Home Blog Page 49

ভক্তের ভগবান – হনুমান ভক্ত নীম কারোলি বাবা

ভক্তের ভগবান – হনুমান ভক্ত নীম কারোলি বাবা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ভারতের আধ্যাত্মিক সাধক বা গুরুস্থানীয় ব্যাক্তিরা তাদের জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনা দিয়ে এমন সব দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে যা বহিঃবিশ্বের কাছে আজও এক রহস্য|এমনই এক রহস্যময় সাধক ও গুরু ছিলেন নিম কারোলি বাবা যার ভক্ত তালিকায় রয়েছে ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ, অ্যাপেল প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জোবস আবার ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি শঙ্কর দয়াল শর্মা থেকে বর্তমান রাষ্ট্রনায়কদের অনেকেই তার গুনমুগ্ধ।এই নীম কারোলি বাবা ছিলেন বজরংবলীর পরম ভক্ত। অনেকেই তাকে সাক্ষাৎ বজরংবলীর অবতার বলে মনে করতেন।

 

ব্রিটিশ ভারতে উত্তর প্রদেশের ফিরোজাবাদে জন্মেছিলেন এই মহা পুরুষ, প্রথম জীবনে বিবাহ করে সংসার ও শুরু করেছিলেন কিন্তু হটাৎ একদিন সব ছেড়ে ঈশ্বর অনুসন্ধানে বেরিয়ে পড়লেন তিনি, বহু স্থান ঘুরলেন শেষে উত্তরা খন্ডের কাঁচি ধামে নিজের ছোট্ট একটি হনুমান মন্দির স্থাপন করে আধ্যাত্মিক সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত করলেন|

 

বহু অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ আছে তার সারা জীবন জুড়ে, একবার আশ্রম ভ্রমণে আশা

এক সধারণ রাজনীতিবিদকে তিনি দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার আশির্বাদ দিয়ে বসেছিলেন|পরবর্তীতে আশ্চর্যজনক ভাবে সেই নেতা ভারতের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন, তিনি আর কেউ নন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি শংকর দয়াল শর্মা|তিনি আজীবন মানতেন বাবার আশীর্বাদেই তার এই সাফল্য|একটি প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে একবার বাবাকে ট্রেনে তুলতে অস্বীকার করে কোনো ব্রিটিশ কর্মচারী তারপর বহু চেষ্টা করেও এক চুল ও গড়ায়নি ট্রেনের চাকা|বাবার ইচ্ছায় তা আবার চলতে শুরু করেছিলো|এমন অসংখ্য ঘটনা আছে|

 

বাবা জন সমক্ষে খুব কমই আসতেন , খুব একটা পছন্দ করতেন না মানুষের ভিড়|সর্বক্ষণ তার শরীর ঢাকা থাকতো একটি বড়ো চাদরে|কেনো তা কেউ জানেনা|বাবার আচরণ ও দৈহিক কিছু বিষয় দেখে অনেকেই বাবা নিম কারোলিকে বজরংবলীর অংশ বা তার অবতার জ্ঞানে পূজা করতো|আবার কথিত আছে যে কয়জন হাতে গোনা সৌভাগ্যশালী বজরংবলির সাক্ষাৎ দর্শন পেয়েছিলেন বাবা নীম কারোলি তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন|আজীবন তিনি প্রচার থেকে দূরে|নিভৃতে নির্জনে থাকতে পছন্দ করতেন|সদা ব্যাস্ত থাকতেন রাম নামে|

 

মহান এই সাধক এবং হনুমানজীর ভক্ত 1973 সালে পরলোক গমন করেন|বর্তমানে দেশে এবং বিদেশের মাটিতে 108 টি মন্দির রয়েছে নিম কারোলি বাবার|রয়েছে অগণিত ভক্ত শিষ্য

 

আবার ভক্তের ভগবান নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে থাকবে আরো এক মহান

ভক্ত এবং তার সাধনার কথা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – কালী ভক্ত রামানন্দ গোস্বামী

ভক্তের ভগবান – কালী ভক্ত রামানন্দ গোস্বামী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সোমবতী বকুল অমাবস্যা বা পৌষ অমাবস্যার পুন্য তিথিতে আজ প্রসিদ্ধ তন্ত্র সাধক এবং কালী ভক্ত রামানন্দ গোস্বামীর কথা জানাবো।

 

আজ থেকে প্রায় সাতশো বছর আগে তন্ত্র মতে কালী পূজা শুরু করেন রামানন্দ গোস্বামী।

তাঁর সাধনার স্থান ছিল কাশ আর বেতবনে ঘেরা শ্মশান।তিনি ছোটবেলা থেকে কালী মায়ের একনিষ্ঠ সাধক ছিলেন । যদিও রামানন্দ গোস্বামীর পিতা কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত হওয়ার জন্য পুত্রের কালী-মা ভক্তি মোটেই পছন্দ করতেন না ।দীর্ঘ সময় কঠোর সাধনা করে মায়ের দর্শন পেয়ে ছিলেন রামানন্দ গোস্বামী । মায়ের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন ঠাকুর রামানন্দ।সেই শ্মশানের মধ্যে পঞ্চমুন্ডীর আসন প্রতিষ্ঠা করে মায়ের মন্দির তৈরী করেছিলেন তিনি। সেই পুজো আজ বিখ্যাত এই কালী পুজোর রূপ নিয়েছে।

 

