Home Blog Page 48

পুরানের দেব দেবী – কুবের দেব

পুরানের দেব দেবী – কুবের দেব

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

পুরান অনুসারে কুবের হচ্ছেন ধনরাজ তিনি যক্ষদের রাজা, বামনাকৃতি এবং স্থূল শরীরের অধিকারী।আবার তিনি দিক পাল অর্থাৎ দশটি দিকের অধিপতি এবং নিজে তিনি উত্তর দিকে বিরাজমান তাই বাস্তু শাস্ত্রে উত্তরদিককে ধনস্থান বলে ধরা হয়|

কুবেরদেব সম্পর্কে রাবনের ভাই,রাবন তাকে চক্রান্ত করে পরাজিত করে তার সোনার লঙ্কা এবং পুস্পক রথ ছিনিয়ে নেন|পরবর্তীতে মহাদেবকে তপস্যায় সন্তুষ্ট করে কুবের দেবতার স্থান পান এবং জগতের সমগ্র ধন সম্পদ তার অধীনে আসে|কুবেরদেব হচ্ছেন দেবতাদের কোষাধক্ষ্য অর্থাৎ বিশ্ব ব্রহ্মান্ডর সমস্ত ধন সম্পদ কুবেরের দখলে থাকে।কুবের দেবের বাসস্থান অলোকাপুরী যা বিশ্বকর্মা নির্মাণ করেন|

আবার কিছু গ্রন্থে কুবেরকে লোকপাল ও বলা হয় কারন তিনি ন্যায় নীতি এবং লোকহিতকর কাজ কর্মের দায়িত্বে আছেন।

ভগবান বিষ্ণু যখন শ্রীনিবাস হিসাবে পৃথিবীতে আসেন তখন রাজ কুমারী পদ্মাবতীর সাথে বিবাহের ব্যয় নির্বাহ করার জন্য কুবেরের থেকে অর্থ ধার করেন বিশ্বাস করা হয় যে ভগবান
শ্রীনিবাস যিনি তিরুপতীর বালাজি হিসাবে পরিচিত তিনি ভক্তদের দেওয়া সকল প্রণামী কুবের কে দেন ঋণ পরিশোধ করার জন্য।
তাই ভক্তরাও বালাজি দর্শনে এসে অর্থ দান করে ভগবানের ঋণ মেটাতে সাহায্য করেন|

পুরান মতে কুবের অর্থ ও সম্পদের রক্ষা কর্তা তার আশীর্বাদ ছাড়া ধনবান হওয়া বা সম্পদ টিকিয়ে রাখা অসম্ভব|তাই যারা প্রচুর অর্থ এবং সম্পদের মালিক হতে চান তারা কুবেরের আরাধনা করেন।

আবার পরের পর্বে অন্য এক পৌরাণিক দেবতার কথা নিয়ে ফিরবো। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

পুরান এবং নব গ্রহ – রাহু এবং কেতু

পুরান এবং নব গ্রহ – রাহু এবং কেতু

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শুরু করছি পুরান এবং নবগ্রহ পর্ব গুলির শেষ পর্ব|আজ আলোচনা করবো রাহু এবং

কেতু নিয়ে।

 

পুরান মতে রাহু ও কেতু আসলে ভিন্ন নয় তার একি শরীরের দুটি পৃথক অংশ অবশ্যই এই দুটি অংশের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব ও ভূমিকা আছে|অসুর স্বরভানু সমুদ্র মন্থন কালে অমৃত চুরি করে পান করেছিলো যা জানতে পেরে সূর্য ও চন্দ্র শ্রী বিষ্ণুকে সাবধান করেন এবং ফল স্বরূপ বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রের আঘাতে কাটা যায় অসুর স্বরভানুর মাথা|অমৃতের কয়েক বিন্দু পান করার ফলে কাটা মুন্ডু এবং ধর অমরত্ত্ব লাভ করে|ওই কাটা মুন্ডই রাহু এবং তার ধর কেতু নামে পরিচিত|এই দুই অংশ গ্রহ হিসেবে আবর্তিত হচ্ছে সৌর জগতে এবং নিদ্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে তারা গ্রাস করে সূর্য ও চন্দ্র কে|প্রতিশোধ নেয় তাদের ধরিয়ে দেয়ার|

শুধু হিন্দু নয় বৌদ্ধ ধর্মেও রাহু কেতুর নিজস্ব স্থান রয়েছে|

 

বিভিন্ন শাস্ত্রে রাহু ও কেতুকে কে স্কন্দহীন সর্পিল এক দৈত্য হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে|আট টি কালো ঘোরা বিশিষ্ট রথে তারা সৌর জগৎ পরিক্রমা করেন|এদের প্রকৃত বাসস্থান পাতাল লোক|কোথাও কোথাও আবার কেতুর বাহন হিসেবে সিংহ কেও দেখানো হয়েছে|রাহুর রত্ন হিসেবে গোমেদ এবং কেতুর রত্ন হিসেবে ক্যাটস আই ব্যবহিত হয়|

 

