Home Blog Page 48

ভক্তের ভগবান – শ্রী চৈতন্যদেব এবং জগাই মাধাই

ভক্তের ভগবান – শ্রী চৈতন্যদেব এবং জগাই মাধাই

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

যুগাবতার শ্রী চৈতন্যদেবের নাম এলেই আসে জগাই-মাধাইয়ের নাম। চৈতন্য দেবের কৃষ্ণ নাম প্রচারে বাধা দেওয়া জগাই মাধাই পরে কৃষ্ণ নামে বিভোর হয়ে পড়েন।পাপে নিমজ্জিত এই দুই ভক্তকে উদ্ধার করেছিলেন মহাপ্রভু। তার এই লীলা জগাই মাধাই উদ্ধার লীলা নামে প্রসিদ্ধ। আজকের পর্বে ভগবান এবং ভক্তের এই লীলা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।

 

একবার নবদ্বীপ এর পথে নাম হরি নাম প্রচার করছিলেন মহাপ্রভুর দুই সঙ্গী হরিদাস ঠাকুর এবং নিত্যানন্দ প্রভু। সেই সময়ে তারা জগাই মাধাই নামে দুই মহা পাপী এবং ব্যাভিচারির খপ্পরে পড়েন। এই দুই ভাই সমভ্রান্ত পরিবারের হয়েও মদ্যপান, মাংস আহার এবং অবৈধ নারী সঙ্গে ডুবে থাকতো।নিত্যানন্দ প্রভু তাদের উদ্ধার এর জন্য হরি নাম করার অনুরোধ করলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মাধাই তার মাথায় ভাঙা কলসির কানা দিয়ে আঘাত করলেন। রক্তাক্ত নিত্যানন্দ প্রভু ক্রোধ না করে তাদের ভগবানের আশ্রয় নিতে বললেন। জগাই তার পা জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চাইলেন কিন্তু ততক্ষন এই সংবাদ পৌঁছে গেছে মহাপ্রভুর কাছে। মহা প্রভু ক্রোধের আগুনে জ্বলতে জ্বলতে ছুটে এলেন এই এই দুই পাপীকে স্বাস্তি দিতে চাইলেন। কিন্তু হরিদাস ঠাকুর এবং নিত্যানন্দ প্রভু তাকে মনে করলেন এই কলি কালে পাপীদের উদ্ধার করতেই তার আবির্ভাব হয়েছে। ক্রোধ করা উচিৎ নয়।এতে মহাপ্রভু শান্ত হলেন এবং অনুতপ্ত জগাই এবং মাধাইকে তিনি তার চরণে স্থান দিলেন।পরবর্তীতে জগাই মাধাই হয়ে উঠেছিলেন পরম বৈষ্ণব এবং মহাপ্রভুর একনিষ্ঠ ভক্ত।

 

বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর জন্মভিটা তথা মহাপ্রভুর শশুরবাড়ি কাছেই আছে মাধাইপুর গ্রাম। জানা যায়, মাধাই-এর নাম অনুসারেই এলাকার নাম হয় মাধাইপুর। প্রায় জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে এই জগাই-মাধাই মন্দির। মন্দিরের বর্তমান সেবাইত জানান, জাগাই-মাধাই এর পৈতৃক ভিটা বর্তমানে নদীগর্ভে। এখন যে জায়গায় তাঁদের নিত্যপুজো হয়।

 

আবার এক ভক্ত এবং ভগবানের অলৌকিক লীলা প্রসঙ্গ নিয়ে ফিরে আসবো যথা সময়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – জগন্নাথের মুসলিম ভক্ত শালবেগ

ভক্তের ভগবান – জগন্নাথের মুসলিম ভক্ত শালবেগ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

পুরীর জগন্নাথ দেব জগতের নাথ। সারাবছর তার মন্দিরে প্রবেশে অনেক বিধি নিষেধ আছে। সনাতন ধর্মের বাইরের কেউ তার মন্দিরে প্রবেশের অধিকার পায়না। তবে রথ যাত্রার সময় প্রভু নিজে বেরিয়ে আসেন মন্দির থেকে এবং জাতী ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে প্রভু তার ভক্তদের সাথে মিলিত হন।

 

এই পুরীর মন্দির থেকে প্রায় দুশো মিটার দূরে অবস্থিত শালবেগ মাজার। এই মাজারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জগন্নাথদেবের এক মুসলিম

ভক্তের কথা।আজকের পর্বে এই ভক্ত প্রসঙ্গে আলোচনা করবো।

 

প্রতি বছর মাসির বাড়ি যাওয়ার পথে প্রথা মেনে পথে এক জায়গায় আচমকা দাঁড়িয়ে পড়ে জগন্নাথ দেবের রথ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে তাঁর এক মুসলিম ভক্তকে দর্শন করতেই প্রতি বছর পথে একটি মাজারের সামনে জগন্নাথের রথ দাঁড়িয়ে পড়ে।

 