তার শৈশবের সময় থেকেই বহু অলৌকিক ঘটনার কথা শোনা যায়। একবার সাধক রামানন্দ যখন সেই শ্মশানে ধ্যানে মগ্ন তখন পাড়ার কেউ তাঁর বাবাকে এই খবর দিয়েছেন । তাঁর কৃষ্ণভক্ত বাবা সাথে সাথে শ্মশানে আসেন কিন্তু শুধু কৃষ্ণ ছাড়া তিনি আর কিছুই দেখতে পাননি । ভক্তকে রক্ষা করতে স্বয়ং মা কালী কৃষ্ণ রূপে দেখা দিয়ে ছিলেন বলে মনে করা হয়।

 

আজও রামানন্দ গোস্বামীর পুজোয় একটি

শাঁখারী পরিবারের বংশধরেরা নিয়মিত শাঁখা দিয়ে যায়। তারও একটি বিশেষ কারন আছে।শোনা যায় একদিন এক শাঁখারী মায়ের পুকুর পাড় দিয়ে যাচ্ছেন । এমন সময় একটি বাচ্চা মেয়ে তাঁর কাছে শাঁখা পরতে চায় । শাঁখারী দু-হাতে শাঁখা পরিয়ে টাকা চায় । মেয়েটি তখন উত্তরে জানায়,’ মন্দিরের কুলুঙ্গিতে বেলপাতা ঢাকা দু-টাকা রাখা আছে বাবাকে দিতে বলবি ‘ শাঁখারী তাঁর কথা মতো পুরোহিতের কাছে সমস্ত কথা বলেন । পুরোহিত অবাক হয় এবং পরে সেখানে দুটি টাকা পাওয়া যায়। তিনি দু-টাকা সেখান থেকে নিয়ে শাঁখারীকে দিয়ে বলেন যে তার তো কোনো মেয়ে নেই । দুজনে সেই স্থানে ফিরে গেলেও মেয়েটিকে আর দেখতে পাওয়া যায়নি । তখন ঠাকুর বুঝতে পেরে পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়েই মাকে শাঁখা দেখানোর অনুরোধ করেন । সন্তানের অনুরোধে মা কালী স্বয়ং পুকুরের মাঝে তার হাত তুলে শাঁখা দেখায় ।

 

কোনো এক অজ্ঞাত কারণে এখানে রাত্রে মায়ের প্রতিমা তৈরীর কাজ নিষিদ্ধ ।কথিত আছে

বহু বছর আগে একবার এক প্রতিমাশিল্পী রাত্রে মায়ের চক্ষুদান করছেন । ওই সময় এক অদৃশ্য হাত শক্তি তাকে মন্দিরে বাইরে বের করে দিয়েছিলো। পরের দিন সকালে তাকে আহত অবস্থায় মন্দিরের বাইরে উদ্ধার করা হয় ।

অন্যদিকে মায়ের মুর্তিতে ছিন্নভিন্ন রক্তের দাগ দেখতে পায় । তখন থেকে আজও মায়ের প্রতিমা দিনেই তৈরী করা হয়। স্বশরীরে উপস্থিত না থাকলেও আজও মহান কালী ভক্ত রামানন্দ গোস্বামীর পুজোয় তার অদৃশ্য উপস্থিতি লক্ষ করা যায় বলেই স্থানীয়রা মনে করেন।

 

আবার এক মহান ভক্ত এবং তার সাধনার কথা নিয়ে ফিরে আসবো ভক্তের ভগবান সংক্রান্ত আলোচনায়। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – শিব অবতার শঙ্করাচার্য্য

ভক্তের ভগবান – শিব অবতার শঙ্করাচার্য্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আধ্যাত্মিক জগতে কখনো কখনো ভগবান তার অংশকে পৃথিবীতে। তখন একই দেহে ভক্ত এবং ভগবান বাস করেন। ভগবানই ভক্ত আবার

ভক্তই ভগবান হয়ে ওঠেন।আদি গুরু শংকরাচার্য্য ছিলেন এমনই এক ব্যাক্তিত্ব।শাস্ত্রে আছে শংকর স্বয়ং শংকর। অর্থাৎ শঙ্করাচার্য্য শিবের অবতার।

আজকের পর্বে শিব ভক্ত এবং শিবের অবতার শঙ্করের আদি গুরু শঙ্করা চার্য্য হয়ে ওঠার কথা

জানাবো।

 

আদিগুরু শঙ্করাচার্য্যর প্রারম্ভিক জীবন এবং বাল্যকাল নিয়ে নানা মুনির নানা মত|তবে এ বিষয়ে সব থেকে গ্রহন যোগ্য প্রামাণ্য হিসেবে ধরা হয় শংকর বিজয়ম নামক প্রাচীন গ্রন্থকে|1788 খ্রিস্টাব্দে, কেরল রাজ্যের কালাডি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন শঙ্করাচার্য্য|তার বাবার নাম ছিল শিবগুরু ও মায়ের নাম আর্যাম্বা|কথিত আছে ত্রিশূরের বৃষভচল শিবমন্দিরে পুত্রকামনা করে পূজা দিয়ে আশীর্বাদ স্বরূপ শংকরকে পেয়ে ছিলেন তার বাবা মা|তিনি ছিলেন শিবের বর পুত্র।রক্ষন শীল হিন্দু পরিবারে তার বড়ো হয়ে ওঠা|বাল্যকাল থেকেই শংকর ছিলেন অত্যান্ত মেধাবী ও আধ্যাত্মিক মানসিকতার|মনে করা হয় মাত্র আট বছর বয়সে তিনি চারটি বেদ আয়ত্ত্ব করে ফেলেন অতি সহজে|অল্প বয়সে পিতৃ বিয়োগের পর চরম আর্থিক দুর্দশার সম্মুখীন হতে হয় তাকে|