জ্যোতিষ শাস্ত্রে পাপ গ্রহ বলতে প্রথমেই রাহু ও কেতুর কথা ওঠে|এখানে উল্লেখ করতে হয় নব গ্রহের বাকি গ্রহ গুলি মূলত দেবতা কিন্তু এই দুই গ্রহের অসুর সত্ত্বা রয়েছে|জ্যোতিষ শাস্ত্রে বহু আলোচিত কাল সর্প দোষ সৃষ্টি করে রাহু ও কেতু|রাহু ও কেতুর অবস্থান অনুসারে মোট বারো রকমের কাল স্বর্প দোষ রয়েছে|রাহু গ্রহন দোষেরও মুল কারিগর|রাহুর বা কেতুর নিজস্ব কোনো রাশি নেই তবে তবে রাহু ও কেতু যে রাশি তে অবস্থান করে সেই রাশির অধিপতির অবস্থার উপর রাহুর ও কেতুর প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করে|সেক্ষেত্রে রাহু কেতুর দৃষ্টি, তাদের অবস্থান বা দশা অন্তরদশা কোন জাতক জাতিকার জন্য শুভ এবং কোন জাতক জাতিকার জন্য অশুভ তা জন্মছক খুঁটিয়ে দেখে তবেই বলা সম্ভব|

 

বহু মানুষ অযথা আতংকিত হন ভয় পান এই দুই দুষ্ট গ্রহের নাম শুনলে|তবে আমি বলবো রাহু ও কেতুকে অযথা ভয় পাওয়ার কারন নেই|তামসিক প্রবৃত্তির হলেও এরা সব সময় অশুভ নয়।কখনো কখনো অত্যন্ত শুভ হয়েও দেখা দেয় জীবনে।

 

পরের পর্বে আবার এক নতুন শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করবো।

থাকবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

পুরান এবং নবগ্রহ – শনি দেব

পুরান এবং নবগ্রহ – শনি দেব

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আমাদের পুরান ও জ্যোতিষ শাস্ত্রে গ্রহ রাজ শনিকে একটি ভয়ানক গ্রহ বা রাগী দেবতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সত্যি কি তিনি এতটা ভয়ের। এতটা হানিকারক!এই সব প্রশ্নের উত্তর রয়েছে আমাদের শাস্ত্রে।

মৎস্য পুরাণ কিন্তু শনিদেবকে লোকহিতকর গ্রহের তালিকাতেই ফেলেছে। মৎস্য পুরাণে বলা হচ্ছে, দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার মেয়ে সঞ্জনার সঙ্গে বিয়ে হয় সূর্যদেবের। কিন্তু সূর্যের প্রচণ্ড তাপে প্রায় ঝলসে যান সঞ্জনা। তখন তাঁর নতুন নাম হয় সন্ধ্যা। নিজের এমন দূরবস্থায় স্বামীর প্রতি সমস্ত ভালোবাসা হারিয়ে ফেলেন তিনি। সূর্যের থেকে দূরে পালাতে চান তিনি। কিন্তু কী ভাবে? তখন সন্ধ্যা নিজেরই একটি প্রতিকৃতি সৃষ্টি করেন।
তাঁর নাম দেন ছায়া। ছায়াকে স্বামীর দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে সন্ধ্যা পিতার ঘরে ফিরে যান। এ ভাবে যে তাঁর স্ত্রী বদল হয়ে গেল তা খেয়ালই করেন না সূর্যদেব।

এই সূর্য্য দেব ও ছায়ার সন্তান হিসেবে জন্ম নেন শনি। মেয়ে তাঁর কাছে, এদিকে সূর্যের সন্তান-জন্মের খবর পেয়ে বিশ্বকর্মা ধন্দে পড়ে যান। সন্ধ্যার কাছে ছুটে গিয়ে সব জানতে চান। সব শুনে বিশ্বকর্মা সন্ধ্যাকে সেই মুহূর্তেই পতিগৃহে ফিরে যেতে নির্দেশ দেন। ক্ষুব্ধ সন্ধ্যা ফিরে গিয়ে ছায়াকে নিঃশেষ করে নিজে ফের সূর্যের স্ত্রীর ভূমিকা পালন করতে থাকেন। এ ঘটনাও সূর্যের নজর এড়িয়ে যায়|

শনির জীবনের দুক্ষ দুর্দশার সূত্রপাত এখান থেকেই, এর পর শনির প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণ করতে শুরু করেন সন্ধ্যা। শনিকে সূর্যের থেকে দূরে সরাতে অনবরত স্বামীর কান ভাঙাতে থাকেন সন্ধ্যা। এভাবে মায়ের স্নেহ এবং বাবার ভালোবাসা না পেয়ে ক্রুদ্ধ, বিরক্ত, অলস হয়ে উঠতে থাকেন শনি। কোনও কিছুই তাঁর ভালো লাগে না।তার মধ্যে জন্ম নেয় তামসিক প্রবৃত্তি।

পরবর্তীতে শনিকে সৌরমণ্ডলে স্থান দেন পিতা সূর্য্যদেব । কর্মফলের দেবতা হিসেবে শনিকে উন্নীত করা হয়। এ জন্যই কেউ কোনও অপকর্ম করলে শনির নজর এড়ায় না এবং শনির হাতে তার শাস্তি নিশ্চিত।অর্থাৎ তার এই ক্রোধ ও নিষ্ঠুরতা দিয়ে তাকে বিচার করলে হবেনা|তিনি কর্ম ফল প্রদান করেন|তিনি ভালোর জন্যে ভালো আবার খারাপের জন্যে খারাপ|মানুষের জীবনে তার প্রভাব দুরকমেরই হয়|তার দশায় একজন রাজাও হতে পারে আবার ক্ষতির সম্মুখীন ও হতে পারে।