মুঘল বাদশাহ জাহাঙ্গীরের আমলে বাংলার গভর্নর ছিলেন জাহাঙ্গীর কুলি খান। এক হিন্দু ব্রাহ্মণ ঘরের মহিলাকে তিনি বিয়ে করেছিলেন। জগন্নাথের একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন ওই মহিলা। তাদের সন্তান হলেন শালবেগ ধর্মে মুসলিম হলেও মায়ের প্রভাবে তিনি হয়ে উঠে ছিলেন জগন্নাথ দেবের পরম ভক্ত। কিন্তু পুরীর মন্দিরে অহিন্দুর প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়ায় তিনি কখনও জগন্নাথ দেবকে দর্শন করতে পারেননি।

 

মৃত্যুর আগে তিনি মন্দিরের কাছে একটি কুঁড়েঘর তৈরি করে সেখানেই জীবনের শেষ কটি দিন কাটিয়ে যান। প্রচলিত বিশ্বাস, শেষ শয্যায় ওই ভক্তের কান্না ঈশ্বরের হৃদয় স্পর্শ করে।তিনি শালবেগকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে তাকে প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি নিজে আসবেন তার সাথে দেখা করতে।

তারপর রথের দিন রথ সেই কুটিরের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়ে আচমকা রথের চাকা থেমে যায় এবং বহু চেষ্টায় রথের চাকা নড়ানো যায়নি। তারপর থেকে প্রতিবছর রথ যাত্রার সময়ে সেই

নিদ্দিষ্ট স্থানে রথ থামানো হয়।

 

এখন ওই স্থান একটি মাজারে পরিণত হয়েছে এবং প্রতি বছর রথযাত্রার সময় ওই মাজারের সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ভক্তকে দর্শন দিয়ে যান জগন্নাথ মুঘল আমল থেকে আজও এই প্রথা

চলে আসছে।

 

ভক্তের ভক্তি যদি খাঁটি হয় ভগবান কৃপা করবেনই

এই ঘটনা থেকে এই চরম সত্য

আরো একবার প্রমাণিত হয়।

 

ভক্তের ভগবানের পরবর্তী পর্বে আবার এমনই

এক ভক্ত এবং ভগবানের লীলা নিয়ে

ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – শ্রী কৃষ্ণ এবং দ্রৌপদী

  1. ভক্তের ভগবান – শ্রী কৃষ্ণ এবং দ্রৌপদী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শ্রী কৃষ্ণ যুগে যুগে অবতার রূপে পৃথিবীতে এসেছেন এবং নানা রকম লীলা করছেন।

তার সর্বদা ছিলেন তার লীলা সঙ্গিনীরা।

সত্য যুগে যিনি বেদবতী ত্রেতাতে তিনিই সীতা এবং দ্বাপর যুগে তিনিই দ্রৌপদী। তার কৃষ্ণ ভক্তির জন্য তার আরেকনাম কৃষ্ণা।

 

পাঞ্চালরাজ দ্রুপদের যজ্ঞ বেদী থেকে দ্রৌপদীর আবির্ভাব হয়ে ছিলেন এবং তার স্বয়ংবর সভায় পৌঁছে পঞ্চ পান্ডব তাদের বীরত্ব এবং শ্রী কৃষ্ণের আশীর্বাদের জোরে দ্রৌপদীকে জয় করেন।

 

শ্রী কৃষ্ণ এবং দ্রৌপদীর সম্পর্ককে নানা ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। আসলে পঞ্চপান্ডবের স্ত্রী হয়েও আজীবন তিনি কৃষ্ণ ভক্তে মজে ছিলেন।

 

যখন রাজ সভায় কৌরব কতৃক দ্রৌপদীর

বস্ত্র হরণ হচ্ছিলো তখন স্বয়ং শ্রী কৃষ্ণ তার সন্মাম রক্ষা করেন। এখানে অনেকই প্রশ্ন করেন কৃষ্ণ যার পাশে আছেন তাকে নিজের সন্মান রক্ষার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো কেন।

আসলে শ্রী কৃষ্ণ দ্রৌপদীর ভক্তির পরীক্ষা নিয়ে ছিলেন। যতক্ষণ পর্যন্ত দ্রৌপদী নিজের সন্মান রক্ষার ভার নিজের হাতে রেখেছিলেন ততক্ষন পর্যন্ত শ্রী কৃষ্ণ হস্থক্ষেপ করেননি যেই মুহূর্তে দ্রৌপদী সমস্ত ভার কৃষ্ণের হাতে অর্পণ করে নিজেকে তার চরনে সম্পূর্ণ রূপে সমর্পন করলেন তখন শ্রী কৃষ্ণ নিজেই অবতীর্ণ হলেন।

 

পরবর্তীতে দ্রৌপদীর ইচ্ছেতেই পান্ডবরা কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে অংশ নেন এবং কৌরবদের পরাজিত করেন। সেখানেও নেতৃত্বে স্বয়ং শ্রী কৃষ্ণ।

 