 

কৈশোর থেকেই শঙ্করের ইচ্ছে ছিলো সন্ন্যাস নেয়ার কিন্তু মা রাজি ছিলেন না পরবর্তীতে তাকে রাজি হতে হয় এ নিয়েও আছে এক অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ|একবার বালক শংকর পূর্ণা নদীতে স্নান করছিলেন। এমন সময় একটি কুমির তার পা কামড়ে ধরে। শঙ্করের মা তখন সেখানেই উপস্থিত ছিলেন|তিনি মা-কে বলেন, মা যদি সন্ন্যাস গ্রহণের অনুমতি দেন, তাহলে কুমিরটি তার পা ছেড়ে দেবে। ছেলের প্রাণ বাঁচাতে মা তাকে সন্ন্যাস গ্রহণের অনুমতি দিলেন|কুমির ও সাথে সাথে পা ছেড়ে অদৃশ্য হলো|এরপর সন্যাস নিয়ে গৃহ ত্যাগ করলেন শঙ্করাচার্য্য|গুরুর খোঁজে বেড়িয়ে পড়লেন পথে|

 

দীর্ঘ সময় পদব্রজে সারা উত্তর ভারত পরিভ্রমণ করার পর অবশেষে গুরুর সাথে সাক্ষাৎ হলো|নর্মদানদীর তীরে ওঙ্কারেশ্বরেতিনি গৌড়পাদের

শিষ্য গোবিন্দ ভগবদপাদের শিষ্যত্ব গ্রহন করলেন শঙ্করাচার্য্য|গুরু শঙ্করাচার্য্যকে অদ্বৈত মত প্রচার করতে বলেন|পরবর্তীতে তিনি কাশী,বদ্রিনাথ সহ বহু স্থানে ঘুরে বেড়ান|অসংখ্য ভাষ্য ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেন এবং তার পাশাপাশি চালিয়ে যান

অদ্বৈতবাদের প্রচার|এই সময় অসংখ্য অনুগামী ও ভক্ত তার সংস্পর্শে আসেন ও তার শিষ্যত্ব গ্রহন করেন|বহু ধর্মীয় বিতর্কে অংশগ্রহন করে সেকালের ধর্মজগতের বহু সনামধন্য পন্ডিতকে শাস্ত্র আলোচনায় পরাস্ত করে শংকরাচার্য্য হয়ে ওঠেন এক অতি পরিচিত কিংবদন্তী স্বরূপ|মনে করা হয় কাশীতে বিশ্বনাথ মন্দিরদর্শন করতে যাওয়ার সময় স্বয়ং শিব এক চন্ডাল রূপে তাকে দর্শন দিয়ে ছিলেন|

 

শঙ্করাচার্য সারাটা জীবন ধরে অদ্বৈতত্ত্বের প্রচার করে বেদ বিমুখী সমাজকে আবার বেদান্তের পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন| শঙ্করাচারজ্যর অদ্বৈত ত্বত্ত্বের মূল কথা ছিল- ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা। জীব ও ব্রহ্মে কোনো প্রভেদ নেই|অর্থাৎ, জীব ও ব্রহ্মকে এক ভাবাই অদ্বৈতবাদ।সকল জীবের অভ্যন্তরে যে আত্মা বিরাজমান, তা পরমাত্মারই প্রকাশ। এ তত্ত্বে জীবাত্মা ও পরমাত্মা এক|

 

তবে শিব স্বয়ং যেমন পরম বৈষ্ণব তার ভক্ত বা

অংশ শংকরা চার্য্যও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না সন্ন্যাস জীবনে যখন তিনি তার মায়ের সঙ্গে শেষ সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন তার মাকে তিনি হরেকৃষ্ণ মহা মন্ত্র জপ করে শুনিয়ে তাকে উদ্ধার করেছিলেন।

 

ভক্তের ভগবানের পরবর্তী পর্ব নিয়ে যথা সময়ে আবার ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – কালীভক্ত শ্রী অন্নদা ঠাকুর 

ভক্তের ভগবান – কালীভক্ত শ্রী অন্নদা ঠাকুর

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের ভক্তের ভগবান পর্বে বাংলা তথা দেশের অন্যতম প্রসিদ্ধ মাতৃ সাধক এবং ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেবের প্ৰিয় শিষ্য অন্নদা ঠাকুর অর্থাৎ অন্নদা চরণ ভট্টাচার্য কে নিয়ে আলোচনা লিখবো।

 

অন্নদা ঠাকুরের আসল নাম অন্নদাচরণ ভট্টাচার্য। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন বাংলাদেশের চট্টগ্রামে। তাঁর মায়ের নাম তিলোত্তমা দেবী। বাবার নাম অভয়চরণ ভট্টাচার্য। তিন সন্তানের মধ্যে অন্নদাচরণ ছিলেন মেজো। মেধাবী ছাত্রটি আয়ুর্বেদ চিকিৎসক হতে লেখাপড়ার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন। পেশায় তিনি ছিলেন আয়ুর্বেদ চিকিৎসক।কলকাতায় থাকাকালীন শ্রীরামকৃষ্ণের স্বপ্ন দেখেন। বাংলাদেশের বাড়িতে মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েও দেখেন সেই শ্রীরামকৃষ্ণের স্বপ্ন।