রামায়ণ অনুসারে শনিদেব সহ সমস্ত গ্রহকে রাবন লঙ্কায় বন্দি করে রেখেছিলেন। যখন হনুমান সোনার লঙ্কা পুড়িয়ে দেন তখন গ্রহদের তিনি মুক্ত করেন। মুক্তি পেয়ে শনিদেব হনুমানকে আশীর্বাদ করেন যে তার ভক্তদের তিনি কোনো ক্ষতি করবেন না এবং আজও বজরংবলীর কৃপায় শনির অশুভ প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

নবগ্রহ এবং পুরান সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে আবার ফিরে আসবো আগামী পর্বে।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

নব গ্রহ এবং পুরান – শুক্র

নব গ্রহ এবং পুরান – শুক্র

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজকের নবগ্রহ শীর্ষক এই আলোচনায় নব গ্রহের অন্যতম শুক্রকে নিয়ে আলোচনা করবো।

দেবতা রূপে শুক্রকে কোথাও একটি সাদা ঘোড়া বা কোথাও সাতটি ঘোড়া দ্বারা টানা একটি রথে আসীন থাকতে দেখা যায়। তিনি সৌন্দর্য সব ভোগ বিলাশের দেবতা।শুক্র রাশিচক্রের চিহ্ন বৃষ এবং তুলাকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং একজন জাতক বা জাতিকার জীবনে শারীরিক সৌন্দর্য, শৈল্পিক প্রতিভা, জাগতিক সুখ শুক্রের উপর নির্ভর করে।
প্রেম বা দাম্পত্য জীবনের সাফল্য বা ব্যার্থতাও অনেকটা শুক্র দ্বারা নির্ধারিত হয়।

পুরানে শুক্রের আরো একটি পরিচয় আছে।
শুক্র হচ্ছেন ঋষি ভৃগু এবং দিব্যর পুত্র, যিনি সপ্তর্ষিদের অন্যতম।আবার তিনি দৈত্য বা অসুরদের গুরু। অর্থাৎ তার দুটি সত্ত্বা রয়েছে কোথাও তিনি একজন স্বতন্ত্র দেবতা আবার কোথাও তিনি দৈত্য গুরু।

অসুরদের আশ্রয় দেয়ার অপরাধে বিষ্ণু ভৃগু পত্নী অর্থাৎ শুক্রের মাতার প্রাণ হরণ করেছিলেন। সেই থেকেই শুক্র এবং দেবতাদের শত্রুতার সূচনা হয়।

একটি পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে শুক্র
নিজেকে দুইভাগে ভাগ করেছেন, একভাগ দেবতাদের জ্ঞানের উৎস
আরেকভাগ অসুরদের জ্ঞানের উৎস। তবে দেব গুরু বৃহস্পতিকেই দেবতাতের গুরু হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে এবং এই দুই গুরুর সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়।জ্যোতিষ শাস্ত্র মতেও শুক্র এবং বৃহস্পতি একসাথে মিলিত হলে সৃষ্টি হয়ে দৈত্য গুরু যোগ যা ভালো ফল দেয়না।এছাড়াও শুক্র বেশ কয়েকটি যোগের কারিগর।

আবার ফিরে আসবো নব গ্রহ সংক্রান্ত
আলোচনা নিয়ে।থাকবে অনেক পৌরাণিক
ঘটনা এবং তথ্য।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

পুরান এবং নব গ্রহ – বৃহস্পতি

পুরান এবং নব গ্রহ – বৃহস্পতি

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

জ্যোতিষ শাস্ত্রে বা সৌর জগতে বৃহস্পতি যেমন একটি গ্রহ আবার বেদে এবং পুরানে তিনি একজন দেবতা তার পাশাপাশি তিনি আবার দেব গুরু, অর্থাৎ দেবতাদের গুরু|সব মিলিয়ে শাস্ত্রে বৃহস্পতি বেশ বর্ণময় এবং গুরুত্বপূর্ণ একটা চরিত্র।আজকের পর্বে আপনাদের সাথে
পরিচয় করিয়ে দেবো নবগ্রহ পরিবারে অন্যতম এবং বৃহত্তম সদস্য বৃহস্পতির।

বৃহস্পতি মুলত বৈদিক যুগের একজন ঋষি যিনি দেবতাদের পরামর্শদাতা হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন।স্কন্দ পুরান অনুসারে প্রভাস তীর্থে গিয়ে বৃহস্পতি ভগবান শিবের কঠোর তপস্যা করেন এবং তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে দেবাদিদেব মহাদেব তাকে দেবগুরু পদ প্রদান করেন|

জন্ম বৃত্তান্ত অনুসারে বৃহস্পতির মাতা শ্রদ্ধা , শ্রদ্ধা কর্দম ঋষির তৃতীয় কন্যা ।তার বিবাহ অঙ্গিরা ঋষি সাথে হয়েছিল|অর্থাৎ বৃস্পতি শ্রদ্ধা ও অঙ্গীরা ঋষির পুত্র|আবার ঋগবেদে বলা হয়েছে,পৃথিবীর প্রথম উজ্জ্বল ও পবিত্র মহাআলোক থেকে বৃহস্পতির জন্ম যিনি সকল আঁধার দূরীভূত করেন|বৃহস্পতির স্ত্রী তারা |তারা ও চন্দ্রের প্রেম কাহিনী ও বুধের জন্মের বৃত্তান্ত আমি আগের পর্বে বলেছি তাই আজ আর বিস্তারিত আলোচনায় যাচ্ছিনা|এক কথায় বুধ ও বৃহস্পতির পিতা পুত্রের সম্পর্ক|