এই যুদ্ধে শ্রীকৃষ্ণ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল। তাঁর হাত থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। ফলে পান্ডব-ঘরণী দ্রৌপদী ক্ষতস্থানটিতে নিজের শাড়ির কিছু অংশ ছিঁড়ে বেঁধে দেন। এর ফলে অভিভূত হয়ে কৃষ্ণ দ্রৌপদীকে নিজের ভগিনীর বলে ঘোষণা করেন এবং কোনও না কোনও দিন এর প্রতিদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। দ্রৌপদী কর্তৃক কৃষ্ণের হাতে কাপড় বেঁধে দেওয়ার এই ঘটনাটি থেকেই পবিত্র রাখীবন্ধন উৎসবের প্রচলন ঘটে।

 

ফিরে আসবো ভক্ত এবং ভগবানের পরবর্তী পর্ব নিয়ে যথা সময়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – কৃষ্ণভক্ত রাজা জয়মাল

ভক্তের ভগবান – কৃষ্ণভক্ত রাজা জয়মাল

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ভগবান যেমন করুনা ময় তেমনই অধর্মের বিনাশ করতে বা নিজ ভক্ত কে রক্ষা করতে তিনি রূদ্র মূর্তিও ধারণ করতে পারেন। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে তিনি যেমন পান্ডবদের কূটনৈতিক জ্ঞান দান করে ছিলেন। তেমনই রাজা জয়মাল কে প্রতিবেশী রাজার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে নিজেই

অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলেন। আজকের পর্বে আপনাদের সেই ঘটনার কথা জানাবো।

 

ভক্তমালা গ্রন্থে রাজা জয়মালের কথা সুন্দর ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। রাজা জয়মাল কৃষ্ণকে শ্যামসুন্দর রূপে পুজো করতেন এবং রাজ্য পরিচালনার থেকে কৃষ্ণ প্রেমেই বেশি মজে থাকতেন। তার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তার প্রতিবেশী রাজ্যের রাজা জয়মালের রাজ্য আক্রমণ করে বসেন। যুদ্ধের জন্য জয় মাল প্রস্তুত ছিলেন না। তাই যুদ্ধে তার পরাজয় প্রায় নিশ্চিত

হয়ে পরে। যখন তার সৈন্যরা যুদ্ধ ক্ষেত্র ছেড়ে পলায়ন করছে এবং যেকোনো মুহূর্তে শত্রুরা রাজ্য দখল করবে এমন সময়ে জয়মালের মন্ত্রীরা তাকে আসন্ন বিপদের কথা জানাতে ছুটে আসেন।

জয়মল তার উপাসনায় অবিচল থেকে বলেন

“এই রাজ্য আমার ভগবান কৃষ্ণ আমাকে দিয়েছিলেন, এবং তিনি যদি এটি কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তবে আমি কী করতে পারি? কিন্তু তাঁর আশীর্বাদ আমার সঙ্গে থাকলে কেউ আমার ক্ষতি করতে পারবে না।”

 

জয়মাল যখন তাঁর পূজা শেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছেন, তখন তিনি দেখতে পান তাঁর ঘোড়া হাঁপাচ্ছে এবং ঘামে ভিজে যাচ্ছে। তিনি আরও দেখলেন যে শত্রু বাহিনী সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজাও আত্ম সমর্পন করেছেন।

বন্দী রাজা জানালেন একটি রহস্যময় নীল যোদ্ধা ঘোড়ায় চেপে এসে একা হাতে তার বাহিনীকে ধ্বংস করেছেন এবং জয় মালের রাজ্য

তিনিই রক্ষা করেছেন।

 

সব শুনে রাজা জয়মাল বুঝতে পারলেন স্বয়ং শ্যাম সুন্দর তার রাজ্য রক্ষার জন্যে যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

 

ভক্ত যখন সম্পূর্ণ রূপে ভগবানের কাছে আত্ম সমর্পন করেন তখন ভগবানে তার ভক্তকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করেন। প্রয়োজন শুধু ভক্তি এবং বিশ্বাস।

 

ফিরে আসবো ভক্ত এবং ভগবানের পরবর্তী পর্ব নিয়ে। থাকবে এমনই এক অলৌকিক ঘটনা এবং তার ব্যাখ্যা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – ত্রৈলঙ্গ স্বামীর অলৌকিক লীলা

ভক্তের ভগবান – ত্রৈলঙ্গ স্বামীর অলৌকিক লীলা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ত্রৈলঙ্গ স্বামীকে বলা হতো কাশীর সচল শিব।

বহু ভক্ত শিষ্যকে তিনি নানা অলৌকিক অভিজ্ঞতা

বা লীলা প্রদর্শন করিয়েছিলেন। বহু সাধারণ মানুষ তার কৃপা পেয়ে ধন্য হয়ে ছিলেন। আজ এমনই কয়েকটি ঘটনা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।

 

শোনা যায় সন্ন্যাসী রূপে দেশ ভ্রমণ কালে তিনি একবার নেপালে পৌঁছে ছিলেন। সেই সময় নেপালের জঙ্গলে শিকাররত এক রানা একটি বিরাট বাঘের পেছনে ধাওয়া করে করে যখন ক্লান্ত তখন জঙ্গলের গভীরে তিনি এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখলেন। তিনি দেখলেন এক বিরাট গাছের নিচে বোসে আছেন এক জটাধারী স্থূল দেহি সন্ন্যাসী এবং তার সামনে বোসে আছে সেই হিংস্র বাঘটি।