 

ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব তার ভক্ত তথা শিষ্য অন্নদা ঠাকুরকে নির্দেশ দিয়ে ছিলেন কলকাতার একটি দীঘি থেকে দেবী মূর্তি উদ্ধার করে নিয়ে এসে দক্ষিনেশ্বর এর অদূরে আরিয়া দহে এক মন্দির নির্মাণ করতে এবং শর্ত ছিলো বারো বছরের মধ্যে মন্দির নির্মাণ সম্পন্ন করতে হবে না হলে সর্ব সাধারণের জন্য মন্দিরের দ্বার উন্মুক্ত থাকবেনা|অন্নদা ঠাকুর আদেশ পালন করে ছিলেন কিন্তু বারো বছরের জায়গায় পঁয়ত্রিশ বছর লেগে ছিলো মন্দির নির্মাণ সম্পূর্ণ করতে।সেই মন্দির হলো আজকের আদ্যাপীঠ মন্দির।

যেহেতু বারো বছরে মন্দিরের কাজ সম্পন্ন হয়নি তাই আজও সর্ব সাধারণের জন্য মুল মন্দিরের দ্বার বন্ধই আছে|

 

কথিত আছে এক রাম নবমীর রাতে মা আদ্যা শক্তি অন্নদা ঠাকুর কে দর্শন দিয়েছিলেন এবং আদ্যা স্তোত্র পাঠ করে শুনিয়েছিলেন এবং অন্নদা ঠাকুর এই আদ্যা স্তোত্র লিখে রাখেন যা আজও এই মন্দিরে স্বযত্নে রাখা আছে এবং নিয়মিত তা পাঠ করা হয় মন্দিরে।

 

মাত্র ৩৮ বছর বয়সে পুরীতে প্রয়াত হন অন্নদাঠাকুর।তবে তার দ্বারা শুরু হওয়া কর্মকান্ড আজও তার তৈরি প্রতিষ্ঠান নিষ্ঠার সঙ্গে করে চলেছে।অন্নদা ঠাকুর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণ সংঘ মন্দিরের পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।

প্রতি বছর আদ্যা নবমী তে মন্দিরে বিশেষ পূজা এবং কালী পূজা উপলক্ষে মহা পূজার আয়োজন করা হয়|প্রতিদিন দেবী কে সাড়ে বাইশ সের চালের অন্ন ভোগ ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবকে সাড়ে বারো সের চালের অন্ন ভোগ দেয়া হয় আদ্যাপিঠে|

 

আদ্যা শক্তি যখন তার ভক্তকে কৃপা করেন এবং তাকে দিয়ে বিশেষ কাজ করাবেন স্থির করেন তখন সেই ভক্ত হয়ে ওঠেন নিমিত্ত মাত্র সমস্ত কাজ অলৌকিক উপায়ে পরিচালিত হতে থাকে। অন্নদা ঠাকুর তার বড়ো প্রমান।

 

চলতে থাকবে ভক্তের ভগবান। ফিরবো

আগামী পর্বে আরো এক ভক্তের কথা নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – শিব ভক্ত ভস্মাসুর

ভক্তের ভগবান – শিব ভক্ত ভস্মাসুর

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আমাদের পুরান তথা অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থে বর্ণিত সর্বাধিক আলোচিত, জনপ্রিয় এবং রোমাঞ্চকর বিষয় হলো দেবাসুর দ্বন্দ্ব। সেই সমুদ্র মন্থনের সময় থেকে দেবতাদের সাথে অসুরদের দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। এই অসুর দের অনেকেই পরবর্তীতে নিজ নিজ আরাধ্য দেবতাদের ধ্যান

করে তাদের থেকে বর লাভ করে সেই বরপ্রাপ্ত শক্তি দেবতাদের বিরুদ্ধেই কাজে লাগিয়েছে।

আজকের এই পর্বে জানবো শিব ভক্ত ভস্মাসুরের কথা|

 

দেবাদিদেব মহাদেবে শুধু দেবতাদের আরাধ্য দেবতা নন তিনি ভূত প্রেত অসুর দৈত্য দেরও আরাধ্য দেবতা|এই দেবাদিদেব মহাদেবকে তপস্যায় তুষ্ট করে অমরত্বের বর চেয়ে বসলেন এক অসুর তার নাম ভস্মাসুর|কিন্তু অমরত্ব প্রদান করা সম্ভব নয় তাই মহাদেব অন্য বর চাইতে বললেন|ভষ্মাসুর চাইলেন যার মাথায় সে হাত রাখবে সেই যেনো ভষ্ম হয়ে যায়|হাসি মুখে বরদান করলেন মহাদেব|বর পেয়ে তার প্রথম শিকার হিসেবে ভস্মাসুর স্বয়ং মহাদেবের মাথায় হাত রাখতে চাইলেন|কোনো ক্রমে সেই স্থান ত্যাগ করলেন মহাদেবে কিন্তু তার পিছু নিলেন ভষ্মাসুর|অবশেষে বিষ্ণুর স্মরণ নিলেন মহাদেব। ভস্মাসুর যেমন মহাদেবের ভক্ত তেমনি মহাদেবেও বিষ্ণুর

ভক্ত। ভক্তর বিপদে তিনি শান্ত থাকতে পারেন না।

 