প্রাচীন ভারতীয় বৈদিক গ্রন্থ মতে তিনি হলেন বাগ্মিতার দেবতা আবার কোথাও তার সম্পর্কে বলা হয়েছে যে তিনি অগ্নি দেবের অবতার এবং অগ্নি দেবের সমতুল্য তার তেজ ও প্রভাব| বৃহস্পতির দেব মূর্তি পদ্মে আসীন এবং চতুর্ভুজ তার হাতে থাকে দন্ড এবং জপমালা,তার শরীর হলুদ বর্নের|আমাদের হিন্দু ক্যালেন্ডারের বৃহস্পতিবার দেব গুরু বৃহস্পতির নামে উৎসর্গকৃত|বৃহস্পতির প্রতিকার হিসেবে প্রধান রত্ন পোখরাজ নির্ধারিত হয়েছে|বৃহস্পতি ধনু ও মীন রাশির অধিপতি|

জ্যোতিষ শাস্ত্রে বৃহস্পতি নিঃসন্দেহে একটি শুভ গ্রহ|বৃহস্পতি সন্তান লাভের কারক গ্রহ, উচ্ছ শিক্ষার কারক গ্রহ|বৃহস্পতি প্রভাবিত করে জাতক জাতিকার বিবাহিত জীবনকে|এছাড়াও মেধা, পান্ডিত্য, আধ্যাত্মিকতা, উদ্দম, বাগ্মীকতা নির্ধারিত হয় বৃহস্পতির অবস্থানের উপর নির্ভর করে। বৃহস্পতি অশুভ থাকলে জাতককে বা জাতিকাকে গোটা জীবন সংঘর্ষ করতে হয়|উচ্চ শিক্ষায়, এবং জীবনের সার্বিক উন্নতিতে বাঁধা আসে|আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা যায়|বৃহস্পতি চন্দ্রের সাথে মিলিত হয়ে যেমন গজ কেশরীর মতো শুভ যোগ সৃষ্টি করে তেমনই রাহুর মত পাপ গ্রহের সাথে মিলিত হয়ে সৃষ্টি করে গুরু চণ্ডাল দোষ|বৃহস্পতি ও শনির সংযোগে সৃষ্টি হয় গুরু শনি দোষ|সহজ ভাষায় বলতে গেলে জাতক জাতিকার জন্ম ছকে বৃহস্পতি শুভ হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ|

আগামী দিনে নব গ্রহের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রহকে নিয়ে আলোচনা করবো। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

পুরান এবং নবগ্রহ – মঙ্গলদেব

পুরান এবং নবগ্রহ – মঙ্গলদেব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

নব গ্রহের অন্যতম প্রধান এবং প্রভাবশালী একটি

গ্রহ মঙ্গল আজকের এই পর্বে এই মঙ্গল গ্রহ নিয়ে আলোচনা করবো।

 

শাস্ত্র মতে মঙ্গল গ্রহের দেবতা মঙ্গলদেব|তিনি অকৃতদার ও যুদ্ধ বিগ্রহের দেবতা এমন কি কিছু প্রাচীন গ্রন্থে তাকে দেব সেনাপতি কার্তিকের সমতুল্য বলা হয়েছে|মঙ্গল দেব একজন প্রবল পরাক্রমী যোদ্ধা যিনি তারকাসুরকে বধ করেছিলেন|কোনো কোনো পৌরাণিক কাহিনীতে মঙ্গল দেবকে বিষ্ণুর বরাহ অবতার ও বসুন্ধরা বা পৃথিবীর সন্তান হিসেবে দেখানো হয়েছে আবার কিছু কিছু শাস্ত্রে উল্লেখ আছে যে তার জন্ম হয়েছে শিবের ঘাম বা রক্তের ফোঁটা থেকে|

 

ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরানে মঙ্গল দেবের জন্ম ও তার স্বরূপ সম্পর্কে বহু তথ্য লিপিবদ্ধ রয়েছে|মঙ্গলদেবের শরীর রক্ত বর্নের তার পোশাকের রঙও লাল |তার চারটি হাত|চার হাতে ক্রমানুসারে অভয়মুদ্রা, ত্রিশুল, গদা এবং বরমুদ্রা শোভিত|মঙ্গল দেবের বাহন ভেড়া এবং তার বাসস্থান মঙ্গল লোক|মঙ্গলবারটি মূলত এই দেবতাকে উৎসর্গকৃত।সকল গ্রহদের মধ্যে মঙ্গলকে কুমার গ্রহ বলা হয় এবং এই গ্রহটি অত্যান্ত শক্তিশালী|পঞ্চমহাপুরুষ যোগের অন্যতম রুচক যোগের প্রধান কারিগর এই মঙ্গল গ্রহ।

 

পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যার পর এবার আসি জ্যোতিষ শাস্ত্রে|মঙ্গল অগ্নি তত্ত্বর গ্রহ এবং বর্ণ লাল|আশ্চর্যর বিষয় আজকের আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের আবিষ্কারেও মঙ্গলের মাটির রং লাল|তত্ব ও বর্ণ অনুসারে মনে মঙ্গলের জন্য নির্ধারিত প্রধান রত্ন হলো রক্ত প্রবাল|

 