সন্ন্যাসী তার গায়ে হাত বুলিয়ে তাকে আদর করে দিচ্ছেন। এ কিভাবে সম্ভব? রানা এই প্রশ্ন সেই সন্ন্যাসী কে করতে তিনি শান্ত ভাবে বললেন মন থেকে হিংসা দুর করতে পারলে জগতের সব জীব সমান মনে হবে। ভেদাভেদ থাকবেনা। বাঘ

যতই হিংস্র হোক ভালোবাসা দিয়ে তাকেও বশ করা সম্ভব। এই সন্ন্যাসী আর কেউ নন স্বয়ং ত্রৈলঙ্গ স্বামী।

 

দ্বিতীয় যে ঘটনাটির কথা বলবো তা ঘটেছিলো কাশিতে। একবার এক ব্রিটিশ পুলিশ অফিসার কৌপিন পরিহিত ত্রৈলঙ্গ স্বামীকে কাশির ঘাটে বিচরণ করতে দেখে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলে ভোরে দেন। পরদিন ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় সেই অফিসার দেখেন সেই সন্ন্যাসী প্রতিদিনের ন্যায় গঙ্গার ঘাটেই আছে। দ্রুত তিনি জেলে পৌঁছে দেখেন না সেই সন্ন্যাসী তো জেলেই বন্দি আছেন। আবার তিনি গঙ্গার ধারে অনুসন্ধান করতে যান এবং সেই সন্ন্যাসকে দেখতে পান। জেলে ফিরে গিয়ে তাকে আগের অবস্থাতেই আবিষ্কার করেন। তখন সেই অফিসার বুঝতে পারেন না এই নিশ্চই অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী এক সিদ্ধ পুরুষ। তৎক্ষণাৎ তিনি তার কাছে ক্ষমা চেয়ে তাকে

মুক্ত করেন।

 

এমনই ছিলেন কাশির সচল বিশ্বনাথ ত্রৈলঙ্গ স্বামী। তার অলৌকিক ক্ষমতা বহুবার তার ভক্তরা প্রত্যক্ষ করেছেন।

 

ফিরে আসবো ভক্তের ভগবান নিয়ে আগামী পর্বে থাকবে আরো এক মহান সাধক এবং তার অলৌকিক লীলা প্রসঙ্গে আলোচনা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের সাথে শ্যামাচরণ লাহিড়ীর লীলা

ভক্তের ভগবান

ভক্তের সাথে শ্যামাচরণ লাহিড়ীর লীলা

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

যোগীরাজ শ্যামা চরম লাহিড়ী যিনি লাহিড়ী মশাই নামে বেশি বিখ্যাত তিনি ছিলেন সাক্ষাৎ ভগবত প্রাপ্ত এক সিদ্ধ পুরুষ এবং ক্রিয়া যোগী। তিনি তার ভক্তদের সাথে একাধিকবার অলৌকিক লীলা করেছেন আজ সেই সব ঘটনার মধ্যে দুটি বিশেষ ঘটনা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো এবং এই ঘটনা দুটি থেকে বোঝা যায় তিনি তার স্মরণাগত ভক্তদের কিভাবে আপদে বিপদে রক্ষা করতেন।

বেঙ্গল নাগপুর রেলওয়ের বড়সাহেব ভগবতীচরণ ঘোষের অধস্তন কর্মচারী ছুটি নিয়ে বারাণসী যাবেন তাঁর গুরু শ্যামাচরণ লাহিড়ীর কাছে। ভগবতীবাবু ছুটি দেননি সেদিন।সন্ধ্যায় ঘরে ফেরার পথে আচমকা শূন্য থেকে ফুটে উঠল একটি ব্যাক্তি । দীপ্ত কণ্ঠে ভর্ৎসনা করে বললেন ‘ভগবতী, তুমি কর্মচারীদের প্রতি খুব নির্দয়।’ পরক্ষণেই মিলিয়ে গেল সেই মূর্তি। অধস্তন কর্মীটি তত ক্ষণে আবেগ চেপে রাখতে পারেননি, গুরুদেব বলে কেঁদে ফেলেছেন।কারন যিনি এসেছিলেন তিনি স্বয়ং শ্যামাচরণ লাহিড়ী। ছুটি মঞ্জুর হয় । পরবর্তীতে পুরো রহস্যটা ভাল ভাবে বুঝতে সেই কর্মচারীর সঙ্গে সস্ত্রীক বারাণসীতে রওনা হলেন ভগবতীবাবু। গিয়ে দেখেন, চৌকিতে পদ্মাসনে বসা সেই লোক। আবার শ্যামচরণ মৃদু ভৎসনা করলেন ভগবতী বাবুকে সে দিনই সস্ত্রীক লাহিড়ীমশাইয়ের কাছে দীক্ষা নিলেন।ভক্তের মনোস্কামনা পূর্ণ করতে এই ভাবে লাহিড়ী মশাই সুক্ষ দেহে আবির্ভূত হতেন।

