে হয়, তাহলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এ ক্ষেত্রে তিনজনের ভূমিকা সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তারা হলেন বাবা, মা এবং শিক্ষক।’

 

ভারতের প্রাচীন গুরু শিষ্য পরম্পরার দেশ। আমরা বিশ্বাস করি একজন মানুষের সফতার পেছনে শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন আদর্শ শিক্ষক কেবলমাত্র পড়াশোনার ক্ষেত্রে নয়, তিনি ছাত্রকে জীবনে চলার পথে পরামর্শ দেবেন, ব্যর্থতায় পাশে দাঁড়িয়ে উৎসাহ দেবেন, সাফল্যের দিনে নতুন লক্ষ্য স্থির করে দেবেন। তিনি তাকে শুধুমাত্র জীবনে সফল হওয়া নয়, কিভাবে একজন ভাল মানুষ হতে হয় শেখাবেন।

 

শিক্ষাবিদ ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তার গুণমুগ্ধ ছাত্র ও বন্ধুরা তাঁর জন্মদিন পালন করতে চাইলে তিনি বলেন ‘জন্মদিনের পরিবর্তে ৫ই সেপ্টেম্বর যদি শিক্ষক দিবস উদ্‌যাপিত হয় তবে আমি বিশেষরূপে অনুগ্রহ লাভ করবো।’ তাই আজও এই দিনটি শিক্ষক দিবস রূপে পালিত হয়।

 

আজ জাতীয় শিক্ষক দিবস এবং আদর্শ

শিক্ষক ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের জন্মদিন।

সকল শিক্ষককে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা এবং

শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা।

রহস্যময় এক গনেশ মন্দির

গণেশে চতুর্থী উপলক্ষে বিশেষ পর্ব

 

রহস্যময় এক গণেশ মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আসন্ন গণেশচতুর্থী উপলক্ষে আজ থেকে শুরু করছি গণেশকে ধারাবাহিক আলোচনা। আজ প্রথম পর্বে আপনাদের একটি রহস্যময় গণেশ মন্দিরের কথা লিখবো।কেনো রহস্যময় বলছি তা পড়লে বুঝতে পারবেন।

 

সিদ্ধিদাতা গণেশের মাথা ধর থেকে আলাদা হওয়ায় পরে কোথায় গেলো তা সত্যি এক রহস্য|আদি বিনায়ক মন্দিরে গণেশের যে আদি রূপ আছে সেই রূপে তার যে মাথা আমরা দেখতে পাই মাথা নাকি এই মর্তেরই এক মন্দিরে আছে।

 

শিব পুরাণ পড়লে জানা যায় মস্তক ছিন্ন করার পরে তা অপ্সরাগণ নিয়েছিলেন কিন্তু তারপর তা কোথায় গেল তার শিব পুরাণে বলা নেই।আবার”ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণের” ‘গণপতি খন্ডে’ উল্লেখ আছে গণেশের মুন্ড গোলকধাম এ চলে যায় শ্রী হরির কাছে। আর শ্রী হরির দেহের সঙ্গে সেই মস্তক মিশে যায়। গনপতি শ্রী হরির আরেক অংশ। তাই শ্রী হরির এই তেজ অর্থাৎ গণেশের কাটা মুন্ডু শ্রী হরির শরীরেই মিশে যায়।

 

একটি প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী ভারতের উত্তরাখণ্ডের পাতাল ভুবনেশ্বর মন্দিরে আছে গণেশের কেটে যাওয়া মুন্ড আর সেই মুন্ড পাহারা দিচ্ছেন স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেব।

 

উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে ভূবণেশ্বর গ্রাম‌। এই ভুবনেশ্বর মন্দিরের ভূগর্ভে একাধিক গুহা রয়েছে। আর এই একাধিক গুহা গুলি একটি জায়গায় গিয়ে মিলিত হয়েছে।জনশ্রুতি অনুযায়ী এই সকল গুহার মিলনস্থলে যে উঁচু পাথরের ঢিবিটি রয়েছে সেটি গণেশের মনুষ্য মুন্ড।বলা হয় এই মন্দিরে একজন মানুষ একবারই প্রবেশ করতে পারেন। তাই কোন মানুষ যদি এই মন্দিরের শ্রী গণেশের চ্ছেদ করা মুন্ড রাখার মূল স্থলে না গিয়ে মাঝপথ থেকে ফিরে আসেন তবে তিনি দ্বিতীয়বার আর ওই মন্দিরে প্রবেশ করতে পারেন না