অন্যান্য গ্রহের ন্যায় মঙ্গলের যেমন কিছু ভালো প্রভাব আছে তেমনি খারাপ প্রভাব ও রয়েছে| মঙ্গলের মধ্যে সৃষ্টি ও বিনাশ , শুভ ও অশুভ , উভয় গুনই বর্তমান| জন্ম কুণ্ডলীতে মঙ্গল শুভ অবস্থায় না থাকলে জাতক বা জাতিকার তেজস্বীতা ও সাহস কম থাকবে|জীবনে জামেলা-ঝঞ্জাট বাড়বে , দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকবে, অশান্তি , মামলা – মোকদমা ইত্যাদির সম্ভবনা থাকবে|আবার মঙ্গল জন্মকুণ্ডলীতে শুভ হলে , জাতক বা জাতিকা স্বাধীনচেতা , সাহসী , বীরত্ব ভাব সম্পন্ন হবে। ভূসম্পত্তি লাভ,

গৃহ লাভ , অঙ্কে দক্ষতা , শাস্ত্র জ্ঞান লাভ , চিকিৎসাশাস্ত্রে পারদর্শিতা , শিল্পকলায় বা ক্রীড়া ক্ষেত্রে নাম করা ইত্যাদি মঙ্গলের অবস্থান এবং তার গ্রহগত সংযোগের উপর নির্ভর করে|

 

মঙ্গল গ্রহ জ্যোতিষ শাস্ত্রে সব থেকে বেশি আলোচিত হয় মাঙ্গলিক দোষের কারনে। জাতক জাতিকার জন্ম ছকে এক, চার, ছয়, আট এবং বারো এই ঘর গুলির একটিতে মঙ্গল থাকলে মাঙ্গলিক বলা হয়। মাঙ্গলিক যোগের ভালো এবং মন্দ দুটি দিকই আছে যা নিয়ে পরে এক সময় বিস্তারিত আলোচনা করবো।

 

পুরান এবং নবগ্রহ নিয়ে ধারাবাহিক এই

অনুষ্ঠানে আগামী পর্বে আলোচনা করবো বুধ

নিয়ে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

পুরান এবং নবগ্রহ – বুধ

পুরান এবং নবগ্রহ – বুধ

 

পন্ডিতজি ভৃগুর শ্রী জাতক

 

শাস্ত্রে তিন রকমের দেবতার উল্লেখ আছে। বৈদিক দেবতা, পৌরাণিক দেবতা এবং লৌকিক দেবতা। নব গ্রহের প্রত্যেক দেবতা হয়ে বৈদিক অর্থাৎ বেদে তাদের উল্লেখ আছে আবার পুরানেও তাদের পাওয়া যায়। আজ আলোচনা করবো নব গ্রহের অন্যতম বুধ গ্রহকে নিয়ে।

 

পুরান অনুসারে বুধ চন্দ্র দেব এবং দেব গুরু বৃহস্পতির স্ত্রী দেবী তারার অবৈধ সন্তান|বুদ্ধের জন্ম নিয়ে আছে এক বিতর্কিত পৌরাণিক কাহিনী|সেই কাহিনী সংখ্যে কিছুটা নিম্নরূপ –

 

দেবগুরু বৃহস্পতির বহু শিষ্য ছিল এবং চন্দ্রও ছিলেন ওনার এক শিষ্য,সৌন্দর্যের অপর নাম ছিলো চন্দ্র |অন্যদিকে বৃহস্পতির স্ত্রী তারা ছিলেন পরম সৌন্দর্যের অধিকারিণী|তারা দেবী ও চন্দ্র পরস্পরের প্রতি আকৃষ্ট হন ও এক প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠ|পরবর্তীতে বৃহস্পতি সব জানতে পারলে চন্দ্রের সঙ্গে তার যুদ্ধ বাঁধে এই যুদ্ধে দৈত গুরু শুক্র বা শুক্রাচার্য চন্দ্রের পক্ষ নেন|অন্যদিকে দেবতারা তাদের গুরু বৃহস্পতির পক্ষ নেন|অবশেষে এই যুদ্ধ থেকে ব্রম্হান্ডকে রক্ষা করতে ব্রহ্মদেব মদ্ধস্ততা করেন ও যুদ্ধ থামে|ইতিমধ্যে চন্দ্রের ঔরসে তারার গর্ভে জন্মনেন এক পুত্র|চন্দ্র তার নাম রাখেন বুধ|পরবর্তীকালে চন্দ্রদেব বুধের দায়িত্ব সঁপে দেন ওনার প্রিয় পত্নী রোহিণীকে। তাই বুধদেবকে রৌহিণেয়ও বলা হয়| আবার চন্দ্র বা সোমদেবের পুত্র হওয়ায় বুধের অপর নাম সৌম|

 

পুরানে পাওয়া বর্ননা অনুসারে দেবতা বুধের শরীর কিয়দ পিঙ্গল বর্ণের কিংবা সবুজাভ,তিনি পিঙ্গল পোশাক পরিহিত। আগুন ও বাতাসের তৈরি তার রথ|এই রথ টেনে নিয়ে যায় আটটি বাতাসের তৈরি ঘোড়া|কিছু গ্রন্থে বুধ কে বুদ্ধিদাতা ও গন্ধর্বদের প্রণেতাও মানা হয়|শ্রীবুধের বাহন সিংহ|তিনি বুধ গ্রহের অধিপতি|

 