শ্রী বিষ্ণু মোহিনী অবতারে ভষ্মাসুরের সম্মুখে অবতীর্ন হলেন মোহিনীর রূপে মুগ্ধ হয়ে ভষ্মাসুর তাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলেন|শর্ত হিসেবে নারী রুপী বিষ্ণু ভষ্মাসুরকে তার সাথে নৃত্যে অংশ নিতে বাধ্য করলেন|নৃত্যরত ভষ্মাসুর সবকিছু ভুলে হটাৎ নিজের মাথায় হাত রেখে বসলো|ব্যাস ফলে গেলো মহাদেবের বর|ভষ্ম হলেন ভষ্মাসুর এবং সে যাত্রায় রক্ষা পেলেন মহাদেব|

 

আরকেটি পৌরানিক ব্যাখ্যা অনুসারে বিষ্ণুর মোহিনী অবতার ভষ্মাসুর কে বিবাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নদীতে স্নান করে পবিত্র হয়ে আসতে বলেন|স্নান কালে ভুল বসত মাথায় হাত দিয়ে নিজেকে নিজে ভষ্ম করে ফেলে ভষ্মাসুর|প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায় এই মোহিনী অবতার ও শিবের একটি বরপুত্র আছেন যার নাম আয়াপ্পা|দক্ষিণ ভারতে ইনি খুবই জনপ্রিয় এবং কার্তিক রূপে পূজিত হন|

 

আমাদের পুরানে অসংখ্য বার এমন দেবাসুর দ্বন্দ্ব বেঁধেছে এবং অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছে শুভ শক্তি|রক্ষা পেয়েছে স্বর্গ মর্ত সহ গোটা সৃষ্টি|এবং এই সব ঘটনা থেকে একটি বিষয়

প্রমান হয় যে ভক্ত যতই ক্ষতিকারক হোক না কেনো তার সাধনা যদি নিখুঁত হয় ভগবান তার ডাকে সাড়া দিতে বাধ্য।

 

আবার এক ভক্ত এবং তার ভগবানের কথা নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – সাবিত্রী এবং সত্যবান

ভক্তের ভগবান – সাবিত্রী এবং সত্যবান

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শিবভক্ত, বিষ্ণু ভক্ত এবং কালী ভক্তদের নিয়ে আগে অনেকবার আলোচনা করেছি ভক্তের ভগবানে। আজকের পর্বে আলোচনা করবো সাবিত্রী ভক্তি নিয়ে যে ভক্তিতে টোলে গিয়েছিলেন স্বয়ং যমরাজ।

 

পুরা কালে অশ্বপতি নামক রাজার একমাত্র কন্যা ছিলেন সাবিত্রী।তার মায়ের নাম ছিল মালবী।অশ্বপতি সাবিত্রী বা গায়ত্রীদেবীকে নিষ্ঠার সাথে পূজা করে এই কন্যা লাভ করেছিলেন। তাই এই কন্যার নামও সাবিত্রী রাখা হয়েছিল।

 

সাবিত্রী যৌবনে উপনীত হওয়ার পর, তাঁর অসাধারণ সৌন্দর্যের কারণে, কোন সাধারণ যুবক তাঁকে বিবাহ করতে যোগ্য বলে নির্বাচিত হলোনা না।পরে অশ্বপতি তাঁকে নিজের পছন্দমতো স্বামী খুঁজে নেবার অনুমতি দেন। সাবিত্রী বহু দেশ ঘুরে সত্যবান নামে এক যুবককে স্বামী রূপে নির্বাচন করেন।তখন দেবর্ষি নারদ এসে তার পিতাকে জানান সত্যবান স্বল্পায়ু। এরপর অশ্বপতি সাবিত্রীকে অন্য স্বামী খুঁজে নেবার কথা বললে। কিন্তু সাবিত্রী সত্যবানকেই স্বামী হিসাবে গ্রহণ করবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেন। সব শুনে নারদ সত্যবানের সাথেই সাবিত্রীর বিবাহ  দেওয়ার কথা বলেন। পরে অশ্বপতি সাবিত্রীকে সাথে নিয়ে দ্যুমৎসেনের আশ্রমে আসেন এবং সেখানেই সত্যবানের সাথে সাবিত্রীর বিবাহ হয়।

 

বিবাহের এক বৎসর পরই সত্যবানের মৃত্যুর দিন উপস্থিত হয়। সাবিত্রী এবং সত্যবান এক বনে গিয়ে উপস্থিত হন। বনে সত্যবান অবসন্ন হয়ে পড়ে যান। পরে সাবিত্রী সত্যবানের মাথা কোলে তুলে নিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পর সাবিত্রী রক্তবস্ত্র পরিহিত বিরাটকায় এক ভয়ঙ্কর পুরুষকে সত্যবানের পাশে দেখতে পেলেন। সাবিত্রী জিজ্ঞাসা করে জানতে পারেন যে― তিনিই যম।সত্যবান পুণ্যবান এবং সাবিত্রী পতিব্রতা বলে, যমদূতের পরিবর্তে যম নিজেই এসেছেন। এরপর সত্যবানকে পাশবদ্ধ করে যমকে  দক্ষিণ দিকে যেতে দেখে, সাবিত্রী যমের অনুসরণ করে অগ্রসর হন। যম তাঁকে অনুসরণ না করে ফিরে যেতে বলেন। কিন্তু সাবিত্রী স্তব দ্বারা যমকে সন্তুষ্ট করলে, যম তাঁকে স্বামীর জীবন ছাড়া অন্য যে কোন বর প্রার্থনা করতে বলেন।