 

আবার এমনটাও বলা হয় যে এই মন্দিরের গুহার দেওয়াল ধরে হাঁটলে পূণ্য অর্জন হয় এবং দুঃখ-দুর্দশা দূর হয়‌। সরযু, রামগঙ্গা ও গুপ্তগঙ্গার মিলনস্থলে গড়ে উঠেছে এই মন্দির। এই মন্দির প্রদক্ষিণ করলে পাপ ক্ষয় হয় বলেও অনেকে মনে করেন।শুদ্ধ মনে ভক্তি সহকারে এই মন্দির দর্শন করলে গণেশের কৃপায় সকল বিঘ্ন কেটে যায় বলেও অনেকে বিশ্বাস করেন।সব মিলিয়ে এক অজানা রহস্য ঘিরে আছে এই মন্দিরকে এবং এই রহস্যর কেন্দ্রে আছেন পার্বতী পুত্র গণেশ।

 

গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে আরো একটি বিশেষ পর্ব নিয়ে আগামী দিনে ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – হংস গেড়িয়ার কালী মন্দির

কালী কথা – হংস গেড়িয়ার কালী মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

মগরাহাটের গোখুণ্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতে মধ্যে পড়ে হংসগেড়িয়া গ্রাম। বহু কাল আগে এই অঞ্চল ছিলো দক্ষিণ সুন্দরবনের অংশ। সেই সময়ে

এই গ্রাম ছিল হেতাল, গড়ান, গেঁওয়া গাছে ঘেরা আর হিংস্র জীব জন্তুর আস্তানা। তার সাথে ছিলো ডাকাতের ভয় সেই সময়ে সেই সময়

থেকেই হংসগেড়িয়ার শ্মশানে দেবী কালীর অধিষ্টান।

 

গভীর জঙ্গলের মধ্য থেকে পাওয়া দু ফুট

পাথরের মা কালীর প্রথম পুজো করেন তান্ত্রিক কৈলাস পণ্ডিত।সেই সময়ে আদিগঙ্গার তীরে বটগাছের কোঠরে বাস করতেন পণ্ডিত কৈলাস । জঙ্গল থেকে আবির্ভাব হয় পাথরের কালী মূর্তির। পরে সেই মা কালী কৈলাস পণ্ডিতের হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হন। এমনই মানুষের বিশ্বাস।এই স্থানে পঞ্চ মুন্ডির আসনে বসে তন্ত্র সাধনা করতেন কৈলাশ পন্ডিত। বহু জটিল সাধনায় সিদ্ধি লাভ করে তিনি হয়ে উঠেছিলেন অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী।

 

এই কৈলাশ পন্ডিত পরবর্তীতে বীরভূমে গিয়ে তারাপীঠে তন্ত্র সাধনা শুরু করেন এবং তার খ্যাতি ছড়িয়ে পরে চারদিকে। তার শিষ্য হন স্বয়ং বামা ক্ষেপা।

 

তবে সেই কালী পুজো কখনো বন্ধ হয়নি

ভক্তের ভক্তি আর বিশ্বাস থেকে চলে আসছে হংসবেড়িয়া মহাশ্মশানের কালী আরাধনা। বছরের প্রতিদিনই কালী ভক্তের সমাগম থাকলেও  হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে অমাবস্যা

তিথি গুলিতে।

 

পার্শবর্তী বনসুন্দরী নিবাসি এক ধনী ব্যাবসায়ী ১৩৬৬ সালে নির্মাণ করেন ৬ ফুট উচ্চতার মা কালীর মূর্তি । নির্মিত হয় মন্দিরও। আজও নির্মিত মূর্তির পাশে বিরাজমান পাথরের ২ ফুট কালী।

বর্তমানে তান্ত্রিক পরম্পরা মেনে সেবায়েতরা সব দেখাশোনা করেন।দীপান্বিতা অমাবস্যায় পঞ্চমুণ্ডি আসনে পুজোর পর শুরু হয় দেবীর আরাধনা। আজও আদি গঙ্গা থেকেই তোলা হয় পুজোর জল।বেল গাছ, অশ্বথ্থ গাছ, নিম গাছ তিনটি গাছের নিচে থাকা পণ্ডিত কৈলাসের বেদিতে পুজোর পর শুরু হয় কালী আরাধনা। দৈনন্দিন পুজো হয় এখানে।  বলি প্রথা নেই এই মন্দিরে। পুজো ঘিরে উৎসব মুখর হয় গ্রামের মানুষ।  মনস্কামনা পূর্ণ করতে কেবল দক্ষিন সুন্দরবন নয়। দুর দুর থেকে হাজার হাজর ভক্তরা