বাংলায় আমাদের বুধবার এসেছে বুধ দেবতার নাম অনুসারে। বুধ শব্দের অর্থ পন্ডিত, বিদ্বান বা জ্ঞানী|বৈদিক জ্যোতিষ শাস্ত্রে বুধ একটি অন্যতম শক্তিশালী এবং শুভ গ্রহ যা মূলত বুদ্ধি এবং অর্থের কারক গ্রহ হিসেবে স্বীকৃত|জ্যোতিষ শাস্ত্রে বুধ গ্রহটিকে বালকের সাথে তুলনা করা হয়ে থাকে এবং কুমার গ্রহ বলে ধরা হয়েথাকে কারন বুধের মধ্যে রয়েছে বালক সুলভ চপলতা , কর্মে চঞ্চলতা|

 

বুধের শুভ প্রভাবে জাতক জাতিকার জ্ঞান বিজ্ঞান , কাব্য , সাহিত্য চর্চা, জ্যোতিষ বিদ্যা , চিকিৎসা বিদ্যা , আইন জীব , গণিত ইত্যাদি বিষয়ে ব্যাপক উন্নতি সম্ভব আবার বুধ  অশুভ হলে অস্থিরতা , মূর্খতা , উদাসীনতা ,বাচালতা খারাপ কোনো বাবস্যার সাথে যুক্ত হওয়া  ইত্যাদি প্রবনতা লক্ষ্য করা যায়|এছাড়া বুধ একাধিক শুভ যোগের মুল কারক গ্রহ যার মধ্যে রয়েছে বুধাদিত্য যোগ|বুধ কন্যা ও মিথুন রাশির স্বামী বা অধিপতি|বুধের প্রধান রত্ন হিসেবে পান্নাকে নির্ধারিত করা হয়েছে|

 

নবগ্রহ সংক্রান্ত আলোচনা ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকবে। ফিরে আসবো পরবর্তী গ্রহ নিয়ে আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

পুরান এবং নবগ্রহ – চন্দ্রদেব 

পুরান এবং নবগ্রহ – চন্দ্রদেব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

পুরান অনুসারে নয়টি গ্রহের আলাদা সত্ত্বা রয়েছে, কেউ দেবতা, কেউ দেবতা দের গুরু কেউ আবার অসুর|আজকের পর্ব চন্দ্রদেব কে নিয়ে|

 

ঠিক সূর্যদেবের মতো চন্দ্রদেব ও একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রহ এবং পাশাপাশি তিনি সনাতন ধর্মের এক বৈদিক দেবতা হিসেবেও বেদে এবং পুরানে উল্লেখিত|বহু পৌরাণিক ঘটনা ও কিংবদন্তী প্রচলিত আছে চন্দ্রদেবকে নিয়ে।

 

শাস্ত্রে চন্দ্রের জন্ম বৃত্তান্ত সম্পর্কে সেই ভাবে বিস্তারিত আলোচনা না থাকলেও স্পষ্ট করে উল্লেখিত আছে যে চন্দ্র ব্রহ্মদেবের মানস পুত্র এবং ঋষি অত্রির পুত্রদের একজন|

চন্দ্র সাতাশটি নক্ষত্রের স্বামী এবং তিনি বুধগ্রহের পিতা আবার দক্ষের জামাতা।

 

পুরান অনুসারে চন্দ্র দেবগুরু বৃহস্পতির পত্নী তারার রূপে মুগ্ধ হয়ে তাকে প্রেম নিবেদন করেন ও বিবাহের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তিনি গুরুপত্নী তাই বিবাহের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। কিন্তু চন্দ্রের ভালোবাসার কাছে আত্মসমর্পণ করেন তারা এবং তাদের মধ্যে এক বিবাহ বহির্ভুত প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে|পরবর্তীতে চন্দ্রের এবং তারার পুত্রের নাম বুধ|অর্থাৎ বুধ ও চন্দ্রের পিতা পুত্রের সম্পর্ক।

 

সমুদ্র মন্থন কালে অসুরদের অমৃত পানে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় চন্দ্র এবং সূর্য যার ফল স্বরূপ আজও নিদ্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে চন্দ্রগ্রহনের মাধ্যমে প্রতিশোধ নেয় রাহু ও কেতু|যদিও এ এক দর্শন, হাজার হাজার বছর ধরে প্রচলিত এক কিংবদন্তী যার সাথে জড়িত অসংখ্য মানুষের বিশ্বাস|

 

বৈদিক জ্যোতিষ শাস্ত্রে চন্দ্র যে নক্ষত্রে অবস্থান করে সেই নক্ষত্রর ফলপ্রাপ্ত হয়|চন্দ্র মনকে নির্দেশ করে,মানসিক শান্তি, মানসিক স্থিরতা, ধৈর্য, সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা সবই চন্দ্রের উপর নির্ভরশীল|জন্মছকে চন্দ্র অশুভ হলে,মানসিক অশান্তি, অস্থিরতা, অবসাদ, দুশ্চিন্তা জাতক জাতিকার জীবনের নিত্য সঙ্গী হয়ে ওঠে|চন্দ্র যখন রাহু বা কেতু যুক্ত হয় তখন আমরা তাকে গ্রহণ দোষ বলি|আবার চন্দ্রর অবস্থানের উপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয় অশুভ কেমদ্রুম দোষ|আবার চন্দ্রের সাথে শুভ গ্রহের সংযোগে সৃষ্টি হয়ে গজকেশরী যোগ, জীব যোগ বা লক্ষী যোগ|চন্দ্র আবার মাতৃ কারক গ্রহ|চন্দ জন্ম কালীন সময়ে যে রাশি তে অবস্থান করে সেটাই জাতক বা জাতিকার জন্ম রাশি|