 

সাবিত্রী যমের কাছ থেকে প্রথম বর প্রার্থনা করে পান কিন্তু সাবিত্রী তারপরেও যমকে অনুসরণ করা থেকে বিরত হলেন না। যম সাবিত্রীকে থামানোর জন্য পাঁচবার বর দেন। প্রথম বর ছিলো তাঁর শ্বশুরের অন্ধত্ব দূর হওয়ার বর প্রার্থনা।

দ্বিতীয় বর ছিলো তাঁর শ্বশুরের রাজ্যলাভ প্রার্থনা করেন।তৃতীয় বর ছিলো সাবিত্রীর পিতার শতপুত্র লাভ প্রার্থনা।চতুর্থ বর  ছিলো সত্যবানের ঔরসে সাবিত্রীর শতপুত্র  প্রার্থনা।পঞ্চম বর ছিলো সত্যবান জীবিত হওয়ার প্রার্থনা।

 

সাবিত্রীর নিষ্ঠা এবং ভক্তি স্বয়ং যমকেও নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য করে। এবং যম সত্যবানকে মুক্ত করে দেন এবং সাবিত্রীকে আশীর্বাদ করে বিদায় নেন যম রাজ বিদায় নেয়ার পর  সাবিত্রী সত্যবানের অচেতন শরীরের কাছে এসে তাঁর মাথা কোলে তুলে নিয়ে বসেন।পরে সত্যবানের সংজ্ঞা ফিরে এলে, উভয়েই গৃহে ফিরে যান। যমের আশীর্বাদে দীর্ঘ এবং আনন্দময় জীবন লাভ করেন সত্যবান।

 

ভক্তি এবং নিষ্ঠার জোরে একজন ভক্তযে স্বয়ং যমরাজের থেকে নিজের প্রিয়জনের প্রাণ ফিরিয়ে আনতে পারেন এই ঘটনা তার প্রমান।

 

ফিরে আসবো ভক্ত এবং ভগবানের পরবর্তী পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – শ্রী রাম ভক্ত জাম্ববান

ভক্তের ভগবান – শ্রী রাম ভক্ত জাম্ববান

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

প্রভু শ্রী রামের ভক্তদের কথা উঠলেই সাধারণত রুদ্রবতার বজরংবলীকে নিয়ে আলোচনা হয় তবে রামায়নে আরো অনেক রামভক্ত আছেন। তাদের মধ্যে অনেকই সেই ভাবে প্রচারের আলোয় আসেননি এদের মধ্যে অন্যতম রামভক্ত এবং শ্রী রামের বানর সেনার অন্যতম বীর যোদ্ধা জাম্ববান।

 

পৌরাণিক কাহিনি মতে ভল্লুক রাজ জাম্ববানকে ব্রহ্মা সৃষ্টি করেছিলেন। অসীম ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন জাম্ববান।ত্রেতাযুগে জাম্ববান সুগ্রীবের মন্ত্রি ছিলেন ও রাম-রাবণের যুদ্ধকালে সুগ্রীব ও রামকে সাহায্য করেছিলেন।

 

শিশু রূপে হনুমান বিভিন্ন ঋষিদের আশ্রমে উপদ্রব শুরু  করলে, ঋষিদের অভিশাপে যখন দীর্ঘদিন তাঁর নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে বিস্মৃত হয়ে থাকেন।হনুমান কর্তৃক সাগর লঙ্ঘনের

আগে  জাম্ববান হনুমানকে তাঁর ক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। এরপর থেকে বজ্রবলী আর তাঁর ক্ষমতা সম্পর্কে আর বিস্মৃত হন নি।সেদিক দিয়ে রাবনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয় লাভে জাম্ববানের বড়ো ভূমিকা ছিলো।

 

দ্বাপর যুগে সত্রাজিৎ নামে এক রাজা কঠোর তপস্যাকরে সূর্যের কাছ থেকে সামন্তক মণি লাভ করেন। এই সামন্তক মণি নিজের কাছে পেতে চেয়েছিলেন স্বয়ং শ্রী কৃষ্ণ। সত্রাজিতের ভাই এই মণি ধারণ করে মৃগয়ায় গেলে সিংহ দ্বারা নিহত হন তখন ওই বনে বসবাসকারী জাম্ববান সেই

সিংহ কে হত্যা করে সামন্তক মণি উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে শ্রী কৃষ্ণ সামন্তক মনির সন্ধান করে বনে আসেন এবং জাম্ববানের সঙ্গে তার ভীষণ

যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে জাম্ববান পরাজিত হন এবং শ্রী কৃষ্ণ সামন্তক মণি হস্তগত করেন।

 

জাম্ববান উপলব্ধি করেন যে, রামই কৃষ্ণরূপে জন্মগ্রহণ করেছেন। পরে তিনি তার কন্যা জাম্ববতীর সাথে কৃষ্ণের বিবাহ দেন এবং বিষ্ণুর আরাধনা করে দেহত্যাগ করেন।

 

ভক্তের সাথে ভগবানের যুদ্ধ এবং ভগবানের আরাধনায় ভক্তের প্রাণ ত্যাগ এই সবই

ভক্তের প্রতি ভগবানের লীলা ছাড়া আর কিছুনয়।

 

ফিরে আসবো পরবর্তী পর্বে ভক্ত এবং

ভগবানের আরো একটি লীলা নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বড়দিনের শুভেচ্ছা