আসেন হংসগেড়িয়ার মা কালীর কাছে।

 

আবার পরের পর্বে এমনই এক প্রাচীন এবং

ঐতিহাসিক কালী মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে

ফিরে আসবো।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – মহাকালী 

কালী কথা – মহা কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলা হলো শক্তি সাধনার আদি ভূমি। তাই বাংলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য কালী মন্দির। দেবী বিভিন্ন রূপে বিরাজ করছেন বিভিন্ন স্থানে। আজ আজ কালী কথায় আপনাদের যে দেবীর কথা বলবো তিনি দশ মাথা

বিশিষ্ট মহা কালী এবং এই পুজো হয় মালদায়।

 

দেবীর এই রূপে পূজিতা হন মালদার ইংরেজ বাজার এলাকায়।শাস্ত্রে দেবীর এই রূপ মহাকালী নামে পরিচিত।মালদার এই পুজোর ইতিহাস বেশ রোমাঞ্চকর এবং কিছু রীতি নীতি বেশ অদ্ভুত। আজও প্রথা মেনে দিনের আলোয় পূজিতা হন দশ মাথা কালী। বলি প্রথা আজও আছে এবং শোল মাছের টক বিশেষ প্রসাদ হিসেবে চলে আসছে বহু দিন থেকে।এই দেবী খুবই জাগ্রত বলে মানুষের বিশ্বাস।

 

দেবীর ১০ মাথা, ১০ হাত এবং ১০ পা রয়েছে। প্রতিমায় শিবের কোন অস্তিত্ব নেই। দেবীর পায়ের তলায় রয়েছে অসুরের কাটা মুণ্ডু।কিছু ধর্ম শাস্ত্রে এই রূপের উল্লেখ থাকলেও দেবীর এই রূপের পুজোর প্রচলন খুব একটা হয়নি।শোনা যায় বিহারের বিন্দুবাসিনীতে পাহাড়ের গায়ে প্রাচীন যুগে খোদাই করা রয়েছে এই মূর্তি।

 

তখন ১৯৩০ সাল, দেশে তখন শাসন করছে ইংরেজরা।সারা দেশের সাথে মালদহে চরম অত্যাচার চালিয়েছিল ব্রিটিশ সরকার।ব্রিটিশের অত্যাচারের বিরুদ্ধে মানুষজন বিদ্রোহ করার সিদ্ধান্ত নেন। তখন নিজেদের মধ্যে শক্তি আর সাহস বৃদ্ধি করতে শুরু হয় এই কালীপুজো।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে যেখানে মহাকালীর মন্দির রয়েছে, সেখানে তন্ত্র সাধনা করতেন এলাকার এক তন্ত্র সাধক।সাধনার জন্য তৈরি করেন পঞ্চমুণ্ডির আসন। সেই আসনের ওপরে দেবীর বেদি নির্মিত হয়েছে। আজও তন্ত্র মতেই দেবীর পুজো হয়।

 

প্রতিবছর কালী পুজোয় প্রথা মেনে এখানে শোভাযাত্রা সহকারে মন্দির পর্যন্ত মাকে নিয়ে যাওয়া হয়। দেবীর পুজো দেখতে আসেন দূর দূরান্তর মানুষ।মালদা সহ গোটা উত্তর বঙ্গের মানুষের কাছে এই দেবীর বিশেষ মাহাত্ম রয়েছে।

 

আবার ফিরে আসবো কালী কথার পরের পর্বে।

সামনেই কৌশিকী অমাবস্যা তাই চলতে

থাকবে কালী কথা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বিশেষ পর্ব – কৌশিকী অমাবস্যা এবং তন্ত্র সাধনা

বিশেষ পর্ব – কৌশিকী অমাবস্যা এবং তন্ত্র সাধনা

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আগের পর্বে আপনাদের দেবী কৌশিকীর মাহাত্ম শুনিয়ে ছিলাম আজকের এই বিশেষ পর্বে আপনাদের জানাবো কেনো কৌশিকী অমাবস্যা এতো গুরুত্বপূর্ণ এবং জ্যোতিষ বা তন্ত্রে কৌশিকী অমাবস্যার ভূমিকা কি।