 

জ্যোতিষ শাস্ত্রে চন্দ্রের অবস্থান কে বিচার করে চন্দ্র কুন্ডলী নির্মাণ হয়। চন্দ্রের উপর নির্ভর করে একজন জাতক বা জাতিকার ভবিষ্যত জীবনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

আবার আগামী পর্বে ফিরে আসবো নবগ্রহ নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনায়। থাকবে নানা

পৌরাণিক ঘটনা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

পুরান এবং নবগ্রহ – সূর্যদেব 

পুরান এবং নবগ্রহ – সূর্যদেব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

পুরানের সাথে জ্যোতিষ শাস্ত্রের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। পুরান অনুসারে প্রতিটি গ্রহ এক একটি দেবতা। তাদের নিয়ে রয়েছে অনেক পৌরাণিক ঘটনার উল্লেখ। আজ নবগ্রহের সূর্যদেব বা রবি কে নিয়ে আজ আলোচনা করবো। জানাবো জ্যোতিষ শাস্ত্রে তার ভূমিকা এবং পুরান ও অন্যান্য শাস্ত্রে সূর্যদেব সম্পর্কে কি লিপিবদ্ধ আছে|

 

সূর্যদেব মূলত বৈদিক দেবতা, বৈদিক যুগে ইনি প্রধান দেবতারূপে পূজিত হতেন ইনি কশ‍্যপ মুনির এবং অদিতি দেবীর পুত্র|সূর্যের অপর নাম হল আদিত‍্য|শাস্ত্র মতে সূর্য দেব জগতের সকল শক্তির উৎস এবং তিনি অন্ধকারকে নাশ করেন|সূর্য দেবের চারটি হাত । তিনি শঙ্খ, চক্র , ধনুক ও বাণ ধারনকারী |সূর্যদেব সাতটি ঘোড়া যুক্ত রথে চড়ে ব্রহ্মান্ডে ভ্রমণ করেন| তার সারথির নাম অরুণ দেব |সূর্য দেবের সাতটি ঘোড়া সাতটি কিরণকে নির্দেশ করে| কথিত আছে , তার রথ কখনো থামে না |সৌরজগতের রাজা বা অধিপতি হলেন সূর্যদেব|সূর্যদেবের দুই জন স্ত্রী ছায়া ও সংজ্ঞা মতান্তরে , সংজ্ঞা ও সন্ধ‍্যা|জম,শনি, যমুনা সূর্যের সন্তানদের অন্যতম|অস্বীনি কুমার এবং সুগ্রীব ও সূর্যদেবেরই সন্তান|সূর্যদেব থেকেই সূর্য বংশের সৃষ্টি|

 

কথিত আছে- সূর্যপত্নী সংজ্ঞা সূর্যের তাপ সহ্য করতে অসমর্থ হলে, সংজ্ঞার পিতা বিশ্বকর্মা সূর্যকে মোট ১২টি ভাগে ভাগ করেন এবং এই আটটি ভাগ পৃথিবীতে পতিত হলে বিশ্বকর্মা এগুলি থেকে শক্তি সঞ্চয় করে বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র, শিবের ত্রিশূল, কুবেরের অস্ত্র, কার্তিকেয়ের তরবারি ও অন্যান্য দেবতাদের অস্ত্র নির্মাণ করে দেন|

 

অমৃত পানকালে প্রতারক দানব রাহুকে চিহ্নিত করেন সূর্যদেব ও চন্দ্রদেব এবং এইজন্য তাঁরা রাহুর চিরশত্রুতে পরিণত হন ও প্রতিশোধ স্বরূপ রাহু সাময়িকভাবে সূর্য ও চন্দ্রকে গ্রাস করেন| এ ক্ষেত্রে কোনো দেবগণ সূর্যদেবকে সাহায‍্য না করায় সূর্যদেব ক্রোধিত হলেন এবং এর ফলে তিনি অসীম তেজবৃদ্ধি করলেন|সূর্যের তেজের ফলে সৃষ্টি ধ্বংস হবার উপক্রম হলে ব্রহ্মাদেব অরুণ দেবকে সূর্যের সারথি করলেন এবং তাকে শান্ত হতে অনুরোধ করলেন|অবশেষে তিনি শান্ত হলেন ও রক্ষা পেলো ব্রম্হান্ড|অর্থাৎ সূর্যের তেজ যেমন সৃষ্টির উৎস তেমনই অতিরিক্ত তেজ সৃষ্টির ধ্বংসের কারনও হতে পারে|

 

রামায়ণ এবং মহাভারত দুটিতেই সূর্যের উল্লেখ আছে।একবার রাবণ দিগ্বিজয়ে বের হয়ে, সুমেরু শিখরে রাত্রি যাপন করেন এবং পরদিন পুষ্পক রথে চড়ে সূর্যলোকে যান। সেখানে সূর্যের তেজে কাতর হয়ে তিনি প্রহস্ত নামক এক অনুচরকে দিয়ে সূর্যের সাথে যুদ্ধ করার প্রস্তাব পাঠান। সূর্য তার দণ্ডী নামক এক অনুচরকে রাবনের কাছে পাঠিয়ে সুকৌশলে যুদ্ধ এড়িয়ে যান।মহাভারতে উল্লেখ আছে- কুন্তী দেবী দুর্বাসার কাছ থেকে বর পেয়ে সূর্যকে আবাহন করলে, সূর্য কুন্তীর সাথে মিলিত হন। এই মিলনের ফলে কর্ণর জন্ম হয়|