বড়দিনের শুভেচ্ছা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বড়ো দিন এলেই আমার স্বামীজী ও ঠাকুর রামকৃষ্ণর আদর্শর প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নত হয় কারন সব ধর্মীয় সংকীর্ণতার উর্দ্ধে গিয়ে তারা প্রভু যীশুর আরাধনা করেছিলো এই বাংলার মাটিতে, স্বয়ং ঠাকুর রামকৃষ্ণ, প্রভু যীশুর উপস্থিত উপলব্ধি করছিলেন একবার, সেকথাও উল্লেখ আছে নানা গ্রন্থে….রামকৃষ্ণ মিশনে একদিন আগেই শুরু হয়ে যায় বড়দিন পালন। যদিও গোটা দেশ তথা বাংলা আজ বড়দিন পালন করছে।

 

বড়দিন আজকের দিন সেই পরম পিতার শ্রেষ্ট সন্তানের জন্মদিন হিসেবেই পালিত হয় গোটা বিশ্বে|সব গির্জায় চলে বিশেষ প্রার্থনা|প্রকৃত অর্থে এই ক্রিসমাস ডে প্রভু যীশুর জন্মদিন কিনা তা বিতর্কের বিষয়|বাইবেলে কিন্তু কোথাও প্রভু যীশুর জন্মের নিদ্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ নেই|অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন এই তারিখের ঠিক নয় মাস পূর্বে মেরির গর্ভে প্রবেশ করেন যিশু। সম্ভবত, এই হিসাব অনুসারেই ২৫ ডিসেম্বর তারিখটিকে যিশুর জন্মতারিখ ধরা হয় হয় এবং উৎসব পালন করা হয়|

 

আবার অনেকের মতে ভৌগোলিক ভাবে উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণ অয়নান্ত দিবস উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বর তারিখে বড়দিন পালিত হয় বিশ্ব জুড়ে অর্থাৎ আক্ষরিক দিক দিয়ে এই দিন সত্যি বড়ো দিন|এই দিনকে খ্রিস্টমাস ও বলে আবার এক্স মাস ও বলে কারন ইংরেজি খ্রিস্টমাস শব্দটি “খ্রিস্টের মাস ” বোঝাতে ব্যবহার হয়ে আসছে এবং মূলত গ্রিক ভাষা থেকে এই শব্দের জন্ম হয়েছে|যেহেতু প্রাচীন গ্রিক ভাষায় Χ অক্ষর টি Christ বা খ্রিষ্ট শব্দের প্রথম অক্ষর তাই তাই এই অক্ষরটি খ্রিষ্ট শব্দেরনামসংক্ষেপ|

 

বড়দিন বলুন বা ক্রিস্টমাস কিংবা এক্সমাস দিনটি ওতি পবিত্র|আজ প্রভু যীশুর কাছে প্রার্থনা জানানোর দিন আজ উৎসব করার দিন|আপনারাও প্রার্থনা করুন উৎসব পালন করুন|আমার তরফ থেকে আপনাদের সবাইকে বড়দিনের অসংখ্য শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|

ভালো থাকবেন|ধন্যবাদ|

ভক্তের ভগবান – বিষ্ণুভক্ত রাজা হরিশ্চন্দ্র

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আজ আপনাদের মহান রাজা এবং বিষ্ণু ভক্ত হরিশ্চন্দ্রর কথা বলবো। যদিও সূর্য বংশীয় রাজা হরিশ্চন্দ্র বরুন দেবের তপস্যা করে রোহিতাস্ব কে পুত্র হিসেবে লাভ করেন তবুও মনে প্রাণে তিনি ছিলেন বিষ্ণু ভক্ত। তার স্ত্রীর ছিলেন শৈব্য।
রাজা হরিশ্চন্দ্র দান ধ্যানের জন্য বিখ্যাত ছিলেন।
মার্কেন্ডয় পুরানে উল্লেখ আছে একবার রাজা হরিশ্চন্দ্র মৃগয়ায় বেরিয়ে এক নারী কণ্ঠের আর্তনাদ শুনতে পেলেন। সেই নারী কণ্ঠ ছিলো মহর্ষি বিস্বামিত্রর আরাধ্যা দেবীর। সেই বনে বিস্বামিত্র তখন গভীর ধ্যানে মগ্ন। রাজা সেই কণ্ঠশ্বর অনুসরণ করে সেই নারী কে রক্ষা করতে গেলে নিজের অজান্তে বিস্বামিত্রর তপস্যায় বিঘ্ন ঘটনা এতে ঋষি ক্ষুব্ধ হন রাজার কাছে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দান চাইলেন এবং রাজা তাকে তার সর্বস্ব দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন। ঋষি বিস্বামিত্র তার রাজ্য, ধন, সম্পদ সব নিয়ে নিলেন।
সর্বহারা হয়ে রাজা হরিশ্চন্দ্র কাশীতে গিয়ে নিজ স্ত্রীর পুত্র কে নিয়ে চণ্ডালের কাজ করতে শুরু করেন। অভাবের তাড়নায় তার স্ত্রীপুত্রও তার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এর পর কেটে যায় কিছুকাল। ইতিমধ্যে হরিশ্চন্দ্রর পুত্র সর্প দংশনে প্রাণ হারালে তার মৃত দেহ কাশির সেই শ্মশানে আনা হয়। পুত্র শোকে ব্যাকুল হরিশ্চন্দ্র এবং তার স্ত্রী ঠিক করলেন দুজনে একত্রে প্রাণ বিসর্জন করবেন। শেষ বারের মতো হরিশ্চন্দ্র তার আরাধ্য বিষ্ণুর উপাসনা শুরু করলেন এবং বিষ্ণুর কৃপায় স্বয়ং ধৰ্মরাজ তাকে প্রাণ ত্যাগ করতে নিষেধ করলেন এবং ইন্দ্র নিজে এসে তাদের স্বর্গে নিয়ে যেতে চাইলেন।হরিশ্চন্দ্র শুধু নিজের নয় তার প্রজা ও অনুগতদের
মুক্তি চেয়ে নিলেন।
এই ভাবে বিষ্ণু ভক্ত হরিশ্চন্দ্র তার প্রভু বিষ্ণুর আশীর্বাদে ও নিজের সততা এবং ন্যায় পরায়ণতা দিয়ে সনাতন ধর্ম শাস্ত্রে নিজেকে অমরত্ত
প্রদান করেন।
আবার ফিরে আসবো অন্য এক ভক্ত এবং ভগবানের লীলা নিয়ে আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – কৃষ্ণভক্ত শ্রীল প্রভুপাদ