শাস্ত্র মতে এই কৌশিকী অমাবস্যা বছরের আর বাকি অমাবস্যাগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ।
এই অমাবস্যায় গোটা ব্রহ্মাণ্ডের দশ মহাবিদ্যার দ্বিতীয় মহাবিদ্যা ‘তারা দেবী’কে ‘মহাকালী’ রূপে আহ্বান করা হয়। কথিত আছে, এই দিনেই নাকি সাধক শ্রেষ্ঠ বামাক্ষ্যাপা তাঁর ‘বড় মা’ অর্থাৎ ‘তারা দেবী’র দর্শন পেয়ে ছিলেন এবং এই তিথিতেই তারাপীঠের মহাশ্মশানের শ্বেতশিমূল গাছের তলায় বসে সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন তিনি।

বলা হয়, এই দিনে কোনও ভক্ত ‘তারা দেবী’কে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করলে তার মনঃস্কামনা পূর্ণ হয়।প্রতিবছরই কৌশিকী অমাবস্যারা দিনে বীরভূমের তারাপীঠ মন্দিরেও ‘মহাকালী’র আহ্বান করা হয়।
এবং দেবী তারার বিশেষ পুজো করা হয়।

কথিত রয়েছে কৌশিকী অমাবস্যায় বিভিন্ন তন্ত্র এবং গুপ্ত সাধনা করলে, মেলে আশাতীত ফলাফল। এছাড়া বৌদ্ধ মতেও এই দিনের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। অনেকেই এই কৌশিকী অমাবস্যার রাতকে ‘তারা রাত্রি’ বলে থাকেন। বলা হয়, তন্ত্রের ধনাত্মক ও ঋণাত্মক শক্তি দিয়ে এই রাতে সাধক চাইলে স্বর্গ ও নরক যেকোনও দিকেই যেতে পারেন। তবে তা নির্ভর করে তাঁর সাধনার ওপর।

এই তিথি তন্ত্র ও জ্যোতিষ জগতের জন্যে অত্যান্ত তাৎপর্য পূর্ণ তিথি|যারা বিভিন্ন গ্রহগত দোষের ফলে জীবনে পিছিয়ে পড়ছেন|চাকরি ব্যবসা শিক্ষা ও শরীর সংক্রান্ত সমস্যায় ব্যাতিব্যাস্ত তারা যদি তন্ত্র ও শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন করিয়ে সমস্যার সমাধান চান তাহলে কৌশিকী অমাবস্যা তাদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সময়।

দেবী কৌশিকী যেমন এই তিথিতে অবির্ভুতা হয়ে অসুরদের নাশ করেছিলেন তেমনই এই তিথিতে বিশেষ হোম যজ্ঞ এবং পুজো পাঠের মাধ্যমে করা গ্রহের প্রতিকার সব অশুভ প্রভাবকে নাশ করে জীবনের সব বাঁধা বিপত্তি দুর করতে সক্ষম।

ফিরে আসবো আগামী পর্বে। থাকবে আরো একটি বিশেষ পর্ব। চলত থাকবে আধ্যাত্মিক এবং শাস্ত্রীয় আলোচনা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বিশেষ পর্ব – দেবী কৌশিকীর মাহাত্ম 

বিশেষ পর্ব – দেবী কৌশিকীর মাহাত্ম

 

পন্ডিতজি ভৃগুর শ্রীজাতক

 

বছরের যত গুলো অমাবস্যা আমরা পালন করি তার মধ্যে ভদ্র মাসের কৌশিকী অমাবস্যা একটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ তিথি।আধ্যাত্মিক দৃষ্টি ভঙ্গী থেকে এবং তন্ত্র সাধনার প্রেক্ষাপটে কৌশিকী অমাবস্যার তাৎপর্য অপরিসীম। কৌশিকী অমাবস্যার ঠিক প্রাক্কালে আজকের এই বিশেষ পর্বে আসুন জেনে নিই কে এই দেবী কৌশিকী এবং শাস্ত্রে তার সম্পর্কে কি কি তথ্য আছে।

 