 

বৈদিক জ্যোতিষ শাস্ত্রে সূর্য সবথেকে প্রভাব শালী ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রহগুলির অন্যতম|সূর্য একা ধারে পিতৃ কারক গ্রহ এবং কর্ম, প্রভাব, প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠাকে নির্দেশ করে|সূর্য ভালো থাকলে জাতক জাতিকার নাম, যশ ও অর্থাৎ লাভের পথ প্রশস্ত হয়ে|সূর্যের অশুভ প্রভাব বা অবস্থান জাতক জাতিকার জীবনে সাফল্য অর্জনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়| পিতার স্বাস্থ বা আর্থিক অবস্থাও নির্ভর করে সূর্যের অবস্থানের উপর|জ্যোতিষ শাস্ত্রে চন্দ্র যেমন মন মানসিকতা কে প্রভাবিত করে সূর্য তেমন দেহ ও ব্যক্তিত্ব কে প্রভাবিত করে|আবার কোনো গ্রহ যদি সূর্যের অতিরিক্ত কাছে এসে পরে তা সূর্যের তেজে শক্তিহীন হয়ে পরে তখন তাকে আমরা দগ্ধ গ্রহ বলি|

 

পুরান এবং গ্রহদের সম্পর্ক নিয়ে আবার ফিরে আসবো আগামী পর্বে। থাকবে চন্দ্র নিয়ে শাস্ত্রীয় আলোচনা।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

গণেশ চতুর্থীর আধ্যাত্মিক মাহাত্ম

গণেশ চতুর্থীর আধ্যাত্মিক মাহাত্ম

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, যেদিন ভগবান শিব ও মা পার্বতীর পুত্র গণেশের জন্ম হয়েছিল, সেই দিনটি ছিল ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী। তাই এই দিনটিকে গণেশ চতুর্থী বা বিনায়ক চতুর্থী রূপে পালন করা হয়।আজ সেই পবিত্র দিন।আজ গণেশ চতুর্থী।

তবে বিভিন্ন শাস্ত্রে গণেশের আবির্ভাব নিয়ে বিভিন্নরকম তথ্য পাওয়া যায়। শিব পুরাণে ভাদ্রমাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্থীকে গণেশের জন্মদিন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। যেখানে গণেশ পুরাণের মতানুযায়ী গণেশের আবির্ভাব ঘটেছিল ভাদ্রপদ শুক্লা চতুর্থীতে।তবে একটি বিষয় সব গ্রন্থেই লিপিবদ্ধ তা হলো সিদ্ধিদাতা গণেশের পূজা ঘরে সুখ, সমৃদ্ধি ও বৃদ্ধি নিয়ে আসে।

পার্বতী পুত্র গণেশ প্রারম্ভের দেবতা। তিনি বিঘ্ননাশক দেবতা তাই তার অপর নাম বিঘ্নেশ বা বিঘ্নেশ্বর, আবার তিনিই শিল্পকলা ও বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষক, এবং মহাবল, মেধা ও বুদ্ধির দেবতা। শাস্ত্র মতে পূজা ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের সময় গণেশের পূজা সর্বাগ্রে করার কথা বলা হয়েছে তাতে কাজ সফল এবং সার্থক হয়।

বিভিন্ন পুরানে গণেশের একাধিক নামের অস্তিত্ব পাওয়া যায় যেমন হেরম্ব, বক্রতুণ্ড, একদন্ত, মহোদর, গজানন, লম্বোদর, বিকট ও বিঘ্নরাজ।
এদের মধ্যে একদন্ত নামটি নামটি হয়েছে তার একটি গজ দন্তের জন্য। এনিয়ে একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যাও আছে।

একটি ব্যাখ্যা অনুসারে একবার পরশুরাম দেবাদিদেব মহাদেবের সঙ্গে দেখা করার জন্য তাঁর গৃহে যান। কিন্তু গণপতি দরজাতেই তাঁকে আটকে দেন। ভেতরে প্রবেশ করতে দেন না। কারণ সেই সময় মহাদেব ধ্যানে মগ্ন ছিলেন। তখনই ক্রোধান্বিত হয়ে পরশুরাম গণপতির একটি দাঁত কেটে দেন তার অস্ত্র দিয়ে|

আবার অন্য একটি ব্যাখ্যা অনুসারে বেদব্যাসের সঙ্গে মহাভারত লিখতে বসে গণেশের কলম ভেঙে গিয়েছিল। যেহেতু ব্যাসদেব তাঁকে শর্ত দিয়েছিলেন যে, লেখা থামাতে পারবেন না। তাই গণপতি নাকি নিজের একটা দাঁত ভেঙে সেটিকে কলম হিসেবে ব্যবহার করে লেখা চালিয়ে যান।সেই থেকে গণেশ একদন্ত এবং এই রূপেই তাকে পুজো করা হয়।

আগামী কাল শাস্ত্র মতে গণেশ পুজো করুন। বিঘ্নহর্তার আশীর্বাদে সব বিঘ্ন দূর হবে। সবাইকে জানাই গণেশ চতুর্থীর শুভেচ্ছা।আবার একটি পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।