ভক্তের ভগবান – কৃষ্ণভক্ত শ্রীল প্রভুপাদ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

একজন সাধারণ কৃষ্ণ ভক্তের ভক্তি কিভাবে গোটা বিশ্বে কৃষ্ণ প্রেমের ঝড় বইয়ে দিতে পারে এবং কিভাবে দশ বছরের সাধনায় একজন ভক্ত তার আরাধ্য ভগবানের আরো লাখ লাখ ভক্ত তৈরী করতে পারে তা ভক্তি বেদান্ত শ্রীল প্রভুপাদকে না জানলে বোঝা যায়না।

 

শ্রীল প্রভুপাদ অভয় চরণ দে 1 সেপ্টেম্বর, 1896-এ কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। যৌবনে তিনি মহাত্মা গান্ধীর আইন অমান্য আন্দোলনের সাথে জড়িত হন। পরবর্তীতে সংসারও করেন। তারপর অভয় 1933 সালে শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্তের শিষ্য হয়েছিলেন

কর্ম জীবন এবং সংসার জীবনের পর সত্তর বছর বয়সে শুরু হয় প্রভুপাদর সন্ন্যাস জীবন।

 

1965 সালে,প্রায় 70 বছর বয়সে, শ্রীল প্রভুপাদ একটি কার্গো জাহাজে চড়ে নিউইয়র্ক সিটিতে যান। জাহাজে 2টি হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন। সাথে ছিলো 7 ডলার এবং ধর্ম গ্রন্থ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে তিনি কৃষ্ণ চেতনার

শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে শুরু করেন।তৈরী করেন আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ বা ইস্কন।

যা আজকের সময়ে বিশ্বের সর্ব বৃহৎ ধর্মীয় সংগঠন।

 

জীবনের শেষ প্রান্তে উপনীত হয়ে কিভাবে

একজন বৃদ্ধ সন্যাসী এই অসাধ্য সাধন

করলেন তা আশ্চর্যর বিষয়। আসলে এই ভক্তকে ভগবান নিজেই নির্বাচন করেছিলেন নিজের নাম প্রচার এবং প্রসারের জন্য। পদে পদে পরীক্ষাও নিয়েছেন। আমেরিকা গামী জাহাজে একের পর এক হার্ট এটাক ছিলো সেই পরীক্ষার অংশ।

সব পরীক্ষাতেই তার ভক্ত সফল ভাবে উত্তীর্ন হন।

 

শ্রীল প্রভু পাদের জন্মের বহু আগেই ভবিষ্যত বাণী ছিলো যে একজন এমন কৃষ্ণ ভক্ত অবির্ভুত হবেন যিনি ভারতের বাইরে কৃষ্ণর মহিমা প্রচার করবেন এবং অসংখ্য বিপথগামী নরনারী কে উদ্ধার করবেন। শ্রীল প্রভুপাদ সারা জীবন কৃষ্ণ নাম প্রচার করে পাপীতাপীদের উদ্ধার করেছেন।

 

কথিত আছে তার কীর্তন শুনতে আসতেন স্বয়ং নারদ মুনি। একাধিক বার প্রভুপাদ শ্রী কৃষ্ণর সাক্ষাৎ দর্শন লাভ করেছেন সব তার ভক্তদের সেই স্বর্গীয় অনুভূতি শুনিয়েছেন।শুধু মানুষ নয় একবার এক হানা বাড়িতে অশরীরীরাও তার কীর্তন শুনে সেই স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

 

শ্রী কৃষ্ণের সঙ্গে প্রভুপাদ বাতসল্য ভাবে মিশতেন। নির্দ্বিধায় কৃষ্ণর ভোগের থালা থেকে পুজোর আগেই প্রসাদ তুলে চেখে দেখতেন এবং তারপর ভোগ নিবেদন করতে বলতেন।ভক্ত এবং ভগবানের মাঝের প্রাচীন যখন উধাও হয় তখন এমন টা হয়। এর জন্য সাধনার উচ্চ মার্গে পৌঁছাতে হয় যা শ্রীল প্রভুপাদ পেরে ছিলেন।

 

ফিরে আসবো এমনই আরো এক ভক্তের কথা নিয়ে।আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।