শ্রীশ্রীচণ্ডীতে বর্ণিত মহা সরস্বতী দেবীর কাহিনীতে বলা আছে পুরাকালে একবার শুম্ভ ও নিশুম্ভ কঠিন সাধনা করে ব্রহ্মাকে তুষ্ট করলে চতুরানন তাঁদের বর দেন, কোনও পুরুষ তাঁদের বধ করতে পারবেন না৷ শুধু কোনও অ-যোনি সম্ভূত নারী তাঁদের বধ করতে পারবেন। অর্থাৎ এমন এক নারী, যিনি মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম নেননি, তাঁর হাতেই এই দুই অসুর ভাই-এর মৃত্যু হবে|

 

অন্যদিকে পূর্ব জন্মে পার্বতী যখন সতী রূপে দক্ষ যজ্ঞ স্থলে আত্মাহুতি দেন, তার কারণে এই জন্মে ওঁর গাত্র বর্ণ কালো মেঘের মতো। তাই ভোলানাথ তাঁকে কালিকা ডাকতেন। একদিন দানব ভাইদের দ্বারা পীড়িত ক্লান্ত দেবতারা যখন কৈলাশে আশ্রয় নিলেন, শিব সব দেবতাদের সামনেই পার্বতীকে বললেন, “কালিকা তুমি ওদের উদ্ধার করো।” সবার সামনে ‘কালী’ বলে ডাকায় পার্বতী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ, অপমানিত ও ক্রোধিত মনে মানস সরোবরের ধারে কঠিন তপস্যা করলেন।

 

তপস্যান্তে শীতল মানস সরোবরের জলে স্নান করে নিজের দেহের সব কালো পরিত্যাগ করলেন ও পূর্ণিমার চাঁদের মতো গাত্র বর্ণ ধারণ করলেন।দেবীর দেহ হতে নির্গত ওই কালো কোশিকাগুলি থেকে এক অপূর্ব সুন্দর কৃষ্ণবর্ণ দেবীর সৃষ্টি হয়। ইনি দেবী কৌশিকী| এই কৌশিকী অমাবস্যার তিথিতেই দেবীর উৎপত্তি হয় এবং তিনি শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করেন। তাই এই অমাবস্যার নাম কৌশিকী অমাবস্যা|

 

মৎস পূরাণ এবং মার্কন্ডেয় পূরাণে বলা হয়,অত্যাচারি অসুর দ্বয় শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করতে দেবী পার্বতী সাধনা শুরু করেন। তপস্যার পর, নিজের শ্বেতশুভ্র গায়ের রঙ পরিত্যাগ করে ,উজ্জ্বল কালো বর্ণে ভয়াল রূপ ধারণ করেন দেবী। সেই রূপে দেবী পার্বতী হয়ে ওঠেন ‘কৌশিকী’। আর এই কৌশিকীই অমাবস্যার এক বিশেষ কালক্ষণে দেবী বধ করেন শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামের দুই অসুরকে। সেই কালক্ষণকে স্মরণ করেই অনুষ্ঠিত হয় কৌশিকী অমাবস্যার পূজা।

 

সহজ ব্যাখ্যায় কৌশিকী অমাবস্যা অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির জয়কে উদযাপন করার একটি ধর্মীয় উৎসব যা মহাসমারোহে পালিত হয়ে আসছে দেশের শক্তি উপাসকদের দ্বারা যুগ যুগ ধরে|শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনের ক্ষেত্রে এই অমাবস্যা অন্যান্য সব অমাবস্যার থেকে অনেকটাই এগিয়ে।

কারন কৌশিকী অমাবস্যার একটি বিশেষ মুহূর্তে সাধকের করা তন্ত্র সাধনা সব দিক দিয়ে সফল হয় এবং দেবী কৌশিকীর আশীর্বাদে সব

অন্ধকার দুর হয়।যুগ যুগ ধরে এমনটাই হয়ে আসছে।

 

আবার পরের পর্বে কৌশিকী অমাবস্যা সংক্রান্ত কিছু শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা থাকবে।

থাকবে জ্যোতিষ এবং তন্ত্র জগৎ নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – আদ্যা কালী 

কালী কথা – আদ্যা কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের কালী কথায় আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি বাংলা তথা দেশের অন্যতম জাগ্রত এবং প্রসিদ্ধ কালী ক্ষেত্র আদ্যাপীঠের কথা।

 