শোনা যায় একবার তাঁরই এক শিষ্যা অভয়া গুরুর সঙ্গে দেখা করতে হাওড়া থেকে বারাণসী আসছেন। মালপত্র নিয়ে ছুটতে ছুটতে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছতেই দেখলেন, বারাণসী এক্সপ্রেস স্টেশন ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। কাঁদতে কাঁদতে স্টেশনেই বসে পড়লেন তিনি। আস্তে আস্তে প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে ট্রেন। চূড়ান্ত হতাশ অভয়া তখন অঝোরে কাঁদছেন আর গুরুদেব শ্যামাচরণ লাহিড়িকে স্মরণ করছেন।হটাৎ অভয়া দেখলেন, ট্রেন থেমে গিয়েছে।ড্রাইভার ও গার্ড ও অবাক তৎক্ষণাৎ মালপত্র নিয়ে দৌড় দিলেন তিনিও। অভয়া ট্রেনে ওঠামাত্র থেমে যাওয়া বারাণসী এক্সপ্রেস আবার গড়গড় করে চলতে শুরু করল।বারাণসী পৌঁছে অভয়া তাঁর গুরুদেবের কাছে গেলেন। পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা মাত্র যোগীরাজ শ্যামাচরণ বললেন, ‘ট্রেন ধরতে গেলে একটু সময় হাতে নিয়ে বেরোতে হয় মা,অত বড়ো ট্রেনকে কি আটকে রাখা যায়?গুরুর অলৌকিক ক্ষমতায় এবং স্নেহ দেখে অবাক হলেন শিষ্যা অভয়া|

দেশ কাল সীমানার গণ্ডী শ্যামাচরণ অতিক্রম করে ছিলেন তার যোগ বলে এবং স্থূল দেহ ছেড়ে তিনি সুক্ষ দেহে বিচরণ করতে পারতেন অবলীলায় এবং তার সব শিষ্যদের কাছে তিনি পৌঁছে যেতেন তাদের প্রয়োজনে।

ভক্তের ভগবানের পরবর্তী পর্ব নিয়ে আবার যথা সময়ে ফিরে আসবো।থাকবে এমনই সব অলৌকিক ঘটনা।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাবা লোকনাথের অলৌকিক লীলা 

বাবা লোকনাথের অলৌকিক লীলা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী ছিলেন শিবের সাক্ষাৎ বর পুত্র।তার জীবনকালে তার ভক্তরা মনে করতেন বাবা লোকনাথের আশীর্বাদ পাওয়া মানে সাক্ষাৎ শিবের আশীর্বাদ পাওয়া। তার ভক্তশিষ্য দের কাছে তিনি ভগবান হয়ে উঠেছিলেন এবং এই গুরু রুপী ভগবান তার ভক্তদের সাথে বহু অলৌকিক লীলা করেছেন। আজ সেই সব ঘটনা নিয়ে লিখবো।

 

১৭৩৫ খ্রিস্টাব্দে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার

চাকলা গ্রামে লোকনাথ বাবার জন্ম হয়েছিল। তার পিতার নাম ছিল রামনারায়ন এবং মায়ের নাম ছিল কমলাদেবী। পিতা-মাতার চতুর্থ সন্তান ছিলেন তিনি। ছোটো থেকেই তার মধ্যে আধ্যাত্মিক জগৎ এবং পরম ব্রহ্মকে জানার অন্তত জিজ্ঞাসা দেখা যায়।তার যখন এগারো বছর বয়সে তখন তাকে উপনয়ন করিয়ে পাশের গ্রামের ভগবান গাঙ্গুলীর হাতে সন্ন্যাস এর জন্য তুলে দেওয়া হয়েছিল। তার পর দীর্ঘ পথ পরিক্রমা এবং ধ্যান জপ এবং সাধনার মধ্যে দিয়ে গিয়ে লোকনাথ বাবা ব্রহ্ম জ্ঞান লাভ করেছিলেন এবং অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠে ছিলেন।

 

নিজের ভক্ত দের সন্তান রূপে স্নেহ করতেন বাবা লোকনাথ। ভুল করলে তাদের যেমন সঠিক পথ প্রদর্শন করতেন তেমনই ভালো কাজ করলে প্রশংসা করতেন এবং আশীর্বাদ দিতেন।একাধিক অলৌকিক ঘটনা আছে বাবা লোকনাথের জীবনে। বরোদাতে থাকার সময়ে একবার অহংকারী সাধক লোকনাথ বাবাকে সিদ্ধিলাভের প্রমাণ দিতে বলেন। তিনি বলেছিলেন লোকনাথ বাবা যদি সিদ্ধপুরুষ হন তবে তিনি তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করবেন।লোকনাথ বাবার অলৌকিক ক্ষমতা আছে কিনা প্রমান করতে তাকে ধুতরা ফুল এবং ভয়ংকর সাপের বিষ দেওয়া হয়েছিল। সেই বিষকে পরাজিত করে বাবা লোকনাথ অক্ষত ছিলেন।