দক্ষিনেশ্বর মন্দিরের কিছুটা দূরেই অবস্থিত এই আদ্যাপীঠ মন্দির যেখানে বিরাজ করছেন আদ্যা কালী।ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেবের প্ৰিয় শিষ্য অন্নদা ঠাকুর অর্থাৎ অন্নদা চরণ ভট্টাচার্য এই মন্দির নির্মাণ করেছিলেন তার গুরুদেব অর্থাৎ রামকৃষ্ণ দেবের আদেশে|

 

ঠাকুর তার ভক্ত ও শিষ্য অন্নদা ঠাকুরকে নির্দেশ দিয়ে ছিলেন কলকাতার একটি দীঘি থেকে দেবী মূর্তি উদ্ধার করে নিয়ে এসে দক্ষিনেশ্বর এর অদূরে আরিয়া দহে এক মন্দির নির্মাণ করতে এবং শর্ত ছিলো বারো বছরের মধ্যে মন্দির নির্মাণ সম্পন্ন করতে হবে না হলে সর্ব সাধারণের জন্য মন্দিরের দ্বার উন্মুক্ত থাকবেনা|অন্নদা ঠাকুর আদেশ পালন করে ছিলেন কিন্তু বারো বছরের জায়গায় পঁয়ত্রিশ বছর লেগে ছিলো মন্দির নির্মাণ সম্পূর্ণ করতে|তাই আজও সর্ব সাধারণের জন্য মুল মন্দিরের দ্বার বন্ধই আছে|

 

ঠাকুর রামকৃষ্ণ ও অন্নদা ঠাকুরের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই মন্দির 10 কাটা জমির উপর নির্মিত তবে প্রায় 27 বিঘা জমি জুড়ে রয়েছে আদ্যাপীট সংঘ|মুল মন্দির প্রায় একশো ফুট উঁচু|সামনে রয়েছে সু দৃশ্য নাট মন্দির|প্রতিদিন দুপুরে ও সন্ধ্যায় মা আদ্যার আরতি হয় এই সময় ছাড়া বন্ধ থাকে মন্দিরের প্রধান দরজা|তবে সর্ব সাধারণ কে দেবীর দর্শন করতে হয় সামনের নাট মন্দির থেকে কারন মুল মন্দিরে সর্ব সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ|মুল মন্দিরে আদ্যা শক্তির অষ্ট ধাতুর মূর্তি রয়েছে এবং তার নিচে রয়েছে রামকৃষ্ণ দেবের মূর্তি|এছাড়াও মন্দিরের পশ্চিম প্রান্তে রয়েছে ছয় টি আটচালা শিব মন্দির।

 

কথিত আছে এক রাম নবমীর রাতে মা আদ্যা শক্তি অন্নদা ঠাকুর কে দর্শন দিয়েছিলেন এবং আদ্যা স্তোত্র পাঠ করে শুনিয়েছিলেন এবং অন্নদা ঠাকুর এই আদ্যা স্তোত্র লিখে রাখেন যা আজও পাঠ করা হয় মন্দিরে।

 

অন্নদা ঠাকুর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণ সংঘ মন্দিরের পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।

প্রতি বছর আদ্যা নবমী তে মন্দিরে বিশেষ পূজা এবং কালী পূজা উপলক্ষে মহা পূজার আয়োজন করা হয়|প্রতিদিন দেবী কে সাড়ে বাইশ সের চালের অন্ন ভোগ ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবকে সাড়ে বারো সের চালের অন্ন ভোগ দেয়া হয় আদ্যাপিঠে|

 

চলতে থাকবে কালী কথা ফিরবো আগামী পর্বে কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে বিশেষ পর্ব

নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – সিঙ্গুরের ডাকাত কালী

কালী কথা – সিঙ্গুরের ডাকাত কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

এককালে হুগলি ছিলো ডাকাতদের জন্য বিখ্যাত। এই জেলার সিঙ্গুরের কাছেই আছে এক প্রাচীন ডাকাত কালীমন্দির যেখানে এককালে ডাকাতদের দ্বারাই পূজিতা হতেন দেবী।আজকের কালী কথায় এই ডাকাত কালীর কথাই জানাবো।

 

প্রাচীন সরস্বতী নদীর তীরে অবস্থিত সিঙ্গুর এককালে বেশ সমৃদ্ধ অঞ্চল ছিল। তার আদি নাম ছিল সিংহপুর। এখানে রাজত্ব করতেন মহারাজা সিংহবাহু। তাঁর নামানুসারেই রাজধানীর নাম হয় সিংহপুর যা পরবর্তীতে লোক মুখে বিকৃত হয়ে সিঙ্গুর হয়।

 

সিঙ্গুরের ডাকাত কালীমন্দির সুপ্রাচীন তাতে সন্দেহ নেই। ডাকাতদের প্রতিষ্ঠিত পুজো বলেই মায়ের নাম ডাকাত কালী। এই মন্দিরে ডাকাত সনাতন বাগদি ডাকাত কালী পুজো করতেন। মনে করা হয় প্রাচীন ডাকাতকালী মন্দিরের তিনিই ছিলেন শেষ সেবক। তাঁর মৃত্যুর পরে পরেই এই মন্দিরের নিত্যপুজো বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে রঘু ও গগন ডাকাত ঘট স্থাপন করে আবার সেই মন্দির চত্তরে মা কালীর পুজো শুরু করেছিলেন।

 

নিয়মিত শ্যামা মায়ের পুজো দিত তারা। কালী পুজো দিয়ে তবেই বের হত ডাকাতি করতে। খুনজখম লুঠতরাজ শেষে ফিরে এসে ডাকাতি করা সামগ্রী সব অর্পণ করত মায়ের চরণে। সেই সেই সময়ে তন্ত্রমতে পুজো হত মায়ের। হত নরবলিও যা নিয়ে এলাকায় অনেক কিংবদন্তী প্রচলিত আছে।

 

এখনো স্থানীয়রা এই ডাকাত কালীকে এতটাই জাগ্রত মনে করেন যে মন্দিরের নিত্যপুজো ছাড়া আশেপাশের তিনটি গ্রামে আর কোনও কালীমূর্তির পুজো হয় না। মূর্তি তো দূরের কথা, গ্রামের কোনও বাড়িতে মা কালীর ছবি লাগানো ক্যালেন্ডারও টাঙায় না কেউ।

 

সনাতন ডাকাত গোষ্ঠী দ্বন্দে মারা যাওয়ার পর কিছুকাল পুজো বন্ধ থাকে পরবর্তীতে আবার মন্দির প্রতিষ্ঠা হয় এবং পুজো শুরু হয় মায়ের স্বপ্নাদেশে। কোনও এক সময় পাশের গ্রামের এক অবস্থাপন্ন গৃহস্থ চাষের সামগ্রী নিয়ে বেচাকেনার জন্য শেওড়াফুলি হাটে যাচ্ছিলেন। গরুর পিঠে শস্য বোঝাই করে সিঙ্গুরের ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ক্লান্ত অবসন্ন হয়ে গাছের ছায়ায় বসে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। ঘুমের মধ্যেই মা ডাকাত কালী তাঁকে স্বপ্ন দেন বাড়ি ফিরে যেতে এবং ওই স্থানে তাঁর মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে।তিনি বাড়ি ফিরে গিয়ে গ্রামের সবাইকে ডেকে ঘটনাটি বলেন। যে শস্যের বস্তা বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল তিনি

সেই বস্তায় সোনার মোহর পাওয়া যায়। তা দিয়েই দেবীর ইচ্ছানুসারে তৈরি করা হয় একচালার ছোট মন্দির। এই ঘটনার কিছুকাল পরে বর্ধমানের রাজাকে মা স্বপ্ন দেন বড় মন্দির গড়ে পুজোর ব্যবস্থা করতে। স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুজোর জন্য জমি দান করেন বর্ধমানের রাজা। সেবাইত রেখে দেবীর নিত্যপূজার ব্যবস্থা করা হয়। সেই সেবাইতের বংশধরেরা এখনও পুজো চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

প্রাচীনকালে টেরাকোটার কাজ থাকলেও আজ তা বিলুপ্তপ্রায়। মন্দিরের সামনে রয়েছে নাটমন্দির। তবে এই মন্দিরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় গর্ভগৃহের কাঁঠাল কাঠের তৈরি দরজাটি। কারুশিল্পের সুন্দর নিদর্শন এই প্রাচীন দরজা।

প্রসঙ্গত বলে রাখি এইস্থানেই ডাকাতদের হাতে বন্দি হয়েছিলেন মা সারদা এবং তার স্বরূপ বুঝতে পেরে ডাকাতরা তাকে স্বসম্মানে তার গন্তব্যে পৌঁছে দেন।