এই ঘটনার পর বাবা লোকনাথের খ্যাতি আরো বেশি করে ছড়িয়ে পরে।

 

ভক্তদের দুঃখ কষ্ট বাবা সহ্য করতে পারতেন না একবার এক ভক্তকে উদ্ধার করতে তার পুত্রের যক্ষ্মারোগ তিনি নিজের শরীরে ধারণ করেছিলেন। তাতে বালকটি পুরো সুস্থ হয়ে ওঠে এবং এই ঘটনার কিছুদিন পর যক্ষ্মা রোগে বাবা লোকনাথ আক্রান্ত হন। ভক্তের উদ্ধারের জন্য গুরুর এই আত্ম ত্যাগ সনাতন ধর্মে আগেও ঘটেছে।বাবা লোকনাথ তার ভক্তদের বলতেন রণে বনে যেখানে যা বিপদই আসুক না কেনো আমাকে স্মরণ করবে আমি তোমাদের উদ্ধার করবো।মনে করা হয়ে আজও তার ভক্তরা তাকে বিপদের সময়ে ডাকলে তার অদৃশ্য উপস্থিত অনুভব করে থাকেন।

 

একশো ষাট বছর বয়সে লোকনাথ বাবা পরলোক গমন করেন।বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের বারদী আশ্রমে তিনি সমাধিস্থ হয়েছিলেন।

পরের পর্বে এমনই এক মহান সাধনক এবং ভক্তদের সাথে ঘটা এক অলৌকিক লীলা নিয়ে আবার ফিরে আসবো ভক্তের ভগবানে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – ভবা পাগলার অলৌকিক লীলা

ভক্তের ভগবান – ভবা পাগলার অলৌকিক লীলা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সাধক ভবা পাগলা যেমন সারাজীবন মাতৃ শক্তির আরাধনা করে গেছেন এবং মাতৃ মূর্তির মধ্যে পরমব্রহ্ম কে উপলব্ধি করেছেন তেমনই ভবা পাগলার ভক্তদের কাছে তিনি ছিলেন সাক্ষাৎ ব্রহ্ম স্বরূপ। মা কালী যেমন তার এই পাগল সন্তানের সাথে নানারকম লীলা করেছেন তেমনই ভবা পাগলাও তার ভক্তদের বহু বার নানা রকম অলৌকিক অনুভূতি করিয়েছেন। আজ এই মহান সাধক এবং মাতৃভক্তকে নিয়ে লিখবো।

 

প্রথমে ভবা পাগলার সংক্ষিপ্ত পরিচয় জেনে নেয়া যাক।ভবা পাগলার জন্ম আনুমানিক ১৮৯৭ খৃস্টাব্দে বাংলাদেশে, তার পিতার নাম গজেন্দ্র কুমার সাহা, পারিবারিক সূত্রেই ভবা ছিলেন কালী সাধক পরবর্তীতে দেশ ভাগ হলে ভবাকে চলে আসতে হয় ভারতে সেখানেও তার সঙ্গে ছিলো একটি কালী মূর্তি,থাকতে শুরু করেন শোভাবাজার অঞ্চলে এক ভক্তের গৃহে, সেখান থেকেই ক্রমশঃ ছড়িয়ে পড়তে থাকে তার গান ও অলৌকিক কীর্তি|

 

ভবাপাগলার মধ্যে ছিলো অসীম আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও বিশাল অলৌকিক ক্ষমতা, যা বার বার ধরা দিয়েছে তার নানান কর্ম কাণ্ডে, শোনা যায় একবার এক দুরারোগ্য ব্যাধি তে আক্রান্ত ব্যাক্তি কে অলৌকিক ভাবে সুস্থ করে দিয়েছিলেন ভবাপাগলা|

 

একবার ভবাপাগলা তার ভক্তদের এক অদ্ভুত দর্শন করিয়ে ছিলেন বলে শোনা যায়। সেবার ভবা পাগলা তার কয়েকজন ভক্তকে নিয়ে সাধক রামপ্রসাদের ভিটে এবং মন্দির দর্শন করতে গেছিলেন। গভীর জঙ্গলে তাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে ছিলো এক রহস্যময় শেয়াল এবং এক সুন্দর সাদা রঙের গাভী। জঙ্গলে এক বহু প্রাচীন মাটির কুটিরে গিয়ে তারা যখন পৌছালেন তখন সাদা থান পড়া এক বৃদ্ধা ভবাকে স্বাগত জানালেন। তাকে আশীর্বাদ করলেন এবং আদর করে নারকেল মুড়ি খেতে দিলেন তারপর হটাৎ

অদৃশ্য হয়ে যান। যখন ভক্তরা ভবা পাগলার কাছে জানতে চান কে ওই বৃদ্ধা। ভবাপাগলা হেসে বলেছিলেন তিনি স্বয়ং দেবী ধুমাবতী। আজ কৃপা করে তিনি দর্শন দিয়েছেন।এই কথা শুনে ভবা পাগলার সাথে থাকা শিষ্যরা শিহরিত হয়েছিলেন এবং মনে মনে ভবা দেবী ধুমাবতীকে প্রণাম জানিয়ে ছিলেন।