 

ফিরে আসবো কালী কথার পরবর্তী পর্বে। থাকবে বাংলার অন্য এক ঐতিহাসিক কালী পুজো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিশেষ পর্ব – কৃষ্ণ কালী

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিশেষ পর্ব – কৃষ্ণ কালী

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শ্রী কৃষ্ণের এমন এক লীলার কথা আপনাদের বলবো যেখানে শ্রী কৃষ্ণ স্বয়ং দেবী কালীর রূপ ধরে ছিলেন।তার এই বিশেষ রূপ কে বলা হয় কৃষ্ণ কালী।

বৃন্দাবনের কুঞ্জবনে কৃষ্ণের বাঁশি শুনে ঘর ছেড়ে রোজ বেরিয়ে যান রাধা। নীরবে ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে মিলিত হন কৃষ্ণের সঙ্গে। কেউ কিছু জিগেস করলে বলতেন তিনি কালিন্দী নদীর ধরে শ্যামা মায়ের পুজো করতে যান। প্রসঙ্গত বলে রাখি এই শ্যামা মা অর্থাৎ দেবী কালী রাধার স্বামী আয়ানের পরিবারের ইষ্ট দেবী। তাই তারাও বিষয়টি সহজ ভাবে মেনে নেন।

কিন্তু একদিন রাধার দুই সহচরি জটিলা কুটিলা
আসল কথাটা তুলে দিল রাধার স্বামী আয়ানের কানে। ক্রুদ্ধ আয়ান রাধাকে হাতেনাতে ধরতে ।সারাদিন তিনি তক্কে তক্কে থাকলেন এবং রাধা বেরোলেই তিনি তাঁর পিছু নেন।কিন্তু ভগবান কৃষ্ণ সর্ব জ্ঞানী। তার কাছে আয়ানের এই আগমন বার্তা গোপন রইল না। তিনি সেদিন রাধা আসতেই তাঁকে বললেন, যা বলছি করো, তুমি দ্রুত আমাকে লতাপাতা ফুল-ফল দিয়ে সাজিয়ে দাও। আর আমার পায়ের কাছে ভক্তের মতো বিনীত ভাবে বসে থাকো।

শ্রী রাধা প্রশ্ন না করে কৃষ্ণর কথা মতো দ্রুত সবটা করলেন।তারপর চোখের পলকে শ্যাম পরিবর্তিত হলেন শ্যামায়।তার নিজের দ্বিভুজ দেহ একেবারে চতুর্ভুজ রূপ হয়ে গেল। তার উন্মুক্ত কেশ রাশি দুলতে আরম্ভ করলো । তাঁর গলায় থাকা পদ্মের মালা খানি নৃমুণ্ড মালার রূপ নিলো।বাঁশি হল খরগ এবং কপালের তিলক চন্দ্র রূপে শোভা পাচ্ছিলো।তিনি কৃষ্ণ থেকে কালীতে সম্পূর্ণ
ভাবে রূপান্তরিত হন। তিনি তখন আর কৃষ্ণ নন তিনি হয়ে গেছেন কৃষ্ণ কালী।

আয়ান এসে দেখলেন ঘন বনের মধ্যে এসে তাঁর বউ রাধা তাঁরই ইষ্টের আরাধনা করছেন! তাঁর মনটা আনন্দে ভরে গেল। তিনি রাধার আচরণে খুশিই হলেন এবং নিজের ইষ্ট দেবী শ্যামাকে দর্শন
করে ধন্য হলেন।

এই বিশেষ কালী রূপ কৃষ্ণ কালী রূপে বহু স্থানে পূজিত হয়। বৈষ্ণব এবং শাক্ত দর্শনের অপূর্ব সমম্মিলিত রূপ হলেন কৃষ্ণ কালী যা ভগবানের অদ্ভুত এক লীলার প্রকাশ।সংক্ষেপে এই কৃষ্ণ কালী রূপ প্রমান করে দেয় যিনি কৃষ্ণ কালী তিনিই কালী সব ভেদাভেদ এবং তর্ক বিতর্ক অর্থহীন।

সবাইকে জানাই জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। আজ এই পর্ব এখানেই শেষ করছি। আবার ফিরে আসবো কালী কথা নিয়ে।
যথা সময়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।