 

আরো এমন বহু অলৌকিক কীর্তি আছে তার সারা জীবনে|নিজের জীবদ্দশায় প্রায় সাতটি কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি|ভবা পাগলা ছিলেন পাগল সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং পরবর্তীতে বহু মানুষ তার আদর্শে দীক্ষিত হয়ে তার চরনে নিজেদের জীবন সমর্পন করেছেন।এই মহান সাধক ১৯৮৪ খৃস্টাব্দে দেহ ত্যাগ করেন, আজও তিনি স্মরণীয় তার অলৌকিক কীর্তি ও তার গানের জন্যে।

 

ভক্ত এবং ভগবানের এমনই আরো একটি অলৌকিক লীলা নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – গৌতম বুদ্ধ এবং দুই শিষ্য

ভক্তের ভগবান – গৌতম বুদ্ধ এবং দুই শিষ্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ভগবানের স্মরণ নেয়া ভক্তের উদ্ধার করার জন্য ভগবান সদা সচেষ্ট থাকেন।ভগবানের অবতার বুদ্ধও সারা জীবন সেই চেষ্টাই করেছেন। তার অনেক ভক্ত তার সান্নিধ্য পেয়ে ধন্য হয়েছেন অনেককেই তিনি অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে জ্ঞানের আলোয় এনেছেন। বুদ্ধের এমনই দুই

ভক্ত ছিলেন আনন্দ এবং রবি। আজকের পর্বে তাদের কথা জানাবো।

 

বুদ্ধের দুই প্রিয় শিষ্য একদিন কিছু অদ্ভুত ঘটনা প্রত্যক্ষ করলেন। তারা দেখলেন একদিন সকালে এক ব্যাক্তি এসে বুদ্ধ কে জিগেস করলেন যে ভগবান আছে কি নেই। এবং জানালেন যে তিনি ভীষণ ভাবে ঈশ্বর বিশ্বাসী। বুদ্ধ উত্তরে বললেন যে না ঈশ্বর নেই। ব্যক্তিটি খুশি না হলেও মুখে কিছু না বলে সেখান থেকে বিদায় নিলেন। দুপুরে আরো একজন বুদ্ধের কাছে এলেন এবং একই প্রশ্ন করলেন। ইনি ছিলেন একজন নাস্তিক এবং ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন না। তার উত্তরে বুদ্ধ বললেন একমাত্র ঈশ্বরই সত্যি বাকি সব মিথ্যা।সেদিন সন্ধ্যায় আরো একজন এসে ঈশ্বর সম্পর্কে একই প্রশ্ন করলেন এবং বুদ্ধ কিছু না বলে মৌন থাকলেন।

 

ভক্ত আনন্দ এবং রবি সেদিন রাতে বুদ্ধর কাছে এসে জানতে চাইলেন কেনো তিনি একই

প্রশ্নের উত্তরে তিনজকে আলাদা আলাদা উত্তর দিলেন। বুদ্ধ বললেন প্রথম ব্যক্তি ছিলেন ঈশ্বর বিশ্বাসী কিন্তু তিনি ঈশ্বর সম্পর্কে অনুসন্ধান করেননি। শুধু বিশ্বাস করলে হয়না সাধনা প্রয়োজন। অনুসন্ধান প্রয়োজন। দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন নাস্তিক কিন্তু তিনিও অজ্ঞানী কোনোরকম সাধনা এবং জ্ঞান ছাড়া নাস্তিক হওয়া যায়না।আর তৃতীয় ব্যাক্তির ক্ষেত্রে তিনি কেনো নীরব ছিলেন তা জানার জন্য পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বললেন।

 

পরদিন সকালে সেই তৃতীয় ব্যক্তি আবার এলেন এবং জানতে চাইলেন ঈশ্বর আছে না নেই। বুদ্ধ বললেন তার একটি মূল্য বান রত্ন তিনি হারিয়ে ফেলেছেন এবং সেটা খুঁজে দিতে পারলে তবেই এর উত্তর দেবেন। ব্যাক্তিটি সারাদিন নানা স্থানে সেই রত্ন খোঁজ করে সন্ধ্যায় বুদ্ধর কাছে এলেন এবং বুদ্ধ তাকে বললেন রত্নটি তিনি তার কুটিরে হারিয়ে ফেলেছেন তাই বাইরে খুঁজে লাভ নেই। এতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে এই ব্যক্তি এই পরিহাসের মানে জানতে চাইলেন। বুদ্ধ তখন হেসে বললেন

ঈশ্বর ও তার মধ্যে আছে এবং তিনি এইরকম নির্বোধের ন্যায় তাকে নানা স্থানে খুঁজে চলেছেন তাই তার মনে ঈশ্বরকে নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে তার উচিৎ ঈশ্বরকে নিজের অন্তরে খোঁজা।

 

এরপর বুদ্ধ তার দুই শিষ্য কে ডেকে বললেন ঈশ্বর সূর্যের ন্যায় সত্য। তাকে মানা না মানার প্রশ্ন নেই তাকে জানতে হয় এবং তার জন্য প্রয়োজন জ্ঞান এবং সাধনা। একজন গুরুর উচিৎ সেই সাধনায়

তাকে উৎসাহ দেয়া। জ্ঞান ডান করা।

তিনি তাই করেছেন।

 

আবার পরের পর্বে ফিরে আসবো ভক্ত এবং ভগবানের এমনই এক লীলা নিয়ে। যথা সময়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

নতুন বছর এবং কল্পতরু উৎসবের শুভেচ্ছা

নতুন বছর এবং কল্পতরু উৎসবের শুভেচ্ছা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সমগ্র বিশ্ববাসির কাছে পয়লা জানুয়ারি মানে ইংরেজি নব বর্ষের সূচনা হলেও বাঙালির কাছে পয়লা জানুয়ারি মানে কল্প তরু উৎসব।বিশেষ করে যারা রামকৃষ্ণর ভাবধারায় বিশ্বাসী জন্য তো বটেই।

 

প্রথমে আসুন শাস্ত্র কল্পতরু সন্পর্কে কি বলছে।

পুরাণ মতে দেবতা এবং অসুরদের মধ্যে সমুদ্র সমুদ্র মন্থনকালে অমৃত, লক্ষ্মীদেবী, ঐরাবত ইত্যাদির সঙ্গে উঠে আসে কল্প তরু বৃক্ষ পরবর্তীতে দেবরাজ ইন্দ্রের বিখ্যাত নন্দনকাননের স্থান পায় এই কল্প তরু বৃক্ষ এবং সেখান থেকে স্ত্রী সত্যভামার আবদারে শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীতে নিয়ে আসেন এই বৃক্ষ। এই বৃক্ষ সবার মনোস্কামনা পূর্ণ করতো অর্থাৎ এই বৃক্ষর কাছে যা চাওয়া হয় তাই পাওয়া যায়।শ্রী কৃষ্ণর মৃত্যু এবং দ্বারকা নগরী ধ্বংসের পর কল্পতরু বৃক্ষ সম্পর্কে আর কোনো শুনিদ্দিষ্টি তথ্য পাওয়া যায়না।

 

এবার আসুন জেনে নিই কেনো ঠাকুর রামকৃষ্ণকে কল্পতরু বৃক্ষের সাথে তুলনা করা হয় এবং কেনই বা এই বিশেষ দিনটিকে কল্পতরু দিবস রূপে পালন করা হয়।দিন টা ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দের ১ জানুয়ারি কাশীপুর উদ্যান বাড়িতে উপস্থিত রয়েছেন প্রায় ৩০ জন মতো গৃহী ভক্ত।শরীরে মারণ রোগ বাসা বাঁধলে, ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকারের নির্দেশে ঠাকুর এই বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছেন।ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক দুপুর তিনটে। দোতলা ঘর থেকে তিনি নেমে এলেন বাগানে। গৃহী ভক্তরা তাঁদের হাতে রাখা ফুল ঠাকুরের চরণে অঞ্জলি দিতে থাকেন। কথিত আছে, ঠাকুর তখন নাট্যকার গিরিশ ঘোষকে বলেন, “হ্যাঁ গো,তুমি যে আমার নামে এত কিছু চারিদিকে বলো, তো আমি আসলে কী”? গিরিশ ঘোষ উত্তর দিলেন, “তুমিই নররূপ ধারী পূর্ণব্রহ্ম ভগবান, আমার মত পাপী তাপীদের মুক্তির জন্যই তোমার মর্ত্যে আগমন”। সবাই তখন ঠাকুরের চরণ স্পর্শ করল এবং ঠাকুর তাদের আশীর্বাদ করে বললেন, “তোমাদের চৈতন্য হউক”।

 

তখন উপস্থিত ভক্তরা ইচ্ছা পূরণের এক দিব্য অনুভূতি অনুভব করেন নিজেদের অন্তরে।বিদ্যুৎ তরঙ্গের মতো এক অলৌকিক শক্তি যেনো প্রবেশ করে তাদের শরীরে। ঠাকুর তখন ভাব লেশ হীন। তন্ময় অবস্থায় পৌঁছে গেছেন।তিনি যেনো সাক্ষাৎ কল্পতরু।

 

সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত কেই আজ স্মরণ করা হয়।

ভক্তদের বিশ্বাস রয়েছে, এই দিন ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব সকলের মনের ইচ্ছা পূরণ করেন।

ঠাকুরের লীলা স্মরণ করে ১৮৮৬ সালের সেই দিনকে মঠ মিশন সহ ঠাকুরের গৃহি ভক্তদের গৃহে পালন করা হয় কল্পতরু উৎসব।

 

সবাইকে জানাই একইসাথে ইংরেজি নববর্ষের এবং কল্পতরু উৎসবের শুভেচ্ছা।ফিরে আসবো আগামী পর্বে। ধারাবাহিক আধ্যাত্মিক আলোচনা নিয়ে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।